Tag Archives: police

রংপুর-৫: সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আ’লীগ প্রার্থীর পিএস!

Content Protection by DMCA.com

 

 

 

 

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদকে আ’লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের পিএস (একান্ত সচিব) উল্লেখ করে অবিলম্বে তার প্রত্যাহার দাবি করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর। শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

রংপুর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবের কাছে দেয়া লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, ‘আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৫ আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মামুনকে (১৬৪৭২) গত ২৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি এবং জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এইচএন আশিকুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যার আদেশ নং ০৫.০০.০০০০.১৩৮,০৬০.১৭-৭১৮। ওই আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এইচএন আশিকুর রহমানের অভিপ্রায় অনুসারে তাকে সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে’।

ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের অভিপ্রায় অনুযায়ী যখন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ তাঁর একান্ত সচিব; সঙ্গত কারণে এই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে এই আসনে কোনভাবেই লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

লিখিত অভিযোগে জাতীয় পার্টির এ প্রার্থী আরও বলেন, ইতোমধ্যেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ তার ঊর্ধ্বতন বস আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের অভিপ্রায় অনুসারে নির্বাচনের প্রতিটি কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছেন। তার প্রভাবের কারণেই এই আসনের ভোট গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেটিংকৃত সকল ভোটগ্রহন কর্মকর্তার তালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর অনুগতদের শতভাগ স্থান দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি জানিয়ে গত ১২ ডিসেম্বর আমি আরও একটি চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দিয়ে নতুন নিরপেক্ষ ভোটগ্রহন কর্মকর্তার তালিকা করে খসড়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয় নি। আবেদনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মামুনুর রশিদকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এসএম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর জানান, আমি আরপিও এর বিধান এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী এই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচএন আশিকুর রহমানের পিএসকে প্রত্যাহার করে আরপিও অনুযায়ী যোগ্যব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছি। তাকে এখানে রেখে কোনভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়। বিষয়টি আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অবিলম্বে যদি রিটার্নিং কর্মকর্তা এই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার না করেন। তাহলে আমরা বৃহত্তর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

Content Protection by DMCA.com

৫ কোটি টাকা ঘুস না পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসিকে ক্লোজ করলেন নারায়নগঞ্জের এসপি হারুন!

Content Protection by DMCA.com

দেশে নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনো বদলী করা যায় না। কিন্তু সেটাই ভঙ্গ করে ওসি বদলী করে ফেললেন নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হারুন অর রশিদ। গত বুধবার রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনিরকে প্রত্যাহার পুলিশ সুপার  কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এটা রেগুলার বদলী নয়, এটাচ করা য়েছে মাত্র। তবে ঝামেলা এড়াতে নিউজ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে এ বদলী। কিন্তু এটা সত্যি নয়।

নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল হক। তিনি আড়াইহাজার থানায় কর্মরত ছিলেন। এক মাস আগে আড়াইহাজার থেকে আব্দুল হককে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে রাখা হয়। এক্ষণে রূপগঞ্জ থানায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওসি বদলী নিয়ে জানা গেছে চ্যাঞ্চল্যকর খবর! গত ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হিসাবে হারুন অর রশিদ যোগদান করেই তার আওতাধীন ৫ ওসি দেখা করলে এসপি তাদের বলেন, প্রত্যেকে ৫ কোটি করে নগদ টাকা জমা দিবে ৭ দিনের ভেতর। নইলে পোষ্টিং। চার ওসি নির্ধারিত সময়ে মধ্যে ৫ কোটি টাকা করে জমা দিলেও ব্যর্থ হন রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান। এসপি তাকে ডেকে বকা ঝকা করেন। ওসি মনির বলেন, স্যার, আমাকে আর ৭টা দিন সময় দেন, আমি চেষ্টা করে দেখি। এখন ইলেকশনের সময়, তাই টাকা ওঠানো কঠিন। এসপি হারুন তখন বলেন, অন্যরা পারলে তুমি কেনো পারবে না। যাও, তোমাকে দিয়ে হবে না। দিন নষ্ট করে আমার লাভ কি? সাথে সাথে ওসি মনিরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে আব্দুল হককে আড়াইহাজারে পোস্টিং দেন হারুন। এটি জায়েজ করার জন্য ওসি মনিরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তৈরি করে ইলেকশন কমিশনকে অবহিত করে রাখেন হারুন। কয়েকটা সাংবাদিক ডেকে প্রচার করে দেন, ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে ওসির বদলী। তাসলে তা সত্য নয়। এ প্রসঙ্গে ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমি চেষ্টা করেছি রূপগঞ্জ থেকে মাদক, সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে।

উল্লেখ্য,  ২০১১ সালে এসপি হারুন অর রশিদ ডিএমপিতে এডিসি হিসাবে কর্মরত থাকাকালে বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে আলোচনায় আসেন। এরপরে আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে তিনি গাজিপুরের এসপি (যা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় পদ) পদ হাসিল করেন। টানা চার বছর সে দায়িত্বে থেকে তার দুর্নীতির পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে জানিয়েছেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত তার সহকর্মীরা। তার স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশিত হয়। আমেরিকাতে রয়েছে তার কয়েকটি আলিশান বাড়ি। এ ছাড়া হারুন গাজিপুরে ১৬৩ বিঘা জমি কিনেছেন। কিছু দিন আগে তাকে গাজিপুর থেকে প্রত্যাহার করে নরসিংদিতে পদায়ন করা হলে তাকে নিতে রাজী হয়নি রেঞ্জ ডিআইজি। কয়েকমাস ডিএমপিতে পোস্ট ছাড়া এটাচ থাকার পরে নির্বাচনের ডামাডোলের  মধ্যে নারায়নগঞ্জের এসপি আনিসের বদলী হলে ভাগ্য খোলে মহা দুর্নীতিবাজ হারুনের।

তবে রূপগঞ্জের ওসি বদলীর বিষয়টি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে কেঁচো খুড়তে সাপ- হারুনের ২৫ কোটি টাকা চাঁদা তোলাার কাহিনী।

Content Protection by DMCA.com

নৌকায় ভোট চাওয়া এবং সুন্দরী স্ত্রী ব্যবহার করে উন্নতিতে সফল ফেনীর এসপি জাহাঙ্গীর!

Content Protection by DMCA.com

এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বর্তমানে এসপি হিসেবে ফেনী জেলায় কর্মরত। ২২তম বিসিএস-এর মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন। ছাএ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন, তবে কিছু সময় বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান লিখে ইউটিউবে আপলোড করে রাতারাতি সরকারের খাস লোক বনে যান জাহাঙ্গীর।

শুধু তাই নয় এসপি জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী মোনালিসা পারভীন সোনি দ্বারা পরিচালিত। তার পোষ্টিং প্রমোশন ইত্যাদির জন্য তার সুন্দরী স্ত্রীকে উচ্চ মহলে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

সরকারকে খুশি করতে গত বছরে ফেনি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতা কর্মী গুম খুনের শিকার হয় এসপির সরাসরি নির্দেশে। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাবার পথে ফেনীতে তার গাড়ি বহরে হামলার পরিকল্পনাকারী ছিলেন আ’লীগের এমপি নিজাম হাজার, এবং তাকে সার্বিক সহায়তা ও যোগান দিয়েছিলেন এসপি জাহাঙ্গীর নিজে। বিভিন্ন মিটিংয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট চান তিনি।

গত ১৭-১১-২০১৮ তারিখে পুলিশ লাইন্সে মাসিক কল্যাণ সভায় এসপি জাহাঙ্গির বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারকে পূণরায় নির্বাচিত করতে যা যা করার, তাই করতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে। যে যে অফিসার/ ফোর্স এ কাজ করবে না, তাকে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। তার এ ধরনের কথায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িতে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করে- এ তো দিন ঘুষের টাকা চাইতো, এখন দেখি নৌকায় ভোটও চায়!

যে অফিসার একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানকে নিয়ে গান লিখে নিজেই সুর দিয়ে গাইতে পারেন, প্রকাশ্যে ঐ দলের পক্ষে ভোট চাইতে পারেন, তার কাছ থেকে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা কতটুকু পাওয়া যাবে, তা বোধগম্য। এ অবস্থায়, বিতর্কিত এসপি জাহাঙ্গিরকে অবিলম্বে জেলা থেকে প্রত্যাহার করা নির্বাচন কমিশনের অবশ্য কর্তব্য।

Content Protection by DMCA.com

লাশ প্যাকেট করায় ওস্তাদ রাজশাহীর এসপি শহিদুল্লাহ!

Content Protection by DMCA.com

২৪ বিসিএস পুলিশের মো. শহিদুল্লাহ রাজশাহী জেলায় এস পি হিসাবে পদায়ন হওয়ার আগে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বস ছিল হাফিজ আক্তার, ‍যিনি এখন আরএমপি কমিশনার। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন করার কাজে দু’জনের ক্রেজি মনোভাব ও বোঝাপড়া ছিল চরম, সে অবস্থায় উত্তরবঙ্গ ঠান্ডা করতে তাদের চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী এলাকায় আগমন।

চাকরিতে নবীন হলেও গায়েবী মামলা তৈরির কাজে শহিদুল্লাহ সিদ্ধহস্ত। চট্টগ্রামে থাকাকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিরোধীদল ও মতের লোকজনকে মেরে প্যাকেট করা লাশ নদীতে, সমুদ্রে, নাকি পাহাড়ি জংগলে ডাম্পিং করা হবে, তা হাফিজ ও শহিদুল্লার যৌথ আলাপ ও উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতেন!

বাস্তবতা হলো চিটাগাং এর আগের সেট-আপ এখন পুরাটাই দেশের উত্তর জনপদ রাজশাহীতে। রাজশাহী জেলায় পদায়নের পরপরই শহিদুল্লাহ একটা কন্সটেবল রিক্রুটমেন্ট পায়। জীবনের প্রথম রিক্রুটমেন্ট হওয়ার কারণে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি ইনকোয়ারি টিম গঠিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়, কিন্তু টাকা ও পলিটিক্যাল লবিং এবং হাফিজ আক্তারের সাহায্য নিয়ে সে যাত্রায় পার পেয়ে যান শহিদুল্লাহ।

এসপি শহিদুল্লাহ অত্যন্ত বিকৃত ও আগ্রাসী মানসিকতার অফিসার। গুম ও খুনের পাশাপাশি তিনি তার একটি বিশেষ টিমকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে নেশাদ্রব্য ধরিয়ে দিয়ে গ্রেফতার ও হাতে-পায়ে গুলি করে পংগু করে দিচ্ছেন। গত জুন/১৮ মাসের দিকে বাগমারা থানার বিএনপি’র এক কর্মীকে সে তার বিশেষ টিম দিয়ে রাতের আধারে দুই পায়ে গুলি করিয়ে পংগু করান। ফায়ারিং জায়েজ করার জন্য রাজনৈতিক ঐ কর্মীর হাতে মাদক ধরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন এই কৌশল প্রয়োগ করে রাজশাহী এলাকায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের সারা জীবনের মতো পংগু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইলেকশনে মহাজোটের প্রার্থী লিটনকে জোর করে জিতিয়ে আনার জন্য পুলিশের যে ছোট গ্রুপ কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিল শহিদুল্লাহ। বাকী সদস্যরা ছিল গোপালগঞ্জের সন্তান ১৭ ব্যাচের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, আরএমপি কমিশনার হাফিজ আক্তার ও ১৮ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি আসাদুজ্জামান। এরা মেয়র প্রার্থী লিটনের সাথে গোপন বৈঠক করে এবং জিতিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিশাল অংকের টাকা উৎকোচ নেয়। এসময় তারা নতুন কৌশল নেয়। রাজশাহী শহরের বিএনপি’র এক্টিভ নেতা-কর্মীদেরকে খুঁজে বের করে ভোটের আগে থেকে বাইরের জেলাগুলোতে থানা হাজত ও গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ভোটের পর টাকার বিনিময়ে কাউকে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাকীদেরকে পেন্ডিং ভুতুড়ে মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়।

সাবেক এসপি আলমগীরের সময় জেলার পুলিশ লাইনের গেটটি প্রায় কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে থেকে নবনির্মিত গেটটি আবারও ভেংগে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় নতুন এই গেটটি সুদর্শন করানোর কথা বলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে থেকে শহীদুল্লাহ দেড় কোটি টাকা আনিয়েছেন। বিভিন্ন থানার বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট মেরামতের নামেও কয়েক কোটি টাকা নিয়ে এসেছেন তিনি। এসব টাকা বরাদ্দ পেতে সহায়তা করেছেন পুলিশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত ১৭ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক। গাজী মোজাম্মেল বিএনপি’র আমলে শুরু হওয়া পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোশাইটি (POHS) প্রজেক্টের দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে গত ১৩ বছরে কিছুই করেননি। এই প্রজেক্টটির উন্নয়নের নামে তিনি শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পুলিশ অফিসারদের পকেট থেকে। পূর্বাচলের পাশে এখন তার “আনন্দ হাউজিং প্রজেক্ট” নামে একটি হাউজিং, শত বিঘা জমি ও প্লট রয়েছে।

এসপি শহিদুল্লাহ তার সাথে থাকা এডিশনাল এসপি সুমিত চৌধুরীকে সব ব্যাপারে লাই দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। সুমিতের মাদকাসক্তি, ফোর্স ও অফিসারদের সাথে দুর্বিনীত আচরণ, ব্যাপক ঘুষ ও দুর্নীতি দেখেও না দেখার ভান করতেন শহিদুল্লাহ। কয়েক মাস আগে জমে থাকা এসব অভিযোগে সুমিত চৌধুরীকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়। সুমিত চৌধুরী প্রকাশ্যে নিজেকে ভাররে গোয়েন্দা সংস্খা র-এর এজেন্ট হিসাবে পরিচয় দেন।

Content Protection by DMCA.com

যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের ফলাফল কব্জা করতে ৮ দলবাজ বিতর্কিত গোপালী পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আ’লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভয়াবহ উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। তার নির্দেশে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। অফিসিয়াল পত্র মারফত চরম বিতর্কিত এবং আওয়ামী অফিসারদের (যারা এতদিন খুন, গুম, ধরপাকড় এবং গায়েবী মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন) এই নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা মনিটিরিং তথা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ আদেশের ফলে জাতি জানতে পারলো, আসলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজটি কারা করতে যাচ্ছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের আইজিপির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, অর্থ, টিএন্ডআইএম, ডিআইজি ও এআইজি অপারেশন্সকে নিয়ে ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন কমিটি কেন্দ্রীয় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন  কমিটি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৮ বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে। এদের মধ্যে ডিজি র‌্যাব বেনজীর আহমেদ ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি অতিকুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ডিএমপির কমিশিনার এবং প্রলয় কুমার জোয়র্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপকে দেয়া হয়েছে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জ, এবং ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এডিশনাল আইজি, এসবি মীর শহীদুল ইসলাম এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম (খুনি মনির)কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগ। এন্টি টেররিজম ইউনিটের এডিশনাল আইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ডিআইজি (এডমিন) হাবিবুর রহমান দেয়া হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও মেট্রপলিটান এরিয়া।

এলাকা ভিত্তিক গঠিত এই ৪টি সেলের সদস্যরা নির্বাচন উপলক্ষে আইজিপির নেতৃত্বাধীন “আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কোঅর্ডিনেটিং কমিটির” সদস্য করা হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক এই ৪ সেলের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনমাফিক অফিসার সংযুক্ত করতে পারবেন। এরা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, নিয়ন্ত্রণ করবেন, এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পুলিশ বাহিনীর মুভমেন্ট, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপ্লাই মনিটরিং করবেন। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী, গোয়েন্দা, ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করবেন। পত্রপত্রিকা, গণমাধ্যম, ফেসবুক সহ সামাজিক মাধ্যম, টেলিফোন সহ সকল কিছু মনিটর করবেন, প্রয়োজনবোধে দরকারী ব্যবস্খা নিবেন। গার্মেন্ট্র শ্যমিক, পরিবহন শ্রমিক, ছাত্রদের উপর নজরদারী ও গোয়েন্দাগিরী করবেন। সহিসংতা, নৈরাজ্য, ও অপতৎপরতার নামে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের উপর নজরদারী ও ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এর দ্বারা বিরোধী দলকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এরা। এমনকি আইনশৃঙ্খলার নামে যেকোনো বিষয় এরা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মোটকথা এই আদেশের বলে এসব অফিসাররা তাদের এরিয়ার যেকোনো বিষয় মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনাররা তাদের অধীনে কাজ করবে, তারা চাইলে যতখুশি তত অফিসারকে তাদের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন।

কমিটির সদস্যদের ফিরিস্তি:

অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, মো. মোখলেছুর রহমান :
চরম দলবাজ কর্মকর্তা। সারা দেশে আ’লীগের লোকদের পুলিশে রিক্রট করার অন্যতম হোত ছিলেন তিনি। আওয়ামী দলবাজ অফিসারদের পোস্টিং প্রমোশন, ট্রেনিং, বিদেশ সফর  দিয়ে তাদের খুন খারাবি ও অপকর্মে উৎসাহিত করতেন। তিনি গায়েবী মামলার মাষ্টারমাইন্ড। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলেীগের নেতা ও নির্বাচিত জিএস ছিলেন। শেখ হাসিনার আইজিপি পদের অন্যতম ক্যান্ডিডেট।

বেনজীর আহমেদ, ডিজি র‌্যাব :
গত এক দশক ধরে হাজার হাজর গুম, খুন, অপহরণের নির্মম হুকুমদাতা। গোপালী পুলিশদের বস। শাপলা চত্তর হত্যাকান্ডের প্রধান কমান্ডার। নারী কেলেঙ্কারীতে চরম দুর্নাম কামিয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী ও ছাত্রীরা তার শিকার। বড় রকমের দুর্নীতিবাজ। নিজস্ব এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিরোমনি! লীগের আইজিপি হওয়ার দাবীদার। শেখ হাসিনাকে আপা বলে ডাকে।

আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপি কমিশনার :
গুম, হত্যা, ধরপাকড়, গায়েবী মামলার নির্দেশদাতা। তার সময়ে বিরোধী দলের উপর চরম নির্যাতন গেছে। ২০১৫ সালে বিএনপির অবরোধের সময় তার নির্দেশে গাড়িতে পুলিশ নিজেরাই পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করে মামলা দেয়ার হোতা। তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, “দেশবাসী জানে যে, সরকার টিকায়া রাখছে পুলিশ। তেরো সালে আন্দোলন দমাইছে পুলিশ, চৌদ্দ সালে ইলেকশনও করাইছে পুলিশ, গত তিন মাসে আগুন ধরাইছে পুলিশ!”

প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, সিটিটিসি :
স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ মানে কিলিং গ্রুপ। পুলিশ সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত এআইজি হিসাবে পদ বাগিয়েছিলেন প্রলয়, যখন তিনি ছিলেন একজন নবীন এডিশনাল এসপি। তার দুই ধাপ ওপরে পদ বাগাতে কতটা প্রভাব লাগে অনুমান করে নিতে হবে, যখন ঐপদের জন্য যোগ্য শত শত অফিসার ছিল। এভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে দাপটের সাথে আছে প্রলয়, পুলিশ সদর দপ্তরে যাকে সবাই এক নামে ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট বলেই চেনে। এটা পুলিশ সদর দপ্তরে ওপেন সিক্রেট। কট্টর হিন্দুবাদী এই কর্মকর্তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে খোদ পুলিশের আওয়ামী সমর্থনকারী উচ্চপদস্থ মুসলিম কর্মকর্তারাও ক্ষিপ্ত। এই লোক পুলিশ বাহিনীতে প্রকাশ্যেই গঠন করেছে হিন্দু পুলিশ লীগ। পুলিশ সদর দপ্তরে বসে নিয়মিত ইসলাম ধর্মকে গালি গালাজ করা তার অভ্যাস। প্রলয় কুমারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুপারিশে অন্তত ৩০০০ হিন্দুকে পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয়, শত শত পুলিশ গেছে শান্তিরক্ষী টিমে। মাসে অন্তত দুইবার করে প্রলয় কুমার ভারতের কলকাতায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িতে যান বলে পুলিশ সদর দপ্তরের অনেকগুলো সূত্র নিশ্চিত করে।
২৪তম বিসিএস ব্যাচের শেষ ব্যক্তি প্রলয় শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিল। চাকরিতে নানা গন্ডগোল তার শুরু থেকেই, কিন্তু টিকে আছে ক্ষমতার দাপটে। এমনকি তার বেসিক ট্রেনিংও নাই। তাকে আবার পুলিশের ২৪ ব্যাচের সভাপতি করা হয়েছে! তার বিরুদ্ধে পুলিশে অসংখ্য লোক বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হলেও ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট হওয়ায় এবং হাসিনার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে পারে না। ২০তম ব্যাচ এবং তদনিম্ন আওয়ামী পুলিশ অফিসারদের নেতা প্রলয়। বিরোধী দল, নির্যাতন, গুম, গায়েবী মামলার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড। কর্মকর্তাদের প্রমোশন পোষ্টিং, এবং ক্রস ফায়ারের ভয় দিয়ে লোক হনে কাছ থেকে শত শথ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রলয়। বড়ই বিপজ্জনক সে, যখন তখন খুন করে ফেলে সে।

মীর শহিদুল ইসলাম. অতিরিক্ত আইজি, এসবি :
মুলত তিনি পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান। রাজনৈতিক ব্যত্তি;রে তালিক করা, এবং তাদের নামে মামলা, গ্রেফতার তার নির্দেশে হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে কথিত মাইনরিটি নির্যাতনের গল্প তৈরী এবং  মামলার মূল মাস্টারমাইন্ড। এসব কাজ দেখিয়েই তার উন্নতি হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপি :
গোপালী পুলিশের মধ্যে চরম ক্ষতিকর ‘কালা মনির’ বা ‘খুনি মনির’। শত শত গুম, খুন, সাজানো জঙ্গিবাদ সব তার হাতে তৈরি। পুলিশে যত ধরনের খারাপ কাজ হয়, সবগুলো খারাপ কাজের মাস্টার সে। আনসারউল্লাহ নাটক, জঙ্গি নাটক, ব্লগার জবাই এসব তারই অর্জন। রিমান্ডে নির্যাতন, গায়েবী মামলা, দলবাজি, গুম, শত শত খুন, ক্রস ফায়ারের নির্দেশদাতা।

আতিকুল ইসলাম, ডিআইজি হাইওয়ে পুলিশ :
বিএনপির আমলে বিভিন্ন সুবিধাজনক যায়গায় থেকে ভোল পাল্টে ভিতরের তথ্য সব ফাঁস করে দিয়েছে লীগের কাছে। দীর্ঘদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে থেকে আওয়ামী অফিসারদের রিক্রুট করেছে। বিরোধী দল নির্যাতনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

শফিকুল ইসলাম, এডিশনাল আইজি, এন্টি টেররিজম :
পদের নামের সাথেই পরিস্কার বোঝঅ যায় ফেইজ জঙ্গি নাটকের পরিকল্পনা তার। গুম, খুন, অপহরণ, ক্রসফায়ার, দলবাজি ইত্যাদি সব কাটাগরিতে মাষ্টার সে।

হাবিবুর রহমান: ডিআইজি (প্রশাসন) হেডকোয়ার্টার :
১৭ ব্যাচের গোপালী অফিসার। পুলিশকে আ’লীগের লাঠিয়ালে পরিণত করার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি। বিরোধী দলের নামে গায়েবী মামলা দেয়া, ক্রসফায়ার ও পাইকারী গ্রেফতারের সাথে জড়িত।, সকল সিটি নির্বাচনে পুলিশী সেট-আপ সে করে। পুলিশে চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

এসব পুলিশ অফিসাররা গত এক দশক ধরে শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্রদের মত কাজ করে অাসছে। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন গুম অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাদের হাতে। এখন এসব ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুষ্ঠূ নির্বাচন করতে। এটা কি সম্ভব? সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এদের  দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব নয়।

Content Protection by DMCA.com

শেরপুর, নোয়াখালী, যশোরে বিএনপি গুম-খুন করে হাত পাকিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জে এসপি হয়েছেন আনিসুর!

Content Protection by DMCA.com

গত তিন মাস ধরে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে বিচার বহির্ভুত হত্যা ও গায়েবী মামলার ঘটনা। ২০১৪ সালে র‌্যাবের হাতে চ্যাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের পরে নানাবিধ চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহণীয় ছিল। হঠাৎ করে গত ১৫ অক্টোবর রবিবার ভোররাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫টি অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যকান্ড সম্পর্কে তেমন কোনো ক্লু অদ্যাবধি হানা যায়নি, যদিও জানা গেছে, হতভাগ্য মানুষগুলি বিভিন্ন স্থান থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গুম হয়েছিলেন। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসপি আনিসুর রহমান যোগ দেয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে লাশ পড়া ও গায়েবী মামলার হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এসপি আনিসুর যেসব জেলায় কাজ করেছেন যশোর, নোয়াখালী, শেরপুর সর্বত্রই একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এটা তার স্টাইল!

এসপি আনিসুর রহমানের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলায়। ২০০১ সালে আ’লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’মাস আগে ২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন আনিসুর। তবে পুলিশ একাডেমি সারদায় প্রশিক্ষণকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে চাকুরিচ্যুতি ঘটে তার। অনেক দেন দরবার করে ২০০৭ সালে চাকুরি ফেরত পেয়ে প্রথম যোগদান করেন শেরপুর জেলায়। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী নিঃসন্তান মতিয়া চৌধুরিকে আনিসুর মা ডেকে তার সন্তান হন! আনিসুর তার পূর্বের বিবাহিত স্ত্রী ও দু’সন্তান রেখে পূনরায় বিয়ে করেন আওয়ামীলীগ নেএী ফাতেমা তুজ্জহুরাকে, পরে ২০১৪ সালে যিনি শেরপুরের মহিলা সংসদ সদস্য পদে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর থেকে আনিসুর পরিণত হন এমপির স্বামীতে- বেড়ে যায় আনিসুরের দাপট।

আনিসুর রহমান মহাজোট সরকারের প্রথম দিকে শেরপুর জেলা পুলিশে এ.এস.পি হেড কোয়ার্টার পদে যোগদান করেন। আ’লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক হওয়ায় এবং স্থানীয় আ’লীগ দলীয় মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরিকে ‘মা’ ডেকে এই চার বছরে একই জেলায় থেকে তিনটি পদোন্নতি লাভ করেন- সিনিয়র এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পদ পুলিশ সুপার। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়েও আনিসুর আ’লীগের দলীয় ক্যাডার হয়ে কাজ করেছেন বলে শেরপুরের সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন। মতিয়া চৌধুরীর মত প্রভাবশালী মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে খেয়াল খুশিমত যাচ্ছে তাই করেছেন আনিসুর। জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে সাধারণ মানুষকে জেএমবি সদস্য ও জামায়াত শিবির সদস্য বানিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এসপি আনিসুরের নির্দেশে। এসব মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার পরিবারদের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিরা জেল হাজতে থাকায় ঐসব পরিবারের সদস্যরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে, অনেক সংসার ধংস হয়ে গেছে। এদের মধ্যে বিত্তশালী কেউ কেউ গ্রেফতার হলে লাখ লাখ টাকা দিয়েও নিস্তার পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসপি আনিসুর রহমানের রোষানলে পড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেকেই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে এবং এলাকা ছাড়া হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক দলের লোকদেরই নয়, এসপি আনিসুর সাংবাদিক নির্যাতন করতেও কম যাননি। সাংবাদিকদের গ্রুপিংয়ের জের ধরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। অপরাধী নয়, অথচ তাদের অপরাধী বানানো হয়েছে- এমন পরিবারের লোকজন আনিসুর রহমানকে অভিশাপ করতে শোনা গেছে। আনিসুর দম্ভোক্তির সুরে বলতেন, আমি বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কোন হরতাল শেরপুরে সফল হতে দেইনি। এছাড়াও সভা সেমিনারে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক শ্লোগান ব্যবহার করে তিনি সবাইকে জানিয়ে বুঝিয়ে দিতেন তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার চেয়েও তিনি দলীয় কর্মী। শেরপুরে জেলায় তার সময়কালে তারই নির্দেশে নিহত হয় অসংখ্য বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মী। বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার গোপালী আনিসুর রহমানের শেরপুর থেকে  বদলি হওয়ায় শেরপুরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও গণমানুষের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।

অতঃপর ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিএনপি জামায়াতকে নির্মুল করার লক্ষ্য নিয়ে যোগদান করেন নোয়াখালীতে। যোগদোনের পরে আনিসুরের পিরিয়ডে নোয়াখালীতে ঘটতে থাকে খুম গুম ও নির্যাতনের ঘটনা-
১) ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ কোম্পানীগঞ্জ থানায় বিএনপি-জামায়াতের মিছিলে এসপি অনিসুরের নির্দেশে তৎকালীন ওসি সাজিদুর রহমান (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ওসি) এবং তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) শফিক (বর্তমানে কেএমপি খুলনা) ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে। হতভাগ্যদের মধ্যে ছিল আবদুর নুর রাসেল, মাহমুদুল হক মিশু, আবদুস সাত্তার, মতিউর রহমান সজিব, আবদুল আজিজ রায়হান, সাইফুল ইসলাম।
২) ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সুধারাম থানার যুবদল কর্মী আবদুল সালামকে মিছিলে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৩) সোনাইমুড়ি থানায় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী খোরশেদ আলমকে (১৩ ডিসেম্বর ২০১৩), পারভেজ আলমকে (২৩ অক্টোবর ২০১৩), প্রভাবশালী বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলামকে (৩০ ডিসেম্বর ২০১৪), সাদেক হোসেন সাদ্দামকে (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪), শিবির কর্মী যোবায়েরকে (১৩ ডিসেম্বর ২০১৩) গুলি করে হত্যা করা হয়।
৪) এসপি অনিসুরের নির্দেশে চাটখিল থানায় তার অনুগত ওসি (তদন্ত) ইব্রাহীম ২০দলীয় জোটের মিছিলে গুলি করে দুই ছাএদল কর্মী ও শিবির কর্মীকে হত্যা করে।
এভাবে নোয়াখালী বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা ও পঙ্গু করার নির্দেশদাতা ছিলেন এসপি আনিসুর। নোয়াখালী এবং যশোরে জেলার পোস্টিং থাকাকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা নিতেন।

পুলিশের নিয়োগে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ছাড়া অন্য কাউকে চাকুরী দেননি এসপি অনিসুর। দুর্নীতিতে সে ছিল খুব বেপরোয়া। যশোরে চাকুরী করাকালীন ২০ দলীয় জোটের শতাধিক নেতা কর্মীদের গুম খুন ও হত্যা করেন আনিসুর। নিয়োগ এমন দলীয়করণ করেছেন যে, ছাত্রলীগ করলেও মাদ্রাসায় পড়ার কারণে অনেককে চাকুরি দেননি। উপরন্তু কনস্টেবল নিয়োগে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা কমে হয়নি। এক কথায়, এসপি আনিসুর রহমান একজন পেশাদার খুনির কাজ করেছেন প্রতিটি স্টেশনে। কোনো ক্ষেত্রে এসপি আনিসুর তার নিজের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সরাসরি গুলি করে বা তার অনুগত অফিসার দিয়ে হত্যাকান্ড ঘটাতেন।

যশোরের একাধিক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এসপি আনিসুর রহমানের অত্যাচারে যশোরের মানুষ ছিলেন অতিষ্ঠ। তার এক স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, অপরদিকে তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতি সব সময় তুঙ্গে থাকে আনিসুরের। তিনি তার ইচ্ছে মত কাজ করেন। জেলার এমপিদেরও তিনি পাত্তা দিতেন না। কোনো আইন কানুনের ধার ধারতেন না, যাকে ইচ্ছা ধরা ছাড়া, ক্রসফায়ার করায় সে ছিল স্বেচ্ছাধীন। অনিসুরের সময়ে যশোরে পুলিশের সাথে জনগনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সব চেয়ে বেশি। তিনি যশোর থেকে যাওয়ার পর এই এলাকার জনগন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। এই জেলার পুলিশ সদস্যরাও তার কারণে অতিষ্ঠ ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময় এসপির বিষয়ে দুঃখের কথাগুলো স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বলেছেন। যশোরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।

এ বছর সেপ্টেম্বরে এসপি আনিসুর রহমান নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর জেলায় বিরোধী দল তথা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন যায়গায় পাওয়া যাচ্ছে লাশ! অন্যদিকে হঠাৎ আতংক বিরাজ করছে না’গঞ্জ জেলা পুলিশে। কেউ কেউ আবার এই জেলা থেকে নিজেই বদলী হয়ে যাওয়ার জোর চেষ্টা তদ্বীর চালাচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন পুলিশ সুপার আনিসুর যোগদানের পরই শুরু হয়েছে এই অস্থিরতা। অথচ বিগদ এসপি মঈনুল হক পিপিএমের সময়ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের এমন অবস্থা ছিল না। কিন্তু কেন এই আতংক? এমন প্রশ্নে সহজে মুখ খুলছেন না পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বদলী হওয়া একজন পুলিশ অফিসার বলেন, এসপি আনিসুর রহমান এসেই অফিসারদের বদলী করার ব্যাপারে তোড়জোর শুরু করেন। বিভিন্ন থানা এলাকায় অফিসারদের বদলী করছেন অযথাই। বদলী ঠেকাতে তিনি টাকা দাবী করেন। যিনি টাকা দিতে পারেন তিনি থাকতে পারবেন এই জেলায়। পুলিশ কনস্টেবলদেরও যথারীতি এদিক সেদিক করছেন তিনি। কনস্টেবলরাও এ যাত্রায় রেহাই পাচ্ছে না। তাই অনেকের সাথে তিনিও এই জেলা ছেড়ে চলে গেছেন অন্য জেলায়। প্রধানমন্ত্রীর জেলার লোক হওয়ার কারণে এসপি অনিসুরের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে সাহস করছেন না। এসব কারণে ৭টি থানার চেইন-অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। পুলিশের এএসআই ও এসআই যারা এসপির কাছের জন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে থানার ওসিদের কমান্ড মানছেন না। এই সমস্ত অফিসার সরাসরি এসপির দোহাই দিয়ে এই জেলায় চাকুরী করছেন। ফলে বলা চলে স্থবির হয়ে গেছে বিভিন্ন থানার কার্যক্রম।

যোগ দিয়েই জেলার অফিসার ও কনস্টেবলদের গণহারে বদলীর আদেশ দেন এসপি আনিসুর। কিন্তু সেই আদেশের পর পুনরায় ঐ সমস্ত অফিসাররা আগের স্থানে বহাল রয়েছে, আবার কেউ কেউ জেলার পছন্দমত থানায়ও যোগদান করছেন। এর বিনিময় মূল্য হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এনিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনে চলছে নানা ক্ষোভ। অনেকে এসপি আনিসুর রহমানের অধীনে নারায়ণগঞ্জে চাকুরী করতে অনীহা প্রকাশ করে জেলা ছাড়ছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ সদস্যরা খুব আগ্রহ নিয়ে চাকুরী করার জন্য ছুটে আসলেও সম্প্রতি এই জেলায় নতুন পুলিশ সুপারের যোগদানের পরে এনিয়ে ভাটা পড়েছে। গোপালী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যোগদানের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে ঐ বিশেষ জেলার অফিসারদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এসপি আনিসুর নিজে তার পূর্বের কর্মস্থল যশোর থেকে তাঁর পছন্দমতো পুলিশ সদস্যদের নারায়ণগঞ্জে বদলী করিয়ে আনছেন। আর তাদের দিয়েই জেলার কাজ করানোর চেষ্টা করছেন তিনি। জেলার উর্ধ্বতন এই পুলিশ অফিসারের ব্যাপারে অভিযোগ তোলার কেউ নেই। তাই নীরবে অনেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে ইতিমধ্যে চলেও গিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ইতোপূর্বেকার এসপি মঈনুল হক পিপিএম অন্যত্র বদলী হওয়ার পর জেলা ডিবি পুলিশের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এসপি আনিসুর রহমানের মন জয় করতে মোটা অংকের টাকা লাগে। যার কারণে অফিসাররা কাজ করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি থানায় একাধিক সিভিল টিম করা হয়েছে। এসপি নিজে জেলা ডিবি পুলিশের প্যারালাল প্রতিটি থানায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিভিল টিম। এই টিমের সদস্যরা ওসিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কথা বলেন এসপির সঙ্গে। এসপির নির্দেশনায় থানা গুলোতে অফিসাররা তাদের মতো কাজ করায় থানা গুলোতে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে।

Content Protection by DMCA.com

নোয়াখালীর খুন গুম, গায়েবী মামলা ও বিএনপি নিধনের হোতা এসপি হান্নান শরীফ!

Content Protection by DMCA.com

ইলিয়াস শরিফ, ২০তম বিসিএস ব্যাচের অফিসার, এসপি নোয়াখালী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ী ফরিদপুর, তার বড় ভাই হান্নান শরীফ মিরপুর থানা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন ২০১৪ সালে।

নোয়াখালীতে যোগদান করে এসপি ইলিয়াস নোয়াখালীকে আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার তিনটি ব্যতীত বাকী সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশের সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। একই ভাবে সাতটি পৌরসভার নির্বাচনে সব কয়টিতে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। এরপর ২০ দলীয় জোটকে ধ্বংস এবং নির্মূল করার জন্য গুম, খুন, পঙ্গুত্ব এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করেন। এসপি ইলিয়াসের নির্দেশে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের সুধারাম থানায় পাঁচ জনকে হত্যা করে এবং পাঁচ জনকে পঙ্গু করে, সোনাইমুড়ী থানায় পাঁচ জনকে খুন ও এক জনকে পঙ্গু করে, বেগমগঞ্জ থানায় তার উপস্থিতিতে ও সরাসরি নেতৃত্বে গত ০৭/০১/২০১৪ সালে দুই জনকে খুন এবং আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলমকে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা করে, সেনবাগ থানায় একজনকে খুন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিন জনকে পঙ্গু এবং কবিরহাট থানায় এক জনকে পঙ্গু করে। তাছাড়া তার মদদে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতা কর্মীকে হত্যা করে এবং উল্টো বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের ঐসব হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দুই শতের অধিক গায়েবী মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করে। পুরষ্কারস্বরূপ তাকে ১০১৫ সালে পিপিএম(সেবা) এবং ২০১৮ সালে বিপিএম(সেবা) পদকে ভূষিত করা হয়। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাকে ‘মা’ এবং সাংসদ একরামুল করিমের বউকে বোন ডেকে নোয়াখালীতে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এক জেলায় কর্মরত আছেন। আগামী নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসন পুলিশ দিয়ে ভোট দখলের মাধ্যমে সরকার দলকে উপহার দিবেন মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন এবং সেভাবেই তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে এসপি ইলিয়াস শরীফ ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেয়। নোয়াখালীতে বিসিএসে উর্ওীন যাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় বিএনপি করে তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয় প্রতিবেদন দিয়ে চাকুরীতে নিয়োগ বাতিল করে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ থেকে বদলী-পদোন্নতি এবং থানার মাসোহারা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তির পাহাড়। বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়েও তিনি হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তার দূর্নীতির বিষয়ে দুদক ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিলেও অদৃশ্য কারনে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

Content Protection by DMCA.com

ঢাকা এলাকার বিরোধী মতামতের লোকজনকে লাশ বানিয়ে ডাম্পিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান

Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান। প্রথম দৃষ্টিতে নম্র ও শান্ত স্বভাবের মনে হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত গোঁয়ার ও নিষ্ঠুর টাইপের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের অত্যন্ত সক্রিয় ক্যাডার। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের গোপন কিলিং গুলোর মাস্টার প্লানিং তিনিই করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে হয়ে শাফিউর বিএনপির সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায় জোনাল এসির দায়িত্ব পান এবং নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত করা ও পরবর্তীতে তৎকালীন মেয়র মীর নাসির এর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে স্থানীয় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এসপি থাকাকালে তিনি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা, গুম ও পংগু করে দেন। গুম ও খুনের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি ডিবি’র কিছু বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করেন। কেবল বিএনপি ও জামাতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই তিনি খড়গহস্ত ছিলেন, তা নয়, তিনি বাকশাল মতবাদের বিরুদ্ধচারী সকল শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুয়া মামলা তৈরি করে ব্যাপক অত্যাচার করেন।

লক্ষীপুরে থাকাকালে প্রধান বিচারপতির সাথে বেয়াদবি ও অসংগত আচরণ করার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় সমালোচনার ঢেউ ওঠে। শাহ মিজানের উদ্ভট ও দাম্ভিক আচরণের কারণে সরকার তাকে লক্ষীপুর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

ডিআইজি হাসানুল হায়দারের ভাবশিষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দলনের পুরস্কার হিসাবে ঢাকা জেলার এসপি হিসাবে পোস্টিং পান।

ঢাকা জেলায় যোগদানের পর তিনি নিজে থেকে লাশ ডাম্পিং এর দায়িত্ব নেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধী মতামতের লোকজনকে তুলে এনে শাহ মিজানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। শাহ মিজান তার টিমকে দিয়ে সেসব লাশ প্রত্যন্ত বিল, নদী, খাল ও ব্রীজের ধারে ডাম্পিং এর ন্যায় বিশ্বস্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় লাশগুলো তার দায়িত্বে ডাম্পিং করা হয়েছে। সারা বছর পত্রিকার পাতায় ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে যে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এটি এসপি শাফিউরের কৃতিত্ব। চারিত্রিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও ভয়ংকর হওয়ায় তিনি এই বিশেষ কাজটি দক্ষতার সাথে করে প্রায় তিন বছর ধরে এই জেলায় এসপি হিসাবে আছেন।

পুলিশ বাহিনীতে দলীয় ক্যাডারদের রিক্রুট করার মিশনে শাহ মিজানের অবদান সবার মুখে মুখে। এই একই কাজে এসপি হাবিবুর রহমানের (বর্তমানে ডিআইজি প্রশাসন) ফেলে আসা সকল রেকর্ড শাহ মিজান ইতিমধ্যেই ব্রেক করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাকশালের মতো চরম পন্থায় দীক্ষা লাভ করেন। সরকারী চাকুরী করেও তিনি প্রকাশ্যে বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলেন। তার ফেসবুক পেজে বাকশাল মতবাদের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান সংক্রান্তে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস আছে। শাহ মিজানের বড় ভাই নাটোরে এ বছর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এমপি পদপ্রার্থী।

Content Protection by DMCA.com

মানুষের জীবন নিয়ে কোন সরকার এভাবে ছিনিমিনি খেলেনি!

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

গুম হওয়া এক বিএনপি নেতা ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে হাসপাতালে আসলেন যেভাবে – সাক্ষাৎকার!

Content Protection by DMCA.com

গত  ৩০শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার সময় রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে এক সাথে তুলে নিয়ে যায় ৪জনকে। তার মধ্যে একজনের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন প্রভাবশালী নেতা  (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হলো না)। দেখা হয় পিজি হাসপাতালের ইমার্জেন্সী বেডে।  আমি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, ইমার্জেন্সী ওয়ার্ডের বেডে চোখ পড়তেই দেখি এক লোক কাতরাচ্ছে সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন! এদিক সেদিক তাকিয়ে লোকটির পাশে দাঁড়ালাম, জিজ্ঞেস করলাম এমনটা হল কি করে? তিনি খুব কষ্টে ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন এক লোমহর্ষক কাহিনী, যা শুনে শরীরের লোম শিউরে ওঠে। আমি জিজ্ঞেস করলাম বলল কিভাবে হাসপাতালে এলো।

জানতে চাইলাম পুরো ঘটনা। বললেন পূরো কাহিনী, যা এখানে লিখলে হয়তো তার পরিচয় ওরা জেনে যাবে এবং আবার তুলে নিয়ে যাবে। তাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরলাম,

ঘটনার বর্ণনা : ঐ রাতে গ্রেফতার করে কোনো পুলিশ থানায় নিয়ে যায়নি, কোন এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাতেই বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেছিল, তারপর পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে জ্ঞান ফেরানোর পর পরদিন সারাদিন একটা গাড়িতে রাখে। রাতে তার লোকাল এমপির কাছে ফোন করে কথা বলে আবার পিডায়, আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে সে অবস্থায় আবার নিয়ে যায় অজানা কোনো স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাটিতে ফেলার পর তার জ্ঞান ফিরলে ঘাতক দল বলে, তোর এলাকার এমপি বলেছেন তোকে ওপারে পাঠাতে। দোয়া কলমা পড়ে নে। ঠিক সে সময় একটা ফোন আসলো, একজন অফিসার কথা বলা শেষে বললো- যা বেঁচে গেলি! এখানে থাক্। তখন ঐ অফিসারের পা জড়িয়ে ধরে বলে- স্যার, আমাকে হয় মেরে ফেলুন, নাহয় হাসপাতালে নিয়ে যান। এখানে এভাবে ফেলে গিয়ে যন্ত্রণা দিয়ে মারবেন না। আল্লাহর রহমতে ঐ অফিসারের দয়া হল, নিয়ে আসলো পিজি’তে। ইমার্জেন্সিতে ফেলে ওরা চলে গেল। কথা গুলো বলার সময় কাঁদছিলেন, আর বলছিলেন। আজ এখন এখানে আমার দ্বিতীয় জীবনের শুরু। ডিবি নামের এ লোক গুলো এত হিংস্র জঘন্য! আল্লাহর রহমত ছিল বলে বেঁচে আছি। এরপর সংগে থাকা বাকি ৩ জনের কথা জিজ্ঞেস করলে বললেন ওদের পরিনতি তিনি জানেন না । 

গত ২দিন আগে আবার তার সাথে কথা বলে জানলাম নিরাপত্তার স্বার্থে একদিন পরেই পিজি থেকে চলে যান প্রাইভেট হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দিন থেকেই টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাসায় ফিরেন। ডাক্তার বলেছেন প্রতিদিন থেরাপি দিতে হবে। বা হাত অনেকটা অকেজো, প্রচন্ড ব্যাথা শরীরে। কিন্তু টাকার জন্য থেরাপিও নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার মত একজন নেতা আজ টাকার জন্য চিকিৎসা নিতে পারছি না, দলের সাধারণ কর্মীদের কি অবস্থা? আমি আজ প্রায় ২১ দিন দ্বিতীয় বার জীবন পেয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে আল্লাহর দয়ায় ফিরলাম দলের হাইকমান্ডের কোনো নেতা খবর নিলো না। দলে নির্যাতিত নেতা কর্মীদের দেখভাল করার জন্য কোন টিম নাই।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলে উঠলেন , ভাই দয়া করে আপনি দূ’কলম লিখেন যেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন। এভাবে একটা দল চলতে পারেনা,  দলের নেতা কর্মীরা একসময় দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। আমি দীর্ঘ ২০ বছর রাজনীতি করে আজ আমার পাশে কাউকে পাচ্ছি না। আমার নিজেরই এখন দলের একজন নেতা পরিচয় দিতে ঘৃণা হচ্ছে নিজের প্রতি।

আমি সব শুনে তাকে বল্লাম ভাই আমার লেখা তো তারেক রহমান পর্যন্ত পৌঁছাবে না  তবু ও লিখব। হ্যাঁ লিখলাম । আমি আমার কথা রাখলাম। এবার নেতাদের কানে পৌঁছে দিতে পারেন অনলাইন ইউজাররা এ লেখা কপি শেয়ার করে ।

/vob24-7

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries