Tag Archives: national

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি রেজ্যুলেশন উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য উইলিয়াম কিটিং। তিনি এ রেজ্যুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানান। ওই কমিটিতে পর্যালোচনা শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, ইসলামী উগ্রপন্থা, শরণার্থী সংকট অন্যতম। এ ছাড়া দেশটিতে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো আঘাত বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের জন্য অবমাননাকর।

একই সঙ্গে তা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি দেশটির দায়বদ্ধতাকেও ক্ষুণ্ন করে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে রেজ্যুলেশনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে উৎসাহিত করার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, সব ভোটারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়, সেটাই ন্যায্য নির্বাচন।

রেজ্যুলেশনে গত জাতীয় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কায় বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এবং মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আরো সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়া। এ ছাড়া, রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার প্রশংসা করা হয়।

/যাস্ট নিউজ

Content Protection by DMCA.com

আ.লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে চীন

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করবে চীন। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী জোট ঐক্যফ্রন্টকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা। যার চালিকা শক্তি হলো খালেদার দল বিএনপি। শুধু তাই নয়, তাদের সঙ্গে রয়েছে মৌলবাদী দল জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি ও জামায়াতের মূল বৈশিষ্ট্য এরা উভয়ই পাকিস্তান ও চীনপন্থী। অতএব নিজেদের স্বার্থেই চীন বাংলাদেশের এই বিরোধী ঐক্যফ্রন্টকে ক্ষমতায় ফেরাতে আদাজল খেয়ে নেমেছে।
যুগশঙ্খ লিখেছে, ঢাকার প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘ দশ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনাকে যেন-তেন প্রকারে গদিচ্যুত করে খালেদার জোটকে মসনদে বসাতে তৎপর চীন। আর এ জন্যই তারা এ অর্থ ব্যয়ে প্রস্তুত।
প্রশ্ন উঠেছে, কেন হাসিনা সরকারের প্রতি এমন বিরাগভাজন হলো চীন?
দেখা গেছে, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প থেকে চীনকে বাদ দেয় হাসিনা সরকার। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল বঙ্গোপসাগরের একটি প্রকল্প। হাসিনা সরকারের উপর বেইজিংয়ের আক্রোশের পেছনে এটিই বড় কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। যার ফলে হাসিনা সরকারকে কুরসিচ্যুত করতে চীনের ১০ বিলিয়ন অর্থব্যয়। একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যও বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে চীন।
প্রশ্ন উঠেছে, অতীতে পদ্মপারের এই দেশের নির্বাচনে যেখানে বিন্দুমাত্র নাক গলায়নি বেইজিং, সেখানে এবার এই সক্রিয়তা কেন? কেন বাংলাদেশের ভোট নিয়ে এত উদ্বিগ্ন চীন?
প্রতিবেদনে পত্রিকাটি লিখেছে, সূত্রের খবর, এনিয়ে ঢাকার চীনা দূতাবাস তিন বার বিবৃতি দিয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীদের সঙ্গে একাধিকবার গোপন বৈঠকও করেছে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঢাকার চীনা দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা গোপন বৈঠকও করেছেন বলে জানা গেছে। সেখানেই এই আর্থিক সাহায্য দানের কথা বলা হয়। অন্য একটি সূত্রমতে, শুধু দশ বিলিয়ন নয়, তারও বেশি অর্থ ব্যয়ে রাজি চীন।
পরিসংখ্যান বলছে, চীন বাংলাদেশে রপ্তানি করে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। সবমিলিয়ে বাংলাদেশকে তারা বছরে একশো কোটি ডলারের অর্থসাহায্য দেয়। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২৪ বিলিয়ন বা দুই হাজার চারশো কোটি ডলারের সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষনা করেন। বাংলাদেশের পরিকাঠামোগত প্রকল্পে ৩১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীন। যা পাকিস্তানের পরই দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ। এর মধ্যে রয়েছে, সড়ক,রেল,কয়লা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং পানি পরিশোধনগার নির্মাণ। বাংলাদেশে বর্তমানে চীনা বিনিয়োগ সরকারি এবং বেসরকারি খাতে মোট ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এছাড়া কৌশলগত অংশীদার হিসাবে চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের যৌথ কনসর্টিয়ামের কাছে বাংলাদেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
/দৈনিক যুগশঙ্খ

Content Protection by DMCA.com

পুলিশ ও প্রশাসনের যে ৯২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

Content Protection by DMCA.com

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে র্যাবের ডিজিসহ পুলিশের শীর্ষ ৭০ এবং ইসি সচিবসহ জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশ ও জনপ্রশাসনের ৯২ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে ইসিতে চিঠি পাঠান । এই ৯২ কর্মকর্তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হয়েছে। কেন তাদের প্রত্যাহার করা জরুরি তাও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে আজকের চিঠিতে।

পুলিশের যে ২২  কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল বিএনপি:

১. পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) জামালপুরের মো. মোখলেসুর রহমান (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ২. র‍্যাবের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি গোপালগঞ্জের বেনজীর আহম্মেদ (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ৩. ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ফরিদপুরের আছাদুজ্জামান মিয়া (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ৪. অতিরিক্ত আইজিপি (টেলিকম) পাবনার মো. ইকবাল বাহার (বিসিএস অষ্টম ব্যাচ), ৫. নৌপুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খুলনার শেখ মো. মারুফ হাসান (বিসিএস অষ্টম ব্যাচ), ৬. সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি চাঁদপুরের মো. কামরুল আহসান (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৭. চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি টাঙ্গাইলের খন্দকার গোলাম মারুফ (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৮. খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি গোপালগঞ্জের মো. দিদার আহম্মেদ (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৯. রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি গোপালগঞ্জের এম খুরশীদ হোসেন (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ১০. খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার ও ডিআইজি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হুমায়ুন কবির (বিসিএস ১২তম ব্যাচ),

১১. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার জামালপুরের মো. মনিরুল ইসলাম (বিএসএস ১৫তম ব্যাচ), ১২. চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ও ডিআইজি জামালপুরের মাহবুবুর রহমান (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৩. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি মাগুরার মীর রেজাউল আলম (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৪. ঢাকা সিটি এসবির ডিআইজি গোপালগঞ্জের মো. আলী মিয়া (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৫. রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মৌলভীবাজারের দেবদাস ভট্টাচার্য (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৬. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি হবিগঞ্জের কৃষ্ণপদ রায় (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৭. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) গোপালগঞ্জের হাবিবুর রহমান (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ১৮. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) কিশোরগঞ্জের আনোয়ার হোসেন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ১৯. রাজশাহী পুলিশ কমিশনার (আরএমপি) ও ডিআইজি গাজীপুরের হাফিজ আক্তার (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২০. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ট্রেনিং) ও বরিশালের ড. খ মহিদ উদ্দিন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ),

২১. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি সুনামগঞ্জের আবদুল বাতেন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২২. রংপুর মহানগরে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি রাজবাড়ীর চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৩. ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত ডিআইজি নড়াইলের শেখ নাজমুল আলম (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৪. খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ময়মনসিংহের এ কে এম নাহিদুল ইসলাম (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৫. পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি যশোরের মো. মনিরুজ্জামান (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৬. সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খুলনার জয়দেব কুমার ভদ্র (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ২৭. ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাদারীপুরের মো. আসাদুজ্জামান (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ),

২৮. ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) কুমিল্লার মাহবুব আলম (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ২৯. ঢাকা সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) নড়াইলের মোল্যা নজরুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩০. সিলেটে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি পাবনার আলতাফ হোসেন (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩১. ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) কিশোরগঞ্জের বিপ্লব কুমার সরকার (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩২. ডিএমপির ডিসি কিশোরগঞ্জের হারুন অর রশিদ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩৩. ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি খুলনার মো. মারুফ হোসেন সরদার (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৩৪. সিএমপির ডিসি খুলনার এস এম মেহেদী হাসান (বিসিএস ২২তম ব্যাচ),

৩৫. ডিএমপির ডিসি (ডিবি উত্তর) মাগুরার খন্দকার নুরুন নবী (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৩৬. সিএমপির ডিসি সিরাজগঞ্জের মো. ফারুকুল হক (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৩৭. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি নেত্রকোনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৩৮. ডিএমপির ডিসি গোপালগঞ্জের এস এম মুরাদ আলী (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৩৯. ডিএমপির এডিসি গোপালগঞ্জের শিবলী নোমান।

৪০. ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার এসপি নাটোরের লালপুরের শাহ মিজান শফি (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪১. নারায়ণগঞ্জের এসপি গোপালগঞ্জের মো. আনিসুর রহমান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪২. মুন্সীগঞ্জের এসপি মাদারীপুরের মো. জায়েদুল আলম (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৪৩. নরসিংদীর এসপি পটুয়াখালীর মিরাজ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪৪. টাঙ্গাইলের এসপি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সঞ্জিত কুমার রায় (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৪৫. মাদারীপুরের এসপি বাগেরহাটের চিতলমারীর সুব্রত কুমার হাওলাদার (বিসিএস ২১তম ব্যাচ)। ৪৬. ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার এসপি বাগেরহাটের শাহ আবিদ হোসেন (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪৭. শেরপুরের এসপি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশরাফুল আজিম (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ),

৪৮. সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার এসপি পটুয়াখালীর মো. মনিরুজ্জামান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ),৪৯. বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার এসপি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫০. ভোলার এসপি পটুয়াখালীর মোক্তার হোসেন (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫১. খুলনা বিভাগের খুলনার এসপি গোপালগঞ্জের এস এম শফিউল্লাহ (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৫২. সাতক্ষীরার এসপি ঝিনাইদহের মো. সাজ্জাদুর রহমান (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫৩. বাগেরহাটের এসপি লালমনিরহাটের পঙ্কজ চন্দ্র রায় (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫৪. যশোরের এসপি পটুয়াখালীর মঈনুল হক (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৫. ঝিনাইদহের এসপি নড়াইলের হাসানুজ্জামান (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৫৬. কুষ্টিয়ার এসপি বাগেরহাটের আরাফাত তানভীর (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৫৭. চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার এসপি গোপালগঞ্জের নূরে আলম মিনা (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৮. নোয়াখালীর এসপি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ইলিয়াস শরিফ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৯. ফেনীর এসপি পাবনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার (বিসিএস ২২তম ব্যাচ),

৬০. কুমিল্লার এসপি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সৈয়দ নুরুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬১. রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার এসপি জামালপুরের মিজানুর রহমান (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৬২. দিনাজপুরের এসপি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সৈয়দ আবু সায়েম (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৩. ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি কুষ্টিয়ার মনিরুজ্জামান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৪. রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলার এসপি শেরপুরের মো. শহীদুল্লাহ (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৫. চাঁপাইনবাগঞ্জের এসপি গাজীপুরের মোজাহিদুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৬. নওগাঁর এসপি পাবনার ইকবাল হোসেন (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ৬৭. নাটোরের এসপি নেত্রকোনার সাইফুল্লাহ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৮. বগুড়ার এসপি নেত্রকোনার মদন উপজেলার আশরাফ আলী (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৯. সিরাজগঞ্জের এসপি লক্ষ্মীপুরের টুটুল চক্রবর্তী (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৭০. পাবনার এসপি গোপালগঞ্জের রফিক ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ)।

সিভিল প্রশাসনের যে ২২  কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল বিএনপি:
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসের ২২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি। তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে তাড়াতাড়ি প্রত্যাহার করে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেয়ার দাবি জানায় দলটি। কী কারণে তাদের প্রত্যাহার করা দরকার তাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত ও অতিমাত্রায় প্রচারমুখী। বিসিএস ৮২ বিশেষ ব্যাচের এবং ৮৪ পদের শতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহীউদ্দীনের একান্ত সচিব ছিলেন। মহীউদ্দীনের ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল এখন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সচিবের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্য কর্মকর্তারা হলেন-জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, ভোলার ডিসি মো মাসুদ আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর ফেনীর ডিসি ওয়াহেদুজ্জামান, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কিশোরগঞ্জের ডিসি সারোয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, টাঙ্গাইলের ডিসি মো শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ডিসি সুরজ কুমার নাথ, খুলনার ডিসি হেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসাইন, নড়াইলের ডিসি আঞ্জুমান আরা, ময়মনসিংহের ডিসি ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, জয়পুর হাটের ডিসি মো. জাকির হোসাইন, নওগাঁর ডিসি মিজানুর রহমান, রাজশাহীর ডিসি আবদুল কাদের ও সিলেটের ডিসি কাজী ইমদাদুল হক।

তালিকা জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উনাদের কাছে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে। আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই

Content Protection by DMCA.com

ইভিএম সংবিধান বিরোধী, ব্যবহার হলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা: ঐক্যফ্রন্ট 

Content Protection by DMCA.com

 

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইভিএম সংক্রান্ত এক সেমিনারে ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- কনস্ট্রিটিউশন বায়োলেশন (সংবিধান লঙ্ঘন) হবে ইভিএম ব্যবহার করলে। সংবিধানের বিরোধিতা হবে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ, সাংবিধানিক অপরাধ।

এটা যদি নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে ব্যবহার করতে যায় আমরা আমাদের নেতা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

আমি নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, এটা সংবিধান বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী, মামলা হবে; জেলে যাবেন। আমরা ছাড়বো, দেশের ১৮ কোটি মানুষ ছাড়বে না।

রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সেমিনারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে কিভাবে ভোট কারচুপি করা যায় একটি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রয়োগিক ব্যবহারে ভোট প্রদান করে তার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখানো হয় কিভাবে এক প্রতীকের ভোট অন্য প্রতীকের ঘরে জমা হয়।

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২(এ) ধারা উল্লেখ করে রব বলেন, সেখানে বলা আছে সংসদ গঠন হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। মেশিনে প্রত্যক্ষ করা যায় না। সংবিধানের বলা আছে ডাইরেক্ট (প্রত্যক্ষ) ভোটে সরকার গঠন করতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ ইভিএম এই শর্ত পুরণ করে না। তাই সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যক্ষ ভোটের একটি প্রধান শর্ত যে ভোট প্রদান থেকে শুরু করে সর্বশেষ ভোট গণনা পর্যন্ত সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগনের কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে। ইভিএমের বর্তমান প্রস্তাব ও কাঠামো বাংলাদেশের মতো দেশে প্রচন্ডভাবে অগণতান্ত্রিক। জনগণের কাছে এই মেশিনের স্বচ্ছতা নেই, উন্মুক্তও নয়। তিনি বলেন, আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে পারবে না, করতে দেবো না। ভোটার ও জনগণ করতে দেবে না। রব বলেন, বাংলাদেশে আমরা কোনো রাজনৈতিক দল, ভোটার ও জনগন ইভিএম ব্যবহার চাইনি।

আমরা যারা নির্বাচনের অংশীদার, যারা নির্বাচন করবো, করাবো, ভোট দেবো, জয়লাভ করবো, সরকার গঠন করবো, আমরা কেউ চাইলাম না। আপনি নির্বাচন কমিশন এতো এডামেন্ট কেনো? আসল ঘটনা হলো আপনি গতবারের ১০ হাজার টাকার মেশিন এবার ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন। হারামটা জায়েজ করার জন্য, টাকাটা খাওয়ার জন্য। জার্মানী, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে ইভিএম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন আসম আবদুর রব বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা ভোট জালিয়াতি করবে। ইভিএমে ভোট করতে দেয়া হবে না, আপনারা করতে পারবেন না। তারা বলছে, শহর অঞ্চলে সীমিত পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার করবে। আসলে শহরে অঞ্চলে সচেতন ভোটারদের ভোটগুলো জালিয়াতির জন্যই তাদের এই চেষ্টা।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত কি তার কৌশল বদল করেছে?

Content Protection by DMCA.com

দু’হাজার তেরো সালের ডিসেম্বর মাস। ঢাকায় এক সফরে এলেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। তিনি দেখা করলেন জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদের সাথে, বলা হয় – তিনি তাকে অনুরোধ করেছিলেন পরের বছর ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য। এই সফর তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

কারণ তার আগে জেনারেল এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় এবং বাংলাদেশে এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় – যার ফলে সংশয় দেখা দেয় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে নিয়ে।

নির্বাচনের অংশ নেবার জন্য সুজাতা সিং এরশাদকে অনুরোধ করলেও তিনি তখন রাজি ছিলেন না। তবে সরকারের চাপে পড়ে এরশাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনের এক মাস আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরকে তখন অনেকেই বিবেচনা করেছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর ভারতের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে সেই ভারতই এবার খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছে না বলে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত প্রকাশ্যে যেভাবে পক্ষ নিয়েছিল সেটি এবার দেখা যাচ্ছে না।

যদিও এবারের নির্বাচনে এরই মধ্যে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতিও বদলেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের নিস্পৃহ ভাব দেখানোর বিষয়টি হয়তো তাদের কৌশলে কোন পরিবর্তন হতে পারে।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো প্রকাশ্যে সমর্থন দেখানোর চাইতে আড়ালে কলকাঠি পরিচালনা করাটাই ভারতের জন্য ভালো হতে পারে। এমটাই বলছেন বাংলাদেশে কেউ-কেউ।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত উদাসীন থাকবে, এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম।

অধ্যাপক মাসুম বলেন, “আমি মনে করি বিজেপি সরকার দৃশ্যত নিঃস্পৃহ ভাব দেখালেও তারা ভেতরে-ভেতরে ভারতমুখি একটি সরকার চাইবে। সেক্ষেত্রে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে দেখতে চাইবে এটা খুবই স্বাভাবিক।”

শুধু ২০১৪ সালের নির্বাচন নয়, ২০০১ সালের নির্বাচনেও ভারতের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রতিজ্ঞা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা থাকুক কিংবা না থাকুক – তার চেয়েও বড় কথা হলো: বিএনপি তার দলের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কারণ, ২০১৪ সালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির যে মূল দাবি ছিল, সে দাবি তারা এবারো তুলেছিল। কিন্তু সেটি পূরণ না হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে একই সাথে গত বেশ কয়েক বছর ধরে দলটি ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টাও করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারতের আগ্রহের চাইতে বরং বেশি কাজ করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ।

মি: আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কোন সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলনই যে সব সময় হবে তা নয়। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে এমন অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে – যাদের ভারত চায়নি।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিফিং : বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তারা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কার্যকর উদ্যোগ নেবার কথাও বলেন কেউ কেউ। সরকারকে বাংলাদেশ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে জোর আরোপ করেন বক্তারা। বাংলাদেশে অব্যাহত গুম ও খুনের ঘটনা অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র হাউস কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া প্যানালিস্টরা। ব্রিফিংটির আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্র হাউজ কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি হিউল্টন ও কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগভার্ন।

ন্যাশনাল এন্ডুমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনা দেবের সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে প্যানালিস্ট বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডাইরেক্টর জহন সিফটন, ইউনাইটেড স্টেইটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পলিসি অ্যানালিস্ট ওয়ারিস হোসাইন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইউএসএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লাউরা বর্মন।

জন সিফটন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এক সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। এবারের নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু হবে বলেও আশা করা কঠিন। কারণ বিরোধী দলের বহু নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও ১৯ জন বিএনপি নেতা গুম হয়েছে। প্রায় হাজারের মতো মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিক কতজন লোক রাজনৈতিক কারণে কারাগারে আছেন তা নিরূপন করা কঠিন।

তিনি আরো বলেন, সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এতই নাজুক যে, তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা কঠিন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। স্কুলছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলায় সাংবাদিক শহিদুল আলমকে কারান্তরীণ করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণে ইতোমধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসই পারে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সরকারকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করতে। কারণ কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন ডেমোক্রেটদের রয়েছে।

ওয়ারিশ হিউস্টন বলেন, নির্বাচনকে সামনে নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার আশংকা রয়েছে যেমনটি আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি কওমী সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে সংবর্ধনা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জিয়া উদ্দিন।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন-মানবাধিকার নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টে বিতর্ক

Content Protection by DMCA.com
Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের ইভিএম দিয়ে ফল পাল্টানো- বাচ্চাদের খেলনা’র মত সহজ কাজ!

Content Protection by DMCA.com

।।সাবিনা আহমেদ।।

আসন্ন নির্বাচনে যেসব ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহৃত হবে তা বাংলাদেশে তৈরি। এই মেশিন তিন ফেইজ বা ধাপে তৈরি হয়েছে। প্রথম দুই ধাপ সম্পন্ন করেছে বুয়েট আর সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন করেছে Bangladesh Machine Tools Factory Ltd (BMFT)।

এই মেশিন কাজ করে বোথ হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার/ফার্মওয়্যার এর মাধ্যমে। আর এই ফার্মওয়্যার দ্বারাই তৈরি হয় আসল ফলাফল। প্রথম দুই ধাপে যা দেখানো হয়েছে বা করা হয়েছে খুব সহজে তৃতীয় ধাপে যেয়ে ফার্মওয়্যার এর কোড বদল করে মেশিনকে নিজ ইচ্ছানুযায়ী ম্যানুপুলেট করা সম্ভব।

ট্রাস্ট মি হোয়েন আই সে দিস, আমি নিজেও ইঞ্জিনিয়ার, প্রচুর ফার্মওয়্যার লিখেছি, যা দিয়ে হার্ডওয়্যার ম্যানুপুলেট করেছি, এমনকি মিসাইল পর্যন্ত। ইটস অল ইন দ্যা কোড। আপনি আমাকে বলুন আপনি কি চান, ফার্মওয়্যার কোড এমনভাবে লিখব যা মেশিন যখন রান করবেন আউটপুট বা রেজাল্ট আপনার মনের মতন হবে। আপনি ভিন্ন রেজাল্ট চান? নো প্রব্লেম… আপনি রাতের জায়গায় দিন চান? নো প্রব্লেম……… উপরে দেখাবো রাত, বের হবে দিন। ধানের শিষের বাটনে প্রেস করলে নৌকায় পক্ষে গননা চান? নো প্রবলেম। আপনি কেবল ৬০% ধানের শিষের ভোটকে নৌকায় পরিবর্তন করতে চান? নো প্রবলেম। পেপার স্লিপ আর ভোট গননার মাঝে ডিফারেন্স চান? নো প্রবলেম। আপনি খালি বলুন আপনি কি চান, কোড এমন ভাবে লিখব যে মেশিন আপনাকে তাই দিবে।

আমি কোড লিখে যেসব মেশিন কন্ট্রোল করেছি তার তুলনায় ইভিএম মেশিন একেবারে প্রিমিটিভ, বাচ্চাদের খেলনা। এটা খুবই সিম্পল মেশিন, এর কোড একদম প্রাইমারী লেভেলের, আর একে যেভাবে খুশি লিখে ম্যানুপুলেট করা সম্ভব। একবার কোড লেখার পর তাকে পরবর্তী ধাপে বদলে দিয়ে ব্যবহারের আগে ফাইনাল মেশিনে সেই কোড আপলোড করে দেয়া কোন ব্যাপারই না।

বিএমএফটি এই মেশিন আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতে বেশি দামে বানিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এখানে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে মেশিন এভেইলেবল থাকতে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার এই মেশিন দেশের ভিতর বেশী দামে বানিয়েছে? আর এর সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে বাইরের মেশিনের ফার্মওয়্যার বদল করে রেজাল্ট নিজ ইচ্ছানুযায়ী তৈরি করার জন্য ঠিক যে মেশিন কিনবে তার হার্ডওয়্যার আর ফার্মওয়্যার এর ডিটেইলস জানা লাগবে, ‘র’ কোড তার কম্পাইলার ইত্যাদি সেই মেশিন প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে বাংলাদেশকে দিতে হবে, বা বাংলাদেশের ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে মেশিনের ভিতরের মাদারবোর্ডের ইলেকট্রিকাল ডিজাইন এর পুরা ডিটেইলস থাকতে হবে। যা কখনও বাইরের মেশিন প্রস্তুত কারক দেশ বাংলাদেশ সরকারকে দিবে না। কারন এটা তাদের ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি।

তাই সেক্ষেত্রে মেশিন ব্যবহারে ভোটের রেজাল্ট নিজ ব্যাংকে তুলতে সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে নিজেরাই মেশিন তৈরি করা, নিজেরাই কোড লেখা। দুইটা পয়সা বেশী গেলেও এতে করে ইচ্ছানুযায়ী ভোট দেয়া আর রেজাল্ট গননা সম্ভব। আপনারা উপরে দেখবেন এক আর ভিতরে হবে আরেক।
নর্মালি, আমি হয়ত প্রচুর গর্ববোধ করতাম বাংলাদেশ নিজেদের তৈরি ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে যাচ্ছে, কিন্তু যেখানে মানুষকে নিজের ভোট নিজেকে দিতে হয়না, দিলেও ব্যালট বাক্স আগে থেকেই সিল মারা ব্যালোটে ভরে রাখা হয়, যেখানে নির্বাচনে কারচুপির সাগর পরিমান পূর্ব উদাহরন, সেখানে নিজেদের বানানো ইভিএম মেশিন এবার সাঙ্ঘাতিক কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন এও শোনা যাচ্ছে যেখানে ইভিএম মেহিন ব্যবহার করা হবে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে। ডাসন্ট ম্যাটার সেনা বাহিনী অথবা হোয়াটেভার…… সকল কারচুপি ঐ মেশিনের ভিতরের ১০ ০১০০১১০০০১১০… ডিজিটাল কোডে। মেশিনের বাইরে নিউক্লিয়ার মিসাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর্মির বাপের সাধ্য নাই কারচুপি ধরার।

* লেখক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে কর্মরত প্রকৌশলী

Content Protection by DMCA.com

অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করেন বারবার

Content Protection by DMCA.com

ড. তুহিন মালিক

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে আজ সকালে পদত্যাগের পরও একজন মন্ত্রী হিসেবেই একটি অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। অথচ গতকাল গণমাধ্যমে পুরো দেশবাসী দেখেছে চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

আমাদের সংবিধানে ৫৮(১) নং অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।”

এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ামাত্রই মন্ত্রীদের পদ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে কোনো ‘যদি’ বা ‘তবে’ বা কোনো ফর্মালিটির উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছামাত্রই তাদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শুধু পোস্টবক্স হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে গতকাল থেকেই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সবার পদ শূন্য হয়ে গেছে। এখন তারা আর কোন ধরনের বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটারই অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করার পর পদত্যাগী কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব পেতে হলে তাকে আবার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নতুন করে আবার শপথ নিতে হবে ও শপথে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আমাদের সংবিধান খুব পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখিয়েছে। খেয়াল করার বিষয় হলো- সংবিধানের ৫৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে। অপরপক্ষে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে।

প্রশ্ন জাগতে পারে- এই দুই ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেন? জবাব হলো- সংবিধান মতে রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ও বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। তাই সংবিধান প্রণেতাগণ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা প্রয়োগের রক্ষাকবচের জন্যই মন্ত্রীদের পদ শূন্যের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক বলে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। কেননা মন্ত্রীদের পদশূন্যতা যদি রাষ্ট্রপতির মর্জির ওপর শর্তযুক্ত থাকে তাহলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আসলে অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করলেন।প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, অফিস করবেন এবং ফাইলেও যথারীতি স্বাক্ষর করবেন। এটা কেমন হুকুম! যেখানে পদত্যাগ করার পর মন্ত্রীদের প্রত্যেকের পদ সংবিধান মতে শূন্য ঘোষিত হলো সেখানে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে মন্ত্রীরা যদি অফিস করেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর দিতে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধানের চরম লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

কেননা পদত্যাগী মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবৈধ বিধায় তাদের কেউ আর কোনো বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার, অফিস করা, ফাইলে স্বাক্ষর করা ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটাই করার অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ভরণ-পোষণের কোনো বিধান অদ্যাবধি তৈরি করেনি। তাই পদত্যাগী মন্ত্রীদের দেওয়া সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবৈধ। তাদের নীতিনির্ধারণী, ফাইলে স্বাক্ষর ও নোটিংসহ সব কাজকর্ম অবৈধ।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাতকে দিনে রূপান্তরিত করছেন, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক সংবিধান লংঘন করেই চলেছেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

Content Protection by DMCA.com

ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বিধাবিভক্ত: প্রভাবশালী অংশ আ’লীগের সাথে নাই

Content Protection by DMCA.com
বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে টেনশেনের পারদ তত বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। আর এর প্রভাবশালী অংশটি আ’লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই মর্মে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রে।
 
গত দু’সপ্তাহের মধ্যে দুটি জরিপের রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা ব্যুরো। এর মধ্যে একটি রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন হলে আ’লীগ এবং তাদের জোট সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৩টি আসন পেতে পারে। অপর একটি রিপোর্ট বলছে, ৩৩টি আসন পেতে পারে। একটি রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার আমাদের হাতে রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের যেমন টেনশন ছিল চুড়ান্ত, এবং আ’লীগকে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আনতে যে ধরনের সরাসরি উদ্যোগ ছিল, এবারে আর তেমনটা নাই। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতের দীর্ঘকালের মিত্র আওয়ামীলীগ ভারতকে ডিঙিয়ে চীনের মুখাপেক্ষী হয়েছে।
 
আর সবকিছু দেখে শুনে দিল্লি বিকল্প পথ ধরে হাটছে। এমনি অবস্থার মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সাথে নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় একটি মস্তবড় সুবিধা তৈরি করে দেয়ার ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাটি।
 
তাছাড়া গতকালই ঐক্যফ্রন্টে সদলবলে যোগ দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের খাস লোক মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। এতে করে সকলের মনে ধারণা জন্মেছে ঐক্যজোটের প্রতি দিল্লির সমর্থন রয়েছে, এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে।
Content Protection by DMCA.com
« Older Entries