Tag Archives: military

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চলাকালে তিন বাহিনী প্রধানকে যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী!

Content Protection by DMCA.com
“তিন বাহিনী প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখে পিলখানার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল”- জানিয়েছেন তৎকালীন সেনা প্রধান ১/১১র প্রধান কুশীলব জেনারেল মইন। (এ সংক্রান্তে কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে রয়েছে।)

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সকাল ৯:২৬ ঘটিকায় পিলখানার দরবার হলে সৈনিক বিদ্রোহ ঘটার পরপরই সেখানে উপস্খিত সেনা কর্মকর্তারা সেনা সদরে এবং র‌্যাব হেড কোয়ার্টার্সে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে অফিসারদের উদ্ধারের জন্য সাহায্য চেয়ে পাঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, এনএসআই প্রধান জেনারেল মুনীর, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহের খবর জানতে পারেন। ১০:১০ মিনিটে র‌্যাবের ৩৫০ জন জওয়ান ও অফিসার বিডিআর গেইটে সাহায্য নিয়ে হাজির হয়, যারা ৫ নম্বর গেইট দিয়ে ঢুকলেই খুব অল্প সময়ে বিদ্রোহ দমন করতে পারত। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
ব্রিগেডিয়ার হাকিমের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের সৈনিকরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সকাল ১০:৫০ ঘটিকার মধ্যে বিডিআর হেডকোয়ার্টোসের চারদিকে অবস্থান নেয়, তাদের সঙ্গে এপিসি ছিল, ট্যাংক যোগ দেয় পরে। তবে তাদের অপারেশন চালানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
বেলা ১টার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’য় ডেকে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরে তাদেরকে একটি ওয়েটিং রুমে বসতে বলা হয়। জেনারেল মইনের ভাষ্যমতে, ঐ কক্ষ থেকে তাদেরকে আর বের হতে দেয়া হয়নি। কার্যত তারা ছিলেন আটক। তাদের মোবাইল ফোনগুলো গেটে জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। পরে তাদের চা-নাশতা দেয়া হয়। তারা শুনতে পান পাশের কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলায় হাস্যরসে ব্যস্ত ছিলেন তাপস, নানক, আজম, সাহারা খাতুন সহ কেবিনেট মেম্বাররা!
 
এরিমধ্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক এবং হুইপ আজম, এমপি শেখ তাপস সহ একটি টিম পিলখানায় গিয়ে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি (উপ সহকারী পরিচালক) তৌহিদ সহ ১৪ জনের একটি গ্রুপকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় নিয়ে আসেন বিকেল ৩:২৮ মিনিটে। সেখানে তাদেরকে হোটেল শেরাটন থেকে নাশতা এনে আপ্যায়ন করা হয়। (উল্লেখ্য নানকের ক্লাশমোট এই তৌহিদের সঙ্গে আগের দিন ২০৪ মিনিট টেলিফোন আলাপ গোয়েন্দারা রেকর্ড করে!) যমুনায় ১৫০ মিনিট অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ডিএডি তৌহিদরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় নানক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন প্রেসকে জানান, আলোচনা সফল হয়েছে, বিদ্রোহী বিডিআরদের নিজের সন্তান হিসাবে উল্লেখ করেন। এভাবে সময় ক্ষেপণের মাঝখানে বিডিআরের ডিজি জেনারেল শাকিলসহ ৫৭ অফিসারকে হত্যা করে বিদ্রোহীরা, অফিসারদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ চালায়, এবং নারীদের ধর্ষন করে। এর মধ্যে বিডিআর ডিজির স্ত্রী এবং কর্নেল মজিবের স্ত্রীকে হত্যা করে। ফলপ্রসু আলোচনার (!) সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে শেখ ফজলে নূর তাপসের বরাতে টিভি স্ক্রলে দেখানো হয়, ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগ করা হয়েছে এবং বিডিআরের ৩ কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা করে দেয়ার নির্দেশ জারী করা হয়। পরে জানা যায়, এলাকা শূন্য করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানায় গিয়ে কিছু বন্দী পরিবার মুক্ত করে আনার কথা জানান। ঐসময় পিলখানা থেকে কিছু কালো কাঁচের এম্বুলেন্স বের হতে দেখা যায় (পরে জানা যায় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শুটারদের বের করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়)! রাত ১০টার দিকে তিন বাহিনী প্রধান সহ সেনাপ্রধান মইন যমুনা থেকে বের হয়ে এসে প্রেসকে জানান- Army is subservient to the Government!”
 
জেনারেল মইন জানিয়েছেন, বিদ্রোহ দমন করতে সেনা অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী কায়দা করে তিন বাহিনী প্রধানকে তার বাসভবনে ৮ ঘন্টা আটকে রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

রাষ্ট্রদূত মার্শার উপর আওয়ামী হামলার জবাবে মার্কিন অ্যাকশন শুরু: নানকের ভিসা বাতিল, সেনাপ্রধানের স্ত্রীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখান!

Content Protection by DMCA.com

হঠাৎ করেই ঢাকার উপরে মার্কিন অ্যাকশন শুরু। গত রবিবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। সূত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

একই দিনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। খুব দ্রুততার সাথে মিসেস দিলশাদের  ভারতের ভিসা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে কি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি করছে? এমন খবর জানাজানি হওয়ার পরে নড়ে চড়ে বসে সরকার ও তাদের লোকজন। সরকারের শেষ মুহূর্তে আমেরিকান ভিসার সংগ্রহের জন্য মাদানী এভিনিউতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিড় কমে যায়! চাউড় হয় – আমেরিকান অ্যাকশন শুরু!

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেসব কারণে মার্কিন ভিসা বাতিল হতে পারে তার একটি হলো আর্টিকেল ৯, যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকের উপর আক্রমণ, আঘাতের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র হলে কারও ভিসা বাতিল হতে পারে। এই আর্টিকেল ৯ অনুযায়ী নানকের ভিসা বাতিল হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র জানায়। নানকের শুধু ভিসাই বাতিল হয়নি, আমেরিকান চাপে তাকে চলমান সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকে আ’লীগ।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৫ আগস্ট রাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সুশাসনের জন্য সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মিষ্টার মজুমদারের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। ঐ দুবৃত্তরা সেখানে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলা চালায়, রাষ্ট্রদূতকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়। হামলায় রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং চালক আহত হয়। উল্লেখ্য, ঐ সময় দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ চলছিল, এবং দিনে বেলায় ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রলীগ যুবলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক, এমনকি জনসাধারনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী নিহত হয়েছে, এবং আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি অফিসে একাধিক ছাত্রী ধর্ষনের খবর সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা গুজব হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। ঐ রাতেই অদূরে মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জনমনে চাউর হয়, ধানমন্ডি মোহাম্মপুর এলাকার সরকারী দলের একই অস্ত্রধারীরা রাষ্ট্রদূতের উপর হামলা চালায়, যাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের হাতে!

মার্কিন দূতাবাস ঐ হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পত্রযোগে অবহিত করে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের পরিবর্তে আ’লীগ সরকার উল্টো রাষ্ট্রদূতকেই ঘটনার জন্য দায়ী করতে থাকে, এমনকি রাষ্ট্রদূত সেখানে সরকার পতনের চক্রান্ত করছিলেন বলে অভিযোগ তোলে। এরি মাঝে ওয়াশিংটন থেকে এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্খা ঢাকায় এসে হামলার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সাথে সরকারের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। হামলায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমান সংগ্রহ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। কিন্তু তারপরও ঢাকার প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্রিবতকর অবস্খায় পড়ে রাষ্ট্রদূত মার্শাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে দ্রুত ফেরত নিয়ে যায় হেডকোয়ার্টারে। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত করে পাঠায় প্রাক্তন মেরিন কর্মকর্তা আর্ল রবার্ট মিলারকে।

ঢাকায় যোগ দিয়েই রাষ্ট্রদূত মিলার সেগুণবাগিচার পররাষ্ট্র দফতরে মন্ত্রী সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জানতে চান- রাষ্ট্রদূত মার্শার ওপরে হামলার তদন্তের অগ্রগতি কতদূর। কিন্তু তিনমাস পরেও সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি, বরং উল্টো রাষ্ট্রদূত মার্শার দিকে দোষের আঙ্গুল তোলে। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যাকশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অবশেষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার দূতাবাস জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিসা বাতিল করে।

তবে এখানেই শেষ নয়, আমেরিকান স্বার্থে আঘাত করার দায়ে আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকায়। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের স্ব্রীর ভিসা আবেদন নাকচে সরকারের টনক নড়ে গেছে, কেননা এটি দশটা মন্ত্রী ফেলে দেয়ার মত ভয়াবহ সংকেত।

Content Protection by DMCA.com

ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে ২৫ কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিতর্কে জড়ালো সেনাবাহিনী!

Content Protection by DMCA.com
ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে সেনাবাহিনীর বিতর্কিত ২৫ কর্মকর্তা
ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে সেনাবাহিনীর বিতর্কিত ২৫ কর্মকর্তা

এ মুহূর্তে স্বস্ত্রীক ভারতে প্রমোদ ভ্রমণে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৫ বিতর্কিত কর্মকর্তা। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের এ ভারত সফর ইতোমধ্যেই জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

গত ২৬ নভেম্বর ভারতের অর্থায়ন ও পূর্ণাংঙ্গ সহযোগিতায় স্বস্ত্রীক ভারতে যান এই ২৫ সেনা কর্মকর্তা। আগামী ২ ডিসেম্বর তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর দু’টি বিমানে করে তাদের বিশেষ মর্যাদায় ভারতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তাদের এ সফর জনমনে আরও বেশি সন্দেহ সংশয়ের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এই ২৫ কর্মকর্তার পরিচয় গোপন রাখা ও বাহিনীতে তাদের অবস্থান কি সে সম্পর্কিত তথ্য কোন পক্ষ থেকেই প্রকাশ না করায় ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

null

ভারতীয় দূতাবাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিশেষভাবে নির্ধারিত এই দু’টি সামরিক বিমানে করেই ৫০ সদস্যের এ দলটি দিল্লী, আগ্রা, কলকাতা ও চুরুলিয়াতে ভ্রমণ করবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান এম এ আজিজের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত এই ভ্রমণের আয়োজন করেছে বলে তাদের দাবি।

বাংলাদেশের বিগত ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভারতের প্রকাশ্য সমর্থনকে দেশের মানুষ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে। তাই এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকার দিকে সবাই সচেতনভাবেই নজর রাখছে। বাংলাদেশে যখন জাতীয় নির্বাচনের জোর প্রস্তুতি চলছে তারই মধ্যে ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু সেনা কর্মকর্তার এই বিশেষ ভ্রমণ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সেনাবাহিনী দেশের মানুষের আস্থার স্থল। জাতীয় রাজনীতির এই সঙ্কটকালীন মূহুর্তে বৈরি আচরণ প্রদর্শনকারী ভারতের সাথে সেনা কর্মকর্তাদের এই দহরম মহরম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যত নিয়ে স্বাধীনচেতা জনগণকে শঙ্কায় ফেলেছে। সেই সাথে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভবিষ্যত কি তা নিয়েও নতুন করে ভাবনায় পড়েছে দেশের মানুষ।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে বাংলাদেশকে মরুকরণ, অব্যাহত সীমান্ত হত্যা, জনসমর্থনহীন অবৈধ সরকারকে সমর্থন, অস্ত্র ও মাদক পাচার, ব্যবসা-বাণিজ্যে হস্তক্ষেপসহ বাংলাদেশের সাধারন জনগণের সাথে নানাভাবে বৈরিতা করে আসছে প্রতিবেশী ভারত। শুধু যে বাংলাদেশের সাথেই এমনটি করছে তা নয়, প্রতিবেশী অন্যান্য রাষ্ট্রও ভারতের অপরাজনীতির শিকার। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।অ্যানালাইসিস বিডি

Content Protection by DMCA.com

কেন গোয়েন্দা প্রধান সামরিক অফিসার ও আইজিপিদের শাস্তি হলো?

Content Protection by DMCA.com

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
মর্মান্তিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকালে এনএসআই এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে এবং অন্য এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার ডিজিএফআই-তে থাকলেও তাদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তৎকালীন এনএসআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনাম চৌধুরী বা ডিজিএফআই প্রধান কেন গ্রেপ্তারই হন নাই, শাস্তিতো দূরের কথা। আর কেনই বা বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশের সাবেক ৩জন প্রধানকে অন্যান্য মেয়াদে শাস্তি দেয়া হলো? বিষয়টি নিয়ে গোপন এক অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের পাইলসের সমস্যা জটিল আকার ধারন করায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং যথারীতি তার অপারেশনও হয়। এ সময় এনএসআই-তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ডিরেক্টর এক্সটারনাল ব্রি জেনারেল এনাম চৌধুরী। তার সময়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। যথারীতি তিনি আগের দিনও গোয়েন্দা রিপোর্ট পান; কিন্তু সেই রিপোর্ট কোথায় সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা তো করাই হয়নি; তাকে বরং প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয় পরবর্তীতে। এমনকি ফিল্ড রিপোর্টের দায়িত্ব যে সকল অফিসারদের ছিল তাদেরও জিজ্ঞেস করা হয় নাই।

ঠিক একই অবস্থা মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারের বেলায়। তিনি ডিজিএফআইতে থাকাকালে ছিলেন একটি ব্রাঞ্চের ডিরেক্টর হিসেবে, তিনি তার প্রধানকে রিপোর্ট করেছিলেন কি না, বা রিপোর্ট করা তার দায়িত্ব ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারনে এই দুই সামরিক অফিসারকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মামলার মত করেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্রি জেনারেল রহিম সরকার প্রধানের বিনা অনুমতিতে গোপনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী বাবর ও তার এনএসআই-র অন্যান্য কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতায় তার মিশন একদম শেষ পর্যায়ে ভণ্ডুল করে দেয়া হয়।  এমনকি তার চাকুরীটি পর্যন্ত এক্সটেনশন  করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল নাসিম সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেনারেল নাসিমকে আটক করে রেখেছিলেন। অনেকেই এই ঘটনার পাল্টা হিসেব হিসেবে এই শাস্তিকে মনে করে থাকেন।

তবে কোন কোন মহলের মতে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সতর্ক বার্তা দিতে যেমন এই দণ্ডাদেশ, তেমনি যারা এখন আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তাদের জানান দেয়া যে, যেকোন মুল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে নইলে আজকে যেমন ভুয়া অজুহাতে শাস্তি হয়েছে, আগামীতে বর্তমানের পুলিশ বা সেনা অফিসারদের শাস্তি দিতে আগামীর সরকারদের (যদি আওয়ামী না থাকে) কোন মিথ্যা অজুহাত খাঁড়াও করতে হবে না। তাই সবাই যেন সতর্কভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখে।

Content Protection by DMCA.com

বিডি পলিটিকোর রিপোর্টে বিধ্বস্ত ডিজিএফআই : এডমিনদের খোঁজে হন্যে হয়ে খোঁজাখুজি : ডিজির খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় সংস্থার ভেতরেই নিজেদের অফিসারদের দিকে সন্দেহের তীর!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর প্রধানকে নিয়ে তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরে সংস্থাটিতে চলছে চরম অস্থিরতা। এরপরে বিডি পলিটিকোর এডমিনদের অনুসন্ধানে ডিজিএফআই সারা বিশ্বব্যাপি তৎপরতা শুরু করেছে। দেশের ভিতরেও বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেছে। কয়েকদিন আগে DGFI এর সিগনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো থেকে LETHD/EM/CONF/P1/SEP201825/567764 রেফেরেন্সে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে বিডি পলিটিকোর এডমিনদের খোঁজে নানা জনকে অনুরোধ করা হয়েছে। নিজস্ব সোর্সে বিডি পলিটিকো টিম সেই চিঠির কপি হস্তগত হয়েছে। এখানে চিঠির কপি তুলে দেয়া হলো।

এ ছাড়াও ডিজিএফআইর কর্মকর্তারা বেনামে ইমেইল ও ফেসবুক একাউন্ট খুলে ডিজিএফআই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ চটকদার তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি আমাদের কাছ থেকে জবাব নেয়ারও চেষ্টা করে। Replied message থেকে আমাদের লোকেশন এবং আইপি খোঁজ করতে না পেরে IP logger সম্বলিত শর্ট লিঙ্ক দিয়ে কমেন্ট পাঠায়। তাই চিঠির সম্পূর্ণ স্ক্রীনশট তুলে দিতে বাধ্য হলাম।

এছাড়াও সূত্র জানাচ্ছে, সংস্থাটির মহাপরিচালক সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্যাদির বিস্তারিত বাইরে চলে আসায় নিজেদের অফিসারদের এমনকি তাদের পরিবারের লোকদেরকে সন্দেহ করা শুরু করেছে। বিডি পলিটিকো আতঙ্কে বর্তমানে সংস্খাটিতে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। ডিজিএফআইর প্রতিদিন অফিস শুরু হয় পলিটিকো দিয়ে শেষও হয় পলিটিকো দিয়ে। কর্মকর্তারা অনেকে ঠিকমত কাজে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। ব্যাপক রদবদলের আশংকা করছে।

Content Protection by DMCA.com

সাইফুল আবেদীন- ৩য় পর্ব: টিনেজ প্রণয় নাকি শিশু নির্যাতন?

Content Protection by DMCA.com

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
মাত্র ১৯ বছরের একটা বালিকা দেশের সবচেয়ে শক্তিমান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের গার্লফ্রেন্ড! কল্পনা করা যায়? হ্যা, ঠিক ধরেছেন। নানজীবা খান। গেলো বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সাদামাটা ব্যাংকার পরিবারের এই টিনেজার মেয়েটির এতই প্রভাব যে তাকে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব অনলাইনে। নিজ কন্যার চাইতে ৬/৭ বছরের কনিষ্ঠ এই নানজীবা সাইফুল আবেদীনের গার্লফ্রেন্ড হয়ে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে নানান সুযোগ সুবিধা।

আরিরাং এভিয়েশনে ট্রেইনি পাইলট হলেও নানজীবার ঝোক নাটক ও সিনেমা নির্মানে। ক্যামব্রিয়ান কলেজে পড়াকালে সেলুলয়েড জগত এবং উত্তরপাড়ার লোকদের সাথে তার যোগাযোগ ঘটে। সেনা কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীনের সাথে পরিচয় থেকে সম্পর্কে গড়ায়। তাকে নিয়ে হোটেল রেস্তরা, এমনকি রেস্ট হাউজে সময় কাটান সাইফুল। বিনিময়ে নানজীবা পেয়ে যায় ক্যারিয়ার গড়ার ওপরে ওঠার সিড়ি। একে একে চ্যানেল আইয়ে প্রেজেন্টার, বিডি নিউজ-২৪ সংবাদকর্মীর যায়গা করে নেয়। বিটিভিতে এঙ্করিংও জুটে যায়। বর্তমানে উপস্থাপনা, রেডিওর আরজে ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে নানজীবা। ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে ব্রান্ড এম্বেসেডর, টিভি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্ধশতাধিক ভিআইপির। ইউনিসেফেও পার্টটাইম এসাইনমেন্ট জোগাড় করে দিয়েছেন প্রভাবশালী ডিজি মাহেদয়। এছাড়া মিডিয়া জগতে বড় বড় আর্টিস্টদের কাছে জায়গা হয়েছে। ইতেমধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে নানজীবার বইয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শ্রীবৃদ্ধি করতে দেখা গেছে। গানও করে নানজীবা- চিরকুট ব্রান্ডের গান, সুমির গান, জলের গানে গলা মেলায়।

পুত্র কন্যা এবং সুন্দরী স্ত্রী ক্যামেলিয়াকে নিয়ে আবেদীনের পারিবারিক জীবন দৃশ্যত সুখের হলেও পর নারী ছাড়া তিনি একদম চলতে পারেন না। একমাত্র কন্যা কারিবু নর্থ সাউথ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়ে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অশবার্নে প্রবাসী হয়েছে, সম্প্রতি নতুন এক বাচ্চা জন্ম নিযেছে। সেই বাচ্চা দেখতে সপরিবারে আমেরিকা ঘুরে এসেছে আবেদীন পবিবার। কন্যার এহেন দশার পরেও আবেদীন তার পুরানা খাসলত ছাড়তে পারেনি, নিজ কন্যার চেয়ে ৫/৭ বছরের বাচ্চা মেয়ের সাথে বৈসাদৃশ্য প্রণয় শিশু নির্যাতনের কাতারে পড়ে বলে অনেকে মনে করেন। স্ত্রী ক্যামেলিয়ার কানে এসব খবর পৌছলেও মানইজ্জতের ভয়ে নিরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া বেশিরভাগ বিষয়কে ‘সরকারী কাজ’ বলে চিালিয়ে দিয়ে অনলা্লাইন চ্যাটিং এবং ফোনালাপের মাধ্যমে নিত্য নতুন বান্ধবী জোগাড় করা এই ক্ষমতাধর লোকটির হবি। এ কাজের জন্য অনেকগুলো ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে নিয়েছেন। একটা খুলেন তো আরেকটা বন্ধ করেন। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডনের মোবাইল চালান সরকারী খরচে। আর এসব মোবাইল ও ফেসবুক দিয়ে চলে তার লীলা খেলা। অবশ্য তার ধারণা তিনি মনিটরিংয়ের বাইরে। বাস্তবে তা নয়, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স তার সবকিছু মনিটর করেছে। তার চ্যাটিং লগ সেভ করা হয়েছে। হয়ত কখনও পৌছে যেতে  পারে পাঠকের কাছে।

বিডি পলিটিকোর প্রথম রিপোর্ট করার পরে আবেদীন খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যান। যেসব আইডি দিয়ে নানজীবা সহ অন্য গার্লফ্রেন্ডদের সাথে সংযুক্ত ছিলেন, তার কয়েকটি ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছেন। দু’টো টেলিফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন। কিন্তু নতুনগুলোর ডিটেইলস হাতে আসতে আর কতক্ষণ?

 

Content Protection by DMCA.com

ডিজি ডিজিএফআই- দ্বিতীয় কিস্তিঃ সিনহা এপিসোডের খলনায়ক কে? আবেদীন নাকি আকবর?

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বলপূর্বক অপসারণ করার ঘটনায় ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুলের নাম (পরে মে.জে. আবেদীন হিসাবে উল্লেখ করা হবে) বেশ করে উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, ডিজি ডিজিএফআই প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দেশান্তরী করা হয়ে, পরে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়। ঘটনাপ্রবাহে বলে দিচ্ছে ঐসব বলপ্রয়োগের ঘটনার সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন।গত বছর আগস্ট মাসে বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী বাতিল করা সংক্রান্ত লিখিত রায় প্রকাশ করার পরে শেখ হাসিনার সরকারে অসন্তোষ ও অস্থিরতা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে, এবং নানাভাবে তা প্রকাশ পায়। ঐ রায়ে শেখ মুজিবকে খাটাে করা হয়েছে এবং শেখ হাসিনার সরকার ও সংসদকে অবৈধ বলা হয়েছে এমন বিষয় কেন্দ্র করে সরকারের সাথে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য থেকে শুরু করে মারাত্মক বিরোধ ও বিরোধিতায় গড়ায়। যদিও এই রায়টি নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বতোপ্রকারের চেষ্টা চালান। ২ জুলাই ’১৮ রাতে বিচারপতি সিনহাকে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে রায়টি সরকারের পক্ষে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা চাপ প্রয়োগ করেন। সেচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনা ভীষন রেগে যান, এবং রাষ্ট্রপতির সামনেই বিচারপতি সিনহাকে ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালিও দেন!

বঙ্গভবনের ব্যর্থ মিশনের পরে শেখ হাসিনা বিচারপতি সিনহাকে সাইজ করার দায়িত্ব দেন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুলকে। অন্যদিকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা ঐ রায়ের জন্য প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দায়ী করে বক্তৃতা বিবৃতি, অপমানজনক উক্তি, চরিত্রহনন, হুমকি ধামকি সবই দিতে থাকেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি ডিজিএফআই ডিজি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন বেশ কয়েকবার দেখা করেন প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে। তিনি ষোড়শ সংশোধনীর রায় বদল করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন। তাতে কাজ না হওয়াতে বিচারপতি সিনহাকে পদত্যাগ, বা দেশত্যাগ, বা অসুস্থ হয়ে অসৌজন্যমূলকভাবে চাপ সৃষ্টি করেন জিডি ডিজিএফআই সাইফুল। কিন্তু বিচারপতি সিনহা কোনোটাই মানতে রাজী হননি।

জেনারেল আবেদীন চরিত্রহীন ও ভীতু টাইপের হওয়াতে শক্তভাবে কোনো কাজ ঠিকমত করতে পারেন না, তাই সিনহার মত ঘাড়ত্যাড়া পাহাড়িকে সাইজ করার দায়িত্ব দেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হুসাইনকে। এর আগে আকবর ছিলেন ডিজিএফআইর প্রধান, এসব বিষয়ে তা অভিজ্ঞতাও আছে বেশ। দায়িত্ব পেয়েই জেনারেল আকবর তার পুরোনো সেট-আপের অফিসার দিয়ে কাজে নেমে পড়েন, এবং সাথে নেন ঢাকার বাইরে থেকে আনা কিছু সেনা অফিসারকে। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা (অবঃ) জেনারেল তারিক সিদ্দিকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেনারেল আকবর সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে তাদেরকে প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে উস্কাতে থাকেন। ১৮ আগস্ট জেনারেল আকবরের নেতৃত্বে ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল সাইফুল আবেদীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বাড়িতে ঢুকে তাকে অস্ত্র বের করে ভয় দেখান, কিন্তু কোনোভাবেই রায় বদলাতে সিনহাকে রাজী করানো যায়নি। বিষয়টি সামজিক মাধ্যমে জানাজানি হয়ে গেলে কিছুটা পিছু হটে গোপনে তৎপরতরা চালাতে থাকে আকবর বাহিনী।

এরি মাঝে সুপ্রিমকোর্ট শীতকালীন ‍ছুটিতে গেলে বিচারপতি সিনহা কানাডায় তার মেয়েকে দেখতে এবং জাপানে একটি বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশ ছাড়েন সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে। ডিজি ডিজিএফআই জেনারেল আবেদীন প্রধান বিচারপতির ওপরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে তার এক গোয়েন্দা অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল নাজিমউদ্দৌলাকে জাপানে পাঠান। এর আগে জাপানে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর লে. কর্নেল নাজিম সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে বিচারপতি সিনহার সাথে দেখা করে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন। লে. কর্নেল নাজিম প্রধান বিচারপতির সাথে একই বিমানে ঢাকায় আসেন। বিচারপতি সিনহা ঢাকা এয়ারেপোর্টে নামার সাথে সাথেই ডিজিএফআইয়ের অফিসাররা তাকে ঘিরে ফেলে এবং প্রধান বিচারপতির গাড়িতে জোর করে উঠে তাকে নিজের বাসভবনে নিয়ে গৃহবন্দী করে রাখে। পরবর্তী একসপ্তাহ বিচারপতি সিনহা নিয়ন্ত্রিত কিছু চলাফেরা করতে পারতেন কেবল। ৩ অক্টোবর ছিল কোর্ট খোলার তারিখ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিকের দেয়া ফরমুলা অনুযায়ী বিচারপতি সিনহাকে আর কোর্টে না বসতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসিনা। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের বাসাতে অবস্থান করছিলেন। সিদ্ধান্ত দেন, তিনি বাইরে থাকতেই সিনহাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। আদেশ পেয়ে আবার কাজে নেমে পড়েন জেনারেল আকবর।

২ অক্টোবর রবিবার প্রধান বিচারপতির এসকে কাছে পৌছে যান জেনারেল আকবর, জেনারেল আবেদীন সহ বেশ কিছু মিলিটারী ও সিভিল কর্মকর্তা। এ সময় গোটা সুপ্রিম কোর্ট ডিজিএফআইর অফিসাররা দখলে নিয়ে নেয়, ঠিক ওয়ান ইলেভেনে যেভাবে বঙ্গভবন দখল করেছিল। জেনারেল আকবর প্রধান বিচারপতিকে গালাগালি করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে ছুটির কাগজে সই করিয়ে নেন। এরপর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২ সপ্তাহ বিচারপতি সিনহাকে তার সরকারী বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। সিনহা সাহেবের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী, এমনকি আইজীবিকেও সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। মাঝখানে দু’জন ডাক্তার বাসায় এনে তাঁকে কৃত্রিমভাবে অসুস্থ বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করে ডিজিএফআই। এরি মধ্যে আইনমন্ত্রী তার বাসায় গিয়ে বিচারপতি সিনহাকে বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে চাপ দিতে থাকেন। তার আগেই পারিবারিক বন্ধু কূটনীতিক অনিরুদ্ধ রায় এবং সিনহার শ্যালককে আটক করে ডিজিএফআই হেফাজতে নিয়ে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের কাগজপত্র বানানো হয়। এসব খবরাদি মিডিয়াতে ফাঁস করে সিনহার ওপর মনস্তাত্বিক চাপ বাড়ানো হয়। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বিচারপতিদের আলাদাভাবে মগজ ধোলাই করে সিনহার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। রাষ্ট্রপতি তাদেরকে বলেন যে, সিনহা দুর্নীতিবাজ, তাই তাঁর সাথে যেনো কেউ কোর্টে না বসে। অন্যদিকে সিনিয়রমোস্ট বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াকে টোপ দেয়া হয় প্রধান বিচারপতি বানানো হবে। অবশ্য ‘ক্যারট এন্ড স্টিক’ পলিসিতে আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতিকেই রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি বানানোর টোপ দিয়েছিলেন। অবশেষে সহকর্মী বিচারপতিদের অসহযোগিতা এবং উল্টে যাওয়া, নিকটাত্মীয়দেরকে গুম ও জিম্মি করে রাখা, নিজের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাদের বানানো ১১টি অভিযোগ, এমনকি ঘরে পারিবারিক বিবাদ বাধানোর জন্য নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনাও সাজানো হয়- সব মিলিয়ে বিচারপতি সিনহা রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হন এবং ছুটিতে যেতে রাজী হন। অবশ্য এক মাসের ছুটির দরখাস্তটি বিচারপতি সিনহা বা তাঁর সেক্রেটারি লিখেননি। লিখেছিলেন একজন গোয়েন্দা অফিসার, যাতে ৪ লাইন দরখাস্তে ১০/১২টি ভুলে ভরা ছিল!

প্রধান বিচারপতির উপর চালানো ঐ নারকীয় হামলায় জেনারেল আকবরের সঙ্গে আরও যারা সক্রিয় ভাবে অংশ নেন, তাদের মধ্যে রয়েছে- ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল ওরফে পিস্তল দুলাল, ডিএমপির ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। জানা গেছে, জেনারেল আকবর রুমে ঢুকেই প্রথমে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে নীচে ফেলে দেন প্রধান বিচারপতিকে, পরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার ভয় দেখান। সবচেয়ে জুনিয়র পুলিশ অফিসার বিপ্লব সরকার (যিনি বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীনকে পিটিয়েছিলেন) থাপ্পড় দিয়ে বলানো হয়, ‘তোর মত বটতলার উকিলকে প্রধান বিচারপতি বানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা কেবল হিন্দু বলে; অথচ তুই করছিস বেইমানী; তুই হিন্দু নামের কলঙ্ক, তোকে গুলি করে মেরে ফেললেও কম হয়’-  এভাবে চুড়ান্ত অপমান করা হয়। আইন সচিব দুলাল ভয়ানক গালাগালি ও হুমকি দেন- মালাউনের বাচ্চা থেকে তুই তোকারি সবি করা হয়। নিউ ইয়র্কের টাইম টিভির সাথে সাক্ষাৎকারে বিচারপতি সিনহা নিজেই বলেন, শেখ হাসিনা সেনা অফিসারদের দিয়ে আমাকে পায়ের নীচে ফেলে দেয়!

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে বিচারপতি সিনহা এক মাসের ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে তার স্ত্রী সুষমা সিনহাকে যেতে দেয়া হয়নি। মূলত সিনহার মুখ বন্ধ রাখতেই স্ত্রীকে ঢাকায় জিম্মি করে রাখা হয়। ঢাকা ছাড়ার আগে সরকারী কড়াকড়ির ভেতরেও প্রেস ও মিডিয়াকে একটি বার্তা দিয়ে যান বিচারপতি সিনহা – “আমি অসুস্থও না, বা পালিয়েও যাচ্ছি না: আমি আবার ফিরে আসব!” কিন্তু সেই ফেরা আর তিনি ফিরতে পারেননি। একমাস পরে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পথে সিঙ্গাপুরে যাত্রাবিরতির সময় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিচারপতি সিনহার সাথে দেখা করে তাদের বানানো পদত্যাগ পত্রে সই দিয়ে দেশে যাওয়ার বদলে কানাডা চলে যেতে নির্দেশ দেন। সিনহা বাবু তাতে রাজী হন না। তখন ঢাকাতে ডিজিএফআই কাস্টডিতে আটক থাকা তার শ্যালককে ক্রসফায়ার করতে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর স্ত্রী সুষমা সিনহার ফোনে কান্নকাটিতে উপায়ান্তর না পেয়ে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্রে সই করে কানাডা চলে যান বিচারপতি সিনহা। তবে বিদেশের মাটিতে দেয়া ঐ জোর জবরদস্তির পদত্যাগ পত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় আ’লীগ সরকার এটি আর কার্যকর না করে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে দেয়। ফলে বিচারপতি সিনহা কানাডায় নির্বাসিত জীবনে থেকেই তার বয়সপুর্তির অবসরে যান ৩১ জানুয়ারি ২০১৮।

আর এভাবেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা প্রধান বিচারপতিকে মর্মান্তিকভাবে বিদায় নিতে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে। প্রধান বিচারপতিকে যে প্রকৃয়ায় বিতাড়ন করা হয়ে- মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়া, লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়া, ছুটির দরখাস্তে বলপূর্বক সই নেয়া, গৃহবন্দী করা, স্বজনদের জিম্মি করে দেশত্যাগে বাধ্য করা, সর্বশেষে আত্মীয় স্বজনকে ক্রসফায়ারে নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করানো- ইত্যাদি অপকর্ম বাংলাদেশে নজিরবিহীন। পৃথিবীর আর কোথাও হয়েছে কি না কারও জানা নেই। তবে বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই কাজ করেছে সেনাবাহিনীর ঢাকা ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর বেশ কিছু সেনা, গোয়েন্দা, ও সিভিল অফিসারা। যদিও পুরো বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল আকবর, কিন্তু দুর্নাম হয়েছে মিলিটারী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ডিজি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনের। তবে জেনারেল আকবরের প্রতিটি অপরেশনে ডিজিএফআইয়ের অফিসাররা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। প্রধান বিচারপতিকে অন্যায়ভাবে বিতাড়নের শাস্তি সম্ভবত ক্যাপিটেল পানিশমেন্ট। কিন্তু দায় কার? এসব অকান্ড ও অরাজকতায় জেনারেল আবেদীনের নাম উঠলেও তার পেছনে ছিলেন জেনারেল আকবর এবং শেখ হাসিনা।

This is an investigating report based on sources and required information. The article is seconded by Former Chief Justice of Bangladesh Mr S K Sinha in his book “A BROKEN DREAM: Status of Rule of Law, Human Rights and Democracy”
Photo source: Facebook

(আগামীকাল….. ৩য় কিস্তি)

Content Protection by DMCA.com

ডিজি ডিজিএফআই আবেদীন কি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন খুঁজছেন?

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, যা ডিজিএফআই হিসাবে পরিচিতি, এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল  আবেদীন গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত সফরে আছেন। দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে, তখন এই সংস্থাটি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। যেকোনো বিচারে, এখন সরকারের শেষ সময়ে খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে, এমন সময়ে ডিজিএফআইয়ের ডিজির অনির্দিষ্টকাল বিদেশে পড়ে থাকা নিয়ে নানান রকম কথা উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। জেনারেল আবেদীন কি কোনো বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে আমেরিকাতে অবস্থান করছেন, নাকি পরিবার সমেত যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি খুঁজছেন? কেননা মাত্র ক’দিন আগেই খোদ র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ এবং অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রে সহায় সম্পদ সরানো এবং ইমিগ্রান্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে খবরে প্রকাশ!

মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, যিনি আবেদীন হিসাবে পরিচিত, সেনাবাহিনীতে ১৫তম বিএমএ লংকোর্সে কমিশন পান ১৯৮৬ সালে। এর আগেও তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা-পরিদপ্তরে কাজ করেছেন। ১/১১ পিরিয়ডে এই সাইফুল আবেদীন লেফটেনেন্ট কর্নেল হিসাবে গুরুতর অপরাধ দমন কমিটির প্রধান লে. জেনারেল মাসুদের অধীনে কাজ করে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ধরপাকড়ে কাজও করেছেন। এক সময় বাংলাদেশ ইনফ‌্যানন্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড‌্যান্টের দায়িত্ব পালন করা এই সেনা কর্মকর্তা আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও কাজ করেছেন।

ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক টাইপের মানুষ হয়েও সাইফুলের খুব নারীপ্রীতির কথা সেনাবাহিনীতে চাউর হয়ে আছে। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী রেখে রাতভর সস্তা মেয়ে মানুষের পিছনে সময় কাটানোর জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। রাতভর, ফোন আলাপ, অ্যাডাল্ট চ্যাট, ন্যুড ছবি বিনিময়, এমনকি ফোনসেক্স, শেষে তার বিশেষ বাড়িতে শয্যাসঙ্গী করা তার নিয়মিত বিষয়। তার বান্ধবী তালিকায় হাইব্রিড রাজনীতিক শাহেদা ওবায়েদ থেকে শুরু করে মিলিটারীর জুনিয়ার মহিলা কর্মকর্তা, বিমানের ট্রেইনি পাইলট নানজীবা খান, গৃহবধু, গার্মেন্ট কর্মীরা, এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্করাও আছেন (অনেকে তার মেয়ের চেয়েও কম বয়সী)! তার মেয়ে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পড়াশুনা করে। কোনো সরকারী কাজ নিয়ে তার কাছে যাওয়া নারী সুন্দরী হলে আর কথা নাই, ছলে বলে কলে কৌশলে তাকে ভোগ করবেই।

জেনারেল সাইফুল আবেদীন দেশে ভিতরে বিএনপিকে সাইজ করার দায়িত্ব পালন করলেও বিদেশে গেলে তিনি ভিন্ন মানুষ হয়ে যান। তার শ্বাশুড়ি আ’লীগ এমপি হওয়ার সুবাদে যদিও তার এই গুরুত্বপূর্ন পদ প্রাপ্তি, তবুও তার পুরো সার্কেল ঘিরে আছে বিএনপির লোকজন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জেনারেল সাইফুল ওঠেন ওয়াশিংটন বিএনপির সভাপতি ফারুকের ব্যবস্খায় হোটেল, থাকা খাওয়া, বেড়ানো, কাসিনো, নাইট ক্লাব, নারী সঙ্গ সব কিছুই লাভ করেন। সেখান থেকে তিনি কানাডার বিএনপি সভাপতির আয়োজনে টরেন্টো সফর করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত এসে আটলান্টা বিএনপি সভাপতির আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার সরকার অবশ্য এসব বিষয়ে বেশ উদাসীন!                                                                                       (আগামী কাল ২য় কিস্তি……)

This is an investigating report based on sources information. The authority reserved all sources and records.
Photo source: Facebook

Content Protection by DMCA.com

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে সেনা শাসন, শেখ হাসিনা যাবে জেলে: নেপালের পত্রিকার খবর

Content Protection by DMCA.com

আগামী অক্টোবরের মধ্যভাগ থেকে শেষ দিকে বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর জন্য সেনাবাহিনী তৈরি হয়েছে, এমন খবর দিয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু ট্রিবিউন। বাংলাদেশে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারন নির্বাচনে বরতমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আর সে কারনেই সেনা শাসন দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীরা বিদায় হতে চাইছে।বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘সাউথ এশিয়া মনিটরে’ বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এক মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। পিনাক রঞ্জন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাবেক সচিব এবং দিল্লী ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন অন্যতম ফেলো। তার লিখিত আর্টিকেলের নাম ‘শ্যাডো অব ইন্ডিয়া হাসিনা গভর্নমেন্টস করাপশন, রিপ্রেশন অব বিএনপি লুমস ওভার-বাংলাদেশ পোলস’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভারতীয় ছায়া হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, বিএনপির উপর নির্যাতন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর দোদুল্যম্যান’।

এই আর্টিকেলের শুরুতে পিনাক রঞ্জন বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচনী মুডে যাবে। আর তা যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের হাওয়া শুরু হতে আরও কয়েক মাস। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পিনাকেরও রয়েছে। পিনাক রঞ্জনের এই আর্টিকেলের নিরিখে কাঠমুন্ডু ট্রিবিউনে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বেনজামিন মেন্ডেজ লিখিত আর্টিকেল, যারশিরোনাম ‘বাংলাদেশ হেডিং টুয়ার্ডস মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ’ অর্থাৎ বাংলাদেশ সামরিক এক নায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পিনাক তার আর্টিকেলে লিখেছেন, ‘‘হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ, বিরোধীদের তাড়া করা, এবং অবাধ দুর্নীতি। এই বিষয়াবলী এবং ভারতীয় ফ্যাক্টর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব থাকবে। ক্রমাগত রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি করা জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব যেমন সৃষ্টি করেছে তেমনি এমন অনুভূতি জাগিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার অবিরামভাবে গণতান্ত্রিক বিধি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করছে। ফলে মানুষের মনে এই ধারণা জন্ম নিচ্ছে যে, যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আওয়ামী লীগ বিব্রতকর সংখ্যালঘু দলে পরিণত হবে। অনেক সমালোচক বিশ্বাস করেন যে, হাসিনা সরকার নির্বাচন ম্যানেজ ন (নির্বাচন কারচুপি) করবে। পিনাক লিখেছেন ‘সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, প্রত্যেক জাতীয় প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের আপোষকামিতা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় সমর্থক দ্বারা ভরে দেয়া হয়েছে। আর জাতীয়ভাবে ড্রাগ বিরোধী যে তৎপরতা তাকে ‘গুলি করে হত্যার’  নীতিতে পরিণত করে অনেক নিরাপরাধীদের হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার, সংগঠনগুলো যে অভিযোগ করেছে,  সুপ্রিমকোর্টের সাবেক চিফ জাস্টিস সরকারের গ্রেস থেকে বাদ পড়েছেন এবং তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে বিদেশে আশ্রয় চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও তারা এখন ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত, কারণ আওয়ামী নেতারা হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করেছেন। আর গ্রাসকারীদের শায়েস্তার ব্যবস্থা থেকে রেহাই দিয়েছে। আওয়ামী নেতারা ভাবেন যে,  আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা ছাড়া ভারতের উপায় নেই। আর  তাই ভারত হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করবে না।

আরেক আর্টিকেলে সাউথ এশিয়া মনিটরে চন্দন নন্দী ২০০৭ সালের পুনরাবৃত্তির কথা বলেছেন। চন্দন নন্দীর আর্টিকেলের শিরোনাম,  ‘হাসিনা হার্ডেনস স্ট্যান্ড, বাংলাদেশ মে হেড ফর রিপিট অব ২০০৭, বাট উইল বিএনপি প্লে বল?’ অর্থাৎ ‘হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু বিএনপি কি সেভাবে বল খেলতে পারবে?’

পংকজ আরও লিখেন,  আজ আওয়ামী লীগ কঠোরভাবে কোন গ্রাউন্ড সৃষ্টি করতে নারাজ। এমন কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির অবস্থায় পুনবিন্যস্ত করতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজীব করতে এবং নির্বাচনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতে যারপর নাই নারাজ। কিন্তু তার ব্যবস্থা করা আজ সময়ের দাবি। অন্তত আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া অনিবার্যকালের জন্য? এই ধরনের স্ট্যান্ড কি সেনাবাহিনীকে বাধ্য করতে কিংবা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যা তারা ২০০৭ সালে করেছিল? অবশ্য সেখানে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবেচনাধীন ব্যবস্থা রয়েছে- তা হলো নয়াদিল্লী, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ‘পথ ও মত’ নিয়ে কী ভাবছে, যা নির্বাচন স্থগিত করার জন্য যথেষ্ট প্রয়োজন। যাতে স্বাভাবিক ব্যবস্থা বলবৎ হয়। আর তা সহিংসতা,  বল প্রয়োগ ও অব্যবস্থাপণা থেকে মুক্ত একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।

সাউথ এশিয়ান মনিটরের সাথে কথা বলতে নিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার ও বিদেশ সচিব দেব মুখার্জি স্বীকার করেন যে,  শেখ হাসিনার সরকার অনেক ভুল করেছে, আর ঢাকার রাস্তার আন্দোলন নিয়ে বলপ্রয়োগ এ বিষয়কে আরও বড় করেছে। এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমকে অহেতুক গ্রেফতার করে রেখেছে। সেসব বড় ভুল এবং বেকুবের মত কাজ। কিন্তু বেঞ্জামিন মেন্ডেজের মতে দেব মুখার্জি আস্থা জ্ঞাপন করেন যে,  আওয়ামী লীগ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ জানে যে,  তারা তা না করলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারা অপবাদের সম্মুখীন হবে। দেব মুখার্জি যখন বলেন নির্বাচন হবে-তবে সে নির্বাচন কখন হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। এটা বলা কঠিন অথবা অগ্রিম ধারণা করা কঠিন ,যে অরাজনৈতিক সেনাবাহিনী কি ভূমিকা নেয় আগামী সপ্তাহ বা মাসগুলোতে।

ঢাকায় পিকচার নামে একটি সংগঠন (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) থেকে বলা হয় আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে না, বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেবে, তা আগামী অক্টোবর মাসে পরিষ্কার হবে। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে বলা হয়,  বিএনপি এর মধ্যে আন্দোলন শুরু করতে পারে। যদিও বিএনপি জানে যে,  আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করার শক্তি তাদের নেই। তারপরও তারা আন্দোলন করবে। আর সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পথ করে নিতে হবে।

বেঞ্জামিন মেন্ডেজ তার আর্টিকেলে এক সাবেক জেনারেলের নামোল্লেখ না করে লিখেন, ‘নিজের নাম গোপন রাখতে ইচ্ছুক ডেমস্টিক রাজনীতি নিয়ে এক পর্যবেক্ষক সাবেক জেনারেল বলেন যে, আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তাহীন অবস্থার নিরিখে দু’টি পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত: কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে আসন্ন ইলেক্টরেল বা নির্বাচনী পরাজয় এড়িয়ে নিজেদের জন্য একটি এক্সিট রুট খুঁজে নেয়া। আর দ্বিতীয়ত: নির্বাচন স্থগিত করা। ‘ধরুন দু বছরের জন্য’ এবং জাতীয় ঐক্যের সরকারের জন্য শর্তাবলী সৃষ্টি করা। জেনারেল বলেন এই ব্যবস্থা আওয়ামী লীগকে সাময়িক কালের জন্য নিজেদের ড্রাই ক্লিনের সুযোগ করে দেবে যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে তারা আবার নির্বাচনে আসতে পারে।

এই দুটি আর্টিকেল নিয়ে বেঞ্জামিন মেন্ডেজ বলেন, অধিকাংশ পাঠক এবং আমার পক্ষে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতির ভবিষ্যত কি হতে পারে, তা সমীক্ষা করা সহজ। বেঞ্জামিনের মতে শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে কোর্টকে ডিল করতে পারেন, যেখানে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে মৃত্যুদন্ড দিতে প্ররোচিত করতে পারেন। এর সাথে যোগ করবে বিএনপির আরো কতিপয় নেতাকে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার রায় হতে পারে। আর তাতে বিএনপি কর্মীরা রাজপথ উত্তপ্ত করবে। তখন আওয়ামীপন্থী সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পক্ষে সেমি মার্শাল ল জারি করার সুযোগ হবে।
বেঞ্জামিন লিখেন,  জিজেঞস করা হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন : আমরা দায়িত্ব পুরোপুরি তৈরি (শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের এক লোক দেখানো গেম খেলে) অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে। ক্ষমতাসীন দল জানে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে কি ফল দাঁড়াবে। অনেক সমীক্ষাতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দল ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টিরও বেশি পাবে না। অর্থাৎ বিরোধী বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য সত্যিকার বিপর্যয়। শেখ হাসিনা কখনই তা হতে দেবেন না। এখানে এটা উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ভোটবিহীন নির্বাচনে ভালই জিতে ছিলেন। কারণ বিএনপি বা বয়কট করেছিল। আমেরিকাসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। শুধুমাত্র ভারত,  জাপান,  চীন ও রাশিয়া এ নির্বাচনের পক্ষে ছিল। তার কারণ তারাই জানে। বেঞ্জামিন লিখেন, বিশ্বের বৃহত্তর ডেমোক্রেটিক দেশ হয়ে ভারত সে সময় ফাউল গেম খেলেছে নির্বাচন নিয়ে। তখন ভারতীয় সরকার বাংলাদেশকে নগ্ন সমর্থনই দেননি, বরং ফরেন সেক্রেটারি সুজাতা সিংকে ঢাকা ও ওয়াশিংটন পাঠান, যাতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা যায়। এই নির্বাচন একদিকে শেখ হাসিনার আস্থা বৃদ্ধি করে, আর তাকে আরো একগুয়ে হবার সাহস যোগায়। আর তাকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি অসহিষ্ণু করে তোলে। হাসিনা ও তার দল তখন খোলাখুলি আমেরিকাকে হাস্যকর ভাবতে ছাড়েনি। আর ইরানের সাথে গড়ে তোলে গভীর সম্পর্ক। বেঞ্জামিন লিখেন, বর্তমান বাংলাদেশের সরকার শুধু অটোক্রেটিক গ্রুপ। এটা পশ্চিমা বিরোধী এবং এন্টি সেমেটিক বা ইহুদী বিরোধী সরকার।

বেঞ্জামিন তার আর্টিকেলের শেষ ভাগে লিখেন, যে কোন ক্যালকুলেশন শেখ হাসিনা কিংবা তার বশংবদ সেনাবাহিনীর থাকুক না কেন, সর্বশেষ বাস্তবতা হচ্ছে অন্য কিছু। অক্টোবর মাস ঘনিয়ে আসছে সম্ভবত এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, যেখানে হাজার হাজার রাজনীতিক নিহত হবেন। ….শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে বন্দী করা হবে। হাসিনা সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ পাবে। আর সে সময় তিনি তার ছেলে ও মেয়েকে তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমদ সিদ্দিকীর কাছে রেখে অসংখ্য ক্রিমিনাল চার্জ মোকাবিলার পথ করে দেবে। যদিও এটা বেশ পরিষ্কার যে জেনারেল সিদ্দিক এক সামরিক অভ্যুত্থানের মহড়ার পরিকল্পনা করছে।তবে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভিন্ন ধাঁচের সারপ্রাইজ। কারণ মধ্যর‌্যাঙ্কের অফিসাররা শেখ হাসিনা ও তার তল্পিবাহকদের প্রতি ইতোমধ্যেই বিরূপ হয়ে পড়েছে। বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে এক সামরিক শাসনের দিকে যাচ্ছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। আর তা না হলে নভেম্বর থেকে অবশ্যই যাবে। অধিকাংশ শাসক শ্রেণীর এলিটরা নিজেদেরকে অনেক ক্রিমিনাল চার্জে অভিযুক্ত হয়ে জেলের ভেতরে দেখতে পাবে।
এই নিবন্ধে যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরো অনেক সংবেদনশীল বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। তথাপি বিষয়টাকে সহজ করে দেখার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়ার জন্য এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে। এ নিবন্ধে সরকার বিরোধীদের জন্যও হুঁশিয়ারী রয়েছে। যদি সামরিক শাসনের মহড়া হয় এবং তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিএনপি বা বিরোধীদের অবস্থা কী রকম দাঁড়াচ্ছে তাও ভাববার বিষয়। আর সরকারের মধ্যে এখন মার্চ মাসে নির্বাচন নিয়ে যাওয়ার মতও যে অবস্থা রয়েছে আমরা আগেই তা রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে ভারতে পিনাক রঞ্জনের পর নেপালের বেঞ্জামিন মেন্ডেজের লেখা পড়ে ধারণা হচ্ছে যে, ভারতের পত্রিকায় যা বলা যায়নি তা তারা নেপালের উপর ভর করে প্রকাশ করেছে। আর নেপালের বক্তব্যের পুরো জের টানা হয়েছে পিনাক রঞ্জন ও দেব মুখার্জির বক্তব্য থেকে। দু’জনেই যে ভারতের ‘র’ এর মুখপাত্র তাতে কোন সন্দেহ নেই। আবার দুজনেই ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার। তারপরই দুজনের পদ ছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের সচিব হিসেবে। দুজনেই এখন গবেষণা করেন।

Source:
Weekly Thikana, NY
Kathamndu Tribune

Content Protection by DMCA.com

সংসদ নির্বাচন নিয়ে ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদন!

Content Protection by DMCA.com

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বিশেষ প্রতিবেদন পেশ করেছে। এ সপ্তাহে ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন তার ৩০ দফা বিশিষ্ট এ রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টার মা্যেমে রিপোর্টটি দাখিল করে। রিপোর্টের মূল বিষয়গুলো হলোঃ

  • ৫ জানুয়ারির মত বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় ও বিনাভোটে নির্বাচন করা যাবে না। তেমন কিছু করতে গেলে দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
  • নির্বাচনটি অংশগ্রহনমূলক করা প্রয়োজন। অন্যথায় রাজনৈতিক সংঘাত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। গোলোযোগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
  • নির্বাচনের আগেই সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ইনভলমেন্ট নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
  • বিশেষ করে, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিকে নির্বাচনে আনার নানা উপায় ও কৌশল সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তবে মাঠের খবর বিএনপির অনুকূলে।
  • জোর জবরদস্তির নির্বাচন যেমন গ্রহনযোগ্য হবে না, তেমনি তা রক্তপাত বাড়াবে।
  • রাজনৈতিক হানাহানি সৃষ্টি হলে তা দমনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা উচিত হবে না। এ কাজে মিলিটারী ইনভল্ব করা হলে তারা সেখানে আইন অনুযায়ী কাজ করবে। কোনোভাবেই পক্ষপাতমূলকভাবে কিছু করবে না। কেননা মিলিটারীকে পুলিশের মত ব্যবহার করা যাবে না। তাছাড়া মিলিটারী নিজস্ব আইন মোতাবেক চলে। জনগনের কাছে তাদের ইমেজ নষ্টকারী কোনো কাজে সেনারা জড়িত হবে না।এই রিপোর্ট পাওয়ার পরে সরকারের লোকজন বিচলিত।
Content Protection by DMCA.com
« Older Entries