Category Archives: রাজনীতি

অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো, সবাই প্রস্তুত থাকুন —————তারেক রহমান

Content Protection by DMCA.com

।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, পৌরসভাসহ সকল পর্যায়ে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো। অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। ফিরিয়ে আনতে পারবো আওয়ামী-বাকশালীদের ধ্বংস করে দেয়া গনতন্ত্রকে।ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে আন্দোলনের মাঠে দেখা হবে।বিজয় আমাদের হবেই।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল যুব এবং তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করবে কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের এবং সফলকাম করতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যেভাবে তোমরা কোটা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলে। সেই আন্দোলনের মতোই করতে হবে আগামী দিনের আন্দোলন। যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে,যাতে করে মানুষ পুড়িয়ে, লাশের ওপর রাজনীতি করা আওয়ামীলীগ আমাদের সামনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে। আমরা তাদের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, যে আন্দোলনের ডাক বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ দিয়েছে তাতে সকলের আদর্শিক স্লোগানটি হওয়া উচিত “যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য যুবদলের অালোচনা সভায় তিনি এই আহবান ও নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার স্থানীয় রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২ টায়) তিনি ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন, নিপীড়নসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন।

দেশনায়ক তারেক রহমান বলেন, আমি জানি শুধু আমার দলের নেতাকর্মীরা নয়, একই সাথে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ আছে, লক্ষ কোটি যুবক আছে, তরুণ আছে যারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া বাক-স্বাধীনতা উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আজকে আপনাদের এখানে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে যে আমাদের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই, কিন্তু এখানে একটি কথা আছে। আপনারা যদি ইউটিউব ঘাটেন দেখবেন, এই রং হেডেড শেখ হাসিনা সম্পর্কে তাদের দলের এক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন- কিভাবে শেখ হাসিনা বাসের উপর পেট্রোল বোমা মেরে লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। এটি তাদের নেতাই বলে দিয়েছে রং হেডেড নেত্রী সম্পর্কে, এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ ২০০৭ সালে দেখেছে কিভাবে তারা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তার উপর নেচে উল্লাস করেছে। তার কথার প্রমাণ হিসেবে শেখ সেলিমের কথা প্রমাণ হলো। ২০১৪ সালে যখন আমার নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধারে আন্দোলন করছিল সেই সময়ে এই আওয়ামী লীগের নেতা তাদের আরেক নেতার নির্দেশ মোতাবেক কি করেছিল। বরিশালের এক নেতা প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন তার এলাকার আরেক নেতা কিভাবে বাসের মধ্যে আগুন দিয়ে ১১ জন মানুষকে হত্যা করেছে। কাজেই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে মানুষের লাশের উপর রাজনীতি করা এটি ওদের রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি নয়। বিএনপি কখনো এই ধরনের রাজনীতি করে না। আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করি। বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একটি নয়, দশটি নয় শত শত প্রমাণ আছে যে তারা মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতি করে। কাজে এই বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে তারা আমাদের সামনের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই বর্তমানের অবৈধ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময় রং হেডেড শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমান সহ ১৪ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। আমরা দেখলাম ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে একটির পর একটি নিজের নামের মামলাগুলো তারা ঠিক সরিয়ে ফেলল। মামলার মুখোমুখি তারা আর হলোনা। কিন্তু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এইসব মামলাগুলোর বিষয়ে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না। কাজেই আমার প্রশ্ন আমার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে এবং তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে, কি জন্য সম্ভব নয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার এবং প্রশ্ন করার?

দেশনায়ক বলেন, আমরা জানি যে কোনো সাংবাদিক কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা যে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে যদি তার কোন কিছু জানার প্রয়োজন থাকে। শেখ হাসিনাকে কেন প্রশ্ন করা যাবে না? কেন তিনি তার মামলা গুলো সরিয়ে নিলেন? এর উত্তর হচ্ছে- গণতন্ত্র নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। দেশের প্রধান বিচারপতি যাকে এই অবৈধ সরকারই নিয়োগ দিয়েছিল তাকে কিভাবে এই অবৈধ সরকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিল। প্রধান বিচারপতিকে তারাই নিয়োগ দিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে কেন তাকে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল? কারণ এই ভদ্রলোক যখন দেখলেন দিস হেজ বিকাম টু মাচ! তাকে দিয়ে হাসিনা একটির পর একটি রায় বাস্তবায়ন করাচ্ছে এবং তার পক্ষে আর কোনো মিথ্যা আবদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং তিনি যখন আর সায় দিলেন না এবং তিনি রায় পড়তে অস্বীকার করলেন তখন তারা তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগলো। এর আগে আমরা দেখেছি মোতাহের সাহেব নামে আরেকজন বিচারপতিকে মিথ্যা রায় পড়ার জন্য যখন বাধ্য করা হয়েছিল কিভাবে তখন তাকে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বের করে দিয়েছিল দেশ থেকে। এইসব নির্বাসিত বিচারপতিদের কাছ থেকেই এই বক্তব্য গুলো এসেছে যে তাদের কিভাবে বের করে দেয়া হয়েছে। যখনি তারা সুযোগ পেয়েছে জাতির সামনে তারা বলেছে কিভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সবার কাছে এটি পরিষ্কার যে যারা সাধারণ মানুষের বিচার করবে তারাই যেখানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত সেখানে কিভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া সম্ভব?

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হাসিনার চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বর্ননা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে সকালবেলা কি দেখলাম? বিচারপতিকে রায় দিতে বাধ্য করা হয়েছে, ৩ দিন ঘরে আবদ্ধ করে রেখে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তাকে জীবনের হুমকি দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে আমাদের প্রিয় নেত্রীর নামে মিথ্যা রায় দেয়ার জন্য। আজকে এই হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। আজকে বাংলাদেশের কোন বিচারপতি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে পারেন না।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই অবৈধ সরকার আমার নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে- ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তারা আসামি করেছে। ১৫শ’র বেশি মানুষকে গুম করেছে। আর যখন নির্যাতন অত্যাচার এর সংখ্যা কোন ক্যালকুলেটরে পরিমাণ করা যাবে না। এই মানুষগুলোর অপরাধ এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। এই মানুষগুলো অবৈধ শেখ হাসিনার সরকারের মিথ্যা, লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার দলের নেতা কর্মী নয় সাধারণ মানুষ, যুবক, তরুণ যারা কোটার আন্দোলন করেছে তাদেরকে কিভাবে দমন করা হয়েছে। তারা চেয়েছিল কোটার বিন্যাস করতে। এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন। আমরা দেখলাম কি নির্মম ভাবে, বর্বর জঙ্গি ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কীভাবে এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কষ্ট দেয়া হয়েছে। আজও আমরা দেখি অনেকগুলো মানুষ জেলখানায়। একদিকে বলছে কোটা মেনে নিলাম, আরেক দিকে দেখা যাচ্ছে এই যুবকগুলোর লাশ নদীতে ভাসছে। এই যুবকগুলোসহ বহু সংখ্যক মানুষ জেলখানার ভিতরে ধুকে ধুকে মরে যাচ্ছে। এ এক আজব ব্যাপার!

তারেক রহমান বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা যার বেতন মাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আপনারা তো পৃথিবীর একটি উন্নত দেশে আছেন এবং এখানে বসবাস করছেন। আপনারা কি কেউ শুনেছেন ইউরোপে কিংবা আমেরিকায় কোথাও সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপদেষ্টার বেতন বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা? এই বিষয়টা কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জনগণের কাছ থেকে? সৌভাগ্যক্রমে তাদের একজন অবৈধ মন্ত্রীর কাছ থেকেই জাতি এই মেসেজটি পেল। লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? জনগনের টাকা আপনি তাকে বেতন দিবেন সেটা আবার লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? যখন এই ঘটনাটি অবৈধ মন্ত্রী ফাঁস করে দিল তখন অবৈধ মন্ত্রীকে সেখান থেকে তারা সরিয়ে দিল। তাকে কয়েক দিন জেল খাটালো।

তিনি বলেন, পত্রিকার পাতায় আমরা দেখলাম এই রং হেডেড শেখ হাসিনার প্রতিদিনের আপ্যায়নের বিল ২ লক্ষ টাকা। আপনারা সবাই বাংলাদেশের মানুষ ক্যামেরার ওপারে যারা বাংলাদেশ থেকে দেখছেন আমার জিজ্ঞাসা তাদের কাছে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা আপ্যায়ন বিল কি একটি আজব ব্যাপার নয়? এই টাকা তো জনগনের টাকা। অথচ ২ লক্ষ করে শুধু আপ্যায়ন বিল। বাকি অন্য খরচ তো বাদ দিলাম। কাজেই, একদিকে অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বেতন এবং আপ্যায়ন বিল প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা। এই হচ্ছে জাতির ওপর স্টিমরোলার চাপানো।

তারেক রহমন বলেন, তাদের নেতা-কর্মী বলেন, মন্ত্রী বলেন লুটপাটে ব্যস্ত। বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হলমার্ক, ডেসটিনির মত একটার পর একটা ব্যাংক খালি করে যাচ্ছে, ধসে পড়ে যাচ্ছে। গতকালকে দেখলাম আরো চারটি ব্যাংকের পারমিশন দিয়েছেন। যাবার তো সময় হলো, আরো যত পারি নিয়ে যাই- এই হলো তাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য।

দেশনায়ক বলেন, শুধু ব্যাংক খাত থেকে তারা গত কয়েক বছরে জনগণের ২ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই যে ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল আজ পর্যন্ত কি আমরা দেখতে পেয়েছি একটা লোক কিংবা একটি গ্রুপকে ধরেছে যারা এই কাজটি করেছে? ব্যাংকগুলো জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুপ করেছে এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার। লুটপাটের এক মহোৎসব দেশের মধ্যে। জনগণের সম্পদ লুটের এক মহোৎসব। কারো কোন বিচার নেই, কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ তামা হয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে দেখে আসলাম কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংএ রড দেয়া হয় এখন দেখলাম রডের বদলে ডিজিটাল স্টাইলে বাঁশ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম রেল লাইনের ২ স্লিপার জোড়া লাগানোর জন্য মাঝখানে কাঠ এর পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রেখেছে। এই যে সব যায়গায় বাঁশ দিচ্ছেন, এই বাঁশ কোনদিক দিয়ে ঘুরে কোন দিকে যাবে, তা সময়মতো টের পাবেন। বাংলাদেশের জনগণ এইটা কয়দিন পরে হারে হারে দেখিয়ে দিবে।

তারেক রহমান বলেন, যখন সাগর-রুনি হত্যা হলো তখন শেখ হাসিনা বললেন ঘরে ঘরে ঢুকে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। বুঝলাম ঠিক আছে ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশের পক্ষে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে দেখলাম এই ছোট ছোট বাচ্চারা ছোট ছোট বোনেরা এরা যে নিরাপদ বাংলাদেশ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলো তারপর আমরা দেখলাম তাদের ওপর হেলমেট লীগের আক্রমণ। আশা করি ইনশাআল্লাহ আর বেশিদিন নেই জাতিকে এসব তামাশা দেখতে হবে। এসব লুটপাট ও দুষ্কৃতিকারীদের দেখতে হবে। কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যারা আন্দোলন করেছিল তাদের ঘরে ঘরে ঢুকে রেইড দিয়ে তাদের ফেসবুক চেক করে তাদেরকে ধরে আনা হয়েছিল নির্যাতন করা হয়েছিল? এর জবাব দেয়ার সময় চলে এসেছে এবং এর জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, একদিকে লুটপাটের মহোৎসব অন্যদিকে সমগ্র জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে সেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য, যে বাক স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে সে বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য তখন এদের (আওয়ামীলীগ) সাথে যোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন নামের সংস্থাটি। কিভাবে এদেরকে আবার জনগণের সম্মতি ছাড়া জিতিয়ে আনা যায় এবং এর জন্য তারা অপকৌশল চালাচ্ছে এবং পরিকল্পনা করছে কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা যায়। পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে সামনে বলে দিতে চাই এই যে জনগণের ভোট চুরির যে পরিকল্পনা করছেন এবং ইভিএম কেনার নামে জনগণের যে চার হাজার কোটি টাকা লুটের পরিকল্পনা করছেন এর থেকে সাবধান। যদি করেন গুনে গুনে জনগণ এর জবাব নিবে। আজকে আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গণতন্ত্রের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের তালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে প্রস্তুত আছে, ঠিক একইভাবে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তরুণ প্রস্তুত আছে। আজকে যুবক ভাইদেরকে, তরুণ বন্ধুদেরকে আমি আহবান করব- তোমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছো, তোমরা বইয়ের পাতায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছো, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনেছো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। আজ তোমাদের সামনে সুযোগ এসেছে যে বাংলাদেশ তোমরা চেয়েছিলে, যে বাংলাদেশ আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীন করেছে, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের কারণে অনেক বার হোঁচট খেয়েছে সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।

তরুন সমাজকে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, কোনো ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমাদের দল সমর্থন করে না। আমার অনুরোধ থাকবে আমার তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে দেশ তোমাদের, ভবিষ্যৎ তোমাদের দায়িত্ব ও তোমাদেরকে নিতে হবে। এবং সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। যুব সম্প্রদায়কে সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে কিভাবে সে আন্দোলনকে সফল করতে হবে। ভবিষ্যৎ তোমাদের দেশ তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদেরকেই করে দেখাতে হবে যে তোমরা পারো এবং তোমরাই পারো।

ইনশাআল্লাহ, আপনারা প্রস্তুত হন আপনারা যারা দেশের বাইরে আছেন আপনারা আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। যারা দেশের ভিতর আছেন আপনাদেরকে আপনাদের অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি। এই আন্দোলন সেই আন্দোলন, যে আন্দোলনে নারী, পুরুষ, যুবক, তরুণ সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সে আন্দোলনের সম্ভব হবে সেই দেশটিকে গড়ে তোলা যে দেশের স্বপ্ন আমাদের তরুণ এবং যুবক ভাইরা বুকে ধারণ করে।
তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করার জন্য ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। কোন যুব সম্প্রদায়কে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত করা না যায়, যদি সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়া না যায় তাহলে কোন দেশের পক্ষে অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব না। সেজন্যই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন যাতে করে দেশের যুব সমাজকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় এবং সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করা যায়। যেন সমগ্রদেশের সমস্ত যুব সম্প্রদায় দেশ গঠনে অবদান রাখে। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে বলতে হয় যে, এই স্বৈরাচারী সরকার যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকার তাদের প্রধান বর্তমান শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সাথে অন্য সন্তানদের মুখোমুখি করে দিল কোটা আন্দোলনের মোকাবেলার কথা বলে। সরকারের প্লান ছিল যদি তারা যুবক সম্প্রদায়কে শেষ করে দিতে পারে তাহলে অবৈধ ক্ষমতার নীলনকশা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কিন্তু আমাদের যুব সম্প্রদায় ঠিকই আসল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা দাবি নিয়ে সামনে চলে এসেছে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করেছে। এরকম আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। আজকে এখানে যতজন বক্তব্য দিয়ে গেছেন প্রত্যেকের কথার মধ্যে একটি কমন জিনিস ছিল। আজকে আমরা সকাল বেলায় যদি পত্রিকা দেখি তাহলে দেখবো স্বৈরাচারী সরকার এবং তাদের সাথে যারা আছে তাদের লুটপাটের খবর। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দলের কর্মীর কথা হল জনগণের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকার, জনগণের নিরাপত্তা, জনগণের ভোটের অধিকার এবং জনগণের বাক স্বাধীনতার অধিকার। এই কয়েকটি শব্দ প্রতিদিন ঘুরে ফিরে প্রত্যেকটি মানুষ প্রতিদিন উচ্চারণ করছে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে, এই কয়টি জিনিস এই সরকারের সময় অনুপস্থিত।

বক্তব্যের শুরুতেই দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের যুবদলের সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। তিনি স্মরণ করেন সেই সব নেতাকর্মীদেরকে যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে’।

Content Protection by DMCA.com

ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশের রেশ এখন সর্বত্র

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

বিনা ভোটে এমপি হতে চেয়ে শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারী নির্বাচনকে নতুন করে লজ্জায় ফেললেন যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন!

Content Protection by DMCA.com

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন গাজীপুরের কাজী আবুল হোসেন মাস্টার। একাদশ জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি হতে চান তিনি। একই উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সিইসির কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। চিঠিতে নিজেকে গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দাবি করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। চিঠির সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন। এমপি হওয়ার আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার শখ এমপি হবেন। তিনি জানতে পেরেছেন গতবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকেই এমপি হয়েছেন। তাই এবার ভোটের আগে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আবুল হোসেন জানান, গতকাল পর্যন্ত তার আবেদনের বিষয়ে কারও পক্ষ থেকে সাড়া পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ১৭ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন তা জানতে চেয়েছেন আবুল হোসেন। এর আগে ১৫ই অক্টোবরের চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন আবুল হোসেন। ওই আবেদনে তিনি লিখেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন সিইসি বরাবর আবেদন করলে এমপি হওয়া যাবে। কাজী আবুল হোসেন মাস্টার নিজেকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের মৃত আলহাজ মো. ইসলাম উদ্দিন কাজীর ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন চিঠিতে। আবেদনের সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি লিখেছেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে পরিবেশবান্ধব ও সেবামূলক কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করেছেন তিনি। বর্তমান কর্মপরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, শান্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো প্রণয়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজে নিজেকে উপস্থিত রাখেন তিনি। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে, দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাধীন জীবন যাপন, কারিগরি শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করা, সমাজের প্রতি দৃষ্টি রাখা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করা, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সহযোগিতা, শিল্পায়ন স্থাপন, বেকার সমস্যা দূর করাসহ আরো অনেক কিছু। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি গাজীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হতে চান।

/মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

Content Protection by DMCA.com

আন্দোলন ও নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সরকারবিরোধী নবগঠিত বৃহত্তর প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে এ তৎপরতা। ফ্রন্টের নেতারা একদিকে আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনী আসন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্যসংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থী মনোনয়ন। এসব কর্মতৎপতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে একাধিক টিম। বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো ও নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একের পর এক জরিপ করা হচ্ছে আসনভিত্তিক। সেই সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্ধেক নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে নিতে চায় বিএনপি।

এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে যখন জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে তখন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে গেছে দুটি শরিক দল। বিষয়টিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে বিএনপি। তবে ২০ দলের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দল দুটির একাংশ। তার পরও নির্বাচনী আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। বাস্তবতাসাপেক্ষে প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দিচ্ছে জোটের শীর্ষ দল বিএনপি। যদিও কৌশলগত কারণে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চায় না বিএনপি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসেবে বহিষ্কারের কারণ, এলাকার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতার সার্বিক তথ্যসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সে তালিকার অনেক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে নেতাদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটাতে কাজ করছেন একটি টিম। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করেছে বিএনপি। আলাদা আলাদা সে জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মার্কিং করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মহাসচিবসহ যাদের আসনে জটিলতা নেই তারা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কয়েক দফায় ক্ষমতাসীনদের রোষানলেও পড়েছেন। এদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে প্রার্থিতার সবুজ সংকেত না পেলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতারা এলাকায় কাজ করছেন। তারা নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান দিচ্ছেন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, বড় ও গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ প্লাটফর্মের কর্মতৎপরতা। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিকাল ৩টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে এ মতবিনিময় করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মতবিনিময় সভায় কূটনীতিকদের সামনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই দাবির পক্ষে, তা কূটনীতিকদের জানানো হবে। ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ৭ দফা দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ১১ লক্ষ্য ব্যাখ্যা করা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন তারই একটি রূপমাত্র। এর বাইরেও বামজোটসহ অনেক দল সরকারের বিপক্ষে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে আন্দোলনে সোচ্চার হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের বাইরে পেশাজীবী ও সুশীল সমাজও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যের প্রক্রিয়া দিনকে দিন জোরদার হবে। ঐক্যের মাধ্যমে সারা দেশে সরকারবিরোধী জনমত সংগঠিত হবে। সেই জনমতের চাপে সরকার দাবি পূরণে বাধ্য হবে। নেতারা বলছেন, আন্দোলন কেবল রাজপথেই হয় না। রাজপথের বাইরেও আন্দোলন রয়েছে। প্রচলিত ধারার আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে পথ চলবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, এখন তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুইটি বিষয়- আন্দোলন ও নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। দফায় দফায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে কর্মকৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে। তারা সবাই, জনসম্পৃক্ত কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের পথে হাঁটতে একমত। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং পেশাজীবীসহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা সে চাপ সৃষ্টি করতে চান। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে রাজপথের কড়া কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের। সেজন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করবেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট একটি টিম। সেখানে বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংকগুলোতে দলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেয়া হবে। অন্যদিকে যেসব আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভোট ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল সেখানে ২০ দলীয় জোটসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিবেচনা করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চলমান আন্দোলন সম্পৃক্ত কোনো পক্ষকেই মনোনয়ন বঞ্চিত বা হতাশ করা হবে না।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন ও মূল্যায়নের ব্যাপারে বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে আসছিল কয়েকটি শরিক দল। এই নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি, অসন্তোষও ছিল। এসব দল তাদের মূল্যায়নে চাইছিলেন দৃৃশ্যমান আশ্বাস। তবে জোটের ঐক্য ধরে রাখা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলনে মনোযোগ ধরে রাখতে তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছিল না বিএনপি। এমনকি নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো সংকেত দেয়নি। এছাড়া ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্যান্য দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার ব্যাপারে কিছুটা অস্বস্তি ছিল কয়েকটি শরিক দলের। জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়টিকে জোটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে কিছু নেতার বক্তব্য সেটা তীব্র করে তুলেছিল। ফলে জোটের অনেক শরিক এই ঐক্য গঠনের সমালোচক ছিলেন। তাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছিল- আগামী নির্বাচনে তাদের থেকে এই ঐক্যকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিএনপি। এ নিয়ে দুয়েকটি শরিক দলের সন্দেহ আর অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন মহল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির একাংশ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়। বিএনপি শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের ওপর ক্ষমতাসীনদের তরফে চাপ ও টোপ রয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন অন্য কোনো শরিক দল চাপের মাধ্যমে নতি স্বীকার ও লোভের কাছে পরাজিত হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি নিজেই শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করছেন। বিএনপি নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিন নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমের বাসায় যান। এসময়ে তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির অবস্থান, অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। সার্বিক বিষয়ে তার পরামর্শও নেন। এছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের জন্মদিনে তার বাসায় যান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। একইভাবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতারা জানান, শরিক দলগুলোর আস্থা রক্ষায় নেতারা তাদের বাসায় যাচ্ছেন, আলাদা করে আলোচনা করছেন।

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা থাকে নানা ধরনের। তবে যে দলগুলো গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের মধ্যে হঠাৎই কেউ বেরিয়ে গেলে দেখতে খারাপ দেখায়। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জোটে কোনো ভাঙন নেই। দুটি দলের কিছু নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দলের বড় অংশটি এখনো জোটেই আছেন। জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে। অন্য কোনো দলের জোট ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোট ভাঙছে না। এখানে দু-একজন নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দল থাকছে। তারা ইতিমধ্যে দলত্যাগীদের বহিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, কিছু মানুষের বৈষয়িক লাভও থাকতে পারে। সব জায়গায় এই রকম কিছু মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে। কিছু মানুষ বৈষয়িক প্রশ্নে অনেক সময় আপস করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এমনটি হয়েছে। এই আপসকামিতা আসলে স্বার্থের কাছে আত্মা বিক্রির নামান্তর। বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি। ক্ষমতাসীনদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন পাননি নীলু। ইতিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এখন রাজনীতিতে হতাশ এবং নিষ্ক্রিয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এনডিপি ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশও রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবে না, হতাশ হবে।

/মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com

রাজপথেই ফয়সালা হবে সবকিছূ

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল উলফা

Content Protection by DMCA.com

 

ULFA ‘commander’ admits attacking Hasina rally in 2004

https://bdnews24.com/bangladesh/2007/01/19/ulfa-commander-admits-attacking-hasina-rally-in-2004

Content Protection by DMCA.com

২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপি নয়, বরং আওয়ামীলীগই যে জড়িত তার প্রমান দিলেন তারেক রহমান

Content Protection by DMCA.com

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তার দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, আমাদের দল কখনোই ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। বিশ্বাস করেনা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে। ২১ আগস্ট বোমা হামলার নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন বিএনপি সরকার কিংবা বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়। জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। কেন জড়িত নয় এর অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রমাণ রয়েছে। এই হামলার কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এই হামলার সঙ্গে ঐ সময়ের আওয়ামীলীগের সম্পর্ক রয়েছে। তবে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ করার জন্য গভীর নীলনক্সা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, সমগ্র জাতি প্রত্যাশা করেন ন্যায় বিচার। জনগণ প্রত্যাশা করে এই মামলায় কোনো ফরমায়েশি রায় ঘোষিত হবে না।

আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায় লন্ডন থেকে দেশবাসীর উদ্দ্যেশ্যে দেয়া এক ভাষণে তারেক রহমান তুলে ধরেছেন কিভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তি, শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও এখন তার বিরুদ্ধে ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্র চলছে। কিভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে তাদের ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করেছে। কিভাবে তারা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে মদমত্ত। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে কিভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ করার জন্য জড়ানো হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান দৃঢতার সাথে বলেন, ২১ আগস্টের হামলার সঙ্গে আমাকে এবং বিএনপিকে জড়ানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। কারণ ওই জনসভার হামলা থেকে বিএনপি’র কিছুই পাওয়ার নেই। যার কারণ বিএনপি তখন ক্ষমতায়। আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের সমাবেশে হামলা চালিয়ে বিএনপি কেন নিজেই নিজের সরকারকে অস্থিতিশীল করবে? তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইন আদালতকে ব্যবহার করে যাই করুক বা যাই বলুক তথ্য উপাত্ত এবং বাস্তবতা প্রমাণ করে এই জঘন্য হত্যাকান্ডের সঙ্গে বিএনপি’র কোনো পর্যায়ের কেউ জড়িত নয়। আপনারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে জেনেছেন এ মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে সাথে সমানভাবে তদন্ত প্রতিবেদন পরিবর্তিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অবসরপ্রাপ্ত একজনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে একুশে আগস্ট মামলার তদন্ত দায়িত্ব প্রদান করে। তাকে দিয়ে এই মামলার বিচার চলা অবস্থায় পুনরায় তদন্ত করা হয়। তিনি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে এবং সেখানে জড়ানো হয় আমার নাম। শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকে ১০০ দিনের বেশি সময় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে তার মুখ থেকে বের করা হয় আমার নাম। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তিটি আদালতে গিয়ে নিজেই তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আবেদন করে আদালতকে জানায়- তাকে নির্মম নির্যাতন করে তার মুখ দিয়ে আমার নাম বলানো হয়েছে। আপনারা আরো আশ্চর্য হবেন, যে ব্যক্তির মুখ থেকে আমার নাম বের করে আমাকে একুশে আগস্ট মামলায় জড়ানো হয়েছে, ইতিমধ্যে অন্য একটি মামলায় সেই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এটি কি আপনাদের কাছে কোন একটি স্বাভাবিক ঘটনা মনে হয়?

তারেক রহমান বলেন, আমার মা এবং বাবার মতো আমিও দেশ, জাতি এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রেখেছি। আপনারা জানেন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী বিএনপিকে সুসংগঠিত করার জন্য সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে ছুটে গিয়েছি। কাজ করতে গিয়ে দলের সকল পর্যায়ের নেতা- কর্মী এবং শুভাকাঙ্খীদের আকণ্ঠ সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছি। আপনারা জানেন বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিকে চিরতরে উচ্ছেদ এবং মুছে ফেলার সর্বশেষ অংশ হিসাবে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আমাকে এবং তৎকালীন সরকারের বেশকিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর কর্মকর্তাকে জড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- আমাদের দল কখনোই এভাবে ঘৃণ্য হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন সরকার কিংবা বিএনপি’র কেউ জড়িত নয়। কেন জড়িত নয় এর অনেকগুলো সুনির্দিষ্ট কারণ এবং প্রমাণ রয়েছে। আমি এখানে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করতে চাই সুনির্দিষ্টভাবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ অবগত আছেন ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট পুলিশ প্রশাসন রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসভার অনুমতি দেয়। জনসভার দিন এবং তার আগের দিন পুলিশ প্রশাসন যথানিয়মে মুক্তাঙ্গনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। ২১ শে আগস্ট মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের জনসভার খবর সে সময়ের সকল পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এমনকি মুক্তাঙ্গনে সমাবেশে লোকজনও আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কে কেন কার আদেশে কি উদ্দেশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে মুক্তাঙ্গন থেকে সমাবেশের স্থান হঠাৎ করে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। কেন সরিয়ে নেয়া হয়েছিল? শেষ মুহূর্তে সমাবেশের স্থান পরিবর্তন কার পরামর্শে করেছিল, তা আজ পর্যন্ত জনগণকে জানতে দেয়া হয়নি। জনগণ তা জানতে চায়। তিনি বলেন, এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের জবানবন্দি উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেই সকল খবর থেকে আমরা দেখতে পাই এবং জানতে পাই যে, আওয়ামী লীগের জনসভায় হামলা পরিকল্পনা সাজাতে এবং কিছু কিছু জঙ্গি সংগঠনের নেতারা আগে থেকেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল। তাহলে কেমন করে ওইসব জঙ্গি সংগঠনের লোকেরা আগেই জেনেছিল সমাবেশ মুক্তাঙ্গনে নয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে?

তারেক রহমান বলেন, এমন একটি পরিস্থিতিতে এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত রায় দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করলেও এর আগেই শেখ হাসিনা এবং তার দলের নেতাকর্মীরা মামলার রায় আগাম বলে দিচ্ছে। হয়তো দেখা যাবে, রায় ঘোষণার দিন বিচারক আওয়ামী লীগ সরকারের তৈরি করা পূর্বনির্ধারিত রায়টি পড়ছেন। এমন ধারণা করার কারণ হচ্ছে, আমার মা বেগম খালেদা জিয়ার মামলার বিচারের নামে প্রহসন থেকে। অনেক আগেই এই সরকারের নেতাকর্মীরা সেই মিথ্যা মামলার রায় ঘোষণা করে দিয়েছে। আর নির্দিষ্ট বিচারক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেয়া রায় যথানিয়মে পড়ে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময় আমরা দেখেছি, সাবেক প্রধান বিচারপতির রায় সরকারের পছন্দ না হওয়ায় তাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে একটি মামলার রায় সরকারের মনঃপুত না হওয়ায় ওই বিচারককে দেশ ছাড়া করা হয়েছে। সুতরাং অতীতের বাস্তবতায় বলা যায় ২১শে আগস্ট মামলার রায়ের দিন আগের মতোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রায় শুনবে জনগণ। যেটাকে আমরা বলতে পারি ফরমায়েশি রায়। এই রায়কে পুঁজি করে বর্তমান ব্যাংক-ডাকাত সরকার হয়তো আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে আমার বিরুদ্ধে তাদের চলমান অপপ্রচারের মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দিবে!

তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজে ন্যায়বিচার নেই বলেই মিথ্যা মামলায় ৮ মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দিনের পর দিন আদালতে হাজির হয়েছেন। বিচারকদের সীমাবদ্ধতা জানা সত্ত্বেও তিনি বিচার বিভাগের মর্যাদাকে খাটো হতে দেননি। তবে জনগণ বিশ্বাস করে তার প্রতি বিচারের নামে করা হয়েছে অবিচার। যে মামলার রায়ের দোহাই দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে সে মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তাহলে এখনও কোন্ মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে, প্রশ্ন জনগনের?

বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসকে দীর্ঘ করতে যেভাবে আদালতকে ব্যবহার করে ডজন ডজন মামলা হাজির করে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে, এতে শেখ হাসিনার হিংসা চরিতার্থ হলেও বিচার বিভাগের প্রতি মর্যাদা মোটেও বাড়ছে না। আইনের শাসন প্রতিফলিত হচ্ছে না, বরং প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে প্রতিহিংসার রাজনীতি। তবে আমি এবং আমার মা বেগম খালেদা জিয়া এবং আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতেও করিনি, এখনো না এবং ভবিষ্যতেও না। তিনি বলেন,বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মৌলিক দর্শন হচ্ছে দেশের সকল মত ও পথের মানুষকে সাথে নিয়ে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিটি নেতাকর্মীর জন্য গর্বের বিষয় হচ্ছে তার অনুসৃত অর্থনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছেছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি রাজনৈতিক দল লাগাতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশের সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীদের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জাতি সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছিল। জনগণ সাফল্য ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন আমার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাকেও তাদের ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত করেছে। তারা এখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কখনো লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে, আবার কখনো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে। স্বাধীনতার পর থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং এবং তার পরিবারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করতে অপচেষ্টায় লিপ্ত তারা। দেশ এবং জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছিলেন। আর মা প্রচন্ড শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও স্বৈরাচারের কারাগারে বন্দি।

তারেক রহমান দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চলার পথে আমার আস্থা বিশ্বাস আল্লাহর উপরে। আমার বাবা, মা, আমার আদর্শ এবং দেশের জনগণ আমার রাজনৈতিক শক্তি। দেশ এবং জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে আমার বাবা জীবন দিয়েছেন এবং আমার মা এই বয়সেও কারা নির্যাতন ভোগ করছেন। আমিও দেশ এবং জনগণের স্বার্থে যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে গেলে বিপদ আসবেই। সে কারণেই আমি দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করেছি। জীবনের ভয় করলে আমার বাবা স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারতেন না।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন থেকে আমার মা সরে গেলে আজকে তাঁকে আর কারা নির্যাতন ভোগ করতে হতো না। সুতরাং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই ইনশাআল্লাহ আমি এগিয়ে যাব। আমার দল এগিয়ে যাবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তি। এগিয়ে যাবে দেশ এবং দেশের জনগণ। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সকল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে সফল করার আহবান জানিয়ে বলেন, ইনশাআল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।

আমার দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমর্থকদের কাছে আমার আহ্বান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখুন। এই সংকটময় মুহুর্ত ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করুন। বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন। কারো পাতা ফাঁদে পা দিবেন না। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট বিনষ্ট করতে এবং আবার আমাদের বিশ্বাসে চিড় ধরাতে নানা রকম ফাঁদ পাতা হয়েছে। তাই আমাদেরকে সাহস এবং সতর্কতার সাথে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

Content Protection by DMCA.com

২১শে আগস্টের রায় নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে হতাশ হাসিনা!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী কাল ১০ই অক্টোবর একটি মামলার রায় নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজধানীতে যখন টান টান উত্তেজনা, এরই মাঝখানে শেখ হাসিনা তার দূত পাঠান বিএসএমএমইউতে (পিজি হাসপাতালে) ভর্তি কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগে আগে এ বিষয়ে টোপ পাঠান শেখ হাসিনা। তার প্রস্তাব কেবল একটাই, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজী হলেই তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়া হবে!

প্রস্তাব শুনে হেসে ফেলেন বেগম জিয়া। বলেন, আর কত নাটক করতে চায় হাসিনা? তাকে বলে দিও, “ফাঁসিই তো দিবে? যা ভালো মনে করে দিতে বলো। জিম্মি করে কোনো আপোষ হবে না। অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।”

হতাশ হয়ে প্রতিনিধি দল ফিরে যায়। এদের একজন খুব অবাক হয়ে বলেন, এত শক্ত! তিনি কোথায় পান এত মনের জোর?

উল্লেখ্য ১০ই অক্টোবর ঐ রায় ঘোষণার একটি বিশেষ কারণ আছে। আর  তা হলো ২০০১ সালের এই দিনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। সেই দিনে শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে একটি সাজানো রায় দিয়ে মনের জ্বালা মিটাতে চান!

Content Protection by DMCA.com

বিনাভোটের সরকারের দালালী করে জামিন ছাড়াই বহাল তবিয়তে নাজমুল হুদা দম্পতি!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নামে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুস চাওয়ার অভিযোগে মামলা করে আলোচিত হয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা। তবে হুদার এই মামলাকে স্রেফ স্টানবাজি এবং সরকারের অনুকম্পা লাভের আশায় নির্লজ্জ দালালী হিসাবে অভিহিত করেছেন সুপ্রীম কোর্ট সংশ্লিষ্ট আইনজীবিরা।

Content Protection by DMCA.com

শোচনীয় অবস্থায় আওয়ামীলীগ!

Content Protection by DMCA.com

  বদরুদ্দীন উমর 

 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববার বিএনপির সমাবেশের একাংশ
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববার বিএনপির সমাবেশের একাংশ। ছবি: যুগান্তর

৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসমাবেশ করেছে। এই সমাবেশের রিপোর্টে দৈনিক যুগান্তর বলছে, ‘জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে’। অন্যদিকে প্রথম পৃষ্ঠাতেই প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এই সমাবেশ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘বিএনপির সমাবেশই প্রমাণ করেছে দলটি ক্রমেই সংকুচিত ও জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে। তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণেই দলটি জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে’ (যুগান্তর, ০১.১০.২০১৮)।

জনসমাবেশের রিপোর্টে যুগান্তরে যা বলা হয়েছে তা হল, ‘সকাল ১০টার পর থেকেই ঢাকা মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী-সমর্থকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশে আসতে শুরু করে। বেলা ৩টার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কানায় কানায় ভরে ওঠে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আয়োজিত জনসভা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। উদ্যান পেরিয়ে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের মূল ফটকের সামনের অংশ ও মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কটিতেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না’ (যুগান্তর, ০১.১০.২০১৮)।

শুধু এই রিপোর্ট নয়, সমাবেশের যে ছবি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে তার থেকেও এই রিপোর্টে বর্ণিত সমাবেশের অবস্থার সমর্থন পাওয়া যায়। কাজেই কেউ একজন বিএনপির সমর্থক না হলেও এই বাস্তব অবস্থাকে তার স্বীকার করতেই হবে যে, ৩০ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় অগণিত লোকের সমাবেশ হয়েছিল। তাদের সমাবেশ দেখে এটা মোটেই প্রমাণিত হয় না যে, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন বা বিএনপির অবস্থা ২০১৪ সালের থেকে সংকুচিত হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদের সাধারণ সম্পাদক এ কথাই বলছেন!

এ থেকে বোঝার কি অসুবিধা আছে, আওয়ামী লীগ নিজেই বাস্তবতা থেকে কতখানি বিচ্ছিন্ন? বোঝার কি অসুবিধা আছে যে, দেশের পরিস্থিতি অনুধাবনের সামান্যতম ক্ষমতাও তাদের এখন নেই?

বোঝার কোনো অসুবিধা নেই যে, তাদের এখন দিশেহারা অবস্থা। তাদের পায়ের তলা থেকে যে মাটি সরে যাচ্ছে বা ইতিমধ্যেই সরে গেছে এই উপলব্ধি তাদের একেবারেই নেই। এ অবস্থায় তাদের ভরসা শুধু নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ। জনগণ বা ভোটাররা নয়, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আনুগত্যের হিসাব করেই তারা আগামী নির্বাচনে জয়ের স্বপ্ন দেখছে! এই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে এবং আওয়ামী লীগের দুরবস্থা যতই প্রকট হচ্ছে, ততই বেশি করে সরকারি মহলের আবোলতাবোল কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। এসব কথা তাদের প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি না করে জনগণের কাছে হাসির ও রঙ্গরসের খোরাক জোগাচ্ছে। এর পরিণতি যে তাদের জন্য ভালো হতে পারে না, এটা বলাই বাহুল্য।

২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনে সব স্তরের জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত। ২০১৪ সালের অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরবর্তী এই পাঁচ বছরে অবস্থা অনেক খারাপ হয়েছে। এখন তাদের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু নির্বাচনের কাছাকাছি মুহূর্তে এসেও তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং সড়ক পরিবহন আইনের মতো গণতন্ত্র ও শ্রমিক বিরোধী আইন পাস করতে কোনো দ্বিধাবোধ করেনি। উপরন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছে এই আওয়াজ তুলে মহা-আনন্দে আছে। কিন্তু তাদের এসব গণবিরোধী কাজ এবং অসার কথাবার্তা জনগণের মধ্যে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে এটা বোঝার মতো ক্ষমতা তাদের আর নেই। শুধু তাই নয়, তাদের অবস্থা এখন এমনই যে, তারা এসব বোঝাবুঝির পরোয়া পর্যন্ত করে না। যে কোনো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের পক্ষে এর থেকে করুণ অবস্থা আর কী হতে পারে?

বিএনপির এই জনসমাবেশ ঠেকানোর জন্য সরকার এবং সরকারি দল ও তাদের জোটের শরিকরা সব রকম চেষ্টাই করেছে, তবে এবার জনগণের চাপে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে তারা পারেনি। তাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই সমাবেশ সম্পর্কে এক হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তাদের ঢাকার প্রতিটি অলিগলিতে পর্যন্ত ঠেকানো হবে। কেন ঠেকানো হবে? যে কোনো দলই জনসভা, জনসমাবেশ ডাকতে পারে এবং ডাকার অধিকার তাদের আছে। কাজেই অন্য বিরোধী দল সমাবেশ ডাকলে তাদের লোকজনকে সমাবেশে আসতে বাধা দেয়া হবে কেন? এভাবে বাধা দেয়ার এখতিয়ার তারা কোথায় পেলেন?

তারা নিজেদের সুবিধামতো সব সময় যে সংবিধানের কথা বলেন, সেই সংবিধানের কোথায় এ কথা আছে যে সরকার ছাড়া বিরোধী দলগুলোর মিছিল, সমাবেশ ইত্যাদি করা বেআইনি? কোথায় আছে সরকার ও সরকারি দলের এখতিয়ার এক্ষেত্রে বাধা দেয়ার?

তারা যে ধরনের নির্বাচনই হোক, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন; কিন্তু তার দ্বারা জনগণ কোনো ব্যক্তিকে বা কোনো দলকে রাজা বা রাজার দল বানাননি। নির্বাচনে জয়ের অর্থ সরকারি ক্ষমতা নিলামে ওঠা নয়। নির্বাচনে জয়ের অর্থ সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে হস্তগত করা নয়। এক কথায় সরকার কারও, কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। সরকার গঠনের অর্থ দেশের শাসন কাজ একটা নির্দিষ্ট মেয়াদে পরিচালনার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়া। এর থেকে বেশি কিছু নয়। নির্বাচনের মাধ্যমে কেউ চিরস্থায়ী জমিদারি কেনে না। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকারি দলের হাবভাব, কথাবার্তা ও কাজকর্ম এমন যে মনে হয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিলামে ওঠা জমিদারি তারা কিনে দেশের মালিক হয়েছেন।

এ কথা সবাই জানে যে, ২০১৪ সালের নির্বাচন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে, কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠান তাদের দ্বারা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনকে মুঠোর মধ্যে রেখে এবং পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহার করে তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করেছিল।

এ কারণেই আগামী সাধারণ নির্বাচনে যাতে ২০১৪ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হতে পারে এজন্য বিরোধী দলগুলো এখন পুরোদমে মাঠে নেমেছে। এমনকি ২০১৪ সালে যারা করণীয় হিসেবে নিজেদের সামনে কিছুই দেখেনি, তারাও এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোট গঠন করছে এবং মহাজোট গঠন করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই প্রচেষ্টার প্রতি যে জনগণের ব্যাপক সমর্থন আছে সেটা নানাভাবেই দেখা যাচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে তারা সংবাদপত্র, টেলিভিশন ইত্যাদি প্রচারমাধ্যম থেকে নিয়ে বিরোধী দল ও ব্যক্তির কণ্ঠরোধের যে প্রচেষ্টা নিয়েছে এটা হল ডুবন্ত অবস্থায় খড়কুটো ধরার মতো ব্যাপার। কিন্তু খড়কুটো ধরে যে কারও পক্ষে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় এটা জানা কথা। এর দ্বারা আওয়ামী লীগেরও শেষ রক্ষার সম্ভাবনা নেই।

জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুলিশি সন্ত্রাস, নির্বাচন কমিশন ব্যবহার ইত্যাদির মাধ্যমে কারচুপির চেষ্টা সর্বতোভাবে করলেও যে পরাজয় ঠেকানো যায় না এর একেবারে সাম্প্রতিক উদাহরণ হল মালদ্বীপের নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ইয়েমেনি সব রকম দুর্নীতি ও দমননীতির আশ্রয় গ্রহণ করলেও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। পরিপূর্ণ জনবিচ্ছিন্নতাই এর কারণ। এবং এই জনবিচ্ছিন্নতা হয়েছে দেশের সম্পদ অবাধে ও বেপরোয়াভাবে লুটপাট এবং তার প্রয়োজনে জনগণের ওপর চরম ফ্যাসিস্ট নির্যাতনের কারণে। এভাবে দুর্নীতি ও নির্যাতন চালিয়ে কিছুদিন ক্ষমতায় থাকা যায়; কিন্তু ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যায় না।

ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় বেপরোয়া দুর্নীতি ও নির্যাতন করলে তার ফলে শেষ পর্যন্ত শাসক দলের মাথা থেকে বুদ্ধি বিদায় নেয়। বাংলাদেশের শাসক দল এবং তাদের পদলেহী শরিকরা যেভাবে কথাবার্তা বলে আসছেন তার মধ্যে বুদ্ধি ও কাণ্ডজ্ঞানের পরিচয় আর পাওয়া যায় না। ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির জনসমাবেশ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তার থেকে বোঝা যায় এটা বুদ্ধির কাজ নয়। দৃষ্টিশক্তির পরিচায়কও নয়। বুদ্ধি তাদের মাথা থেকে বিদায় নিয়েছে এবং দৃষ্টিশক্তি রহিত হয়েছে। এর পরিণামে যা হওয়ার তাই হবে।

০১.১০.২০১৮

বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল
/যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries Recent Entries »