Category Archives: রাজনীতি

বিএনপি সুযোগ পেলে লাখো মানুষকে হত্যা করবে: তোফায়েল

বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ও আন্দোলনের খসড়ার রূপরেখা তৈরি

বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন ও  ২০ দলীয় জোট প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। দেশনেত্রীর জন্মদিন উদযাপনে বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন তার আশু সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে রোজা পালন, দোয়া ও মিলাদ, আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের বাবা এস্কান্দার মজুমদার ও মা তৈয়বা মজুমদারের কোল আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বাবা এস্কান্দার মজুমদারের আদিনিবাস ফেনী জেলায়। পরবর্তীতে তারা দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজে লেখাপড়া করেন। ১৯৬০ সালেই কলেজপড়ুয়া বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাডেট অফিসার জিয়াউর রহমানের বিবাহ হয়। ১৯৬৫ সালের ২০ নবেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম পুত্র তারেক রহমানের জন্ম হয়। ১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় ও শেষ সন্তান আরাফাত রহমান কোকো জন্ম নেয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সংহতি ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তৎকালীন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া এ সময় দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেন। জিয়াউর রহমান প্রিয় সহধর্মিণী হিসেবে স্বামীর মতোই ইসলামী ও অতি সাধারণ সংযমী জীবনাচার পছন্দ করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে শাহাদত বরণের পর এতিম দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের বাসাতেই সাধারণভাবে জীবন যাপন শুরু করেন।

১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৮ জানুয়ারি সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণহীন, দুর্নীতিমুক্ত, আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেছিলেন। বিগত কিছুকাল যাবত আমি বিএনপির কার্যক্রম গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি। দলের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হতে পারে, এমন মনে করে আমাকে দলের দায়িত্ব নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তাই দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি ও দলের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছি। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের গড়া দলে ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া আমার লক্ষ্য। রাজপথের নেত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৮৪ সালের আগস্ট মাসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তার ওপর নানাবিধ হুমকি আসতে থাকে, চক্রান্ত চলতে থাকে তাকে ব্যর্থ করে দেয়ার। কিন্তু অকুতোভয়, সাহসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের পথে পথ চলতে আপোসহীন ভূমিকা নিয়েছিলেন। জেনারেল এরশাদের জোরপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলনে নামেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৬ সালের এরশাদের পাতানো নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াদা করেছিলেন, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কেউ যাবেন না। যারা যাবে তারা জাতীয় বেঈমান হিসেবে চিহ্নিত হবে। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনা গিয়ে জাতির কাছে জাতীয় বেঈমান হন।  আর  সাধারণ নির্বাচনে না গিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-জনতা তাকে আপোসহীন দেশনেত্রীর উপাদিতে ভূষিত করে। এরপর আরো ৫ বছর স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বেগম খালেদা জিয়া অসহনীয় জুলুম-নির্যাতন সহ্য করে চূড়ান্ত ‘গণআন্দোলন’ সংগঠিত করেন।

১৯৯০ সালে তার নেতৃত্বে স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে সরকার পতনের একদফা আন্দোলনের ডাকে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসে। ফলে এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। বেগম খালেদা জিয়ার গণআন্দোলন সফল হয়। ফিরে আসে গণতন্ত্র। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অস্থায়ী রাষ্ট্র্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন করলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। জয়ী হয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এ সময় অভিন্ন নদীর পানি প্রাপ্তিতে আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের অধিবেশনে বলিষ্ঠ কন্ঠে দাবি করেছিলেন পানির জন্য। দেশে বিরোধীদলের দাবির প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চাল করতে গিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দ্বিতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমেই দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হয়। ১৯৯৬ সালের  ১২ জুন প্রশাসনিক কারচুপির নির্বাচনেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ১১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নে ছায়া সরকার হয়ে কাজ করেছে।

২০০১ সালে জনগণের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার পান বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণে পিতা-মাতার যোগ্য উত্তরসূরী বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান রেখেছিলেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে বিএনপি সরকার। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তান্ডবে প্রকাশে রজপথে মানুষ হত্যা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ১/১১র পথ সৃষ্টি করে। দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ভেঙ্গে সেনা সমর্থিত কথিত ১/১১’র সরকার ক্ষমতা দখল করে। এ সময় রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্র নিশ্চিত ধংসের মুখে দাঁড়ালেও সমস্ত ভয়কে জয় করতে গণতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে দেশবাসীর পাশে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার দুই পুত্র দীর্ঘদিন কুচক্রীর ষড়যন্ত্রে কারাগারে অসহনীয় নির্যাতনে ধুঁকেছেন। জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে দেয়া হয়েছে, যেন তিনি পিতার মতো জনগণের ঘরে ঘরে যেতে না পারেন, হাঁটতে না পারেন। নির্যাতনে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী জীবনে ছোটছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয় দেশনেত্রী নিজ অফিসে অবরুদ্ধ থাকাবস্থায়। শত চাপ ও নির্যাতনের মুখেও রাজনীতি ও দেশত্যাগ করেননি দেশনেত্রী।

১/১১’র সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েমের জন্য যখন মরিয়া হয়ে খুন, গুম, ক্রসফায়ার, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানাবিধ অপরাধ ও অপকর্মে লিপ্তকালীন বিগত সাড়ে ৫বছর ধরেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন। কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজেবির হত্যা, গুম ও গণগ্রেফতারের মাধ্যমে দেশে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ভোটার বিহীন একদলীয়  ৫ জানুয়ারির কলঙ্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। তখন দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে বেগম খালেদা জিয়া আরেকবার লড়াইয়ের দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। অতীতেও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও অন্যায় দাবির মুখে কখনোই মাথানত না করার ঐতিহাসিক সত্যতা রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার। নিজের কর্তব্য থেকে এক চুল সরে না আসা, দেশপ্রেম ও ভালবাসাকে আঁকড়ে ধরে দেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষকে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র আর বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখার শক্তি যুগিয়েছেন তিনি। বর্তমান আকুণ্ঠ দুর্নীতি নিমিজ্জিত স্বৈরাচারী সরকার একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে চিরস্থায়ী করার স্বপ্ন দেখছে। দেশি-বিদেশি চক্রান্তকে রুখে দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে কান্ডারী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া জনগণকে এনে দেবেন আলোকিত দিন- এ বিশ্বাস সকলের।

বর্তমান বিনাভোেটের সরকার অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বশকর্তী হয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সাজানো রায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে আটেকে রাখা হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা মামলায় জাল নথি তৈরি করে সাজানো মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। একটি মামলায় জামিন হলে, অন্য মামলা মুক্তির পথে বাদ সাধছে বেগম খালেদা জিয়ার। আর এভাবেই পেরিয়ে গেছে ৬ মাস। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৩৬টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় জামিন এখনো বাকি। মুক্তির দাবিতে বিএনপি মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে। ৭৩ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। গত ৫ জুন দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ ঘুরে মাটিতে পড়ে যাওয়া সত্তরোর্ধ্ব সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এতে পরিবারের সদস্য, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। :

জন্ম দিবস উপলক্সে বিএনপির কর্মসূচি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্ম বার্ষিকী উপলে আজ বুধবার সকাল ১১টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দলের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশে জেলা-উপজেলায় বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘায়ু ও আশু রোগ মুক্তি কামনায় এই দোয়া মাহফিল হবে। : যুবদলের কর্মসূচী : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল করবে জাতীয়তাবাদী যুবদল। জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন সকল ইউনিটকে কর্মসূচি পালনের আহবান জানিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলে যুবদলের আয়োজনে আজ ১৫ আগস্ট দেশের সকল জেলা, মহানগর, থানা ও পৌর শাখায় যুবদল কর্তৃক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। : ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজার বিশেষ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন। বিএনপির অভিযোগ মিথ্যা মামলায় জাল নথি তৈরি করে সরকারের নির্দেশে নিম্ন আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে। রায়ের পর পরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ৬ হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরনো কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর ৪ মাস ১০ দিন পর  স্যাতসেতে জরাজীর্ণ এই পরিত্যক্ত কারাগারেই ৬ মাস পার করছেন বেগম খালেদা জিয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়েন তিনি। ইবাদত বন্দেগি ও বই পড়ে দিনের বেশির ভাগ সময় কাটছে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

হলের সামনে থেকে ঢাবি ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি !

“ভুয়া মামলায় খালেদা জিয়া জেলে”- মুখ খুললেন কার্লাইল

কার্লাইল মুখ খুললেন। বললেন, কেন তিনি দিল্লি যেতে পারেননি? নিউ ইয়র্কের টাইম টিভিতে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন বাতিল, বাংলাদেশের আইনের শাসন পরিস্থিতিসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেন তিনি।

কার্লাইল বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় যখন দিল্লি পৌঁছি তখন মোবাইল অন করার পর ম্যাসেজ পাই, তাতে লেখা আমার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এটি ভারত করেছে বাংলাদেশ সরকারের চাপেই।

বৃটেনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনায় বলেন, ১১ই জুলাই আমি স্বাভাবিক নিয়মেই বিজনেস ভিসা নিয়ে নয়া দিল্লি যাই। ভিসার আবেদনে নিজেকে আইনজীবী হিসেবেই বর্ণনা করেছি।

আমি সেখানে যাই খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে। এটা নয়া দিল্লিতে করতে চেয়েছি এ কারণে যে, দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ সাংবাদিকদের বড় অংশ নয়া দিল্লিতে অবস্থান করেন।

সংবাদ সম্মেলনটি আমি ঢাকাতেও করতে পারতাম কিন্তু বাংলাদেশ সরকার আমাকে ভিসা দেয়নি। কোনো কারণ ছাড়াই ঢাকা যেতে বাধা দেয়া হয়েছে, যার পেছনে কোনো কারণ আমি খুঁজে পাইনি। বিষয়টি আমি বৃটিশ হাইকমিশনকেও অবগত করেছি।

একজন আইনজীবী হিসেবে খালেদা জিয়ার মামলার বিস্তারিত খতিয়ে দেখেছি। যেসব অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের কারাদ দেয়া হয়েছে এগুলো আসলে স্পষ্ট ধোঁকাবাজি। দোষী সাব্যস্ত করার ন্যূনতম কোনো প্রমাণ নেই। ‘সোকল্ড জিয়া অরফানেজ’ মামলা পুরোটাই ভিত্তিহীন। ‘জিরো অ্যাভিডেন্স’-এর ভিত্তিতে সাজা দেয়া হয়েছে।

আমরা এ মামলা খতিয়ে দেখতে একটি টিমকে আহ্বান করেছিলাম যেটাকে বলা হয় ‘ফরেনসিক অ্যাকাউন্টেট’। তারা অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেছে আর বলেছে, এখানে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাতে প্রতারণা করার মতো কিছুই পাওয়া যায়নি। বেগম খালেদা জিয়া কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বা কোনো অপরাধ করেছেন এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটা কীভাবে মামলা হতে পারে? আমি বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরাতেই এ মামলা।

কার্লাইল বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতেই এ মামলা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একইভাবে মামলার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তাকে হয়রানি করতে বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার পাঁয়তারা করেছিল। বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বুঝতে পেরে এবং মামলার অভিযোগ মিথ্যা জানার পর ইন্টারপোল পরে সে নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয়।

এটা এখন সার্বিকভাবে প্রমাণিত, আইনের শাসনের সব ধরনের বাধ্যবাধকতা থেকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ সরকারের বিচ্যুতি ঘটেছে।

১৫০ সিট চায় মাহী, ২০ দলের শরীকরাও চায় ১৫০ সিট! বিএনপির আর নির্বাচন করার দরকার আছে কি?

বি চৌধুরীর বেটা মাহী যখন গত সপ্তাহে বিএনপির কাছে চাইল ১৫০ সিট, এটা নিয়ে চরম সমালোচনা হৈ চৈ চলছিল অনলাইনে। লিখতে চেয়েও সংযত ছিলাম। অপেক্ষা করলাম জোট কি বলে দেখি। আজকে জোট থেকেও ১৫০ সিট চাওয়ার সংবাদ! বেশ! এইবার লেখা যায়।

সেদিনকার দেড়’শর পরে আজকে দেড়’শ চাওয়ার পরে বিএনপি মহাসচিবের কাজ এখন সহজ হয়ে গেলো! তাইলে ১৫০ দিয়ে দেন ঐকজোটকে, ১৫০ দেন ২০ জোটের শরীককে। সেক্ষেত্রে বিএনপির আর নির্বাচন কো লাগবে না! হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাক, উনারা ইলেকশন করে জিতে আসুন! সরকার গঠন করুক!

হায়রে মাহী। তোমাকে তো বাপু নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ভাবছিলো সবাই, এখন দেখা যাচ্ছে তুমিও চিকনা বুদ্ধিতে কম যাও না। তুমি বিএনপিকে মাইনরিটি বানাইতে চেষ্টা করতেছ! কিন্তু কেনো? তোমার বাপকে প্রেসিডেন্ট থেকে বাদ দিছিলো বিএনপি, তাই বিএনপির কাছে যেনো আর ক্ষমতা না থাকে। এই তো? বেশ! তাইলে একটা কাজ করো ১৫০ সিট দরকার নাই, বিএনপির সাহায্য ছাড়া বাপ বেপা দুইজনে মাত্র দুইটা সিট জিতে আসো দেখি। নৌকা ধানেরশীষ, কুলা তিন প্রতীকের ভোট হবে। কত পারো। যদি জিততে পারো- তোমার বাপরে প্রেসিডেন্ট, আর তোমারে প্রধানমন্ত্রী বানানো যাবে!

শোনো, এটা জাতীয় নির্বাচন। মেডিকেল হাসপাতালে রোগী দেখা না, বা শোবিজ জগতের মেয়েদের নিয়ে নাচানাচিও না। নির্বাচন ক্ষমতা সাংঘাতিক সিরিয়াস বিষয়। যদি মনে করো দেশে গণতন্ত্র দরকার, ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাইতে হবে, অবৈধ দখলদার সরকার হাসিনাকে বিদায় করতে হবে – তবে এইসব দেড়শ/দু’শ সিটের বাহানা বাদ দিয়ে খোলা মন নিয়ে সামনে আগায়া আসো। নইলে তোমাদের সামনে তো পুরানা রাস্তা খোলা আছেই- কিস্তিতে উঠে পড়তে পারবা- সমস্যা নাই। দেশ গোল্লারে যাক, জাহান্নামে যাক, নিজেরা কিছু পাইবা তো! মনে করিও না, খালেদা জিয়া জেলে, তাই চামচিকার মত হাতিকে ঝামটা দেয়ার চিন্তা করিও না। মনে রাখিও, নির্বাচন এবং রাজপথ দখল দুটাই বিএনপি কর্মীরা করবে। তোমাদের কার কি সামর্থ আছে, কার পিছে কয়জন আছে, সে হিসাব মোটামুটি জানা।

২০ দলের শরীক জোট ভাইরা। দীর্ঘদিন ধরে জোটে আছেন, তো থাকেন। ইলেকশন হবে কি হবেনা ঠিক নাই! বিএনপি অংশ নিবে কি না, এখনও শিওর না। তারপরও আপনার ১৫০ সিট চাইয়া গন্ধ করে ফেলছেন চারদিক! এভাবে করলে হবে? নাকি রিজনেবল সংখ্যায় সিট দাবী করবেন? ১৫০ সিটে আপনারা কি প্রার্থী দিতে পারবেন? নাকি জামানত ফেরত আনতে পারবেন? খামাখা হুজুগে লাফান কেনো? যে কয়টায় জিততে পারবেন, সম্ভাবনা থাকবে, সে কয়টার জন্য চেষ্টা করুন। বেশি লোভ করা ভালো নয়।

আরও কথা আছে। ৩০০ সিটের সংসদ নির্বাচনই শেষ কথা নয়। আগে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে হবে। দেশের জঞ্জাল সাফ করতে হবে। তারপরে সংসদের আরেকটা উচ্চ কক্ষ (সিনেট) বানানোর কথা, যাতে ১০০ জনকে একমোডেট করা যাবে। সংসদের ৩০০ আসনকে ৫০০ করা হতেও পারে। আপনাদের যারা ভোটে আসতে পারেন না, তাদের জন্য সেখানেও যায়গা হতে পারে। তাই এখনি অধৈয্য না হয়ে সবার আগে সংসদ নির্বাচন কেমন করে টু-থার্ড মেজরিট পাওয়া যায়, সে চেষ্টা ফিকির করুন। নইলে দেড়শ- দেড়শ যতই তিন’শ গুনে রাতকে সকাল করেন না কেনো- ক্ষমতা কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।

/ফেসবুক

লুটেরাদের পালানোর আয়োজন: ভোট-ডাকাত, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী, ধর্ষক ও হাতুড়িঅলাদের ভিসা প্রত্যাখান করছে দূতাবাসগুলো: কালো তালিকায় ১৩৫!

অবৈধ সরকারের শেষ সময়ে সরকারের সুবিধাভোগি লুটেরা সন্ত্রাসীরা বিদেশে পালানোর চেষ্টায় ত্রস্ত হয়ে উঠেছে। সেগুনবাগিচার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কনস্যুলার শাখা খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইস্যু করছে শত শত নোটভারবাল- ভিসা দাও।
 
পরিস্থিতি বুঝে ঢাকাস্থ দূতাবাসগুলোও কঠোর হয়ে উঠেছে। ঢাকার প্রায় ৩৭টি দূতাবাসে শত শত নোট ভারবালের চাপ সামলাতে দিয়ে সেগুণবাগিচাকে জানিয়ে দিয়েছে, এভাবে পাইকারী হারে ভিসা ইস্যু করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতির বিষদ ব্যাখ্যা দিয়ে দূতবাসগুলো জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী খুনি, ধর্ষকদের নিয়ে তারা চিন্তিত, এদেরেকে তাদের দেশে ঢুকতে দিলে সেখানেও এরা নৈরাজ্য চালাতে পারে। তাই ভিসা প্রদান আপতত বন্ধ।
 
এছাড়া বিগত দিনের নির্বাচনী সন্ত্রাসে জড়িতদেরও একটি বিশেষ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দূতাবাসগুলো নিজস্ব উদ্যোগেই পত্রপত্রিকা এবং সামাজিক মাধ্যম ঘেটে সন্ত্রাসীদের তালিকা বানাচ্ছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য ও ছবি সহ সনাক্ত করছে। কয়েকটি দূতাবাস কালো তালিকা বিনিময়ও করছে।
 
ভিসা কড়াকড়িতে সবচেয়ে কঠোর ভূমিকায় মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্ণিকাটের সঙ্গেও চলছে সরকারের টানাপোড়েন। খুলনা-গাজিপুরের সিটি নির্বাচন নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। আ’লীগের ভোট ডাকাতি ও কারচুপির তীব্র প্রতিবাদ জানান বার্ণিকাট। জাল ভোট ও শক্তি প্রয়োগের মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগে প্রবল আপত্তি তোলেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন মিডিয়ায়। জবাবে সরকার পক্ষও মরিয়া হয়ে ওঠেন। বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রীরা, এমনকি দলের ছোট বড় নেতারাও বার্নিক্যটকে তুলোধোনা করে ছেড়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মার্কিন প্রবাসীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও তীর্যক বিবৃতি দিয়ে বলেন, মার্কিন দূতাবাস বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্য থেকে পরিস্কার- টানাপোড়েন বাড়ছে।
 
সাম্প্রতিক কোটা-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকারও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম অত্যাচার, ছাত্রীদের ওপর শ্লীলতাহানি, পুলিশের গুম ও রিমান্ডকে চরমভাবে প্রতিবাদ করছে ঢাকাস্থ পশ্চিমা দেশের দূতাবাসগুলো। এক এক করে জার্মিানী, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড বিবৃতি দিয়ে সরকারের ভূমিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। স্পষ্টতই পশ্চিমারা এ বিষয়ে একটি ঐক্যমত অবস্থান নিয়েছে, যা সরকারের ভেতরে প্রচন্ড অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। সামনে নির্বাচন এমন সময়ে বিদেশীদের এহেন কর্মকান্ডকে সরকার অশনি সংকেত হিসাবে দেখছে।
 

ধিক্কার! ভেবে অনুতপ্ত হই কেন শিক্ষকতায় এলাম! এ লজ্জা কার? সরকারের নাকি ভিসির?

ছবিগুলো দেখে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়: আঙ্গুল তুলে শিক্ষককে শিক্ষা দিচ্ছেন যিনি তার নাম ছাত্রলীগ

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক। তিনি তার শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মাঝখানে দাঁড়িয়ে। আঙ্গুল তুলে শিক্ষককে শিক্ষা দিচ্ছেন যিনি তার নাম ছাত্রলীগ। দ্বিতীয় ছবিতে শিক্ষককে যিনি ঘুষি মারতে যাচ্ছেন, তার নামও ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নাজেহালের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাওয়া শিক্ষকেরা প্রশাসনিক নেতৃত্বে আছে বলেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ নিরাপদ নই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শুধু আমাদের নাজেহাল আর শারীরিক আক্রমনই করেনি, ছাত্রলীগের তিনজন মাস্তান ভয় দেখানোর জন্য আমার বাসা পর্যন্ত মটর সাইকেলে চেপে আর দুজন পদব্রজে অনুসরণ করতে করতে এসেছে! এদের একজন আবার মোবাইল ফোন দিয়ে ক্রমাগত ছবি তুলছিলো!

আর ‘মহামান্য’ প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বললেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যা খুশি তা করতে পারি না! প্রক্টরিয়াল বডিকে না জানিয়ে কেন শহীদ মিনারে গেলাম? ধিক্কার! ভেবে অনুতপ্ত হই কেন শিক্ষকতায় এলাম! আমাদের কেউ বা আমাদের পরিবারের কেউ কোন রকম শারীরিক বা মানসিক আক্রমনের শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি দায়ী থাকবে।

বিএনপি নেতাদের দেখে মনেই হয় না নেত্রী জেলে!

চৌগাছায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি কর্মী হত্যা

 

শীর্ষনিউজ, যশোর: যশোরের চৌগাছায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে রতন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার দীঘলসিংগা গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে। রতন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

চৌগাছা থানার ওসি খোন্দকার শামিম উদ্দিনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তারা সংবাদ পান- চৌগাছা যশোর সড়কের কয়ারপাড়া নামক স্থানে গুলাগুলি হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় সেখানে একজনের লাশ, একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও এক প্যাকেট ইয়াবা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

কিন্তু নিহতের পিতা আবু বাক্কর ও মা ফরিদা বেগম জানান, তাদের ছেলে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার সময়ও সে ফিরে না আসায় এবং তার মোবাইল ফোন রিসিভ না হওয়ায় আমরা চারিদিকে খুঁজতে থাকি, কিন্তু কোনও সন্ধান পাই না।

অবশেষে শুক্রবার ভোরবেলা আমাদের একজন পরিচিত লোক যশোর সদর হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানায়, হাসপাতালে রতনের মতো দেখতে একজনের লাশ রয়েছে। সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে আমরা তার লাশ সনাক্ত করি।

রতনের প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিবেশীদের বিপদে আপদে সে সবার আগে এগিয়ে যেত।

নাম প্রকাশ না করে অনেকে জানান, তারা বিএনপি ঘরানার লোক, সেকারণে এই অবস্থা।