Category Archives: মতামত

পাসপোর্ট-নাগরিকত্ব সমাচার~

।। শামসুল আলম।।
 
এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তির নাম তারেক রহমান। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। লন্ডনপ্রবাসী। বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে তাদের প্রায় সব মন্ত্রী নেতা খেতাদের মুখে একটিই শব্দ- তারেক রহমান! তারেক রহমানকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসাবে প্রচার করছে সরকারের মিডিয়া এবং প্রচার যন্ত্র!
 
সরকারের লোকেরা বলছে- তারেক রহমানকে যেকোনো মূল্যে লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা। এনে দন্ড কার্যকর করবেন! বেশ তো আনতে পারলে আনুন….সেটা না করে খামাখা বক বক করেছেন কেনো? উনার রেটিং বাড়িয়ে দিচ্ছেন কেনো? এর কারণ হিসাবে অনলাইন সূত্র জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডন গিয়ে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানকার বাংলাদেশীদের হাতে এমন নাকানি চুবানি খেয়েছেন, সর্বত্র এমন প্রতিবাদ প্রতিরোধের সম্মুখীণ হয়েছেন যা আগেকার সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে! এরফলে কোনো ভেনুতে তিনি সামনের দরজা দিয়ে যেতে পারেননি, সব যায়গায় পেছনের দরজা ব্যবহার করতে হয়েছে! লন্ডন শহরে ভ্রাম্যমান (মোবাইল) বিলবোর্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে খুনি, গণতন্ত্র হত্যাকারী, স্বৈরাচার হিসাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করা হয়েছে। নতুন ধরনের এই প্রতিবাদ দেখে সবাই চমকিত হয়েছে! সম্মেলনে আগত বিদেশীরা এবং লন্ডনবাসীরা বাংলাদেশ এবং হাসিনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছে, আগ্রহী হয়েছেন। এসব কারনে শেখ হাসিনা বিএনপি এবং তারেক রহমানের উপর যারপরনাই বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়ে বৃটেন সরকারের দ্বারস্থ হন- তারেক রহমানকে ফিরিয়ে দিন। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে আইনানুগভাবে ভালোভাবেই আছেন, হাসিনার কথায় তাকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নাই জেনে শেখ হাসিনা আরও বিরক্ত হয়ে অন্তত দু’টি পাবলিক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে বাপ মা তুলে গালিগালাজ, হুঙ্কার এবং ধরে নিয়ে দন্ড কার্যকর করা হবে এমন খিস্তিখেউড় করলেন। এমনকি লন্ডনে বিএনপির লোকদের উপর আক্রমন করতে তার দলের লোকদের নির্দেশ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে গেলেন। তবে প্রতিবাদের মাত্রা আরও বাড়ে যখন গতকাল লন্ডন ছাড়ার সময় হোটল থেকে বের হওয়ার মুখে বাংলাদেশীদের ব্যাপকভাবে ডিমবৃষ্টির কবলে পড়তে হয় হাসিনা ও তার দলবলকে। এমনকি লন্ডন পুলিশের বাধা ভেদ করে ডিম ছোড়ার দৃশ্য দেখা যায়!
 
অন্যদিকে তখন বিনাভোটের সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের বাংলাদেশে নাগরিকত্ব নাই! সেই সাথে টিভি স্ক্রলে আসতে থাকে, ‘আওয়ামীলীগ বলছে, পারলে তারেক রহমান পাসপোর্ট দেখাক’, আবার বলা হচ্ছে- ‘তারেক রহমান নাকি তাঁর স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ডাকযোগ! তাই উনারা আর বাংলাদেশের নাগরিক নন!’ এদের কে বুঝাবে যে- পাসপোর্ট থাকা না থাকার সাথে নাগরিকত্বের কোন সম্পর্ক নাই। পাসপোর্ট হলো ট্রাভেল ডকুমেন্ট- বিদেশে যেতে এটা লাগে। এয়ারপোর্টে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ লোকের পাসপোর্ট নাই- বানায়নি। তাই বলে কি তাদের নাগরিকত্ব চলে গিয়েছে? যতটুকু জানা গেছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জমা দিয়েছিলেন পাসপোর্স নবায়ন করতে। কিন্তু হাসিনার অবৈধ সরকার তা নবায়ন না করে এখন ধাপ্পাবাজি করছে! গাধাদের জন্য জ্ঞান হচ্ছে, পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে, নাগরিকত্বের কোনো মেয়াদ থাকেনা। এটা আমৃত্যু।
 
পাসপোর্ট নিয়ে যখন কথা উঠলো, তখন জাতি জানতে চায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে কোন্ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ সম্পর্কে আওয়ামীলীগের কোনো বক্তব্য আছে কি? দেশের মানুষ অনেকেই জানে (এটা প্রথম আমিই প্রকাশ করেছিলাম)- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব এবং ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে ঢাকায় ফিরেন। কামাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ৬ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব এবং ড. কামাল দু’জনে ছবি তোলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে সই করে নতুন পাসপোর্ট তৈরীর জন্য। অতঃপর নতুন বানানো সেই পাসপোর্ট শেখ মুজিবের নাগরিকত্ব লেখা হয়- Pakistani. ২৫ দিন আগে স্বাধীন বাংলাদেশ মুক্ত হয়, এবং সেটা ঐদিনই জানতে পারেন শেখ মুজিব, তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের মনোনীত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব নতুন করে হলেন পাকিস্তানের নাগরিক! এমন চরম দুর্ভাগ্য বোধ হয় বাংলাদেশের ললাটে লেখা ছিল! শেখ সাহেব বাংলাদেশে ফিরেই সাথে সাথে রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন। প্রশ্ন হলো- তার আগে কি তিনি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন? বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছিলেন? করে থাকলে কবে, কখন? এটি দরকার ছিল এই কারনে যে, শেখ মুজিব এবং ড.কামাল হোসেন বাংলাদেশ জন্মের পরেও পাকিস্তানের (তখনকার শত্রু রাষ্ট্রের) নাগরিকত্ব গ্রহণ/ নবায়ন করেছিলেন (শেখ সাহেবের আত্মীয় জামায়াত নেতা গোলাম আযমও পাকিস্তানের নাগরিত্ব নিয়েছিলেন, পরে সেটা ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন)। তাই শেখ মুজিব বা ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে এবং বাংলাদেশের প্রতি অনুগত্যের ঘোষণা না দিলে তাঁহারা বাংলাদেশের নাগরিক হইবেন না। তবে কি শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিক হিসাবেই বাংলাদেশের রাজত্ব করবেন আমৃত্যু? আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক বা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারলে এর জবাব দিক!
/ ফেসবুক

উন্নয়নশীল দেশের তকমা সমাচার..

শামসুল আলম।।

বাংলাদেশের মিডিয়ার খবর – গতকাল বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing Nation) হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে! আমরা গত ৪০ বছর ধরে বইপত্রে লিখে আসছি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ (developing country); অনলাইন ঘটলেই বহু পাওয়া যাবে। তাহলে আমরা কি ভুল জানতাম? আসলে ঘটনাটি একটু ভিন্ন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা করেছে কেবল। আরও তিন বছর পরে মূল্যায়ন হবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলো কি না। অথচ দেশের বিনা-ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজই বলে ফেললেন- “বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে!” উনি ৩ বছর ওয়েট করতে পারবেন না, এখনি তকমা লাগিয়ে ঘুরবেন!!! যেনো ওঠ ছেমড়ি তোর বিয়া!

খবরে বলা হচ্ছে, সিডিপির মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২শ ৩০ ডলার, আর বাংলাদেশের হয়েছে ১২শ ৭১ ডলার; মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি, বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯; এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম, সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এসব খবর পড়ে বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাইতে পারে–মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবটা কিভাবে করা হয়েছে। এর মধ্যে……… শেয়ার মার্কেট থেকে মারা ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, কিংবা ১৫ কোটি টাকা কিলোর রাস্তা ১৮৩ কোটি টাকায় করে যে ১২গুণ বেশি টাকা পকেটে ঢুকলো, বা দেশের অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে সরকারের লোকেরা, বা দুই দশকের শাসনে যে ৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, বা বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লুট, জনতা ব্যাংক থেকে ৫৪০০ কোটি টাকা সরোনো, হলমার্ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ৪০০০ কোটি টাকা লুট, ফার্মার্স ব্যাংক লুট, ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১২০০ কোটি টাকা লোপাট, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরি, দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার কাজ ১৮ হাজার কোটি টাকায় করে লুটপাট, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফ্লাইওভার করে লুটপাট, ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানে ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ ৬০ হাজার কোটি টাকা বানিয়ে লুটপাট, ৩০ হাজার কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১ লাখ ১৩ হাজার করে লুটপাট, এবং অনলাইন জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের যে হিসাব- এসব কি এই সিডিপির মাথাপিছু আয়ের হিসাবে ঢেকানো হয়েছে? না ঢুকিয়ে থাকলে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন। সরাসরি উন্নত দেশের তকমা পেয়ে যেতে পারেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে তাঁর পিতার স্বপ্নের কথা স্মরণ করেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা হেরে যাওয়ায় দেশ পিছিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথাও বলেছেন। আমরা এ প্রসঙ্গে স্মরণ করতে চাই কিভাবে তলা বিহীন ঝুড়ির দেশ এগিয়ে গেলো গত চার দশক ধরে। কেবল একটি খাতের কথাই তুলে ধরা যাক – শিক্ষা খাত:

মানুষের মনে আছে, স্বাধীনতার পরে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ জনগেষ্ঠি যখন অশিক্ষিত, তখন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়া এদেশের অক্ষরজ্ঞানহীন প্রবীণ ও শিশুদের জন্য সারাদেশে গণশিক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা করেছিলেন। পাড়ায় পাড়ায় বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র তৈরী হয়েছিলো। এসএসসি পরীক্ষায় ৫০ নম্বরের একটি বিষয় ছিলো, যাতে পাশ করতে হলে একজন ছাত্রকে ৩ জন নিরক্ষরকে স্বাক্ষর করা শিখাতে হতো। এর ফলে দেশে স্বাক্ষর লোকের সংখ্যা ২৩% থেকে ৩৩%এ উন্নীত হয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাকে ১ নম্বর অগ্রাধিকার হিসাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করলেন, ঐ বিভাগের কর্মকান্ড মনিটর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখলেন। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, উপানূষ্ঠ‍ানিক শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে দেশে হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করলেন, নতুন স্কুল নির্মান করলেন, ১০০% শিক্ষার্থী ধরে রাখার জন্য বিশেষ প্রকল্প, প্রমোট প্রকল্পের অধীনে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে। ১৯৯৫ সাল নাগাদ ৯২% শিশু ভর্তি নিশ্চিত হয়, যার মধ্যে ছেলে শিশু ৯৪.৫%, মেয়ে শিশু ৮৯.৬% এবং শিক্ষিতের হার দাড়ায় ৪৭.৫%।

বিএনপি ২য় বার সরকারে এসে ২০০৩-২০০৬ কেবল একটি প্রকল্পের অধীনেই ৩৫ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করে, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, শিক্ষার গুণগত মানবৃদ্ধি, শিক্ষকদের ট্রেনিং ও শিক্ষালয়ের আধুনিকায়ন, বিনা বেতনে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা, উপবৃত্তি কার্যক্রম, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, নতুন মেডিকেল কলেজ ও সাধারন শিক্ষার স্কুল-কলেজ নির্মান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটিসহ বেসরকারী পর্যায়ে কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া যে অবদান রেখেছেন, তা যে কোনো সরকার এমনকি যুগকে ছাড়িয়ে গেছে। এসকল কাজের কৃতিত্বের জন্য খালেদা জিয়ার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ পদক পাওয়ার কথা বহু আগেই।

কেবল হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগই করেনি, ২০০৪ সালে PEDP-2 প্রকল্পে ১২হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ হাজার স্কুলের উন্নয়ন করা হয় ২০০৪-০৭ অর্থবছরে। জাতিসংঘের MDG (মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল)এর আওতায় ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বাস্তবায়নের লক্ষে যে বিশাল কর্মকান্ড সম্পদিত হয়, তার ফলে জীবনমান সূচকই কেবল বাড়েনি, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ সরকারের “মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা”, “উপবৃত্তি” ও “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর” কথা। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এ সকল প্রোগাম অনুকরন করে। শিক্ষাক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী উদ্যোগ- মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি, বিনামূল্যে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগদান, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর ফলে বাংলাদেশ আজকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দূর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে (২০০৭ সালে +৭ শিক্ষিতের হার ৬১.৩%)। শিক্ষাক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে খালেদা জিয়ার সরকারের প্রশংসা করা হয়েছিলো। UNESCOর বর্তমান রিপোর্টের উধৃতি, “Female literacy rate for the first time surpassed male literacy rate, which may be considered as the impact of several gender sensitive programmes undertaken by the government and other agencies.” এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে বাংলাদেশ লাভ করে mdg পদক। ঐপদকের জন্য ২০০৭ সালের ডাটা মূলায়ন করা হয়, সেটা বিএনপির ২০০১-০৬ সালে অর্জন। বস্তুত, ঐ পদকের জন্য কৃতিত্বের একক দাবীদার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এগুলো কি সামাজিক খাতে উন্নয়ন নয়? এগুলোর ধারাবাহিকতাই দেশকে নিয়ে গেছে উন্নতির দিকে।

খালেদা জিয়ার সরকার কেবল শিক্ষাখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে জাতিকে শিক্ষিতই করেননি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করলেন। একথা সকলেই জানেন, স্বাধীনতার পর পর ১৯৭২-৭৩ সালের পাবলিক পরীক্ষায় লেখাপড়া ছাড়া শুধু অস্ত্র দেখিয়ে নকল করে ও বই দেখে লেখার কথা। ওই সময়ে যারা পাশ করেছে তারা জাতির মেধা ও মানের যে সর্বনাশ করেছে, তার খেসারত আজও জাতি দিচ্ছে। এখনও ৭৩ সালের পাশ ও ব্যাচ বললে মানুষ ভ্রু কুচকায়! ১৯৯৭ সালের পরে জাতি দেখলো পরীক্ষায় নকলের মহোৎসব এমনকি ২০০৯-১০ সালে সরকারী ব্যবস্থায় ১৫ নম্বর গ্রেস দিয়ে প্রাথমিক ও জুনিয়র পরীক্ষায় ফেল করা হাজার হাজার ছাত্রকে পাশ দেখিয়েছে। আর বর্তমান সরকারের সময় তো পরীক্ষার আগেই শতভাগ প্রশ্ন ফেসবুকে পাওয়া যায়। আ’লীগ সরকারে এলেই শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে ধংস করা হয়, তার প্রমান শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ নিজে।

অবশ্য বাংলাদেশের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য শনিবার বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বাংলাদেশকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রধান ৫টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে-
১. বৈদেশিক সাহায্য কমে যাবে, কাজেই রেমিটেন্সের ওপর চাপ বাড়বে,
২. তৈরি পোশাকখাতের উপর রফতানি আয় ঝুকিপূর্ন,
৩. বাংলাদেশে শ্রমের উৎপাদনশীলতা অনেক কম,
৪. যেহেতু অর্থায়ন কমে যাবে এবং নিজস্ব শক্তিতে এগুতে হবে,
৫. বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আবশ্যকতা।
যে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নাই, পাখির মত গুলি করে মানুষ মারে সরকারী বাহিনী, উচ্চ হারে দুর্নীতি- সে দেশে এগুলো অর্জন নিঃসন্দেহে বিরাট চ্যলেঞ্জ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, Committee for Development Policy (CDP) হচ্ছে জাতিসংঘের ইকোসেকের একটি পরামর্শক সংস্থা। বাংলাদেশ থেকে রেহমান সোবহান, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এর মেম্বার ছিলেন। সিডিপির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- “CDP is a subsidiary advisory body of the United Nations Economic and Social Council (ECOSOC). The CDP advises ECOSOC on a wide range of emerging economic, social and environmental issues that are relevant for the design and implementation of the United Nations Sustainable Development Agenda and for the strengthening of the international development co-operation.” এ থেকে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে সিডিপির কাজটা কি। তাদের কাজ ইকোসককে পরমামর্শ দেয়া, বিভিন্ন এম্বেসিতে গিয়ে সনদ বিতরন নয়। যদি সেত্যি সেটা তাদের কাজ হতো, তাহলে তা করা হতো জাতিসংঘের যেকেনো একটি কনফারেন্স হলে। শেখ মুজিবের জন্মদিনে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্বল্প পরিসরে যে রুগ্ন আয়োজন দেখানো হলো, তা বলে দিচ্ছে উচ্চমুল্যে একটি শো-আপ অনুষ্ঠান মাত্র! যাস্ট এটি একটি রাজনীতি করার উপাদান সরবরাহ মাত্র, যার টার্গেট আর কিছু নয়, আগামী নির্বাচন। অতীতে দেশের মানুষকে এরকম ফেইক সাউথ-সাউথ প্রাইজ নাটক দেখেছে দেশের মানুষ। পরে যেটা বের হয়েছে ডলার খরচ করে ফাঁকিজুকি!

/newsorgan24

“সাজা বৃথা গেছে। জনগণের উত্তর – তিনি কোন অপরাধ করেননি। বন্দি বেগম জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয়।”

বেগম জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সরকার খুব আনন্দিত ও উৎফুল্ল। অনেক মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রায় ঘোষণার দিন এক জনসভায় বলেন, কোথায় আজ খালেদা জিয়া? ক্রসফায়ারে সিরাজ সিকদার নিহত হবার পর প্রধানমন্ত্রীর পিতাও বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন, কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? দু’জনের উক্তির মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল। খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত। সম্ভবত সরকার যেন পণ করেছিল বেগম জিয়াকে শাস্তি দিতেই হবে। তাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে পারলে তিনি বাংলাদেশের মানুষের নিন্দা ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবেন। দেশ-বিদেশের মানুষের মন থেকে তাঁর নাম মুছে যাবে। মানুষের নিন্দা ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হলে তাঁর রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সরকারের অভিসন্ধি অসার প্রমাণিত হয়েছে।

বলা বাহুল্য, বেগম জিয়া বানে ভেসে আসা নেতা নন। দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় তাঁকে নেতা বানিয়েছে। উড়ে এসে জুড়ে বসে তিনি নেতা হননি। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর রাজপথে থেকে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচারের সাথে কোনরকম আপোস না করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপোসহীন থেকেছেন। কোনরকম লোভ লালসা তাঁকে কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মানুষের ভোটাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না করে ঘরে ফিরেননি। ৯ বছরের মধ্যে সকল নির্বাচন বয়কট করে সাধারণ মানুষের কাতারে কাতারবন্দি থেকেছেন। কোনরকম প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এরশাদকে বৈধতা দেননি। ইচ্ছা করলে একটু আপোস করে চললে বেগম জিয়া ক্ষমতার ভাগ পেতেন একথা নিশ্চিত করে বলা যায়। কিন্তু তিনি ক্ষমতার লোভে বিবেক বিবেচনা বিসর্জন দিয়ে গণতন্ত্র হত্যার কার্যক্রমে শরীক হননি। তাঁর ধ্যান জ্ঞান ও সকল কর্মকান্ড আবর্তিত হয়েছে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। বিএনপির বহু বড় নেতা চাপে পড়ে এরশাদের দলে ভিড়েছেন যাতে দল অগোছালো ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। নির্বাচনে অংশ নিতে ঘরে বাইরের প্রচন্ড চাপ বেগম জিয়াকে টলাতে পারেনি। তিনি জানতেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অর্থ বিরোধীদলে জায়গা পাওয়া ও এরশাদকে বৈধতা দেওয়া। আওয়ামী লীগ ’৮৬ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এরশাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠত। এদেশের জনগণকে ’৯০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না। তিনি সকল রকম প্রলোভন উপেক্ষা করে ’৮৬ সালের নির্বাচন বয়কট করে জাতীয় বেঈমান না হয়ে জাতীয় বীরের মর্যাদা লাভ করেন। এদেশের জনগণের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বেগম জিয়া কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। এমনি এমনি তিনি তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হননি। তাঁর সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য তাঁকে অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে।

বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলখানায় রেখে সরকার ভাবছে খুব লাভবান হয়েছে। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন প্রভৃতি কর্মকান্ডর মাধ্যমে সরকারের হীন চক্রান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সাজার পর থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়েও সরকার রাজনীতি করছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত ২২ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পুলিশী বাধায় পন্ড হয়েছে। বিনা উসকানিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও পানিকামান ব্যবহার অন্যায়, অযৌক্তিক ও নিন্দাযোগ্য। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেবার ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েই পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি, সেখান থেকে খায়রুল কবির খোকনসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মামলা দেয়া হয়েছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্র মনে করিয়ে দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ এই প্রহসনমূলক বিচারের নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজ বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন প্রভৃতি কর্মকান্ড সম্পন্ন করেছি। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি লাগাতার তিনদিন কর্মসূচি পালন করার পর আমার নিজ এলাকা জয়পুরহাটেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। জয়পুরহাটে দেখেছি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা আমাকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমাদের পুলিশ বের হতে দেয়নি। পার্টি অফিসে গলির মধ্যে আমাদের বন্দি রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেয়া অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক। পার্টি অফিস থেকে বের হয়ে আমরা চিনিকলের রাস্তা ঘুরে আবার পার্টি অফিসে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে বের হই। পুলিশ গলি থেকে বের হতে দেয়নি। পুলিশ বোধহয় চেয়েছিল আমরা একটু গোলমাল-হট্টগোল করি। চিনি কলের রাস্তাটি ছিল সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত। আমাদের আশা ছিল, পুলিশ বাধা দেবে না। আমরা শান্তি বজায় রেখে সম্পূর্ণ শৃৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি শেষ করে ফিরে আসব। বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আমরা শৃঙ্খলভাবে ফিরে স্টেশনের দিকে যেতে চাই। কিছুদূর যেতে আবার বাধা। আমরা সাজানো ফাঁদে পা না দিয়ে গোলমাল-হট্টগোল না করে ফিরে এসে বক্তব্য দিয়ে শেষ করি। ২০ ফেব্রুয়ারি ডিসি সাহেবের পক্ষে এডিসি স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। সামান্য গোলমাল-হট্টগোল করলে পুলিশ মওকা পেয়ে সাজানো মামলা দিয়ে ধড়পাকড় শুরু করত। পুলিশের বাধা দেশের মুমূর্ষ গণতান্ত্রিক চরিত্রকে কলুষিত করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাত ফেরী ও শহীদ মিনারে ফুলদান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়নি। ওই ফুলদান কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কোনরকম অশান্তি বিশৃঙ্খলাতো হয়নি। যানজটমুক্ত চিনিকল রাস্তা বা স্টেশন রোডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হতো না বলে আমরা মনে করি। এতে সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্রের ছিটেফোটা হলেও প্রকাশ পেত। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে ও অনেক জায়গায় বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাহোক, সরকার যেভাবে বিরোধীদলের উপর অত্যাচার-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে তাতে তারা গণতান্ত্রিক সরকারের দাবি করতে পারে না। অনির্বাচিত স্বঘোষিত সরকার অবশ্য সে দাবিও করে না।

বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ফাঁকে আমি গ্রামে যাই। জয়পুরহাট থেকে যেতে রাস্তায় ২/৩ দিন কয়েক জায়গায় দোকানে বসি। আমাকে দেখে অনেক লোক জড়ো হয়। আমি বেগম জিয়া সম্পর্কে জনগণের মনোভাব যাচাই করার জন্য বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করি। জনগণের উত্তর হলো, তিনি কোন অপরাধ করেননি। একজন উস্কো খুশকো চুলদাড়িয়ালা লোক খেপে উঠে বললেন, টাকা তো খরচই হয়নি, দুর্নীতি হয় কীভাবে? দু’কোটি টাকা ছ’কোটি হয়েছে। টাকা খরচ না হলে দুর্নীতির প্রশ্ন অবান্তর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য বগুড়ায় জমি কেনা হয়েছে। বাকী টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনদিন ধরে বিভিন্ন স্পটে ও আমার গ্রামে জনমত যাচাই করে আমি নিশ্চিত হয়েছি, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাজা বৃথা গেছে। মানুষ বেগম জিয়াকে সৎ, নিষ্পাপ, নিরপরাধ ও ষড়যন্ত্রের শিকার বলে বিশ্বাস করে। আমার মনে হয়েছে, মুক্ত বেগম জিয়ার চেয়ে বন্দি বেগম জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাঁর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগম জিয়া নাকি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এরকম বানোয়াট ও অসত্য কথা দেশের একজন মানুষও বিশ্বাস করে না। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিও আদালতে বলে আমি নির্দোষ। একজন পাগলকে জিজ্ঞেস করলেও পাগল বলবে আমি নির্দোষ। আমাদের গ্রামের পাশে একজন দুধর্ষ ডাকাত ছিল। ডাকাতের মা একবার আমাদের বাড়িতে আসে। বাবা কি মনে করে তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার ছেলেকে ভালো হতে বলতে পার না? ওর মা সাথে সাথে উঠানে ধানের স্তূপ থেকে এক মুষ্ঠি ধান নিয়ে শপথ করে বলতে থাকে ‘আল্লাহর কসম, আমার ছেলে চুরি-ডাকাতিতে জড়িত নয়। মানুষ হিংসা করে তার নামে বদনাম দেয়।’ ব্যাপারটি আমার চোখের সামনে ঘটে। প্রিয় পাঠক, একজন মার্কামারা অপরাধীর মা শপথ করে ছেলের অপরাধ অস্বীকার করে। বেগম জিয়া অপরাধ না করেও অপরাধ স্বীকার করে নেবেন একথা একজন পাগলও বিশ্বাস করবে না। জয়পুরহাটে আমার গ্রামে যাবার সময় এক লোক বলে, দুর্নীতি করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে টাকা কামায় করতে হবে না। তিনি চাইলে একদিনেই কোটি কোটি টাকা যোগাড় হবে। আমি গরীব মানুষ ম্যাডাম চাইলে ১০০০ টাকা আমিও দেব।
বেগম জিয়ার সাজা তাঁকে আপোসহীন নেত্রী থেকে বঙ্গজননীতে রূপান্তরিত করেছে। ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতার কারাবাস আমাদের ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। এ কারাবাস এদেশের মুমূর্ষ গণতন্ত্রকে চারদেয়ালে বন্দি করেছে। আমরা তাঁর দুঃখকষ্টে সমব্যাথী। আশার কথা উচ্চ আদালত বেগম জিয়ার আপিল গ্রহণ করেছেন অর্থদন্ড স্থগিত করে। অন্যদিকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে ১৩ দিন লেগেছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অশা করি, উচ্চ আদালত সামগ্রিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেবেন।

২০১৪ সালের মতো প্রহসনের নির্বাচন দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ আর দেখতে চায় না। দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হতে চলেছে। দেশকে মেধাশূন্য করে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। লেখাপড়া বলতে কিছু নেই। প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জাতি মেধাশূন্য হয়ে মূর্খজাতি হিসেবে পরিচিতি পাবে, যা একটি দেশ ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ মনোযোগ দিক, জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে। উন্নয়নশীল অর্থনীতি ও অনুন্নয়নশীল গণতন্ত্র সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। এতে ভঙ্গুর উন্নয়ন ও নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। দলীয় স্বার্থে মোহান্ধ না হয়ে নিজেদের কল্যাণ পরিত্যাগ করে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাওয়ায় লাভ হবে না। সুজন সত্যিই বলেছে, আর একবার ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চাইলে দেশের পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।

লেখক: প্রফেসর, দর্শন বিভাগ ও সাবেক ডীন, কলা অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

“ছাইড়া দে মা- কাইন্দা বাঁচি”

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বানোয়াট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে তিনটি অর্জন করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা:

১. খালেদা জিয়াকে ‘এতিমের টাকা চোর’ হিসাবে জাতির সামনে প্রতিষ্ঠিত করা!
২. জেলে পাঠানোর পরে বিএনপি হরতাল অবরোধের ঘোষণা দিলে আগেরমত যুবলীগ-ছাত্রলীগ দিয়ে বোমা মেরে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে জ্বালাও পোড়াওয়ে তান্ডব করতে চেয়েছিল। তখন ব্যাপক ধরপাকড় করে বিএনপির অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে দ্রুত বিচারে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে কাবু করে ফেলা। আর বিদেশীদের কাছে বিএনপিকে ’সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে প্রতিপন্ন করা।
৩. বেগম জিয়া জেলে গেলে বিএনপিকে টুকরা টুকরা করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু বিএনপির স্মার্ট চালে তিনটি উদ্দেশ্য পূরণেই ব্যর্থ হয়েছেন লীগ নেত্রী হাসিনা। প্রথমত, বিএনপির তরফ থেকে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়েছে যে, অরফানেজের টাকা কেউ আত্মস্যাত করেনি, ২ কোটি টাকার মামলায় ট্রাস্টের একাউন্টে ৬ কোটি টাকা এখনও আছে। তাছাড়া টাকাটা কোনো সরকারী ফান্ড ছিলনা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার নামে এতিমখানা খুলতেই কুয়েতের আমির ঐ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এইমর্মে কুয়েত দূতাবাসের চিঠিও প্রকাশ হয়েছে। ফলে জনগন বুঝতে পারছে- এই মামলার রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নহে। একথা এখন বহু আওয়ামীলীগাররাও বিশ্বাস করে। যার ফলে খালেদা জিয়ার দুর্নাম হওয়ার চেয়ে বরং আপোষহীন মাজলুম দেশনেত্রী হিসাবে সমর্থন বাড়ছে প্রতিদিন।

দ্বিতীয়ত, বানোয়াট মামলায় জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, রায় পিক্ষে গেলেও যেনো হরতাল ধর্মঘট না করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে থাকে বিএনপি। সেকথা মেনে বিএনপির হাইকমান্ড জনগনের কষ্ট উদ্রেককারী কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ফলে সরকার ‘নিজেরা সন্ত্রাসী করে বিএনপি ওপর দায় চাপানো’র প্লান বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অবৈধ সরকার গোলক ধাধায় পড়ে যায়- এ কোন্ বিএনপি! আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ নেতারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে উস্কানি দিচ্ছিলো হরতাল দিতে। শত উস্কানির মুখেও বিএনপি কোনো হঠকারিতায় যায়নি। হরতাল দিলেই তো আর নেত্রী ছাড়া পেতেন না। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় দেশনেত্রী আইনী প্রকৃয়ায় খুব সহসাই বেরিয়ে আসবেন, সে বিশ্বাস আছে পুরো দেশবাসীর- অবৈধ সরকার ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। অন্যদিকে জনগনও দেখছে- বিএনপি কোনো অশান্তির পথে নাই। ফলে সাধারন ও নিরপেক্ষ জনগন বিএনপির প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। যাকে বলে অহিতে বিপরীত!

তৃতীয়ত, রায় ঘোষণার আগের দু’সপ্তাহে বেগম জিয়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক মিটিং করতে থাকেন। সরকারের শত বাধা উপেক্ষা করে সফলভাবে নির্বাহী কমিটির জরুরী বৈঠক করেন। হাসিনার তাগুদি রায়ে কারগারে যেতে হলে ক্রাান্তিকালীণ ব্যবস্থা হিসাবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করার ব্যবস্থা করে যান। এসকল নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে দলে কোনো ভাঙ্গন ঘটাতে পারেনি অবৈধ লীগ সরকার। দল ভাঙ্গনের পরিবর্তে উল্টো ঘটনা ঘটেছে- দলে নেতাকর্মীদের মাঝে বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। আপৎকালে নিজেদের মধ্যে ছোটখাট ভুল বোঝাবোঝি ভুলে গিয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য এখন দলে। বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে হাসিনা বরং উপকার করে দিয়েছেন।

মোটকথা, তিনটি পয়েন্টেই হাসিনা ধরাশায়ি হয়েছে বিএনপির কৌশলের কাছে! উল্টো, অন্যায্য জেলে খালেদা জিয়া যত দিন থাকছেন, শেখ হাসিনা তথা আ’লীগের জনপ্রিয়তা তত নিম্নগামী হচ্ছে। এখন হাসিনার দশা হচ্ছে- ছেড়ে দে মা, কেন্দে বাঁচি!
সুত্র: ফেসবুক

বাংলাদেশ আ.লীগ Vs বাংলাদেশের কসমেটিক উন্নয়ন

[নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঠকের মতামত]

আ.লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে, কিন্তু কেন? অনেক নেতা নেত্রী কে প্রশ্নটা করেছি, সবাই বলেছে এটা কি বললেন আপনি- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছে, আগের চেয়ে অনেক বেশী জিপিএ ৫ পাচ্ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষামন্ত্রী বাম রাজনীতির লোক, উনি ভালোই করছেন এবং করবেনও ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেউ কেউ বলছেন- বিএনপির শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন সাহেব নকল প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিলেন, আ’লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এটা কি করলো? জিজ্ঞাসা করতেই মানুষটি তেলে-বেগুণে জলে উঠে বললো, আপনি সম্ভবত বিএনপির লোক, তাই আ’লীগের কোনো কাজ আপনার ভালো লাগবে না। আমি আরও অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদের সংগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। একজন শিক্ষাবিদ আমাকে আমার মতামত পেশ করতে বললো । আমি বললাম, আপনারা এমন একটি সামাজিক কাঠামো তৈরী করে ফেলেছেন, যেখানে একজন সৎ মানুষ প্রচণ্ড অসহায় এবং অসম্মান নিয়ে এই সমাজে বসবাস করছে। অথচ একজন অসৎ মানুষ প্রচণ্ড প্রভাব প্রতিপত্তি এবং সম্মান নিয়ে বসবাস করছে– এইরকম একটি সামাজিক অবক্ষয়ে আপনি কি একজন শিক্ষার্থীকে সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠো বলতে পারবেন? এবং আপনি বললেই কি শিক্ষার্থীটি সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে চাইবে? না চাইবে না, বরং বিপরীতটাই হবে এবং হচ্ছেও তাই। জ্ঞাননির্ভর শিক্ষা প্রদান তখনই সম্ভব হবে যখন অর্জিত জ্ঞানের সংগে বাস্তবতার মিল থাকবে।

আ’লীগ এবার ক্ষমতায় এসে কোনও শিক্ষার্থীকেই খালি হাতে না ফেরানোর জন্য যে ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী, আত্মপ্রতারণামুলক প্রকল্প চালু করেছেন, তা গোটা প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেবার জন্য যথেষ্ট। আ’লীগ নেত্রী এটা ইচ্ছে করেই করেছেন দীঘদিন ক্ষমতায় থাকবার অভিলাষ থেকে। কেননা উনি এককভাবে দেশ ও দল পরিচালনা করছেন, তেমনি দলের মধ্যে কর্তৃত্ব করছেন তার অনুগ্রহজীবীদের নিয়ে, দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন আওয়ামীলীগারদেরকে ছেটে দিয়ে। তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছেন দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে বসিয়ে। কেননা ১৯৭৫ এর পর থেকে আ’লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলো না। যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা তাদের মত করে সবক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করে যাচ্ছিল। আ’লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দূর্বল করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবি ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষিত নাগরিক কখনোই অনুগ্রহজীবী হয় না। তাই দলবাজ অনুগ্রহজীবী মানুষেরা দলীয় নেতা-নেত্রীর আশীবাদ নিয়ে দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষকে পেছনে ফেলে দিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। প্রাইমারী ও মাধ্যমিক শিক্ষার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে উচ্চ ফলনশীল জিপিএ পাঁচ প্রকল্প এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি হয়, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষক হিসাবে চাকরি দেত্তয়া যায়, সরকারের সফলতা দেখানো যায় এবং দলবাজ শিক্ষকদেরকে নির্বাচনের সময় কাজে লাগানো যায় । পুলিশ বিভাগেও একইভাবে হাত বাড়িয়েছেন এবং তাদেরকে ব্যবহার করছেন যেখানে সেখানে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি এবং দলবাজ পরজীবী মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা গুরুতর অবস্থায় উপনীত হয়েছে, ৯৫+ শতাংশ দলবাজ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৮০ দশকে যে সব শিক্ষক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলেন, তারা আগামী ২/৩ বৎসরের মধ্যে অবসরে যাবেন, যেহেতু কিছুসংখ্যক জ্ঞানী শিক্ষক বেঁচে থাকতে থাকতে, ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া গেলো না, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরো নিচে নেমে যাবে, ও রেটিং খারাপ থেকে খারাপতর হবে। তারপর নৈতিক অবক্ষয়সম্পন্ন, দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষকগন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা করবেন, তখন একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ণ্ডলিতে মারামারি, ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, অন্যদিকে নিম্ন মানের শিক্ষাসমৃদ্ধ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তখন সমাজে ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, কেননা তখন খারাপের সংগে বেশী খারাপের প্রতিযোগিতা হবে। এর কিছুটা নমুনা প্রতিদিনের সংবাদপত্রে দেখতে পাওয়া যায়।

এভাবেই বাংলাদেশে অনুগ্রহজীবী মানুষের সংখ্যা এবং পরজীবী ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা দিন দিন বাড়িয়ে ফেলেছেন। জীববিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী প্যারাসাইট একটি ছোট জীবাণু, এটি সাধারনত অন্য প্রাণীর উপর ভর করে বেঁচে থাকে এবং ভরকৃত প্রাণীটির কর্মশক্তি শোষন করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই প্যারাসাইটগুলি তার জীবনের অধিকাংশ সময় অন্য প্রাণীর উপর ভর করে থাকে। তারা এত চটপটে যে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের মানচিত্র, আপনার চিন্তার ফর্মগুলি ম্যাপ করতে পারে এবং তার চিন্তাগুলি আপনার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে। আপনার জ্ঞান এবং অভ্যন্তরীণ রাডার সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, আপনি বুঝতেই পারবেন না, যে আপনি একটি প্যারাসাইট হোস্টিং করছেন। আপনি মূলত প্যারাসাইটের একটি ক্রীতদাস হয়ে তাকে জীবিত রাখবেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষগন বিশুদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুশীলন করে নিজেদের পরজীবী থেকে মুক্ত রাখে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ছয় মাস পরপর এটা পালন করে নিজেকে পরিস্কার রাখে।

কিন্তু বাস্তব সমস্যাটি হয় তখন যখন তাদের অতিবৃদ্ধি হয়, কারন সমাজে প্যারাসাইটের অতিবৃদ্ধি ঘটেছে, এই অবস্থা কে parasitic stress বা পরজীবি চাপ বলা হয়ে থাকে । বিজ্ঞানীর পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন প্যারাসাইটের চাপ উঁচু মানের গণতান্ত্রিক দেশে সবচেয়ে কম এবং কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি। এটা বর্তমানের মত পরিস্থিতিতে বাড়ে এবং তারপর খারাপ থেকে খারাপতর হবে এবং অবশেষে যদি না সভ্যতার পতন ঘটে তবে অর্থনীতির পতন হবেই। সামাজিক প্যারাসাইটটি নিজেই হোস্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে (হোস্ট যখন দুবল হয়) এবং একই সামাজিক বৃত্তের মধ্যে অন্য ব্যক্তির সংক্রামিত হওয়ার জন্য এগিয়ে যাবে।

আ’লীগ এবং দলীয় অনুগ্রহজীবী
যেহেতু আ লীগ বেইমানী করে ক্ষমতায় বসে আছেন, (অবশ্য অনেকে এটা চালাকি বলে, আর আ লীগ বলে কৌশল বা রাজনৈতিক কৌশল)। আমি বেইমানী বলছি এই কারনে যে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী সহ অন্যদেরকে বলেছিলেন যে, নিয়মরক্ষার জন্য নিবাচন করতেই হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আর একটা নিবাচন হবে। আ লীগ সেটা করেননি, এটাকে জালিয়াতিও বলা যেতে পারে। আ’লীগের বেইমানী করার আরও রেকর্ড আছে, সেটা করেছিল এরশাদের সময় এবং বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের সংগে। আগের দিন চট্রগ্রামে এক জনসভায় বললেন, এরশাদের এই নির্বাচনে যে যাবে, সে হবে “জাতীয় বেইমান”। ঠিক তার পরের দিন আ’লীগ নেত্রী নিজেই এই উপমাটা নিয়ে নিলেন। আ’লীগ নেত্রী কেন এটা করেছেন – সেটা উনিই সঠিকভাবে বলতে পারবেন । এই কথাগুলো টেনে আনার কারন হলো, উনি সম্ভবত নিজের দলের মানূষের সংগে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন না । উনি অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা দেশের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন। উপরের দিকের যে ক্ষতিগুলো উনি করেছেন, সেগুলো আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবীরা বুঝতে পারবেই না, বরং তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে বা লিখলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি হবে :
১) যদি নেত্রীর গায়ে লাগে, তাহলে, উনি নিজেই ঐ ব্যক্তিকে তুলোধুনো করবেন এবং ঐ ব্যক্তির বাংলাদেশে বেচেঁ থাকা দায় হবে, ঐ ব্যক্তিটি আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী হলেও।
২) ৫৪ বা ৫৭ ধারায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হবে কমপক্ষে ৬৫ টি (প্রতিটি জেলা আ লীগ থেকে ১টি করে এবং কেন্দ্রীয় আ লীগ থেকে ১টি),
৩) পুলিশের তরফ থেকে পুলিশ স্বতপ্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে রাখতে পারে ।
৪) র‌্যাব চাইলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলতে পারে ।
৫) নাম পরিচয় বিহীন বিশেষ বাহিনী ঐ ব্যক্তিকে গুম করে রাখতে পারে
৬) হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঐ ব্যক্তিকে আদালতে এসে সরি বলে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে বলতে পারে ।
৭) মিঃ আকন্দের মত আইনজীবীদের কেউ সংক্ষুুব্ধ হয়ে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।

এখন আপনারাই বলুন এইরকম একজন অনুগ্রহজীবী পরিবেষ্টিত নেত্রীর বিরুদ্ধে কে লিখতে যাবে। আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষক, উপাচার্য, আইনজীবী, বা বুদ্ধিজীবীরাও কখনো তাকে পরামর্শ দিতে সাহস রাখেন না। বরং উনারা নেত্রীর কাছে শুনতে যায় অথবা চেহারা দেখাতে যায় যদি কোনো ভালো পজিশন পাওয়া যায়। যেহেতু নেত্রী তাদের আদর্শ, তাই আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী, যে যে পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আছেন, তারাও একই কাজ করছেন অধীনস্ত কমচারীদের সংগে।

একদিকে ক্ষমতাগর্বী রাজনীতিক এবং দলবাজ অনুগ্রহজীবী নাগরিক, অন্যদিকে গুজবপ্রবণ অক্ষম আমজনতা। অধিকন্তু, সব সেক্টরে, দক্ষ ও নীতি–নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে পেছনে রেখে দলবাজ অনুগ্রহজীবীদের সামনে নিয়ে বলছেন ২০২১ সালের মধ্যে এদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করবেন!! পারবেন না বরং বিপরীতটাই হবে, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক দলগুলি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্টতই কর্তৃত্ববাদী রোগের বিস্তার লাভ হয়। যখন কর্তৃত্ববাদী রোগের অতিবৃদ্ধি হয়, তখন শাসনের উপর রোগের সরাসরি প্রভাব দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে এবং অনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র বা দুর্বল রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু হয় ফলে ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং পরিশেষে ঔপনিবেশিকতাবাদ জন্ম নেবে।

যেহেতু আ লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রাতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধংস করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। তাই সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এখন পাশ্ববর্তী দেশের সক্ষম মানুষের বাজারে পরিণত হয়েছে। গামেন্টস শিল্প তার বড় প্রমান। তদুপরি পার্শবর্তী দেশকে কড়িডোর দিয়ে দেওয়া। নিজ দেশের সক্ষমতা দূর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশকে বড় বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া কোনো অবস্থায়ই দেশপ্রেমের লক্ষন নয় । আ’লীগ পাশের বাড়ির কৃপণ বড়লোকের কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছে টাকার লোভে। সুতরাং আ’লীগের অসুবিধা হবে না, কিন্তু তাদের মেয়ের শান্তি নষ্ট হবেই। আাপনারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য দেশের ক্ষতি করেছেন, এজন্য Natural Justice আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে । আপনাদের ভিশন ২০২১ বা ভিশন ২০৪১ এর মুলা সহ আ’লীগ সংগঠনটির অস্বিত্ব হুমকির সম্মুক্ষীণ হবেই।

আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ফর্মটি পূরণ করে