Category Archives: মতামত

হাতুড়ি দিয়ে পেটালেন কেন? দায় কার?

আসিফ নজরুল

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর

আলী রীয়াজ

বাংলাদেশে এবারের সংকট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন এবং আরো গভীর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অতীতে বাংলাদেশ যত ধরনের রাজনৈতিক সংকট বা অনিশ্চয়তার মোকাবিলা করেছে এখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির আপাতত মিল থাকলেও এবারের সংকট আরও গভীর। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি’- শীর্ষক গণবক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ বক্তৃতার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তা আসলে হাইব্রিড রেজিম বা দো-আঁশলা ব্যবস্থা।

এ ব্যবস্থায় দৃশ্যত গণতন্ত্রের কিছু কিছু উপাদান থাকলেও সেগুলো প্রধানত শক্তি প্রয়োগের ওপরে নির্ভর করে। ফলে রাষ্ট্রের নিপীড়ক যন্ত্রগুলো আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে এবং তাঁদেরকে একধরনের দায়মুক্তি দেয়া হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে পৃথিবীর ১৬৭টি দেশের মধ্যে ৩৭টি দেশের অবস্থাই এই রকম। ১৯৯০-এর দশকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে কিছু দেশ এই ধরনের ব্যবস্থায় উপনীত হলে অনেকেই মনে করেছিলেন যে এই ধরনের দেশগুলো সম্ভবত আস্তে আস্তে গণতন্ত্রের দিকেই অগ্রসর হবে। কিন্তু গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, হাইব্রিড রেজিমের পরিবর্তনের পথরেখা গণতন্ত্র অভিমুখী নয়, বরঞ্চ কর্তৃত্ববাদের দিকেই। তিনি আরো বলেন, যে কোনো হাইব্রিড রেজিমকে টিকে থাকার জন্যে নির্বাচন, নির্বাহী ও আইন সভা এবং বিচার ব্যবস্থার ওপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দরকার হয়। শেষ তিনটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্র তৈরি হয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের উপস্থিতি এবং ক্ষমতার হাত বদলের মধ্য দিয়ে নির্বাচন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কারণে যে ক্ষমতাসীনদের কাজের বৈধতা তৈরি হয় একমাত্র নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়েই, সেই নির্বাচন অবাধ এবং নিরপেক্ষ হলো কিনা সেটা আর বিবেচ্য থাকে না। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, যেহেতু নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেহেতু আর সব ধরনের জবাবদিহির ব্যবস্থা চূর্ণ করে ফেলাই হচ্ছে ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার উপায়। বাংলাদেশের সমাজে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি, সহিংসতার ব্যাপক বিস্তারের যে সব ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি এখানেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের কারণ এবং রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা চিহ্নিত করতে গিয়ে বক্তা বিরাজমান শাসনের ধরন নিরূপণের পাশাপাশি সমাজ-রাজনীতিতে নতুন শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিক্রিয়া, ইসলামপন্থিদের প্রভাব এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে যে সব দেশে এই ধরণের হাইব্রিড রেজিম তৈরি হয়েছে সেখানে এক ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এই ‘উন্নয়নে’র ফলে নতুন এক মধ্যবিত্ত শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে যাদের মধ্যে অতীতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মতো গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এবং অংশগ্রহণমূলক সমাজের স্বপ্ন অনুপস্থিত। এই শ্রেণিী যে বিরাজমান হাইব্রিড রেজিমের রাজনৈতিক এজেন্ডার পক্ষে থাকবেন সেটাই স্বাভাবিক, কারণ তাঁদের অস্তিত্ব কার্যত নির্ভর করছে এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকার সঙ্গে। এ নতুন শ্রেণি দেশের অর্থনীতিতে বিরাজমান দুর্নীতি এবং লুণ্ঠনের প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যতে বৈধতা প্রদানের হাতিয়ার হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের অভাব। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি এবং তা ব্যক্তিনির্ভর। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক না হয়ে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে দেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতা, অধিকারহীনতায় ভুগছেন। এ সমস্যার প্রতিকারের উপায় অনুসন্ধান করা জরুরি এবং তা করতে হবে তরুণদের।

/মানবজমিন

“ম্যায় রাজা বনুঙা!”

শামসুল আলম
______________
নো! মিস্টার জেনারেল, আপনি এখন সত্য বলছেন না। আপনি একটা মিথ্যুক। রাজনীতিকদের দোষ দিয়ে আপনি এখন নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করতেছেন? কেনো? কিসের ভয় আপনার? আপনি সত্যি যদি কোনো মিলিটারী জেনারেল হয়ে থাকেন, তাহলে বাপের ব্যাটার মত সত্যটি বলতে পারতেন- “হ্যা, আমি রাজা হতে চেয়েছিলাম!”–“কিংস পার্টি গঠন করে করে বেসিক ডেমোক্রেসির মত ইনডাইরেক্ট নির্বাচন করে আমি প্রেসিডেন্ট হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি।” তখন আপনার শিষ্য বারীর পরামর্শে আজহার আলী সরকার ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকায় লিখেছিলেন, “রাষ্ট্রপতি হতে চান জেনারেল মইন!” একই কথা ব্রিগেডিয়ার বারীও বলেছিলেন বিএনপির কয়েকজন এমপিকে! দেশের তৎকালীন মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত বহু প্রমান রয়ে গেছে।
 
বিষয়টি নিয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর এবারের ঈদ বিশেষ সংখ্যায় ১/১১ শিরোনামে ২২ পৃষ্ঠার এক বিশেষ নিবন্ধ লিখেছেন, যার মধ্যে ঐ ঘটনার কুশীলবদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। যার প্রেক্ষিতে এ লেখাটি লিখতে হলো।
 
জেনারেল সাহেব। এখন ইনিয়ে বিনিয়ে আপনি যতই বলুন না কেনো- তখন দেশের পরিস্থিতি খারাপ ছিল, হরতাল ধর্মঘট ছিল, রাস্তায় মারামারি ছিল, মানুষ কষ্টে ছিল, তাই আপনি দেশ উদ্ধারে এগিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু আপনি ঐ অঘটনের অন্তর্নিহিত সত্যটি প্রকাশ করছেন না। দেশের পরিস্থিতি খারাপ ছিল এটা সত্য, কিন্তু তাই বলে আপনি সেনাপ্রধান বা ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার বারী রাষ্ট্রপতিকে চাপ দিয়ে জরুরী অবস্থা জারী করতে পারেন না! ওই কাজ করার কোনো ম্যান্ডেট বা উপযুক্ত ক্ষমতা আপনাদের ছিলনা। তদুপরি আপনারা তা করেছেন। ইলেকশন একপেশে হলেই তাতে ইন্টারফেয়ার করা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নয়। যদি তাই হতো, তবে ২০১৪ সালের ভুয়া নির্বাচন নিয়ে কেনো কথা বলছেন না, এই ভোটারবিহীন বয়কটের নির্বাচনের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুইয়া তো জরুরী অবস্খা জারী করেননি। তার মানে দাড়ায়, আপনি এবং আপনার সাথীরা তখনকার রাজনৈতিক সংকটকে পুঁজি করে ক্ষমতা দখল করতে গিয়েছিলেন। আপনি এবং বারী দু’জনেই জানিয়েছেন, আপনারা অনেকদিন থেকে সলাপরামর্শ করছেন- জরুরী অবস্থা জারী করতে চান। জেনারেল মাসুদের সাথেও এ বিষয় নিয়ে পরামর্শ করেছেন। কিন্তু বারী ১১ জানুয়ারির আগেই ঘটনা ঘটাতে চাওয়ায় আপনি তাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন- অর্থাৎ উপযুক্ত সময়ে ইন্টারফেয়ার করবেন! তার মানে, আপনারা ১/১১র জন্য পরিস্থিতি তৈরী করেছিলেন, অথবা সুযোগের অপব্যবহার করেছেন! উল্লেখ্য ওয়ান ইলেভেনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে ১০ জানুয়ারী সকাল পৌনে দশটায় হঠাৎ তেজগাঁও, রোকেয়া স্মরণী এবং সাভারে বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানায় একযোগে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়। ভস্মীভূত হয়ে যায় তেজগাঁওয়ের নাসসা গ্রুপ, পদ্মা ফ্যাক্টরী সহ অনেক গার্মেন্টেস। সেই আগুণ লাগানো অর্গানাইজ করা হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার বারীর পরিকল্পনায়। পুরোটাই ছিলো আপনাকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট সহিংস করা, শিল্পে আগুণ দেয়া ও মানুষ মারার কৌশল!
 
৫ থেকে ১০ জানুয়ারী বাংলাদেশের ঘটনাবলীর খুব দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ৫ জানুয়ারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিউটেনিস সকল কূটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন করে সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীরের সাথে দেখা করেন। পরে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী সেনানিবাসে আপনার সাথে সাক্ষাৎ করে ১/১১র বিষয়াদি চুড়ান্ত করেন। হাবিব ভিলাতে বিউটেনিসের সাথে আপনার বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনীতির ভাগ্য নির্ধারন করেন- আপনি সামরিক শাসন জারী করে রাষ্ট্রপতি হতে চাইলেও বিউটেনিস রাজী না থাকায় জরুরী অবস্থা নিয়েই খুশী থাকতে হয় আপনাকে!
 
চৌধুরী ফজলুল বারীর মত সেনা অফিসার, যাকে মেজর থেকে তুলে বিএনপি অকালে ব্রিগেডিয়ার বানায়, ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত ডিজির দায়িত্ব পালন করেও বারী যখন প্রকাশ্য সাক্ষাৎকারে মন্তব্যে “দেশের মানুষরে পাছায় লাত্থি দিয়া” জাতীয় শব্দ প্রয়োগ করেন, তখন ভাবনা হয়, এ কি কোনো সেনা অফিসার, নাকি রাস্তার মস্তান? জনগন ও রাজনীতিকদের নিয়ে এ জাতীয় অবমাননাকর শব্দ প্রয়োগ বড়ই আনপ্রফেশনাল এবং অসভ্যতা! ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে গোয়েন্দা বিষয়সমুহ নিয়ে বারী অবহিত করবেন কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান ড. ইয়াজউদ্দিনকে। ওটাই তার কাজ। অথচ তিনি সেটা না করে ডাইনে বামে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন, রাষ্ট্রের গোপন তথ্যাদি শেয়ার করেছেন আপনার ভাই টিপু সহ আরও বহু জনের কাছে। এমন কিছু ঘটনা আমারও জানা আছে। আপনার কাছে বার বার ছুটে গিয়ে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছিলেন বারী! বারীর ভাষায়- “আমি বারে বারে ইনসিস্ট করলাম”, “মেকানিজম যা করার করা হইল”–তিনি নিজেই বলে দিচ্ছেন সবকিছু করা হয়েছে মোকানিজম করে! Who he was to insist? এসব কাজ মারাত্মক আনপ্রফেশনাল, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।
 
ডিজিএফআইর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হয়ে বারী ঘনঘন আপনার কাছে গিয়ে ফুসুর ফাসুর করতো কেনো? ওটা ছিল ষড়যন্ত্র! কোনো অবস্খাতেই তিনি ঐসব করতে পারেন না। প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেশের অবস্থা রিপোর্ট করার বদলে তিনি আপনার কাছে কেনো ফন্দি আঁটতে যেতেন কেনো? সেনাপ্রধান তো তার বস ছিল না। ১১ জানুয়ারি দুপুরে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে আইন শৃঙ্খলার মিটিংয়ে বারী যোগ দিতে গেলেন, অথচ তার পকেটে ছিল জরুরী অবস্থার কাগজ! এরপরে কি আর বলার কোনো দরকার আছে যে- “আমরা করি নাই, যা করার ইয়াজউদ্দিন করছে”? কত বড় বেইমান ও মোনাফিক হলে এসব করা সম্ভব- কল্পনা করা যায়! ঐসময় আপনার অফিস থেকে আপনি ফোন করে বারীকে বলেন- “আমি আসতেছি, তুমি থাইকো!”
 
সেদিন বঙ্গভবনে আপনার কোনো এপয়েন্টমেন্ট ছিল না, অথচ এমএসপি মেজর জেনারেল আমিনুল করিমের সঙ্গে লাইন করে বঙ্গভবনের গেট থেকে পিজিআর সরিয়ে দিয়ে আপনি এবং আপনার বাহিনী অনুপ্রবেশ (invade) করিয়েছিলেন। পিজিআর প্রধান ব্রিগেডিয়ার আবু সোয়াহেল যখন আপনাকে বঙ্গভবনের গেটে আটকে দেয়, তখনই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে আপনি কর্নেল এমদাদকে নির্দেশ দিয়ে পিজিআর সরিয়ে ভেতরে ঢোকেন, সেই এমদাদকেও পরে বিডিআরে পাঠিয়ে পিলখানায় হত্যা করা হয়!
 
যাই হোক, বঙ্গভবন নিয়ে ষড়যন্ত্রটা ছিল খুব পরিস্কার। আপনারা যখন রাষ্ট্রপতিকে আটকে ফেললেন, তখন আপনিসহ তিনজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন। তারপরে রাষ্ট্রপতিকে চাপ দিয়ে জরুরী অবস্খার কাগজে সই করালেন আপনি! রাষ্ট্রপতির কক্ষে সশস্ত্র অবস্থায় যাওয়ার এখতিয়ার কি ছিল আপনাদের? মোটকথা, আপনারা রাষ্ট্রপতিকে ভয় দেখিয়েছিলেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ব্রিগেডিয়ার বারী পকেট থেকে বের করেছিল প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগপত্র, জরুরী অবস্খা জারীর আদেশ, রুলস, ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ড্রাফট। এর মানে যা দাড়ায়, ক্ষমতা দখলের সকল প্রস্তুতি নিয়েই বঙ্গভবনে অনুপ্রবেশ করেছিলেন আপনারা! আপনার উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা, এবং সেজন্য মার্শাল জারী করতে না পেরে জরুরী অবস্থা দিয়েই ধরপাকড়, নির্যাতন, সহায় সম্পদ ভাঙচুর করে জনমনে ত্রাস সৃষ্টি আপনি ডি-ফ্যাক্টো সামরিক রুলার হয়ে বসলেন। প্রথমেই আপনার বাহিনী দুর্নীতি উচ্ছেদের নামে রাজনীতিবিদদের ধরপাকড় শুরু করে। সারাদেশে চলে অবৈধ হাট-বাজার আর বস্তি উচ্ছেদ অভিযান। অন্যদিকে তাদের টার্গেট ছিল দেশের সকল অঞ্চলের সব শ্রেণীর ব্যবসায়ী। তাদের শিকার হন রাজধানী ও মফস্বলের উঁচু ও নিচু পর্যায়ের সব রাজনৈতিক নেতাকর্মী। আর ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী- ভেঙে ফেলা হয় যুগ যুগ ধরে চলে আসা গ্রামগঞ্জের হাট-বাজার। উচ্ছেদ করা হয় শহরের ফুটপাতের হকারদের। উপড়ে ফেলা হয় বহু বস্তি ও উপশহর। কর্মহীন, গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ। অসহায় হয়ে যায় অসংখ্য পরিবার। দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকে হু হু করে। সাধারণমানের চালের কেজি ৪০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। মনে কি পড়ে সেসব?
 
জেনারেল মইন। আপনি এখন বাটে পড়ে দাবী করছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব নাকি আপনাকে ‘ড্রাফট চিঠি’ পঠিয়ে শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে বাংলাদেশের সৈনিকদের বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন? কিন্তু জেনারেল সাহেব, ওই ড্রাফট পত্রের গল্পটি যে স্রেফ আপনার বানোয়াট, তা স্বীকার করতে দ্বিধা কেনো? জাতিসংঘ আপনাকে ‘ড্রাফট পত্র’ পাঠাতে যাবে কেনো? চাইলে তারা ফরমাল চিঠিই পাঠাতে পারতেন। আর ইউ টকিং লাইক এন ইডিয়েট? জাতিসংঘের তৎকালীন ঢাকাস্থ প্রতিনিধি রেনাটা ২০১০ সালে সাক্ষাৎকার দিয়ে পরিষ্কার বলেছেন, ঐরূপ কোনো চিঠি জাতিসংঘ থেকে পাঠায়নি। তাছাড়া সাবেক আইজিপি খোদাবক্স জাতিসংঘের কর্মকর্তার সাথে পরে কনফার্ম হয়েছেন, জাতিসংঘ ঐরূপ কোনো চিঠি পাঠায়নি। অর্থাৎ আপনি জাতিসংঘের নামে বানোয়াট চিঠির গল্প বলে রাষ্ট্রপতি ইয়াউদ্দিনকে বিভ্রান্ত করেছিলেন, মিষ্টার মইন। স্বীকার করুন।
 
জেনারেল সাহেব, এখন আপনি যতই বলছেন- আমরা কিছু করিনি, রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন সব করেছেন, আসলে তা সত্যি নয়। এসএসএফের সহায়তায় রাষ্ট্রপতিকে তখন প্রায় বন্দী করে রেখেছিলেন আপনারা, এটা রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্টজনরা আমাকে বলেছেন। ঐ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির উপর জোর প্রয়োগ করে জরুরী অবস্থার কাগজে সই নিয়ে সকল দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসেছিলেন আপনি! সেদিন বিনা রক্তপাতে বঙ্গভবন দখল করতে আপনার নেতৃত্বে কয়েক’শ সেনাকর্মকর্তা ভিতরে এবং বাইরে অবস্থান নিয়েছিল। বঙ্গভবনের ভেতরে ও বাইরে এ সময় যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। এমনকি রাষ্ট্রপতির বেডরুমের বাইরেও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে সেনা কর্মকর্তা দন্ডায়মান ছিল। আপনার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাসুদ সাভার সেনানিবাস হতে শত শত সৈন্য নিয়ে ট্যাংক সহ ভারী অস্ত্র সহ হাজির হন বঙ্গভবনে। ট্যাংকবাহিনীর উপস্থিতির আগ পর্যন্ত আপনার কথামত সাক্ষর করতে রাজী হননি রাষ্ট্রপতি। তিনি যখন দেখলেন- জেনারেল মাসুদও আপনার সাথে হাত মিলিয়েছে, তখন বয়োবৃদ্ধ রাষ্ট্রপতি নিরুপায় হয়ে আপনার নির্দেশমত কাগজপত্রে সাক্ষর করেন! এ প্রসঙ্গে আপনার লেখা নিজের উক্তি, “আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছিলো না, আমি যা করতে যাচ্ছি তাতে ভয়ঙ্কর ঝুঁকি বিদ্যমান। কিন্তু দেশ ও সেনাবাহিনীর প্রশ্নে আমি সেই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত হয়ে উঠলাম।”—-“কিন্তু আমি তখন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, পরিস্থিতি যাই হোক, যতো ঝুঁকিপূর্ণ হোক, আমি আমার চেষ্টা করবো।” এ সময় রাষ্ট্রপতি তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বলতে চাইলেও আপনি সে অনুমতি দেননি। কেননা আপনি জানতেন বার বার ব্যর্থ হবার পরে এবারে ব্যর্থ হলে নির্ঘাত মৃত্যু। মনে কি পড়ে- ২০০৭ সালের ২ এপ্রিল হোটেল শেরাটনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে কে যেনো ঘোষণা করেছিল- ‘অউন ব্রান্ড ডেমোক্রেসি’ চালু করব? সেটাই কি আপনি? দেশে কেমন গণতন্ত্র থাকবে- সেটা ঠিক করার আপনি কে ছিলেন?
 
ড. ইউনুসকে চীফ এডভাইজার বানাতে চেয়েছিলেন আপনি এবং আপনার জেনারেলরা, তিনি রাজী নয় হওয়ায়ে পরে ফখরুদ্দিনকে বানিয়েছিলেন কোন্ সাংবিধানিক ক্ষমতায়? আপনাদের সে ক্ষমতা দিয়েছিল কে? সংবিধান, নাকি জনগন? কেউ দেয়নি, অথচ ঐ অপকর্ম করে আপনারা সংবিধান লংঘন করেছিলেন। কারন সংবিধান অনুসারে- কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তিকে চীফ এডভাইজার করতে হলে রাষ্ট্রপতিকে অবশ্যই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের সাথে পরামর্শ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেটা কি করা হয়েছিল? না। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল বলতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল অর্থাৎ বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জামায়াত, জাপা ইত্যাদি। তাদের সাথে রাষ্ট্রপতি অফিসিয়াল পরামর্শ ছাড়া কেবল আপনাদের কথায় ফখরুদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন না। অথচ সে কান্ডটাই হয়েছে! আপনি এবং বারী বলছেন, আপনারা এডভাইজার ঠিক করেছেন, কারও কারও নাম উঠেছে, আবার বাদও দিয়েছিলেন আপনারাই! কি ক্ষমতা!!! আপনাদিগকে এসব করার ক্ষমতা কে দিয়েছিল? মোটকথা ফখরুদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টা বানিয়েছিলেন আপনারা কয়েকজন জেনারেল। আপনাদের সেই অধিকার ও ক্ষমতা সংবিধান দেয়নি। তাই ফখরুদ্দিনের নিয়োগ এবং তার সকল কর্মকান্ড অসাংবিধানিক। একদিন না একদিন এটা অবৈধ ঘোষণা করবে উচ্চ আদালত। সময় আসলে এনিয়ে আমিই রীট করতে চাই। দেখা গেছে, জরুরী সরকারের সময়ে বিদেশ থেকে আগত মন্ত্রী এবং বিশিষ্টজনরা প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতের পাশাপাশি আপনার সাথেও সাক্ষাৎ করতে বাধ্য হতো! মিস্টার জেনারেল, বলুন তো- এদেরকে আপনার কাছে কেনো পাঠাতো ফরেন অফিস? কারন, আপনি তখন ডিফ্যাক্টো রাষ্ট্রপতি হয়ে দেশ চালাচ্ছিলেন, এটাই সত্য। ফখরুদ্দিন এবং তার উপদেষ্টারা আপনার হুকুমে চলত। উপদেষ্টা পরিষদের মিটিংয়ে হঠাৎ ঢুকে আপনি এটা সেটা নির্দেশও দিতেন। এসব কি সেনাপ্রধানের কাজের মধ্যে পড়ে? জরুরী অবস্থা হলেও সেনাপ্রধান তা করতে পারেন না। অথচ আপনি ঐসব কান্ড করেছিলেন!!
 
২০০৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আপনি ভারতে গেলেন পূর্নভাবে ক্ষমতায় বসার এজাজত আনতে- অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি হতে। তাদের সমর্থন পেলেন না। উল্টো, তারা আপনাকে বললো- তাদের সমর্থনপুষ্ঠ দলের হাতে (অর্থাৎ আ’লীগের কাছে) ক্ষমতা হস্তান্তর করতে। ( এর ঠিক এক বছর পরে সেই ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটানো হয় পিলখানা ম্যাসাকার- এটা কি কাকতালীয়, নাকি সুপরিকল্পিত, তা ভেবে দেখা উচিত) এর বিনিময়ে আপনি লাভ করলেন সেইফ এক্সিটের নিশ্চয়তা। তারপরে যা হওয়ার তাই হলো- শেখ হাসিনার সাথে বসুন্ধকার সেইফ হাউজে বসে সবকিছু চুড়ান্ত হলো আপনার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল আগেই তৈরী করা ছিল। হাসিনাকে দেয়া হলো এমন সংখ্যক সিট, যাতে প্রয়োজনমত সংবিধান সংশোধন করেও প্রতিবেশীর সকল চাহিদা পুরণ করতে পারেন। বিএনপিকে ৩০টির বেশি আসন দেয়া হবেনা- সেটা গোয়েন্দাসূত্র আমাকে জানিয়েছিল ঠিক চার দিন আগে। এভাবেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধংস করে দিয়ে হাসিনার কাছে আপনি ক্ষমতা হস্তান্তর করলেন, আর ভারতের রাডারের মধ্যে বাংলাদেশটাকে ঢুকিয়ে দিলেন আপনি–যেটি পাওয়ার জন্য তারা তিন যুগ ধরে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। এভাবে আপনি মস্তবড় রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ সংঘটন করলেন।
 
এতদিন চুপ ছিলাম, এখন কিছু সত্য প্রকাশ করি_____________
আমি সেই শামসুল আলম, যার ফোন পেয়ে ২০০৫ সালের মধ্য জুনের এক বিকেলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে ছুটে এসেছিলেন, অতঃপর প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার পরে আপনাকে চীফ বানানো হলো, সেকথা আপনার বইতে উল্লেখ করেছেন। আমি বেসামরিক অফিসার হলেও আপনাদের ফৌজি খবরাদি যেভাবেই হোক আমার কানে চলে আসত। আমি হলফ করে বলতে পারি- ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে জামায়াতের কর্মী হত্যার ঘটনার সাথে আপনাদের আগে থেকেই যোগসাজস ছিল। ওই রকম ঘটনা ঘটবে, তা আপনারা আগেই জানতেন, নইলে পরে কি করবেন তার পুর্বপ্রস্তুতি নিয়েছিলেন কেনো? তারও কয়েকমাস আগে থেকে বিএনপির মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের নাম ঠিকানা ছবি সহ তালিকা তৈরী করছিল গোয়েন্দা অফিসাররা- পরে জানা গেলো কাকে কাকে ধরা হবে সেই লিস্ট তৈরী করছিলেন। এমনকি বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের ফোনে আড়ি পেতে তাদের অনিয়ম ও দুর্বল পয়েন্ট ধরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রোফাইল তৈরী করা হয়, যা দিয়ে পরবর্তীতে তাদেরকে হেনস্তা করা হয়, জেল দেয়া হয়! ঐ লিস্ট তৈরীর উপাদান (মন্ত্রি-এমপিদের হালনাগাদ ঠায় ঠিকানা ছবি) সংগ্রহ করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমার কাছে দু’দফা সেনা কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছিল, যদিও সেটা তারা পায়নি।
 
পল্টন হত্যার পরের দিন ২৯ অক্টোবরেই আপনারা জরুরী অবস্থা জারী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যেকোনো ভাবেই হোক, এ সংক্রান্ত সকল অর্ডারের ড্রাফট ডকুমেন্টগুলি কেবল আমার হাতে জমা করা ছিল। আমাকে বলা হলেও আমি সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হ্যান্ডওভার করিনি, বরং কায়দা করে জরুরী অবস্থা ঘোষণা বন্ধ করতে সক্ষম হই। তদুপরি আপনাদের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকে। দ্বিতীয় দফায় চিটাগাঙ পোর্টকে কেন্দ্র করে নভেম্বরের ১৭ তারিখে জরুরী অবস্থা জারীর চেষ্টা করা হয়। সে চেষ্টাও আমি একাই বন্ধ করেছিলাম। তৃতীয় দফায়, ডিসেম্বরের ১০ তারিখে আপনার নির্দেশে সারাদেশে সেনা মোতায়েন করা হয়, যদিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির অজ্ঞাতেই তা করা হয়। সেটি ছিল আপনার ফিল্ড প্রস্তুতি! তখন একজন জেনারেল মারফত খবর পেলাম- ২২ জানুয়ারির ইলেকশন বানচাল করা হবে, এবং ১২ জানুয়ারির মধ্যে মার্শাল’ল দিয়ে ক্ষমতা দখল করবেন আপনি; ম্যাডাম জিয়া সহ তাঁর ছেলেদের কারাগারে আটকে বিএনপির কন্ট্রোল নিবেন আপনি। এসব বিষয় ম্যাডামকে জানালেও তিনি ওভারলুক করেন, কারন বারী এবং তাঁর এক আত্মীয় উল্টা বুঝিয়েছিলেন।
 
১/১১ পরে ডিজিএফআই থেকে আমাকে বলা হয়েছিল মান্নান ভু্ঁইয়ার বাসায় যেতে, কিন্তু আমি তাতে রাজী হইনি। অতঃপর কিছুদিন পরে আপনাকে উৎখাতের একটি পরিকল্পনা একজন জেনারেল আমাকে অবহিত করেছিলেন, সে খবরটা আমি যথাস্থানে পৌছে দিয়েছিলাম। পরে সম্ভবত বিএনপির এক সিনিয়র নেতার বেইমানীর কারণে সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। ঐ ঘটনার পর থেকেই আমাকে খোঁজা শুরু করে আপনার মেজর সাহেবরা, বাসা রেইড দেয় তিন বার। আগেই টের পেয়ে আমি বাসা ছাড়লাম। কিন্তু আপনারা আর খুঁজে পেলেন না। পরে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, আমাকে ফিনিশ করার নির্দেশ ছিল। কিন্তু রাখে আল্লাহ, মারে কে! আলহামদুলিল্লাহ।
 
জেনারেল সাহেব। ১/১১ দ্বারা বাংলাদেশকে পরাধীন করে, পিলখানা ম্যাসাকার করে আর্মি শেষ করে দিয়ে আপনি বিদেশে পালিয়ে বেঁচে আছেন নির্জনে। তবে মিথ্যার ওপরে বেঁচে আছেন। এভাবে আর কদ্দিন? এই জীবনে তো আর দেশের মাটিতে পা রাখতে পারবেন না। আপনি বাংলাদেশের যে চুড়ান্ত ক্ষতি করেছেন, তার বিচারে আপনার সর্বোচ্চ শাস্তি পাওনা, ভাগ্যে থাকলে সে শাস্তি ভোগ করাও লাগতে পারে। আর যদি তা না হয়, তবে মৃত্যু হবে পাপিষ্ঠের মতন, তখন জনগন আপনার কবরে থু থু দিবে। যদি মানুষ হয়ে থাকেন, তবে সত্য কথা বলুন, কৃত অপরাধ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চান।

/ফেসবুক

মাথানষ্টের পুত্র যখন উন্মাদ- তখন বিভিন্ন সংজ্ঞা যেমন হয়?

– একেএম ওয়াহিদুজ্জামান

পরীক্ষায় আসতে পারে- নীচের কথাটি কোন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ বলেছে?
“যখন কোন অপরাধী সাধারণত মাদকের প্রভাবে নিজেকে নিজে গুলি করে আত্মহত্যা করে (কখনো কখনো আত্মহত্যার আগে নিজের হাতগুলোতে নিজেই হ্যান্ডকাফ বেঁধে নেয়) তাকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে”।

Which Bangladesh politician said this: “An Extra-judicial Killing is when a criminal, often under the influence of drugs, shoots himself, (sometimes having handcuffed himself first)”?

সজিব ওয়াজেদ জয়ের অভিধান অনুসারে- বাংলাদেশে ‘গুম’ এর ঘটনাগুলো হচ্ছে, “বিচার ও দায়িত্ব এড়ানোর জন্য অপরাধীদের তৈরী করা কল্প-কাহিনী!”

According to Sajeeb Wazed Joy, “enforced disappearances” in Bangladesh are “fictitious attempts by accused criminals to avoid prosecution and accountability.”

বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের অভিধানে থাকা এমন সব আরো অভিনব সব সংজ্ঞা উপভোগ করুন:
————————————————————————————–

Sajeeb Wazed Joy’s dictionary of new political terms
–  

Sajeeb Wazed Joy, the son of Bangladesh’s prime minister has recently published not onebut two extraordinary articles which not only denies that the country’s law enforcement authorities are involved in enforced disappearances – the picking up, secretly detaining and often killing of men in Bangladesh – but also that the police investigate every single one of these disappearances and found no evidence of state involvement.

In fact, not only is there overwhelming eye-witness evidence that law enforcement and intelligence agencies including Rapid Action Battallion, the Detective Branch of the Police and DGFI are involved in picking these men up (over 400 since the government came to power) and that in some of these cases, but also new evidence that the prime minister herself – Sajeeb’s mother – has personally authorised some disappearances including that of one person whose whereabouts, 20 months after his pick-up, remains unknown. Moreover, far from the investigating disappearances, the Bangladesh police don’t even allow most families to report them. To read a response to Joy’s articles see here.

In his articles, Joy defines “enforced disappearances” as

“fictitious attempts by accused criminals to avoid prosecution and accountability.”

Bangladesh Politico has now got its hands on a few pages from Joy’s new dictionary of Bangladesh political terminology – and we can for the first time publish some more definitions.

  • Awami League – the only legitimate political party in Bangladesh;
  • Caretaker government – a mechanism of ensuring more fair elections in Bangladesh which had to be stopped as it risked allowing the election of a party other than the Awami League;
  • Corruption – thievery, larceny and kleptocracy solely conducted by the opposition Bangladesh Nationalist Party and other parties that support it;
  • Democracy – When elections results in the victory of a party led by Sheikh Hasina;
  • Election Commission – a group of trustworthy and incorruptible administrators who say and do exactly what the Awami League asks it to say and do;
  • Extra-judicial killing – when a criminal, often under the influence of drugs, shoots himself, (sometimes having handcuffed himself first);
  • Freedom of Speech – freedom to speak about the greatness of the Awami League, its current leader and her family members;
  • Freedom of Assembly – a freedom that prevents members of the opposition parties from congregating and speaking against the Awami League;
  • International Crimes Tribunal – a process which complies with all standards of a fair trial, other than the ones that could allow the accused to properly defend themselves;
  • ISIS – a group that exists in every country other than Bangladesh;
  • Police investigation – an inquiry which results in a finding that a crime was committed by a leader, activist, member or supporter of the Bangladesh Nationalist Party and other opposition parties and concludes that no member of the governing party was involved;
  • Terrorism – any activity conducted primarily by the opposition political parties.

১০ আওয়ামী দলকানা বুদ্ধিজীবির চোখে মাদক বিরোধী অভিযানে হত্যা ‘প্রত্যাশিত’ এবং ‘যৌক্তিক’!

১০ ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ বিবৃতি দিয়ে জানাচ্ছে-

১/ “সারা দেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে (বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা), তার ‘যৌক্তিকতা’ তারা অনুধাবন করে!”

২/ “সংগত কারণে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনও এই অভিযানে (বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা) প্রত্যাশিত ছিল।”

৩/ “টেকনাফে নিহত পৌর কমিশনার একরামের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার পূর্ব অভিযোগের কথা জানা যায়নি।” (যেন পূর্ব অভিযোগ জানা থাকলে এই হত্যার ‘যৌক্তিকতা’ থাকতো! তাছাড়া, অন্ততপক্ষে দুইটি টিভি চ্যানেল কয়েক বছর আগেই নিহত একরামকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।)

৪/ “তাঁর (একরামের) পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে হত্যা-পূর্ব ফোনালাপ সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করেছেন, যা কোনো ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ও সমাজে অকল্পনীয়। এ রকম ‘একটি ঘটনাই’ সমগ্র ‘অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ’ ও জনগণকে আতঙ্কিত করতে যথেষ্ট।” (তার মানে, এই ফোনালাপ প্রকাশ না পেলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা ‘যৌক্তিক’ এবং ‘প্রত্যাশিত’ই থাকতো!)

গত ১৪ মে থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০/১২জন করে মানুষকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে একইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; একরামের আগেই খুন হয়েছে আরো ১২৩জন। তখন পর্যন্ত এই ‘বিশিষ্ট নাগরিক’দের কাছে বাংলাদেশ ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ’ ছিল! এদের সমর্থিত সরকারের গত দশ বছরের শাসনামলে ৫’শতাধিক গুম আর ১৫ শতাধিক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও এদের কাছে ‘যৌক্তিক’ এবং ‘প্রত্যাশিত’ই ছিলো!

অপ্রত্যাশিত ঘটনা হয়ে গেছে- একরাম হত্যার অডিও প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায়!

এই বুড়ো শকুনগুলো এই কথা স্পষ্ট করে বলতে পারেনা যে, একরাম মাদক ব্যবসায়ী হলেও তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিনা বিচারে হত্যা করতে পারে না; কাউকেই পারে না।

এই বুড়ো শকুনদের বিবেকের দেখা মেলে তাদের দৃষ্টিতে কোন ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত’ হলে। তখন এরা মুরিদদের সাথে নিয়ে নিজেদের কানে ধরে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে। এদের মুরিদরা ‘এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না’ লিখে চেতনামাখা স্ট্যাটাস দেয়। তারপর আরো হত্যা-গুমের ধারাবাহিক ঘটনা ঘটে, ছাত্রলীগের হাতে একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে, তখন আর এদের দেখা পাওয়া যায় না!

কাজেই এইসব সিজনাল এবং সিলেক্টিভ ঘটনার প্রতিবাদী ধান্দাবাজদের থেকে সতর্ক থাকুন। এরা-
যেভাবে এরা এক রেশমাকে উদ্ধারের নাটক দেখিয়ে রানা প্লাজায় ১২’শ নিহতের ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়েছে আর রেশমাকে ফাইভস্টার হোটেলে চাকরি দিয়ে দেড় হাজার পঙ্গুকে পূনর্বাসিত না করার ও রানা প্লাজার ভিক্টিমদের জন্য আশা ১০৯ কোটি টাকা চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাহায্য করেছে, যেভাবে এরা শ্যামল কান্তি ভক্তের ঘটনায় ‘কানে ধরা প্রতিবাদ’ করে ছাত্রলীগের হাতে দেশের শত শত শিক্ষক লঞ্ছনার ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে, ঠিক সেভাবেই এরা এক একরামের ঘটনার প্রতিবাদ করে দেড় হাজার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং একরামের পরিবারতে গণভবনে নিয়ে ফটোসেশন করিয়ে সকল বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভিক্টিমের পরিবারের বঞ্চনাকে ধামাচাপা দিতে চাইছে।

কুমিরের চোখে পানি দেখলে আবেগ প্রবণ হওয়া বোকামি।

/ফেসবুক/ একেএম ওয়াহিদুজ্জামান

পাসপোর্ট-নাগরিকত্ব সমাচার~

।। শামসুল আলম।।
 
এই মুহুর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তির নাম তারেক রহমান। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন। লন্ডনপ্রবাসী। বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের সরকারের প্রধান থেকে শুরু করে তাদের প্রায় সব মন্ত্রী নেতা খেতাদের মুখে একটিই শব্দ- তারেক রহমান! তারেক রহমানকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি হিসাবে প্রচার করছে সরকারের মিডিয়া এবং প্রচার যন্ত্র!
 
সরকারের লোকেরা বলছে- তারেক রহমানকে যেকোনো মূল্যে লন্ডন থেকে ফিরিয়ে আনবেন শেখ হাসিনা। এনে দন্ড কার্যকর করবেন! বেশ তো আনতে পারলে আনুন….সেটা না করে খামাখা বক বক করেছেন কেনো? উনার রেটিং বাড়িয়ে দিচ্ছেন কেনো? এর কারণ হিসাবে অনলাইন সূত্র জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিতে লন্ডন গিয়ে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানকার বাংলাদেশীদের হাতে এমন নাকানি চুবানি খেয়েছেন, সর্বত্র এমন প্রতিবাদ প্রতিরোধের সম্মুখীণ হয়েছেন যা আগেকার সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে! এরফলে কোনো ভেনুতে তিনি সামনের দরজা দিয়ে যেতে পারেননি, সব যায়গায় পেছনের দরজা ব্যবহার করতে হয়েছে! লন্ডন শহরে ভ্রাম্যমান (মোবাইল) বিলবোর্ডের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে খুনি, গণতন্ত্র হত্যাকারী, স্বৈরাচার হিসাবে তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবী করা হয়েছে। নতুন ধরনের এই প্রতিবাদ দেখে সবাই চমকিত হয়েছে! সম্মেলনে আগত বিদেশীরা এবং লন্ডনবাসীরা বাংলাদেশ এবং হাসিনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছে, আগ্রহী হয়েছেন। এসব কারনে শেখ হাসিনা বিএনপি এবং তারেক রহমানের উপর যারপরনাই বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়ে বৃটেন সরকারের দ্বারস্থ হন- তারেক রহমানকে ফিরিয়ে দিন। কিন্তু তারেক রহমান সেখানে আইনানুগভাবে ভালোভাবেই আছেন, হাসিনার কথায় তাকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নাই জেনে শেখ হাসিনা আরও বিরক্ত হয়ে অন্তত দু’টি পাবলিক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানকে বাপ মা তুলে গালিগালাজ, হুঙ্কার এবং ধরে নিয়ে দন্ড কার্যকর করা হবে এমন খিস্তিখেউড় করলেন। এমনকি লন্ডনে বিএনপির লোকদের উপর আক্রমন করতে তার দলের লোকদের নির্দেশ দিয়ে তিনি আন্তর্জাতি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে গেলেন। তবে প্রতিবাদের মাত্রা আরও বাড়ে যখন গতকাল লন্ডন ছাড়ার সময় হোটল থেকে বের হওয়ার মুখে বাংলাদেশীদের ব্যাপকভাবে ডিমবৃষ্টির কবলে পড়তে হয় হাসিনা ও তার দলবলকে। এমনকি লন্ডন পুলিশের বাধা ভেদ করে ডিম ছোড়ার দৃশ্য দেখা যায়!
 
অন্যদিকে তখন বিনাভোটের সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের বাংলাদেশে নাগরিকত্ব নাই! সেই সাথে টিভি স্ক্রলে আসতে থাকে, ‘আওয়ামীলীগ বলছে, পারলে তারেক রহমান পাসপোর্ট দেখাক’, আবার বলা হচ্ছে- ‘তারেক রহমান নাকি তাঁর স্ত্রী ও কন্যার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ডাকযোগ! তাই উনারা আর বাংলাদেশের নাগরিক নন!’ এদের কে বুঝাবে যে- পাসপোর্ট থাকা না থাকার সাথে নাগরিকত্বের কোন সম্পর্ক নাই। পাসপোর্ট হলো ট্রাভেল ডকুমেন্ট- বিদেশে যেতে এটা লাগে। এয়ারপোর্টে দেখাতে হয়। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ লোকের পাসপোর্ট নাই- বানায়নি। তাই বলে কি তাদের নাগরিকত্ব চলে গিয়েছে? যতটুকু জানা গেছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জমা দিয়েছিলেন পাসপোর্স নবায়ন করতে। কিন্তু হাসিনার অবৈধ সরকার তা নবায়ন না করে এখন ধাপ্পাবাজি করছে! গাধাদের জন্য জ্ঞান হচ্ছে, পাসপোর্টের মেয়াদ থাকে, নাগরিকত্বের কোনো মেয়াদ থাকেনা। এটা আমৃত্যু।
 
পাসপোর্ট নিয়ে যখন কথা উঠলো, তখন জাতি জানতে চায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে কোন্ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এ সম্পর্কে আওয়ামীলীগের কোনো বক্তব্য আছে কি? দেশের মানুষ অনেকেই জানে (এটা প্রথম আমিই প্রকাশ করেছিলাম)- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিব এবং ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে ঢাকায় ফিরেন। কামাল হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ৬ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব এবং ড. কামাল দু’জনে ছবি তোলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্ট ফরম পূরণ করে সই করে নতুন পাসপোর্ট তৈরীর জন্য। অতঃপর নতুন বানানো সেই পাসপোর্ট শেখ মুজিবের নাগরিকত্ব লেখা হয়- Pakistani. ২৫ দিন আগে স্বাধীন বাংলাদেশ মুক্ত হয়, এবং সেটা ঐদিনই জানতে পারেন শেখ মুজিব, তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশের মনোনীত রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব নতুন করে হলেন পাকিস্তানের নাগরিক! এমন চরম দুর্ভাগ্য বোধ হয় বাংলাদেশের ললাটে লেখা ছিল! শেখ সাহেব বাংলাদেশে ফিরেই সাথে সাথে রাষ্ট্রপতির শপথ নিলেন। প্রশ্ন হলো- তার আগে কি তিনি পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন? বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য পোষণ করেছিলেন? করে থাকলে কবে, কখন? এটি দরকার ছিল এই কারনে যে, শেখ মুজিব এবং ড.কামাল হোসেন বাংলাদেশ জন্মের পরেও পাকিস্তানের (তখনকার শত্রু রাষ্ট্রের) নাগরিকত্ব গ্রহণ/ নবায়ন করেছিলেন (শেখ সাহেবের আত্মীয় জামায়াত নেতা গোলাম আযমও পাকিস্তানের নাগরিত্ব নিয়েছিলেন, পরে সেটা ত্যাগ করে বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন)। তাই শেখ মুজিব বা ড. কামাল হোসেন পাকিস্তানের নাগরিকত্ব ত্যাগ না করে এবং বাংলাদেশের প্রতি অনুগত্যের ঘোষণা না দিলে তাঁহারা বাংলাদেশের নাগরিক হইবেন না। তবে কি শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিক হিসাবেই বাংলাদেশের রাজত্ব করবেন আমৃত্যু? আওয়ামলীগের সাধারন সম্পাদক বা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারলে এর জবাব দিক!
/ ফেসবুক

উন্নয়নশীল দেশের তকমা সমাচার..

শামসুল আলম।।

বাংলাদেশের মিডিয়ার খবর – গতকাল বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ (Developing Nation) হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে! আমরা গত ৪০ বছর ধরে বইপত্রে লিখে আসছি বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ (developing country); অনলাইন ঘটলেই বহু পাওয়া যাবে। তাহলে আমরা কি ভুল জানতাম? আসলে ঘটনাটি একটু ভিন্ন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা করেছে কেবল। আরও তিন বছর পরে মূল্যায়ন হবে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হলো কি না। অথচ দেশের বিনা-ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজই বলে ফেললেন- “বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে!” উনি ৩ বছর ওয়েট করতে পারবেন না, এখনি তকমা লাগিয়ে ঘুরবেন!!! যেনো ওঠ ছেমড়ি তোর বিয়া!

খবরে বলা হচ্ছে, সিডিপির মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২শ ৩০ ডলার, আর বাংলাদেশের হয়েছে ১২শ ৭১ ডলার; মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি, বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯; এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম, সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ।

এসব খবর পড়ে বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাইতে পারে–মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবটা কিভাবে করা হয়েছে। এর মধ্যে……… শেয়ার মার্কেট থেকে মারা ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, কিংবা ১৫ কোটি টাকা কিলোর রাস্তা ১৮৩ কোটি টাকায় করে যে ১২গুণ বেশি টাকা পকেটে ঢুকলো, বা দেশের অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছে সরকারের লোকেরা, বা দুই দশকের শাসনে যে ৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, বা বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লুট, জনতা ব্যাংক থেকে ৫৪০০ কোটি টাকা সরোনো, হলমার্ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার ৪০০০ কোটি টাকা লুট, ফার্মার্স ব্যাংক লুট, ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১২০০ কোটি টাকা লোপাট, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরি, দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার কাজ ১৮ হাজার কোটি টাকায় করে লুটপাট, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ফ্লাইওভার করে লুটপাট, ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানে ১০ হাজার কোটি টাকার কাজ ৬০ হাজার কোটি টাকা বানিয়ে লুটপাট, ৩০ হাজার কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ১ লাখ ১৩ হাজার করে লুটপাট, এবং অনলাইন জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের যে হিসাব- এসব কি এই সিডিপির মাথাপিছু আয়ের হিসাবে ঢেকানো হয়েছে? না ঢুকিয়ে থাকলে এগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন। সরাসরি উন্নত দেশের তকমা পেয়ে যেতে পারেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে তাঁর পিতার স্বপ্নের কথা স্মরণ করেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা হেরে যাওয়ায় দেশ পিছিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথাও বলেছেন। আমরা এ প্রসঙ্গে স্মরণ করতে চাই কিভাবে তলা বিহীন ঝুড়ির দেশ এগিয়ে গেলো গত চার দশক ধরে। কেবল একটি খাতের কথাই তুলে ধরা যাক – শিক্ষা খাত:

মানুষের মনে আছে, স্বাধীনতার পরে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ জনগেষ্ঠি যখন অশিক্ষিত, তখন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়া এদেশের অক্ষরজ্ঞানহীন প্রবীণ ও শিশুদের জন্য সারাদেশে গণশিক্ষা ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা করেছিলেন। পাড়ায় পাড়ায় বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র তৈরী হয়েছিলো। এসএসসি পরীক্ষায় ৫০ নম্বরের একটি বিষয় ছিলো, যাতে পাশ করতে হলে একজন ছাত্রকে ৩ জন নিরক্ষরকে স্বাক্ষর করা শিখাতে হতো। এর ফলে দেশে স্বাক্ষর লোকের সংখ্যা ২৩% থেকে ৩৩%এ উন্নীত হয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বেগম খালেদা জিয়া তারই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাকে ১ নম্বর অগ্রাধিকার হিসাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ সৃষ্টি করলেন, ঐ বিভাগের কর্মকান্ড মনিটর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখলেন। বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, উপানূষ্ঠ‍ানিক শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে দেশে হাজার হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করলেন, নতুন স্কুল নির্মান করলেন, ১০০% শিক্ষার্থী ধরে রাখার জন্য বিশেষ প্রকল্প, প্রমোট প্রকল্পের অধীনে বিশেষ উদ্যোগ নিলেন। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করলেন প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে। ১৯৯৫ সাল নাগাদ ৯২% শিশু ভর্তি নিশ্চিত হয়, যার মধ্যে ছেলে শিশু ৯৪.৫%, মেয়ে শিশু ৮৯.৬% এবং শিক্ষিতের হার দাড়ায় ৪৭.৫%।

বিএনপি ২য় বার সরকারে এসে ২০০৩-২০০৬ কেবল একটি প্রকল্পের অধীনেই ৩৫ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করে, প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে শিক্ষার প্রসার ঘটানোর ব্যক্তিগত উদ্যোগ, শিক্ষার গুণগত মানবৃদ্ধি, শিক্ষকদের ট্রেনিং ও শিক্ষালয়ের আধুনিকায়ন, বিনা বেতনে মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা, উপবৃত্তি কার্যক্রম, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, নতুন মেডিকেল কলেজ ও সাধারন শিক্ষার স্কুল-কলেজ নির্মান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটিসহ বেসরকারী পর্যায়ে কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া যে অবদান রেখেছেন, তা যে কোনো সরকার এমনকি যুগকে ছাড়িয়ে গেছে। এসকল কাজের কৃতিত্বের জন্য খালেদা জিয়ার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ পদক পাওয়ার কথা বহু আগেই।

কেবল হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগই করেনি, ২০০৪ সালে PEDP-2 প্রকল্পে ১২হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ হাজার স্কুলের উন্নয়ন করা হয় ২০০৪-০৭ অর্থবছরে। জাতিসংঘের MDG (মিলেনিয়াম ডেভলপমেন্ট গোল)এর আওতায় ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বাস্তবায়নের লক্ষে যে বিশাল কর্মকান্ড সম্পদিত হয়, তার ফলে জীবনমান সূচকই কেবল বাড়েনি, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিলো বাংলাদেশ সরকারের “মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা”, “উপবৃত্তি” ও “শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর” কথা। আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এ সকল প্রোগাম অনুকরন করে। শিক্ষাক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার যুগান্তকারী উদ্যোগ- মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি, বিনামূল্যে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ার সুযোগদান, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর ফলে বাংলাদেশ আজকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দূর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে (২০০৭ সালে +৭ শিক্ষিতের হার ৬১.৩%)। শিক্ষাক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে খালেদা জিয়ার সরকারের প্রশংসা করা হয়েছিলো। UNESCOর বর্তমান রিপোর্টের উধৃতি, “Female literacy rate for the first time surpassed male literacy rate, which may be considered as the impact of several gender sensitive programmes undertaken by the government and other agencies.” এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে বাংলাদেশ লাভ করে mdg পদক। ঐপদকের জন্য ২০০৭ সালের ডাটা মূলায়ন করা হয়, সেটা বিএনপির ২০০১-০৬ সালে অর্জন। বস্তুত, ঐ পদকের জন্য কৃতিত্বের একক দাবীদার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এগুলো কি সামাজিক খাতে উন্নয়ন নয়? এগুলোর ধারাবাহিকতাই দেশকে নিয়ে গেছে উন্নতির দিকে।

খালেদা জিয়ার সরকার কেবল শিক্ষাখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে জাতিকে শিক্ষিতই করেননি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং নকলমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা চালু করলেন। একথা সকলেই জানেন, স্বাধীনতার পর পর ১৯৭২-৭৩ সালের পাবলিক পরীক্ষায় লেখাপড়া ছাড়া শুধু অস্ত্র দেখিয়ে নকল করে ও বই দেখে লেখার কথা। ওই সময়ে যারা পাশ করেছে তারা জাতির মেধা ও মানের যে সর্বনাশ করেছে, তার খেসারত আজও জাতি দিচ্ছে। এখনও ৭৩ সালের পাশ ও ব্যাচ বললে মানুষ ভ্রু কুচকায়! ১৯৯৭ সালের পরে জাতি দেখলো পরীক্ষায় নকলের মহোৎসব এমনকি ২০০৯-১০ সালে সরকারী ব্যবস্থায় ১৫ নম্বর গ্রেস দিয়ে প্রাথমিক ও জুনিয়র পরীক্ষায় ফেল করা হাজার হাজার ছাত্রকে পাশ দেখিয়েছে। আর বর্তমান সরকারের সময় তো পরীক্ষার আগেই শতভাগ প্রশ্ন ফেসবুকে পাওয়া যায়। আ’লীগ সরকারে এলেই শিক্ষাব্যবস্থা কিভাবে ধংস করা হয়, তার প্রমান শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ নিজে।

অবশ্য বাংলাদেশের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য শনিবার বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বাংলাদেশকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রধান ৫টি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে-
১. বৈদেশিক সাহায্য কমে যাবে, কাজেই রেমিটেন্সের ওপর চাপ বাড়বে,
২. তৈরি পোশাকখাতের উপর রফতানি আয় ঝুকিপূর্ন,
৩. বাংলাদেশে শ্রমের উৎপাদনশীলতা অনেক কম,
৪. যেহেতু অর্থায়ন কমে যাবে এবং নিজস্ব শক্তিতে এগুতে হবে,
৫. বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আবশ্যকতা।
যে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার নাই, পাখির মত গুলি করে মানুষ মারে সরকারী বাহিনী, উচ্চ হারে দুর্নীতি- সে দেশে এগুলো অর্জন নিঃসন্দেহে বিরাট চ্যলেঞ্জ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, Committee for Development Policy (CDP) হচ্ছে জাতিসংঘের ইকোসেকের একটি পরামর্শক সংস্থা। বাংলাদেশ থেকে রেহমান সোবহান, ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এর মেম্বার ছিলেন। সিডিপির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে- “CDP is a subsidiary advisory body of the United Nations Economic and Social Council (ECOSOC). The CDP advises ECOSOC on a wide range of emerging economic, social and environmental issues that are relevant for the design and implementation of the United Nations Sustainable Development Agenda and for the strengthening of the international development co-operation.” এ থেকে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে সিডিপির কাজটা কি। তাদের কাজ ইকোসককে পরমামর্শ দেয়া, বিভিন্ন এম্বেসিতে গিয়ে সনদ বিতরন নয়। যদি সেত্যি সেটা তাদের কাজ হতো, তাহলে তা করা হতো জাতিসংঘের যেকেনো একটি কনফারেন্স হলে। শেখ মুজিবের জন্মদিনে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্বল্প পরিসরে যে রুগ্ন আয়োজন দেখানো হলো, তা বলে দিচ্ছে উচ্চমুল্যে একটি শো-আপ অনুষ্ঠান মাত্র! যাস্ট এটি একটি রাজনীতি করার উপাদান সরবরাহ মাত্র, যার টার্গেট আর কিছু নয়, আগামী নির্বাচন। অতীতে দেশের মানুষকে এরকম ফেইক সাউথ-সাউথ প্রাইজ নাটক দেখেছে দেশের মানুষ। পরে যেটা বের হয়েছে ডলার খরচ করে ফাঁকিজুকি!

/newsorgan24

“সাজা বৃথা গেছে। জনগণের উত্তর – তিনি কোন অপরাধ করেননি। বন্দি বেগম জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয়।”

বেগম জিয়াকে শাস্তি দেয়া হয়েছে। সরকার খুব আনন্দিত ও উৎফুল্ল। অনেক মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রায় ঘোষণার দিন এক জনসভায় বলেন, কোথায় আজ খালেদা জিয়া? ক্রসফায়ারে সিরাজ সিকদার নিহত হবার পর প্রধানমন্ত্রীর পিতাও বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন, কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? দু’জনের উক্তির মধ্যে আশ্চর্যজনক মিল। খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত। সম্ভবত সরকার যেন পণ করেছিল বেগম জিয়াকে শাস্তি দিতেই হবে। তাকে দুর্নীতিবাজ প্রমাণ করতে পারলে তিনি বাংলাদেশের মানুষের নিন্দা ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবেন। দেশ-বিদেশের মানুষের মন থেকে তাঁর নাম মুছে যাবে। মানুষের নিন্দা ও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হলে তাঁর রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সরকারের অভিসন্ধি অসার প্রমাণিত হয়েছে।

বলা বাহুল্য, বেগম জিয়া বানে ভেসে আসা নেতা নন। দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় তাঁকে নেতা বানিয়েছে। উড়ে এসে জুড়ে বসে তিনি নেতা হননি। বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ বছর রাজপথে থেকে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। স্বৈরাচারের সাথে কোনরকম আপোস না করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপোসহীন থেকেছেন। কোনরকম লোভ লালসা তাঁকে কর্তব্যকর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। মানুষের ভোটাধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা না করে ঘরে ফিরেননি। ৯ বছরের মধ্যে সকল নির্বাচন বয়কট করে সাধারণ মানুষের কাতারে কাতারবন্দি থেকেছেন। কোনরকম প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এরশাদকে বৈধতা দেননি। ইচ্ছা করলে একটু আপোস করে চললে বেগম জিয়া ক্ষমতার ভাগ পেতেন একথা নিশ্চিত করে বলা যায়। কিন্তু তিনি ক্ষমতার লোভে বিবেক বিবেচনা বিসর্জন দিয়ে গণতন্ত্র হত্যার কার্যক্রমে শরীক হননি। তাঁর ধ্যান জ্ঞান ও সকল কর্মকান্ড আবর্তিত হয়েছে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। বিএনপির বহু বড় নেতা চাপে পড়ে এরশাদের দলে ভিড়েছেন যাতে দল অগোছালো ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ ও নিষ্ক্রিয় হতে থাকে। নির্বাচনে অংশ নিতে ঘরে বাইরের প্রচন্ড চাপ বেগম জিয়াকে টলাতে পারেনি। তিনি জানতেন, এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অর্থ বিরোধীদলে জায়গা পাওয়া ও এরশাদকে বৈধতা দেওয়া। আওয়ামী লীগ ’৮৬ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে এরশাদের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠত। এদেশের জনগণকে ’৯০ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো না। তিনি সকল রকম প্রলোভন উপেক্ষা করে ’৮৬ সালের নির্বাচন বয়কট করে জাতীয় বেঈমান না হয়ে জাতীয় বীরের মর্যাদা লাভ করেন। এদেশের জনগণের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বেগম জিয়া কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। এমনি এমনি তিনি তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হননি। তাঁর সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য তাঁকে অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত করেছে।

বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলখানায় রেখে সরকার ভাবছে খুব লাভবান হয়েছে। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মানববন্ধন, অনশন প্রভৃতি কর্মকান্ডর মাধ্যমে সরকারের হীন চক্রান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সাজার পর থেকে মানুষ রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়েও সরকার রাজনীতি করছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। গত ২২ ফেব্রুয়ারি নয়াপল্টনে কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পুলিশী বাধায় পন্ড হয়েছে। বিনা উসকানিতে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও পানিকামান ব্যবহার অন্যায়, অযৌক্তিক ও নিন্দাযোগ্য। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেবার ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়েই পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি, সেখান থেকে খায়রুল কবির খোকনসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মামলা দেয়া হয়েছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ফ্যাসিস্ট সরকারের চরিত্র মনে করিয়ে দেয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ এই প্রহসনমূলক বিচারের নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজ বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন প্রভৃতি কর্মকান্ড সম্পন্ন করেছি। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি লাগাতার তিনদিন কর্মসূচি পালন করার পর আমার নিজ এলাকা জয়পুরহাটেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। জয়পুরহাটে দেখেছি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা আমাকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমাদের পুলিশ বের হতে দেয়নি। পার্টি অফিসে গলির মধ্যে আমাদের বন্দি রাখা হয়েছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা দেয়া অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক। পার্টি অফিস থেকে বের হয়ে আমরা চিনিকলের রাস্তা ঘুরে আবার পার্টি অফিসে ফিরে আসার পরিকল্পনা নিয়ে বের হই। পুলিশ গলি থেকে বের হতে দেয়নি। পুলিশ বোধহয় চেয়েছিল আমরা একটু গোলমাল-হট্টগোল করি। চিনি কলের রাস্তাটি ছিল সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত। আমাদের আশা ছিল, পুলিশ বাধা দেবে না। আমরা শান্তি বজায় রেখে সম্পূর্ণ শৃৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি শেষ করে ফিরে আসব। বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আমরা শৃঙ্খলভাবে ফিরে স্টেশনের দিকে যেতে চাই। কিছুদূর যেতে আবার বাধা। আমরা সাজানো ফাঁদে পা না দিয়ে গোলমাল-হট্টগোল না করে ফিরে এসে বক্তব্য দিয়ে শেষ করি। ২০ ফেব্রুয়ারি ডিসি সাহেবের পক্ষে এডিসি স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। সামান্য গোলমাল-হট্টগোল করলে পুলিশ মওকা পেয়ে সাজানো মামলা দিয়ে ধড়পাকড় শুরু করত। পুলিশের বাধা দেশের মুমূর্ষ গণতান্ত্রিক চরিত্রকে কলুষিত করছে। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাত ফেরী ও শহীদ মিনারে ফুলদান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়নি। ওই ফুলদান কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কোনরকম অশান্তি বিশৃঙ্খলাতো হয়নি। যানজটমুক্ত চিনিকল রাস্তা বা স্টেশন রোডে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হতো না বলে আমরা মনে করি। এতে সরকারের গণতান্ত্রিক চরিত্রের ছিটেফোটা হলেও প্রকাশ পেত। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে ও অনেক জায়গায় বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যাহোক, সরকার যেভাবে বিরোধীদলের উপর অত্যাচার-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে তাতে তারা গণতান্ত্রিক সরকারের দাবি করতে পারে না। অনির্বাচিত স্বঘোষিত সরকার অবশ্য সে দাবিও করে না।

বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ফাঁকে আমি গ্রামে যাই। জয়পুরহাট থেকে যেতে রাস্তায় ২/৩ দিন কয়েক জায়গায় দোকানে বসি। আমাকে দেখে অনেক লোক জড়ো হয়। আমি বেগম জিয়া সম্পর্কে জনগণের মনোভাব যাচাই করার জন্য বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করি। জনগণের উত্তর হলো, তিনি কোন অপরাধ করেননি। একজন উস্কো খুশকো চুলদাড়িয়ালা লোক খেপে উঠে বললেন, টাকা তো খরচই হয়নি, দুর্নীতি হয় কীভাবে? দু’কোটি টাকা ছ’কোটি হয়েছে। টাকা খরচ না হলে দুর্নীতির প্রশ্ন অবান্তর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের জন্য বগুড়ায় জমি কেনা হয়েছে। বাকী টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনদিন ধরে বিভিন্ন স্পটে ও আমার গ্রামে জনমত যাচাই করে আমি নিশ্চিত হয়েছি, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির সাজা বৃথা গেছে। মানুষ বেগম জিয়াকে সৎ, নিষ্পাপ, নিরপরাধ ও ষড়যন্ত্রের শিকার বলে বিশ্বাস করে। আমার মনে হয়েছে, মুক্ত বেগম জিয়ার চেয়ে বন্দি বেগম জিয়া অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাঁর প্রতি মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেগম জিয়া নাকি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এরকম বানোয়াট ও অসত্য কথা দেশের একজন মানুষও বিশ্বাস করে না। প্রকৃত দোষী ব্যক্তিও আদালতে বলে আমি নির্দোষ। একজন পাগলকে জিজ্ঞেস করলেও পাগল বলবে আমি নির্দোষ। আমাদের গ্রামের পাশে একজন দুধর্ষ ডাকাত ছিল। ডাকাতের মা একবার আমাদের বাড়িতে আসে। বাবা কি মনে করে তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার ছেলেকে ভালো হতে বলতে পার না? ওর মা সাথে সাথে উঠানে ধানের স্তূপ থেকে এক মুষ্ঠি ধান নিয়ে শপথ করে বলতে থাকে ‘আল্লাহর কসম, আমার ছেলে চুরি-ডাকাতিতে জড়িত নয়। মানুষ হিংসা করে তার নামে বদনাম দেয়।’ ব্যাপারটি আমার চোখের সামনে ঘটে। প্রিয় পাঠক, একজন মার্কামারা অপরাধীর মা শপথ করে ছেলের অপরাধ অস্বীকার করে। বেগম জিয়া অপরাধ না করেও অপরাধ স্বীকার করে নেবেন একথা একজন পাগলও বিশ্বাস করবে না। জয়পুরহাটে আমার গ্রামে যাবার সময় এক লোক বলে, দুর্নীতি করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে টাকা কামায় করতে হবে না। তিনি চাইলে একদিনেই কোটি কোটি টাকা যোগাড় হবে। আমি গরীব মানুষ ম্যাডাম চাইলে ১০০০ টাকা আমিও দেব।
বেগম জিয়ার সাজা তাঁকে আপোসহীন নেত্রী থেকে বঙ্গজননীতে রূপান্তরিত করেছে। ব্যাপক জনপ্রিয় এই নেতার কারাবাস আমাদের ব্যথিত, ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। এ কারাবাস এদেশের মুমূর্ষ গণতন্ত্রকে চারদেয়ালে বন্দি করেছে। আমরা তাঁর দুঃখকষ্টে সমব্যাথী। আশার কথা উচ্চ আদালত বেগম জিয়ার আপিল গ্রহণ করেছেন অর্থদন্ড স্থগিত করে। অন্যদিকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে ১৩ দিন লেগেছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অশা করি, উচ্চ আদালত সামগ্রিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দেবেন।

২০১৪ সালের মতো প্রহসনের নির্বাচন দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ আর দেখতে চায় না। দেশের অর্থনীতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হতে চলেছে। দেশকে মেধাশূন্য করে পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারের। লেখাপড়া বলতে কিছু নেই। প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে জাতি মেধাশূন্য হয়ে মূর্খজাতি হিসেবে পরিচিতি পাবে, যা একটি দেশ ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ মনোযোগ দিক, জনগণ সেটাই প্রত্যাশা করে। উন্নয়নশীল অর্থনীতি ও অনুন্নয়নশীল গণতন্ত্র সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। এতে ভঙ্গুর উন্নয়ন ও নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব নয়। দলীয় স্বার্থে মোহান্ধ না হয়ে নিজেদের কল্যাণ পরিত্যাগ করে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে বিশুদ্ধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাওয়ায় লাভ হবে না। সুজন সত্যিই বলেছে, আর একবার ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করতে চাইলে দেশের পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ।

লেখক: প্রফেসর, দর্শন বিভাগ ও সাবেক ডীন, কলা অনুষদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

“ছাইড়া দে মা- কাইন্দা বাঁচি”

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের বানোয়াট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে তিনটি অর্জন করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা:

১. খালেদা জিয়াকে ‘এতিমের টাকা চোর’ হিসাবে জাতির সামনে প্রতিষ্ঠিত করা!
২. জেলে পাঠানোর পরে বিএনপি হরতাল অবরোধের ঘোষণা দিলে আগেরমত যুবলীগ-ছাত্রলীগ দিয়ে বোমা মেরে বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে জ্বালাও পোড়াওয়ে তান্ডব করতে চেয়েছিল। তখন ব্যাপক ধরপাকড় করে বিএনপির অন্তত ৫০ হাজার নেতাকর্মীকে দ্রুত বিচারে মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে নির্বাচনের আগে বিএনপিকে কাবু করে ফেলা। আর বিদেশীদের কাছে বিএনপিকে ’সন্ত্রাসী দল’ হিসাবে প্রতিপন্ন করা।
৩. বেগম জিয়া জেলে গেলে বিএনপিকে টুকরা টুকরা করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা।

কিন্তু বিএনপির স্মার্ট চালে তিনটি উদ্দেশ্য পূরণেই ব্যর্থ হয়েছেন লীগ নেত্রী হাসিনা। প্রথমত, বিএনপির তরফ থেকে ব্যাপক ভাবে প্রচার করা হয়েছে যে, অরফানেজের টাকা কেউ আত্মস্যাত করেনি, ২ কোটি টাকার মামলায় ট্রাস্টের একাউন্টে ৬ কোটি টাকা এখনও আছে। তাছাড়া টাকাটা কোনো সরকারী ফান্ড ছিলনা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার নামে এতিমখানা খুলতেই কুয়েতের আমির ঐ টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। এইমর্মে কুয়েত দূতাবাসের চিঠিও প্রকাশ হয়েছে। ফলে জনগন বুঝতে পারছে- এই মামলার রায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ছাড়া আর কিছু নহে। একথা এখন বহু আওয়ামীলীগাররাও বিশ্বাস করে। যার ফলে খালেদা জিয়ার দুর্নাম হওয়ার চেয়ে বরং আপোষহীন মাজলুম দেশনেত্রী হিসাবে সমর্থন বাড়ছে প্রতিদিন।

দ্বিতীয়ত, বানোয়াট মামলায় জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, রায় পিক্ষে গেলেও যেনো হরতাল ধর্মঘট না করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে থাকে বিএনপি। সেকথা মেনে বিএনপির হাইকমান্ড জনগনের কষ্ট উদ্রেককারী কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ফলে সরকার ‘নিজেরা সন্ত্রাসী করে বিএনপি ওপর দায় চাপানো’র প্লান বাস্তবায়ন করতে পারেনি। অবৈধ সরকার গোলক ধাধায় পড়ে যায়- এ কোন্ বিএনপি! আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ নেতারা বিভিন্নভাবে বিএনপিকে উস্কানি দিচ্ছিলো হরতাল দিতে। শত উস্কানির মুখেও বিএনপি কোনো হঠকারিতায় যায়নি। হরতাল দিলেই তো আর নেত্রী ছাড়া পেতেন না। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় দেশনেত্রী আইনী প্রকৃয়ায় খুব সহসাই বেরিয়ে আসবেন, সে বিশ্বাস আছে পুরো দেশবাসীর- অবৈধ সরকার ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। অন্যদিকে জনগনও দেখছে- বিএনপি কোনো অশান্তির পথে নাই। ফলে সাধারন ও নিরপেক্ষ জনগন বিএনপির প্রতি সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। যাকে বলে অহিতে বিপরীত!

তৃতীয়ত, রায় ঘোষণার আগের দু’সপ্তাহে বেগম জিয়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক মিটিং করতে থাকেন। সরকারের শত বাধা উপেক্ষা করে সফলভাবে নির্বাহী কমিটির জরুরী বৈঠক করেন। হাসিনার তাগুদি রায়ে কারগারে যেতে হলে ক্রাান্তিকালীণ ব্যবস্থা হিসাবে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন করার ব্যবস্থা করে যান। এসকল নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে দলে কোনো ভাঙ্গন ঘটাতে পারেনি অবৈধ লীগ সরকার। দল ভাঙ্গনের পরিবর্তে উল্টো ঘটনা ঘটেছে- দলে নেতাকর্মীদের মাঝে বন্ধন আরও শক্ত হয়েছে। আপৎকালে নিজেদের মধ্যে ছোটখাট ভুল বোঝাবোঝি ভুলে গিয়ে ইস্পাত কঠিন ঐক্য এখন দলে। বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে হাসিনা বরং উপকার করে দিয়েছেন।

মোটকথা, তিনটি পয়েন্টেই হাসিনা ধরাশায়ি হয়েছে বিএনপির কৌশলের কাছে! উল্টো, অন্যায্য জেলে খালেদা জিয়া যত দিন থাকছেন, শেখ হাসিনা তথা আ’লীগের জনপ্রিয়তা তত নিম্নগামী হচ্ছে। এখন হাসিনার দশা হচ্ছে- ছেড়ে দে মা, কেন্দে বাঁচি!
সুত্র: ফেসবুক

বাংলাদেশ আ.লীগ Vs বাংলাদেশের কসমেটিক উন্নয়ন

[নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাঠকের মতামত]

আ.লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই শিক্ষা ব্যবস্থায় ধস নেমেছে, কিন্তু কেন? অনেক নেতা নেত্রী কে প্রশ্নটা করেছি, সবাই বলেছে এটা কি বললেন আপনি- মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করছে, আগের চেয়ে অনেক বেশী জিপিএ ৫ পাচ্ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষামন্ত্রী বাম রাজনীতির লোক, উনি ভালোই করছেন এবং করবেনও ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে কেউ কেউ বলছেন- বিএনপির শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলন সাহেব নকল প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিলেন, আ’লীগ ক্ষমতায় এসে আবার এটা কি করলো? জিজ্ঞাসা করতেই মানুষটি তেলে-বেগুণে জলে উঠে বললো, আপনি সম্ভবত বিএনপির লোক, তাই আ’লীগের কোনো কাজ আপনার ভালো লাগবে না। আমি আরও অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদের সংগে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলাম কিন্তু কেউই বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। একজন শিক্ষাবিদ আমাকে আমার মতামত পেশ করতে বললো । আমি বললাম, আপনারা এমন একটি সামাজিক কাঠামো তৈরী করে ফেলেছেন, যেখানে একজন সৎ মানুষ প্রচণ্ড অসহায় এবং অসম্মান নিয়ে এই সমাজে বসবাস করছে। অথচ একজন অসৎ মানুষ প্রচণ্ড প্রভাব প্রতিপত্তি এবং সম্মান নিয়ে বসবাস করছে– এইরকম একটি সামাজিক অবক্ষয়ে আপনি কি একজন শিক্ষার্থীকে সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে ওঠো বলতে পারবেন? এবং আপনি বললেই কি শিক্ষার্থীটি সৎ নাগরিক হিসাবে গড়ে উঠতে চাইবে? না চাইবে না, বরং বিপরীতটাই হবে এবং হচ্ছেও তাই। জ্ঞাননির্ভর শিক্ষা প্রদান তখনই সম্ভব হবে যখন অর্জিত জ্ঞানের সংগে বাস্তবতার মিল থাকবে।

আ’লীগ এবার ক্ষমতায় এসে কোনও শিক্ষার্থীকেই খালি হাতে না ফেরানোর জন্য যে ভয়ংকর আত্মবিধ্বংসী, আত্মপ্রতারণামুলক প্রকল্প চালু করেছেন, তা গোটা প্রজন্মকে পঙ্গু করে দেবার জন্য যথেষ্ট। আ’লীগ নেত্রী এটা ইচ্ছে করেই করেছেন দীঘদিন ক্ষমতায় থাকবার অভিলাষ থেকে। কেননা উনি এককভাবে দেশ ও দল পরিচালনা করছেন, তেমনি দলের মধ্যে কর্তৃত্ব করছেন তার অনুগ্রহজীবীদের নিয়ে, দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন আওয়ামীলীগারদেরকে ছেটে দিয়ে। তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দুর্বল করে দিয়েছেন দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে বসিয়ে। কেননা ১৯৭৫ এর পর থেকে আ’লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলো না। যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা তাদের মত করে সবক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্জন করে যাচ্ছিল। আ’লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা দূর্বল করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবি ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। দক্ষ ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন শিক্ষিত নাগরিক কখনোই অনুগ্রহজীবী হয় না। তাই দলবাজ অনুগ্রহজীবী মানুষেরা দলীয় নেতা-নেত্রীর আশীবাদ নিয়ে দক্ষ ও নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষকে পেছনে ফেলে দিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। প্রাইমারী ও মাধ্যমিক শিক্ষার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে যাতে উচ্চ ফলনশীল জিপিএ পাঁচ প্রকল্প এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি হয়, ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষক হিসাবে চাকরি দেত্তয়া যায়, সরকারের সফলতা দেখানো যায় এবং দলবাজ শিক্ষকদেরকে নির্বাচনের সময় কাজে লাগানো যায় । পুলিশ বিভাগেও একইভাবে হাত বাড়িয়েছেন এবং তাদেরকে ব্যবহার করছেন যেখানে সেখানে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি এবং দলবাজ পরজীবী মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা গুরুতর অবস্থায় উপনীত হয়েছে, ৯৫+ শতাংশ দলবাজ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৮০ দশকে যে সব শিক্ষক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছিলেন, তারা আগামী ২/৩ বৎসরের মধ্যে অবসরে যাবেন, যেহেতু কিছুসংখ্যক জ্ঞানী শিক্ষক বেঁচে থাকতে থাকতে, ভালো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া গেলো না, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আরো নিচে নেমে যাবে, ও রেটিং খারাপ থেকে খারাপতর হবে। তারপর নৈতিক অবক্ষয়সম্পন্ন, দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষকগন যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা করবেন, তখন একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ণ্ডলিতে মারামারি, ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, অন্যদিকে নিম্ন মানের শিক্ষাসমৃদ্ধ নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তখন সমাজে ভেদাভেদ, বৈষম্য, মর্যাদাহানিকর কাজকর্ম বেড়ে যাবে, কেননা তখন খারাপের সংগে বেশী খারাপের প্রতিযোগিতা হবে। এর কিছুটা নমুনা প্রতিদিনের সংবাদপত্রে দেখতে পাওয়া যায়।

এভাবেই বাংলাদেশে অনুগ্রহজীবী মানুষের সংখ্যা এবং পরজীবী ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপকতা দিন দিন বাড়িয়ে ফেলেছেন। জীববিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী প্যারাসাইট একটি ছোট জীবাণু, এটি সাধারনত অন্য প্রাণীর উপর ভর করে বেঁচে থাকে এবং ভরকৃত প্রাণীটির কর্মশক্তি শোষন করে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। এই প্যারাসাইটগুলি তার জীবনের অধিকাংশ সময় অন্য প্রাণীর উপর ভর করে থাকে। তারা এত চটপটে যে আপনার স্নায়ুতন্ত্রের মানচিত্র, আপনার চিন্তার ফর্মগুলি ম্যাপ করতে পারে এবং তার চিন্তাগুলি আপনার মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে পারে। আপনার জ্ঞান এবং অভ্যন্তরীণ রাডার সিস্টেমকে প্রভাবিত করে, আপনি বুঝতেই পারবেন না, যে আপনি একটি প্যারাসাইট হোস্টিং করছেন। আপনি মূলত প্যারাসাইটের একটি ক্রীতদাস হয়ে তাকে জীবিত রাখবেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষগন বিশুদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুশীলন করে নিজেদের পরজীবী থেকে মুক্ত রাখে। শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ছয় মাস পরপর এটা পালন করে নিজেকে পরিস্কার রাখে।

কিন্তু বাস্তব সমস্যাটি হয় তখন যখন তাদের অতিবৃদ্ধি হয়, কারন সমাজে প্যারাসাইটের অতিবৃদ্ধি ঘটেছে, এই অবস্থা কে parasitic stress বা পরজীবি চাপ বলা হয়ে থাকে । বিজ্ঞানীর পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন প্যারাসাইটের চাপ উঁচু মানের গণতান্ত্রিক দেশে সবচেয়ে কম এবং কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি। এটা বর্তমানের মত পরিস্থিতিতে বাড়ে এবং তারপর খারাপ থেকে খারাপতর হবে এবং অবশেষে যদি না সভ্যতার পতন ঘটে তবে অর্থনীতির পতন হবেই। সামাজিক প্যারাসাইটটি নিজেই হোস্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে (হোস্ট যখন দুবল হয়) এবং একই সামাজিক বৃত্তের মধ্যে অন্য ব্যক্তির সংক্রামিত হওয়ার জন্য এগিয়ে যাবে।

আ’লীগ এবং দলীয় অনুগ্রহজীবী
যেহেতু আ লীগ বেইমানী করে ক্ষমতায় বসে আছেন, (অবশ্য অনেকে এটা চালাকি বলে, আর আ লীগ বলে কৌশল বা রাজনৈতিক কৌশল)। আমি বেইমানী বলছি এই কারনে যে, জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী সহ অন্যদেরকে বলেছিলেন যে, নিয়মরক্ষার জন্য নিবাচন করতেই হচ্ছে, খুব শীঘ্রই আর একটা নিবাচন হবে। আ লীগ সেটা করেননি, এটাকে জালিয়াতিও বলা যেতে পারে। আ’লীগের বেইমানী করার আরও রেকর্ড আছে, সেটা করেছিল এরশাদের সময় এবং বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের সংগে। আগের দিন চট্রগ্রামে এক জনসভায় বললেন, এরশাদের এই নির্বাচনে যে যাবে, সে হবে “জাতীয় বেইমান”। ঠিক তার পরের দিন আ’লীগ নেত্রী নিজেই এই উপমাটা নিয়ে নিলেন। আ’লীগ নেত্রী কেন এটা করেছেন – সেটা উনিই সঠিকভাবে বলতে পারবেন । এই কথাগুলো টেনে আনার কারন হলো, উনি সম্ভবত নিজের দলের মানূষের সংগে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন না । উনি অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা দেশের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেন। উপরের দিকের যে ক্ষতিগুলো উনি করেছেন, সেগুলো আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবীরা বুঝতে পারবেই না, বরং তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কিছু বললে বা লিখলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি হবে :
১) যদি নেত্রীর গায়ে লাগে, তাহলে, উনি নিজেই ঐ ব্যক্তিকে তুলোধুনো করবেন এবং ঐ ব্যক্তির বাংলাদেশে বেচেঁ থাকা দায় হবে, ঐ ব্যক্তিটি আ লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী হলেও।
২) ৫৪ বা ৫৭ ধারায় ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হবে কমপক্ষে ৬৫ টি (প্রতিটি জেলা আ লীগ থেকে ১টি করে এবং কেন্দ্রীয় আ লীগ থেকে ১টি),
৩) পুলিশের তরফ থেকে পুলিশ স্বতপ্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে রাখতে পারে ।
৪) র‌্যাব চাইলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলতে পারে ।
৫) নাম পরিচয় বিহীন বিশেষ বাহিনী ঐ ব্যক্তিকে গুম করে রাখতে পারে
৬) হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে ঐ ব্যক্তিকে আদালতে এসে সরি বলে কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে বলতে পারে ।
৭) মিঃ আকন্দের মত আইনজীবীদের কেউ সংক্ষুুব্ধ হয়ে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে।

এখন আপনারাই বলুন এইরকম একজন অনুগ্রহজীবী পরিবেষ্টিত নেত্রীর বিরুদ্ধে কে লিখতে যাবে। আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী শিক্ষক, উপাচার্য, আইনজীবী, বা বুদ্ধিজীবীরাও কখনো তাকে পরামর্শ দিতে সাহস রাখেন না। বরং উনারা নেত্রীর কাছে শুনতে যায় অথবা চেহারা দেখাতে যায় যদি কোনো ভালো পজিশন পাওয়া যায়। যেহেতু নেত্রী তাদের আদর্শ, তাই আ’লীগের দলবাজ অনুগ্রহজীবী, যে যে পদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আছেন, তারাও একই কাজ করছেন অধীনস্ত কমচারীদের সংগে।

একদিকে ক্ষমতাগর্বী রাজনীতিক এবং দলবাজ অনুগ্রহজীবী নাগরিক, অন্যদিকে গুজবপ্রবণ অক্ষম আমজনতা। অধিকন্তু, সব সেক্টরে, দক্ষ ও নীতি–নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে পেছনে রেখে দলবাজ অনুগ্রহজীবীদের সামনে নিয়ে বলছেন ২০২১ সালের মধ্যে এদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করবেন!! পারবেন না বরং বিপরীতটাই হবে, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন যে কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক দলগুলি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্টতই কর্তৃত্ববাদী রোগের বিস্তার লাভ হয়। যখন কর্তৃত্ববাদী রোগের অতিবৃদ্ধি হয়, তখন শাসনের উপর রোগের সরাসরি প্রভাব দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় সিস্টেমের উপর প্রভাব ফেলে এবং অনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র বা দুর্বল রাষ্ট্র ব্যাবস্থা চালু হয় ফলে ঔপনিবেশিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং পরিশেষে ঔপনিবেশিকতাবাদ জন্ম নেবে।

যেহেতু আ লীগ গত ১০ বৎসরে প্রায় প্রত্যেকটি প্রাতিষ্ঠানের সক্ষমতা ধংস করে ফেলেছে দলবাজ অনুগ্রহজীবী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলিতে বসিয়ে। তাই সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ এখন পাশ্ববর্তী দেশের সক্ষম মানুষের বাজারে পরিণত হয়েছে। গামেন্টস শিল্প তার বড় প্রমান। তদুপরি পার্শবর্তী দেশকে কড়িডোর দিয়ে দেওয়া। নিজ দেশের সক্ষমতা দূর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশকে বড় বড় বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া কোনো অবস্থায়ই দেশপ্রেমের লক্ষন নয় । আ’লীগ পাশের বাড়ির কৃপণ বড়লোকের কাছে তার মেয়ে বিয়ে দিয়েছে টাকার লোভে। সুতরাং আ’লীগের অসুবিধা হবে না, কিন্তু তাদের মেয়ের শান্তি নষ্ট হবেই। আাপনারা শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য দেশের ক্ষতি করেছেন, এজন্য Natural Justice আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে । আপনাদের ভিশন ২০২১ বা ভিশন ২০৪১ এর মুলা সহ আ’লীগ সংগঠনটির অস্বিত্ব হুমকির সম্মুক্ষীণ হবেই।

আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন এই ফর্মটি পূরণ করে