Category Archives: মতামত

সংলাপের বাতাস : রাজনীতিতে হঠাৎ ইউটার্ন

Content Protection by DMCA.com
শামসুল আলম
 
২৯ অক্টোবর ২০১৮। বাংলাদেশের রাজনীতি জীবনে নানা ঘটনাবহুল দিন। এটা একদিকে বর্তমান সরকারের শেষ কার্য দিবস, কাল থেকে শুরু হবে নির্বাচনকালীন সরকার! একই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি দুর্নীতি মামলার বিতর্কিত রায়ে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়, অবশ্য আগের দিন রায়ের বিরবণ পত্রিকায় আগাম প্রকাশ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে; বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আত্মপক্ষ সমর্থন করার সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি। দু’দিন ধরে নৌমন্ত্রী শাজাহানের আজ্ঞাবহ পরিবহণ শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে জনগনের সাথে সন্ত্রাস করে রাস্তা দখলে রাখার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো যে, বিএনপি যেনো রাজপথে না আসতে পারে। বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ইভিএমের বিধান রেখে আরপিও পাশ করে সরকারের কেবিনেট! এরি মাঝখানে বিকালে ঘোষণা আসে, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার।
 
১. নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের দাবী করে চিঠি গ্রহণ করে বেশ কিছু সময় শীতল থাকার পরে হঠাৎ সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় নড়ে চড়ে বসেছ সবাই। এটাকে ‘রাজনীতির ইউ টার্ন’ হিসাবেও দেখছে অনেকে। শুধু সংলাপ নয়, ঐক্যফ্রন্টকে একেবারে নৈশভোজের দাওয়াত! বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়ার রেওয়াজটা উঠে গেছে অনেক দিন! সেখানে সরকারের এই অবস্থান বদলে সচিবালয় সহ সদ্ধিগ্ন মহলগুলো ভাবনায় পড়ে যায়! হঠাৎ কেনো এই সংলাপের ঘোষণা। তবে কি সরকারের সুমতি হয়েছে? তবে এটা কিন্তু শেখ হাসিনার নীতি ও চরিত্রের সাথে যায় না।
 
২. তাহলে কি প্রবল বিদেশী চাপে এই সংলাপ? এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বোদ্ধারা সকলেই অবহিত আছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্বেগের কথা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের ওপর ভর করে পূর্ন মেয়াদের একটি সরকার মেরে কেটে ক্ষমতায় থাকার পর ভুলের খাতায় অনেক কিছু জমা হয়েছে। এ অবস্খায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে উন্নয়ন পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ বেশিরভাগ বিদেশী বন্ধুরাই চায় বাংলাদেশে একটি জনগনের শাসন কায়েম হোক; আর যেনো পাঁচই জানুয়ারীর মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। একটি অংশগ্রহনমূলক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রবল। বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র ভারতও ২০১৪ সালের অবস্খান থেকে সরে এসে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দরকার ইত্যাদি কথা বলছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতকে পাশে ঠেলে শেখ হাসিনার সরকার ও দল উদভ্রান্তের মত দৌড়াচ্ছে চীনের দিকে। নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য এটি অসহণীয়। সার্বিক অবস্খা উত্তরপাড়া থেকেও সংলাপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এহেন অবস্থায়, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বক্ষণে নৈশভোজ-সংলাপে আদৌ কি ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে সবার কৌতুহল!
 
৩. তাহলে কি সংলাপ দেশে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে? বিরোধী দলের ৭ দফা দাবী মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাটছে? সরলভাবে তেমনটা আশা করা হবে নেহায়েত বোকামী! শেখ হাসিনা কখনই বিরোধীদের সম্পূর্ন দাবী মেনে এমন কোনো নির্বাচনের উদ্যোগ নিবে না, যাতে তিনি হেরে যাবেন। কেননা, মুখে যাই বলুন না কেনো, তিনি ভালো করেই জানেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামানত বাজেয়াপ্তই তার দলে আশু নিয়তি। আর সেটা ঘোরাতেই যত প্রকারের নির্বাচন প্রকৌশল (election engineering), নিজ দলীয় লোক বেছে বেছে ভোট অফিসার নিয়োগ করা, বিরোধী দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইভিএম চেষ্টা, ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি প্রধানকে বিতর্কিত রায়ে একের পর এক সাজা প্রদান, বিরোধীদের গায়েবী মামলার দৌড়ের উপর রেখে নিজেরা নির্বাচনী কাজে নেমে পড়ার মত নির্লজ্জকর কাজে ব্যস্ত রয়েছে আ’লীগ।
 
৪. প্রশ্ন উঠতে পারে এই সংলাপের মানে কি? ঐক্যফ্রন্ট সংসদের বিরোধী দল নয়, বিগত সরকারও নয়, এমনকি এই ব্যানারে কখনও নির্বাচনে অংশও নেয়নি। তাহলে তাদের চিঠির বরাতে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ সংলাপে উদ্যোগী হলে কেনো? এখানেই রয়ে গেছে বিরাট উত্তর। বিএনপির নেতৃত্বে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ানরা আছে, এটা প্রায় সর্বজনবিদিত। তাই তাদের অনুরোধ, উপরোধ, চাপ সবই কাজ করেছে এই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিতে। তাছাড়া, গতকালই বামদলীয় জোট ঘোষণা করেছে, যেনো তেনো প্রকারের নির্বাচনে তারা অংশ নিবেনা। প্রতিবেশীর পিছুটানের ফলে ৫ জানুয়িারির মত বিনাভোটের নির্বাচন এবারে সম্ভব নয়। এ অবস্খায় চাহিত আলোচনা ছাড়া বা একটি নূন্যতম সমঝোতা ব্যতীত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হবে, তা গণঅভ্যুত্থাণের রূপ নিতে পারে, এটা বোধ করি ফ্রন্টের প্রস্তুতি থেকে সকলেই অনুধাবন করেছেন। আগামীকাল থেকে শেখ হাসিনার সরকার যখন নির্বাচনকালীন সরকার, তাই বিরোধী দলের কথা শুনতে তারা বাধ্য। আ’লীগ যদি সরকারে না থাকে, তবে বৈঠকে বসার কোনো প্রয়োজন হতো না, কিন্তু সরকারে থাকলে বৈঠক করতে হবে, শুনতে হবে কথা। নইলে নির্বাচন হবে কি করে, সংঘাত অনিবার্য!
 
৫. আরেকটি প্রশ্ন- সংলাপই যদি করবে, তাহলে এত তাড়াহুড়া করে আকতারুজ্জামানের ‘জাজমেন্ট মেশিন’ থেকে এতদ্রুত আউটপুট বের করে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ৭ বছর কারাদন্ড দেয়া হলো কেনো- যেখানে পুরো বিচার প্রকৃয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ? সংবিধান লংঘন করে কেনো এই রায়? এটার অনেক উত্তর থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার মনখুশি রায় এটা। এটা দিয়ে তিনি খুশি। তিনি এখন খালেদা জিয়ার সাথে কোনো বৈঠকে বসতে রাজী নন, যদিও সেটাই ছিল তার নিস্ক্রমনের জন্য সহজ রাম্তা। অনেকেই মনে করেন, বেগম জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব যতটা না রাজনৈতিক, তারও চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত! শেখ হাসিনার ক্ষোভ হলো, খালেদা জিয়া কেনো এত সুন্দর, কেনো এত লোক তাকে পছন্দ করে, কেনো তার এত বেশি ভোট! তাই তিনি খালেদা জিয়ার মত শক্তিশালি প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে বসার চাইতে তাকে কারারুদ্ধ রাখতেই বেশি তৃপ্ত বোধ করছেন। এই রায়ের দ্বারা হাসিনা তার রাগ, জেদ, ক্রোধ ও সংকল্পের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। ভবিষ্যতে যদি তিনি ক্ষমতায় ফেরত আসতে নাও পারেন, অন্তত খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দেয়ার পথ তৈরী করে নিলেন। তিনি ভালো করেই জানেন, সরকার পরিবর্তন হলে আজকের এই আপীল বিভাগই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এসব রায় ও সিদ্ধান্ত রিভিউ করে সব বাতিল করবেন দ্রুততম সময়ে। তাই এখন যা কিছু পারা যায়, নিজের হাতেই করে নিয়ে তৃপ্ত হতে চান তিনি!
 
৬. এটা কি এমন হতে পারে যে, হাসিনা দীর্ঘকালের অবৈধ সরকারের দুর্নাম ঘুচাতে নিজকে ‘হঠাৎ গণতন্ত্রী’ প্রদর্শনের জন্য সংণলাপের এই দৃশ্য মঞ্চায়ন করলেন? কিংবা নিজেকে মহান দেখাতে? বিগত নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনা নিজেই গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডিনারে, সংলাপে, এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে। কিন্তু এ টেলিফোন কলের আগেই তিনি ছ’শ কোটি টাকা ব্যয় করে নিশ্চিত করেছিলেন, বেগম জিয়া যেনো সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেন (এর দলিল হয়ত দেয়া সম্ভব নয়, কিন্তু জীবন্ত মানুষ সাক্ষী আছে)! তার মানে, ওটা ছিল লোক দেখানো সংলাপের ডাক। এবারেও তেমনটা না ঘটলেও যাতে সংলাপের পূর্ণ সুবিধা বিরোধীরা না পায়, সে চেষ্টা তার অবশ্যই থাকবে!
 
৭. তাহলে সংলাপের ফলাফলটা কি?
ক) সংলাপ দৃশ্যমাণ শোভন হবে। শেখ হাসিনা হয়ত ফ্রন্টের আংশিক কিছু দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার কথা বলে ক্যামোফ্লেজ তৈরী করবেন, যাতে করে ফ্রন্টের মধ্যে বিভেদ লাগে বা ভাঙনের মুখে পড়ে। হয়ত বলবেন, ‘সংবিধান মোতাবেক আমি সরকারে থাকব, পদত্যাগ করার কোনো নিয়ম নাই, সংসদ চালু নাই তাই ভাঙার কোনো দরকার নাই, সংবিধান মোতাবেক আমার অন্তবর্তী কেবিনেটে আপনারা ৫জন মন্ত্রী দিতে পারেন, সে জন্যই কেবিনেট ভাঙ্গিনি (১০% কোটায় আসুন) “ এতে করে ফ্রন্টের মধ্যে কলহ লাগতে পারে।
 
খ) বলবে, বাকী সব দাবী এভাবে মানব- নির্বাচন কমিশন পূর্নগঠন করতে গেলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। তাতে রাজী থাকলে চেষ্টা করা যাবে, নাম দেন। তখন অন্য রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে বৈঠক করার সুযোগ তৈরি হবে, আর এতে নির্বাচন ঝুলে যাবে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আছে, তাদের ছাড়া বাকী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে, তবে আইনি প্রকৃয়া মেনে। এতে করে সময় লাগবে। যেভাবে রায়গুলো আছে, দেখা গেলো এমন সময়ে বেগম জিয়া ছাড়া পেলেন যে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেও পারলেন না, বা প্রচারণাতেও সামিল হতে পারনে না। এভাকে প্রথম দফা মানার গেম চলতে পারে।
 
খ) ইভিএম সিস্টেমে নির্বাচন করার মত কোনো প্রস্তুতি ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের না থাকার পরও কেবিনেটে আজ তা পাশ করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে ইনাম হিসাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিল পাশ করার সুযোগ দিলো সরকার। ইভিএম আইন পাশ করতে চাইলে বিদায়ী (বিনাভোটের) সংসদেই পাশ করতে পারত। এত দেরী করে সংসদশূন্য অবস্থায় কেনো? কিন্তু সেটা যখন করেনি, এখন করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে করতে হবে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাহলে এই ইভিএম বিতর্ক জিইয়ে রাখলো কি বিরোধীদের টেনশন বাড়ানোর জন্য? এখন সংলাপের সময় হয়ত বলবে- ইভিএমের দাবীও মেনে নিলাম। যান আরেক দফা হলো তো!
 
গ) অন্যান্য দাবীর মধ্যে সেনাবাহিনী নামানো প্রসঙ্গে বলবে রাজী, তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে, সাথে সিভিল ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবে! বলবে সভাসমাবেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। বলবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলনে যারা আছে, সবাইকে মুক্তি দেয়া হলো। দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকেও রাজী। কারও কোনো রাজনৈতিক মামলা থাকলে নির্বাচনকালে স্থগিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় সকলের নামে ফৌজদারী অপরাধের মামলা। পুলিশ যেভাবে মামলা সাজায় তাতে রাজনৈতিক মামলা প্রমান করা বেশ জটিল।
 
বলবে, তাহলে ৭ দফা দাবীর প্রায় সবই মানা হলো, এবার ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুন। এ নিয়ে বাগড়া দিতে যাবে কে? কেউ অবশ্য বলছেন, হাসিনা জানে, তাকে বিদায় নিতে হবে, এটা নিশ্চিত। এখন তিনি চান সেইফ এগ্জিট। এ নিয়ে বিএনপির ওপরে তার আস্থা নেই, আস্খা আছে ড. কামালে। ব্যারিস্টার মইনুলে সমস্যা আছে, তাই জেলে রাখা হলো। জাফরউল্লাহ আশ্বাস দিয়েছেন প্যাসেজ দিবেন, তাই তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারো কারো মতে, হাসিনা সময় ক্ষেপণ করছেন। তবে কি সংলাপের নামে নিরাপদ প্রস্থানের পথ পরিস্কার করা হলো?
 
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি ফ্রন্ট-রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি ফাঁদে পড়লো? তাছাড়া ফ্রন্ট নিয়ে আগানোর কুফলে কি ২০ দলীয় জোট অস্তিত্বের সংকটে পড়বে? এ অবস্থায় কি নির্বাচন হবে, নাকি ফ্রন্ট বয়কট করবে? নাকি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব এবং উপরে লিখিত সম্ভাবনাগুলো সবই ঘটনাত্তোর পরিস্কার হবে। সংলাপ শেষে আগামী শুক্রবার নাগাদ বোঝা যাবে এর ফলাফল, তত দিনেও ১০ দিনের আল্টিমেটামের কয়েকদিন বাকী থাকবে। তখন বলা যাবে ফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে কি না। এর আগে যা কিছু বলা, সবাই আন্দাজ এবং বিশ্লেষণ মাত্র! তবে আপাতদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা বিদেশী চাপে পড়ে, উত্তর পাড়ার মতামতে, এবং জনগণের কাছে নিজের ‘চেষ্টার ত্রুটি করিনি’ বোঝাতেই এই সংলাপের হঠাৎ আয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি এই সংলাপের পথ ধরে নির্বাচনে যায়ও ফ্রন্ট তবে দেখা যাবে- শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হয়ে আছেন, তার সজ্জিত প্রশাসন ও পুলিশ সবাই কর্মরত, রিটারর্নিং অফিসার ও পোলিং-প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ করা ব্যক্তিরা কাজ করছে, ইলেকশন কমিশনার ২/১টা বা পুরোটাই বদলে দেয়া হলো কিন্তু তার সচিবালয় আনটাছ রাখা হলো (বিশেষ করে সচিব হেলালউদ্দীন)! এমতাবস্থায়, এইরূপ পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী প্রশাসন দিয়ে আর যাই হোক, সুষ্ঠু ভোট গ্রহন ও ফলাফল প্রকাশ অসম্ভব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রশাসন নিরপেক্ষকরণ বলতে যা বোঝায়, তা করতে হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে। আর সেটা তো তিনি সংলাপের ভেতর দিয়ে রাজী হবেন না। তা অবশ্য কেউ হয়ও না। তার জন্য দরকার হবে – রাজপথের আন্দোলন ও গণবিল্পব। বর্তমানে বিরোধী দল, তথা ঐক্যফ্রন্টের সেই প্রস্তুতি থাকলেও ডিনার-সংলাপে হয়ত সেটা কিছুটা পিছিয়ে যাবে, বিশেষ করে ২ তারিখের ঢাকায় জমায়েত। তবে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও রাস্তায় নেতাকর্মী নামিয়ে যেকোনো সময় নির্বাচন বয়কট করে অলআউট আন্দোলনে যেতে পারবে। এদেশের ইতিহাস যা বলে, তাতে নাগরিকের ভোটের অধিকার রাজপথেই অর্জিত হবে। বেগম জিয়ার সাথে মামলাবাজি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার হাতের কার্ড সব খেলে ফেলছেন। আর এতে করেই জনতার বিজয়ের আশা জাগছে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

মাসুদা ভাট্টি: নামে মুসলিম আসলে হিন্দু, পুরুষ থেকে রূপান্তরিত এক বিকৃত রুচির নারী!!

Content Protection by DMCA.com

আহমেদ সাইমুম
হালের গোয়েবলস সাংবাদিক(!!) মাসুদা ভাট্টির যাপিত জীবন ও তার কর্মাচার নিয়ে কথা বলা বা আলোচনা সমালোচনা করার মত নূন্যতম ইচ্ছে আর রুচিবোধ কোনটাই নেই আমার। এসবে আমার খুবই ঘেন্না লাগে। এটা আমার জন্যে ভীষণ রকম বেমানানও বটে। আর এ শ্রেণীভূক্ত কারো জীবনাচার নিয়ে কথা বলাটাতো সাংঘাতিক রকম অপছন্দ আমার। তবে উনি যখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণকারী দু:শাসনের দস্যু দানবদের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরেই ওনার মেধা মনন শ্রম ঘাম ঝরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বাধিকারকে দু’পায়ে মাড়িয়ে তাড়িয়ে একপেশে গোয়েলবসীয় গোয়ার্তুমি চালিয়েই যাচ্ছেন ঠিক এমনি এক সময়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে অযাচিত প্রশ্নে বিব্রত করে দেশজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়ে বিরাটাকৃতির সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেছেন ঠিক তখনই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জ্ঞাতার্থে যৎ সামান্য তথ্যাদি উপস্থাপন নাদান নাগরিকের জন্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে।
#ভাট্টি সম্পর্কে সাধারণের যেটুকু জানাশোনা আছে তার কয়েক রত্তি সত্য হলো:
#ভাট্টি নানা স্থানে ঘুরা ফেরা করেছে। পাকিস্তানেও ছিলো। নিজের শারীরিক ও মানসিক চরিত্র নানা সময়ে পরিবর্তন করেছে। শারীরিক চরিত্র বলতে সে তার লিংগ পরিবর্তন করেছে। (বায়োলজিক্যালি) লিঙ্গান্তরের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হওয়া সম্প্রদায়ের একজন!
#ভাট্টি সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে বিশেষ সম্প্রদায়ের চিহ্ন টিপ পরেন!
#ভাট্টি বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক!
#ভাট্টি লন্ডনে গিয়ে এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করে তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেয়!
#ভাট্টি লন্ডনে থাকাকালে পূর্বের স্বামীকে ত্যাগ করে বহুগামীতায় মেতে ওঠেন! সে পলিগ্যামিষ্ট ও হেট্রো সেক্সুয়াল। সে নারী ও পুরুষ উভয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত বিষয়।
#ভাট্টির নামটিও মেইড বাই পাকিস্তান!
#ভাট্টি বাংলাদেশ বিরোধী জঘন্য মিডিয়ার লেখক!
#ভাট্টি ভারত ও ইসরাইলের পেইড এজেন্ট সাংবাদিক সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন!
#ভাট্টি যখন সাম্প্রদায়িক আওয়ামী রাজনীতিরর জংগী কর্মী হিসাবে একের পর এক বুদ্ধিবৃত্তিক কু প্রবণতা তৈরি করে বাংলাদেশকে রক্তের হলি খেলার দিকে নিয়ে যায় তখন অবশ্যই সবাইকে ভাবতে হবে। সে রাশিয়ান ব্লকের ছেলে এবং আওয়ামীলীগ এর প্রোপাগান্ডা টিমের সদস্য। রাশিয়ায় কমিউনিজম এর পতনের সময় ভাট্টি ইয়লতসিনের পক্ষে কথা বার্তা বলতো। আওয়ামীলীগ, রাশিয়া ও ভারতের প্রডাক্ট এমন একজন মহান ব্যক্তিকে কিভাবে চরিত্রহীন বলে। এই ভাট্টিরা গনতন্ত্র এর বিপক্ষে সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বাহিনী স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।
#ভাট্টি বেশ দিন লন্ডনে বসে শোষক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো কুশীলবদের অন্যতম বাইজী!
#ভাট্টি “লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেশ বিরোধী কথিত বুদ্ধিজীবী আগাচৌ’র রাখায়েল ছিলেন!
যার কারনে আগাচৌ’র পরিবারে যথেষ্ট অশান্তিও নেমে এসেছিল!’
#তসলিমা নাসরিন ভাট্টি চরিত্রগত দিক নিয়ে তার এক বইয়ে আলোচনা করেছেন বিস্তারিত।#ব্যারিস্টার মঈনুল ভাট্টিকে ভদ্র ভাষায় চরিত্রহীন বলেছেন টিভি টকশো’তে আর তসলিমা নাসরিন ভাট্টির অসতী চরিত্রের পোস্টমর্টেম তুলে ধরেছেন- প্রমাণ দিয়েছেন তার লেখা বইয়ে।
#বুড়ো শালিক আগাচৌ ভাট্টির ফুলেল চরিত্র নিয়ে কথা নাবলে থুতনী ডুবিয়ে মধু নিয়েছেন!
সর্বোপরি ম ভাট্টি গং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে তিরষ্কার নাকরে ধন্যবাদ দিতে পারেন বা দেয়া উচিৎ এজন্যে যে,তিনি তার নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধের কারণে ভাট্টির নগ্ন রূপের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন করে দেননি!!
#একটা মানুষ পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয় কি পরিমাণ বিকারগ্রস্ত হলে তা ভাবতেই যে কারো আসবে বমি-আর ঘৃণায় অরুচিতে বিকল হয়ে যাবে মগজ!!

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

কেন গোয়েন্দা প্রধান সামরিক অফিসার ও আইজিপিদের শাস্তি হলো?

Content Protection by DMCA.com

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
মর্মান্তিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকালে এনএসআই এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে এবং অন্য এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার ডিজিএফআই-তে থাকলেও তাদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তৎকালীন এনএসআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনাম চৌধুরী বা ডিজিএফআই প্রধান কেন গ্রেপ্তারই হন নাই, শাস্তিতো দূরের কথা। আর কেনই বা বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশের সাবেক ৩জন প্রধানকে অন্যান্য মেয়াদে শাস্তি দেয়া হলো? বিষয়টি নিয়ে গোপন এক অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের পাইলসের সমস্যা জটিল আকার ধারন করায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং যথারীতি তার অপারেশনও হয়। এ সময় এনএসআই-তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ডিরেক্টর এক্সটারনাল ব্রি জেনারেল এনাম চৌধুরী। তার সময়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। যথারীতি তিনি আগের দিনও গোয়েন্দা রিপোর্ট পান; কিন্তু সেই রিপোর্ট কোথায় সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা তো করাই হয়নি; তাকে বরং প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয় পরবর্তীতে। এমনকি ফিল্ড রিপোর্টের দায়িত্ব যে সকল অফিসারদের ছিল তাদেরও জিজ্ঞেস করা হয় নাই।

ঠিক একই অবস্থা মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারের বেলায়। তিনি ডিজিএফআইতে থাকাকালে ছিলেন একটি ব্রাঞ্চের ডিরেক্টর হিসেবে, তিনি তার প্রধানকে রিপোর্ট করেছিলেন কি না, বা রিপোর্ট করা তার দায়িত্ব ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারনে এই দুই সামরিক অফিসারকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মামলার মত করেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্রি জেনারেল রহিম সরকার প্রধানের বিনা অনুমতিতে গোপনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী বাবর ও তার এনএসআই-র অন্যান্য কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতায় তার মিশন একদম শেষ পর্যায়ে ভণ্ডুল করে দেয়া হয়।  এমনকি তার চাকুরীটি পর্যন্ত এক্সটেনশন  করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল নাসিম সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেনারেল নাসিমকে আটক করে রেখেছিলেন। অনেকেই এই ঘটনার পাল্টা হিসেব হিসেবে এই শাস্তিকে মনে করে থাকেন।

তবে কোন কোন মহলের মতে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সতর্ক বার্তা দিতে যেমন এই দণ্ডাদেশ, তেমনি যারা এখন আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তাদের জানান দেয়া যে, যেকোন মুল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে নইলে আজকে যেমন ভুয়া অজুহাতে শাস্তি হয়েছে, আগামীতে বর্তমানের পুলিশ বা সেনা অফিসারদের শাস্তি দিতে আগামীর সরকারদের (যদি আওয়ামী না থাকে) কোন মিথ্যা অজুহাত খাঁড়াও করতে হবে না। তাই সবাই যেন সতর্কভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখে।

Content Protection by DMCA.com

গোলামতন্ত্র মানবেন? নাকি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মুক্তির পথ বেছে নেবেন?

Content Protection by DMCA.com

।।এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের কাছে আওয়ামী লীগের ভাষায় বললে ‘নালিশ’ করতে যান শেখ হাসিনা। দুই ঘন্টার নালিশে তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকার, যারা মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলো তাঁদের বিরুদ্ধে হেন কথা নাই, যা বলেন নাই।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা তিনি বলেন তা বর্ণিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেঃ “SHEIKH HASINA SPENT A CONSIDERABLE AMOUNT OF TIME EXPLAINING WHY THE PARTY’S CALL FOR SOCIALISM WAS REALLY NOT/NOT A CALL FOR SOCIALISM. SHE SAID THAT SHE PERSONALLY HAD NO SYMPATHY FOR SOCIALISM, THAT SHE KNOWS THAT IT IS A FAILED SYSTEM, EVERYWHERE.”

আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতির খোঁজ খবর রাখি, তারা ভালো করেই জানি আওয়ামী লীগের ঘোষিত চার মূলনীতির কথাঃ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর বাঙালী জাতীয়তাবাদ।

গণতন্ত্রের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সর্বজনবিদিত, ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ভোট ডাকাতির নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র দুটি দুই পথে। যার প্রমাণ তারা দিয়েছে ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানিয়ে, ১৯৮৬ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে, ১৯৯৬ সালে নাসিমকে দিয়ে সামরিক ক্যু করানোর চেষ্টা করে, ১৭৩ দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে পরে ২০১১ সালে নিজেরাই তা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে, এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থীকে বিনাভোটে নির্বাচিত করে।

সমাজতন্ত্র যে হাসিনা মানে না সে কথা তো নিজ মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন, গণতন্ত্র মানেন না তা কাজে প্রমান করে দেখিয়েছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটা এক্সক্লুসিভ জাতীয়তাবাদ, তাই তাদের নিজেদের আদালতই এই জাতীয়তাবাদকে খারিজ করে দিয়েছে; ফলস্বরূপ টিকে আছে জিয়াউর রহমানের দেয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়, তাই-ই জানে না শেখ হাসিনা, জানলে তার এতটুকু ধারণা থাকার কথা যে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করে মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর জন্য ছয় কোটি সরকারি অনুদান দেয়া পরষ্পরবিরোধী এবং কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় উলুধ্বনী দেবার বা দূর্গা দেবী গজে চড়ে আসার তথ্য দেয়া হাস্যকর।

তাহলে আওয়ামী লীগের নীতি কি?

আওয়ামী লীগের একমাত্র নীতি হচ্ছে গোলামতন্ত্র। এই গোলামতন্ত্রে শেখ পরিবার হচ্ছে সর্বশক্তিমান এক রাজ পরিবার, আর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী এই পরিবারের গোলাম।

আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি-নেতা কিংবা তৃণমূলের একজন কর্মী হতে হলেও আপনাকে এই গোলামি স্বীকার করে নিতে হবে। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে এই পরিবার এবং তাঁদের কৃতদাসেরা যা বলবে তাই-ই শুধু সত্য, বাকি সব মিথ্যা।

যেমন ধরুন তারা আপনাকে বলবে এসকে সিনহা একজন দুর্নীতিবাজ, কারণ সে মীর কাসেম আলীর ভাই এবং সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে মীর কাসেম আলী ও সালাউদ্দিন কাদেরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না যে, যদি এসকে সিনহা টাকা খেয়েই থাকে তবে সে কেন মীর কাসেম আলী আর সালাউদ্দিন কাদেরের বিপক্ষে রায় দিল?

একমাত্র নিকৃষ্ট গোলাম ছাড়া কেউ এই দলের সাথে যুক্ত হতে পারবে না। এইটাই এই দলের একমাত্র নীতি। আর কোন নীতি নাই। আপনি যদি এই গোলামি মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না। এইজন্য আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষনেতাদের ৬০-৭০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে লীগ করতে পারে না। এই জন্য ডঃ কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর আহমেদরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজপথে টিকিয়ে রাখা মোস্তফা মহসিন মন্টুকে গণফোরামে যোগ দিতে হয়; হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গকে মৃত্যুর আগে বিএনপি’তে যোগ দিতে হয়, লিয়াকত-হান্নানকে হারিয়ে যেতে হয় আর মতিউর রহমান রেন্টুকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বই লিখে দেশান্তরী হতে হয়।

আজকে বাংলাদেশের যে সংকট, এর অন্যতম প্রধান কারণ এই গোলামতন্ত্র। আওয়ামী লীগ মনে করে তাঁদের সাম্রাজ্যে সবাইকে তাঁদের গোলাম হতে হবে। তাই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর তাদেরই মনোনীত প্রেসিডেন্ট শাহবুদ্দীন আহমেদকে এরা গালাগালি করবে, কেন সে ২০০১ সালে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করলো না।

একই কারণে নিজেদেরই মন্ত্রী একে খন্দকার যখন যুক্তি-তর্কের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই, তখন সে যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই হোন না কেন, তাঁকে রাজাকার বলতে দুই সেকেন্ডও সময় লাগে না শেখ হাসিনার।

আজকে এসকে সিনহার হাসিনার প্রিয়পাত্র থেকে চিরশত্রুতে পরিণত হওয়ার পেছনেও দায়ী এই গোলামতন্ত্র। বিচারপত্রি সিনহা যখন সাগর-রুনীর হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, তনু হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের টাকার হদিস জানতে চেয়েছেন, বিচারকদের উপর আইনমন্ত্রীর খবরদারি বন্ধ করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআই দিয়ে রায় লেখানো বন্ধ করতে চেয়েছেন- তখন শেখ হাসিনা আর মেনে নিতে পারেন নাই।

কারণ শেখ হাসিনা ভালো করে জানেন যে কেঁচো খুড়তে দিলে যে সাপ বের হবে, আর সেই সাপ দেখলে এই দেশের মানুষ আগামী একশো বছরে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।

গতকাল নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সূচনা হয়েছে, সেই ঐক্য প্রক্রিয়া হচ্ছে এই গোলামতন্ত্র ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশকে এই গোলামতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে না পারলে, আজ হোক কাল হোক আপনিও এদের গোলামে পরিণত হবেন নয়তো দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন।

সিদ্ধান্ত আপনার।

Content Protection by DMCA.com

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিলিং মিশন দায় কার?

Content Protection by DMCA.com

লিখেছেন: আবদুল্লাহ্ আল মেহেদী

গত কয়েকদিন আগের ঘটনা পূর্বাচল থেকে গুলিবিদ্ধ তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ! পরিচয় মিলেছে হতভাগ্য তিন যুবকের। তবে কারা, কী কারণে তাদের হত্যা করলো, জানা যায়নি। পুলিশ কোনো ক্লু পাচ্ছে না। কেমন অদ্ভুদ কথা তাই না? পরের কথায় আসি, ক্লু নিয়ে সামনে এলেন নিহতদের পরিবার। ডিবির জ্যাকেট পরা ছয়-সাত জন তাদের তুলে নিয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের ডিবি বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ফেরিঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে এসব তথ্য জেনেছেন। পূর্বাচলে তাদেরই লাশ পাওয়া গেছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এমন ঘটনা কিন্তু নতুন নয় বেশ পুরনো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কেন মানুষকে তুলে নিবে, কেনই বা হত্যা করবে? পুরনো কিছু প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন কাজ করবে এটা তো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা হতে পারে না। তাহলে ডিবি পরিচয়ে কারা মানুষকে তুলে নিচ্ছে, হত্যা করছে? সাধারণ মানুষের মনে এখন ‘আতঙ্ক’ কাজ করছে।

আমরা তো পুরনো ঘটনাগুলো মনে রাখতে পারি না। এমনকি বিগত এক মাসের কথাও ভুলে যাই বেমালুম! ‘ডিবি’ লিখে যদি একটু গুগলে সার্চ দেন আর কয়েকটি স্টেপ মনোযোগ নিয়ে পড়েন তবে অসংখ্য সংবাদের সন্ধান পাবেন। যেমন- ‘ডিবি পরিচয়ে এক নারীকে তুলে নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি’, চট্টগ্রামে ৮ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা’, ‘ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার’, এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারঃডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা। ব্যাপক খবর পাওয়া যাবে। এইগুলি কিন্তু পত্রপত্রিকাতে আসা খবর। এখন কথা হচ্ছে, সংবাদগুলো সত্য নাকি মিথ্যে? ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যে বিশেষ কোনো মহল, এসব অপকর্ম করছে কি না? উত্তরে কী আসবে? সন্ধান করা ডিবিরই দায়িত্ব। অসত্য হলে তা দেশের মানুষকে জানানো দরকার। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় সংবাদগুলো মিথ্যে নয়। ডিবি এই পর্যন্ত মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা করেনি। কোনো মহল এসব করে থাকলে, তাদের সন্ধান- ধরাও ডিবিরই দায়িত্ব। একেবারে করছে না, তা বলা যাবে না। বেশ কিছু ‘ভুয়া ডিবি’ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ‘ভুয়া ডিবি’ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবও। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা পুলিশের ভাবমূর্তি জনমনে গতিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তুলে নেওয়া বা অপহরণের একটি অভিযোগ আসার পরে, কখনো বলা হয়েছে ‘আমরা করিনি’। কখনো কোনো কিছু না বলে চুপ থাকা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে টেনে হেঁচড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছিল ডিবির বিরুদ্ধে। নানা শঙ্কা চললো। তারপর ডিবির পক্ষ থেকে বলা হলো, তুলে আনা হয়নি- তথ্য জানার জন্যে তাদের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল।

কক্সবাজারে গতবছর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে টাকাসহ আটক হয় ৭ ডিবি পুলিশ সদস্য। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল সভাপতিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো। দুই দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতারা আত্মগোপনে ছিলেন না। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিবি তথ্য জানার জন্যে তাদের ডাকা যেতে পারতো। যদি ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর ডিবির বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো কেনো? এসব প্রশ্নের উত্তর যখন থাকে না, তখন সামনে যে সংবাদ আসে সবই বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে যায়।

মনে আছে সেই সেভেন মার্ডারের কথা? ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর জামাতার কুকর্মের কথা? কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যার কনট্রাক। নারায়ণগঞ্জে ৭ অপহরণ হত্যা র‍্যাব কর্তৃক সংঘটিত, এই সত্য জানার পর মানুষের কাছে কোনো কিছুই যেন আর অবিশ্বাস্য মনে হয় না। ব্যবস্থা মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘প্রত্যাহার’ এবং কিছুদিন পর আবার পদায়ন! ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে ডিবি- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহৃত হওয়ার পর যারা ফিরে এসেছেন, কারা তাদের অপহরণ করেছিল, তা অনুসন্ধান করতে দেখা যায়নি।

দিন কয়েক আগে হজ ফিরৎ বাবাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন এক শিবির নেতা। ১২ জন শিক্ষার্থীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল ৫ সেপ্টেম্বর। ডিবি তাদের আদালতে হাজির করেছে ৫ দিন পর ১০ সেপ্টেম্বর। ৫ সেপ্টেম্বর যে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা ডিবি স্বীকার না করে বলেছে ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া মানুষের লাশ পাওয়া যায় সংবাদে, মানুষের মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয় রাষ্ট্রীয় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সম্পর্কে? মানুষের মনোভাব কেমন হয়, তা জানাটা কি অতি জরুরি।

Content Protection by DMCA.com

জাতীয় ঐক্য ও জোট থাকা না থাকা

Content Protection by DMCA.com

আবদুল্লাহ আল মেহেদী

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে চলছে নানান গুঞ্জণ, বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলো মজে উঠে নির্বাচন এলে। বিএনপি ও আ’ লীগের উভয়ের জনসমর্থন রয়েছে প্রায় সমানে সমান। তবে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার আর লাগামহীন অত্যাচারে বিপর্যয়ে ক্ষমতাসীন আ’ লীগ।

নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আ’ লীগের উঁচু পর্যায়ের নেতাদের সুর ভিন্ন রকম। মিডিয়ার সামনে ওদের কথার ধরণ বেশ ভিন্নই মনে হয়। জামায়াত নিয়ে একটা সংশয় দেখা দিচ্ছে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে! জোট নিয়ে প্রশ্ন! থাকবে কী থাকবে না। আবার নতুন জাতীয় ঐক্য হলে জামায়াত কী পদক্ষেপ নিবে তাও স্পষ্ট নয়। জামায়াত এখন পর্যন্ত নিরবেই আছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে বিএনপির যুক্ত হওয়ার পথে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। বি. চৌধুরী, ড. কামাল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সাফ কথা- এই ঐক্যে জামায়াত থাকতে পারবে না। তবে বিএনপি এ ব্যাপারে ‘হাঁ’ ‘না’ কোনটিই বলতে পারছে না।

তিউনেশিয়া, তুরষ্ক বা মিসরের মতো জামায়াত আসবে এমনও নয়। আসতেও পারে তবে সময়ের কথা এখন বলা যাবে না। মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী যে নামেই হোক না কেনো ওদের শরীরের গন্ধ এখন নেই। অভিযুক্তদের বিচার হয়ে গেছে। নতুন প্রযন্মও বেশ আকৃষ্ট এ দলটির ওপর। পরিছন্ন রাজনীতিতে দশে দশ এরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় ১৬ মাস। সংবিধানের আলোকে যদি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে যদি নির্বাচন হয়। আর যদি কোনো কারণে ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে ভেঙে দেওয়ার পরবর্তী ৯০ দিন, অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যেও ভোট হতে পারে।

ভোট যখনই হোক, সেটি দেশের দুটি বড় দলের অন্যতম বিএনপিকে ছাড়াই, অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আদলে হবে নাকি বিএনপির অংশগ্রহণে, সেটিই এখন আগ্রহের বিষয়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট শরিক জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কথা বলার পাশাপাশি আরও দুটি ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ঐক্যের অন্য উদ্যোক্তারা। বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা, আ.স.ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট আগামী নির্বাচনে বিএনপির কাছে ১৫০টি আসনে ছাড় চায়। তারা বলছেন, রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে এবং আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টির লক্ষ্যেই তারা আসনের এই সমতা চান।

বি. চৌধুরীর বাসায় বৈঠককে প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেতারা বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটছে, এটা ভালো। তবে এই জোট কতদূর যায়, তা দেখতে হলে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনৈতিক এবং অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে কেউ উদ্যোগ গ্রহণ করলে বিএনপি তাতে সমর্থন জানাবে।

বর্তমান সরকার বিদায় নিলে নতুন সরকার এসেও যেন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, বিএনপির কাছে সেই প্রতিশ্রুতি চান অন্যরা। উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন মালয়েশিয়ায় ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কথা।
নির্বাচনে জামায়াত কিন্তু বড় ইস্যু! এটা অস্বীকার করার মতো নয়। জামায়াতের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক আছে ওদের তরুন সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরে। জোট থাকুক আর নাই থাকুক এই ভোটগুলো কখনোই নৌকার প্রতীকে পড়বে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত।

বিএনপির চেয়ারপারসন বিচারিক রায়ে প্রায় ছয়মাস কারাবন্দি। আরেক নেতা তারেক রহমানও দেশের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন! সংবিধানের মান বাঁচাতেও সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। কেয়ারটেকার সরকার বিলুপ্ত! কোন দিকে যাবে দেশ?

একএগারোর গন্ধকে অনেকে পরিবেশ পাল্টানো বা দৃষ্টি ফিরানোর পয়গাম মনে করছে। বোকা বানানোর এক নয়া কৌশল! সহায়ক সরকারের পদ্ধতিও নিরেপেক্ষ নয়। একেবারেই পুরো সরকারের মতোই।

আ’ লীগ চিন্তিত নয় নির্বাচন নিয়ে এমন কিন্তু নয়। বাহিরের চাপও কিন্তু আছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত যদিও সরকারের পক্ষে কাজ করবে কিন্তু সফল হবে এমনটাও বলা যায় না। অা’লীগে দীর্ঘ প্রার্থীতার তালিকা রয়েছে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতা বেশ বেকায়দায় নিয়ে গেছে দলটিকে। মনোনয়ন নিয়েও বেশ চিন্তিত ওরা! কাকে দিয়ে কাকে দিবে।

ব্যপক দুর্নীতি আর দুঃশাসন আর কায়েমী স্বার্থে দলটির প্রতি অনাস্থা মানুষের দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের অপকর্ম দলটির পতনে যথেষ্ট। মানুষকে মন ভুলানোর কথা অার কানে ঢুকানো যাবে না। মানুষ সচেতন। কথায় আছে না মিঠে কথায় চিড়া নাকি ভিজে না।
আ’ লীগে তরুণদের তেমন টানতে পারছে না যেমনটা পারছে জামায়াত। তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির তরুণদের বেশ আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে। ওদের কাজ থেমে যায়নি দমন না পীড়নেও। নির্বাচনে এবার জামায়াতের ভোট ব্যংক বেড়েছে গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে কেন্দ্র থেকে গোপনে গ্রিন সিগন্যাল পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো। এমন ভাবেই খবরগুলো এসেছে প্রিন্ট মিডিয়াতে।

দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, প্রত্যেক নির্বাচনি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন-প্রত্যাশী। তারা সবাই নিজ নিজে এলাকায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কে মনোনয়ন পাবেন, তা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেও যারা মনোনয়ণ পাবেন না, তারা মাঠে থাকবেন না। চূড়ান্ত প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করবেন। এর ফলে মারামারিতেও গড়াতে পারে। তাই গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দৈনিক ভোরের পাতা ২৯ অাগস্ট এমন খবর ছাপে। তারমানে হলো মনোনয়ণ নিয়েও বেশ উৎকণ্ঠায় আছে তারা। সূত্রগুলো বলছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, যাচাই-বাছাইয়ের আগমুহূর্তে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে জানানো হবে। এর ফলে বিশৃঙ্খলার মাত্রা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা।

এবার আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন যিনি পাবেন, তার নাম শেষ সময়ে প্রকাশ্যে আসবে। কারণ চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম আগে থেকে জানা গেলে নির্বাচনি আসনগুলোয় বিশৃঙ্খলা বেড়ে যেতে পারে। তাই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। কৌশলী হলেও কী কাজে আসবে তা প্রশ্নবিদ্ধ?

দেশের প্রতিটি সংসদ আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। এমনকী বিদ্রোহী প্রার্থীও সংখ্যা একাধিক! এবার আসি জামায়াত প্রসঙ্গ নিয়ে। জামায়াত রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া এমন কথা মানতে নারাজ খোদ আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক বিশ্লষকরা। হাইকোর্টের আদেশে নিবন্ধন ও প্রতীক হারিয়ে দলটি এখন নিরবেই আছে আগের মতো মাঠে ময়দানে আর দেখা যায় না। আন্দোলনে গিয়ে আর শক্তি খোয়াতে চায় না। এমনি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হারিয়ে অভিবাবক শূণ্য হয়ে পড়েছে।

ভোট ব্যাংক নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, দাঁড়ি পাল্লার ভোট কখনো নৌকায় যাবে না। আর আ’ লীগের সাথেও জোট বাঁধবে না জামায়াত। কোনো কারণে ঐক্যজোট ভাঙ্গন ধরলে জামায়াতের প্রায় আড়াই কোটি ভোট কোথায় যাবে?

Content Protection by DMCA.com

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার : মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহারাদার!

Content Protection by DMCA.com

দিনভর আন্দোলনরত একটি ছাত্রীকে পিছন থেকে তার ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ বেধে উঠিয়ে নিয়ে যায় একটি মুখোশ পরা হায়েনা। গন্ধটা চেনা চেনা লাগলেও মুখে কাপড় পেঁচানো থাকায় কোন কথা বলতে পারছিলোনা রুহী। অবশেষে সে নিজেকে আবিস্কার করলো একটি পুলিশ ভ্যানে। আরো কয়েকজন ছাত্রী হাত-পাঁ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে গাড়ির মেঝেতে।

গাড়িটা চলতে শুরু করলো।

মাথায় হেলমেট পড়া কয়েকটা পুলিশ আর মুখে কাপড় পরা কয়েকটা ছেলে তাদের দেহ নিয়ে খেলা করছে। রুহীর বাবাও একজন পুলিশ, এই মূহুর্তে বাবাকে খুব মনে পড়ছে তার। বাবা কাছে থাকলে হয়তো এই জানোয়ারগুলা এমন করার সাহস পেতনা। রুহীর ভাই এলাকার ছাত্রলীগের সভাপতি। এই সময় তার ভাইকে ভীষণ প্রয়োজন রুহীর। এর আগে অনেকবার ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাকে। রুহীর চোখ বেয়ে অশ্রুর বন্যা বইতে লাগলো। এটাই কি তাহলে ছাত্রী জীবনের শেষ পরিণতি।

হঠাৎ একটা চেনা কণ্ঠে রুহী চমকে উঠলো।

ঐ মাগীরা..! আন্দোলন করস, আন্দোলন আজ তোদের…..মধ্যে হান্দাই দিমু। আজ আমরাই তোগোর লগে আন্দোলন করুম…..। কণ্ঠটা চির-চেনা রুহীর। নাহ, পশুটা অন্য কেউ নয়, তার সেই বড় ভাই- যে কি না শতবার তার ইজ্জত বাঁচিয়েছে। বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে টুকরো হওয়ার অবস্থা রুহীর। শুধু মুখে কাপড় গুজা থাকায় চিৎকার করতে পারছিলোনা সে।

গাড়ির চাকা থেমে গেলো-

রুহীকে কাঁধে উঠিয়ে নিলো হেলমেট পরা এক পুলিশ জানোয়ার। জানোয়ার গুলোর সে কি… হাসি আর উল্লাস। কিন্তু পুলিশটার হাতের স্পর্শ পরিচিত মনে হলো রুহীর।তৎক্ষণাৎ একটি ভাঙ্গা দালানের মেঝেতে নিজেকে দেখতে পেলো সে। তার দিকে তেড়ে আসছে চেনা কণ্ঠের মুখোশ পড়া সেই ছেলেটা। কিন্তু নাহ, শুধু কণ্ঠটাই চেনা নয়। ছেলেটাও তার চেনা। সে তার বড় ভাই রিমন! ঘৃণায় আর দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে করছে রুহীর।

ততক্ষণে মুখের কাপড় খুলে ফেলেছে সে।

ছেলেটা কাছে আসতেই গগণফাটা চিৎকার দিয়েরুহী বলতে লাগলো ভাইয়া..! আমি রুহী। বলেই ডুকরে ডুকরে কান্না শুরু করলো।সাথে সাথেই থমকে দাড়ালো পৃথিবী। রুহীর দিকে তাকাতেই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ফেললো পুলিশ অফিসার।মুখ থেকে কাপড় সরালো ছেলেটা।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় বাবা ছেলের দিকে চেয়ে আছে ছেলে বাবার দিকে। বাবা তুমি..?  রিমন তুই..? এমন বিব্রতকর অবস্থায় তাদের মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়লো।  মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো মেঝেতে। ছিঃ তারা কিনা নিজের মেয়ে আর বোনকে ধর্ষণ করতেই এখানে উন্মাদের মতো ছুটে এসেছে। তারা কি করবে ভেবে না পেয়ে দুজনে রুহীর পায়ে পরে গেলো।

মা, আমরা অনেক বড় ভুল করেছি,  এতো বড় পাপ মনে হয় পৃথিবীর বুকে আমরাই প্রথম করলাম। তুই আমাদের ক্ষমা করে দে।  রুহী চিৎকার করে পিছনে সরে গেলো। খবরদার..! খবরদার..! তোমরা আমাকে স্পর্শ করবেনা। তোমরা আমার কেউনা। কোন জানোয়ার আমার বাবা হতে পারেনা। আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার, মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহাড়াদার।

তোমার মতো জানোয়ার পুলিশ আমার বাবা না

আজ আমার জায়গায় যদি অন্যকেউ হতো নিশ্চয় তোমরা তাকে ছেড়ে দিতেনা। কিন্তু সেই মেয়েটাও তো কোন না কোন বাবা-মায়ের সন্তান।ভাইয়া..! জানো তোমাকে নিয়ে আমি কত্ত গর্ব করতাম। কিন্তু আমার বান্ধবীরা বলতো ছাত্রলীগ মানেই পশু, ছাত্রলীগ মানেই জানোয়ার। আমি ওদের কথার প্রতিবাদ করতাম। আজ নিজ চোখে দেখলাম তোমরা জানোয়ারের চেয়ে অধম। এসো, তোমাদের লালসা মেটাও। অপরাধী প্রতিটি পুলিশ ও ছাত্রলীগ অপরাধ করছে নিজ পরিবারের সাথে। ধর্ষন করছে নিজের সন্তান, বোনকে। প্রমানকর তোমরা আর কত নিচে নামতে পারো ওদের জন্য।

 

(সংগৃহীত : এক পুলিশ অফিসারের সন্তানের লেখা )

Content Protection by DMCA.com

মাহমুদুর রহমান ও ‘বাঙালি মুসলমান’

Content Protection by DMCA.com

মাহমুদুর রহমানকে ভালবাসেন এমন মানুষের অভাব নাই। তেমনি, তাঁকে ঘোরতর অপছন্দ করেন এমন লোকও আছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি বিভক্ত ও বিভাজিত সমাজের ছবি আমাদের সামনে হাজির  হয় যারা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিশাবে নিজেদের সামষ্টিক স্বার্থের জায়গা থেকে কোন রাজনৈতিক প্রশ্নে বাস্তবোচিত অবস্থান নিতে অক্ষম। সমাজ ও রাজনীতিতে সক্রিয় যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে সমাজে নানান মূল্যায়ন থাকতেই পারে। কিন্তু মাহমুদুর রহমান যেভাবে গুণ্ডামি, হামলা, মামলা এবং অবিশ্বাস্য অবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তার তুলনা নাই। কুষ্টিয়ার আদালতে তিনি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতে গুণ্ডামির শিকার হয়েছেন, মারাত্মক জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনা, বলা বাহুল্য, ক্ষমতাসীনদের জন্য খুব আনন্দের বিষয় নয়, কিন্তু তারা ঘটনাটি ঘটতে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন্দের দ্বারা গুণ্ডামি প্রশ্রয়ের আওয়াজ ফেইসবুকে মাহমুদুর রহমান বিরোধীদের সরব প্রপাগান্ডার মধ্যে শোনা গেলেও এটা পরাজিতের বিকৃত চিৎকার মাত্র। যার মধ্যে নীতি, যুক্তি বা আদর্শ নাই। বোঝা যাচ্ছে গণ জাগরণ মঞ্চ ও শাহবাগের করুণ পতন কিছু ব্যক্তির মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তারা তাদের ব্যর্থতার প্রতিশোধ বিকৃত কায়দায় চরিতার্থ করতে চায়। এদেরকে চেনা দরকার আছে। রাষ্ট্র দিতে অক্ষম হোক, কিন্তু যে কোন নাগরিকের কিছু ন্যূনতম নাগরিক ও মানবিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু ফেইসবুকে অনেকের মন্তব্য পড়ে দেখছি সেই অধিকার রাজনৈতিক আদর্শ হিশাবেও মাহমুদুর রহমানকে দিতে তারা রাজি না।

নানা কারনেই মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশে রাজনৈতিক তর্কবিতর্কের ক্ষেত্র। সেটা হতেই পারে। কিন্তু তথ্যভিত্তিক তর্কের চেয়েও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও প্রপাগাণ্ডাই বেশি। ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের পক্ষে তাঁর একটা দৃঢ় অবস্থান আছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বৈশ্বিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের কালপর্বে বাংলাদেশে ইসলাম প্রশ্ন এবং মুসলমানদের স্বার্থ রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের কেন্দ্রে বাস্তব পরিস্থিতির কারনেই হাজির রয়েছে। হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। ঐতিহাসিক কারণেই অনিবার্য। এর অন্যথা হবার কোন সুযোগই নাই। মাহমুদুর রহমান সেই অনিবার্যতারই অভিপ্রকাশ। তাঁর রাজনৈতিক পক্ষপাত, বিশেষত ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের প্রশ্নে অকুতোভয় অবস্থান, তাকে একাই এক রাজনৈতিক আইকনে পরিণত করেছে। ফলে তিনি তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিষোদ্গারের পাত্র হবেন এতে আর অবাক হবার কী আছে! সমস্যা হচ্ছে কুৎসা, নিন্দা ও প্রপাগান্ডা ছাড়া তার চিন্তা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কোন ফলপ্রসূ তর্ক বা বিরোধিতা দেখি নি। অন্তত আমার চোখে পড়ে নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোটা দাগে দুটি মতাদর্শিক ধারা প্রকট। একদিকে রয়েছে ঘোরতর ইসলাম বিদ্বেষী জাতিবাদী ধারা, যারা নিজেদের সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষ বলে দাবি করে। অন্যদিকে রয়েছে ইসলামপন্থি ধারা। জাতিবাদী সেকুলার ধারা মুলত পাশ্চাত্যপন্থী এবং উনিশ শতকে উচ্চবর্ণের হিন্দু কবি-সাহিত্যিক-সংস্কৃতিওয়ালাদের তৈয়ারি বাঙালিত্বকে ইসলামের বিপরীতে প্রতিস্থাপন করে। এটা মূলত দিল্লির প্রকল্প। সাতচল্লিশে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছিল। একদিকে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান কায়েম হয়েছিল, বিপরীতে গঠিত হয়েছিল হিন্দুদের জন্য ভারত রাষ্ট্র। ভারতে যে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল তার ওপর সেকুলারিজমের জোব্বা পরানো হলেও আদতে তৈরি হয়েছিল একটি হিন্দু রাষ্ট্র। গবেষকদের ভাষায় Soft Hindu State। নরেন্দ্র মোদীর আমলে তা পরিপূর্ণ হিন্দুত্ববাদে রূপ লাভ করে চলেছে। অর্থাৎ পরিণত হচ্ছে Hard Hindu State-এ। এই পরিপ্রক্ষিতে বিচার করলে বাঙালিত্ব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ কিম্বা নানান কিসিমের প্রগতি ও প্রগতিশীলতার ভড়ং মূলত হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের বাংলাদেশী ধরণ মাত্র। বাংলাদেশের জনগণকে সাংস্কৃতিক-মতাদর্শিক ভাবে ‘ইসলামের অভিশাপ’ থেকে মুক্ত করবার ফন্দি বা আরও সহজ ভাষায় দিল্লির ইসলাম নির্মূল পরিকল্পনারই অংশ। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিশেষ ভাবে বাঙালি মুসলমানের ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য সুস্পষ্ট ভাবে বুঝতে না পারার এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা অদৃশ্য থেকে যায়। ইতিহাস পাঠ ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে চরম অনাগ্রহের কারণে ইসলামপন্থি  ধারা এই ক্ষেত্রে সবিশেষ দুর্বল; তার আত্মপ্রকাশের ভঙ্গীও প্রায়শই সাম্প্রদায়িক ও পশ্চাতমুখি রূপ পরিগ্রহণ করে। ধর্মতত্ত্বে নিজেদের স্বেচ্ছাবন্দি রাখার কারণে পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের কালপর্বে দর্শন, সংস্কৃতি, সমাজ, ইতিহাস ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইসলামের সম্ভাব্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবার ক্ষেত্র তৈরির কাজে এতে কোন অগ্রগতি নাই। পরকালকন্দ্রিক চিন্তা ইহলৌকিক সমস্যার সমাধানেও অনাগ্রহী। ফলে রাজনীতির মোট দাগের দুই ধারার একটিও বাংলাদেশের  জনগণকে কোন বাস্তবোচিত পথ দেখাতে পারছে না।

সেকুলারিজম পাশ্চাত্যে নাগরিকতার ধারণা এবং আইনী সংজ্ঞা নির্মাণে যে ভূমিকা রাখে সে সম্পর্কে ইসলাম বিদ্বেষী জাতিবাদী এবং বাম প্রগতিশীল(?) ধারা যারপরনাই অজ্ঞ। রাষ্ট্রের চোখে সকলেই নাগরিক, সমাজে কে কী ধর্ম পালন করে, কে নাস্তিক কিম্বা কে আস্তিক সেইসব দেখা আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ নয়। ধর্ম বিশ্বাস কিম্বা আস্তিক/নাস্তিক নির্বিশেষে রাষ্ট্রের কাজ প্রতিটি নাগরিকের নাগরিক ও মানবিক অধিকার সমুন্নত রাখা এবং নিশ্চিত করা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম প্রাইভেট ব্যাপার বটে, অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় পরিসরে ধর্ম বা ব্যাক্তির বিশ্বাস বিচার্য না। কিন্তু বিচার্য না হলেও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ হচ্ছে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ সমাজ থেকে ধর্মের উচ্ছেদ নয়, বরং নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন এবং ধর্ম প্রচারের অধিকার নিশ্চিত করা। ধর্ম প্রচারের অধিকার চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত। তাহলে বাংলাদেশে ধর্ম নিরপেক্ষতা কায়েমের একমাত্র এবং প্রধান কাজ ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবার জন্য একটি গণতান্ত্রিক গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক ‘রাষ্ট্র’ গঠন। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতাসম্পন্ন ‘রাষ্ট্র’ নিয়ে, অবশ্য একালে গুরুত্বপূর্ণ তর্ক জারি রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি দরকার গণতান্ত্রিক ক্ষমতা, গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতি ও যথোপযুক্ত সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ এমন এক বাস্তব পরিস্থিতি ও শর্ত তৈরি যাতে ইসলাম ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সেই ভূমিকার বিচার করেই যেন বিভিন্ন ইসলামপন্থি ধারা পর্যালোচনার সামর্থ জনগণ অর্জন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এই কাণ্ডজ্ঞানটুকু দুটি ধারার একটিও প্রদর্শন করতে পারে নি।

বলাবাহুল্য, ধর্ম বিদ্বেষী বাংলাদেশের সেকুলারিজম বরং উল্টাটা করেছে। তারা সেকুলারিজমের সঙ্গে জাতিবাদ ও হিটলার-মুসোলিনির সমাজতন্ত্রের মিশেল ঘটিয়ে ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করেছে। আধুনিক গণতন্ত্রের লিবারেল বা উদারনৈতিক বৈশিষ্ট্য বলি, কিম্বা বলি প্রগতিশীল রাজনীতির দিক থেকে গণতন্ত্রর ইতিবাচক ভূমিকার কথা — কোন কিছুই এই ইসলাম বিদ্বেষী ধারার মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না। এই দিকটি না বুঝলে কেন মাহমুদুর রহমানকে প্রকট ইসলামপন্থী হতে হয় সেই বাস্তবতা আমরা বুঝব না। ইসলাম ও মুসলমানদের সুনির্দিষ্ট স্বার্থের কথা বলা ছাড়া দিল্লি ও পরাশক্তির সমর্থনপুষ্ট ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা মোকাবিলা যারপরনাই কঠিন এই কঠিন বাস্তবতার কিছুই আমরা অনুধাবন করতে পারব না।

মাহমুদুর রহমান হঠাৎ বাংলাদেশে হাওয়া থেকে গজান নি। তিনি জাতিবাদী, ইসলাম বিদ্বেষী ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী ও ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধেরই অনিবার্য ফল। ঐতিহাসিক ও মতাদর্শিক দিক থেকে বিচার করলে তিনি সবচেয়ে নির্ভীক এবং দৃঢ় প্রতিরোধের সম্মুখ ফ্রন্টের সৈনিক। তাঁর বিরোধীরা যাই বলুক, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির কাছে তিনি তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার আইকন। তাঁর কাছে তাদের প্রত্যাশা বেড়েছে বৈ কমে নি। কুষ্টিয়ার গুণ্ডামি তাঁর এই ভাবমূর্তিকে আরও প্রতিষ্ঠিত করলো।

আমি বরাবরই এর আগে আমার বহু লেখায় বলেছি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র মানেই সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। সেই ক্ষেত্রে আলাদা করে সেকুলারিজমকে রাষ্ট্রের নীতি হিশাবে গ্রহণ করবার প্রয়োজন পড়ে না। গণতন্ত্র কায়েমের লড়াই বাদ দিয়ে বাড়তি সেকুলারিজম বা ধর্ম নিরপেক্ষতার দাবি বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্রেফ ইসলাম নির্মূলের দাবি ছাড়া অন্য কিছুই না। জনগন একে প্রতিহত করবেই। সেটা মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে হোক, কিম্বা হোক অন্য কারো ঝাণ্ডার নীচে। এটাই বাংলাদেশের বাস্তবতা।

নাস্তিক্যবাদীরা মাহমুদুর রহমানকে অপছন্দ করে। শেখ হাসিনার পিটুনি খেয়ে এদের অঙ্কের দেশ হকে পালানোর দুঃখ বুঝি। যার জন্য চুরি করি সে বলে চোর! – অনেকটা সেই পুরানা গীত আর কী! কিন্তু একে তামাশা হিশাবে নেওয়া ঠিক হবে না। চিন্তার ইতিহাসে নাস্তিকতার ইতিবাচক ভূমিকা আছে। নাস্তিক্যবাদের ইতিবাচক দার্শনিক মর্ম হচ্ছে অতীন্দ্রিয় ঈশ্বরের বিপরীতে রক্তমাংসের মানুষের মহিমা প্রতিষ্ঠা। তরুণ মার্কস বলেছিলেন মানুষের মহিমা কায়েম করবার জন্য ঘোরাপথে হেঁটে আসার দরকার পড়ে না। অর্থাৎ খামাখা আল্লার অস্তিত্বের বিরোধিতা করা অনাবশ্যক একটি কাজ। বরং বালখিল্য নাস্তিকতা এবং ফালতু পরাবিদ্যার চর্চা ত্যাগ করে যে ইহলৌকিক জীবনের সমস্যা মানুষকে অতিন্দ্রিয় আশ্রয়ে বাধ্য করে, সেই ইহলৌকিক সমস্যার সমাধান করাই কমিউনিস্টদের কাজ। অথচ এটা জানা থাকার পরেও বাংলাদেশে কমিউনিস্ট নামধারী নাস্তিক – অর্থাৎ ধর্ম বিদ্বেষি চরম প্রতিক্রিয়াশীল ধারার মোকাবিলা জনগণকে করতে হচ্ছে। জনগণের বন্ধু না হয়ে তারা জনগণের দুষমণের ভূমিকা পালন করে। এই প্রকার বালখিল্য নাস্তিক ও ধর্ম বিদ্বেষীরা নিজেদের আবার ‘মুক্তমনা’ বলে দাবিও করে। বদ্ধ বুদ্ধি ও প্রতিবন্ধিতা হাস্যরসের সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সত্যকার অর্থে নাস্তিক্যবাদের দার্শনিক তর্কবিতর্কের ধারে কাছেও তারা পৌঁছাতে পারে না। বলে রাখছি, কারণ নাস্তিকতা গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক ধারা; বাংলাদেশের বদ্ধ উন্মাদ ও চরম উস্কানিমূলক অশ্লীল ও গণবিরোধী লেখালিখির সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নাই। বাংলাদেশের ইসলামপন্থিরা চরম বিকৃত, উস্কানিমূলক এবং দাঙ্গাবাজ নাস্তিক ও নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হবার এটাই প্রধান কারণ। বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের নাস্তিক্যবাদ বিরোধিতাকে বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বুঝতে হবে। মাহমুদুর রহমান এবং দৈনিক আমার দেশ-এর ভূমিকা বুঝতে হলে এই বাস্তবতাকেও পরিষ্কার মনে রাখতে হবে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় মাহমুদ রহমান বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার জ্বালানি উপদেষ্টা ছিলেন। আওয়ামি ঘরানার লোকজন তাঁকে নিছক দলীয় কারনেই অপছন্দ করে। পরাশক্তির প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা সুশীল সমাজের যে রাজনৈতিক ধারা তিনি তার বিরোধী। ফলে সুশীল সমাজের কাছেও তিনি গ্রহণযোগ্য নন। তিনি সাংবাদিকতায় প্রবেশের পর সংবাদপত্রের জগতে দৈনিক আমার দেশ ভিন্ন কন্ঠস্বর ও সাহসী বক্তব্য নিয়ে খুবই দ্রুত জনগণের ইচ্ছা, আকাংক্ষা ও আশার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছিল। দৈনিক আমার দেশ প্রথাগত সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। পত্রিকাটির জনপ্রিয়তাও প্রথাগত সাংবাদিকতার ভীতির কারণ হয়ে উঠেছিল। তাই সংবাদপত্র জগতের প্রভাবশালী অংশের কাছে মাহমুদুর রহমান অপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। প্রভাবশালী অংশ বাংলাদেশ অপরিচিত কেউ নয়। বিশেষত ভূমি দস্যু, কালো টাকার মালিক ও বহুজাতিক কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা খুবই প্রকাশ্য এবং পরিচিত। সাংবাদিকতার মানদণ্ড নিয়ে তারা অনেকে মাহমুদুর রহমানের সমালোচনা করে থাকেন, কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে তাদের যে খ্যাতি ও প্রতিভা সেই দিকগুলো মনে রাখলে তাদের আপত্তি পাগলের প্রলাপ মনে হয়।

সাংবাদিকতার মানদণ্ড নিয়ে জাতীয় ক্ষেত্রে তর্কবিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু খেয়াল করলেই আমরা বুঝব তাঁর বিরুদ্ধে আপত্তির জায়গা দুইটা। একটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের স্কাইপ কেলেংকারি ফাঁস করে দিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারকে দৈনিক আমার দেশ প্রশ্নাত্মক করে তুলেছিল। কিন্তু সেটা নতুন কিছু ছিল না। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারের স্টান্ডার্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেই তর্ক জারি ছিল, এখনও জারি রয়েছে। আন্তর্জাতিক আশংকা যে সত্য মাহমুদুর রহমান সেটাই শুধু দেখিয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া সামগ্রিক ভাবে বিচার ব্যবস্থার গভীর অসুখ তিনি দৈনিক আমার দেশের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ধরিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অনুপস্থিত কারন রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গের হস্তক্ষেপ থেকে বিচার বিভাগ মুক্ত নয়।

তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে থাবা বাবার লেখা প্রকাশ করে দিয়ে তিনি গণজাগরণ মঞ্চ এবং শাহবাগের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মর্ম উদাম করে ছেড়েছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের জনগণ তাদের বিচার চেয়েছে। অথচ গণজাগরণ মঞ্চ ও শাহবাগ যে কোন মূল্যে অভিযুক্তদের ফাঁসি দেবার যে রাজনীতি সামনে এনেছে তা তারুণ্যের সজ্ঞান, সচেতন ও গণসংহতিমূলক রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপরায়ন নয়। যে বিচার অতীতের ভার থেকে আমামদের মুক্ত করতে পারত তা আদৌ করেছে কিনা তা শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিতর্কিত। বাংলাদেশ অতীতের ভার থেকে মুক্ত হয় নি। বরং আগামি দিনে নতুন জবাবদিহিতার ক্ষেত্র তৈরির অনিবার্যতাই তৈরি করে রেখেছে। হিংসা ও প্রতিহিংসার বিষাক্ত বীজই মূলত রোপন করে দিয়ে গিয়েছে। তার পরিণতি কী দাঁড়াবে আমরা এখনও জানি না।

শাহবাগ মূলত প্রকট ফ্যাসিজমের উত্থানপর্ব একথা দৈনিক আমার দেশ স্পষ্ট করেই বলেছিল। এর পেছনে দিল্লির প্রকাশ্য সমর্থন ছিল। দিল্লির হিন্দুত্ববাদী প্রকল্প – বিশেষত উপমহাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের হিন্দুত্ববাদী অভিযানের অংশ হিশাবেই শাহবাগ হাজির হয়েছিল। ঠিক, দৈনিক আমার দেশ শাহবাগকে ধসিয়ে দিয়েছে। এই একটি অসম্ভব ঘটনার জন্য দৈনিক আমার দেশ বাংলাদেশের ইতিহাসে জ্বল জ্বল করতে থাকবে। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে কারা ক্ষিপ্ত  তাদের জনগণ খুব ভাল ভাবেই চেনে এবং জানে। এই কথা বলার অর্থ এই নয় যে যারা গণজাগরণ মঞ্চে অংশ গ্রহণ করেছিলেন তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার চেয়ে কোন ভুল করেছিলেন, কিম্বা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার যে আহ্বানে তাঁরা ছুটে গিয়েছিলেন তাদের আবেগে ও আকাঙ্ক্ষায় কোন দোষ বা খাদ ছিল। কিন্তু আবেগ যখন আমাদের অন্ধ করে ফেলে তখন আমরা অন্যের হাতে জিম্মি হয়ে যাই। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ইতিহাসের বড় পরিসরে বাংলাদেশ নিয়ে ভাবতে না পারার অক্ষমতা শাহবাগের উদ্যমকে করুণ পরিণতির গহ্বরে নিক্ষেপ করেছে। এই নির্মম সত্য অনেকে এখনও মানতে রাজি না থাকতে পারেন, কিন্তু ইতিহাসের চাকা কারো জন্য অপেক্ষা করে না। এখন দেখছি, যত দোষ নন্দ ঘোষ হিশাবে মাহমুদুর রহমানের ঘাড়ে চাপিয়ে অনেকে নিজেদের বীরত্ব জাহির করতে চাইছেন। যাদের মাহমুদুর রহমান একাই তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিলেন তাদের কথাবার্তা হাসির খোরাক হতে পারে; এখন তারা গুণ্ডামি করে তাদের মনের ঝাল মেটাতে চাইছেন বটে, সেটা আর যাই হোক গুণ্ডামিই বটে। বরং গণ জাগরণ মঞ্চ ও শাহবাগের উদ্যমের নির্মোহ পর্যালোচনার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। এখন মাহমুদুর রহমানকে গালি দিয়ে অর্বাচিন জোকার হবার কোন অর্থ হয় না।

আমি বারবার আমার বিভিন্ন লেখায় বলেছি একাত্তর হচ্ছে বিশ্বে নতুন এক রাজনৈতিক জনগোষ্ঠির আবির্ভাব মুহূর্ত। আমরা রক্ত দিয়ে তা অর্জন করেছি। এই মুহূর্ত ও তার অর্জনের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য আমাদের উপলব্ধি করতে হবে, বুঝতে হবে। বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে সেটাও যথেষ্ট নয়। বুঝতে হবে তার ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্যের জায়গা থেকে। কারণ রাষ্ট্র ও সীমান্ত আজ আছে কাল নাও থাকতে পারে। বোঝাবুঝির এই ক্ষেত্রটিতে আম্মদের ঘাটতি আছে অনেক। এই সকল বাস্তবতা মনে রাখলে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ প্রতিপক্ষরা তোলে ও প্রপাগান্ডা চালায় তাতে অবাক হবার কিছু নাই। ইসলাম ও মুসলমান প্রশ্নে তিনি দৃঢ় ও অবিচল, এটা অবশ্যই সত্য। তিনি ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী ও নাস্তিক্যবাদীদের দুষমণ। সেটা তো দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। এই ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার তিনি উৎখাত চান, এ ব্যাপারে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নাই। কিন্তু প্রত্যকটির জন্য তার প্রতিপক্ষরা যতোই তার বিরোধিতা করছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দমন নিপীড়ন জেল জুলুম ও অব্যাহত গুণ্ডামি দিয়ে তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে, ততোই তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছেন। কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গনে যে ঘটনা ক্ষমতাসীনরা ঘটালো তাদের তাদের পরাজয়ের ঘন্টাই বেজে উঠেছে। শেষাবধি মাহমুদুর রহমানই জিতে যাচ্ছেন।

সকল লিবারেল ও বৈচারিক নীতি লংঘন করে তাঁকে আদালত অবমাননার জন্য যখন কারাদণ্ড দেওয়া হোল, তখন মত প্রকাশের স্বাধীনতার ধ্বজাধারীদের ব্যর্থতা আমরা দেখেছি। বিক্ষুব্ধ হবার কোন আইনগত অবস্থান মামলাকারির না থাকা সত্ত্বেও (Status Operandi) তার বিরুদ্ধে বহু মামলা হয়েছে। অথচ আদালতের এই মামলা নেবারই কথা না। কিন্তু শুধু মাহমুদুর রহমানের ক্ষেত্রেই নয়, সামগ্রিক ভাবে অবিশ্বাস্য বৈচারিক স্বেচ্ছাচার জনগণ দেখছে। মানবাধিকার আর লিবারেল আদর্শের বস্তাপচা বুলি আওড়ানো পরাশক্তির প্রশ্রয়েই এইসব ঘটেছে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ বদলে যাচ্ছে, বাংলাদেশের জনগণের আত্মানুসন্ধানের লড়াই ক্রমে ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই ক্ষেত্রে মাহমুদুর রহমান এবং দৈনিক আমার দেশ-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আগামি দিনে সেটা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই।

দুই

তাহলে এটা আমাদের স্বীকার করতে হচ্ছে ডান বলি বা বাম বলি মাহমুদুর রহমান বাংলাদেশের প্রচলিত ও প্রথাগত লিবারেল, সেকুলার বা বাম রাজনীতির জন্য খুবই বড় সড় একটি সমস্যা। দিল্লির জন্য তো বটেই। এটা আরও বুঝব যদি মনে রাখি, শুধু লিবারেল, সেকুলার বা বামেরা নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় সকল পরাশক্তি ‘বাঙালি মুসলমান’ নামক অতি গুরুত্বপূর্ণ পলিটিকাল ক্যাটাগরিটিকে আজও বুঝে উঠতে পারে নি। এই সেই ঐতিহাসিক জনগোষ্ঠি যারা ভারতের সঙ্গে থাকে নি, আবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে লড়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিশাবে বিশ্বে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়েছে। এমনকি আহমদ ছফাও এর তাৎপর্য বোঝেন নি। উনিশ শতকী বাঙালি হিন্দুর ‘নবজাগরণ’ বা আধুনিক হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে তিনি তুলনা করে বাঙালি মুসলমানকে হিন্দুর বিপরীতে স্রেফ একটি চেতনা বা আত্মপরিচয় গণ্য করেছেন। দুর্ভাগ্য যে এই চেতনাকে ছফা হীনমন্য গণ্য করেছেন। এর কারন কি?

এর কারণ ‘বাঙালি মুসলমান’ শব্দবন্ধটিকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বর্গ বা ক্যাটাগরি হিশাবে বিচার ও বিবেচনা করার অক্ষমতা। ছফা ‘বাঙালি মুসলমান’-এর বিরোধী ছিলেন তা নয়। তিনি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে্র কথাই ভেবেছেন। কিন্তু ‘হিন্দু’, ‘মুসলমান’ ইত্যাদি যে স্রেফ শাশ্বত বা চিরায়ত আত্মপরিচয় নয়, বরং ইতিহাসের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া ব্যাপারও বটে এই দিকটি বুঝতেন না। ধরে নেওয়া হয় যে বাঙালি, হিন্দু, মুসলমান ইত্যাদি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন এক প্রকার সাম্প্রদায়িক কিম্বা জাতিবাদি চেতনা মাত্র; এমনই যে যেন এই চেতনা বা পরিচয় গড়ে ওঠার কোন নৈর্ব্যক্তিক ইতিহাস নাই। যেন, ব্যাপারটা স্রেফ নিজেকে হিন্দু, মুসলমান বা বাঙালি মনে করা বা না করার ব্যাপার। নিতান্তই মানসিক বা আচরণগত সমস্যা। সাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে তৈয়ারি জিনিস। ভুলটা এখানে।

‘বাঙালি মুসলমান’ ধারণাটি তুলনামূলক ভাবে আরও জটিল। সাম্প্রদায়িক বা জাতিবাদী চেতনার উৎস ভাষা ও সংস্কৃতি হোক, কিম্বা হোক ধর্ম তাতে কিছুই আসে যায় না। দুইটাই নিজের পরিচয় ও উপলব্ধি প্রকাশ করবার চিহ্ন। সম্প্রদায় ও পরিচয়বোধ নিজেদের একটি বিশেষ সমাজে অন্তর্ভুক্ত গণ্য করাও বটে। সেই সমাজ অন্য অনেককে বাদ দেয়। আত্মপরিচয়ের রাজনীতির এটাই হোল বিপদের জায়গা। হতে পারে একটি জনগোষ্ঠি ধর্মের মধ্যে নিজের আত্মপরিচয় উপলব্ধি করে, ভাষা ও সংস্কৃতি সেই ক্ষেত্রে গৌণ। তেমনি এমন জনগোষ্ঠিও রয়েছে যাদের কাছে ভাষা ও সংস্কৃতি আগে, তার পর ধর্ম। কিন্তু সাম্প্রদায়িক কিম্বা ভাষিক আত্মপরিচয়কে এই তর্কগুলো ঐতিহাসিক ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে না।

‘বাঙালি মুসলমান’ ধারণাটিকে সম্প্রদায় বা ভাষিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বোঝার জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ পলিটিকাল ক্যাটাগরি হিশাবে আমাদের ভাবতে শিখতে হবে। বাঙালি মুসলমানের ‘বাঙালিত্ব’ হিন্দু জাতিবাদী বাঙালির ‘বাঙালিত্ব’ না, অতএব বাঙালি জাতিবাদ দিয়ে একে বোঝা সম্ভব না। জার্মানরা নিজেদের একই জাতির অন্তর্হূক্ত গণ্য করে, তাই তারা বিভক্ত হবার পরেও আবাব্র একত্রিত হয়েছে। কোরিয়ানরা এক হতে চায়, কারন ত্র নিজেদ্র এক জাতি মনে করে। কিন্তু ভারতীয় বাঙালি বাঞালি মুসলমানের সঙ্গে এক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় না। তারা নিজেদের বাঙালি নয়, ভারতীয় মনে করে।

অন্যদিকে এই জনগোষ্ঠির ‘মুসলমানিত্ব’কে আবার ইরান তুরান আরবের মুসলমানিত্ব দিয়েও বোঝা যাবে না। এই অঞ্চলের জনগণের জাতপাত বিরোধী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের লড়াইয়ের ইতিহাস বাদ দিয়ে ‘বাঙালি মুসলমান’কে চেনা অসম্ভব। না চেনার আরও কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানের ইতিহাস চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে কৃষকের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য। এমন কৃষক যারা কখনই খণ্ডিত বাংলা চায় নি, দেশ বিভাগ চায় নি। কেন চাইবে? তাদের নেতা দুই দুইবার অখণ্ড বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিভাবে অখণ্ড বাংলা ভাঙলো এবং কারা ভাঙলো সেই ইতিহাসের হদিস না নিলে বাঙ্গালি মুসলমান কী জিনিস, বোঝা যাবে না। হদিস নেওয়া তাহলে জরুরি হয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে শুধু চেতনা দিয়ে কিম্বা বাঙালি মুসলমানের ইতিহাস পর্যালোচনা করে আমরা এর মর্মোদ্ধার করতে পারবো না। এটি একটি রাজনৈতিক বর্গ। যার ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য গভীর ও সুদূর প্রাসারী। বাঙলি মুসলমানের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য সাম্প্রদায়িকতা কিম্বা সেকুলারদের ভূয়া ও মিথ্যা ইতিহাস দিয়েও বোঝা যাবে না।

ছোট ছোট কিছু তথ্যই নাহয় আপাতত মনে করা যাক। ‘শেরে বাংলা’ বা বাংলার বাঘ আবুল কাশেম ফজলুল হক, সারা বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানের খণ্ডিত বাংলার না। সারা জীবন কৃষক আর শ্রমিকের জন্য লড়েছেন। তিনি সারা বাংলার শিক্ষা মন্ত্রীও ছিলেন, ১৯৩৫ সালে কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল এ. কে. ফজলুক হকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রী পরিষদ গভর্ণর এন্ডারসনের কাছে শপথ গ্রহণ করেন। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেরে বাংলা প্রথম বার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর আমলেই দরিদ্র কৃষকের উপরে কর ধার্য না করে সারা বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তন করা হয়। “বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ”-এর পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন। ১৯৪১ সালের ১২ ডিসেম্বর আবুল কাশেম ফজলুল হক দ্বিতীয় বারের মত মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। বাঙালি মুসলমানের এই ইতিহাস বাঙালি হিন্দুর ইতিহাসেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। যে হিন্দু এখন খণ্ডিত বাংলায় হিন্দির আগ্রাসনে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতি ভুলে যেতে বসেছে সে যেমন এই ইতিহাস ভুলেছে, বাংলাদেশের বাঙালিও এই ইতিহাস মনে রাখে নি।

বাংলাদেশে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সেকুলার ভার্সান হিশাবে যে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ দিল্লির আশ্রয়ে, প্রশ্রয়ে ও সমর্থনে পুষ্ট করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে ‘বাঙালি মুসলমান’ কথাটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্যাটাগরি হিশাবে হাজির হতে শুরু করেছে। তার আবির্ভাব ঘটছে আমাদের চোখের সামনে। এটাও ইতিহাসেরই অনিবার্য পরিণতি। বাঙালি মুসলমান বাঙালি, অতএব বাঙালি ও বাংলাভাষীদের ইতিহাস বাদ দিয়ে একে স্রেফ ‘মুসলমান’দের লড়াই হিশাবে বোঝা যাবে না। কিন্তু বাঙালি মুসলমানকে স্রেফ এই রূপেই সাজাতে ও দেখাতে দিল্লি বিশেষ ভাবে আগ্রহী। একই ভাবে আগ্রহী অন্যান্য পরাশক্তিও। উপমহাদেশে এবং সারা বিশ্বে বাঙালি ও বাংলাভাষীদের স্বার্থের প্রশ্ন বাদ দিয়ে স্রেফ অনৈতিহসিক ধর্মতত্ত্ব কিম্বা নির্বিচার মুসলমান পরিচিতি বাঙালি মুসলমানের স্বার্থের অনুকুল নয়।

সব সময় মনে রাখা দরকার বাংলাভাষীদের বিভক্ত রাখার ওপর উপমহাদেশে – বিশেষত এর পূর্বাঞ্চলে সকল পরাশক্তির আধিপত্য বহাল রাখতে পারা নির্ভর করে। দিল্লির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আধিপত্য বহাল রাখার জন্য বৃহৎ বাংলার সকল নিপীড়িত জনগণের লড়াইকে স্রেফ মুসলমান কিম্বা হিন্দুর লড়াইয়ে পর্যবসিত করতে পারা যেমন জরুরি, একই ভাবে এই সাম্প্রদায়িক বিভক্তি মার্কিন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং চিনের আধিপত্য বজায় রাখার জন্যও সমান জরুরি। ইতিহাসের নির্মম প্রহসন যে একটি মফস্বলী রাজ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাবার ফলে পশ্চিম বাংলার হিন্দু এখনও তাদের খণ্ডিত ভূগোলকে বিশ্ব গণ্য করে। বাঙালি মুসলমানকে ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বুঝতে না শিখলে বাঙালি হিন্দুর চিন্তা আরও সংকীর্ণতায় আকীর্ণ হবে এবং নিজেরা হিন্দুত্ববাদের অতিশয় প্রান্তসীমায় পর্যবসিত হয়ে ভাষা ও সংস্কৃতিহারা হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভারতে বিলীন হবে। ‘বাঙালি মুসলমান’ শব্দটিকে ইতিহাস ও রাজনীতি বিশ্লেষণের বর্গ এবং গোলকায়িত বিশ্বে বাংলাভাষীদের ভূ-রাজনৈতিক কর্তব্য নির্ধারণের ক্যাটাগরি হিশাবে ভাবতে পারার ওপর সকল বাংলাভাষীর ভবিষ্যৎ নিহিত। একই সঙ্গে সকল নিপীড়িত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ জাতি সত্তার ভবিষ্যতও এর সঙ্গে ক্রমশ জড়িত হয়ে পড়ছে।

মাহমুদুর রহমান এবং তার রাজনীতির মূল্যায়ন ‘বাঙালি মুসলমান’ নামক ভূ-রাজনৈতিক ক্যটাগরির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিচারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে যে রাজনীতি তিনি বহন করেন তাকে পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও অগ্রসর করে নেবার পথও কারো বিশেষ জানা নাই। ইতিহাস আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করিয়ে নেয়, কিন্তু ইতিহাসকে আমাদের অধীনস্থ করবার নীতি ও কৌশল চর্চার পদ্ধতি ও পথ আলাদা। বাংলাদেশের জনগণকে নতুন ভাবে সেটা আবিষ্কার করতে হবে। ‘বাঙালি মুসলমান’ দক্ষিণ এশিয়ায় জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। সে কারণে সকল পরাশক্তির জন্য ‘বাঙালি মুসলমান’ ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিশাবেই হাজির হতে বাধ্য। কারণ প্রায় সতেরো কোটি বাঙালি মুসলমান হোসেনশাহের বাংলার স্মৃতি ধারণ করে, মার্কিন-ব্রিটিশ ও ভারতের সাজানো খণ্ডিত বাংলা না। কিম্বা ‘ভারত’ নামক কলোনিয়াল ইংরেজের টানা সীমানা ও মিথ দিয়ে তৈয়ারি মানচিত্রের মিথ্যা তাদের একাত্তর সালেই জানা হয়ে গিয়েছে। বাঙালি মুসলমান একাত্তরে পাকিস্তানবাদের কবর দিয়েছে, পাকিস্তানের মানচিত্রকে হাস্যকর প্রমাণ করে ছেড়েছে, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদের পতন ও পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের নতুন ঐক্য ও সংহতির শর্ত তৈরির জন্যই বাংলাদেশের আবির্ভাব ঘটেছে। সেটা বাংলাদেশের ষোল কোটি জনগণের নেতৃত্বেই ঘটবে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে আর ফেলানিদের হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখে কোন লাভ হবে না। এটা মাহমুদুর রহমানকেও বুঝতে হবে।

ইতিহাসের এই উপলব্ধির জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি মাহমুদুর রহমানকে সবসময় সমর্থন করেছি। রাজনৈতিক ক্যাটাগরি হিশাবে ‘বাঙালি মুসলমান’-এর পর্যালোচনা এবং সঠিক রাজনীতির দিক নির্দেশনা চিহ্নিত করবার দিক থেকে মাহমুদের রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা আছে এবং থাকবে। আমরা কেউ আদৌ বাঁচব কিনা জানি না। আমাদের মেরে ফেলাও হতে পারে। কিন্তু সেটা হবে খুবই তুচ্ছ ব্যাপার। কিন্তু শুধু ষোল কোটি বাংলাদেশের জনগণ নয়, পুরা উপমহাদেশের নিপীড়িত ও মজলুম জনগণের আত্মোপলব্ধি, ঐক্য ও সংহতির জন্য বাংলাদেশের জনগণকে লড়ে যেতে হবে।

২৪ জুলাই ২০১৮। ৯ শ্রাবণ ১৪২৫। শ্যামলী।

/চিন্তা ডট কম

 

 

Content Protection by DMCA.com

১৫০ সিট চায় মাহী, ২০ দলের শরীকরাও চায় ১৫০ সিট! বিএনপির আর নির্বাচন করার দরকার আছে কি?

Content Protection by DMCA.com

বি চৌধুরীর বেটা মাহী যখন গত সপ্তাহে বিএনপির কাছে চাইল ১৫০ সিট, এটা নিয়ে চরম সমালোচনা হৈ চৈ চলছিল অনলাইনে। লিখতে চেয়েও সংযত ছিলাম। অপেক্ষা করলাম জোট কি বলে দেখি। আজকে জোট থেকেও ১৫০ সিট চাওয়ার সংবাদ! বেশ! এইবার লেখা যায়।

সেদিনকার দেড়’শর পরে আজকে দেড়’শ চাওয়ার পরে বিএনপি মহাসচিবের কাজ এখন সহজ হয়ে গেলো! তাইলে ১৫০ দিয়ে দেন ঐকজোটকে, ১৫০ দেন ২০ জোটের শরীককে। সেক্ষেত্রে বিএনপির আর নির্বাচন কো লাগবে না! হাত পা গুটিয়ে ঘরে বসে থাক, উনারা ইলেকশন করে জিতে আসুন! সরকার গঠন করুক!

হায়রে মাহী। তোমাকে তো বাপু নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ভাবছিলো সবাই, এখন দেখা যাচ্ছে তুমিও চিকনা বুদ্ধিতে কম যাও না। তুমি বিএনপিকে মাইনরিটি বানাইতে চেষ্টা করতেছ! কিন্তু কেনো? তোমার বাপকে প্রেসিডেন্ট থেকে বাদ দিছিলো বিএনপি, তাই বিএনপির কাছে যেনো আর ক্ষমতা না থাকে। এই তো? বেশ! তাইলে একটা কাজ করো ১৫০ সিট দরকার নাই, বিএনপির সাহায্য ছাড়া বাপ বেপা দুইজনে মাত্র দুইটা সিট জিতে আসো দেখি। নৌকা ধানেরশীষ, কুলা তিন প্রতীকের ভোট হবে। কত পারো। যদি জিততে পারো- তোমার বাপরে প্রেসিডেন্ট, আর তোমারে প্রধানমন্ত্রী বানানো যাবে!

শোনো, এটা জাতীয় নির্বাচন। মেডিকেল হাসপাতালে রোগী দেখা না, বা শোবিজ জগতের মেয়েদের নিয়ে নাচানাচিও না। নির্বাচন ক্ষমতা সাংঘাতিক সিরিয়াস বিষয়। যদি মনে করো দেশে গণতন্ত্র দরকার, ভারতীয় আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ বাঁচাইতে হবে, অবৈধ দখলদার সরকার হাসিনাকে বিদায় করতে হবে – তবে এইসব দেড়শ/দু’শ সিটের বাহানা বাদ দিয়ে খোলা মন নিয়ে সামনে আগায়া আসো। নইলে তোমাদের সামনে তো পুরানা রাস্তা খোলা আছেই- কিস্তিতে উঠে পড়তে পারবা- সমস্যা নাই। দেশ গোল্লারে যাক, জাহান্নামে যাক, নিজেরা কিছু পাইবা তো! মনে করিও না, খালেদা জিয়া জেলে, তাই চামচিকার মত হাতিকে ঝামটা দেয়ার চিন্তা করিও না। মনে রাখিও, নির্বাচন এবং রাজপথ দখল দুটাই বিএনপি কর্মীরা করবে। তোমাদের কার কি সামর্থ আছে, কার পিছে কয়জন আছে, সে হিসাব মোটামুটি জানা।

২০ দলের শরীক জোট ভাইরা। দীর্ঘদিন ধরে জোটে আছেন, তো থাকেন। ইলেকশন হবে কি হবেনা ঠিক নাই! বিএনপি অংশ নিবে কি না, এখনও শিওর না। তারপরও আপনার ১৫০ সিট চাইয়া গন্ধ করে ফেলছেন চারদিক! এভাবে করলে হবে? নাকি রিজনেবল সংখ্যায় সিট দাবী করবেন? ১৫০ সিটে আপনারা কি প্রার্থী দিতে পারবেন? নাকি জামানত ফেরত আনতে পারবেন? খামাখা হুজুগে লাফান কেনো? যে কয়টায় জিততে পারবেন, সম্ভাবনা থাকবে, সে কয়টার জন্য চেষ্টা করুন। বেশি লোভ করা ভালো নয়।

আরও কথা আছে। ৩০০ সিটের সংসদ নির্বাচনই শেষ কথা নয়। আগে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করতে হবে। দেশের জঞ্জাল সাফ করতে হবে। তারপরে সংসদের আরেকটা উচ্চ কক্ষ (সিনেট) বানানোর কথা, যাতে ১০০ জনকে একমোডেট করা যাবে। সংসদের ৩০০ আসনকে ৫০০ করা হতেও পারে। আপনাদের যারা ভোটে আসতে পারেন না, তাদের জন্য সেখানেও যায়গা হতে পারে। তাই এখনি অধৈয্য না হয়ে সবার আগে সংসদ নির্বাচন কেমন করে টু-থার্ড মেজরিট পাওয়া যায়, সে চেষ্টা ফিকির করুন। নইলে দেড়শ- দেড়শ যতই তিন’শ গুনে রাতকে সকাল করেন না কেনো- ক্ষমতা কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries