Category Archives: বিবিধ

ব্যর্থ হলো সংলাপ:ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব সরকারের নাকচ: রাজপথেই সমাধানের ঘোষণা

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করেন বারবার

Content Protection by DMCA.com

ড. তুহিন মালিক

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে আজ সকালে পদত্যাগের পরও একজন মন্ত্রী হিসেবেই একটি অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। অথচ গতকাল গণমাধ্যমে পুরো দেশবাসী দেখেছে চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

আমাদের সংবিধানে ৫৮(১) নং অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।”

এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ামাত্রই মন্ত্রীদের পদ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে কোনো ‘যদি’ বা ‘তবে’ বা কোনো ফর্মালিটির উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছামাত্রই তাদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শুধু পোস্টবক্স হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে গতকাল থেকেই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সবার পদ শূন্য হয়ে গেছে। এখন তারা আর কোন ধরনের বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটারই অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করার পর পদত্যাগী কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব পেতে হলে তাকে আবার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নতুন করে আবার শপথ নিতে হবে ও শপথে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আমাদের সংবিধান খুব পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখিয়েছে। খেয়াল করার বিষয় হলো- সংবিধানের ৫৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে। অপরপক্ষে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে।

প্রশ্ন জাগতে পারে- এই দুই ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেন? জবাব হলো- সংবিধান মতে রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ও বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। তাই সংবিধান প্রণেতাগণ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা প্রয়োগের রক্ষাকবচের জন্যই মন্ত্রীদের পদ শূন্যের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক বলে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। কেননা মন্ত্রীদের পদশূন্যতা যদি রাষ্ট্রপতির মর্জির ওপর শর্তযুক্ত থাকে তাহলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আসলে অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করলেন।প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, অফিস করবেন এবং ফাইলেও যথারীতি স্বাক্ষর করবেন। এটা কেমন হুকুম! যেখানে পদত্যাগ করার পর মন্ত্রীদের প্রত্যেকের পদ সংবিধান মতে শূন্য ঘোষিত হলো সেখানে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে মন্ত্রীরা যদি অফিস করেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর দিতে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধানের চরম লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

কেননা পদত্যাগী মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবৈধ বিধায় তাদের কেউ আর কোনো বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার, অফিস করা, ফাইলে স্বাক্ষর করা ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটাই করার অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ভরণ-পোষণের কোনো বিধান অদ্যাবধি তৈরি করেনি। তাই পদত্যাগী মন্ত্রীদের দেওয়া সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবৈধ। তাদের নীতিনির্ধারণী, ফাইলে স্বাক্ষর ও নোটিংসহ সব কাজকর্ম অবৈধ।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাতকে দিনে রূপান্তরিত করছেন, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক সংবিধান লংঘন করেই চলেছেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

Content Protection by DMCA.com

সরকার ও সরকারী দলের নেতিবাচক খবর প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী: ডিজিএফআই দিয়ে মিডিয়ার ওপর চাপ

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশনগুলোতে সরকারের কড়া সেন্সরশীপ জারী করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ও সরকারী দলের কোনো নেগেটিভ সংবাদ প্রকাশের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সরকারপন্থী পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসে হঠাৎ উপস্থিত হন ডিজিএফআইয়ের মিডিয়া ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান এক কর্নেল। পত্রিকার সম্পাদককে খুঁজতে থাকেন। সম্পাদক নঈম নিজাম সে সময় অফিসের বাইরে ছিলেন। উপস্থিত বার্তা সম্পাদককে কর্নেল বলেন, এখন থেকে বর্তমান সরকার বা সরকারী দলের কোনো নেতিবাচক খবর পরিবেশন করা যাবে না। এর জবাবে বার্তা সম্পাদক যদিও বলার চেষ্টা করেন, এটা সরকারপন্থী পত্রিকা, এবং সম্পাদক নিজেও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। কিন্তু তাতে বিরক্ত হয়ে কর্নেল শাসিয়ে যান, আমরা যা বললাম এটাই ফাইনাল. এর অন্যথা হলে ঐ রিপোর্টার এবং সম্পাদককে সরাসরি দায়ী করা হবে।

অফিসে ফিরে নঈম নিজাম বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কর্নেল সাহেবকে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, ‘সরকারের নির্দেশেই বিষয়টি আমাদের প্রায়োরিটি। যেহেতু সামনে ইলেকশন, তাই সরকারের কোনো নেতিবাচক খবর বা সমালোচনা আমরা অ্যালাও করবো না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমি সবগুলো পত্রিকা এবং টিভিতে যাব এবং তা সকলকে দিয়ে নিশ্চিত করানো হবে।’

বিষয়টি নিয়ে প্রেস কাউন্সিল এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরণের অত্যাচার এই নতুন নয়। তবে এবারে নির্বাচনের আগে আগে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামায় তারা আতঙ্কিত বোধ করে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রথম মি-টু (#MeToo) এবং বেশ্যা মিডিয়ার গল্প !

Content Protection by DMCA.com

মাসুদা ভাট্টি ইস্যুটি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মিডিয়া হাইপ তৈরী করে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে জেলে ঢুকানোর ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম ডিবিসি নিউজের হেড অফ নিউজ প্রনব সাহা । তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দেখুন ।

বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর এখন সুইডেন থাকেন । দুই সন্তানের মা সুপ্রীতির সঙ্গে তার স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গেছে বহু আগে । গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক তিনি ।

বছর দশেক আগে প্রণব এবং সুপ্রীতি দুজনেই কাজ করতো প্রথম আলোয় ( #ProthomAlo ) । চিরকুমার প্রণব হঠাত্ প্রেমে পড়েন সুপ্রীতির । দুই সন্তানসহ সুপ্রীতি তখন থাকেন তেজতুরি বাজারের ভাড়া বাসায় । এক পর্যায়ে প্রণবও উঠেন সেই বাসায় । চলে লিভটুগেদার । একসময় সুপ্রীতির পেটে বাচ্চা এলে প্রণব ও তার বন্ধু আশীস সৈকত (ইনডিপেনডেন্ট টিভির বর্তমান চিফ নিউজ এডিটর) দুজনে মিলে তাকে একটা ক্লিনিকে নিয়ে অ্যাবরশন করিয়ে আনে । এই ঘটনার পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে হঠাত্ একদিন প্রণব সুপ্রীতির বাসা ছেড়ে বাংলামটরে বোনের বাসায় উঠেন । শুরু হয় ঝগড়াঝাটি । এসব ঘটনায় কোনো গোপনীয়তা ছিল না । পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে এক সময় দুজনকেই চাকরিচ্যুত করে প্রথম আলো ।

এতদিন পর এখন সুপ্রীতির মেয়ে সিমন্তী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানাচ্ছে যে, তার মায়ের সাথে যখন প্রণব সাহার সম্পর্ক ছিল তখন মায়ের সেই বয়ফ্রেন্ড দ্বারাই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। তার সেই বিষ্ফোরক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আজ চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাংলাদেশের মিডিয়া পুরোপুরি চুপ। তবে সুপ্রীতি ধর মেয়ের স্টেটাস শেয়ার করে সমর্থন করেছেন- আর যাই হোক, মায়ের সাথে লিভ টুগেদার করে মেয়ে ভোগ করা যায় না!

Content Protection by DMCA.com

সংসদ নির্বাচনে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: সাফল্যের স্বীকৃতি নিয়ে ফিরছেন বার্নিকাট

Content Protection by DMCA.com

সরকারের কথা অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয় কি না, সেদিকে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট আজ মঙ্গলবার তাঁর শেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সংলাপে রাজনৈতিক নেতারা সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার কথা মনে রাখবেন বলে প্রত্যাশা বার্নিকাটের।
প্রায় চার বছর এ দেশে দায়িত্ব পালন করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তারই আলোকে তিনি বললেন, ‘আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখবে।’
বার্নিকাট বলেন, ‘সরকারের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহনমূলক হয় কি না, সেদিকে গুরুত্বের সঙ্গে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রার্থী, দল কিংবা জোটকে সমর্থন করে না। সমর্থন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মূল্যবোধকে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে যেখানে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক ছাড়াই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে। তবে সেই কর্মসূচি অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে।’
বিদায়ী এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সরকারের মধ্যে হতে যাওয়া সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করলেন বার্নিকাট।
বার্নিকাট বলেন, ‘আসন্ন সংলাপ রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন। তবে খেয়াল রাখতে হবে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কথা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করে সংলাপ হওয়া উচিত হবে না।’
এ দেশের নানা সম্ভাবনার মধ্যে তারুণ্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে দৃষ্টি কেড়েছে বলে উল্লেখ করেন বার্নিকাট। বললেন আবারোও আসতে চান বাংলাদেশে।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীদের ভয়াবহ গলাবাজি এবং হাসিনার পালিত মাসুদা ভাট্টি টাইপের মানে চরিত্রহীনদের মিডিয়ার ক্রমাগত প্রচারণার কারনে দেশের মানুষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, হাসিনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যে কারনে গোটা দেশময় পাবলিকের মনে এক প্রকার ঘৃণাবোধ জন্মেছিলো বিএনপির ওপরে। কেনো তারা কিছু করছে না। কেনো আন্দোলন করছে না, এরকম দাবি সব জায়গা থেকেই করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি পুরনো ভুল থেকে রিকভার করে এমন পন্থা অবলম্বন করতে চেয়েছিলো, যেটা বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকেই সুস্পষ্ট হয়েছিলো।
.
বিরোধী দলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে অসাড়, বিরোধিতার খ্যাতিরে বিরোধিতা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছিলো সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ এবং দেশের ভিতরে গেম প্লান করার যোগ্যতা রাখেন এরকম ব্যক্তিদের নিয়ে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন কুড়ি দল বিশেষ জোট গঠনের পথে হাটলো এবং সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এক প্রকার ছাড় দিয়েই বিএনপি সহ কুড়ি দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ফেললো, তখন এক যুগ ধরে দখলদার প্রধানমন্ত্রীর পায়ের নিচের মাটি একটু একটু করে সরে যেতে লাগলো। এটাই বিএনপির ক্রেডিট বলতে হবে যে, তাদের কট্টর বিরোধী মতের লোকদের নিজের বলয়ে এনে তাদের মুখ দিয়েই নিজের কথা বলাচ্ছে। জাতীয় সমস্যাকে দলের হিসেবে বিবেচনায় নিতে চায়নি বিএনপি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক এই কৌশলে শেখ হাসিনা পুরোপুরি পরাস্ত।

ফলে হাসিনার সরকারের গলাবাজি আর তিরস্কারের জন্য তৈরি মিডিয়ার সকল ফোকাস বিএনপি জামায়াতের ওপর থেকে সরে গিয়ে এখন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড কামাল এবং তার সহযোগীদের ওপর পড়লো। তাদের বিতর্কিত করার, হেনস্তা করার নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করতে লাগলো সরকার ও সরকারের পালিত দালালরা। সাথে যোগ দিলো সরকারের আজ্ঞাবহ মিডিয়া এবং তাদের দালালরা। কিন্তু মাঝ পথে হোচট খেয়ে গেলো ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সম্পুর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করার ভিতর দিয়ে। যে বিষয়ে একাধিক মামলা হয়, সেই মামলাগুলোকে একটি মামলায় রূপান্তর করাই আইন আদালতের প্রসিডিউর। ফলে ঐ মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চের আগাম জামিনে থাকা ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেওয়ার কোন এখতিয়ার নিম্ন আদালতের ছিলো না। ড কামাল হোসেন এ কারনেই আইন মন্ত্রীকে ভৎর্সণা করে  বলেছেন, ‘তোমাকে কে এ অধিকার দিলো, আইনের ব্যাখ্যা দাও।’ ব্যাখ্যা আর কি দেবে, তাদের তো শেষ চেষ্টা করে দেখতে হবে, এই যা। সমস্যা হয়েছে, সরকারের পতনের জন্য যে পরিমান গোয়ার্তুমী বাকি ছিলো, সেটাও পূর্ণ হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে গেছে যে, হাসিনার অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সম্মানিত সকল নাগরিকদের অনীহা রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছে শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের কথামত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া শেখ হাসিনার যেমন প্রেস্টিজ ইস্যূ যেমন তেমনি তার মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ নেতাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।

সব দিক বিবেচনায় নিজের এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েই দরকষাকষি করে চলছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করে যাওয়া  যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মূখ্য সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়ালেস এবং কর্মকর্তারা নির্বাচন বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করে তিনটি অপশন দিয়েছিন। সরকারও সময় নিয়েছে এগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এসব অপশান কেবল মুখের কথা নয়, সরকারের জন্য চয়েজ মাত্র।
.
প্রথমটি অপশন, বিরোধী দলগুলার সঙ্গে সংলাপে বসে সব দলের অংশগ্রহনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কার্যকর পথ বের করা।
দ্বিতীয় হলো, সরকার নিজেরা পদতাগ করে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব দেয়া, যাতে তিনি সকল দলের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে তদারকি সরকার গঠন করতে পারেন।

তৃতীয়টি হলো, সরকার জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘেষিত হবে, কিন্তু নির্বাচন হবে না। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গোলযোগ হলে কি করণীয়, হবে সেটা সংবিধানে বর্ণিত আছে। এ অবস্থায় সরকার আরো তিন মাস ক্ষমতা কন্টিনিউ করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্বাচন না হলে সংবিধান অটোমোটিক চয়েজ দিয়ে দেবে। নিরপেক্ষ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সংবিধানিক কোন বাধা থাকবে না।

হয়তো এই তিন/চার মাসে সরকার আরো কিছু হিসাব নিকাশ করতে পারবে, কিন্তু নিজেদের অধিনে কোন নির্বাচনের চেষ্টা চালাতে পারবে না। অতএব, এত অপশানের ভিরে হাসিনার জন্য একটাই অপশান কনফার্ম হয়েছে যে, পুনরায় ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা হলে সরকারের সাথে দাতাগোষ্ঠির সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত সকল দাতা গোষ্ঠিও সরকারকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী দশ দিনের ভিতরে সরকারকে তার পছন্দ জানাতেই হবে। এটাই হচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহর আলটিমেটাম। তিনি বলেছেন, আগামী দশ দিনের ভিতরেই কিছু একটা হয়ে যাবে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

২১শে আগস্টের রায় নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে হতাশ হাসিনা!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী কাল ১০ই অক্টোবর একটি মামলার রায় নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজধানীতে যখন টান টান উত্তেজনা, এরই মাঝখানে শেখ হাসিনা তার দূত পাঠান বিএসএমএমইউতে (পিজি হাসপাতালে) ভর্তি কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগে আগে এ বিষয়ে টোপ পাঠান শেখ হাসিনা। তার প্রস্তাব কেবল একটাই, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজী হলেই তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়া হবে!

প্রস্তাব শুনে হেসে ফেলেন বেগম জিয়া। বলেন, আর কত নাটক করতে চায় হাসিনা? তাকে বলে দিও, “ফাঁসিই তো দিবে? যা ভালো মনে করে দিতে বলো। জিম্মি করে কোনো আপোষ হবে না। অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।”

হতাশ হয়ে প্রতিনিধি দল ফিরে যায়। এদের একজন খুব অবাক হয়ে বলেন, এত শক্ত! তিনি কোথায় পান এত মনের জোর?

উল্লেখ্য ১০ই অক্টোবর ঐ রায় ঘোষণার একটি বিশেষ কারণ আছে। আর  তা হলো ২০০১ সালের এই দিনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। সেই দিনে শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে একটি সাজানো রায় দিয়ে মনের জ্বালা মিটাতে চান!

Content Protection by DMCA.com

৫ সম্পাদককে আওয়ামীলীগের ১৫০ কোটি টাকা অনুদান

Content Protection by DMCA.com
অনুসন্ধানী প্রতিবেদক :

যেকোন মূল্যে নিজেদের প্রভাবকে স্থায়ী করতে বর্তমান সরকারের বিকল্প নেই উল্লেখ করে মিডিয়ায় আওয়ামীলীগ সরকারের গুণকীর্তন করতে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে মিডিয়া হাউসে রীতিমতো আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। আর এদিকে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পাওয়ার পর গত শুক্রবার এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় ওইসব পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকরা।

জানা যায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগ সরকারকে যেকোন মূল্যে সরকারে রাখতে ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা করে সম্মানী পেয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল সম্পাদকরা। এসব দৈনিকের বার্তা সম্পাদকরা পেয়েছেন ৫ কোটি করে। গত বৃহস্পতিবার একশত পঞ্চাশ কোটি টাকা বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকদের স্ত্রী, সন্তানদের ব্যাংক একাউন্টে যোগ হয়েছে বলে আওয়ামীলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা জানান।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সোনালী ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক এর মোট ২৫ টি একাউন্টে ১৫০ কোটি টাকা যোগ হয়েছে বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে। ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য অনুসারে কিছু কিছু একাউন্টে এসব টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকটেড করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ একজন ডাইরেক্টরের নির্দেশে টাকাগুলো জমা নেয়া হয়। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক এর এক শাখার সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার লেনদেনে অসামঞ্জস্যতা লক্ষ করে টাকা জমা না নিতে সংশ্লিস্ট অফিসারকে নির্দেশ দিলে উত্তেজনা হয়ে টাকা জমাকারী একজন ব্যাক্তি কোথাও ফোন দেন। ফোন দেয়ার ১০ মিনিট পরেই ওই শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি ফোন আসে। আর তিনিও টাকা জমা নিতে বাধ্য হন।

সূত্রের দাবি, সরকারের পক্ষে অনেক আগে থেকেই কাজ করে আসছে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ডেইলি স্টার, সমকাল মিডিয়া হাউসের সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদকরা। অঘোষিত এক চুক্তির মাধ্যমে তারা আওয়ামীলীগ সরকারের গুন কীর্তণ এতদিন পর্দার আড়ালে করে আসলেও নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে চালাচ্ছে প্রকাশ্যে। আর তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতেই আওয়ামীলীগ সরকার তাদের শেষ সময়ে সম্পাদকদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেন।

/বিডি ফ্যাক্টস চেক

Content Protection by DMCA.com

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে ১২ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৭ দফা ঘোষণা বিএনপির

Content Protection by DMCA.com

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারাবন্দি দলের চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তি এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জনসভা আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুর ২টায়। কিন্তু দুপুর ১২টার পরই অনানুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যায় জনসভা। এর আগেই বেলা ১০টার পরপরই আসছে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা বিশাল বিশাল মিছিল সহকারে উদ্যানে প্রবেশ করেন। ঘণ্টাখানেক পরই উদ্যান লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। দুপুর ১টার আগেই জনসভাস্থল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিএনপি ও দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগেন মুখরিত তুলেছে উদ্যান। রাজধানীর নিউ মার্কেট, পুরান ঢাকা, বাংলামটর, শাহবাগ, মৎভবন, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিলে মিছিলে উদ্যানে প্রবেশ করে নেতাকর্মীরা। এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকে যেসব নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে চান, তারা সকাল থেকেই শাহবাগ, মৎসভবনের আশেপাশের অলিতে গলিতে অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার পর তারা মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যোগ দিতে দেয়।

জনসভা থেকে ৭ দফা, ১২ লক্ষ্য ও ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বিকালে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের পক্ষে দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলীয় চেয়ারপারসনের নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ ও আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবি রয়েছে ঘোষিত সাত দফায়। এ দফা ও দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৩রা অক্টোবর জেলায় এবং ৪ঠা অক্টোবর বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার যদি দাবি মেনে না নেয় তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। খালেদা জিয়ার ডাকে দেশবাসী এবং সব রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ভীষণ ভয় পাচ্ছে। তারা এখন পদে পদে ষড়যন্ত্রের ভুত দেখতে শুরু করেছে।

সাত দফা দাবি:
১. বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
২. জাতীয় সংসদ বাতিল করতে হবে।
৩. সরকারের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে।
৪. সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা। নির্বাচনের একমাস আগে থেকে নির্বাচনের পর ১০ দিন পর্যন্ত মোট ৪০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
৫. নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা ও পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর যুগোপযোগী সংশোধন করতে
৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাদের ওপর কোন ধরনের বিধি নিষেধ আরোপ না করা।
৭. (ক) সব বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
(খ) নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা।
(গ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবেনা ।
(ঘ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের ন্যায্য আন্দোলন এবং সামাজিক ও গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে গ্রেপ্তর ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

বিএনপির ১২ দফা লক্ষ্য:
১.  রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায় ভিত্ত্বিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা।
২.  রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
৩.  রাষ্ট্র ক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
৪.  স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা।
৫.  স্বাধীনতা ও সার্বভে․মত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক স্বশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা।
৬.  গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৭.  কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজ‣নতিক পভ্রাবমুক্ত ও অধিকতর কার্যকর করা।
৮.  সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মে․লিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা।
৯.  “সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে ক্সবরীতা নয়”Ñ এই মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীনতা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরন করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ সমূহের সাথে পারস্পরিক এবং সৎ প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১০.  কোনো ধরণের সন্ত্রাসবাদকে পশ্র্রয় না দেয়া এবং কোনো জঙ্গী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করতে না দেয়া।
১১.  ক) নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূণর্ বেতন-মজুরি নির্ধারণ ও আয়ের ক্সবষম্যের অবসানকল্পে সমতাভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা এবং সকলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার-ভাতা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবীমা চালু, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা।
খ) স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, প্রযুক্তিÑবিশেষ করে তথ্য পয্রুক্তি বিষয়ে মানব সম্পদের উৎকষর্ সাধন করা, জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
গ.  তৈরি পোষাক শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন এবং শিল্প ও রফতানী খাতকে বহুমুখী করা, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামমুখী করা, ক্সবদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত ও পব্রাসী জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ পজ্রন্মের প্িরতভার বিকাশ ও তাদের আধুনিক চিন্তা চেতনাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষা, তথ্য ও তথ্যপয্রুক্তিখাতকে অগ্রাধিকার দেয়া।
১২. সকল প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐক্যমত গঠন করা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধূরী এ্যানীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ,ব্যারিষ্টার জমিরউদ্দীন সরকার, ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সেলিমা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাড. খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবেদিন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুইয়া, জয়নুল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবীব, ফজলুর রহমান, হবিবুল ইসলাম হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মুজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক, ফজলুল হক মিলন, মাহবুবুর রহমান শাহীন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস আকতার, শামা ওবায়েদ প্রমুখ।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না : ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries Recent Entries »