Category Archives: বিবিধ

সরকারের মন্ত্রী লোটাস কামালের হুশিয়ারি: ২৭ তারিখের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত এলাকা না ছাড়লে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!  

Content Protection by DMCA.com

২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীরা এলাকা না ছাড়লে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী ও কুমিল্লা-১০ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)।

বুধবার রাতে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কনকশ্রী মধ্যমপাড়ায় বাইন্না বাড়িতে আয়োজিত উঠান বৈঠকে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। বৈঠকে লোটাস কামালের দেয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনেও এ অভিযোগ করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে
রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগের অবৈধ মন্ত্রী লোটাস কামালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির ভয়াবহ পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে শেয়ার বাজার ও ব্যাংক লুটেরাদের ‌অন্যতম আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল বলছেন-‘একটা একটা করে খুঁজবেন, ২৭ তারিখের আগে যদি এলাকা ছেড়ে না যায় তা হলে আর ছাড় নাই। তাদের চৌদ্দগুষ্টি পর্যন্ত উৎখাত করবো’।

ওই উঠান বৈঠকে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আমি হামলা-মামলা করে কাউকে হয়রানি করিনি। আগামী ২৭ (নির্বাচনের ৩ দিন আগে) ডিসেম্বরের পর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর আমার ও আমার বড় ভাইয়ের নামে অনেক মামলা হয়েছিল। বিএনপির আমলে একটি রাতও আমি বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি। অনেকের গরুর ঘর থেকে তারা গরু নিয়ে গিয়ে পিকনিক করেছে, পুকুর থেকে মাছ ধরে নিয়ে গেছে এবং জমি থেকে ফসল কেটে নিয়ে গেছে। তারা ভালো মানুষ না। তারা আমাকে খুনের মামলায় এক নম্বর আসামি করেছে। আমাকে ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়েছে। আগামী নির্বাচনে আমাকে নয়, উন্নয়নের মার্কা নৌকাকে বিজয়ী করে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে একটা কথা বলে গেলাম, তাদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করি নাই, মামলা করবো না। ২৭ তারিখ পর্যন্ত মামলা করবো না। ২৭ তারিখের পর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমি আবারও বলে গেলাম, জামায়াত হোক, শিবির হোক, যেই গোষ্ঠিই হোক- এদের চৌদ্দ গোষ্ঠি পর্যন্ত শেষ করবো ইনশাল্লাহ। এদের কাছে  দেশ সেইফ না। আমি আজ বলে গেলাম- এরা এখানে থাকতে পারে, যেখানে সেখানে থাকতে পারে। আপনারা খুঁজে দেখবেন। ২৭ তারিখ পর্যন্ত দেখবো। যদি ২৭ তারিখের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে না যায়, যদি আমাদের সঙ্গে কোনও কম্প্রোমাইজ না করে, না আসে, তাহলে ২৭ তারিখের পরে আর ছাড় নাই।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি তার সহকর্মী হিসেবে সাহায্য করি। দেশকে এগিয়ে নিতে আজীবন কাজ করে যাব।’

পেরুল দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান এজিএম শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই উঠান বৈঠকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমএ হামিদ, লালমাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মজুমদার, স্থানীয় ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, বিজয়পুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী এবং সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলাসহ স্থানীয় এলাকার দল ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ নিউজ

Content Protection by DMCA.com

ধানের শীষের ২৭৬ প্রার্থী চূড়ান্ত: বিএনপি ২১৬, জামায়াত ২৫, ঐক্যফ্রন্ট ১৯

Content Protection by DMCA.com

 

ইতোমধ্যে ২৭৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রার্থীদের চিঠি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বিএনপির এককভাবে ২১৬ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জামায়াতে ইসলামীকে দেয়া হয়েছে ২৫টি আসন, এর মধ্যে একটিতে আইনি জটিলতায় পড়েছে দলটির প্রার্থী। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইতোমধ্যে ১৯টিতে ধানের শীর্ষের প্রতীকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে গণফোরাম ৬, জেএসডি ৫, নাগরিক ঐক্য ৫, ঐক্যপ্রক্রিয়া ১, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ২। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটের অপর শরীক বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসন, এনপিপি: নড়াইল-২ আসন, পিপিবি: রংপুর-৩ আসন, কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম- ৫ আসন, এলডিপি: চট্টগ্রামের দুইটিসহ ৫টি, খেলাফত মজলিশ: ২টি আসন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: ৩টি আসন ও জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর):  দুইটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। শনিবার বিএনপির গুলশান কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বাকী ২৪ আসনের বিষয়ে রোববার সকালেই জানা যাবে।

শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) ২০৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশের পর শনিবার (০৮ ডিসেম্বর) আরও দশজনের নাম প্রকাশ করেছে বিএনপি।

দলটির এ ১০ জনের চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকায় রয়েছেন- গাইবান্ধা-২ আসনে আবদুর রশীদ সরকার, পটুয়াখালী-২ এ শহীদুল আলম তালুকদার, নারায়ণগঞ্জ-১ কাজী মুনীর, ময়মনসিংহ-১ আলী আজগর, কুমিল্লা-৬ আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, জামালপুর-১ রশীদুজ্জামান মিল্লাত, সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং বরগুনা-২ নির্বাচনী এলাকায় খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এরআগে গতকাল ২০৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (০৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা পাঠ করে শোনান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০৬ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা
চট্টগ্রাম বিভাগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, কুমিল্লা-১ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-২ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কুমিল্লা-৩ কাজী মজিবুল হক, কুমিল্লা-৮ জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৯ আনোয়ারুল আজিম, চাঁদপুর-১ মোশাররফ হোসেন, চাঁদপুর-২ ডা. জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর-৪ আবদুল হান্নান, চাঁদপুর-৫ মমিনুল হক, ফেনী-২ জয়নাল আবেদীন, ফেনী-৩ আকবর হোসেন, নোয়াখালী-১ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-২ জয়নুল আবদিন ফারুক, নোয়াখালী-৩ বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজিম, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল খায়ের ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর-৩ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম-১ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ আজিবুল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৪ ইসহাক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ জসিম উদ্দিন সিকদার, চট্টগ্রাম-৭ কুতুব উদ্দিন বাহার, চট্টগ্রাম-৯ ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১০ আব্দুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ সারোয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৬ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কক্সাবাজার-১ হাসিনা আহমেদ, কক্সাবাজার-৩ লুৎফর রহমান কাজল, কক্সাবাজার-৪ শাহজাহান চৌধুরী, খাগড়াছড়ি- শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাঙামাটি- মনি স্বপন দেওয়ান ও বান্দরবান- সাচিং প্রু বিএনপির মনোয়নয়ন পেয়েছেন।

ঢাকা বিভাগ
কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম খান চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-২ মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ-৪ ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মুজিবর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-৬ শরীফুল আলম, টাঙ্গাইল-১ শহীদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-২ সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৫ মাহমুদুল হাসান, টাঙ্গাইল-৬ গৌতম চক্রবর্তী, টাঙ্গাইল-৭ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মানিকগঞ্জ-১ এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ মাঈনুল ইসলাম খান, মুন্সিগঞ্জ-১ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান সিনহা, মুন্সিগঞ্জ-৩ আবদুল হাই, ঢাকা-২ ইরফান ইবনে আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-১০ আবদুল মান্নান, ঢাকা-১১ শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১২ সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৩ আবদুস সালাম, ঢাকা-১৬ আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা-১৯ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও ঢাকা-২০ তমিজ উদ্দিন।

গাজীপুর-১ আসনে চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী, গাজীপুর-২ সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর-৫ ফজলুল হক মিলন, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ ড. মঈন খান, নরসিংদী-৪ সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-২ নজরুল ইসলাম আজাদ, রাজবাড়ি-১ আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, রাজবাড়ি-২ নাসিরুল হক সাবু, ফরিদপুর-১ শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ, ফরিদপুর-৩ চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ খন্দকার ইকবাল হোসেন, গোপালগঞ্জ-১ এফ ই সরফুজ্জামান, গোপালগঞ্জ-২ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩ আফজাল হোসেন, মাদারীপুর-১ সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী, মাদারীপুর-২ মিলটন বৈদ্য, মাদারীপুর-৩ আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, শরীয়তপুর-২ শফিকুর রহমান কিরণ ও শরীয়তপুর-৩ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।

রংপুর বিভাগ
পঞ্চগড়-১ আসনে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনে ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও-১ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও-৩ জাহিদুর রহমান, দিনাজপুর-২ মোহাম্মদ সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৪ আক্তারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৫ এজেডএম রেজোয়ানুল হক, নীলফামারী-১ রফিকুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ হাসান রাজীব প্রধান, লালমনিরহাট-২ রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-৩ আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর-২ মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর-৩ রিটা রহমান, রংপুর-৪ এমদাদুল হক ভরসা, রংপুর-৬ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-১ সাইফুর রহমান রানা, কুড়িগ্রাম-৩ তাসভীর-উল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, গাইবান্ধা-৪ ফারুক কবির আহমেদ, গাইবান্ধা-৫ ফারুক আলম সরকার, জয়পুরহাট-১ ফজলুর রহমান ও জয়পুরহাট-২ এইএম খলিলুর রহমান।

খুলনা বিভাগ
মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুণ, মেহেরপুর-২ আসনে জাভেদ মাসুদ মিলটন, কুষ্টিয়া-১ আসনে রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, কুষ্টিয়া-৩ জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া-৪ মেহেদি আহমেদ রুমী, চুয়াডাঙ্গা-১ মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা-২ মাহমুদ হাসান খান (বাবু খান), ঝিনাইদহ-২ আবদুল মজিদ, ঝিনাইদহ-৪ সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যশোর-১ মফিকুল হাসান তৃপ্তি, যশোর-৩ অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, যশোর-৪ টি এস আইয়ুব, যশোর-৬ আবুল হোসেন আজাদ, মাগুরা-১ মনোয়ার হোসেন, মাগুরা-২ নিতাই রায় চৌধুরী, নড়াইল-১ সাজ্জাদ হোসেন, বাগেরহাট-১ শেখ মাসুদ রানা, বাগেরহাট-২ এম এ সালাম, খুলনা-১ আমির এজাজ খান, খুলনা-২ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আজিজুল বারী হেলাল ও সাতক্ষীরা-১ হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

রাজশাহী বিভাগ
বগুড়া-১ আসনে গাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৪ মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ হারুনুর রশীদ, নওগাঁ-১ মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী, নওগাঁ-৪ শামসুল আলম প্রামাণিক, নওগাঁ-৫ জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আলমগীর কবির, রাজশাহী- ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আবু হেনা, রাজশাহী-৫ নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী-৬ আবু সাঈদ চাঁদ, নাটোর-১ কামরুন্নাহার, নাটোর-২ সাবিনা ইয়াসিমন ছবি, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ, নাটোর-৪ আবদুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-১ রম্নমানা মোরশেদ কনক চাঁপা, সিরাজগঞ্জ-৩ আবদুল মান্নান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ-৫ আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সিরাজগঞ্জ-৬ কামরুদ্দিন ইয়াহিয়া খান মজলিস, পাবনা-২ সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আনোয়ারুল ইসলাম ও পাবনা-৪ হাবিবুর রহমান হাবিব।

বরিশাল বিভাগ
পটুয়াখালী-১ আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-৩ গোলাম মাওলা রনি, পটুয়াখালী-৪ এবিএম মোশাররফ হোসেন, ভোলা-২ হাফিজ ইব্রাহিম, ভোলা-৩ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভোলা-৪ নাজিম উদ্দিন আলম, বরিশাল-১ জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-২ সরফুদ্দিন সান্টু, বরিশাল-৩ জয়নুল আবেদীন, বরিশাল-৫ মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল-৬ আবুল হোসেন খান, ঝালকাঠি-১ ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ঝালকাঠি-২ জেবা আমিন খান, পিরোজপুর-৩ রুহুল আমিন দুলাল।

ময়মনসিংহ বিভাগ
জামালপুর-২ সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ ফরিদুল করিব তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, শেরপুর-১ ডা. সানসিলা জেবরিন, শেরপুর-২ মোখলেসুর রহমান রিপন, শেরপুর-৩ মাহমুদুল হক রুবেল, ময়মনসিংহ-২ শাহ শহীদ সরোয়ার, ময়মনসিংহ -৩ ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, ময়মনসিংহ-৫ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ শামস উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-৭ জয়নাল আবেদীন, ময়মনসিংহ-৯ খুররম চৌধুরী, ময়মনসিহং-১১ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, নেত্রকোনা-১ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নেত্রকোনা-২ ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ রফিকুল ইসলাম হিলালি ও নেত্রকোনা-৪ আসনে তাহমিনা জামান।

সিলেট বিভাগ
সুনামগঞ্জ-১ আসনে নজির হোসেন, সুনামগঞ্জ-২ নাসির চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৪ ফজলুল হক আপসিয়া, সুনামগঞ্জ-৫ মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ শফি আহমেদ চৌধুরী, সিলেট-৪ দিলদার হোসেন সেলিম, মৌলভীবাজার-১ নাসির উদ্দিন আহমেদ, মৌলভীবাজার-৩ নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ মজিবুর রহমান চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউস।

মোট ২৫ আসনে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন যারা
১. ঠাকুরগাঁও-২: মাওলানা আবদুল হাকিম, ২. দিনাজপুর-১: মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, ৩. দিনাজপুর-৬: মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, ৪. নীলফামারী-২: মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, ৫. নীলফামারী-৩: মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, ৬. রংপুর-৫: অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (আইনি জটিলতা রয়েছে), ৭. গাইবান্ধা-১: মাজেদুর রহমান সরকার, ৮. সিরাজগঞ্জ-৪: মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ৯. পাবনা-৫: মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ১০. ঝিনাইদহ-৩: অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ১১. যশোর-২: আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, ১২. বাগেরহাট-৩: অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, ১৩. বাগেরহাট-৪: অধ্যাপক আবদুল আলীম, ১৪. খুলনা-৫: অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১৫. খুলনা-৬: মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, ১৬. সাতক্ষীরা-২: মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, ১৭. সাতক্ষীরা-৩: মুফতি রবিউল বাশার, ১৮. সাতক্ষীরা-৪: গাজী নজরুল ইসলাম, ১৯. পিরোজপুর-১: আলহাজ্ব শামীম সাঈদী, ২০. ঢাকা-১৫: ডা. শফিকুর রহমান, ২১. সিলেট-৫: মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, ২২. সিলেট-৬: মাওলানা হাবিবুর রহমান, ২৩. কুমিল্লা-১১: ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ২৪. চট্টগ্রাম ১৫: আ ন ম শামসুল ইসলাম ও ২৫. কক্সবাজার-২: হামিদুর রহমান আযাদ।

ঐক্যফ্রন্টের ১৯ প্রার্থী যারা
গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-৭, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-৬, এএইচএম খালেকুজ্জামান ময়মনসিংহ-৮, রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১, অধ্যাপক আবু সায়িদ পাবনা-১, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ ও মেজর জেনারেল অব. আমসা আমিন কুড়িগ্রাম-২ ধানের মনোনয়ন পেয়েছেন।

নাগরিক ঐক্য পেয়েছে পাঁচটি আসন 
দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, এসএম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫, শাহ রহমাতুল্লাহ রংপুর-১, মোফাখারুল ইসলাম রংপুর-৬ ও জেএম নুরুল রহমান জাহাঙ্গীর বরিশাল-৪ থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পান।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) পেয়েছে পাঁচটি আসন 
দলের সভাপতি আসম আব্দুর রব লক্ষীপুর- ৪, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন কুমিল্লা-৪, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন ঢাকা-১৮, ড. সাইফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ-৩ ও নুরুল ইসলাম মাল শরীয়তপুর-১ থেকে ধানের শীর্ষ প্রতীক পেয়েছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ পেয়েছে দুইটি আসন 
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় তার মেয়ে ব্যারিস্টার কুড়ি সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হবেন। অপর আসনটি টাঙ্গাইল-৪। এ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে দু’জন প্রার্থী আছেন। একজন কাদের সিদ্দিকীর ভাই আজাদ সিদ্দিকী অপরজন ইঞ্জিনিয়ার লিয়াকত আলী। এদের মধ্যে যেকোনো একজন ধানের শীষ প্রতীক পাবেন। এটা রোববার (০৯ ডিসেম্বর) সিদ্ধান্ত হবে।

২০ দলীয় জোটের অপর শরীকদের আসন:

বিজেপি: ঢাকা-১৭ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ।

এনপিপি: নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

পিপিবি: রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান।

কল্যাণ পার্টি: চট্টগ্রাম- ৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

এলডিপি: চট্টগ্রাম- ১৪ আসনে এলডিপির অলি আহমেদ, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭ আসনে রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে সাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ।

খেলাফত মজলিশ: হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মুনির হোসেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম: সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর. পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস।

জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর):  গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী, কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন।

শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

কথা শুনছে না সেনাবাহিনী, সরে যাচ্ছে পুলিশ, ভিত নড়ে গেছে সরকারের: ডা. জাফরুল্লাহ

Content Protection by DMCA.com

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা তাঁর সেনাবাহিনী এখন শুনছে না। পুলিশ এখন আমাদেরকে বলছে আন্দোলনের মাঠে অবস্থান করতে। বোঝাই যাচ্ছে, সরকারের ভিত নড়ে গেছে’ – বলেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘২ মাস আগে প্রেসক্লাবের সামনে আমি দেখেছি পুলিশ আমাদেরকে বলেছে, স্যার যায়েন না, এইখানে থাকেন। সেটা দু’মাস আগের কথা। এখনকার পরিস্থিতি তো আরও পরিবর্তন হয়েছে।’

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘যাদেরকে এত ভয় করেন পুলিশ ও র‌্যাবের ডিজি তারা এখন যোগাযোগ করছে বিভিন্ন জায়গায়। তাই আপনারও ভয় পাবেন না। তারা সর্বোচ্চ কি করতে পারে- ধরে নিয়ে যাবে, সর্বোচ্চ মেরে ফেলবে। ১৯৭১ সালে আমাদের মরে যাওয়ার কথা ছিল। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করতেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।’

শনিবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ’৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ও আজকের বাংলাদেশ, আসন্ন নির্বাচনে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা এবং করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি কোনও মুক্তিযোদ্ধার মুখে শুনতে চাই না যে মাঠে পুলিশ আছে বলে আমরা যেতে পারছি না। কত লাখ পুলিশ এখানে আছে? আমাদের পক্ষে জনগণ আছে ১৮ কোটি। আমরা যেসব সমাবেশ করেছি সব জায়গায় পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল। তবুও হেঁটে গিয়ে মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছে। এ ধরনের ঘটনা দেখা গেছে সত্তরের দশকে মাওলানা ভাসানীর ডাকে মানুষ যখন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে আমার প্রত্যাশা- এবারের জাতীয় সংসদে কমপক্ষে ১৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নেতা থাকবে। তবেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠা হবে। তারা ১৯৭১ সালে যেভাবে যুদ্ধ করেছিল দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় সংসদেও সেভাবেই অবস্থান নেবেন।’

জাফরুল্লাহ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। যেন সাধারণ মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে বা তার মত প্রকাশ করতে পারে। সরকার যখন স্বৈরাচারী হয়ে যায় তখন সে তার অতীত ভুলে যায়। আমরা চাই সেই অতীতকে মনে করিয়ে দিতে। একাত্তরে যুদ্ধ করে আমরা যেমন স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম এখনো সেভাবেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আমরা দ্বিতীয় যে কথাটি দিয়েছিলাম সেটি হল ন্যায়বিচার। আমি কখনো বলিনি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে হবে। আমি বলেছি তাঁর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সুবিচার পেলেই তিনি আজ কারাগারের বাইরে থাকতেন। আমরা কি টানা দুবার ক্ষমতায় থাকলে শেখ হাসিনার নামে ১৯২টা মামলা দিয়ে দিতাম?’

সরকারের ভিত নড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে সরকারের ভিত নড়ে গেছে। যখন বেনজির-আসাদুজ্জামানের মত লোকজন যোগাযোগ শুরু করে তখন বোঝা যায় ১ কোটি লোককে গ্রেফতার করা যায় না।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আমরা বৈষম্য দূর করতে চাই। আজকে আমরা দেখছি কেউ কেউ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। আর কেউ দরিদ্র থেকে যাচ্ছে। এ বৈষম্য আমরা দেখতে চাই না। বৈষম্যের কারণে মানুষের দুরবস্থা কি রকম হয় সেটা যদি দেখতে চান তাহলে ধানমন্ডিতে আমার হাসপাতালে আসতে পারেন। সেখানে মানুষ ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০০ টাকা দিতে পারে না।’ ‌

/ব্রে‌কিং‌নিউজ

Content Protection by DMCA.com

ব্যর্থ হলো সংলাপ:ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাব সরকারের নাকচ: রাজপথেই সমাধানের ঘোষণা

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করেন বারবার

Content Protection by DMCA.com

ড. তুহিন মালিক

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে আজ সকালে পদত্যাগের পরও একজন মন্ত্রী হিসেবেই একটি অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। অথচ গতকাল গণমাধ্যমে পুরো দেশবাসী দেখেছে চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

আমাদের সংবিধানে ৫৮(১) নং অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।”

এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ামাত্রই মন্ত্রীদের পদ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে কোনো ‘যদি’ বা ‘তবে’ বা কোনো ফর্মালিটির উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছামাত্রই তাদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শুধু পোস্টবক্স হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে গতকাল থেকেই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সবার পদ শূন্য হয়ে গেছে। এখন তারা আর কোন ধরনের বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটারই অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করার পর পদত্যাগী কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব পেতে হলে তাকে আবার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নতুন করে আবার শপথ নিতে হবে ও শপথে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আমাদের সংবিধান খুব পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখিয়েছে। খেয়াল করার বিষয় হলো- সংবিধানের ৫৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে। অপরপক্ষে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে।

প্রশ্ন জাগতে পারে- এই দুই ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেন? জবাব হলো- সংবিধান মতে রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ও বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। তাই সংবিধান প্রণেতাগণ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা প্রয়োগের রক্ষাকবচের জন্যই মন্ত্রীদের পদ শূন্যের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক বলে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। কেননা মন্ত্রীদের পদশূন্যতা যদি রাষ্ট্রপতির মর্জির ওপর শর্তযুক্ত থাকে তাহলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আসলে অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করলেন।প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, অফিস করবেন এবং ফাইলেও যথারীতি স্বাক্ষর করবেন। এটা কেমন হুকুম! যেখানে পদত্যাগ করার পর মন্ত্রীদের প্রত্যেকের পদ সংবিধান মতে শূন্য ঘোষিত হলো সেখানে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে মন্ত্রীরা যদি অফিস করেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর দিতে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধানের চরম লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

কেননা পদত্যাগী মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবৈধ বিধায় তাদের কেউ আর কোনো বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার, অফিস করা, ফাইলে স্বাক্ষর করা ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটাই করার অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ভরণ-পোষণের কোনো বিধান অদ্যাবধি তৈরি করেনি। তাই পদত্যাগী মন্ত্রীদের দেওয়া সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবৈধ। তাদের নীতিনির্ধারণী, ফাইলে স্বাক্ষর ও নোটিংসহ সব কাজকর্ম অবৈধ।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাতকে দিনে রূপান্তরিত করছেন, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক সংবিধান লংঘন করেই চলেছেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

Content Protection by DMCA.com

সরকার ও সরকারী দলের নেতিবাচক খবর প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী: ডিজিএফআই দিয়ে মিডিয়ার ওপর চাপ

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং টেলিভিশনগুলোতে সরকারের কড়া সেন্সরশীপ জারী করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ও সরকারী দলের কোনো নেগেটিভ সংবাদ প্রকাশের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।

গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সরকারপন্থী পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসে হঠাৎ উপস্থিত হন ডিজিএফআইয়ের মিডিয়া ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধান এক কর্নেল। পত্রিকার সম্পাদককে খুঁজতে থাকেন। সম্পাদক নঈম নিজাম সে সময় অফিসের বাইরে ছিলেন। উপস্থিত বার্তা সম্পাদককে কর্নেল বলেন, এখন থেকে বর্তমান সরকার বা সরকারী দলের কোনো নেতিবাচক খবর পরিবেশন করা যাবে না। এর জবাবে বার্তা সম্পাদক যদিও বলার চেষ্টা করেন, এটা সরকারপন্থী পত্রিকা, এবং সম্পাদক নিজেও ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। কিন্তু তাতে বিরক্ত হয়ে কর্নেল শাসিয়ে যান, আমরা যা বললাম এটাই ফাইনাল. এর অন্যথা হলে ঐ রিপোর্টার এবং সম্পাদককে সরাসরি দায়ী করা হবে।

অফিসে ফিরে নঈম নিজাম বিষয়টি সম্পর্কে জানতে কর্নেল সাহেবকে ফোন করলে তাকে জানানো হয়, ‘সরকারের নির্দেশেই বিষয়টি আমাদের প্রায়োরিটি। যেহেতু সামনে ইলেকশন, তাই সরকারের কোনো নেতিবাচক খবর বা সমালোচনা আমরা অ্যালাও করবো না। আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমি সবগুলো পত্রিকা এবং টিভিতে যাব এবং তা সকলকে দিয়ে নিশ্চিত করানো হবে।’

বিষয়টি নিয়ে প্রেস কাউন্সিল এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরণের অত্যাচার এই নতুন নয়। তবে এবারে নির্বাচনের আগে আগে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামায় তারা আতঙ্কিত বোধ করে একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রথম মি-টু (#MeToo) এবং বেশ্যা মিডিয়ার গল্প !

Content Protection by DMCA.com

মাসুদা ভাট্টি ইস্যুটি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মিডিয়া হাইপ তৈরী করে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে জেলে ঢুকানোর ষড়যন্ত্রকারীদের অন্যতম ডিবিসি নিউজের হেড অফ নিউজ প্রনব সাহা । তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দেখুন ।

বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক সুপ্রীতি ধর এখন সুইডেন থাকেন । দুই সন্তানের মা সুপ্রীতির সঙ্গে তার স্বামীর ডিভোর্স হয়ে গেছে বহু আগে । গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক তিনি ।

বছর দশেক আগে প্রণব এবং সুপ্রীতি দুজনেই কাজ করতো প্রথম আলোয় ( #ProthomAlo ) । চিরকুমার প্রণব হঠাত্ প্রেমে পড়েন সুপ্রীতির । দুই সন্তানসহ সুপ্রীতি তখন থাকেন তেজতুরি বাজারের ভাড়া বাসায় । এক পর্যায়ে প্রণবও উঠেন সেই বাসায় । চলে লিভটুগেদার । একসময় সুপ্রীতির পেটে বাচ্চা এলে প্রণব ও তার বন্ধু আশীস সৈকত (ইনডিপেনডেন্ট টিভির বর্তমান চিফ নিউজ এডিটর) দুজনে মিলে তাকে একটা ক্লিনিকে নিয়ে অ্যাবরশন করিয়ে আনে । এই ঘটনার পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে হঠাত্ একদিন প্রণব সুপ্রীতির বাসা ছেড়ে বাংলামটরে বোনের বাসায় উঠেন । শুরু হয় ঝগড়াঝাটি । এসব ঘটনায় কোনো গোপনীয়তা ছিল না । পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠলে এক সময় দুজনকেই চাকরিচ্যুত করে প্রথম আলো ।

এতদিন পর এখন সুপ্রীতির মেয়ে সিমন্তী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানাচ্ছে যে, তার মায়ের সাথে যখন প্রণব সাহার সম্পর্ক ছিল তখন মায়ের সেই বয়ফ্রেন্ড দ্বারাই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল সে। তার সেই বিষ্ফোরক স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আজ চার দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাংলাদেশের মিডিয়া পুরোপুরি চুপ। তবে সুপ্রীতি ধর মেয়ের স্টেটাস শেয়ার করে সমর্থন করেছেন- আর যাই হোক, মায়ের সাথে লিভ টুগেদার করে মেয়ে ভোগ করা যায় না!

Content Protection by DMCA.com

সংসদ নির্বাচনে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র: সাফল্যের স্বীকৃতি নিয়ে ফিরছেন বার্নিকাট

Content Protection by DMCA.com

সরকারের কথা অনুযায়ী আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয় কি না, সেদিকে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাট আজ মঙ্গলবার তাঁর শেষ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে অনুষ্ঠেয় সংলাপে রাজনৈতিক নেতারা সাধারণ মানুষের আকাক্সক্ষার কথা মনে রাখবেন বলে প্রত্যাশা বার্নিকাটের।
প্রায় চার বছর এ দেশে দায়িত্ব পালন করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, তারই আলোকে তিনি বললেন, ‘আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখবে।’
বার্নিকাট বলেন, ‘সরকারের প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহনমূলক হয় কি না, সেদিকে গুরুত্বের সঙ্গে দৃষ্টি রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রার্থী, দল কিংবা জোটকে সমর্থন করে না। সমর্থন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও মূল্যবোধকে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সেই স্বাধীনতা থাকতে হবে যেখানে তারা গ্রেপ্তার হওয়ার আতঙ্ক ছাড়াই তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারে। তবে সেই কর্মসূচি অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে।’
বিদায়ী এই সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও সরকারের মধ্যে হতে যাওয়া সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করলেন বার্নিকাট।
বার্নিকাট বলেন, ‘আসন্ন সংলাপ রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন। তবে খেয়াল রাখতে হবে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কথা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। একজন ব্যক্তি ও একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নির্ভর করে সংলাপ হওয়া উচিত হবে না।’
এ দেশের নানা সম্ভাবনার মধ্যে তারুণ্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে দৃষ্টি কেড়েছে বলে উল্লেখ করেন বার্নিকাট। বললেন আবারোও আসতে চান বাংলাদেশে।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীদের ভয়াবহ গলাবাজি এবং হাসিনার পালিত মাসুদা ভাট্টি টাইপের মানে চরিত্রহীনদের মিডিয়ার ক্রমাগত প্রচারণার কারনে দেশের মানুষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, হাসিনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যে কারনে গোটা দেশময় পাবলিকের মনে এক প্রকার ঘৃণাবোধ জন্মেছিলো বিএনপির ওপরে। কেনো তারা কিছু করছে না। কেনো আন্দোলন করছে না, এরকম দাবি সব জায়গা থেকেই করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি পুরনো ভুল থেকে রিকভার করে এমন পন্থা অবলম্বন করতে চেয়েছিলো, যেটা বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকেই সুস্পষ্ট হয়েছিলো।
.
বিরোধী দলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে অসাড়, বিরোধিতার খ্যাতিরে বিরোধিতা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছিলো সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ এবং দেশের ভিতরে গেম প্লান করার যোগ্যতা রাখেন এরকম ব্যক্তিদের নিয়ে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন কুড়ি দল বিশেষ জোট গঠনের পথে হাটলো এবং সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এক প্রকার ছাড় দিয়েই বিএনপি সহ কুড়ি দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ফেললো, তখন এক যুগ ধরে দখলদার প্রধানমন্ত্রীর পায়ের নিচের মাটি একটু একটু করে সরে যেতে লাগলো। এটাই বিএনপির ক্রেডিট বলতে হবে যে, তাদের কট্টর বিরোধী মতের লোকদের নিজের বলয়ে এনে তাদের মুখ দিয়েই নিজের কথা বলাচ্ছে। জাতীয় সমস্যাকে দলের হিসেবে বিবেচনায় নিতে চায়নি বিএনপি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক এই কৌশলে শেখ হাসিনা পুরোপুরি পরাস্ত।

ফলে হাসিনার সরকারের গলাবাজি আর তিরস্কারের জন্য তৈরি মিডিয়ার সকল ফোকাস বিএনপি জামায়াতের ওপর থেকে সরে গিয়ে এখন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড কামাল এবং তার সহযোগীদের ওপর পড়লো। তাদের বিতর্কিত করার, হেনস্তা করার নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করতে লাগলো সরকার ও সরকারের পালিত দালালরা। সাথে যোগ দিলো সরকারের আজ্ঞাবহ মিডিয়া এবং তাদের দালালরা। কিন্তু মাঝ পথে হোচট খেয়ে গেলো ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সম্পুর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করার ভিতর দিয়ে। যে বিষয়ে একাধিক মামলা হয়, সেই মামলাগুলোকে একটি মামলায় রূপান্তর করাই আইন আদালতের প্রসিডিউর। ফলে ঐ মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চের আগাম জামিনে থাকা ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেওয়ার কোন এখতিয়ার নিম্ন আদালতের ছিলো না। ড কামাল হোসেন এ কারনেই আইন মন্ত্রীকে ভৎর্সণা করে  বলেছেন, ‘তোমাকে কে এ অধিকার দিলো, আইনের ব্যাখ্যা দাও।’ ব্যাখ্যা আর কি দেবে, তাদের তো শেষ চেষ্টা করে দেখতে হবে, এই যা। সমস্যা হয়েছে, সরকারের পতনের জন্য যে পরিমান গোয়ার্তুমী বাকি ছিলো, সেটাও পূর্ণ হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে গেছে যে, হাসিনার অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সম্মানিত সকল নাগরিকদের অনীহা রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছে শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের কথামত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া শেখ হাসিনার যেমন প্রেস্টিজ ইস্যূ যেমন তেমনি তার মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ নেতাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।

সব দিক বিবেচনায় নিজের এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েই দরকষাকষি করে চলছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করে যাওয়া  যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মূখ্য সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়ালেস এবং কর্মকর্তারা নির্বাচন বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করে তিনটি অপশন দিয়েছিন। সরকারও সময় নিয়েছে এগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এসব অপশান কেবল মুখের কথা নয়, সরকারের জন্য চয়েজ মাত্র।
.
প্রথমটি অপশন, বিরোধী দলগুলার সঙ্গে সংলাপে বসে সব দলের অংশগ্রহনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কার্যকর পথ বের করা।
দ্বিতীয় হলো, সরকার নিজেরা পদতাগ করে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব দেয়া, যাতে তিনি সকল দলের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে তদারকি সরকার গঠন করতে পারেন।

তৃতীয়টি হলো, সরকার জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘেষিত হবে, কিন্তু নির্বাচন হবে না। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গোলযোগ হলে কি করণীয়, হবে সেটা সংবিধানে বর্ণিত আছে। এ অবস্থায় সরকার আরো তিন মাস ক্ষমতা কন্টিনিউ করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্বাচন না হলে সংবিধান অটোমোটিক চয়েজ দিয়ে দেবে। নিরপেক্ষ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সংবিধানিক কোন বাধা থাকবে না।

হয়তো এই তিন/চার মাসে সরকার আরো কিছু হিসাব নিকাশ করতে পারবে, কিন্তু নিজেদের অধিনে কোন নির্বাচনের চেষ্টা চালাতে পারবে না। অতএব, এত অপশানের ভিরে হাসিনার জন্য একটাই অপশান কনফার্ম হয়েছে যে, পুনরায় ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা হলে সরকারের সাথে দাতাগোষ্ঠির সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত সকল দাতা গোষ্ঠিও সরকারকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী দশ দিনের ভিতরে সরকারকে তার পছন্দ জানাতেই হবে। এটাই হচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহর আলটিমেটাম। তিনি বলেছেন, আগামী দশ দিনের ভিতরেই কিছু একটা হয়ে যাবে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

২১শে আগস্টের রায় নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে হতাশ হাসিনা!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী কাল ১০ই অক্টোবর একটি মামলার রায় নিয়ে দেশের রাজনীতি ও রাজধানীতে যখন টান টান উত্তেজনা, এরই মাঝখানে শেখ হাসিনা তার দূত পাঠান বিএসএমএমইউতে (পিজি হাসপাতালে) ভর্তি কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার ঠিক আগে আগে এ বিষয়ে টোপ পাঠান শেখ হাসিনা। তার প্রস্তাব কেবল একটাই, বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজী হলেই তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেয়া হবে!

প্রস্তাব শুনে হেসে ফেলেন বেগম জিয়া। বলেন, আর কত নাটক করতে চায় হাসিনা? তাকে বলে দিও, “ফাঁসিই তো দিবে? যা ভালো মনে করে দিতে বলো। জিম্মি করে কোনো আপোষ হবে না। অন্যায়ের শেষ দেখে ছাড়ব।”

হতাশ হয়ে প্রতিনিধি দল ফিরে যায়। এদের একজন খুব অবাক হয়ে বলেন, এত শক্ত! তিনি কোথায় পান এত মনের জোর?

উল্লেখ্য ১০ই অক্টোবর ঐ রায় ঘোষণার একটি বিশেষ কারণ আছে। আর  তা হলো ২০০১ সালের এই দিনে বিএনপি সরকার গঠন করেছিল। সেই দিনে শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে একটি সাজানো রায় দিয়ে মনের জ্বালা মিটাতে চান!

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries