Category Archives: জাতীয়

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বাদী হেলাল রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত!

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বাদী পুলিশের সার্জেন্ট হেলাল রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। রবিবার রাতে ফেনীর রামপুরে এ ঘটনায় ঘটে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার নিজে গাড়ি চালিয়ে চট্টগ্রামের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে অন্যত্র থেকে আসা একটি গাড়ি তার গাড়িকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তার গাড়ি উল্টে যায়। এ সময় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে মারা যান তিনি।
জানা যায়, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার বাদী হওয়ার পর থেকেই সার্জেন্ট হেলাল ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে মানসিকভাবে নিযার্তন করা হচ্ছিল। তাকে হত্যার হুমকিও আসতো বিভিন্ন সময়।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। ফেনী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মীর গোলাম ফারুক জানান, হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থেকে রবিবার নিজে প্রাইভেট কার (চট্ট-মেট্রো-গ-১১-৫১৪১) চালিয়ে চট্টগ্রামে কর্মস্থলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। রামপুর এলাকায় পৌঁছার পর তার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে সজোরে ধাক্কা লেগে ছিটকে গিয়ে আরো একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেট কারের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়। গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পরিবার জানায়, এটি সড়ক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যা হতে পারে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে তার পরিবার।

 

বাংলাদেশ পুলিশের ১৯৯৫ ব্যাচের সার্জেন্ট হেলাল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের সময় চট্টগ্রামের বন্দর থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ছিলেন।

/ইত্তেফাক

“বেগম জিয়ার চিকিৎসা অবহেলা এবং হত্যার ষড়যন্ত্র”

গত দু’দিন ধরে খবরে প্রকাশ- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৫জুন মাইল্ড স্ট্রোক করে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন কারাগারে। গতকাল কয়েকজন ডাক্তার দেখে এসে বলেছেন, উনার সম্ভবত মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছিল! কয়েক মিনিট অজ্ঞানও ছিলেন!

মাইল্ড স্ট্রোকের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলছে, বেগম জিয়ার ’পড়ে যাওয়ার খবর’ কারা কতৃপক্ষ জানেন না! একথা তো ‘রীতিমত ভয়ঙ্কর’!! অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের পরীক্ষা নীরিক্ষা ছাড়াই বলে দিলো- মাইল্ড স্ট্রোক হয়নি! খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে, অথচ কারা কতৃপক্ষই জানে না তাঁর পড়ে যাওয়ার খবর! তাহলে কে জানে? উনার ভালো মন্দ দেথা শুনা করার দায়িত্ব জেল কতৃপক্ষের। অন্য কারও নয়। এখন তারা যদি বলে- আমরা কিছু জানি না, তবে মারাত্মক চিন্তার বিষয়। তবে তো চিন্তা হয়- এটা কি ধীরে ধীরে বড় ঘটনা ঘটানোর আলামত? এভাবে যেতে যেতে একদিন হয়ত তারা প্রকাশ করবে – “ব্রেইন স্ট্রোক করে তিনি মারা গেছেন” (আল্লাহ তেমনটা না করুন)! এটা পরিস্কার করে বুঝঝতে হবে, খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র তৈরী করেছে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! আর এজন্য উনাকে চিকিৎসা না দিয়ে অযত্ন অবেহেলা করে একটার পর একটা ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, যাতে করে বড় ঘটনা ঘটে গেলে তখন বলতে পারে- উনি তো আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন! এজন্য জনগনের ‘মাইন্ড সেট’ তৈরী করছে অবৈধ সরকার!

এখনকার খবর হলো, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে রবিবার বেগম জিয়াকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে, যদিও ম্যাডাম পিজিতে যেতে চান না। তার কারন পিজির ডাক্তাররা বেশিরভাগই আ’লীগের দলীয় ডাক্তার- তারা উল্টাপাল্টা ডায়াগনোসিস করে ভুল চিকিৎসা দিয়ে বা বিষ প্রয়োগ করে উনাকে দ্রুত মেরে ফেলতে পারে। তাই বেগম জিয়া চান, উনি আগে যেখানে চিকিৎসা করাতেন, সেই ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে।

তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে পাওয়াফুল পলিটিশিয়ান। এই বেগম জিয়ার জন্যই হাসিনা কোনো ইলেকশনে জিততে পারবে না, কোনো নির্বাচনে যাওয়ার সাহস নাই লীগের। তাই উনাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে হাসিনার পথের কাঁটা দূর হয়ে যায়। আগে থেকেই লেখালেখি হচ্ছিলো, পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে ম্যাডামকে জেলে নিবে হাসিনা! কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ফাঁদেই পা দিলো বিএনপি! দলকে চুড়ান্ত ঠান্ডা করে ‘শান্তিপূর্ন কর্মসুচির বড়ি গিলিয়ে’ আইনী প্রকৃয়ায় মামলা খরিজ করানোর ফরমুলা বাস্তবায়ন করেছে! অথচ ইনার মামলা এবং রায় হলো রাজনৈতিক! রাজনীতির ময়দান সচল থাকলে খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ার ক্ষমতা হাসিনার ছিল না। ২০১৫ সালে তো ৩টা ওয়ারেন্ট ইস্যু করেও হাসিনা পুলিশ পাঠানোর সাহস করেনি। দুর্ভাগ্যবশত, দালাল ও টাকা খেয়ে যারা ধান্দা করে, বিএনপিতে তাদের কথাই বেশি চলে! খালেদা জিয়াকে নিয়ে শেখ হাসিনা ও ভারতের খুব নোংরা চক্রান্ত করছে। বিএনপির কিছু নেতারা এই চক্রান্ত ধরতে পারছে না, বরং নিজেদের সামান্য একটু সুযোগ সুবিধা বা টাকার লোভে এই কুটিল ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে আছেন নিরবে- এরা হাই কমান্ডকে কুবুদ্ধি দিয়ে বেগম জিয়া ও দলকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এরা এখন হয়ত বুঝতে পারছে না- খালেদা জিয়া কি সম্পদ। জাতিকে একত্র করার ক্ষমতা এই নেত্রীরই কেবল আছে। উনি না থাকলে দেশের যে কি অবস্থা হবে সেটা এখন হয় অনুমান করতে পারছে না। তখন ঐসব দালাল নেতাদেরকে রাস্তায় পিটিয়ে মারবে- কুত্তার মত!

গত ৪ মাস ধরে বেগম জিয়া কারাগারে, অথচ উনার কারামুক্তির কোনো আন্দোলন বা কর্মসূচি কিছুই নাই। যেনো এসব স্বাভাবিক বলে মেনে নিয়েছে সবাই! বিএনপির নেতা কর্মীরা এত বেশী ধার্মিক হয়ে গেছেন যে, রোজার উছিলায় কোনো কর্মসূচি করতে পারছেন না! বেগম জিয়া যেখানে ৩৯ টাকার ইফতার খান, নির্লজ্জ নেতারা সেখানে টেবিল ভর্তি ইফতার নিয়ে পত্রিকা ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে, অনেকে দন্ত বিকশিত হাসিও হাসে! এদেরও উচিত ছিল নিজেরাও ৩৯ টাকার ইফতার করে রোজার মধ্যেও কারামুক্তির আন্দোলন করা।

শেষ কথা- বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা, রায়, জেল সবই রাজনৈতিক। আন্দোলন না করলে মুক্তিও মিলবে না, উপযুক্ত চিকিৎসাও হবে না। তখন হয়ত জানাজায় যেতে হবে! ইতোমধ্যে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন- খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের।

এক অডিও ক্লিপেই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ রহস্য ফাঁস: গার্ডিয়ান প্রতিবেদন

বাংলাদেশের চলমান বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যার ব্যাপারে সরগরম হয়ে উঠছে একের পর এক দেশী বিদেশী মিডিয়া। এবার এই তালিকায় যুক্ত হলো বৃটিশ জনপ্রিয় পত্রিকা গার্ডিয়ান। কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামকে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার একটি অডিও রিপোর্ট নিয়ে তারা গতকাল ৬ জুন একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। “Audio clip ‘captures Bangladeshi police killing drugs suspect’ Death of Akramul Haque raises fresh fears over extrajudicial killings in drugs crackdown” শিরোনামের এই রিপোর্টে বলা হয় সম্প্রতি একটি টেলিফোনিক কথোপকথোন ফাঁস হয়েছে যা বাংলাদেশ সরকারের চলমান মাদক বিরোধী অভিযানকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক গত ২৭মে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বলে জানায় র‌্যাব। বাংলাদেশের এই এলিট ফোর্সটি একরামকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করে এবং তার কাছ থেকে দুটি অস্ত্র এবং কয়েক হাজার পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ঘটনার ৪ দিন পর নিহত একরামের স্ত্রী আয়েশা কক্সবাজার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার দিন রাতে তার স্বামীর সাথে মোবাইল কথোপকথোনের মোট ৪টি ক্লিপ ফাঁস করেন যাতে বোঝা যায় বাস্তব ঘটনা র‌্যাবের ইতোপূর্বের দাবীর তুলনায় পুরোপুরি আলাদা।

প্রথম তিনটি ক্লিপে নিহত একরাম তার মেয়েকে জানান, তাকে একটু জরুরী কাজে স্থানীয় এক সরকারী কর্মকর্তার কাছে যেতে হচ্ছে। ‘আমি গাড়িতে আছি, এখন বেশী কথা বলতে পারবোনা।’ এটাই ছিল মেয়েকে বাবার শেষ কথা।

শেষ কলটি একরামকে দিয়েছিলেন আয়েশা নিজেই। কিন্তু এবার কিছু লোকজনের এলোমেলো কথাই কেবল শোনা যায়। এর মধ্যে একরামের কন্ঠ একবার শোনা যায়, তিনি বলছিলেন, ‘আমি এগুলোর সাথে জড়িত নই।’ এর পরপরই গুলির শব্দ। তারপর একটা মানুষের গোঙ্গানি, এরপর আবার একটা গুলি। আয়েশা আর তার মেয়েরা গুলির শব্দ শুনেই ফোনের অপর প্রান্তে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে দেন।

আয়েশা ও তার মেয়েরা যখন ফোনে চিৎকার করছিল তখন অপরপ্রান্তে তারা পুলিশের গাড়ির সাইরেন শুনতে পাচ্ছিলো। একজন বলে উঠে, বুলেটগুলো নিয়ে নাও। আরেকজন প্রশ্ন করে লাশের হাত দুটোকে কি বাঁধা হয়েছে?

আয়েশা সংবাদ সম্মেলনে এই ক্লিপটি সাংবাদিকদেরকে শোনান এবং দাবী করেন তার স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে। আয়েশার এই সংবাদ সম্মেলন এবং অডিও ক্লিপটি পরের দিন বাংলাদেশের প্রধানতম ইংরেজী জাতীয় দৈনিক ডেইলী স্টারের প্রথম পাতায় ফলাও করে ছাপা হয়। এর পর থেকে ১৮ ঘন্টা এই পত্রিকাটির অনলাইন ওয়েবসাইটটা বন্ধ করে রাখে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

এরপরই আবার এই মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের নামে মানুষ হত্যার বিষয়টি সামনে চলে আসে। মাত্র ৩ সপ্তাহে এই অভিযানে এই পর্যন্ত ১৩১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ অবশ্য এইসব হত্যাকেই বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে দাবী করে এবং নিহতের কাছে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানায়।

তবে বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগ করেন কথিত এই মাদক বিরোধী অভিযানে এই পর্যন্ত তাদের দলের ১৫ জন নেতাকর্মীকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এত বড় অভিযানে দুই একটা ভুল হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। দেশটির মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হক অবশ্য এই সকল হত্যাকান্ডের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন সকল কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার তদন্ত দাবী করেছে।

এই বিষয়ে র‌্যাবের মতামত জানার জন্য বেশ কয়েকবার তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একরাম হত্যা বদির হজযাত্রা জোসেফের মুক্তি ও খালেদা জিয়ার আটকে থাকা

মাদকের গডফাদার হিসেবে গোয়েন্দাদের তালিকার এক নম্বরে থাকা সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি ওমরাহ পালনের নামে দেশ ছেড়েছেন। এদিকে ‘নিরপরাধ’ কাউন্সিলর মো. একরামুল হককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে। একই সময়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনের দায়ে প্রথমে ফাঁসি ও পরে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত তোফায়েল আহমেদ জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়ে বিদেশে গেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোয় জেলখানায় আটকে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ৮ জুন তার কারাবাসের ৪ মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ নিয়ে দেশের রাজনীতিতে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় এসব ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি মাদক নির্মূলের প্রশ্নে দেশবাসীর মত থাকলেও চলমান অভিযান নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একরাম ‘হত্যা’র পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সংবাদ সম্মেলন ও হত্যা সংশ্লিষ্ট অডিও প্রকাশের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিষয়টিতে দেশবাসীর মধ্যে ক্ষোভও বিরাজ করছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

কাউন্সিলর একরাম হত্যা
কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার তিন বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর মো. একরামুল হক। উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতিও তিনি। তাকে বাসা থেকে র‌্যাবের পরিচয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ডেকে নেওয়ার পর ২৬ মে রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার অভিযোগ মিলেছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি একজন মাদক কারবারি। তবে তাকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। অভিযোগের পক্ষে নিহত একরামের স্ত্রী এ নিয়ে কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করে দিয়েছেন। পরে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় উঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অডিও তিনিও শুনেছেন। পুরো ঘটনা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে র‌্যাব বলেছে, প্রকাশ হওয়া অডিও খতিয়ে দেখছে বাহিনীটির সদর দফতর।

একরামের পরিবার যা বলছেন
বন্দুকযুদ্ধে নয় বরং বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাউন্সিলর একরামকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম। গত ৩১ মে কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলনে বাবা হত্যার বিচার চেয়ে চিৎকার করে কেঁদেছে একরামের দুই মেয়ে নাহিয়ান হক (১১) ও তাহিয়া হক (১৩)। ঘটনার সময়কার ফোনকলের অডিও সাংবাদিকদের শুনিয়েছেন একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগম। সেই অডিওতে শোনা যাচ্ছে যে, একরামুল হকের নিহত হওয়ার ঘটনার সময় এবং তার আগমুহূর্তে ঘটনাস্থলে মোবাইল ফোনে তিনবার কল এসেছিল। শেষ ফোন কলটি রিসিভ হলেও ঘটনাস্থল থেকে ফোনটিতে কেউ উত্তর দিচ্ছে না। প্রথমে আয়েশার কিছুটা কথা আছে। কিন্তু পরে ঘটনাস্থল থেকে একটা ভয়াবহ পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায় এই অডিওতে। একরামুল হকের স্ত্রী আয়শা বেগম বলেছেন, ঘটনার আগমুহূর্তে তার দুই মেয়ে প্রথমে একরামুল হকের মোবাইল ফোনে কল করে তার সাথে অল্প সময় কথা বলেছিল। এই কথোপকথনে পরিস্থিতি গুরুতর মনে হওয়ায় সাথে সাথে আয়শা বেগম নিজে ফোন করেন। তার ফোন কলটি রিসিভ করা হয়। কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে কোনো জবাব পাননি। তিনি গুলি এবং ঘটনাস্থলের সব শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

আয়েশা বলেন, ‘আমার মেয়ে কথা বলেছিল ওর আব্বুর সাথে। তারপর মেয়ে বললো, আম্মু; আব্বু কান্না কান্না গলায় কথা বলছে। তখন আমি সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম। সেখানে আমার হাসবেন্ড বলতেছে, লোকটি নাজিরপাড়ার লোক হবে, আমি না। তারপর র‌্যাব একজন বলতেছে, এটাতো এটা না। আরেকজন র‌্যাব বলতেছে, আপনারা এটা। তারপরে শ্যুট করে দিছে একজন। তারপরে বলছে, ওনাকে শেষ করেছি। এখন বাইকে শ্যুট করো। তখন গাড়িতে শ্যুট করে দিছে ওনারা।’

আয়শা অভিযোগ করেছেন, তার স্বামীকে র‌্যাবের স্থানীয় দু’জন কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। স্ত্রী আয়েশার দাবি, একরাম মাদক ব্যবসার মতো ঘৃণিত পেশার সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না। বরং ইয়াবাসহ সব ধরনের মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি।

আয়েশা বলেন, ‘গত ২৬ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফে দায়িত্বরত সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জমি কেনার কথা বলে একরামকে ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু রাত ১১টার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় স্বামীর মোবাইল নম্বরে কয়েকবার ফোন দিই। প্রতিবারই আমাদের সঙ্গে কেঁদে কেঁদে কথা বলেছেন আমার স্বামী একরাম।’ চোখের পানি মুছতে মুছতে আয়েশা বলেন, ‘সবশেষ রাত ১১টা ৩২ মিনিটে তিনি ফোন রিসিভ করলেও কথা বলেননি। ওই সময় মোবাইলের অপর প্রান্তের সব কথা আমরা শুনতে পেরেছি। আমরা শুনছিলাম কত নির্মম পরিস্থিতি তিনি পার করেছেন। কী নির্দয়ভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমার স্বামীর আর্তনাদ এখনো আমার কানে বাজছে।’ এ সময় মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে চিৎকার দিয়ে কেঁদে ওঠে একরামের দুই কিশোরী মেয়ে। চিৎকার দিয়ে বলেন, ‘আমার আব্বুকে হত্যা করা হয়েছে। আব্বুকে হত্যার বিচার চাই। আব্বু ছাড়া কে আমাদের স্কুলে নিয়ে যাবে। আমরা কাকে আব্বু বলে ডাকবো।’ এ সময় অসহায় মেয়ে দুটির কান্নায় সংবাদ সম্মেলনের পরিবেশ ভারি হয়ে যায়। প্রায় ১৫ মিনিট বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত সবাই। আয়েশা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মাদক নির্মূল অভিযানকে সমর্থন করি। কিন্তু এ অভিযানে যেন আমার স্বামীর মতো নিরাপরাধ কেউ নির্মম হত্যার শিকার না হয়। কোনো নারী যেন অকালে স্বামীহারা না হয়। কোনো সন্তান যেন পিতৃহারা না হয়। মাদক ব্যবসায়ীরা অপকৌশলে মাদকবিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নিরীহ মানুষকে হত্যা করছে দাবি করে আয়েশা বলেন, আমার স্বামীর নাম একরামুল হক। তার পিতার নাম আব্দুস সত্তার। টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী পাড়া এলাকার বাসিন্দা। কিন্তু র‌্যাবের পাঠানো বিবৃতিতে যার কথা বলা হয়েছে তিনি একরামুল হক, পিতা মোজাহের মিয়া প্রকাশ আব্দুস সত্তার। সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া তার ঠিকানা। নাম ও ঠিকানা ভুল করে উদ্দেশ্যমূলক ও রহস্যজনকভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে স্বামী হত্যার বিচার চাই আমি।

তবে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন, র‌্যাব সদর দফতর এই অডিও খতিয়ে দেখছে।

স্থানীয়রা বলছেন, একরামুল হক তিন বারের নির্বাচিত একজন কাউন্সিল। তিনি প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে মেয়েদের স্কুলে দিয়ে আসতেন আবার আনতেন। তার বসবাসের ঘরটিও পরিপাটি নয়। একতলা ভবন করার জন্য অনেক আগে কাজ শুরু করলেও অর্থের অভাবে তা আর শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি মাদক ব্যবসায়ী হবেন, তাহলে তার পরিবারে অর্থনৈতিক টানাপড়েন থাকার কথা নয়।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমার জানামতে, তার তিনটি- মাদক অধিদপ্তর থেকে যে লিস্ট বানিয়েছে, সেটার ভেতরে তার নাম আছে। সেটাও আমি দেখেছি। আরও একটি সংস্থার লিস্টে তার নাম ছিল। এ সবগুলো নিয়ে তদন্ত হবে। তারপর বলতে পারবো যে, কে দোষী?’

কক্সবাজারের পৌর মেয়র এবং সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান চৌধুরী এই হত্যাকা-ের বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান। এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে মাদকবিরোধী পুরো অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কাউন্সিলর একরাম নিহত হন। এ সময় ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি, ৫ রাউন্ড গুলির খোসা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করার দাবি করে র‌্যাব।

‘গডফাদার’ এমপি বদির হজযাত্রা
মাদকবিরোধী অভিযানে যখন তাকে গ্রেফতার করা না করা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছিল তার মাঝেই ওমরাহ পালনের নাম করে দেশ ছেড়েছেন ইয়াবার গডফাদার হিসেবে গোয়েন্দাদের তালিকার শীর্ষে থাকা সরকার দলীয় কক্সবাজারের এমপি আব্দুর রহমান বদি। ৩১ মে মধ্যরাতে একটি বেসরকারি বিমানে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বদি দেশ ছাড়েন। তার সঙ্গে মেয়ে, মেয়ের জামাই, বন্ধু আকতার কামাল ও মৌলানা নূরীও গেছেন সৌদি আরবে। মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে এমপি বদির হঠাৎ সৌদি আরবে গমনকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। ‘বন্দুকযুদ্ধ’ থেকে বাঁচতেই বদি ওমরাহর কথা বলে দেশ ছেড়ে যে পালিয়েছেন এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে সরকার তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কীভাবে দিলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাপকভাবে।

দেশ ছাড়ার আগে এমপি বদি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অভিযানের ভয়ে দেশ ছাড়ার তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য। নিয়ম অনুযায়ী দেশ ছাড়তে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছি।’ ওমরাহ পালন শেষ ১৭ জুন দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী হওয়া সত্ত্বেও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি কী করে ওমরাহ পালনের নামে সৌদি আরব চলে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। মাদকের ‘গডফাদারদের’ ছাড় দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে চলমান অভিযান সফল হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিকে ‘বদি যে মাদক ব্যবসার গডফাদার তার প্রমাণ কী?’ -এমন প্রশ্ন তুলেছেন ওবায়দুল কাদের। ‘মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও ছাড় পাবে না’ বলেও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কথিত বন্দুকযুদ্ধে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কি প্রমাণ আছে? গোয়েন্দাদের তালিকায় থাকা সন্দেহভাজন মাদক কারবারিরা যেখানে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছেন, সেই তালিকার এক নম্বরে থাকা গডফাদার বদিকে ধরতে কেন প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে? শুধু অভিযোগের কারণে যদি এমপি বদিকে ধরা না যায় তবে একই অভিযোগের ভিত্তিতে এমনকি তালিকায় নাম না থাকা ব্যক্তিদেরকেও কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যা করা নিয়ে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। তাছাড়া, কেউ অপরাধী হলে প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা না করে বিনাবিচারে হত্যা নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক এক বিবৃতিতে মাদক বিরোধী অভিযানে বিনাবিচারে বন্দুকযুদ্ধের নামে সাধারণ মানুষ যাতে হত্যার শিকার না হয়, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

খুনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ক্ষমা
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পাওয়ার পর তা নিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা বা এখতিয়ারবলে ক্ষমা করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা এই দুই মেয়াদে ২০ জনের বেশি মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ছাড়া পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতির এই এখতিয়ার কীভাবে প্রয়োগ করা হয়, আর প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা কতটা থাকে? এসব প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। হত্যা মামলায় জোসেফের বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ- হয়েছিল ২০০৪ সালে। ২০১৫ সালে গিয়ে উচ্চতর আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়। সেই সাজা ক্ষমা করার জন্য তার মা রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন ২০১৬ সালে। শেষ পর্যন্ত সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় মুক্তি পেয়ে মালয়েশিয়া চলে গেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, নিয়মনীতি মেনেই তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ‘সে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে তার যে শাস্তি ভোগের মেয়াদ প্রায় ২০ বছরের অধিক হয়ে গেছে। এবং তার যাবজ্জীবন ছিল। অর্থদ- ঠিক রেখে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এক বছর কয়েকমাস দুই বছরের কাছাকাছি সময় তাকে মওকুফ করেছেন। তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পারমিশন দিয়েছেন।’

এর আগে ২০১৬ সালে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত একজন আসামিকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেছিলেন। এছাড়া ২০১১ সালে জাতীয় সংসদে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীর একটি পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুদ- মওকুফ করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিবেচনার প্রশ্ন উঠেছিল। কয়েক বছর আগে এই ইস্যু নিয়ে হাইকোর্ট থেকে একটি রায়ও এসেছিল। তাতে বলা হয়, সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে কারণ ব্যাখ্যা করা উচিত। এ ব্যাপারে একটি নীতিমালা তৈরির নির্দেশও ছিল সেই রায়ে। সেই নীতিমালা এখনো হয়নি বলে জানা গেছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধানেই রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপারে পরিষ্কার বলা আছে এবং সব নিয়ম মেনেই কারও সাজা মওকুফের সিদ্ধান্ত আসে।

সিনিয়র আইনজীবী শাহদ্বীন মালিক বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতা প্রয়োগের কারণ যেহেতু ব্যাখ্যা করা হয় না, সেখানে এই অস্বচ্ছতার কারণেই জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেছেন, ‘সাজা মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানান প্রশ্ন যে উঠে, সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই ক্ষমতাগুলো প্রয়োগ করার ক্ষেত্রেও কিন্তু এক ধরনের সুবিবেচনাপ্রসূত হতে হয়। সেটা যদি না হয়, তাহলে কিন্তু নৈতিকতার দিক থেকে সেগুলো দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত হয়। সেটি আইনে শাসনের জন্য কোনো সুখ-বার্তা বহন করে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ জনগণের মধ্যেও নানান প্রশ্ন তৈরি করে যে, কেন ক্ষমা করা হলো? কার প্রভাবে ক্ষমা করা হলো? কোন স্বার্থে ক্ষমা করা হলো, ইত্যাদি ইত্যাদি। এই যে বাড়তি প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হতে হয়, এটি কিন্তু আইনের শাসনের জন্যে এবং বিচার বিভাগের জন্যে খুব একটা সুখকর ব্যাপার নয়।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুরের ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তোফায়েল আহমেদ জোসেফ। নব্বইয়ের দশকে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জোসেফ। তখন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপে যোগ দেন তিনি। রাজধানীতে তখন ‘সেভেন স্টার’ গ্রুপ ও ‘ফাইভ স্টার’ গ্রুপ দাপিয়ে বেড়াত।

গত ২৭ মে তার সাজা মওকুফ করা হয়। ছাড়া পেয়েই গোপনে দেশ ছেড়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালের জুন মাসে জোসেফের মা রেনুজা বেগম ছেলের সাজা মওকুফের জন্য আবেদন করেন। আইন মন্ত্রণালয় সাজা মওকুফের পক্ষে মতামত দেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও ইতিবাচক মতামত পাঠানো হয়। এরপর প্রায় দুই বছর বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা শোনা যায়নি। জোসেফ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাকে ক্ষমা করার বিষয়টি জানাজানি হয়।

সূত্রমতে, কোনো জটিল রোগ ছাড়াই ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৮ মে পর্যন্ত টানা ২০ মাস কারাগারে না থেকে হাসপাতালে ছিলেন জোসেফ।

রাজনৈতিক মামলায় খালেদা জিয়ার আটকে থাকা
দুর্নীতির একটি মামলায় ৫ বছরের দ- দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি নির্জন কারাগারে পাঠানো হয় সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম- কোনো নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জরুরি অবস্থা ছাড়া কারাগারে যেতে হয়েছে এবং জেলখানায় ঈদ করতে হচ্ছে।

আদালত সূত্রের তথ্যমতে, যে মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছিল, সেই মামলায় হাইকোর্ট, আপিল বিভাগ থেকে জামিন পেয়েছেন অনেক অগে। কিন্তু পরে রাজনৈতিক ৬টি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এর মধ্যে কুমিল্লার দুটিতে হাইকোর্ট বিভাগ জামিন দিলেও আপিল বিভাগ সেই জামিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত করেছেন। অপর ৪টি মামলায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জামিন করানো সম্ভব হয়নি। ফলে ঈদের আগে বেগম জিয়ার আর মুক্তির সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে নির্জন কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বাম হাতসহ তার শরীরের একাংশ প্রায় অচল হয়ে গেছে বলে বিএনপি নেতা ও তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়বৃদ্ধ নারীকে রাজনৈতিক মামলায় এভাবে আটকে রাখায় হতাশ হয়েছেন তার শুভাকাক্সক্ষীরা। সেই সাথে ক্ষুব্ধও তারা। বিএনপি এখন আর আদালতের উপর নির্ভর না করে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলন দিয়ে রাজপথে নামার হুমকি দিচ্ছে। দলীয় সূত্র বলছে, ঈদুল ফিতরের পর বিএনপি রাজপথে নামবে। এ ক্ষেত্রে তারা আর সরকারকে কোনো ছাড় দিবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সেই সাথে জাতীয় ঐক্য গড়ারও তোড়জোড় চলছে। সেটি সফল হলে গণতন্ত্র মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্য আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে দেখা যাবে আওয়ামী বিরোধী ঘরানার সব রাজনৈতিক দলকে। তবে সেই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সময়ই সব বলে দেবে।

নজর রাখছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দফতর ইউএনওডিসি এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বাংলাদেশে মাদক বিরোধী অভিযানে বহু মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যম এবং সিভিল সোসাইটির তরফ থেকে বিভিন্ন অনুসন্ধানের জবাবে তারা এই বিবৃতি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে ইউএনওডিসি। সেই সাথে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখায় জাতিসংঘ মহাসচিবের ডেপুটি মুখপাত্র উদ্বেগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলেও নিয়মিত এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে।

(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ০৪ জুন ২০১৮ প্রকাশিত)

রাজনৈতিক হত্যাকান্ডকে আড়াল করতে বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

একজন ‘সামান্য মেজর’ – অসামান্য এক জীবন

শিবলী সোহায়েল

[]

সামান্য মোজা

…যা হোক — বসে আছি।হঠাৎ পাশের কক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথোপকথনের একাংশ কানে এলো। সবাই জানেন, বিদেশে গেলে সচরাচর তারা কোনো কেনা-কাটা করতেন না। প্রয়োজন বোধে এক জোড়া মোজা সম্ভবত বেগম  জিয়া কিনেছিলেন। বললেন, ‘এক জোড়া মোজার দাম দেশী টাকায় এক শতেরও বেশি। এই দামে মোজা কেনা যায়? আমার আর কিছু কেনার নেই ভাগ্যিস।’ উত্তর এলো, ‘এ দামে আমাদের কেনার দরকারও নেই,  সামর্থ্যও নেই। গরিব দেশের নির্ধন প্রেসিডেন্ট। যখন দেশের মানুষের সঙ্গতি হবে, প্রেসিডেন্টেরও হবে।’  অপর দিকে সম্মতি সূচক নীরবতা।
 
উপরের কথাগুলো এসেছে ইনাম আহমেদ চৌধুরীর বর্ণনায় তার লেখা “ভাবনায় বাংলাদেশ” বইটিতে।এটা সম্ভবত ছিলো উনিশ’শ  আশি সালের কথা ইনাম আহমেদ চৌধুরী তখন লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের অর্থনৈতিক সচিব হিসেবে কর্মরত  ছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট জিয়া ব্রিটিশ সরকারের আমন্ত্রণে সরকারি এক সফরে সস্ত্রীক গিয়েছিলেন সেখানে।
 
এভাবেই সাদামাটা জীবন যাপন করে এক ‘সামান্য মেজর’ তাঁর অসামান্য জীবনের ছাপ রেখে গিয়েছেন এদেশের  ইতিহাসের পাতায় পাতায়। ‘সামান্য মেজর’ কেন বলছি, সে কথায় একটুু পরে আসছি। তার আগে আরো দু’একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করবো।

সামান্য ঘড়ি  পরিবার

আওয়ামী লীগের মন্ত্রী চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার ‘ফেলে আসা দিনগুলি’ বইয়ে জিয়াকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন – “………অতীতের অনেক কথাই মনে পড়ছে। আপনার (জিয়া) সাথে আমার অনেক স্মৃতি আছে, অনেক মিল আছে। অাপনি যুদ্ধের সময় যে ঘড়িটা ব্যবহার করতেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হয়েও সে ঘড়িটা হাতে আছে। ……তখন যুদ্ধ করা, হানাদারদের আঘাত করা, দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা ছাড়া অন্য কোন ব্যাপার আমাদের মাথায় ছিল না। সেসময় ভাবীদের কি অবস্থা হবে, তারা কোথায় থাকবে, ভারতে চলে আসবে কিনা – এসব ব্যাপার নিয়ে যখন কথা বলছিলেন তখন আমি আপনার সামনে ছিলাম। আপনি তাদেরকে বলেছিলেন –‘তারা কোথায় থাকবে, কি করবে সে বিষয়ে ভাববার অবকাশ নেই। তাদেরকে তাদের মত করে সেভ থাকতে বলো। …”

উপরের এ উক্তির কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, তবে সামান্য দু’টো বিষয়ের মধ্যে দুইটি অসামান্য শিক্ষা আছে।এক, তিনি জানতেন রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদার সাথে বিলাসবহুল ঘড়ি বা পোশাক-পরিচ্ছেদের কোন সম্পর্ক নেই। আর দ্বিতীয়টি হল দেশের প্রয়োজনকে পরিবারের উপরে স্থান দেওয়া। মুখে বলতে পারলেও বাস্তবে সবাই এ কাজ পারেনা আর তাই এই ছোট ছোট সামান্য কাজগুলোই তাকে আরও অসামান্য করে তুলেছে।

এছাড়া পরিবারের কথা যখন চলে এলো তখন তাঁর পরিবারের আরেকটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। দুই হাজার সতেরো সালের নভেম্বর মাসে উনার ছোট ভাই আহমেদ কামাল নীরবে চলে গেলেন নাফেরার দেশে। কোথাও তেমন কোন সাড়া শব্দ শুনতে পেলাম না। পারিবারিক বন্দনার যুগে যখন একজন রাষ্ট্র প্রধানের নাতিপুতিরাও রাষ্ট্রীয় খরচে নিরাপত্তা ও নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করে তখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের আপন ভাই ছিলেন এতোটাই অপরিচিত!

সামান্য খাবার

 

একজন রাষ্ট্রপ্রধান বিলাসবহুল জীবন যাপন করবে, তার সঙ্গে একসাথে খাবার খেয়ে এসে মানুষ সেই খাবারের গল্প করবে জীবনভর, এমনটাই আমরা সবসময় দেখে আসছি। কিন্তু নিচের দু’টো ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম।

সাংবাদিক এ বি এম মূসার বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই –
“একটু পরে জিয়া গোসল করে এলেন। আমরা চারজন খেতে বসলাম। খাবারের পরিমাণ ও রকম দেখে একটুখানি দুশ্চিন্তাও দেখা দিল। বুঝলাম জিয়া অত্যন্ত স্বল্পাহারী, আমার ভাগ্যেও অর্ধাহার। তিনি এককাপ স্যুপ, দু’তিন চামচ ভাত, দু’টুকরা মুরগির গোস্ত, এক চামচ সবজী নিলেন। তাঁর দেখাদেখি আকবর, দাউদ ও আমিও তাই নিলাম। জিয়া চেয়ে দেখলেন, কিছু বললেন না, তবে মনে হল একটুখানি মুচকি হাসলেন।”

বিশিষ্ট লেখিকা হেলেনা খানের বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি –
“রোজার মাস।ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে এফতারি করার দাওয়াতে স্বামীসহ আমি শরিক হই। শুধুমাত্র সামান্য কাঁচা ছোলা, আটার মোটা রুটি ও ঘি-বিহীন বুটের ডালসহ গরুর গোশত অতি সাধারণ আয়োজন! শুনেছিলাম প্রেসিডেন্ট সাহেব ব্যক্তিগত সব ব্যাপারেই স্বল্প ব্যয়ের পক্ষপাতী ছিলেন। তাঁর ইচ্ছাতেই সেদিনের ইফতারির ওই আয়োজন।”

এভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো অসংখ্য ঘটনা আছে, যা একসাথে করলে একটি বই হতে পারে। পরিমিত জীবনের তথ্য ছাড়াও তাঁর সেনানায়ক হিসেবে ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসী পদক্ষেপ, রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে দেশ পূনর্গঠনের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনা, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রজ্ঞা যেকোনো রাজনৈতিক নেতা, সেনাপ্রধান এবং প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় হওয়ার কথা।

কিন্তু দুঃখের বিষয় এসবই এখন সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার জন্য পরিকল্পিত এবং সংগঠিত একপ্রচেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশে। তাঁর অসামান্য কাজগুলোকে অস্বীকার করে তাকে এখন তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বলা হচ্ছে, “সামান্য এক মেজর”!

[২]

“সামান্য এক মেজর”- কথাটি আজকাল প্রায়শ শুনতে পাওয়া যায়। এ মন্তব্য কি শুধুই তাকে ছোট করার জন্য? নাকি এর গভীরে আরো অন্য কোন উদ্দেশ্য রয়েছে? কথাটি আমি প্রথম শুনি দুই হাজার দুই অথবা তিন সালের দিকে, সিডনীতে অনুষ্ঠিত এক সম্মাণনা প্রদান অনুষ্ঠানে সেখানে এক বক্তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে হঠাৎ করে চিৎকার করেই বলে উঠেন, “কোন এক সামান্য মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়!” আমি মনে মনে ভাবলাম, উনি কি বলতে চাইছেন যে আরব থেকে “উঁচা-লম্বা ফর্সা” কোন শায়খ অথবা ভারতের রাজবংশের কেউ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে উনার জন্য মেনে নেওয়া সহজ হতো? সামান্য মেজরের অসামান্য কাজ মেনে নিতে কি খুব কষ্ট হচ্ছে?

প্রথম দিকে আমি ভেবেছিলাম এটা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার একটা কৌশল মাত্র। কিন্তু কিছুদিন বিষয়টি একটু মনযোগ দিয়ে লক্ষ করে দেখালাম এর সাথে আরো কিছু যুক্ত আছে। শুধু তাঁকে খাটো করাই হচ্ছে না, বরং মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ধীরে ধীরে বিতর্কিত করে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আর কাজটা জোরালো ভাবে শুরু হয়েছে দুই হাজার নয় সালের পর থেকে যদিও এর পরিকল্পনা হয়েছিলো উনিশ‘শ একাশি সালের মে মাসের দিকে মতিয়ূর রহমান রেন্টুর “আমার ফাঁসি চাই” বই থেকে জানা যায়, জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকতে পরিকল্পনাটা ছিলো এরকম যে- প্রচার করতে হবে “এই জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া নয়।” সেই পরিকল্পনারই ধারাবাহিকতায় আজকে তাকে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর গুপ্তচরও বলা হচ্ছে। কিন্তু কেন? শুধুই কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? না, তা নয়। দৃশ্যপটের ভেতরে আরও যে গভীর ষড়যন্ত্র আছে তা আমাদেরকে বুঝতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় অথবা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরপরই যদি তাঁর ভূমিকা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠতো তাহলে তা ভিন্ন বিষয় ছিলো। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেসময় কোন বিতর্ক তো দুরের কথা বরং স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকাকে মূল্যায়ন করে সেসময় তাকে ‘বীর উত্তম’ উপাধি দেওয়া হয়। এ নিয়ে খুব বেশী তর্কের দরকার পড়েনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বক্তব্য থেকেই এটা পরিস্কার হয়ে যায়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে তাজউদ্দীন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন –

“… চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলের সমর পরিচালনার ভার পড়েছে মেজর জিয়াউর রহমানের ওপর। নৌ, স্থল ও বিমান বাহিনীর আক্রমণের মুখে চট্টগ্রাম শহরে যে প্রতিরোধব্যুহ গড়ে উঠেছে এবং আমাদের মুক্তিবাহিনী ও বীর চট্টলার ভাই-বোনেরা যে সাহসিকতার সাথে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এই প্রতিরোধ স্ট্যালিনগ্রাদের পাশে স্থান পাবে এই সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিরোধের জন্য চট্টগ্রাম আজও শত্রুর কবল-মুক্ত রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের কিছু অংশ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সম্পূর্ণ নোয়াখালী জেলাকে “মুক্ত এলাকা” বলে ঘোষণা করা হয়েছে।”

স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সাহসী ভূমিকার কথা সামরিক-বেসামরিক অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিতেই উঠে এসেছে। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠে এক সামান্য মেজরের অসামান্য অবদানের কথা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম অপপ্রচার শুরু হয় স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে। একটু পেছন ফিরে এই বিতর্কের ভিত্তিটাও একটু দেখে নেই।

বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নবগঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক আবদুশ শাকুর তাঁর আত্মজীবনী “কাঁটাতে গোলাপও থাকে” বইতে উল্লেখ করেছেন – “…হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে টিকোজি থেকে পানি ঢেলে চা বানানোর নামে এটা সেটা নাড়াচাড়াই করতে থাকলাম আনমনে। এমনি সময় টেবিলের ‘এগারো ব্যান্ড স্যানিও রেডিও’তে আচমকা শ্রুত হল সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাঃ “আমি মেজর জিয়া বলছি।” লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে দু’জনে প্রাণভরে কোলাকুলি করলাম, যেন পুনরুজ্জীবিত দুই মৃত সৈনিক।”

কর্নেল (অবঃ) কাজী-নুর-উজ্জামান তাঁর “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধঃ একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা” গ্রন্থে লিখেছেন, “৭১-এ এপ্রিলের শেষ দিকে তাজউদ্দীনের সঙ্গে আমি মেজর জলিলের নয় নম্বর সেক্টর পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। যাত্রী আমরা দুজনই ছিলাম। …তাজউদ্দীন সাহেব আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আপনি একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হয়ে কেমন করে কখন মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করলেন?’ জবাবে আমি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার কথা বলি। জিয়া কর্তৃক নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে পরিচয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করি। আমার জবাবে তিনি নিরুত্তর ছিলেন এবং অন্য প্রসঙ্গে চলে যান। …জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনেই আমি ও আমার মতো হাজার হাজার সেনা, ইপিআর, পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য প্রেরণা পেয়েছিল। জিয়া ছিলেন ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার। তাঁর প্রেসিডেন্ট পদের দাবি করা আমাদের মনে প্রভাব ফেলেনি। তবে তাঁর স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ডাক আমাদের সকলকে অনুপ্রাণিত করেছিল।”

এ ব্যাপারে এমন আরও অসংখ্য তথ্য-প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। তবে বিষয়টি এমন না যে এই তথ্যগুলো তাদের কাছে নেই। এসব কিছু জানা থাকার পরেও তারা গোয়েবলসের নীতি অনুসরণ করে ধীরে ধীরে অপপ্রচার চালাচ্ছে। ঠিক যেভাবে উনিশশ পঁচাশি সাল থেকে অপপ্রচার আরম্ভ করে তারা মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদীকে বাংলাদেশের দিয়েছে। এ অপপ্রচারকে কেবলমাত্র সাধারণ রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ভাবলে মারাত্মক ভুল হবে। এই অপপ্রচার শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে নয় এর পেছনে রয়েছে গভীর এক নীলনকশা, রয়েছে আমাদের জাতিস্বত্তাকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশী জাতিস্বত্তার স্থপতি ও নির্মাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং সবসময় সুকৌশলে তা প্রতিহত করেছিলেন। তাই আজ এই জাতির নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌম স্বত্তাকে ভুলিয়ে দিতে হলে যে কোন ভাবেই হোক জিয়াউর রহমানের আদর্শকে মুছে ফেলতে হবে।

এই ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায় উনিশশ সাতচল্লিশ সালের দেশভাগের পরপরই। সেসময় সেপ্টেম্বর মাসে বম্বেতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের CWC) এক সভায় সাতচল্লিশের দেশ বিভাগ নিয়ে একটি রেজুলিউশন গ্রহণ করা হয়। সেই রেজুলুশনে বলা হয়, “We hereby decide to accept the present partition for the time being”। এখানে “ফর দি টাইম বিং” কথাটার মাধ্যমে আমাদের প্রতিবেশীরা মূলত তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিয়েছিল। এবং এ সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবেই তারা একে একে হায়দারাবাদ, সিকিম ও ও কাশ্মীরকে গিলে ফেলেছে।

আশার বিষয় হচ্ছে আমারা সিকিম নই, আমরা হায়দারাবাদ কিংবা কাশ্মীরও নই। সেই আদি যুগ থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনচেতা। এই অঞ্চলের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল মহাপরাক্রমশালী মহারাজ আশোকার বিরুদ্ধে। তারা ঢুকতে দেয়নি দখলদার যুদ্ধবাজ মানসিংহদেরকে। ইংরেজদের দুই’শ বছরের শাসনকাল কেটেছে এই অঞ্চলের তিতুমির, ফকির মজনু শাহ, নুরুলদিন, বাকের মোহাম্মদ জং এবং সুর্যসেনদের বিদ্রোহ-সংগ্রাম দমন করার চেষ্টায়। উর্দুভাষী পাকিস্তানও পারেনি আমাদের পদানত করতে। সুতরাং দিল্লীও পারবেনা। কারণ এই দেশে রয়েছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতই সামান্য অনেক মানুষ যারা ফ্যাসিবাদের মুখে দাঁড়িয়ে শোষকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসামান্য তীতিক্ষার সম্ভাবনা ও মহত্তম মুক্ত মানুষের সাহসকে ধারণ করে বলে উঠতে পারে, “উই রিভল্ট!”

তথ্যসূত্রঃ

১। ইনাম আহমেদ চৌধুরী, ভাবনায় বাংলাদেশ, হাসি প্রকাশনী, মে ২০০৯, পৃঃ ১৪৯।
২। ইঞ্জি: মোশাররফ হোসেন, ফেলে আসা দিনগুলি, তৃপ্তি প্রকাশ কুঠি, জুন ২০১১, পৃঃ ১৪৯-১৭২।
৩। এবিএম মূসা, জিয়ার দর্শন ও বাংলাদেশ, সম্পাদনাঃ  কাজী সিরাজ,  অ্যাডর্ন পাবলিকেশন,  ফেব্রুয়ারি ২০০৪, পৃঃ ১৯-২৫।
৪। হেলেনা খান, ঊষা থেকে গোধূলির স্মৃতি, মীরা প্রকাশন, মার্চ ২০০৯, পৃঃ ২৬০।
৫। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে ১১ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ভাষণ।
৬। আবদুশ শাকুর, কাঁটাতে গোলাপও থাকে, ঐতিহ্য, ফেব্রুয়ারি ২০০৮, পৃঃ ১৭৫-১৭৭।
৭।  কর্নেল (অবঃ) কাজী-নুর-উজ্জামান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধঃ একজন সেক্টর কমান্ডারের স্মৃতিকথা,  অবসর  প্রকাশনা সংস্থা, ফেব্রুয়ারী ২০০৯, পৃঃ ১৩-১৫।

*লেখক শিবলী সোহায়েল -শিক্ষক ও গবেষক, চার্লস ষ্টার্ট ইউনিভার্সিটি, অষ্ট্রেলিয়া।

 

সমঝোতায় না আসায় খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত?

ভারতের প্রতি কেবলই কৃতজ্ঞতার সুর হাসিনার গলায়, কৌশলে এড়ালেন তিস্তা প্রসঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনে বহু প্রতিক্ষীত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৫ মে) উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিন হাসিনার বক্তব্যজুড়ে ছিল দু’দেশের যৌথ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নানা অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা। মুজিবকন্যা এদিন বলেন, ২০১০ সালে ভারত সফরে এসে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তিনি। ভবন নির্মাণের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রায় ৮ বছরের মাথায় আজ বাস্তবায়িত হল দুই বাংলার স্বপ্ন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হল গুরুদেবের আশ্রমে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যেকটি কথায় উঠে এসেছে ভারতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসার কথা।

ছিটমহল বিনিময়, সীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে হাসিনা বলেন, ‘‘মুজিব-ইন্দিরার চুক্তির পর বাংলাদেশে আগেই স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে আইন পাশ হয়ে গেলেও ভারতে সেটা হয়নি। ভারতে দীর্ঘদিন পরে ভারতের সংসদে ‘৭১ সালের মতো দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সব সংসদ সদস্য মিলে এক হয়ে বিলটি পাশ করে দিল। স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হল।’’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ যেভাবে ছিটমহল বিনিময় করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হাসিনা।   হাসিনা বলেন, ‘‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বড় বন্ধু। ভারতের অবদান আমরা ভুলব না। যে কোনও সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। আমাদের উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’’

বক্তব্য রাখার মাঝেই ১৯৭৫ সালের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। কীভাবে সেসময় তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চলেছিল, কীভাবে তাঁর আত্মীয়রা প্রাণ হাতে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, সেসময় কীভাবে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছিল, তারই স্মৃতিচারণা করেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘সেইসময় ভারত যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াত, তবে জানি না আমাদের কী হত। সেসময় ভারতের স্নেহছায়া যদি না পেতাম, যদি আমাদের জীবন অন্যদিকে মোড় নিত।’

এদিন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও উঠে আসে হাসিনার কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা তাদের তাড়াতে পারিনি। এক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে পাশে পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ভবনে যে দুই দেশের ভাষা, বাংলা ভাষার চর্চা হবে, তা নিয়ে গবেষণা হবে, এদিনের বক্তৃতায় সেকথাই বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। ‘ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক-এ কথায় বলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন হাসিনা।

এদিনের অনুষ্ঠানে কথার বলার মাঝে, একবার তিস্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি শেখ হাসিনা। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি এখনও রূপায়িত হয়নি। এই নিয়ে কি অনুষ্ঠানের বাইরে মোদী-হাসিনা আলোচনা হবে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এরপরই বক্তৃতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনিও। সব পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের পাশে থাকার আরও একবার আশ্বাস দেন মোদী।

/সাউথ এশিয়ান মনিটর

সেনানিবাসে ব্যাংক ডাকাতি এবং অপরাপর প্রসঙ্গ

ঢাকা সেনানিবাসের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে অবস্থিত একটি বেসরকারী ব্যাংকের বুথে নিরপত্তা প্রহরীকে হত্যা করে সব টাকা লুট হয়েছে! বিষয়টি দেশবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে! সেনাভবনের পার্শ্বে, পুরাতন ডিজিএফআই হোডকোয়ার্টারের বিপরীতে, সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট ব্রাঞ্চের পার্শ্বে  এহেন দুর্ধর্ষ ঘটনা জানান দিচ্ছে- সেনাবাহিনী ও সেনানিবাসের নিরাপত্তা ঠিকঠাক মত কাজ করছে না। সেনাভবন অর্থাৎ, সেনাবাহিনীপ্রধানের বাসভবনের আশে পাশে কড়া পাহারা, তথা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা থাকার কথা। কেতাবে লেখা থাকলে বাস্তবে নিশ্চয়ই সিস্টেমে বড় ধরনের গোলমাল আছে। আগে ধরে নেয় হতো, ক্যান্টনমেন্ট এমন একটি যায়গা, যেখানে আর যাই হোক, নিরাপত্তার কোনো সংকট নেই। চোর ডাকাত দূরের কথা, কোথাও কিছু রাস্তায় পরে থাকলেও কেউ তুলে নিবে না। অবস্থা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে- সেযুগ হয়েছে বাসী।

ঢাকা সেনানিবাসের ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় দীর্ঘকাল বসবাস করায় এর অলিগলি সব চেনা, মুখগুলোও পরিচিত।সেনানিবাসে ঢুকতে বেরুতে সিভিলিয়ানদের যে কী হাঙ্গামা, তা ভুক্তভোগিমাত্রই জানেন বুঝেন। তদুপরি সিসিটিভি ও লেটেস্ট যোগাযোগের এই যুগে অস্ত্রশস্ত্রসহ ডাকাত ঢুকে সেনাপ্রধানের বাড়ির কাছে পৌছে অপারেশন চালিয়ে খুনাখারাবি করে ব্যাংকের টাকা লুট করে কোনো ধরা পড়া ব্যতিরেকেই নিশ্চিন্তে বাইরে চলে যেত পারার ঘটনা বলে দিচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা বলতে আর কিছু নাই। সেনানিবাসও এখন নিরাপদ নয়। আরও বড় কোনো ঘটনা ঘটার আলামত নয় তো? যদিও এখন দেখা যাবে, আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের এবং এমপি ইউনিটের কিছু ছেলেদের রগরানো হচ্ছে, কিছু এক্সট্রা টাইট, কয়েকদিন পরে আবার যেই সেই।

একটা ঘটনার কথা বলি। কয়েকদিন আগে এক ভদ্রলোক মতিঝিল থেকে একটা উবার ভাড়া করলেন। ভাঙা বাংলায় বলেন- ক্যান্টনমেন্ট চলো। ড্রাইভার রাজী হয় না। বলে- ক্যান্টনমেন্টের পাশ নাই। যাত্রী বিরক্ত হয়ে বলে, ‘তোর পাশের দরকার হবে না, আমি আছি তো, দ্যাখ কি করি।’ পথে টুকটাক কিছু আলাপে বোঝা গেলো, তিনি কোলকাতার মানুষ, এবং ভারতীয়। গাড়িটি ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ জাহাঙ্গীর গেটের কাছাকাছি আসলে আরোহী বললেন, ‘সোজা যাও অর্থাৎ, ফ্লাগ কার লাইন দিয়ে!’ ড্রাইভার ভয় পেয়ে বলে, ‘স্যার, বলেন কি আপনি? তা সম্ভব নয়। আমার বিপদ হবে।’ আরেহী আশ্বস্ত করে বলে, ‘তুমি যাও, কোনো সমস্যা হবে না, দেখো আমি কি করি!’ মিলিটারী পুলিশ (এমপি) সদস্য যথারীতি ফ্লাগ লাইনে গাড়িটি থামায়, ছুটে আসে সিকিউরিটি ইিউনিট, ডিজিএফআইর সদস্যরা এবং পরিচয় জানতে চায়। আরোহী তার পকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ডের মত কাগজ বের করে দেখায় (ওটাতে কোনো ছবি ছিল না, বা আইডি কার্ডও নয়)। এমনকি আরোহী গাড়ির কাঁচও নামিয়ে কথা বলেনি। ওটা দেখেই এমপি গাড়ি ছেড়ে দিলো। ড্রাইভার এবার বুঝে গেলো আরোহি হোমড়া চোমড়া কেউ হবে। এবার ক্যান্টনমেন্টের নির্দিষ্ট বাড়ির সামনে পৌছলে দেখা যায় কয়েকজন সেনা অফিসার তাকে রিসিভ করতে দাড়িয়ে আছে। এই হলো সেনানিবাসের বর্তমান সিকিউরিটির হাল!

ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় এসে ঠেকেছে, তা বুঝতে এই একটি ঘটনাই যথেষ্ট। এর বাইরে, বেশ কয়েকবছর ধরে নানা মাধ্যমে খবর বের হয়েছে, ক্যান্টনমেন্টগুলিতে প্রতিবেশি দেশের গেয়েন্দা সংস্থা র-য়ের অবাধ বিচরণ। কচুক্ষেতের ডিজিএফআই অফিসের একটি ফ্লোরে ভারতীয় বাহিনীর মেজর জেনারেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক ডজন অফিসার বসে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার আগামাথা ঠিক করে থাকেন। বাংলাদেশ আর্মি অনেক অগেই কর্পোরেট আর্মিতে পরিণত হয়েছে। এদেশের সেনাবাহিনীর সাধারণ থেকে নীতিগত বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা ও সেনারা ভূমিকা রেখে থেকে। এমনকি সেনাবাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয় বাংলাদেশ বাহিনীর কর্তাদের। গত দু’টার্ম ধরে আর্মিতে চলা ক্লিনজিং মিশনে ভারতীয় বাহিনীর লোকেরা সশরীরে উপস্থিত থাকে। মেজর জিয়াউল হক, লে. কর্নেল যায়েদী, লে. কর্নেল হাসিনুরের মত কয়েকডজন সার্ভিং সেনা অফিসারকে অপহরণ, মাসের পর মাস আটক, এবং জিজ্ঞাসাবারে নামে টর্চারের সময় উপস্থিত থাকে হিন্দিভাষী ভারতীয় গোয়েন্দারা!

বাংলাদেশে সেনাবাহিনী বলতে যে কঠোর কঠিন সার্ভিসকে বোঝাতো, সেখানে এখন স্থান দখল করেছে অঢেল টাকা পয়সার ছড়াছড়ি, হাইরাইজ মাল্টিস্টেরেড ভবন, নানা উপায়ে বিত্ত বৈভবের ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত আরাম আয়েশ, মোটা চাকার পাজেরো গাড়িতে পারিবার নিয়ে হৈ হল্লা, আড্ডাবাজি, পার্টি, চাকরির পরে ব্যবসা বানিজ্যের হাতছানি ইত্যাদি। এখনকার কান্টনমেন্টে গেলে মনে হয় কোনো বাহিনীর এলাকা নয়, বরং হয় কোনো পর্যটনকেন্দ্র বা সেভেনস্টার হোটেলের আঙিনা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেনাবাহিনী এবং সেনানিবাসের এই দশা হঠাৎ করে হয়নি। খুব পরিকল্পিতভাবে ধীরে ধীরে করা হয়েছে। পিলখানা ম্যাসাকার পরবর্তী সেনাবাহিনীর ভেতরে অনেকেই দেখছেন অপেশাদারী একটি মেরুদন্ডহীন ডিপার্টমেন্ট। আজকাল পুলিশের হাতে সেনা অফিসার ও সদস্যদের পথ ঘাটে প্রহার খাওয়ার যে প্রবণতা, তা একই সূত্রে গাথা। বাংলাদেশের একটি আতেল শ্রেণী আছেন, যারা জোরেসোরেই প্রচার করে থাকেন, বাংলাদেশে সেনাবাহিনীরই দরকার নাই। আবার সরকারী দলের আজন্ম ক্ষোভ- তাদের জনকের হত্যাকারী বাহিনী হলো সেনাবাহিনী। কাজেই এই বাহিনীকে যেকোনো ভাবে দমন করে রাখতে হবে, পারলে বিলুপ্ত করো। সেনাবাহিনীতে যতই পরিবর্তন বা রক্ত বদলাক না কেনো, বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী এখনও তাদের ভয়েই ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না!

আজকের ঘটনার পরে প্রশ্ন উঠতে পারে, কালকের ঘটনা কি কেবল একটি ডাকাতি? নাকি বড় কোনো ঘটনার পূর্বাভাস? এরপরে সেনাসদরের ভেতরে অফিসাররা খুন হলেও বা পিলখানার মত কোনো ঘটনা ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। হু ইজ নেস্কড? ইজ ইট অ্যা ফুল ড্রেস রিহার্সাল? গত এক দশকের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে প্রতিবেশিদের অনেক টেনশন হ্রাস পেলেও এবারে ৫০০ কোটি টাকার পুরোনো অস্ত্রের ভাগাড় বানিয়ে এসব পালিশ করার কাজে ব্যস্ত রাখার এক মহৎ পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই হাতে নেয়া হয়েছে। দরকার হলে এর জন্য ট্রেনিং নিতেও যেতে হবে প্রতিবেশীরই কাছে, বাইরে যাওয়ার পথ রুদ্ধ। প্রতিরক্ষা চুক্তির নামে বেঁধে ফেলা হয়েছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে। কেবল বাকী আছে এটিকে তাদের সাবসার্ভিয়েন্ট বাহিনী হিসাবে অফিসিয়াল ঘোষণা!

প্রায় নিরাপত্তাহীন দেশ। এ অবস্খায় দেশ ও জাতীয় সেনাবাহিনীকে বাঁচাতে হলে আর দেরী নয়, এখনই সময়। উঠে দাড়ান।

সরকারকে একগুচ্ছ শর্ত বিএনপির!

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে বিএনপি। কেবল বেগম জিয়ার মুক্তিই নয়, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারও চায় দলটি। এ ছাড়াও সরকারকে একগুচ্ছ শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো— বেগম খালেদা জিয়াসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও সব রাজবন্দীর মুক্তি। নির্বাচনের অন্তত এক    সপ্তাহ আগে সেনা মোতায়েন। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। তফসিলের আগেই সংসদ ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। ২০০৮ সালের আগে নির্ধারিত সীমানায় নির্বাচন দেওয়া। এসবের ব্যত্যয় ঘটলে নির্বাচনকে ‘না’ও করতে পারে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায়ের পরিকল্পনা আছে বিএনপির। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা অবশ্য জানান, সরকার যদি সত্যিকারার্থে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করতে চায়, তাহলে বিএনপিও সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করবে। বিএনপি চায়, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি জাতীয় সংলাপ হোক। সেখানে সব পক্ষ বসলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের উপায় বের হবে। সরকার যদি কিছুটা ছাড় দেয় বিএনপিও একই অবস্থানে বসে থাকবে না। কিন্তু সরকার এগিয়ে না এলে বিএনপি তার অবস্থানেই থাকবে। আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করে নির্বাচনে যাবে বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যদি রাজপথের সব বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে যদি নির্বাচন না হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনকে মুক্তি দেওয়া না হয়, যদি সংসদ ভেঙে দেওয়া না হয়, যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন না হয় তাহলে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই নির্বাচনে বিএনপিও যাবে না।’ দলীয় সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচনের তফসিলের আগ মুহূর্তে সরকারকে বড় ‘ধাক্কা’ দিতে চায় বিএনপি। সরকার নমনীয় না হলে সেপ্টেম্বর থেকেই ফের হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি জোট। তবে এর আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজপথে নরম কর্মসূচির পাশাপাশি আইনি লড়াই চলবে। বিএনপি মনে করছে, সরকারকে চাপে রাখতে পারলে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সব দাবি আদায় সম্ভব। একই সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতিও থাকবে দলটির। তিন ধাপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি নেওয়ার দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অবশ্য বলেন, ‘এককভাবে আইনি লড়াইয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে সুবিধাজনক হবে না। আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। আমাদের এখন ধীরে ধীরে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা চিন্তাভাবনা করতে হবে। ঈদের পরে এ বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’

বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ‘কেন্দ্র যখন যে সিদ্ধান্ত দেবে তা পালনে তৃণমূল সবসময় প্রস্তুত। প্রয়োজনে ’৯০-এর মতো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’ জানা যায়, এরই মধ্যে তৃণমূলে হোমওয়ার্ক করছে বিএনপির হাইকমান্ড। কেন্দ্রের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দূরত্ব কমাতে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই কথা বলছেন। যে কোনো মূল্যে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্য চায় দলের হাইকমান্ড। বিশেষ করে আসন্ন দুই সিটি নির্বাচন গাজীপুর ও খুলনায় দায়িত্বরত নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছেন তারেক রহমান।

বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা অবশ্য এখনই কঠোর কর্মসূচির পক্ষে। তারা চান, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। প্রয়োজনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আগের মতো টানা আন্দোলনে যেতে চান তারা। ২০ দলীয় জোটের বাইরে অন্যান্য দলের সঙ্গেও রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে তারা।

/বাংলাদেশ প্রতিদিন

« Older Entries