Category Archives: জাতীয়

‘ঢাকার নির্বাচনে নাক গলালে নেপাল-মালদ্বীপের মতন আম-ছালা হারাতে পারে দিল্লি’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে একটি চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের সনামধন্য সাংবাদিক ভরত ভূষণ। বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন,‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো হস্তক্ষেপ করার মতো কাজ ভারত আবার করবে বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালের মতো, আওয়ামী লীগের নেওয়া কৌশলকে সমর্থন দেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে—কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না ভারতের। যদি কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে ভারতের উচিত এমন পদক্ষেপ নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন করবে।’

ঢাকার রাজনৈতিক বিষয়ে নয়াদিল্লির নাক গলানো উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকলে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী এক নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত নিবন্ধে নয়াদিল্লির সাংবাদিক ভরত ভূষণ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। তিনি লিখেছেন, ‘সাধারণ নির্বাচনের বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাজা দিয়েছেন আদালত। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের এই আদেশ যদি না বদলায়, তবে হয়তো খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নীতি নিয়েছে। আর এ বিষয়টিকে দেখা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন হিসেবে।’

এর আগে হিন্দুস্থান টাইমসের অনলাইন সংস্করণে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিতে হবে, তবে তা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাশ কাটিয়ে নয়।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে ভরত ভূষণ তার নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। কিন্তু ভারত তাতে অঘোষিত সমর্থন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে সংসদের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। কম ভোট পড়লেও কেবল ভারতের সমর্থনের কারনে টিকে যায় সে নির্বাচন।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাংসদেরা। ওই নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশন। যদিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, বিএনপির শাসনামলে তা হয়নি। এমন মন্তব্য করে ভরত ভূষণ আরও বলেন, ‘আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগ যে কৌশল নিয়েছে, ভারত তাতে সমর্থন দিতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উন্নতির ধারা বজায় রাখার আশাতেই এ অবস্থান নিতে পারে ভারত। কিন্তু এ কাজ করলে, নির্দিষ্ট দল বা নেতাকে সমর্থন দেওয়ার একই ভুল করবে ভারত। নেপাল ও মালদ্বীপে এই একই কাজ করে ফলাফল ভালো হয়নি।’

নিবন্ধে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন ভরত ভূষণ। তিনি লিখেছেন, ১৯৯১ সালের ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর মামলা হয়। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতেই নির্বাচনের আগে আগে বিচার ত্বরান্বিত করা হয়। ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলা করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আদালতে নিষ্পত্তি হয়। সব মামলা থেকেই মুক্ত হন তিনি। যদিও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো চলতে থাকে, যোগ হয় আরও নতুন মামলা।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ৩৪ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাঁর পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানা হয়েছে। বর্তমানে এখন তিনি নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে রয়েছে।

বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বর্জন করবে না বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। এই ভারতীয় সাংবাদিক লিখেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ অভাবিত উন্নতি করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি আছে। বেড়েছে আয় ও ব্যয়ের মাত্রা। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধিতেও দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।’

তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফলাফল অনিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়ে যাওয়া, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কড়াকড়ি, সুশীল সমাজ ও বাক্‌স্বাধীনতার প্রতি হুমকি, অনেক নাগরিকের গুম হওয়া—এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করছে। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফলে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।’

ভরত ভূষণ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ভারত বেজায় খুশি। তিনি আরও বলেন, ভারত এই সরকারকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চাইতেই পারে। বিএনপি এর আগে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ থাকাই এর কারণ। তার মতে, ‘বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে যে ভারত চায় খুঁড়িয়ে চলা বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে করে আরও বেশি বৈধতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন শেখ হাসিনা।’

নিবন্ধের শেষে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের করণীয় নিয়ে লিখেছেন ভরত ভূষণ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো হস্তক্ষেপ করার মতো কাজ ভারত আবার করবে বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালের মতো, আওয়ামী লীগের নেওয়া কৌশলকে সমর্থন দেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে—কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না ভারতের। যদি কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে ভারতের উচিত এমন পদক্ষেপ নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন করবে।’

“আইন তুমি কার”

 

জিয়া অরফানেজ টাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়া সহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা তারা আত্মসাৎ করেছেন। ১৯৯৩ সালে এতিমখানা নির্মানের নিমিত্ত ঐ টাকা এসেছিল কুয়েতের আমিরের কাছ থেকে অনুদান হিসাবে।

৯ জুন ১৯৯১ সৌদি কামির্শয়াল ব্যাংকের ডিডির মাধ্যমে ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার ( বাংলাদেশী মুদ্রায় কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা) বাংলাদেশে এসেছিল, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তারপর বগুড়ায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং বাগেরহাটে জিয়া মেমরিয়াল গঠন  করা হয়। কুয়েতের আমিরের দেয়া ঐ অর্থ সমান দু’ভাগ করে ২ কোটি ৩৩  লাখ টাকা করে বাগেরহাট এবং বগুড়ার অরফানেজ ট্রাস্টে প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, যা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা হিসেবে বহুল আলোচিত।

গত কয়েক বছর ধরেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে চলছে বিস্তর। আলোচনা, সমালোচনা এবং এখনও চলছে হয়ত চলবে বহুদিন। তবে সাধারন মানুষের মনে এক ধরনের ধারনা জন্মেছে যে দুই কোটি টাকার কিছু বেশী অর্থ আত্মসাৎ মামলা চালাতে সরকারের কত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে সেটাও ভাববার বিষয়।

কেউ কেউ উষ্মা প্রকাশ করে বলছে – একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা না করে যদি দুই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা করা হত, তাহলে বর্তমান সময়ের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাটের মহোৎসবের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারন মানুষের কাছে কিছুটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হত। কেননা দুর্নীতির মহোৎসব আর লুটপাটের দরুন ব্যাংকিং সেক্টর আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, শেয়ার মার্কেটে সর্বস্ব হারিয়ে ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারী দেউলিয়া হয়ে পথে বসেছে।
ফারমার্স ব্যাংককে বাঁচানোর জন্য জলবায়ু ফান্ডের সরকারী টাকা দেয়া হয়েছে। এমন শত শত অর্থ কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত বর্তমান সরকার, আর তাই সাধারন মানুষ মনে করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে  মামালাটি রাজনৈতিক প্রভাবে দুষ্ট। সেই মামলার রায় হল ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ এবং সেই রায়ে খালেদা জিয়া কে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

রায় প্রকাশের অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের প্রায় সকল মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এতিমের অর্থ আত্মসাতের অপবাদ প্রচার সহ রায়কে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে বিচারের রায় কি হবে সেই ব্যাপারে ক্রমাগত মন্তব্য করতে থাকেন, যা আদালত অবমাননার শামিল হলেও আইনি আদালত এই ব্যাপারে ছিল দারুণ নির্বাক।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সুত্র মাধ্যমে জানা যায় যে এই ২ কোটি দশ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাৎ নয় বরং প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যাংকে অরফানেজের নামে গচ্ছিত রয়েছে, যা সুদে আসলে বর্তমানে ৬ কোটি টাকার অধিক পরিমানে স্ফীত হয়ে আছে।

সরকার দাবী করেছে, কথিত আত্মসাৎকৃত টাকা সরকারী এতিম ফান্ডের এবং সেটা প্রমানের জন্য কোর্টে কিছু কাগজপত্র দাখিল করেছে সরকার পক্ষ। মুলতঃ এই টাকা আসে কুয়েতের আমিরের কাছ থেকে অনুদান হিসাবে। বাংলাদেশেস্থ কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা আছে কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকাটা দিয়েছে ।

মামলা প্রমানের জন্য সরকারী পক্ষ থেকে দাবী করা হয় বিদেশ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় এতিম তহবিলের টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছিলেন বেগম জিয়া।
দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবী, “এতিমদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি অর্থের সম্পূর্ণটাই আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। এ কারণে দুর্নীতি দমন আইন ও দণ্ডবিধির অভিযোগগুলো প্রমাণ হয়েছে এবং তিনি এই ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।”

মামলাটির প্রারম্ভিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এতিমখানা তৈরীর জন্য কুয়েতের আমির ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান প্রেরণ করেন। উল্লেখ্য কুয়েত সহ মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার খুব ভক্ত ছিলেন, বেশিরভাগ রাষ্ট্রপ্রধানের সাথেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ১৯৯১ সালে সৌদি আরবের একটি ব্যাংক থেকে টাকাগুলো ডিডির মাধ্যমে পাঠানো হয়। ঐ ডিডি সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় ভাঙ্গিয়ে অর্ধেক টাকায় বাগেরহাটে এতিমখানা বানানো হয়। এখনও সেই এতিমখানা যথারীতি চালু আছে। এ বিষয়ে দুদক কোনো মামলা করেনি। বাকী অর্ধেক ২,৩৩,৩৩,৫০০/- টাকা বগুড়াতে এতিমখানা নির্মানের উদ্দেশ্যে অরফানেজ ট্রাস্টকে দেয়া হয়। এরমধ্যে লাখ তিনেক টাকায় এতিমখানার জন্য ৩ একর জমি কেনা হয় মাত্র, বাকী টাকা ব্যাংকে রেখে এখন ৬ কোটি টাকা এতিমখানার নামে ব্যাংকে গচ্ছিত আছে।  এখান থেকে আর কোনো টাকা খরচও হয়নি বা কোনো টাকা কেউ আত্মসাৎ করেনি।

মামলা প্রমানের জন্য সরকার পক্ষ প্রথম থেকেই বিভিন্ন অগ্রহনযোগ্য পন্থা ও কৌশলের আশ্রয় নেয়। প্রথমেই তাঁরা টাকার উৎস নিয়ে গন্ডগোল পাকায়। সরকার বলে, এটা সৌদি সরকার থেকে পাওয়া অনুদান,যা আদালতে মিথ্যা প্রমানিত হয়। আসলে টাকার উৎস হল কুয়েত।
এই টাকা সরকারী এতিম ফান্ডের- তা প্রমানের জন্য আইও হারুন অর রশিদ নিজের মত করে একটি ফাইল তৈরী করে কোর্টে দাখিল করে। সে দাবী করে ওটা “প্রধানমন্ত্রীর এতিমখানা তহবিলের” সরকারী টাকা ছিল। অথচ আদালতে জেরায় তদন্ত কর্মকর্তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়, এই ফান্ডের বিষয়ে কোনো ফাইলপত্র না পাওয়ায় নিজেরা কপি পেস্ট ও ফটোকপিতে কাটা ছেঁড়া করে একটি ছায়ানথি বানিয়ে কোর্টে দাখিল করে। আসামী পক্ষের কৌসুলিরা যুক্তিতর্ক দিয়ে প্রমান করে দিয়েছেন যে, নথিটি পরে বানানো, এবং কাটা ছেড়া ও ঘষামাজা করা। এ সংক্রান্ত ব্যাংক কাগজ বা যেসব ছায়ানথির কথা বলা হয়েছে, তা বানোয়াট ও অসৎউদ্দেশ্যে তৈরী করা।

এখানে উল্লেখ করা যায়, ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অধীনে। তখন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ এবং রিলিফ ফান্ডটি ছিল রাষ্ট্রপতির নামে। সে অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নামে কোনো এতিম ফান্ড ছিল না। ঐ বছর আগস্ট মাসে সরকার পদ্ধতি পরিবর্তন হওয়ার পরে ১৯ সেপ্টেম্বর বেগম জিয়া ২য় বার শপথ গ্রহন করে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। অথচ দুদক ভুয়া কাগজপত্রে তার আগেই জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর নামে এতিম ফান্ডের কাগজ ও ব্যাংকের বানোয়ট কাগজ/দস্তাবেজ প্রস্তুত করে জমা দেয়।

সরকার পক্ষ সাক্ষী হিসাবে মুখ্য সচিব কামাল সিদ্দিকীর পিএস সৈয়দ জগলুল পাশার নাম দেয়। দাবী করা হয়, সৈয়দ পাশা নাকি ঐ কথিত এতিম ফান্ডের ফাইল দেখভাল করতেন- যা সত্য নয়। ঘটনার সময় অর্থাৎ ১৯৯১ সালে সৈয়দ পাশা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে চাকরিই করতেন না, ফাইল দেখার তো প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া ঐ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিবের পদটিও ছিল না। রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবের একটি পদ ছিল বটে, সেটা যুগ্মসচিব/অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার (কামাল সিদ্দিকী অতিরিক্ত সচিব থাকতে ওখানে পদায়িত হন)। আর জগলুল পাশা প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসেন ১২/০৯/১৯৯২ তারিখে, তাঁর মানে দাঁড়ায়- বানোয়াটভাবে দাবী করা ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের’কথিত নথি জগলুল পাশা দেখতেন–তা পরিপূর্নভাবে মিথ্যা।

এই কথিত দুর্নীতি মামলার অনুসন্ধানকারী, বাদী, আইও, এবং সাক্ষী একই ব্যক্তি- হারুন অর রশিদ। তার চাকরি শুরু হয় দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে ১৯৭৯ সালে এসিস্টেন্ট পদে, সেটি কোনো অনুমোদিত পদ ছিল না। পরে ১৯৮৫ সালে অ্যাসিসটেন্ট ইন্সপেক্টর এবং ১৯৯২ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান হারুন। বিএনপির আমলে ২০০৫ সালে দুদক গঠন করার পরে হারুনকে আত্মীকরণ না করায় চাকরি চলে যায়। মামলা করে হারুন হেরে যায়, পরে আপিলে থাকা অবস্থায় ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে রহস্যজনক কারনে আপিল তুলে নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান লেঃজেঃ হাসান মসহুদকে ধরে সে উপসহকারী পরিচালক পদে চাকরি জোটান। নিয়োগের মাত্র দুইদিন পর এই মামলার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় হারুনকে। হারুনের আগে দুদকের আরেক অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নূর আহমেদ ২০০৮ সালের ১১ জুন ‘অনুসন্ধানে কিছু পাওয়া যায়নি’ মর্মে রিপোর্ট জমা দেন।
মোটকথা, ২০০৫ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে চাকরিচ্যুত হওয়ার কারনে হারুন বিএনপির ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন,আর তাঁকে ব্যবহার করেই আওয়ামীলীগ সরকার এই বানোয়াট মামলার যত কারুকাজ করেছে বলে বিজ্ঞ আইনবিদ সহ সাধারন জনগণের মনে একটি বাস্তব ধারনার জন্ম হয়েছে।

হারুন অর রশিদ আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দাবী করেন, ১৯৯১-১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম জিয়া নাকি ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে চলতি হিসাব খুলেন যা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ও প্রমান দ্বারা সমর্থিত নয়। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা করপোরেট শাখার হিসাব নম্বর ৫৪১৬ খোলার ফরমে খালেদা জিয়ার কোনো স্বাক্ষর নাই অথবা অনুদানের অর্ধেক টাকা বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কিংবা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে টাকা বিলি বণ্টনের ক্ষেত্রে বা কোনো চেকে, এমনকি কোনো ফাইলেও খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নাই। ঐ ফান্ডের বাগেরহাট অংশের সেটেলার ছিলেন মরহুম মোস্তাফিজুর রহমান, এবং বগুড়ার অংশের জন্য তারেক রহমান। এসবের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সই স্বাক্ষর বা অফিসিয়াল সম্পর্ক  নাই।

‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’-এই নামে কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিলের অস্তিত্বও কখনই ছিল না এখনও নাই। জিয়া এতিমখানার জন্য কুয়েতের আমীর থেকে পাওয়া ঐ টাকার অর্ধেক গেছে বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের এতিমখানা নির্মানে। এই অংশ নিয়ে কোনো মামলা নাই, অভিযোগ নাই তা দুদক পরিস্কারভাবেই বলছে। তার মানে এটা পরিস্কার যে, পুরো অনুদানের টাকা কোনো সরকারী অর্থ ছিল না। যদি সেটা থাকতো, তাহলে বাগেরহাট নিয়েও মামলা হতো। তা কিন্তু হয়নি। আর বগুড়ার অংশের টাকা এখনও ব্যাংকে পড়ে আছে, ২ কোটি টাকায় ৬ কোটি টাকা হয়ে। কাজেই এই  মামলার কোনো উপাদান নাই। নিশ্চিতভাবেই এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাওয়ার কথা ছিল। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সাথে খালেদা জিয়ার কোনো ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নাই। কোথাও কোনো সই সাক্ষর কিছু নাই। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জনসভায় এবং সাংবাদিক সম্মেলন করে বহু আগে থেকে বিরামহীন ভাবে বলে যাচ্ছেন- এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন খালেদা জিয়া! তাঁর মন্ত্রীরা রায়ের আগেই বলে দেয়- খালেদা জিয়ার জেল হবে। দুদকের কৌসুলি মোশারফ কাজল দাবী করেছেন – খালেদা জিয়ার যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিতে হবে! এতে প্রতীয়মান হয় যে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের কারাদন্ডের শাস্তির রায়টি ছিল সম্পুর্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাদন্ড দেয়ার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সরকার চিৎকার চেঁচামেচি করে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছে, অথচ তাঁদের দলীয় মন্ত্রী মায়া ১৩ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে এখনও মন্ত্রিত্ব করে যাচ্ছেন!

যুবসমাজের হাতে সর্বনাশা ইয়াবা তুলে দিয়ে এখনও দাঁত কেলিয়ে হেসে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সমুদ্রের জলে পা ভিজিয়ে নিজের সগৌরবে অস্তিত্বের জানান দিচ্ছেন আওয়ামী ভোটহীন সাংসদ বদি।  আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বদির এলাকায় গিয়ে ঘোষণা দেন- “এই অঞ্চলে বদির কোন বিকল্প নেই। কথা সত্য, আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ কাদের সাহেব বুঝতে পেরেছেন- ইয়াবা নেশায় আক্রান্ত যুবকদের কাছে এমপি বদি কতটা জনপ্রিয়। ভোটের রাজনীতিতে সেইসব তরুন যুবাদের ভোট হারানো চলবে না।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে তেত্রিশ লক্ষ লোক পথে বসেছে, সব হারিয়ে কেউ কেউ জীবনের সব স্বপ্নকে জলাঞ্জলী দিয়ে বেছে নিয়েছে আত্মহননের পথ। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারীর তদন্ত হয়েছে কিন্তু স্বয়ং অর্থমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেছেন তিনি এই কেলেঙ্কারীর খলনায়কদের নাম প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অন্যদিকে শেয়ার কেলেঙ্কারীর মূল হোতা ‘দরবেশ’ সালমান শেখ হাসিনার শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা, আরেক শেয়ার লুটেরা লোটাস কামালকে বানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। পদ্মাসেতুর দুর্নীতির সাথে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমান শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদেরকে ‘ফটকা কারবারী’ বলে এখনও বহাল তবিয়তে!
প্রয়াত রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৭০ লাখ টাকার বস্তার ‘কালো বিড়াল’ যেন তাঁর মৃত্যুর সাথে সাথে আপনা আপনি সাদা হয়ে গেছে।
কমিশন খাওয়ার বিনিময়ে মন্দ ঋণ প্রদান করে ফারমার্স ব্যাংকে ধস নামিয়ে এখনও ভিআইপির বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চ বানিয়ে সরকারী প্রশাসনে যে দুষ্ট ক্ষতের সৃষ্টি করেছেন এই ম খা আলমগীর তাঁর ঘা থেকে এখন কেবল দুর্গন্ধই ছড়াচ্ছে। আমরা সরকারী কর্মকর্তার পরিবর্তে এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাচ্ছি জনতা মঞ্চের গায়েন টাইপের কিছু আজ্ঞাবাহককে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা হয়ে আলমগীর সাহেব ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি কালা মাগুর‌খ্যাত সিদ্দিকী নাজমুলকে বগলদাবা করে ফারমারস ব্যাংক করেছেন। অবশ্য মখা সাহেবের আপন ভাগিনা আওয়ামী ঐতিহাসিক মুনতাছির মামুনও ফার্মাস ব্যাংক হজম করার প্রকৃয়ায় যুক্ত থেকে ইতিহাসে ঠাই করে নিয়েছেন। মখা আলমগীর বা মুনতাছির সাহেব ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার মত মূলধন কোথায় পেলেন, সেই প্রশ্ন বা বিচার কি কেউ করেছে?
খালেদা জিয়ার ২ কোটি টাকার বানোয়াট মামলার বিচার হল, একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর সন্তান ছাত্রলীগ নেতা সিদ্দিকী নাজমুল আলম কী করে একটি ব্যাংকের উদ্যোক্তা হওয়ার মতো অর্থের মালিক হলেন, বা মহীউদ্দীন খান আলমগীরগংয়ের এত অর্থের উৎস কি- এই ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন বা বিচার চাওয়ার মত কোনো আইন আছে কি?

খালেদা জিয়ার ২ কোটি টাকার বিচার হল, কিন্তু রাখাল বালক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়ে উঠা ড. আতিউর রহমানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮০০ কোটি টাকা রিজার্ভ চুরির বিচারের ক্ষেত্রে কি কোন আইন নেই?

শেখ হাসিনার নিয়োগ করা জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল বারাকাত একাই ৫৩০০ কোটি টাকা হাপিস করে জনতা ব্যাংকটি রুগ্ন করে ফেলেছেন এমন বয়ান দিয়েছে- রাবিশ মন্ত্রী খ্যাত আবুল মাল! অবশ্য বারাকাত সাহেব নিজে সতীত্ব বিসর্জন দিলেও অন্য সব দূরাচারদের অপকর্মের কথা ফাঁস করে দিয়েছেন- ব্যাংকিং খাত ভয়াববহ বিপর্যয়ে আছে- ঠিকমত হিসাব করলে দেশের অর্ধেক সংখ্যক ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে!!! এ এক ভয়াবহ  দুর্যোগের পূর্বভাস। অথচ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এখনও দেখা যায় বারাকাত সহ ব্যাংক লুটেরা সাহেবদের হাস্যজ্বল সরব উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখে জাতির প্রশ্ন- এই বাংক লুটেরাদের বিচার করার মত কি কোন আইন দেশে নেই!

সাম্প্রাতিক ঘটা বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকের ৭ বা ৮ হাজার কোটি টাকার বিচার নিয়ে চলছে টালবাহানা, নাম কা ওয়াস্তে তদন্ত হচ্ছে ধীরগতিতে, তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন অতীব মোলায়েম সুরে। শেয়ারবাজারের ১ লক্ষ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিচার কেন হচ্ছেনা? এছাড়াও ডেস্টিনি, হলমার্ক সহ বহু আর্থিক কেলেংকারির বিচারের কোন খোঁজ নেই কিন্তু খালেদা জিয়াকে পলিটেক্যালি মডারেটেড বিচারের মাধ্যমে সাজা দেয়াটা খুবই জরুরী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রশ্নগুলো আজ জনমনে উত্থাপিত হবার মুল কারন হলো, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার গতিধারা, মোটিভ, কাটা ছেঁড়া ও ঘষামাজা দলিল দস্তাবেজ, এবং অর্থ আত্মসাতের মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে (সেই ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা সুদে মুলে বর্তমানে ৬ কোটি টাকার অধিক হয়েছে এবং তা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে) বিচারকার্য পরিচালনার কারনে।

এবার লক্ষ্য করা যাক বর্তমান সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্থ লুটপাট ও কেলেংকারি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলাগুলোর দিকে যা বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোয়াশ করা হয়েছেঃ
১) ২০১০-১১ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লুট করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো হয়েছে। এসব লুটপাটকারীদের বিচার তো হয়নি বরং কাউকে কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
২) বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করে বাচ্চু শেখ! সেই বিচারের নামে চলছে টাল বাহানা এবং বিনম্র অনুসন্ধান নাটক।
৩) সরকারী দলের স্তাবক আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা সরিয়েছে- অর্থমন্ত্রীর স্বীকারেক্তি।
৪) হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মোদাচ্ছের ৪০০০ কোটি টাকা লুট করার পরে অর্থমন্ত্রী বলেন- এটা এমন কোনো টাকাই না!
৫) ফার্মার্স ব্যাংক খেয়ে ফেলেছে মখা আলমগীর এবং মুনতাসির মামুনরা, যার মধ্যে পাবলিকের টাকা তো আছেই সেই সাথে রাষ্ট্রীয় জলবায়ু খাতের ৫০৮ কোটি টাকাও!
৬) ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, সর্বস্ব হারানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আজ পথের ভিখেরি। ৭) বিসমিল্লাহ গ্রুপের জালিয়াতির মাধ্যমে ১২০০ কোটি টাকা লোপাটের সাথে সরকারী দলের লোকেরা জড়িত!
৮) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরির সাথে জড়িত খোদ সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজন,তাই দু’বছরেও কোনো মামলা হয়নি।
৯) অর্থনৈতিক লুটপাট বর্তমান সরকারের আমলে এমন মহামারী আকার ধারন করেছে যে সরকারী দলের অর্থনীতিবিদের ভাষ্য অনুযায়ীই দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। এসকল দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীরা যে কারনে কোনো একটি ঘটনার বিচার আজও হয়নি। ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রীয় খাতে দেশী বিভিন্ন প্রকল্পের মুল্য পাঁচ-দশগুণ বাড়িয়ে অর্থ লুটপাট করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক প্রাক্কলন বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে টাকা বিদেশের ব্যাংকে পাচার করা হচ্ছে দেদারসে। সেইসব দুর্নীতির তথ্য সমুহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও তাঁর কোনটারই বিচার আজ অবধি হয়নি।
সেই তথ্যউপাত্ত থেকে সাপ্তাহিক ঢাকার পাঠকদের জন্য কিছু চিত্র নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
ক) দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার প্রাক্কালন ব্যয় ধরা হলেও বর্তমানে তা কয়েক দফায় বেড়ে দাড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাক্কালন খরচের চেয়ে নির্মান খরচ বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।
খ) ভারত ও চীনে যেখানে মহাসড়ক নির্মানে খরচ কিলোমিটার প্রতি সাড়ে ১০ কোটি টাকা, ইউরোপে সর্বোচ্চে ২৯ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ছয়টি প্রকল্পের কিলোমিটার প্রতি খরচ করছে ৫৪ কোটি টাকা। এই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় কিলোমিটার প্রতি গিয়ে ঠেকেছে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। তার মানে আমাদের দেশের নির্মান ব্যয় ইউরোপের খরচের ৫ গুণ বেশী।
গ) বিএনপির রেখে যাওয়া ৭৮৮ কোটি টাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারটি আ’লীগ নির্মাণে শেষ করেছে ২৪০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কিলোমিটার প্রতি ব্যয় প্রায় ২১১ কোটি টাকা, যা সারা বিশ্বে সবচেয়ে ব্যয়বহুল!
ঘ) বৃটেনের ভুয়া কোম্পানী ডিপি রেলকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানের কাজ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকাই চুরি হবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঙ) যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ হাজার কোটি টাকায় করা সম্ভব, তা করা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকায়।
চ) পত্র পত্রিকা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র তথা প্রযুক্তি উপদেষ্টার ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের খবর বের হয়েছে, যেখানে কেবল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী খাতের দুর্নীতির পরিমান ৭৬,০০০ কোটি টাকা। ভিওআইপি খাত থেকে ৯৫০০ কোটি টাকার লুটপাটের খবর এসেছে বিভিন্ন গনমাধ্যমে আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া থেকে সরকারেরর মন্ত্রী, নেতারা কমিশন নিয়েছে ৫৩০০ কোটি টাকা। আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ২৩৮০ কোটি টাকা। এটুআই প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতি হয়েছে ১১,৫৬০ কোটি টাকা।
ছ) পদ্মা সেতুর খরচ তিন গুণ বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না।
জ) এভাবে বড় বড় প্রকল্পের খরচ ৩ থেকে১০ গুণ বাড়িয়ে সাধারন জনগণকে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে। জিএফআই’র প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১৩ সালে পাচারের পরিমান ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে পাচার হয় ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব দুর্নীতি লুটপাটের কোনো মামলা নাই, বিচার হয় না।

২০০৮ সালের নির্বাচন অবধি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছিলো। এর মধ্যে ১৩ টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৮৮ টাকার দুর্নীতি/অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়।
এ ছাড়া একটি ছিল খুনের মামলা, আরেকটি সেনানিবাসে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগের মামলা। এর মধ্যে ৪টি মামলায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৫টি মামলার ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে বাতিল করা হয় ৯টি মামলা।
২০১০ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু করে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র তিন মাসেই ৯টি দুর্নীতি মামলা বাতিল করে হাইকোটের দুটি বেঞ্চ। ঐ দুটি বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন মো. শামসুল হুদা, আবু বকর সিদ্দিকী, এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বোরহান উদ্দিন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে সমস্ত দূর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তার মধ্যে একটি হলো নাইকো দুর্নীতি মামলা,যাতে শেখ হাসিনার নামে ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি/দুর্নীতির অভিযোগের মামলা তুলে নেয় হয়, অথচ একই অভিযোগে খালেদা জিয়ার নামে একটি মামলা এখন বিচারাধীন!
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এবং ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর প্রত্যাহারকৃত মামলাগুলো ছিল নিম্নরূপঃ
১. বেপজায় পরামর্শক নিয়োগে ২ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৮৮ টাকার দুর্নীতি মামলাটি ২০০২ সালের ২ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। পরে ৩০ মে ২০১০ মামলাটি বাতিল করে শেখ হাসিনার সরকার।
২. কোরিয়ান পুরাতন ফ্রিগেট ক্রয় করে ৪৪৭কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ১৮ মে ২০১০ এ বাতিল করা হয়।
৩. মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবৈধভাবে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ আবুল হোসেন সহ অন্যান্যদের নামে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২২ এপ্রিল ২০১০ শেখ হাসিনার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বাতিল করা হয়।
৪. খুলনায় ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের অনুমতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার মামলাটি ১৩ এপ্রিল ২০১০ বাতিল করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক।
৫. সামিট গ্রুপের আজিজ মোহাম্মদ খান ৮টি চেক/পে অর্ডারের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ৩ কোটি টাকা প্রদান করে, যার দ্বারা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের জন্য দোতলা বাড়ি সহ ১৯.১১ কাঠা জমি কেনা হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠনের পরে বিশেষ জজ আদালতে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশে নির্বাচনের আবহ সৃষ্টি হলে মামলার গতি শ্লথ হয়ে যায়।
৬. ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ৯ মার্চ ২০১০ বাতিল করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। ২০ আগষ্ট ২০০৮ শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের সময়ে নূর আলী স্বীকার করেছিলেন, এই মিগ কেনা বাবদ তিনি ১২ মিলিয়ন ডলার কমিশন লাভ করেন, যার ভাগ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই ভোগ করেন। এই মামলাটি উচ্চ আদালতের মাধ্যমে কোয়াশ করা হয়, যদিও এর আগে আপিলেট ডিভিশন এই মামলার কোয়াশমেন্ট পিটিশন নাকচ করে নিম্ন আদালতে চলার বৈধতা দেয়।
৭. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা ৪ মার্চ ২০১০ তারিখে অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহানউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এরমধ্যে একটি বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে ৫২ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা।
৮. নূর আলীর নিকট থেকে ৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি ১৩ জুন ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়। ৮ জুন ১৯৯৭ থেকে ২০ মে ১৯৯৯ তারিখের মধ্যে ১২টি চেকের মাধ্যমে নুর আলী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুস প্রদান করেন শেখ হাসিনাকে।
৯. কাজী তাজুল ইসলাম ফারুকের নিকট থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি বাতিল করা হয় ৪ জানুয়ারী ২০০৯। ১০ এপ্রিল ২০০৭ এ দায়ের করা এই মামলায় বলা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার কোম্পানীর চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়ে ৩ কোটি টাকার ঘুষ আদায় করা হয়।
পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় ৮ আগষ্ট ১৯৯৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে গিয়ে দু’টি সুটকেসে ভরে ৫০০ টাকা নোটের ৬০০ বান্ডেলে ৩ কোটি টাকা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন তাজুল ইসলাম ফারুক। ২০০৯ সালে কেবল মামলাটি বাতিল করা হয়নি, বরং বছর দুয়েক আগে তাজুল ইসলাম ফারুক রহস্যজনক গাড়িচাপায় মারা যান।
১০. টুঙ্গিপাড়ায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণে ৪১.৮৪ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাটি ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রত্যাহার করার জন্য দুদককে সরকার চিঠি দেয়।

১১. আজম জে চৌধুরীর নিকট থেকে ৮টি চেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগের এই মামলাটি শেখ হাসিনার দুর্নীতির সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমান। এই মামলাটি ১৭ মে ২০০৯ সালে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ১৩ জুন ২০০৭ তারিখে ইস্ট কোস্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজম জে চৌধুরী মামলা দায়ের করেন। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ অভিযোগ গঠন হয় এবং শেখ রেহানাকে পলাতক ঘোষণা করে তার সকল সম্পত্তি এটাচ করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর “আমাদের সময়”পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করে, “৮টি চেকে ফেঁসে যাচ্ছেন হাসিনা, রেহানা ও সেলিম: সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ১৪ বছর।” ২০০৭-২০০৮ সালে এ মামলাটির বিচার চলে বিশেষ জজ আদালতে, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলাটি রায় ঘোষনার কাছাকাছি পৌছে যায়।  এক পর্যায়ে বাদী আজম জে চৌধুরীকে চাপ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে শেখ সেলিম ১৬৪ ধারায় কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ সেলিমের অপরাধ স্বীকারের বক্তব্যটি ইউটিউবে পাওয়া যায়। http://www.youtube.com/watch?v=xlbN1b5POww

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু সরাসরি ঘুষ নেয়ার মামলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে- তাও আবার চেকের মাধ্যমে নেওয়া- এই মামলা যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সন্দেহ থেকেই যায়।
দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ২ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে?

রাজনীতিবিদদের মুখে প্রায়ই একটি কথা শোনা যায় – আইন তাঁর নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কেউই আইনের উর্ধে নয়। কথাটি শুনতে বেশ চমৎকার লাগে কেননা, এটাই সকলের প্রত্যাশা। অপরাধী যেই হোক না কেনো, সে বিচারের উর্ধে থাকতে পারেনা, চাই সেটা বেগম জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা হোক।
এক্ষেত্রে বেগম জিয়ার বিচার ও শাস্তি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ক্ল্যাসিক্যাল উদাহরন হতে পারতো, যদি এটা পলিট্যাকেলি মোটিভেটেড বিচারের মাধ্যমে না হত।
এরপরও যদি সরকার প্রধানসহ সরকারী দলের মন্ত্রী, এমপিরা ক্রমাগত চীৎকার করে বলতে থাকেন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, তখন সাধারণ জনগনের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে- “আইন তুমি কার” !!

/ ‘সাপ্তাহিক ঢাকা’য় প্রকাশিত।
theweeklydhaka

বিএনপি এখন অনেক কৌশলী ও শক্তিশালী

দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলা আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণ রেখে সরকারের পাতা ফাঁদ এড়াতে পেরেছে বিএনপি। এতে খালেদা জিয়া ও বিএনপির জনপ্রিয়তা বেড়েছে বহুগুন। পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহলেও বিএনপির প্রশংসা হচ্ছে। কারণ, বিশ্ব সম্প্রদায় সহিংসতা সমর্থন করেন না। বরং শান্তিপূর্ণ গণ-আন্দোলন ও নির্যাতিতদের পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দাঁড়ানোর ঐতিহ্য। এখন দেশের মানুষও সহিংসতা পছন্দ করেন না।

অনেকে ধারণা করেছিলেন, বেগম জিয়াকে জেলে ঢুকানো হলে বিএনপি জ্বালাও-পোড়াওসহ সহিংস কর্মসূচি দিবে। এতে সরকার সন্ত্রাস দমনের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও জামায়াতে ইসলামির মতো নির্মূলের সুযোগ পেয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে তড়িগড়ি জাতীয় নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা আরো স্থায়ী করে নিতে পারবে আওয়ামী লীগ। কিন্তু সরকারের পাতানো সেই ফাঁদে পা না দেয়ায় উল্টো এখন ক্ষমতাসীনদের মধ্যেই হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক, বিবৃতি, সমর্থন ও খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি চাপ বাড়াচ্ছেন বিশ্বনেতারা। গণতন্ত্রের স্বার্থে বিশ্ববাসীর এমন ভূমিকায় সরকারের মধ্যে অস্বস্তিও তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। আর খালেদা জিয়াকে ‘পাতানো’ মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীসহ মানুষের ঢল নামছে। এতে সরকারের সব প্রচেষ্টা আপাত দৃষ্টিতে ‘গুড়েবালি’ হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির শীর্ষনেতারা।

তাদের মতে, ইস্যু তৈরি করে নেতাকর্মীদের রাজপথের আন্দোলনে নামার সুযোগ করে দিয়ে উল্টো বেকায়দায় পড়েছে সরকার। বর্তমানে বিএনপি বেশি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। সব ভেদাভেদ ভুলে দলের কর্মসূচিগুলোতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সারা দেশে হাজার হাজার মানুষের ঢল-তারই প্রমাণ। তবে বিএনপি’র এমন মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বলছেন, সরকার কারো জন্য ফাঁদ পাতেনি, ফাঁদে পড়েওনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল। এ নির্বাচনের আগে-পরে কয়েক দফা আন্দোলনের ডাক দিয়েও সফল হয়নি বিএনপি। উল্টো নানামুখী চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। লাগাতার অবরোধ চলাকালে বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা ঘটলেও রাজধানীর রাজপথে নামতেই পারেনি দলের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে সাজা দেয়ার পর থেকে অনেকটাই বদলে গেছে দলটির আন্দোলনের দৃশ্যপট। দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে ঢাকার রাজপথে নেমে একের পর এক কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন দলের শীর্ষনেতা থেকে শুরু করে অসংখ্য কর্মীসমর্থক। রায় নিয়ে চরম অসন্তোষ থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় বিষয়টিকে ‘শাপে বর’ হিসেবেই দেখছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি সরকারের ফাঁদে পা দেয়নি
খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, যে সব কর্মীরা এতদিন নিশ্চুপ ছিল। ঘরে বসে ছিল। যে মুহূর্তে খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে তারা আবেগে মাঠে নেমেছে। তারা কর্মসূচিতে যোগদান করেছে। বিএনপি সবচেয়ে লাভবান হয়েছে।

বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে থাকায় ক্ষমতাসীনরা হতাশ হয়ে পড়েছেন বলেও মন্তব্য এই দায়িত্বশীল নেতার। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বিএনপি একটি উশৃঙ্খল দল। এমন ফাঁদ পেতেছিল সরকার। বিএনপি সেই ফাঁদে পা দেয়নি। এখন আওয়ামী লীগ হতাশ।

সেই সাথে এই আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা বিএনপি’র। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার কারাবন্দী দলের কেউ মেনে নিতে পারেনি। মাঠে ও দলে সক্রিয় সিনিয়র নেতারাসহ দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরাও। যেকোনো প্রয়োজনে কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতারা বসছেন একত্রে। পরামর্শ নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। মাঠে থেকে নেতারাই এগিয়ে নিচ্ছেন চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত সব কর্মসূচি।

সিনিয়র নেতারা বলেছেন, বিএনপি এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। ক্ষমতাসীনরা তাদের চাপে রাখতে কিংবা নেতৃত্বে ভাঙন ধরাতে দীর্ঘ দিন ধরেই নানা কৌশল প্রয়োগ করে আসছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি, এবারো হবে না।

১১ বছর ধরে নির্যাতনেও কেউ দল ছাড়েননি
তাদের মতে, মাঠের নেতাকর্মীরা ১১ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। কিন্তু কেউই দল ছেড়ে যাননি। এটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় সফলতা। দলের চেয়ারপারসনের কারাবন্দী দলের শীর্ষ থেকে তৃণমূল কেউই মেনে নিতে পারেনি। ক্ষোভের পাশাপাশি আবেগের অশ্রুও ঝরিয়েছেন নেতাকর্মীরা। কোনো কোনো মহলের প্রচারণা ছিল, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। এমনকি ভেঙেও যেতে পারে দলটি। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

কারাবন্দী হওয়ার পর গত ৯ দিনে বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলের নেতারা চমৎকার বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম চলছে খুব গোছালোভাবে। তারেক রহমানের পরামর্শে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রয়োজনানুযায়ী সব ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সিনিয়র নেতারা তাকে সহায়তা করছেন।

তারেক রহমান প্রতিটি কর্মসূচি মনিটর করছেন
দল পরিচালনার ক্ষেত্রেই নয়, সিনিয়র নেতারা প্রতিটি কর্মসূচিতেও নিজেদের উপস্থিত রাখছেন। গ্রেফতার এড়িয়ে মাঠের নেতারা যে যেভাবে পারছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। দলের এক নেতা গতকাল বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি কর্মসূচি মনিটর করছেন। এ কারণে সবাই আরো বেশি সতর্ক ও উদ্যমী।

তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে। দলের বর্তমান প্রতিকূল অবস্থায় তিনি খুব সক্রিয় ও সজাগ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। এ পর্যন্ত তিনি তিনবার দলীয় ফোরামে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তৃতা রেখেছেন। এসব বক্তৃতায় দলের ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নিয়ে সবাইকে মাঠে থাকার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, কারাবন্দী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আইনজীবীদের মাধ্যমে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন। নেতাকর্মীদের তিনি ভেঙে না পড়ে, আইন হাতে তুলে না নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নেতারা বলছেন, বিএনপি প্রধানের নির্দেশমতোই চলছে দল। সাংঘর্ষিক নয়, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেই রয়েছে তারা।

৬ হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেফতার
খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর এ পর্যন্ত সারা দেশে ছয় হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন করে মামলা হয়েছে দুই শতাধিক। প্রতিনিয়ত পুলিশি অভিযান, তল্লাশি চলছে। দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মীই বাসা-বাড়ি ছাড়া। রাজধানীতে রয়েছে পুলিশের কড়া নজরদারি। মহানগরের প্রথম সারির নেতাদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা বহাল রয়েছে। অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও রয়েছেন পুলিশের নজরদারিতে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতার এড়িয়ে সাংগঠনিক সব কর্মসূচি সফল করার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি।

প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতারা রাজপথেও সক্রিয়
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। শুধু তা-ই নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নেতারা রাজপথে সক্রিয়ও। সব প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, মামলা-হামলা, গুম-খুনের পরও একজন কর্মী দল ছেড়ে যাননি। আমাদের আন্দোলন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। তাই শেষ মুহূর্তে কেউ দল ছেড়ে যাবে বলে আমি মনে করি না। বরং যারা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন দলের এই পরিস্থিতিতে তারা আরো সক্রিয় হচ্ছেন।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, দেশের এই চরম সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে বা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত। আন্দোলন সফলে আমরা রাজপথে থাকব। সেখান থেকে জেলে গেলেও আমরা পিছু হটব না।
/শীর্ষনিউজ

খালেদা জিয়ার ইস্যুতে পিছু হটছে সরকার: নেপথ্যে বিদেশীরা

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপরসনকে মামলার জালে জড়িয়ে ফেলার স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না সরকারের। খালেদা জিয়াকে আরও তিনটি বানোয়াট মামলায় “শ্যোন এরেস্ট” দেখানোর তিন দিনের মধ্যে সে আদেশ গোপনে প্রত্যাহার করতে হলো। প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানালেন ‘খালেদা জিয়াকে শ্যোন এরেস্ট’ হচ্ছে না’, পরে গতকাল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারো একই কথা প্রকাশ করলেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অবৈধ সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আর কোনো মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয় নি। কোনো মামলা শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে না।’  যদিও গত ১৩ ফেব্রুয়ারী কারা-মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘খালেদা জিয়াকে কুমিল্লা এবং ঢাকার তেজগাঁও ও শাহবাগ থানার তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাদেরকে তথ্য প্রমানাদি দিয়ে বোঝানো হয়েছে, অরফানেজ মামলাটি বানোয়াট। তাছাড়া খালেদা জিয়াকে কারাগারে ডিভিশন দেয়া নিয়ে সরকারের টালবাহানায় কূটনীতিকরা যারপরনাই বিরক্ত। তারা এ নিয়ে ব্যাপক খোঁজ খবর নিয়েছে। এমনকি অনেক দূতাবাস জেলকোড সংগ্রহ করে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে ডিভিশন না দেয়ার কারন কি।

জানা গেছে, সরকারের পরিকল্পনায় ছিল খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার সাথে সাথেই হরতাল অবরোধ কর্মসূচি দিবে বিএনপি। আর তখনি সরকারী দলের বোমাবাজরা মাঠে নেমে যাবে, বার্ন ইউনিটগুলো সচল হবে, টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হবে শেখ হাসিনার চোখ মুঝতে থাকা ছবি! বিদেশীদের বলা হতো, দেখুন বিএনপি কতবড় সন্ত্রাসী দল- আদালত মানে না- মানুষ পুড়িয়ে মারে। কিন্তু সরকারের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। সূত্র জানাচ্ছে, বেগম জিয়ার কারাবন্দী হওয়ার সাথে সাথে তাঁর একজন বিশেষ সহকারী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সরকারের হিসাব কিতাবে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। সরকার আগের মত তথ্যও পাচ্ছে না, সরকারের পছন্দমত কর্মকান্ডও করানো না বিএনপিকে দিয়ে। ফলে অনেকটা বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলতে বাধ্য হন, বিএনপি আন্দোলন করতে অক্ষম।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আদালতে প্রমান না হওয়ার পরেও কালা মানিকের বুদ্ধিতে যে আগ্রহ উদ্দীপনা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানো হলো, তা এখন ক্রমশ সরকারের জন্য গলার কাটা হয়ে উঠেছে।  বাইরে থেকে লেখা গোজামিলের রায়ের সার্টিফাইড কপি বিএনপির হাতে তুলে দেয়া হলে মামলার জাল জালিয়াতি এবং  যুক্তিহীন রায় প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই কপি দিতে বিলম্ব করে রায় সংশোধনের মত গর্হিত কাজ করছে ! আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে-

প্রথমত, রায়টি দেশের মানুষ এবং বিদেশীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়নি। সবার একটাই প্রশ্ন, ২ কোটি টাকার মামলায় ৬ কোটি টাকা ব্যাংকে থাকার পরে আত্মসাত হলো কি করে।

দ্বিতীয়ত, জেলে নেয়ার পরে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হলো না কেনো? জেলকোডে পরিস্কার লেখা থাকার পরে সরকারের এহেন আচরন বিদ্বেষপ্রসূত অন্যায় আচরন হিসাবে দেখছে মানুষ।

তৃতীয়ত, যে পেন্ডিং মামলায় খালেদা জিয়াকে আগে গ্রেফতার করা হয়নি, অথচ জেলে যাওয়ার পরে ‘শ্যোন এরেস্ট’  দেখানোর ঘোষণা জনগনের কাছে মনে হয়েছে,  খালেদা জিয়াকে যেনো তেনো ভাবে আটকে রাখতে চেষ্টা করছে সরকার।

মামলার এসব খুটিনাটি এখন বিদেশীদের নখদর্পনে। তাদের থেকে বিভিন্নভাবে সরকারের উপরে চাপ দেয়া হয়েছে- খালেদা জিয়াকে নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার। এমনও কথা বলা হয়েছে, এরপর বিএনপি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তাদের কিছু বলার মত মুখ থাকবে না। সর্বশেষে খালেদা জিয়ার বিষয়ে জাতিসংঘ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিদেশীদের চাপে পিছু হটছে সরকার।

“খালেদা জিয়াকে অচিরেই জামিনে বেরিয়ে আসবেন। এ ঘটনা সরকারের জন্যও উভয় সংকটে পরিণত হবে”

নির্বাচনের বছরে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় দেশের রাজনীতিতে নতুন হিসাব যোগ হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া মুক্ত হলে ওই হিসাব হবে একরকম। আবার শেষ পর্যন্ত জামিনে তাঁর মুক্তি না ঘটলে পরিস্থিতি ভিন্ন রকম হতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুক্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে দরকষাকষি এবং নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়াসহ সব ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিএনপির জন্য খুব সহজ হবে। একইভাবে তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রতিটি ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ দলটির জন্য অত্যন্ত কঠিন।

আইনি মারপ্যাঁচে খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখা গেলে নির্বাচনী বৈতরণী সরকার অতি সহজে পার হতে পারবে—এমন ধারণা করছেনে কেউ কেউ। অনেকের মতে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে নির্বাচনী মাঠ থাকবে সরকারি দলের নিয়ন্ত্রণে। আর ওই ঘটনার প্রভাব অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যেও পড়বে। তারা তখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে না থেকে সরকারের দিকেই ঝুঁকবে, অর্থাৎ নির্বাচনে যাবে। কারণ খালেদা জিয়া নির্বাচনের মাঠে না থাকলে ওই সব দলের মধ্যে এক ধরনের আস্থার সংকট দেখা দেবে। তাদের কাছে তখন চাপ ও প্রলোভন আসবে। এমন পরিস্থিতিতে ৫ জানুয়ারির তুলনায় বেশিসংখ্যক দলের নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এর ফলে বিএনপির নির্বাচন বর্জনও তখন কার্যকর ফল বয়ে আনবে না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী মনে করেন, খালেদা জিয়ার কারাগারে থাকা-না থাকার বিষয়ে কিছু হিসাব-নিকাশ থাকলেও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যেতে পারে। কারণ না গেলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলে রাজনীতির মাঠের খেলা একতরফা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ সব সময় প্রতিবাদী। সব সময় তারা নরম বা শান্ত থাকে না। মানুষের বিদ্রোহ অন্য জিনিস। ভোটের মধ্যেও বিদ্রোহ থাকতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি।’

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের মতে, খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় কিছু হিসাব-নিকাশ সামনে এলেও চূড়ান্তভাবে কী ঘটবে তা বলার সময় এখনো আসেনি। তবে এটুকু বলা যায়, তাঁকে আটকে রাখা হলে নির্বাচনপূর্ব রাজনীতিতে এ ঘটনা ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে সরকার ভয় পাচ্ছে। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনকে আটকে রেখে তারা নির্বাচন করে ফেলতে চায়। কিন্তু এতে খুব ভালো ফল সরকার পাবে বলে মনে হয় না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে জোর করে আটকে রাখা হলে নির্বাচন হওয়ার সুযোগ কম। তখন পরিস্থিতি অন্যদিকে টার্ন নেবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। তিনি জামিনে বেরিয়ে আসবেন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে যেসব সমীকরণ মেলানো হচ্ছে তা সফল হওয়ার নয়। তাঁর মতে, বড়জোর আর এক সপ্তাহ জামিন নিয়ে হয়রানি করা হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রাখা হলে নির্বাচনে বিএনপির আসন বেড়ে যাবে। এটি দেশের হাওয়া দেখে সরকার বুঝতে পেরেছে। ফলে সরকার তাঁকে আর আটকে রাখবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রাখা দুরূহ হবে। পাশাপাশি এ ঘটনা সরকারের জন্যও উভয় সংকটে পরিণত হবে। তাঁর মতে, জোর করে আটকে রাখতে চাইলে সে ক্ষেত্রে সরকারকে অযৌক্তিক পন্থা অবলম্বন করতে হবে এবং চক্ষুলজ্জা বিসর্জন দিতে হবে। আবার এর প্রতিক্রিয়া জনমনে ব্যাপকভাবে পড়বে। জনগণ আরো বেশি ক্ষুব্ধ হবে। সে ধরনের ঝুঁকি সরকার নেবে বলে মনে হয় না। খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার মতো নিয়ন্ত্রণ এবং কর্তৃত্বই যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেক্ষেত্রে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার সরকারের জন্য কঠিন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটি সরকার পারবে। ওই পরিস্থিতিতে একটি রাবার স্ট্যাম্প পদ্ধতির নির্বাচন করে তারা আবার ক্ষামতায় আসতে পারবে। কিন্তু এর পরিণতি শুভ হবে না।’

 

 

 

 

প্রস্তাব নিয়ে গোয়েন্দা প্রধান জেলখানায়: হাসিনাকে নাজিমুদ্দিন রোডের দাওয়াত দিলেন খালেদা জিয়া!

গভীর রাতে ডিজিএফআই প্রধান দেখা করলেন কারাবন্দী বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার সাথে। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তাব দিলেন। শুনেই বেগম জিয়া বিরক্ত হয়ে বললেন, “এসব গার্বেজ নিয়ে আবার এসেছ কেনো? আগেই তো বলে দিয়েছি, ওভাবে নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।”

তিনি আরও বললেন, “আমার এখনে আসার চেয়ে তোমরা হাসিনার কাছে যাও, তাকে বোঝাও- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ইলেকশন ছাড়া তার আর উপায় নাই। যতই জেল জুলুম দিয়ে চেষ্টা করুক, ক্ষমতায় সে থাকতে পারছে না। আমি কি এখানে না বুঝে আসছি? হাসিনাকে বলিও, “এখানে আসার জন্য তৈরী হতে। তবে তাকে আরো ভালো রাখা হবে।”

অবৈধ ক্ষমতার মদমত্তে হাসিনার জিঘাংসার চরম রূপ দেখছে জনগন: পোড়ো বাড়িতে ভৌতিক পরিবেশে সলিটারি কনফাইনমেন্টে খালেদা জিয়া!

আজ ৭ দিন পার হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত রাজনৈতিক নেত্রী এবং রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান হকদার বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে আড়াই’শ বছরের পুরাতন পরিত্যক্ত কারাগারের একটি ভবনে বন্দী করে রেখেছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা। ঘটনার দিন থেকে দেশের সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে- খালেদা জিয়া কবে কিভাবে কারাগার থেকে বের হবেন। সচেতন লোকজন তখন ধরে নিয়েছিল, উচ্চ আদালতে জামিনের দরখাস্ত করলেই স্বাভাবিক নিয়মেই বেরিয়ে আসতে পারবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও কারাগার থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, এখন অবধি জামিনের দরখাস্তই করা যায়নি। কারন, মামলার রায়ের কপি দেয়া হচ্ছে না। তথাকথিত রায় পরীক্ষা নীরিক্ষা ও বেআইনী সংশোধনের নামে অনুলিপি দেয়া হচ্ছে না। মিডিয়াতে খবর- রায়ে ভুলভ্রান্তি মেরামতের কাজ চলছে! যেখানে ৬৩২ পাতা রায় ১০/১২ দিনেই লেখা হয়ে গেছে, এখন সেখানে কেবল কপি করতে ১০দিনেও পারছে না। অথচ আইনে বলা আছে, বিচারক পূর্নাঙ্গ রায় লিখে আদালতে ঘোষণা করতে হবে, এবং সই করতে হবে। রায় ঘোষণার পরে কোনোভাবেই পরে তা বদলানো যাবে না। জানা গেছে, রায়ের ভেতরে এত বেশি জাল জালিয়াতি মিথ্যাচার ও কুতর্ক রয়েছে যে, কপি দেয়া হলে তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা এগুলো মেরামতের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আসলে যা কিছু হচ্ছে, কোনো আদালত বা বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত খায়েশ পুরণ। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মতে, নির্বাচন হাসিল এবং ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। শেখ হাসিনা ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী (প্রায় ৮০ভাগ জনসমর্থন যার), ৫টি জাতীয় নির্বাচনে কোথাও না হেরে সর্বোচ্চ ২৩টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যিনি, সেই বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে খালেদা জিয়াকে বড় ভয় শেখ হাসিনার। কারন দেশে এখনি নির্বাচন হলে বেগম জিয়া বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা শেখ হাসিনাও জানেন। তাই শেখ হাসিনা দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দিচ্ছে না। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বিনাভোটের একটি নির্বাচনের উপরে ভর করে ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে আছেন তিনি। তার ক্ষমতার মূল শক্তি কিছু পুলিশ, র‌্যাব, ও দলীয় গুন্ডা। এই নিজস্ব বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের লোকদেরকে অপরহন গুম খুন কারান্তরীণ করে চলছে হরদম, প্রতিবাদীদের টুটি চেপে ধরেছে। এতকাল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপরে মামলা হামলার নির্যাতন করা হলেও ১০ বছরের চেষ্টার পরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করেন শেখ হাসিনা।

সুস্থ রাজনীতির ধারক বাহক বেগম জিয়া সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন কানুন মেনে চলেন। প্রতিহিংসা নয়, সমঝোতার রাজনীতি করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা অবরোধ হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে এমনকি নিজে আগুণ দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে, অন্যরা গান-পাউডার দিয়ে দোতলা বাস জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা করে সমাজে বিভীষিকা তৈরী করে নিজের চাহিদা ‍পুরণ করেছেন। বার বার বিপথগামী সেনাদের ব্যবহার করে ক্যু ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির উপর ভর করে ক্ষমতায় আরোহন করেন। আবার অন্যের ডাকা হরতালে বোমাবাজি ও আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে বিপক্ষ দলকে দায়ী করতে শেখ হাসিনার জুড়ি মেলা ভার। এসব ক্ষেত্রে তার কাজ ম্যাকিয়াভেলি চানক্যকে হার মানায়। তিনি যা করেন, তা রীতিমত শিল্প। গত এক দশক শেখ হাসিনা এভাবেই ক্ষমতা দখলে রাখার পরে এবারে যখন তা হারানোর উপক্রম হয়েছেন, তখনই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে ছলে বলে কলে কৌশলে অনুগত আদালত ব্যবহার করে কারাবন্দী করেছেন। এর আগে দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পর পর জোর জবরদস্তিমূলক অপসারন করে বিচারকদের দন্ডমুন্ডের কতৃত্ব হাতে নিয়েছেন হাসিনা, তারপরে এক জুনিয়ার জজকে দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই বানোয়াট রায় ঘোষণা করেছেন। ঠিক যেনো সিনেমার গল্প। মসনদের প্রধান দাবীদারকে গারদে পুরে নিত্য অত্যাচার করে মনের ঝাল মেটানোর কাহিনী! অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা হলো, যে কোনো কৌশলে তাঁকে আটকে রাখতেই হবে। আজ বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও সেই তাগুদি রায়ের কপি দেয়া হয়নি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়, যাতে করে অন্তত আরও তিন দিন জামিনের দরখাস্ত না করতে পারেন খালেদা জিয়া। হয়ত এর অন্তরালে রয়েছে আরও কোনো কুবুদ্ধি। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি- এই রায় ঘিরে সরকারের গভীর নীলনকশা রয়েছে। এখন দেখছি সার্টিফাইড কপি দিতে বিলম্ভ করা হচ্ছে। এসবের একটিই উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।’ এ বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন,‘খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতেই রায়ের সার্টিফাইড কপি দিতে দেরি করা হচ্ছে। বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে গভীর একটি চক্রান্ত কাজ করছে।’

দু’দিন আগে বিনাভোটের পার্লামেন্টে শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিম প্রচন্ড দম্ভের সাথে ঘোষণা দেন, “খালেদা জিয়াকে ডিভিশন জেলে নয়, রাখা হবে ফাঁসির আসামীদের কনডেম সেলে!” যদিও ৭দিন সাধারন বন্দী হিসাবে রাখার পরে জেল কতৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে এখন প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁকে বন্দী রাখা হয়েছে জনমানবহীন বিশাল এলাকায় এক নির্জন এলাকায় পরিত্যাক্ত এক বাড়িতে। হরর সিনেমার পোড়োবাড়িতে নির্জন পরিবেশে বিশাল এলাকায় দিনের বেলায় কাকের কা কা শব্দ, আর রাত হলেই নামে নির্মম নির্জনতা। এটা কারাগার নয়, সলিটারি কনফাইনমেন্ট। দু’শ বছরের বেশি বয়সী পরিত্যক্ত এ জেলখানায় আর কোনো বন্দী নেই। কেবল খালেদা জিয়া! তাছাড়া ২০০৬ সালের জুলাই মাস থেকে এটি আর কোনো জেলখানা নয়, বরং পরিত্যক্ত ভবন, যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। খালেদা জিয়াকে যেখানে বন্দী রাখা হয়েছে, সেটি আর এখন কোনো সরকারী জেলখানা নয়, বরং অঘোষিত বন্দিশালা। সরকারী প্রজ্ঞাপণ দিয়ে এটি সাবজেল ঘোষণা করা হয়নি এখনও। যার অর্থ দাড়ায়- এ কারাবাস অবৈধ! অবৈধ সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতেই পরিত্যাক্ত বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে ৭৩ বছর বয়েসী নারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে, যিনি নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। দু’টি হাটু বদলানো, তীব্র ব্যথায় হাটতে পারেন না, বিশেষ ধরনের সেবাযত্নের দরকার হয়, যার কোনো ব্যবস্থা নাই সেখানে। ঐ ভবনের আশে পাশেই রয়েছে শত শত বছরের ফাঁসির কাষ্ঠ, যেখানে মৃত্যু ঘটেছে শত শত মানুষের, যা ভৌতিক অবস্থাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ১৭ একর জমির উপর নির্মিত ছোট বড় লাল লাল পুরোনো বিল্ডিং, চারিদিকে উঁচু প্রাচীর দেয়া, যেখানে বাস করে নির্জনতা আর ভুত প্রেত! নির্জন নির্বাসনে গা ছম ছম করা পরিবেশ। বিশাল মহিলা ওয়ার্ডজুড়ে ভয়াবহ মশার উৎপাত, নিয়ন্ত্রনের কোনো উপায় নাই। এটা নাকি ডিভিশন জেল! ডিভিশন দেয়ার মত কোনো ব্যবস্থা ওখানে নাই। শেখ হাসিনা ইচ্ছা করেই তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে কেবল জেলের কষ্ট দিয়ে নয়, মানসিক টর্চার করে নিজের মনের ঝাল মিটাচ্ছেন।

নাজিমুদ্দিন রোডের এই অঘোষিত অবৈধ জেলখানায় বন্দী রাখা হয়েছে বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে- কারাগারের নামে সেখানে চলছে ভয়াবহ মানসিক চর্চার। শ্রেনীপ্রাপ্ত জেলখানার কোনো সুযোগ সুবিধা নেই সেখানে। তারপরও ‘বিশেষ বন্দী’ নাম দিয়ে অবৈধ সরকার এই প্রহসন চালিয়ে হচ্ছে। জনমানবশুন্য এই বিশাল পোড়োবাড়িতে বন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ধারে কাছে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। খাবার দাবার দিতে সেখানে কেউ গেলেও তাদের কথা বলা নিষেধ। এ এক ভয়াবহ নির্যাতন, প্রায় কনডেম সেলে থাকার মতো। জেলখানায় সাধারন বন্দীরাও এর চেয়ে মানবিক পরিবেশে থাকে। ৭০ বছর বয়স্ক এই সিনিয়র সিটিজেন নারীর প্রতি যে সহিংসতা চলছে, তার অতীত নজীর খুঁজে পাওয়া দুস্কর। জেলখানার পরিবেশ সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে রাখা হয়েছে। যেখানে কোনও মানুষ নেই, অন্য আসামিও নেই। যেভাবে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের নির্জন কারাবাসে রাখা হয়, সেভাবেই তাকে রাখা হয়েছে।

এর আগে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেই ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাভারের জমি ও দোকানপাট আ’লীগের দলীয় লোকজন দিয়ে দখল করে নেন। ঐকাজেও ব্যবহার করা হয় একটি কনিষ্ঠ জজ আদালতের গোপন ত্রুটিপূর্ন মতলবি রায়। বৃহস্পতিবার নাকি কে বা কাহারা রায় পেয়েছে, শুক্রবার ছুটির ফাঁদে ফেলে শত শত পুলিশ দিয়ে ভাঙচুর করে খালেদা জিয়ার জমি বুঝিয়ে দেয়া হয় এক আওয়ামীলীগ নেতাকে। এর দু’মাস পরে আবার আদালতের রায়ের কথা বলে খালেদা জিয়াকে টেনে হেঁচড়ে জোর করে বের করে দেয়া হয় দীর্ঘ ৩৮ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের নিজস্ব বাড়ি থেকে, যদিও সে মামলার আপিল বিচারাধীন ছিল। তখন বেগম জিয়াকে তার আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে হয়নি। আইনজীবীরা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে চাইলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। খুব দ্রুতই খালেদা জিয়ার বাড়ি মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়া হয় হাসিনার নির্দেশে। এভাবে আদালতের ঘাড়ে পা রেখে বলপ্রয়োগ করে বাড়ি ঘর জমি জিরাত থেকে উৎখাত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম জিয়াকে অবশেষে পরিত্যক্ত পোড়োবাড়িতে বন্দী করে রেখে শেখ হাসিনা তাঁর জিঘাংসা প্রতিহিংসার উৎকট রূপ প্রকাশ করছেন। তবে হাসিনার এই জুলম ও অবিচার কর্মকান্ড দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি, বরং উল্টো খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। এমনকি আওয়ামীলীগের বহু লোকেরা মনে করছে, হাসিনা সমাজে প্রতিহিংসা ছড়াচ্ছেন।

তবে, আপাতত খালেদা জিয়ার রায়ের আপিলের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ ও সহানুভুতি এমন ভাবে বাড়ছে যে, এটা এখন কোনো ব্যক্তির মামলা বা আপীল নয়, বরং কোটি কোটি জনতার প্রতিকার চাওয়া। অবৈধ সরকারের নিয়ম বহির্ভুত অন্যায় কার্যকলাপে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গেলে আর রক্ষা পাবে না আর কেহ।

/ফেসবুক থেকে

« Older Entries