Category Archives: জাতীয়

কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ!

।। শামসুল আলম।।
 
গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার সাথে কারাগারে দেখা করেছেন তাঁর পাঁচ স্বজন। গত সপ্তাহে পহেলা বৈশাখের দিন ইনারা দেখা করতে গেলেও ম্যাডামের অসুস্খতার কারনে তারা দেখা করতে পারেননি। কারন ম্যাডাম দোতলা থেকে নেমে এসে ভিজিটর্স রুমে আসার মত অবস্খা নাই। উনার দু’হাটুর ব্যথা প্রচন্ড রকম বেড়েছে। এক ধাপ পা দেয়ার মত অবস্থা নাই। গতকালও অমন দশাই হয়েছিল। বিশেষ ব্যবস্খায় দেখা করেছেন।
 
আজ থেকে ২০ বছর আগে সৌদি আরবের কিং ফয়সল হাসপাতালে উনার এক পায়ে Knee replacement করা হয়, এর তিন বছর পরে আরেক পায়ের একই অপারেশন করা হয়। দু’টি অপারেশনের সময়ই আমি নিজে উপিস্থিত ছিলাম। হাটুতে যে স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে এগুলো এখন ব্যাথা তৈরী করছে। পেইন কিলার খেতে হয়। কিন্তু জেলখানায় উনার চিকিৎসা হচ্ছে না। প্রথমত, যে ঔষধ উনি নিয়ে গেছেন, তা হয়ত কাজ করছে না। অন্যদিকে সরকারী ডাক্তার যে ঔষধ দিচ্ছে, নিরাপত্তাজনিত কারনে উনি খেতে পারছেন না। ফলে পায়ের ব্যথা অস্বাভাবিক বেড়েছে। উনার ব্যাথার অবস্থা বোঝার জন্য এমআরআই করা দরকার। কিন্তু পায়ে স্টীলের প্লেট থাকার কারনে পিজিতে এমআরঅাই করা যায়নি। এর জন্য যে বিশেষ ধরনের এমআরআই দরকার, সেই মেশিন আছে কেবল ইউনাইটেড হাসপাতালে। অথচ জেল কতৃপক্ষ ও সরকার বিধির প্যাচ কষে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসায় বাধা দিচ্ছে। এহেন অবস্থায় চিকিৎসা ও অষুধ ছাড়া তাঁকে বিপজ্জনক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এভাবে চলতে পারে না। এর অবসান হওয়া দরকার। মনে রাখতে হবে বেগম খালেদা জিয়া কোনো সাধারন বন্দী নন। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশে বিদেশে সুপরিচিত, বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত রাজনীতিক, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যিনি সরকার গঠন করতে পারেন। এ অবস্থায় তাঁর মত রাজবন্দীর যেখানে আস্থা আছে, এরূপ কোনো হাসপাতালে এবং চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার ব্যবস্খা করার ব্যবস্খা নিতে হবে। উল্লেখ্য, বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা, আবদুল জলিল, মোহাম্মদ নাসিম কারাবন্দী অবস্থায় তাদের পছন্দের হাসপাতাল ও ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। জেলকোড তাতে বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি।
 
তাছাড়া ৭৪ বছর বয়স্ক একজন অসুস্থ নারী, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা মামলার রায়ে জামিন না দিয়ে নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ন অমানবিক ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। এরকম বয়স্ক অসুস্থ একজন মানুষকে ছোট্ট একটি নড়বড়ে খাটে থাকতে দেয়া হয়েছে। সিড়ি ভেঙে যেতে হয় বাথরুমে, যেখানে পোকামাকড়ের উপদ্রব আছে। প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যায়, থাকতে হয় অন্ধকারে। আরও অনেক সমস্যা রয়েছে সেখানে। মোটকথা, নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যাক্ত জেলখানার পুরো ব্যবস্খাপনা রীতিমত মহাকষ্টদায়ক এবং অহসনীয়। জুলুমবাজির এক চরম দৃষ্ঠান্ত।
 
বিএনপি নেতৃবৃন্দের কাছে সর্নিবন্ধ অনুরোধ- দয়া করে আপনারা বিষয়টি সিরিয়সলি নিন। বিএনপির ৬’শ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে মাত্র ১৭ জন কারাগারে আছেন, বাকীরা সবাই মুক্ত। নেত্রীকে জেলে রেখে কি করে আপনারা নিজ বাড়িতেই ঘুমাচ্ছেন? একটু বোঝার চেষ্টা করুন- দলীয় রাজনীতির কারনেই ম্যাডাম কিন্তু এই জুলুমের জেলে। আপোষ করলে প্রথমেই ছাড়া পেতেন, হয়ত জেলেই যাওয়া লাগত না। যা কিছু হচ্ছে রাজনীতির জন্যই হচ্ছে- আর তা আপনাদের জন্যই। উনার যে বয়স, এবং দীর্ঘকালের জীবনযাত্রা- তাতে বর্তমানে যেভাবে আছে, তা অসহনীয় এবং খুবই বিপজ্জনক। প্রতিনিয়ত তা আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে! যেকোনো সময় একটা খারাপ কিছু হয়ে যেতে পারে। তাই উনার মুক্তির জন্য আপনারা সিরিয়াস হন। আর মুক্তি না হওয়া অবধি আপাতত, সরকারের সাথে দেন দরবার করে উনার সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করুন।
 
বিনাভোটের সরকারকে বেশি কিছু বলার নাই। শুধু বলব- অমানবিকতারও একটা মাত্রা আছে। সীমা লংঘন করিয়েন না। আজ আমীর তো কাল ফকির। এই বাংলাদেশে কোনো কিছুই অসম্ভব না। যেকোনো সময় গনেশ উল্টে গেলে আজকের সব উদাহরন আপনাদের ভাগ্যেও নজীর হতে পারে। তখন হয়ত আফসোস করবেন।

/ফেসবুক

মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত ডিফেন্স এটাশের নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি!

বাংলাদেশে গুম খুন ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে ডিফেন্স এটাশে হিসাবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে পদায়নের প্রস্তাব দিলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়- ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাই তাকে যুক্তরাষ্ট্র ঐ পদে গ্রহন করবে না। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে!

২০১৭ সালের মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কান্ট্রি রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকারে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক তথ্য তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনী নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘন করেও পার পেয়ে যায় মন্তব্য করা হয়েছে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনই নয়, জাতিসংঘ সদর দফতর জানতে পেরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা র‌্যাব এবং বিভিন্ন অবস্থানে থেকে খুন, গুম ও মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দলে যোগ দিয়ে তাদের অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করে। এসংক্রান্তে একাধিক লিখিত অভিযোগের পরে শান্তিরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেস্ক থেকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া র‌্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে সুইডিস রেডিওর দীর্ঘ প্রতিবেদনের পরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফলে মানবাধিকার লংঘনের নানা অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের সাথে সাথে সেনাবাহিনীকেও শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের ওপরে নিষেধাজ্ঞায় আওতার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে তদস্থলে ভারতীয়দের কোটা বাড়ানোর জন্য ভারত সরকার অনেক আগে থেকে জাতিসংঘে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

সমর্থন আদায় করতে দলবেঁধে ভারতে গেলো অা’লীগের নেতারা!

সামনে নির্বাচন, তাই ভারতের সমর্থন দরকার। যদিও বলা হচ্ছে,ক্ষমতাসীন বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে ভারত গেছে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যেরে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃটেনে অাইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে নিজ দলীয় কর্মীদের উস্কে দেয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে

ব্রিটেনে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ার অভিযোগে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। নিজের দলীয় লোকজনকে আইন হাতে তুলে নিতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হতে উস্কানি দিয়ে ব্রিটেনের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করার অপরাধে এই অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী কয়েকজন আইনজীবী।

শনিবার (২১ এপ্রিল) ওয়েস্ট লন্ডনে ইউকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে দেয়া দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের আইন হাতে তুলে নিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তার এই উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মহিউদ্দিন মাহমুদ। শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে লন্ডন থেকে তাঁর পাঠানো রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে আওয়ামী ঘরানার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪ এ। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় শেখ হাসিনা প্রতিপক্ষের উপর দলীয় নেতাকর্মীদের হামলার উস্কানি দিচ্ছেন।

……দূতাবাসে হামলা বিষয়ে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো যারা ঘটিয়েছে, তারা কোথাও চলাফেরা করে না? তাদের দেখেন না? যে হাত দিয়ে জাতির পিতার ছবি ভেঙেছে, তাদের যা করার তা করতে হবে। তাদের চেহারা চেনেন না?’…..

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম খুন অপহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইউকে বিএনপি এবং একদল প্রবাসী বাংলাদেশী লন্ডনে বাংলাদেশ হাই-কমিশনে যায়। কিন্তু সেখানে হাই-কমিশনের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে উস্কানিমূলক আচরণ করে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশী হাই কমিশনের দেয়ালে টাঙানো শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবের ছবি ভাংচুর করে। পরে এ বিষয়ে হাই-কমিশন একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি ব্রিটিশ আইনে যথানিয়মে তদন্ত করছে বৃটেনের পুলিশ। কিন্ত শেখ হাসিনা ব্রিটিশ পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা না করেই হাই-কমিশনে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উপর যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হামলার নির্দেশ দেন।

এদিকে শেখ হাসিনার এই সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে যারা ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী আইনজীবী বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার নির্দেশ। তিনি স্পষ্টত:ই যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে ব্রিটেনে তার দলের নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়েছেন। এটি ব্রিটেনের আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এই অভিযোগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশেও শেখ হাসিনা কিভাবে আইনের শাসনের পরিবর্তে নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন সেই সব তথ্যও ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে দেয়া হবে বলেও ওই আইনজীবী জানান। ওই আইনজীবী মন্তব্য করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে বিদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উস্কানি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমান করেছেন তিনি একজন স্বভাবজাত সন্ত্রাসী। তিনি আরো জানান, তারা এরইমধ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কপি সংগ্রহ করেছেন। আপাততঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আইনজীবী জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়েরের আগে ব্রিটেনের আইনজীবীদের সঙ্গেও তারা আলোচনা করছেন।

খালেদা জিয়ার রায়ে নিরপেক্ষতা চায় যুক্তরাষ্ট্র: রাজনৈতিক কারণে কাউকে কারাদণ্ড নয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার নিশ্চিত করার আহবান পূনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কারো কারাদণ্ড হতে পারেনা বলেও মনে করে দেশটি।

২০১৭ সালের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে শুক্রবার ওয়াশিংটনের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিং এমন অবস্থানের কথা জানান স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র এডভাইসর এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরো প্রধান এ্যাম্বেসেডর মাইকেল জি কোজাক।

বিশেষ ওই ব্রিফিংএ সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান- আপনাদের রিপোর্ট অনুসারে ১৬২ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এমনিভাবে বছরের প্রথম ১০ মাসে ১১৮ জন বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেই চলেছে। গণতান্ত্রিক চর্চা সম্পর্কে বলা হয়েছে বিরোধীদের সভা-সমাবেশের অধিকার খুব সীমিত, বিশেষত প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সমাবেশ করার সুযোগ পাচ্ছেনা। রিপোর্ট বলা হয়েছে বিগত ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বয়কট করেছে। মূলত শুধু বিএনপিই বয়কট করেনি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বয়কট করেছে। কেনোনা যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ সকলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠানো স্থগিত করে। আমরা তখনো দেখেছি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া। যাকে একতরফা নির্বাচন হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী কারাগারে আটক রয়েছেন। এই বিষয়গুলো সার্বিক ভাবে আপনারা কিভাবে মূল্যায়ন করছেন? বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন অংশীদার হিসাবে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনে যুক্তরাষ্টের ভূমিকাই বা কি?-

জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, আমার ধারনা আপনি রিপোর্টি ভালো করে পড়েছেন। আজকে প্রকাশিত রিপোর্টটি গত ক্যালেন্ডার বছরের রিপোর্ট। যার মধ্যে ওই সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা রয়েছে। এর পরে অনেকগুলো ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। যা আপনিও বলেছেন। আগামী বছরের রিপোর্টে তা উঠে আসবে।

মাইকেল কোজাক বলেন, নির্বাচন আসন্ন। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছে এবং যা হতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

অবাধ প্রতিযোগিতা , উন্মুক্ততা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এটি একটি উপায়। আমরা ক্রসফায়ারের ঘটনা নিয়ে প্রতিনিয়ত সরকারের সঙ্গে কথা বলছি। এটি সাধারণত একটি বিতর্কের বিষয় যা কিনা একটি বৈধ সামরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হয়। কিন্তু এটা আমাদের উদ্বেগের বিষয়। আমরা এই বিষয়ে মানুষদের সাথে কথা বলি।

আরেকটি বিষয় যা বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যদি আমাদের কাছে তথ্য থাকে যে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তখন আমরা প্রশিক্ষণ ও সরজ্ঞামাদি প্রদান বন্ধ রাখি। যতক্ষণ না সরকার অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসে।

খালেদা জিয়ার কারাদন্ড প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাইকেল কোজাক বলেন, “জিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের আহ্বান আমরা জানিয়েছি, এবং শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে কারো কারাদন্ড হতে পারেনা।”

তিনি বলেন, “আমরা নানা উপায়ে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করি। একেক দেশে একেক রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়। যেমন- বিবৃতি প্রদান, সরঞ্জামাদি প্রদান না করে এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় উত্সাহিত করা। কখনও কখনও লোকেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাতে তারা তাদের মানবাধিকার কর্মক্ষমতা উন্নত করে। সুতরাং সার্বিক ভাবে নানা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের মধ্য দিয়ে আমরা সমস্যা সমাধানের পথে অগ্রসর হচ্ছি। তবে রিপোর্ট সমস্যা সম্পর্কে, সমাধান সম্পর্কে নয়।”
/জাস্ট নিউজ

তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে হাসিনার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান : অযাচিত অনুরোধে বৃটেনের বিরক্তি প্রকাশ

লন্ডনে অবস্থানরত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বৃটেন সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে লন্ডনে এসে শেখ হাসিনা খুব বড়াই করে দলীয় অনুষ্ঠানে বার বার বলে যাচ্ছেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করবেন তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের অনুগত হিসাবে পরিচিতি ৭১ টেলিভিশন দাবী করছে, বৃটিশ সরকার তারেক রহমানকে ফেরত দিতে রাজী হয়েছে। কিন্তু বৃটেনের কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে- শেখ হাসিনার এইরূপ অনুরোধ প্রতাখ্যান করেছে বৃটিশ সরকার।

শেখ হাসিনার সফরসঙ্গীদেরকে বৃটিশ ফরেন অফিস থেকে জানানো হয়েছে- শেখ হাসিনার এমন অনুরোধে বৃটেন বিব্রত হয়েছে। তারেক রহমান সম্পর্কে জেনে শুনেই বৃটেনে আইনানুগভাবে বসবাসের অনুমতি প্রদান করেছে। শুধু তারেক রহমান কেনো, মানবাধিকারের প্রশ্নে নিপীড়িত কোন ব্যক্তিকেই যুক্তরাজ্য এভাবে অনিরাপদ করে কারও হাতে তুলে দেয় না। গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার বিষয়ে বৃটেন সর্বদা উচ্চ মান বজায় রাখে। দীর্ঘকালের পরীক্ষিত বন্ধু হিসাবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরাতে যুক্তরাজ্য ঘনিষ্টভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে একদলীয় নির্বাচনের পর গঠিত বাংলাদেশ সরকার ক্রমশ কতৃত্বপরায়ন হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় কতৃত্বে অব্যাহত মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে কোনাঠাসা করতে নানাবিধ কমর্কান্ডের খবর আসছে। ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের পরিস্থিত আবার সংঘাতময় হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এহেন অবস্থায় রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটসমূহের মধ্যে চলমান বিরোধের অবসান ঘটানোর ওপর তাগিদ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের  একটি অংশগ্রহনমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যথাযথ যোগাযোগের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

পার্লামেন্ট ভেঙে দিন, অবৈধ প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দিন, এই অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। তাহলেই এদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ২০ দলের শরিক জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন তখনই হবে, যখন এদেশে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নির্বাচন তখনই হবে, যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আসবেন। নির্বাচন তখনই হবে, যখন একটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হবে। আমাকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কোনও কিছুই করতে দেবেন না। হাত-পা বেঁধে বলবেন, ‘সাঁতার দাও’, সেটা তো হবে না। সুতরাং শুভ বুদ্ধির উদয় হোক আপনাদের। আপনারা অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন, যেন তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়। তিনি নিজে যেভাবে চাইবেন সেভাবে চিকিৎসা হবে। অন্যদিকে একটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করুন।’
তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমরা তার মুক্তি চেয়েছি। এ মুক্তি তার প্রাপ্য। এ মামলায় যেকোনো মানুষই জামিন পেতে পারে। কিন্তু সরকার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য হিংসাত্মকভাবে তাকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। সরকার মনে করে খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে না। আইয়ুব খান ও এরশাদেরও এ স্বপ্ন সফল হয়নি। একাত্তরের পর মাত্র তিন বছরেই এই আওয়ামী লীগ সবচেয়ে অজনপ্রিয় দলে পরিণত হয়েছিল। তাদের দুঃশাসন ও অত্যাচার এবং একদলীয় শাসনের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তাদের লুটপাটের কারণে দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা গেছে।

এসময় নড়াইল বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজপথে সভা-সমাবেশ করার অধিকার নেই, তাই জেলা সভাপতির বাসভবনে দলের সভা চলার সময়ে পুলিশ কবির মুরাদসহ ৫৮ জনকে আটক করে। আমি এ গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানাই।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারা দেশে চলছে অবাধ লুটতরাজ। চুরি, খুন, সন্ত্রাস, ধর্ষণ। কিন্তু পুলিশ কিছুই করছে না। করবে কী করে? পুলিশকে বিরোধীদলকে দমন রাখতেই ব্যস্ত রাখা হয়েছে।

যুব সংহতির সভাপতি মহসিন সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টিআইএম ফজলে রাব্বী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়াদার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, নবাব আলী আব্বাস, সেলিম মাস্টার, যুগ্ম-মহাসচিব এএসএম শামীম এবং মরহুম কাজী জাফর আহমেদের মেয়ে কাজী জয়া প্রমুখ।

গভীর রাতে ছাত্রী বিতাড়ন: হলে ফেরাতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে যেসব ছাত্রীদের বের করে দেয়া হয়েছে তাদেরকে হলে ফিরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
শুক্রবার বিকাল পৌনে ৫টায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড় ঘুরে ফের সেখানে জড়ো হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা এ আল্টিমেটাম দেন। একই সঙ্গে মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে সংগঠনটি।

অপরদিকে রাজু ভাস্কর্যের উত্তর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ অবস্থান গ্রহণ করেন।

শিক্ষার্থীরা এসময় ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, হলে হলে নির্যাতন বন্ধ কর করতে হবে, আমার বোন বাইরে কেন প্রশাসন জবাব চাই, নির্যাতন করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি বলে স্লোগান দেন। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক রাশেদ খান ও নুরুল হক নূর।

ঢাবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেবির সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ছাত্রলীগ অবস্থান করায় তা পরিবর্তন করে রাজু ভাস্কর্য থেকে আন্দোলন করার সিদ্ধান্ত নেয় সাধারণ পরিষদ।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর হল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সংবাদের পরই সেখানে উপস্থিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনটির এক নেতার দাবি হল থেকে ২০জন ছাত্রীকে বের করে দেওয়া হয়েছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে ফেইসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ‘সরকারবিরোধী বক্তব্য ও অপতথ্য ছড়ানোর কারণে’ কবি সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর বলেন, যদি কেউ অপরাধ করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে তাদের বিচার হবে। কিন্তু ‘রাতের অন্ধকারে’ কেন অভিভাবক ডেকে তাদের হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। হলের ভেতর থেকে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

সুফিয়া কামাল হল থেকে বের করে দেওয়া ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন অন্তি (পদার্থ), রিমি (পদার্থ), শারমিন (গণিত)। তবে সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে দাবি করেছেন বেশ কয়েকজন ছাত্রী। তারা বলেন, ফেসবুকে যেন কোনো ধরনের পোস্ট দেওয়া না হয় সে ব্যাপারেও হুঁশিয়ার করছেন প্রাধ্যক্ষ।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সুফিয়া কামাল হলের তিন ছাত্রীকে অভিভাবক ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

/শীর্ষনিউজ

 

খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থ: স্বজনরাও সাক্ষাৎ পাননি

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ‘প্রচণ্ড খারাপ’ জানিয়ে তাকে দেখতে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে গেলে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দেয়নি।খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিকালে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারে যান তার বোন সেলিনা ইসলাম, ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের ছেলে অভি, বড় ছেলে তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানু ও তার মেয়ে শাহিনা খান জামান বিন্দুসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য।

কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের কারা কর্তৃপক্ষ বলেছেন- ম্যাডাম উপর থেকে নিচে নামতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থা প্রচণ্ড খারাপ হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।কারা সূত্র যুগান্তরকে জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা উন্নতি হয়নি; আবার অবনতিও হয়নি। তার হাঁটু, হাত-পা এবং ঘাড়ে ব্যথা রয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে। এছাড়া তার চোখে একটু সমস্যা দেখা দিয়েছে। চোখ লাল বর্ণ ধারণ করেছে। কারা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ডাক্তারের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) এই অবস্থার কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন ফখরুলসহ বিএনপির তিন নেতা। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এরপর থেকেই তিনি পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

 

প্রায় আড়াই মাস কারাবন্দি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালেও তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিফল হয়েছেন মির্জা ফখরুলসহ বিএনপির তিন নেতা। ওই সময় বিএনপিপ্রধানের সঙ্গে দেখা হওয়া ‘সম্ভব নয়’ জানিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

মির্জা ফখরুল বলেন, “কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ম্যাডামের এই অবস্থার কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন বলে আমাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন।”

 

রাজশাহীর মহাসমাবেশে বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি আহবান

আগামীতে বিএনপি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া এদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ভূবন মোহনপার্কে এ সমাবেশের আয়োজন করে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। দুপুর ১২টার দিকেই সমাবেশ স্থাল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

ভূবন মোহন পার্ক ছোট হওয়ায় শুধু মহিলা দলের নেত্রীরা অবস্থান করতে পেরেছেন। দলের নেতাকর্মীরা মাঠের বাহিরে অবস্থান করে নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনেন।

জিরো পয়েন্ট, আলু পট্টি মোড়, রানী বাজার মোড়, যাদুঘর মোড়, সোনা দীঘি মোড় ও সাহেব বাজারসহ পুরো শহরে জনতার ঢল নামে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কেউ জানতাম না। হঠাৎ করে একটা আন্দোলন হলো। আগামীদিনে গণতন্ত্রের আন্দোলন, জনগণের অধিকারের আন্দোলনও সেরকম হবে। জনগণ যখন রাস্তায় নামবে তখন তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে একটা সংসদ নির্বাচন করবে। সেই আন্দোলনে রাজশাহীবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারগারে নিয়ে দলকে ভাঙতে চেয়েছিল। সরকার তাতে সফল হয়নি। আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরামর্শ নিয়ে এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসচি দিয়ে আসছি। এতে যদি সরকারের বোধদয় না হয়, তাহলে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। সেই আন্দোলন সফল করতে আপনারা প্রস্তুত আছেন কি না। তখন সবাই হাত উচিয়ে হ্যাঁ বলে সারা দেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া সেটা হতে পারে না। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপির মতো বড় একটি দলের সমাবেশ এই ছোট জায়গায় করা সম্ভব না। আপনারা ছোট জায়গা দিয়ে আমাদের সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুরো রাজশাহী আজ সমাবেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকার কথা ছিল। কিন্তু তার মায়ের মৃত্যুর কারণে আসতে পারেননি। আমরা তার মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

বিএনপির নীতি-নির্ধারণী এই নেতা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া, ২০ দল ও বিএনপিকে বাইরে রেখে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আরও একটা নির্বাচন করতে চায় সরকার। কারণ তারা জনগণকে ভয় পায়। তাই তারা ক্ষমতায় এসেই বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। শেয়ার বাজার লুট করে মানুষকে পথে বসিয়েছে। আজকে ১০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকায় মোটা চাল কিনতে হচ্ছে।

ড. মোশাররফ বলেন, জনগণের ওপরে শেখ হাসিনার কোনো আস্থা ও বিশ্বাস নাই। তাই হাত উচিয়ে তিনি নৌকায় ভোট চান। জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করছে। তাদেরকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না জনগণ।

গণতন্ত্রের মুক্তি মানেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। আজকে যদি নিরপেক্ষ ভোট হয়, তাহলে আওয়ামী লীগকে জনগণ আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করবে। সেজন্য শেখ হাসিনা- বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পান, জনগণকে ভয় পান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া এদেশে কোনো অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। তাই আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া সেটা কি হতে পারে? এ সময় জনগণ না সূচক উত্তর দেন। তখন ড. মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়াকে ছাড়া এদেশে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।

শীর্ষনিউজ

« Older Entries