Category Archives: জাতীয়

২১ আগস্টে শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে আ.লীগই হামলা করেছে: বিএনপি

২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগই দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সব কিছু বিচার বিশ্লেষণে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ সৃষ্টি হয় যে, ২১ আগস্ট বোমা হামলায় আওয়ামী লীগ বা তাদের শুভাকাঙ্খীরাই দায়ী। যেহেতু তখন সরকার পরিচালনা করেছে বিএনপি সেহেতু নিজের সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হবে, এমন আত্মবিধ্বংসী কাজ বিএনপি কেন করতে যাবে? আওয়ামী লীগের সভার ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা হলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সহানুভূতির সৃষ্টি হবে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে মানুষের আস্থা কমবে। এতে আওয়ামী লীগের লাভ। ঠিক এই উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগের সভার ওপর বোমা হামলা করা হয়েছে, শেখ হাসিনার মঞ্চকে পাশ কাটিয়ে।

তিনি বলেন, এই বোমা হামলার আরেকটি উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকারকে জঙ্গী সরকার বা তার পৃষ্ঠপোষক হিসাবে প্রমাণ করা-সেজন্য পরবর্তিতে শেখ হাসিনা ও তার সহকর্মীরা হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্মিলিত কন্ঠস্বরে দেশে-বিদেশে বিএনপি ও জোট সরকারের বিরুদ্ধে অপবাদের কোরাশ গেয়েছেন। অথচ জঙ্গী উৎপাদন করেছে আওয়ামী লীগ, আর তাদেরকে দমন করেছে বিএনপি।

রিজভী বলেন, দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া বিএনপি নেতৃত্ত্বাধীন জোট সরকার এমন হঠকারি কাজ করে নিজেদের পাকা ধানে মই দেয়ার মতো নির্বোধ কাজ করবে, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। সুতরাং এক ঢিলে কয়েকটা পাখি মারার কাজ নেপথ্যে ও প্রকাশ্যে সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের মতো কুটকৌশল ও নিষ্ঠুরতা শিখতে পারেনি।
তিনি বলেন, একইভাবে ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দপ্তরের পৈশাচিক হত্যাকান্ড আওয়ামী সরকারের আমলেই ঘটেছে। এর জন্য কেন আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? দরবার হলের এধরণের অনুষ্ঠানে সবসময় প্রধান অতিথি থাকেন প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন সেদিন যাননি? আওয়ামী মন্ত্রী ও নেতারা যথাক্রমে সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মির্জা আজম প্রকাশ্যে সদর দপ্তরে ঢুকে ঘাতক বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছেন। সদর দপ্তরের বাহিরে হত্যাকারী ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদসহ তার সঙ্গীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের সরকারী বাসভবনে বৈঠক করেন। ফাইভ স্টার হোটেল থেকে সেদিন তাদের জন্য খাবারও আনা হয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান মঈন উদ্দিন দ্রুত বিডিআর সদর দপ্তরে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান অবৈধ সরকার সেই নির্দেশ দেয়নি। কেন এই বিলম্ব করা হলো ? আর এই বিলম্ব না হলে প্রাণ দিতে হতো না অর্ধ শতাধিক চৌকস সেনা কর্মকর্তাদের। এরজন্য কি আওয়ামী সরকার দায়ী নয়? একজন উর্দ্ধতন সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে যে তদন্ত হয়েছিল সেটা স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হলেও কেন তা প্রকাশ করা হয়নি? সে আলোকে কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি কেন? এগুলোর জবাব তো একদিন বর্তমান অবৈধ শাসকগোষ্ঠীকে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনে গোয়েবলসীয় কায়দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সারাদিন অপপ্রচারে ব্যস্ত থাকলেও সত্যকে কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে পারবে না। অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর মনে নিত্য ত্রাস আর আশঙ্কার মেঘের আনাগোনা। তাই নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় ওবায়দুল কাদের অনবরত মিথ্যা ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন। তার বক্তব্যের বৈশিষ্ট্য ক্রোধপরায়ণতা ও কলহপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগের গেম প্ল্যান খুব স্পষ্ট। আইন, আদালত, বিচার তাদের হাতে মুঠোয় থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে ফাঁকা ময়দানে ইলেকশনের নামে সিলেকশন করে ক্ষমতা ধরে রাখা।  সেজন্যই ছিনতাইবাজ সরকার গণতন্ত্র ছিনতাই করে ফ্যাসিবাদের বিশুদ্ধ শাসন কায়েম করেছে। এরা গণতন্ত্রের শক্তি শুষে নিয়ে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ওপর নজরদারীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সহ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, দপ্তর সহ সম্পাদক বেলাল আহমেদ প্রমুখ।
শীর্ষ নিউজ/জে

সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে অবশেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ!

দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি, গণ ফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। তবে এ প্রকৃয়ায় বাদ পড়ে ডা. বি চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা। আর এ খবরে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয় নতুন ঢেউ। কুটনৈতিক পাড়া নড়ে চড়ে বসে, উত্তরপাড়া ও সচিবালয়ে ঐক্য নিয়ে আগ্রহ বেড়ে যায়।

ঐক্য গঠন নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলা বৈঠক, টেবিল টক, সমঝোতা, দাবী নামা তৈরী ইত্যাদি চলতে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর হচ্ছিল না। মূলত বিকল্প ধারার নেতা মাহি বি চৌধুরী কতৃক নতুন নতুন শর্ত আরোপ করে বিএনপির সাথে এই ঐক্য গঠনে বাধা দেয়া হয় এবং সময় ক্ষেপণ চলছিল। বিকল্প ধারা দাবী তোলে, নির্বাচনে বিজয়ী হলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে, নির্বাচনে বিএনপিকে ১৫০ আসন ছাড়তে হবে, এবং সেই সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পূর্শবর্ত হিসাবে বিএনপির নিজস্ব ২০ দলীয় জোট থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে বাদ দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে অন্যান্য দল, বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, আসম রব, এবং মাহমুদুর রহমান মান্না একটি সহনীয় অবস্থান গ্রহন করেন। কিন্তু বিকল্প ধারা এমনভাবে বাড়াবাড়ি করতে থাকে, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, তারা হয় ঐক্য করতে দিবেনা, অথবা দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে ঐক্যের কার্যকারিতা নষ্ট করতে তৎপর। আর এটা যে বর্তমান সরকারের স্বার্থে করছে, তা নানান মাধ্যমে প্রচারিত হতে থাকে।

গোয়েন্দা সুত্রের খবর মতে, আ’লীগ সরকারের দেয়া ভিওআইপি ব্যবসা থেকে মাহি বি চৌধুরী প্রতি মাসে নগদ পান ৮ কোটি টাকা, তাতে লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো। অর্থাৎ বছরে তার ফিক্সড ইনকাম ১০০ কোটি টাকা। খালাত বোন শমীর স্বামী আরাফাতের সাথে ছ’শ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র জয় টোপ দিয়েছেন, ঐক্যজোট থামিয়ে দেয়ার ইনাম হিসাবে দু’টো টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে, আরও পাবে নগদ ক্যাশ। গোয়েন্দারা মাহিকে চাপ দেয়, যেকোনো মুল্যে ঐক্য ভাঙতে হবে। তাছাড়া মাহির নারীঘটিত কেলেঙ্কারীর বহু অডিও ভিডিও প্রমানাদি রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এছাড়াও বিকল্প ধারার সেক্রেটারী মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডের তথ্যপ্রমান সরকারের হাতে রয়েছে। হাজার কোটি টাকার ঋনখেলাপী মান্নানকে দুদকে ডাকা হয়েছে। সরকারের কথা না শুনলে তার জেলে যাওয়া, ব্যবসা হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এ অবস্থায় গত ১১ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে ঐক্য গঠনের চুড়ান্ত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঐদিনই রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হঠাৎ ঘিরে ফেলে গোয়েন্দা পুলিশ, ঐক্যের অন্যতম সমন্বয়কারী ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর আটক করার চেষ্টা করা হয়। ডা. জাফরউল্লাহকে আটক না করলেও স্থগিত হয়ে যায় কামাল হোসেনের বাসভবনের মিটিং। পরিবর্তে রাতে আ স ম আবদুর রবের বাসায় ঐক্যজোটের লিয়াঁজো কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, শনিবারে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যজোটের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিন কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসভবনে বৈঠকে যোগ দিতে আসেন বি চৌধুরি। এই বৈঠক নিয়ে এসব দলের মধ্যে দিনভর নানা গুঞ্জন চলতে থাকে। ঐক্যের একাধিক নেতা সকাল থেকেই এ বৈঠক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাসভবনে বৈঠকের আগেই ‍ড. কামাল হোসেন চলে যান তার মতিঝিলের অফিসে। এর পেছনে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসনের মেসেজ, লন্ডন থেকে আসা ফোন মেসেজ, মান্না এবং ব্যরিষ্টার মাইনুল হোসেনের তৎপরতা ক্রিয়াশীল ছিল বলে সূত্রে প্রকাশ। কামাল হোসেনের চেম্বারে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাসদ (রব) নেতারা বৈঠকে বসে ৭ দফা দাবী ও ১১ লক্ষ স্থির করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আনু্ষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। অবশেষে এই ঐক্য থেকে বাদ পড়েন বি চৌধুরী এবং তার পুত্র মাহি।

এমন কিছু করবেন না যাতে ৭৫ ফিরে আসে: ডা. জাফরুল্লাহ

08 Oct, 2018

সকল দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যের চুড়ান্ত ঘোষণা- খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৫ দফা দাবিতে রাজপথে নামবে বিএনপি- যুক্তফ্রন্ট-ঐক্য প্রক্রিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে একমঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। রবিবার (৭ অক্টোবর) রাত ৯টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।
অন্য দাবিগুলো হচ্ছে– নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন রাখা, ইভিএম ব্যবহার না করা, নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া।
বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে জামায়াতের যুক্ত থাকার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করছি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দল এখানে থাকতে পারবে। তবে বিএনপির সঙ্গে অন্য কেউ থাকবে কি-না তা আমরা বলতে পারবো না। বাংলাদেশের জনগণ চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করি।’
বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের মধ্যে প্রথমবাবের মতো আনুষ্ঠানিক এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন– আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, মেজর অব. মান্নান, তানিয়া রব, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু ও আবম মোস্তফা আমীন। বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এছাড়া বৈঠকে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
/শীর্ষনিউজ

বিনা ভোটে নির্বাচনের সর্বশেষ তরিকা: ইভিএমের পরে মোবাইলে থেকে ভোট: কারও আসতে হবে না কেন্দ্রে. কিন্তু ভোট পেয়ে গেছে!

অবশেষে ঘরে বসে মোবাইলে ভোট দিতে পারবে এমন ঘোষণা দিলেন বর্তমান মহাপরাক্রমশালী বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা মিয়া! উল্লেখ্য গতকালই তিনি স্বামী ওয়াজেদ মিয়া বাসা থেকে ‘মিয়া’ হয়ে এসেছেন। তারমানে দাড়াচ্ছে, ইভিএমের পরে মোবাইল থেকে ভোট দেয়ার কথা বলছে, এতে কাউকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে না। বরং কেন্দ্র ফাঁকা থাকলেও শতভাগ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে দেয়া সম্ভব!! অথচ এটি পৃথিবীর কোথাও নেই।

উল্লেখ্য, মোবাইল ফোন রেজিষ্ট্রেশন ডাটা ব্যবহার করে ভোট জালিয়তি করা হবে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ন খবর বছর দুয়েক আগে ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক মাধ্যমে।
৩০ জুন ২০১৬ ফেসবুকের পোস্টে লেখা হয়েছিল,  মোবাইল সিম রেজিষ্ট্রেশন করতে সরকার যেভাবে নাগরিকদের হাতের ছাপ নেয়া হচ্ছে. আগামী নির্বাচনে তা অপব্যবহার করে নেীকাকে জেতানো হবে!
৪ এপ্রিল ২০১৬ লেখা হয়, “তবে কি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতেই হাতের ছাপ নিচ্ছে হাসিনা?”
২৫ জুলাই লেখা হয়- “আগামী নির্বাচন নিয়ে হাসিনার ইলেকশন কমিশন আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। হাসিনাকে সহজে জিতিয়ে আনার জন্য আবার নিয়ে আসছে বাতিল হওয়া- ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এরা চাইছে এর সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্টকে যুক্ত করতে। আইসিটি মন্ত্রনালেয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল রিভেরিফিকেশনে প্রাপ্ত বায়োমেট্রিক ব্যবহার করে ফলাফল নিজ দখলে নেয়ার একটি ফন্দি নিয়ে আগাচ্ছে আওয়ামীলীগ সরকার ও তাদের আস্থাভাজন নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে তাদের টার্গেট ৬০ ভাগ বায়োমেট্রিক ব্যবহার করা। লোকজন ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোটও দিবে। কিন্তু ফলাফলের সময় তা কোনো কাজে আসবে না, বরং সিস্টেমের কারুকাজ করা ফলাফল কি করে নৌকার পক্ষে প্রকাশ করা যায়, তেমন একটি ফরমুলা বের করার চেষ্টা চলছে।

অবশেষে ২ বছর পরে শেখ হাসিনা ঘোষণা করলেন- ‘আপনাদের ভোট কেন্দ্রে আসতে হবে না। বাসা থেকে মোবাইল টিপবেন। আর আসি ভোট বুঝে নিব!’ বাংলাদেশের ভোট স্বপ্নের চির শান্তি!

কমিশনকে পাশ কাটিয়ে সিইসি-সচিব বেঅাইনী আঁতাতে চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন: চার কমিশনারের লিখিত আপত্তি!

চমক আসতে পারে হঠাৎ: সরে যেতে পারে হাসিনা!

অবস্থা বেগতিক দেখে হাসিনা সরকার থেকে সরে যাওয়ার  যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে, জানিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি সূত্র। তবে তারা কিছু শর্ত দিতে পারে, যথা:
১) আওয়ামীলীগের সরকার থাকবে না, কিন্তু পার্লামেন্ট থাকবে।
২) ১৫ জনের কেবিনেট হবে। হাসিনা থাকবে না। বেয়াই মোশাররফ বা অন্য কেউ প্রধান হবে।
৩) রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ থাকবে।
৪) সাজাপ্রাপ্ত কেউ ভোট করতে পারবে না।
৫) ডিসেম্বরেই নির্বাচন হতে হবে। পিছানো যাবে না।
৬) প্রশাসনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না।
৭) নির্বাচনের ফল সবাইকে মানতে হবে।
৮) আমেরিকা/ভারতকে গ্যারান্টি দিতে হবে নির্বাচনের আগে আ’লীগের ওপর প্রতিশোধ নেয়া যাবে না। কোনো মামলা করা যাবে না।

অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি এমন ঘোষণা আসতে পারে। কিন্তু এই প্রস্তাব আন্দোলনরত বিরোধী দল, বিশেষ করে নবগঠিত ঐক্যজোট মানবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

নির্বাচনের আগে হঠাৎ স্থবির প্রশাসন, মন্ত্রীদের কথাও শুনছেন না অনেকে!

তিন দফা দাবীতে ৩০ হাজার আইনজীবি নামছে রাজপথে

তিন দফা দাবীতে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপরিষদ’ গঠন গঠন করে আইনজীবিরা আন্দোলনে নামছে। দাবী তিনটি হলো-
১. গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা,
২. নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন এবং
৩. বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির সকল নেতাকর্মীর কারামুক্তি।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে মহাসমাবেশ করবে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপরিষদ। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলে জানান আইনজীবীরা। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সম্মেলন কক্ষে সরকারবিরোধী আইনজীবীদের ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বিকাল ৩টা থেকে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে আইনজীবীরা তিন দফা দাবি উপস্থাপন ও মহাসমাবেশের বিষয়ে আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান প্রমুখ।

সভায় আইনজীবীরা বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ ভূলুণ্ঠিত। এসব দাবিতে ‘জাতীয় ঐক্য’ গঠন করা হয়েছে, সেই ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আইনজীবীরা বলেন, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্যই আজকে সকল আইনজীবী ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তারা বলেন, সিনিয়র আইনজীবীদের কমিটি ছাড়াও আরেকটি কমিটি থাকবে। আন্দোলনকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য উভয় কমিটি একসঙ্গে কাজ করবে। আইনজীবীরা জানান, শিগগিরই একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে এবং আহ্বায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের তিনজন সিনিয়র আইনজীবীর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা হলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। একই সঙ্গে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যপ্রক্রিয়ার উদ্যোগে একটি সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমাবেশের তারিখ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা নির্ধারণ করবেন বলে জানা গেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আইনজীবীদের জাতীয় ঐক্য নিয়ে একটি নাম দেয়ার প্রস্তাব করেন। একই সঙ্গে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ করার পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে আইনজীবীদের কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন মওদুদ আহমদ।

সভাশেষে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি দেশের সকল আইনজীবীদের মধ্যেও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে শক্তিশালী একটি ঐক্যপ্রক্রিয়ার কাজ চলছে। আমরা চাই দেশে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তিনদফা দাবিতে আইনজীবীরা একমত হয়েছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে এবং জনসভার বিষয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, যেসব দাবি আদায় করতে গিয়ে খালেদা জিয়া আজ কারাগারে ঠিক একই ইস্যুতে সকল আইনজীবীরা আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, যেসব দাবিতে রাজনৈতিক দলের জাতীয় ঐক্য গঠন করা হয়েছে সেই ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যের বিকল্প নেই।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বিকালে এক অনুষ্ঠানে জানান, খুব শিগগিরই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের মহাসমাবেশ ডাকা হবে। দুর্নীতিবাজ এই সরকারের কাছ থেকে শেয়ারবাজার, ব্যাংকের টাকা লুটপাটের হিসাব নেওয়া হবে। শেয়ার বাজার, লুটপাটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের কেউ নেই।

 

সরকারে ধস: জন নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূরুলের সপরিবারে পলায়ন!

বিরোধী দল ধরপাকড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের (বর্তমানে জন নিরাপত্তা বিভাগের) অতিরিক্ত সচিব নূরুল ইসলামের সপরিবারে পলায়ন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৬ টায় বাংলাদেশ বিমান যোগে স্ত্রী ফিরোজা ও দুই পুত্র  অরন্য, অর্নব, এবং কন্যা অরনীকে নিয়ে জার্মানীর উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন নুরুল ইসলাম। আপাতত দশ দিনের সরকারী সফরের কথা বলা হলেও দেশের পরিস্থিতি বুঝে ফেরা বা না ফেরার সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু প্রমথ রায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান রাজনৈতিক টালমাটালের সময় দেশের থাকা নিরাপদ মনে করছেন না অতিরিক্ত সচিব নূরুল ইসলাম। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূরুল কৃষি কলেজে পড়াকালে ছাত্রলীগের কেবিনেটে ছিলেন। বাহাউদ্দিন নাসিমের শিষ্য হিসাবে পরিচিতি পান। বিএনপির প্রথম আমলে ঘাপটি মেরে জান বাঁচিয়ে চললেও ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী সতীশ চন্দ্রের ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে আমলাতন্ত্রে প্রভাব ছড়াতে থাকেন। ২০০৯ সালে আ’লীগের ২য় দফার সরকারে গণপুর্তমন্ত্রী আব্দুল মান্নানের ব্যক্তিগত সচিবের পদে কাজ করেন পুরো এক টার্ম। এই সময়ে রাজউক এবং পুর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সেক্টর থেকে নুরুলের টাকা বানানোর রাস্তা খুলে যায়। এরপরে চার বছর গাজিপুরের জেলা প্রশাসক থেকে শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়েন। ২০১৫ সাল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখার জয়েন্ট সেক্রেটারীর পরে ২০১৭ সাল থেকে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে উন্নীত হন। মূলত, তার এখান থেকে বিরোধী দল ধরপাকড়ের নির্দেশনা যায় পুলিশ র‌্যাবে।

দিনাজপুর-২ থেকে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগ থেকে ভোট করার ইচ্ছা অাছে নুরুল। এলক্ষে এলাকায় গণসংযোগও চালিয়েছেন, যদিও এখানে প্রভাবশালী খালিদ মাহমুদ এবং সতীশ বাবুও আছেন এই আসনে। তবে এখন যে দুঃসময় তাতে আগে বাঁচতে হবে, তাই আপাতত সপরিবারে বিদেশে চলে যাওয়া।

« Older Entries