Category Archives: গোপন তথ্য

ঢাকা এলাকার বিরোধী মতামতের লোকজনকে লাশ বানিয়ে ডাম্পিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান

Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান। প্রথম দৃষ্টিতে নম্র ও শান্ত স্বভাবের মনে হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত গোঁয়ার ও নিষ্ঠুর টাইপের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের অত্যন্ত সক্রিয় ক্যাডার। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের গোপন কিলিং গুলোর মাস্টার প্লানিং তিনিই করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে হয়ে শাফিউর বিএনপির সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায় জোনাল এসির দায়িত্ব পান এবং নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত করা ও পরবর্তীতে তৎকালীন মেয়র মীর নাসির এর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে স্থানীয় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এসপি থাকাকালে তিনি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা, গুম ও পংগু করে দেন। গুম ও খুনের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি ডিবি’র কিছু বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করেন। কেবল বিএনপি ও জামাতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই তিনি খড়গহস্ত ছিলেন, তা নয়, তিনি বাকশাল মতবাদের বিরুদ্ধচারী সকল শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুয়া মামলা তৈরি করে ব্যাপক অত্যাচার করেন।

লক্ষীপুরে থাকাকালে প্রধান বিচারপতির সাথে বেয়াদবি ও অসংগত আচরণ করার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় সমালোচনার ঢেউ ওঠে। শাহ মিজানের উদ্ভট ও দাম্ভিক আচরণের কারণে সরকার তাকে লক্ষীপুর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

ডিআইজি হাসানুল হায়দারের ভাবশিষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দলনের পুরস্কার হিসাবে ঢাকা জেলার এসপি হিসাবে পোস্টিং পান।

ঢাকা জেলায় যোগদানের পর তিনি নিজে থেকে লাশ ডাম্পিং এর দায়িত্ব নেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধী মতামতের লোকজনকে তুলে এনে শাহ মিজানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। শাহ মিজান তার টিমকে দিয়ে সেসব লাশ প্রত্যন্ত বিল, নদী, খাল ও ব্রীজের ধারে ডাম্পিং এর ন্যায় বিশ্বস্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় লাশগুলো তার দায়িত্বে ডাম্পিং করা হয়েছে। সারা বছর পত্রিকার পাতায় ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে যে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এটি এসপি শাফিউরের কৃতিত্ব। চারিত্রিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও ভয়ংকর হওয়ায় তিনি এই বিশেষ কাজটি দক্ষতার সাথে করে প্রায় তিন বছর ধরে এই জেলায় এসপি হিসাবে আছেন।

পুলিশ বাহিনীতে দলীয় ক্যাডারদের রিক্রুট করার মিশনে শাহ মিজানের অবদান সবার মুখে মুখে। এই একই কাজে এসপি হাবিবুর রহমানের (বর্তমানে ডিআইজি প্রশাসন) ফেলে আসা সকল রেকর্ড শাহ মিজান ইতিমধ্যেই ব্রেক করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাকশালের মতো চরম পন্থায় দীক্ষা লাভ করেন। সরকারী চাকুরী করেও তিনি প্রকাশ্যে বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলেন। তার ফেসবুক পেজে বাকশাল মতবাদের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান সংক্রান্তে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস আছে। শাহ মিজানের বড় ভাই নাটোরে এ বছর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এমপি পদপ্রার্থী।

Content Protection by DMCA.com

পুলিশে সুপারনিউমারী পদোন্নতি: ডিআইজি হাবিব ও এসপি প্রলয়ের দু’শ কোটি টাকা চাঁদাবাজির প্রজেক্ট!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আগে বিভিন্ন সার্ভিস এবং বিভাগে পদোন্নতির ধুম পড়ে গেছে। সবাইকে খুশি করার উদ্দেশ্যে বেতন ভাতা পদোন্নতি সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেয়া হচ্ছে দেদারছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইন কানুন বিধির তোয়াক্কা করছে না সরকার। সুযোগ পেয়ে অতিউৎসাহিরাও দৌড়ঝাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত প্রায় অর্ধসহস্র কর্মকর্তাকে একটি পদোন্নতি ধরিয়ে সান্তনা দিয়ে ক্ষোভ নিরসনের চেষ্টা চলছে। তবে এত বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়ার মত কোনো শূন্য পদ নেই। তাই সুপারনিউমারী পদ তৈরী করে এ রাজনৈতিক পদোন্নতির চেষ্টা করে যাচ্ছে বিনাভোটের সরকার।

পুলিশ বিভাগের প্রস্তাবিত এ পদোন্নতির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছেন শ’পাঁচেক ক্যাডার কর্মকর্তা, যারা গত আ’লীগের দু’টার্মের সরকারে চিহ্নিত ছিলেন রেড মার্ক হিসাবে। এদের প্রমোশন নাই, ভালো পোস্টিং নাই এবং সুযোগসুবিধা বঞ্ছিত। নির্বাচনের সময় তারা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, এমন ধারণা করে হঠাৎ সান্তনা পদোন্নতির তোড়জোড় চালায় সরকারের একটি অংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশের ৪৯৫টি সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টির জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি প্রস্তাব ৪ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর মধ্যে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে এসপি, এসপি থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি, এডিশনাল ডিআইজিকে পদোন্নতি দিয়ে উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ) নূরুল ইসলামকে (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা) প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই প্রকৃয়ার মধ্যে হঠাৎই বাড়াবাড়ি শুরু করেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান। ১৭ বিসিএস পুলিশের কনিষ্ঠতম ডিআইজি হয়েও গোপালগঞ্জের অধিবাসী হাবিব ও আরও কিছু অফিসারের বাড়াবাড়িতে সিনিয়ররা অতিষ্ঠ। মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের কিছু অতি উৎসাহি দলবাজ অফিসারের সাথে জোট করে হাবিব এবং তার সাঙ্গাতরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। পুলিশ বাহিনীকে আ’লীগের লাঠিয়াল বানানোর অন্যতম কারিগর হলেন এই ডিআইজি হাবিব। তার দৌড়ঝাপ ও চাপাচাপিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর পুলিশে ৪৯৫টি সুপারনিউমারী পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে প্রস্তাবনা চেয়ে পাঠায়। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রস্তাব পেয়ে তার ওপর মঞ্জুরি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠায় জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সুপারনিউমারি পদোন্নতির প্রস্তাবটি ওই দু’টি মন্ত্রণালয়ে যাচাই বাছাই হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠায়।

অপ্রত্যাশিত পদোন্নতির খবর পুলিশ সদর দফতর থেকে কয়েকটি পত্রিকায় লিক করে দেয়া হয়। জানাজানি হলে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্ঝিতরা, বিশেষ করে সিনিয়ররা আগ্রহী হয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকে, এবং ৫/৭ ব্যাচ জুনিয়র ডিআইজি হাবিবকে তেল মারতে শুরু করে সিনিয়ররা। কিন্তু মহাধুরন্দর ডিআইজি প্রশাসন হাবিব ক্ষণে ক্ষণে কেবল মুচকি হাসে। তার সেই রহস্যময় হাসির মাজেজা তখন অনেকেই বুঝতে পারেনি।

পদোন্নতির জন্য কে কে বিবেচিত হচ্ছে, এসব খোঁজ খবর নিতে বঞ্চিতরা হেডকোয়র্টারে যোগাযোগ করতে থাকে। তাদের মাধ্যমে ডিআইজি হাবিব নিজেই খবর ছড়িয়ে দেয়- এডিশনাল ডিআইজি পদোন্নতির জন্য জনপ্রতি ৫ কোটি টাকা করে, এবং যারা ডিআইজি হবে তারা ১০ কোটি টাকা করে দিতে হবে। অনেকের সাথে আবার হাবিব তার ০১৭১৩৩৭৩০০৪ নম্বরের মোবাইল থেকে কথাও বলেন, ‘দেখলেন তো স্যার (সবাই তার সিনিয়র), প্রমোশন না পেলে ডিপার্টমেন্টে কেমন হিউমিলিয়েশন হয়, সমাজেও চলা যায় না! তাই এবার প্রমোশন নিয়ে সম্মান ঠিক করুন। তবে পদোন্নতি পেতে হলে তো খয় খর্চা আছে। এই সামান্য কয়টা টাকা তুলতে আপনাদের এক মাসও লাগবে না! তাছাড়া এই টাকা তো আর আমি নিব না। ইলেকশনের বছর- আপা (শেখ হাসিনা) ইলেকশনের জন্য খরচা চেয়েছেন, তাই! এবারের প্রমোশন থেকে আমি ২০০ কোটি টাকা দেয়ার কথা দিয়েছি। আমি নিশ্চয় বাপের জমি বেইচ্চা আপারে টাকা দিব না! টাকা দিলে বলেন, না দিলে হবে না!’

সিনিয়রদের কাছে টাকা চাওয়ার পরে ডিআইজি হাবিব তার চামচা ডিএমপি’র ডিসি প্রলয় জোয়ার্দারকে কাজ দেয় জুনিয়রদের সাইজ করতে। উল্লেখ্য, ২৪তম বিসিএস ব্যাচের শেষ ব্যক্তি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসারের পদ বাগিয়ে নিয়েছিল, যদিও তার চাকরিতে নানা গন্ডগোল আছে, এমনকি সে ব্যাসিক ট্রেনিংও শেষ করেনি, তাকে আবার পুলিশের ২৪ ব্যাচের সভাপতি করা হয়েছে! এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অফিসের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রলয় তার সিনিয়রদের ডিঙিয়ে এসপি পদে পদোন্নতি হাসিল করে নেয়, শেষে অতিরিক্ত ডিআইজির চলতি দায়িত্বও পালন করে অবৈধভাবে। যাই হোক, ডিআইজি হাবিব থেকে দায়িত্ব পেয়ে প্রলয় টার্গেটেড ২৪ ও ২৫ ব্যাচের পদোন্নতি প্রত্যাশীদের নিয়ে ইস্কাটনের পুলিশ অফিসার্স মেসের ৩ তলায় বসে ২০ অক্টোবর শনিবার। মিটিংয়ে প্রলয় তাদের কাছে জানতে চান, ‘তোমরা কি প্রমোশন চাও? সকলে যখন বলে- হ্যা, প্রলয় তখন শর্ত দেয়, ‘যারা এসপি হতে চাও প্রত্যেকে ১ কোটি করে টাকা দিবা। যারা যারা দিবা, তাদের দায়িত্ব আমি নিব। বাকীদের কথা আমি বলতে পারব না! তোমরা কনফার্ম করলে এক সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতি পাবা।’ এ নিয়ে অফিসারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। যাই হোক, ঐদিন সন্ধায় ২য় দফা বৈঠক বসে, এবং আরও কথাবার্তার পরে ঠিক হয় ২৩০ জনকে এসপি পদে পদোন্নতি দেয়া হবে, এবং এ জন্য প্রত্যেকে ৫০ লক্ষ টাকা করে দিবে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

গুম হওয়া এক বিএনপি নেতা ক্রসফায়ার থেকে বেঁচে হাসপাতালে আসলেন যেভাবে – সাক্ষাৎকার!

Content Protection by DMCA.com

গত  ৩০শে সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ থেকে ফেরার সময় রাত ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে এক সাথে তুলে নিয়ে যায় ৪জনকে। তার মধ্যে একজনের বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন প্রভাবশালী নেতা  (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হলো না)। দেখা হয় পিজি হাসপাতালের ইমার্জেন্সী বেডে।  আমি নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, ইমার্জেন্সী ওয়ার্ডের বেডে চোখ পড়তেই দেখি এক লোক কাতরাচ্ছে সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন! এদিক সেদিক তাকিয়ে লোকটির পাশে দাঁড়ালাম, জিজ্ঞেস করলাম এমনটা হল কি করে? তিনি খুব কষ্টে ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন এক লোমহর্ষক কাহিনী, যা শুনে শরীরের লোম শিউরে ওঠে। আমি জিজ্ঞেস করলাম বলল কিভাবে হাসপাতালে এলো।

জানতে চাইলাম পুরো ঘটনা। বললেন পূরো কাহিনী, যা এখানে লিখলে হয়তো তার পরিচয় ওরা জেনে যাবে এবং আবার তুলে নিয়ে যাবে। তাই সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরলাম,

ঘটনার বর্ণনা : ঐ রাতে গ্রেফতার করে কোনো পুলিশ থানায় নিয়ে যায়নি, কোন এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাতেই বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেছিল, তারপর পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে জ্ঞান ফেরানোর পর পরদিন সারাদিন একটা গাড়িতে রাখে। রাতে তার লোকাল এমপির কাছে ফোন করে কথা বলে আবার পিডায়, আবার অজ্ঞান হয়ে গেলে সে অবস্থায় আবার নিয়ে যায় অজানা কোনো স্থানে গাড়ি থেকে নামিয়ে মাটিতে ফেলার পর তার জ্ঞান ফিরলে ঘাতক দল বলে, তোর এলাকার এমপি বলেছেন তোকে ওপারে পাঠাতে। দোয়া কলমা পড়ে নে। ঠিক সে সময় একটা ফোন আসলো, একজন অফিসার কথা বলা শেষে বললো- যা বেঁচে গেলি! এখানে থাক্। তখন ঐ অফিসারের পা জড়িয়ে ধরে বলে- স্যার, আমাকে হয় মেরে ফেলুন, নাহয় হাসপাতালে নিয়ে যান। এখানে এভাবে ফেলে গিয়ে যন্ত্রণা দিয়ে মারবেন না। আল্লাহর রহমতে ঐ অফিসারের দয়া হল, নিয়ে আসলো পিজি’তে। ইমার্জেন্সিতে ফেলে ওরা চলে গেল। কথা গুলো বলার সময় কাঁদছিলেন, আর বলছিলেন। আজ এখন এখানে আমার দ্বিতীয় জীবনের শুরু। ডিবি নামের এ লোক গুলো এত হিংস্র জঘন্য! আল্লাহর রহমত ছিল বলে বেঁচে আছি। এরপর সংগে থাকা বাকি ৩ জনের কথা জিজ্ঞেস করলে বললেন ওদের পরিনতি তিনি জানেন না । 

গত ২দিন আগে আবার তার সাথে কথা বলে জানলাম নিরাপত্তার স্বার্থে একদিন পরেই পিজি থেকে চলে যান প্রাইভেট হাসপাতালে। সেখানে কয়েক দিন থেকেই টাকার অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই বাসায় ফিরেন। ডাক্তার বলেছেন প্রতিদিন থেরাপি দিতে হবে। বা হাত অনেকটা অকেজো, প্রচন্ড ব্যাথা শরীরে। কিন্তু টাকার জন্য থেরাপিও নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে বললেন, আমার মত একজন নেতা আজ টাকার জন্য চিকিৎসা নিতে পারছি না, দলের সাধারণ কর্মীদের কি অবস্থা? আমি আজ প্রায় ২১ দিন দ্বিতীয় বার জীবন পেয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে আল্লাহর দয়ায় ফিরলাম দলের হাইকমান্ডের কোনো নেতা খবর নিলো না। দলে নির্যাতিত নেতা কর্মীদের দেখভাল করার জন্য কোন টিম নাই।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলে উঠলেন , ভাই দয়া করে আপনি দূ’কলম লিখেন যেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন। এভাবে একটা দল চলতে পারেনা,  দলের নেতা কর্মীরা একসময় দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। আমি দীর্ঘ ২০ বছর রাজনীতি করে আজ আমার পাশে কাউকে পাচ্ছি না। আমার নিজেরই এখন দলের একজন নেতা পরিচয় দিতে ঘৃণা হচ্ছে নিজের প্রতি।

আমি সব শুনে তাকে বল্লাম ভাই আমার লেখা তো তারেক রহমান পর্যন্ত পৌঁছাবে না  তবু ও লিখব। হ্যাঁ লিখলাম । আমি আমার কথা রাখলাম। এবার নেতাদের কানে পৌঁছে দিতে পারেন অনলাইন ইউজাররা এ লেখা কপি শেয়ার করে ।

/vob24-7

Content Protection by DMCA.com

ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ডঃ জুনিয়র এক ডিআইজির বাড়াবাড়িতে আইজিপি জাবেদ হয়রাণ!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ প্রতিবেদন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেঙ্গে পড়েছে পুলিশের চেইন অব কমান্ড। পুলিশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা করে ও সরকারী এটি গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত একেএম শহিদুল হকের আইজিপি পদে নিয়োগ থেকেই পুলিশের বিশৃঙ্খলার শুরু হয় যা এখন চরম বিপর্যয়কর অবস্থায় এসে পড়েছে। জনশ্রুতি আছে, শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া (ডিএমপি কমিশনার) তাঁদের এ পদে পদায়নের জন্য রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এক নিকটাত্মীয়ের সাথে ৩০ কোটি টাকার প্যাকেজে ডিল হয়েছিল। জনাব শহীদের ব্যাচের ১ম ব্যক্তি জাভেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে ব্যাচের ১৪তম ব্যক্তিকে পুলিশ প্রধান করায় মেরিট লিস্টের প্রথমদিকে থাকা পুলিশ অফিসাররা হতাশ হয়ে পড়ে। এই সময়ে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্সের ডিআইজি হাবিব (১৭ ব্যাচ, বাড়ি গোপালগঞ্জ) যথেচ্ছভাবে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে গুটিকয়েক অফিসারকে বারংবার পদায়ন করায় নিরপেক্ষ পুলিশ অফিসার, এমনকি আওয়ামীপন্থী যারা হাবিবকে তোষামোদ করেনি, তারাও ক্রমাগত বঞ্চনার শিকার হওয়ায় তাদের ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এসময়ে প্রলয় জোয়ার্দার (২৫ ব্যাচ, স্ত্রী এনএসআই এর গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত)কে ২/৩ ব্যাচ ডিঙ্গিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এআইজি করায় পুলিশে বিস্ফোরনমূখ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হাবিবের প্রস্তাবিত পদায়নে প্রলয় তার স্ত্রীর প্রভাবে অনেকের পদোন্নতি ও পদায়ন এনএসআই ক্লিয়ারেন্স বিরূপ থাকার অজুহাতে আটকে দিয়ে হাবিবের বিরাগভাজন হলেও তৎকালীন আইজি শহিদুল হকের পৃষ্ঠপোষকতায় বহাল তবিয়তে ছিল। জাভেদ পাটোয়ারী আইজি হওয়ার পর প্রলয়কে পুলিশ হেযকোয়ার্টার্স থেকে চলে যেতে হয় এবং তার অনুসারীরা আইজির প্রকাশ্য বিরোধীতা করতে থাকে। এ সময়ে ডিআইজি হাবিব নিজেকে আইজির চেয়েও বেশী শক্তিশালী হিসাবে জাহির করে এবং এর ফলে তার সাথে সংঘাত শুরু হয় অতিরিক্তি আইজি (প্রশাসন) মোখলেছুর রহমানের। শহিদুল হকের পর আইজি পদ-প্রত্যাশী মোখলেছুর রহমানকে অতিঃ আইজি (প্রশাসন) এর গুরু-দায়িত্বে পদায়ন করা হলেও হাবিব তাকে পাশ কাটিয়ে পুলিশের সকল স্তরের পদোন্নতি ও পদায়নে স্বৈরাচারী মনোভাব অব্যাহত রাখে যাতে আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ও অতিঃ আইজি মোখলেছ প্রচন্ডভাবে রুষ্ট হন। এতে পুলিশ হেড-কোয়ার্টার্স ও অন্যান্য ইউনিটে কর্মরত তাঁদের অনুগত অন্যান্য অফিসারদের মধ্যে বিভাজন এখন সুস্পষ্ট।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় প্রাক্তন ৩ জন আইজির সাজা হওয়ায় আইজি জাভেদ পাটোয়ারী ভবিষ্যতে এমন পরিনতি এড়াতে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা রুজুর বিপক্ষে থাকলেও ডিআইজি হাবিব তা জোর করে বাস্তবায়ন করানোয় তাদের মনোমালিন্য এখন তুঙ্গে। পক্ষান্তরে হাবিবের একান্ত সহযোগী তার ব্যাচের ডিআইজি ডঃ খন্দকার শহীদ, আনোয়ার, হাফিজ, বাতেন ও অতিঃ ডিআইজি মঞ্জুরুল কবির, নাজমুল, ১৮ ব্যাচের মোজাম্মেল, মনিরুজ্জামান, আসাদুজ্জামান, ২০ ব্যাচের এসপি মইনুল (নারায়নগঞ্জ), শাফিউর (ঢাকা জেলা), মোল্লা নজরুল, শাহ আবিদ (ময়মনসিংহ), টুটুল চক্রবর্তী, মাসুদুর রহমান, আলমগীর কবির, নূরুল ইসলাম (কুমিল্লা), আনিসুর রহমান (স্ত্রী আওয়ামী লীগের মহিলা এমপি), হারুন (প্রাক্তন গাজীপুর এবং স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকা আমেরিকায় আটক বলে জনশ্রূত), আলতাফ হোসেন, ২১ ব্যাচের বিপ্লব (ডিসি তেজগাঁও), মারুফ, সাজ্জাদ, বিজয় বসাক, পঙ্কজ রায়, আনোয়ার এবং ২২ ব্যাচের এসপি মেহেদী, জাহাঙ্গীর, সায়েম, মান্নান প্রমূখ ঘুরে-ফিরে পুলিশের রিওয়ার্ড পোষ্টিং হিসাবে পরিচিত জেলা ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, যশোর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, এসব জেলায় একাধিকবার এবং দীর্ঘমেয়াদে পোষ্টিং পাওয়ায় অন্য অফিসারদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তাই ডিআইজি আনোয়ার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গায়েবী মামলা, হত্যা, গুম, জেল-জুলুম এবং তফসিল ঘোষনা উপলক্ষ্যে নভেম্বরের ১ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত গণ-গ্রেফতারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশে হাবিবের অনুসারী গুটি-কয়েক অফিসার অতি আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসলেও স্বল্প সুবিধাপ্রাপ্ত বা কোন সুবিধা না পাওয়া অন্যান্য বহু অফিসার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হচ্ছে না মর্মে একটি গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এসেছে। তাদের ভাষ্য, সুবিধাভোগীদের পাপের ফল আমরা কেন ভোগ করব। তার চেয়ে এখন নিরপেক্ষ থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পালাবদল হলে অন্ততঃ দেশ ছেড়ে পালাতে হবে না।

বস্তুতঃ বহুমুখি দলীয় কোন্দলের জেরে ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

বেনজিরের লাম্পট্যের উপাখ্যান-২

Content Protection by DMCA.com

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বর্তমান সরকারের দশকপুর্তি কালে ক্ষমতাসীনদের যেমন হিসাব নিকাশ চলছে, তেমনি বিভিন্ন বাহিনীতে চলছে পালা বদলের প্রস্তুতি। বিশেষত দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দশ বছরের পাঁজি খুলে বসেছেন। এক দশক ধরে কতিপয় কর্মকর্তার মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে পুলিশের মত একটি ঐতিহ্যবাহী বাহিনীকে জনগনের কাছে একটি ক্রিমিনাল বাহিনীতে পরিণত করেছে। স্বাধীনতার পরে রক্ষীবাহিনী যে কুখ্যাতি হিসাবে পরিচিতি পায়, সেদশা হয়েছে আজ পুলিশ র্যা বের। তাই অফিসাররা হিসাবপত্র নিয়ে হিসাবে বসেছেন। ক্ষমতা অপব্যবহারকারী, গুম খুনে জড়িত, আকন্ঠ দুর্নীতিতে নিমেজ্জিত, পুরোপুরি দলীয়করন হওয়া অফিসারদের আমলনামা জনগনের সামনে তুলে ধরে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে সরকার বদল হলে পুলিশ বাহিনীকে পতনদশা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

ক্ষমতার অপব্যবহারকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বেনজির আহমেদ, যিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক পদে কর্মরত! আজ ২য় পর্ব-

পুলিশের সুত্র জানায়, গুম খুন ও বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড, সাজানো জঙ্গি অপারেশনে ওস্তাদ, দুর্নীতিতে আকন্ঠ নিমজ্জিত বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন। বেশ ক`জন রক্ষিতা আছে তার। এ তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র‍্যাম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার থাকাকালে বেনজিরের চোখ পড়ে তার দু’ব্যাচ জুনিয়র এডিশনাল এসপি আনোয়ার কামালের সুন্দরী স্ত্রীর দিকে। এক পর্যায়ে তাকে কব্জা করে ভোগ করতে থাকেন বেনজির। প্রায়শই এডিশনাল এসপি আনোয়ারকে কাজে দূর্গম এরাকায় পাঠিয়ে দিয়ে তার স্ত্রীর সাথে মৌজমাস্তি করে বেড়াত এসপি বেনজির। ওই অবস্খায় একবার ধরা পরে, তখন এডিশনাল এসপি আনোয়ার রিভলভার নিয়ে বেনজিরকে মারতে উদ্যত হয়। বেনজির দৌড়ে প্রাণ বাঁচায়। এ ঘটনা পুলিশ বাহিনীতে ছি ছি করে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠা বেনজির কায়দা করে এডিশনাল এসপি আনোয়ারের চাকরিজীবন দুর্বিসহ করে তোলে। তার পদোন্নতি আটকে দেয়া হয়, নানাবিধ উপায়ে বিভাগীয় মামলার ফাঁদে ফেলে। যেখানে আনোয়ার কামালের এতদিনে সিনিয়র ডিআইজি থাকার কথা, অথচ বেনজির সেটা সিস্টেম করে গতবছর পর্যন্ত তাকে এসপি র্যাং কে আটকে রাখে, শেষে গতবছর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়।

ডিএমপিতে থাকাকালে নিজ কন্যার বয়সী এক নবীন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাগিয়ে ফেলেন বেনজির। ৩০তম বিসিএস ব্যাচের পুলিশ অফিসার লাস্যময়ী সোনালী সেনের সাথে বেনজিরের এডাল্ট রিলেশন্স ছিল ওপেন সিক্রেট। এর বিনিময়ে সোনালীকে প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার সুযোগ তৈরি করে দেন। পরে এ নিয়ে বেনজিরের স্ত্রীর চিৎকার চেচামেচি ও উপর্যুপরি অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোনালী সেনকে খুলনা মেট্রপলিটান পুলিশে বদলী করে আইজিপি। খুলনাতে পাঠানোর পরও বেনজিরের প্রেম কমেনি। এরি মাঝে বেনজির সুন্দরবন বেড়াতে যায়। সুন্দরবন যাবার সময় খুলনা থেকে সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালীকে সাথে নিয়ে যায়। তিন দিন তিন রাত একসাথে থাকে বেনজির ও সোনালী। এই সুন্দরবন অভিসার নিয়ে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টে তোলপাড় ওঠে- লিফলেট বের হয় অফিসারদের মাঝে। অন্যদিকে সুন্দরবনের কাহিনীর পরে সোনালীর পরিবারে মারাত্মক গোলমাল লাগে। সোনালীর স্বামী খুলনা শিশু হাসপাতালেল ডাক্তার। একপর্যায়ে ডিভোর্স দিতে চেষ্টা করেন, কিন্তু বেনজিরের হুমকিতে আর আগাতে পারেনি। শেষে সোনালীর স্বামী ড্রাগ ধরে, বর্তমানে সে ড্রাগ এডিক্ট।

১৯৯২ সনে বেনজির ডিএমপিতে এসি(ফোর্স) থাকাকালে ফোর্সের অবিলিকৃত সাত লক্ষ টাকা মেরে দেন। এতে বিভাগীয় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। তার শ্বশুর ৭৩ ব্যাচের জহুরুল ইসলাম, স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসএস এ এন হোসেনের কাছে বার বার ধর্না দিয়ে শেষে টাকা ফেরত দেন। তবে বেনজিরকে গুরুদন্ড দেয়া হয়, কয়েক বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত থাকে। বিএনপির গত আমলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর সাহেব বেনজিরকে এআইজি (ট্রেনিং) মত গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান। সেখানে বেনজির ক্ষমতার অপব্যবহার ও উৎকোচের বিনিময়ে বিদেশ ট্রেনিংয়ের নাম ঢোকাতেন। একদা চাইনিজ এক ডেলিগেশন পুলিশ সদরে গেলে আইজি শহুদুল হককে পাশ কাটিয়ে তাদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন বেনজির। এরপর আইজি বা মিনিষ্ট্রিকে না জানিয়ে গোপনে সে সরাসরি পত্র দেয় চাইনিজ এম্বেসিতে। চাইনিজ সরকার বাংলাদেশী পুলিশ অফিসারদের জন্য ট্রেনিং অফার করে পরে ট্রেইনিদের নাম চেয়ে পত্র দেয়। সেই চিঠি পেয়ে আইজি মন্ত্রী তো অবাক! মন্ত্রনালয়কে না জানিয়ে এম্বেসিতে সরাসরি চিঠি দেয়ার দায়ে আবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও সারদায় বদলী হয়। আবার গুরুদন্ড- দুই বছরের জন্য প্রমোশন স্থগিত। এর আগে নারায়নগঞ্জে এএসপি সার্কেল থাকাকালে ঘুষ ও অনিয়মের অপরাধে প্রসিডিং এবং গুরুদন্ড দেয়া হয়।

পরনারীতে আসক্ত দুর্নীতি লব্ধ অর্থ ব্যয় করে বেনজির নিজের মেয়েদের নিরাপদে রাখতে খুব চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বেড় মেয়ে রিশতাকে পাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সটিতে। নিউ ইয়র্ক শহরের লং আইল্যান্ড সিটিতে ৬ মিলিয়ন ডলারে বাড়ি কিনে মেয়েকে রেখেছেন। হাই-ফাই ফেরারি গাড়ি চালিয়ে উদ্যাম জীবন যাপন করে রিশতা। (গাড়ি বাড়ির নম্বর ঠিকানা সংরক্ষিত আছে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

খুন গুমের শিরোমনি বেনজির শেষ সময়ে আতংকে: বিএনপিকে সাহায্যের বিনিময়ে বাঁচতে চাইছেন!

Content Protection by DMCA.com

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বিএনপির এক শীর্ষ নেতার লন্ডনে ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। জ্বি হ্যা, তার নাম বেনজির আহমেদ, র্যা বের মহাপরিচালক। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার এই ৮৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাটি পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ক্রিমিনাল এবং ক্রুয়েলিটির জন্য কুখ্যাত হয়ে থাকবেন। সম্প্রতি তাকে পেয়ে বসেছে গণধোলাইয়ের আতঙ্কে! গতমাসে তিনি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ঘুরেছেন মাসখানেক- বিনিয়োগকারী কোটায় ইমিগ্রান্ট হওয়ার আয়োজন করে এসেছেন। তার ক্যাশ ডলারের স্যুটকেস নিয়ে সঙ্গীরা তার পিছে পিছে ঘুরছে- কোথায় ইনভেস্ট করা যায়। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের বাঙালি কমিউনিটিতে বিষয়টি এখন চাউড়।

কিন্তু এত শক্তিমান পুলিশ অফিসার বেনজিরের কেন এই মৃত্যুভীতি? এটা কে না জানে যে, বেনজির আহমেদ ডিএমপি কমিশনার ও ডিজি র্যা ব থাকাকালে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষত বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা গুম খুনের শিকার হয়েছে, তারই নির্দেশে। আগামী ডিসেম্বরের পরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারি সরকারের অবসান হলে বেনজিরদের উপর যে প্রতিশোধ নেয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছেই। তখন যে কারও জান টিকবে না, তা সকলেই অবহিত। তাই বিদেশে সেকেন্ড হোম, থার্ড হোম করে রেখেছেন সর্বকালের ধনী এইসব পুলিশ অফিসারা। লুটপাটের হাজার হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার মত দেশে সরিয়ে ফেলেছেন। বেনজিরের সহকর্মীরা জানান, তার সম্পদের পরিমান অন্তত দশ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে। নিকটস্থদের কাছে বলেছেন, জীবনই যদি না টিকে, তবে এইসব টাকার পাহাড় দিয়ে কি হবে? টাকাপয়সা সরানো হয়েছে, গন্ডগোল লাগলে নিজের জানটাকে নিয়ে সরে পড়বেন, এটা সহকর্মীদের বয়ান!

২০১০ সালের অক্টোবের বেনজির নিয়োগ পান ঢাকার পুলিশ কমিশনার পদে, পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে র্যা বের ডিজি পদে। এই আট বছরে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাশ উপহার দিয়েছেন তিনি। বলা হয় ঢাকার কোতায়াল বেনজির। গোপালগঞ্জের অধিবাসী হওয়াতে তার একটু বেশি বেশি বাড়াবাড়ি- শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে ডাকেন তিনি। আপার নির্দেশ ছাড়া তিনি কাউকেই শুনতে চাননা। কিসের আইজি, আর কিসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? সম্ভবত পুলিশ অফিসারদের মধ্যে সবচেয়ে পাওয়ার খাটানো অফিসার হলেন বেনজির। এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় শিরোমনি তিনি!

ছাত্র জীবনে ইসলামী সংগঠনের সাথে ওঠা বসার কথাও শোনা গেলেও বিরোধী মতকে ডাণ্ডা ও গুলিবন্দুক দিয়ে নিমর্মভাবে দমন, গুম, খুন, অপহরণের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ববান বেনজির সবকিছু ছপিয়ে ফেলেছেন, এমনকি বিএনপির আমলে এসএসএফে কাজ করার রেকর্ডও। এসএসএফ বাহিনীতে নিয়োগদানের অন্যতম শর্ত হলো বিশ্বস্ততা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ। অন্তত বিএনপি তো তা নিশ্চিত হয়েই তাকে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিকিউরিটি অফিসার বানয়েছিল!

ডিএমপি কমিশনার থাকাকালে ২০১৩ সালে শাপলা চত্তরে রাতের আঁধারে হেফাজতের আলেম হাফেজ গণহত্যার মূল কমান্ডার ছিলেন বেনজির। তার অধীনেই সবগুলি বাহিনী ঐ হত্যাকান্ড চালায়। তারই নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে চেয়ারপারসনের রুমের দরজা কুড়াল দিয়ে ভেঙ্গে শতাধিক নেতাকে আটক করে নিয়ে যায় এডিসি মেহেদী! সরাসরি গুলি করে রাজনৈতিক সমাবেশ পন্ড করার হুকুমদাতা ছিলেন ডিএমপি কমিশনার বেনজির। ‘শিবির দেখামাত্রই গুলি’- বক্তব্য দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বেনজির শেখ হাসিনার নজর কাড়েন। ২০১৪ সালে বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে র্যা বের ডিজি হয়ে বেনজির তা প্রকাশ করেছিলেন রংপুরে। সুধী সমাবেশে তিনি হুংকার দিয়েছিলেন, “২০১৩ সালের মতো একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠিস্বার্থ উদ্ধারে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করেছে। তারা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেয়ার আর অল টেরোরিস্ট।’ বেনজির তার ভাষায় ঐ ‘টেরটিস্টদের’ পরপারে পাঠিয়ে হাসিনার গদি নিরাপদ করেছেন!

র্যা বের দায়িত্বে থেকে বেনজির ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক জঙ্গি অভিযান চালিয়েছেন, যার বেশীরভাগই ছিল সাজানো। এক্ষেত্রে তার অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছে ৮ ব্যাচ জুনিয়র তারই এলাকার অধিবাসী ডিআইজি মনিরুল। কাউন্টার টেররিজম সেলের মনিরুলের টিম এবং র্যা বের বিভিন্ন ইউনিট রাজধানী ও বিভিন্ন স্থান থেকে যুবকদের ধরপাকড় করে কিছু কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বাকীদের গতি হয় জঙ্গি উৎপাদন কেন্দ্রে। এদেরকে অস্ত্র সম্পর্কে কিছু বেসিক জ্ঞান দিয়ে, চুল দাড়ি না কেটে ‘ইসলামী জঙ্গি’ লেবাস বানিয়ে তাদের দ্বারা অডিও ভিডিও করে ফেইক জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে স্টক শতাধিক হয়ে গেলেই একটি অভিযান করার রেওয়াজ হয়ে যায় ২০৫-১৬ সালে। এরূপ অভিযানই হয় গুলশানে, উত্তরা, আজিমপুর, কল্যাণপুর, ফতুল্লা, এমনকি কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে। বেনজিরের পরিচালিত র্যা ব কতৃক অপহরণ, খুন খারাবি, ক্রস ফায়ার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। সুইডিস রেডিও র্যা বের ক্রসফায়ারের নাড়ি নক্ষত্র ফাঁস করে দেয়ার পরে ঐ প্রতিবেদনে তথ্য প্রদানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যা বের নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল একে আজাদকে সিলেটের আতিয়া মহলে খুব কৌশলে খরচ করে দেয়া হয় বেনজিরের সিদ্ধান্তে! এনিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে তার গোলমাল আছে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে বেনজির সেনাবাহিনীর টার্গেট হতে পারেন।

প্লেবয় চেহারার বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে বেশ নাম কামিয়েছেন বাহিনীতে। ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন টিভিতে শো-তে উপস্থিত হয়েছেন বহুবার। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী ও তিন সাবালক কন্যা থাকলেও নাটক-সিনেমা জগতের সুন্দরী শিল্পী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী, প্রতিকারপ্রার্থী, এমনকি একাধিক ছাত্রদল নেত্রীকেও শয্যসঙ্গী করেছেন বেনজির। এর আগে ইডেন কলেজের শারমিন নামের এক মেয়েকে অন্তসত্তা করে নিজের ড্রাইভার দিয়ে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে এবরশন করায় বেনজির। শারমিনের ভাই দুলালকে চাকরী দেবে এমন শর্তে দিনের পর দিন শারমিনকে ব্যবহার করে বেনজির। কিন্তু পরে চাকরী আর দেয়া হয় না দুলালকে। পুলিশের সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদ প্রতিদিনই নতুন মেয়ের অপেক্ষায় থাকে। তাকে যে যতো মেয়ে সাপ্লাই করবে সে স্যারের কাছে ততবেশি প্রিয়। অশ্লিল সিনেমার নাম্বার ওয়ান পরিচালক রাজু চৌধুরীর হাত ধরে বেনজিরের সাথে পরিচয় হয় চিত্রনায়িকা কেয়ার। এরপর নিয়মিত কেয়ার সাথে বিশেষ একটি ফ্লাটে মিলিত হতেন বেনজির। কেয়াকে দীর্ঘকাল রক্ষিতা বানিয়ে রাখে বেনজির। কিন্তু পরিবারে অভাবের কারনে কেয়া যখন এই শৃংখল থেকে বেরুতে চায়, তখন বেনজির কেয়াকে হুমকি দেয়। পরে কেয়া লুকিয়ে লুকিয়ে মিডিয়ার ব্যক্তিদের সাথে নতুন করে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে। এই খবর বেনজিরের কানে এলে বেনজির কেয়াকে মারধর করে। পরে কেয়াকে গুলশানের একটি বাসায় কলগার্ল সাজিয়ে আটক করে পুলিশ। কেয়ার এই খবরটি পরে পুলিশ সদর দফতর মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ চাউর করে। ঘটনার সত্যতা জানতে কেয়ার ফ্লাটে গেলে কেয়ার মা প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। পরে তাকে অভয় দিলে তিনি নাম পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমার মেয়েকে অভিনয় থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে এনে দিনের পর দিন নষ্ট করেছে এই ভদ্রবেশি পুলিশ কর্মকর্তা। তার কথা না শোনার অপরাধে কেয়াকে অনেক মারধর করেছে। পরে পুলিশ দিয়ে পতিতা বানিয়ে অ্যারেস্ট করে ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে এই বিচার ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহই বেনজির পাষন্ডের বিচার করবেন।

পরে বেনজির মত্ত হন ছোট পর্দা ও রূপালী পর্দার আরেক সেনসেশন বিদ্যা সিনহা মীমের সাথে। মীমের গুলশানের বাসায় প্রায় প্রতিদিনই একবার আসা যাওয়া আছে বেনজিরের। বিনিময়ে মিমের অনেক কাজ করে দেন বেনজির। মীম ও বেনজিরের এই ঘটনা জেনে ফেলায় তোফায়েলের আপন ভাগ্নে ভোলার নতুন পৌর মেয়র মনিরুজ্জামানের সাথে হাতাহাতি হয় বেনজিরের। ভোলায় জন্ম নেয়া মীম লাক্স সুপার স্টার হয়ে পাড়ি জমান রাজধানীর কল্যাণপুরে মামার বাড়িতে। পরে মীমকে গুলশানে একটি বিলাসবহুল ফ্লাট গিফ্ট করেন ভোলার মেয়র মনিরুজ্জামান। এর বিনিময়ে মনির প্রতিসপ্তাহে মীমের বাসায় সময় কাটাতেন। কিন্তু বেনজির যখন মীমের কাছে আসা যাওয়া শুরু করে তখন মনির বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। মনির এক রাতে মীমের বাসায় অবস্থানকালে সেই রাতে হুট করে বেনজির চলে আসে মীমের বাসায়। এনিয়ে বেনজির ও মীমের মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে ঝগড়া গড়ায় মনির ও বেনজিরের মধ্যে। বেনজিরের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় মনির। বেনজির মনিরকে গেপ্তার করতে পুলিশ ডাকলে মনির বিষয়টি তার মামা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদকে জানায়। বেনজিরকে ফোন করে তোফায়েল আহমদ। বেনজিরকে শাসিয়ে কথা বললে বেনজির ক্ষিপ্ত হয়ে তোফায়েলকে বলেন, আমি হাসিনা ছাড়া কাউকে চিনি না। পরে পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত আইজি শহিদুল হকের সমঝোতায় ঐ দিনের জন্য বিষয়টি মিমাংসায় গড়ায়। এরপর তানিয়া আহমেদের ছবির শ্যুটিয়ের জন্য মীম লন্ডন চলে যায়, আর মনের কষ্টে মনিরও সস্ত্রীক ব্যাংকক চলে যায়।
পুলিশের কয়েকটি সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদের রক্ষিতা আছে বেশ ক`জন। তাদের তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়ে, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র্যা ম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে। বেনজিরের নারী ঘটিত বিষয়টি জানেন তার স্ত্রীও। একারনে তার স্ত্রী ঝগড়া করে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলেও গিয়েছিলেন। পরে সন্তানদের কথা চিন্তা করে আবার ফিরেও আসেন। বেনজির পুরো পরিবার নিয়ে পুর্তগাল সফরে গেলে সেখানে তার স্ত্রীর সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তার স্ত্রীর একটি সুত্র জানায়, একটি বীচে বেনজিরকে অচেনা একটি মেয়ের সাথে চুম্বন অবস্থায় দেখে ফেলে তার স্ত্রী। পরে বেনজিরকে তার স্ত্রী থাপ্পর পর্যন্ত মারে। বেনজিরের বড় মেয়েকে নিয়ে হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে আসে তার স্ত্রী। বিষয়টি বাঙ্গালি কম্যুনিটিতে গড়ায়।

বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ব্লাকমেইল করে বেনজির চেষ্টা করেন আইজিপির পদ দখল করতে। জাতিসংঘে যাওয়ার আগে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে বেনজির প্রস্তাব দেন- পাটোয়ারীকে সরিয়ে তিনি আইজিপি করতে, আসাদুজ্জামানকে এডিশনাল আইজিপি প্রশাসন, মনিরুলকে ডিএমপি কমিশনার বা র্যা বের ডিজি করতে। সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে নির্বাচনে উঠিয়ে দেয়ার রিস্ক নিতে চাইছিলেন বেনজির। কিন্তু গোপালী টিমের এই উচ্চাভিলাশী পরিকল্পনা আস্থায় নিতে পারেননি শেখ হাসিনা। তার জানা আছে, পুলিশের ভেতরে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ অবস্থার কথা, আগামীতে ম্যাসাকার হওয়ার আশংকার ভেতরে আর বিপদ বাড়াতে চান না। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন বেনজির। এরপরেই ক্ষমতা বদলের পরে নিরাপদ উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি লাইন ধরে হাটা শুরু করেন। তার ব্যবসায়িক পার্টনারের মাধ্যমে এগিয়ে যান বিএনপির আস্থায় আসতে। বিদেশী নম্বরের আলাদা সিমকার্ড ও অ্যাপস ব্যবহার করে বিএনপির হাইকমান্ড ও পুলিশ সমন্বয়কদের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে সময়মত বিএনপিকে সহযোগিতা করার বিনিময়ে নিজের অপকর্মের দায়মুক্তি চান অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন বেনজির আহমেদ।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

ঐক্যজোট গঠন থামানোর ব্যর্থতায় ডিজি জিএফআইকে প্রধানমন্ত্রীর ধমক!

Content Protection by DMCA.com

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠনের প্রকৃয়া দীর্ঘসূত্রিতায় আটকা পড়ে। বিকল্প ধারাকে দিয়ে নানা শর্তের প্যাচ খেলে ঐক্য গঠন প্রকৃয়াকে থামিয়ে রাখে দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। বিকল্পধারার প্রধান ডা. বি চৌধুরীর পুত্র মাহি বি চৌধুরীকে এক্ষেত্রে বিএনপির বিরুদ্ধে ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু গতকাল শনিবার ঐক্য গঠন নিয়ে এক ক্যু করে ফেলে বিএনপি। অবশেষে বি চৌধুরী এবং তার গংকে বাদ দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, জাসদ, এবং নাগরিক ঐক্য সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠন করে সাংবিাদিক সম্মেলন করে।

ঐক্যজোট গঠনের খবরে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নেন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে। শুরু করেন ধমক, “আপনাদের কথায় আমি সায় দিলাম, অথচ আটকাতে পারলেন না ঐক্য! খালেদা জিয়া কি করে হাসপাতাল থেকে ক্যু করে ফেলল? এখন কেমন করে সামলাবেন?” জেনারেল সাইফুল আমতা আমতা করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি টেনশন করবেন না, আমরা দেখছি।”

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

ছেলের চেয়ে কম বয়সী শেখরের সাথে হাসিনার যৌন সম্পর্ক

Content Protection by DMCA.com

কানাডা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সেক্সুয়াল রিলেশন রয়েছে। এনিয়ে স্ত্রীর সাথে শিখরের বাদানুবাদ হয়, ঝগড়া করে বাপের বাড়ি যাওয়ার পরে তাকে বোঝাতে গিয়ে টেলিকথপোকথন এনটিএমসিতে রেকর্ড হয়। এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হন, এবং এ সংক্রান্তে তথ্য জোগাড় করতে থাকেন।

বিভিন্ন কথপোকথন থেকে ব্রিগেডিয়ার জিয়া জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে হাই ডোজের ঔষধ খান, এবং হরমোন নিয়ে যৌনশক্তি ধরে রেখেছেন। অফিস সময়ের পরে বিকালে বা রাতে শেখরকে গণভবনে ডেকে নিয়ে মিলিত হন শেখ হাসিনা। শিখরের গাড়িতে সব সময় ভায়াগ্রা থাকে, যা একবার শিখরের স্ত্রীর হাতে ধরা পড়ে। এনিয়ে গন্ডগোল শুরু হয়, যা আত্মীয় স্বজন পর্যন্ত গড়ায়। পরে শিখর তাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করেন- আমি যা কিছু করছি চাকরির জন্য করছি, রাজনীতির ক্যারিয়ারের জন্য। এর বিনিফিশিয়ারী তোমরাই হবে। কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু করলে নিজেও বাঁচবনা, তোমাদেরও বাঁচাতে পারব না। শাকিলের মত মেরে ফেলবে।

সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনের আ’লীগের প্রয়াত এমপি আসাদুজ্জামানের ছেলে। শিখর ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন, কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন শিখর। উল্লেখ্য, শিখরের জন্ম ১৯৭১ সালের অক্টোবরে, যিনি বয়সে শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের চেয়ে পাঁচ মাসের ছোট!

এদিকে শেখ হাসিনার সাথে সম্পর্কের জোরে শিখর তার নিজ জেলা মাগুরার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসেন। জেলার মন্ত্রী বীরেন শিকদারকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে শিখর নিজেই মাগুরা-২ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তৈরী হয়েছেন, এবং মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শিখর সবচেয়ে বড় উদাহরন হিসাবে ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনার দীর্ঘ দিনের বয়ফ্রেন্ড মৃনাল কান্তি দাসকে, যিনি এখন মুন্সিগঞ্জ-৩ এলাকার সংসদ সদস্য।

মৃনাল সম্পর্কে শেখ হাসিনার ১৭ বছরের বিশেষ সহকারী মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থে লিখেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশে আসার পর থেকে শেখ হাসিনা তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কখনোই একটি দিন বা একটি রাত কাটাননি। তার স্বামী ড. ওয়াজেদ প্রথম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মহাখালির আনবিক কমিশনের কোয়ার্টারেই কাটিয়েছেন।

মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহনযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি। ১৯৯০ সালের একদিন সাজেদা চৌধুরীর উপস্থিতিতে মৃনাল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদককে অপমান করে বসে। বিষয়টি কার্যনির্বাহী কমিটিতে তোলা হলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। দিনে দিনে মৃনালের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বাড়তেই থাকে। এমনকি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আত্মীয় এপিএস বাহাউদ্দিন নাছিম, সিকিউরিটি চীফ নজিব আহমেদ মৃনালের ফুট ফরমায়েশ খেটে ধন্য হতো। একদিন বঙ্গবন্ধু ভবনে বিকাল ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জনকে নিয়ে তাশ খেলছিলো মৃনাল। এমন সময় শেখ হাসিনার একমাত্র জীবিত মামা আকরাম (সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি) এসে খুব অশ্লীলভাবে বলে, “এই মৃনাল, যাও। সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। খায়নি কিছু্।” মৃনাল জবাব দেয়, “তাতে কি, থাকুক না আরো কতক্ষণ ক্ষুধার্ত।” মৃনাল তার ক্ষমতা দেখানোর জন্য আরো কিছুক্ষণ তাশ খেলে। এভাবেই মৃনাল নিজেকে জাহির করে, সে হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধীশ্বর। মৃনাল ক্রমশ উদ্ধত হয়ে উঠে, ফলে হাসিনার সাথে মনোমালিন্য হয়। মৃনাল কয়েকবার বঙ্গবন্ধু ভবন ছেড়ে যায়। হাসিনা বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার তাকে ফেরত আনে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে শেখ হাসিনা ওঠেন ২৯ মিন্টু রোডের বাড়িতে। সেখানে তার সাথে যায় মৃনাল, আর তিন নিকটাত্মীয় নজীব, নাসিম, আর নকিব। এ বাড়িতে তিনজন নিকটাত্মীয়ের সাথে একত্র থাকতে অপছন্দ করে মৃনাল। এক পর্যায়ে মৃনাল মিন্টু রোড ছেড়ে চলে গেলে হাসিনা আর তাকে ফেরত আনেনি। এ সময়ে মৃনাল নানা জনের কাছে বলতে থাকে, হাসিনার সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা। এমনকি সে খুব গর্ব করেই বলতো, “শেখ হাসিনার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আমার চেনা।”

তবে শেখরের স্ত্রী তার স্বামী, দুই মেয়ে এবং এক পুত্রের জীবন নিয়ে আশংকায় আছেন। কেননা, একই রকম সম্পর্কে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম শাকিলকে জীবন দিতে হয়েছিল বছর দুয়েক আগে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

‘হাসিনা খতম হবে; লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না’ : ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান

Content Protection by DMCA.com

কানাডা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সময় শেষ, তার লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমনই কঠিন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান! অথচ এক সময় র্যাবে থাকতে এই জিয়াউলই ছিলেন হাসিনার বিশ্বস্ত, এবং শত শত খুন গুমের হোতা। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুত্র জয়, ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের রাষ্ট্রবিরোধী নানা গোপন নির্দেশ, দুর্নীতির প্রমান সম্বলিত টেলিকথপোকথনের রেকর্ড এখন ব্রিগেডিয়ার জিয়ার হাতে। মূলত হাসিনার প্রাণ ভোমরা জিয়ার কব্জায়!

দীর্ঘ সাত বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের জন্য তার কৃত খুন-গুম-অনিয়ম কর্মকান্ডের ব্যাক-আপ হিসাবে নিজের সেফ কাস্টডিতে রেখে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জিয়া। কিন্তু বন্ধুদের নিয়ে মদের আসরে বেসামাল অবস্থায় গল্পে গল্পে সেটা তার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলে এক কান দু’কান হয়ে পৌছে যায় শেখ হাসিনার কানে। এরপরে শেখ হাসিনাও সতর্ক হয়ে যান। জিয়ার ব্যাপরে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন- ‘ওর কাজ শেষ, তাই সাফ করে ফেলো’- এমন নির্দেশ দেন। মোটকথা, সাক্ষ্য প্রমান মুছে ফেলতে ব্রিগেডিয়ার জিয়াকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন খবর পাওয়ার পরে জিয়াউল আহসান পালিয়ে গেছে কানাডায়। যদিও বছরখানেক আগে জিয়া একবার কানাডা চলে গিয়েছিলেন, তবে পরে আবার ফিরে আসলেও সেনাবাহিনী তাকে গ্রহন করতে রাজী হয়নি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুলকে গুম করার মূল কারিগর ছিলেন র্যাবের পরিচালক এই জিয়া। বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকেও উঠিয়ে নিয়ে কয়েক মাস গুম করে রাখে এই জিয়াই। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হেফাজত গণহত্যার অপারেশন ইনচার্জ ছিলেন কর্নেল জিয়া, টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি তা নিজেই স্বীকার করেছেন। সৌদি কূটনীতিক খালাফ আলী হত্যা, সাংবাদিক জুটি সাগর-রুনির হত্যাকান্ড এবং নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনার সাথে সাংঘাতিকভাবে জড়িত ছিলেন কর্নেল জিয়াউল হাসান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বানচাল করতে এবং বিরোধী দল নিধনের মূল হাতিয়ার ছিল এই জিয়া।

জিয়াউলে আহসানের কর্নেল/ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ৭ বছর র্যাবে অবস্খানকালে দেশজুড়ে বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মী হত্যা/গুমের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক গুম ও খুনে তিনি যেমন সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন, তেমনি মাঠের কাজও তত্ত্বাবধান করতেন। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়। এরি মাঝে তাকে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি হয় এবং সর্বশেষে বসানো হয় টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান হিসাবে। ২০১৬ সালের মার্চে এনটিএমসিতে বসার পরে ব্রিগেডিয়ার জিয়া বিরোধী রাজনীতিকের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পাতার অধিকার লাভ করে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকতেন। তবে জিয়াউল আহসান যতখানি না শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, তারও চেয়ে বেশী ছিলেন অনুগত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর অনুগত।

ব্রিগেডিয়ার জিয়ার কাছে শেখ হাসিনার গোপন অডিও রেকর্ড আছে, এবং তা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে, এমন খবর জানার পরে তাকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় শেখ হাসিনার। এর পরেই তাকে ক্রস ফায়ার বা গাড়ি এক্সিডেন্ট করে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাকে খেয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত এমন নিশ্চিত খবর পাওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরী করেনি ব্রিগেডিয়ার জিয়া। র-য়ের সাহায্য নিয়ে গত সপ্তাহে সপরিবারে ভারত হয়ে পৌছে গেছেন কানাডায়। আপাতত অন্টারিও প্রদেশে মিনহাজের বাসায় উঠলেও সহসাই নিজের বাড়িতে উঠবেন। নিরাপত্তার কারনে ঘন ঘন ফোন নম্বর বদলাচ্ছেন। অচিরেই খুব গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হবে তার। এরপরে শেখ হাসিনার অনেক চ্যাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ অনলাইনে আসবে। হাসিনার পতন এমন ভাবে হবে যে তার লাশও হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না, মন্তব্য ব্রিগেডিয়ার জিয়ার।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Content Protection by DMCA.com

সিনহার বইয়ে নানা অভিযোগ এবং নারী ঘটিত কেলেঙ্কারী : আবেদীনের পরিবারে ঝড়!

Content Protection by DMCA.com

সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে নানাবিধ খবরের পরে রেশ বইছে তার ডিপার্টমেন্ট এবং পরিবারে। এ নিয়ে নিজ গৃহে চলছে বিবাদ। স্ত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা ক্যামেলিয়া চড়াও হয়েছে আবেদীনের ওপরে। কথা বলে অভিযোগ করেছেন তার বন্ধু বান্ধব ও স্বজনদের সাথে। এর মধ্যে সাবেক ক্লাশমেট তুরিন আফরোজও আছেন। সাংঘতিক সে ক্যাচাল পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে বাইরে চলে এসেছে।

বন্ধুবান্ধব সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ক্যমেলিয়া বলেছেন,”তোমার এইসব অপকর্মের খবর ছড়িয়েছে সারা দেশে, এখন মুখ দেখাব কিভাবে। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্টে ভাবীরা এ নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় ব্যস্ত। ক্লাব পার্টি সব শেষ। এনিয়ে তোমাকে বহুত মানা করেছি, কিন্তু তুমি আর ভালো হলে না। শেষ পর্যন্ত মেয়ের চেয়েও ছোট বয়সী নিয়ে!! ছি ছি ছি! তোমার কি ভীমরতিতে ধরেছে। আমি আর পারছি না।”

অন্যদিকে আবেদীন সাহেবও স্ত্রীর ওপর পাল্টা চোটপাট নেন, “এই সামান্য বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তুমিই বড় করেছে! এক কান দু’কান ঘুরে এখন রাষ্ট্র হয়েছে। তোমাদের মেয়েদের নিয়ে এই এক বিপদ। নিজেরা যা বোঝো, সেটা নিয়েই থাকো। প্রফেশনের জন্য আমাকে কত যায়গায় যেতে হয়, কতকিছু করতে হয়, অথচ তোমরা থাকো বিছানা আর মেয়েলী ইস্যু নিয়ে! এখন ডিপার্টমেন্ট আমার মুখ দেখানোই দায় হয়ে পড়েছে।”

পরিবারিক বন্ধু কর্নেল পদমর্যাদার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “পারিবারিক কলহের খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই, কিন্তু পারিবারিক বিবাদের মধ্যে কতটা আর কি করা যায়? তাও আমরা বুঝিয়ে এসেছি। ভাবী তো ভীষন ক্ষেপে গেছেন। বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এমনকি আমেরিকাতে মেয়ের কাছেও চলে যেতে পারেন। যাই হোক, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদেরকে মানিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে এসেছি।”

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, ডিজি ভীষন ডিস্টার্বড। অফিসারদের উপর চড়াও হচ্ছেন কারনে অকারনেই। এসব খবরের সুত্র বের করার জন্য তিনি সর্বতোভাবে লাগার হুকুম জারী করেছেন। আইটি বিভাগেকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন এর সোর্স বের করতে, কারা কোত্থেকে এত খবর প্রকাশ করে। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্টের কিছু কিছু অফিসারদের প্রতি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ফোন কল এবং নেট কানেকশন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিপার্টেমেন্টর ভিতরে চলছে জরুরী অবস্থা। ডিজি এখন ভয়ে আছেন, কখন প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ডাক পড়ে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Photo source: Facebook

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries Recent Entries »