Category Archives: গোপন তথ্য

খুন গুমের শিরোমনি বেনজির শেষ সময়ে আতংকে: বিএনপিকে সাহায্যের বিনিময়ে বাঁচতে চাইছেন!

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বিএনপির এক শীর্ষ নেতার লন্ডনে ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। জ্বি হ্যা, তার নাম বেনজির আহমেদ, র্যা বের মহাপরিচালক। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার এই ৮৫ ব্যাচের পুলিশ কর্মকর্তাটি পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ক্রিমিনাল এবং ক্রুয়েলিটির জন্য কুখ্যাত হয়ে থাকবেন। সম্প্রতি তাকে পেয়ে বসেছে গণধোলাইয়ের আতঙ্কে! গতমাসে তিনি অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে ঘুরেছেন মাসখানেক- বিনিয়োগকারী কোটায় ইমিগ্রান্ট হওয়ার আয়োজন করে এসেছেন। তার ক্যাশ ডলারের স্যুটকেস নিয়ে সঙ্গীরা তার পিছে পিছে ঘুরছে- কোথায় ইনভেস্ট করা যায়। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের বাঙালি কমিউনিটিতে বিষয়টি এখন চাউড়।

কিন্তু এত শক্তিমান পুলিশ অফিসার বেনজিরের কেন এই মৃত্যুভীতি? এটা কে না জানে যে, বেনজির আহমেদ ডিএমপি কমিশনার ও ডিজি র্যা ব থাকাকালে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষত বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা গুম খুনের শিকার হয়েছে, তারই নির্দেশে। আগামী ডিসেম্বরের পরে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারি সরকারের অবসান হলে বেনজিরদের উপর যে প্রতিশোধ নেয়া হবে, তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছেই। তখন যে কারও জান টিকবে না, তা সকলেই অবহিত। তাই বিদেশে সেকেন্ড হোম, থার্ড হোম করে রেখেছেন সর্বকালের ধনী এইসব পুলিশ অফিসারা। লুটপাটের হাজার হাজার কোটি টাকার সিংহভাগ আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার মত দেশে সরিয়ে ফেলেছেন। বেনজিরের সহকর্মীরা জানান, তার সম্পদের পরিমান অন্তত দশ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে। নিকটস্থদের কাছে বলেছেন, জীবনই যদি না টিকে, তবে এইসব টাকার পাহাড় দিয়ে কি হবে? টাকাপয়সা সরানো হয়েছে, গন্ডগোল লাগলে নিজের জানটাকে নিয়ে সরে পড়বেন, এটা সহকর্মীদের বয়ান!

২০১০ সালের অক্টোবের বেনজির নিয়োগ পান ঢাকার পুলিশ কমিশনার পদে, পরে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে র্যা বের ডিজি পদে। এই আট বছরে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ সংখ্যক লাশ উপহার দিয়েছেন তিনি। বলা হয় ঢাকার কোতায়াল বেনজির। গোপালগঞ্জের অধিবাসী হওয়াতে তার একটু বেশি বেশি বাড়াবাড়ি- শেখ হাসিনাকে ‘আপা’ বলে ডাকেন তিনি। আপার নির্দেশ ছাড়া তিনি কাউকেই শুনতে চাননা। কিসের আইজি, আর কিসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী? সম্ভবত পুলিশ অফিসারদের মধ্যে সবচেয়ে পাওয়ার খাটানো অফিসার হলেন বেনজির। এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় শিরোমনি তিনি!

ছাত্র জীবনে ইসলামী সংগঠনের সাথে ওঠা বসার কথাও শোনা গেলেও বিরোধী মতকে ডাণ্ডা ও গুলিবন্দুক দিয়ে নিমর্মভাবে দমন, গুম, খুন, অপহরণের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ববান বেনজির সবকিছু ছপিয়ে ফেলেছেন, এমনকি বিএনপির আমলে এসএসএফে কাজ করার রেকর্ডও। এসএসএফ বাহিনীতে নিয়োগদানের অন্যতম শর্ত হলো বিশ্বস্ততা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ। অন্তত বিএনপি তো তা নিশ্চিত হয়েই তাকে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সিকিউরিটি অফিসার বানয়েছিল!

ডিএমপি কমিশনার থাকাকালে ২০১৩ সালে শাপলা চত্তরে রাতের আঁধারে হেফাজতের আলেম হাফেজ গণহত্যার মূল কমান্ডার ছিলেন বেনজির। তার অধীনেই সবগুলি বাহিনী ঐ হত্যাকান্ড চালায়। তারই নির্দেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে চেয়ারপারসনের রুমের দরজা কুড়াল দিয়ে ভেঙ্গে শতাধিক নেতাকে আটক করে নিয়ে যায় এডিসি মেহেদী! সরাসরি গুলি করে রাজনৈতিক সমাবেশ পন্ড করার হুকুমদাতা ছিলেন ডিএমপি কমিশনার বেনজির। ‘শিবির দেখামাত্রই গুলি’- বক্তব্য দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বেনজির শেখ হাসিনার নজর কাড়েন। ২০১৪ সালে বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে র্যা বের ডিজি হয়ে বেনজির তা প্রকাশ করেছিলেন রংপুরে। সুধী সমাবেশে তিনি হুংকার দিয়েছিলেন, “২০১৩ সালের মতো একটি গোষ্ঠী তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠিস্বার্থ উদ্ধারে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা দেশের গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করেছে। তারা উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। দেয়ার আর অল টেরোরিস্ট।’ বেনজির তার ভাষায় ঐ ‘টেরটিস্টদের’ পরপারে পাঠিয়ে হাসিনার গদি নিরাপদ করেছেন!

র্যা বের দায়িত্বে থেকে বেনজির ঢাকা শহর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক জঙ্গি অভিযান চালিয়েছেন, যার বেশীরভাগই ছিল সাজানো। এক্ষেত্রে তার অন্যতম হাতিয়ার হিসাবে কাজ করেছে ৮ ব্যাচ জুনিয়র তারই এলাকার অধিবাসী ডিআইজি মনিরুল। কাউন্টার টেররিজম সেলের মনিরুলের টিম এবং র্যা বের বিভিন্ন ইউনিট রাজধানী ও বিভিন্ন স্থান থেকে যুবকদের ধরপাকড় করে কিছু কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। বাকীদের গতি হয় জঙ্গি উৎপাদন কেন্দ্রে। এদেরকে অস্ত্র সম্পর্কে কিছু বেসিক জ্ঞান দিয়ে, চুল দাড়ি না কেটে ‘ইসলামী জঙ্গি’ লেবাস বানিয়ে তাদের দ্বারা অডিও ভিডিও করে ফেইক জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে স্টক শতাধিক হয়ে গেলেই একটি অভিযান করার রেওয়াজ হয়ে যায় ২০৫-১৬ সালে। এরূপ অভিযানই হয় গুলশানে, উত্তরা, আজিমপুর, কল্যাণপুর, ফতুল্লা, এমনকি কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থানে। বেনজিরের পরিচালিত র্যা ব কতৃক অপহরণ, খুন খারাবি, ক্রস ফায়ার নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেক সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে। সুইডিস রেডিও র্যা বের ক্রসফায়ারের নাড়ি নক্ষত্র ফাঁস করে দেয়ার পরে ঐ প্রতিবেদনে তথ্য প্রদানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে র্যা বের নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল একে আজাদকে সিলেটের আতিয়া মহলে খুব কৌশলে খরচ করে দেয়া হয় বেনজিরের সিদ্ধান্তে! এনিয়ে সেনাবাহিনীর সাথে তার গোলমাল আছে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পরে বেনজির সেনাবাহিনীর টার্গেট হতে পারেন।

প্লেবয় চেহারার বেনজির আহমেদ নারী কেলেঙ্কারীতে বেশ নাম কামিয়েছেন বাহিনীতে। ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন টিভিতে শো-তে উপস্থিত হয়েছেন বহুবার। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী ও তিন সাবালক কন্যা থাকলেও নাটক-সিনেমা জগতের সুন্দরী শিল্পী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী, প্রতিকারপ্রার্থী, এমনকি একাধিক ছাত্রদল নেত্রীকেও শয্যসঙ্গী করেছেন বেনজির। এর আগে ইডেন কলেজের শারমিন নামের এক মেয়েকে অন্তসত্তা করে নিজের ড্রাইভার দিয়ে রাজধানীর একটি ক্লিনিকে এবরশন করায় বেনজির। শারমিনের ভাই দুলালকে চাকরী দেবে এমন শর্তে দিনের পর দিন শারমিনকে ব্যবহার করে বেনজির। কিন্তু পরে চাকরী আর দেয়া হয় না দুলালকে। পুলিশের সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদ প্রতিদিনই নতুন মেয়ের অপেক্ষায় থাকে। তাকে যে যতো মেয়ে সাপ্লাই করবে সে স্যারের কাছে ততবেশি প্রিয়। অশ্লিল সিনেমার নাম্বার ওয়ান পরিচালক রাজু চৌধুরীর হাত ধরে বেনজিরের সাথে পরিচয় হয় চিত্রনায়িকা কেয়ার। এরপর নিয়মিত কেয়ার সাথে বিশেষ একটি ফ্লাটে মিলিত হতেন বেনজির। কেয়াকে দীর্ঘকাল রক্ষিতা বানিয়ে রাখে বেনজির। কিন্তু পরিবারে অভাবের কারনে কেয়া যখন এই শৃংখল থেকে বেরুতে চায়, তখন বেনজির কেয়াকে হুমকি দেয়। পরে কেয়া লুকিয়ে লুকিয়ে মিডিয়ার ব্যক্তিদের সাথে নতুন করে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে। এই খবর বেনজিরের কানে এলে বেনজির কেয়াকে মারধর করে। পরে কেয়াকে গুলশানের একটি বাসায় কলগার্ল সাজিয়ে আটক করে পুলিশ। কেয়ার এই খবরটি পরে পুলিশ সদর দফতর মিডিয়ার মাধ্যমে বেশ চাউর করে। ঘটনার সত্যতা জানতে কেয়ার ফ্লাটে গেলে কেয়ার মা প্রথমে ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। পরে তাকে অভয় দিলে তিনি নাম পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, আমার মেয়েকে অভিনয় থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে এনে দিনের পর দিন নষ্ট করেছে এই ভদ্রবেশি পুলিশ কর্মকর্তা। তার কথা না শোনার অপরাধে কেয়াকে অনেক মারধর করেছে। পরে পুলিশ দিয়ে পতিতা বানিয়ে অ্যারেস্ট করে ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে এই বিচার ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহই বেনজির পাষন্ডের বিচার করবেন।

পরে বেনজির মত্ত হন ছোট পর্দা ও রূপালী পর্দার আরেক সেনসেশন বিদ্যা সিনহা মীমের সাথে। মীমের গুলশানের বাসায় প্রায় প্রতিদিনই একবার আসা যাওয়া আছে বেনজিরের। বিনিময়ে মিমের অনেক কাজ করে দেন বেনজির। মীম ও বেনজিরের এই ঘটনা জেনে ফেলায় তোফায়েলের আপন ভাগ্নে ভোলার নতুন পৌর মেয়র মনিরুজ্জামানের সাথে হাতাহাতি হয় বেনজিরের। ভোলায় জন্ম নেয়া মীম লাক্স সুপার স্টার হয়ে পাড়ি জমান রাজধানীর কল্যাণপুরে মামার বাড়িতে। পরে মীমকে গুলশানে একটি বিলাসবহুল ফ্লাট গিফ্ট করেন ভোলার মেয়র মনিরুজ্জামান। এর বিনিময়ে মনির প্রতিসপ্তাহে মীমের বাসায় সময় কাটাতেন। কিন্তু বেনজির যখন মীমের কাছে আসা যাওয়া শুরু করে তখন মনির বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। মনির এক রাতে মীমের বাসায় অবস্থানকালে সেই রাতে হুট করে বেনজির চলে আসে মীমের বাসায়। এনিয়ে বেনজির ও মীমের মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে ঝগড়া গড়ায় মনির ও বেনজিরের মধ্যে। বেনজিরের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয় মনির। বেনজির মনিরকে গেপ্তার করতে পুলিশ ডাকলে মনির বিষয়টি তার মামা বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদকে জানায়। বেনজিরকে ফোন করে তোফায়েল আহমদ। বেনজিরকে শাসিয়ে কথা বললে বেনজির ক্ষিপ্ত হয়ে তোফায়েলকে বলেন, আমি হাসিনা ছাড়া কাউকে চিনি না। পরে পুলিশের তৎকালীন অতিরিক্ত আইজি শহিদুল হকের সমঝোতায় ঐ দিনের জন্য বিষয়টি মিমাংসায় গড়ায়। এরপর তানিয়া আহমেদের ছবির শ্যুটিয়ের জন্য মীম লন্ডন চলে যায়, আর মনের কষ্টে মনিরও সস্ত্রীক ব্যাংকক চলে যায়।
পুলিশের কয়েকটি সুত্র জানায়, বেনজির আহমেদের রক্ষিতা আছে বেশ ক`জন। তাদের তালিকায় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া মেয়ে, ছোট পর্দা ও বড় পর্দার নায়িকা, র্যা ম্প মডেল এমনকি সুন্দরী ভাবীরাও আছে। বেনজিরের নারী ঘটিত বিষয়টি জানেন তার স্ত্রীও। একারনে তার স্ত্রী ঝগড়া করে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলেও গিয়েছিলেন। পরে সন্তানদের কথা চিন্তা করে আবার ফিরেও আসেন। বেনজির পুরো পরিবার নিয়ে পুর্তগাল সফরে গেলে সেখানে তার স্ত্রীর সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তার স্ত্রীর একটি সুত্র জানায়, একটি বীচে বেনজিরকে অচেনা একটি মেয়ের সাথে চুম্বন অবস্থায় দেখে ফেলে তার স্ত্রী। পরে বেনজিরকে তার স্ত্রী থাপ্পর পর্যন্ত মারে। বেনজিরের বড় মেয়েকে নিয়ে হোটেল রুম থেকে বেরিয়ে আসে তার স্ত্রী। বিষয়টি বাঙ্গালি কম্যুনিটিতে গড়ায়।

বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ব্লাকমেইল করে বেনজির চেষ্টা করেন আইজিপির পদ দখল করতে। জাতিসংঘে যাওয়ার আগে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে বেনজির প্রস্তাব দেন- পাটোয়ারীকে সরিয়ে তিনি আইজিপি করতে, আসাদুজ্জামানকে এডিশনাল আইজিপি প্রশাসন, মনিরুলকে ডিএমপি কমিশনার বা র্যা বের ডিজি করতে। সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে নির্বাচনে উঠিয়ে দেয়ার রিস্ক নিতে চাইছিলেন বেনজির। কিন্তু গোপালী টিমের এই উচ্চাভিলাশী পরিকল্পনা আস্থায় নিতে পারেননি শেখ হাসিনা। তার জানা আছে, পুলিশের ভেতরে প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ অবস্থার কথা, আগামীতে ম্যাসাকার হওয়ার আশংকার ভেতরে আর বিপদ বাড়াতে চান না। হতাশ হয়ে ফিরে আসেন বেনজির। এরপরেই ক্ষমতা বদলের পরে নিরাপদ উদ্দেশ্য নিয়ে বিএনপি লাইন ধরে হাটা শুরু করেন। তার ব্যবসায়িক পার্টনারের মাধ্যমে এগিয়ে যান বিএনপির আস্থায় আসতে। বিদেশী নম্বরের আলাদা সিমকার্ড ও অ্যাপস ব্যবহার করে বিএনপির হাইকমান্ড ও পুলিশ সমন্বয়কদের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে সময়মত বিএনপিকে সহযোগিতা করার বিনিময়ে নিজের অপকর্মের দায়মুক্তি চান অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন বেনজির আহমেদ।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

ঐক্যজোট গঠন থামানোর ব্যর্থতায় ডিজি জিএফআইকে প্রধানমন্ত্রীর ধমক!

দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠনের প্রকৃয়া দীর্ঘসূত্রিতায় আটকা পড়ে। বিকল্প ধারাকে দিয়ে নানা শর্তের প্যাচ খেলে ঐক্য গঠন প্রকৃয়াকে থামিয়ে রাখে দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। বিকল্পধারার প্রধান ডা. বি চৌধুরীর পুত্র মাহি বি চৌধুরীকে এক্ষেত্রে বিএনপির বিরুদ্ধে ঘুটি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু গতকাল শনিবার ঐক্য গঠন নিয়ে এক ক্যু করে ফেলে বিএনপি। অবশেষে বি চৌধুরী এবং তার গংকে বাদ দিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, জাসদ, এবং নাগরিক ঐক্য সরকার বিরোধী ঐক্যজোট গঠন করে সাংবিাদিক সম্মেলন করে।

ঐক্যজোট গঠনের খবরে সরকারের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ডেকে নেন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে। শুরু করেন ধমক, “আপনাদের কথায় আমি সায় দিলাম, অথচ আটকাতে পারলেন না ঐক্য! খালেদা জিয়া কি করে হাসপাতাল থেকে ক্যু করে ফেলল? এখন কেমন করে সামলাবেন?” জেনারেল সাইফুল আমতা আমতা করে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি টেনশন করবেন না, আমরা দেখছি।”

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

ছেলের চেয়ে কম বয়সী শেখরের সাথে হাসিনার যৌন সম্পর্ক

কানাডা প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এপিএস সাইফুজ্জামান শিখরের সেক্সুয়াল রিলেশন রয়েছে। এনিয়ে স্ত্রীর সাথে শিখরের বাদানুবাদ হয়, ঝগড়া করে বাপের বাড়ি যাওয়ার পরে তাকে বোঝাতে গিয়ে টেলিকথপোকথন এনটিএমসিতে রেকর্ড হয়। এনটিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হন, এবং এ সংক্রান্তে তথ্য জোগাড় করতে থাকেন।

বিভিন্ন কথপোকথন থেকে ব্রিগেডিয়ার জিয়া জানতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতভাবে হাই ডোজের ঔষধ খান, এবং হরমোন নিয়ে যৌনশক্তি ধরে রেখেছেন। অফিস সময়ের পরে বিকালে বা রাতে শেখরকে গণভবনে ডেকে নিয়ে মিলিত হন শেখ হাসিনা। শিখরের গাড়িতে সব সময় ভায়াগ্রা থাকে, যা একবার শিখরের স্ত্রীর হাতে ধরা পড়ে। এনিয়ে গন্ডগোল শুরু হয়, যা আত্মীয় স্বজন পর্যন্ত গড়ায়। পরে শিখর তাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করেন- আমি যা কিছু করছি চাকরির জন্য করছি, রাজনীতির ক্যারিয়ারের জন্য। এর বিনিফিশিয়ারী তোমরাই হবে। কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু করলে নিজেও বাঁচবনা, তোমাদেরও বাঁচাতে পারব না। শাকিলের মত মেরে ফেলবে।

সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনের আ’লীগের প্রয়াত এমপি আসাদুজ্জামানের ছেলে। শিখর ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলেন, কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস-২ হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন শিখর। উল্লেখ্য, শিখরের জন্ম ১৯৭১ সালের অক্টোবরে, যিনি বয়সে শেখ হাসিনার পুত্র জয়ের চেয়ে পাঁচ মাসের ছোট!

এদিকে শেখ হাসিনার সাথে সম্পর্কের জোরে শিখর তার নিজ জেলা মাগুরার একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসেন। জেলার মন্ত্রী বীরেন শিকদারকে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে শিখর নিজেই মাগুরা-২ থেকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য তৈরী হয়েছেন, এবং মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। এক্ষেত্রে শিখর সবচেয়ে বড় উদাহরন হিসাবে ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনার দীর্ঘ দিনের বয়ফ্রেন্ড মৃনাল কান্তি দাসকে, যিনি এখন মুন্সিগঞ্জ-৩ এলাকার সংসদ সদস্য।

মৃনাল সম্পর্কে শেখ হাসিনার ১৭ বছরের বিশেষ সহকারী মতিয়ুর রহমান রেন্টু তার ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থে লিখেন, ১৯৮১ সালের ১৭ই মে বাংলাদেশে আসার পর থেকে শেখ হাসিনা তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কখনোই একটি দিন বা একটি রাত কাটাননি। তার স্বামী ড. ওয়াজেদ প্রথম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মহাখালির আনবিক কমিশনের কোয়ার্টারেই কাটিয়েছেন।

মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহনযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি। ১৯৯০ সালের একদিন সাজেদা চৌধুরীর উপস্থিতিতে মৃনাল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদককে অপমান করে বসে। বিষয়টি কার্যনির্বাহী কমিটিতে তোলা হলেও এর কোনো প্রতিকার হয়নি। দিনে দিনে মৃনালের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বাড়তেই থাকে। এমনকি শেখ হাসিনার ঘনিষ্ট আত্মীয় এপিএস বাহাউদ্দিন নাছিম, সিকিউরিটি চীফ নজিব আহমেদ মৃনালের ফুট ফরমায়েশ খেটে ধন্য হতো। একদিন বঙ্গবন্ধু ভবনে বিকাল ৩টা সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জনকে নিয়ে তাশ খেলছিলো মৃনাল। এমন সময় শেখ হাসিনার একমাত্র জীবিত মামা আকরাম (সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি) এসে খুব অশ্লীলভাবে বলে, “এই মৃনাল, যাও। সে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে। খায়নি কিছু্।” মৃনাল জবাব দেয়, “তাতে কি, থাকুক না আরো কতক্ষণ ক্ষুধার্ত।” মৃনাল তার ক্ষমতা দেখানোর জন্য আরো কিছুক্ষণ তাশ খেলে। এভাবেই মৃনাল নিজেকে জাহির করে, সে হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধীশ্বর। মৃনাল ক্রমশ উদ্ধত হয়ে উঠে, ফলে হাসিনার সাথে মনোমালিন্য হয়। মৃনাল কয়েকবার বঙ্গবন্ধু ভবন ছেড়ে যায়। হাসিনা বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার তাকে ফেরত আনে। ১৯৯১ সালে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরে ৩২ নম্বরের বাড়ি ছেড়ে শেখ হাসিনা ওঠেন ২৯ মিন্টু রোডের বাড়িতে। সেখানে তার সাথে যায় মৃনাল, আর তিন নিকটাত্মীয় নজীব, নাসিম, আর নকিব। এ বাড়িতে তিনজন নিকটাত্মীয়ের সাথে একত্র থাকতে অপছন্দ করে মৃনাল। এক পর্যায়ে মৃনাল মিন্টু রোড ছেড়ে চলে গেলে হাসিনা আর তাকে ফেরত আনেনি। এ সময়ে মৃনাল নানা জনের কাছে বলতে থাকে, হাসিনার সাথে তার শারীরিক সম্পর্কের কথা। এমনকি সে খুব গর্ব করেই বলতো, “শেখ হাসিনার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি আমার চেনা।”

তবে শেখরের স্ত্রী তার স্বামী, দুই মেয়ে এবং এক পুত্রের জীবন নিয়ে আশংকায় আছেন। কেননা, একই রকম সম্পর্কে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম শাকিলকে জীবন দিতে হয়েছিল বছর দুয়েক আগে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

‘হাসিনা খতম হবে; লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না’ : ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান

কানাডা প্রতিনিধি

বাংলাদেশের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সময় শেষ, তার লাশও খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমনই কঠিন কঠোর মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান! অথচ এক সময় র্যাবে থাকতে এই জিয়াউলই ছিলেন হাসিনার বিশ্বস্ত, এবং শত শত খুন গুমের হোতা। সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুত্র জয়, ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের রাষ্ট্রবিরোধী নানা গোপন নির্দেশ, দুর্নীতির প্রমান সম্বলিত টেলিকথপোকথনের রেকর্ড এখন ব্রিগেডিয়ার জিয়ার হাতে। মূলত হাসিনার প্রাণ ভোমরা জিয়ার কব্জায়!

দীর্ঘ সাত বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের জন্য তার কৃত খুন-গুম-অনিয়ম কর্মকান্ডের ব্যাক-আপ হিসাবে নিজের সেফ কাস্টডিতে রেখে দিয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার জিয়া। কিন্তু বন্ধুদের নিয়ে মদের আসরে বেসামাল অবস্থায় গল্পে গল্পে সেটা তার মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলে এক কান দু’কান হয়ে পৌছে যায় শেখ হাসিনার কানে। এরপরে শেখ হাসিনাও সতর্ক হয়ে যান। জিয়ার ব্যাপরে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন- ‘ওর কাজ শেষ, তাই সাফ করে ফেলো’- এমন নির্দেশ দেন। মোটকথা, সাক্ষ্য প্রমান মুছে ফেলতে ব্রিগেডিয়ার জিয়াকে হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এমন খবর পাওয়ার পরে জিয়াউল আহসান পালিয়ে গেছে কানাডায়। যদিও বছরখানেক আগে জিয়া একবার কানাডা চলে গিয়েছিলেন, তবে পরে আবার ফিরে আসলেও সেনাবাহিনী তাকে গ্রহন করতে রাজী হয়নি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুলকে গুম করার মূল কারিগর ছিলেন র্যাবের পরিচালক এই জিয়া। বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকেও উঠিয়ে নিয়ে কয়েক মাস গুম করে রাখে এই জিয়াই। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হেফাজত গণহত্যার অপারেশন ইনচার্জ ছিলেন কর্নেল জিয়া, টেলিভিশন সাক্ষাতকারে তিনি তা নিজেই স্বীকার করেছেন। সৌদি কূটনীতিক খালাফ আলী হত্যা, সাংবাদিক জুটি সাগর-রুনির হত্যাকান্ড এবং নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনার সাথে সাংঘাতিকভাবে জড়িত ছিলেন কর্নেল জিয়াউল হাসান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বানচাল করতে এবং বিরোধী দল নিধনের মূল হাতিয়ার ছিল এই জিয়া।

জিয়াউলে আহসানের কর্নেল/ব্রিগেডিয়ার হিসাবে ৭ বছর র্যাবে অবস্খানকালে দেশজুড়ে বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মী হত্যা/গুমের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক গুম ও খুনে তিনি যেমন সরাসরি নেতৃত্ব দিতেন, তেমনি মাঠের কাজও তত্ত্বাবধান করতেন। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি শুরু হলে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে পাঠানো হয় ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়। এরি মাঝে তাকে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি হয় এবং সর্বশেষে বসানো হয় টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান হিসাবে। ২০১৬ সালের মার্চে এনটিএমসিতে বসার পরে ব্রিগেডিয়ার জিয়া বিরোধী রাজনীতিকের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পাতার অধিকার লাভ করে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকতেন। তবে জিয়াউল আহসান যতখানি না শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত, তারও চেয়ে বেশী ছিলেন অনুগত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর অনুগত।

ব্রিগেডিয়ার জিয়ার কাছে শেখ হাসিনার গোপন অডিও রেকর্ড আছে, এবং তা প্রকাশ হয়ে পড়তে পারে, এমন খবর জানার পরে তাকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় শেখ হাসিনার। এর পরেই তাকে ক্রস ফায়ার বা গাড়ি এক্সিডেন্ট করে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত দেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাকে খেয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে- ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা মারফত এমন নিশ্চিত খবর পাওয়ার পরে সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরী করেনি ব্রিগেডিয়ার জিয়া। র-য়ের সাহায্য নিয়ে গত সপ্তাহে সপরিবারে ভারত হয়ে পৌছে গেছেন কানাডায়। আপাতত অন্টারিও প্রদেশে মিনহাজের বাসায় উঠলেও সহসাই নিজের বাড়িতে উঠবেন। নিরাপত্তার কারনে ঘন ঘন ফোন নম্বর বদলাচ্ছেন। অচিরেই খুব গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হবে তার। এরপরে শেখ হাসিনার অনেক চ্যাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ অনলাইনে আসবে। হাসিনার পতন এমন ভাবে হবে যে তার লাশও হয়ত খুঁজে পাওয়া যাবে না, মন্তব্য ব্রিগেডিয়ার জিয়ার।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

সিনহার বইয়ে নানা অভিযোগ এবং নারী ঘটিত কেলেঙ্কারী : আবেদীনের পরিবারে ঝড়!

সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় এবং সামাজিক মাধ্যমে নানাবিধ খবরের পরে রেশ বইছে তার ডিপার্টমেন্ট এবং পরিবারে। এ নিয়ে নিজ গৃহে চলছে বিবাদ। স্ত্রী ফাতেমা-তুজ-জোহরা ক্যামেলিয়া চড়াও হয়েছে আবেদীনের ওপরে। কথা বলে অভিযোগ করেছেন তার বন্ধু বান্ধব ও স্বজনদের সাথে। এর মধ্যে সাবেক ক্লাশমেট তুরিন আফরোজও আছেন। সাংঘতিক সে ক্যাচাল পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে বাইরে চলে এসেছে।

বন্ধুবান্ধব সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ক্যমেলিয়া বলেছেন,”তোমার এইসব অপকর্মের খবর ছড়িয়েছে সারা দেশে, এখন মুখ দেখাব কিভাবে। বিশেষ করে ক্যান্টনমেন্টে ভাবীরা এ নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় ব্যস্ত। ক্লাব পার্টি সব শেষ। এনিয়ে তোমাকে বহুত মানা করেছি, কিন্তু তুমি আর ভালো হলে না। শেষ পর্যন্ত মেয়ের চেয়েও ছোট বয়সী নিয়ে!! ছি ছি ছি! তোমার কি ভীমরতিতে ধরেছে। আমি আর পারছি না।”

অন্যদিকে আবেদীন সাহেবও স্ত্রীর ওপর পাল্টা চোটপাট নেন, “এই সামান্য বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করে তুমিই বড় করেছে! এক কান দু’কান ঘুরে এখন রাষ্ট্র হয়েছে। তোমাদের মেয়েদের নিয়ে এই এক বিপদ। নিজেরা যা বোঝো, সেটা নিয়েই থাকো। প্রফেশনের জন্য আমাকে কত যায়গায় যেতে হয়, কতকিছু করতে হয়, অথচ তোমরা থাকো বিছানা আর মেয়েলী ইস্যু নিয়ে! এখন ডিপার্টমেন্ট আমার মুখ দেখানোই দায় হয়ে পড়েছে।”

পরিবারিক বন্ধু কর্নেল পদমর্যাদার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “পারিবারিক কলহের খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই, কিন্তু পারিবারিক বিবাদের মধ্যে কতটা আর কি করা যায়? তাও আমরা বুঝিয়ে এসেছি। ভাবী তো ভীষন ক্ষেপে গেছেন। বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন। এমনকি আমেরিকাতে মেয়ের কাছেও চলে যেতে পারেন। যাই হোক, ছেলের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদেরকে মানিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে এসেছি।”

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানান, ডিজি ভীষন ডিস্টার্বড। অফিসারদের উপর চড়াও হচ্ছেন কারনে অকারনেই। এসব খবরের সুত্র বের করার জন্য তিনি সর্বতোভাবে লাগার হুকুম জারী করেছেন। আইটি বিভাগেকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন এর সোর্স বের করতে, কারা কোত্থেকে এত খবর প্রকাশ করে। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্টের কিছু কিছু অফিসারদের প্রতি নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। ফোন কল এবং নেট কানেকশন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ডিপার্টেমেন্টর ভিতরে চলছে জরুরী অবস্থা। ডিজি এখন ভয়ে আছেন, কখন প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ডাক পড়ে।

DISCLAIMER: This is an investigative report by BD Politico Team. We reserve the right to protect our sources by law.

Photo source: Facebook

বিডি পলিটিকোর রিপোর্টে বিধ্বস্ত ডিজিএফআই : এডমিনদের খোঁজে হন্যে হয়ে খোঁজাখুজি : ডিজির খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় সংস্থার ভেতরেই নিজেদের অফিসারদের দিকে সন্দেহের তীর!

বাংলাদেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর প্রধানকে নিয়ে তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরে সংস্থাটিতে চলছে চরম অস্থিরতা। এরপরে বিডি পলিটিকোর এডমিনদের অনুসন্ধানে ডিজিএফআই সারা বিশ্বব্যাপি তৎপরতা শুরু করেছে। দেশের ভিতরেও বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেছে। কয়েকদিন আগে DGFI এর সিগনাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো থেকে LETHD/EM/CONF/P1/SEP201825/567764 রেফেরেন্সে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যাতে বিডি পলিটিকোর এডমিনদের খোঁজে নানা জনকে অনুরোধ করা হয়েছে। নিজস্ব সোর্সে বিডি পলিটিকো টিম সেই চিঠির কপি হস্তগত হয়েছে। এখানে চিঠির কপি তুলে দেয়া হলো।

এ ছাড়াও ডিজিএফআইর কর্মকর্তারা বেনামে ইমেইল ও ফেসবুক একাউন্ট খুলে ডিজিএফআই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ চটকদার তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি আমাদের কাছ থেকে জবাব নেয়ারও চেষ্টা করে। Replied message থেকে আমাদের লোকেশন এবং আইপি খোঁজ করতে না পেরে IP logger সম্বলিত শর্ট লিঙ্ক দিয়ে কমেন্ট পাঠায়। তাই চিঠির সম্পূর্ণ স্ক্রীনশট তুলে দিতে বাধ্য হলাম।

এছাড়াও সূত্র জানাচ্ছে, সংস্থাটির মহাপরিচালক সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্যাদির বিস্তারিত বাইরে চলে আসায় নিজেদের অফিসারদের এমনকি তাদের পরিবারের লোকদেরকে সন্দেহ করা শুরু করেছে। বিডি পলিটিকো আতঙ্কে বর্তমানে সংস্খাটিতে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। ডিজিএফআইর প্রতিদিন অফিস শুরু হয় পলিটিকো দিয়ে শেষও হয় পলিটিকো দিয়ে। কর্মকর্তারা অনেকে ঠিকমত কাজে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। ব্যাপক রদবদলের আশংকা করছে।

সাইফুল আবেদীন- ৩য় পর্ব: টিনেজ প্রণয় নাকি শিশু নির্যাতন?

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
মাত্র ১৯ বছরের একটা বালিকা দেশের সবচেয়ে শক্তিমান গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানের গার্লফ্রেন্ড! কল্পনা করা যায়? হ্যা, ঠিক ধরেছেন। নানজীবা খান। গেলো বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন। সাদামাটা ব্যাংকার পরিবারের এই টিনেজার মেয়েটির এতই প্রভাব যে তাকে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব অনলাইনে। নিজ কন্যার চাইতে ৬/৭ বছরের কনিষ্ঠ এই নানজীবা সাইফুল আবেদীনের গার্লফ্রেন্ড হয়ে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছে নানান সুযোগ সুবিধা।

আরিরাং এভিয়েশনে ট্রেইনি পাইলট হলেও নানজীবার ঝোক নাটক ও সিনেমা নির্মানে। ক্যামব্রিয়ান কলেজে পড়াকালে সেলুলয়েড জগত এবং উত্তরপাড়ার লোকদের সাথে তার যোগাযোগ ঘটে। সেনা কর্মকর্তা সাইফুল আবেদীনের সাথে পরিচয় থেকে সম্পর্কে গড়ায়। তাকে নিয়ে হোটেল রেস্তরা, এমনকি রেস্ট হাউজে সময় কাটান সাইফুল। বিনিময়ে নানজীবা পেয়ে যায় ক্যারিয়ার গড়ার ওপরে ওঠার সিড়ি। একে একে চ্যানেল আইয়ে প্রেজেন্টার, বিডি নিউজ-২৪ সংবাদকর্মীর যায়গা করে নেয়। বিটিভিতে এঙ্করিংও জুটে যায়। বর্তমানে উপস্থাপনা, রেডিওর আরজে ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছে নানজীবা। ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারে ব্রান্ড এম্বেসেডর, টিভি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অর্ধশতাধিক ভিআইপির। ইউনিসেফেও পার্টটাইম এসাইনমেন্ট জোগাড় করে দিয়েছেন প্রভাবশালী ডিজি মাহেদয়। এছাড়া মিডিয়া জগতে বড় বড় আর্টিস্টদের কাছে জায়গা হয়েছে। ইতেমধ্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে নানজীবার বইয়ের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে শ্রীবৃদ্ধি করতে দেখা গেছে। গানও করে নানজীবা- চিরকুট ব্রান্ডের গান, সুমির গান, জলের গানে গলা মেলায়।

পুত্র কন্যা এবং সুন্দরী স্ত্রী ক্যামেলিয়াকে নিয়ে আবেদীনের পারিবারিক জীবন দৃশ্যত সুখের হলেও পর নারী ছাড়া তিনি একদম চলতে পারেন না। একমাত্র কন্যা কারিবু নর্থ সাউথ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশন করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে গিয়ে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার অশবার্নে প্রবাসী হয়েছে, সম্প্রতি নতুন এক বাচ্চা জন্ম নিযেছে। সেই বাচ্চা দেখতে সপরিবারে আমেরিকা ঘুরে এসেছে আবেদীন পবিবার। কন্যার এহেন দশার পরেও আবেদীন তার পুরানা খাসলত ছাড়তে পারেনি, নিজ কন্যার চেয়ে ৫/৭ বছরের বাচ্চা মেয়ের সাথে বৈসাদৃশ্য প্রণয় শিশু নির্যাতনের কাতারে পড়ে বলে অনেকে মনে করেন। স্ত্রী ক্যামেলিয়ার কানে এসব খবর পৌছলেও মানইজ্জতের ভয়ে নিরব থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তাছাড়া বেশিরভাগ বিষয়কে ‘সরকারী কাজ’ বলে চিালিয়ে দিয়ে অনলা্লাইন চ্যাটিং এবং ফোনালাপের মাধ্যমে নিত্য নতুন বান্ধবী জোগাড় করা এই ক্ষমতাধর লোকটির হবি। এ কাজের জন্য অনেকগুলো ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট খুলে নিয়েছেন। একটা খুলেন তো আরেকটা বন্ধ করেন। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, লন্ডনের মোবাইল চালান সরকারী খরচে। আর এসব মোবাইল ও ফেসবুক দিয়ে চলে তার লীলা খেলা। অবশ্য তার ধারণা তিনি মনিটরিংয়ের বাইরে। বাস্তবে তা নয়, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স তার সবকিছু মনিটর করেছে। তার চ্যাটিং লগ সেভ করা হয়েছে। হয়ত কখনও পৌছে যেতে  পারে পাঠকের কাছে।

বিডি পলিটিকোর প্রথম রিপোর্ট করার পরে আবেদীন খবর পেয়ে সতর্ক হয়ে যান। যেসব আইডি দিয়ে নানজীবা সহ অন্য গার্লফ্রেন্ডদের সাথে সংযুক্ত ছিলেন, তার কয়েকটি ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দিয়েছেন। দু’টো টেলিফোন নম্বরও বদলে ফেলেছেন। কিন্তু নতুনগুলোর ডিটেইলস হাতে আসতে আর কতক্ষণ?

 

হাসিনাকে খালেদা- “দেখতে এসেছেন খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই”……সংলাপ শেষ!

৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার, দিবাগত মধ্য রাত! অবশ্য ক্যলেন্ডারে তখন ৮ তারিখ। রাজধানী ঢাকার লোকেরা যখন ঘুমাতে যাবার আয়োজন করছিল, হঠাৎ ত্রস্ত ব্যস্ত হয়ে ওঠে একটি নির্দিষ্ট রুটের সড়ক। গণভবন থেকে নাজিমুদ্দিন রোড। ঠিক যেনো কত কালের চেনা। তিন স্তরের নিরাপত্তায় ঢেকে ফেলা হলো পুরো সড়ক। নাজিমউদ্দিন রোডের আশেপাশের সিকিউরিটি বাড়ানো হলো। গাড়ি ঘোড়া মানুষ জন সব সরিয়ে দেয়া হয় রাস্তা থেকে। রাতভর অনলাইনে গুজব ছড়িয়ে পড়ে- নাজিমুদ্দিন রোডে বন্দী খালেদা জিয়া ভীষন অসুস্থ, তাকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে! এ নিয়ে বিএনপির নেতা কর্মী শুভাকাঙ্খিরা ব্যস্ত শঙ্কিত হয়ে খোঁজ খবর নিতে থাকে। এক পর্যায়ে কেন্দ্রিয় অফিসে অবস্থানরত সিনিয়র যুগ্মমহাসচিবের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়- খালেদা জিয়া সুস্থই আছেন। পরে অবশ্য রাত তিন টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের বাড়তি নিরাপত্তা শিথিল হয়ে যায়। তখনই একটি সূত্র জানিয়েছিল, ওটা ছিল ভিভিআইপি মানের নিরাপত্তা। ঐ রাতে কারাগারে ঢুকেছিলেন (বিনাভোটের) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দু’সপ্তাহের খোঁজ খবরের পরে নিশ্চিতভাবে জানা গেলো- ঘটনা সত্য। ঐ ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

সুত্র জানায় শেখ, হাসিনা দেখা করে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রস্তাব ‍দিয়েছিলেন- ‘আসেন, একসাথে সিস্টেম করে ইলেকশন করি। আপনারে ১২০ সিট দিব। নইলে তো ওরা নিয়া যাবে, তাতে আপনার আমার দুজনেরই লস। তারেককে ২১ আগস্ট মামলায় খালাস দিব। আপনি মুক্তি পাবেন। সম্মানের সাথে থাকবেন!’

বেগম জিয়া  বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ। দেখতে এসেছেন তাতে খুশি হয়েছি, চলে গেলে আরও খুশি হই!”

ডিজি ডিজিএফআই- দ্বিতীয় কিস্তিঃ সিনহা এপিসোডের খলনায়ক কে? আবেদীন নাকি আকবর?

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বলপূর্বক অপসারণ করার ঘটনায় ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুলের নাম (পরে মে.জে. আবেদীন হিসাবে উল্লেখ করা হবে) বেশ করে উঠে এসেছে। বলা হচ্ছে, ডিজি ডিজিএফআই প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে দেশান্তরী করা হয়ে, পরে চাপ দিয়ে পদত্যাগ করানো হয়। ঘটনাপ্রবাহে বলে দিচ্ছে ঐসব বলপ্রয়োগের ঘটনার সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িত ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন।গত বছর আগস্ট মাসে বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ১৬তম সংশোধনী বাতিল করা সংক্রান্ত লিখিত রায় প্রকাশ করার পরে শেখ হাসিনার সরকারে অসন্তোষ ও অস্থিরতা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে, এবং নানাভাবে তা প্রকাশ পায়। ঐ রায়ে শেখ মুজিবকে খাটাে করা হয়েছে এবং শেখ হাসিনার সরকার ও সংসদকে অবৈধ বলা হয়েছে এমন বিষয় কেন্দ্র করে সরকারের সাথে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব, মনোমালিন্য থেকে শুরু করে মারাত্মক বিরোধ ও বিরোধিতায় গড়ায়। যদিও এই রায়টি নিজেদের পক্ষে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বতোপ্রকারের চেষ্টা চালান। ২ জুলাই ’১৮ রাতে বিচারপতি সিনহাকে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে রায়টি সরকারের পক্ষে দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা চাপ প্রয়োগ করেন। সেচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনা ভীষন রেগে যান, এবং রাষ্ট্রপতির সামনেই বিচারপতি সিনহাকে ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলে গালিও দেন!

বঙ্গভবনের ব্যর্থ মিশনের পরে শেখ হাসিনা বিচারপতি সিনহাকে সাইজ করার দায়িত্ব দেন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল সাইফুলকে। অন্যদিকে সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা ঐ রায়ের জন্য প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দায়ী করে বক্তৃতা বিবৃতি, অপমানজনক উক্তি, চরিত্রহনন, হুমকি ধামকি সবই দিতে থাকেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি ডিজিএফআই ডিজি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন বেশ কয়েকবার দেখা করেন প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে। তিনি ষোড়শ সংশোধনীর রায় বদল করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করেন। তাতে কাজ না হওয়াতে বিচারপতি সিনহাকে পদত্যাগ, বা দেশত্যাগ, বা অসুস্থ হয়ে অসৌজন্যমূলকভাবে চাপ সৃষ্টি করেন জিডি ডিজিএফআই সাইফুল। কিন্তু বিচারপতি সিনহা কোনোটাই মানতে রাজী হননি।

জেনারেল আবেদীন চরিত্রহীন ও ভীতু টাইপের হওয়াতে শক্তভাবে কোনো কাজ ঠিকমত করতে পারেন না, তাই সিনহার মত ঘাড়ত্যাড়া পাহাড়িকে সাইজ করার দায়িত্ব দেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হুসাইনকে। এর আগে আকবর ছিলেন ডিজিএফআইর প্রধান, এসব বিষয়ে তা অভিজ্ঞতাও আছে বেশ। দায়িত্ব পেয়েই জেনারেল আকবর তার পুরোনো সেট-আপের অফিসার দিয়ে কাজে নেমে পড়েন, এবং সাথে নেন ঢাকার বাইরে থেকে আনা কিছু সেনা অফিসারকে। শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা (অবঃ) জেনারেল তারিক সিদ্দিকের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেনারেল আকবর সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে তাদেরকে প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে উস্কাতে থাকেন। ১৮ আগস্ট জেনারেল আকবরের নেতৃত্বে ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল সাইফুল আবেদীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বাড়িতে ঢুকে তাকে অস্ত্র বের করে ভয় দেখান, কিন্তু কোনোভাবেই রায় বদলাতে সিনহাকে রাজী করানো যায়নি। বিষয়টি সামজিক মাধ্যমে জানাজানি হয়ে গেলে কিছুটা পিছু হটে গোপনে তৎপরতরা চালাতে থাকে আকবর বাহিনী।

এরি মাঝে সুপ্রিমকোর্ট শীতকালীন ‍ছুটিতে গেলে বিচারপতি সিনহা কানাডায় তার মেয়েকে দেখতে এবং জাপানে একটি বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশ ছাড়েন সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে। ডিজি ডিজিএফআই জেনারেল আবেদীন প্রধান বিচারপতির ওপরে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাতে তার এক গোয়েন্দা অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল নাজিমউদ্দৌলাকে জাপানে পাঠান। এর আগে জাপানে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর লে. কর্নেল নাজিম সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্ট থেকে বিচারপতি সিনহার সাথে দেখা করে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন। লে. কর্নেল নাজিম প্রধান বিচারপতির সাথে একই বিমানে ঢাকায় আসেন। বিচারপতি সিনহা ঢাকা এয়ারেপোর্টে নামার সাথে সাথেই ডিজিএফআইয়ের অফিসাররা তাকে ঘিরে ফেলে এবং প্রধান বিচারপতির গাড়িতে জোর করে উঠে তাকে নিজের বাসভবনে নিয়ে গৃহবন্দী করে রাখে। পরবর্তী একসপ্তাহ বিচারপতি সিনহা নিয়ন্ত্রিত কিছু চলাফেরা করতে পারতেন কেবল। ৩ অক্টোবর ছিল কোর্ট খোলার তারিখ। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরি মানিকের দেয়া ফরমুলা অনুযায়ী বিচারপতি সিনহাকে আর কোর্টে না বসতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন হাসিনা। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের বাসাতে অবস্থান করছিলেন। সিদ্ধান্ত দেন, তিনি বাইরে থাকতেই সিনহাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতে হবে। আদেশ পেয়ে আবার কাজে নেমে পড়েন জেনারেল আকবর।

২ অক্টোবর রবিবার প্রধান বিচারপতির এসকে কাছে পৌছে যান জেনারেল আকবর, জেনারেল আবেদীন সহ বেশ কিছু মিলিটারী ও সিভিল কর্মকর্তা। এ সময় গোটা সুপ্রিম কোর্ট ডিজিএফআইর অফিসাররা দখলে নিয়ে নেয়, ঠিক ওয়ান ইলেভেনে যেভাবে বঙ্গভবন দখল করেছিল। জেনারেল আকবর প্রধান বিচারপতিকে গালাগালি করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোর করে ছুটির কাগজে সই করিয়ে নেন। এরপর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২ সপ্তাহ বিচারপতি সিনহাকে তার সরকারী বাসভবনে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। সিনহা সাহেবের আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, সহকর্মী, এমনকি আইজীবিকেও সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। মাঝখানে দু’জন ডাক্তার বাসায় এনে তাঁকে কৃত্রিমভাবে অসুস্থ বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করে ডিজিএফআই। এরি মধ্যে আইনমন্ত্রী তার বাসায় গিয়ে বিচারপতি সিনহাকে বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়ে চাপ দিতে থাকেন। তার আগেই পারিবারিক বন্ধু কূটনীতিক অনিরুদ্ধ রায় এবং সিনহার শ্যালককে আটক করে ডিজিএফআই হেফাজতে নিয়ে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের কাগজপত্র বানানো হয়। এসব খবরাদি মিডিয়াতে ফাঁস করে সিনহার ওপর মনস্তাত্বিক চাপ বাড়ানো হয়। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি বিচারপতিদের আলাদাভাবে মগজ ধোলাই করে সিনহার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। রাষ্ট্রপতি তাদেরকে বলেন যে, সিনহা দুর্নীতিবাজ, তাই তাঁর সাথে যেনো কেউ কোর্টে না বসে। অন্যদিকে সিনিয়রমোস্ট বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়াকে টোপ দেয়া হয় প্রধান বিচারপতি বানানো হবে। অবশ্য ‘ক্যারট এন্ড স্টিক’ পলিসিতে আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতিকেই রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি বানানোর টোপ দিয়েছিলেন। অবশেষে সহকর্মী বিচারপতিদের অসহযোগিতা এবং উল্টে যাওয়া, নিকটাত্মীয়দেরকে গুম ও জিম্মি করে রাখা, নিজের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাদের বানানো ১১টি অভিযোগ, এমনকি ঘরে পারিবারিক বিবাদ বাধানোর জন্য নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনাও সাজানো হয়- সব মিলিয়ে বিচারপতি সিনহা রণে ভঙ্গ দিতে বাধ্য হন এবং ছুটিতে যেতে রাজী হন। অবশ্য এক মাসের ছুটির দরখাস্তটি বিচারপতি সিনহা বা তাঁর সেক্রেটারি লিখেননি। লিখেছিলেন একজন গোয়েন্দা অফিসার, যাতে ৪ লাইন দরখাস্তে ১০/১২টি ভুলে ভরা ছিল!

প্রধান বিচারপতির উপর চালানো ঐ নারকীয় হামলায় জেনারেল আকবরের সঙ্গে আরও যারা সক্রিয় ভাবে অংশ নেন, তাদের মধ্যে রয়েছে- ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক দুলাল ওরফে পিস্তল দুলাল, ডিএমপির ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। জানা গেছে, জেনারেল আকবর রুমে ঢুকেই প্রথমে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে নীচে ফেলে দেন প্রধান বিচারপতিকে, পরে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার ভয় দেখান। সবচেয়ে জুনিয়র পুলিশ অফিসার বিপ্লব সরকার (যিনি বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীনকে পিটিয়েছিলেন) থাপ্পড় দিয়ে বলানো হয়, ‘তোর মত বটতলার উকিলকে প্রধান বিচারপতি বানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা কেবল হিন্দু বলে; অথচ তুই করছিস বেইমানী; তুই হিন্দু নামের কলঙ্ক, তোকে গুলি করে মেরে ফেললেও কম হয়’-  এভাবে চুড়ান্ত অপমান করা হয়। আইন সচিব দুলাল ভয়ানক গালাগালি ও হুমকি দেন- মালাউনের বাচ্চা থেকে তুই তোকারি সবি করা হয়। নিউ ইয়র্কের টাইম টিভির সাথে সাক্ষাৎকারে বিচারপতি সিনহা নিজেই বলেন, শেখ হাসিনা সেনা অফিসারদের দিয়ে আমাকে পায়ের নীচে ফেলে দেয়!

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে বিচারপতি সিনহা এক মাসের ছুটিতে অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে তার স্ত্রী সুষমা সিনহাকে যেতে দেয়া হয়নি। মূলত সিনহার মুখ বন্ধ রাখতেই স্ত্রীকে ঢাকায় জিম্মি করে রাখা হয়। ঢাকা ছাড়ার আগে সরকারী কড়াকড়ির ভেতরেও প্রেস ও মিডিয়াকে একটি বার্তা দিয়ে যান বিচারপতি সিনহা – “আমি অসুস্থও না, বা পালিয়েও যাচ্ছি না: আমি আবার ফিরে আসব!” কিন্তু সেই ফেরা আর তিনি ফিরতে পারেননি। একমাস পরে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার পথে সিঙ্গাপুরে যাত্রাবিরতির সময় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিচারপতি সিনহার সাথে দেখা করে তাদের বানানো পদত্যাগ পত্রে সই দিয়ে দেশে যাওয়ার বদলে কানাডা চলে যেতে নির্দেশ দেন। সিনহা বাবু তাতে রাজী হন না। তখন ঢাকাতে ডিজিএফআই কাস্টডিতে আটক থাকা তার শ্যালককে ক্রসফায়ার করতে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর স্ত্রী সুষমা সিনহার ফোনে কান্নকাটিতে উপায়ান্তর না পেয়ে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্রে সই করে কানাডা চলে যান বিচারপতি সিনহা। তবে বিদেশের মাটিতে দেয়া ঐ জোর জবরদস্তির পদত্যাগ পত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় আ’লীগ সরকার এটি আর কার্যকর না করে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে দেয়। ফলে বিচারপতি সিনহা কানাডায় নির্বাসিত জীবনে থেকেই তার বয়সপুর্তির অবসরে যান ৩১ জানুয়ারি ২০১৮।

আর এভাবেই বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা প্রধান বিচারপতিকে মর্মান্তিকভাবে বিদায় নিতে হয় আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে। প্রধান বিচারপতিকে যে প্রকৃয়ায় বিতাড়ন করা হয়ে- মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়া, লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়া, ছুটির দরখাস্তে বলপূর্বক সই নেয়া, গৃহবন্দী করা, স্বজনদের জিম্মি করে দেশত্যাগে বাধ্য করা, সর্বশেষে আত্মীয় স্বজনকে ক্রসফায়ারে নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করানো- ইত্যাদি অপকর্ম বাংলাদেশে নজিরবিহীন। পৃথিবীর আর কোথাও হয়েছে কি না কারও জানা নেই। তবে বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই কাজ করেছে সেনাবাহিনীর ঢাকা ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর বেশ কিছু সেনা, গোয়েন্দা, ও সিভিল অফিসারা। যদিও পুরো বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জেনারেল আকবর, কিন্তু দুর্নাম হয়েছে মিলিটারী গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের ডিজি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীনের। তবে জেনারেল আকবরের প্রতিটি অপরেশনে ডিজিএফআইয়ের অফিসাররা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। প্রধান বিচারপতিকে অন্যায়ভাবে বিতাড়নের শাস্তি সম্ভবত ক্যাপিটেল পানিশমেন্ট। কিন্তু দায় কার? এসব অকান্ড ও অরাজকতায় জেনারেল আবেদীনের নাম উঠলেও তার পেছনে ছিলেন জেনারেল আকবর এবং শেখ হাসিনা।

This is an investigating report based on sources and required information. The article is seconded by Former Chief Justice of Bangladesh Mr S K Sinha in his book “A BROKEN DREAM: Status of Rule of Law, Human Rights and Democracy”
Photo source: Facebook

(আগামীকাল….. ৩য় কিস্তি)

ডিজি ডিজিএফআই আবেদীন কি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন খুঁজছেন?

বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর, যা ডিজিএফআই হিসাবে পরিচিতি, এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল  আবেদীন গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ব্যক্তিগত সফরে আছেন। দেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে, তখন এই সংস্থাটি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। যেকোনো বিচারে, এখন সরকারের শেষ সময়ে খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে, এমন সময়ে ডিজিএফআইয়ের ডিজির অনির্দিষ্টকাল বিদেশে পড়ে থাকা নিয়ে নানান রকম কথা উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। জেনারেল আবেদীন কি কোনো বিশেষ এসাইনমেন্ট নিয়ে আমেরিকাতে অবস্থান করছেন, নাকি পরিবার সমেত যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি খুঁজছেন? কেননা মাত্র ক’দিন আগেই খোদ র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ এবং অনেক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রে সহায় সম্পদ সরানো এবং ইমিগ্রান্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে খবরে প্রকাশ!

মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, যিনি আবেদীন হিসাবে পরিচিত, সেনাবাহিনীতে ১৫তম বিএমএ লংকোর্সে কমিশন পান ১৯৮৬ সালে। এর আগেও তিনি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহা-পরিদপ্তরে কাজ করেছেন। ১/১১ পিরিয়ডে এই সাইফুল আবেদীন লেফটেনেন্ট কর্নেল হিসাবে গুরুতর অপরাধ দমন কমিটির প্রধান লে. জেনারেল মাসুদের অধীনে কাজ করে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ধরপাকড়ে কাজও করেছেন। এক সময় বাংলাদেশ ইনফ‌্যানন্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের কমান্ড‌্যান্টের দায়িত্ব পালন করা এই সেনা কর্মকর্তা আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তি মিশনেও কাজ করেছেন।

ভীতু ও আত্মকেন্দ্রিক টাইপের মানুষ হয়েও সাইফুলের খুব নারীপ্রীতির কথা সেনাবাহিনীতে চাউর হয়ে আছে। ঘরে সুন্দরী স্ত্রী রেখে রাতভর সস্তা মেয়ে মানুষের পিছনে সময় কাটানোর জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। রাতভর, ফোন আলাপ, অ্যাডাল্ট চ্যাট, ন্যুড ছবি বিনিময়, এমনকি ফোনসেক্স, শেষে তার বিশেষ বাড়িতে শয্যাসঙ্গী করা তার নিয়মিত বিষয়। তার বান্ধবী তালিকায় হাইব্রিড রাজনীতিক শাহেদা ওবায়েদ থেকে শুরু করে মিলিটারীর জুনিয়ার মহিলা কর্মকর্তা, বিমানের ট্রেইনি পাইলট নানজীবা খান, গৃহবধু, গার্মেন্ট কর্মীরা, এমনকি অপ্রাপ্ত বয়স্করাও আছেন (অনেকে তার মেয়ের চেয়েও কম বয়সী)! তার মেয়ে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পড়াশুনা করে। কোনো সরকারী কাজ নিয়ে তার কাছে যাওয়া নারী সুন্দরী হলে আর কথা নাই, ছলে বলে কলে কৌশলে তাকে ভোগ করবেই।

জেনারেল সাইফুল আবেদীন দেশে ভিতরে বিএনপিকে সাইজ করার দায়িত্ব পালন করলেও বিদেশে গেলে তিনি ভিন্ন মানুষ হয়ে যান। তার শ্বাশুড়ি আ’লীগ এমপি হওয়ার সুবাদে যদিও তার এই গুরুত্বপূর্ন পদ প্রাপ্তি, তবুও তার পুরো সার্কেল ঘিরে আছে বিএনপির লোকজন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জেনারেল সাইফুল ওঠেন ওয়াশিংটন বিএনপির সভাপতি ফারুকের ব্যবস্খায় হোটেল, থাকা খাওয়া, বেড়ানো, কাসিনো, নাইট ক্লাব, নারী সঙ্গ সব কিছুই লাভ করেন। সেখান থেকে তিনি কানাডার বিএনপি সভাপতির আয়োজনে টরেন্টো সফর করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত এসে আটলান্টা বিএনপি সভাপতির আতিথেয়তা গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার সরকার অবশ্য এসব বিষয়ে বেশ উদাসীন!                                                                                       (আগামী কাল ২য় কিস্তি……)

This is an investigating report based on sources information. The authority reserved all sources and records.
Photo source: Facebook

« Older Entries