Category Archives: গোপন তথ্য

কয়লা চুরি দিয়ে সোনা চুরি চাপা, এরপর কি?

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগই একমাত্র রাজনৈতিক দল, তারা যেমন কোনো অঘটনের জন্ম দিতে পারে ঠিক তেমনি আবার নতুন একটি ঘটনার মাধ্যমে আগেরটাকে হত্যা করে ধামাচাপাও দিতে পারে। আওয়ামী লীগের বিগত ১০ বছরের শাসনামলে দেখা গেছে চুরির ঘটনা ঢাকতে ডাকাতি করেছে। একটি হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করতে আরও ১০ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। এভাবে তারা একের পর এক অপকর্মের জন্ম দিয়ে যাচ্ছে।

তাদের এসব অপকর্মের সর্বশেষ উদাহরণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে স্বর্ণ চুরি ও দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েবের ঘটনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনার কোনো প্রকার সুরাহা হওয়ার আগেই আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা চুরির ঘটনায় দেশের মানুষ শুধু ক্ষুব্ধ হয়নি, মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও দেখা গেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, এমন সংরক্ষিত জায়গা থেকে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার পক্ষে অর্থ বা স্বর্ণ চুরি করা সম্ভব না। তারা এতটা দুঃসাহস দেখাবে না। এই স্বর্ণ চুরির সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকজন সরাসরি জড়িত।

ভল্টের স্বর্ণ গায়েবের পর যখন সরকারের বিরুদ্ধে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় উঠলো, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যখন এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে লাগলেন। তখনই সরকার সোনা গায়েবের ঘটনা থেকে মানুষের দৃষ্টিকে সরাতে জন্মদিলেন আরেক ঘটনার। হঠাৎ করেই গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলো, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়লা গায়েবের ঘটনাটি অনেক আগের। সরকারের উপর মহলের কাছে এ তথ্য আগেই এসেছে। এ কয়লা চুরির ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেই তালিকাও সরকারের কাছে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট থেকে সোনা চুরির ঘটনায় যখন সরকার বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছে, তখনই এটাকে চাপা দিতে কয়লা গায়েবের ঘটনাটিকে সামনে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিরির্ধারকরা মনে করছেন, সোনা চুরির ঘটনা চাপা দেয়ার জন্য কয়লা গায়েবের ঘটনার চেয়ে মুখ্য হাতিয়ার আর কিছু নেই। সরকারের এ সিদ্ধান্তের পরই পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বিষয়টিকে মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসেন।

এদিকে, কয়লা গায়েবের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ভল্টের সোনা চুরির ঘটনাটি মানুষ একেবারেই ভুলে গেছে। বলা যায় এক্ষেত্রে সরকার সফল।

রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে বলছেন, সরকার কয়লা দিয়ে যেমন সোনা চাপা দিয়েছে, তেমনি আরেকটি নতুন ঘটনার জন্মদিয়ে কয়লা গায়েবের ঘটনাটিও ধামাচাপা দেবে। সেটা হয়তো বা আরও বড় কিছুও হতে পারে।

ভুমিকম্প আসিতেছে- এক সরকারী আমলার বার্তা!

চারিদিকে অবস্থা থমথমেঃ
#ঢাবির ক্যাম্পাসের অবস্থা ভীতিকর- স্বাধীনের সময়ও এত খারাপ হয়নি,
#ভিসির নির্লজ্জ দালালি দেখে সাধারণ মানুষ প্রচন্ড ক্ষুব্ধ,
#ছাত্রদের আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সাপোর্ট আন্দোলনে নতুন গতি সঞ্চার করবে। সরকার ভীত!
#সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, সেই সাথে বার বার দিল্লি গিয়ে কেবল হাতে পায়ে ধরার খবর! বাস্তবে শূন্য কলসি- জেনে গেছে মানুষ!
#সেনাবাহিনীর মাথায় শীর্ষসন্ত্রাসীর ভাইকে চাপিয়ে দেয়ার পরে বাহিনীতে মারাত্মক চাপা ক্ষোভ,
#রাষ্ট্রকে রাজনীতিশূন্য করে ফেলা হয়েছে, অনেকেটা ইচ্ছে করেই!
#সরকারী চাকুরেদের দফায় দফায় সুবিধা বৃদ্ধি করে খুশি রাখতে চেষ্টা,
#অন্যদিকে প্রশাসন পুলিশে হাজার হাজার বঞ্চিত অফিসার একটি পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে,
#পাবলিকের মধ্যে চরম হতাশা!
 
সব মিলিয়ে একটা ভূমিকম্পের আভাস পাইতেছি। দিন তারিখ জানিনা, তবে হয়তো বেশিদিন নাই। অকল্পনীয় কিছু ঘটে যাবে হয়ত। এটা এখন অবধারিত হয়ে গেছে। আপাতত ভুট টুট এসব চিন্তা না করলেও চলবে! একটা মৃতরেখা পাওয়া গেছে। আপাতত ওটা থাক।

প্রাসাদ যড়যন্ত্রের কবলে শেখ হাসিনা: ভেতরে গুঞ্জন- বেয়াই কেনো আসামী?

ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে প্রসাদ ষড়যন্ত্রের কবলে পড়েছেন শেখ হাসিনা। এই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে গেছেন তার নিকটজন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে নিরপেক্ষ অন্তর্বতীকালীন সরকার গঠনে ইতিবাঁচক ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি এবং ওয়াশিংটন। ভারত বুঝতে পেরেছে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে না হলে আগামীতে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যাবে না, তখন পরিস্থিতি তাদের আওতার বাইরে চলে যাবে। তাই সংবিধানের ভেতরে থেকে একটি কেয়ারটেকার সরকার গঠনের লক্ষে জোরদার কাজ চলছে! প্রস্তাবিত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্টানের ফরমুলায় শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে বর্তমান সংসদের কোনো এমপিকে (যিনি উগ্র আওয়ামীলীগার নন এবং বিরোধীদের মৌণ আস্থা হতে পারে, এমন কাউকে দিয়ে) প্রধান করে অন্তর্বতী সরকার গঠনের ফরমুলা নিয়ে কাজ করছেন।

নিরপেক্ষ অন্তর্বতী সরকারের প্রধান হিসাবে ইতেমধ্যেই দিল্লি শেখ হাসিনার বেয়াই ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের প্রতি সবুজ সংকেত জানিয়েছে। এই প্রকৃয়ার সাথে যুক্ত আছেন ক্ষমতাসীনে দলের নেতা ও মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু, সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সহ ৭০/৮০ জন এমপি। এইসব এমপিদের সামনে কোনো আশা নাই, কেননা আগামী নির্বাচনে তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবেনা বলে শেখ হাসিনা কয়েক দফা হুমকি দিয়েছেন। এরপরেই তারা সংঘবদ্ধ হয়ে এই বিকল্প পথ ধরেছেন। এই এমপি গ্রুপ সহ প্রকৃয়ার সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, এবং কিছু সিভিল সোশাইটির বিশিষ্ট লোক। নিরপেক্ষ সরকারের এই পরিকল্পনায় প্রাথমিক সায় দিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূতরা। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা তৈরী করতে শীঘ্রই বিএনপির সাথে রাষ্ট্রদূতরা গোপন যোগাযোগ করবেন।

ইতোমধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিক্যট ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের সাথে ২ঘন্টা ব্যাপী মিটিং করে ওয়াশিংটনে গেছেন। ৫ জুলাই তিনি ঢাকায় ফিরেবেন, তখন দেখা যাবে আরও চমক। বিশ্বস্ত সূত্র থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভীষন ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাকে হঠানোর এই উদ্যোগ থামাতে শেখ হাসিনা প্রথমেই বিয়াই মোশাররফকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন- প্রেসিডিয়াম মেম্বার থেকে উপদেষ্টা পরিষদে নামিয়ে দিয়েছেন। আমির হোসেন আমুকে ডেকে ধমক দিয়ে বলেছেন- আগামী সরকারে আপনার আর যায়গা হবে না, খালি গন্ডগোল করেন।

গৃহবিবাদ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের এসব খবরাদি স্থানীয় মিডিয়াতে যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্য খুব কড়া দৃষ্টি রাখা হয়েছে। ক্যামোফ্লেজ করতে সেনাগোয়েন্দা সংস্থার ভারতপন্থী গ্রুপের পরামর্শে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা জোরদার করা হয়েছে! পরিস্থিতি বুঝে শেখ হাসিনা দলের ভেতরে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আভাস দিয়েছেন। এমনকি স্ত্রী হত্যার অভিযোগও উঠতে পারে বেয়াইর বিরুদ্ধে!

সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভেতরে খবর ছড়িয়ে পড়েছে- বেয়াই কেনো আসামী?

নিউ ইয়র্ক বই মেলায় ১০ কোটি টাকার আদম বানিজ্য!

প্রতিবছরের মত এবারও নিউইয়র্কে তিনদিন ব্যাপী বই মেলা হয়ে গেলো ২২-২৪ জুন। নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে পিএস ৬৯ স্কুল বিল্ডিংয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়।

মুক্তধারার কর্নধার বিশ্বজিৎ সাহা এই বই মেলার মুল উদ্যেক্তা। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে অতিথি হয়ে হয়ে আসেন রামেন্দু মজুমদার, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, শামসুজ্জামান খান, আনিসুল হক মত কিছু বিশিষ্ট জন। কিন্তু এই সাদা বই মেলার অন্তরালে ঘটে গেছে কালো কিছু ব্যবসা।

জানা গেছে, এই বইমেলা নিয়ে অন্তত ১০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বিশ্বজিৎ সাহার। প্রথমত, ঢাকার ১০/১২ টি ব্যাংক ও বড় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২০-৩০ লক্ষ টাকা করে স্পন্সর জোগাড় করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অফিস। এতে ৩/৪ কোটি টাকার সংস্থান হয়।

দ্বিতীয়ত, বিশ্বজিতের চিঠির উপরে ১৫০ জনের লোকের ভিসার ব্যবস্খা হয়, যেখান থেকে জনা পঞ্চাশেক আর দেশে ফিরবে না। এই খাতে ১০ কোটি টাকার উপায় হয়েছে।

মোট কথা, বই মেলাতে ১টা বই বিক্রি না হলেও সব ষরচ বাদ দিয়ে বিশ্বজিতের পকেটে ঢুকেছে ১০ কোটি টাকা। এই এক বই মেলা থেকেই সারা বছরের ব্যবসা উসুল!

একটি প্রমাদ সংশোধনী: পিলখানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ৪৪ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল শামস সঠিক আবিস্কার!

বাংলাদেশ সেনাবাহীনির বর্তমান ব্রিগেডিয়ার শামসুল আলম চৌধুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৪ লং কোর্সের অফিসার। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় যারা ভিতর থেকে ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তার অন্যতম ছিলেন বিডিআরের ৪৪ রাইফেল’এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্নেল শামস। এই ৪৪ রাইফেলের সৈনিকরাই পিলখানায় সেদিন প্রথম বিদ্রোহ করে এবং মূল হত্যাযজ্ঞ চালায়। পিলখানায় দরবার হলে আটক শতাধিক অফিসারের মধ্যে শামসও একজন ছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে পরে অক্ষত অবস্খায় ফিরে আসেন। উদ্ধার হওয়ার পরে তার মুখে সন্দেহজনক কথাবার্তা শুনে সেনাঅফিসাররা ধারনা করেছিলেন, শামস বিদ্রোহের খবর আগেই জানত। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শামসের কাজে খুশি হয়ে তাকে পদোন্নতি দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের পোস্টিং শেষ করে তাকে পাঠানো হয় ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাভার পোস্টিংয়ে- মিনিষ্টার কনস্যুলার পদে কর্মরত ছিলেন চার বছর। পাসপোর্ট ভিসা কেলেঙ্কারী করে অবৈধ অর্থ আয়, এমনকি স্থানীয় বাংলাদেশীদের ব্যবসায়ীদের সাথে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন। ওয়াশিংটনে থাকাকালে প্রবাসী ব্যবসায়ীদেরকে বাংলাদেশে ব্যবসা পাইয়ে দিবে (বিশেষ করে আইটি খাতের) বলে অনেকের ব্যবসার শেয়ার হোল্ডার হন। তার ক্ষমতার উৎস হিসাবে দাবী করেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে, তিনি নাকি তার ভার্জিনিয়ার বাড়িতে যাওয়া আসা করেন। পার্টনারশীপ থেকে কোনো ব্যবসায়ীকে ব্যবসা থেকে আউট করতে চাইলে শেষে তারা নিজেদের ক্ষতি স্বীকার করেও শামসের হাত থেকে মুক্তি নেন। শামস নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে ওয়াশিংটন থেকে দেশে ফিরতে চাননি। প্রচুর অর্থ খরচ করে আমেরিকায় এডযাস্ট হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিদেশ পোস্টিং শেষ করে এসে ব্রিগেডিয়ার পদোন্নতি, এবং এনএসআইতে পোস্টিং। এখানেও বিরোধী দলের নেতাকর্মী অত্যাচার নির্যাতনের সাথে জড়িত হয়ে পড়েন শামস।

তবে এতকাল ধরে একটি ভুল তথ্য প্রচার হয়েছিল, আর তা হচ্ছে- এই বিডিআরের ৪৪ রাইফেলসের শামস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামানকে, যিনি ১৩ লংকোর্সের অফিসার। এর মূল কারন ছিল ব্রিগেডিয়ার শামসুজ্জামান এবং কর্নেল শামসুল আলম চৌধুরী দু’জনে একই সময়ে ওয়াশিংটন দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন। দু’জনেই ‘শামস’ লিখতেন। তবে ১৩ লংয়ের শামস ছিলেন ব্রিগেডিয়ার এবং মিলিটারী এটাশে হওয়ার কারনে- বেশি এক্সপোজড! অন্যদিকে ১৪ লংয়ের শামস ছিলেন কর্নেল, ডিজিএফআইর কাভার পোস্টিংয়ে মিনিস্টার কনস্যুলার। তিনি থাকতেন সিভিলে। কর্নেল শামস তার সামরিক র‌্যাংক পরিচয় উল্লেখ করতেন না, ফলে অনেকে তাকে সিভিলিয়ান অফিসার হিসাবে ভ্রম করতো। তেমনই ভ্রমাত্মকভাবে অনেকেই ১৪ লংয়ের শামসের দায় ১৩ লংয়ের শামস এর উপর চাপিয়ে দিয়ে বসে আছেন। ১৩ লংয়ের শামসুজ্জামান এখন মেজর জেনারেল।

মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সরকারের মনোনীত ডিফেন্স এটাশের নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের অসম্মতি!

বাংলাদেশে গুম খুন ভয়াবহ মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে ডিফেন্স এটাশে হিসাবে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে পদায়নের প্রস্তাব দিলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়- ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাই তাকে যুক্তরাষ্ট্র ঐ পদে গ্রহন করবে না। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে!

২০১৭ সালের মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের কান্ট্রি রিপোর্টে বাংলাদেশ সরকারে বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে ব্যাপক তথ্য তুলে ধরা হয় এবং বিভিন্ন বাহিনী নির্যাতন ও মানবাধিকার লংঘন করেও পার পেয়ে যায় মন্তব্য করা হয়েছে।

কেবল যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনই নয়, জাতিসংঘ সদর দফতর জানতে পেরেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা র‌্যাব এবং বিভিন্ন অবস্থানে থেকে খুন, গুম ও মানবাধিকার লংঘনে জড়িত থাকার পরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দলে যোগ দিয়ে তাদের অপরাধ লুকানোর চেষ্টা করে। এসংক্রান্তে একাধিক লিখিত অভিযোগের পরে শান্তিরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেস্ক থেকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া র‌্যাবের বিচারবহির্ভুত হত্যাকান্ড নিয়ে সুইডিস রেডিওর দীর্ঘ প্রতিবেদনের পরে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ফলে মানবাধিকার লংঘনের নানা অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশের সাথে সাথে সেনাবাহিনীকেও শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নিয়োগের ওপরে নিষেধাজ্ঞায় আওতার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া মানবাধিকার লংঘনের দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগ বন্ধ করে তদস্থলে ভারতীয়দের কোটা বাড়ানোর জন্য ভারত সরকার অনেক আগে থেকে জাতিসংঘে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

নিশ্চিন্তে খালেদা। মহাবিপদে হাসিনা- চীনকে ধরতে ছুটছেন সিঙ্গাপুরে, ভারতের পায়ে পড়তে হামিদ দিল্লিতে।

কারাবাসের এক মাস শেষে ফুরফুরে খালেদা জিয়া- বিশেষ করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি ধরে রাখা, দল অটুট থাকা, এবং বিদেশীদের কাছে দলের পজিটিভ ইমেজ। এতে সরকার দেখছেন মার্কিনীদের চক্রান্ত। বিপরীতে, বিএনপি নেত্রীকে জেলে রেখেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার সকল প্রস্ততি নিয়েও শেষ সময়ে তা স্থগিত রাখতে হয়! কোনো দিক থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে মহাবিপদে হাসিনা। চীনের লাইন ঠিক করতে নিজেই যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। আর ভারতকে শান্ত রাখতে রাষ্ট্রপতি হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লি! সাউথ ব্লকের কপলে চোখ!

কারসাজির রায় দিয়ে কারাগারে পাঠালেও বেগম খালেদা জিয়ার ধৈয্যের কাছে হাসিনার পরাজয় ঘটেছে। আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসার কথা ছিল। আ’লীগের নেতারা অনেকেই সেমতে তৈরী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী বৈরতণী পার করার মত কোনো পরিস্কার আশ্বাস কোনো দিক থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা না দিয়েই ‘এতিমের টাকা এতিমের টাকা’ বুলি আউড়িয়ে জনসভা শেষ করতে হয়!

দীর্ঘদিন ধরে যে পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা ছিল, যারা ‘সরকারে আনছি আমরা, সরকার ধরেও রাখছি আমরা’ বলতো প্রকাশ্যে, এখন তারা ব্যস্ত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে। প্রতিদিনই সাসপেন্ড, বদলী হচ্ছে অনেকে। অতিউৎসাহীরা চেয়ার এবং চাকরি বাঁচাতে গলদঘর্ম। কেবল অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কিছু ধরপাকড় করে বদনাম কামানো ছাড়া তেমন কোনো আশার বাণী দেখতে পাচ্ছে না সরকার। সময় শেষ, তাই কৌশলে চলো নীতিতে ব্যস্ত বাহিনীটি।

উত্তর পাড়া থেকে আগেই জানানো হয়েছে রাজনৈতিক ক্যাচলে তারা নেই। উত্তরের মুরব্বী, তারও উত্তরের অর্থনৈতিক শক্তি, দুর পশ্চিম কোথাও থেকে ‘ভোট ছাড়া ক্ষমতা’ নিশ্চিত হওয়ার কোনো আশ্বাস নাই। ফলে চাইলেও ‘শত্রুকে জেলে রেখে এখনি নির্বাচন করে ফেলব’ সে গুড়ে বালি। অনন্যোপায় হয়ে নিজেই ছুটছেন অপ্রয়োজনীয় সিঙ্গাপুর সফরে। মূলত, সেখানে নিজেই চীনের সাথে বোঝাপড়া করবেন, এমন আভাস পেয়ে তটস্থ হয়ে উঠেছে দিল্লি। আঁড়ি পেতে খোঁজ নেয়ার জন্য দিল্লির গোয়েন্দারা সিঙ্গাপুরের পথে। অন্যদিকে পা ধরে ভারতকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে। কিন্তু সিঙ্গাপুরের খবরের পরে দিল্লির অবস্থান আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে সাউথ ব্লকের আভাস। লিসার সফর থেকে হুঁশিয়ারি আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জোর চাপ। ফলে বিপদ এখন মহাবিপদে রূপ নিয়েছে।

তমা কোম্পানী এবং মীর্জা আজম: রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটতরাজের উপাখ্যান!

৫১৩ কোটি টাকার চাল-গমের গুদাম নির্মাণের কাজ ৯৬০ কোটি টাকায় পাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন!
 
কে এই তমা কনস্ট্রাকশন?
 
মিডিয়া ঘাটলে যা পাওয়া যায়- যত দুর্ভোগ, তত উদাসীন ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! ফ্লাইওভার বানাতে গিয়ে জনগনকে দুর্ভোগ দিয়ে লোকজন হত্যা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে তমা কনস্ট্রাকশন!
একটু ট্রেক রেকর্ড দেখা যাক-
 
১) মনে কি আছে, ২০০০ সালে ঢাকার মিরপুর রোডের সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে নির্মানাধীন পদচারী-সেতুর (ফুটওভার ব্রিজ) গার্ডার পড়ে মারা যান মাগুরা টেক্সটাইলসের একজন কর্মকর্তা সহ কয়েক জন। সেই ফুটব্রিজ নির্মানের কাজ করছিলো ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! বিনা অভিজ্ঞতায় পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্খা না নিয়ে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ দিনের পর দিন এধরনের ঝুকিপূর্ন কাজ করে গেছে।
 
২) তমা এরপরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের সাবকন্টাক্টের নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে। নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই তমা কনস্ট্রাকশন এখানে ৪/৫ বছর কাজ করে গেছে, যাতে মোট ৯ জন মানুষ নিহত হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হয়নি পথচারী কিংবা কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেন্ডার প্রকৃয়ায় খুব বড় অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুকৌশলে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘তমা কন্সট্রাকশন’কে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। যদিও তাদের আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে তখনই প্রশ্ন ছিল। কারণ, তমা কন্সট্রাকশনের ইতিপূর্বে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ছিল না। ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছে তমা কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছে করেই নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় বাড়ানোর সঙ্গে তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের বাজেট ছিল ৩৩৪ কোটি টাকা, যা শেষমেষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অতিরিক্ত খরচ ৮৯৫ কোটি টাকা, যা পুরোটাই লুটপাট। লীগ সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আজম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক ও মন্ত্রী ওবায়দুলের হরিলুটের কারনে মগবাজার ফ্লাইওভার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যদিও উল্টা ডিজাইনে করায় এটি ঠিকমত ব্যবহার উপযোগি নয়, বরং ঝুকিপূর্ন।
 
৩) ৪০ কোটি টাকার ঢাবির হল ‘বিজয় একাত্তর’ ৫৯ কোটি টাকায় নির্মান করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের প্রায় চার বিঘা জমি দীর্ঘ ছয় বছর দখলে রেখে ব্যবসা করেছে তমা কন্সট্রাকশন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আদালত থেকেও মাঠটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসেনি ক্ষমতার ব্যক্তিদের কাছে।
 
৪) রাজবাড়ী থেকে শুরু করে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন তৈরী করার কাজটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন। ফরিদপুর রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় রেললাইনের মাঝে যে পাথর দেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক পাতলা করে ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাথরগুলো সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 
৫) ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথের নির্মাণকাজ পেয়েছে চীন ও বাংলাদেশের চার প্রতিষ্ঠান। অথচ এর আগের বিএনপি জোট সরকারের সময় নেয়া এই প্রজেক্ট ২০১০ সালে ব্যয় ধরা হয় ১,৮৫২ কোটি টাকা ছিল। এই মহাডাকাতির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
৬) এর আগে ‘তমা কনস্ট্রাকশনের নির্মাণাধীন খুলনার রেলস্টেশনের ছাদে ফাটল ধরেছিল। সেখানেও বেশ কয়েক বার নির্মাণ খরচ বাড়িয়েছিল কিন্তু কাজ যথাযথ ভাবে হয়নি। আটকে আছে খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন, এ কারণে কাজ শেষ হতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত হতে পারে।
 
৭) বাগেরহাট জেলার রামপালে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইউডি)-এর অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড।
 
৮) তিন শ’ ছাপ্পান্ন কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরায় ফ্যাট নির্মাণের দায়িত্ব পেল তমা কনস্ট্রাকশন। কোম্পানিটি ৬৭২টি ফ্লাট নির্মাণ করবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
 
৯) রেলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ২২শ ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ভৈরব-টঙ্গী ৬৪ কিলোমিটার রুটে লুপ লাইনসহ ৮৬ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মানের কাজ চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সাথে কাজ করছে দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১০) বাংলাদেশ রেলওয়ের কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া রেলপথ পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়ায় নতুন রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে প্যাকেট ডব্লিউডি-৬ এ আওতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্রীজ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ করা হবে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১১) রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য আট’টি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা হয়েছে এবং শত শত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে গোল্ডেনবার্গ এর সহযোগি হবেন, তারমধ্যে আছে তমা কনস্ট্র্রাকশন।
 
১২) ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষে ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এজন্য নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেই দায়ী করছে রেল বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণকাজে এ ধীরগতির কারণে একদিকে যাত্রীরা কাঙ্খিত সেবা থকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করছে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১৩) ২৬৬ কোটি টাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পে রায়মণি থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটারের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
১৪) বাংলা দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম শিরোনাম হচ্ছে, ‘মন্ত্রী মামলা ঠিকাদারের স্বার্থের বলি যাত্রীরা! ট্যাক্সিক্যাব উঠলেই ১০০ টাকা ভাড়া।’ এ সিন্ডিকেটে তমা কনস্ট্রাকশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামের দুটি সংগঠনের সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা গোলাম আজম, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরী, ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর বন্ধু, তমা কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আতাউর রহমান মানিকের নাম এসেছে। একদিকে সরকারের এতসব লম্ফঝম্প, অন্যদিকে এক আমলা,- এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর এমন বিপুল বিশাল ক্ষমতা, মিলাতে পারছি না যে!! জনপ্রতিনিধি হয়েও মির্জা গোলাম আজমের এমন গণবিরোধী আচার-আচরণ কথাবার্তা!!
 
১৫) দুই লাখ এক হাজার টন চাল-গম রাখতে স্টিলের গুদাম নির্মাণে ৫১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লাগার কথা। আর এভাবেই অনুমোদন হওয়া সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনার প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্যাকেজ-৩ এ উল্লেখ করা আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও মধুপুরের তিনটি সাইলো নির্মাণে লাগছে ৯৬০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাইলো নির্মাণের এ কাজটি পেতে যাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (টিসিসিএল)!
 
শত শত সরকারী নির্মানকাজের সাথে জড়িত তমা গ্রুপের চেয়্যারম্যান হিসেবে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক নামক একটা লোককে সামনে রাখা হলেও বিনা বিনিয়োগে এর মূল মালিক জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানের আদরের শালা মির্জা আজম, যিনি শেখ হাসিনার পাট বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। তার সাথে আছে বাংলাদেশের প্রথম ‘গানপাউডারে বাস পোড়ানো’ আবিস্কারক জাহাঙ্গীর কবির নানক। দু’বছর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তমা কনস্ট্রাকশনের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসেে। বলা হচ্ছে ফ্লাইওভার বাবদ লুটে নেয়া রাষ্ট্রীয় টাকার অংশ তমা কনস্ট্রাকশন ছাত্রলীগকে দিচ্ছে। যার বদৌলতে শত অপকর্ম স্বত্বেও ছাত্রলীগের পাহারায় নানান যায়গায় ব্যবসা করে যাচ্ছে তমা কোম্পানী, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। যদিও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দর্পকরে বলেন– আমরা ব্যবসা করতে আসিনি, কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর মির্জা আজম কাকরাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন। এর পরপরই রেলওয়ে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনেকগুলো বড় ঠিকাদারি কাজ পেতে থাকে তমা কনস্ট্রাকশন। তমা কোম্পানীর নানা অপকর্ম, সময়মত কাজ না করে তিন চার গুণ খরচ বাগানো, নিম্নমানের কাজ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশে বহু মানুষ হত্যাকারী ঠিকাদার হয়েও হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারী কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে।
 
মির্জা আজম এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। এত টাকা হাতে যে কর্মীরা হাত বাড়ালে ১০/২০ লাখ টাকা ছুড়ে দেয়া তার অভ্যাসে দাড়িয়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নিজের ভাই মির্জা কবীরকে বিনাভোটে পৌরসভা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। মায়ের চল্লিশায় খাওয়ানো বাবদ খরচ করেছেন ৪ কোটি টাকা। পুরো জামালপুর জেলার সকল কন্ট্রাকটরী করেন মির্জা আজম। জামালপুর শহরে ৫০ কোটি টাকায় নিজের বাড়ি নির্মান করেছেন আজম। স্ত্রী এবং স্বজনদের হাজার বিঘার ওপরে জমি করেছেন মেলান্দহে। কিনেছেন নিউইয়র্ক, কানাডা, লন্ডনে একাধিক বাড়ি, শ্রীমঙ্গলে নানকের সাথে হাজার একরের টিএস্টেট। আজম এখন জামালপুরের অঘোষিত ‘রাজা’।
 

বিভিন্ন সেক্টরে ভিন্ন ভিন্ন নামে আছে তমা কোম্পানী এবং আজমরা, যারা লুটপাট করে রাষ্ট্রীয় অর্থ। আর ধংস হচ্ছে দেশ!

/ফেসবুক

ধানমন্ডিতে ওবায়দুল কাদেরের রংমহল!

তিনি ওবায়দুল কাদের। রমনীমোহন হার্টথ্রব মন্ত্রী। কবিও বটে। সন্ধার পরে সুরা সাকী নিয়ে বসেন নিজস্ব বালাখানায়।
স্থান ধানমন্ডির আনাম প্লাজার পাশের সুসজ্জিত সুপরিসর একটি এপার্টমেন্টে। একটি হাউজিং কোম্পানী থেকে উৎকোচ হিসাবে পাওয়া ফ্লাটটি, অবশ্য এক স্বজনের নামে রেজিষ্ট্রি করেছেন। ঐ ভবনে সন্ধ্যার পরেই সুরা সাকী নিয়ে মৌজ মাস্তিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সরকার দলীয় সাধারন সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের নেত্রীদের, সিনেমা জগতের উঠতি নায়িকারা সেখানে গিয়ে জীবন ও শরীর ধন্য করে আসে। পনের থেকে পঞ্চাশ- কোনো অসুবিধা নেই তার!

ছাত্র জীবন থেকে মন্ত্রিত্ব- ওবায়দুলের নারী নিযে ব্যস্ততা পুরোনো হলেও তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন সাধারন সম্পাদক পদে নিয়োগ লাভের পরে সরকারী গোয়েন্দারা তার পিছনে অতিরিক্ত খোঁজ খবর নিতে থাকে। ভালোর জন্য ঘুরতে গিয়ে শেষে সেতুমন্ত্রীর এই গোপন বালাখানার খবর গোয়েন্দানের নজরে আসে। ওখানকার মোটামুটি সবকিছু নখদর্পনে রয়েছে তাদের- গোপন ক্যামেরায় ধরা আছে মহিলালীগ এবং ছাত্রলীগ নেত্রীদের, কিছু কথপোকথনও রেকর্ড করা আছে। জা গেছে উপযুক্ত  সময়ে তা প্রকাশ করার জন্য নিরাপদে কিছু কপি সরিয়ে রাখা হয়েছে। দু’দিন আগে ওবায়দুলের মায়ের মৃত্যুর পর শোক কাটাতেও বিশেষ আসরের আয়োজন করা হয় জলসাঘরে।

৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করে বিডিআর ধংস করা হলো সেনাবাহিনী পঙ্গু করা হলো – বিচার কবে?

অনেক সময় গেছে, অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। নয় বছর পার হয়েছে পিলখানার ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার বিচার হয়নি। পিলখানায় সেনা হত্যার ঘটনা সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যে কলিজায় আগুণ জ্বলছে। এত সংখ্যার অফিসার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বা এমনকি বিশ্বযুদ্ধেও এক ঘটনায় মারা যায়নি। দুর্ঘটনাসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৫৫ জন অফিসার মারা গেছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের নামে গত ৮ বছর প্রহসন হয়েছে, কিন্তু আসল হোতারা এখনো গোঁফে তা দিয়ে ঘুরছে। সেনাবাহিনী অপেক্ষায় আছে ঐ নির্মম ঘটনার বিচারের। উপযুক্ত সময়েই সবকিছু হবে। সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার কোন পরিকল্পনায় কারা হত্যা করেছে। ঘটনার বর্ননায় না গিয়ে আসল কথায় আসি- কে, কেনো, কোথায় জড়িত ছিলো ইতিহাসের নির্মম ঐ হত্যাযজ্ঞে।

১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘R&AW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।

পাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়। অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত রিস্ক থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে। একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “২৪ ঘন্টা” টিভিতে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম!

পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রীবাহিনী ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত। বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐসময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”

২. শেখ হাসিনা : ভারতের এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয় বেশ আগেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ঘটনার ১ সপ্তাহ আগে তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রীকে সুধাসদন থেকে সরিয়ে যমুনা অতিথি ভবনে নেয়া হয়, কেননা পিলখানার ডেঞ্জার এরিয়ার মধ্যে ছিল ওটা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মেরামত শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের সিগনালে খুব দ্রুততার সাথে হাসিনাকে সুধাসদন থেকে সরানো হয়। এটা এক অসম্ভব ঘটনা। পিলখানা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় বিরাট সংখ্যায় সেনা অফিসার হত্যা করা হবে, যেটা ১৯৭৫ সালে তার পিতৃ হত্যার একটা বদলা হিসাবে হাসিনার কাছে সুখকর ছিলো। এর মাধ্যমে বিডিআর নিশ্চিহ্ন হবে, টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যা করা হলে তাতে মূল সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙ্গে যাবে। গোয়েন্দা খবর পেয়ে ২৫ তারিখে পৌনে ন’টার মধ্যেই এনএসআই ডিজি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে- “পিলখানায় বিদ্রোহ হচ্ছে। ” প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকেন! আক্রমনের পরে অফিসারদের SOS পেয়ে সকাল ১০টার মধ্যে র‌্যাবের একটি দল, এবং ১০.২৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি দল পিলখানার গেটে পৌছায়। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়নি। আশ্চয্যজনকভাবে তিনি সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। আর এর মধ্যে ঘটতে থাকে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। খেয়াল করুন, সেনা অফিসাররা কোনো প্রতিরোধ করেনি, কাজেই কি কারনে বিডিআর সৈনিকরা অফিসারদের হত্যা করবে? এটা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সেনা অফিসার হত্যাকান্ড। সারাদিন হত্যাকান্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে বিকালে শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের সাথে বৈঠক করে তাদের সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি একবারও জানতে চাননি, ডিজি শাকিল কোথায়? কি বিস্ময়!! জেনারেল জাহাঙ্গীরের তদন্ত কমিটি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুপারিশ করেছিল, যার ফলে হাসিনা ক্ষেপে গিয়ে ঐ রিপোর্ট ধামাচাপা দেন।

৩. গোয়েন্দা সংস্থা: ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ঘটনার আগের দিন এটা জানার পর সে এনএসআইকে এই মর্মে অবহিত করে যে, পিলখানা য় বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগের নেতারা জড়িত। এনএসআই থেকে উক্ত সাংবাদিককে বলা হয় বিষয়টা চেপে যেতে। ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পিলখানায় যাওয়ার আগের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। তখন সেনা অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হয় অস্ত্রাগার পাহারায়। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দাগিরি বহাল থাকে। নূন্যতম কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রোগ্রাম বাতিল হয়। এত কিছু সত্তেও ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। মূলত: বিদ্রোহের আগাম বার্তা সেনাপ্রধান ম্ইন, ডিজিএফআই প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর (ইনি হাসিনার এক সময়ের প্রেমিক ছিলেন), এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল মুনির, সিজিএস মেজর জেনারেল সিনা জামালী, বিডিআর কমিউনিকেশন ইনচার্জ লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান, ৪৪ রাইফেল’এর সিও শামস, মুকিম ও সালাম-এর জানা ছিল। কেননা ২৫ তারিখের আগেই দাবী দাওয়ার লিফলেটের কপি ডিজি শাকিল, এনএসআই ও সরকারের কাছে পৌছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের বহু সেক্টর কমান্ডাররা জানত, ২৫ তারিখে একটা ঘটনা ঘটবে। পরিকল্পনামত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ২৪ তারিখে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ তারিখের নৈশভোজে যাচ্ছেন না। এমন ঘটনা অতীত কখনও কখনো ঘটেনি!

৪. জেনারেল মইন উ আহমেদ: তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১র প্রধান কুশীলব। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে ভারত সফর করে মইন চেয়েছিলেন পূর্ন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতীয় সমর্থন। ভারত রাজী হয়নি, বরং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার লক্ষে মইনকে কাজ করতে বলে, বিনিময়ে সেফ প্যাসেজ পাবে কুশীলবরা। উপায়ান্তর না দেখে মইন রাজী হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিত ফলাফলের নির্বাচনে ক্ষমতার পালবদল ঘটায়। মইনের বদলে আসেন হাসিনা! ওয়ান ইলেভেনের খলনায়করা যে সব রাজনীতিবিদদের অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদে প্রবল দাবী ওঠে। তখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে জেনারেল মইন নিজে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সংসদ অফিসে। এরপর শেখ হাসিনা ধমকে দেন মখা আলমগীর, আবদুল জলিলদের, যাতে করে সেনাবাহিনীর বিচারের দাবী আর না তুলে। হাসিনা এ সময় হুশিয়ার করেন, “কিভাবে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা কেবল আমিই জানি।” অন্যদিকে ঐ সময়ই ভারত তার প্লানমত এগিয়ে যায় বিডিআর অপারেশনে। মইনকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে। মইন তার দু’বছরের অপকর্মের স্বাক্ষী আর্মি অফিসারদের আগে থেকেই পোষ্টিং দিয়ে জড়ো করে বিডিআরে। এদের নিধন করা হলে মইনের অপকর্মের সাক্ষী আর পাওয়া যাবে না। ফলে মইনের বিরাট প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ। অন্যদিকে এত সেনা অফিসার নিহত হলে ১/১১ নিয়ে সেনাবাহিনী তথা মইনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা আর মুখ খুলবে না। এতকাল আর্মির রদ্দিমালগুলো যেতো বিডিআরে। কিন্তু এবারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র- পরিকল্পিতভাবে অনেক চৌকশ অফিসার একসাথে পাঠানো হয় বিডিআরে। পিলখানা হত্যাকান্ডের মাত্র ১ সপ্তাহ আগে গুলজারকে ষ্টাডরিলিজ করে বিডিআরে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। রাইফেলস সপ্তাহের আগেই কানাঘুসা শুরু হয়- ২৫ তারিখে বিদ্রোহ হবে। তাই অনেক অফিসার নানা অযুহাত দিয়ে ছুটিতে চলে যায়। সেনাপ্রধান মইনের পিলখানা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, যার প্রমান মেলে ঘটনার সাথে সাথেই আক্রান্ত ডিজি শাকিল ও অফিসাররা মইনকে ফোনে জানায়। মইন আশ্বাস দেন সেনা পঠাচ্ছি। অথচ তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি, সময় ক্ষেপন করে হত্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ম্ইন চলে যায় যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। তেজগাওয়ে এয়ারফোর্স রেডি, আর্মি রেডি সেনিাবাসে। কিন্তু হুকুম আসে না। বিকালে কিছু সেনা ও যানবাহন ধানমন্ডি পর্যন্ত পৌছে গেলেও অপারেশনের অনুমতি দেয়নি হাসিনা ও ম্ইন। ঘটনার ৪ দিন পরে ১ মার্চে হাসিনা সেনাকুঞ্জে গেলে মইন সেনা অফিসারদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পরেন। এমনকি নিহতদের জানাজার সময় মইনকে চেয়ার তুলে মারতে যায় কেউ কেউ। উল্টো, সেনাকুঞ্জে যে সব সেনা অফিসার বিচার চেয়ে জোর গলায় বক্তৃতা করেছিল, প্রতিবাদ করেছিল- ভিডিও দেখে দেখে এমন প্রায় দু’শ জনকে চাকরীচ্যুত করেছে মইন অনেক অফিসারকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।

৫. সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার এই পুত্রটি আগে থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেড় মাস আগে (১৯ নভেম্বর) হাসিনার উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তার Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে ৩০% মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকানো হয়েছে। এদের নির্মুল করে সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করতে হবে। পিলখানায় বিপুল সেনা অফিসার হত্যা করা হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করা সহজ হবে, এবং নতুন নিয়োগ করা যাবে- এমন বিবেচনায় জয় ভারতীয় প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। পিলখানা হত্যার পরে জয় দুবাই যান এবং সেখানে ঢাকা থেকে আগত হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করেন বলে খবর প্রকাশ।

৬. শেখ ফজলে নূর তাপস: হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এই তাপস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটনায় তার পিতা নিহত হয়। তাপস ঢাকা-১২র নির্বাচন করতে গিয়ে বিডিআর এলাকায় ৫ হাজার ভোট প্রাপ্তির লক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তোরাব আলী’র মাধ্যমে বিডিআর নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। তাপসকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, বিডিআর সকল সদস্য নৌকায় ভোট দিবে। তার বদলে তাপস আশ্বাস দিয়েছিল বিডিআরের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তাপসের বাসায় (স্কাই ষ্টার) বিডিআরের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এমনকি দাবীদাওয়া পুরন না হওয়ায় পিলখানা বিদ্রোহের আগের দিন তাপসকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের কথা জানানো হয়। তাপস তাতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাপসও এই ষড়যন্ত্রকে কার্যকর হিসাবে মনে করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফজলে নুর তাপসের ধানমন্ডিস্থ বাসায় ২৪ জন বিডিআর হত্যাকারী চুড়ান্ত শপথ নেয়। তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন পরিকল্পনাকারীদেরকে গোপন আস্তানা ও যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে। বিডিআর বিদ্রোহের পরের দিন বিকালে শেখ তাপসের ঘোষনা প্রচার করা হয়, যাতে করে পিলখানার ৩ মাইল এলাকার অধিবাসীরা দূরে সরে যান। আসলে এর মাধ্যমে খুনীদের নিরাপদে পার করার জন্য সেফ প্যাসেজ তৈরী করা হয়েছিল। তাপসের এহেন কর্মকান্ডের বদলা নিতে তরুন সেনা অফিসাররা পরবর্তীতে তাপসের ওপর হামলা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ৫ চৌকস কমান্ডো অফিসার চাকরীচ্যুত হয়ে কারাভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে তাপস কিছুদিন গা ঢাকা দেয় বিদেশে।

৭. মীর্জা (গোলাম) আজম: যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এই হুইপটি পিলখানা হত্যাকান্ড চলাকালে বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেয় কর্নেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং দেহ নষ্ট করে ফেলতে (এর অডিও রেকর্ড আছে), কেননা র‌্যাবের সাবেক পরিচালক কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বে জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে ধরা হয়েছিল ও পরে ফাঁসি দেয়া হয়। শায়খ রহমান ছিল মির্জা আজমের দুলাভাই। আজম এভাবেই দুলাভাই হত্যার বদলা নেয় গুলজারকে হত্যা করে, এমনকি তার লাশও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০০৪ সালে নানক-আজমের ব্যবস্থাপনায় শেরাটন হোটেলের সামনে গানপাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার ঘটনা তদন্ত করে এই গুলজারই নানক-আজমকে সম্পৃক্ত করে। এর প্রতিশোধেই গুলজারে শরীর এমন ভাবে নষ্ট করা হয়, যেনো কেউ চিনতে না পারে। ১৫ দিন পরে ডিএনএ টেষ্ট করে চিহ্নিত করা হয় গুলজারের লাশ।

৮. জাহাঙ্গীর কবির নানক: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। উনি বিডিআরের ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদের ক্লাশমেট। বিডিআর ট্রাজেডির আগে থেকেই তৌহিদ যোগাযোগ রাখত নানকের সঙ্গে। ঘটনার দিন ২০৪ মিনিট কথা বলে তৌহিদ-নানক। ২৫ তারিখ বিকালে পিলখানার বিদ্রোহীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মিটিং করিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠায় সে। ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষণা করে নানক। কর্নেল গুলজার হত্যায় মীর্জা আজমের সাথে নানক সরাসরি জড়িত। কেননা, র‌্যাবের পরিচালক গুলজারই তদন্ত করে উদঘাটন করে- শেরাটনের সামনে দোতলা বাস জ্বালিয়ে ১১ যাত্রী হত্যা করা হয় নানকের নির্দেশে। ২৫ তারিখে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেল মঞ্জুর এলাহী পালিয়ে ছিল ম্যানহোলে। তার স্বজনরা এসএমএস মারফত খবর পেয়ে নানকের সাহায্য চায়। ২৬ তারিখে উদ্ধার করার বদলে ঐ অফিসারটিকে খুঁজে বের করে হত্যা করায় নানক। এটা সেনানিবাসের সবাই জানে। সেনাবাহিনীর তদন্ত পর্ষদ এড়াতে তদন্তের সময় নানক হঠাৎ বুকের ব্যথার অযুহাতে চিকিৎসার কথা বলে অনেকদিন সরে থাকে সিঙ্গাপুরে। এ নিয়ে সেনা অফিসারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরকে চাকরীচ্যুত করে হাসিনা।

৯. সাহারা খাতুনঃ সুপরিকল্পিত বিডিআর ধংসযজ্ঞ সংগঠনের নিমিত্ত ভারতের পরামর্শে হাসিনার কেবিনেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় অথর্ব সাহার খাতুনকে। বিদ্রোহের দিন কোনো তৎপরতা ছিলো না সাহারার। বরং সেনা অভিযান ও পিলখানায় র‌্যাব ঢোকার অনুমতি চাইলে সাহারা খাতুন ‘না’ করে দেন। বিকালে বিদ্রোহীদের সাথে করে প্রেস ব্রিফিং করে এই মন্ত্রী। অথচ ডিজি শাকিলের কোনো খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। কারন সে সব জানত। বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার পরে রাতে তিনি যান পিলখানায় প্রধানমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে। তিনি বিডিআর অফিসারদের পরিবার পরিজন উদ্ধার না করে কেবল আইজিপি নুর মোহাম্মদের কন্যাকে উদ্ধার করেন। অথচ বাকী পরিবার ঐ রাতের আঁধারে নির্যাতিত হয়। সাহারা খাতুনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টীমের এম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের এম্বুলেন্স পিলখানায় ঢুকে। এরপরে পিলখানার বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের ঐ এম্বুলেন্সে করে পিলখানার বাইরে নিরাপদ যায়গায় সরানো হয়। তখনও অনেক অফিসার আহত হয়ে পিলখানা নানাস্থানে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু সাহারা এদের উদ্ধার করেনি। কর্নেল এমদাদ, কর্নেল রেজা্, ও কর্নেল এলাহীকে এরপরে হত্যা করা হয়।

১০. শেখ সেলিম: শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ঘটনায় সে ধরা পরেও রহস্যজনকভাবে বেঁচে যায়, কিন্তু তার ভাই শেখ মনি নিহত হয়। সেনাবাহিনীর ওপরে তারও রাগ ছিলো প্রচন্ড। তা ছাড়া ১/১১র পরে সেনারা ধরে নিয়ে যায়ে এই সেলিমকে, এবং ডিজিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করে শেখ হাসিনার অনেক গোপন কথা, চাঁদাবাজি, বাসে আগুণ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দী আদায় করে। এতে করে সেনাবাহিনীর ঐ সেটআপের উপর তার রাগ ছিল। বিডিআরের ঘটনার আগে বিদ্রোহী দলটি কয়েকদফা মিটিং করে শেখ সেলিমের সাথে। ১৩ ফেব্রুয়ারীতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় এ ধরনের একটি মিটিং হয় বলে সেনা তদন্তে প্রমান পাওয়া গেছে।

১১. সোহেল তাজ: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ সেলিমের বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সোহেল যোগ দেয়। বিদেশী হত্যাকারীদেরকে নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন ও আমেরিকায় পৌছানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সোহেল তাজকে। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রচার করা ঘটনার সময় তাজ আমেরিকায় ছিল। এটি সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। সে সময়ে তাজ ঢাকায়ই ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কয়েকজন হত্যাকারীসহ তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সে রাতেই তাজ ওসমানী বিমানবন্দর থেকে হত্যাকারীদের সাথে নিয়ে বিদেশের পথে যাত্রা করে। সেই হেলিকপ্টারের একজন পাইলট ছিল লেঃ কর্নেল শহীদ। যাকে পরে হত্যা করা হয়, টাঙ্গাইলে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সাথে। এছাড়া বিমানের বিজি ফ্লাইট ০৪৯ দু’ঘন্টা বিলম্ব করে চারজন খুনী বিডিআরকে দুবাইতে পার দেয়া হয়। এ খবরটি মানবজমিন ছাপে ৩ মার্চ ২০০৯।

১২. কর্নেল ফারুক খান: তিনি ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের লক্ষে গঠিত ৩টি কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে। জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, পিলখানার ঘটনায় ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত। এটা খাওয়ানোর জন্য সোবহান নামে এক লোককে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। পরে কুলাতে না পেরে সেখান থেকে সরে আসেন। সেনাবাহিনীর তদন্তে অনেক সত্য কথা উঠে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এই ফারুক খানের জন্য। ধামাচাপা দেয়া হয় মূল রিপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মূল রিপোর্ট বদল করে গোজামিলের রিপোর্ট তৈরী করান ফারুক খান।

১৩. হাজী সেলিম: লালবাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি খুনীদের রাজনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে হাজী সেলিম বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে, যা ভারতীয় খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন দুপুরে হাজী সেলিমের লোকেরা বিডিআর ৪ নং গেটে বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করে। ২৫ তারিখ রাতের আঁধারে পিলখানার বাতি নিভিয়ে দেয়াল টপকে সাধারন পোষাক পরে বিদ্রোহীরা লালবাগ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায় হাজী সেলিমের সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করে। হাজী সেলিমের সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগনকে সেখান থেকে সরিয়ে রাখে। একটি বেসকারী টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোর্টে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে, যাতে বলা হয় যে, বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীরা তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

১৪. তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন: আওয়ামীলীগের ৪৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে এ্বই তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এমপি তাপসের সাথে। মূল পরিকল্পনায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় লজিষ্টিক সম্বয় সাধনের জন্য। তার বাড়িতেও বিদ্রোহীদের মিটিং হয়েছে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রের ডিলার। তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটনের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিডিআরদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। এ সংক্রান্ত খরচাদি আগেই তাকে দেয়া হয়। উক্ত লিটনকে ২ মাস আগে তাপস ও নানক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোটযোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয় লেদার লিটন।

১৫. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: পিলখানার ঘটনার সময় এই সাবেক আমলা ও জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মখা মেতে উঠেন বিভৎস উল্লাসে। বার বার ফোন করে খোঁজ নেন বিদ্রোহীদের কাছে, এর অডিও রেকর্ড আছে। এমনকি নিহতদের লাশ গোপন করার জন্য এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুকুমদাতা ছিলেন তিনি। যার বদৌলতে তাকে পরে প্রমোশন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতে।

১৬. হাসানুল হক ইনু: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্ধকার গলির নেতা। তিনি ১৯৭৫ সালে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছেন কর্নেল তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশে সংঘটিত সকল সামরিক অভ্যুত্থানে তার যোগসাজস রয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি তার ঘনিষ্ট বিডিআরদের ফোন করে হত্যায় উৎসাহ যুগিয়েছেন, এবং তাদের পরামর্শ দিয়েছেন কি করে লাশ গোপন করতে হবে।

নয় বছর পার হয়ে গেছে ৫৭ সেনা অফিসার সহ ৭৭ নাগরিক হত্যার। বিডিআর বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সহায়তায় বিজিবি গঠন করা হয়েছে, যারা এখন বিএসএফের সাথে ভাগাভাগি করে ডি্উটি করে! কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বিচারের প্যারেড করানো হয়েছে। জেল হয়েছে সবার। অন্যদিকে রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গায়েব করতে ৫৩ জন বিডিআরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ৫৭ সেনা হত্যার বিচার এখনো বাকী। যেনো তেনো কোনো বিচার চায় না সেনাবাহিনী। তাই হত্যা মামলাও আগাচ্ছে না। যতদিন লাগে লাগুক, হয় কঠিন বিচার হবে, নয়ত বদলা হবে, এটাই তাদের চাওয়া।

 

« Older Entries