Category Archives: গোপন তথ্য

সেন্ডেল খুলে কিবরিয়ার দিকে তেড়ে যান হাসিনা!

Content Protection by DMCA.com

১৯৯৭ সালের একদিন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাক পড়লো অর্থমন্ত্রী শাহ এস এম কিবরিয়ার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেন, কয়েকটা নতুন ব্যাংক দিতে হবে। কিবরিয়া সাহেব রাজী হন না। বলেন, এভাবে এব্রাপ্টলি ব্যাংক দেয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ক্ষেপে উঠে বলেন, আমাকে আইন শিখান? না পারলে ছেড়ে দেন।
এরপরে আরও কিছু বলতে গেলে হাসিনা পা থেকে সেন্ডেল খুলে মারতে যান। উপস্থিত দু’জন লোকের মধ্যে একজন ছুটে যান ….আপা আপা বলে থামান। অপমানিত হয়ে শাহ কিবরিয়া বেরিয়ে যান।
পরে পদত্যাগ করতে চান অর্থমন্ত্রী। এক সিনিয়র নেতাকে পাঠিয়ে হাসিনা তাকে থামান।

Content Protection by DMCA.com

নৌকায় ভোট চাওয়া এবং সুন্দরী স্ত্রী ব্যবহার করে উন্নতিতে সফল ফেনীর এসপি জাহাঙ্গীর!

Content Protection by DMCA.com

এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বর্তমানে এসপি হিসেবে ফেনী জেলায় কর্মরত। ২২তম বিসিএস-এর মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করেন। ছাএ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন, তবে কিছু সময় বাম রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। শেখ হাসিনাকে নিয়ে গান লিখে ইউটিউবে আপলোড করে রাতারাতি সরকারের খাস লোক বনে যান জাহাঙ্গীর।

শুধু তাই নয় এসপি জাহাঙ্গীর তার স্ত্রী মোনালিসা পারভীন সোনি দ্বারা পরিচালিত। তার পোষ্টিং প্রমোশন ইত্যাদির জন্য তার সুন্দরী স্ত্রীকে উচ্চ মহলে নিয়মিত যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

সরকারকে খুশি করতে গত বছরে ফেনি জেলায় বিএনপি ও জামায়াতের অসংখ্য নেতা কর্মী গুম খুনের শিকার হয় এসপির সরাসরি নির্দেশে। এছাড়া গত ২৯ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কক্সবাজার যাবার পথে ফেনীতে তার গাড়ি বহরে হামলার পরিকল্পনাকারী ছিলেন আ’লীগের এমপি নিজাম হাজার, এবং তাকে সার্বিক সহায়তা ও যোগান দিয়েছিলেন এসপি জাহাঙ্গীর নিজে। বিভিন্ন মিটিংয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় ভোট চান তিনি।

গত ১৭-১১-২০১৮ তারিখে পুলিশ লাইন্সে মাসিক কল্যাণ সভায় এসপি জাহাঙ্গির বলেন, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারকে পূণরায় নির্বাচিত করতে যা যা করার, তাই করতে হবে। প্রয়োজনে ভোটের আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে রাখতে হবে। যে যে অফিসার/ ফোর্স এ কাজ করবে না, তাকে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। তার এ ধরনের কথায় পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িতে পড়ে। অনেকেই মন্তব্য করে- এ তো দিন ঘুষের টাকা চাইতো, এখন দেখি নৌকায় ভোটও চায়!

যে অফিসার একটা রাজনৈতিক দলের প্রধানকে নিয়ে গান লিখে নিজেই সুর দিয়ে গাইতে পারেন, প্রকাশ্যে ঐ দলের পক্ষে ভোট চাইতে পারেন, তার কাছ থেকে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা কতটুকু পাওয়া যাবে, তা বোধগম্য। এ অবস্থায়, বিতর্কিত এসপি জাহাঙ্গিরকে অবিলম্বে জেলা থেকে প্রত্যাহার করা নির্বাচন কমিশনের অবশ্য কর্তব্য।

Content Protection by DMCA.com

ভোটের টার্নআউট কমাতে আ’লীগের হিজড়া ব্যবহারের পরিকল্পনা: বাস্তবায়নে গোপালী ডিআইজি হাবিব

Content Protection by DMCA.com

ঢাকা মহাগরীর ১৫০-২০০ কেন্দ্রের প্রতিটিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২৩ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্র কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্র কমিটিতে ২/৩ জন মহিলা সদস্য এবং কয়েকজন করে হিজড়াদের রাখা হবে। এইসব হিজড়াদের দিয়ে ভোটকেন্দ্রে গোলোযোগ বাধানো হবে, এমনকি বিএনপি বা ফ্রন্টের চিহ্নিত ভোটারদের অপদস্থ করে কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য করা হবে। হিজড়াদের উল্টাপাল্টা আচরন এবং পাগলামীর কারনের সাধারণ মানুষজন খুব সহজেই এড়িয়ে চলতে চায়।

হিজড়াদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পুর্নবাসনের নামে পুলিশের ডিআইজি হেডকোয়ার্টার প্রশাসন হাবিবুর রহমান কর্তৃক উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মা্যেমে বিভিন্ন কর্মসুচী বাস্তবায়নাধীন আছে। ঢাকার আশুলিয়া, আমিনবাজার ও বি-বাড়িয়ায় হিজড়াদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বেদে ্কএবং হিজড়াদেকের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ডিআইজি হাবিব। এদেরেকে এবার নির্বাচনে নেতিবাচক কাজে ব্যবহারর উদ্যোগ নিয়েছে হাবিব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হিজড়াদের একত্রিত করত: বিভিন্ন কেন্দ্র কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের দিয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইস্যু বানানো হবে। এলক্ষে হিজড়াদেরকে প্রয়োজনীয় ব্রিফিং এবং ট্রেনিংয়ের ব্যবহস্থা করবে ডিআইজি হাবিব। বিষয়টি  নাগরিকদের ভোটাধিকার সংশ্লিষ্ট, তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ও নগরবাসীকে এ বিষয়ে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।

Content Protection by DMCA.com

সচিব-পুলিশ গুপ্ত-সভায় সবুজ, হলুদ, লাল নির্বাচন পরিকল্পনা!

Content Protection by DMCA.com

সচিবালয় প্রতিবেদক

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সবুজ, হলুদ, ও লাল তিনটি রঙে ভাগ করে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে প্রশাসনিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত সচিব ও পুলিশ অফিসারদের গোপন মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গ্রীন এরিয়া: আওয়ামী লীগ কনফার্ম জিতবে এমন এলাকা, গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে এর সংখ্যা ৩৩ আসন।
ইয়োলো এরিয়া:  আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমন সীটের সংখ্যা ৬৫,
রেড এরিয়া: যেসব আসনে আওয়ামী লীগের কোনো কন্ট্রোলে নাই। এমন আসনের সংখ্যা ২০২।

এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হয়েছে:
ক) গ্রীন এলাকা মূলত আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে তেমন কোনো কিছু করার দরকার নাই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে দেশী দিদেশী অবজারভার ও মিডিয়া দিয়ে প্রজেকশন করতে হবে যে, সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে।
খ) হলুদ বা গ্রে এরিয়া, এখানে কিছুটা হলেও আ’লীগের সম্ভাবনা আছে। তাই বিএনপি বা ঐক্যজোটের কর্মীদেরকে শক্তিপ্রয়োগ করে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। গন্ডগোল বাধিয়ে ভোটের টার্নআউট কম রাখার প্রয়াস প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
গ) রেড এলাকাগুলোতে আ’লীগ ভোটে আসতে পারবে না। তাই এসব এলাকায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে কেন্দ্র দখল ও মিডিয়া ক্যুর কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। এসব এলকায় নৌকার কর্মীরা এবং পুলিশ র‌্যাব একসাথে কাজ করবে। না পারলে সন্ত্রাস করে ভোট বানচাল করতে হবে, যাতে পরে নির্বাচন করে নৌকাকে জিতিয়ে আনা যায়। এর জন্য নো কম্প্রোমাইজ। দরকার হলে ডামি পুলিশ ব্যবহার করতে হবে।

গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এরিয়ার কালার নির্বাচন, এবং নিয়মিতভাবে আপডেট করার জন্য মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা, এবং দলীয় রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। ফলাফল পক্ষে নিতে বিভিন্ন কৌশল শক্তির সমন্বয় করতে অফিসারদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রয়োজনীয় সাপোর্ট সরবরাহ করবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে সরকারের গুরুত্বপূর্ন সচিব ও পুলিশ অফিসারদের এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রাক্তন ডিজি ও বর্তমান পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার (প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রাক্তন ডিজি) আলী আজম যিনি ঢাকা মহানগরী রিটার্নিং অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ কাজী নিশাত রসুল (যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার জজ কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে), এবং অফিসার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ১১ বিসিএসের যুগ্মসচিব মেসবাহউদ্দিন। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের ডিআইজি প্রশাসন হাবিবুর রহমান, ডিএমপির ডিসি প্রলয় জোয়ার্দার (শেখ হাসিনার প্রাক্তন প্রটোকল অফিসার)। আড়াই ঘন্টা ধরে চলা উক্ত সভায় সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্লান রিভিউ করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুণ করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গেলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ভোটের ফ্লো ঠেকাতে না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

সচিব ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমূলক উক্ত মিটিংয়ের খবর প্রথম প্রকাশ করে বিডিপলিটিকো। এরপরে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স করা হয় শনিবার। দেশের সবগুলো মিডিয়াতে খবরটি ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ যদিও মিটিংয়ে থাকার কথা অস্বীকার করলেও বেসামরিক বিমান সচিব মহিবুল হক স্বীকার করেন, তারা ব্যাচমেটরা মিটিং করেছিলেন, তবে তিনি দাবী করেন ওটা রাজনৈতিক বিষয়ে ছিল না। এ প্রসঙ্গে বিডি পলিটিকো শতভাগ নিশ্চিত যে, ঐ বৈঠকটি নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র মিটিং ছিল, সেখানে বিসিএস ৭ম ব্যাচ থেকে ২৪ তম ব্যাচের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুপ্ত মিটিং সংক্রান্ত উক্ত প্রতিবেদনটির কারনে আগামীতে গুরুত্বপূর্ন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

Content Protection by DMCA.com

লাশ প্যাকেট করায় ওস্তাদ রাজশাহীর এসপি শহিদুল্লাহ!

Content Protection by DMCA.com

২৪ বিসিএস পুলিশের মো. শহিদুল্লাহ রাজশাহী জেলায় এস পি হিসাবে পদায়ন হওয়ার আগে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে তার বস ছিল হাফিজ আক্তার, ‍যিনি এখন আরএমপি কমিশনার। বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়ন করার কাজে দু’জনের ক্রেজি মনোভাব ও বোঝাপড়া ছিল চরম, সে অবস্থায় উত্তরবঙ্গ ঠান্ডা করতে তাদের চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী এলাকায় আগমন।

চাকরিতে নবীন হলেও গায়েবী মামলা তৈরির কাজে শহিদুল্লাহ সিদ্ধহস্ত। চট্টগ্রামে থাকাকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিরোধীদল ও মতের লোকজনকে মেরে প্যাকেট করা লাশ নদীতে, সমুদ্রে, নাকি পাহাড়ি জংগলে ডাম্পিং করা হবে, তা হাফিজ ও শহিদুল্লার যৌথ আলাপ ও উদ্যোগে বাস্তবায়ন করতেন!

বাস্তবতা হলো চিটাগাং এর আগের সেট-আপ এখন পুরাটাই দেশের উত্তর জনপদ রাজশাহীতে। রাজশাহী জেলায় পদায়নের পরপরই শহিদুল্লাহ একটা কন্সটেবল রিক্রুটমেন্ট পায়। জীবনের প্রথম রিক্রুটমেন্ট হওয়ার কারণে তিনি লোভ সামলাতে পারেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি ইনকোয়ারি টিম গঠিত হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হয়, কিন্তু টাকা ও পলিটিক্যাল লবিং এবং হাফিজ আক্তারের সাহায্য নিয়ে সে যাত্রায় পার পেয়ে যান শহিদুল্লাহ।

এসপি শহিদুল্লাহ অত্যন্ত বিকৃত ও আগ্রাসী মানসিকতার অফিসার। গুম ও খুনের পাশাপাশি তিনি তার একটি বিশেষ টিমকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের হাতে নেশাদ্রব্য ধরিয়ে দিয়ে গ্রেফতার ও হাতে-পায়ে গুলি করে পংগু করে দিচ্ছেন। গত জুন/১৮ মাসের দিকে বাগমারা থানার বিএনপি’র এক কর্মীকে সে তার বিশেষ টিম দিয়ে রাতের আধারে দুই পায়ে গুলি করিয়ে পংগু করান। ফায়ারিং জায়েজ করার জন্য রাজনৈতিক ঐ কর্মীর হাতে মাদক ধরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন এই কৌশল প্রয়োগ করে রাজশাহী এলাকায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের সারা জীবনের মতো পংগু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইলেকশনে মহাজোটের প্রার্থী লিটনকে জোর করে জিতিয়ে আনার জন্য পুলিশের যে ছোট গ্রুপ কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিল শহিদুল্লাহ। বাকী সদস্যরা ছিল গোপালগঞ্জের সন্তান ১৭ ব্যাচের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, আরএমপি কমিশনার হাফিজ আক্তার ও ১৮ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি আসাদুজ্জামান। এরা মেয়র প্রার্থী লিটনের সাথে গোপন বৈঠক করে এবং জিতিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিশাল অংকের টাকা উৎকোচ নেয়। এসময় তারা নতুন কৌশল নেয়। রাজশাহী শহরের বিএনপি’র এক্টিভ নেতা-কর্মীদেরকে খুঁজে বের করে ভোটের আগে থেকে বাইরের জেলাগুলোতে থানা হাজত ও গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ভোটের পর টাকার বিনিময়ে কাউকে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাকীদেরকে পেন্ডিং ভুতুড়ে মামলায় কোর্টে পাঠানো হয়।

সাবেক এসপি আলমগীরের সময় জেলার পুলিশ লাইনের গেটটি প্রায় কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল। কিছুদিন আগে থেকে নবনির্মিত গেটটি আবারও ভেংগে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় নতুন এই গেটটি সুদর্শন করানোর কথা বলে পুলিশ হেড কোয়ার্টার থেকে থেকে শহীদুল্লাহ দেড় কোটি টাকা আনিয়েছেন। বিভিন্ন থানার বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট মেরামতের নামেও কয়েক কোটি টাকা নিয়ে এসেছেন তিনি। এসব টাকা বরাদ্দ পেতে সহায়তা করেছেন পুলিশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত ১৭ ব্যাচের এডিশনাল ডিআইজি গাজী মোজাম্মেল হক। গাজী মোজাম্মেল বিএনপি’র আমলে শুরু হওয়া পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোশাইটি (POHS) প্রজেক্টের দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়ে গত ১৩ বছরে কিছুই করেননি। এই প্রজেক্টটির উন্নয়নের নামে তিনি শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন পুলিশ অফিসারদের পকেট থেকে। পূর্বাচলের পাশে এখন তার “আনন্দ হাউজিং প্রজেক্ট” নামে একটি হাউজিং, শত বিঘা জমি ও প্লট রয়েছে।

এসপি শহিদুল্লাহ তার সাথে থাকা এডিশনাল এসপি সুমিত চৌধুরীকে সব ব্যাপারে লাই দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। সুমিতের মাদকাসক্তি, ফোর্স ও অফিসারদের সাথে দুর্বিনীত আচরণ, ব্যাপক ঘুষ ও দুর্নীতি দেখেও না দেখার ভান করতেন শহিদুল্লাহ। কয়েক মাস আগে জমে থাকা এসব অভিযোগে সুমিত চৌধুরীকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়। সুমিত চৌধুরী প্রকাশ্যে নিজেকে ভাররে গোয়েন্দা সংস্খা র-এর এজেন্ট হিসাবে পরিচয় দেন।

Content Protection by DMCA.com

যেকোনো মূল্যে নির্বাচনের ফলাফল কব্জা করতে ৮ দলবাজ বিতর্কিত গোপালী পুলিশ কর্মকর্তাকে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান!

Content Protection by DMCA.com

বিশেষ প্রতিবেদক
আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে আ’লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভয়াবহ উদ্যোগ নিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। তার নির্দেশে পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারী নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। অফিসিয়াল পত্র মারফত চরম বিতর্কিত এবং আওয়ামী অফিসারদের (যারা এতদিন খুন, গুম, ধরপাকড় এবং গায়েবী মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন) এই নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা মনিটিরিং তথা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ আদেশের ফলে জাতি জানতে পারলো, আসলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজটি কারা করতে যাচ্ছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের আইজিপির নেতৃত্বে অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, অর্থ, টিএন্ডআইএম, ডিআইজি ও এআইজি অপারেশন্সকে নিয়ে ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন কমিটি কেন্দ্রীয় করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক ‘আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কো অর্ডিনেশন  কমিটি’র দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ৮ বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তাকে। এদের মধ্যে ডিজি র‌্যাব বেনজীর আহমেদ ও হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি অতিকুল ইসলামকে দেয়া হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। ডিএমপির কমিশিনার এবং প্রলয় কুমার জোয়র্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপকে দেয়া হয়েছে ঢাকা এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জ, এবং ঢাকা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন। এডিশনাল আইজি, এসবি মীর শহীদুল ইসলাম এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম (খুনি মনির)কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগ। এন্টি টেররিজম ইউনিটের এডিশনাল আইজি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং ডিআইজি (এডমিন) হাবিবুর রহমান দেয়া হয়েছে সিলেট ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও মেট্রপলিটান এরিয়া।

এলাকা ভিত্তিক গঠিত এই ৪টি সেলের সদস্যরা নির্বাচন উপলক্ষে আইজিপির নেতৃত্বাধীন “আইন শৃঙ্খলা মনিটরিং ও কোঅর্ডিনেটিং কমিটির” সদস্য করা হয়েছে। এলাকা ভিত্তিক এই ৪ সেলের কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনমাফিক অফিসার সংযুক্ত করতে পারবেন। এরা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন, নিয়ন্ত্রণ করবেন, এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবেন। পুলিশ বাহিনীর মুভমেন্ট, অস্ত্র ও লজিস্টিক সাপ্লাই মনিটরিং করবেন। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সিভিল প্রশাসন, বিভিন্ন বাহিনী, গোয়েন্দা, ও সংস্থার সাথে সমন্বয় করবেন। পত্রপত্রিকা, গণমাধ্যম, ফেসবুক সহ সামাজিক মাধ্যম, টেলিফোন সহ সকল কিছু মনিটর করবেন, প্রয়োজনবোধে দরকারী ব্যবস্খা নিবেন। গার্মেন্ট্র শ্যমিক, পরিবহন শ্রমিক, ছাত্রদের উপর নজরদারী ও গোয়েন্দাগিরী করবেন। সহিসংতা, নৈরাজ্য, ও অপতৎপরতার নামে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের উপর নজরদারী ও ব্যবস্থা নিতে পারবেন। এর দ্বারা বিরোধী দলকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এরা। এমনকি আইনশৃঙ্খলার নামে যেকোনো বিষয় এরা তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। মোটকথা এই আদেশের বলে এসব অফিসাররা তাদের এরিয়ার যেকোনো বিষয় মনিটর ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনাররা তাদের অধীনে কাজ করবে, তারা চাইলে যতখুশি তত অফিসারকে তাদের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন।

কমিটির সদস্যদের ফিরিস্তি:

অতিরিক্ত আইজিপি প্রশাসন, মো. মোখলেছুর রহমান :
চরম দলবাজ কর্মকর্তা। সারা দেশে আ’লীগের লোকদের পুলিশে রিক্রট করার অন্যতম হোত ছিলেন তিনি। আওয়ামী দলবাজ অফিসারদের পোস্টিং প্রমোশন, ট্রেনিং, বিদেশ সফর  দিয়ে তাদের খুন খারাবি ও অপকর্মে উৎসাহিত করতেন। তিনি গায়েবী মামলার মাষ্টারমাইন্ড। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলেীগের নেতা ও নির্বাচিত জিএস ছিলেন। শেখ হাসিনার আইজিপি পদের অন্যতম ক্যান্ডিডেট।

বেনজীর আহমেদ, ডিজি র‌্যাব :
গত এক দশক ধরে হাজার হাজর গুম, খুন, অপহরণের নির্মম হুকুমদাতা। গোপালী পুলিশদের বস। শাপলা চত্তর হত্যাকান্ডের প্রধান কমান্ডার। নারী কেলেঙ্কারীতে চরম দুর্নাম কামিয়েছেন। বিভিন্ন বয়সের শত শত নারী ও ছাত্রীরা তার শিকার। বড় রকমের দুর্নীতিবাজ। নিজস্ব এরিয়ার বাইরে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের শিরোমনি! লীগের আইজিপি হওয়ার দাবীদার। শেখ হাসিনাকে আপা বলে ডাকে।

আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপি কমিশনার :
গুম, হত্যা, ধরপাকড়, গায়েবী মামলার নির্দেশদাতা। তার সময়ে বিরোধী দলের উপর চরম নির্যাতন গেছে। ২০১৫ সালে বিএনপির অবরোধের সময় তার নির্দেশে গাড়িতে পুলিশ নিজেরাই পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগ করে মামলা দেয়ার হোতা। তার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, “দেশবাসী জানে যে, সরকার টিকায়া রাখছে পুলিশ। তেরো সালে আন্দোলন দমাইছে পুলিশ, চৌদ্দ সালে ইলেকশনও করাইছে পুলিশ, গত তিন মাসে আগুন ধরাইছে পুলিশ!”

প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ডিসি, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, সিটিটিসি :
স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ মানে কিলিং গ্রুপ। পুলিশ সদর দপ্তরে ভারপ্রাপ্ত এআইজি হিসাবে পদ বাগিয়েছিলেন প্রলয়, যখন তিনি ছিলেন একজন নবীন এডিশনাল এসপি। তার দুই ধাপ ওপরে পদ বাগাতে কতটা প্রভাব লাগে অনুমান করে নিতে হবে, যখন ঐপদের জন্য যোগ্য শত শত অফিসার ছিল। এভাবেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে দাপটের সাথে আছে প্রলয়, পুলিশ সদর দপ্তরে যাকে সবাই এক নামে ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট বলেই চেনে। এটা পুলিশ সদর দপ্তরে ওপেন সিক্রেট। কট্টর হিন্দুবাদী এই কর্মকর্তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে খোদ পুলিশের আওয়ামী সমর্থনকারী উচ্চপদস্থ মুসলিম কর্মকর্তারাও ক্ষিপ্ত। এই লোক পুলিশ বাহিনীতে প্রকাশ্যেই গঠন করেছে হিন্দু পুলিশ লীগ। পুলিশ সদর দপ্তরে বসে নিয়মিত ইসলাম ধর্মকে গালি গালাজ করা তার অভ্যাস। প্রলয় কুমারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুপারিশে অন্তত ৩০০০ হিন্দুকে পুলিশে নিয়োগ দেয়া হয়, শত শত পুলিশ গেছে শান্তিরক্ষী টিমে। মাসে অন্তত দুইবার করে প্রলয় কুমার ভারতের কলকাতায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িতে যান বলে পুলিশ সদর দপ্তরের অনেকগুলো সূত্র নিশ্চিত করে।
২৪তম বিসিএস ব্যাচের শেষ ব্যক্তি প্রলয় শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ছিল। চাকরিতে নানা গন্ডগোল তার শুরু থেকেই, কিন্তু টিকে আছে ক্ষমতার দাপটে। এমনকি তার বেসিক ট্রেনিংও নাই। তাকে আবার পুলিশের ২৪ ব্যাচের সভাপতি করা হয়েছে! তার বিরুদ্ধে পুলিশে অসংখ্য লোক বিরক্ত ও ক্ষিপ্ত হলেও ‘র’ এর সরাসরি এজেন্ট হওয়ায় এবং হাসিনার সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে পারে না। ২০তম ব্যাচ এবং তদনিম্ন আওয়ামী পুলিশ অফিসারদের নেতা প্রলয়। বিরোধী দল, নির্যাতন, গুম, গায়েবী মামলার অন্যতম মাস্টার মাইন্ড। কর্মকর্তাদের প্রমোশন পোষ্টিং, এবং ক্রস ফায়ারের ভয় দিয়ে লোক হনে কাছ থেকে শত শথ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রলয়। বড়ই বিপজ্জনক সে, যখন তখন খুন করে ফেলে সে।

মীর শহিদুল ইসলাম. অতিরিক্ত আইজি, এসবি :
মুলত তিনি পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান। রাজনৈতিক ব্যত্তি;রে তালিক করা, এবং তাদের নামে মামলা, গ্রেফতার তার নির্দেশে হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে কথিত মাইনরিটি নির্যাতনের গল্প তৈরী এবং  মামলার মূল মাস্টারমাইন্ড। এসব কাজ দেখিয়েই তার উন্নতি হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি), ডিএমপি :
গোপালী পুলিশের মধ্যে চরম ক্ষতিকর ‘কালা মনির’ বা ‘খুনি মনির’। শত শত গুম, খুন, সাজানো জঙ্গিবাদ সব তার হাতে তৈরি। পুলিশে যত ধরনের খারাপ কাজ হয়, সবগুলো খারাপ কাজের মাস্টার সে। আনসারউল্লাহ নাটক, জঙ্গি নাটক, ব্লগার জবাই এসব তারই অর্জন। রিমান্ডে নির্যাতন, গায়েবী মামলা, দলবাজি, গুম, শত শত খুন, ক্রস ফায়ারের নির্দেশদাতা।

আতিকুল ইসলাম, ডিআইজি হাইওয়ে পুলিশ :
বিএনপির আমলে বিভিন্ন সুবিধাজনক যায়গায় থেকে ভোল পাল্টে ভিতরের তথ্য সব ফাঁস করে দিয়েছে লীগের কাছে। দীর্ঘদিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে থেকে আওয়ামী অফিসারদের রিক্রুট করেছে। বিরোধী দল নির্যাতনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

শফিকুল ইসলাম, এডিশনাল আইজি, এন্টি টেররিজম :
পদের নামের সাথেই পরিস্কার বোঝঅ যায় ফেইজ জঙ্গি নাটকের পরিকল্পনা তার। গুম, খুন, অপহরণ, ক্রসফায়ার, দলবাজি ইত্যাদি সব কাটাগরিতে মাষ্টার সে।

হাবিবুর রহমান: ডিআইজি (প্রশাসন) হেডকোয়ার্টার :
১৭ ব্যাচের গোপালী অফিসার। পুলিশকে আ’লীগের লাঠিয়ালে পরিণত করার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যক্তি। বিরোধী দলের নামে গায়েবী মামলা দেয়া, ক্রসফায়ার ও পাইকারী গ্রেফতারের সাথে জড়িত।, সকল সিটি নির্বাচনে পুলিশী সেট-আপ সে করে। পুলিশে চেইন অব কমান্ড ভাঙ্গার মূল কারিগর ছিলেন তিনি।

এসব পুলিশ অফিসাররা গত এক দশক ধরে শেখ হাসিনার পোষ্য পুত্রদের মত কাজ করে অাসছে। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন গুম অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে তাদের হাতে। এখন এসব ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুষ্ঠূ নির্বাচন করতে। এটা কি সম্ভব? সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এদের  দিয়ে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ ভোট করা সম্ভব নয়।

Content Protection by DMCA.com

শেরপুর, নোয়াখালী, যশোরে বিএনপি গুম-খুন করে হাত পাকিয়ে এখন নারায়ণগঞ্জে এসপি হয়েছেন আনিসুর!

Content Protection by DMCA.com

গত তিন মাস ধরে নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে গেছে বিচার বহির্ভুত হত্যা ও গায়েবী মামলার ঘটনা। ২০১৪ সালে র‌্যাবের হাতে চ্যাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের পরে নানাবিধ চেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহণীয় ছিল। হঠাৎ করে গত ১৫ অক্টোবর রবিবার ভোররাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে ৫টি অজ্ঞাতনামা লাশ পাওয়া যায়। এই হত্যকান্ড সম্পর্কে তেমন কোনো ক্লু অদ্যাবধি হানা যায়নি, যদিও জানা গেছে, হতভাগ্য মানুষগুলি বিভিন্ন স্থান থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গুম হয়েছিলেন। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসপি আনিসুর রহমান যোগ দেয়ার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে লাশ পড়া ও গায়েবী মামলার হচ্ছে। পুলিশ সূত্র জানায়, এসপি আনিসুর যেসব জেলায় কাজ করেছেন যশোর, নোয়াখালী, শেরপুর সর্বত্রই একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। এটা তার স্টাইল!

এসপি আনিসুর রহমানের বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলায়। ২০০১ সালে আ’লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’মাস আগে ২০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন আনিসুর। তবে পুলিশ একাডেমি সারদায় প্রশিক্ষণকালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে চাকুরিচ্যুতি ঘটে তার। অনেক দেন দরবার করে ২০০৭ সালে চাকুরি ফেরত পেয়ে প্রথম যোগদান করেন শেরপুর জেলায়। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী নিঃসন্তান মতিয়া চৌধুরিকে আনিসুর মা ডেকে তার সন্তান হন! আনিসুর তার পূর্বের বিবাহিত স্ত্রী ও দু’সন্তান রেখে পূনরায় বিয়ে করেন আওয়ামীলীগ নেএী ফাতেমা তুজ্জহুরাকে, পরে ২০১৪ সালে যিনি শেরপুরের মহিলা সংসদ সদস্য পদে নিয়োগ লাভ করেন। এরপর থেকে আনিসুর পরিণত হন এমপির স্বামীতে- বেড়ে যায় আনিসুরের দাপট।

আনিসুর রহমান মহাজোট সরকারের প্রথম দিকে শেরপুর জেলা পুলিশে এ.এস.পি হেড কোয়ার্টার পদে যোগদান করেন। আ’লীগের রাজনৈতিক মতাদর্শের লোক হওয়ায় এবং স্থানীয় আ’লীগ দলীয় মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরিকে ‘মা’ ডেকে এই চার বছরে একই জেলায় থেকে তিনটি পদোন্নতি লাভ করেন- সিনিয়র এএসপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ পদ পুলিশ সুপার। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়েও আনিসুর আ’লীগের দলীয় ক্যাডার হয়ে কাজ করেছেন বলে শেরপুরের সচেতন মহল মন্তব্য করেছেন। মতিয়া চৌধুরীর মত প্রভাবশালী মন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে খেয়াল খুশিমত যাচ্ছে তাই করেছেন আনিসুর। জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে সাধারণ মানুষকে জেএমবি সদস্য ও জামায়াত শিবির সদস্য বানিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে এসপি আনিসুরের নির্দেশে। এসব মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার পরিবারদের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিরা জেল হাজতে থাকায় ঐসব পরিবারের সদস্যরা অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটিয়েছে, অনেক সংসার ধংস হয়ে গেছে। এদের মধ্যে বিত্তশালী কেউ কেউ গ্রেফতার হলে লাখ লাখ টাকা দিয়েও নিস্তার পায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসপি আনিসুর রহমানের রোষানলে পড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেকেই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে এবং এলাকা ছাড়া হয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক দলের লোকদেরই নয়, এসপি আনিসুর সাংবাদিক নির্যাতন করতেও কম যাননি। সাংবাদিকদের গ্রুপিংয়ের জের ধরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। অপরাধী নয়, অথচ তাদের অপরাধী বানানো হয়েছে- এমন পরিবারের লোকজন আনিসুর রহমানকে অভিশাপ করতে শোনা গেছে। আনিসুর দম্ভোক্তির সুরে বলতেন, আমি বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের কোন হরতাল শেরপুরে সফল হতে দেইনি। এছাড়াও সভা সেমিনারে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক শ্লোগান ব্যবহার করে তিনি সবাইকে জানিয়ে বুঝিয়ে দিতেন তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার চেয়েও তিনি দলীয় কর্মী। শেরপুরে জেলায় তার সময়কালে তারই নির্দেশে নিহত হয় অসংখ্য বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মী। বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার গোপালী আনিসুর রহমানের শেরপুর থেকে  বদলি হওয়ায় শেরপুরের রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও গণমানুষের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে।

অতঃপর ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বিএনপি জামায়াতকে নির্মুল করার লক্ষ্য নিয়ে যোগদান করেন নোয়াখালীতে। যোগদোনের পরে আনিসুরের পিরিয়ডে নোয়াখালীতে ঘটতে থাকে খুম গুম ও নির্যাতনের ঘটনা-
১) ১৪ ডিসেম্বর ২০১৩ কোম্পানীগঞ্জ থানায় বিএনপি-জামায়াতের মিছিলে এসপি অনিসুরের নির্দেশে তৎকালীন ওসি সাজিদুর রহমান (বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার ওসি) এবং তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) শফিক (বর্তমানে কেএমপি খুলনা) ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করে। হতভাগ্যদের মধ্যে ছিল আবদুর নুর রাসেল, মাহমুদুল হক মিশু, আবদুস সাত্তার, মতিউর রহমান সজিব, আবদুল আজিজ রায়হান, সাইফুল ইসলাম।
২) ৩ ডিসেম্বর ২০১৩ সুধারাম থানার যুবদল কর্মী আবদুল সালামকে মিছিলে গুলি করে হত্যা করা হয়।
৩) সোনাইমুড়ি থানায় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী খোরশেদ আলমকে (১৩ ডিসেম্বর ২০১৩), পারভেজ আলমকে (২৩ অক্টোবর ২০১৩), প্রভাবশালী বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলামকে (৩০ ডিসেম্বর ২০১৪), সাদেক হোসেন সাদ্দামকে (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪), শিবির কর্মী যোবায়েরকে (১৩ ডিসেম্বর ২০১৩) গুলি করে হত্যা করা হয়।
৪) এসপি অনিসুরের নির্দেশে চাটখিল থানায় তার অনুগত ওসি (তদন্ত) ইব্রাহীম ২০দলীয় জোটের মিছিলে গুলি করে দুই ছাএদল কর্মী ও শিবির কর্মীকে হত্যা করে।
এভাবে নোয়াখালী বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা ও পঙ্গু করার নির্দেশদাতা ছিলেন এসপি আনিসুর। নোয়াখালী এবং যশোরে জেলার পোস্টিং থাকাকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা নিতেন।

পুলিশের নিয়োগে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের ছাড়া অন্য কাউকে চাকুরী দেননি এসপি অনিসুর। দুর্নীতিতে সে ছিল খুব বেপরোয়া। যশোরে চাকুরী করাকালীন ২০ দলীয় জোটের শতাধিক নেতা কর্মীদের গুম খুন ও হত্যা করেন আনিসুর। নিয়োগ এমন দলীয়করণ করেছেন যে, ছাত্রলীগ করলেও মাদ্রাসায় পড়ার কারণে অনেককে চাকুরি দেননি। উপরন্তু কনস্টেবল নিয়োগে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা কমে হয়নি। এক কথায়, এসপি আনিসুর রহমান একজন পেশাদার খুনির কাজ করেছেন প্রতিটি স্টেশনে। কোনো ক্ষেত্রে এসপি আনিসুর তার নিজের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সরাসরি গুলি করে বা তার অনুগত অফিসার দিয়ে হত্যাকান্ড ঘটাতেন।

যশোরের একাধিক সাংবাদিক জানিয়েছেন, এসপি আনিসুর রহমানের অত্যাচারে যশোরের মানুষ ছিলেন অতিষ্ঠ। তার এক স্ত্রী জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, অপরদিকে তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতি সব সময় তুঙ্গে থাকে আনিসুরের। তিনি তার ইচ্ছে মত কাজ করেন। জেলার এমপিদেরও তিনি পাত্তা দিতেন না। কোনো আইন কানুনের ধার ধারতেন না, যাকে ইচ্ছা ধরা ছাড়া, ক্রসফায়ার করায় সে ছিল স্বেচ্ছাধীন। অনিসুরের সময়ে যশোরে পুলিশের সাথে জনগনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সব চেয়ে বেশি। তিনি যশোর থেকে যাওয়ার পর এই এলাকার জনগন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। এই জেলার পুলিশ সদস্যরাও তার কারণে অতিষ্ঠ ছিলেন। পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন সময় এসপির বিষয়ে দুঃখের কথাগুলো স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে বলেছেন। যশোরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।

এ বছর সেপ্টেম্বরে এসপি আনিসুর রহমান নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর জেলায় বিরোধী দল তথা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিভিন্ন যায়গায় পাওয়া যাচ্ছে লাশ! অন্যদিকে হঠাৎ আতংক বিরাজ করছে না’গঞ্জ জেলা পুলিশে। কেউ কেউ আবার এই জেলা থেকে নিজেই বদলী হয়ে যাওয়ার জোর চেষ্টা তদ্বীর চালাচ্ছেন। সম্প্রতি নতুন পুলিশ সুপার আনিসুর যোগদানের পরই শুরু হয়েছে এই অস্থিরতা। অথচ বিগদ এসপি মঈনুল হক পিপিএমের সময়ও নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের এমন অবস্থা ছিল না। কিন্তু কেন এই আতংক? এমন প্রশ্নে সহজে মুখ খুলছেন না পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে বদলী হওয়া একজন পুলিশ অফিসার বলেন, এসপি আনিসুর রহমান এসেই অফিসারদের বদলী করার ব্যাপারে তোড়জোর শুরু করেন। বিভিন্ন থানা এলাকায় অফিসারদের বদলী করছেন অযথাই। বদলী ঠেকাতে তিনি টাকা দাবী করেন। যিনি টাকা দিতে পারেন তিনি থাকতে পারবেন এই জেলায়। পুলিশ কনস্টেবলদেরও যথারীতি এদিক সেদিক করছেন তিনি। কনস্টেবলরাও এ যাত্রায় রেহাই পাচ্ছে না। তাই অনেকের সাথে তিনিও এই জেলা ছেড়ে চলে গেছেন অন্য জেলায়। প্রধানমন্ত্রীর জেলার লোক হওয়ার কারণে এসপি অনিসুরের বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলতে সাহস করছেন না। এসব কারণে ৭টি থানার চেইন-অব-কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। পুলিশের এএসআই ও এসআই যারা এসপির কাছের জন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে থানার ওসিদের কমান্ড মানছেন না। এই সমস্ত অফিসার সরাসরি এসপির দোহাই দিয়ে এই জেলায় চাকুরী করছেন। ফলে বলা চলে স্থবির হয়ে গেছে বিভিন্ন থানার কার্যক্রম।

যোগ দিয়েই জেলার অফিসার ও কনস্টেবলদের গণহারে বদলীর আদেশ দেন এসপি আনিসুর। কিন্তু সেই আদেশের পর পুনরায় ঐ সমস্ত অফিসাররা আগের স্থানে বহাল রয়েছে, আবার কেউ কেউ জেলার পছন্দমত থানায়ও যোগদান করছেন। এর বিনিময় মূল্য হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে এনিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসনে চলছে নানা ক্ষোভ। অনেকে এসপি আনিসুর রহমানের অধীনে নারায়ণগঞ্জে চাকুরী করতে অনীহা প্রকাশ করে জেলা ছাড়ছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় পুলিশ সদস্যরা খুব আগ্রহ নিয়ে চাকুরী করার জন্য ছুটে আসলেও সম্প্রতি এই জেলায় নতুন পুলিশ সুপারের যোগদানের পরে এনিয়ে ভাটা পড়েছে। গোপালী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান যোগদানের পর থেকে নারায়ণগঞ্জে ঐ বিশেষ জেলার অফিসারদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। এসপি আনিসুর নিজে তার পূর্বের কর্মস্থল যশোর থেকে তাঁর পছন্দমতো পুলিশ সদস্যদের নারায়ণগঞ্জে বদলী করিয়ে আনছেন। আর তাদের দিয়েই জেলার কাজ করানোর চেষ্টা করছেন তিনি। জেলার উর্ধ্বতন এই পুলিশ অফিসারের ব্যাপারে অভিযোগ তোলার কেউ নেই। তাই নীরবে অনেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্যত্র বদলী হওয়ার চেষ্টা করছেন। আবার অনেকে ইতিমধ্যে চলেও গিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ইতোপূর্বেকার এসপি মঈনুল হক পিপিএম অন্যত্র বদলী হওয়ার পর জেলা ডিবি পুলিশের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এসপি আনিসুর রহমানের মন জয় করতে মোটা অংকের টাকা লাগে। যার কারণে অফিসাররা কাজ করতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি থানায় একাধিক সিভিল টিম করা হয়েছে। এসপি নিজে জেলা ডিবি পুলিশের প্যারালাল প্রতিটি থানায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব সিভিল টিম। এই টিমের সদস্যরা ওসিকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কথা বলেন এসপির সঙ্গে। এসপির নির্দেশনায় থানা গুলোতে অফিসাররা তাদের মতো কাজ করায় থানা গুলোতে চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে।

Content Protection by DMCA.com

অবশেষে জানা গেলো ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট নিখোঁজ! গরীব দেশের ৩ হাজার কোটি টাকা লুটপাট কমপ্লিট!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ “বঙ্গবন্ধু-১” অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। এটির সাথে কোনো যোগাযোগ নেই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের। যদিও গত ৫দিন আগে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের কোম্পানী তালিস এলিনিয়া স্পেস এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ কমিউনেকশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটিড (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে ‘ট্রান্সফার অফ টাইটেল’ বা স্বত্ত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে, তবে তা ছিল পেপার ট্রান্সফ্রার মাত্র, বাস্তবে স্যাটেলাইটের সাথে কোনো যোগাযোগ নাই বাংলাদেশের বা থালেসের। খবরের সুত্র বিসিএসসিএল-এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি জানান, যদিও এবছর ১২ মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এবং উৎক্ষেপণের পরে তা ৩৩ মিনিটে কক্ষপথে পৌছায় বলে সরকারী মাধ্যমে খবর পরিবেশন করা হয়, কিন্তু বাস্তবে স্যাটেলাইট থেকে কোনো সংকেত অদ্যাবধি বাংলাদেশের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে পৌছায়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে উপগ্রহটি বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু গত ৬ মাস পার হলেও এর কোনো আলামত নেই। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিনা কাজে বেতন নিয়েছেন। এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম প্রজেক্ট। তবে প্রজেক্ট চালু রাখতেই ১ম উপগ্রহের ঘটনা আড়াল করতেই ২য় আরেকটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কথা শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ নিয়ে শুরু থেকেই নানাবিধ জাল জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বিনা টেন্ডারে কাজ দেয়া হয়েছে ফ্রান্সের কেম্পানীকে। এমনকি যে মাপের কমিউনিকেশন উপগ্রহ (অর্থাৎ মিডিয়ার কাজে ব্যবহারযোগ্য), তা নির্মানে ১১০ মিলিয়ন ডলার খরচের স্টান্ডার্ড হিসাব থাকলেও বাংলাদেশ সরকার খরচ করেছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার! অর্থাৎ তিন গুণ খরচ, মানে সাগর চুরি!

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে (পলিটিক্যাল সাইন্সে ডিগ্রিপ্রাপ্ত) বিজ্ঞানী ঘোষণা করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক প্রযুক্তি উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়, কিন্তু বাস্তবে তার বেতন ছিল মাসে ২ লাখ ডলার বা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা (সূত্র: সাবেক আইসিটি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী)! পুত্র জয়ের বুদ্ধিতে মা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপন করে নাম কামানোর উদ্যোগ নেয়, পেছনে অবশ্য ধান্দা ২ হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়া। অবশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গত ১২ মে সারা দেশ জুড়ে আওয়ামী হৈ চৈ করে জাতিকে রাত জাগিয়ে সেই উৎক্ষেপণের খবর ছড়ানো হয়। দেশ থেকে শত শত আওয়ামী স্তাবক আমেরিকায় উড়ে গিয়ে সপ্তাহব্যাপি উৎসব করে আসে রাষ্ট্রীয় টাকায়! তখন বলা হয়েছিল, উন্নত দেশের কাতারে উঠে গেছে বাংলাদেশ। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সিগনাল রপ্তানী করে আয় হবে কোটি কোটি ডলার। কিন্তু রপ্তানী দূরের কথা বাংলাদেশের কোনো টিভি বা কোনো মিডিয়া গত ৬ মাসেও একটু সিগনাল ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি। কারণ, উপগ্রহটি কোনো সিগনাল পাঠায়নি। কোথায় আছে কেউ জানে না। উল্লেখ্য, আকাশে যত উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়, তার ৬০ ভাগ অরবিটে পৌছায় না, আর যা পৌছায় তার ১৫ ভাগ মাত্র কাজ করে! এখন তালিস এলিনিয়াকে এ বিষয়ে কোনো চিঠিও লিখছে না হাসিনা সরকার, কোনো প্রশ্ন করছে না, এই ভয়ে যে, জানাজানি হয়ে গেলে পাবলিকের ধোলাই খেতে হবে! নির্বাচনের বছর, এ জাতীয় খবর বিরাট বড় প্রলয় সৃষ্টি করতে পারে।

এতদিন আওয়ামীরা বলতো, আকাশে নাকি বঙ্গবন্ধুর নাম খোদাই করে রাখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো বঙ্গবন্ধুর মতই উপগ্রহটিও বিলীন হয়ে গেছে কোথায়, কেউ তা জানে না। জনগনের ২৯০২ কোটি টাকা এবং তৎপরবর্তী কয়েক’শ কোটি টাকা লোপাট করে বাংলাদেশের একটি স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটলো।

Content Protection by DMCA.com

সচিবালয়ে আওয়ামীলীগ পতনের গুঞ্জন! সরে যেতে চাচ্ছেন অনেক সচিব!

Content Protection by DMCA.com

ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের সব কিছুতেই যেন ওলট-পালট হতে বসেছে। সরকার বা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হলো সচিবালয়। সরকারের সেই প্রাণেই এখন টর্ণেডো শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য প্রতি বছর একবার করে বেতন বাড়িয়ে যাদেরকে নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করেছে, শেখ হাসিনার সেই সচিবরাই এখন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবদের মধ্য থেকে অনেকেই ভবিষ্যত অন্ধকার দেখে এখন থেকেই বিএনপির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। সচিবদের মধ্য থেকে যারা সরকারের পলিসি ম্যাকার হিসেবে পরিচিত তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব খবর ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে চলে গেছে। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে এসে প্রধানমন্ত্রী তাদের বিরদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ারও সাহস দেখাতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও বিষয়গুলোকে গোপন রাখছেন। কারণ, এগুলো জানাজানি হয়ে গেলে প্রশাসনে স্থবিরতা নেমে আসবে। তার ফলে সরকারের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এসবের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের ঘটনা। তিনি হলেন প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যিনি সরাসরি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন। জানা গেছে, সম্প্রতি তিনিও তার পদ থেকে সরে যেতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন আগেই। তিনি সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, শফিউল আলমের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থানে যাবে না সরকার। কারণ, সরকারের অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির জীবন্ত সাক্ষী তিনি। সরকারের ভেতরের অনেক কিছুই তার জানা। জানা গেছে, এসব ঘটনায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সরকার।

এদিকে, শফিউল আলমের চিঠিসহ গুরুত্বপূর্ণ সচিবদের ছুটি নিয়ে বাইরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে সচিবালয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারাতো সরকারের পলিসি মেকার হিসেবে পরিচিত। বিএনপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করাও সম্ভব না। তাই পিঠ বাঁচাতে আগেই দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন। ট্রেনিং, সেমিনার, চিকিৎসা, তীর্থস্খান ভ্রমন, বিদেশ ছুটি না অযুহাতে কয়েক’শ অফিসার ইতোমধ্যেই দেশে ছেড়েছে, ছাড়ার অপেক্ষায় আরও অনেকে।

Content Protection by DMCA.com

নোয়াখালীর খুন গুম, গায়েবী মামলা ও বিএনপি নিধনের হোতা এসপি হান্নান শরীফ!

Content Protection by DMCA.com

ইলিয়াস শরিফ, ২০তম বিসিএস ব্যাচের অফিসার, এসপি নোয়াখালী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ী ফরিদপুর, তার বড় ভাই হান্নান শরীফ মিরপুর থানা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন ২০১৪ সালে।

নোয়াখালীতে যোগদান করে এসপি ইলিয়াস নোয়াখালীকে আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার তিনটি ব্যতীত বাকী সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশের সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। একই ভাবে সাতটি পৌরসভার নির্বাচনে সব কয়টিতে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। এরপর ২০ দলীয় জোটকে ধ্বংস এবং নির্মূল করার জন্য গুম, খুন, পঙ্গুত্ব এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করেন। এসপি ইলিয়াসের নির্দেশে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের সুধারাম থানায় পাঁচ জনকে হত্যা করে এবং পাঁচ জনকে পঙ্গু করে, সোনাইমুড়ী থানায় পাঁচ জনকে খুন ও এক জনকে পঙ্গু করে, বেগমগঞ্জ থানায় তার উপস্থিতিতে ও সরাসরি নেতৃত্বে গত ০৭/০১/২০১৪ সালে দুই জনকে খুন এবং আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলমকে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা করে, সেনবাগ থানায় একজনকে খুন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিন জনকে পঙ্গু এবং কবিরহাট থানায় এক জনকে পঙ্গু করে। তাছাড়া তার মদদে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতা কর্মীকে হত্যা করে এবং উল্টো বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের ঐসব হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দুই শতের অধিক গায়েবী মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করে। পুরষ্কারস্বরূপ তাকে ১০১৫ সালে পিপিএম(সেবা) এবং ২০১৮ সালে বিপিএম(সেবা) পদকে ভূষিত করা হয়। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাকে ‘মা’ এবং সাংসদ একরামুল করিমের বউকে বোন ডেকে নোয়াখালীতে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এক জেলায় কর্মরত আছেন। আগামী নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসন পুলিশ দিয়ে ভোট দখলের মাধ্যমে সরকার দলকে উপহার দিবেন মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন এবং সেভাবেই তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে এসপি ইলিয়াস শরীফ ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেয়। নোয়াখালীতে বিসিএসে উর্ওীন যাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় বিএনপি করে তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয় প্রতিবেদন দিয়ে চাকুরীতে নিয়োগ বাতিল করে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ থেকে বদলী-পদোন্নতি এবং থানার মাসোহারা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তির পাহাড়। বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়েও তিনি হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তার দূর্নীতির বিষয়ে দুদক ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিলেও অদৃশ্য কারনে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries