Category Archives: একাদশ সংসদ নির্বাচন

বাংলাদেশের অনিয়মের নির্বাচনে গণতন্ত্রের সর্বনাশ: আন্তর্জাতিক মিডিয়া

Content Protection by DMCA.com

02 Jan, 2019

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত করতে জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর আহবান

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

এই বিজয় কলঙ্কিত: এএফপির প্রতিবেদন

Content Protection by DMCA.com

 

৩১ ডিসেম্বর,২০১৮

এই বিজয় কলঙ্কিত: এএফপির প্রতিবেদনভূমিধস বিজয় পেয়ে চতুর্থ বারের মতো ক্ষমতা নিশ্চিত করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে মারাত্মক ভোট জালিয়াতি ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হওয়ার কারণে নির্বাচনকে প্রহসন এবং সাজানো বলে আখ্যায়িত করেছে বিরোধীরা।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে বিজয়ী হয়েছে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর মিত্ররা। মাত্র ৬টি আসনে বিজয়ী হয়েছে প্রধান বিরোধী দল।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমনপীড়ন চালিয়েছে সরকার। দলটি নির্বাচন কমিশনের প্রতি এ নির্বাচনের ফল বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আমরা একটি নতুন নির্বাচন দাবি করছি।

ভয়াবহ সহিংসতা ও তিক্ত বিরোধ এবারের নির্বাচনী প্রচারণাকে ব্যাহত করেছে। নির্বাচনের দিনেও তা অব্যাহত ছিল, যদিও কর্তৃপক্ষ সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ লাখ সদস্যকে মোতায়েন করেছিল সারাদেশে। পুলিশ বলেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে তিন জন। বিরোধী সশস্ত্র কর্মীদের হাতে পুলিশের একজন সহায়ক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

এক দশক ক্ষমতায় থাকার সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে অর্থনীতি উন্নত করা ও মায়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কারণে প্রশংসিত ৭১ বছর বয়সী শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনি কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠেছেন, তার প্রধান প্রতিপক্ষ ও বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর মাধ্যমে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়নের জন্য তার সমালোচনা করছেন সমালোচকরা। বিরোধীরা রবিবার অভিযোগ করেছে, শেখ হাসিনার দল ব্যালট দিয়ে বাক্স ভর্তি করেছে এবং নির্বাচনের ফল তাদের পক্ষে নেয়ার জন্য অসদুপায় অবলম্বন করেছে।

বিএনপির মুখপাত্র সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাংবাদিকদের বলেছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে ২২১টিতে অনিয়ম হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়া হয় নি ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদেরকে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

‘আমরাই আপনার ভোট দিয়ে দেবো’
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র এসএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, তারা অল্প কিছু অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন এবং তা তদন্ত করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেন নি শেখ হাসিনা। তবে ভোটগ্রহণকালে তিনি বলেছেন, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

রাজধানী ঢাকায় ভোট হয়েছে অনেক শান্তিপূর্ণ। এদিন নিরাপত্তা রক্ষীদের দেখা গেছে রাজপথে। তবে রাজধানীর বাইরের ভোটাররা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। আতিয়ার রহমান নামের একজন ভোটার বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে তাকে প্রহার করেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। তিনি বলেন, তাদেরকে বিরক্ত না করতে বলে আমাকে। তারা আরো বলে, আপনার পক্ষ হয়ে আমরা ভোট দিয়ে দেবো।

বিরোধীরা বলছে, ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সারাদেশে প্রিজাইডিং অফিসাররা ধীর গতিতে ভোট নিয়েছেন।

৮ই নভেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়। তারপর থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় রোববার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১। পুলিশ বলেছে, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা একটি ভোটকেন্দ্রের বুথে জোর করে প্রবেশ করলে আত্মরক্ষার্থে তাদের দিকে গুলি চালায় তারা। এতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্যালট বাক্স চুরি করার চেষ্টা করলে পুলিশ আরো একজনকে গুলি করেছে।

অবাধ ও সুষ্ঠু?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিরোধীদের যেভাবে ‘বধ’ করা হয়েছে তাতে শেখ হাসিনার এই বিজয় কলঙ্কিত হয়ে থাকবে। বিরোধীরা দাবি করেছে, নির্বাচনী প্রচারণাকালে তাদের ১৫ হাজারেরও নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ফলে তাদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার শক্তিকে ভেঙে দেয়া হয়েছে।

বিরোধী দলীয় ১৭ জন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে। তবে তারা বলছেন, এসব অভিযোগ বানানো। আদালত থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে আরো ১৭ জনকে। বিরোধীরা বলে, যেখান থেকে এ রায় দেয়া হয়েছে তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন বলছে, সরকারের দমনপীড়ন এক ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এতে বিরোধী দলের সমর্থকরা ভোট দান থেকে বিরত থাকতে পারেন। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ।

বাংলাদেশে গত তিন দশক ধরে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে। এ দু’নেত্রী এক সময় একজোট হয়েছিলেন। পরে তারা শত্রুতে পরিণত হন। ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার এবং মোট চার বার নির্বাচিত হলেন। তিনি

বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না এমন অজুহাতে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে তাকে বড় বিজয় উপহার দেয় বিএনপি। তারপর থেকেই মিডিয়া বিরোধী কুখ্যাত ও কঠোরতর একটি আইনের মধ্য দিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার গলাটিপে ধরার জন্য তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো। তারা বলেছে, ভিন্ন মতাবলম্বীদের জোরপূর্বক গুম করা হয়েছে।

নিজেকে কর্তৃত্বপরায়ণ শাসক হিসেবে যে অভিযোগ আছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলেন, তার আশঙ্কা ছিল তরুণ ভোটাররা সমর্থন দেবে বিএনপিকে। এ বছর ঢাকার রাজপথে ছাত্র আন্দোলনে কঠোর হওয়ার কারণে তার সরকারের কড়া সমালোচনা রয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

ভোট ডাকাতি করতে গিয়ে সারাদেশে গণ প্রতিরোধের শিকার আ’লীগ: গণপিটুনিতে নিহত কমপক্ষে ১১, গ্রেফতার ৫০০ : গণঅভ্যুত্থানের আশংকা

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচনের আগের রাতে প্রশাসনের সহযোগিতায় সারা দেশে কেন্দ্র দখল করে ৩০-৪০ ভাগ ব্যালট পেপারে নৌকার সিল পিটিয়েছে অসংখ্য কেন্দ্রে। এর জন্য মুলত আওয়ামী অধ্যুসিত এলাকা বেছে নেয়া হয়েছে। তারপরেও বহু এলাকায় জনতার প্রতিরোধ হয়েছে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জে ব্যাপক গোলোযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জনতার প্রতিরোধে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১১ ভোট ডাকাত নিহত হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১জন ও কুমিল্লায় ২ জন, লক্ষীপুর, চট্টগ্রাম সহ ৫ জন ভোট ডাকাত নিহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম তাদের ১১ কর্মী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার মধ্যরাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার দত্তপাড়া ইউনিয়নের বড়ালিয়া গ্রামের বড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট ডাকাতির খবর পেয়ে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে চিৎকার হৈচৈ শুরু করে। জনতার ঘেরাওয়ে পড়ে হুড়োহুড়ি করে পালাতে চেষ্টা করে। এরি মাঝে কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে নিহত এক ছাত্রলীগের এক কর্মীর লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় রাকিব হোসেন ও জহির নামের স্থানীয় দুই ছাত্রলীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাদেরকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা বরুড়া থানার নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের ১৮ নেতাকর্মীকে মসজিদের মাইক দিয়ে ঘোষণা করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে বরুড়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের পটিয়া থানার গুরনখাইন এলাকায় রাত ১০টার দিকে ব্যালট পোরে সিল দেয়ার কালে জনতার ধাওয়ায় যুবলীগকর্মী দ্বীন মোহাম্মদ নিহত হয়।

অনলাইনে ভোট ডাকাতি ও প্রতিরোধের খবর ছড়িয়ে গণবিপ্লবের আশংকায় সরকার প্রথমে মোবাইল ইন্টারনেট সার্ভিস ডাউন করে, পরে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

ক্ষমতাসীনরা রাতেই ৩০-৪০ শতাংশ ভোট নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে রাখছে: বিএনপি

Content Protection by DMCA.com

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ভোটের আগের রাতেই ব্যালট পেপারে সিল মেরে রাখবে বলে যে আশঙ্কার কথা বলেছিলাম, সেই আশঙ্কাই সত্যে পরিণত হলো। নিশ্চিত পরাজয় জেনে আওয়ামী লীগের ক্যাডার’রা দেশব্যাপী ভোট কেন্দ্রগুলোতে নৌকায় সিল মারছে। সন্ধ্যা রাত থেকেই পুলিশের সহায়তায় শুরু হয়েছে নৌকা প্রতীকে সিল মারা। এ অবস্থায় নীরব না থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত জনসমাগম বাড়িয়ে ভোট চুরি ঠেকানোর জন্য ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার দিবাগত রাত ১০টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনরা রাতেই ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে রাখছে। এজন্যই ধানের শীষের অনেক প্রার্থীকে তাদের নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী ক্যাডার’রা।
এদিকে, ঢাকা-৫, জামালপুর-৩, কিশোরগঞ্জ-৪, নেত্রকোণা-৩, ফরিদপুর-৩, ফরিদপুর-১ ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সিল মারছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, কোনভাবেই আওয়ামী লীগ তার বিজয়ের অঙ্ক মেলাতে পারছে না। তাই রাতের অন্ধকারে ব্যালটে সীল মেরে ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। এদের কাপুরুষোচিত কাজে ভয় পাবেন না। মনে রাখবেন, “ভয় পেলেই শেষ, আর ভয়কে জয় করলে আমরাই বাংলাদেশ”। জেগে উঠুন। গ্রামবাসীকে জাগান। ভোট চুরি ঠেকান। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। প্রয়োজনে হারিকেন ও টর্চ লাইট নিয়ে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অবস্থান করুন ভোট চুরি ঠেকাতে। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন,
ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বাসা একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তাঁর বাসার ভিতর থেকে কোন নেতাকর্মী বের হতে পারছে না। বের হলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর:
বিএনপ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাসা ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দুইজন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কুমিল্লা-১০
ধানের শীষের প্রার্থী কারাবন্দী মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচন সমন্বয়কারী ৭/৮ জন নেতাকর্মীকে প্রার্থীর বাড়ী থেকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তার মেয়ের গাড়ী থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ ও স্টিকার নিয়ে গেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। নির্বাচনী এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তান্ডব অব্যাহত রেখেছে। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সেখানে ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।
কুমিল্লা-৩
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কে এম মজিবুল হক এর বাসার সামনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নিয়েছে। বাসায় ঢোকা ও বেরুবার সময় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট আনিসুর রহমান, স্বাধীন সোহেল ও আলামীনকে প্রার্থীর বাসায় ঢোকার সময় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্বাচনী এলাকায় প্রত্যেক নেতাকর্মীর বাসায় বাসায় অভিযান চালিয়ে গণহারে বিএনপি নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থকদের গ্রেফতার করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
যশোর-৩
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ধানের শীষের প্রার্থী। তার বাড়ি পুলিশ র‌্যাব ঘিরে রেখেছে। বাড়িতে হানা দিয়ে দলের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অমিতের নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা অনেক কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা শুরু হয়েছে।
বরগুনা জেলা:
বরগুনা জেলাধীন বামনা থানার সদরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী ক্যাডার’রা মহড়া দিচ্ছে।
ঠাকুরগাঁ-১ (সদর)
গিলাবাড়ী সরকারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, রুহিয়া সালেহিয়া আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র ও সবুজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী ক্যাডার’রা,
পঞ্চগড়-২
এই আসনের দুটি উপজেলা দেবিগঞ্জ ও বোদার দু’জন ইউএনও প্রিজাইডিং অফিসারদের বলছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ভর্তি করতে হবে।
ঢাকা-১৩
মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতা রাজিব এর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয় ভোট কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।
কক্সবাজার
চকোরিয়া থেকে দুরবর্তী চরণদ্বীপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, পালাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা চলছে।
ঢাকা-৮
ইতোমধ্যে ফকিরাপুল কেন্দ্রে, শিক্ষাশিবির স্কুল কেন্দ্রে এবং দ্বীপ শিখা ভোটকেন্দ্রে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা শেষ হয়েছে।
ঢাকা-৯
নবীয়াবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্র, কম্বাইন্ড কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্র, মাদারটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এস আর এ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা বৌদ্ধরাজি ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে ইতোমধ্যে সিল মারা শেষ হয়েছে।
নরসিংদী
মনোহরদী বেলাবো ভোটকেন্দ্র দখল করে আওয়ামী ক্যাডারদের দ্বারা নৌকা প্রতীকে সিল মারা হিড়িক চলছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যালট পেপারে সিল মারা হয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জ-২
সয়দাবাদ ইউপি সারুটিয়া ও খোকসাবাড়ি, চন্দ্রকোনা, বানিয়াগাতি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী ক্যাডার’রা।
হবিগঞ্জ-১
উক্ত আসনে কাজীরগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ মোশাররফ প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারকে বলে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তো আমরা জিততে পারবো না, সুতরাং আমাদের ছেলেরা আসবে, তাদেরকে নৌকা প্রতীকে সিল মারার সুযোগ করে দিবেন।
কুমিল্লা-১
পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালিয়ে সব কিছু ভাংচুর করে এবং তার ঘরে ঢুকে তার একমাত্র মেয়ে সাবরিনা মনির অন্তরার সাথে দুর্ব্যবহার করে আওয়ামী হায়েনার দল।
ঢাকা-১৬
পুলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য তাদের বাসায় বাসায় পুলিশ ও আওয়ামী যৌথ ভাবে হুমকি দিচ্ছে যে, পুলিং এজেন্টদের না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হবে। আর যে এজেন্ট হবে তার রক্ষা নাই।
দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান দিয়েছে রাতেই ৩০ শতাংশ ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভরে রাখার জন্য প্রিজাইডিং অফিসারদের চাপ দিচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জে ও মতলবেও রাতেই আওয়ামী ক্যাডার’রা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করছে।
মুন্সিগঞ্জ সদরে ধানের শীষের এজেন্টদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, ব্যাপক মারধর করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে স্থানীয় ওসি’র সহযোগিতায় ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জানিয়েছেন-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সীল মারছে। রাতেই নাকি ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হবে।
কুষ্টিয়া-৪
বিভিন্ন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও ক্যাডাদের ব্যালট পেপারে সিল মারার ধুম পড়েছে। কুমারখালী থানাধীন মনোহরপুর সঃপ্রাঃবিঃ ভোটকেন্দ্রে সিল মারা চলছে। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের কয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল মারা চলছে। খলিসা দহ ভোটকেন্দ্রেও সিল মারা হচ্ছে। বানিয়াপাড়া সঃপ্রাঃবিঃ ভোট কেন্দ্রে এখন ব্যালট পেপারে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে সিল মারার উৎসব চলছে। চারিদিকে ব্যালট পেপারে সিল মারার জন্য আওয়ামী লীগে টিম বেরিয়েছে।
চাঁদপুর
চাঁদপুর সদরে ৬০/৭০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারা চলছে। থানার চর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মুক্তার গাজির বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
নরসিংদী সদরে বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকে সিল মারছে আওয়ামী লীগ ক্যাডার’রা।

Content Protection by DMCA.com

চট্টগ্রামে সেনা তৎপরতায় স্বস্তিতে ভোটার

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

ভোটের আগে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

Content Protection by DMCA.com

জেগে উঠুন, সাহস করে দলে দলে কেন্দ্রে যান, ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ের বেশে ঘরে ফিরুন —
বিশেষ সংবাদদাতা।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান সকল হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলে-দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের একেকটি ভোটই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ ও শান্তির বাংলাদেশ।ভোট দিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ের বেশে তবেই ঘরে ফিরবেন। ভোটার ও আওয়ামী দু:শাসন বিরোধী জনগনের প্রতি তাঁর দৃঢ় – দৃপ্ত কন্ঠের উদাত্ত আহবান,আসুন। জেগে উঠুন। কোটি-কোটি দেশপ্রেমিক সূর্য-সন্তান। তাহলেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস। ৩০ ডিসেম্বর উঠবে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য। আপনারা যদি বীরদর্পে বেরিয়ে আসেন হাজারও ভোটারের ভিড়ে গুটিকয়েক লোক কোনোভাবেই আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। সুতরাং আত্নবিশ্বাস রাখুন, সাড়ে দশ কোটি ভোটারের এই শক্তিকে কেউ, কোনো কিছু, কোনো ভাবে রুখতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ ভীতু নয়। দুর্বার, সাহসী, দুর্জয়। যার প্রমান আপনারা দিয়েছেন বারবার, বহুবার, প্রতিবার।এবারও এসেছে সেই চূড়ান্ত সময়। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০ টায় লন্ডন থেকে অনলাইনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষনে তারেক রহমান এই আহবান জানান। তাঁর এই বক্তৃতা ফেসবুক, অনলাইন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং ইউটিউবে একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

তারেক রহমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। স্বৈরশাসকের দেশবিরোধী পরিকল্পনায় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না। আপনাদের উপর দেশবাসীর এখনো আস্থা আছে… আশা আছে। জনগণ বিশ্বাস করে, আপনারা বিবেকবর্জিত কাজ করবেন না।নিজের দেশের আপামর জনতার উপর অত্যাচারের অন্যায় সরকারি নির্দেশ মানতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা এ দেশেরই সন্তান। কারো স্বজন; কারো বন্ধু; কারো প্রতিবেশী। তাহলে কেন নিজের ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করছেন? নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন যা চলছে এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়। স্রেফ সন্ত্রাস। একটি কথা আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সন্ত্রাস করে মানুষকে কিছুদিন হয়তো দাবিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত বিজয় হয়না। বিজয় হয় জনগণের। তারেক রহমান বলেন, শত উস্কানি আর অপতৎপরতার মুখেও বিরোধীদল জেল জুলুম সহ্য করে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটের লড়াইয়ের অংশ নিয়েছে। কারো পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।এভাবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু জনগণ যদি বৈধ উপায়ে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলে সেটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারেনা।এ কারণেই আমি বলেছি আমরা বলছি আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। আর এবারের মুক্তিযুদ্ধ মাতৃভূমিকে নিরাপদ করার জন্য।এই যুদ্ধের ময়দান সারা দেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোট কেন্দ্র। এ যুদ্ধে আমাদের অস্ত্র বুলেট নয়, ব্যালট। এ ব্যালট যুদ্ধে আমাদেরকে জিততেই হবে। এ যুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদেরকে পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে।তাই ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার প্রধান দু’টি পক্ষ কেবল ধানের শীষ আর নৌকা নয়। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ নয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আর মহাজোট নয় ।বরং ভোটের দু’টি পক্ষ — গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্র। স্বাধীনতা বনাম পরাধীনতা। সাড়ে দশ কোটি ভোটার বনাম একটি জনবিচ্ছিন্ন দল। তাই এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তির প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ‘ধানের শীষ’। মজলুম জননেতা তারেক রহমান ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি ইতিহাস রচনার দিন হিসাবে উল্লেখ করে বলেন,এ দিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অপশক্তির দাস না মুক্তির ইতিহাস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক প্রহর বাকি। জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। এমনটিই হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু দেশে নির্বাচনের সেই পরিস্থিতি নেই। নির্বাচন আজ পরিণত হয়েছে নির্যাতনে, প্রহসনে। আপনারা দেখছেন, বিরোধী দলের প্রার্থীকে গুলি করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। গায়েবি কিংবা মিথ্যা মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে।কারণ একটাই, বিরোধী দল বিনা বাধায় প্রচারণার সুযোগ পেলে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে তারা পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করবে। ফলে আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের নামে প্রতারণার সুযোগ পাবে না।আমরা আগেই বলেছি, ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারপরও বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রেখে- আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাতে তারা একতরফা নির্বাচনের সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ দেখেছে। দেখছে এ নির্বাচনে বিরোধী দলের আন্দোলনের কাছে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। জনগণের সামনে বেরিয়ে এসেছে তাদের কুৎসিত, কদাকার। নির্লজ্জ ও স্বৈরতান্ত্রিক চেহারা। দলীয় সন্ত্রাসী এবং প্রশাসনের অবৈধ সুবিধাভোগী একটি অংশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে ভোটারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারেক রহমান ভোটারদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা ও গ্রেফতার নির্যাতন হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদানের দু:সহ অবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সহ বিরোধী দলগুলো চায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসুক। আর আওয়ামী লীগ চায় সারা দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে না পারেন।

আজ বাংলাদেশে দু’টি বিপরীতমুখী স্রোত তৈরী হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন অপশক্তি আর তাদের নির্লজ্জ অনুসারীরা।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই, হয় নির্বাচন পিছান, নইলে পদত্যাগ করুন- ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে ইসির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চরম সংঘাতময় মুহুর্তে সিইসি নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। সাক্ষাতে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত। তাই নির্বাচন এক মাস সরিয়ে পরিবেশ ঠিক করতে পরামর্শ দেন। সিইসি এতে রাজী না হয়ে আর্গুমেন্ট শুরু করলে তখন বলা হয় তবে আপনি সরে দাড়ান! খবর ইসি সূত্রের।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রচার-প্রচারণায় যে সব ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ড’ হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভোটের দিনে অধিক মাত্রার সহিংসতার আশঙ্কা করছে। এ জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সহিংসতার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ঢাকায় নব নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণায় যে সহিংসতা হয়েছে তাতে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। সংখ্যালঘু এবং নারী প্রার্থীরাও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। যা সত্যিই উদ্বেগের।

এ নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা-ও উল্লেখ করে মার্কিন দূত বলেন, ভোটের দিনে সহিংস পরিস্থিতি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

এ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সিইসি মিস্টার হুদার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

সেখানে অন্য কমিশনাররাও ছিলেন। মার্কিন দূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেখতে চায়। তারা চায় সবাই নির্বিঘেœ ভোট দিক। ভোটারদের নির্বিঘেœ-নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটে জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন দেখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের যে আকাঙ্খা সেটি পূণর্ব্যক্ত করে মার্কিন দূত বলেন, আমরা আশা করি ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিবে। সে যে দল বা মতের হোক না কেন। শান্তিপূর্ণভাবে সবাই সবার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যে কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে সবার অধিকার থাকবে।
রবার্ট মিলার বলেন, এখন পর্যন্ত যে সহিংসতা হয়েছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন। ভোটের দিন অধিক মাত্রায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবার্ট মিলার বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আমরা বলেছি যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহের নির্বাচনী সংহিসতা নিয়ে অবগত আছে। বড় বড় নেতারাসহ সংখ্যালঘুরা সহিংসতায় আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ বড় নেতারাই বিরোধী দলের। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সহিংসতা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা কী জানতে এসেছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘের (ইউএন) মহাসচিব একটা বিবৃতি দিয়েছেন। সেই দাবি আমাদেরও। তিনি বলেছেন- নির্বাচনের আগে ও পরে সকল অংশীজনের কাছে তিনি সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলেছেন। যেন সংখ্যালঘুসহ সকল বাংলাদেশি ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষকরা যেন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

Content Protection by DMCA.com

‘আট কোটি টাকা’ নাটকে ফেঁসে গেলো হাসিনা!

Content Protection by DMCA.com

।।রাজনৈতিক ভাষ্যকার।।
বাংলাদেশের অবৈধ সন্ত্রাসী সরকার ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের মেরে-কেটে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েও ক্ষান্ত হচ্ছে না। শীষের উর্মিমুখর জোয়ার দেখে দিকভ্রান্ত উন্মাদ এখন গণবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার।

নির্বাচন থেকে বিরোধীদের সরানোর জন্য প্রতিদিনই হামলা গুলিবর্ষণ ও গ্রেফতার করছে তারা, যা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেছে। নতুন নতুন সব কূটকৌশল বাস্তবায়ন করছে তারা। জনগনের ওপর পুলিশ ও র‌্যাবকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত নীলনক্সা অনুযায়ী এবার তারা টাকা আটকের নতুন নাটক করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে জুলুমবাজ সরকার।

ভোটের চার দিন আগে মঙ্গলবার মতিঝিলের একটি অফিসে নগদ আট কোটি টাকা উদ্ধার ও ১০ কোটি টাকার চেক জব্দ করার নাটক মঞ্চস্থ করেছে র‌্যাব প্রধান গোপালী বেনজির। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের দলের নেতারা এই নাটকের চিত্রনাট্য গত কিছুদিন ধরে অল্প অল্প করে বলে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে লন্ডন থেকে পুলিশ হত্যা ও টাকা দিয়ে কিনে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এরপর বুধবার তার বাসভবন ‘সুধাসদন’ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলায় দলের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আজ খবর পেয়েছি যে নির্বাচনের তিন-চার দিন আগে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, এবং ব্যাপক টাকা ছিটিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে পরিকল্পনা করছে।”

আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছিলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন তারেক রহমান। এজন্য তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।”

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেশের সচেতন মানুষ অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের নেতাদের বক্তব্যে আঁচ করতে পেরেছি কিছু একটা করবে তারা।তবে জঙ্গী নাটক করতে করতে ক্লান্ত র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ মনে হয় সব গুলিয়ে ফেলেছেন। টাকা জব্দ করার এই কাহিনী বিশ্বাসযোগ্য হয়নি সাধারন মানুষের কাছে। কারন- নাট্যকার বলেছিলেন টাকা আসবে লন্ডন থেকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে বললেন, টাকা হুন্ডির মাধ্যমে এসেছে দুবাই থেকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বচ্ছ রাজনীতির অনুপম দৃষ্টান্ত দেশনায়ক তারেক রহমানকে এতে জড়িত করার জন্য তার সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপুর কথিত অফিসে গিয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হলো। যিনি শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা- ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যাকে তিনদিন আগে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা করে প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে। কথিত টাকা উদ্ধার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে বলা হলো সে নাকি হাওয়া ভবনের লোক। তবে মতিঝিল সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড করপোরেশন কার্যালয়ে টাকা উদ্ধারে গিয়ে ফাঁস হয়ে গেল অবৈধ হানাদার সরকারের ভয়ংকর নীলনকশা। দেখা গেছে, র‌্যাবের কথিত অভিযানকারীরা সেখানে নুরুদ্দিন অপুর ভোটের যে রঙিন প্রচারপত্র ও পোস্টার নিয়ে যায় তা ছিল ভূয়া ও তাদের নিজেদের ছাপানো। নির্বাচনে যেখানে রঙিন পোস্টার নিষিদ্ধ। দেশের কোন প্রার্থীই রঙিন পোস্টার ছাপেননি। মিডিয়ার ক্যামেরাপার্সনদের ডেকে নিয়ে যে ভিডিও এবং আলোকচিত্র ধারন করানো হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে- টাকার পাশে অপুর রঙ্গিন নির্বাচনী পোষ্টার রাখা। অথচ এখন রঙ্গিন পোষ্টার করা হয় না। পোস্টারে মিয়া নুরুদ্দিন অপুর নামের বানানও ভুল। এতে প্রমানিত হলো- অপরাধী নিজেরাই তাদের অপরাধের প্রমান রেখে যায়। বেনজির আহমদের লোকজনের এই ভুল করার কারনে দেশের মানুষের হাস্যরসের সৃস্টি হয়েছে। সোসাল মিডিয়ায় এটা ভাইরাল হয়ে গেছে। দেশের মানুষ ফেসবুকে বলছেন- “শীতকালে এমন খবর না দিলেও পারেন, মানুষের ফাঁটা ঠোঁটে হাসতে সমস্যা হয়। এসব নাটক পাবলিক আর খায়না রে ভাই, ১০ বছর নাটক দেখতে দেখতে ক্লান্ত”। কেউ কেউ বলছেন, “চিত্রনাট্য খুবই দুর্বল। ভোটে এভাবে টাকার লেনদেন নাকি? এতদিন জংগী নাটক, এখন টাকার নাটক ঠিক যেন মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মত! এমনও তো হতে পারে টাকা গুলো র‌্যাব-পুলিশকে দেওয়ার জন্য ভাতা হিসাবে পাঠিয়েছিল কেউ।”

সংবাদ সম্মেলনে এসে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, “ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বানচাল করা হয়েছে। দুবাই থেকে প্রায় দেড়’শ কোটি টাকা এসেছে। এর অধিকাংশই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। আমরা এতোদিন বিএনপির পক্ষ থেকে হুমকি ধামকি শুনে আসছি। এই হুমকির অন্যতম কারণ হলো এই টাকা। হুমকি ধমকি যে অসত্য না, তা এই লেনদেনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। হুমকি-ধামকির উৎস শত শত কোটি টাকা।”

এইসব মিথ্যা নাটক পাবলিক আর খায় না। জনগণ এতো বেকুব না যে, যারা মিটিং মিছিল করতে পারে না,  রাস্তায় নামতে পারে না, তারা আবার টাকা বিলি করবে! কি হাস্যকর ব্যাপার! ধানের শীষের প্রার্থীদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার কোন প্রয়োজন আছে কি না তা দেশবাসী সম্পূর্ন ওয়াকিবহাল। তাদের ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিলে এমনিতেই তারা ২৫০-র উপরে আসন পাবে। জনগন বলছেন, আওয়ামীলীগেরতো মাত্র ৫% ভোট। বিএনপির ৯৫% ভোট থাকার পরেও তারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে যাবে কেনো? বাংলাদেশের মানুষ খুব ভাল করেই জানে এসবের পেছনে কে বা কারা আছে। যারা আছে, তারাই গত কয়েকদিন বক্তৃতায় ‘টাকা কাহিনী’ বলে বেড়াচ্ছেন। তাই এইসব নাটক পাবলিককে আর গিলানো যাবেনা।

কোন পাগলও বিশ্বাস করবে না যে, আট কোটি নগদ টাকা, আর দশ কোটি টাকার চেক একটি অরক্ষিত অফিসে কেউ রাখবে।

এটা বুঝতে আর কারো বাক নেই যে, একটি প্রতিবেশী দেশকে নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য এই টাকার সাথে আইএসআইকে সম্পৃক্ত করেছে আওয়ামী অনুগত দলদাস বেনজীর আহমদ।

এইসব নোংরা খেলা বন্ধ করার প্রয়োজন। যত নাটক করুক না কেনো আর কোন লাভ হবে না। প্রতারণা, মিথ্যাচার, প্রহসন, আর নাটক করতে করতে সব বিশ্বাস চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন। জনগনের চোখে এরা এখন গণশত্রু। ভোট পাওয়ার জন্য ধানের শীষের টাকা লাগেনা, ভোট কিনতে হয়না। চোখ খুললেেই দেখা যায় সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। তাই ভোটার ঠেকাতে হত্যা. গুম, আক্রমন, ও জেল জুলুম।

Content Protection by DMCA.com

জনগণ ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ ২২৭ টি এবং নৌকা ৬২ টি আসন পাবে!

Content Protection by DMCA.com

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
প্রায় একযুগ ধরে নিষ্পেষিত জাতি এই ভোটের সময়েও শেখ হাসিনার সরকারের গুম ও হত্যার ভয়ে চুপ মেরে আছে। তারপরেও যদি তারা ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছাতে পারে, তবে অভাবনীয় ফলাফল হবে। ধানের শীষের প্রার্থীরা ২২৭ টি আসন লাভ করবে আর নৌকার প্রার্থীরা পাবেন মাত্র ৬২টি আসন; এর মধ্যে জাতীয় পার্টির ১৯টি ও জোটের অন্যদের ৪ টি রয়েছে।

এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী, কমিউনিস্ট পার্টি এবং অন্যরা মিলে ১১ টি আসন লাভ করবে। ৬২ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ লাভ করবে মাত্র ৩৯টি । কিছু গোপন সংগঠনের যৌথ একটি গোপন জরিপের যৌথ ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই গোপন জরিপের আয়োজনকারীরা তাদের নাম গোপন রাখার শর্তে এ তথ্য সরবরাহ করেছে।

২২৭ টি আসনের মধ্যে বিএনপির সম্ভাবনা রয়েছে এককভাবে ১৯৬ টি আসন লাভের। ৩১ টি ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা লাভ করবে। ১১ টি আসনের মধ্যে ইসলামী দলগুলো পাবে ৪ টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৩ টি এবং অন্যান্যরা ৫ টি লাভ করবে। বলে জরিপে বলা হয়।

এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী তালিকা আইএসআই বানিয়েছে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের গবেষণা ও প্রচারণা কেন্দ্র থেকে উদ্দেশ্যমুলকভাবে। কারন এইবারেই প্রথম পাকিস্তানের বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিপক্ষের কোন শক্তিকে কোন প্রকার সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। বরং ভারতের একটি লবি শেখ হাসিনার সরকারের গণবিচ্ছিন্ন অব্যাহত কার্যক্রমে ভারতের স্বার্থহানীর সম্ভাবনাকে উৎরে যেতেই শেখ হাসিনার বিপক্ষে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ তৈরি করেছে। বিএনপিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এই গেম এ অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চেষ্টা করছে।

জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ এর জনপ্রিয়তাই বর্তমান বিএনপির একমাত্র পুঁজি যা তাদের এখনো টিকিয়ে রাখছে; শুধু তাই নয়, যে কোন সুযোগ পেলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে সক্ষম হলে বিএনপি আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরতেও সক্ষম সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে। এটা মাথায় রেখেই ভারত তার মাঠ সাজিয়েছে।

শেখ হাসিনা যে লম্বা সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সময়ে তিনি সঠিক কাজগুলো করে জাতির বিরুদ্ধে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার খায়েশ বাদ দিতে পারলে ইতিহাসে তিনি বিশাল এক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারতেন। এমনকি বর্তমান নির্বাচনে তার সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত কোন শক্তিই থাকতো না। কিন্তু ব্যাংক লুট, মাদকের বিস্তার, ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুম, বিরোধীদের হত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, নারী ধর্ষণের বিচার না হওয়া; বাক স্বাধীনতা হরন করা, ইচ্ছে মত গ্রেপ্তার, নির্যাতন, মামলা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরনের মত ঘটনা শেখ হাসিনাকে পুরো জাতির কাছে মূর্তিমান এক খুনি ভিলেন নারীতে পরিনত করেছে। অথচ এগুলো তার করার কোন প্রয়োজনই ছিল না।

এখন শেখ হাসিনা তার ও তার লোকজনের ভাগ্য নির্ধারণ করেই রেখেছেন; যে কোন সময় যে কোন ভাবে তার পতন অনিবার্য আর সেই পতনে যে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ হবে সেটিও এক ইতিহাস হয়ে থাকবে সামনের প্রজন্মগুলোর জন্য। তারপরেও তিনি ক্ষমতা যে কোন উপায়ে ধরে রাখতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন নির্লজ্জভাবে; যদিও এ ছাড়া তার উপায় নেই।

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries Recent Entries »