Category Archives: আন্তর্জাতিক

ভারতের প্রতি কেবলই কৃতজ্ঞতার সুর হাসিনার গলায়, কৌশলে এড়ালেন তিস্তা প্রসঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনে বহু প্রতিক্ষীত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৫ মে) উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিন হাসিনার বক্তব্যজুড়ে ছিল দু’দেশের যৌথ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নানা অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা। মুজিবকন্যা এদিন বলেন, ২০১০ সালে ভারত সফরে এসে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তিনি। ভবন নির্মাণের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রায় ৮ বছরের মাথায় আজ বাস্তবায়িত হল দুই বাংলার স্বপ্ন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হল গুরুদেবের আশ্রমে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যেকটি কথায় উঠে এসেছে ভারতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসার কথা।

ছিটমহল বিনিময়, সীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে হাসিনা বলেন, ‘‘মুজিব-ইন্দিরার চুক্তির পর বাংলাদেশে আগেই স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে আইন পাশ হয়ে গেলেও ভারতে সেটা হয়নি। ভারতে দীর্ঘদিন পরে ভারতের সংসদে ‘৭১ সালের মতো দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সব সংসদ সদস্য মিলে এক হয়ে বিলটি পাশ করে দিল। স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হল।’’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ যেভাবে ছিটমহল বিনিময় করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হাসিনা।   হাসিনা বলেন, ‘‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বড় বন্ধু। ভারতের অবদান আমরা ভুলব না। যে কোনও সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। আমাদের উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’’

বক্তব্য রাখার মাঝেই ১৯৭৫ সালের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। কীভাবে সেসময় তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চলেছিল, কীভাবে তাঁর আত্মীয়রা প্রাণ হাতে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, সেসময় কীভাবে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছিল, তারই স্মৃতিচারণা করেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘সেইসময় ভারত যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াত, তবে জানি না আমাদের কী হত। সেসময় ভারতের স্নেহছায়া যদি না পেতাম, যদি আমাদের জীবন অন্যদিকে মোড় নিত।’

এদিন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও উঠে আসে হাসিনার কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা তাদের তাড়াতে পারিনি। এক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে পাশে পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ভবনে যে দুই দেশের ভাষা, বাংলা ভাষার চর্চা হবে, তা নিয়ে গবেষণা হবে, এদিনের বক্তৃতায় সেকথাই বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। ‘ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক-এ কথায় বলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন হাসিনা।

এদিনের অনুষ্ঠানে কথার বলার মাঝে, একবার তিস্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি শেখ হাসিনা। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি এখনও রূপায়িত হয়নি। এই নিয়ে কি অনুষ্ঠানের বাইরে মোদী-হাসিনা আলোচনা হবে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এরপরই বক্তৃতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনিও। সব পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের পাশে থাকার আরও একবার আশ্বাস দেন মোদী।

/সাউথ এশিয়ান মনিটর

বিরোধী নেতাদের গ্রেফতার ও বিচারবহির্ভূত হয়রানির ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ সকল বন্ধুরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন : ইউএসএআইডি প্রধান

বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডির প্রধান মার্ক গ্রিন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অভিন্ন মূল্যাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। বন্ধুত্বের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সৎ, খোলামেলা ও আন্তরিকতার সাথে কথা বলা প্রয়োজন। বিরোধী নেতাদের অব্যাহতভাবে গ্রেফতার, বিচারবহির্ভূত হয়রানি ও সাংবাদিক নিগৃহিনের মতো ঘটনায় বাংলাদেশের অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মত আমরাও উদ্বিগ্ন। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এমন ভোট হওয়া প্রয়োজন যাতে দেশের মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্খার সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটে।

বাংলাদেশে নির্ধারিত সফর শেষে বৃহস্পতিবার আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন সোজাসাপ্টা মতামত ব্যক্ত করে ট্রাম্প প্রশানের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান মার্ক গ্রিন। এ সফরকালে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। ঢাকায় বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে। দীর্ঘ দিনে কংগ্রেসম্যান, রাষ্ট্রদূত ও মিলিনিয়াম চ্যালেঞ্জ অ্যাকাউন্টের বোর্ড অব ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালনকারী গ্রিনকে ইউএসআইডি প্রধান হিসাবে বেছে নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনের পরই তিনি মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছেন।

ইউএসএআইডির প্রশাসক বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বাংলাদেশের ভূমিকাকে প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিহাস রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো ভয়াবহ নৃশংসতাকে মনে রাখবে। তেমনি মনে রাখবে বিপদগ্রস্থ এসব মানুষকে আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা। কক্সবাজারের স্থানীয় মানুষই রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সবার আগে এগিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্কট নিয়ে জানতে ও শুনতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে আমি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করছি। সঙ্কট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় নির্ধারনে আমার অভিজ্ঞতার কথা ওয়াশিংটনকে জানাবো। চলতি সপ্তাহে আমি রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশী জনগোষ্ঠির জন্য ৪৪ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছি। ২০১৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র এ সঙ্কট মোকাবেলায় মোট ৩০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। কক্সবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে নেয়া প্রকল্পগুলো খাদ্য, সুরক্ষা, জরুরি আশ্রয়স্থল নির্মাণ, খাবার পানি, পয়:নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যখাতে উদ্বাস্তুদের সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্ষা মৌশুমকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ আরো বাড়ানো হবে।

গ্রিন বলেন, সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সুরাহার জন্য এর মূল কারণগুলো মোকাবেলায় মনোযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্যেই আজ আমি মিয়ানমার যাব। সেখানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে সঙ্কট নিরসনে তাদের ভূমিকা পালনের তাগাদা দেব। এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা অনতিবিলম্বে বন্ধ করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি দেয়া, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া উদ্বাস্তুদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং সম্প্রদায়গুলো মধ্যে বৈষম্য দূর করা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে ইউএসএআইডির শিকড় গভীরভাবে প্রথিত। স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক শাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করছে।

বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রশাসক। সেখানে ইএসএআইডির কর্মী জুলহাস মান্নান হত্যার বিচারের অগ্রগতিও জানতে চান বলে দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

/জাস্ট নিউজ

ভারতীয়রা জানোয়ারের থেকেও অধম: মোনালি ঠাকুর

ভারত আর বসবাস করার মতো জায়গা নয়! ভারতীয়রা তো জানোয়ারের থেকেও অধম।’ বিস্ফোরক মন্তব্যটি করে খবরের শিরোনামে উঠে এলেন মোনালি ঠাকুর। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কথাই বলেন।

নিজের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনের কিছু কথা বলার পর ভারতের প্রসঙ্গ আসে। যেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিদেশে ভারতের চিত্রটা কেমন? বিদেশীরা কীভাবে দেখছেন ভারতকে। এরই উত্তরে এমনটা জানান গায়িকা।

আক্ষেপের সঙ্গে মোনালি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আমি ভীষণ লজ্জিত হই যখন দেখি বিদেশীরা ভারতবর্ষকে বসবাসের যোগ্যই মনে করে না। তাঁদের ধারণা ভারত একেবারেই নিরাপদ স্থান নয়। এগুলো শুনলে সত্যি খুব কষ্ট হয়। আগে আমাদের দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য নিয়ে কত প্রশংসা হত! আর এখন এই কথাগুলি কানে আসে। যা খুবই দুঃখের’।

একই সঙ্গে তিনি বলে চলেন, ‘এসবের জন্য আমরা ভারতীয়রাই দায়ী। দিনের পর দিন নিজেদের ঐতিহ্যকে অসম্মান করে চলেছি। দেখতে গেলে, আমরা লোক দেখানোর জন্যই যেন উন্নত হচ্ছি। কিন্তু আসলে অধঃপতনই ঘটছে। মানুষ যেন পশুর মতো হয়ে উঠছে। যদিও পশুদের পাশবিক প্রবৃত্তিটা খুবই স্বাভাবিক। সেটাই ওদের ন্যাচারাল ইন্সটিঙ্কট। কিন্তু আমরা তো মানুষ! আমরা তো ওদের থেকেও খারাপ। পশুদের থেকেও আমাদের আচরণ খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’ এভাবে কথায়, কথায় মোনালি দেশের বড় এক সমস্যার কথা জানালেন।

প্রসঙ্গত, এক সময় মোনালির পরিবার দেউলিয়া হয়ে যায়। পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে হয় আর্থিক অভাবের কারণে। এমনকি গ্র্যাজুয়েশনও কম্পিলিট করতে পারেননি তিনি। তবে সেসব বাধা পেরিয়ে আজ তিনি বলিউডের প্রথম সারির সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে একজন। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭
/শীর্ষনিউজ

খালেদা জিয়ার জন্য স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতি এমপি জোসেফের আহবান 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে অবশ্যই বাংলাদেশের নির্বাচনের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থার দাবী করেছেন ইউরোপিয়ান সংসদ সদস্য এবং গ্রুপ অব দ্যা প্রগ্রেসিভ এলিয়েন্স অব সোসালিস্ট এ্যান্ড ডেমোক্রেটিক এর সমন্বয়কারী প্রফেসর ড. ওয়েডেনহোলজার জোসেফ।

ডক্টর জোসেফ বলেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে, ঢাকার রাজপথে প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভকারীদের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ডক্টর জোসেফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা মানেই তাকে আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখারই প্রয়াস। আর এই অবৈধ প্রয়াসের মাধ্যমেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের শর্তাবলীগুলো লংঘন করা হচ্ছে।

সাধারন আদালতে বেগম জিয়ার বিচার কার্যপরিচালনা না করে হঠাৎ করে গঠিত একটি জনবিচ্ছিন্ন বিশেষ আদালতে তথাকথিত শুনানি একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া নয়। বেগম জিয়ার পাশাপাশি বিগত কয়েক মাসে আরো অগণিত বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইউরোপিয়ান সংসদ সদস্য ডক্টর জোসেফ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওকায়াবিহাল আছেন। শুধু তাই নয়, তিনি বেশ কয়েক বছর যাবৎ বাংলাদেশের রাজনৌতিক পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষনও করেছেন। যদি নির্বাচনী মাঠে এমন পরিবেশ থাকে, তাহলে বাংলাদেশে সঠিক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব।

ডক্টর জোসেফ আরো বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে একটি পর্যবেক্ষন মিশন তৈরী করতে হবে এবং সকল ডিপ্লোম্যাটিক পন্থা ব্যবহার করে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ন্যায্য বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে।

মহানবী (সা:) এর জীবন অনুসরণ করা সকলের দায়িত্ব: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সমতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ যে জীবন যাপন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) করেছেন, তা অনুসরণ করা সকল মানুষের দায়িত্ব। মহানবী জ্ঞান এবং সমবেদনাকে গুরুত্ব দিতেন। তাঁর মধ্যে এক ফোঁটাও অহংবোধ দেখা যায়নি। মানুষের সব ধরনের অহংবোধকে জ্ঞান একাই পরাজিত করতে পারে তিনি এটাই প্রচার করেছেন।

গত রোববার ‘মান কি বাত’ নামের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতি মাসে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠানের। এতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, কিছুদিন পরেই রমজান মাস শুরু হবে। পুরো বিশ্বেই সম্মান আর শ্রদ্ধার সঙ্গে রমজান মাস পালন করা হয়ে থাকে। রোজা পালন হচ্ছে এমন এক সামাজিক ও সমষ্টিগত বিষয় যা একজন ব্যক্তিকে ক্ষুধার্ত থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করে। রোজা রাখলে একজন মানুষ অন্যজনের ক্ষুধার্ত অবস্থা বুঝতে পারে। যখন সে তৃষ্ণার্ত থাকে তখন সে অন্যের তৃষ্ণার্ত অবস্থা অনুধাবন করতে পারে। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন তা স্মরণ করার একটি বড় সুযোগ হলো রোজা।

মহানবী (সা:) এর সমতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ জীবন যাপন অনুসরণ করা সকলের দায়িত্ব একথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবার এক ব্যক্তি মহানবীকে (সা:) প্রশ্ন করেছিলেন- ইসলামের সবচেয়ে উত্তম জিনিস কী? উত্তরে মহানবী বলেন- একজন দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্থকে খাওয়ানো এবং আপনি কাউকে চেনেন বা না চেনেন সবার সঙ্গে আন্তরিক থাকা।

মোদি আরো বলেন, মহানবী (সা:) এর শিক্ষা কারো যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কিছু থাকে তবে তার উচিত অভাবগ্রস্থদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা। তাই রমজান মাসে দান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এই পবিত্র মাসে উদারহস্তে দান করে থাকেন। তিনি (মহানবী (সা:) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন বস্তুগত সম্পদ কখনোই মানুষকে সম্পদশালী করতে পারে না। বরং অভ্যন্তরীণ জ্ঞানই মানুষকে সম্পদশালী করে।

পবিত্র রমজান মাসে সব মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য মহানবী (সা:) এর বার্তা অনুসরণ করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোদি।

চিঠির বিষয়ে ঢাকার কাছে জানতে চেয়েছে ব্রিটেন

ভুলে ভরা হোম অফিসের কথিত চিঠি জনসমক্ষে প্রকাশে অস্বস্তিতে ব্রিটেন। কূটনৈতিক যোগাযোগ সংক্রান্ত গোপন নথি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি  হওয়ায় ব্রিটিশ সরকারের গভীর উদ্বেগ ও বিরক্তি  রয়েছে।

জানা গেছে, বিষয়টি  ব্রিটেনের তরফে  গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ  করা হচ্ছে । এ নিয়ে  ঢাকার সঙ্গে বৃটিশ ফরেন অফিসের অনানুষ্ঠানিক  যোগাযোগও  হয়েছে। তারা বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন। তবে কোন প্রক্রিয়ায় ব্রিটেন ঢাকার কাছে জানতে চেয়েছে এবং সুনির্দিষ্টভাবে কি জানার চেষ্টা করেছে তা জানা যায়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্রিটেনে অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য  কখনও প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ সরকার ।
কারণ তথ্য প্রকাশ না করার ব্রিটেনের সর্বজনীন নীতি রয়েছে।  ব্রিটেন তথা পশ্চিমা দেশগুলো ব্যক্তির তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়ে বেশ সচেতন। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাবিষয়ক ব্রিটিশ আইন এখনো ব্যক্তি তারেক রহমানের যুক্তরাজ্যে ‘লিগ্যাল স্ট্যাটাস’ (আইনি অবস্থান) প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা। কিন্তু পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জের মুখে এক পক্ষ তারেক রহমানের পাসপোর্টের অনুলিপি, তথ্য ও চিঠি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছে। আরেক পক্ষ চিঠি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও স্বীকার করে নিয়েছে যে তারেক রহমান ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন। এ অবস্থায় রাজনৈতিক বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জের মধ্যে দুই পক্ষই ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।  চিঠির ব্যাখ্যা ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরই দিতে পারে। ওই ব্যাখ্যা দেয়ার অর্থ হবে তা স্বীকার বা অস্বীকার করা। দুটির কোনোটিই হয়তো ব্রিটিশ সরকার বা হাই কমিশন করবে না।

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: কী ঘটছে নেপথ্যে?

 

অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট এশিয়া ফোরামে’র প্রকাশিত নিবন্ধটির শিরোণাম, “চায়না এন্ড ইন্ডিয়া’স জিওপলিটিক্যাল টাগ অব ওয়ার ফর বাংলাদেশ”। অর্থাৎ বাংলাদেশ নিয়ে চীন এবং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যুদ্ধ।”

আর নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড পলিসি রিভিউ’ ঠিক এ বিষয়েই ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারসের’ একজন গবেষকের অভিমত ছেপেছে। তাদের লেখাটির শিরোণাম, হোয়াই ইন্ডিয়া এন্ড চায়না আর কম্পিটিং ফর বেটার টাইস উইথ বাংলাদেশ।” অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে কেন ভারত আর চীনের মধ্যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা?

দুটি লেখাতেই বাংলাদেশের সঙ্গে চীন এবং ভারতের সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাংলাদেশর রাজনীতি ও নির্বাচন এবং দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য এই দুই বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্বের বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ রয়েছে।

কার অবস্থান কোথায়?
ভারত এবং চীন, দুটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের রয়েছে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক এবং সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক। তবে এর মধ্যে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্কটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

ইস্ট এশিয়া ফোরামে প্রকাশিত লেখায় ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় দুটি দেশই মূলত বাণিজ্যকেই ব্যবহার করতে চাইছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশই সুবিধেজনক অবস্থানে আছে। দুটি দেশেরই বিপুল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। দুই দেশের বাণিজ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তারা তুলে ধরেছেন তাদের লেখায়।

চীন বাংলাদেশে রফতানি করে প্রায় ১৬ হতে ১৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, অথচ বাংলাদেশে থেকে আমদানি করে মাত্র ৭৫ কোটি ডলারের পণ্য। বাংলাদেশকে তারা বছরে একশো কোটি ডলারের সাহায্য দেয়। তবে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২৪ বিলিয়ন বা দুই হাজার চারশো কোটি ডলারের সাহায্য দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশে রফতানি করে বছরে প্রায় আট বিলিয়ন ডলারের পণ্য। কিন্তু আমদানি করে মাত্র ২৬ কোটি ডলারের। কিন্তু দুদেশের মধ্যে অনেক ‘ইনফরমাল ট্রেড’ বা অবৈধ বাণিজ্য হয়, যা মূলত ভারতের অনুকুলে। এর পরিমাণ কমপক্ষে দুই হতে তিন বিলিয়ন ডলারের সমান হবে বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে যে ভারতীয়রা কাজ করেন তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণও হবে দুই হতে চার বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশকে ভারত যে বৈদেশিক সহায়তা দেয় বছরে তার পরিমাণ পনের কোটি ডলারের মতো।

অবকাঠামো খাতে প্রতিযোগিতা
দুটি দেশই বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সাহায্যের প্রস্তাব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বড় আকারে রেল প্রকল্পে আগ্রহী দুটি দেশই। গভীর সমূদ্র বন্দর স্থাপনেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উভয় দেশের। কিন্তু এসব প্রকল্প খুব বেশি আগাচ্ছে না। ভারত বাংলাদেশের সুন্দরবনের কাছে যে কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েছে সেটি বেশ কিছু বাস্তব এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, অবকাঠামো খাতে চীন-ভারতের এই প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশ খুব একটা লাভবান হয়নি। অন্যদিকে বাংলাদেশের ম্যানুফাকচারিং এবং জ্বালানি খাতে চীন বা ভারত, কেউই বড় কোন বিনিয়োগে যায়নি। যদিও তারা এধরণের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

চীন বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের সামরিক খাতে বড় সরবরাহকারী। ভারত এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল, এখন তারা দ্রুত চীনকে ধরতে চাইছে। কিন্তু ভারতের সামরিক সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে বাংলাদেশের।

চীনের তুলনায় ভারত যেদিকে এগিয়ে আছে, তা হলো বাংলাদেশের ওপর তাদের সাংস্কৃতিক প্রভাব। ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, এই প্রভাব খুবই ব্যাপক। দুই দেশের রয়েছে অভিন্ন ভাষা (বাংলা) এবং সংস্কৃতি, এবং এর একটি বড় কেন্দ্র এখনো কলকাতা। বাংলাদেশের অন্তত এক লাখ ছাত্র-ছাত্রী ভারতের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এর বিপরীতে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাব নগণ্য। ঢাকায় চীন একটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে চীনা ভাষা শেখানো হয়।

বাংলাদেশ যেভাবে খেলছে
দুই বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে বাংলাদেশ কিভাবে তার সুবিধা নিচ্ছে?
ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ কোন নিস্ক্রিয় ‘ভিক্টিম’ নয়, বরং নিজের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এটি আরও উস্কে দিচ্ছে। তারা বলছেন, বাংলাদেশে এ নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে যে দুটি দেশই আসলে বাংলাদেশকে যা দেয়, তার উল্টো অনেক বেশি নিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের অবকাঠামো এবং ম্যানুফ্যাকচারিং প্রকল্পগুলি খুব নিম্নমানের (জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায়)।

রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে চীন এবং ভারত আসলে কেবল ‘সুদিনের বন্ধু। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে যে কোন পদক্ষেপ চীন আটকে দিচ্ছে। এটাকে বাংলাদেশ বন্ধুত্বসুলভ কোন কাজ বলে মনে করে না। অন্যদিকে ভারতের অবস্থাও ভালো নয়। তারাও এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে মদত দিয়ে যাচ্ছে।

ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক তাদের উপসংহারে বলছেন, চীন আর ভারত সর্বোতভাবে চেষ্টা করবে বাংলাদেশের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় কে কার আগে থাকতে পারে। কিন্তু তাদের উভয়েই ব্যর্থ হবে, কারণ বাংলাদেশও এখন এ নিয়ে এক দেশকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে খেলানোর মাধ্যমে এখান থেকে তাদের প্রাপ্য আদায়ের চেষ্টা করবে।

তাহলে বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্বের ফল ভবিষ্যতে কী দাঁড়াবে?
তারা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে দুই দেশের বাণিজ্য নীতি। দুটি দেশের কোনটিই বাংলাদেশকে রফতানির ক্ষেত্রে কোন ছাড় এখনো পর্যন্ত দিচ্ছে না। দুটি দেশই বাংলাদেশে রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ এর সুযোগ দিচ্ছে, যেটি কীনা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম-নীতির লঙ্ঘন। যত অর্থ তারা বাংলাদেশকে ঋণ দেয়, তার চেয়ে আরও অনেক বেশি অর্থ তারা নিয়ে নেয় এভাবে।

কিন্তু এক্ষেত্রে চীন আছে সুবিধেজনক অবস্থানে। তাদের অর্থনীতি ভারতের তুলনায় অনেক বড়। বাণিজ্যেও তারা এগিয়ে। কাজেই বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের জন্য চীন যদি কোনদিন তাদের বাজার খুলে দেয়, এই চীন-ভারত দ্বন্দ্বে সুস্পষ্টভাবেই চীন জয়ী হবে, বাংলাদেশ ঝুঁকে পড়বে তাদের দিকেই।

‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাই শেষ কথা নয়’
যুক্তরাষ্ট্রের উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারসে’র মাইকেল কুগেলম্যান অবশ্য বিষয়টিকে দেখেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশকে নিয়ে চীন এবং ভারতের এরকম প্রতিযোগিতার কোন প্রয়োজনই নেই। দুটি দেশই আসলে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে।

এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদাহারণ টেনেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের ঘনিষ্ঠতা বহু বছর ধরেই বাড়ছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা হয়নি।

তিনি আশা করছেন, দিল্লির এক সময় এই বাস্তবতা মেনে নেবে যে, ঢাকা অবশ্যই চীনের পুঁজি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চাইবে। তবে এক্ষেত্রে ভারত শুধু চীনের কাছ থেকে একটা নিশ্চয়তা চাইতে পারে—এই সহযোগিতা যেন কেবল অর্থনৈতিক খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তারা যেন বঙ্গোপসাগরে কোন ধরণের নৌ স্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর না হয়। কিন্তু ভারতকে এরকম কোন নিশ্চয়তা চীন কি দেবে? সেটার কোন ইঙ্গিত কিন্তু এখনো নেই।

/শীর্ষনিউজ

 

হায় অমিত বাবু! এত সেজেগুজে তারা গেলো, কিন্তু একি ব্যবহার করলেন আপনি?

হায় অমিত শাহ! এটা কেমন কথা হলো? আপনি না হয় বড় দলের সভাপতি, তাই বলে এ কেমন ভদ্রতা জ্ঞান? নাহয় ছোটদলের অনুগত সাধারন সম্পাদক, সামনে নির্বাচন রেখে দয়া মাঙতে গেছে, তাই বলে দলীয় দাওয়াত করে নেয়ার পরে রাজধানীতে থেকেও আপনি দেখা দিলেন না, এমনকি তাদের ডিনারেও আসলেন না! এটা কেমন কথা? না হয় অপ্রয়োজনীয় অযাচিত সংখ্যক অতিথি, তাই বলে একটু দেখা দিলে তো মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেতো না! এরা ক্ষমতায় আসবে কি আসবে না, আপনাদের কতটুকু দয়াদাক্ষিণ্য চায়, সে প্রশ্ন পরে- কিন্তু বাড়িতে যখন পৌছেই গেছে মেহমান, একটু সৌজন্যতা আশা করেছিল! আপনারা পারেনও মাইরি- একইভাবে কয়েকবছর আগে আপনাদের প্রতিপক্ষ তখনকার ক্ষমতাসীন দল দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গেলো এদেশের বিরোধী দলের নেত্রীকে, তখনও দলীয় প্রধান রাজধানীতে থেকেও সাক্ষাৎ করেননি! একটু সমান সমান হয়ে গেলো না? এটাই কি আপনাদের কালচার? তবে আবার কোনো লীগকে খুমি করতে বলেন, তুমহারা সাথ জনম জনম কা রিশতা!

দাওয়াত করে নেয়ার পরে বাড়ির মূল কর্তা যদি মেহমানদের সাথে দেখা না করে, তখন কি যে বিব্রতকর দশা হয়, তেমনই  এক অবস্থার মধ্য দিয়ে ওবায়দুল কাদেরকে দিল্লি মিশন শেষ করতে হলো। ১৯ সদস্যের দলবল নিয়ে তিনি যখন দিল্লির পথে ক্যাটওয়াক করলেন, শো শা দেখেই নিজ দেশেই অনলাইন জুড়ে শুরু হয় কোপাকুপি। প্রায় বেশির ভাগ মন্তব্যেই পায়ে পড়ার যাওয়ার মিশন হিসাবেই চিত্রিত করেছে।

ভারতীয় জনতা পার্টি, সংক্ষিপ্ত যার নাম বিজেপি-র ৮ জন সাধারন সম্পাদকের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের রাম মাধব হলেন কনিষ্ঠতম এক সাধারন সম্পাদক। গতবছর এই রামমাধব বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ফেরত যাওয়ার সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সেক্রেটারিকে দাওয়াত করে যান। কিন্তু সেই বাত-কি-বাত দাওয়াতকে এত বিশাল সফর বানিয়ে ১৯ জনের এক পেঙুয়িন টিম নিয়ে হাজির হওয়াকে খুব ভালো চোখে দেখেনি, তার আলামত বোঝা গেলো যখন দলীয় দাওয়াত, অথচ দলের সভাপতিই সাক্ষাৎ দিলেন না। তবে যারা ওখানে গেছেন, তাদেরও বোঝা উচিত ছিলো, যে দাওয়াত করেছে তার ক্ষমতা কতটুকু, ৮ জন সাধারন সম্পাদকের একজন হয়ে দলীয় সভাপতির সাথে ঐ রামমাধবকেই এপয়েন্টমেন্ট পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয়, সেখানে তারই দাওয়াতে যাওয়ার ফল কি হতে পারে! এদেশের ভাটিতে অবশ্য শ্বশুরবাড়িতে বার বার গিয়ে উৎপাত সৃষ্টিকারী জামাইদের জন্য কিছুটা বিরূপ ব্যবহারের জন্য তৈরী থাকতে হয়!

মাধব বাবু ছাড়াও দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রি স্বনামখ্যাত সাংবাদিক এম জে আকবর প্রায়ই বাংলাদেশে আসার সুবাদে তিনিও ঐ দলীয় নিমন্ত্রণের কো-হোস্ট ছিলেন শোনা যায়। কিন্তু মাধব-আকবর দু’জন মিলেও অমিত শাহের মন গলাতে পারেননি- এটা লীগের জন্য হতাশার বটে! অবশেষে খানিকটা মুখ  রক্ষা হয়েছে মোদি বাবুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ফটো সেশন দিয়ে। এতে আনন্দের আতিশয্যে দলনেতা কাদের সাহেব প্রথমেই বার্তা পাঠান- ‘ফের আশ্বাস মিল গেয়্যা!’ যদিও পরে স্বদেশে ফিরেই বিপদ অনুধাবন করে ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলেন- ওরা অতীতে আমাদের নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, ভবিষ্যাতেও করবেও না! শেষে ঠেলায় পড়ে বলতে হয়- আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো কথাই হয়নি! এসব বাকচাতুর্য কি ব্যাপক গণসমালোচনাকে স্থিমিত করার কৌশল কি না, সেটা বোঝা যাবে আরও পরে। অবশ্য এটা ঠিক যে, ঢাকার বর্তমান শাসক পার্টির সাথে নীতিগত কোনো আলোচনার জন্য উপযুক্ত কোনো পর্ষদ ছিলো না ঐ উনিশ শাবক নেতা। প্রতিনিধিদলের মাথা সেতু মন্ত্রীর নানা লাগামহীন বক্তব্যের ওপরে আস্থাহীনতা, অতীতে সেনা জিজ্ঞাসাবাদে দলীয়নেত্রীর নাড়িভুড়ি নামানোর গল্প, এমনকি তার ব্যক্তিগত রংমহল নিয়ে সরস আলোচনা না করলে কি আপনাদের চলতোনা বিজেপি নেতাদের? শত হলেও অতিথি বলে কথা- তাদের আবার মান ইজ্জত বলতে একটা বিষয় আছে না!

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের বালখিল্যতার জেরে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সংকটের আশংকা!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা করা সংক্রান্তে ভুলে ভরা বৃটিশ হোম অফিসের কথিত চিঠি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। ঢাকা, লন্ডনসহ সর্বত্রই এখন  আলোচনায় হোম অফিসের চিঠি! চিঠিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বদলে ‘বাংলাদেশি অ্যাম্বাসি, ৪টি পাসপোর্টকে ‘অ্যা পাসপোর্ট’ বলে উল্লেখ করা ইত্যাদি মোটা দাগে অন্তত অর্ধডজন ভুল রয়েছে।

ভুলের বিষয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরাও হতবাক। তারা এটাকে ‘আনইউজুয়্যাল’ বলছেন। তবে এ নিয়ে তারা সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে চাইছেন না। অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়েও আগাগোড়ায় সতর্ক বাংলাদেশি কূটনীতিকরা। চিঠির উৎস বা সত্যতা নিয়ে তারা মুখ না খুললেও এটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং বিতর্ক তৈরি করেছে তা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল বলে দাবি করেন দায়িত্বশীল এক  কূটনীতিক।

তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তারাই জবাব দেবেন। সেখানে হাই কমিশনের কিছুই বলার নেই। তবে যে চিঠিকে প্রতিমন্ত্রী সামনে এনেছেন তা পৌনে চার বছরের পুরনো। তাছাড়া চিঠি ও পাসপোর্ট সংরক্ষণের বিষয়টি একান্তই গোপনীয়। তা এভাবে প্রকাশ করা কতটা সমীচীন হয়েছে তা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে বলেও মনে করেন তিনি। চিঠির ভুলগুলোর বিষয়ে ওই কূটনীতিকের দাবি ‘কুড়িয়ে পাওয়া বা স্বেচ্ছায় হোম অফিসে জমা করা বাংলাদেশি পাসপোর্টগুলো হাই কমিশনে পাঠাতে বৃটিশ সরকার এমন গৎবাঁধা ফরমেটে চিঠি দিয়ে থাকে। তবে অতীতে পাওয়া কোনো চিঠিতে এত ভুল দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

শুধু লন্ডনে থাকা ওই কূটনীতিকই নন, সেগুনবাগিচার একাধিক কর্মকর্তাকে গতকাল এ নিয়ে আলোচনা-উদ্বেগ ও হাস্যরস করতে দেখা গেছে। তাদের মতে, স্পর্শকাতর ইস্যুটি জনসমক্ষে প্রকাশের ঘটনা বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বৃটেন ঐতিহ্যগতভাবে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেগুনবাগিচা এবং লন্ডন মিশনের তরফে বহুবার তারেক রহমানের বৃটেনে অবস্থান ও বসবাসের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনই বৃটিশ সরকার বা ঢাকায় থাকা দেশটির কূটনীতিকরা বাংলাদেশের কাছে কোনো তথ্য বিনিময় করেনি।

কারও ব্যক্তিগত তথ্য বিনিময় না করার বিষয়ে বৃটেনের সর্বজনীন যে নীতি রয়েছে সেটি তুলে ধরে তারেক রহমানের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বরাবরই অপারগতা দেখিয়েছেন তারা। গণমাধ্যমের তরফেও গত ৯ বছরে বহুবার এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা ছিল। বৃটেনের তরফে প্রায় অভিন্ন জবাবই দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিশেষ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে এনেছেন তা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবেই দেখছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিসের খবর চাউর হওয়ার প্রেক্ষিতে গত সোমবার বিকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি যখন তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন মানবজমিনের তরফে পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কেউই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়া এমনকি কথা বলতেও রাজি হননি। তারা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত শোনার পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য ততক্ষণে তার লন্ডনে দেয়ার বক্তব্যের স্বপক্ষে হোম অফিসের ওই চিঠি এবং তারেক রহমানের পুরনো পাসপোর্টের কয়েকটি পাতা প্রমাণ হিসাবে প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনের আগেই এটি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী চিঠির উৎস নিয়ে যা বলেছেন তার মোদ্দাকথা হলো- বিএনপির তরফে তার বক্তব্য অসত্য বলার পর তিনি প্রমাণ হাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। ঢাকায় ফেরার পরপরই তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে হোয়াটসআপ বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোম অফিসের ওই চিঠি এবং তারেক রহমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের পাতাগুলোর ছবি সংগ্রহ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী সংগ্রহ করা সেই পাসপোর্টের অনেক পাতার ছবি শেয়ার করেছেন। যাতে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ, এমনকি তার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত পাতাও প্রতিমন্ত্রী শেয়ার করেছেন। কিন্তু তারেক রহমানের লন্ডন যাওয়ার সেই ভিসার পাতা শেয়ার করেননি। কনস্যুলার নিয়ে কাজ করা এক কূটনীতিক বলেন, তারেক রহমানের ওই পাসপোর্টেই সেই সময়কার ভিসা থাকার কথা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের বৃটেনে বসবাসের স্ট্যাটাস বিষয়ে সরকারের কাছে কি তথ্য রয়েছে তা জানার চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিকরা। প্রতিমন্ত্রী তা জানাতে চাননি বা পারেননি। তিনি সেই সময় তারেক রহমানের কাছেই তার স্ট্যাটাস বিষয়ে জানতে পরামর্শ দেন। অন্তত দু’বার তিনি তারেক রহমানের কাছে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা বলেন। তারেক রহমানের কথা, বক্তব্য, বিবৃতি বা সাক্ষাৎকার প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি জানার পরও সাংবাদিকদের তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়ার তাগিদ দেন। এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ওই চিঠি এবং পাসপোর্টের ছবিগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। এটি তিনি নিজে সরিয়ে নিয়েছেন নাকি হ্যাক করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। ফেসবুক ওয়ালে থাকা তার অন্য তথ্যগুলো ঠিকঠাক আছে কি-না? সেটিও স্পষ্ট নয়। অবশ্য প্রতিমন্ত্রী গতকাল এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘আমার ফেসবুকের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে সারা রাত। হ্যাকিং। পোস্ট উধাও। বুঝতেই পারছেন এই বিনিয়োগ কারা করেছে।’

সমর্থন আদায় করতে দলবেঁধে ভারতে গেলো অা’লীগের নেতারা!

সামনে নির্বাচন, তাই ভারতের সমর্থন দরকার। যদিও বলা হচ্ছে,ক্ষমতাসীন বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে ভারত গেছে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যেরে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

« Older Entries