Category Archives: আন্তর্জাতিক

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে সেনা শাসন, শেখ হাসিনা যাবে জেলে: নেপালের পত্রিকার খবর

আগামী অক্টোবরের মধ্যভাগ থেকে শেষ দিকে বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর জন্য সেনাবাহিনী তৈরি হয়েছে, এমন খবর দিয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু ট্রিবিউন। বাংলাদেশে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারন নির্বাচনে বরতমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আর সে কারনেই সেনা শাসন দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীরা বিদায় হতে চাইছে।বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘সাউথ এশিয়া মনিটরে’ বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এক মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। পিনাক রঞ্জন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাবেক সচিব এবং দিল্লী ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন অন্যতম ফেলো। তার লিখিত আর্টিকেলের নাম ‘শ্যাডো অব ইন্ডিয়া হাসিনা গভর্নমেন্টস করাপশন, রিপ্রেশন অব বিএনপি লুমস ওভার-বাংলাদেশ পোলস’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভারতীয় ছায়া হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, বিএনপির উপর নির্যাতন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর দোদুল্যম্যান’।

এই আর্টিকেলের শুরুতে পিনাক রঞ্জন বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচনী মুডে যাবে। আর তা যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের হাওয়া শুরু হতে আরও কয়েক মাস। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পিনাকেরও রয়েছে। পিনাক রঞ্জনের এই আর্টিকেলের নিরিখে কাঠমুন্ডু ট্রিবিউনে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বেনজামিন মেন্ডেজ লিখিত আর্টিকেল, যারশিরোনাম ‘বাংলাদেশ হেডিং টুয়ার্ডস মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ’ অর্থাৎ বাংলাদেশ সামরিক এক নায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পিনাক তার আর্টিকেলে লিখেছেন, ‘‘হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ, বিরোধীদের তাড়া করা, এবং অবাধ দুর্নীতি। এই বিষয়াবলী এবং ভারতীয় ফ্যাক্টর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব থাকবে। ক্রমাগত রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি করা জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব যেমন সৃষ্টি করেছে তেমনি এমন অনুভূতি জাগিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার অবিরামভাবে গণতান্ত্রিক বিধি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করছে। ফলে মানুষের মনে এই ধারণা জন্ম নিচ্ছে যে, যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আওয়ামী লীগ বিব্রতকর সংখ্যালঘু দলে পরিণত হবে। অনেক সমালোচক বিশ্বাস করেন যে, হাসিনা সরকার নির্বাচন ম্যানেজ ন (নির্বাচন কারচুপি) করবে। পিনাক লিখেছেন ‘সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, প্রত্যেক জাতীয় প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের আপোষকামিতা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় সমর্থক দ্বারা ভরে দেয়া হয়েছে। আর জাতীয়ভাবে ড্রাগ বিরোধী যে তৎপরতা তাকে ‘গুলি করে হত্যার’  নীতিতে পরিণত করে অনেক নিরাপরাধীদের হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার, সংগঠনগুলো যে অভিযোগ করেছে,  সুপ্রিমকোর্টের সাবেক চিফ জাস্টিস সরকারের গ্রেস থেকে বাদ পড়েছেন এবং তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে বিদেশে আশ্রয় চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও তারা এখন ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত, কারণ আওয়ামী নেতারা হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করেছেন। আর গ্রাসকারীদের শায়েস্তার ব্যবস্থা থেকে রেহাই দিয়েছে। আওয়ামী নেতারা ভাবেন যে,  আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা ছাড়া ভারতের উপায় নেই। আর  তাই ভারত হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করবে না।

আরেক আর্টিকেলে সাউথ এশিয়া মনিটরে চন্দন নন্দী ২০০৭ সালের পুনরাবৃত্তির কথা বলেছেন। চন্দন নন্দীর আর্টিকেলের শিরোনাম,  ‘হাসিনা হার্ডেনস স্ট্যান্ড, বাংলাদেশ মে হেড ফর রিপিট অব ২০০৭, বাট উইল বিএনপি প্লে বল?’ অর্থাৎ ‘হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু বিএনপি কি সেভাবে বল খেলতে পারবে?’

পংকজ আরও লিখেন,  আজ আওয়ামী লীগ কঠোরভাবে কোন গ্রাউন্ড সৃষ্টি করতে নারাজ। এমন কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির অবস্থায় পুনবিন্যস্ত করতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজীব করতে এবং নির্বাচনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতে যারপর নাই নারাজ। কিন্তু তার ব্যবস্থা করা আজ সময়ের দাবি। অন্তত আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া অনিবার্যকালের জন্য? এই ধরনের স্ট্যান্ড কি সেনাবাহিনীকে বাধ্য করতে কিংবা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যা তারা ২০০৭ সালে করেছিল? অবশ্য সেখানে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবেচনাধীন ব্যবস্থা রয়েছে- তা হলো নয়াদিল্লী, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ‘পথ ও মত’ নিয়ে কী ভাবছে, যা নির্বাচন স্থগিত করার জন্য যথেষ্ট প্রয়োজন। যাতে স্বাভাবিক ব্যবস্থা বলবৎ হয়। আর তা সহিংসতা,  বল প্রয়োগ ও অব্যবস্থাপণা থেকে মুক্ত একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।

সাউথ এশিয়ান মনিটরের সাথে কথা বলতে নিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার ও বিদেশ সচিব দেব মুখার্জি স্বীকার করেন যে,  শেখ হাসিনার সরকার অনেক ভুল করেছে, আর ঢাকার রাস্তার আন্দোলন নিয়ে বলপ্রয়োগ এ বিষয়কে আরও বড় করেছে। এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমকে অহেতুক গ্রেফতার করে রেখেছে। সেসব বড় ভুল এবং বেকুবের মত কাজ। কিন্তু বেঞ্জামিন মেন্ডেজের মতে দেব মুখার্জি আস্থা জ্ঞাপন করেন যে,  আওয়ামী লীগ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ জানে যে,  তারা তা না করলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারা অপবাদের সম্মুখীন হবে। দেব মুখার্জি যখন বলেন নির্বাচন হবে-তবে সে নির্বাচন কখন হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। এটা বলা কঠিন অথবা অগ্রিম ধারণা করা কঠিন ,যে অরাজনৈতিক সেনাবাহিনী কি ভূমিকা নেয় আগামী সপ্তাহ বা মাসগুলোতে।

ঢাকায় পিকচার নামে একটি সংগঠন (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) থেকে বলা হয় আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে না, বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেবে, তা আগামী অক্টোবর মাসে পরিষ্কার হবে। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে বলা হয়,  বিএনপি এর মধ্যে আন্দোলন শুরু করতে পারে। যদিও বিএনপি জানে যে,  আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করার শক্তি তাদের নেই। তারপরও তারা আন্দোলন করবে। আর সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পথ করে নিতে হবে।

বেঞ্জামিন মেন্ডেজ তার আর্টিকেলে এক সাবেক জেনারেলের নামোল্লেখ না করে লিখেন, ‘নিজের নাম গোপন রাখতে ইচ্ছুক ডেমস্টিক রাজনীতি নিয়ে এক পর্যবেক্ষক সাবেক জেনারেল বলেন যে, আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তাহীন অবস্থার নিরিখে দু’টি পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত: কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে আসন্ন ইলেক্টরেল বা নির্বাচনী পরাজয় এড়িয়ে নিজেদের জন্য একটি এক্সিট রুট খুঁজে নেয়া। আর দ্বিতীয়ত: নির্বাচন স্থগিত করা। ‘ধরুন দু বছরের জন্য’ এবং জাতীয় ঐক্যের সরকারের জন্য শর্তাবলী সৃষ্টি করা। জেনারেল বলেন এই ব্যবস্থা আওয়ামী লীগকে সাময়িক কালের জন্য নিজেদের ড্রাই ক্লিনের সুযোগ করে দেবে যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে তারা আবার নির্বাচনে আসতে পারে।

এই দুটি আর্টিকেল নিয়ে বেঞ্জামিন মেন্ডেজ বলেন, অধিকাংশ পাঠক এবং আমার পক্ষে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতির ভবিষ্যত কি হতে পারে, তা সমীক্ষা করা সহজ। বেঞ্জামিনের মতে শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে কোর্টকে ডিল করতে পারেন, যেখানে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে মৃত্যুদন্ড দিতে প্ররোচিত করতে পারেন। এর সাথে যোগ করবে বিএনপির আরো কতিপয় নেতাকে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার রায় হতে পারে। আর তাতে বিএনপি কর্মীরা রাজপথ উত্তপ্ত করবে। তখন আওয়ামীপন্থী সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পক্ষে সেমি মার্শাল ল জারি করার সুযোগ হবে।
বেঞ্জামিন লিখেন,  জিজেঞস করা হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন : আমরা দায়িত্ব পুরোপুরি তৈরি (শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের এক লোক দেখানো গেম খেলে) অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে। ক্ষমতাসীন দল জানে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে কি ফল দাঁড়াবে। অনেক সমীক্ষাতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দল ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টিরও বেশি পাবে না। অর্থাৎ বিরোধী বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য সত্যিকার বিপর্যয়। শেখ হাসিনা কখনই তা হতে দেবেন না। এখানে এটা উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ভোটবিহীন নির্বাচনে ভালই জিতে ছিলেন। কারণ বিএনপি বা বয়কট করেছিল। আমেরিকাসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। শুধুমাত্র ভারত,  জাপান,  চীন ও রাশিয়া এ নির্বাচনের পক্ষে ছিল। তার কারণ তারাই জানে। বেঞ্জামিন লিখেন, বিশ্বের বৃহত্তর ডেমোক্রেটিক দেশ হয়ে ভারত সে সময় ফাউল গেম খেলেছে নির্বাচন নিয়ে। তখন ভারতীয় সরকার বাংলাদেশকে নগ্ন সমর্থনই দেননি, বরং ফরেন সেক্রেটারি সুজাতা সিংকে ঢাকা ও ওয়াশিংটন পাঠান, যাতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা যায়। এই নির্বাচন একদিকে শেখ হাসিনার আস্থা বৃদ্ধি করে, আর তাকে আরো একগুয়ে হবার সাহস যোগায়। আর তাকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি অসহিষ্ণু করে তোলে। হাসিনা ও তার দল তখন খোলাখুলি আমেরিকাকে হাস্যকর ভাবতে ছাড়েনি। আর ইরানের সাথে গড়ে তোলে গভীর সম্পর্ক। বেঞ্জামিন লিখেন, বর্তমান বাংলাদেশের সরকার শুধু অটোক্রেটিক গ্রুপ। এটা পশ্চিমা বিরোধী এবং এন্টি সেমেটিক বা ইহুদী বিরোধী সরকার।

বেঞ্জামিন তার আর্টিকেলের শেষ ভাগে লিখেন, যে কোন ক্যালকুলেশন শেখ হাসিনা কিংবা তার বশংবদ সেনাবাহিনীর থাকুক না কেন, সর্বশেষ বাস্তবতা হচ্ছে অন্য কিছু। অক্টোবর মাস ঘনিয়ে আসছে সম্ভবত এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, যেখানে হাজার হাজার রাজনীতিক নিহত হবেন। ….শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে বন্দী করা হবে। হাসিনা সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ পাবে। আর সে সময় তিনি তার ছেলে ও মেয়েকে তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমদ সিদ্দিকীর কাছে রেখে অসংখ্য ক্রিমিনাল চার্জ মোকাবিলার পথ করে দেবে। যদিও এটা বেশ পরিষ্কার যে জেনারেল সিদ্দিক এক সামরিক অভ্যুত্থানের মহড়ার পরিকল্পনা করছে।তবে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভিন্ন ধাঁচের সারপ্রাইজ। কারণ মধ্যর‌্যাঙ্কের অফিসাররা শেখ হাসিনা ও তার তল্পিবাহকদের প্রতি ইতোমধ্যেই বিরূপ হয়ে পড়েছে। বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে এক সামরিক শাসনের দিকে যাচ্ছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। আর তা না হলে নভেম্বর থেকে অবশ্যই যাবে। অধিকাংশ শাসক শ্রেণীর এলিটরা নিজেদেরকে অনেক ক্রিমিনাল চার্জে অভিযুক্ত হয়ে জেলের ভেতরে দেখতে পাবে।
এই নিবন্ধে যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরো অনেক সংবেদনশীল বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। তথাপি বিষয়টাকে সহজ করে দেখার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়ার জন্য এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে। এ নিবন্ধে সরকার বিরোধীদের জন্যও হুঁশিয়ারী রয়েছে। যদি সামরিক শাসনের মহড়া হয় এবং তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিএনপি বা বিরোধীদের অবস্থা কী রকম দাঁড়াচ্ছে তাও ভাববার বিষয়। আর সরকারের মধ্যে এখন মার্চ মাসে নির্বাচন নিয়ে যাওয়ার মতও যে অবস্থা রয়েছে আমরা আগেই তা রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে ভারতে পিনাক রঞ্জনের পর নেপালের বেঞ্জামিন মেন্ডেজের লেখা পড়ে ধারণা হচ্ছে যে, ভারতের পত্রিকায় যা বলা যায়নি তা তারা নেপালের উপর ভর করে প্রকাশ করেছে। আর নেপালের বক্তব্যের পুরো জের টানা হয়েছে পিনাক রঞ্জন ও দেব মুখার্জির বক্তব্য থেকে। দু’জনেই যে ভারতের ‘র’ এর মুখপাত্র তাতে কোন সন্দেহ নেই। আবার দুজনেই ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার। তারপরই দুজনের পদ ছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের সচিব হিসেবে। দুজনেই এখন গবেষণা করেন।

Source:
Weekly Thikana, NY
Kathamndu Tribune

অস্ট্রেলিয়ান সংসদে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

গত ১৩ আগস্ট ২০১৮ তারিখ সোমবার অস্ট্রেলিয়ান সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রসঙ্গে সংসদীয় অধিবেশনের নিয়মিত আলোচনা চলাকালে সিনেটর রিচার্ড ডি নাটালির একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের পেক্ষাপটে এ আলোচনা উঠে আসে। এ আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ সরকারী জেল-জুলুমের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়।

সিনেটর ডি নাটালি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গত কয়েক মাসে একশরও বেশি মানুষ হত্যা করার বিভিন্ন খবর এবং প্রতিবেদন প্রসঙ্গে গ্রীনস অত্যন্ত শঙ্কিত। অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশী কমিউনিটির লোকজন তাদের ভীতির বিষয়টি সরাসরি আমাদের কাছে তুলে ধরেছে। তারা চায় যেন আমরা এ বিষয়টি আমাদের সংসদে উত্থাপন করি। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের আহবানটি আমরা এখানে পুনরায় তুলে ধরছি যেখানে তিনি বলেছেন বিচারবহির্ভূত হত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এখনই বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে, আমি আশা করবো আমাদের সরকার কিছুটা সাহস দেখাবে, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে, রাজনৈতিক বন্দীদের দ্রুত মুক্তির জন্য আহবান জানাবে এবং এই অঞ্চলে চলমান মানবিক সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করবে।”

এ প্রস্তাবে তার সাথে সমর্থনকারী হিসেবে এনএসডব্লিউ’র সিনেটর লী রিয়াননের নামও অন্তর্ভূক্ত ছিলো। এমতাবস্থায় লিবারেল নেতা এবং কুইনসল্যান্ডের সিনেটর জেমস ম্যাকগ্রাথ এ নিন্দা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার বিরোধিতা করেন সিনেটর ম্যাকগ্রাথ সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, বিগত সময়ের অস্ট্রেলিয়ান সরকারসমুহ যে ধরণের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রেখে আসছে তার আলোকে এই ধরণের জটিল একটি বৈদেশিক নীতিসংক্রান্ত বিষয়ে ভোট প্রদান করা কিংবা মত প্রকাশ করা এখনই উচিত হবে না। তার আগে বিস্তারিত ও পুংখানুপুংখ আলোচনা এবং তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব এবং যথার্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ান সংসদের ওয়েবসাইটে আর্কাইভ নথিভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, এদিনের ৯২৭ নাম্বার সিরিয়ালের এ প্রস্তাবে বাংলাদেশে সরকারী বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষ হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের বক্তব্য, সরকারী বাহিনীর হাতে হয়রানি এবং উগ্রপন্থীদের উত্থান বিষয়ক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্য এ তিনটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবী জানানো হয়- যেন তিনি বাংলাদেশ সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে একটি সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে উৎসাহিত করেন, চলমান মানবাধিকার সংকট সমাধানে সহায়তা করেন এবং সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে আহবান জানান।

অস্ট্রেলিয়ান সংসদীয় প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক কার্যপ্রণালী অনুযায়ী এ প্রস্তাবের আলোচনা এদিনের জন্য এখানেই সমাপ্ত হলেও এটি একটি গুরুত্ববহ ঘটনা এবং এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল রয়েছে। পার্লামেন্ট অফ অস্ট্রেলিয়ার সরকারী ওয়েবসাইটে এ বিষয়টি নথিভুক্ত হয়ে আছে এবং পরবর্তী যে কোন আলোচনায় এটি একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। এ ঘটনায় আরো পরিস্কার হয়ে পড়ে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-নিপীড়নের বিষয়গুলো ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে এবং তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্য চালানো সকল অপকর্মের কারণে বাংলাদেশ বহিঃবিশ্বে এখন একটি মানবাধিকারহীন ও অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দেশ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গুম-খুন এবং অন্যায় গ্রেফতারের ঘটনাগুলো বর্তমানে পুরো বিশ্বে সুবিদিত একটি বিষয়।

সিনেটর ডি নাটালি তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের যে রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন তার খোঁজ করতে গিয়ে ওএইচসিএইচআর বা অফিস অফ দ্য হাই কমিশনার, ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় সেখানে সরাসরি ভাষায় উল্লেখিত আছে, হিউম্যান রাইটস কমিটি বাংলাদেশে পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উচ্চহার এবং গুম করার খবর নিয়ে শংকিত। তারা মনে করে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও তাদের মতে, যথাযথ তদন্ত না হওয়াতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহীতা না থাকাতে ভিকটিম পরিবারগুলো কোন তথ্য এবং সহায়তা পাচ্ছে না। উপরন্তু গুমের ঘটনাগুলোর কার্যকর সমাধানে কোন উপযুক্ত আইন নেই এবং গুমের ঘটনাগুলো সরকার অস্বীকার করে যাচ্ছে যা একটি আশংকার বিষয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের এ রিপোর্ট সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখা যায় আলজাযিরা সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এহেন নেতিবাচক আলোচনা কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বরং আমেরিকা সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা দেশেই আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রিয় মাতৃভূমি সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সরকারী পর্যায়ে এধরণের নেতিবাচক আলোচনা যে কোন প্রবাসীকেই ব্যাথিত করছে। উপরন্তু অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে যখন স্বাধীন মতপ্রকাশের সকল উপায় রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে এমন নিবর্তনমূলক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য এবং দেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তারা অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর ডি নাটালির এ সাহসী এবং মানবদরদী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং সমর্থন জ্ঞাপন করছেন।

/সুপ্রভাত সিডনি

হঠাৎ ১০ পশ্চিমা দূত পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে: রাজনীতি, বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা নিয়ে সচিবের সাথে বৈঠক!

Hasina Has Wronged Both Bangladesh And India

Sirf News Editorial Board

Given Hasina’s domestic failures, scant regard for the lives and freedom of minorities and atheists in her country as well as treachery with India by hobnobbing with China, the Modi government must chalk out a plan to gradually distance itself from the party that has been ruling Bangladesh for the past 10 years

This, because the Hasina rule is not only witnessing tumultuous days owing to road accidents but is also being seen as a thoroughly corrupt dispensation where kickbacks in defence deals have gone up to 30% and the country ranks 143 out of 174 nations in honesty and probity in the conduct of people’s representatives. What should particularly concern India is the fact that Hasina increasingly deals with China for questionable projects that Beijing secures by bribing Bangladesh’s power brokers — to New Delhi’s utter chagrin — helping our northern neighbour consolidate the ‘string of pearls’ it casts around the subcontinent to corner India. Given Hasina’s domestic failures, scant regard for the lives and freedom of minorities and atheists in her country as well as treachery with India by hobnobbing with China, the Modi government must chalk out a plan to gradually distance itself from the party that has been ruling Bangladesh for the past 10 years. As Khaleda is incarcerated, the Bangladesh National Party is rendered weak and Hussain Muhammad Ershad’s Jatiya Party is discredited as a prop of AL — and because the rationalists in that country are asserting their presence — India need not remain stuck with the facile reckoning that Hasina alone ensures better bilateral ties. As such, the next, logical step to our National Register of Citizens would be deportation of infiltrators, and Hasina has given no hint it is in the mood to accept its malcontents back. Diplomacy dictates that India be seen by Bangladeshis not as a puppeteer making Dhaka dance to its tunes. From that position where distance and interest is balanced, the BJP-led NDA must ensure that the next government of Bangladesh makes our NRC a worthwhile exercise.

ইমরান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের জন্য ৮ বিপদ!!!

পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা: নেপথ্যে সেই পাক সেনাবাহিনী!

 

আর তিনদিন পরে পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশটিতে চলছে নানা হিসেব-নিকেষ। রাজপথ যেমন হয়ে উঠছে সহিংস, তেমনি রাজনীতির মাঠেও চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা। সেনাবাহিনী যেমন হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ধর্মও।

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনকে বলা হচ্ছে সেদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দূষিত নির্বাচন। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য “আক্রমণাত্মক ও নির্লজ্জ” প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যা পাকিস্তানের একটি “কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে” পরিণত হওয়ার জন্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল পাকিস্তান। কোনো একটি বেসামরিক সরকার আরেকটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ঘটনা এবার দ্বিতীয়বারের মত ঘটবে পাকিস্তানে।
তবে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন না খুব বেশী মানুষ। এবারের নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নাওয়াজ (পিএমএল-এন) ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে চলা অস্থিরতাই ছিল দেশটিতে প্রধান আলোচনার বিষয়।
পিএমএল-এন’এর অভিযোগ, আদালতের সহায়তা নিয়ে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। অনির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে সারাদেশে দলটির প্রায় ১৭ হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে দেশটির গণমাধ্যমকেও ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতায় বাধা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে জঙ্গী সংস্থার সদস্যদের অংশগ্রহণও পাকিস্তানিদের একটি বড় চিন্তার বিষয়। অনেকেই মনে করেন দেশের পুরোনো ধারামাফিক নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর সুবিধার্থে নির্বাচনী কৌশল সাজানোর চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী।

ব্যাপক সহিংসতা
নির্বাচনের বছর, সহিংসতারও নির্বাচনকে ঘিরে এ পর্যন্ত ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মাস জুলাইয়ে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
১০ জুলাই আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু ঘটে। ১২ জুলাই এক সাবেক সংসদ সদস্যকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। ১৩ জুলাই দু’টি বোমা হামলায় ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়।

ভাগ্য নির্ধারিত হবে যেদিন
আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাকিস্তানের মজলিশ-ই-সূরা বা সংসদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী ২৫ জুলাই। সেদিন জাতীয় সংসদ ও চারটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন পাকিস্তানের জনগণ।

যেভাবে নির্বাচিত হবেন সদস্যরা
জাতীয় সংসদের ৩৪২টি আসনের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে দু’টি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২৭২ জন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাকি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও ১০টি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া প্রাদেশিক সভার আরো একশ’ জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

নতুন সীমা নির্ধারণ
২০১৮ সালের মার্চে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে তিনটি, পাঞ্জাবে ১৪১টি, সিন্ধু প্রদেশে ৬১টি, খাইবার পাখতুনখোয়াতে ৩৯টি, বেলুচিস্তানে ১৬টি ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকাগুলোতে ১২টি আসনে নির্বাচন হবে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা
পাকিস্তান সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ৩৪২টির মধ্যে কমপক্ষে ১৭২টি আসন জিততে হবে। প্রশ্ন হলো, কেউ কি পাবে তা? এবারের নির্বাচনে যে দু’টি দলের মধ্যে লড়াই হবার কথা সেগুলো হলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল)।
পাকিস্তানের বিখ্যাত সিকিউরিটি ফার্ম একেডির করা এক জরিপ বলছে, পিটিআই এবার ৯৯টি ও পিএমএল ৭২টি আসন জিতবে। সে হিসেবে ঝুলন্ত সংসদ হবে। জোট সরকার ছাড়া গতি নেই।

জোট করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই?
ইমরান খানের দল পিটিআই, শাহবাজ শরিফের পিএমএলের বাইরে তৃতীয় বড় দল হলো পাকিস্তান পিপলস পার্টি, যার প্রধান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির বড় সন্তান বিলাওয়াল জারদারি। নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপ বলছে, এই তিন দলকেই জোট সরকার গঠন করতে হবে।

কে হবেন প্রধানমন্ত্রী?
পাকিস্তানের প্রধাননমন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে বিতর্কিত রাজনীতিক, এক সময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ইমরান খান এগিয়ে আছেন। তিনি ও তার দল শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট বলে কথিত আছে।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগেই বিচার বিভাগ, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভোটের ফল পিটিআইয়ের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এমনকি উগ্র ডানপন্থিদেরও কাছে টানতে নানারকম চেষ্টা চালাচ্ছেন ইমরান।

সেনাবাহিনীর প্রভাব
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা ডনের করা এক জরিপে দেখা যায়, পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন আসছে নির্বাচনে সেনা প্রভাব থাকবেই। ৩৫ শতাংশ মনে করেন, সেনারাই ফলাফল নির্ধারণ করে দেবে।
গেল মেয়াদে নেওয়াজ শরিফের জনপ্রিয়তা কমতে থাকলে এবং তালেবানদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে তাদের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

ধর্মও বড় বিষয়
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ধর্মও অনেক বড় বিষয়। এইতো ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী হতে মরিয়া ইমরান খান উগ্র ডানপন্থিদের সমর্থন পেতে ব্লাসফেমি আইনের প্রতি তার জোর সমর্থন দিলেন। এমনকি জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ অভিযুক্ত অনেক ‘ইসলামিক’ নেতাও লড়ছেন নির্বাচনে।

নাড়িয়ে দিয়েছেন শরিফ-মরিয়ম
গত ৬ জুলাই পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন)-এর নেতা নওয়াজ তার মেয়ে মরিয়মের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে পাকিস্তানের আদালত। দুর্নীতির দায়ে নওয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ পাউন্ড জরিমানা এবং মরিয়মকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লক্ষ পাউন্ড জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। এরপরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে ফেরেন মরিয়ম ও নওয়াজ। গ্রেফতার হন। তাদের এই ফিরে আসায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে বলে মত অনেকেরই।

অপূর্ণতার অভিশাপ
জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সবশেষ নওয়াজ শরিফের সামনে সে সুযোগ থাকলেও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। প্রশ্ন হলো, আগামী মেয়াদে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি কি পারবেন?

ছাত্রদের আন্দোলনে নরওয়ে সরকারের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের পরে এবার নরওয়ে সরকার বাংলাদেশের ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানালো। এক বার্তায় নরওয়ে দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে-

“The right to freedom of expression and speech are rights enshrined and protected in both the Constitutions of Bangladesh and Norway. The Norwegian Embassy in Bangladesh is deeply concerned about continued attacks on those rights and an attempt to undermine the constitutional rights of Bangladeshi citizens. University students, like all Bangladeshis, have a right to protest and practice their democratic rights. As friends of Bangladesh, we stand together with protesting students in their demands for their right to assembly and their right to articulate their concerns to be protected by the rule of law.”

হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন কার্লাইল

অবশেষে লর্ড কারলাইল দিল্লি যাচ্ছেন।
সকল জল্পনা কল্পনা ও শেখ হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবি ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য আলেক্স কারলাইল তাঁর দিল্লি যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন !

কার্লাইল যাতে দিল্লিতে গিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে আরোপিত বেআইনী জেল জুলুম নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে না পরেন, সেজন্য ঢাকার অবৈধ সরকার গলদঘর্ম চেষ্টা করে। কার্লাইলকে যেভাবে ঢাকায় আসতে দেয়নি হাসিনার সরকার, সেভাবেই ভারতেরর ভিসা ঠেকিয়ে দিতে দিল্লি হাতে পায়ে ধরে চেষ্টা করে সেগুণবাগিচা, এবং খানিকটা সফলও হয়। কারলাইলের ভিসা প্রথম দফা আটকে যায়, এবং প্রেস কন্ফারেন্সের ভেন্যু বাতিল করে দেয়। এজন্য ঢাকা থেকে দিল্লিতে ছুটে গিয়েছিলেন হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম।

কিন্তু লর্ড কার্লাইলও দমবার পাত্র নন। সাবেক বৃটিশ কলোনী ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার বৃটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্যের ভিসা আটকায় কি করে? যেভাবেই হোক, প্রভাব খাটিয়ে কারলাইল ভারতের ভিসা নিয়েছেন, দিল্লি যাচ্ছেন, প্রেস কনফারেন্স এবং অন্যান্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করবেন।

হাসিনা যেভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছেন, তার জবাবে কার্লাইলের এই দিল্লি মিশন হবে একটি চরম চপেটাঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অবৈধ সরকার শত চেষ্টা করে ঠেকাতে চাইলেও তাদের অপকর্মের জন্য এভাবে ঘাটে ঘাটে খেসারত দিতে হচ্ছে।

ঢাকার ছাত্র আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন!

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করলো। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেশ গঠনের মৌলিক নীতির বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। এছাড়া সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চায় পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। সোমবার নিজস্ব ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কান্ডারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নৃশংস হামলা দেশ গঠনের মৌলিক নীতির বিরোধী। যারা বাক-স্বাধীনতা, সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদসহ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করে মার্কিন সরকার তাদের পাশে আছে। ওই পোস্টে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা হয়, ‘পিসফুল প্রোটেস্ট বিডি’ অর্থাৎ এতে বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। দূতাবাসের টুইট বার্তায়ও ‘পিসফুল প্রোটেস্ট বিডি’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে অভিন্ন মেসেজটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বার্তাটি হুবহু নিম্নরূপ-
The outrageous attack on peaceful demonstrations by university students, the future leaders of Bangladesh’s proud democracy, is counter to the founding principles upon which our countries are established. The U.S. government stands together in solidarity with those exercising their fundamental democratic rights – freedom of speech, freedom of assembly, and the right to engage in peaceful protest. #PeacefulProtestBD

জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচনের আভাস দিয়ে গেলেন মহাসচিব!

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে নিয়ে বাংলাদেশে দু’দিনের সফর করে গেলেন। বৃটিশ কমনওয়েলথ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডও একই সাথে ঢাকা সফর করেন। এসব ভিআইপিরা আলাদা আলাদা ভাবে বাংলাদেশে এলেও এদের কর্মসূচি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছিল। লীগের সরকরের শেষ সময়ে এতগুলো হাই পাওয়ার সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আ’লীগকে যে সুখে থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায়নি। অন্য সময় হলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে দেশবাসীর কাছে প্রচার করতে আ’লীগকে মহাতৎপর দেখা যেতো। এমনকি সরকারের উন্নয়নের সাথে জাতিসংঘ আছে, অা’লীগের সরকার অবৈধ নয় বরং জাতিসংঘের স্বীকৃতি আছে- এমন প্রোপাগান্ডাও হওয়ার কথা ছিল!
 
কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো – এর কোনোটাই এবার করতে পারেনি আওয়ামী লীগ! এই সফরগুলিকে ক্যাশ করার আওয়ামীলীগের তেমন কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি! বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে বৈ কি! 
 
তাহলে ঘটনা কি? একটি সোর্স জানিয়েছে, এতগুলো হাই পাওয়ার সফরে আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুখকর বার্তা ছিল না, বরং ছিল বিপজ্জনক কিছু। রোহিঙা শিবির পরিদর্শনের নামে হলেও এই সফরগুলি আসলে ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানী সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। রোহিঙা ইস্যুতে হলে এত মন্ত্রিদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ন বৈঠকের কোনো কারন নাই, তাছাড়া সফরটি এত লম্বা হওয়ারও কথা নয়। এমনকি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকেও সাথে নিয়ে আসার কোনো কারণ নাই। সুত্র জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বব্যাংক প্রধানকে সাথে করে শেখ হাসিনাকে পরিস্কার বার্তা দিয়ে গেছেন- “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধ পরিকর। ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। আসন্ন নির্বাচন সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু ভাবে করতে হবে। অন্যথায় জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে।” এসব কথা শোনার পরেই হাসিনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে- অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
 
এরই প্রকাশ দেখা গেলো গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়ম সংক্রান্তে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি মন্তব্যের পরে সরকারের অস্থিরতা ও উল্টাসিধা আচরণ ফেটে পটে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণকে সন্দেহজনক চোখে দেখা শুরু করে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রীদের খিস্তি খেউড় চলে অবিরাম, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্রও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে টুইটে আক্রমন করতে দেরী করেনি। এখনও প্রতিদিনই সরকার পক্ষের কারো না কারো চিৎকার চেচামেচি চলছেই।
 
অনেকদিন শান্ত থাকার পরে কোটাবিরোধী আন্দোলন হঠাৎ অতিমাত্রায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সরকারী বাহিনী ও ছা্ত্রসংগঠনের অতিমাত্রায় শক্তিপ্রয়োগ ও গুন্ডামি চালাচ্ছে, তাতে সরকারের ভেতরকার আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠছে প্রকটভাবে। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবীতে বিএনপি ৫ জুলাই থেকে রাজপথে নামতে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কার্যকারণ একটি আরেকটির সঙ্গে সমন্বয় করে চুড়ান্ত সমাপনীর দিকে যাবে বলে জানায় সূত্রটি।
« Older Entries