Category Archives: আন্তর্জাতিক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের বালখিল্যতার জেরে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সংকটের আশংকা!

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমা করা সংক্রান্তে ভুলে ভরা বৃটিশ হোম অফিসের কথিত চিঠি নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। ঢাকা, লন্ডনসহ সর্বত্রই এখন  আলোচনায় হোম অফিসের চিঠি! চিঠিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের বদলে ‘বাংলাদেশি অ্যাম্বাসি, ৪টি পাসপোর্টকে ‘অ্যা পাসপোর্ট’ বলে উল্লেখ করা ইত্যাদি মোটা দাগে অন্তত অর্ধডজন ভুল রয়েছে।

ভুলের বিষয়ে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশনের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরাও হতবাক। তারা এটাকে ‘আনইউজুয়্যাল’ বলছেন। তবে এ নিয়ে তারা সরাসরি কোনো বক্তব্য দিতে চাইছেন না। অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়েও আগাগোড়ায় সতর্ক বাংলাদেশি কূটনীতিকরা। চিঠির উৎস বা সত্যতা নিয়ে তারা মুখ না খুললেও এটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং বিতর্ক তৈরি করেছে তা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল বলে দাবি করেন দায়িত্বশীল এক  কূটনীতিক।

তার মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যেকোনো বিষয়ে কথা বলতে পারেন। এ বিষয়ে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তারাই জবাব দেবেন। সেখানে হাই কমিশনের কিছুই বলার নেই। তবে যে চিঠিকে প্রতিমন্ত্রী সামনে এনেছেন তা পৌনে চার বছরের পুরনো। তাছাড়া চিঠি ও পাসপোর্ট সংরক্ষণের বিষয়টি একান্তই গোপনীয়। তা এভাবে প্রকাশ করা কতটা সমীচীন হয়েছে তা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে বলেও মনে করেন তিনি। চিঠির ভুলগুলোর বিষয়ে ওই কূটনীতিকের দাবি ‘কুড়িয়ে পাওয়া বা স্বেচ্ছায় হোম অফিসে জমা করা বাংলাদেশি পাসপোর্টগুলো হাই কমিশনে পাঠাতে বৃটিশ সরকার এমন গৎবাঁধা ফরমেটে চিঠি দিয়ে থাকে। তবে অতীতে পাওয়া কোনো চিঠিতে এত ভুল দেখা যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

শুধু লন্ডনে থাকা ওই কূটনীতিকই নন, সেগুনবাগিচার একাধিক কর্মকর্তাকে গতকাল এ নিয়ে আলোচনা-উদ্বেগ ও হাস্যরস করতে দেখা গেছে। তাদের মতে, স্পর্শকাতর ইস্যুটি জনসমক্ষে প্রকাশের ঘটনা বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বৃটেন ঐতিহ্যগতভাবে মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেগুনবাগিচা এবং লন্ডন মিশনের তরফে বহুবার তারেক রহমানের বৃটেনে অবস্থান ও বসবাসের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনই বৃটিশ সরকার বা ঢাকায় থাকা দেশটির কূটনীতিকরা বাংলাদেশের কাছে কোনো তথ্য বিনিময় করেনি।

কারও ব্যক্তিগত তথ্য বিনিময় না করার বিষয়ে বৃটেনের সর্বজনীন যে নীতি রয়েছে সেটি তুলে ধরে তারেক রহমানের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশে বরাবরই অপারগতা দেখিয়েছেন তারা। গণমাধ্যমের তরফেও গত ৯ বছরে বহুবার এ নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা ছিল। বৃটেনের তরফে প্রায় অভিন্ন জবাবই দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিশেষ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে এনেছেন তা রাজনৈতিক বক্তব্য হিসাবেই দেখছেন পেশাদার কূটনীতিকরা। তারেক রহমানের লিগ্যাল নোটিসের খবর চাউর হওয়ার প্রেক্ষিতে গত সোমবার বিকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি যখন তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন মানবজমিনের তরফে পররাষ্ট্র সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কেউই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনো তথ্য দেয়া এমনকি কথা বলতেও রাজি হননি। তারা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত শোনার পরামর্শ দেন। প্রতিমন্ত্রী অবশ্য ততক্ষণে তার লন্ডনে দেয়ার বক্তব্যের স্বপক্ষে হোম অফিসের ওই চিঠি এবং তারেক রহমানের পুরনো পাসপোর্টের কয়েকটি পাতা প্রমাণ হিসাবে প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনের আগেই এটি তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী চিঠির উৎস নিয়ে যা বলেছেন তার মোদ্দাকথা হলো- বিএনপির তরফে তার বক্তব্য অসত্য বলার পর তিনি প্রমাণ হাতে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। ঢাকায় ফেরার পরপরই তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে হোয়াটসআপ বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে হোম অফিসের ওই চিঠি এবং তারেক রহমানের মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টের পাতাগুলোর ছবি সংগ্রহ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী সংগ্রহ করা সেই পাসপোর্টের অনেক পাতার ছবি শেয়ার করেছেন। যাতে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ, মেয়াদ, এমনকি তার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত পাতাও প্রতিমন্ত্রী শেয়ার করেছেন। কিন্তু তারেক রহমানের লন্ডন যাওয়ার সেই ভিসার পাতা শেয়ার করেননি। কনস্যুলার নিয়ে কাজ করা এক কূটনীতিক বলেন, তারেক রহমানের ওই পাসপোর্টেই সেই সময়কার ভিসা থাকার কথা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের বৃটেনে বসবাসের স্ট্যাটাস বিষয়ে সরকারের কাছে কি তথ্য রয়েছে তা জানার চেষ্টা করেছিলেন সাংবাদিকরা। প্রতিমন্ত্রী তা জানাতে চাননি বা পারেননি। তিনি সেই সময় তারেক রহমানের কাছেই তার স্ট্যাটাস বিষয়ে জানতে পরামর্শ দেন। অন্তত দু’বার তিনি তারেক রহমানের কাছে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করার কথা বলেন। তারেক রহমানের কথা, বক্তব্য, বিবৃতি বা সাক্ষাৎকার প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি জানার পরও সাংবাদিকদের তারেক রহমানের কাছে জানতে চাওয়ার তাগিদ দেন। এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে ওই চিঠি এবং পাসপোর্টের ছবিগুলো আর দেখা যাচ্ছে না। এটি তিনি নিজে সরিয়ে নিয়েছেন নাকি হ্যাক করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে তা নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে। ফেসবুক ওয়ালে থাকা তার অন্য তথ্যগুলো ঠিকঠাক আছে কি-না? সেটিও স্পষ্ট নয়। অবশ্য প্রতিমন্ত্রী গতকাল এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন- ‘আমার ফেসবুকের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে সারা রাত। হ্যাকিং। পোস্ট উধাও। বুঝতেই পারছেন এই বিনিয়োগ কারা করেছে।’

সমর্থন আদায় করতে দলবেঁধে ভারতে গেলো অা’লীগের নেতারা!

সামনে নির্বাচন, তাই ভারতের সমর্থন দরকার। যদিও বলা হচ্ছে,ক্ষমতাসীন বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে ভারত গেছে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যেরে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ধংসের ষোলকলা পূর্ন: স্বৈরতান্ত্রিক পাঁচ দেশের মধ্যে উগান্ডার পর্যায়ে বাংলাদেশ!

বিশ্বের নতুন পাঁচ স্বৈরতান্ত্রিক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বিশ্বের ১২৯ টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ তাদের রিপোর্টে এই মন্তব্য করে। রিপোর্টটি শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে।

রিপোর্টে ১২৯ টি দেশের মধ্যে ৫৮ টি দেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং ৭১ টি দেশকে গণতান্ত্রিক বলে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে তাদের আগের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বিশ্বের ৭৪টি দেশে গণতান্ত্রিক এবং ৫৫টি দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে।

একশো উনত্রিশটি দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এই সমীক্ষার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে। একই অবস্থানে আছে রাশিয়া।

উরুগুয়ে, এস্তোনিয়া এবং তাইওয়ান আছে এই সূচকের শীর্ষে। আর একেবারে তলায় রয়েছে সোমালিয়া, ইয়েমেন এবং সিরিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান অবশ্য বাংলাদেশের নীচে – ৯৮ নম্বরে। মিয়ানমারের অবস্থান ১০৪ নম্বরে। অন্যদিকে ভারত আছে বেশ উপরের দিকে – ২৪ নম্বরে। শ্রীলংকার অবস্থান ৪১ নম্বরে।

‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এ ধরণের রিপোর্ট প্রকাশ করে আসছে।

তবে তাদের এই সমীক্ষায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া সহ পরিণত গণতন্ত্রের দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, “বিশ্বে গত ১২ বছরের মধ্যে গণতন্ত্র এবং সুশাসনের অবস্থা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এক সময় বিশ্বের যেসব দেশকে মুক্ত বলে ভাবা হতো, সেসব দেশের সরকারও ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ন হয়ে উঠছে।”

রিপোর্টে বলা হয়, “বিশ্বে যে স্বৈরতান্ত্রিক দেশের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে, সেটার চাইতে বেশি উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে গণতান্ত্রিক দেশুগুলিতেও এখন নাগরিক অধিকার ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে এবং আইনের শাসন ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। ব্রাজিল, পোল্যান্ড এবং তুরস্কের মতো দেশ, যাদেরকে গণতন্ত্রায়নের আলোকবর্তিকা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তাদেরই সবচেয়ে বেশি অবনতি ঘটেছে।”

এই রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তুরস্কের কথা। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে তাদের সর্বশেষ রিপোর্টের পর তুরস্কেই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বেশি অধোগতি দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়িপ এরদোয়ান সেখানে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর মত প্রকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার ব্যাপকভাবে খর্ব করেছেন বলে মন্তব্য করা হয়।

‘বাংলাদেশ আর গণতান্ত্রিক নয়’
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এই সমীক্ষা চালানো হয় যেসব দেশের ওপর, তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে পাঁচটি দেশের কথা—বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া এবং উগান্ডা।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, এই পাঁচটি দেশ এখন আর গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদন্ড পর্যন্ত মানছে না। এসব দেশে বহু বছর ধরেই গণতন্ত্রকে ক্ষুন্ন করা হচ্ছিল। এসব দেশের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণেই এটা ঘটেছে বলে মন্তব্য করা হয় রিপোর্টে।

“এই পাঁচটি নতুন স্বৈরতান্ত্রিক দেশ এমন একটা পর্যায় অতিক্রম করেছে, যেদিকে যাচ্ছে আরও কিছু ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্রের দেশ – হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, মলডোভা, নিজার, ফিলিপাইন এবং তুরস্ক।”

তবে রিপোর্টে কিছু কিছু দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, মরিশাস এবং উরুগুয়ে।

২০১৬ সালের রিপোর্টে বার্কিনা ফাসো এবং শ্রীলংকাকে মধ্যম মাত্রার স্বৈরতন্ত্র বলে বর্ণনা করা হয়েছিল। এই দুটি দেশকে এবারের রিপোর্টে ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র বলা হয়েছে।
/বিবিসি বাংলা

বাংলাদেশ কি ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ হতে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণ করেছে?

মূল উৎপত্তি

জাতিসংঘের ‘স্বল্পোন্নত দেশ’ (Least Developed Country) বিভাগীকরণের মাধ্যমে সেসকল দেশকে সনাক্ত করা হয়, যারা অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে অনগ্রসর। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহকে জাতিসংঘ বা অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলো বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করে থাকে; যেমন, কম সুদে ঋণ প্রদান, আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকার দেওয়া, ঋণ পরিশোধের শর্তসমূহ নমনীয় রাখা ইত্যাদি। এসকল সহযোগিতার মাধ্যমে এসব অনগ্রসর দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিপিডি) তাদের ত্রি-বার্ষিক রিভিউর মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকা দেশগুলোর অর্থনৈতিক সূচকসমূহ পর্যালোচনা করে। এই রিভিউর মাধ্যমে কোন দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে তা নির্ধারণ করা হয়।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০১৮ সালে সিপিডির ২০তম রিভিউতে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ এই তালিকা থেকে উত্তরণের সূচকগুলো পূরণ করতে সক্ষম হয়। সূচকগুলো হচ্ছে―[1]

১. অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক ৩২ পয়েন্ট বা তার নিচে থাকতে হবে। (বাংলাদেশ: ২৫ পয়েন্ট দশমিক ২)

২. মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ বা এর বেশি পয়েন্ট পেতে হবে। (বাংলাদেশ: ৭৩ দশমিক ২)

৩. মাথাপিছু আয় ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার থাকতে হবে। (বাংলাদেশ: ১ হাজার ২৭৪ ডলার)

এসব সূচকের যেকোনো দুটি পূরণ করতে পারলেই কোন দেশকে প্রথমবারের মত যোগ্য ধরা হয়। সেখানে বাংলাদেশ ৩টি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে।

তালিকা থেকে বের হওয়ার যোগ্য হওয়া (Graduation) এর জন্য, প্রথমবারে উত্তীর্ণ হওয়ার তিন বছর পরের রিভিউতেও (বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের রিভিউতে) উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি পার করতে হবে আরও একাধিক সুনির্দিষ্ট ধাপ।[2] এই বছর বাংলাদেশ এই ধাপগুলোর প্রথমটি পার করেছে মাত্র।

২০১৮ সালের রিভিউতে এবছর মোট ৫টি দেশ উত্তীর্ণ হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে বোটসওয়ানা, কেবো ভের্ড, ইকুয়েটরিয়াল গিনি, মালদ্বীপ ও সামোয়া।[3]

দ্বিতীয়বার সূচকগুলো পূরণের পর, দেশগুলোর সেসময়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিটি উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, এই বছর নেপাল ও তিমোর-লেস্ট দেশ দুটি উত্তরণের সূচক দ্বিতীয়বারের মত পূরণের পরও দেশ দুটিকে উত্তীর্ণ করার সুপারিশ করা হয়নি।

কমিটির সুপারিশের পর, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল (ECOSOC) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। এই সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী ত্রি-বার্ষিক রিভিউতে, অর্থাৎ, প্রথমবার সূচকগুলো পূরণের ৬ষ্ঠ বছরে, একটি দেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি হতে কমপক্ষে ৬ বছর সময় নিতে পারে। অপরদিকে সূচকগুলো পূরণের পরও কমিটির বিবেচনায় পাশ না করলে, এই সময় ৬ বছরেরও বেশি হতে পারে।

কোন দেশ প্রথমবার নির্ধারিত সূচকে উত্তীর্ণ হলে, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (DESA) তা অনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিকে জানায়। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ উত্তীর্ণ হলে, ১৬ মার্চ নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তরের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করেন সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান, রোলান্ড মোলেরাস।[4][5] কিছু বাংলাদেশী মিডিয়া প্রথম ধাপের এই আনুষ্ঠানিকতাকে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্য হয়েছে বাংলাদেশ’-এমন শিরোনামে সংবাদ পরিবেশন করে।

মিডিয়ার ভুল ব্যাখ্যার পাশাপাশি সরকারীভাবেও দাবী করা হয় যে, বাংলাদেশ ‘স্বল্পোন্নত’ দেশ হতে ‘উন্নয়নশীল’ দেশে উত্তরণ করেছে। এই উপলক্ষে ২২ মার্চ সারা দেশব্যাপী সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক এই উপলক্ষে ৭০ টাকার স্মারক নোট প্রকাশেরও ঘোষণা প্রদান করে।[6]

প্রথমবারের মত যোগ্যতার সূচক অর্জন খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও, ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ করেছে এমন দাবী করা সকল অর্থেই ভুল। এছাড়াও উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হওয়া মানে বাংলাদেশ অনেক অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করবে না যে এতদিন স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে পেয়ে আসছিলো। তাই উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ কেবল অর্জনই না, বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগ্রহণও। এই কারণেই জাতিসংঘ সময়সাপেক্ষ পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি দেশের যোগ্যতা পরিমাপ করে থাকে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় চীন: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও মসৃণ দেখতে চায় চীন।

বুধবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জু। এ সময় মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ভূমিকাকে ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও রাখাইন রাজ্যের টেকসই উন্নয়নে চীন সহযোগিতা দেবে বলেও জানান জাং জু।

খালেদা জিয়া এশিয়ার ম্যান্ডেলা, অচিরেই বিশ্বনেতা হবেন: মাহাথির

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে এশিয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সাউথ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার যুগের পর যুগ নির্বাসন এবং কারাবন্দী করে রাখায় তিনি যেভাবে বিশ্বনেতা হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া কারাদণ্ডের কারণে তিনিও অচিরেই বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মালয় মেইল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির মোহাম্মদ এসব কথা বলেন।

মাহাথির বলেন, ‘আমি সাধারণত আমাদের প্রতিবেশি দেশ বা বাংলাদেশের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করি না। কিন্তু আমি দেখছি, বাংলাদেশে রাজনীতি বেশি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে মনোযোগ কম। এখানকার সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এখন কারাগারে আছেন। এমনকি তিনি জামিন পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ন্যায় নাকি অন্যায় তা বিবেকবান আদালতের ওপরই ছেড়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘সাউথ আফ্রিকার নন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে একসময় তৎকালীন সরকার নির্বাসনে পাঠিয়েছে, কারাগারের চার দেয়ালে বন্দী করে রেখেছে। কিন্তু এসবের কারণেই ম্যান্ডেলা বিশ্বনন্দিত নেতা হয়ে উঠেছেন, আর সেসব স্বৈরশাসকরা এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির এখনকার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত হলেও তাকে যখন স্বৈরশাসকরা যুগের পর যুগ গৃহবন্দী করে রেখেছেন, তখন কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঠিক এভাবেই খালেদা জিয়া এখন পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক নেত্রী হয়ে উঠছেন।’

‘আমি মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু সেসব সরিয়ে রেখে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ দেশের উন্নয়ন ও বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করা। কিন্তু সেখানে এসব করার বদলে প্রতিপক্ষ দমনে মনোযোগ অনেক বেশি। আপনি যদি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন, তবে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। দেশের আপামর জনতার জীবনমানে অগ্রগতি হবে। কিন্তু তা তেমন একটা হচ্ছে না’, বলেন মালয়েশিয়ার সাবেক এই সফল প্রধানমন্ত্রী।

মাহাথির বলেন, ‘বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যেমন, গার্মেন্ট শিল্প। ওষুধ শিল্প ও অন্যান্য খাতেও দেশটি ভালো করছে। বাংলাদেশের মানুষ খুব উদ্যোগীও। তাদের দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভালো নীতিমালা। কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের চেয়ে রাজনীতি বেশি। আপনি যদি দেশের অর্থনীতির কথা ভাবেন, দৃষ্টি দেন ও অর্থনৈতিক নীতির কথা বলেন, তবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির একটি।’

পশ্চিমাদের কূটচাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমারা চায় ক্ষমতার পরিবর্তন। তারা চায় মুসলিম দেশগুলোর সরকার চালাবে তাদের বেছে নেয়া মানুষরা। ক্ষমতা পরিবর্তন করতে গিয়ে, দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে মুসলিম দেশগুলোর রাজনীতিবিদরা নিজেরাও মাঝে মাঝে অস্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছে। এই সুযোগে পশ্চিমারা কিছু সময় নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে তারা সমর্থন দেয়, সরকারের ভূমিকাকে খর্ব করে, প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ চালায়। এছাড়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে অস্থিতিশীলতা, এর পেছনে পশ্চিমারা অনেক বেশি জড়িত। কিন্তু মুসলমান রাজনীতিবিদরা এসব না বুঝেই তাদের ফাঁদে পা দেয়। খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে বাংলাদেশ এখন সেই পুরনো ফাঁদে পা দিয়েছে।’

নিশ্চিন্তে খালেদা। মহাবিপদে হাসিনা- চীনকে ধরতে ছুটছেন সিঙ্গাপুরে, ভারতের পায়ে পড়তে হামিদ দিল্লিতে।

কারাবাসের এক মাস শেষে ফুরফুরে খালেদা জিয়া- বিশেষ করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি ধরে রাখা, দল অটুট থাকা, এবং বিদেশীদের কাছে দলের পজিটিভ ইমেজ। এতে সরকার দেখছেন মার্কিনীদের চক্রান্ত। বিপরীতে, বিএনপি নেত্রীকে জেলে রেখেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার সকল প্রস্ততি নিয়েও শেষ সময়ে তা স্থগিত রাখতে হয়! কোনো দিক থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে মহাবিপদে হাসিনা। চীনের লাইন ঠিক করতে নিজেই যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। আর ভারতকে শান্ত রাখতে রাষ্ট্রপতি হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লি! সাউথ ব্লকের কপলে চোখ!

কারসাজির রায় দিয়ে কারাগারে পাঠালেও বেগম খালেদা জিয়ার ধৈয্যের কাছে হাসিনার পরাজয় ঘটেছে। আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসার কথা ছিল। আ’লীগের নেতারা অনেকেই সেমতে তৈরী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী বৈরতণী পার করার মত কোনো পরিস্কার আশ্বাস কোনো দিক থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা না দিয়েই ‘এতিমের টাকা এতিমের টাকা’ বুলি আউড়িয়ে জনসভা শেষ করতে হয়!

দীর্ঘদিন ধরে যে পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা ছিল, যারা ‘সরকারে আনছি আমরা, সরকার ধরেও রাখছি আমরা’ বলতো প্রকাশ্যে, এখন তারা ব্যস্ত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে। প্রতিদিনই সাসপেন্ড, বদলী হচ্ছে অনেকে। অতিউৎসাহীরা চেয়ার এবং চাকরি বাঁচাতে গলদঘর্ম। কেবল অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কিছু ধরপাকড় করে বদনাম কামানো ছাড়া তেমন কোনো আশার বাণী দেখতে পাচ্ছে না সরকার। সময় শেষ, তাই কৌশলে চলো নীতিতে ব্যস্ত বাহিনীটি।

উত্তর পাড়া থেকে আগেই জানানো হয়েছে রাজনৈতিক ক্যাচলে তারা নেই। উত্তরের মুরব্বী, তারও উত্তরের অর্থনৈতিক শক্তি, দুর পশ্চিম কোথাও থেকে ‘ভোট ছাড়া ক্ষমতা’ নিশ্চিত হওয়ার কোনো আশ্বাস নাই। ফলে চাইলেও ‘শত্রুকে জেলে রেখে এখনি নির্বাচন করে ফেলব’ সে গুড়ে বালি। অনন্যোপায় হয়ে নিজেই ছুটছেন অপ্রয়োজনীয় সিঙ্গাপুর সফরে। মূলত, সেখানে নিজেই চীনের সাথে বোঝাপড়া করবেন, এমন আভাস পেয়ে তটস্থ হয়ে উঠেছে দিল্লি। আঁড়ি পেতে খোঁজ নেয়ার জন্য দিল্লির গোয়েন্দারা সিঙ্গাপুরের পথে। অন্যদিকে পা ধরে ভারতকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে। কিন্তু সিঙ্গাপুরের খবরের পরে দিল্লির অবস্থান আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে সাউথ ব্লকের আভাস। লিসার সফর থেকে হুঁশিয়ারি আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জোর চাপ। ফলে বিপদ এখন মহাবিপদে রূপ নিয়েছে।

……অবশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস লিসা কার্টিস ঢাকা আসছেন আজ!

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস। সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর থেকে লিসা কার্টিসের এই সফরই ঢাকায় সে দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।

সফরে লিসা কার্টিস রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

সফরে দুই দেশের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সফরসূচি অনুযায়ী, লিসা কার্টিস শনিবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন। সেখানে গিয়ে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনবেন।

রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া লিসা কার্টিস মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপসহকারী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে কাজ করতেন লিসা কার্টিস।

গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে লিসার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার লিসাকে তাদের প্রতি বৈরী জ্ঞান করে ঢাকা সফল বাতিল করে। ফলে বন্যার অযুহাতে লিসার সফর বাতিলের ঘোষণা আসে। ফলে দিল্লি ঘুরে গেলেও ঢাকা আসেননি লিসা। জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভবিষ্যত নিয়ে পরিস্কার নির্দেশনা জানাতে লিসা কার্টিজের ঢাকায় ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক পথে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে হাসিনা রাজী না হওয়ায় বিকল্প পথে সমাধান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়।

লিসার সাথে আওয়ামীলীগের কিছু দুর্ঘটনা আছে। হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগ লাভের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ লিসাকে লাঞ্ছিত করে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিষয়ে একটি সেমিনারে যোগ দিতে লিসা গিয়েছিলেন সেখানে। উল্লেখ্য, লিসা কার্টিজ গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করে আসছেন। যেকোনো বিশেষজ্ঞের চেয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে ভালো খোঁজ খবর রাখেন লিসা। গত বছর ২৯ মার্চ বুধবার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিষযক একটি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিসা কার্টিজ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়। লিসাকে মারতে তেড়ে আসেন সিদ্দিকুর। লিসাকে বাঁচাতে সামনে এগিয়ে আসেন ফরহাদ মজহারের কন্যা সন্তলি হক। সন্তলি চিৎকার করে ওঠে- “কে মারবি আয়, লিসাকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে- আয়!” ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফিরে যায় সিদ্দিকুর বাহিনী। উল্লেখ্য লিসা সন্তলির ঘনিষ্ট বান্ধবী।

হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগের আগে লিসা কার্টিজ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়ার ফেলো হিসাবে বাংলাদেশের সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ বয়ান দেন। যার কয়েকটা উল্লেখযোগ্য- গত ১ এপ্রিল ২০১৭ লিসা এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গণতন্ত্রের অভাবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বাড়ছে।” বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে সংঘাতময় রাজনীতি নিয়ে ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ লিসা বলেন….“সঙ্কট নিরসন না হলে পরিণতি ভয়ঙ্কর। মূলতঃ এই অবস্থার জন্য দায়ী গত বছরের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন যা অনুষ্ঠিত হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া। এখন বিরোধী দল অবরোধ ডেকেছে সহিংস বিক্ষোভ করছে আর সরকার হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী আটক করছে। অবিলম্বে বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট নিরসন করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।”

হঠাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা আসছে: হাসিনাকে পরবর্তী টার্মের জন্য কনফার্ম করে দিয়ে বিএনপির সাথে ‘ব্লাফ গেম’ খেলছে ভারত!

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ জটিল থেকে জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করার পরে ক্রমশ অনিশ্চিতয়ার পথে হাটছে দেশের রাজনীতি। এরই মধ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তাদের ‘দেশ দুর্গ’ ধরে রাখার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপালের মত বাংলাদেশও দিল্লির কক্ষচ্যুত হতে যাচ্ছে- ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের এমন হুশিয়ারির পরে ভারত নড়ে চড়ে বসেছে। আর তাতে শেখ হাসিনার হয়েছে পোয়া বারো।

গত ৯ বছরের অধিককাল ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামীলীগ দেশে জনপ্রিয়তার সর্বনিম্নধাপে অবস্থান করলেও ভোটের কোনো তোয়াক্কা না করেই  প্রতিবেশীরা শেখ হাসিনাকে আরও এক বারের জন্য ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে। আর এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকেও তারা ম্যানেজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এসব বিষয় চুড়ান্ত হলে মেয়াদপুর্তির আগেই যেকোনো সময় হঠাৎ সংসদ নির্বাচন দিয়ে নাম-কা-ওয়াস্তে ভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। এ লক্ষে ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি চেয়ারপারসনকে বানোয়াট মামলায় ইতোমধ্যে জেলে ভরে ফেলে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী ক্যাম্পেনে নেমে গেছে। উদ্দেশ্য পূরণে, দরকার হলে, ৫ জানুয়ারির চেয়ে আরও নিম্নস্তরের নির্লজ্জ ঘটনা এবং অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রাজনৈতিক গুম এবং অত্যাচারের পথে যেতেও দ্বিধা করবে না।

এর বিপরীতে, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বও ভারতের উপরেই আস্থা রাখছে! বেগম জিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়েই ভারত বড় রকমের ফায়দা তুলতে চায়। এর বিনিময়ে ভারত চায় বিএনপি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্বাচনে থাকুক। যদিও বিএনপি আশা করছে, ভারত তাদের ক্ষমতায় যেতে সমর্থন করবে। বিএনপি এখনও বুঝতে পারছে না, ভারতীয় স্বার্থের কাছে বিএনপি কখনই আওয়ামীলীগের বিকল্প নয়। বিএনপির বর্তমান চালকরা ভারতের গোপন অভিসন্ধি বুঝতে না পরে এখনও ভারতের হাতেই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের স্বপ্নে বিভোর! এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের সাথে ঘনিষ্ট পদবিহীন কিছু কর্মচারীরাও আজকাল ভারতীয় লাইন ঠিক করার মূল কারিগর-এমন দাবী করছে!

দেশের দুই তৃতীয়াংশ জনগনের আস্থা অর্জনকারী দলটির নেতৃত্বের এই অবমৃশ্যকারিতা দেখে যার পর নাই ক্ষুব্ধ ব্যথিত দলটির শুভাকাঙ্খিরা। ভারতের আগ্রাসন এবং ব্লাফ গেম ঠেকাতে খুব দ্রুত চীনা লবির সাহায্য না নিলে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদী কুশাসনের নিগড়ে পড়বে- কোনো সন্দেহ নাই। পানিতে ভাসমান মালদ্বীপ দেখিয়ে দিয়েছে কি করে আগ্রাসন ঠেকাতে হয়। অসময়ে গান্ধিবাদী আন্দোলন করে বিএনপির ফায়দা আসার কোনো সম্ভবনা নাই, বরং গণঅভ্যুত্থানই দিতে পারে এ জাতির মুক্তি। এটা অসম্ভব নয়।

হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের সাথে ঘুস লেনদেন করে চীনের স্বার্থপরিপন্থি কাজ করায় নিজ রাষ্ট্রদূতকে আটক করলো বেইজিং!

মা মিং কিয়াং। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত। চীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাকে ক্লিন হিসাবেই জানতো চীন সরকার। কিন্তু সম্প্রতি তার মেয়াদ শেষে বিদায়ের পর ঠিক উল্টো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় মেয়াদপুর্তির অল্পকিছু আগেই রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংকে বেইজিংয়ে ডেকে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায়ই ফিরছিলেন। কিন্তু এয়াপোর্টে আসার আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের দপ্তর পরিচালিত এন্টি-করাপশন মুভমেন্ট সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসন্ধানী দল তাকে আটকে দেয়। চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে দেশটির বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন ও অন্যায়ভাবে চায়নার নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। হঠাৎ করে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং বেইজিংয়ে আটকে দেয়ায় ঢাকা শুরু হয়েছে তোলপাড়। অন্যদিকে দু’টি অভিযোগে ততদন্ত হলছে বেইজিংয়ে- ঢাকায় চীনা অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং চীনের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করা। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

বেইজিং যাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের বিদায়ী সাক্ষাতের অ্যাপয়েনমেন্ট চাওয়া হয় এবং সে মতে সাক্ষাৎসূচিও নির্ধারিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি বেইজিংয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে যান। ফলে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে দফায় দফায় খোঁজা হলেও ‘রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ে জরুরি কাজে আটকা পড়েছেন’ মর্মে নোট পাঠায় চীনা দূতাবাস। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতসূচির আগে চীনা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সরকারকে জানান- রাষ্ট্রদূত এমন পরিস্থিতিতে আছেন যে তার সঙ্গে যোগাযোগই সম্ভব হচ্ছে না! প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঘনিয়ে এলেও প্রায় অভিন্ন বার্তা আসে দূতাবাস থেকে। সেই সঙ্গে বাড়তি তথ্য হিসাবে ‘তার শ্বশুর অসুস্থ’ বলে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চীনের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের এমন অদ্ভুত আচরণে বিস্ময় তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হলে বিষয়টি খোলাসা হয়।

যদিও রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের আমলে ঢাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর ঐতিহাসিক সফর হয়েছে। রাষ্ট্রদূত হিসাবে এতে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশে চীনের বেশ কিছু কোম্পানি মেগা প্রজেক্টের কাজও পেয়েছে। তবে জানা গেছে, ঢাকায় থাকাকালে রাষ্ট্রদূত কিয়াং কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে সুনির্দিষ্টভাবে প্রজেক্ট পাওয়া না পাওয়া বা এর অগ্রগতির খোঁজে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল এক প্রতিনিধি বলেন, প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই শোনা যেত রাষ্ট্রদূত নাখোশ! তিনি নানা প্রজেক্ট পুশ করতেন, যা চীনের আগের রাষ্ট্রদূতরা কখনই করেননি। যে কোনো দেশে চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দরদাতা নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন মানা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতা মতে, এখানে চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে চীনা দরদাতাদের মধ্যে উন্মুক্ত টেন্ডার হওয়ার কথা। অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এটি অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। এতে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে লাভবান হলেও প্রাথমিক প্রস্তাবনার দ্বিগুণ/তিনগুণ বেশি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এমনকি ঢাকার বিভিন্ন সরকারী পর্যায়ে রাষ্ট্রদূতের অকূটনৈতিকসূলভ যোগাযোগ এবং লেনদেনের খবর বেইজিংয়ে কর্তাদের নজরে গেছে। চীনা অর্থায়নে যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে  কমিশন ভাগভাগি ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। ঢাকায় একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির তরফেও রাষ্ট্রদূতকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি ছিল, যেখানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রধান অতিথি হওয়ার কথা হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত না ফেরায় সেই আয়োজনও বাতিল করা হয়। নিজদেশের স্বার্থের পরিপন্থি রাষ্ট্রদূতের নানা কর্মকান্ডের খবরাদি কেন্দ্রে জানান দূতাবাসের একজন সামরিক এটাশে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতকে আসিয়ানের একটি দেশে নিয়োগের প্রস্তাব ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটিও আটকে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ডিসেম্বরে বেইজিং যাওয়া রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের নতুন বছরে ঢাকায় ফিরে আনুষ্ঠানিক বিদায় এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে মতেই রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ চীনা দূতাবাসের চাহিদা মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিদ্যুৎ কোম্পানির সংবর্ধনা এবং অন্য প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু না ফেরায় সব কিছুই শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। এমনকি বাহক মারফত তার জরুরি জিনিসপত্রও পাঠাতে হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং গত ১৪ই ডিসেম্বর আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এবং ২১শে ডিসেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করেন। এরপর থেকে প্রায় দু’মাস ধরে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসাবে চেন উই দায়িত্বপালন করছেন। সর্বশেষ তথ্য মতে, ঢাকায় চীনের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসাবে আগেই নিয়োগ পাওয়া ঝাং জু এখন ঢাকায়। তিনি এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের আপেক্ষায় রয়েছেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের ঘটনাটি ইতোমেধ্যে ঢাকার কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষকরে সাম্প্রতিক সময়গুলো বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের অস্বাভাবিক দহরম মহরম চীনের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর সূত্র ধরেই দিল্লিও শেখ হাসিনার সরকারের উপরে দারুনভাবে নাখোশ হয়। ফলে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দিল্লি পাঠাতে হয়। সর্বশেষে বেইজিং গৃহীত ব্যবস্খাদির ফলে দেশটির দূতবাস আবার সঠিক পথে চলবে আশা প্রকাশ করেন দূতাবাস কতৃপক্ষ।

 

« Older Entries