Category Archives: আন্তর্জাতিক

ইমরান প্রধানমন্ত্রী হলে ভারতের জন্য ৮ বিপদ!!!

পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা: নেপথ্যে সেই পাক সেনাবাহিনী!

 

আর তিনদিন পরে পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশটিতে চলছে নানা হিসেব-নিকেষ। রাজপথ যেমন হয়ে উঠছে সহিংস, তেমনি রাজনীতির মাঠেও চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা। সেনাবাহিনী যেমন হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ধর্মও।

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনকে বলা হচ্ছে সেদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দূষিত নির্বাচন। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য “আক্রমণাত্মক ও নির্লজ্জ” প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যা পাকিস্তানের একটি “কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে” পরিণত হওয়ার জন্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল পাকিস্তান। কোনো একটি বেসামরিক সরকার আরেকটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ঘটনা এবার দ্বিতীয়বারের মত ঘটবে পাকিস্তানে।
তবে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন না খুব বেশী মানুষ। এবারের নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নাওয়াজ (পিএমএল-এন) ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে চলা অস্থিরতাই ছিল দেশটিতে প্রধান আলোচনার বিষয়।
পিএমএল-এন’এর অভিযোগ, আদালতের সহায়তা নিয়ে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। অনির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে সারাদেশে দলটির প্রায় ১৭ হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে দেশটির গণমাধ্যমকেও ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতায় বাধা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে জঙ্গী সংস্থার সদস্যদের অংশগ্রহণও পাকিস্তানিদের একটি বড় চিন্তার বিষয়। অনেকেই মনে করেন দেশের পুরোনো ধারামাফিক নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর সুবিধার্থে নির্বাচনী কৌশল সাজানোর চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী।

ব্যাপক সহিংসতা
নির্বাচনের বছর, সহিংসতারও নির্বাচনকে ঘিরে এ পর্যন্ত ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মাস জুলাইয়ে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
১০ জুলাই আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু ঘটে। ১২ জুলাই এক সাবেক সংসদ সদস্যকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। ১৩ জুলাই দু’টি বোমা হামলায় ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়।

ভাগ্য নির্ধারিত হবে যেদিন
আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাকিস্তানের মজলিশ-ই-সূরা বা সংসদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী ২৫ জুলাই। সেদিন জাতীয় সংসদ ও চারটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন পাকিস্তানের জনগণ।

যেভাবে নির্বাচিত হবেন সদস্যরা
জাতীয় সংসদের ৩৪২টি আসনের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে দু’টি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২৭২ জন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাকি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও ১০টি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া প্রাদেশিক সভার আরো একশ’ জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

নতুন সীমা নির্ধারণ
২০১৮ সালের মার্চে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে তিনটি, পাঞ্জাবে ১৪১টি, সিন্ধু প্রদেশে ৬১টি, খাইবার পাখতুনখোয়াতে ৩৯টি, বেলুচিস্তানে ১৬টি ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকাগুলোতে ১২টি আসনে নির্বাচন হবে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা
পাকিস্তান সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ৩৪২টির মধ্যে কমপক্ষে ১৭২টি আসন জিততে হবে। প্রশ্ন হলো, কেউ কি পাবে তা? এবারের নির্বাচনে যে দু’টি দলের মধ্যে লড়াই হবার কথা সেগুলো হলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল)।
পাকিস্তানের বিখ্যাত সিকিউরিটি ফার্ম একেডির করা এক জরিপ বলছে, পিটিআই এবার ৯৯টি ও পিএমএল ৭২টি আসন জিতবে। সে হিসেবে ঝুলন্ত সংসদ হবে। জোট সরকার ছাড়া গতি নেই।

জোট করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই?
ইমরান খানের দল পিটিআই, শাহবাজ শরিফের পিএমএলের বাইরে তৃতীয় বড় দল হলো পাকিস্তান পিপলস পার্টি, যার প্রধান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির বড় সন্তান বিলাওয়াল জারদারি। নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপ বলছে, এই তিন দলকেই জোট সরকার গঠন করতে হবে।

কে হবেন প্রধানমন্ত্রী?
পাকিস্তানের প্রধাননমন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে বিতর্কিত রাজনীতিক, এক সময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ইমরান খান এগিয়ে আছেন। তিনি ও তার দল শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট বলে কথিত আছে।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগেই বিচার বিভাগ, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভোটের ফল পিটিআইয়ের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এমনকি উগ্র ডানপন্থিদেরও কাছে টানতে নানারকম চেষ্টা চালাচ্ছেন ইমরান।

সেনাবাহিনীর প্রভাব
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা ডনের করা এক জরিপে দেখা যায়, পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন আসছে নির্বাচনে সেনা প্রভাব থাকবেই। ৩৫ শতাংশ মনে করেন, সেনারাই ফলাফল নির্ধারণ করে দেবে।
গেল মেয়াদে নেওয়াজ শরিফের জনপ্রিয়তা কমতে থাকলে এবং তালেবানদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে তাদের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

ধর্মও বড় বিষয়
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ধর্মও অনেক বড় বিষয়। এইতো ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী হতে মরিয়া ইমরান খান উগ্র ডানপন্থিদের সমর্থন পেতে ব্লাসফেমি আইনের প্রতি তার জোর সমর্থন দিলেন। এমনকি জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ অভিযুক্ত অনেক ‘ইসলামিক’ নেতাও লড়ছেন নির্বাচনে।

নাড়িয়ে দিয়েছেন শরিফ-মরিয়ম
গত ৬ জুলাই পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন)-এর নেতা নওয়াজ তার মেয়ে মরিয়মের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে পাকিস্তানের আদালত। দুর্নীতির দায়ে নওয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ পাউন্ড জরিমানা এবং মরিয়মকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লক্ষ পাউন্ড জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। এরপরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে ফেরেন মরিয়ম ও নওয়াজ। গ্রেফতার হন। তাদের এই ফিরে আসায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে বলে মত অনেকেরই।

অপূর্ণতার অভিশাপ
জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সবশেষ নওয়াজ শরিফের সামনে সে সুযোগ থাকলেও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। প্রশ্ন হলো, আগামী মেয়াদে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি কি পারবেন?

ছাত্রদের আন্দোলনে নরওয়ে সরকারের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের পরে এবার নরওয়ে সরকার বাংলাদেশের ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানালো। এক বার্তায় নরওয়ে দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে-

“The right to freedom of expression and speech are rights enshrined and protected in both the Constitutions of Bangladesh and Norway. The Norwegian Embassy in Bangladesh is deeply concerned about continued attacks on those rights and an attempt to undermine the constitutional rights of Bangladeshi citizens. University students, like all Bangladeshis, have a right to protest and practice their democratic rights. As friends of Bangladesh, we stand together with protesting students in their demands for their right to assembly and their right to articulate their concerns to be protected by the rule of law.”

হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন কার্লাইল

অবশেষে লর্ড কারলাইল দিল্লি যাচ্ছেন।
সকল জল্পনা কল্পনা ও শেখ হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবি ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য আলেক্স কারলাইল তাঁর দিল্লি যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন !

কার্লাইল যাতে দিল্লিতে গিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে আরোপিত বেআইনী জেল জুলুম নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে না পরেন, সেজন্য ঢাকার অবৈধ সরকার গলদঘর্ম চেষ্টা করে। কার্লাইলকে যেভাবে ঢাকায় আসতে দেয়নি হাসিনার সরকার, সেভাবেই ভারতেরর ভিসা ঠেকিয়ে দিতে দিল্লি হাতে পায়ে ধরে চেষ্টা করে সেগুণবাগিচা, এবং খানিকটা সফলও হয়। কারলাইলের ভিসা প্রথম দফা আটকে যায়, এবং প্রেস কন্ফারেন্সের ভেন্যু বাতিল করে দেয়। এজন্য ঢাকা থেকে দিল্লিতে ছুটে গিয়েছিলেন হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম।

কিন্তু লর্ড কার্লাইলও দমবার পাত্র নন। সাবেক বৃটিশ কলোনী ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার বৃটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্যের ভিসা আটকায় কি করে? যেভাবেই হোক, প্রভাব খাটিয়ে কারলাইল ভারতের ভিসা নিয়েছেন, দিল্লি যাচ্ছেন, প্রেস কনফারেন্স এবং অন্যান্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করবেন।

হাসিনা যেভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছেন, তার জবাবে কার্লাইলের এই দিল্লি মিশন হবে একটি চরম চপেটাঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অবৈধ সরকার শত চেষ্টা করে ঠেকাতে চাইলেও তাদের অপকর্মের জন্য এভাবে ঘাটে ঘাটে খেসারত দিতে হচ্ছে।

ঢাকার ছাত্র আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন!

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন লাভ করলো। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা দেশ গঠনের মৌলিক নীতির বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। এছাড়া সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক চর্চায় পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছে তারা। সোমবার নিজস্ব ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কান্ডারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নৃশংস হামলা দেশ গঠনের মৌলিক নীতির বিরোধী। যারা বাক-স্বাধীনতা, সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদসহ মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করে মার্কিন সরকার তাদের পাশে আছে। ওই পোস্টে হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা হয়, ‘পিসফুল প্রোটেস্ট বিডি’ অর্থাৎ এতে বাংলাদেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। দূতাবাসের টুইট বার্তায়ও ‘পিসফুল প্রোটেস্ট বিডি’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে অভিন্ন মেসেজটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বার্তাটি হুবহু নিম্নরূপ-
The outrageous attack on peaceful demonstrations by university students, the future leaders of Bangladesh’s proud democracy, is counter to the founding principles upon which our countries are established. The U.S. government stands together in solidarity with those exercising their fundamental democratic rights – freedom of speech, freedom of assembly, and the right to engage in peaceful protest. #PeacefulProtestBD

জাতিসংঘের অধীনে নির্বাচনের আভাস দিয়ে গেলেন মহাসচিব!

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমকে নিয়ে বাংলাদেশে দু’দিনের সফর করে গেলেন। বৃটিশ কমনওয়েলথ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ডও একই সাথে ঢাকা সফর করেন। এসব ভিআইপিরা আলাদা আলাদা ভাবে বাংলাদেশে এলেও এদের কর্মসূচি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছিল। লীগের সরকরের শেষ সময়ে এতগুলো হাই পাওয়ার সফর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আ’লীগকে যে সুখে থাকার কথা, তা লক্ষ্য করা যায়নি। অন্য সময় হলে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তিলকে তাল বানিয়ে দেশবাসীর কাছে প্রচার করতে আ’লীগকে মহাতৎপর দেখা যেতো। এমনকি সরকারের উন্নয়নের সাথে জাতিসংঘ আছে, অা’লীগের সরকার অবৈধ নয় বরং জাতিসংঘের স্বীকৃতি আছে- এমন প্রোপাগান্ডাও হওয়ার কথা ছিল!
 
কিন্তু অবাক করা কান্ড হলো – এর কোনোটাই এবার করতে পারেনি আওয়ামী লীগ! এই সফরগুলিকে ক্যাশ করার আওয়ামীলীগের তেমন কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়নি! বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে বৈ কি! 
 
তাহলে ঘটনা কি? একটি সোর্স জানিয়েছে, এতগুলো হাই পাওয়ার সফরে আওয়ামী লীগের জন্য কোনো সুখকর বার্তা ছিল না, বরং ছিল বিপজ্জনক কিছু। রোহিঙা শিবির পরিদর্শনের নামে হলেও এই সফরগুলি আসলে ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানী সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিককে উদ্ধৃত করে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। রোহিঙা ইস্যুতে হলে এত মন্ত্রিদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিবের গুরুত্বপূর্ন বৈঠকের কোনো কারন নাই, তাছাড়া সফরটি এত লম্বা হওয়ারও কথা নয়। এমনকি বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টকেও সাথে নিয়ে আসার কোনো কারণ নাই। সুত্র জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বব্যাংক প্রধানকে সাথে করে শেখ হাসিনাকে পরিস্কার বার্তা দিয়ে গেছেন- “বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধ পরিকর। ২০১৪ সালের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। আসন্ন নির্বাচন সবাইকে নিয়ে সুষ্ঠু ভাবে করতে হবে। অন্যথায় জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা হবে।” এসব কথা শোনার পরেই হাসিনার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে- অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে লীগ সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
 
এরই প্রকাশ দেখা গেলো গাজীপুর নির্বাচনের অনিয়ম সংক্রান্তে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের একটি মন্তব্যের পরে সরকারের অস্থিরতা ও উল্টাসিধা আচরণ ফেটে পটে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আচরণকে সন্দেহজনক চোখে দেখা শুরু করে। সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রীদের খিস্তি খেউড় চলে অবিরাম, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্রও মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে টুইটে আক্রমন করতে দেরী করেনি। এখনও প্রতিদিনই সরকার পক্ষের কারো না কারো চিৎকার চেচামেচি চলছেই।
 
অনেকদিন শান্ত থাকার পরে কোটাবিরোধী আন্দোলন হঠাৎ অতিমাত্রায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সরকারী বাহিনী ও ছা্ত্রসংগঠনের অতিমাত্রায় শক্তিপ্রয়োগ ও গুন্ডামি চালাচ্ছে, তাতে সরকারের ভেতরকার আতঙ্কের চিত্র ফুটে উঠছে প্রকটভাবে। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবীতে বিএনপি ৫ জুলাই থেকে রাজপথে নামতে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং কার্যকারণ একটি আরেকটির সঙ্গে সমন্বয় করে চুড়ান্ত সমাপনীর দিকে যাবে বলে জানায় সূত্রটি।

মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপির নেতৃত্বে নতুন জোট আসছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি সর্বদলীয় মোর্চা গঠনের উদ্যোগে সহযোগিতা করছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে একটি উদারপন্থীদের নির্বাচনী প্ল্যাটফর্ম গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছে দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। মূলত: মার্কিন উদ্যোগের কারণেই চলতি মাসেই বিএনপির নেতৃত্বে সংলাপ শুরু হচ্ছে। এই সংলাপে বিএনপির সঙ্গে থাকবে বিকল্পধারা, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি এবং গণফোরাম। আসতে পারে কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বধীন দলগুলো। সুত্র জানায়, সফল ভাবে সংলাপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী আগস্ট মাসে একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই জোটই আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে।

তবে গঠিতব্য জোটের নেতা কে হবেন তা নিয়ে এবং ২০ দলীয় জোটে জামাতের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও খুব শিগগিরই যে বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসছে সেটি নিশ্চিত। জোট গঠন উপলক্ষে খুাটনাটি ঠিক করতে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ আলোচনার জন্য বিএনপি মহাসচিব মীর্জা আলমগীর ইতোমধ্যে লন্ডন সফর করে
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা লাভ করেছেন। অন্যদিকে ডক্টর কামাল হোসেনও মাসব্যাপি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

নতুন জোট গঠনের আলোচনার মধ্যে যুক্ত হয়েছে আরও দু’টি বিষয়- বিরোধী জোটের আন্দোলন এবং নিরপেক্ষ অন্তর্বতী সরকারের বিষয় নিয়ে কূটনীতিকদের দৌড়ঝাপ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট কারচুপি ও অনিয়ম নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কড়া মন্তব্যের পরে সরকার তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আ’লীগ সরকারের সম্পর্কের অবনতির হুমকিও এসেছে। মোটকথা নতুন জোট গঠন, আন্দোলন, নিরপেক্ষ সরকার, এবং নির্বাচন প্রকৃয়া একটি আরেকটির সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে কাজ করছে।

খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে বিল ক্লিনটন বললেন- ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স ইজ নাউ ডিফিকাল্ট

এরদোগানের বিজয় কি তুরস্কে বিলুপ্ত ওসমানীয় সাম্রাজ্যের নতুন বাহক হবেন?

নির্বাচনের ফলাফল: পার্লামেন্টও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল এরদোগানের পার্টি
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান। প্রথমবারের মতো একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগান ও তার জোটের ঐতিহাসিক বিজয় হয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপি’র প্রার্থী মুহাররেম ইনস এ পর্যন্ত পেয়েছেন ৩০ দশমিক ৬৮ শতাংশ ভোট। এখন পর্যন্ত মোট ৯৯ দশমিক ১১ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছে।

এদিন একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পার্লামেন্ট নির্বাচনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে এরদোগানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স।

৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ৫৩ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে এরদোগানের জোট। সিএইচপি’র নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩৪ দশমিক ০৪ শতাংশ ভোট।

৬০০ আসনের পার্লামেন্টে এরদোগানের দল একে পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২৯৩ জন এমপি। জোট শরিক এমএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৫০ জন। সিএইচপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ১৪৬ জন এমপি। তাদের জোট শরিক ইয়ি পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ৪৪ জন।

২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এরদোগান। ২০১৪ সালেই তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইস্তাম্বুলের মেয়র ছিলেন। তার প্রধান সমর্থক হচ্ছেন রক্ষণশীল এবং ধার্মিক অপেক্ষাকৃত বয়স্ক তুর্কিরা।

তিনি তুরস্কের এতকাল ধরে চলে আসা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধকে শক্তিশালী করেছেন এবং তার সময়ে দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।

এরদোগানের ্সাম্প্রতিক উত্থানে তুরস্কের বিলুপ্ত ওসমানীয় সভ্যতা নিয়ে অনেকেই উৎসাহী হয়ে ওঠেন। ইসলামী বিশ্বের দুর্যোগময় পরিস্থিতির এরদোগানের এ বিজয়ে তুরস্কের ওসামানীয় সভ্যতাকে হাতছানি দিচ্ছে কিনা তা সময়ই বলে দিবে।

ভারতের প্রতি কেবলই কৃতজ্ঞতার সুর হাসিনার গলায়, কৌশলে এড়ালেন তিস্তা প্রসঙ্গ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শান্তিনিকেতনে বহু প্রতিক্ষীত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদী ও শেখ হাসিনা। শুক্রবার (২৫ মে) উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এদিন হাসিনার বক্তব্যজুড়ে ছিল দু’দেশের যৌথ ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের নানা অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা। মুজিবকন্যা এদিন বলেন, ২০১০ সালে ভারত সফরে এসে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ ব্যাপারে কথা বলেছিলেন তিনি। ভবন নির্মাণের ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। প্রায় ৮ বছরের মাথায় আজ বাস্তবায়িত হল দুই বাংলার স্বপ্ন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হল গুরুদেবের আশ্রমে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রত্যেকটি কথায় উঠে এসেছে ভারতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসার কথা।

ছিটমহল বিনিময়, সীমান্ত চুক্তির প্রসঙ্গ উত্থাপন করে হাসিনা বলেন, ‘‘মুজিব-ইন্দিরার চুক্তির পর বাংলাদেশে আগেই স্থলসীমান্ত চুক্তি নিয়ে আইন পাশ হয়ে গেলেও ভারতে সেটা হয়নি। ভারতে দীর্ঘদিন পরে ভারতের সংসদে ‘৭১ সালের মতো দলমত নির্বিশেষে সকলে মিলে সব সংসদ সদস্য মিলে এক হয়ে বিলটি পাশ করে দিল। স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হল।’’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছিটমহল নিয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশ যেভাবে ছিটমহল বিনিময় করেছে, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান হাসিনা।   হাসিনা বলেন, ‘‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আমাদের বড় বন্ধু। ভারতের অবদান আমরা ভুলব না। যে কোনও সমস্যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে সমাধান করতে পারব। আমাদের উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’’

বক্তব্য রাখার মাঝেই ১৯৭৫ সালের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। কীভাবে সেসময় তাঁদের পরিবারের ওপর হামলা চলেছিল, কীভাবে তাঁর আত্মীয়রা প্রাণ হাতে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, সেসময় কীভাবে ভারত পাশে দাঁড়িয়েছিল, তারই স্মৃতিচারণা করেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘সেইসময় ভারত যদি আমাদের পাশে না দাঁড়াত, তবে জানি না আমাদের কী হত। সেসময় ভারতের স্নেহছায়া যদি না পেতাম, যদি আমাদের জীবন অন্যদিকে মোড় নিত।’

এদিন রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও উঠে আসে হাসিনার কথায়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা তাদের তাড়াতে পারিনি। এক্ষেত্রেও আমরা ভারতকে পাশে পেয়েছি।’

বাংলাদেশ ভবনে যে দুই দেশের ভাষা, বাংলা ভাষার চর্চা হবে, তা নিয়ে গবেষণা হবে, এদিনের বক্তৃতায় সেকথাই বারবার বলেছেন শেখ হাসিনা। ‘ভারত বাংলাদেশ বন্ধুত্ব দীর্ঘজীবী হোক-এ কথায় বলে নিজের বক্তব্য শেষ করেন হাসিনা।

এদিনের অনুষ্ঠানে কথার বলার মাঝে, একবার তিস্তা প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি শেখ হাসিনা। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি এখনও রূপায়িত হয়নি। এই নিয়ে কি অনুষ্ঠানের বাইরে মোদী-হাসিনা আলোচনা হবে না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

এরপরই বক্তৃতা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন তিনিও। সব পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশের পাশে থাকার আরও একবার আশ্বাস দেন মোদী।

/সাউথ এশিয়ান মনিটর

« Older Entries