Category Archives: আন্তর্জাতিক

নির্বিঘ্নে ভোট দান ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সর্বসম্মত বিল পাস

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সর্বসম্মত বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস।

একিসঙ্গে নির্বাচনে ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে তাদের ভোটে অংশ নিতে পারে, স্বাধীন মত প্রকাশে যেনো কোনো রকমের বাধা প্রদান না করা হয় সে বিষয়েও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে পাস হওয়া বিলটিতে।

বাংলাদেশে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিলটি বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর ১১৫ তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রেজ্যুলেশনটি (নং-১১৬৯) উপস্থাপন করেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং, যিনি একাধারে পররাষ্ট্র বিষয়ক কংগ্রেসনাল কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য।

রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পরপরই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাউজ কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সে। কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স বুধবার রেজ্যুলেশনটি কংগ্রেসে উত্থাপন করে। বাংলাদেশ বিষয়ক এ রেজ্যুলেশনে বিল কিটিং ছাড়াও অংশ নেন কংগ্রেসম্যান টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবট, কংগ্রেসম্যান জেরি কনলি ও কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সটো।

কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ২.৪৫ মিনিটে তা বিল আকারে সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শুধুমাত্র স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই দেখতে চায় উল্লেখ করে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আবারো তার দৃঢ় অবস্থান পুর্নব্যক্ত করছে।

বিলে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষকে জনগণের মত প্রকাশে বাধা না দেওয়া এবং মিডিয়াকে মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেবার আহবান জানানো হয়।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করে পাস হওয়া বিলটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আর নির্বাচন আয়োজনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন অটুট থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল এবং শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলদের উচিত নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দেয়া। সর্বাগ্রে সবাইকে এ বিষয়টি নিশ্চত করতে হবে যেন ভোটাররা বাধাহীনভাবে আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

এতে বলা হয়, নির্বাচন যেন পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিলটিতে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার এবং উদারতা প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের প্রশংসা করা হয়।

এর আগে গত ৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নিয়ে উত্থাপিত রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কাঠামো রক্ষায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জরুরি।

এতে বলা হয়, প্রকৃত একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো। নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, যথাযথ, নিরাপদ এবং ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, যদি গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আক্রমণ হয় তবে তা হবে বাংলাদেশের জনগণের আত্মত্যাগকে অবজ্ঞা করার শামিল। একিসঙ্গে দেশটি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাকে না মানার শামিল।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিরােধীদলগুলো পক্ষপাতের আর অনিয়েমর কারণেই ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
/জাস্ট নিউজ

 

Content Protection by DMCA.com

রাষ্ট্রদূত মার্শার উপর আওয়ামী হামলার জবাবে মার্কিন অ্যাকশন শুরু: নানকের ভিসা বাতিল, সেনাপ্রধানের স্ত্রীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখান!

Content Protection by DMCA.com

হঠাৎ করেই ঢাকার উপরে মার্কিন অ্যাকশন শুরু। গত রবিবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। সূত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

একই দিনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। খুব দ্রুততার সাথে মিসেস দিলশাদের  ভারতের ভিসা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে কি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি করছে? এমন খবর জানাজানি হওয়ার পরে নড়ে চড়ে বসে সরকার ও তাদের লোকজন। সরকারের শেষ মুহূর্তে আমেরিকান ভিসার সংগ্রহের জন্য মাদানী এভিনিউতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিড় কমে যায়! চাউড় হয় – আমেরিকান অ্যাকশন শুরু!

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেসব কারণে মার্কিন ভিসা বাতিল হতে পারে তার একটি হলো আর্টিকেল ৯, যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকের উপর আক্রমণ, আঘাতের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র হলে কারও ভিসা বাতিল হতে পারে। এই আর্টিকেল ৯ অনুযায়ী নানকের ভিসা বাতিল হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র জানায়। নানকের শুধু ভিসাই বাতিল হয়নি, আমেরিকান চাপে তাকে চলমান সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকে আ’লীগ।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৫ আগস্ট রাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সুশাসনের জন্য সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মিষ্টার মজুমদারের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। ঐ দুবৃত্তরা সেখানে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলা চালায়, রাষ্ট্রদূতকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়। হামলায় রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং চালক আহত হয়। উল্লেখ্য, ঐ সময় দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ চলছিল, এবং দিনে বেলায় ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রলীগ যুবলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক, এমনকি জনসাধারনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী নিহত হয়েছে, এবং আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি অফিসে একাধিক ছাত্রী ধর্ষনের খবর সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা গুজব হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। ঐ রাতেই অদূরে মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জনমনে চাউর হয়, ধানমন্ডি মোহাম্মপুর এলাকার সরকারী দলের একই অস্ত্রধারীরা রাষ্ট্রদূতের উপর হামলা চালায়, যাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের হাতে!

মার্কিন দূতাবাস ঐ হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পত্রযোগে অবহিত করে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের পরিবর্তে আ’লীগ সরকার উল্টো রাষ্ট্রদূতকেই ঘটনার জন্য দায়ী করতে থাকে, এমনকি রাষ্ট্রদূত সেখানে সরকার পতনের চক্রান্ত করছিলেন বলে অভিযোগ তোলে। এরি মাঝে ওয়াশিংটন থেকে এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্খা ঢাকায় এসে হামলার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সাথে সরকারের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। হামলায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমান সংগ্রহ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। কিন্তু তারপরও ঢাকার প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্রিবতকর অবস্খায় পড়ে রাষ্ট্রদূত মার্শাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে দ্রুত ফেরত নিয়ে যায় হেডকোয়ার্টারে। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত করে পাঠায় প্রাক্তন মেরিন কর্মকর্তা আর্ল রবার্ট মিলারকে।

ঢাকায় যোগ দিয়েই রাষ্ট্রদূত মিলার সেগুণবাগিচার পররাষ্ট্র দফতরে মন্ত্রী সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জানতে চান- রাষ্ট্রদূত মার্শার ওপরে হামলার তদন্তের অগ্রগতি কতদূর। কিন্তু তিনমাস পরেও সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি, বরং উল্টো রাষ্ট্রদূত মার্শার দিকে দোষের আঙ্গুল তোলে। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যাকশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অবশেষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার দূতাবাস জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিসা বাতিল করে।

তবে এখানেই শেষ নয়, আমেরিকান স্বার্থে আঘাত করার দায়ে আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকায়। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের স্ব্রীর ভিসা আবেদন নাকচে সরকারের টনক নড়ে গেছে, কেননা এটি দশটা মন্ত্রী ফেলে দেয়ার মত ভয়াবহ সংকেত।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি রেজ্যুলেশন উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য উইলিয়াম কিটিং। তিনি এ রেজ্যুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানান। ওই কমিটিতে পর্যালোচনা শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, ইসলামী উগ্রপন্থা, শরণার্থী সংকট অন্যতম। এ ছাড়া দেশটিতে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো আঘাত বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের জন্য অবমাননাকর।

একই সঙ্গে তা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি দেশটির দায়বদ্ধতাকেও ক্ষুণ্ন করে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে রেজ্যুলেশনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে উৎসাহিত করার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, সব ভোটারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়, সেটাই ন্যায্য নির্বাচন।

রেজ্যুলেশনে গত জাতীয় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কায় বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এবং মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আরো সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়া। এ ছাড়া, রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার প্রশংসা করা হয়।

/যাস্ট নিউজ

Content Protection by DMCA.com

বিএনপি আ’লীগের সাথে কূটনীতিকদের চ্যাঞ্চল্যকর বৈঠক: প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা!

Content Protection by DMCA.com

 

বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না সেটি নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে এ বৈঠকটি বুথবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিতি একজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে পরিবেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা।

এ বৈঠকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এ বৈঠকে বিএনপি’র দিক থেকে যোগ দিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান।

আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শেদ।

বদিউল আলম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সাথে রেফারির ভূমিকা পালন করে সেটি তুলে ধরেছেন তিনি।

নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা সেটি ভেবে দেখতে হবে। বিগত কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং নানা ধরণের মামলার মাধ্যমে ঘরছাড়া করা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে, ভোটের দিন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে, ভোট কেন্দ্র আংশিক কিংবা পুরোপুরি দখল করা।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় এ ধরণের পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের দল কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে সে বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।

মি: চৌধুরী বলেন, “এখন তো সরকার আর নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রোটেকশন করতেই ব্যস্ত। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা, আমরা প্র্যাকটিকালি নিচের দিকে যাচ্ছি।”

এ বৈঠকে বিএনপির দিকে থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন অতীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন মোটামুটি একটি শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের অন্যতম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

“তারা (বিএনপি) কমপ্লেইন দিয়েছে যে আমাদের ক্যান্ডিডেটকে বাতিল করা হয়েছে। আমাদের কথা হলো এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। এটা তো ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই,” বলেন মেহজাবিন খালেদ।

মেহজাবিন খালেদ এ আয়োজনকে বৈঠক বলতে রাজী নন। তিনি বলছেন, এটি ছিল কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি ব্রেকফাস্ট’। তারা বিভিন্ন সময় এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে নানা বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।

এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দিক থেকে তেমন কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো তারা শুধু শুনেছেন কূটনীতিকরা।

তবে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট-এর (এনডিআই) একজন প্রতিনিধি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেদিকে সবার নজর দেয়া উচিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন সুষ্ঠু হবেতো দূরে কথা, এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি: হাউস অব কমন্সের প্রতিবেদন

Content Protection by DMCA.com

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচনের পরিবেশ ও পর্যবেক্ষক নিয়ে ইইউর নামে বানোয়াট স্টেটমেন্ট আনতে সরকারের লোক ভাড়া!

Content Protection by DMCA.com

“বাংলাদেশে  সংসদ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে, আর এ কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন”- ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নামে এমন একটি খবর সকল মিডিয়াতে গতকাল সারা দিন চালিয়েছে সরকার! এ নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। যে টিমকে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছে, তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বৈদেশিক কমিটি বা টিম নয়, বরং শেখ হাসিনার সরকারের ভাড়া করে আনা একটি টিম। এভাবে ইউরোপিয়ান টিমের সার্টিফিকেট নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্যয নিয়েছে! আসলে দেশের মানুষকে ধোকা দিতে আ’লীগ সরকার উচ্চ মূল্যে ভাড়া আনা একটি টিমকে দিয়ে বলাচ্ছে। এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার ও জালিয়াতি ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশের মিডিয়াতে যা প্রচার করা হয়েছে, আসলে তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঠিক অবস্থান নয়। যে ৯ সদস্যের সফরকারী টিম বাংলাদেশ ভিজিট করে গিয়ে হাসিনার পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করে গেলো, সেটি সত্যিই ইউ’র এক্সটার্নাল এফেয়ার্সকে রিপ্রেজেন্ট করেনা। এদেরকে ভাড়া করে আনা হয়েছে শেখ হাসিনার তথাকথিত উন্নয়ন দেখাতে, এবং তার পক্ষে স্টেটমেন্ট দিতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলে এটি www.sadf.eu নামের একটি লবিস্ট গ্রুপের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছে, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে ব্রাসেলসে বাংলদেশ দূতাবাস। রুপার্ট ম্যাথিউ ইউ’র এই ধরণের পার্লামেন্টারি কমিটির কোন সদস্য নয়। উনি এমপি বটে, তবে তাকে হাসিনা সরকার তাকে মূল্য দিয়ে ভাড়া করে এনে বাংলাদেশের জনগনকে বোকা বানাচ্ছে!

নির্বাচন নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ টিম ঢাকায় আসবে ২৭ নভেম্বর। তারা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পরিবেশ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবেন। এসময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান বিচারপতি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইইউ দলটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিরত থাকলেও এই দুই বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ব্রাসেলসে ইইউ’র সদর দফতরে তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন।’ বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারাও বলছেন, ‘তাদের এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের দেওয়া রিপোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখবে।’অথচ, এই বিশেষজ্ঞ টিমের সফরের আগেই ভাড়া করে আনা কয়েক ব্যক্তিকে নিয়ে বলানো হচ্ছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ আছে, তাই ইইউ তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না! এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার।

উল্লেখ্য, ঐ টিমটি যে ভাড়া করা টিম, এবং সেটা ইইউর সত্যিকারের টিম নয়, তার প্রমান হলো, ঐ দলটির বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি, এমনকি প্রেস কনফারেন্সের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিঙ্কের উপস্থিত ছিলেন না, এবং তাদেরকে ইইউর পতাকা বহন করতে দেখা যায়নি।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত কি তার কৌশল বদল করেছে?

Content Protection by DMCA.com

দু’হাজার তেরো সালের ডিসেম্বর মাস। ঢাকায় এক সফরে এলেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। তিনি দেখা করলেন জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদের সাথে, বলা হয় – তিনি তাকে অনুরোধ করেছিলেন পরের বছর ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য। এই সফর তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

কারণ তার আগে জেনারেল এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় এবং বাংলাদেশে এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় – যার ফলে সংশয় দেখা দেয় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে নিয়ে।

নির্বাচনের অংশ নেবার জন্য সুজাতা সিং এরশাদকে অনুরোধ করলেও তিনি তখন রাজি ছিলেন না। তবে সরকারের চাপে পড়ে এরশাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনের এক মাস আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরকে তখন অনেকেই বিবেচনা করেছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর ভারতের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে সেই ভারতই এবার খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছে না বলে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত প্রকাশ্যে যেভাবে পক্ষ নিয়েছিল সেটি এবার দেখা যাচ্ছে না।

যদিও এবারের নির্বাচনে এরই মধ্যে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতিও বদলেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের নিস্পৃহ ভাব দেখানোর বিষয়টি হয়তো তাদের কৌশলে কোন পরিবর্তন হতে পারে।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো প্রকাশ্যে সমর্থন দেখানোর চাইতে আড়ালে কলকাঠি পরিচালনা করাটাই ভারতের জন্য ভালো হতে পারে। এমটাই বলছেন বাংলাদেশে কেউ-কেউ।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত উদাসীন থাকবে, এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম।

অধ্যাপক মাসুম বলেন, “আমি মনে করি বিজেপি সরকার দৃশ্যত নিঃস্পৃহ ভাব দেখালেও তারা ভেতরে-ভেতরে ভারতমুখি একটি সরকার চাইবে। সেক্ষেত্রে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে দেখতে চাইবে এটা খুবই স্বাভাবিক।”

শুধু ২০১৪ সালের নির্বাচন নয়, ২০০১ সালের নির্বাচনেও ভারতের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রতিজ্ঞা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা থাকুক কিংবা না থাকুক – তার চেয়েও বড় কথা হলো: বিএনপি তার দলের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কারণ, ২০১৪ সালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির যে মূল দাবি ছিল, সে দাবি তারা এবারো তুলেছিল। কিন্তু সেটি পূরণ না হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে একই সাথে গত বেশ কয়েক বছর ধরে দলটি ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টাও করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারতের আগ্রহের চাইতে বরং বেশি কাজ করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ।

মি: আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কোন সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলনই যে সব সময় হবে তা নয়। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে এমন অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে – যাদের ভারত চায়নি।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিফিং : বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তারা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কার্যকর উদ্যোগ নেবার কথাও বলেন কেউ কেউ। সরকারকে বাংলাদেশ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে জোর আরোপ করেন বক্তারা। বাংলাদেশে অব্যাহত গুম ও খুনের ঘটনা অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র হাউস কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া প্যানালিস্টরা। ব্রিফিংটির আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্র হাউজ কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি হিউল্টন ও কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগভার্ন।

ন্যাশনাল এন্ডুমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনা দেবের সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে প্যানালিস্ট বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডাইরেক্টর জহন সিফটন, ইউনাইটেড স্টেইটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পলিসি অ্যানালিস্ট ওয়ারিস হোসাইন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইউএসএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লাউরা বর্মন।

জন সিফটন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এক সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। এবারের নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু হবে বলেও আশা করা কঠিন। কারণ বিরোধী দলের বহু নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও ১৯ জন বিএনপি নেতা গুম হয়েছে। প্রায় হাজারের মতো মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিক কতজন লোক রাজনৈতিক কারণে কারাগারে আছেন তা নিরূপন করা কঠিন।

তিনি আরো বলেন, সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এতই নাজুক যে, তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা কঠিন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। স্কুলছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলায় সাংবাদিক শহিদুল আলমকে কারান্তরীণ করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণে ইতোমধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসই পারে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সরকারকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করতে। কারণ কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন ডেমোক্রেটদের রয়েছে।

ওয়ারিশ হিউস্টন বলেন, নির্বাচনকে সামনে নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার আশংকা রয়েছে যেমনটি আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি কওমী সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে সংবর্ধনা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জিয়া উদ্দিন।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন-মানবাধিকার নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টে বিতর্ক

Content Protection by DMCA.com
Content Protection by DMCA.com

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে সেনা শাসন, শেখ হাসিনা যাবে জেলে: নেপালের পত্রিকার খবর

Content Protection by DMCA.com

আগামী অক্টোবরের মধ্যভাগ থেকে শেষ দিকে বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর জন্য সেনাবাহিনী তৈরি হয়েছে, এমন খবর দিয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু ট্রিবিউন। বাংলাদেশে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাধারন নির্বাচনে বরতমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আর সে কারনেই সেনা শাসন দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীরা বিদায় হতে চাইছে।বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী গত ৫ সেপ্টেম্বর ‘সাউথ এশিয়া মনিটরে’ বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে এক মন্তব্য প্রতিবেদন লিখেছেন। পিনাক রঞ্জন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সাবেক সচিব এবং দিল্লী ভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের একজন অন্যতম ফেলো। তার লিখিত আর্টিকেলের নাম ‘শ্যাডো অব ইন্ডিয়া হাসিনা গভর্নমেন্টস করাপশন, রিপ্রেশন অব বিএনপি লুমস ওভার-বাংলাদেশ পোলস’, যার বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভারতীয় ছায়া হাসিনা সরকারের দুর্নীতি, বিএনপির উপর নির্যাতন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর দোদুল্যম্যান’।

এই আর্টিকেলের শুরুতে পিনাক রঞ্জন বলেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচনী মুডে যাবে। আর তা যদি হয়, তাহলে নির্বাচনের হাওয়া শুরু হতে আরও কয়েক মাস। অর্থাৎ এক্ষেত্রে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ পিনাকেরও রয়েছে। পিনাক রঞ্জনের এই আর্টিকেলের নিরিখে কাঠমুন্ডু ট্রিবিউনে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয় গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক বেনজামিন মেন্ডেজ লিখিত আর্টিকেল, যারশিরোনাম ‘বাংলাদেশ হেডিং টুয়ার্ডস মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ’ অর্থাৎ বাংলাদেশ সামরিক এক নায়কতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পিনাক তার আর্টিকেলে লিখেছেন, ‘‘হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগ, বিরোধীদের তাড়া করা, এবং অবাধ দুর্নীতি। এই বিষয়াবলী এবং ভারতীয় ফ্যাক্টর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব থাকবে। ক্রমাগত রাজনৈতিক বিরোধীদের হয়রানি করা জনগণের মধ্যে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব যেমন সৃষ্টি করেছে তেমনি এমন অনুভূতি জাগিয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকার অবিরামভাবে গণতান্ত্রিক বিধি ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করছে। ফলে মানুষের মনে এই ধারণা জন্ম নিচ্ছে যে, যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আওয়ামী লীগ বিব্রতকর সংখ্যালঘু দলে পরিণত হবে। অনেক সমালোচক বিশ্বাস করেন যে, হাসিনা সরকার নির্বাচন ম্যানেজ ন (নির্বাচন কারচুপি) করবে। পিনাক লিখেছেন ‘সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে, প্রত্যেক জাতীয় প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের আপোষকামিতা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দলীয় সমর্থক দ্বারা ভরে দেয়া হয়েছে। আর জাতীয়ভাবে ড্রাগ বিরোধী যে তৎপরতা তাকে ‘গুলি করে হত্যার’  নীতিতে পরিণত করে অনেক নিরাপরাধীদের হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার, সংগঠনগুলো যে অভিযোগ করেছে,  সুপ্রিমকোর্টের সাবেক চিফ জাস্টিস সরকারের গ্রেস থেকে বাদ পড়েছেন এবং তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে বিদেশে আশ্রয় চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। হিন্দু সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও তারা এখন ক্ষুব্ধ ও রাগান্বিত, কারণ আওয়ামী নেতারা হিন্দু সম্পত্তি গ্রাস করেছেন। আর গ্রাসকারীদের শায়েস্তার ব্যবস্থা থেকে রেহাই দিয়েছে। আওয়ামী নেতারা ভাবেন যে,  আওয়ামী লীগকে সমর্থন করা ছাড়া ভারতের উপায় নেই। আর  তাই ভারত হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করবে না।

আরেক আর্টিকেলে সাউথ এশিয়া মনিটরে চন্দন নন্দী ২০০৭ সালের পুনরাবৃত্তির কথা বলেছেন। চন্দন নন্দীর আর্টিকেলের শিরোনাম,  ‘হাসিনা হার্ডেনস স্ট্যান্ড, বাংলাদেশ মে হেড ফর রিপিট অব ২০০৭, বাট উইল বিএনপি প্লে বল?’ অর্থাৎ ‘হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু বিএনপি কি সেভাবে বল খেলতে পারবে?’

পংকজ আরও লিখেন,  আজ আওয়ামী লীগ কঠোরভাবে কোন গ্রাউন্ড সৃষ্টি করতে নারাজ। এমন কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির অবস্থায় পুনবিন্যস্ত করতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সজীব করতে এবং নির্বাচনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করতে যারপর নাই নারাজ। কিন্তু তার ব্যবস্থা করা আজ সময়ের দাবি। অন্তত আওয়ামী লীগের পক্ষে নির্বাচন পিছিয়ে দেয়া অনিবার্যকালের জন্য? এই ধরনের স্ট্যান্ড কি সেনাবাহিনীকে বাধ্য করতে কিংবা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, যা তারা ২০০৭ সালে করেছিল? অবশ্য সেখানে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবেচনাধীন ব্যবস্থা রয়েছে- তা হলো নয়াদিল্লী, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ‘পথ ও মত’ নিয়ে কী ভাবছে, যা নির্বাচন স্থগিত করার জন্য যথেষ্ট প্রয়োজন। যাতে স্বাভাবিক ব্যবস্থা বলবৎ হয়। আর তা সহিংসতা,  বল প্রয়োগ ও অব্যবস্থাপণা থেকে মুক্ত একটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে।

সাউথ এশিয়ান মনিটরের সাথে কথা বলতে নিয়ে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার ও বিদেশ সচিব দেব মুখার্জি স্বীকার করেন যে,  শেখ হাসিনার সরকার অনেক ভুল করেছে, আর ঢাকার রাস্তার আন্দোলন নিয়ে বলপ্রয়োগ এ বিষয়কে আরও বড় করেছে। এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার শহীদুল আলমকে অহেতুক গ্রেফতার করে রেখেছে। সেসব বড় ভুল এবং বেকুবের মত কাজ। কিন্তু বেঞ্জামিন মেন্ডেজের মতে দেব মুখার্জি আস্থা জ্ঞাপন করেন যে,  আওয়ামী লীগ নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ জানে যে,  তারা তা না করলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারা অপবাদের সম্মুখীন হবে। দেব মুখার্জি যখন বলেন নির্বাচন হবে-তবে সে নির্বাচন কখন হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। এটা বলা কঠিন অথবা অগ্রিম ধারণা করা কঠিন ,যে অরাজনৈতিক সেনাবাহিনী কি ভূমিকা নেয় আগামী সপ্তাহ বা মাসগুলোতে।

ঢাকায় পিকচার নামে একটি সংগঠন (থিঙ্ক ট্যাঙ্ক) থেকে বলা হয় আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে না, বা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেবে, তা আগামী অক্টোবর মাসে পরিষ্কার হবে। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক থেকে বলা হয়,  বিএনপি এর মধ্যে আন্দোলন শুরু করতে পারে। যদিও বিএনপি জানে যে,  আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করার শক্তি তাদের নেই। তারপরও তারা আন্দোলন করবে। আর সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে বর্তমান অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পথ করে নিতে হবে।

বেঞ্জামিন মেন্ডেজ তার আর্টিকেলে এক সাবেক জেনারেলের নামোল্লেখ না করে লিখেন, ‘নিজের নাম গোপন রাখতে ইচ্ছুক ডেমস্টিক রাজনীতি নিয়ে এক পর্যবেক্ষক সাবেক জেনারেল বলেন যে, আওয়ামী লীগ তার জনপ্রিয়তাহীন অবস্থার নিরিখে দু’টি পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত: কিছু সময়ের জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে আসন্ন ইলেক্টরেল বা নির্বাচনী পরাজয় এড়িয়ে নিজেদের জন্য একটি এক্সিট রুট খুঁজে নেয়া। আর দ্বিতীয়ত: নির্বাচন স্থগিত করা। ‘ধরুন দু বছরের জন্য’ এবং জাতীয় ঐক্যের সরকারের জন্য শর্তাবলী সৃষ্টি করা। জেনারেল বলেন এই ব্যবস্থা আওয়ামী লীগকে সাময়িক কালের জন্য নিজেদের ড্রাই ক্লিনের সুযোগ করে দেবে যাতে ভবিষ্যতে সুযোগ বুঝে তারা আবার নির্বাচনে আসতে পারে।

এই দুটি আর্টিকেল নিয়ে বেঞ্জামিন মেন্ডেজ বলেন, অধিকাংশ পাঠক এবং আমার পক্ষে বাংলাদেশের আগামী রাজনীতির ভবিষ্যত কি হতে পারে, তা সমীক্ষা করা সহজ। বেঞ্জামিনের মতে শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে কোর্টকে ডিল করতে পারেন, যেখানে খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে মৃত্যুদন্ড দিতে প্ররোচিত করতে পারেন। এর সাথে যোগ করবে বিএনপির আরো কতিপয় নেতাকে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তার রায় হতে পারে। আর তাতে বিএনপি কর্মীরা রাজপথ উত্তপ্ত করবে। তখন আওয়ামীপন্থী সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পক্ষে সেমি মার্শাল ল জারি করার সুযোগ হবে।
বেঞ্জামিন লিখেন,  জিজেঞস করা হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন : আমরা দায়িত্ব পুরোপুরি তৈরি (শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের এক লোক দেখানো গেম খেলে) অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে। ক্ষমতাসীন দল জানে আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে কি ফল দাঁড়াবে। অনেক সমীক্ষাতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দল ৩০০ আসনের মধ্যে ৫০টিরও বেশি পাবে না। অর্থাৎ বিরোধী বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। আর তা হবে আওয়ামী লীগের জন্য সত্যিকার বিপর্যয়। শেখ হাসিনা কখনই তা হতে দেবেন না। এখানে এটা উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ভোটবিহীন নির্বাচনে ভালই জিতে ছিলেন। কারণ বিএনপি বা বয়কট করেছিল। আমেরিকাসহ অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। শুধুমাত্র ভারত,  জাপান,  চীন ও রাশিয়া এ নির্বাচনের পক্ষে ছিল। তার কারণ তারাই জানে। বেঞ্জামিন লিখেন, বিশ্বের বৃহত্তর ডেমোক্রেটিক দেশ হয়ে ভারত সে সময় ফাউল গেম খেলেছে নির্বাচন নিয়ে। তখন ভারতীয় সরকার বাংলাদেশকে নগ্ন সমর্থনই দেননি, বরং ফরেন সেক্রেটারি সুজাতা সিংকে ঢাকা ও ওয়াশিংটন পাঠান, যাতে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখা যায়। এই নির্বাচন একদিকে শেখ হাসিনার আস্থা বৃদ্ধি করে, আর তাকে আরো একগুয়ে হবার সাহস যোগায়। আর তাকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি অসহিষ্ণু করে তোলে। হাসিনা ও তার দল তখন খোলাখুলি আমেরিকাকে হাস্যকর ভাবতে ছাড়েনি। আর ইরানের সাথে গড়ে তোলে গভীর সম্পর্ক। বেঞ্জামিন লিখেন, বর্তমান বাংলাদেশের সরকার শুধু অটোক্রেটিক গ্রুপ। এটা পশ্চিমা বিরোধী এবং এন্টি সেমেটিক বা ইহুদী বিরোধী সরকার।

বেঞ্জামিন তার আর্টিকেলের শেষ ভাগে লিখেন, যে কোন ক্যালকুলেশন শেখ হাসিনা কিংবা তার বশংবদ সেনাবাহিনীর থাকুক না কেন, সর্বশেষ বাস্তবতা হচ্ছে অন্য কিছু। অক্টোবর মাস ঘনিয়ে আসছে সম্ভবত এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, যেখানে হাজার হাজার রাজনীতিক নিহত হবেন। ….শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের অনির্দিষ্টকালের জন্য জেলে বন্দী করা হবে। হাসিনা সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ পাবে। আর সে সময় তিনি তার ছেলে ও মেয়েকে তার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) তারিক আহমদ সিদ্দিকীর কাছে রেখে অসংখ্য ক্রিমিনাল চার্জ মোকাবিলার পথ করে দেবে। যদিও এটা বেশ পরিষ্কার যে জেনারেল সিদ্দিক এক সামরিক অভ্যুত্থানের মহড়ার পরিকল্পনা করছে।তবে তার জন্য অপেক্ষা করছে এক ভিন্ন ধাঁচের সারপ্রাইজ। কারণ মধ্যর‌্যাঙ্কের অফিসাররা শেখ হাসিনা ও তার তল্পিবাহকদের প্রতি ইতোমধ্যেই বিরূপ হয়ে পড়েছে। বর্ণিত অবস্থার প্রেক্ষিতে সত্যিকার অর্থে এক সামরিক শাসনের দিকে যাচ্ছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। আর তা না হলে নভেম্বর থেকে অবশ্যই যাবে। অধিকাংশ শাসক শ্রেণীর এলিটরা নিজেদেরকে অনেক ক্রিমিনাল চার্জে অভিযুক্ত হয়ে জেলের ভেতরে দেখতে পাবে।
এই নিবন্ধে যদিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরো অনেক সংবেদনশীল বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। তথাপি বিষয়টাকে সহজ করে দেখার কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেয়ার জন্য এই নিবন্ধ লেখা হয়েছে। এ নিবন্ধে সরকার বিরোধীদের জন্যও হুঁশিয়ারী রয়েছে। যদি সামরিক শাসনের মহড়া হয় এবং তা যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বিএনপি বা বিরোধীদের অবস্থা কী রকম দাঁড়াচ্ছে তাও ভাববার বিষয়। আর সরকারের মধ্যে এখন মার্চ মাসে নির্বাচন নিয়ে যাওয়ার মতও যে অবস্থা রয়েছে আমরা আগেই তা রিপোর্ট করা হয়েছে। তবে ভারতে পিনাক রঞ্জনের পর নেপালের বেঞ্জামিন মেন্ডেজের লেখা পড়ে ধারণা হচ্ছে যে, ভারতের পত্রিকায় যা বলা যায়নি তা তারা নেপালের উপর ভর করে প্রকাশ করেছে। আর নেপালের বক্তব্যের পুরো জের টানা হয়েছে পিনাক রঞ্জন ও দেব মুখার্জির বক্তব্য থেকে। দু’জনেই যে ভারতের ‘র’ এর মুখপাত্র তাতে কোন সন্দেহ নেই। আবার দুজনেই ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার। তারপরই দুজনের পদ ছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র দফতরের সচিব হিসেবে। দুজনেই এখন গবেষণা করেন।

Source:
Weekly Thikana, NY
Kathamndu Tribune

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries