Category Archives: অপরাধ

ইসলামী ব্যাংক হত্যা!

এক সময় বাংলাদেশের ১ নম্বর বেসরকারী ব্যাংক ছিল ইসলামী ব্যাংক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রাচীন ফোর্বস ম্যাগাজিন তাদের জুলাই ২০১৬ সংখ্যায় বলে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি পাঁচ বছরে এর আমানত তিনগুণ হারে বৃদ্ধি পায়, ২০১৬ সালে ব্যাংকটির গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৭ লাখের অধিক। বৈদেশিক রেমিটেন্সের ২৭ শতাংশ এবং দেশের এসএমই খাতের ২৩ শতাংশ এককভাবে পরিচালনা করত ইসলামী ব্যাংক। আইডিবি সহ বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ৬৩.০৯%। তখন ব্যাংকটির সম্পদের পরিমান ছিল ৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যাংকটির উপর চোখ পড়ে অবৈধ আ’লীগ সরকারের। জামাত-শিবির অযুহাত দেখিয়ে সেই ব্যাংক দখল করে হাসিনার নির্দেশে মাল মুহিত সালমান রহমান গং।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান এমডি ও পরিচালকদের ডিজিএফআইতে ডেকে নিয়ে হুমকি দিয়ে রিজাইন করানো হলো।
এক রিটায়ার্ড অতিরিক্ত সচিব আরাস্তু খানকে বসানো হলো চেয়ারম্যান, পরিচালক করা হলো মেয়েদের বলডান্স খ্যাত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি সামীম আফজালকে!
তন্ন তন্ন করে ব্যাংকটি খুঁকে জামায়াত শিবিরে অর্থায়ন খুঁজে পেলো না।
ব্যাংকটির মালিকানা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হলো আইডিবিকে। ঐসব শেয়ার দখল করে এস আলম গ্রুপ সহ আরও অনেকে।
ব্যাংকটিতে শর্টকাট ঢুকানো হলো কয়েক’শ নিজেদের লোক।
আরাস্তু ঘোষণা করলো, ইসলামিক ব্যাংকে মহিলা এবং হিন্দুদের ঢোকানো হবে।
এরপর বছর না ঘুরতেই আরাস্তু আউট। লুটপাট শেষ করা হয়েছে।
প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংকটির এখন নগদ টাকা নাই।
জনপ্রিয় সেবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেট দেওয়ার কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনো ‘ছাঁটাই’ আতঙ্ক কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রবিবার ইনলামী ব্যাংকের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ সুইচ বন্ধ করে দিয়ে বিনিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে দেশের কোনো শাখা থেকে ঋণ দিতে পারেনি। এ ঘটনা দেশে নজিরবিহীন।
ব্যাংকটির বিনিয়োগ বন্ধ। আমানতকারীরা আমানক তুলে নিয়ে যাবে খুব দ্রুতই। ফলে ব্যাংকটির মৃত্যু এখন খুব নিকটবর্তী।
 
এভাবেই দেশের ১ নম্বর ব্যাংকটি ধংস করলো শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ। এর কারন হলো- দেশে এত প্রভাবশালী ইসলামী ব্যাংক, সুদমুক্ত ব্যাংক থাকতে দিবে না তারা। বলা যায়, এটি ইহুদীবাদী ও হিন্দুবাদীদের চক্রান্ত- হাসিনার হাতে বাস্তবায়ন। একদিকে যখন লীগের মালিকানাধীন দেউলিয়া ব্যাংকগুলিতে সরকারী তহবিল দিয়ে টিকানোর চেষ্টা করছে সরকার, তখনই ইসলামী ব্যাংক হত্যা করছে তারাই।
 

বৃটেনে অাইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে নিজ দলীয় কর্মীদের উস্কে দেয়ায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হচ্ছে

ব্রিটেনে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ার অভিযোগে ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। নিজের দলীয় লোকজনকে আইন হাতে তুলে নিতে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হতে উস্কানি দিয়ে ব্রিটেনের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করার অপরাধে এই অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী কয়েকজন আইনজীবী।

শনিবার (২১ এপ্রিল) ওয়েস্ট লন্ডনে ইউকে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাকে দেয়া দলীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার দলের নেতাকর্মীদের আইন হাতে তুলে নিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তার এই উস্কানিমূলক বক্তব্য দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম এর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মহিউদ্দিন মাহমুদ। শেখ হাসিনার বক্তব্য নিয়ে লন্ডন থেকে তাঁর পাঠানো রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে আওয়ামী ঘরানার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪ এ। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায় শেখ হাসিনা প্রতিপক্ষের উপর দলীয় নেতাকর্মীদের হামলার উস্কানি দিচ্ছেন।

……দূতাবাসে হামলা বিষয়ে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো যারা ঘটিয়েছে, তারা কোথাও চলাফেরা করে না? তাদের দেখেন না? যে হাত দিয়ে জাতির পিতার ছবি ভেঙেছে, তাদের যা করার তা করতে হবে। তাদের চেহারা চেনেন না?’…..

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম খুন অপহরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি দিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ইউকে বিএনপি এবং একদল প্রবাসী বাংলাদেশী লন্ডনে বাংলাদেশ হাই-কমিশনে যায়। কিন্তু সেখানে হাই-কমিশনের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে উস্কানিমূলক আচরণ করে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষুব্ধ প্রবাসী বাংলাদেশী হাই কমিশনের দেয়ালে টাঙানো শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবের ছবি ভাংচুর করে। পরে এ বিষয়ে হাই-কমিশন একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি ব্রিটিশ আইনে যথানিয়মে তদন্ত করছে বৃটেনের পুলিশ। কিন্ত শেখ হাসিনা ব্রিটিশ পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষা না করেই হাই-কমিশনে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উপর যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হামলার নির্দেশ দেন।

এদিকে শেখ হাসিনার এই সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ে যারা ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশী আইনজীবী বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলার নির্দেশ। তিনি স্পষ্টত:ই যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত হতে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিতে ব্রিটেনে তার দলের নেতাকর্মীদের উস্কানি দিয়েছেন। এটি ব্রিটেনের আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এই অভিযোগেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশেও শেখ হাসিনা কিভাবে আইনের শাসনের পরিবর্তে নিজের দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন সেই সব তথ্যও ব্রিটেন সরকার এবং স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে দেয়া হবে বলেও ওই আইনজীবী জানান। ওই আইনজীবী মন্তব্য করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশে বিদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উস্কানি দিয়ে শেখ হাসিনা প্রমান করেছেন তিনি একজন স্বভাবজাত সন্ত্রাসী। তিনি আরো জানান, তারা এরইমধ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্যের কপি সংগ্রহ করেছেন। আপাততঃ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আইনজীবী জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়েরের আগে ব্রিটেনের আইনজীবীদের সঙ্গেও তারা আলোচনা করছেন।

নিজের টাকা ঘরে তোলার এই তো সময়

শামসুল আলম
গত তিন মাস ধরে প্রায় সকল মিডিয়ার খবর – দেশের ব্যাংকগুলোতে টাকা নাই। তারল্য সংকট! নগদ টাকার অভাবে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ব্যাংক গ্রাহকদের চেক ফিরিয়ে দিচ্ছে। গ্রাহকদের ভয়ে ফারমারস ব্যাংক সহ কয়েকটি প্রাইভেট ব্যাংকের কর্মকর্তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় বেসরকারী বাংক যখন প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম, অনেক সমালোচনা উঠলে বাংলাদেশ ব্যাংককে পাশ কাটিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে ম্যারাথন মিটিং করে প্রাইভেট ব্যাংকের মালিকরা। অতঃপর তারা সরকারকে রাজী করিয়ে ফেলে- তারল্য সংকট কমাতে সরকারী ফান্ডের অর্ধেক বেসরকারী ব্যাংকে দেয়া হবে, সিআরআর কমানো হয়েছে ১ পারসেন্ট। এরপর থেকে অনলাইনে ঝড় উঠলো- তবে কি জনগনের সম্পদ লুঠ করার পরে এবার রাষ্ট্রীয় বাজেট লুঠ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে বেসরকারী ব্যাংকগুলোকে? এরপর দেখা গেলো, বেসরকারী ব্যাংকের মালিকদেরকে সপরিবারে গণভবনে ডেকে ডিনার করছেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী! অবশ্য ব্যাংক মালিকরা লিখিতভাবে আবদার করেছে, অনিয়ম লুটপাটের খবর লেখালেখির বাইরে রাখতে হবে- যেনো ছড়াকার আবু সালেহর ‘ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না’র দেশ!
 
জানা গেছে, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ১০ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেয়া হবে প্রাইভেট ব্যাংকে। এই টাকা দিয়ে ব্যাংকগুলো তাদের তারল্য বাড়াবে, সিআরআর কমানোর ফলে আইন কানুন না মেনে আরও বিপুল উৎসাহে নতুন করে ঋণ দিবে। তবে বুদ্ধিমান গ্রাহকরা নিশ্চয় এই সুযোগটি হাতছাড়া করবে না। ব্যাংকে টাকা আসার সাথে আগে আগে যারা পারেন নিজেদের আমানতের টাকা, এফডিআর ইত্যাদি সব তুলে নিবেন। হয়ত পরে আর এই সুযোগ হয়ত থাকবে না। এই একটি সংবাদের জন্য ভবিষ্যতে এই রিপোর্টকে হয়ত মনে রাখতে হবে।
 
আর প্রবাসী যারা বিদেশে কষ্টার্জিত টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন, যারা একটু বেশি রেটের লোভে পড়ে প্রাইভেট ব্যাংকে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন- তারা কি বুঝতে পারছে কত বড় রিস্ক নিচ্ছেন? এদের কষ্টের টাকা যেকোনো সময় আটকে যেতে পারে ঐ সব হায় হায় কোম্পানীর ব্যাংকে। কোরামিন দিয়ে চালানো হচ্ছে এ ব্যাংকগুলো। নিজের টাকার নিরাপত্তা চাইলে প্রাইভেট ব্যাংকে নিজের রেমিটেন্স না পাঠিয়ে সরকারী ব্যাংক বা আর্মির ব্যাংক ব্যবহার করা উচিত।
 
ব্যাংকগুলির অবস্খা এরকম কি করে হলো?
সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ সংক্ষেপে বলেছেন, কোনো ব্যাংকের কাছে ১০০ টাকার আমানত থাকলে তা থেকে ৮৫ টাকা ঋণ দিতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি করে ১২৫ টাকা পর্যন্ত লোন দিয়ে বসে আছে। ব্যাংকের এই মালিকরা এখন যত কান্নাকাটি করুক না কেনো, আসলে জনগনের টাকা লুট করেছে, তাদেরকে জেলে পাঠানো উচিত। আর এসব ঋণ যে রাজনৈতিক চাপ ও উচ্চমাত্রার দুর্নীতির ফলে দেয়া হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। এগুলো কোনোদিন আদায় হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যংকের দুর্বল নিয়ন্ত্রন ও অকার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিপরায়ন শাসন ব্যবস্থার কুফলে রাজনৈতিক চাপে ব্যাংকগুলোর সর্বনাশ করা হয়েছে।
 
সরকারী ব্যাংক বানিয়ে প্রথমেই হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ তুলে নেয় উদ্যোক্তরা। লুটপাটে সুবিধা দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার একই পরিবার থেকে ২ জনের স্থলে চার জনকে পরিচালক হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, যার ফলে সবাই মিলেমিশে বড় বড় অংকের লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এদের নেয়া টাকা আর ফেরত আসছে না। ফলে বাড়ছে মন্দ ঋণের পরিমাণ। কেবল নিজ ব্যাংক থেকেই নয়, বেসরকারি খাতের প্রায় সব ক’টি ব্যাংকের পরিচালকরা একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে ঋণ দেয়া-নেয়া করেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া ৩ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংক ৩ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক ৩ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, যমুনা ৩ হাজার ১৬ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক ২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংক ২ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা,এনসিসি ব্যাংক ২ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ১ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংক ১ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংক ১ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংকের ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য। হিসাবে দেখা গেছে, গত জুন পর্যন্ত প্রায় ৯৩,৪৫০ কোটি টাকাই নিয়েছেন ব্যাংক পরিচালকরা, যা মোট ঋণের প্রায় ১৫ শতাংশ।
 
কয়েকটি বড় লুটপাটের নজির-
১। ব্যাংকিং খাতের প্রথম ডাকাতি আবিস্কৃত হয় হলমার্ক কেলেঙ্কারীতে-এটা ছিল সরকারী ব্যাংকে সোনালী ব্যাংকে। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ মোদাচ্ছের আলী সশরীরে উপস্থিত হয়ে ৪ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন, যেটা অর্থমন্ত্রী মাল মুহিতের কাছে- ‘কিছুই না’। হলমার্কের মালিক এখন কারাগারে থাকলেও জেলের কর্মকর্তাদেরকে কয়েকটি পাজেরো গাড়ি উপঢৌকন দিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধায় আছেন। সোনালী ব্যাংকের চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ ও লালদীঘি শাখায় স্থানীয় একজন পরিচালকের যোগসূত্রে জালিয়াতি করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। ব্যাংকটির স্থানীয় কার্যালয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতিতেও পরিচালকদের হাত রয়েছে।
২। একে একে আরও বের হয় ৬ ব্যাংক থেকে ১২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে বিসমিল্লাহ গ্রুপের হোতারা চম্পট।
৩। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবুল বারাকাত নিয়মনীতি না মেনে এ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুছ বাদল নামে এক গাড়িচোরকে ঋণ দিয়েছে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না। অথচ দেওয়া হয়েছে মোট মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ। এই একই ব্যাংক থেকে অনিয়মের মাধ্যমে অকাতরে ৩৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে ক্রিসেন্ট লেদার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে, যে অর্থের বড় অংশই পাচার হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
৪। প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর যোগসাজশে হয়েছে নজিরবিহীন লুটপাট। ভুয়া, বেনামি বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানে ঋণ দিয়ে এই ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।
৫। ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক নিজেরা ৬’হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা প্রকাশ করতে বারণ।
৬। চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছে।
৭। পিছিয়ে নেই ইসলামী ব্যাংকও। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইউনিল্যান্স টেক্সটাইলকে ৩৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। অব্যাহতভাবে ঋণ দিয়ে গেলেও তা ফেরত দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। বারবার খেলাপি হলেও তা পুনঃতফসিল করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা গোপন করে নতুন করে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
৮। রাষ্ট্রীয় শক্তির সাহায্যে বাংলাদেশের ব্যাংক রিজার্ভ লুটে ৭’শ কোটি টাকা চুরি হওয়ার পরেও একটা লোক আটক হয়না, বরং এর সাথে জড়িতরা এখনও ব্যাংকের ভিতরেই আছে! আর সেই চোরের সাগরেদ গভর্নর আতিউর কারাগারে না থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছে- গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বিশ্বব্যাংকের সেমিনারে বক্তৃতা করে বেড়ায়!
 
সরকারের অনুগত অর্থনীতিকরাই বলছেন, দেশের প্রায় অর্ধেক ব্যাংক ভেতরে ভেতরে দেউলিয়া হয়ে আছে। ৯টি ব্যাংক মূলধন ভেঙে খেয়ে ফেলেছে। মিডিয়ার খবর ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে আছে, আরও ৪০ হাজার কোটি টাকার কোনো খবর নাই। আসলে ফিগারটা আরও বিরাট। এক সূত্রমতে, ৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ দেয়া আছে, যার প্রায় অনেকটাই মন্দ ঋণ। উচ্চ আদালতে রীট করে এদের বেশিরভাগকে খেলাপী দেখানো হয় না। অনেককে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্লাসিফিশেন করার সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ঋণ আর কখনই আদায় হবেনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিবিআই বিভাগে এসবের হিসাব থাকলেও প্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সৃষ্টির পর থেকে যত খেলাপি ঋণ হয়েছে, তার ৫৩ শতাংশই গভর্নর আতিউরের আমলে।
 
সাধারন মানুষের পকেট কেটে সে অর্থ দিয়ে অবৈধ সরকার ফুয়েলিং করে বেসরকারী ব্যাংকগুলো সচল রাখার যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়বে। বুদ্ধিমান গ্রাহকরা নিশ্চয় সময়ের সদ্বব্যহার করবেন। সুযোগ পাওয়া মাত্র নিজের সম্পদ তুলে হেফাজত করবেন। স্মরণ করা যায়, সন্দীপের মোস্তাফিজুর রহমানের বিসিআই ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা আর ফেরত দিতে পারেনি। বেসিক ব্যাংক, ফারমরাস ব্যাংক সেই পথেই হাটছে- এদের অন্তেষ্টিক্রিয়া কেবল বাকী। আরও আছে এই পথের পথিক।
 
প্রশ্ন হলো, এই যে ১০/২০ হাজার কোটি টাকা প্রাইভেট ব্যাংকে দেয়া হবে এগুলো আসবে কোত্থেকে? সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ডে, এবং বিভিন্ন সরকারী প্রেক্টের টাকা বেসরকারী ব্যাংকে দেয়া হচ্ছে। কিছুদিন পরে এ অর্থ আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এরআগেই জলবায়ু খাতের ৫০৮ কোটি টাকা খেয়ে ফেলেছে মখা আলমগীরের ফারমারস ব্যাংক। বেসরকারী ব্যাংকে তারল্য বাড়াতে গিয়ে কিছুদিন পরে দেখা যাবে সরকারী কর্মচারীরা পেনশন গ্রাচুয়িটি পাচ্ছে না। তবে এখন এসব বরাদ্দ যারা করবেন, তারও ভবিষ্যতে দায় এড়াতে পারবেন না। এদিকে দেশী বিদেশী কোনো বিনিয়োগ নাই, রেমিটেন্স কমছে, আমদানী বাড়ছে রপ্তানী কমছে, অর্থনৈতিক ডাটার ভুতুরে ফিগার দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের শো শা করলেও বাস্তবে অর্থনীতি চলছে কোরামিনের ওপর। কেবল বিদেশী রেমিটেন্স আসায় ব্যাংকগুলো এখনও চালু রয়েছে। প্রাইভেট ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিলে এগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। বেতন দিতে পারবে না, বাজেট দিতে পারবে না। রিজার্ভ ভেঙে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে, অথবা অর্ধেক বেতন ক্যাশে নাও বাকীটা বন্ডে! বিষয়গুলো গভীরভাবে ভেবে দেখা দরকার।

/বিডিটুডে

একের পর এক প্রাইভেট ব্যাংক ধস নামার পরও আরও নতুন ব্যাংক: আরও লুটপাট!

বর্তমান সরকারের সময়ে বানানো সহ দেশে প্রাইভেট ব্যাংক অর্ধশতাধিক। সরকারের অনুগত অর্থনীতিকরাই বলছেন,েএর মধ্যে অর্ধেক ব্যাংক ভেতরে ভেতরে দেউলিয়া হয়ে গেছে। জনগনের পকেট কেটে অবৈধ সরকার বিভিন্ন ব্যাংককে ২/৪’শ কোটি করে টাকা ফুয়েল দিয়ে এগুলো চালু রেখছে। এসব টাকা কোনোদিন শোধ করতে পারবে না ব্যাংকগুলি। প্রাইভেট ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোন তুলে ব্যাংকগুলো শেষ করে দিয়েছে উদ্যোক্তরা। নাংশনাল ব্যাংকের পরিচালক নিজেরা ৬’হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছে, যা প্রকাশ করতে দেয় না। নিয়ম না মেনে আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে এক গ্রাহককেই দিয়েছে ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। ব্যাংকটির মোট মূলধন ২ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ৭৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পেতে পারেন না। অথচ দেওয়া হয়েছে মোট মূলধনের প্রায় দ্বিগুণ। চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি তুলে নিয়েছে, বেসিক ব্যাংক এবং ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারি কথা সবাই জানে, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপ এরকম কেলেঙ্কারী আছে বহু। বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে যারা ৭’শ কোটি টাকা লুট করেছে, তারা এখনও ব্যাংকের ভিতরেই আছে, রিপোর্ট করেছে বিবিসি! প্রাইভেট ব্যাংকগুলির ভেতরের অবস্থা এত বেশি খারাপ যে একটু বড় চেক দিলেই টাকা দিতে পারে না। ব্যাংকের টাকা যেনো এখন সোনার হরিণ।
 
মিডিয়ার খবর ৮০ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হয়ে আছে, আরও ৪০ হাজার কোটি টাকার কোনো খবর নাই। আসলে ফিগারটা আরও বিরাট। এক সূত্রমতে, ৭ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ দেয়া আছে, যার প্রায় অনেকটাই মন্দ ঋন। উচ্চ আদালতে রীট করে এদের বেশিরভাগকে খেলাপী দেখানো হয় না। অনেককে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্লাসিফিশেন করার সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব ঋন আর কখনই আদায় হবেনা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিবিআই বিভাগে এসবের হিসাব থাকলেও প্রকাশ করতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশে সৃষ্টির পর থেকে যত খেলাপি ঋণ হয়েছে, তার ৫৩ শতাংশই গভর্নর আতিউরের আমলে।
 
৯টি ব্যাংক মূলধন ভেঙে খেয়ে ফেলেছে। অনেক ব্যাংক প্রায় অচল। তারপরও  নতুন ব্যাংকের অনুমতি দিয়ে সাধারন মানুষের আরও পকেট কেটে আওয়ামী ভুরিভোজের আয়োজন হচ্ছে কেবল। টাকার অভাব মিটাতে ব্যাংকারদেরকে ডিপোজিট আনার টার্গেট বেধে দেয়া হয়েছে, উচ্চ হারে সুদ এবং লোভনীয় অফার দিয়ে মানুষের সহায় সম্বল হাতানোর টার্গেট করেছে প্রাইভেট ব্যাংকগুলো।
 
দেশী বিদেশী কোনো বিনিয়োগ নাই, রেমিটেন্স কমে গেছে, রপ্তানী কমছে আমদানী বাড়ছে, অর্থনৈতিক ডাটার ভুতুরে ফিগার দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের শো শা করলেও বাস্তবে অর্থনীতি চলছে কোরামিনের ওপর। কেবল বিদেশী রেমিটেন্স আসায় এসব ব্যাংক এখনও চালু রয়েছে। রেমিটেন্স বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংকিং খাতে ধস নামবে। এভাবে প্রবাসিরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে কতদিন এই সব রুগ্ন ব্যাংক চালু রাখবে?
 
প্রাইভেট ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিলে ব্যাংকিং খাত অচল হয়ে পড়বে। বেতন দিতে পারবে না, বাজেট দিতে পারবে না। রিজার্ভ ভেঙে কর্মচারীদের বেতন দিতে হবে। হায় হায় ব্যাংকগুলির চাইতে আর্মি ব্যাংকে বা সরকারী ব্যাংকে রেমিটেন্স পাঠানো তুলনামুলক নিরাপদ। ইতেমধ্যে প্রাইভেট ব্যাংক থেকে আমানত তুলে সরানোর হিড়িক পড়ে গেছে। নিশ্চয় মনে আছে, সন্দীপের মোস্তাফিজুর রহমানের বিসিআই ব্যাংকে আমানতকারীদের টাকা কখনও টাকা ফেরত দিয়েছিল কি না?

/ফেসবুক থেকে

উন্নয়নের মহাসড়কের পাশে ধর্ষিতা এই মৃতদেহের নাম বাংলাদেশ !

ওয়াহিদুজ্জামান

এই বাংলাদেশের অপর নাম বিউটি আক্তার। বয়স মাত্র ১৬। যার কথা ছিলো হেসে-খেলে বেড়ানোর, বাবার সাথে আহ্লাদ করার কিংবা স্কুলের সহপাঠীদের সাথে স্বাধীনতা দিবসের মিছিলে পতাকা হাতে অংশ নেবার, সে এখন শুয়ে আছে হাওরের পাশে; ধর্ষিতা, প্রাণহীন।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সাঈদ মিয়ার মেয়ে বিউটিকে কিছুদিন আগে প্রথমবার ধর্ষণ করেছিল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মহিলা মেম্বারের ৩০ বছর বয়সী বিবাহিত ১ সন্তানের জনক এক যুব সংগঠনের নেতা। বুঝতেই পারছেন, ঐ মহিলা মেম্বার কোন দলের এবং ধর্ষক কোন যুব সংগঠনের হলে কোন পত্র পত্রিকা তাদের দলীয় পরিচয় প্রকাশের সাহস পায় না।

বিউটির বাবা প্রথমে থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন, থানা মামলা নেয়নি বরং পুলিশ গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাটের পরামর্শ দিয়েছিল। সাঈদ মিয়া হাল ছাড়েননি, তিনি কোর্টে গিয়ে ধর্ষকদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন। বলা বাহুল্য পুলিশ আসামীদের কাউকেই খুঁজে পায়নি, যদিও ধর্ষকরা বিউটির বাবাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছিলো মামলা তুলে নেবার জন্য। বাধ্য হয়ে বিউটির বাবা তার মেয়েকে নানাবাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বিউটির নানাবাড়ীতে গিয়েও রাতের অন্ধকারে বিউটিকে তুলে এনে আবারো ধর্ষণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর তার লাশ ফেলে রেখে গেছে হাওরের পাশে।

পুলিশ এবার কী বলেছে শুনবেন? “কে বা কারা কেন হত্যা করেছে তা তদন্তের পরই জানা যাবে।” সংগত কারণেই পুলিশ এখনো বিউটিকে ধর্ষণের পর খুন করা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে সনাক্ত করতে বা ধরতে পারেনি।

কোথাও কোন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরন না হবার পরও গত দুই মাসে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রায় ১২ হাজার নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে সবাইকে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এবং বিষ্ফোরক দ্রব্য রাখার দায়ে মামলা দায়ের করেছে, পাইকারী হারে রিমান্ডে নিয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে একজনকে খুন করে ফেলেছে।

কিন্তু কিছুদিন আগে ইডেন কলেজের কয়েক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী করার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করা অপরাধীদের ‘আদালত’ জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করার আদেশ দিয়েছে। দেশের পুলিশ এবং আদালত এখন সরকার এবং সরকার দলীয় লোকজনদের রক্ষার পাশাপাশি বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের দমনের জন্য তাদের পুরো সময় ব্যয় করছে, জনগণকে রক্ষায় জন্য সময় দেবার মত সময় তাদের কোথায়?

বিউটির এই ধর্ষিতা লাশের পাশে দাঁড়ানো নির্বাক জনগণের মতই বাংলাদেশের জনগণ নিজের দেশের মৃতদেহ দেখছে। এরই নাম স্বাধীনতা? এর জন্যই কী ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিল আর লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল?

বিউটির লাশটা যেখানে পড়ে ছিল তার চারপাশে সবুজ ঘাস, আর বিউটির গায়ে লাল জামা। সবুজের বুকে লাল, যেন প্রিয় স্বদেশের প্রতিচ্ছবি! ধর্ষিতা বিউটি বিচার পায়নি, তাই তাকে পুনরায় ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে। স্বাধীনতার মাসে যখন উন্নয়নশীলতার উৎসব করছি আমরা তখন বিউটির এ ঘটনা বড্ড বেমানান।

 

 

সিরাজুল আনিসুল পিতা পুত্রের ঘুষ দুর্নীতি!

২০০১ সালের মে মাস। আ’লীগ সরকারের শেষ সময়। বাংলাদেশ বিমানের ম্যান্টেনেন্সের কাজ নতুন একটি কোম্পানীকে দেয়ার চেষ্টা করে বিমান কতৃপক্ষ। এতদিন এ কাজটা করত এয়ার ফ্রান্স কোম্পানী, যার স্থানীয় প্রতিনিধি ছিলেন কাজী তাজুল ইসলাম ফারুক। কাজ হারানোর মুখে তা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাজুল ইসলাম ফারুক সেটার তদবীরের জন্য যায় শেখ মুজিব হত্যা মামলার প্রধান কৌসুলি এডভোকেট সিরাজুল হকের কাছে। সিরাজুল হক সাহেব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্টজন এবং আগরতলা মামলার ষড়যন্ত্র মামলার কৌশলী, আওয়ামীলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম মেম্বার, ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা মামলা এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌসুলী। ফলে সরকারের উপর তার প্রভাব ছিল সাংঘাতিক। কোনো মন্ত্রী সচিব তাঁর অনুরোধ ফেলতে পারবে না।
 
আওয়ামীলীগের তৎকালীন সরকারে সফল এক তদবীরবাজ পার্টির সাথে তাজুল ইসলাম ফারুক যান বনানী ২২ নম্বর রোডের এডভোকেট সিরাজুল হকের বাসায়। উদ্দেশ্য- সিরাজুল হককে দিয়ে বিমানের এমডি এয়ার কমোডর খসরুর কাছে তদবীর করা।
 
সেখানে গিয়ে ঘরে ঢুকতেই প্রথমে সাক্ষাৎ হয় সিরাজুল হকের পুত্র আনিসুল হকের সাথে। পরিচয় শেষে উদ্দেশ্য জানার পরে পিতাকে ডেকে দিলেন আনিসুল। কথাবার্তা শুনে সিরাজুল হক বললেন, আপনার তদবীর করে দিলে আমার কি লাভ? আমরা কাজ করে খাই। আমরা আইনজীবি মানুষ, টাকার বিনিময়ে কাজ করি, আমাকে কি দিবেন? তাজুল সাহেব একটু হতচকিত হয়ে যান। ছেলে আনিসুল হকে সামনে ইতস্তত করতে থাকেন। তার অবস্থা দেখে সিরাজুল হক সাহেব বললেন, লজ্জা পাওয়ার কিছু নাই, আমরা অভ্যস্ত। বললেন, আমাকে ১ মিলিয়ন ডলার দিতে পারবেন? ফারুক সাহেব হতাশ হয়ে পড়েন। বলেন, ১ মিলিয়ন ডলার আমার লাভও হবে না। অনেক কথাবার্তার পরে ঠিক হয় একাজের জন্য সিরাজুল হককে ৮ লাখ ডলার দেয়া হবে। চুক্তি সাইন হওয়ার সময় ২ লাখ, অর্ডার হলে ২ লাখ, প্রথম কাজের পেমেন্ট পাওয়ার পরে বাকী ৪ লাখ ডলার পেমেন্ট করতে হবে।

কে এই তাজুল ইসলাম ফারুক? ইনি সেই লোক, যিনি ২০০৭ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘুস নেয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন। ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের চেয়ারম্যান শিল্পপতি কাজী তাজুল ইসলাম ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানীর তেজগাঁও থানায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিন কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাঘাবাড়িতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য ১৩ মার্চ ১৯৯৭ তারিখে ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার কোম্পানী সরকারের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদন করে। তখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুত মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীও। ১৯৯৮ সালে কোনো একদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ষ্টাফ মানু মজুমদার তাজুল ইসলাম ফারুককে ফোন করে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে বলেন, অন্যথায় তার পাওয়ার প্লান্ট নির্মানের চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে। ৮ আগষ্ট ১৯৯৮ মানু মজুমদারের সাথে শেখ হাসিনার সরকারী বাসায় দেখা করেন তাজুল ইসলাম। সাক্ষাৎকালে শেখ হাসিনা তাকে বলেন, “বড় কাজের জন্য সবাই টোল দেয়। আপনি বড় কাজ পেয়েছেন। আপনি টোল দেননি কেনো? এ কারনে আপনার বাঘাবাড়ি প্লান্ট বাতিল হয়ে যাবে।” শেখ হাসিনা তাজুল ইসলামকে এই বলে হুশিয়ার করেন, ৩ কোটি টাকা টোল দিতে ব্যর্থ হলে তার কাজ বাতিল ছাড়াও জেলে যাওয়া লাগতে পারে। ৯ ডিসেম্বর ১৯৯৮ তার প্রকল্প বাতিলের জন্য পিডিবি থেকে উদ্যোগ নেন, ফলে বাধ্য হয়ে তাজুল ইসলাম ১২ ডিসেম্বর মানু মজুমদারের স্মরণাপন্ন হন। ঐ দিনই ৫০০ টাকা নোটের ৬০০ বান্ডেলে ৩ কোটি টাকা দুটি সুটকেসে ভরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে গিয়ে ঐ টাকা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন তাজুল। মামলা দায়েরের পরে ২০০৭/৮ সালে এর বিচার চলছিল নিম্ন আদালতে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ হাসিনার জয়লাভের আভাস পেয়ে ৪ জানুয়ারি ২০০৯ তাজুল ইসলাম ফারুক মামলাটি প্রত্যাহরের আবেদন করেন। পিপির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ম্যাজিষ্ট্রেট তানিয়া কামাল চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য তেজগাঁও থানাকে নির্দেশ দেয়। পরে মামলাটি প্রত্যাহার হয়। ৬ জানুয়ারী ২০০৯ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এলে রহস্যজনক কারনে তাজুল ইসলাম ফারুক তার ওয়েস্টমন্টের পদ হারান এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। কিন্তু এ করেও তাজুল ইসলাম রেহাই পাননি। ২০১৫ সালের ৩রা নভেম্বর হবিগঞ্জের নছরতপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তাজুল ইসলামকে  ট্রাকচাপ দিয়ে হত্যা করা হয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভবিষ্যতে ক্ষমতা হারানোর পরে তাজুল ইসলাম ফারুকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলাটি আবার সচল হতে পারে। তাই বাদীকে কৌশলে সরিয়ে দেয়া হলো।

 

 

বিএনপির মিছিলে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে তান্ডব সৃষ্টিকারী পুলিশ লীগের পরিচয় উন্মোচন!

গত দু’দিন ধরে বিএনপির সমাবেশের ভেতরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে নেতাদেরকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ডিবি পরিচয়দারীকারী কিছু সশস্ত্র বক্তি। বিএনপি ও অংগসংগঠনের নেতাদেকে গ্রেফতারকালে গোয়েন্দা পুলিশের নারকীয়ভাবে হামলে পড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিনা উস্কানিতে এভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা নিয়ে ছি ছি ওঠে। অনেকের সন্দেহ হয় এরা কি পুলিশ নাকি সরকারের কোনো গুপ্ত বাহিনী। প্রতিটি ঘটনায় কমন কিছু ব্যক্তির ছবি ঘুরে ফিরে আসে। এর মধ্যে এ যুবক হায়েনার মত খুব বেশি তৎপর? কেন সে হায়নার ভূমিকায়- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে আঁৎকে পড়ার মত তথ্য।

বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের দিকে অস্ত্র তাক করে গলা চেপে ধরে নিয়ে যাওয়া সেই পুলিশলীগ সদস্যের নামঃ ফরহাদ বাড়ি- গাজীপুরের কাপাসিয়া।

এই ফরহাদের ভাই হচ্ছে ছাত্রলীগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজুল হক মামুন, যে ছিল সোহাগ-নাজমুল কমিটির সহ-সভাপতি। মামুন কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া সেই কুখ্যাত টিচার, যে ভার্সিটি বাগানে তার ছাত্র নামধারী ছাত্রলীগের ক্যাডারদেরর গোপনে অস্ত্র ট্রেনিং দিত,  ২০১৪ সালে মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছিল। এই অস্ত্রবাজ ছাত্রলীগ ক্যাডার মামুনের ছোট ভাই হল ফরহাদ।

ফরহাদ অতি উৎসাহী পুলিশ লীগের সদস্য। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র। এস.এম হলের ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিল ফরহাদ। তারা ৩ ভাই ১ বোন, বড় ভাই মাসুদ রানা রুবেল ঢাবিতে পড়ার সময় রাইফেল সহ আটক হয়ে পরে ছাত্রত্ব চলে যায়, মেঝ ভাই মামুন যাকে সবাই চিনে পাশা নামে। মামুন আ’লীগ সরকারের দয়ায় তার স্ত্রীকে বানিয়েছেন বিসিএস পুলিশের কর্মকর্তা। ভাই ফরহাদেকেও ঢুকিয়েছেন পুলিশে, একমাত্র বোনকে করেছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ম্যাজিস্ট্রেট। গোটা পরিবার  আওয়ামী ক্যাডার। এই ফরহাদ এখন পিস্তল হাতে নির্মমভাবে বিএনপি দমন ও ধরপাকড়ে নামছে।

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিতরে অস্ত্রসহ ঢুকে পড়ে এই সব ব্যক্তিরা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে আটক করে নিয়ে যায়। সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রায় সকলেই খোলা অস্ত্রে ট্রিগারে হাতে রেখে লোকজনকে ভয় দেখায়। গত ২৪ তারিখে বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচির সময় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ আরও ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাব এলাকায় বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে ডিবি পুলিশ ঢুকে পড়ে, ছাত্রদল উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজকে আটকের চেষ্টা চালায়। এ সময় মিজানুর রহমান জড়িয়ে ধরেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। কিন্তু  মহসচিবের অনুরোধ স্বত্ত্বেও সাদাপোষাকের পুলিশ রাজকে টেনে হিচড়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে হাতকড়া পড়িয়ে ৮/১০ জনে চেপে ধরে আটক করে নিয়ে যায়। এসময় বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কিন্তু দলীয় নির্দেশনা মেনে বিএনপির কর্মীরা প্রত্যাঘাত করেনি। 

 

 

প্রেসক্লাবে অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশদের গ্রেফতার অভিযান সুুপ্রিম কোর্টের দিকনির্দেশনার লঙ্ঘন

ওই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্টের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক ঐতিহাসিক রায়ে দেওয়া দিকনির্দেশনার লঙ্ঘন ঘটেছে। রায়ে বলা আছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো কর্মকর্তা তাঁর পরিচয় প্রকাশ করবেন এবং যদি দাবি করা হয়, তাহলে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে তিনি তাঁর পরিচয়পত্র প্রদর্শন করবেন।’

গত মঙ্গলবার ডিবির প্রেসক্লাব অভিযানে পরিচয়পত্র দূরে থাক, উপস্থিত সাংবাদিকেরা আতঙ্কিত হয়ে ভাবতে বসেছিলেন, এই অস্ত্রধারীরা কারা? নাশকতাকারী ভেবে অনেকে চিৎকার শুরু করলে তাঁরা বলেছেন ‘আমরা পুলিশ’। পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেছেন, ‘অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে মানুষকে অবশ্যই অস্ত্রধারীর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত করাতে হবে।’ একটি ডিবি টিম একজন রাজনৈতিক নেতাকে কর্মসূচির ভেতর থেকে গ্রেপ্তারে কেন অনাবশ্যক শক্তি প্রদর্শন করল, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন ও বিস্ময় দেখা দিলেও তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জানা গেছে,শফিউল বারী বাবু  ৯০টির বেশি ‘রাজনৈতিক’ মামলার আসামি, দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পুলিশ এত দিন যাঁকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলো, তাঁকে এবার প্রেসক্লাবে পেয়ে এভাবে শোরগোল ফেলে ধরার দরকার পড়ল কেন?

ওই গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইনের বহুবিধ লঙ্ঘন ঘটেছে। ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামলে ডিবি সদস্যদের হাতে শামীম রেজা রুবেল হত্যাকাণ্ড ঝড় তুলেছিল। তখন আওয়ামী লীগ সরকার বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন করেছিল। সেই কমিশনের আলোকেই দুই বছর আগে আপিল বিভাগ গ্রেপ্তার ও রিমান্ড সম্পর্কে চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।

প্রেসক্লাব থেকে সাদাপোশাকে ডিবির অভিযান সেই বিচার বিভাগীয় কমিশনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেবে। বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান কমিশনের সুপারিশের অনেকটা বাস্তবায়ন করেছিল আওয়ামী লীগ। খান কমিশন তার সুপারিশে বলেছিল, গ্রেপ্তারের পর গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কী কারণে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, পুলিশ তা নিয়ে লুকোচুরির আশ্রয় নেবে না। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে তা জানাতে হবে অথবা তাঁর মনোনীত আইনজীবীকে সংবাদ দেবে। ব্লাস্টের মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বরাতে ২০০৩ সালে হাইকোর্টের গাইডলাইনে বলা ছিল, গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কারণ জানাতে হবে। বারীকে গ্রেপ্তারের ১১ ঘণ্টা পরে বারীর স্ত্রী প্রথম আলোকে বলেছেন, পুলিশের তরফে কেউ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেননি।

ফোনে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা মি. দীপককে পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি জানাননি ঠিক কোন মামলায় তাঁকে ধরা হয়েছে।

খান কমিশন এটাও বলেছিল, ‘যদিও ধৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী হাকিমের কাছে পাঠানোর বিধান আছে, তবু স্থান-কালভেদে অধিক সময় থানাহাজতে রাখার প্রয়োজন না থাকলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’ দুপুর ১২টার দিকে ধরার পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার কোনো চেষ্টা ছিল বলে জানা যায়নি।

ব্লাস্ট মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২৪ মে ২০১৬ তারিখে দেওয়া রায়ে বলেছিলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ যখন কেবল অত্যন্ত দরকারি হয়ে পড়বে এবং তাদের কর্তব্য পালনে প্রয়োজনের সীমা পর্যন্ত তারা শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।’

প্রেসক্লাবের ঘটনা থেকে প্রতীয়মান, সরকার বা পুলিশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে উদাসীন, এটা সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে অবহিত করানো দরকার। এতে বলা আছে, ‘কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোনো ধরনের উসকানি কিংবা কোনো ধরনের নির্যাতন বা বেদনাদায়ক কিছু হতে দেওয়া সহ্য করবে না কিংবা অন্য কোনো প্রকারের নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি কিংবা কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উচ্চতর আদেশ প্রয়োগ করবে না কিংবা একটি যুদ্ধ বা একটি যুদ্ধের হুমকি, জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা অন্য কোনো জরুরি অবস্থার (পাবলিক ইমার্জেন্সি) মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিকে নির্যাতন কিংবা অন্যান্য নিষ্ঠুরতা, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণ কিংবা শাস্তিদানের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।’

১৯৯৮ সালে খান কমিশনের নির্দেশনা শুধরে ২০১৬ সালের রায়ে যা লেখা হয়েছিল, তার বিচ্যুতি প্রমাণিত বলা যায়। কারণ এতে বলা আছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন সদস্য কর্মকর্তা কাউকে গ্রেপ্তার করার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিন্তু অনধিক ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের স্থান, সময় এবং অন্তরীণ রাখার স্থান সম্পর্কে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নিকটতম আত্মীয়কে এবং তেমন আত্মীয়ের অনুপস্থিতিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তির সুপারিশমতে তাঁর কোনো বন্ধুকে অবহিত করবেন।’ এমনকি এ কথাও বলা আছে, ‘বাসা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁর নিকটাত্মীয়কে এক ঘণ্টার মধ্যে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। শফিউল বারীকে গ্রেপ্তারের পর এটা তামিল হয়নি। ডিবির ওই টিম এটা জানত কি না, সেটাও একটা প্রশ্ন বটে। তবে না জানাটা দাবি করা হবে দোষণীয়।

বারীর স্ত্রী বলেছেন, তাঁকে বা তাঁদের আইনজীবীদের বারীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। অথচ সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ‘আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি যদি ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শের কিংবা তাঁর কোনো নিকটাত্মীয়র সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করবেন।’

 সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে যথাবিহিত ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্বাচনী বছরটিতে মনে হচ্ছে ওই নির্দেশনা পালন করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কুম্ভকর্ণদের ঘুম ভাঙাতে পুনরায় বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপ দরকার পড়বে।

তমা কোম্পানী এবং মীর্জা আজম: রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটতরাজের উপাখ্যান!

৫১৩ কোটি টাকার চাল-গমের গুদাম নির্মাণের কাজ ৯৬০ কোটি টাকায় পাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন!
 
কে এই তমা কনস্ট্রাকশন?
 
মিডিয়া ঘাটলে যা পাওয়া যায়- যত দুর্ভোগ, তত উদাসীন ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! ফ্লাইওভার বানাতে গিয়ে জনগনকে দুর্ভোগ দিয়ে লোকজন হত্যা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে তমা কনস্ট্রাকশন!
একটু ট্রেক রেকর্ড দেখা যাক-
 
১) মনে কি আছে, ২০০০ সালে ঢাকার মিরপুর রোডের সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে নির্মানাধীন পদচারী-সেতুর (ফুটওভার ব্রিজ) গার্ডার পড়ে মারা যান মাগুরা টেক্সটাইলসের একজন কর্মকর্তা সহ কয়েক জন। সেই ফুটব্রিজ নির্মানের কাজ করছিলো ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! বিনা অভিজ্ঞতায় পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্খা না নিয়ে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ দিনের পর দিন এধরনের ঝুকিপূর্ন কাজ করে গেছে।
 
২) তমা এরপরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের সাবকন্টাক্টের নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে। নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই তমা কনস্ট্রাকশন এখানে ৪/৫ বছর কাজ করে গেছে, যাতে মোট ৯ জন মানুষ নিহত হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হয়নি পথচারী কিংবা কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেন্ডার প্রকৃয়ায় খুব বড় অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুকৌশলে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘তমা কন্সট্রাকশন’কে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। যদিও তাদের আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে তখনই প্রশ্ন ছিল। কারণ, তমা কন্সট্রাকশনের ইতিপূর্বে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ছিল না। ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছে তমা কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছে করেই নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় বাড়ানোর সঙ্গে তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের বাজেট ছিল ৩৩৪ কোটি টাকা, যা শেষমেষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অতিরিক্ত খরচ ৮৯৫ কোটি টাকা, যা পুরোটাই লুটপাট। লীগ সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আজম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক ও মন্ত্রী ওবায়দুলের হরিলুটের কারনে মগবাজার ফ্লাইওভার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যদিও উল্টা ডিজাইনে করায় এটি ঠিকমত ব্যবহার উপযোগি নয়, বরং ঝুকিপূর্ন।
 
৩) ৪০ কোটি টাকার ঢাবির হল ‘বিজয় একাত্তর’ ৫৯ কোটি টাকায় নির্মান করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের প্রায় চার বিঘা জমি দীর্ঘ ছয় বছর দখলে রেখে ব্যবসা করেছে তমা কন্সট্রাকশন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আদালত থেকেও মাঠটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসেনি ক্ষমতার ব্যক্তিদের কাছে।
 
৪) রাজবাড়ী থেকে শুরু করে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন তৈরী করার কাজটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন। ফরিদপুর রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় রেললাইনের মাঝে যে পাথর দেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক পাতলা করে ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাথরগুলো সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 
৫) ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথের নির্মাণকাজ পেয়েছে চীন ও বাংলাদেশের চার প্রতিষ্ঠান। অথচ এর আগের বিএনপি জোট সরকারের সময় নেয়া এই প্রজেক্ট ২০১০ সালে ব্যয় ধরা হয় ১,৮৫২ কোটি টাকা ছিল। এই মহাডাকাতির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
৬) এর আগে ‘তমা কনস্ট্রাকশনের নির্মাণাধীন খুলনার রেলস্টেশনের ছাদে ফাটল ধরেছিল। সেখানেও বেশ কয়েক বার নির্মাণ খরচ বাড়িয়েছিল কিন্তু কাজ যথাযথ ভাবে হয়নি। আটকে আছে খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন, এ কারণে কাজ শেষ হতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত হতে পারে।
 
৭) বাগেরহাট জেলার রামপালে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইউডি)-এর অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড।
 
৮) তিন শ’ ছাপ্পান্ন কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরায় ফ্যাট নির্মাণের দায়িত্ব পেল তমা কনস্ট্রাকশন। কোম্পানিটি ৬৭২টি ফ্লাট নির্মাণ করবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
 
৯) রেলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ২২শ ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ভৈরব-টঙ্গী ৬৪ কিলোমিটার রুটে লুপ লাইনসহ ৮৬ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মানের কাজ চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সাথে কাজ করছে দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১০) বাংলাদেশ রেলওয়ের কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া রেলপথ পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়ায় নতুন রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে প্যাকেট ডব্লিউডি-৬ এ আওতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্রীজ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ করা হবে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১১) রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য আট’টি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা হয়েছে এবং শত শত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে গোল্ডেনবার্গ এর সহযোগি হবেন, তারমধ্যে আছে তমা কনস্ট্র্রাকশন।
 
১২) ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষে ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এজন্য নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেই দায়ী করছে রেল বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণকাজে এ ধীরগতির কারণে একদিকে যাত্রীরা কাঙ্খিত সেবা থকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করছে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১৩) ২৬৬ কোটি টাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পে রায়মণি থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটারের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
১৪) বাংলা দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম শিরোনাম হচ্ছে, ‘মন্ত্রী মামলা ঠিকাদারের স্বার্থের বলি যাত্রীরা! ট্যাক্সিক্যাব উঠলেই ১০০ টাকা ভাড়া।’ এ সিন্ডিকেটে তমা কনস্ট্রাকশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামের দুটি সংগঠনের সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা গোলাম আজম, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরী, ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর বন্ধু, তমা কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আতাউর রহমান মানিকের নাম এসেছে। একদিকে সরকারের এতসব লম্ফঝম্প, অন্যদিকে এক আমলা,- এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর এমন বিপুল বিশাল ক্ষমতা, মিলাতে পারছি না যে!! জনপ্রতিনিধি হয়েও মির্জা গোলাম আজমের এমন গণবিরোধী আচার-আচরণ কথাবার্তা!!
 
১৫) দুই লাখ এক হাজার টন চাল-গম রাখতে স্টিলের গুদাম নির্মাণে ৫১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লাগার কথা। আর এভাবেই অনুমোদন হওয়া সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনার প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্যাকেজ-৩ এ উল্লেখ করা আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও মধুপুরের তিনটি সাইলো নির্মাণে লাগছে ৯৬০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাইলো নির্মাণের এ কাজটি পেতে যাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (টিসিসিএল)!
 
শত শত সরকারী নির্মানকাজের সাথে জড়িত তমা গ্রুপের চেয়্যারম্যান হিসেবে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক নামক একটা লোককে সামনে রাখা হলেও বিনা বিনিয়োগে এর মূল মালিক জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানের আদরের শালা মির্জা আজম, যিনি শেখ হাসিনার পাট বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। তার সাথে আছে বাংলাদেশের প্রথম ‘গানপাউডারে বাস পোড়ানো’ আবিস্কারক জাহাঙ্গীর কবির নানক। দু’বছর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তমা কনস্ট্রাকশনের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসেে। বলা হচ্ছে ফ্লাইওভার বাবদ লুটে নেয়া রাষ্ট্রীয় টাকার অংশ তমা কনস্ট্রাকশন ছাত্রলীগকে দিচ্ছে। যার বদৌলতে শত অপকর্ম স্বত্বেও ছাত্রলীগের পাহারায় নানান যায়গায় ব্যবসা করে যাচ্ছে তমা কোম্পানী, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। যদিও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দর্পকরে বলেন– আমরা ব্যবসা করতে আসিনি, কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর মির্জা আজম কাকরাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন। এর পরপরই রেলওয়ে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনেকগুলো বড় ঠিকাদারি কাজ পেতে থাকে তমা কনস্ট্রাকশন। তমা কোম্পানীর নানা অপকর্ম, সময়মত কাজ না করে তিন চার গুণ খরচ বাগানো, নিম্নমানের কাজ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশে বহু মানুষ হত্যাকারী ঠিকাদার হয়েও হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারী কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে।
 
মির্জা আজম এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। এত টাকা হাতে যে কর্মীরা হাত বাড়ালে ১০/২০ লাখ টাকা ছুড়ে দেয়া তার অভ্যাসে দাড়িয়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নিজের ভাই মির্জা কবীরকে বিনাভোটে পৌরসভা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। মায়ের চল্লিশায় খাওয়ানো বাবদ খরচ করেছেন ৪ কোটি টাকা। পুরো জামালপুর জেলার সকল কন্ট্রাকটরী করেন মির্জা আজম। জামালপুর শহরে ৫০ কোটি টাকায় নিজের বাড়ি নির্মান করেছেন আজম। স্ত্রী এবং স্বজনদের হাজার বিঘার ওপরে জমি করেছেন মেলান্দহে। কিনেছেন নিউইয়র্ক, কানাডা, লন্ডনে একাধিক বাড়ি, শ্রীমঙ্গলে নানকের সাথে হাজার একরের টিএস্টেট। আজম এখন জামালপুরের অঘোষিত ‘রাজা’।
 

বিভিন্ন সেক্টরে ভিন্ন ভিন্ন নামে আছে তমা কোম্পানী এবং আজমরা, যারা লুটপাট করে রাষ্ট্রীয় অর্থ। আর ধংস হচ্ছে দেশ!

/ফেসবুক

বিজয়ের উন্মাদনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ভয়াবহ পতন! লুটপাট-দুর্নীতি-ঔদ্ধত্য-দখলদারিত্ব আর যথেচ্ছাচারে মাখামাখি : আনু মাহমুদ

সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিজয়ের সুর। এ বিজয় চিরস্থায়ী এবং অপ্রতিরোধ্য— এ রকম একটি ভাব থেকে তৈরি হয়েছে অতি আত্মবিশ্বাস। সেখান থেকে এসেছে বেপরোয়া ও থোড়াই কেয়ার মনোভঙ্গি। ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৃহৎ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় খুশি,

দেশের ভেতর ক্ষমতার নানা কেন্দ্র নিজ নিজ চাহিদার চেয়ে বেশি পেয়ে খুশি। সরকারের তাই এ রকম ধারণা হয়েছে যে, তার আর জবাবদিহিতার কোনো দরকার নেই। যা খুশি তাই করলে কোনো কিছু যায় আসে না। জলজ্যান্ত সত্য অস্বীকারেও তাই কোনো লজ্জাশরম নেই।

শত হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় সমর্থন বা অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো বড় দুর্নীতি ঘটতে বা তা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। শেয়ারবাজারের ধসের পেছনে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ভূমিকা চিহ্নিত হয়েছিল খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এ দুজন ব্যক্তির ওপরই মানুষের আস্থা ছিল, কিন্তু দুটো তদন্ত কমিটির ক্ষেত্রেই ফলাফল হয়েছে অভিন্ন। পুরো রিপোর্ট প্রকাশিতও হয়নি। মূল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; বরং তারা ক্ষমতার ছড়ি নিয়ে আরো নতুন নতুন অপরাধের কাহিনী তৈরি করছেন।

সবাই বলেছেন, আর কোনো ব্যাংকের দরকার নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সবার বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার দলীয় পরিচয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যাংক খোলার অনুমতি দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বাধীন ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে প্রথম থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তার পরও এ ব্যাংকে সরকার বরাবর তহবিল জোগান দিয়ে গেছে। জলবায়ু তহবিলের টাকাও এখানেই জমা রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে ব্যাংকে ধস নামে। এখন সেই ব্যাংককে পুঁজি জোগান দিতে আবার রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক ও আইসিবি মিলে দুর্নীতি আর অনিয়মের থলিতে ঢালছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা  (বণিক বার্তা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮)। জনতা, সোনালী, বেসিক ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কাহিনী সরকার প্রকাশ করেনি, করেছে গণমাধ্যম।

দেশে গত প্রায় এক দশকে আইয়ুব ও এরশাদের পর তৃতীয় ‘উন্নয়ন’ দশকের চাপে আছি আমরা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভালো। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে বিস্তর। ঘুষ, নিয়োগ বাণিজ্য, আটক বাণিজ্য সবই বর্ধনশীল। নির্মাণ খাত সবচেয়ে গতিশীল। ইটভাটা অসংখ্য, বৈধ যত তার চেয়ে অবৈধ সংখ্যা বেশি। সিমেন্ট কারখানার সংখ্যাও বেড়েছে। শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীর বাতাসে পানিতে এর প্রবল ছোঁয়া পাওয়া যায়। দূষণরোধের কোনো ব্যবস্থা কাজ করে না। রড উৎপাদন বেড়েছে। নিয়ম মেনে বা না মেনে বালি তোলার পরিমাণ বেড়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফার্নিচারের ব্যবসাও বেড়েছে। এজন্য বনের গাছের ব্যবসা ভালো। দেশে নির্বিচারে বনজঙ্গল উজাড় করায় প্রশাসন বরাবর সক্রিয় সহযোগী। সরকারি তথ্যই বলছে, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি বন উজাড় হয়েছে উচ্চপ্রবৃদ্ধির এই এক দশকেই। …শুধু গাজীপুরেই এক দশকে ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ বনাঞ্চল’ (বণিক বার্তা, নভেম্বর ৪, ২০১৭)।

নির্মাণকাজে সরকার যেসব বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তার আকার ও বরাদ্দ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এসব প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, এর যৌক্তিক বিন্যাসেরও কোনো ব্যবস্থা নেই, যৌক্তিকতা বিচারের কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানও আর কার্যকর নেই। তার ফলে এগুলোর ব্যয় অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দুই-তিন গুণ বেশি হলেও সরকার তা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নয়। বরং সরকারি অনুমোদন নিয়েই এগুলোর ব্যয় শনৈঃশনৈঃ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নিয়মনীতি অমান্য করে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানিকে উচ্চমূল্যে কাজ দিচ্ছে, আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ২০১০ সাল থেকে সরকার চলছে ‘দায়মুক্তি আইন’ ঢাল দিয়ে, নানা সুবিধা ছাড়াও ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষতির দায় থেকে বাঁচানোর জন্য দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে বিদেশী কোম্পানিকেও (রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দ্রষ্টব্য)।

নির্মাণ ছাড়া সরকারের প্রশাসনের আরেকটি আগ্রহ কেনাকাটায়। যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে, কাজ নেই; বাস কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই সেগুলো হাওয়া; ডেমু ট্রেন কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই তার কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হচ্ছে; সিসিটিভি কেনা হচ্ছে কিন্তু প্রয়োজনের সময় তা নষ্ট; ঋণ করে সাবমেরিনসহ সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে। কেনা হচ্ছে গাড়ি, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গাড়ির মডেল পরিবর্তন করা, আরো বড় আরো দামি গাড়ি কেনার পথে প্রবল উৎসাহ। সর্বজনের অর্থ যেকোনোভাবে বরাদ্দে কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু এ অর্থ জোগাড়ে বাড়ছে মানুষের ওপরই চাপ। গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ভ্যাট বসছে সর্বত্র, খাজনা বাড়ছে।

শিক্ষা খাতও এখন কিছু লোকের খুব দ্রুত টাকার মালিক হওয়ার জায়গা। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতে শিক্ষার কী অবশিষ্ট থাকছে, সেটাই খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রশ্ন ফাঁস নিয়মিত, কোচিং আর টিউশনি নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন বিষময়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করার কারণে গাইড বই, কোচিংয়ের বাণিজ্যের পথ খুলেছে। চলছে নিয়োগ বাণিজ্য। এতে যাদের লাভ তারা খুশি। তারা এ ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়। শুধু শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অন্য সব মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিশ্চিন্ত। চিকিৎসা খাতের অবস্থাও তা-ই।

বলা বাহুল্য, উন্নয়নের ধরনে যদি দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিহীনতা, দখল, দূষণ থাকে, অর্থাৎ যদি উন্নয়ন প্রকল্প অতি উচ্চমাত্রায় সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি/বিপর্যয়ের কারণ হয়, তাহলে তা কুশাসন অবধারিত করে তোলে। নদীনালা, খালবিল যারা দখল করে, যারা ব্যাংক লুট করে, যারা সম্পদ পাচার করে, তাদের দরকার হয় প্রশাসনের সমর্থন। এ সমর্থন পেলে তার অপরাধের গতি আরো বাড়ে। এর মধ্যে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস সবই প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জন করে। সেটাই ঘটছে অবিরাম।

প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিংবা প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, যদি কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের এগুলো তদারকি বা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে তৈরি হয় যথেচ্ছাচার। যারা ঠিকাদার, তারাই যদি কর্তাব্যক্তিদের সমর্থন/অংশগ্রহণে প্রকল্প নির্ধারণ করে, তাহলে ব্যয় বরাদ্দ অনিয়ন্ত্রিত না হওয়ার কারণ নেই। যদি কমিশনপ্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে প্রকল্প বাছাই, তাহলে কমিশন যত বাড়ে, প্রকল্প ব্যয়ও তত বাড়তে থাকে। আগে ঘুষ কমিশনের একটা সীমা ছিল, এখন তাও নেই বলে জানা যায়। বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যয় যে বিশ্বে রেকর্ড করছে, তা এ গতিতেই হয়েছে।

ব্যবসায়ী-লবিস্ট-রাজনীতিবিদ-প্রশাসনের দুষ্ট আঁতাত আরো অনেক অপরাধ-সহিংসতাকেও ডাকে। বলপূর্বক টেন্ডার দখল, জমি-ব্যবসা দখল করতে গিয়ে খুন, রাষ্ট্রীয় সংস্থায় সহযোগিতায় গুম, আটক বাণিজ্য, দরকষাকষি এগুলোও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলে যায়। প্রশাসন আর দল একাকার হয়ে গেলে দ্রুত অর্থ উপার্জনের বল্গাহীন প্রতিযোগিতা চলবেই। বাড়তেই থাকবে ধর্ষণ, নারী-শিশু-সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা, ক্রসফায়ার, হেফাজতে নির্যাতন এবং সরকারি দলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর হানাহানি।

গত কিছু দিনে দেশে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, হেফাজতে খুন, গুম, ধর্ষণ ইত্যাদির তাই কোনো বিরতি নেই। সাম্প্রদায়িক হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ক্রসফায়ার, খুন, গুম, সাম্প্রদায়িক হামলা সম্পর্কে সরকারি ভাষ্য খুবই সরল, একঘেয়ে ও কৃত্রিম। ভাষ্যকারদের অবিরাম মিথ্যা ভাষণ ও নির্লিপ্ত অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, তাদের আদেশ অনুযায়ী অসার কথাগুলোই জনগণকে বিশ্বাস করতে হবে এবং কেউ যদি না করে তাতে তাদের কিছু এসে যায় না।

সরকার তাই পূর্ণ বিজয়ীর বেশে। বাংলাদেশে বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠান এখন সরকারের করায়ত্ত। নির্বাচনও তার হাতের মুঠোয়। তাই সর্বজনের অর্থ দিয়ে, দেশের উন্নয়নের কথা বলে যা খুশি তা করায় তার কোনো দ্বিধা নেই, দলীয় নেতার মাস্তান হওয়ার কারণে ফাঁসির আসামির দণ্ড মওকুফ করে দিতে কোনো সংকোচ নেই, বিচার ব্যবস্থা চুরমার করতে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, সুন্দরবনবিনাশে বা রূপপুর মহাবিপদ প্রকল্প নিয়ে তার বুকে কাঁপুনি নেই। শত হাজার মানুষ বিনা বিচারে খুন-গুম হয়ে গেলে তা নিয়েও তার মুখে হাসি-মশকরা শোনা যায়। অপ্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের বিভিন্ন স্তরে এগুলোকে বিজয় হিসেবেই দেখা হয়!

আওয়ামী লীগের সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষী বুদ্ধিজীবীরা যদি একটু কম সুবিধা-পদ-বিত্তের পেছনে দৌড়াতেন, যদি তাদের মেরুদণ্ড একটু দেখা যেত, যদি তেলবাজি থেকে সরে একটু দায়িত্ব নিয়ে চলতেন, তাহলে হয়তো বিজয়ের উন্মাদনায় আওয়ামী লীগ সরকারের এতটা পতন ঘটত না, লুটপাট-দুর্নীতি-ঔদ্ধত্য-দখলদারিত্ব আর যথেচ্ছাচারে এতটা মাখামাখি অবস্থা তৈরি হতো না।

 

« Older Entries