Category Archives: অপরাধ

এসপি হারুনের ১৫৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যুক্তরাষ্ট্রে আটক!

গাজীপুরের সাবেক এসপি হারুন অর রশিদের স্ত্রীর ১৫৩২ কোটির টাকার সমপরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এই বিপুল পরিমান অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছিলেন হারুন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিউ হাইড পার্ক এলাকায় নগদ ৫ মিলিয়ন ডলারে একটি বাড়ি কিনতে গেলে অর্থের উৎস নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে সাপ নয় অজগর। একে একে ধরা পড়ে হারুনের স্ত্রীর ১৮০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের পাহাড়, যা পরে আটকে দেয় এফবিআই। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। সম্প্রতি গোপন প্রতিবেদনে এবিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে জানিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। সম্প্রতি হারুনকে ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশে ফেরত আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হারুন গাজিপুরে ১৬৩ বিঘা জমি কিনেছেন, এরমধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় ৫৬ বিঘা, কালিগঞ্জে ২২ বিঘা, এবং গাজিপুর সদরে ৮৫ বিঘা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম প্রজেক্টের অধীনে সরাসরি বিনিয়োগ করেছেন বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৮৯০ কোটি টাকা। সেখানকার নাগরিকত্বও নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এই হারুন অর রশিদ ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে আলোচনায় আসেন। এরপরে ২০১৪ সালে তিনি গাজিপুরের এসপি (যা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় পদ) পদ হাসিল করেন। টানা চার বছর সে দায়িত্বে তার দুর্নীতির পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকার মত হতে পারে জানিয়েছেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত তার সহকর্মীরা। হারুনের টকো আটকে দেয়ার খবর পুলিশ বিভাগে চাউর! যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন তিনি।

বিচারপতি সিনহার নিউজার্সির বাসায় আওয়ামী লীগের হানা!

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নিউ জার্সির বাসায় হানা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

গত বছরে প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে আওয়ামীলীগ সরকারের গন্ডগোল, জোর জবরদস্তি পদত্যাগের বিষয়াদি নিয়ে লিখিত পুস্তক ‘ব্রোকেন ড্রিম’ অনলাইনে প্রকাশের পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ এ হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মীরা ১০/১২ টি গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি সিনহার ভাড়া করা বাসায় হানা দেয়। অবশ্য সিনহা বাবু তখন বাসায় ছিলেন না। অবস্খা বেগতিক দেখে আশে পাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। সিদ্দিকুর বাহিনী নিউ ইয়র্কে ফেরত এসে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে গিয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। চেয়ার ছুড়ে দোকান ও অফিসে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে তিন আ’লীগ কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।

মুলত শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে স্ব স্ব গ্রুপের প্রভাব ধরে রাখতে এবং হাসিনা-পুত্রকে খুশি করতেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন অমান্য করে আ’লীগের লোকেরা বিচারপতি সিনাহার ওপর প্রবাসেও হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়! স্থানীয় কমিউনিটেতে এ নিয়ে প্রবল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অস্ত্রের মুখে ডিজিএফআই ছুটি, দেশত্যাগ, ও পদত্যাগ করিয়েছিল- নিজে স্বীকার করে বিডিপলিটিকোর সংবাদ সত্য প্রমান করলেন বিচারপতি সিনহা!

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া উদ্ভুত জটিলতায় শেখ হাসিনার নির্দেশে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ও কয়েকজন জেনারেল মিলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে  ‍ছুটিতে পাঠানো হয়, পরে তাকে আর দেশে ঢুকতে না দিয়ে বিদেশ থেকেই বেআইনীভাবে পদত্যাগ করানো হয়। ঐ ঘটনা নিয়ে বিডি পলিটিকো ধারাবাহিকভাগে সে সব খবরাদি প্রকাশ করে। কিন্তু সরকারী নিয়ন্ত্রনের কারনে দেশীয় কোনো মাধ্যমই তা স্বীকার করেনি।

বিডিপলিটিকো তখন লিখেছিল, “গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সিনহাকে কুপোকাত করতে তাঁর ওপর অস্ত্রশস্ত্র সহ চড়াও হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেইন, ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক, ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শায়েখ সহ আরও কিছু কর্মকর্তা। এরা খোলা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে প্রধান বিচারপতি সিহার কক্ষে। তারা অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জিম্মি করে পদত্যাগ পত্রে সই করতে বলে। রাজী না হওয়ায় ক্ষেপে যায় জেনারেল আকবর। গালাগালি শুরু করে, এক পর্যায়ে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির গালে মুখে মাথায়, শেষে লাত্থি দিয়ে ফেলে দেন চেয়ার থেকে নিচে। তাদের এই তান্ডবের পুরো সময়টা উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলাল। পরে প্রধান বিচারপতির একমাসের ছুটির কাগজ বানিয়ে সই করে বেরিয়ে যায় আকবর বাহিনী। সেই কাগজ দিয়েই বিচারপতি সিনহাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।”

ঘটনার প্রায় এক বছর পরে আজ প্রকাশ হওয়া বিচারপতি সিনহা তার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream: Rule of Law, Human Rights and Democracy”- এর মুখবন্ধে তিনি সেই সব ঘটনাবলী প্রকাশ করেছেন শোভন ভাষায়। আর এভাবেই বিডি পলিটিকোর খবরাদি কনফার্ম করলেন বিচারপতি সিনহা। তিনি লিখেছেন- “Following the appellate decision, on September 13 the parliament passed a resolution calling for legal steps to nullify the Supreme Court verdict. Prime Minister and other members of her party and ministers blasted me for going against the parliament. Cabinet members including the Law Minister began smearing me alleging misconduct and corruption. While I remained confined at my official residence and lawyers and judges were prevented to visit me, media were told that I am unwell and have sought medical leave. Various ministers said I will go abroad on medical leave. On October 14, 2017, as I was compelled to leave the country, I tried to clear the air in a public statement that I am neither unwell nor am I leaving the country for good. I was hoping that my physical absence combined with Court’s regular vacation will allow the situation to calm down and good sense will prevail; that the government will understand that the essence of the Verdict – upholding the independence of judiciary – is beneficial to the nation and the state. Finally, in the face of intimidation and threats to my family and friends by the country’s military intelligence agency called the Directorate General of the Defense Forces Intelligence (DGDFI), I submitted resignation from abroad.

তিনি লেনদেন সব বিদেশে বসেই করেন!!!

ইলিয়াস হোসাইন

তিনি লেনদেন সব বিদেশে বসেই করেন!!!
আমরা কেউই শতভাগ ফেরেস্তা না, মানুষ। তাই ভূল করি, পাপ করি! কিন্তু কেউ একজন বলতে পারবেন, একজন মানুষের সর্বোচ্চ রাজকীয় হালেও দুনিয়ার ৬০-৭০ বছরের জীবন পার করতে কত লাখ, কোটি বা মিলিয়ন কিংবা বিলিয়ন টাকা দরকার???
আমাদের দেশে পর্দার আড়ালে একজন মহিলা বসবাস করে, যিনি এই মুহুর্তে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি ! শুধু তাই নয় আমার ধারনা, তিনি এই মুহুর্তে এককভাবে পৃথিবীর দশজন ধনীর মধ্যে একজন হতে পারে!!
শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, বেসিক ব্যাংক, সোনালী, জনতা ব্যাংক, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ্ গ্রুপ সব জায়গায় তিনার নিপুন হাতের ছোঁয়া লেগেছে !
দিনকে দিন তিনি আরও ড্যাচপারেট হয়ে উঠছেন !
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ওভারটেক করেও তিনি প্রাথী দিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে!
ইদানিং তিনি আসামী জামিন করিয়েও টাকা নিচ্ছেন! তার বনানীর বাসার ভাড়াটিয়া পর্যন্ত ছাড় পায়নি! তিন কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছেন, একটি বাহিনীর মাধ্যমে!

আপু আপনার ভাড়াটিয়া কিন্তু বুঝছে খেলাটা কে করছে, সিসি ফুটেজও রাখা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে টাকা নিয়েছেন, তারাই আপনার নাম বলবে, সময় হলেই দেখতে পাবেন!!!

/ফেসবুক

বড়পুকুরিয়া কয়লা লোপাটে মন্ত্রী-এমপিরাও জড়িত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করেই ১ লাখ টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত!

26 Aug, 2018

সর্বকালের সর্বনিম্ন দামে কোরবানীর চামড়া কেনা হয়েছে: এতিম হতদরিদ্রদের ঠকিয়ে এ কেমন ব্যবসা?

প্রতি বছর বাংলাদেশে ১ কোটির বেশী গরুছাগল কোরবানী দেয়া হয়। এর চামড়া কোথায় যায়? এটা গরীবের হক। কোরবানীদাতা চামড়াবিক্রির অর্থ ভোগ করতে পারেনা, তাই কোরবানীর চামড়ার যায় এতিম ও দরিদ্রদের কাছে। অথচ সেই গরীবের হক চামড়ার দাম এবার নামিয়ে আনছে তিনভাগের এক ভাগে!
 
এটা কেমন করে হলো? ২০১২ সাল পর্যন্ত লবন দেয়া কাঁচা চামড়ার সরকার নির্ধারিত দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৯৫-১০০ টাকা। অথচ এবারে সেই এক বর্গফুট চামড়ার দাম পেয়েছে ৩০-৩৫ টাকা। এই সেক্টর সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামীর আন্দোলনের সাথে জড়িত কওমী মাদ্রাসা এতিমখানার শিশুদের শায়েস্তা করতেই শেখ হাসিনার সরকার চামড়ার দাম কমিয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছে। হিসাব বলছে, ২০১৩ সাল থেকে সরকারীভাবে চামড়ার দাম প্রতি বছর ১০-১৫ টাকা করে কমাতে কমাতে এই অবস্থায় এনে ঠেকিয়েছে। কারন প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ কোরবানীর চামড়ার যায় কওমী মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে। মুলত এই কোরবানীর চামড়া বিক্রির টাকাই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।
 
সেই কোরবানীর চামড়া নিয়ে রাম-বাম সরকার, ট্যানারী মালিক, ও ফড়িয়াদের জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রজেক্টে হাজার টাকার চামড়া এবার টানারীগুলো কিনেছে ২/৩ শ’ টাকায়! একদিকে হাসিনার সরকার দাম কমিয়ে অর্ধেক করেছে, তার উপরে ট্যানারী মালিকরা সিন্ডিকেট করে আরও অর্ধেক দামের বেশী দাম দিতে চায় না। যেহেতু কাচা চামড়া সংরক্ষনের কোনো ব্যবস্থা নাই, তাই মালিকদের দামেই বিক্রি করতে হয়। স্বল্প দামের ফলে মাঝখানের ছোট ব্যবসায়ীরা কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হলেও চুড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কওমী মাদ্রাসাগুলো এবং এতিম শিশুরা! লক্ষণীয়, ৬৫ লাখ কোরবানীর সব গরুর চামড়ার দাম গড়ে যদি ৫০০ টাকা করেও ধরা হয়, তাহলে মূল্য দাঁড়ায় ৩২৫ কোটি টাকা। যদিও ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কাচা চামড়া খাত থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার মত।
 
ওহে ট্যানারীঅলারা, ওহে মানুষ। লাখ লাখ টাকা খর্চ করে কিসের কোরবানী দিলে, কিসের ব্যবসা করছ? মনের শয়তানী তো কোরবানী দিতে পারলে না!!

বাংলাদেশ লুট করা টাকায় সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর একজন বাংলাদেশের সামিট গ্রুপের আজিজ খান!

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর অন্যতম বাংলাদেশের মোহাম্মদ আজিজ খান ও তার পরিবার, খবর বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের। জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৯১০ মিলিয়ন (৯১ কোটি) ডলার। বাংলাদেশি অর্থ-৭৬৭৫ কোটি টাকা। তিনি ও তার পরিবার আছেন ৩৪ নম্বরে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত আজিজ খান সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার প্রতিষ্ঠান, এবং তা সরকারের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে।

আজিজ খান হলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের বড় ভাই।

ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাত ছাড়াও বন্দর, ফাইবার অপটিকস ও রিয়েল স্টেট খাতেও ব্যবসা আছে সামিট গ্রুপের। সামিট গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালকে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন আজিজ খান। তার মেয়ে আয়েশা সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল পরিচালনা করেন।

৬৩ বছর বয়সী আজিজ খান ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ৩ সন্তানের জনক। তার পিতা ছিলেন সেনা কর্মকর্তা, যিনি পরে নির্মাণ খাতে জড়ান। সামিট গ্রুপ প্রথমে ট্রেডিং কোম্পানি হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরে নির্মাণ খাতে নজর দেয়।

বড়পুকুরিয়া থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা চুরি!

 

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পরিদর্শনের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১ লাখ ৪৪  হাজার ৬৪৪ টন কয়লা গায়েব হয়েছে। তবে স্থানীয় কয়লা ব্যবসায়ীদের দাবি, চুরি হওয়া কয়লার পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি। তাদের দাবি, ২০০৫ সালে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরুর পর থেকেই সঠিক হিসাব না রাখায় কয়লায় ‘পুকুর চুরি’ ঘটেছে। তারা বলছেন, মোটামুটি হিসাবও যদি ধরা হয়, তাহলেও উত্তোলন করা কয়লা চুরির পরিমাণ দুদকের করা অভিযোগের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ. এখানে চীনা টেকনিশিয়ানদের উৎপাদিত কয়লারই শুধু হিসাব রাখা হয়। এর বাইরে ডাস্ট কয়লা হিসেবে যে ক্ষুদ্রাকৃতির কয়লা পানি নষ্কাশন করে তোলা ও মজুত করা হয় সেগুলোর কোনও হিসাব রাখা হয় না। অথচ সেগুলো বিক্রি করা হয় এবং সে টাকার কোনও হদিস নথিতে থাকে না। সে কয়লার হিসাব করা হলে গায়েব হওয়া কয়লার পরিমাণ ৩ লাখ টনের কম হবে না বলেও ধারণা এসব ব্যবসায়ীর।

হঠাৎ এক সপ্তাহ আগে খবর ছড়িয়ে পড়ে- বড়পুকুরিয়া খনির কোল ইয়ার্ড থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা উধাও, যার দাম কমপক্ষে ২২৭ কোটি টাকা। । এত সব কয়লার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) মো. কামরুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটলেও কয়লা উধাও ঘটনা এর আগে আর কখনও ঘটেনি। এ ঘটনায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে কয়লা উত্তোলনের কাজও।

শুক্রবার (২০ জুলাই) দুপুরে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, এত বিপুল পরিমাণ কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ায় খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদকে অপসারণ ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও কোম্পানি সচিব) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে বদলি করা হয়েছে। এদিকে, কয়লার অভাবে চার/পাঁচদিনের মধ্যে বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তোলনযোগ্য কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৬ জুন থেকে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। পুনরায় কয়লা উত্তোলন শুরু হবে আগস্ট মাসের শেষে।

সূত্রমতে, কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার দারপ্রান্তে উপনিত হওয়ায় পেট্রোবাংলা ও খনি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক অফিস আদেশে খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদকে অপসারণ করে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দফতরে সংযুক্ত করা হয় এবং মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও কোম্পানী সচিব) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড সিরাজগঞ্জে বদলি করা হয়। বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পেট্রোবাংলার পরিচালক আইয়ুব খানকে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ জানান, হঠাৎ করে কেন কয়লা নেই এ বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরেই বলা যাবে কেন কয়লা মজুদ নেই।  তিনি আরও বলেন, পিডিবিকে গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়ে অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে অনুয়ায়ী উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টাও চলছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, বড়পকুরিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ২৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট ছাড়াও ১২৫ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম আরও দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রয়োজনীয় কয়লার অভাবে ১২৫ মেগাওয়াটের ইউনিট দুটো আগে থেকেই বন্ধ; চলছিল শুধু ২৩০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, চলমান কেন্দ্র্রট পুরোপুরি উৎপাদনে রাখতে প্রতিদিন ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা দরকার। সেই হিসাবে এক মাসের জন্য দেড় থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন কয়লা রিজার্ভ রাখার নিয়ম। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সঙ্গে বৈঠক করে কয়লার রিজার্ভ সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে পিডিবি। পেট্রোবাংলার আওতাধীন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি এ কয়লা সরবরাহ করে থাকে।

পিডিবি বলছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকেও পেট্রোবাংলা নিশ্চিত করেছে, কয়লার মজুদ আছে। কিন্তু সম্প্রতি পিডিবির বোর্ড সদস্য (উৎপাদন) আবু সাঈদ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরেজমিন গিয়ে দেখেন, সেখানে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুদ আছে, যা দিয়ে দুদিনও বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব নয়।

প্রশ্ন উঠেছে পেট্রোবাংলা থেকে পিডিবিকে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, প্রায় দুই লাখ টন কয়লা মজুদ আছে। মজুদ এ কয়লা কোথায়, এ কয়লা কি আদৌ মজুদ করা হয়েছিল, নাকি কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, এমন সব প্রশ্নও উঠে আসছে। কিন্তু কে দিবে এসব প্রশ্নের জবাব। সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আর দায়িত্ব প্রাপ্তরা তদন্ত রিপোর্টের আগে কথা বলতে রাজি নয়।

সূত্রমতে, বড়পুকুরিয়ার খনি থেকে কয়লা ক্রয়ে হাজারো শিল্প ও কারখানা আগ্রহী। সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে ক্ষেত্রবিশেষে কয়লা বিক্রি হয় অবৈধ কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে। অভিযোগ রয়েছে, কয়লার ক্রম-ঊর্ধ্বগামী চাহিদাকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে যোগসাজশ রয়েছে বড়পুকুরিয়া কোল কোম্পানির কিছু কর্মকর্তারও। এ সিন্ডিকেট অতি উচ্চমূল্যে কালোবাজারে নিয়মিত কয়লা বিক্রি করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, হয়তো বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সংরক্ষিত কয়লাও কালোবাজারে চলে গেছে।

জানা গেছে, উপমহাদেশের সব চেয়ে দামি কয়লা হলো এই বড়পুকুরিয়ার কয়লা। এই কয়লা ভারতের কয়লার চেয়ে কয়েকগুন বেশি তেজক্রিয়। এতে করে পরিমানে কয়লা অনেক কম লাগে। আর এ কারণেই দেশিয় এবং বিদেশি অনেক কোম্পানি এই বড় পুকুরিয়া থেকে কয়লা ক্রয় করতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উত্তোলন কম থাকাতে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। আর এ কারনেই শুরু থেকে এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

এদের সাথে রয়েছে কয়লা খনি কর্মকর্তাদের সু-সম্পর্ক। আর এদের মাধ্যমেই কালো বাজারে কয়লা বিক্রির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা তো আর কম নয়। এতো কয়লা এক সাথে উধাও হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। কিভাবে কার মাধ্যমে এই কয়লা খনির রিজার্ভ থেকে উধাও হলো তা নিয়ে রহস্যের শেষ নেই।

এর আগেও রাষ্টীয় ব্যাংক এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেও টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এত কয়লা এক সাথে উধাও হওয়ার ঘটনা নতুন। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে টাকা উধাও হওয়ার ঘটনার কোন সুরহা হয়নি। আর্থিক খাতে সব কেলেঙ্কারির ঘটনাকেই ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনা কি একই পথে যাবে এমন প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের।

নিউ ইয়র্কে ১৬ মিলিয়ন ডলারে মার্কেট কিনলেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল!

সময় শেষ। বাক্স পেটরা গোছাচ্ছে লীগ মন্ত্রী নেতারা। সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত চিন্তা করে লুটেরা মন্ত্রী এমপিরা অনেকেই বিদেশে টাকা ইনভেস্ট করছে। শেখ হাসিনার খাদ্যমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলামের পালানোর প্রস্তুতি চুড়ান্ত প্রায়। সম্প্রতি আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ১৬ মিলিয়ন ডলারে ৭টি দোকান কিনে ফেলেছেন কামরুল। এতে নিজের নামে সামান্য অংশ রেখেছেন, মূল ক্রেতার নাম হিসাবে আছে ভাতিজি শাহানারা খান ও ফজলুর রহমান খান। তাদের ঠিকানা ২২৪৩, ২৮ স্টৃট, এস্টোরিয়া, নিউইয়র্ক ১১১০৫। এই বাড়িটিও বছর দুয়েক আগে ২.৭ মিলিয়ন ডলারে কিনেন এডভোকেট কামরুল।

বাঙালি অধ্যুসিত জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউর ওপরে ৭৪ থেকে ৭৫ নম্বর সড়কের মধ্যবর্তী এই ৭টি দোকানের মালিক ছিলেন Chui Yee. এখানে রয়েছে মেঘনা গ্রোসারি, মেজবান রেস্টুরেন্ট, আফগান রেস্টুরেন্ট, কবির বেকারীর মত লাভজনক ব্যবসা। দোকানগুলির মালিক ১৩ মিলিয়ন ডলারে তার প্রোপার্টি অন্যত্র বিক্রি চুড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। হঠাৎ এডভোকেট কামরুল তার এজেন্ট দিয়ে ৩ মিলিয়ন ডলার বেশি হাকিয়ে কিনে নেন ঐ প্রোপার্টি, তাও নগদে। অবাক হয়ে চুই মন্তব্য করেন- বাঙালি এত ধনী!

সেনাবাহিনীর প্রভাব ব্যবহার করে শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফ-হারিসকে মুক্ত করেন জেনারেল আজিজ!

২০০২ সালের জানুয়ারি মাসের এক বিকেল। ফারুক ভাই তার জুনিয়র সহকর্মীকে ডেকে কফি খেতে খেতে গল্প শুরু করলেন। এরা পূর্ব পরিচিতি হওয়ায় প্রায়ই সুখ দুঃখের আলাপ সালাপ করেন, যা সার্ভিসের নর্মসের বাইরে চলে যায়। ফারুক ভাই বললেন- দেখো, তুমি তো আমার সম্পর্কে জানো, এই দলটার জন্য কত কিছু করলাম, কিন্তু দুঃখের কথা কি বলবো- নিজের কাজটাই করতে পারছি না। ইলেকশনের আগে ইনারা কত কথা বললেন, এখন আর আমাকে চিনতেই চায় না!

কেনো, কি হয়েছে, ফারুক ভাই?

তুমি তো জানোই, আমরা চাইলে আইনের মধ্যে থেকেই অনেকের জন্য অনেক কিছু করতে পারি। এবারের ইলেকশনে আমার ডিউটি ছিল বিএনপি মহাসচিব মান্নান ভুইয়ার এলাকায়। ট্রুপস নিয়ে ঘাটি গাড়লাম নরসিংদিতে। প্রথমেই সাক্ষাৎ করি আওয়ামীলীগ ক্যান্ডিডেটের সাথে, এতে সবাই ধারণা করে- খুব প্রফেশনাল অফিসার, এবং আ’লীগের অনুগত! তাকে আশ্বস্ত করলাম- শান্তিপূর্ন ভোট হবে, কোনো কারচুপি কাটাকাটি সন্ত্রাসীকান্ড হবে না।

এরপরে দেখা করলাম বিএনপির হাইপাওয়ার ক্যান্ডিডেট আব্দুল মান্নান ভুইয়ার সাথে। তাকে বললাম, স্যার, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না, আমি একদম ভালো ইলেকশন করে দেব। আপনার জন্য সাধ্যমত সবই করবো। আমি তো আপনাদেরই লোক, স্টুডেন্ট লাইফে আপনাদের ছাত্র সংগঠন করেছি। আপনি নিশ্চিত বিজয়ী হবেন। এলাকায় কোনো সন্ত্রাসীর যায়গা হবে না, আওয়ামীলীগের নাম গন্ধও থাকবে না। তিনি বললেন, কর্নেল সাহেব ধন্যবাদ, সেনাবাহিনী তো আমাদের প্রাইড, আপনারা আইনমত কাজ করলেই হবে।

পরে আরও দেখা হয়েছে, ইলেকশন নিকটবর্তী হলে একদিন সুবিধামত সময়ে ভুঁইয়া সাহেবকে বললাম, ‘স্যার, ইলেকশনে আপনার বিজয় সুনিশ্চিত, এবং আপনারা সরকারও গঠন করবেন। তবে আমার একটা বিষয় আছে- আপনাকে একটু দেখতে হবে। ছোট ভাই জোসেফ জেলে আছে, আমার মায়ের খুব আশা ওকে বাইরে আনার। আর হারিস পলাতক আছে, ও একটু ফ্রি চলাফেরা করতে চায়। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, স্যার, ওরা আর কোনো উল্টা পাল্টা কিছু করবে না। আসলে এমপি মকবুলের উৎপাতে আমার ভাইগুলার জীবন ধংস হয়ে গেছে, লীগের গত আমলে আমার একভাই টিপুকে গুলি করে হত্যা করেছে হাজী মকবুলের ছেলে। আর এমপি মকবুল আমার বাকী দু’ভাইকে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। সব শুনে মান্না ভুইয়া বললেন, ‘দেখেন কর্নেল সাহেব, এখন আমি এর কোনো খোঁজ খবর নিতে পারব না। তাছাড়া এখন ইলেকশন নিয়ে ব্যস্ত। আগে সরকারে আসি, তারপরে খোঁজ নিয়ে করে দেয়ার চেষ্টা করবো। আপনি টেনশন করবেন না।’

ইলেকশন হয়ে গেলো, সরকার গঠন করলেন মান্নান ভুইয়া সাহেবরা, কিন্তু আমি আর উনার সাথে দেখা করতে পারিনা। প্রটোকল, নরমসের বাধা! অনেক কষ্টে সৃষ্টে হেয়ার রোডের বাসায় উনার সাথে দেখা করলাম, তিনি অবশ্য চিনলেন। কেমন আছেন, খোশ খবর করে চা বিস্কুট খাইয়ে বিদায় করে দেয় আর কি। আমি মোটামুটি জোর করেই ভাইদের কথা তুললাম। তিনি বললেন, ‘দেখুন আমি তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নই, তাও আপনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলে দিব। আপনি ওখানে যোগাযোগ করবেন।’ কিন্তু উনার কথায় তেমন কোনো আন্তরিকতা ছিল না।

‘চলো তোমাকে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বাসায় যাই, সহকর্মীকে বললেন ফারুক ভাই। দু’দিন পরে দু’জনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে গেলেন। কথা হলো। কিন্তু মান্নান ভুইয়া কিছু বলে দিয়েছেন, এমন কোনো আভাস ইঙ্গিত পাওয়া গেলো না। উল্টো শীর্ষ সন্ত্রাসী হারিস জোসেফের জন্য কিছু করার সুযোগ এই সরকারের নাই, বলে বিদায় করে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারের দুই মন্ত্রী থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফারুক তার কোর্সমেটদের সাথেও বিষয়টা শেয়ার করেন। তাদের থেকে ধীরে ধীরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে জানাজানি হয়।

এই ‘ফারুক ভাই’ হলেন লেঃ কর্নেল আজিজ আহমেদ, বর্তমানে লেফটেনেন্ট জেনারেল, সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) পদে কর্মরত। ২০০৯ সালে পিলখানা ম্যাসাকারের পরে মেজর জেনারেল আজিজকে নবগঠিত বিজিবির মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেন শেখ হাসিনা। পদের ব্যবহার করে আজিজ আহমেদ পুরোনো ভোল পাল্টে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাংঘাতিক আস্থাভাজন হতে আত্মনিয়োগ করেন। বিশেষ করে, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনের সময় জেনারেল আজিজ ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহী হয়ে নিজ ফোর্স বিজিবিকে ব্যবহার করে বিরোধী দলের আন্দোলন দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন, এবং ব্যাপক ধরপাকড় এবং খুনখারাবি করান। মেজর জেনারেল আজিজের কাজে খুশি হয়ে শেখ হাসিনা তাকে আস্থায় নেন, একাধিক সেশনে একান্ত আলাপ করেন। শেখ হাসিনা তার দুর্বল সরকারের জন্য আজিজকে অপরিহার্য মনে করেন। পলে লেফটেনেন্ট জেনারেল পদোন্নতি দিয়ে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে এনে কোয়ার্কটার মাস্টার জেনারেল পদে বসান। সার্ভিস ছাড়াও ফারুক ভাইকে নিরাশ করেননি শেখ হাসিনা। তার অনুরোধমত, ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট দিয়ে জোসেফের মৃত্যুদন্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড করে দেন। নামে কারাগার হলেও জোসেফ গত দু’বছর পিজি এবং ঢাকা মেডিকেলে ভিআইপি কেবিনে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দিয়ে প্রায় ফ্রি করে রাখার ব্যবস্থা করেন। অবশেষে গত সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় বের জোসেফকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেন। আর হারিসকে বহু আগেই বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। নিজের পদ এবং সেনাবাহিনীর প্রভাব ব্যবহার করে জেনারেল আজিজ তার ভাই শীর্ষসন্ত্রাসী জোসেফকে কারামুক্ত করবেন এমন আশংকা প্রকাশ করে আগে থেকেই লেখালেখি চলছিল দেশের বিভিন্ন  মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে। সেই আশংকার বাস্তবায়ন হলো অবশেষে!

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ওয়াদুদ আহমেদের পাঁচ পুত্রের মধ্যে সবার ছোট তোফায়েল আহমেদ জোসেফ তার বড় ভাই হারিস আহমেদের হাত ধরে রাজনীতির মাঠে পদার্পণ করেন। বড় ভাই জেনারেল আজিজ আহমদ ফারুক। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় পার্টি ছেড়ে হারিস যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগে। তৎকালীন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও হয়েছিলেন তিনি। জোসেফ তার বড় ভাইয়ের ক্যাডার বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বপালন করেন। এরপর থেকে মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন জোসেফ। যোগ দেন সুব্রত বাইনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত সেভেন স্টার গ্রুপে। পুরো রাজধানী তখন সেভেন স্টার গ্রুপ ও ফাইভ স্টার গ্রুপ নামে দু’টি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করত। টক্কর লাগে এমপি হাজী মকবুলের সাথে। গোলাগুলিতে নিহত হয়  হারিসের বড়ভাই টিপু। মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মিজানের বড়ভাই মোস্তফাকে হত্যা করে ১৯৯৭ সালে গ্রেফতার হয় জোসেফ। ২০০৪ সালে জোসেফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল ঢাকার জজ আদালত।  হাই কোর্ট ওই রায় বহাল রাখে। জোসেফ ২০ বছর আগে যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তার নামে তখন ঢাকার বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, খুন, অবৈধ অস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা ছিল। এভাবেই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকায় নাম উঠে আসে জোসেফের।

চলতি মাসে সেনাপ্রধান নিয়োগের সিস্টেমে জেনারেল আজিজ শেখ হাসিনার অন্যতম ক্যান্ডিডেট হলেও শুভাকাঙ্খিরা পরামর্শ দিয়েছেন, আজিজকে সেনাপ্রধান করে সুবিধা হবে না, কেননা জেনারেল আজিজ সেনাবাহিনীতে সবচেয়ে আনপপুলার লোক। বিশেষ করে, জোড়া শীর্ষসন্ত্রাসীর জেষ্ঠ্য সহোদরকে সেনাবাহিনী প্রধান করা হলে জনমনে দারুণ বিরুপ মনোভাব হবে, তাছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনেকেই এই নিয়োগ মানতেও চাইবে না। আজিজ ইতোমধ্যে তার চাহিদা সব আদায় করে নিয়েছে। এরপরে তিনি যেকোনো অঘটন ঘটাতে পারেন নিশ্চিন্তে, তাঁর সেই অভ্যাস আছে।

 

« Older Entries