Author Archives: bdpolitico

বরিশালে পুলিশ কমিশনারের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পেটালেন লীগের টোকাই নেতা মুরাদ!

বরিশালে আ’লীগ দলীয় প্রার্থী সাদেক আব্দুল্লাহর পক্ষে প্রচারণায় এসে ঘটনাচক্রে পুলিশ কমিশনারের ওপর চড়াও হলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ। একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের কেবিনে এই নেতা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার মর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ তিন পুলিশ সদস্যকে পেটালেন। এ সময় পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমানকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। শনিবার সন্ধ্যারাতে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালের এই ঘটনায় বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় চলছে। ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই নিজাম মাহমুদ ফকির বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

টক অব দ্য কান্ট্রি হওয়া ওই ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার সন্ধ্যারাতে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে নোঙরকারী সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ভিআইপি কেবিনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের সামনে অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী নিয়ে অবস্থান করছিলেন।
সেখানে গিয়ে দেখতে পান অর্ধশতাধিক লোকের মধ্যে বসেছিলেন আ’লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। এই নেতার সাথে থাকা অপরাপর বেশ কয়েক ব্যক্তি পিস্তল হাতে নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে কমিশনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি জানতে চান এবং পিস্তলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য কাগজপত্র চান।
প্রায় একই সময় ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান লঞ্চঘাটে যান। সরকারি এই কর্মকর্তাকে প্রটোকল দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান। কিন্তু ঘটনাচক্রে সচিবকে পেছনে ফেলে পুলিশের এই দুই কর্মকর্তা চলে যান লঞ্চের ভিআইপি কেবিনের লাউঞ্জে। সেখানে গিয়ে দেখতে পান অর্ধশতাধিক লোকের মধ্যে বসেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম মুরাদ। এই নেতার সঙ্গে থাকা অপরাপর বেশ কয়েক ব্যক্তি পিস্তল হাতে নিয়ে নানা অঙ্গভঙ্গি করছিলেন। সেই দৃশ্য দেখে কমিশনারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম ছুটে গিয়ে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি জানতে চান এবং পিস্তলের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান।

এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী ছুটে গিয়ে তাদের দ্রুত স্থান ত্যাগের অনুরোধ করেন। এই সময়ে তুমুল বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে শাহে আলম মুরাদের সঙ্গে থাকা সৈকত ইমরানসহ ২০ থেকে ২৫ জন একত্রিত হয়ে সহকারী জাহিদুল ইসলাম ও দেহরক্ষী হাসিবকে এলোপাতাড়ি পিটুনি দেয়।  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনার চেয়েছিলেন সকলকে বের করে দিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার। কিন্তু ক্ষুব্ধ শাহে আলম ও তার লোকজন পুলিশ কমিশনারকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে শাহে আলম কমিশনারের মাথায় পিস্তল ধরেন।

এমনকি কমিশনারকে এই সময়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তার সঙ্গে থাকা ইমরান সৈকতসহ বেশ কয়েকজন। এই চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে কমিশনারের সঙ্গী ওবায়েদকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় শাহে আলমের লোকজন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কমিশনার দ্রুত ফোন করে ঘটনাস্থলে আরো পুলিশ ডেকে নেন। কিন্তু বরিশাল পুলিশ চাইছিল না সরকারের দুইজন সচিবের উপস্থিতিতে এই ধরনের বিষয় প্রকাশ্যে আসুক।

যে কারণে ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিতে লঞ্চটি থামিয়ে রাখা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে একটি সূত্র দাবি করছে- এই ঘটনার পর বিষয়টি তাৎক্ষণিক শাহে আলম মুরাদ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে মুঠোফোনে অবহিত করেন। এর পরেই কমিশনারের মোবাইল ফোনে কোন ব্যক্তিবিশেষ ফোন করে কথা বলেন। মূলত মুঠোফোনে আলাপচারিতার পরই বরিশাল পুলিশ গ্রেপ্তারের মতো কোনো ঘটনার দিকে না গিয়ে লঞ্চটি ছেড়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা লঞ্চের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এই লঞ্চে ঢাকার যাত্রা নিরাপদ নয় মনে করে টার্মিনালেই নেমে যান। যদিও লঞ্চটি ছেড়ে দেওয়ার আগেই পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান পুরো ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সিসিটিভি থেকে সংগ্রহ করে রাখেন বলে শোনা গেছে।

এই বিষয়টি নিয়ে রোববার দিনভর বরিশাল পুলিশে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইলেও দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা মুখ খোলেন নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি থানা পুলিশও বিষয়টি স্বীকার করছে না। তবে গভীর রাতে পুলিশের একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে- এই ঘটনায় শাহ আলম মুরাদের নাম উল্লেখ না করে সৈকত ইমরানের নাম উল্লেখ করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নাম্বার ৩৩/১৮। তারিখ ১৫ জুলাই। মামলায় তাদের ১৪২/১৪৩/১৮৬/৩৫৩/৩৩২/৩৩৩/৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার অনুঘটক শাহ আলম মুরাদকে কেন নামধারী আসামি করা হচ্ছে না সেই সম্পর্কে বরিশাল পুলিশের পক্ষ থেকে কোন মন্তব্য আসেনি। তাছাড়া অভিযুক্তদের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে শাহে আলম মুরাদ মানবজমিনকে বলেন, ঘটনায় আমি জড়িত নই। দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশের বাক-বিতণ্ডা হয়েছিল। যা পরে মিটমাট হয়ে গেছে।

তবে এই ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা এক আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন- পুলিশ কমিশনার শাহ আলম মুরাদকে সঙ্গীদের নিয়ে বসে থাকতে দেখতে পান। ওই সময় তাকে দেখে কেন আ’লীগ নেতারা উঠে দাড়ালেন না এই বিষয়টিতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। মূলত এই কারণেই তর্কাতর্কির একপর্যায়ে এই উদ্বুদ্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ঢাকা থেকে আসা কতিপয় বাজে ছেলেপান তাদের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তবে সচিবালয় সূত্র জানায়, বরিশাল সিটি নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্লান ঠিক করতে মাঠে গিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ। তাদেরকে প্রটোকল দিতে গিয়া ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান ঢাকা মহানগরী দক্ষিনের আ’লীগ সেক্রেটারী শাহে আলম মুরাদের বাহিনীর হাতে মারপিটের শিকার হন। মুরাদ ঢাকা দক্ষিনের টোকাই থেকে উঠতি মস্তান নেতা। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে লগি বৈঠার ঘটনায় তার হাতে নিহত হয় জামায়াতের কর্মীরা। তারপর গত দশ বছরে ফুলে ফেপে বড় হয় এই টোকাই মুরাদ, হাজার কোটি টাকার মালিক। আর এবারে সোজা পুলিশ কমিশনারের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পিটুনি। দুই সচিব, পুলিশ কমিশনার এবং শাহে আলম মুরাদ সবাই গিয়েছিল আ’লীগ প্রার্থীর জন্য কাজ করতে। কিন্তু সালাম না দেয়া এবং চেয়ার ছেড়ে না উঠার কারনে ঘটে যায় সেমসাইড এটাক।
তবে দুই সচিবের এই দলবাজি এবং ভোটকাটার মিশনে সেমসাইড এটাকে  পুলিশের বড় কর্তারা ধোলাই খাওয়া পুলিশ বাহিনী স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছে না। তবে এই দুই সচিব চেষ্টা করেছিলেন ঘটনাটা ধামাচাপা দিতে, কিন্তু মিডিয়ার কল্যাণে তা দেশজুড়ে চাউর হয়! এরপর থেকে দুই সচিবের কীর্তি এবং পুলিশের মার খাওয়া নিয়ে সচিবালয়ে মুখোরোচক আলোচনা। চারিদিকে ছি ছি পড়ে গেছে!

 

ধিক্কার! ভেবে অনুতপ্ত হই কেন শিক্ষকতায় এলাম! এ লজ্জা কার? সরকারের নাকি ভিসির?

ছবিগুলো দেখে বুঝতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়: আঙ্গুল তুলে শিক্ষককে শিক্ষা দিচ্ছেন যিনি তার নাম ছাত্রলীগ

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষক। তিনি তার শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মাঝখানে দাঁড়িয়ে। আঙ্গুল তুলে শিক্ষককে শিক্ষা দিচ্ছেন যিনি তার নাম ছাত্রলীগ। দ্বিতীয় ছবিতে শিক্ষককে যিনি ঘুষি মারতে যাচ্ছেন, তার নামও ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নাজেহালের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাওয়া শিক্ষকেরা প্রশাসনিক নেতৃত্বে আছে বলেই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কেউ নিরাপদ নই এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শুধু আমাদের নাজেহাল আর শারীরিক আক্রমনই করেনি, ছাত্রলীগের তিনজন মাস্তান ভয় দেখানোর জন্য আমার বাসা পর্যন্ত মটর সাইকেলে চেপে আর দুজন পদব্রজে অনুসরণ করতে করতে এসেছে! এদের একজন আবার মোবাইল ফোন দিয়ে ক্রমাগত ছবি তুলছিলো!

আর ‘মহামান্য’ প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বললেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যা খুশি তা করতে পারি না! প্রক্টরিয়াল বডিকে না জানিয়ে কেন শহীদ মিনারে গেলাম? ধিক্কার! ভেবে অনুতপ্ত হই কেন শিক্ষকতায় এলাম! আমাদের কেউ বা আমাদের পরিবারের কেউ কোন রকম শারীরিক বা মানসিক আক্রমনের শিকার হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি দায়ী থাকবে।

বিএনপি নেতাদের দেখে মনেই হয় না নেত্রী জেলে!

আন্দোলন ধ্বংসের প্রেসক্রিপশনে যুবদল- ক্ষমতাসীনদের ছকেই বক্রপথে হাঁটছেন বিএনপির কিছু লোভী নেতা

নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ছক এঁকেছে বিএনপি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রাস্তায় নামবে। আগেই দলটিতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কমিটি গঠনের পর জেলায় জেলায় চলছে নেতাকর্মীদের পদত্যাগ, বিএনপি অফিসে তালা, যুবদল সভাপতির কুশপুত্তলিকা দাহ, অধিকাংশ জেলায় সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ– প্রত্যেকটি কমিটিই হয়েছে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে। যারা স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত, অভিজ্ঞ, মেধাবী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী এবং ঢাকায় যাদের বসবাস, ঢাকার নেতাদের বাসায় যাদের পদচারণা এমন নেতাদেরই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সূত্রের দাবি– এসব কমিটি দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে হয়নি, মূলত এমন কিছু ব্যক্তি যারা দলে থেকেও অন্যের প্রেসক্রিপশনে দল চালায় এসব তাদের ষড়যন্ত্র। যাতে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কমিটি গঠনের পর নীলফামারিতে সবার পদত্যাগ, ভোলা অফিসে তালা ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং শীর্ষ নেতাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা, গাজীপুরে আগুন, ফেনীতে অসন্তোষ, বাগেরহাটের কেউ জানেই না কখন কমিটি গঠন হয়েছে! মাদারীপুরে ডিগবাজি, শরীয়তপুরেও একই স্টাইল। বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ভাষ্য– এ ধরনের কমিটি গঠন করে লাভ কী? যেখানেই কমিটি সেখানেই অসন্তোষ! সমন্বয়ের মাধ্যমে একটা কমিটিও নেই। আন্দোলনের আগ মুহূর্তে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলে অনৈক্য তৈরি ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ প্রায় দুবছর হলো। ভাঙা কোমর নিয়ে তারাও এখন জেলা কমিটি দেওয়ার প্রতিযোগিতায়।

এদিকে দেড় বছর পার হলেও এখনো ৫ জনের কমিটি দিয়েই যুবদল পরিচালিত হচ্ছে! বিএনপিপাড়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো মেরুদ-হীন বলে জানা যায়। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পার হলেও হয় না জেলা কমিটি। প্রায় ১৫ বছরেও কমিটি নেই এমন জেলাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে যারা ব্যর্থ হয়েছে তারা এখন হঠাৎ করে নদীর স্রোতের মতো কমিটি দিয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নেতাদের এ নিয়ে ভাবিয়ে তুলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের তিন নেতার সাথে এ নিয়ে কথা হয় আমার সংবাদের। তারা বলেন, এ কমিটি মূলত সরকারি দলের প্রেসক্রিপশনে হচ্ছে, যারা ত্যাগী, মাঠে রয়েছেন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞ, তারা কেউ কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। একটা কমিটি গঠন হওয়ার আগে স্থানীয় শীর্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পরামর্শ নিতে হয়। কারো পরামর্শ ছাড়াই যুবদল সভাপতির একক ইচ্ছায় এসব কমিটি হচ্ছে। যাদের রাজপথে অভিজ্ঞতা নেই, এমন ব্যবসায়িক নেতাই নেতৃত্বে আসছে, বাদ পড়ছে মাঠের নির্যাতিত নেতারা। প্রতি কমিটিতে ৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা নাড়াচাড়া হয় বলে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।

টাকার বিনিময়ে এসব কমিটি অনুমোদনে রয়েছে তারেক জিয়ার একজন উপদেষ্টাও। এছাড়াও দুজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, দুজন ভাইস-চেয়ারম্যানও সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা দল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে তাদের একটি তালিকা করছে একটি গোষ্ঠী। বেগম খালেদা জিয়া বেরিয়ে এলেই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই তালিকা খালেদার হাতে তুলে দেয়া হবে। দলের শীর্ষ এক নেতার মন্তব্য– এখন কমিটি গঠন মানে প্রতিটি নেতার নামে ডজনে ডজনে মামলা। আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই মামলার ভয়ে ওইসব নেতার কাউকেই তখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। ক্ষমতাসীনদের ছকেই বক্রপথে হাঁটছেন বিএনপির কিছু লোভী নেতা।

কারা হাঁটছেন বক্রপথে? আমার সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে সেই গল্পও। গত ১২ জুন রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুকে আটক করে পুলিশ। যুবদলের একটি সূত্র আমার সংবাদকে নিশ্চিত করেছে, সেদিন সেই বাসায় বৈঠকের কথা বলেই টুকুকে ডেকে নেয়া হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্ত্তাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানও। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকা দুজনের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, মূলত নির্বাচন ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের কমিটি নিয়ে আলোচনা হয় সেই বৈঠকে। নির্বাচনের আগে আন্দোলনে যুবদল নেতাদের ভূমিকা কী হবে সেই আলোকে রোডম্যাপ তৈরির পরামর্শ আসে। তবে হুট করে কমিটি ঘোষণার পক্ষে ছিলেন না টুকু ভাই। এ মুহূর্তে কমিটি ঘোষণা করলে দলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে– এমন মতই দিয়েছিলেন তিনি। দলে প্রকৃতপক্ষে যারা ত্যাগী, মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে বিগত সময়ে যাদের সরব উপস্থিতি ছিলো সব কিছু যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমেই কমিটির পক্ষে ছিলেন টুকু ভাই। ওই বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে কমিটির পক্ষেই জোর দাবী তুলেন নীরব। এক পর্যায়ে কমিটি দেয়া, না দেয়া নিয়ে তাদের মাঝে মন-মালিন্য দেখা দেয়।

কিছুক্ষণ পর সাদা পোষাকের লোকজন এসে সেই বৈঠকের পর টুকু ভাইকে নিয়ে যায়। বৈঠকে থাকা একজনের ধারণা, এটি দলের সভাপতি নীরবের কাজ হতে পারে। কমিটি নিয়ে বাণিজ্য চালাতে এবং আন্দোলনকে ধ্বংস করতে কারো প্রেসক্রিপসন নিয়ে এমন কাজ করেছেন নীরব! টুকু আটক হওয়ার পর দলের ভূমিকা কী হচ্ছে এ নিয়ে পরিবারের দুই সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও খোঁজ নিয়েছেন। যুবদলের ভূমিকা কি হচ্ছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ। এ বিষয়ে তার স্ত্রীও কোন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন না। এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক টুকু আটকের মাত্র ৭ ঘন্টার মাথায় ১৩ জুন দেশের ১৩ সাংগঠনিক জেলায় যুবদলের আংশিক (পূর্ণাঙ্গ) কমিটি অনুমোদন দেন সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। এর মাধ্যমে নীরবের স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পায়। দলে নীরবের উপর সন্দেহের তীর আরো বাড়ে। যেখানে হওয়ার কথা ছিলো টুকুর মুক্তির আন্দোলন ও কর্মসূচী, সেখানে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলে চলছে উৎসব। এর কিছুদিন পর ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৭টি থানার আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ‘অর্থের বিনিময়ে’ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। পদপ্রত্যাশীদের অভিযোগ বিএনপির ইতিহাসে মহানগর উত্তরে এটিই প্রথম ‘পকেট’কমিটি। দলের আরো একটি অনির্ভর সূত্রের মত, এ মুহূর্তে যেসব জেলায় ছাত্রদলের কমিটি গঠন হচ্ছে সেখানেও নীরব, দলের এক স্থায়ী কমিটি , একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও তারেকের এক উপদেষ্টার ইন্ধন রয়েছে। যার মূল টার্গেটেই হলো সেপ্টেম্বর- অক্টোবরে বিএনপিতে আন্দোলনের যে ছক রয়েছে তা ধ্বংস করা। কমিটি গঠনের পর উঠে আসে সারা দেশে ক্ষোভের চিত্র। ভোলায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর কেন্দ্র থেকে যুবদলের কমিটি ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা বিএনপি অফিস ও জেলা যুবদল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন নেতাকর্মীরা।একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। ভোলায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের বাড়ি এই ভোলায়।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতে যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতারা বাদ পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত এ সহযোগি সংগঠন। কমিটি ঘোষণার পর মামলার আসামী হয়ে পদত্যাগ করেন ফেনী জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ নিয়ে কেন্দ্রকে একটি চিঠিতে আনোয়ার উল্লেখ করেন, ‘সদ্য ঘোষিত জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আমার নাম ঘোষনা করা হয়। অথচ আমি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত কোন রাজনীতির সাথে সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রীয়ভাবে জড়িত নেই, আমি একজন ব্যবসায়ী। একটি মহল আমার নাম ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে জেলা যুবদলের সদ্য কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিতে আমার নাম দেয়। অথচ পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে কামরুল হাছান দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে এখনো প্রায় ১৭ মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবনযাপন করছেন।

এছাড়াও রয়েছেন হায়দার আলী রাসেল ৩২টি মামলার আসামী, জাহিদ হোসেন বাবলু দুই ডজন মামলার আসামী । তালিকায় রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীও। এছাড়া বাগেরহাটে সাবেক ছাত্রদলের দুই নেতা হারুন আল রশিদকে সভাপতি ও মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করার পর পরই নতুন কমিটির জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ হোসাইন কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেন। চিঠিতে পদত্যাগী নেতারা সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল বিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ ঘরানার বলে দাবি করেছেন। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করা না হলে যুবদলের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতারা একযোগে পদত্যাগ করাসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন ওই পদত্যাগীরা।
অভিযোগ আছে , গাজীপুরেও যুবদলের পকেট কমিটি গঠন হয়েছে। এ নিয়ে ত্যাগি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল হাসান রাজুর নেতৃত্বে আগুন দেন নেতাকর্মীরা। হাসান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের অনুসারী। দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয়ায় পুড়ে গেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি।

এছাড়াও বিতর্কিত কমিটি গঠন হয়েছে মাদারীপুরে। ঘোষিত কমিটি ১ ঘণ্টার ব্যবধানে তা পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে সরোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন খান মোফাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা পরিবর্তন করে মোফাজ্জল হোসেন খান মোফাকে সভাপতি ও মো. ফারুক বেপারিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারেক রহমানের নাম বিক্রি করে ঘোষিত কমিটি ঘন্টার মধ্যে পরিবর্তন করে দেন তারেকের ঘনিষ্ঠ বেলায়েত হোসেন। তিনি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তালুকদার আনিসুর রহমান খোকন দ্বারা প্রভাবিত হয়েই মূলত এ কাজটি করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতারা পল্টন নেতাদের সামনে এসে উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে করে এ ধরণের কমিটি গঠন বন্ধ করতে হুশিয়ারী দিয়ে যান।

সারাদেশে কমিটি নিয়ে বিএনপিতে বিভক্ত এবং এটি আগামী আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আমার সংবাদকে বলেন, নিশ্চয়ই যারা কমিটি গুলো করছে তারা আমাদের চাইতে অভিজ্ঞ। আমি মনে করি কমিটি গুলো করা ঠিক হচ্ছে। এ কমিটির আলোকে আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের এক তরফায় মামলার ঝুঁকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন করবে। তারা কমিটিতে থাকলেও মামলা হবে , না থাকলেও মামলা হবে। সরকারের নির্যাতন থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাঁচার কোনো উপায় নেই। কমিটি গঠন এটি দলে স্বাভাবিক বিষয়। দেড় বছরেও যুবদল কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে হুট করে সারাদেশে কমিটি দিয়ে দিচ্ছে এটি কি আদর্শিক যুক্তির কাতারে পড়ে কিনা এমন প্রশ্নে আলাল বলেন, আসলে কেন্দ্র কমিটি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ করা উচিৎ। আগে নিজেদের মেরুদন্ড শক্ত করা উচিৎ ছিলো। কমিটি ঘোষণার পর বেশ কিছু যায়গার প্রতিক্রিয়া শুনতে পেয়েছি, আসলে আমিতো সব কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।
যুবদলে কমিটি গঠনের পরপরই ফের আলোচনায় চলে আসে সভাপতিকে নিয়ে। কে এই নীরব? এ নিয়ে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে কথা বলে অনুসন্ধানে জানা জানায়, নীরবের বেড়ে উঠা রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায়। আবার সেই একই এলাকা থেকে এখন ক্ষমতাসীন দলে রয়েছেন একজন শীর্ষ মন্ত্রী। তার সাথে নীরবের বহু দিন থেকে সখ্যতা। এ কারণে বিরোধী দলের নেতা হয়েও ক্ষমতাসীন দলের মর্যাদায় রয়েছেন তিনি। যার কারণে কখনো তাকে আইনী জটিলতায় পড়তে হয় না। প্রশাসনের বাধা কিংবা আইনী জটিলতায় পড়তে হয় না। শুধু তাই না, ওই মন্ত্রির প্রভাব নীরব দলেও খাটান। নিজের মতের বিরুদ্ধে গেলে ওই মন্ত্রীর সাহায্য যে কোন মুহূর্তে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রাখেন এই নীরব । এজন্য গত ১০ বছরেও নীরব রাজনীতিতে বড় পদ-পদবীতে থাকলেও কখন আটক হতে হয়নি তাকে। মামলার অজুহাতে রাজপথে বিগত সময়ে কোনো আন্দোলনেই দেখা মেলেনি নীরবকে। ঘরোয়া প্রোগ্রামেও কর্মীরা এই নেতার মুখ এখন দেখেন না। তাছাড়া সেই ১/১১-এর সময় থেকে দলে নীরবের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ।তাহলে দলে সব সময় নীরবের পদ বড় থাকে কেন?

এ নিয়ে অনুসন্ধ্যানে আরো জানা যায়, নীরব তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে যখন এসএসসি পাস করেন, এরপর তার আর কোনো পড়াশোনা হয়নি। নীরবের ঘনিষ্ঠজনদের মত, তেজগাঁও কলেজ ও আবুজর গিফারী কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু পাশ করেছেন কিনা সেই তথ্য তাদে কাছে নেই। এর পর থেকে রাজনীতির প্রভাব আর টাকা কামাই এক সাথে করেছেন তিনি। তখন থেকেই দলে অর্থনৈটিক প্রভাবটা সব চেয়ে বেশী। টাকার বিনিময়ে সব কিছু ম্যানেজ তারপক্ষে সম্ভব! তাছাড়া ১৯৮৮ সালে তেজগাঁও থানার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন নীরব।ওই সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমীন জাহাঙ্গীর ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচন করে ফেল করেন। এই জাহাঙ্গীরকে গুরু মেনেই নীরবের পলিটিক্সে যাত্রা। অভিযোগ, সে সময় থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেস, সেন্ট্রাল প্রেস, গভঃ প্রিন্ট্রিং প্রেসের প্রায় ৫শকোটি টাকার কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন এই যুবনেতা। এ ছাড়া এই তিন প্রেসের কয়েক হাজার টন বাতিল কাগজ কোনো টেন্ডার ছাড়াই নিয়মিতভাবে নিতেন তিনি। ১৯৮৯ সালে নীরব শিষ্যত্ব নেন সে সময়কার ছাত্রদলের প্রখ্যাত ক্যাডার উজি সাবমেশিনগানখ্যাত কামরুজ্জামান রতনের। রতন তার সহায়তায় ১৯৯৪ সালে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ সময় তার উত্থান উল্কার মতো ছুটতে থাকে। ভিপি সোলায়মান, পলিটেকনিকের মিজান, কালা জাহাঙ্গীর, আচ্ছি বাবু, নাখালপাড়ার জব্বর মুন্না প্রমুখকে নিয়ে গড়ে উঠে তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তারেক রহমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের চাচাতো ভাই পরিচয়ে পিডাব্লিউডি, সিএএমএমইউ, ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টে যাবতীয় কাজ বাগিয়ে নেন।

একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলসহ সারা ঢাকা শহরে চলতে থাকে তার চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে আটক হন নীরব। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ফোনে এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চারদিনের মাথায় ছাড়া পান তিনি।দীর্ঘ সময়ে নেতৃত্বর নানা পালাবদল হলেও দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে গেলেও প্রায় এক দশক আর এই নেতাকে কারাগারে যেতে হয়নি। যুবদলের যায়গা পেয়ে নীরবকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। নেতৃত্ব বিরোধী দলে তবুও ক্ষমতাসীনদের কোনো বাধায় তাকে পড়তে হয় না। এ নিয়ে নীরবকে গত বুধবার থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ফোনে চেষ্টা করেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ব্যাক্তিগত ফোন নাম্বারটিও সংযোগ নেই। সিনিয়র বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের মত, টুকু আটক হওয়ার পর থেকে নীরব কোনো গণমাধ্যমকে মন্তব্য দিচ্ছেন না এবং তার ফোনেও সংযোগ মিলছে না।

 

লীগের গোলাম নির্বাচন কমিশনের কীর্তি: তলাবিহিন দল গণ আজাদী লীগকে নিবন্ধন দিচ্ছে!

নাম সর্বস্ব গণ আজাদী লীগ নামের একটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়ে নিবন্ধন কার্যকম শেষ করছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু মাঠ পর্যায় খোজ নিয়ে জানা যায় দলের চেয়ারম্যান, মহাসচিব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়া দলে তেমন কোন নেতা কর্মী নেই। খোজ নিয়ে আরো জানা যায় নিবন্ধন নিতি মালার প্রায় সকল শর্তই পূরণ করতে ব্যার্থ এই দলটি। শুধু মাত্র সরকারে জোট সংঙ্গী হওয়ার কারনে নিবন্ধন উপহার দিচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন। এদিকে ববি হাজ্জাজ এর জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, জোনায়েদ সাকির জগণসংহতি আন্দোলন ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি এর মতো কয়েক টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিতিমালার সব শর্ত পূরুন করা শর্তেও শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করার কারণে নিবন্ধন দিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন, এমন দাবীই করছেন নিবন্ধন না পাওয়া সবচাইতে বড় ও সংগঠিত দল এনডিএম এর নেতাকর্মীরা। নিবন্ধন না পাওয়া বড় দলগুলোর বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের কাছে গণ আজাদী লীগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এই দল সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবী করেন এবং তারা বলেন, এই গণ আজাদি লীগ নামক দলটি কোন দিক থেকেই নিবন্ধন পাবার যোগ্যতা রাখে না।

এদিকে নিবন্ধন না পাওয়া সবথেকে বড় দল এনডিএম এর অনেক নেতাকর্মীরাই দাবী করছে, তারা সকল শর্ত পূরণ করা সত্বেও কোন একটা হাস্যকর কারন দেখি নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন আটকে দিয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ৭৬টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে কেবল বাংলাদেশ কংগ্রেস ও গণ-আজাদী লীগ প্রাথমিকভাবে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া বাকি ৭৪টিই অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জানা গেছে, কমিশন অযোগ্যঘোষিত রাজনৈতিক দলগুলোই প্রতি বছর আবেদন করে। নিবন্ধনের শর্ত পূরণে বারবার ব্যর্থ হয়েও নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দলগুলো আবেদন করার পর প্রাথমিক বাছাইয়ে বাদ পড়ে যায়। যে কারণে প্রত্যেকবারই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজনৈতিক দল আবেদন করলেও হাতে গোনা দুই-একটি নিবন্ধন পায়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জরুরি অবস্থার সরকারের সময়ে দেশে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হয়। ওই সময় দেশে ১০৭টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে কমিশনে আবেদন করে। এরমধ্যে ৩৯টি দলকে যোগ্য বিবেচনা করে নিবন্ধন দেয় কমিশন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় গঠিত কিংপার্টি খ্যাত একাধিক ‘বিতর্কিত‘ রাজনৈতিক দলও নিবন্ধন পায়। বাকি ৬৮টি দলই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় নিবন্ধন পায়নি। এরপর ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশন দ্বিতীয় দফায় নিবন্ধনে আবেদন চাইলে তাতে ৪৩টি দল আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র দু’টি দলকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। এই দু’টির মধ্যে একটি দলের নিবন্ধনের শর্ত পূরণ নিয়ে ওই সময়ই বিতর্ক ওঠে।

কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি গত অক্টোবরে নতুন দলের নিবন্ধনে আবেদন চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়। এতে সাড়া দিয়ে নিবন্ধন পেতে ৭৬টি দল আবেদন করে। এর মধ্যে প্রাথমিক তথ্য যাচাইকালে প্রথম দফায় ১৯টি দলকে বাতিল করে বাকি দলগুলোর কাছে আরো তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় ইসি। এতে সাড়া না দিলে দ্বিতীয় দফায় আরও ৮টি দলের আবেদন নাকচ করে। পরে ৪৯টি দলের তথ্য যাচাই করে তার মধ্যে মাত্র দু’টি দলকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য মনে করছে কমিশন। জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে দল দু’টির প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পেলেই কেবল দল দু’টিতে নিবন্ধন দেওয়া হবে।

ইসির প্রাথমিক বাছাইয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি, জোনায়েদ সাকির জগণসংহতি আন্দোলন ও ববি হাজ্জাজের দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)সহ আলোচিত দলগুলোর কোনোটিই নিবন্ধনে যোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধন বাছাই কমিটি নিবন্ধন অযোগ্য দলগুলোকে পাঠানো হবে। সেখানে কী কারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি সেটা উল্লেখ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত বাংলাদেশ কংগ্রেস দলের চেয়ারম্যান কাজী রেজাউল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা জেনেছেন প্রাথমিক বাছাইয়ে তাদের দলের নাম রয়েছে। তবে,এটি চূড়ান্ত কিছু নয়। তাদের বিষয়ে হয়তো আরও যাচাই-বাছাই হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাছাই কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা যাচাই-বাছাই করে কমিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা দু’টি দলের মাঠপর্যায়ে খোঁজ নেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করেছি। এখন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দলগুলোর জমা দেওয়া তথ্য যাচাই করে তাদের যোগ্য মনে করেছি। তবে, এটা চূড়ান্ত নিবন্ধনের ‍সুপারিশ নয়। নিবন্ধনের জন্য মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইসহ আরও কিছু বিষয় দেখার রয়েছে।’

প্রাথমিক বাছাইয়ে বেশিরভাগ দলই বাদ পড়েছে উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘যা প্রয়োজন, তা দলগুলো পূরণ করতে পারেনি। এখন সবকিছু চূড়ান্ত হয়নি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তালিকা চূড়ান্ত করবো।’

এর আগে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নতুন দলের নিবন্ধনের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, এখন তো দেখি নিবন্ধনযোগ্য দল পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। হয় একজন নেতা আছেন, কোনও অফিস নেই, গঠনতন্ত্র ঠিক নেই।’

২০০৮, ২০১৩ ও সর্বশেষ ২০১৭ সালের আবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দল রয়েছে, সেগুলো নিবন্ধনের জন্য ইসিতে একাধিকবার আবেদন করেছে। এরমধ্যে কিছু আছে তিনবার আবেদন করেছে। আবার কিছু কিছু দল দুই বার আবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু শর্ত পূরণ না হওয়ায় প্রতিবারই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু দল রয়েছে, সেগুলো প্রথমবারে নিবন্ধনে ব্যর্থ হয়ে পরে দলের নাম কিছুটা পরিবর্তন করে বা একাধিক দল একীভূত হয়ে কিংবা কোনও দল খণ্ডিত হয়ে নতুন করে আবেদন করেছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, একবার নিবন্ধনে ব্যর্থ রাজনৈতিক দল কার্যত শর্তগুলো পূরণ না করেই দ্বিতীয়বার আবেদন করেছে। যে কারণে তাদের বিবেচনায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জালালি পার্টি, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল), কৃষক শ্রমিক পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী, জাতীয় জনতা পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিসহ বেশ কিছু দল রয়েছে যারা একাধিকবার নিবন্ধনে আবেদন করেছে। কিন্তু শর্ত পূরন না হওয়ায় প্রত্যেকবারই তাদের আবেদন বাতিল হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগে বাছাইয়ে তো আমি দায়িত্বে ছিলাম না। কাজেই আগের নিবন্ধন না পাওয়া কেউ আবেদন করেছে কিনা, সেটা যাচাই না করে বলা যাবে না। তবে, আগে আবেদন করে না পেলেও নতুন করে আবেদনে তো আইনগত বাধা নেই। আর আমরা আগে আবেদন করেছে কী, নতুন আবেদন, সেটা দেখছি না। নিবন্ধনের শর্তপূরণ হচ্ছে কিনা, সেটা বিবেচনায় নেবো।’

২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পর ৩৮টি দল নিবন্ধিত হয়। এরপর নবম সংসদে দু’টি এবং দশম সংসদে দু’টি দল নিবন্ধন পায়। এছাড়া শর্ত পূরণ না হওয়ায় একটি দলের নিবন্ধন বাতিল ও আদালতের আদেশে একটি নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশে ৪০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে, যেগুলো নিজস্ব প্রতীক নিয়ে দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে পারে।

নিবন্ধনের শর্ত

নিবন্ধন পেতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা-২০০৮-এর এই সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো—দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যেকোনও জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটিতে যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন। যেকোনও একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায়। আরেকটি শর্ত হলো—দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ (২১টি) প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সংবলিত দলিল থাকে, তাহলে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে।

বিএনপি নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্র : দলীয় গঠনতন্ত্র এবং আরপিও নিয়ে সংঘবদ্ধ অপপ্রচারে সরকার!

বিশেষ রিপোর্ট :
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনাকে ঘিরে সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। মঈন-ফখরুদ্দীন যে কায়দায় বিএনপিকে নাস্তানাবুদ করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো একই কায়দায় এখন আবার বিছানো হচ্ছে ষড়যন্ত্রের জাল। বিএনপির বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হবে। এরই অংশ হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ এরইমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, একটি গোয়েন্দা সংস্থা গণমাধ্যমে বিএনপির দলীয় গঠনতন্ত্র এবং নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংক্রান্ত কিছু উদ্দেশ্যপূর্ণ রিপোর্ট করানোর জন্য মাঠে নেমেছে।

জানা গেছে, পরিকল্পনায় রয়েছে আইনের বেড়াজাল তৈরী করে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং একই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের ‘শীষ প্রতীক’ যাতে বিএনপি ব্যবহার করতে না পারে সেই পরিবেশ তৈরী করা। সূত্রমতে, এসব ষড়যন্ত্রের সুদূরপ্রসারী অংশ হিসেবেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে তাকে কারাবন্দি করা হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মামলা বছরের পর বছর ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় থাকলেও বিশেষ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্যই খালেদা জিয়ার মামলা নির্বাচনের আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সময় নিষ্পত্তি করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। একইভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। এসব মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তবে দেশের জনগণ যেহেতু জানে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত সেহেতু জনগণকে ধোকা দিতে গণমাধ্যমে কিছু উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্ট করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। জানা যায়, বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে দলীয় গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সর্বসম্মত প্রস্তাবে বিলুপ্ত ৭ নম্বার ধারার ‌অনুরূপ একটি ধারা শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ -আরপিও তে সংযোজন করার অপচেস্টা চলছে। এরপর ওই ধারার দোহাই দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরাতে চায়।

উল্লেখ্য, দলীয় গঠনতন্ত্রে কিছু সংযোজন-বিযোজন করে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলের সর্বশেষ গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা হয়। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্যে তরিকুল ইসলামে নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। তখনই এইসব পরিবর্তন আনা হয়। এরপর সংশোধিত ওই গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারী নিয়মানুযায়ী নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হয়। বিএনপির চূড়ান্ত গঠনতন্ত্রে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর এর ‘ঘ’ ধারা বাদ দেয়া হয়। ৭ নম্বর এর ‘ঘ’ ধারায় বলা ছিল ‘সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি’ বিএনপির কোনো পর্যায়ের কমিটির সদস্য কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। .

বিএনপির কাউন্সিলররা মনে করেন, দলীয় গঠনতন্ত্রে এই ধারাটি বহাল থাকলে মঈন-ফখরুদ্দিন কিংবা শেখ হাসিনার মতো স্বৈরশাসকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো আইন আদালতকে ব্যবহার করে দলীয় গঠনতন্ত্রের ওই ধারার অপব্যবহার করে বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য এমনকি দলীয় পদ গ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে। এমনকি আইন আদালতকে ব্যবহার করে, গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যমূকলক ও সংঘবদ্ধ অপপ্রচার চালিয়ে বিরোধী দল ভাঙার সুযোগ নিতে পারে।
বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে এ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ সারাদেশে বিএনপির প্রায় ১৮ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লক্ষাধিক মামলা দিয়েছে। একেকজনের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা দেয়ার বিরল নজির এই সরকার সৃষ্টি করেছে। ফলে এইসব মামলার সংখ্যা উল্লেখ করে গণমাধ্যমে ফরমায়েশি রিপোর্ট করিয়ে সমাজের চোখে কাউকে খারাপ বানানোর অপচেষ্টা করার সুযোগ নিতে পারে ক্ষমতাসীনরা। ফলে এই কৌশলী বিবেচনায় দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ এর ‘ঘ’ ধারাটি বাদ দেয় বিএনপি।

বর্তমান বিনাভোটের সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে যেভাবে নিজের ইচ্ছেমতো আইন আদালতকে ব্যবহার করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে তাতে দলীয় গঠনতন্ত্রে ৭ এর ‘ঘ’ ধারা বাতিল অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা।

এদিকে, গোয়েন্দা সংস্থার অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীনরা এখন বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দেয়া ধারার অনুরূপ একটি ধারা নির্বাচনসংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। এর আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে
একটি গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চাপ সৃষ্টি করে বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে কাল্পনিক সিন্ডিকেট সংবাদ পরিবেশন করার অপচেষ্টা চলছে। একযোগে পরিবেশিত এইসব সংবাদের উদ্দেশ্য বিএনপি গঠনতন্ত্র থেকে যে ধারা বিলুপ্ত করেছে তার সঙ্গে মিল রেখে অনুরূপ একটি ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিওতে) অন্তর্ভূক্ত করার ক্ষেত্র তৈরী করা।

আরপিও’তে এ ধরণের ধারা অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বিএনপির নেতৃত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র এবং এরপর বিএনপিতে ভাঙ্গনের অপচেষ্টা। ওই অপচেষ্টায় নির্বাচন কমিশন যাতে ধানের ‘শীষ প্রতীক’ নিয়ে নানারকম টালবাহানা করতে পারে ষড়যন্ত্র পরিকল্পনায় সেসবও রয়েছে বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেছেন, আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন কিংবা আইন আদালত বিএনপির বিরুদ্ধে যাই করুক, জনগণ এসব ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখবে। তিনি বলেন, কোথায় কি ষড়যন্ত্র হচ্ছে বিএনপি জানে। বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র সফল হবেনা। বিএনপি মানে শহীদ জিয়া, বিএনপি মানে খালেদা জিয়া, বিএনপি মানে তারেক রহমান। এর বাইরে কিছু হবেনা। তিনি বলেন, আন্দোলনের বিকল্প নেই। আন্দোলন শুরু হলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবেনা। মঈন-ফখরুদ্দিন ও বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্রে সফল হতে পারেনি।

চৌগাছায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে বিএনপি কর্মী হত্যা

 

শীর্ষনিউজ, যশোর: যশোরের চৌগাছায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে রতন (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার দীঘলসিংগা গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে। রতন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে তার প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।

চৌগাছা থানার ওসি খোন্দকার শামিম উদ্দিনের দাবি, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তারা সংবাদ পান- চৌগাছা যশোর সড়কের কয়ারপাড়া নামক স্থানে গুলাগুলি হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় সেখানে একজনের লাশ, একটি ওয়ান শুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও এক প্যাকেট ইয়াবা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

কিন্তু নিহতের পিতা আবু বাক্কর ও মা ফরিদা বেগম জানান, তাদের ছেলে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যার সময়ও সে ফিরে না আসায় এবং তার মোবাইল ফোন রিসিভ না হওয়ায় আমরা চারিদিকে খুঁজতে থাকি, কিন্তু কোনও সন্ধান পাই না।

অবশেষে শুক্রবার ভোরবেলা আমাদের একজন পরিচিত লোক যশোর সদর হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানায়, হাসপাতালে রতনের মতো দেখতে একজনের লাশ রয়েছে। সংবাদ পেয়ে সেখানে গিয়ে আমরা তার লাশ সনাক্ত করি।

রতনের প্রতিবেশীরা জানান, প্রতিবেশীদের বিপদে আপদে সে সবার আগে এগিয়ে যেত।

নাম প্রকাশ না করে অনেকে জানান, তারা বিএনপি ঘরানার লোক, সেকারণে এই অবস্থা।

কোটা সংস্কার আন্দোলন: দূতাবাসগুলোর বিবৃতির অর্থ কী?

বিবিসি বাংলা : বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দূতাবাস যে বিবৃতি দিয়েছে সেটি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোটা-বিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস বিবৃতি দেবার একদিন পরেই সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং নরওয়ে দূতাবাসও বিবৃতি দিয়েছে। এসব বিবৃতি তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে।

নরওয়ে দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের অধিকারের উপর ধারাবাহিক হামলার বিষয়টি নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। “সকল বাংলাদেশীর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের প্রতিবাদ করার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা করার অধিকার রয়েছে, ” এমন কথা উল্লেখ করেছে নরওয়ের দূতাবাস। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস তাদের তাদের বিবৃতিতে ঢাকা এবং অন্য শহরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের উপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, যেসব নীতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সমাবেশের উপর এ ধরনের হামলা সেসব নীতির পরিপন্থী।

নেদারল্যান্ডস দূতাবাস উল্লেখ করেছে মত প্রকাশ এবং সমাবেশ করার অধিকার সার্বজনীন মানবাধিকার। এর আগে গত ৯ জুলাই ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলেছে, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা – যারা বাংলাদেশের গর্বিত গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতা – তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর আক্রমণ সেই সব মূলনীতির বিরোধী, যার ওপর আমাদের মতো দেশগুলো প্রতিষ্ঠিত।”
এতে আরো বলা হয়, “বাক স্বাধীনতা, জমায়েতের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের মতো যে মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো যারা প্রয়োগ করছে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছে।”

দূতাবাসগুলোর বিবৃতি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে?
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিদেশী দূতাবাসগুলোর নানা মন্তব্য নতুন কোন বিষয় নয়। বিভিন্ন সময় নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে তাদের বক্তব্য এবং বিবৃতি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল নাখোশ হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ব্যাখ্যা রয়েছে।

ক্ষমতাসীনদের অনেকেই মনে করছে এ আন্দোলনে সরকারবিরোধীদের মদদ রয়েছে এবং কোটা সংস্কারের ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে সরকারবিরোধীরা রাস্তায় সক্রিয় হয়ে উঠতে চায়। এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দূতাবাসের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে সেটি নিয়ে বিশ্লেষকদের মাঝেও নানা মতপার্থক্য রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন মনে করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেবার বিষয়টি কূটনীতিকদের রেওয়াজের মধ্যে পড়েনা।

অধ্যাপক হোসেন বলেন, “একটা দেশের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আন্দোলন বা বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তৈরি হয়। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে নানা রকমের ডাইনামিকস কাজ করে। সেখানে অন্য একটা পক্ষ, যাদের কাজ এটা না, … ফলে এটি কূটনীতিক মহল থেকে বলার মানে হচ্ছে যে তাদের নাক গলানোর চেষ্টা করা।”

দূতাবাসগুলোর বিবৃতি পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করতে পারে বলে অনেকে আশংকা করেন। কারণ তাঁদের ধারণা আন্দোলনকারীরা এতে ‘অনুপ্রাণিত’ হতে পারে।

অধ্যাপক হোসেন বলেন, “দূতাবাসসমূহ যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য তো সেটাই। … কোন একটা ঘটনার প্রেক্ষিতে যাদের বক্তব্য রাখার কথা না, যাদের যুক্ত হবার কথা না, তাদের যুক্ত হওয়াটাই এখানে সমস্যা তৈরি করে।”

তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, মানবাধিকার রক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এসব বিবৃতিকে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

মি: কবির দূতাবাসগুলোর বিবৃতিকে কোটা সংস্কার দাবির সাথে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর ধারণা মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা এবং ছাত্রদের উপর সহিংসতার বিষয়টিকে দূতাবাসগুলো বড় করে দেখেছে।

“তাদের বক্তব্যটা ঠিক কোটাকে কেন্দ্র করে নয়। ছাত্ররা যারা মতামত প্রকাশ করতে চেয়েছে তাদের উপর বেশ কয়েকবার হামলা হয়েছে। তাদের উপর হামলা করাটা আমরা ধারণা দূতাবাসগুলোর নজরে লেগেছে। হয়তো সেজন্যই তারা উদ্বেগটা প্রকাশ করেছে,” বলেছেন মি: কবির।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় বিদেশী দূতাবাসগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করে অধ্যাপক দেলোয়ার হেসেন মনে করেন, কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তারা যে বিবৃতি দিয়েছে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

ছাত্রদের আন্দোলনে নরওয়ে সরকারের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের পরে এবার নরওয়ে সরকার বাংলাদেশের ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানালো। এক বার্তায় নরওয়ে দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে-

“The right to freedom of expression and speech are rights enshrined and protected in both the Constitutions of Bangladesh and Norway. The Norwegian Embassy in Bangladesh is deeply concerned about continued attacks on those rights and an attempt to undermine the constitutional rights of Bangladeshi citizens. University students, like all Bangladeshis, have a right to protest and practice their democratic rights. As friends of Bangladesh, we stand together with protesting students in their demands for their right to assembly and their right to articulate their concerns to be protected by the rule of law.”

হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন কার্লাইল

অবশেষে লর্ড কারলাইল দিল্লি যাচ্ছেন।
সকল জল্পনা কল্পনা ও শেখ হাসিনা সরকারের বাধা ডিঙিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবি ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডসের সদস্য আলেক্স কারলাইল তাঁর দিল্লি যাওয়ার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছেন !

কার্লাইল যাতে দিল্লিতে গিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে আরোপিত বেআইনী জেল জুলুম নিয়ে বিশ্ববাসীকে জানাতে না পরেন, সেজন্য ঢাকার অবৈধ সরকার গলদঘর্ম চেষ্টা করে। কার্লাইলকে যেভাবে ঢাকায় আসতে দেয়নি হাসিনার সরকার, সেভাবেই ভারতেরর ভিসা ঠেকিয়ে দিতে দিল্লি হাতে পায়ে ধরে চেষ্টা করে সেগুণবাগিচা, এবং খানিকটা সফলও হয়। কারলাইলের ভিসা প্রথম দফা আটকে যায়, এবং প্রেস কন্ফারেন্সের ভেন্যু বাতিল করে দেয়। এজন্য ঢাকা থেকে দিল্লিতে ছুটে গিয়েছিলেন হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম।

কিন্তু লর্ড কার্লাইলও দমবার পাত্র নন। সাবেক বৃটিশ কলোনী ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার বৃটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্যের ভিসা আটকায় কি করে? যেভাবেই হোক, প্রভাব খাটিয়ে কারলাইল ভারতের ভিসা নিয়েছেন, দিল্লি যাচ্ছেন, প্রেস কনফারেন্স এবং অন্যান্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করবেন।

হাসিনা যেভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছেন, তার জবাবে কার্লাইলের এই দিল্লি মিশন হবে একটি চরম চপেটাঘাত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অবৈধ সরকার শত চেষ্টা করে ঠেকাতে চাইলেও তাদের অপকর্মের জন্য এভাবে ঘাটে ঘাটে খেসারত দিতে হচ্ছে।

« Older Entries