Author Archives: bdpolitico

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত কি তার কৌশল বদল করেছে?

Content Protection by DMCA.com

দু’হাজার তেরো সালের ডিসেম্বর মাস। ঢাকায় এক সফরে এলেন ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং। তিনি দেখা করলেন জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদের সাথে, বলা হয় – তিনি তাকে অনুরোধ করেছিলেন পরের বছর ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবার জন্য। এই সফর তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

কারণ তার আগে জেনারেল এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয় এবং বাংলাদেশে এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় – যার ফলে সংশয় দেখা দেয় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে নিয়ে।

নির্বাচনের অংশ নেবার জন্য সুজাতা সিং এরশাদকে অনুরোধ করলেও তিনি তখন রাজি ছিলেন না। তবে সরকারের চাপে পড়ে এরশাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

সেই নির্বাচনের এক মাস আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের ঢাকা সফরকে তখন অনেকেই বিবেচনা করেছিলেন বাংলাদেশের নির্বাচনের উপর ভারতের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপের এক দৃষ্টান্ত হিসেবে ।

তবে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে সেই ভারতই এবার খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছে না বলে দেশটির বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভারত প্রকাশ্যে যেভাবে পক্ষ নিয়েছিল সেটি এবার দেখা যাচ্ছে না।

যদিও এবারের নির্বাচনে এরই মধ্যে সবগুলো রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতিও বদলেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতের নিস্পৃহ ভাব দেখানোর বিষয়টি হয়তো তাদের কৌশলে কোন পরিবর্তন হতে পারে।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির মতো প্রকাশ্যে সমর্থন দেখানোর চাইতে আড়ালে কলকাঠি পরিচালনা করাটাই ভারতের জন্য ভালো হতে পারে। এমটাই বলছেন বাংলাদেশে কেউ-কেউ।

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারত উদাসীন থাকবে, এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম।

অধ্যাপক মাসুম বলেন, “আমি মনে করি বিজেপি সরকার দৃশ্যত নিঃস্পৃহ ভাব দেখালেও তারা ভেতরে-ভেতরে ভারতমুখি একটি সরকার চাইবে। সেক্ষেত্রে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে দেখতে চাইবে এটা খুবই স্বাভাবিক।”

শুধু ২০১৪ সালের নির্বাচন নয়, ২০০১ সালের নির্বাচনেও ভারতের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, ২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির প্রতিজ্ঞা করে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকই মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা থাকুক কিংবা না থাকুক – তার চেয়েও বড় কথা হলো: বিএনপি তার দলের স্বার্থেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কারণ, ২০১৪ সালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য বিএনপির যে মূল দাবি ছিল, সে দাবি তারা এবারো তুলেছিল। কিন্তু সেটি পূরণ না হলেও বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে একই সাথে গত বেশ কয়েক বছর ধরে দলটি ভারতের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টাও করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, ভারতের আগ্রহের চাইতে বরং বেশি কাজ করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ।

মি: আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে কোন সরকার ক্ষমতায় থাকবে সেক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছার প্রতিফলনই যে সব সময় হবে তা নয়। তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে এমন অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছে – যাদের ভারত চায়নি।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে ব্রিফিং : বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ কামনা

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তারা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসকে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে কার্যকর উদ্যোগ নেবার কথাও বলেন কেউ কেউ। সরকারকে বাংলাদেশ বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে জোর আরোপ করেন বক্তারা। বাংলাদেশে অব্যাহত গুম ও খুনের ঘটনা অসহনীয় পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র হাউস কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ উদ্বেগের কথা জানান ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া প্যানালিস্টরা। ব্রিফিংটির আয়োজন করেন যুক্তরাষ্ট্র হাউজ কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস কমিশনের কো-চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি হিউল্টন ও কংগ্রেসম্যান জেমস পি ম্যাকগভার্ন।

ন্যাশনাল এন্ডুমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনা দেবের সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে প্যানালিস্ট বক্তব্য রাখেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি ডাইরেক্টর জহন সিফটন, ইউনাইটেড স্টেইটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের পলিসি অ্যানালিস্ট ওয়ারিস হোসাইন, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইউএসএ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার লাউরা বর্মন।

জন সিফটন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এক সংকটময় মুহূর্তে উপনীত হয়েছে। এবারের নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু হবে বলেও আশা করা কঠিন। কারণ বিরোধী দলের বহু নেতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে রয়েছেন। এছাড়াও ১৯ জন বিএনপি নেতা গুম হয়েছে। প্রায় হাজারের মতো মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিক কতজন লোক রাজনৈতিক কারণে কারাগারে আছেন তা নিরূপন করা কঠিন।

তিনি আরো বলেন, সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এতই নাজুক যে, তা সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরা কঠিন। মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে আসছে। স্কুলছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলায় সাংবাদিক শহিদুল আলমকে কারান্তরীণ করা হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মানবাধিকার পরিস্থিতির উত্তরণে ইতোমধ্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসই পারে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সরকারকে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধ্য করতে। কারণ কংগ্রেসের এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখন ডেমোক্রেটদের রয়েছে।

ওয়ারিশ হিউস্টন বলেন, নির্বাচনকে সামনে নিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার আশংকা রয়েছে যেমনটি আগের নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছে। এছাড়াও তিনি কওমী সনদের স্বীকৃতি ও হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে সংবর্ধনা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে দর্শক সারিতে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. জিয়া উদ্দিন।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের নির্বাচন-মানবাধিকার নিয়ে ইইউ পার্লামেন্টে বিতর্ক

Content Protection by DMCA.com
Content Protection by DMCA.com

অবশেষে জানা গেলো ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট নিখোঁজ! গরীব দেশের ৩ হাজার কোটি টাকা লুটপাট কমপ্লিট!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ “বঙ্গবন্ধু-১” অবশেষে ব্যর্থ হয়েছে। এটির সাথে কোনো যোগাযোগ নেই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের। যদিও গত ৫দিন আগে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের কোম্পানী তালিস এলিনিয়া স্পেস এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ কমিউনেকশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটিড (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে ‘ট্রান্সফার অফ টাইটেল’ বা স্বত্ত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে, তবে তা ছিল পেপার ট্রান্সফ্রার মাত্র, বাস্তবে স্যাটেলাইটের সাথে কোনো যোগাযোগ নাই বাংলাদেশের বা থালেসের। খবরের সুত্র বিসিএসসিএল-এর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি জানান, যদিও এবছর ১২ মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট এবং উৎক্ষেপণের পরে তা ৩৩ মিনিটে কক্ষপথে পৌছায় বলে সরকারী মাধ্যমে খবর পরিবেশন করা হয়, কিন্তু বাস্তবে স্যাটেলাইট থেকে কোনো সংকেত অদ্যাবধি বাংলাদেশের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে পৌছায়নি। প্রথমে বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে উপগ্রহটি বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু গত ৬ মাস পার হলেও এর কোনো আলামত নেই। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিনা কাজে বেতন নিয়েছেন। এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম প্রজেক্ট। তবে প্রজেক্ট চালু রাখতেই ১ম উপগ্রহের ঘটনা আড়াল করতেই ২য় আরেকটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কথা শোনা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ নিয়ে শুরু থেকেই নানাবিধ জাল জালিয়াতি ও দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। বিনা টেন্ডারে কাজ দেয়া হয়েছে ফ্রান্সের কেম্পানীকে। এমনকি যে মাপের কমিউনিকেশন উপগ্রহ (অর্থাৎ মিডিয়ার কাজে ব্যবহারযোগ্য), তা নির্মানে ১১০ মিলিয়ন ডলার খরচের স্টান্ডার্ড হিসাব থাকলেও বাংলাদেশ সরকার খরচ করেছে ৩৬২ মিলিয়ন ডলার! অর্থাৎ তিন গুণ খরচ, মানে সাগর চুরি!

২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে (পলিটিক্যাল সাইন্সে ডিগ্রিপ্রাপ্ত) বিজ্ঞানী ঘোষণা করে তাকে প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক প্রযুক্তি উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়, কিন্তু বাস্তবে তার বেতন ছিল মাসে ২ লাখ ডলার বা ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা (সূত্র: সাবেক আইসিটি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী)! পুত্র জয়ের বুদ্ধিতে মা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপন করে নাম কামানোর উদ্যোগ নেয়, পেছনে অবশ্য ধান্দা ২ হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়া। অবশেষে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গত ১২ মে সারা দেশ জুড়ে আওয়ামী হৈ চৈ করে জাতিকে রাত জাগিয়ে সেই উৎক্ষেপণের খবর ছড়ানো হয়। দেশ থেকে শত শত আওয়ামী স্তাবক আমেরিকায় উড়ে গিয়ে সপ্তাহব্যাপি উৎসব করে আসে রাষ্ট্রীয় টাকায়! তখন বলা হয়েছিল, উন্নত দেশের কাতারে উঠে গেছে বাংলাদেশ। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে সিগনাল রপ্তানী করে আয় হবে কোটি কোটি ডলার। কিন্তু রপ্তানী দূরের কথা বাংলাদেশের কোনো টিভি বা কোনো মিডিয়া গত ৬ মাসেও একটু সিগনাল ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি। কারণ, উপগ্রহটি কোনো সিগনাল পাঠায়নি। কোথায় আছে কেউ জানে না। উল্লেখ্য, আকাশে যত উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়, তার ৬০ ভাগ অরবিটে পৌছায় না, আর যা পৌছায় তার ১৫ ভাগ মাত্র কাজ করে! এখন তালিস এলিনিয়াকে এ বিষয়ে কোনো চিঠিও লিখছে না হাসিনা সরকার, কোনো প্রশ্ন করছে না, এই ভয়ে যে, জানাজানি হয়ে গেলে পাবলিকের ধোলাই খেতে হবে! নির্বাচনের বছর, এ জাতীয় খবর বিরাট বড় প্রলয় সৃষ্টি করতে পারে।

এতদিন আওয়ামীরা বলতো, আকাশে নাকি বঙ্গবন্ধুর নাম খোদাই করে রাখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো বঙ্গবন্ধুর মতই উপগ্রহটিও বিলীন হয়ে গেছে কোথায়, কেউ তা জানে না। জনগনের ২৯০২ কোটি টাকা এবং তৎপরবর্তী কয়েক’শ কোটি টাকা লোপাট করে বাংলাদেশের একটি স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটলো।

Content Protection by DMCA.com

বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় না জড়াতে সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করতে অনুরোধ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদেরকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহবান।

Content Protection by DMCA.com

সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ- বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় আপনারা জড়াবেন না
-“প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্ভয়ে কাজ করুন,কারো চাকুরী যাবে না’
-“ভোট যুদ্ধের দিন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ভাই বোনদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। -“প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে-এটাই এখন আমাদের আন্দোলন!’

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনকে নির্ভয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করার আহবান এবং অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধানের একজন সন্তান হিসেবে আপনাদের ‌কাছে আমার অনুরোধ, এই অবৈধ সরকারের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে আপনারা কাজ করবেন না। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করছে তাতে আপনারা শরিক হবেননা। ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণের যে নীল নকশা সরকার প্রণয়ন করছে, তাতে আপনারা জড়াবেননা। এই লুটেরা সরকারের অপরাধের ভাগ আপনারা নিবেন না। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের পক্ষে থাকুন। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হোন। তারা ইভিএম চালু করে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীকে জনগনের মুখোমুখি করতে চাচ্ছে । আমার অনুরোধ থাকবে, জনগনের কাছ থেকে চুরি করা ৪০০০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা এই ইভিএম পদ্ধতিতে জনগনের ভোট ডাকাতির যে প্ল্যান ও কর্মসূচী অবৈধ সরকার করতে চাচ্ছে, সেই প্ল্যান ও কর্মসূচীতে আপনারা নিজেদেরকে জড়াবেন না। আপনাদেরকে বিতর্কিত করতে আপনাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবে হাসিনা ও তার কেনা নির্বাচন কমিশনা।
আপনারা দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ হবেন না। কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না। মানুষ আপনাদের শ্রদ্ধা করে। আপনারা আপনাদের সম্মান নষ্ট হতে দিবেন না। আপনারা জানেন জনগন কি চায়, আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন, এটাই আপনাদের কাছে আমার আহবান।

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রীট নর্থ এর দি রয়্যাল রেজেন্সী অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপুর্ন আহবান জানান। দেশনায়ক তারেক রহমান আধা ঘন্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনার দুঃশাসনের নানা দিক, বিশেষ করে লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন , নিপীড়ন, মিথ্যাচার, মানুষের সাথে প্রতারণাসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাদের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদাণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবদুল মালিক।সভাটি পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক কয়ছর আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক ডাকাত ও ভোট ডাকাতি করা এই সরকার সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরাচার খ্যাত। এই অবৈধ সরকার ভোট নামক নতুন আন্দোলনের ভয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বলে বেড়াচ্ছে, গত ১০বছরে তাদের আমলে যারা প্রশাসন সহ অন্যান্য সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদেরকে চাকুরিচ্যুত করা হবে। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, আপনারা এই ভয় পাবেন না, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পুলিশ বাহিনী হোক, আর প্রশাসন বা সিভিল ডিার্টমেন্টের হোক, অন্যায়ভাবে কারো চাকুরি যাবে না । আপনাদের কোন ভয় নেই, কারণ আমরা বুঝি ও জানি- এই অবৈধ সরকার ও তার অবৈধ এমপি ও  মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে আপনাদেরকে অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করেছে। আপনারা জনগনের সাথে প্রতিনিয়ত উঠাবসা করেন, আপনারা এই দেশের নাগরিক, তাই আপনারাও জানেন জনগন কি চায়। সে মোতাবেক আপনারা কাজ করুণ। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, জনগন আপনাদেরকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে আপনারা আপনাদের সেই পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন। কারো কোনো ভয় নেই। আপনারা নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা জানি অবৈধ সরকারের হুকুম তামিল করতে গিয়ে অনেক অনৈতিক কাজ কাউকে কাউকে করতে হয়েছে। যার জন্য আপনারা প্রস্তুত ছিলেননা, এবং এর দায়ভারও আপনাদের নয়।

তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনকে আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে তুলে ধরে ছাত্র, যুবকসহ সকলের উদ্দেশ্য বলেন, আজকে নির্বাচন নামক যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা কিন্তু কোন সাধারন নির্বাচন নয়। এটা গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন, এটা স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাক-স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাংলাদেশের মিডিয়াকে ডিজিটাল কালাকানুন থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এটা সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন ফেলানি হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে, এটি সেই নির্বাচন যে নির্বাচন সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন শেখ হাসিনার দায়িত্বে অবহেলার কারনে আমার দেশপ্রেমী ৫৭ জন সেনাবাহিনীর অফিসার নিহত হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে জনগনের যে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, সে পাচার রোধের নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন নকল ও প্রশ্ন ফাঁস থেকে রক্ষা করে সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থার নির্বাচন। এটি ইলিয়াস আলী সহ আমাদের হাজার হাজার গুম খুন হওয়া নেতা কর্মীদের হত্যার জবাবের নির্বাচন। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে যে সকল গুণী ব্যক্তিবর্গের মান সন্মান নষ্ট করেছে, সেই সম্মান রক্ষার নির্বাচন। এটি কোটা আন্দোলনের দাবীতে রাজপথে নামা হাজারো শিক্ষার্থীর উপর এই ব্যাংক ডাকাত সরকার যে নির্যাতন করেছে, সেই নির্যাতনের জবাবের নির্বাচন। এটি নিরাপদ সড়ক চাই দাবীতে রাজপথে আমার ছোট কোমলমতি ভাই বোনদের উপর সরকার ও হেলমেট বাহনী যে অত্যাচার করেছে, সেই অত্যাচারের জবাব দেবার নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচনই নয়। এটি আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ। যার মাঠ হলো ভোটকেন্দ্রগুলো এবং যার সৈনিক হলো ১০কোটি ভোটার। জাতির মুক্তির জন্য এ ১০কোটি ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে এবং এ যুদ্ধে সফল হতে হবে।
১৯৭১ সালে আমাদের পূর্ব পুরুষরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে গিয়েছেন, কিন্তু এই দেশের বিরুদ্ধে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলেছে এবং বর্তমানেও চলছে। আর এই নির্বাচন সে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। নতুন প্রজন্মের জন্য যারা নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন হলো এই নির্বাচন–নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মুক্তিযুদ্ধ।

এই নির্বাচন নামক মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার হাতে কোনো বন্দুক বা গোলা বারুদ থাকবেনা।  বরং এই ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র হবে তাদের ব্যালট পেপার। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত আমার যত নেতা কর্মী আছেন, তাঁদেরকে আমি একটা দায়িত্ব দিতে চাই, আর তা হলো- আপনারা এই মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধাকে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে নিয়ে যাবেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য আজ সামনে সুযোগ এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দশ কোটি ভোটারদের সঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ১০ কোটি ভোটারের আন্দোলনে হেরে যাবার ভয়ে অবৈধ সরকার আন্দোলনকে বন্ধ করতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে আমেরিকা, লন্ডন, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ইভিএম ব্যবহার করা হয়না, সেসকল দেশের আদালত থেকে এই ইভিএম মেশিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারন তারা দেখেছে ইভিএমের মাধ্যমে কিভাবে ভোট চুরি করা হয়, অথচ বাংলাদেশের এই অবৈধ সরকারের ইতিহাস হল ভোট চুরি। এখন নতুন করে ভোট ডাকাতি শুরু করতে চাচ্ছে। ভারতের সংসদে একজন দেখিয়েছেন কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের যারা নিরাপদ সড়কের দাবী করেছিলো তাদের প্রতি তারুন্যের অহংকার তারেক রহমান অনুরোধ ও দাবী রেখে বলেন, আমার তরুন প্রজন্মের ভাই বোনেরা। তোমাদের কাছে আমার দাবী, তোমরা নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত লাগাও। আজ সারা বাংলাদেশ তোমাদের কাছে সাহায্য চায়। তোমরা যদি এই দায়িত্ব তুলে নিতে পার, তবে তোমরা কেবল নিরাপদ সড়ক নয়, গড়তে পারবে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। ভোট যুদ্ধের দিন তোমাদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। সেটা যদি পারা, তবে গড়তে সক্ষম হবে নিরাপদ বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নির্যাতিত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্বাচন করছে বিএনপি। তাদের ন্যায্য দাবীর প্রতিফলন ঘটাতে চাই। নতুন প্রজন্মের পাশে থাকতে অঙ্গীকার করছি। গণমানুষের নেতা তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ও জুলুম নিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজকে গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বিএনপির হাজার-হাজার, লক্ষ নেতা-কর্মীকে গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখনি সুযোগ পাচ্ছে, এ সরকার চেষ্টা করেছে, কিভাবে গুম-খুনের মাধ্যমে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মীদের গায়েব করে দিতে। কারণ এই একটি দল, যারা বাংলাদেশে ক্ষমতাকে ধরে রেখেছ অবৈধভাবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ পেছেন ফিরে তাকালেই দেখতে পাবেন যত বারই তারা দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে, প্রত্যেক বারের পরিস্থিতি একিরকম। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার জানে কিভাবে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। একইভাবে তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে জনগণের উপর অত্যাচার, নির্যাতনের স্টীম-রোলার চালাতে হবে। এখন দেশের মানুষের সামনে সুযোগ এসেছে এই নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারকে ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেয়ার।

Content Protection by DMCA.com

নমিনেশন পেপার নিয়ে বিএনপি অফিসে মহা হুলুস্থুল! সামনে জনসমুদ্র! অস্থির প্রধানমন্ত্রী ডাকলেন গোয়েন্দা সংস্থা! ওবায়দুল কাদেরের তোতলামি!

Content Protection by DMCA.com

সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তোলা উপলক্ষে গত দু’দিন যাবৎ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলছে মহাব্যস্ততা। চারিদিকের এলাকা লোকে লোকারণ্য। গতকালের চেয়ে আজকের মানুষ কয়েকগুণ বেশি। যেকোনো সময়ের মহাসমাবেশের চেয়ে কম নয়। ভিআইপি রোড, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ সব মানুষে ঠাসা। কোথাও তিল ধারণের যায়গা নাই। হাতি ঘোড়া ভেঁপু নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

এত লোক সমাগমের খবর পৌছায় আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনার কানে। তিনি ভিডিও দেখে অস্থির হয়ে পড়েন। আজ বিকালেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের ডাকলেন। জানতে চান, কি খবর দিলেন আপনারা? এ অবস্থা চললে এরা তো ঠেলা দিয়া সারা দেশ দখলে নিয়া নিবে। কিভাবে কি হবে? এদের ঠেকান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাকেও ধমকান, “কি দল চালাও তুমি? তোমার ওখানে লোক নাই কেনো? মাশরাফিরে নাকি জুতা মারছে? এরকম চললে এলাকায় যেতে পারবা? তোমাদের সিস্টেম তো সব ফেল মারবে? ধমক খেয়ে ওবায়দুল কাদের তোতলাতে থাকে, আপা, আপা আমি দেখতেছি, হুদা সাহেবের সাথে কথা বলে দেখি থামানো যায় কি না! আইজিপিকে বলেন, একটু টাইট দিতে! “আরে রাখো তোমার আইজিপি? এই পুলিশ পুলিশ করেই তো দলটা শেষ করলা? মানুষ নাই কাদের, কি দিয়া রাজনীতি করবা? এই পুলিশ আর সরকারী কর্মচারী আমি খুব ভালো চিনি। যতকিছুই দেই না কেনো, কেউ থাকবে না। সব বেইমানের বাচ্চা। মানুষ দেখলে একটাও থাকবে না, বুঝলা”, বললেন নেত্রী!

Content Protection by DMCA.com

সচিবালয়ে আওয়ামীলীগ পতনের গুঞ্জন! সরে যেতে চাচ্ছেন অনেক সচিব!

Content Protection by DMCA.com

ক্ষমতার শেষ মুহূর্তে এসে সরকারের সব কিছুতেই যেন ওলট-পালট হতে বসেছে। সরকার বা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হলো সচিবালয়। সরকারের সেই প্রাণেই এখন টর্ণেডো শুরু হয়ে গেছে। ক্ষমতাকে নিজেদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখার জন্য প্রতি বছর একবার করে বেতন বাড়িয়ে যাদেরকে নিজেদের পক্ষে রাখার চেষ্টা করেছে, শেখ হাসিনার সেই সচিবরাই এখন তাকে ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সচিবদের মধ্য থেকে অনেকেই ভবিষ্যত অন্ধকার দেখে এখন থেকেই বিএনপির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। সচিবদের মধ্য থেকে যারা সরকারের পলিসি ম্যাকার হিসেবে পরিচিত তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এসব খবর ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে চলে গেছে। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে এসে প্রধানমন্ত্রী তাদের বিরদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ারও সাহস দেখাতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রীর দফতরও বিষয়গুলোকে গোপন রাখছেন। কারণ, এগুলো জানাজানি হয়ে গেলে প্রশাসনে স্থবিরতা নেমে আসবে। তার ফলে সরকারের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এসবের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলমের ঘটনা। তিনি হলেন প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। যিনি সরাসরি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখাশোনা করেন। জানা গেছে, সম্প্রতি তিনিও তার পদ থেকে সরে যেতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন আগেই। তিনি সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, শফিউল আলমের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থানে যাবে না সরকার। কারণ, সরকারের অনেক অনিয়ম-দুর্নীতির জীবন্ত সাক্ষী তিনি। সরকারের ভেতরের অনেক কিছুই তার জানা। জানা গেছে, এসব ঘটনায় চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে সরকার।

এদিকে, শফিউল আলমের চিঠিসহ গুরুত্বপূর্ণ সচিবদের ছুটি নিয়ে বাইরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে সচিবালয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারাতো সরকারের পলিসি মেকার হিসেবে পরিচিত। বিএনপির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করাও সম্ভব না। তাই পিঠ বাঁচাতে আগেই দেশ ছাড়তে চাচ্ছেন। ট্রেনিং, সেমিনার, চিকিৎসা, তীর্থস্খান ভ্রমন, বিদেশ ছুটি না অযুহাতে কয়েক’শ অফিসার ইতোমধ্যেই দেশে ছেড়েছে, ছাড়ার অপেক্ষায় আরও অনেকে।

Content Protection by DMCA.com

নোয়াখালীর খুন গুম, গায়েবী মামলা ও বিএনপি নিধনের হোতা এসপি হান্নান শরীফ!

Content Protection by DMCA.com

ইলিয়াস শরিফ, ২০তম বিসিএস ব্যাচের অফিসার, এসপি নোয়াখালী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ী ফরিদপুর, তার বড় ভাই হান্নান শরীফ মিরপুর থানা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন ২০১৪ সালে।

নোয়াখালীতে যোগদান করে এসপি ইলিয়াস নোয়াখালীকে আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের অভয়ারণ্যে পরিণত করেন। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নোয়াখালী জেলার তিনটি ব্যতীত বাকী সবগুলো ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশের সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। একই ভাবে সাতটি পৌরসভার নির্বাচনে সব কয়টিতে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে জয়ী করেন। এরপর ২০ দলীয় জোটকে ধ্বংস এবং নির্মূল করার জন্য গুম, খুন, পঙ্গুত্ব এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করেন। এসপি ইলিয়াসের নির্দেশে পুলিশ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের সুধারাম থানায় পাঁচ জনকে হত্যা করে এবং পাঁচ জনকে পঙ্গু করে, সোনাইমুড়ী থানায় পাঁচ জনকে খুন ও এক জনকে পঙ্গু করে, বেগমগঞ্জ থানায় তার উপস্থিতিতে ও সরাসরি নেতৃত্বে গত ০৭/০১/২০১৪ সালে দুই জনকে খুন এবং আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আলমকে গত ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হত্যা করে, সেনবাগ থানায় একজনকে খুন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিন জনকে পঙ্গু এবং কবিরহাট থানায় এক জনকে পঙ্গু করে। তাছাড়া তার মদদে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা ২০ দলীয় জোটের অনেক নেতা কর্মীকে হত্যা করে এবং উল্টো বিরোধী জোটের হাজার হাজার নেতা কর্মীদের ঐসব হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দুই শতের অধিক গায়েবী মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের বাড়ি-ঘর ছাড়া করে। পুরষ্কারস্বরূপ তাকে ১০১৫ সালে পিপিএম(সেবা) এবং ২০১৮ সালে বিপিএম(সেবা) পদকে ভূষিত করা হয়। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মাকে ‘মা’ এবং সাংসদ একরামুল করিমের বউকে বোন ডেকে নোয়াখালীতে আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এর ফলশ্রুতিতে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এক জেলায় কর্মরত আছেন। আগামী নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসন পুলিশ দিয়ে ভোট দখলের মাধ্যমে সরকার দলকে উপহার দিবেন মর্মে অঙ্গীকারাবদ্ধ হন এবং সেভাবেই তিনি নোয়াখালীতে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়েছেন।

পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে এসপি ইলিয়াস শরীফ ছাত্রলীগের দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেয়। নোয়াখালীতে বিসিএসে উর্ওীন যাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় বিএনপি করে তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয় প্রতিবেদন দিয়ে চাকুরীতে নিয়োগ বাতিল করে। পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ থেকে বদলী-পদোন্নতি এবং থানার মাসোহারা নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পত্তির পাহাড়। বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের ক্রস-ফায়ারের ভয় দেখিয়েও তিনি হাতিয়ে নেন কোটি টাকা। তার দূর্নীতির বিষয়ে দুদক ৩টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নিলেও অদৃশ্য কারনে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

Content Protection by DMCA.com

ঢাকা এলাকার বিরোধী মতামতের লোকজনকে লাশ বানিয়ে ডাম্পিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান

Content Protection by DMCA.com

বিসিএস ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ঢাকা জেলার এসপি শাহ মিজান শাফিউর রহমান। প্রথম দৃষ্টিতে নম্র ও শান্ত স্বভাবের মনে হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত গোঁয়ার ও নিষ্ঠুর টাইপের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের অত্যন্ত সক্রিয় ক্যাডার। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের গোপন কিলিং গুলোর মাস্টার প্লানিং তিনিই করতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

ভেড়ার চামড়ায় নেকড়ে হয়ে শাফিউর বিএনপির সময়ে চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায় জোনাল এসির দায়িত্ব পান এবং নিজেকে বিএনপি-পন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মেয়র নির্বাচিত করা ও পরবর্তীতে তৎকালীন মেয়র মীর নাসির এর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করে স্থানীয় পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হন তিনি।

লক্ষ্মীপুর জেলায় এসপি থাকাকালে তিনি বিরোধী দল, বিশেষ করে বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা, গুম ও পংগু করে দেন। গুম ও খুনের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি ডিবি’র কিছু বিশ্বস্ত পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে একটি টিম তৈরি করেন। কেবল বিএনপি ও জামাতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেই তিনি খড়গহস্ত ছিলেন, তা নয়, তিনি বাকশাল মতবাদের বিরুদ্ধচারী সকল শ্রেণীর মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য ভুয়া মামলা তৈরি করে ব্যাপক অত্যাচার করেন।

লক্ষীপুরে থাকাকালে প্রধান বিচারপতির সাথে বেয়াদবি ও অসংগত আচরণ করার ঘটনায় পত্রপত্রিকায় সমালোচনার ঢেউ ওঠে। শাহ মিজানের উদ্ভট ও দাম্ভিক আচরণের কারণে সরকার তাকে লক্ষীপুর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়।

ডিআইজি হাসানুল হায়দারের ভাবশিষ্য এই পুলিশ কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুর জেলায় বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদের দলনের পুরস্কার হিসাবে ঢাকা জেলার এসপি হিসাবে পোস্টিং পান।

ঢাকা জেলায় যোগদানের পর তিনি নিজে থেকে লাশ ডাম্পিং এর দায়িত্ব নেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিরোধী মতামতের লোকজনকে তুলে এনে শাহ মিজানের দায়িত্বে দেওয়া হয়। শাহ মিজান তার টিমকে দিয়ে সেসব লাশ প্রত্যন্ত বিল, নদী, খাল ও ব্রীজের ধারে ডাম্পিং এর ন্যায় বিশ্বস্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। জানা যায়, মতিঝিলে হেফাজতের সমাবেশের লোমহর্ষক খুনের ঘটনায় লাশগুলো তার দায়িত্বে ডাম্পিং করা হয়েছে। সারা বছর পত্রিকার পাতায় ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে যে বেওয়ারিশ লাশ পাওয়া যায় এটি এসপি শাফিউরের কৃতিত্ব। চারিত্রিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় ও ভয়ংকর হওয়ায় তিনি এই বিশেষ কাজটি দক্ষতার সাথে করে প্রায় তিন বছর ধরে এই জেলায় এসপি হিসাবে আছেন।

পুলিশ বাহিনীতে দলীয় ক্যাডারদের রিক্রুট করার মিশনে শাহ মিজানের অবদান সবার মুখে মুখে। এই একই কাজে এসপি হাবিবুর রহমানের (বর্তমানে ডিআইজি প্রশাসন) ফেলে আসা সকল রেকর্ড শাহ মিজান ইতিমধ্যেই ব্রেক করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তিনি বাকশালের মতো চরম পন্থায় দীক্ষা লাভ করেন। সরকারী চাকুরী করেও তিনি প্রকাশ্যে বাকশালের মতো অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক চিন্তা-চেতনার পক্ষে কথা বলেন। তার ফেসবুক পেজে বাকশাল মতবাদের স্বপক্ষে নিজের অবস্থান সংক্রান্তে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস আছে। শাহ মিজানের বড় ভাই নাটোরে এ বছর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এমপি পদপ্রার্থী।

Content Protection by DMCA.com
« Older Entries