থার্ড ফোর্সের কন্ট্রোলে জজ আখতারুজ্জামান!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, সারা দেশ জুড়ে বেপরোয়া ধরপাকড়ে তত প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি নয়, সরকারই আছে বড় পেরেশানিতে- বেকায়দায়। নানা গুজবে ভাসছে দেশ। এরি মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ছে, শেখ হাসিনা এখন আর রায় দিতে চান না। তবে তিনি না চাইলেও রায় আসছে! আর সে জন্য বিএনপিও তৈরী হয়েছে।

জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ চেষ্টা করছিল বিএনপিকে বাগে আনতে- মূলত শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বে নির্বাচনে যেতে বিএনপিকে রাজী করানো। কিন্তু সূত্র বলছে, বিএনপি এতে রাজী নয়। জুলুম নির্যাতন যা ই আসুক না কেনো, হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন মানবে না বিএনপি। সমঝোতা চেষ্টায় থাকা গুরুত্বপূর্ন এক ব্যক্তি ব্যর্থ হয়ে দু’দিন আগে দেশ ছেড়েছেন। এরপরেই শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন, ৮ তারিখের রায় আরও এক মাস পিছানোর।

তবে হাসিনার এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে না। তৃতীয় পক্ষ মাঠে নেমে গেছে। তারা চাচ্ছে, রায়টা হোক- আর সেটা বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেই যাক। এর পরিবেশ তৈরীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানকে, যিনি ঢাকা শহরের হোটেল, রেস্তোরা, রাস্তাঘাট, বাস, গাড়িঘোড়া বন্ধ করে রীতিমত কারফিউ লাগিয়ে দিয়েছেন! রায়ের পরে দেশজুড়ে অনাসৃষ্টি উৎপাদন করা হবে, সেটা বিএনপির সব নেতা ধরে ফেললেও হবে। এটা একটা উছিলা হিসাবে ব্যবহার করে বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটবে, আগুণে পুড়ে যাবে অনেক থানা এবং সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীদের শত শত বাড়ি। দেশ জুড়ে মহাতান্ডবে মধ্যে নেমে আসবে সুপ্রিম কোর্টে সেই রায়, যেটা গ্যাগ হয়েছিল। তারপরে বাকীটা হবে প্লান মত।  বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে পশ্চিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সূত্র জানিয়েছে, সম্ভবত বেগম খালেদা জিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর সেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন। হাসিনাকে হঠানোর প্রয়োজনে তিনি আরেকটু সেক্রিফাইস করতে রাজী হয়েছেন। এরপরের নির্বাচনে তিনিই ক্ষমতায় আসছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। বেগম জিয়া মামলার দ্রুত রায় চান, এমন খবর পেয়ে শেখ হাসিনা যার পর নাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ইতোমধ্যে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানকে অফিস থেকে অঘোষিত ছুটি দিয়ে কড়া পাহাড়ায় বাসভবনে রাখা হয়েছে। মূলত, তিনি এখন থার্ড ফোর্সের কন্ট্রোলে। এখানে থেকে তাকে গোপন কোনো সেফ হাউজে নিয়ে রাখা হতে পারে, যেখান থেকে ৮ তারিখে কোর্টে হাজির করা হবে বিশেষ ব্যবস্থায়। রায় থামাতে হলে সরকারের এখন একটাই উপায়- জজ আখতারুজ্জামানকে গুম করে দেয়া। কিন্তু কাজটা অসম্ভব। তবে এ দু’দিনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে!

Content Protection by DMCA.com

অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণাকারী আবুল বারকাত নিজেই লুট করেন জনতা ব্যাংক!

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার সিলেট সফর: লাখ লাখ মানুষের জনজোয়ার

দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেট সফরে যাওয়ার সময় পুলিশি হয়রানি, গণ-গ্রেফতার ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীসহ লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি তারই বহিপ্রকাশ। এমনটাই দাবি- বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

তারা বলছেন, ঢাকা থেকে আজ সকালে সড়ক পথে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করতে রওয়ানা হন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পূর্ব নির্ধারিত এ সফরের খবরে সকাল থেকেই ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। তারা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এক নজর দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা দেয়, লাঠিচার্জ করে। সেই সাথে চলে গণ-গ্রেফতার।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সারা দিনে দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া, নরসিংদীতে নৌকার স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বাধা দেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন।
জানা গেছে, এ সব উপেক্ষা করে মহাসড়কের দু’পাশে জনতার ঢল নামে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সিলেট এলাকায় পৌঁছলে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর সমর্থকদের উপছেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় মহাসড়কের দু’পাশে। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান ও নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ছবিসম্বলিত প্লেকার্ড শোভা পায়।

খালেদা জিয়া দুপুরের পর সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবারবিরতি ও নামাজ শেষে বিকেলে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে যান। সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে মাজার জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাত করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বেগম জিয়া যান হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজারে। মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ফিরেন সিলেট সার্কিট হাউজে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সিলেটে পৌঁছার পর পুরো নগরীতে মানুষের ঢল নামে। সিলেট সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজারে দলীয় নেত্রীকে ঘিরে লাখো মানুষ উপস্থিত হন। সেই সাথে দলীয় নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনতা খালেদা জিয়া, তারেক রহামন ও শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যা দেখে আশপাশের মানুষও অবাক হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় দলীয় নেতারা বলছেন, এটা খালেদা জিয়ার কোনো রাজনৈতিক সফর নয়। তিনি মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে এসেছেন। আর নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাকে দেখতেই মূলত মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটে। জনতার এই ঢল- বিএনপি ও খালেদা জিয়ার প্রতি সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আজ রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস ছেড়ে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

Content Protection by DMCA.com

জন ভীতিতে ভুগছে বিনা ভোটের অবৈধ সরকার: বেপরোয়া ধরপাকড় করে নিজেরাই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে!

আজ সোমবার দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট যাওয়ার পথে অভ্যর্থনা জানানোর সময় প্রচুর নেতকর্মীকে আটক করা হয়।

এ ছাড়াও দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। বিভিন্ন জেলার আটক ও গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এতে দেখা যায় সারা দেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

গত ৩ ফেব্রয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালে ও সভা শেষে আটক করা হয় ৩৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে । এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুমিল্লায় ২০, বগুড়ায় ২০, মেহেরপুরে ১০, মানিকগঞ্জে ২৬, ময়মনসিংহে ৭৬, সাভারে ১৬ ঝিনাইদহে ৬৯, চাঁদপুরে ১৭, নারায়নগঞ্জে ১০সহ সারা দেশে প্রায় আট শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ নেতাকর্মীরা।

দেশজুড়ে গণগ্রেফতারের আংশিক তালিকা:

 
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাসুকুর রহমান মাসুককে গত ০৩ ফেব্রুয়ারী গুলশান থেকে গ্রেফতার করে। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার গ্রেফতারের কথা স্বীকার করছে না।
 গুলশান থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনকে গত ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ গ্রেফতার করা হয়। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মোঃ আলী আজম জালালকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ রাস্তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে দাঁড়ালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা এ্যাডঃ আনোয়ার হোসেন, সাইফুদ্দিন, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ইসরাফিল, কাঁচপুরের দেলোয়ার হোসেন, সাগীর হোসেন, জেলা মহিলা দলের নেত্রী রহিমা শরীফ মায়াসহ কমপক্ষে ৪৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার।
নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালসহ বহু নেতা-কর্মীর বাড়ীতে পুলিশ অভিযান চালায়। সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রুপনগর থানা বিএনপি নেতা মোক্তার হোসেন, খালেদ বিন রনি, পল্লবী থানা বিএনপির নেতা রনি, জসিম, মাহবুব, মাহবুব-২, ইমরান হোসেন সানি, নাসির উদ্দিন মিলন, নিজাম উদ্দিন জসিম, মোঃ মঈনউদ্দিন, সোলায়মান, মনিরুজ্জামান, সোলায়মান, শাহীন, আকাশকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

 
নরসিংদীঃ
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেট যাবার পথে তাঁকে অভর্থনা জানাতে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ সানাউল্লাহ মিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশ সানাউল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর নারায়ণগঞ্জ পেরিয়ে নরসিংদী হয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বলেন, তাদের চেয়ারপারসনের গাড়িবহর নরসিংদী পার হওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে নরসিংদী শহর, মাধবদী ও শিবপুর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়াসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে সানাউল্লাহ মিয়া টেলিফোনে বলেন, আটক করার পর কয়েক ঘণ্টা রেখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। আরো গ্রেফতার করা হয়-জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মোল্লা, শহর বিএনপি সভাপতি গোলাম কবির কামাল প্রমূখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ও বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ অলিউর রহমান, সহ-সভাপতি আবদুল হাই, আবুল কালাম আজাদসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এবং বাসায় বাসায় তল্লাসীর নামে তান্ডব চালাচ্ছে। সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়ার হোসেন বকুলের বাড়ীতে পুলিশ তল্লাসী চালায়।
এছাড়া রায়পুরা উপজেলা মরল বাসস্ট্যান্ডে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ হাজার লোক সমাগত হয়। সেখানে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করে এবং ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ ৫০/৬০ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
 
মুন্সিগঞ্জঃ
শ্রীনগর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক চেয়ারম্যান, টংগীবাড়ী যুবদল নেতা সোহেল মুন্সি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কবির হোসেন মিঠুসহ অন্তত: ১৪ জন গ্রেফতার।
ঢাকা জেলাঃ
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাককে ১নং আসামী করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। ঢাকা জেলাধীন নবাবগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ রুবেলসহ ৪ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুলশান থানা ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ গ্রেফতার।


কিশোরগঞ্জঃ
গতকাল সোমবার সকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভ্যর্থনা জানাতে আসলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো: মাজাহারুল ইসলাম, ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ভিপি মো: বাহার মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারিকুজ্জামান পারনেল, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী এডভোকেট কবিতা খানম, ভৈরব পৌরযুবদল নেতা মাসুদকে আটক করে পুলিশ।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ ৩৫ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার।

মানিকগঞ্জঃ

শিবালয় থানা সভাপতি লাল বেপারী, হরিরামপুর থানা যুবদল নেতা রুমি, সিংগাইর যুবদল নেতা মিঠু, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল খালেক গ্রেফতার। 

ফরিদপুরঃ
বোয়ালমারী থানা পুলিশ গত রোববার রাতে ছাত্রদল নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ উত্তরঃ
ফুলপুরের সাবেক এমপি শাহ শহীদ সরোয়ারের বাসা ঘেরাও করে ছাত্রদল নেতা মহিবুল হক টুটুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপি নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘরে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

 
পাবনাঃ
ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সহ ১১ জন গ্রেফতার।
 
বগুড়াঃ
জেলার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল গফুর, সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সুমন, কাহালু উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নান, ছাত্রদল নেতা জাকির ও মিলনসহ অন্তত: ১৩ জন গ্রেফতার।
দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ গত রোববার রাতে উপজেলার চৌমুহনী বাজার এলাকার একটি চাতালে অভিযান চালিয়ে বিএনপি, ছাত্রদলের ৩ নেতাকে আটক করেছে।
আদমদীঘিতে থানা পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্রমিক দলও সেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারসহ ১২ জনের নাম উলেখ করে এবং ৪২ জনকে অজ্ঞাত করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা পুলিশ জামায়াত বিএনপির ৩ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

নীলফামারীঃ
বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সাত নেতাসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গাইবান্ধাঃ
পলাশবাড়ী থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মোতালেব সরকার বকুল সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশ নাশকতার আশঙ্কায় অভিযান চালিয়ে পৌর শহর এলাকা থেকে আটক করেন।

শেরপুরঃ
পুলিশের বিশেষ অভিযানে শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: হযরত আলীসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ নেতা আটক হয়েছে। গতকাল বিকেলে শেরপুর জেলা শহরের শিংপাড়া মহল্লার তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানায়নি পুলিশ।


নড়াইলঃ
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী গ্রেফতার।
 
ঝিনাইদহঃ
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ গ্রেফতার। জেলার ৬ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের কেসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি আব্দুস সালামসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৬৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে ২০ জন, মহেশপুর থেকে ১৭ জন, কোটচাঁদপুরে ৭ জন, কালীগঞ্জে ৫ জন, শৈলকুপায় ১৫ জন ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল ঝিনাইদহ জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সাজেদুর রহমান পাপ্পুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সোমবার বিএনপি জামায়াতের ২৪ নেতাকর্মী সহ ৭১ জনকে গ্রেফতার করলো। 
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মতিন লিটনসহ ১১ নেতাকর্মী।
চুয়াডাঙ্গাঃ
গত ০৩ ফেব্রুয়ারী লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুর রশিদ ঝন্টুকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সিলেটঃ
গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান আহমেদ খানসহ ৩ জন গ্রেফতার।

হবিগঞ্জঃ
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ মুশফিক আহমেদ এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ ৪ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।

মৌলভীবাজারঃ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ ফয়সল আহমেদ, জেলা যুবদল সদস্য সাজু মিয়া মেম্বার গ্রেফতার।

কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ গত রোববার রাতে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল সভাপতিকে ও ছাত্রদল নেতাকে নাঙ্গলকোট পৌর বাজার থেকে গ্রেফতার করেছে। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ পেড়িয়া ইউনিয়ন অফিসে হামলা মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরঃ
বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- রামগতি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ, বাংঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার বিএনপি কর্মী রুবেল হোসেন, কমলনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নূরউদ্দিন, রামগঞ্জ পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি নাজমুল ইসলামসহ বিএনপি-যুবদল ও জামায়াতের ১১ নেতাকর্মী।

চাঁদপুরঃ
চাঁদপুর জেলার আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ১৭ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহর জামায়াতের সাবেক আমির ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাদের বেপারী, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মিয়াজী, মহামায়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বেপারী ও হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রানা রয়েছেন। সম্ভাব্য আটক এড়াতে অনেকে গা ঢাকা দিচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়াঃ

বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিয়াব আলী, বিএনপি নেতা মোঃ ইয়াহিয়া, মোঃ নিজাম উদ্দিন, ছাত্রদল সহ-সভাপতি মোঃ খোকন, সদর উপজেলার শুহিল ইউপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, ছাত্রদল নেতা কনু গ্রেফতার।

নোয়াখালীঃ
বিশেষ অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির’সহ ১১জন জামায়াত বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড় করছে পুলিশ। উপজেলা যুবদলের সভাপতিসহ ৯জন গ্রেফতার।

ফেনীঃ
ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউপি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এম এ হাসান পারভেজ, ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন পাঠান নগর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আজাদ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন,পৌর যুবদল নেতা মিন্টু গ্রেফতার।
সারা দেশের ন্যায় সোনাগাজীতে ও গ্রেফতার অভিযানে গত রোববার রাতে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন ২জনকে আটক করা হয়।

বরগুনাঃ
আমতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মনির হোসেন হাওলাদার গ্রেফতার।

কক্সবাজারঃ

কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার এর নেতৃত্বে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসময়  সর্বমোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

 
চট্টগ্রামঃ
ফটিকছড়ি উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করছে পুলিশ। এপর্যন্ত ১১জনকে গ্রেফতার এবং আরো অর্ধশত বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছে। বাগান বাজার থেকে বিএনপি নেতা ওহিদুর রহমান(অদু সওদাগর) ও আবু মেম্বার, দাঁতমারা থেকে ভূজপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন বাচ্চু, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের, যুবদল নেতা হাবিব ও নুরুল ইসলামকে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সিলেট যাবার পথে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়ীবহরকে বাধা দিতে কাঁচপুর ব্রীজ মোড়, চিটাগাং রোড, গাউছিয়া বাজার, সিনহা টেক্সটাইল, মাধবদী, তারাবো চৌরাস্তা, রুপগঞ্জ বাজার পর্যন্তু রাস্তার দুধারে সকাল ৮ টা থেকে সাদা পোষাকে পুলিশ, র‌্যাব, আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী মহড়া দিচ্ছে, পুলিশের সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়-রাস্তার দু’পাশে সকল দোকানপাট বন্ধ, বিএনপির নেতাকর্মীদের কাউকে দাঁড়াতে রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যেন পুলিশ কারফিউ জারী করেছে।

 

বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপকহারে গ্রেফতার এবং নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় লাগাতার তল্লাশীর ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবিলম্বে সরকারকে এধরণের অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক আচরণ থেকে সরে আসার আহবান জানান। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন রিজভি।
Content Protection by DMCA.com

সিনহার পথে বিচারপতি ওয়াহ্হাব- পদত্যাগ করেননি- অঘোষিত হাউজ এরেস্ট!

অবৈধ  শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে বিচারপ তি ওয়াহ্হাব মিয়া পদত্যাগ করেছেন। আসলে তা সত্যি নয়। মূলতঃ বিচারপতি সিনহার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছেন ওয়াহ্হাব।

বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করেছেন সরকার দাবী করলেও আসলে তা সত্যি ছিল না। তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বরং ঐ কৌশল অবলম্বন করে তাকে দেশে ফিরতে না দিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক অবসরে পাঠানো হয় ৩১ জানুয়ারি। বিচারপতি ওয়াহবের কপালেও তাই জুটেছে। তিনিও পদত্যাগ করেননি। তার নামে একটা পদত্যাগপত্র দেখানো হয়েছে, সেটা আসলে তার সই নয়। বরং তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাঁর নামে কথিত পদত্যাগপত্রও সিনহার নামে বানোয়াট পদত্যাগপত্রের মত গেজেট হবে না। তবে তাঁকে এজলাসে বসতে দেয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টের জাজ তালিকায় নামও থাকবে না। মেয়াদ শেষে নভেম্বরে তার স্বাভাবিক অবসর হতে পারে বিচারপতি ওয়াহ্হাবের।

গত  ‍শুক্রবার ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নাম প্রকাশ করে বঙ্গভবন। এর আগের রাতে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে কুমন্ত্রণা করে আসে। পরের দিন শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি অফিসে যান। সরকারের কাছে খবর আসতে থাকে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি অনাস্থা জানাতে পারেন সদ্য ঘোষিত প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেনকে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২ আগস্টের রায় প্রকাশ হতে পারে।  এরপরেই ঘটতে থাকে নানান নাটকীয় ঘটনা। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২২ আগস্টের রায় থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ঐ সময়ের মধ্যে রায় সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঐ সময়ে আইন সচিব পিস্তল দুলালের কর্মকান্ড শুরু হয়ে যায়। সিনহার উপরে ব্যবহার করা পদ্ধতিতে বিচারপতি ওয়াহাব পদত্যাগ করেছেন ব্রেকিং খবর  প্রচার হতে থাকে। পরে মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়া হয় তিন লাইনের একটি বানোয়াট পদত্যাপত্র, যার মধ্যে দশটা বানান ভুল, এমনকি সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগ, মহাত্মন, বিশ্বস্ত এরকম সাধারণ বানানগুলো সঠিক ছিলো না।  রাত পৌনে দশটায় বিচারপতি ওয়াহাব বাসায় ফিরে যান। এরপর রমনা থানার ওসির নেতৃত্বে এসআই আজাদ সহ প্রচুর পুলিশ গিয়ে বিচারপতির ওয়াহ্হাবের বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালায়। ল্যাপটপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দলিল তুলে নিয়ে যায়। চাপ প্রয়োগ করে কিছু কাগজপত্রে সই করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের শপথ গ্রহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন ওয়াহহাব মিঞা এমন আশংকায় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় শনিবার শপথ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে বন্দি দশা শিথিল করা হলেও তার বাসায় আজও কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।  তিনি বাড়ির ভেতরেও নজরদারীতে আছেন- কোথাও কথা বলতে পারছেন না। আইনজীবি ও সাংবাদিকরা গিয়ে বিচারপতি ওহাবকে অন্তরীণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের সর্বজ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা শেখ হাসিনার সরকার কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রায় ও মত দেন। যার ফলে আওয়ামীলীগ সরকারকে অনেক বিপদে পড়তে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন অনু্ষ্ঠানের সরকারী আগ্রহকে নাকচ করেছিলেন বিচারপতি ওয়াহাব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খাকে সংবিধান সম্মত হিসাবে ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের বিরোধপূর্ন রাজনীাততে এই ব্যবস্থাই গ্রহনযোগ্য বলে মত দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে সরকার যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন বিচারপতি ওয়াহাব তাকে দিয়েছিলেন খালাস। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পরে বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরে ২২ আগস্ট আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে  দেয়া রায়ে বর্তমান বিনাভোটের  সংসদ ও সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়া। সেই রায় প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁকে সিনহার ভাগ্য বরণ করতে হয়।

Content Protection by DMCA.com

প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা: মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ অবৈধ? বিচারপতি ওয়াহ্হাব পদত্যাগ করেননি। !

এ যেনো ছোটগল্পের মত- শেষ হইয়াও হইল না শেষ! বিচারপতি এসকে সিনহার পরে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়াকে বাদ দিয়ে পরবর্তী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী কাল শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬তম সংশোধনীর রায় প্রকাশের পরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই নিয়োগ অবৈধ। আজ রাতেই হয়ত এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকলে কাজ করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে জানানো হয়েছে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, আসলে তিনি পদত্যাগ করেননি। কার্য  হাসিলের লক্ষে এটা অবৈধ সরকারের মিথ্যা প্রচারণা। মূলত, আদালত ঘোষিত হাসিনার অবৈধ সরকার টিকিয়ে রাখতে কলকৌশল মাত্র। খুব সহসাই বিস্তারিত জানা যাবে।

Content Protection by DMCA.com
1 24 25 26