সোহরাওয়ার্দী থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক: আসতে পারে দীর্ঘ অবরোধের ঘোষণা

Content Protection by DMCA.com

সংলাপ নাটকঃ মার্কিন-ইন্দো পরিকল্পনায় আসছে অন্তর্বতী সরকার!

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য চুড়ান্ত করেছে প্রভাবশালী বিশ্বশক্তিগুলো। গত কয়েকমাসের নানা দৌড়ঝাপের পরে একটি বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব। তাই একটি বিরতি দিতে হবে। নির্বাচন করতে একটি  তদারকি সরকারের প্রয়োজন, যারা দেশের প্রশাসন শক্ত হাতে ধরে নির্বাচনের উপযোগি একটি পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। এই লক্ষ্য পূরণেই গোপন আলোচনা, প্রকাশ সংলাপ, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে। এরই মধ্যে প্রভাবশালী শক্তির প্রচ্ছন্ন সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। আর ঐক্যফ্রন্টকে বিতর্কমুক্ত করতেই প্রভাবশালী দু’টি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়ে (যদিও তিনি রাজী ছিলেন না) জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের গেজেট জারী হরা হয়েছে। আর এর ফলে দারুণভাবে লাভবান হয়ে যায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। অন্যদিকে নির্বাচন শিডিউল ঘোষণার ঠিক আগে আগেই সড়ক ধর্মঘটের নামে জনসাধারনকে ভোগান্তিতে ফেলে, মুখে মবিল কালি লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিরক্ত করার মধ্য দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা তাদের  মহড়া সম্পন্ন করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যেই দেশে রাজনৈতিক ডামাডোল তুঙ্গে উঠবে। বিশেষ করে নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণা করার সাথে সাথেই ধর্মঘট ও লাগাতার কর্মসূচিতে যাবে বিরোধী দলগুলো। পরিবেশ নাই, তাই নির্বাচন পিছানোর দাবী ইতোমধ্যেই তোলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তদারকি সরকারটি ৬ মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করবে। তবে প্রয়োজনে এটি এক বছর বা ২ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কূটনীতিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক সপ্তাহের অধিক ঢাকায় অবস্থান করে গোপন মিশনে সবকিছু চুড়ান্ত করে যান। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে বৈঠক করে এর উপরে সম্মতি নেয়া হয়, যেখানে প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন! অনেকটা বাধ্য হয়ে তাকে এতে সম্মতি দিতে হয়। আর এতে করে, প্রতিবেশি দেশটি এদেশের নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ সালের মত প্রকাশ্য অবস্থান নিতে পারেনি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা ঢাকায় অবস্থানকালেই সে দেশের দশ সদস্যের একটি উর্ধতন সেনা আধিকারিকও ঢাকায় আসেন। হোটেল রেডিসনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলেও গোয়েন্দা তৎপরতা এড়াতে তারা কূটনৈতিক এলাকায় অন্যত্র থাকেন। উত্তরপাড়াতে একদিনের মিশনে বাহিনীপ্রধান ও অন্যান্যদের সাথে আলোচনায় সবকিছু ঠিকঠাক করে তারা ফিরে যান।

খুব দ্রুততার সাথেই ঘটতে যাচ্ছে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ। ঘটনা ঘটার স্বার্থেই প্রভাবশালী দেশটি তাদের কূটনীতিককে সরিয়ে নিয়েছে তড়িঘড়ি করে। তারা চান না, সরকার পরিবর্তনের জন্য তাদেরকে দোষারোপ করা হোক, বরং রাষ্ট্রদূত না থেকে কাজ করাটা এক্ষেত্রে কম দূর্নামের। বর্তমান বিদায়ী আ’লীগ সরকারের লোকজন সবকিছু অবহিত থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য হলেও আসন্ন ব্যবস্থাকে মেনে নিতে হচ্ছে। ক্ষমতা বদলালে লাখ লাখ লাশ পড়বে, নিজেদের এমন প্রচারণাও এক্ষেত্রে পালে হাওয়া দিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

আ’লীগ-ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ অনুষ্ঠিত: সঙ্কটের সুরাহা হয়নি: আন্দোলন চলবে জানিয়েছে ফ্রন্ট

নির্বাচন ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একই টেবিলে বসে বহুল আলোচিত সংলাপ করেছে দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পৌনে চার ঘণ্টাব্যাপী এ সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের মূল দাবিগুলোর কোনো সুরাহা না হওয়ায় রাজনৈতিক সঙ্কট রয়ে গেল। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবির উত্তরে সংলাপে আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘সংবিধানের বাইরে তাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়েও সরকারের কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে বলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন। সভা-সমাবেশ করতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার, তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা বাদ দেয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই নোট নেন।
সংলাপের একপর্যায়ে সংসদ ভেঙে দেয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সেখানে নির্বাচন কিভাবে হয়? প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেন, আপনি তো সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আমি যতদূর জানি, ভারতে যখন নির্বাচন হবে, তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রিটেনে যখন নির্বাচন হবে, তখন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য সংসদীয় গণতন্ত্রে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত কি না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচন চাচ্ছেন। দেশে নিরপেক্ষ কে আছেন বলুন।
খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে, জামিন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, নজিরবিহীনভাবে সাজা দ্বিগুণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা এর উত্তরে বলেন, খালেদা জিয়াকে তো আদালত সাজা দিয়েছে। আমরা তো খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করিনি। হাইকোর্ট যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেন, তাহলে আমরা কী করব?
খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি তো আইনগত লড়াই করেছে। একটা মামলা ১০ বছর ধরে চলেছে। আরেকটি চলেছে আট বছর। প্রথম মামলা তো আমরাও করিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে নিরাপদ সড়ক অন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব আন্দোলনের সময় গ্রেফতার সবাই ছাড়া পেয়েছে। মুক্তি পেয়েছে সবাই। শহিদুল আলমের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তার (শহিদুল) কথাগুলো আপনারা কেউ পড়েছেন কি না? একটু পড়ে দেখবেন তার কথাগুলো।
ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচনের জন্য কী কী করা যায়, তার সমাধান আপনি দিন।
সব দলকে সমান সুযোগ দেয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দলের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে না। আমি নিজেই বলেছি আপনাদের যেন জনসভা করতে দেয়া হয়। আমার দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছি যেকোনো কর্মসূচিতে যেন বাধা না দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, জ্বালাও পোড়াও করেছিল। এখন কেন তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে নিরপেক্ষ সরকার দিতে আগ্রহী নয়Ñ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, দেশে এখন সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই।
জানা গেছে, সংলাপে একাদশ জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে এমন প্রস্তাবে মতাসীনরা কোনো সায় দেয়নি।
বিশেষ কোনো সমাধান পাইনি : ড. কামাল
সংলাপ শেষে বেইলী রোডের বাসায় ড. কামাল বলেন, সভা-সমাবেশের অনুমতি ব্যতিরেকে সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি। তিনি বলেন, আমরা গেছিলাম আজকে গণভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ ছিল। আমরা তিন ঘণ্টা সেখানে ছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ সবার অভিযোগ ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সবার কথা শোনার পরে প্রধানমন্ত্রী বেশ লম্বা বক্তৃতা দিলেন। তবে ওখানে কোনো বিশেষ সমাধান আমরা পাইনি।
পরে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সভা-সমাবেশের বিষয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর কোনো বাধা থাকবে না। রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে সভা করতে চাইবে সেখানে কোনো বাধা দেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলা সম্পর্কে উনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা ও গায়েবি মামলার তালিকা আপনারা দেন। আমি অবশ্যই বিবেচনা করব, যাতে হয়রানি না হয় তা বিবেচনা করব। তিনি বলেন, উত্থাপিত দাবি-দাওয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।
ড. কামাল আরো বলেন, আমরা সংলাপের সুযোগ পেয়েছি। আমরা আমাদের কথা বলে এসেছি উনাকে। উনি জানতে পেরেছেন। উনি উনার কথাগুলো বলেছেন, উনার মনের কথা আমরা কিছুটা জানতে পেরেছি।
আমি খুব সন্তুষ্ট নই : মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন এই বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে। বিএনপি কী এতে আশাবাদী প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, আমি তো বলেছি যে ভাই আমি খুব সন্তুষ্ট নই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা ৭ দফা কর্মসূচি দিয়েছি। মানা-না মানার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কর্মসূচি আমরা দিয়েছি, এ নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংলাপে সমাধানের আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে কি না প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তফসিল পেছানোর বিষয়ে বলেছি। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন তফসিল দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। সেটা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
সংলাপ থেকে আপনারা কী পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবসময় কী সব কিছু অর্জন হয় নাকি।
আ স ম রব বলেন, একদিনে সব পাওয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন
সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই : কাদের
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাথে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা কথা খুব স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী সংলাপের চিঠিতে স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছেন, সংলাপে সংবিধানসম্মত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তাই আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না।’
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কিছু কিছু অভিযোগ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের পরিপ্রেেিত আমাদেরও তো একটা বক্তব্য আছে। সেটাও খুব ভদ্রভাবে শালীনতার সাথে বলা হয়েছে। এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
কাদের বলেন, ‘এখানে কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, সভা-সমাবেশ চলবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তবে, রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা-সমাবেশ না করে একটা মাঠে হতে পারে। অনেক মাঠ আছে। ঢাকার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, দরকার হলে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি কর্নার করে দেবো। সেটি যারা ব্যবহার করবেন, তাদের কাছে ভাড়া দেয়া হবে। এটার একটি মেনটেইনেন্স থাকবে। বিষয়টি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের ছয় নম্বর দফা হলো বিদেশী পর্যবেক আসবেন এবং নির্বাচন মনিটরিং করবেন। এ ব্যাপারেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, এ ব্যাপারে আমাদের সাপোর্ট থাকবে। আর ইভিএমের ব্যপারে তিনি বলেছেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি। তবে এবার হয়তো নির্বাচন কমিশন সীমিতভাবে ব্যাবহার করবে। এতে আমাদের সমর্থন থাকবে।’
বিরোধীদের ওপর বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘তারা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে একটা প্রশ্ন তুলেছেন। এই ব্যাপারে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের যে মামলাগুলোকে রাজনৈতিক মামলা মনে হয়, সে তালিকা আমার কাছে পৌঁছে দিন। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সরকারের অনেক বিষয়, যেগুলো নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হবে। এসব নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, একটি অবাধ-নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার কোনো ধরনের হস্তপে করবে না। শুধু যে সব বিষয়ে ইসি সহযোগিতা চাইবে, সেসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।’
খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘এটা তো আইনি বিষয়। আমার তো মনে হয়, সংলাপের মধ্যে এটা আসতে পারে না। খালেদা জিয়া যে দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এই মামলাগুলো কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেয়া।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেনÑ দেখুন আপনি বলুন, আপনিও তো ইলেকশন করেছেন, সেই ৭৩ সাল থেকে অনেকবার ইলেকশন করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না।’
সংলাপে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জনতে চাইলে জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা খুশি কি অখুশি, এটা তারা বলতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আপনি যে কথাগুলো বলেছেন, তার অনেক কিছুই আমরা জানতাম না। তিনি বলেছেন, তিনি আজকের সংলাপে সন্তুষ্ট।’
আবারো সংলাপ হবে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন, তার দরজা সবসময় উন্মুক্ত। প্রয়োজনে ছোট পরিসরে আরো আলোচনা হতে পারে।’
অন্য নেতারা যা বললেন : সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি আছে। দলটির আরেক নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা খুবই সুন্দর হয়েছে। তবে আলোচনার সফলতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলতে পারব না।
আর সরকারের জোটে থাকা জাসদের (আম্বিয়া-বাদল) নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, খুবই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ইটস অ্যা পলিটিক্যাল স্টার্ট।
পৌনে ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংলাপ শেষ হয় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে।
অংশ নিলেন যারা : সংলাপে মহাজোট ও ১৪ দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতাসহ ২৩ জন প্রতিনিধি। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো: আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, হাছান মাহমুদ, শ ম রেজাউল করিম, আনিসুল হক, দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও মইন উদ্দীন খান বাদল।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম; গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ ও ম সফিক উল্লাহ, মোতাব্বের খান; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন ও তানিয়া রব; জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সংলাপের একপর্যায়ে রাত বাড়ায় ৯টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জন্য হালকা খাবার পরিবেশন করা হয়। ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, সৌজন্যের খাতিরে তারা হালকা খাবার গ্রহণ করেন। তবে তারা কোনো নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন নি। এরপর রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে আবারো আলোচনা শুরু হয়ে তা পরবর্তী আধাঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বিচারের ভার আপনাদের ওপর : প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণভবন জনগণের ভবন। সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ৯ বছর মতায় থেকে দেশের যা উন্নয়ন করেছে তা সবাই দেখতে পেয়েছেন। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে। কারণ দেশটা আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। আজকের এই সংলাপ বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দেবো। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর ১০ মাস হতে চলল আমরা সরকারে। এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি তা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। এতে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা করেছিলাম সেই দিন বদল হচ্ছে। এটাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারি সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল গণভবনে প্রবেশ করে। গণভবনের প্রবেশ পথে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে ঐক্যফ্রন্টের গাড়িবহর গণভবনে ঢোকে। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শেখর।
সাত দফা দাবি ও ১১ দফা ল্েযর ভিত্তিতে সংলাপের জন্য গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ড. কামাল হোসেন স্বারিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরদিন আওয়ামী লীগ সংলাপে সম্মতির কথা জানায়। আজ শুক্রবার বিকল্প ধারার সভাপতি বি. চৌধুরীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শাসক দলের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
গণভবনের বাইরে মোমবাতি প্রজ্বলন : এ দিকে ফলপ্রসূ সংলাপের দাবিতে গণভবনের ভেতরে যখন সংলাপ চলছিল তখন বাইরে ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মী-সমর্থকেরা নানা স্লোগান সংবলিত প্লাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। কারও কারও হাতে মোমবাতি ও ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা ছিল ‘সংবিধান ওহি নয়, জনগণের জন্যই সংবিধান’, ‘জনগণ ভোট দিতে চায়, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ফলপ্রসূ সংলাপ চাই’, ‘সংবিধান জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা নয়’ ইত্যাদি।

/নয়া দিগন্ত
Content Protection by DMCA.com

‘সংবিধান, আইন পরিবর্তন মিনিটের ব্যাপার’- সংলাপ নিয়ে শেখ হাসিনার চিঠি পাওয়ার পর কামাল হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে সংলাপের আমন্ত্রণের চিঠি পাওয়ার পর, জাতীয় ঐক্য-ফ্রন্ট নেতা বলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে বলবেন, তারা খোলা মন নিয়ে কথা বলতে এসেছেন, কোনো দলীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নয়।

“আমি বলবো জাতীয় স্বার্থে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা যেমন চাই, আপনিও চান…আমরা উভয়েই সেটাই চাই, তাহলে কেন উপায় বের করা যাবেনা” – বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ড. কামাল হোসেন।

তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে রাজনৈতিক সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে যে চিঠি হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে পাঠিয়েছেন, তাতে নির্বাচন নিয়ে সরকারের মৌলিক অবস্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রীর তার চিঠিতে লিখেছেন, “সংবিধান সম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য তার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।”

জাতীয় ঐক্য-ফ্রন্টের সাত-দফা দাবি নিয়ে সরকারের নেতা-মন্ত্রীরাও গত বেশ কিছুদিন ধরে ক্রমাগত বললেন, এসব দাবির অনেকগুলোই মানার প্রশ্নই ওঠেনা, কারণ বর্তমান সংবিধানে এরকম কিছুর কোন সুযোগ নেই।

ঐক্য-ফ্রন্টের প্রধান যে দাবি – সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন – সেটিকে এ যুক্তিতেই দিনের পর দিন সরকারের পক্ষ থেকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংলাপে কি কৌশল হবে ঐক্যফ্রন্টের?
এখন তার চিঠিতে “সংবিধান-সম্মত” শব্দটি জুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কি তাহলে তাদের সেই অবস্থানেই অনড় থাকার বার্তা দিয়ে দিলেন? এই প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বোঝা যাবে সরকার কতটা করার জন্য প্রস্তুত, কোন কোন ইস্যুতে তাদের দ্বিধা আছে।

তবে একই সাথে তিনি, “কিছুটা তো বুঝতে পারছি তারা সংবিধানের বিষয়গুলোকে তুলতে চাইবেন, কিন্তু এই সংবিধানকে তো তারাই সংশোধন করেছেন, সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যাপারগুলো যোগ করেছেন।”

“আমরা তদের বলবো, এটা তো সংবিধান নয়, এটা তো সংশোধনী… অবশ্যই নির্বাচন সংবিধান সম্মত হবে, অসাংবিধানিকভাবে তো নির্বাচন করা যায়না, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে সংশোধনী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।”

“লক্ষ্য তো একটা যে সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। সংবিধান এবং আইন পরিবর্তন তো কোনা ব্যাপারই না, এক মিনিটেই তা হতে পারে।”

ড. কামাল হোসেন বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার যে দাবি তারা দিয়েছেন, সেটা একবারেই নতুন কিছু নয়।

“২০০৭ সালে শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন, সেই একই কথা বলে ২০০৮ এর নির্বাচন হয়েছে।” তবে সংলাপে তাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে বেশি কথা বলতে রাজী হননি ড. হোসেন।

“কালকে যেহেতু আলোচনা, সুতরাং বেশি কিছু বলতে চাই না। আমরা আশা করবো সরকার আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নিক।”

সরকার কেন আপোষ করবে?
কিন্তু সরকার যে নমনীয় হবে সেটা তারা আশা করছেন কীভাবে? সরকারের ওপর তো চাপ নেই?
বিবিসির এই প্রশ্নে ড. হোসেন বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য অবশ্যই সরকার চাপে রয়েছে। “গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটাই চাপ। তারা জানেন যে নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করেনা, সেই নির্বাচন থেকে কিছু পাওয়া যায়না। এই উপলব্ধি নিশ্চয়ই তাদের হয়েছে। তা না হলে তো আমাদের আলোচনায় ডাকার কোনো দরকার তো তাদের ছিলনা।”

সংলাপে তারা নিজেরা কতটা নমনীয় হবেন?
“আমি আগে থেকে কোনো অনুমান করতে চাইনা। লক্ষ্য একটাই সবই একটা নির্বাচন। আমরা উভয়েই সেটাই চাই।”

/বিবিসি বাংলা

Content Protection by DMCA.com

সংলাপের বাতাস : রাজনীতিতে হঠাৎ ইউটার্ন

শামসুল আলম
 
২৯ অক্টোবর ২০১৮। বাংলাদেশের রাজনীতি জীবনে নানা ঘটনাবহুল দিন। এটা একদিকে বর্তমান সরকারের শেষ কার্য দিবস, কাল থেকে শুরু হবে নির্বাচনকালীন সরকার! একই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি দুর্নীতি মামলার বিতর্কিত রায়ে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়, অবশ্য আগের দিন রায়ের বিরবণ পত্রিকায় আগাম প্রকাশ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে; বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আত্মপক্ষ সমর্থন করার সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি। দু’দিন ধরে নৌমন্ত্রী শাজাহানের আজ্ঞাবহ পরিবহণ শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে জনগনের সাথে সন্ত্রাস করে রাস্তা দখলে রাখার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো যে, বিএনপি যেনো রাজপথে না আসতে পারে। বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ইভিএমের বিধান রেখে আরপিও পাশ করে সরকারের কেবিনেট! এরি মাঝখানে বিকালে ঘোষণা আসে, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার।
 
১. নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের দাবী করে চিঠি গ্রহণ করে বেশ কিছু সময় শীতল থাকার পরে হঠাৎ সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় নড়ে চড়ে বসেছ সবাই। এটাকে ‘রাজনীতির ইউ টার্ন’ হিসাবেও দেখছে অনেকে। শুধু সংলাপ নয়, ঐক্যফ্রন্টকে একেবারে নৈশভোজের দাওয়াত! বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়ার রেওয়াজটা উঠে গেছে অনেক দিন! সেখানে সরকারের এই অবস্থান বদলে সচিবালয় সহ সদ্ধিগ্ন মহলগুলো ভাবনায় পড়ে যায়! হঠাৎ কেনো এই সংলাপের ঘোষণা। তবে কি সরকারের সুমতি হয়েছে? তবে এটা কিন্তু শেখ হাসিনার নীতি ও চরিত্রের সাথে যায় না।
 
২. তাহলে কি প্রবল বিদেশী চাপে এই সংলাপ? এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বোদ্ধারা সকলেই অবহিত আছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্বেগের কথা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের ওপর ভর করে পূর্ন মেয়াদের একটি সরকার মেরে কেটে ক্ষমতায় থাকার পর ভুলের খাতায় অনেক কিছু জমা হয়েছে। এ অবস্খায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে উন্নয়ন পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ বেশিরভাগ বিদেশী বন্ধুরাই চায় বাংলাদেশে একটি জনগনের শাসন কায়েম হোক; আর যেনো পাঁচই জানুয়ারীর মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। একটি অংশগ্রহনমূলক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রবল। বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র ভারতও ২০১৪ সালের অবস্খান থেকে সরে এসে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দরকার ইত্যাদি কথা বলছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতকে পাশে ঠেলে শেখ হাসিনার সরকার ও দল উদভ্রান্তের মত দৌড়াচ্ছে চীনের দিকে। নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য এটি অসহণীয়। সার্বিক অবস্খা উত্তরপাড়া থেকেও সংলাপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এহেন অবস্থায়, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বক্ষণে নৈশভোজ-সংলাপে আদৌ কি ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে সবার কৌতুহল!
 
৩. তাহলে কি সংলাপ দেশে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে? বিরোধী দলের ৭ দফা দাবী মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাটছে? সরলভাবে তেমনটা আশা করা হবে নেহায়েত বোকামী! শেখ হাসিনা কখনই বিরোধীদের সম্পূর্ন দাবী মেনে এমন কোনো নির্বাচনের উদ্যোগ নিবে না, যাতে তিনি হেরে যাবেন। কেননা, মুখে যাই বলুন না কেনো, তিনি ভালো করেই জানেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামানত বাজেয়াপ্তই তার দলে আশু নিয়তি। আর সেটা ঘোরাতেই যত প্রকারের নির্বাচন প্রকৌশল (election engineering), নিজ দলীয় লোক বেছে বেছে ভোট অফিসার নিয়োগ করা, বিরোধী দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইভিএম চেষ্টা, ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি প্রধানকে বিতর্কিত রায়ে একের পর এক সাজা প্রদান, বিরোধীদের গায়েবী মামলার দৌড়ের উপর রেখে নিজেরা নির্বাচনী কাজে নেমে পড়ার মত নির্লজ্জকর কাজে ব্যস্ত রয়েছে আ’লীগ।
 
৪. প্রশ্ন উঠতে পারে এই সংলাপের মানে কি? ঐক্যফ্রন্ট সংসদের বিরোধী দল নয়, বিগত সরকারও নয়, এমনকি এই ব্যানারে কখনও নির্বাচনে অংশও নেয়নি। তাহলে তাদের চিঠির বরাতে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ সংলাপে উদ্যোগী হলে কেনো? এখানেই রয়ে গেছে বিরাট উত্তর। বিএনপির নেতৃত্বে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ানরা আছে, এটা প্রায় সর্বজনবিদিত। তাই তাদের অনুরোধ, উপরোধ, চাপ সবই কাজ করেছে এই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিতে। তাছাড়া, গতকালই বামদলীয় জোট ঘোষণা করেছে, যেনো তেনো প্রকারের নির্বাচনে তারা অংশ নিবেনা। প্রতিবেশীর পিছুটানের ফলে ৫ জানুয়িারির মত বিনাভোটের নির্বাচন এবারে সম্ভব নয়। এ অবস্খায় চাহিত আলোচনা ছাড়া বা একটি নূন্যতম সমঝোতা ব্যতীত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হবে, তা গণঅভ্যুত্থাণের রূপ নিতে পারে, এটা বোধ করি ফ্রন্টের প্রস্তুতি থেকে সকলেই অনুধাবন করেছেন। আগামীকাল থেকে শেখ হাসিনার সরকার যখন নির্বাচনকালীন সরকার, তাই বিরোধী দলের কথা শুনতে তারা বাধ্য। আ’লীগ যদি সরকারে না থাকে, তবে বৈঠকে বসার কোনো প্রয়োজন হতো না, কিন্তু সরকারে থাকলে বৈঠক করতে হবে, শুনতে হবে কথা। নইলে নির্বাচন হবে কি করে, সংঘাত অনিবার্য!
 
৫. আরেকটি প্রশ্ন- সংলাপই যদি করবে, তাহলে এত তাড়াহুড়া করে আকতারুজ্জামানের ‘জাজমেন্ট মেশিন’ থেকে এতদ্রুত আউটপুট বের করে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ৭ বছর কারাদন্ড দেয়া হলো কেনো- যেখানে পুরো বিচার প্রকৃয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ? সংবিধান লংঘন করে কেনো এই রায়? এটার অনেক উত্তর থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার মনখুশি রায় এটা। এটা দিয়ে তিনি খুশি। তিনি এখন খালেদা জিয়ার সাথে কোনো বৈঠকে বসতে রাজী নন, যদিও সেটাই ছিল তার নিস্ক্রমনের জন্য সহজ রাম্তা। অনেকেই মনে করেন, বেগম জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব যতটা না রাজনৈতিক, তারও চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত! শেখ হাসিনার ক্ষোভ হলো, খালেদা জিয়া কেনো এত সুন্দর, কেনো এত লোক তাকে পছন্দ করে, কেনো তার এত বেশি ভোট! তাই তিনি খালেদা জিয়ার মত শক্তিশালি প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে বসার চাইতে তাকে কারারুদ্ধ রাখতেই বেশি তৃপ্ত বোধ করছেন। এই রায়ের দ্বারা হাসিনা তার রাগ, জেদ, ক্রোধ ও সংকল্পের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। ভবিষ্যতে যদি তিনি ক্ষমতায় ফেরত আসতে নাও পারেন, অন্তত খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দেয়ার পথ তৈরী করে নিলেন। তিনি ভালো করেই জানেন, সরকার পরিবর্তন হলে আজকের এই আপীল বিভাগই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এসব রায় ও সিদ্ধান্ত রিভিউ করে সব বাতিল করবেন দ্রুততম সময়ে। তাই এখন যা কিছু পারা যায়, নিজের হাতেই করে নিয়ে তৃপ্ত হতে চান তিনি!
 
৬. এটা কি এমন হতে পারে যে, হাসিনা দীর্ঘকালের অবৈধ সরকারের দুর্নাম ঘুচাতে নিজকে ‘হঠাৎ গণতন্ত্রী’ প্রদর্শনের জন্য সংণলাপের এই দৃশ্য মঞ্চায়ন করলেন? কিংবা নিজেকে মহান দেখাতে? বিগত নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনা নিজেই গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডিনারে, সংলাপে, এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে। কিন্তু এ টেলিফোন কলের আগেই তিনি ছ’শ কোটি টাকা ব্যয় করে নিশ্চিত করেছিলেন, বেগম জিয়া যেনো সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেন (এর দলিল হয়ত দেয়া সম্ভব নয়, কিন্তু জীবন্ত মানুষ সাক্ষী আছে)! তার মানে, ওটা ছিল লোক দেখানো সংলাপের ডাক। এবারেও তেমনটা না ঘটলেও যাতে সংলাপের পূর্ণ সুবিধা বিরোধীরা না পায়, সে চেষ্টা তার অবশ্যই থাকবে!
 
৭. তাহলে সংলাপের ফলাফলটা কি?
ক) সংলাপ দৃশ্যমাণ শোভন হবে। শেখ হাসিনা হয়ত ফ্রন্টের আংশিক কিছু দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার কথা বলে ক্যামোফ্লেজ তৈরী করবেন, যাতে করে ফ্রন্টের মধ্যে বিভেদ লাগে বা ভাঙনের মুখে পড়ে। হয়ত বলবেন, ‘সংবিধান মোতাবেক আমি সরকারে থাকব, পদত্যাগ করার কোনো নিয়ম নাই, সংসদ চালু নাই তাই ভাঙার কোনো দরকার নাই, সংবিধান মোতাবেক আমার অন্তবর্তী কেবিনেটে আপনারা ৫জন মন্ত্রী দিতে পারেন, সে জন্যই কেবিনেট ভাঙ্গিনি (১০% কোটায় আসুন) “ এতে করে ফ্রন্টের মধ্যে কলহ লাগতে পারে।
 
খ) বলবে, বাকী সব দাবী এভাবে মানব- নির্বাচন কমিশন পূর্নগঠন করতে গেলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। তাতে রাজী থাকলে চেষ্টা করা যাবে, নাম দেন। তখন অন্য রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে বৈঠক করার সুযোগ তৈরি হবে, আর এতে নির্বাচন ঝুলে যাবে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আছে, তাদের ছাড়া বাকী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে, তবে আইনি প্রকৃয়া মেনে। এতে করে সময় লাগবে। যেভাবে রায়গুলো আছে, দেখা গেলো এমন সময়ে বেগম জিয়া ছাড়া পেলেন যে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেও পারলেন না, বা প্রচারণাতেও সামিল হতে পারনে না। এভাকে প্রথম দফা মানার গেম চলতে পারে।
 
খ) ইভিএম সিস্টেমে নির্বাচন করার মত কোনো প্রস্তুতি ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের না থাকার পরও কেবিনেটে আজ তা পাশ করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে ইনাম হিসাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিল পাশ করার সুযোগ দিলো সরকার। ইভিএম আইন পাশ করতে চাইলে বিদায়ী (বিনাভোটের) সংসদেই পাশ করতে পারত। এত দেরী করে সংসদশূন্য অবস্থায় কেনো? কিন্তু সেটা যখন করেনি, এখন করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে করতে হবে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাহলে এই ইভিএম বিতর্ক জিইয়ে রাখলো কি বিরোধীদের টেনশন বাড়ানোর জন্য? এখন সংলাপের সময় হয়ত বলবে- ইভিএমের দাবীও মেনে নিলাম। যান আরেক দফা হলো তো!
 
গ) অন্যান্য দাবীর মধ্যে সেনাবাহিনী নামানো প্রসঙ্গে বলবে রাজী, তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে, সাথে সিভিল ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবে! বলবে সভাসমাবেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। বলবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলনে যারা আছে, সবাইকে মুক্তি দেয়া হলো। দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকেও রাজী। কারও কোনো রাজনৈতিক মামলা থাকলে নির্বাচনকালে স্থগিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় সকলের নামে ফৌজদারী অপরাধের মামলা। পুলিশ যেভাবে মামলা সাজায় তাতে রাজনৈতিক মামলা প্রমান করা বেশ জটিল।
 
বলবে, তাহলে ৭ দফা দাবীর প্রায় সবই মানা হলো, এবার ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুন। এ নিয়ে বাগড়া দিতে যাবে কে? কেউ অবশ্য বলছেন, হাসিনা জানে, তাকে বিদায় নিতে হবে, এটা নিশ্চিত। এখন তিনি চান সেইফ এগ্জিট। এ নিয়ে বিএনপির ওপরে তার আস্থা নেই, আস্খা আছে ড. কামালে। ব্যারিস্টার মইনুলে সমস্যা আছে, তাই জেলে রাখা হলো। জাফরউল্লাহ আশ্বাস দিয়েছেন প্যাসেজ দিবেন, তাই তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারো কারো মতে, হাসিনা সময় ক্ষেপণ করছেন। তবে কি সংলাপের নামে নিরাপদ প্রস্থানের পথ পরিস্কার করা হলো?
 
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি ফ্রন্ট-রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি ফাঁদে পড়লো? তাছাড়া ফ্রন্ট নিয়ে আগানোর কুফলে কি ২০ দলীয় জোট অস্তিত্বের সংকটে পড়বে? এ অবস্থায় কি নির্বাচন হবে, নাকি ফ্রন্ট বয়কট করবে? নাকি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব এবং উপরে লিখিত সম্ভাবনাগুলো সবই ঘটনাত্তোর পরিস্কার হবে। সংলাপ শেষে আগামী শুক্রবার নাগাদ বোঝা যাবে এর ফলাফল, তত দিনেও ১০ দিনের আল্টিমেটামের কয়েকদিন বাকী থাকবে। তখন বলা যাবে ফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে কি না। এর আগে যা কিছু বলা, সবাই আন্দাজ এবং বিশ্লেষণ মাত্র! তবে আপাতদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা বিদেশী চাপে পড়ে, উত্তর পাড়ার মতামতে, এবং জনগণের কাছে নিজের ‘চেষ্টার ত্রুটি করিনি’ বোঝাতেই এই সংলাপের হঠাৎ আয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি এই সংলাপের পথ ধরে নির্বাচনে যায়ও ফ্রন্ট তবে দেখা যাবে- শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হয়ে আছেন, তার সজ্জিত প্রশাসন ও পুলিশ সবাই কর্মরত, রিটারর্নিং অফিসার ও পোলিং-প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ করা ব্যক্তিরা কাজ করছে, ইলেকশন কমিশনার ২/১টা বা পুরোটাই বদলে দেয়া হলো কিন্তু তার সচিবালয় আনটাছ রাখা হলো (বিশেষ করে সচিব হেলালউদ্দীন)! এমতাবস্থায়, এইরূপ পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী প্রশাসন দিয়ে আর যাই হোক, সুষ্ঠু ভোট গ্রহন ও ফলাফল প্রকাশ অসম্ভব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রশাসন নিরপেক্ষকরণ বলতে যা বোঝায়, তা করতে হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে। আর সেটা তো তিনি সংলাপের ভেতর দিয়ে রাজী হবেন না। তা অবশ্য কেউ হয়ও না। তার জন্য দরকার হবে – রাজপথের আন্দোলন ও গণবিল্পব। বর্তমানে বিরোধী দল, তথা ঐক্যফ্রন্টের সেই প্রস্তুতি থাকলেও ডিনার-সংলাপে হয়ত সেটা কিছুটা পিছিয়ে যাবে, বিশেষ করে ২ তারিখের ঢাকায় জমায়েত। তবে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও রাস্তায় নেতাকর্মী নামিয়ে যেকোনো সময় নির্বাচন বয়কট করে অলআউট আন্দোলনে যেতে পারবে। এদেশের ইতিহাস যা বলে, তাতে নাগরিকের ভোটের অধিকার রাজপথেই অর্জিত হবে। বেগম জিয়ার সাথে মামলাবাজি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার হাতের কার্ড সব খেলে ফেলছেন। আর এতে করেই জনতার বিজয়ের আশা জাগছে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

মন্ত্রীর সংগঠনের ধর্মঘটে জিম্মি দেশ

Content Protection by DMCA.com

ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশের রেশ এখন সর্বত্র

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে

শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রীদের ভয়াবহ গলাবাজি এবং হাসিনার পালিত মাসুদা ভাট্টি টাইপের মানে চরিত্রহীনদের মিডিয়ার ক্রমাগত প্রচারণার কারনে দেশের মানুষ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো যে, হাসিনার কাছ থেকে নিরপেক্ষ নির্বাচন পাওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যে কারনে গোটা দেশময় পাবলিকের মনে এক প্রকার ঘৃণাবোধ জন্মেছিলো বিএনপির ওপরে। কেনো তারা কিছু করছে না। কেনো আন্দোলন করছে না, এরকম দাবি সব জায়গা থেকেই করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি পুরনো ভুল থেকে রিকভার করে এমন পন্থা অবলম্বন করতে চেয়েছিলো, যেটা বেগম জিয়ার জাতীয় ঐক্যের আহ্বান থেকেই সুস্পষ্ট হয়েছিলো।
.
বিরোধী দলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবিকে অসাড়, বিরোধিতার খ্যাতিরে বিরোধিতা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছিলো সরকার। কিন্তু খালেদা জিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের সিনিয়র সিটিজেন, সুশীল সমাজ এবং দেশের ভিতরে গেম প্লান করার যোগ্যতা রাখেন এরকম ব্যক্তিদের নিয়ে যখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন কুড়ি দল বিশেষ জোট গঠনের পথে হাটলো এবং সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এক প্রকার ছাড় দিয়েই বিএনপি সহ কুড়ি দলীয় জোট নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে ফেললো, তখন এক যুগ ধরে দখলদার প্রধানমন্ত্রীর পায়ের নিচের মাটি একটু একটু করে সরে যেতে লাগলো। এটাই বিএনপির ক্রেডিট বলতে হবে যে, তাদের কট্টর বিরোধী মতের লোকদের নিজের বলয়ে এনে তাদের মুখ দিয়েই নিজের কথা বলাচ্ছে। জাতীয় সমস্যাকে দলের হিসেবে বিবেচনায় নিতে চায়নি বিএনপি। বেগম জিয়ার রাজনৈতিক এই কৌশলে শেখ হাসিনা পুরোপুরি পরাস্ত।

ফলে হাসিনার সরকারের গলাবাজি আর তিরস্কারের জন্য তৈরি মিডিয়ার সকল ফোকাস বিএনপি জামায়াতের ওপর থেকে সরে গিয়ে এখন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড কামাল এবং তার সহযোগীদের ওপর পড়লো। তাদের বিতর্কিত করার, হেনস্তা করার নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করতে লাগলো সরকার ও সরকারের পালিত দালালরা। সাথে যোগ দিলো সরকারের আজ্ঞাবহ মিডিয়া এবং তাদের দালালরা। কিন্তু মাঝ পথে হোচট খেয়ে গেলো ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে সম্পুর্ণ বেআইনিভাবে গ্রেফতার করার ভিতর দিয়ে। যে বিষয়ে একাধিক মামলা হয়, সেই মামলাগুলোকে একটি মামলায় রূপান্তর করাই আইন আদালতের প্রসিডিউর। ফলে ঐ মামলায় হাইকোর্ট বেঞ্চের আগাম জামিনে থাকা ব্যারিস্টার মইনুলকে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেওয়ার কোন এখতিয়ার নিম্ন আদালতের ছিলো না। ড কামাল হোসেন এ কারনেই আইন মন্ত্রীকে ভৎর্সণা করে  বলেছেন, ‘তোমাকে কে এ অধিকার দিলো, আইনের ব্যাখ্যা দাও।’ ব্যাখ্যা আর কি দেবে, তাদের তো শেষ চেষ্টা করে দেখতে হবে, এই যা। সমস্যা হয়েছে, সরকারের পতনের জন্য যে পরিমান গোয়ার্তুমী বাকি ছিলো, সেটাও পূর্ণ হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বিষয়টি পুরোপুরি ক্লিয়ার হয়ে গেছে যে, হাসিনার অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল এবং সম্মানিত সকল নাগরিকদের অনীহা রয়েছে। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে চাচ্ছে শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের কথামত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া শেখ হাসিনার যেমন প্রেস্টিজ ইস্যূ যেমন তেমনি তার মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ নেতাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে।

সব দিক বিবেচনায় নিজের এবং দলের বিশ্বস্ত নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েই দরকষাকষি করে চলছেন তিনি। কিছুদিন আগে ঢাকা সফর করে যাওয়া  যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মূখ্য সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়ালেস এবং কর্মকর্তারা নির্বাচন বিষয়ে শেখ হাসিনার সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আলোচনা করে তিনটি অপশন দিয়েছিন। সরকারও সময় নিয়েছে এগুলো নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার। বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, এসব অপশান কেবল মুখের কথা নয়, সরকারের জন্য চয়েজ মাত্র।
.
প্রথমটি অপশন, বিরোধী দলগুলার সঙ্গে সংলাপে বসে সব দলের অংশগ্রহনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কার্যকর পথ বের করা।
দ্বিতীয় হলো, সরকার নিজেরা পদতাগ করে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব দেয়া, যাতে তিনি সকল দলের সাথে পরামর্শ করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে তদারকি সরকার গঠন করতে পারেন।

তৃতীয়টি হলো, সরকার জানুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী তফসিল ঘেষিত হবে, কিন্তু নির্বাচন হবে না। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গোলযোগ হলে কি করণীয়, হবে সেটা সংবিধানে বর্ণিত আছে। এ অবস্থায় সরকার আরো তিন মাস ক্ষমতা কন্টিনিউ করতে পারে। কিন্তু এরপরে নির্বাচন না হলে সংবিধান অটোমোটিক চয়েজ দিয়ে দেবে। নিরপেক্ষ ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সংবিধানিক কোন বাধা থাকবে না।

হয়তো এই তিন/চার মাসে সরকার আরো কিছু হিসাব নিকাশ করতে পারবে, কিন্তু নিজেদের অধিনে কোন নির্বাচনের চেষ্টা চালাতে পারবে না। অতএব, এত অপশানের ভিরে হাসিনার জন্য একটাই অপশান কনফার্ম হয়েছে যে, পুনরায় ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা হলে সরকারের সাথে দাতাগোষ্ঠির সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা আসতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত সকল দাতা গোষ্ঠিও সরকারকে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে জানিয়ে দিয়েছে। আগামী দশ দিনের ভিতরে সরকারকে তার পছন্দ জানাতেই হবে। এটাই হচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহর আলটিমেটাম। তিনি বলেছেন, আগামী দশ দিনের ভিতরেই কিছু একটা হয়ে যাবে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

চট্টগ্রামে ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশ মানুষের ঢল। ১০ দিনের মধ্যে দেশে পরিবর্তন : জনগনের সিদ্ধান্ত করলে অমান্য কঠোর শাস্তির হুশিয়ারী

যে শাস্তি পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না, ঐক্যফ্রন্টের চট্টগ্রাম মহা সমাবেশে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন সবাই চায়। সাত দফা মেনে নিন। জনগণ হাত তুলে রায় দিয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অমান্য বা উপেক্ষা করলে, যে শাস্তি আপনারা পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

শনিবার বিকালে চট্টগ্রামে আয়োজিত জনসভায় ড. কামাল বলেন,  দেশের মালিক ১৬ কোটি মানুষ। ভোট ছাড়া আপনারা কীভাবে ক্ষমতায় আছেন, তার জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ৭ দফা দাবির বিষয়ে গণরায় পেয়েছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণ এক হলে সব সম্ভব। যেমনভাবে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। এই ৭ দফা আদায় না হলে ঐক্যফ্রন্ট ঘরে ফিরবে না। এটা গণমানুষের দাবি। আজ চট্টগ্রামে গণরায় পেয়েছি, সেদিন সিলেটে পেয়েছি, তারপর রাজশাহী ও ঢাকায় সমাবেশ করব।

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই সরকার অন্যায় এবং অপরাধকে ভিত্তি করে দেশ পরিচালনা করছে। জনগণ তা আর মেনে নেবে না। দীর্ঘ ১০ বছর দেশের মানুষকে এই স্বৈরাচারী সরকার জিম্মি করে রেখেছে। সরকার জানে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। তিনি বলেন, ‘সরকার নিজেরা নাশকতা-সহিংসতা করে। তারপর বিরোধীদলের ওপর দোষ দেয়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বন্দী করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জনগণকে জিম্মি করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। বন্দুক, পিস্তল দেখিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন পাকিস্তানিরাও দেখেনি। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না। সাত দফা দাবি আদায় করে তবেই ঘরে ফিরব। এই সরকারকে আমরা পরাজিত করব। এই জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। তাদের হারানোর কিছু নেই।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারকে সংলাপে বসতে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি স্বৈরতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তাদের অগণতান্ত্রিক আচরণের কারণে আইনের শাসন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আমরা হারিয়েছি। আমরা এই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমে সরকারকে সংলাপে বসতে বাধ্য করবো।আর সরকার সংলাপে না বসলে দেশে যে অরাজকতা হবে তার জন্য তারাই দায়ী থাকবে।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশ কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এদেশের মালিক ১৬ কোটি জনগণ। যারা ১৬ কোটি মানুষকে কষ্ট দেয়। আমি বেঁচে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করব।  সরকার অসাংবিধানিক কর্মকান্ড করছে- এমন অভিযোগ এনে সরকারকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘মিছিল সমাবেশ জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার সে অধিকারে বাধা দিয়ে পদে পদে সংবিধান লঙ্ঘন করছে। সংবিধানে লেখা আছে দেশের মালিক জনগণ, সরকার সেবক। এখন সেবকরা মালিককে কষ্ট দিচ্ছে। লালদীঘিতে সমাবেশ হলে সবাই বসে কথা শুনতো। রাস্তার উপর সমাবেশে এসে একটানা ৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বক্তব্য শোনা কষ্টকর। যারা এ কষ্ট দিল তাদের বিচার জনতার আদালতে হবে। ঢাকায় গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে মামলা করব।
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার কী আছে? আর কত চাইব। মুক্তি চাইতে হবে কেন? মুক্তি দিতে হবে। যদি অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হয়- আর তার কিছু হয় তাহলে এর জন্য জবাব দিতে হবে। আমরা জবাব চাইব।

সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামানোর ঘোষণা দিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সরকার ঐক্যের পথে বিভ্রান্তি ছড়াবে। আমরা অনেকগুলো দল এক হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই- সরকারের পতন। তারা হঠাৎ তফসিল ঘোষণা করতে পারে। আমরা লড়াই করব এবং ভোটে জিতব। ভোটকেন্দ্রে, ভোটের মাঠে, রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকব। জয় আমাদের হবেই।মান্না বলেন, সরকার বলছে ৭ দফা ১১ দফা মানবে না। আমরা বলছি, মানতে হবে। সরকার বলছে তারা পদত্যাগ করবে না, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবে না। আমরা বলছি, দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্লোগান একটাই- গদি ছাড়ো, তুমি যাও। গদি না ছাড়লে কিভাবে ছাড়াতে হয়, সেটা আমাদের জানা আছে। এই ঐক্য ক্ষমতার ঐক্য নয়, জনতার ঐক্য। আমরা কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছি, আমাদের দাবি মানতে হবে।

সমাবেশে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘শুধু ১০ দিন অপেক্ষা করেন, দেখেন কী হয়। এর মধ্যে দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। দেশের সব বুদ্ধিজীবী ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেবেন। বামপন্থী, আওয়ামীপন্থী সব বুদ্ধিজীবী আসবেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজের ছায়া দেখে ভয় পাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভয় পাবেন না, ড. কামাল হোসেন আছেন, তিনি আপনাকে রক্ষা করবেন। কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার মইনুল আপনাকে আইনি সহায়তা দেবেন।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রামের অন্যতম সমন্বয়ক চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা: শাহাদত হোসেনের সভাপতিত্বে জনসভায় গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মো:শাজাহান, মীর নাসির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূইয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, সুকোমল বড়ুয়া ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেলা ২টা থেকে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরে দেড়টার পর কোরআন তেলাওয়াত ও গীতাপাঠের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাবেশের কারণে কাজীর দেউড়ি নূর আহমদ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সমাবেশেকে কেন্দ্র করে সভাস্থলের আশপাশ ছেয়ে গেছে বিএনপি ও ছাত্রদল-যুবদলের কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি চেয়ে ব্যানার পোস্টারে। মঞ্চের সামনে নাসিমন ভবনের সামনে মঞ্চে থেকে কাজীর দেউড়ি পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ঐক্যফ্রন্টের হাজার হাজার নেতাকর্মী।

Content Protection by DMCA.com

অাইনজীবি সমাবেশে সরকারকে ধুয়ে দিলেন ড. কামাল

বিএনপিসহ সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন সরকারের মামলা-হামলার কড়া সমালোচনা করেছেন। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে পাগলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। সরকার যা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যা করছে তা জানোয়াররাও করে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

টক শোতে একজন নারী সাংবাদিক সম্পর্কে কটূক্তি করায় মানহানির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের বেশির ভাগ জুড়েই ছিল এই প্রসঙ্গ।

মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি (মইনুল) হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে গেছেন। আমি অবাক হয়েছি, তাকে সন্ধ্যায় নেয়া (গ্রেপ্তার) হয়েছে, পরে তাকে অন্তরীণ (কারাগারে পাঠানো) করা হয়েছে। ঢাকা এসে দেখি তার এখনও মুক্তি হয়নি। এটা কী শুরু করেছে? একটা সভ্য দেশকে সুন্দরবন বানাতে চাচ্ছে নাকি?’

‘না, সুন্দরবনকেও অপমান করা হয়। এটা জঙ্গল বানানো হচ্ছে। যা এই সরকার করছে তা তো জানোয়াররাও করে না। বিনা কারণে কেন সরকার এসব করছে? মাথা খারাপ হয়ে গেছে এদের। আমি মনে করি সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সংবিধানের আছে দেশ শাসন করার সময় যাদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, তাদের দ্রুত পরীক্ষা করাতে হয়। আমি বলি বোর্ড গঠন করে সাইকিয়াট্রিক দ্বারা এদের পরীক্ষা করা হোক।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতা বলেন, ‘কী আশ্চর্য! মইনুল হোসেন আইনজীবী। এই সরকার খুব ভালোভাবে তাকে চেনে। গতকাল রাতে সিলেটে শুনে আমি অবাক। ওনাকে জেলে নেওয়া হয়েছে। এখানে এসে দেখি উনি এখনও জেলে। তিনি কেন জেলে? কেন, কেন, কেন? এর উত্তর চাই।’

কামাল হোসেন বলেন, ‘এ সরকারের নাকি তথাকথিত একটা আইনমন্ত্রী আছে। তোমার (আইমন্ত্রী আনিসুল হক) কাছে আমি উত্তর চাই। তুমি আমাদের একজন জুনিয়র ল’ইয়ার। তোমার বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন, সিরাজুল হক বাচ্চু ভাই, উনি আইনজীবী ছিলেন। তুমি কী হয়ে গেছো? তুমি আইন সব ভুলে গেছো? এসো তোমার সাথে আমরা আইনের বই দেখবো। কোন গ্রাউন্ডে মইনুল হোসেনকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে, কৈফিয়ত চাই। গণতন্ত্র যখন দাবি করে জনগণকে কৈফিয়ত দিতে হবে। দায়িত্ব আছে তোমার (আইনমন্ত্রী)। বলতে হবে তোমার।’

‘মইনুলকে গ্রেপ্তারের ঘটনা চরম স্বৈরতন্ত্রের পরিচয় দিয়েছে। এটা গণতন্ত্র নয়। বোঝাও তুমি গণতন্ত্র মানে যা ইচ্ছা তা নয়। সংবিধানের এমন ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। যে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। মইনুলকে অপমান করে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? কী অপরাধ করেছে সে? এটা মানহানির মামলা। মানহানির মামলায় তো সে জামিন নিয়েছে। আর কত মামলা করবে? এটা অত্যন্ত লজ্জাকর।’

প্রবীণ এই আইনজীবী বলেন, ‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বলছি, কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেন না- সবাই মামলা করো। আইনমন্ত্রী তুমি যার (প্রধানমন্ত্রী) চাকরি করছো তাকে বোঝাও। এভাবে কথা বলা যায় না। তাকে বোঝানোর ক্ষমতা না থাকলে আমরা সাহায্য করবো। বই খুলে চোখে আঙ্গুল দিয়ে তোমাকে দেখাবো। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে এসব দেখতে হচ্ছে। আমি মনে করি, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি। এটা আমাকে দেখতে হচ্ছে, শুনতে হচ্ছে। আমার এক বন্ধু সিনিয়র আইনজীবী আমাকে বলেছে, আওয়ামী লীগের নামে যা হচ্ছে তাতে কি বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে?’

ড. কামাল বলেন, ‘আইনমন্ত্রী তুমি মনে হয় সব ভুলে বসেছো। তুমি শপথ নিয়েছো সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনার। তুমি যার চাকরি করছো তিনিও শপথ নিয়েছেন। তোমাদের শপথের প্রত্যেকটা শব্দের ব্যাখ্যা আমাকের বোঝাও। আইনমন্ত্রী আমাকে তুমি বোঝাও। আমি তোমার কাছে সময় চাই। আমাকে বোঝাও হচ্ছেটা কী দেশে। পার্লামেন্ট নাকি আছে। তথাকথিত একটা পার্লামেন্ট নাকি আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তোমরা কৈফিয়ত দাও। আরও দুই দিন পার্লামেন্ট আছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তুমি কৈফিয়ত দাও। পার্লামেন্টের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সেখানে বল যাতে মানুষ জানতে পারে।’

‘যেসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে তা সংবিধানের কোথায় আছে। আমি সিলেটে যা দেখেছি অবাক কাণ্ড। আমাদের হোটেলের সামনে থেকে আটটা/দশটা করে ছেলে ধরে নিয়ে গেছে।  কেন নিয়ে গেছে? কী শুরু হয়েছে, এটা বাংলাদেশ?’

নবগঠিত জোটের প্রধান বলেন, ‘মানহানির মামলায় রাতে গ্রেপ্তার করতে হবে এমন কোনো নিয়ম আছে? জামিনযোগ্য মামলা। আইনমন্ত্রী অন্য কিছু না জানলেও তুমি তোমার বাবার সঙ্গে ক্রিমিনাল প্র্যাকটিস তো করেছো। জামিনযোগ্য অপরাধ কী তুমি তা জান। যার চাকরি কর তাকে বোঝাও যে জামিনযোগ্য অপরাধ এটা।’

মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে এ ঐক্য করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী চোখ খোলো। দেশের অবস্থা বোঝার চেষ্টা কর। অন্ধকারে থাকা যাবে না।’

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, সুব্রত চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এস এম কামালউদ্দিন, শাহ আহমেদ বাদল, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গোলাম মোস্তাফা খান প্রমুখ।

প্রায় দুই হাজার আইনজীবির সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক খান, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, গোলাম রহমান ভুইয়া, গোলাম মোস্তাফা, গাজী কামরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, এ কে এম এহসানুর রহমান, কাজী জয়নাল, মির্জা আল মাহমুদ, গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, সগীর হোসেন লিয়ন, শরীফ ইউ আহমেদ, শেখ তাহসীন আলী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 26