বাংলাদেশের গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা তৎপরতা শুরু: জালিয়াতির নির্বাচন নিয়ে ব্যবস্খা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পম্পেকে মার্কিন পররাষ্ট্র কমিটির কড়া চিঠি


“বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে”- মার্কিন পররাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির কড়া চিঠি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কারচুপির নির্বাচন মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থি, এবং ঐ নির্বাচনে জালিয়াতি, অবৈধভাবে ভোট ডাকাতি, এবং ভোটারদের হয়রানির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। 
এ বছর এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে কারনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার তৎপরতা বাংলাদেশ দিয়েই শুরু করতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের জালিয়াতির নির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাস, গণগ্রেফতার, এবং বাকস্বাধীনতাকে দাবিয়ে রাখা হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ৯৬% বিজয়ের দাবী করে , যা ২০১৪ সালের বয়কটের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশী আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বিজয়ের চেয়েও অধিক দেখানো হয়েছে!

Full text:
Dear Mr. Secretary:
We are gravely concerned by the negative trajectory of democracy in Bangladesh and request an outline of how the Department intends to respond to this trend, particularly in light of serious allegations that the outcome of the December 2018 elections lacked credibility. As you know, supporting democracy, rule of law, and human rights in the Indo-Pacific region is critical to advancing U.S. interests, and reports of widespread irregularities in Bangladesh’s recent elections seriously threaten those important interests.
Bangladesh has a strong and proud democratic tradition, so we were particularly dismayed that the campaign leading up to the election was marred by violence, mass arrests, and a crackdown on free speech. The Awami League claimed 96 percent of the seats contested — more than the party and its allies won in 2014, when a key opposition party boycotted the general election and the Awami League ran unopposed in more than half of the seats contested.
Although the government-appointed election commission has claimed the election was legitimate, we believe the allegations of widespread rigging and voter suppression must be taken seriously. According to press accounts, when polls across the country officially opened, reporters found that some ballot boxes looked suspiciously full. There are reports that Awami League activists barred some people from voting, claiming that the polling stations were closed for lunch or had run out of ballots. Some voters were even told their votes had already been cast. To make matters worse, the Government of Bangladesh failed to grant credentials and issue visas to most international election monitors, including those funded by the United States.
There will be a series of elections taking place this year in Asia, including in Afghanistan, Indonesia, the Philippines, and Thailand. It is crucial that the United States demonstrate its continued commitment to and respect for democratic institutions, beginning with Bangladesh.
Thank you for your attention to this matter. We look forward to your timely response.

Representative Michael T. McCaul (R-TX), the House Foreign Affairs Committee Lead Republican;
Representative Eliot L. Engel (D-NY), Chairman of the Committee; Rep. Brad Sherman (D-CA), the Chairman of the Asia and Pacific Subcommittee;
Rep. Ted Yoho (R-FL), the Ranking Member of the Asia and Pacific Subcommittee;
Rep. Andy Levin (D-MI); and Rep. Ann Wagner (R-MO)
CONTACT: HFAC GOP Press (McCaul): Caroline CampbellHFAC Press (Engel): (202) 226-9103Sherman: (202) 423-7302Yoho: Brian KaveneyLevin: (202) 603-0933Wagner: Arthur Bryant

Content Protection by DMCA.com

আ’লীগকে নির্বাচনের খর্চা ৫০০০ কোটি টাকা দিয়েছে চীন । ক্ষুব্ধ ভারত । মার্কিনীদের সাথে একাট্টা । আসছে জাতীয় সরকার।

বাংলাদেশে আবার জাতীয় সরকার  নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এবার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত।

জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনে ভারতের উপর নির্ভর করতে পারেনি হাসিনা। তাই চীনের দ্বারস্থ হয়ে তাদের কাছে নির্বাচনের খর্চা বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড এনেছে এবং এই টাকা দিয়েই পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ লোকদের মাথা কিনে নির্বাচন পার করেছে হাসিনা। তবে বিপদ অন্যখানে- এমন ভাবে সব সিট ও ভোট কেটে নেয়া হয়েছে, যা দেশে বিদেশে কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। আর তাই দেশে বিদেশে কথা উঠেছে আরেকটি নির্বাচন করতে হবে, যা হবে সুষ্ঠু।

নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকটি প্রতিনিধি দল ভারত ঘুরে এসেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির নিশ্চয়তা হাসিল করতে পারেনি। এমনকি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার মাস খানেক আগে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের কথা থাকলেও মোদির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় শেখ হাসিনা সফর বাতিল করেন। এর বিপরীতে সৌদি আরবে সফরের মধ্যে চীনের সাথে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা ও সমঝোতা সেরে ফেলেন হাসিনা। বিষয়টি ভারতের জানা থাকলেও তারা ততটা বিপদ মনে করে নি তখন।

তবে বিপদের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন রাতে, অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর। ভোট ডাকাতি ও কারচুপির প্রতিবাদে প্রায় সকল বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কটের মুখে ফলাফল ঘোষণা হতে থাকলে দিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদি ফোন করে শেখ হাসিনাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। এর তিন ঘন্টা পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট উভয়ে শেখ হাসিনার কাছে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। এরপরে সোমবার সকালেই নৌকা, ফুল, এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের পত্র নিয়ে গণভবনে পৌছে যান চীনের রাষ্ট্রদূত! ভারত এই প্রথম লক্ষ করে- এ যে রীতিমত বাড়বাড়ি। সন্দিগ্ন হয়ে ওঠেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্বষর্ধন শ্রিংলা।

পরবর্তী ৩/৪ দিনে সরকার গঠনের প্রকৃয়া চলতে থাকে। ভারতীয় হাইকমিশনার আ’লীগের বিভিন্ন কর্নারে যোগাযোগ করে হতাশা বাড়তে থাকে। ৬ জানুয়ারী নতুন কেবিনেট ঘোষণা করা হলে নয়াদিল্লি আকাশ থেকে জমিনে নয়, সোজা ভূতলে পড়ে! পুরোনো কেবিনেটের ৩৬ জন সদস্য আউট। ডজনখানেক সিনিয়র মন্ত্রী বাদ পড়ে, এতকাল যাদের মাধ্যমে দিল্লির স্বার্থ উদ্ধার হতো, এদের কেউ নাই। হাইকমিশনার শ্রিংলার কাছে অনেকেই ধর্ণা দেন। কিন্তু তিনি আ’লীগের হাইকমান্ডে যোগাযোগ করে প্রচন্ড ধাক্কা খান। তাকে বলা হয়েছে চুপ থাকতে। কে মন্ত্রী হবেন, কি হবেন না, তা আ’লীগের নিজস্ব বিষয়;  এবং শেখ হাসিনা নিজেই দেখছেন। এ নিয়ে কোনো দেশের পরামর্শের দরকার নাই। প্রমাদ গুনেন শ্রিংলা!

ধীরে ধীরে দিল্লি বুঝতে পারে, শেখ হাসিনা বিক্রি হয়ে গেছে। চীন তাকে কিনে নিয়েছে অতি উচ্চমূল্যে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। পরের দিন ৭ জানুয়ারী বঙ্গভবনে সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন হাইকমিশনার শ্রিংলা। অন্যদিকে বঙ্গভবনে সদলবলে উপস্থিত হন চীনা রাষ্ট্রদূত জ্যাং জু। শপথের পরেই তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে, এবং টেলিফোনে কথা বলিয়ে দেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাথে। খবরে বলা হয়, চতুর্থবারের মতো ও টানা তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বিদেশ সফরে যাবেন ভারতে নয়, যাবেন চীন।

সবকিছু পূর্নমূল্যায়ন করতে থাকে ভারত। হাইকমিশনার শ্রিংলা বিস্তারিত লিখে জানান তার হেডকোয়ার্টার্সে। কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সাথে।

এরি মধ্যে নির্বাচন বর্জন করা দলগুলো অভিযোগের পাহাড় তৈরি করে তা জানাতে থাকে সর্বত্র। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে আ’লীগের ভোট জালিয়তি ও কারচুপির খবর। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য সহ সকল পশ্চিমা রাষ্ট্র বাংলাদেশের কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে একের পর এক আপত্তি তুলতে থাকে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবী করে। বিব্রত হয় নতুন সরকার।

লক্ষনীয়, ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পরে পরম মিত্র প্রতিবেশী ভারত থেকে কোনো অভিনন্দন বার্তা আসেনি। বরং এসেছে চীন এবং তাদের মিত্রদের থেকে। বিষয়টা একেবারেই হেলাফেলার মত নয়। বাংলাদেশ নিয়ে চীনের অগ্রসরতা দেখে ভারত বসে থাকবে না। তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের নিরাপত্তায় যা প্রয়োজন, তাই করবে।

বাংলাদেশের স্বীকৃতিহীন কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের নানাবিধ তৎপরতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহলে হঠাৎ কথা উঠেছে- আচিরেই জাতীয় সরকার আসছে। আর তারা থাকবে ৩/৪ বছর। দেশের সবকিছু ঠিক করে নির্বাচন দিবে তারা।

Content Protection by DMCA.com

জালিয়াতির নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাবিশ্বের একজোটে কথা বলায় সরকারের ভেতরে অস্বস্তি, নতুন পথ খুঁজছে!

পশ্চিমাবিশ্বের ভূমিকায় সরকারের ভেতরে অস্বস্থি, পরস্থিতি সামলাতে নতুন পথ খুঁজছে
৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিপুল বিজয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও স্বস্তিতে নেই। বাইরে কথাবার্তায় যেমন তেমন ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকা নিয়ে। ভারত, রাশিয়া ও চীনসহ গুটি কয়েকটি রাষ্ট্র নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানালেও ইউরোপ-আমেরিকা বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।

এ নিয়ে সরকারে চরম অস্বস্থি বিরাজ করছে। তবে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সরকার পথ খুঁজছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক। ২২ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হ্যালের সঙ্গে তার বৈঠক হবে।

সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে মূলত এই আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র সচিব অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) সিনিয়র অফিসিয়াল মিটিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য সৌদি আরব যাবেন।

সরকারের একজন কর্মকতা বলেন, ‘নতুন সরকার গঠন হয়ে গেছে এবং আমরা যুক্তরাষ্ট্রসহ সব অংশীদারদের সঙ্গে কথা বলবো।’গত ২ জানুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে সফরের বিষয়ে আলোচনা করেন পররাষ্ট্র সচিব।

এদিকে সহিংসতা আর ব্যাপক কারচুপির কারণে ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ্ট নয় কেউই। সরকার নিয়ন্ত্রিত এ নির্বাচনে দেশে এবং দেশের বাইরে সমালোচনা আর নিন্দার ঝড় বইছে। কারচুপির অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এবং সব পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের তাগাদা দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে মুখে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাপক প্রচার করলেও এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমাবিশ্ব।

সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ এবং কারচুপির সুষ্ঠু তদন্তের তাগাদা দিয়ে ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ।

বাংলাদেশ নির্বাচন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

নির্বাচন নিয়ে সরকারকে ‘স্বাগত’ না জানিয়ে তারা বরং অনিয়ম, কারচুপি এবং সহিংসতার ঘটনাগুলো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করার আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গণতন্ত্রের সংকট সমাধানে সবপক্ষকে এক হয়ে পন্থা খুঁজে বের করার তাগাদাও উঠে এসেছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার দেশ এবং সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে।

নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাবিশ্ব শক্ত ভাষায় তাদের যে মূল্যায়ন এবং অবস্থান তোলে ধরেছেন তাতে নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে বেকায়দায় পড়তে পারেন শেখ হাসিনা সরকার। বুধবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবদনে এমন অভিমত তোলে ধরেছে।

‘ওয়েস্টার্ণ পাওয়ার কলস ফর প্রোব ইনটু বাংলাদেশ ইলেকশন ইরেগুলারিটিস, ভায়োলেন্স’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমাবিশ্ব। যে নির্বাচনে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন জোট ৯০ শতাংশের বেশী আসনে জয়ী হয়েছে সে ভোটে সংগঠিত কারচুপির অভিযোগগুলো নিয়েও সবিস্তারে কথা বলেছে পশ্চিমাদেশগুলো।

নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমাবিশ্ব কড়া ভাষায় তাদের যে মূল্যায়ন তোলে ধরেছেন সেটি শেখ হাসিনার ভাবমূর্তির ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাপক কারচুপি আর ভোটারদের আতংকিত করে নির্বাচন করা হয়েছে অভিযোগ এনে এর ফলাফল প্রত্যাখান করেছে শেখ হাসিনার বিরোধী সকল রাজনৈতিক দল। তবে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন শেখ হাসিনা। তার ভাষ্যমতে ভোট ছিলো শান্তিপূর্ণ, আর তাতে উৎসব মুখর পরিবেশে অংশ নিয়েছেন তার সমর্থকরা।

দেশে চলমান পরিস্থিতির দিকে ইংগিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবারের ঢাকার পরিস্থিতিটা ছিলো চুপচাপ। তবে প্রধান বিরোধীদল বিএনপি বলছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের কর্মীদের হামলার শিকার হচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তবে আওয়ামী লীগ এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদরে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, নির্বাচনের দিনে ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াজুড়ে ছিলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ঘাটতি। এসকল প্রতিবন্ধকতার কারণেই নির্বাচনের প্রচার এবং ভোটদান প্রক্রিয়া কলুষিত হয়েছে।”

নির্বাচনে অনুষ্ঠিত কারচুপির অভিযোগসমূহের একটি যথার্থ তদন্ত করার আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিদেশে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বিনিয়োগকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রও এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে দেশটি জানিয়েছে, হয়রানি, ভীতিকর পরিস্থিতি এবং সহিংস কর্মকান্ডের জন্যই নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে বিরোধী দলের প্রার্থী এবং সমর্থকেরা স্বাধীনভাবে তাদের সভা-সমাবেশ করতে পারেনি, কোনো প্রচারণা চালাতে পারেনি। এঘটনাগুলোর স্বপক্ষে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে, আর তাতে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র।

ভোটে বাধা দেবার বিষয়টিতে অসন্তোষ জানিয়ে দেশটি বলেছে, ভোটের দিনে সংগঠিত অনিয়মগুলোর কারণে অনেক ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এ বিষয়টিতে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।কারচুপির এসব বিষয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

পশ্চিমা বিশ্বের এ ধরনের বক্তব্যে সরকারকে কিছুটা শঙ্কিতও করেছে বটে। কেননা, পশ্চিমাবিশ্বকে এড়িয়ে চলার মতো সক্ষমতা এখনো বাংলাদেশের হয়নি। তথা গ্লোবাল ভিলেজের যুগে বিশ্বের প্রভাবশালী একটা বড় অংশকে এড়িয়ে চলা কোনো দেশের জন্য শুভকর নয়। কেননা, শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদবিরোধী উদ্যোগে রয়েছে বাংলাদেশের।

ফলে এ মুহূর্তে পশ্চিমা বিশ্বের মান-অভিমান ও অভিযোগকে এড়িয়ে চলার সুযোগ নেই সরকারের। ফলে নিয়ে সরকার অনেটাই অস্বস্থিতে ভুগছে।

আর এ অস্বস্থি আরো বাড়িয়ে দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের গঠনমূলক রাজনীতি, বক্তব্য ও বিবৃতি। এবারের নির্বাচনের আগে-পরের ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা ছিল খুবই ইতিবাচক। তারা অন্যদের উস্কে দেয়া কোনো সহিংস পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।

৬ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর হোটেল আমারি-তে বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পর কূটনীতিকদের সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এই বৈঠকে নির্বাচন সম্পর্কে নিজেদের মূল্যায়ন, অভিজ্ঞতা এবং অভিযোগের খুটিনাটি তুলে ধরা হয়েছে।

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা তাদের কাছে নির্বাচনের কিছু ডকুমেন্ট দিয়েছে যে নির্বাচনের আগের দিন ও পরের দিন কী হয়েছে। সেই সঙ্গে ডকুমেন্ট অনুসারে আমরা তাদের একটা পেনড্রাইভ দিয়েছি, যাতে তারা দেখতে পারেন নির্বাচনের আগের এবং পরের দিন কী হয়েছিল।

কামাল হোসেন বৈঠকের ব্যাপারেে আরো বলেন, ‘যারা এসেছিল তারা বন্ধুরাষ্ট্রের। তারা আমাদের বন্ধু, জনগণের বন্ধু এবং সরকারেরও বন্ধু। আমরা নির্বাচনের অনিয়মের বিষয়গুলো তাদের কাছে তুলে ধরেছি। তারা এ নিয়ে কোনো বিতর্ক করেনি। আমরা যা দেখেছি, তারাও তাই দেখেছে। তারা আমাদের কথা শুনেছেন এবং বলেছেন—গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত থাক তারাও সেটা চান। তারাও চান এদেশের মানুষ স্বস্তিতে, শান্তিতে থাক।’

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হয়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এমন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। যা হবার হয়ে গেছে, এখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। সরকারকে চাপ দিয়ে নয়, যুক্তি দিয়ে বোঝাক তারা’।

বিরোধীদের এসব অভিযোগ আর পশ্চিমাবিশ্বের ভূমিকাসহ সবমিলেই সরকারের এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে সরকারের কূটনীতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পশ্চিমাবিশ্বের প্রভাবশালী টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকার নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণের ব্যাপারটিও ভাবছে।

অবশ্য নির্বাচনের পরের দিন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ বিষয়ে বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভোটে কোনো কারচুপি হয়নি। কেউই যদি প্রমাণ করতে পারে কারচুপি হয়েছে। তাহলে পুনরায় ভোট হতে তো আমাদের আপত্তি নেই।’

/আরটিএনএন

Content Protection by DMCA.com

২১ আগস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল উলফা

 

ULFA ‘commander’ admits attacking Hasina rally in 2004

https://bdnews24.com/bangladesh/2007/01/19/ulfa-commander-admits-attacking-hasina-rally-in-2004

Content Protection by DMCA.com

জাতিসংঘের এক ধমকে উড়ে গেলো ফখরুলের ওপর নিষেধাজ্ঞা!

জাতিসংঘ মহাসচিবের আমন্ত্রনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেখানে যাচ্ছেন, এমন খবর গোয়েন্দা মারফত আগেই জানতে পারেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেন মির্জা ফখরুলকে আটকে দিতে। কারন বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘে গেলে তাতে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ ভয়াবহ বিপদে পড়তে পারে। এমনকি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সংকটে পড়তে পারে। তাই যেকোনো মূল্যে আটকাতে হবে ফখরুলকে। খবর গোয়েন্দা সূত্রের।
 
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের খবর দ্রুতই পৌছে যায় জাতিসংঘের ঢাকাস্থ আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পোর কাছে। তিনি হেড কোয়ার্টারের অনুমতি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার চ্যানেলে সরকারকে জানিয়ে দেন, বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘে যাচ্ছেন জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরিসের আমন্ত্রণে। এ অবস্থায় মীর্জা ফখরুলকে আটকে দিলে জাতিসংঘ মহাসচিব নাখোশ হবেন। এবং এর প্রভাব পড়তে পারে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশী সৈন্যদের নিয়োগের ওপর।
 
এরপরে গোয়েন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে আসন্ন এ বিপদের কথা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিবকে না আটকানোর পরামর্শ দেন। অবশেষ খুব চুপেচাপে মির্জা ফখরুল দেশ ছাড়ার পরে সংবাদ মাধ্যমে খবর ছাড়া হয়। এর আগে সরকার নিজেরাই খবরটি ধামাচাপা দেয়, যাতে করে বিনাবাধায় ফখরুল দেশ ছাড়াতে পারেন। অর্থাৎ মির্জা ফখরুলের জাতিসংঘে সফরটি জটিলতা বিহীনভাবে সফল করতে সরকারই বাধ্য হয়!
 
Content Protection by DMCA.com

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে ব্যক্তিগত যুদ্ধে নেমেছে সরকার: এয়ারপোর্ট থেকে ব্যাগ চুরি: এর আগে গায়ে হাত দেয় সরকারী সন্ত্রাসীরা!

যুক্তরাষ্ট্রের হেডকোয়ার্টারে কাজ শেষে গত সপ্তাহে ঢাকায় ফেরার পথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বানিক্যাট শাহজালাল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট কাস্টমস এলাকা থেকে লাগেজ চুরির শিকার হন।

জানা গেছে, ঢাকা এয়ারপোর্টের কনভেয়ার বেল্ট থেকে রাষ্ট্রূদূতের ব্যক্তিগত একটি ব্যাগ হাওয়া করে দেয়ার ঘটনায় জড়িত ছিল রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। ঐ ব্যাগে নাকি সরকার বদলের ‘ফরমুলা’ থাকতে পারে এমন ধারণা ছিল টিকটিকিদের! কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি- ফরমুলা ওভাবে থাকেওনা, আসেওনা! ব্যাগ চুরির ঘটনাটি মিডিয়াতে চাপা দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ভিতরে ভিতরে তুলকালাম কান্ড চলছে। সরকার হাতে পায়ে ধরে মাফ চেয়েও কাজ হচ্ছে না! ফরমুলা তো পাওয়া যায়নি, উল্টো এখন ব্যাগ চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে সরকার!

অন্যদিকে,  গত ৪ আগস্ট ঢাকার মোহাম্মদপুরে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার সময়ে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের ওপরে ব্যক্তিগতভাবে হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রদূতের গায়েও হাত দিয়েছিল। ঐরাতে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসায় অন্যান্য অতিথিদের সাথে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটও নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন। ভোজ শেষে রাত ১১ নাগাদ ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই একদল সশস্ত্র যুবক বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলও ছিল। সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রদূতকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে, হামলাকারীদের মধ্যে একজন রাষ্ট্রদূতরকে গায়ে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়।

বিষয়গুলো খুব কঠোরভাবে দেখছে মার্কিনরা। 
বিএনপির আমলে সিলেটে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলার ঘটনায় বিএনপির উদাসীনতায় যেভাবে ক্ষমতা হারাতে হয়েছিল, বার্নিক্যটের গাড়িতে হামলা, এমনকি তাঁর গায়ে হাত দেয়া, সবশেষে ব্যাগ চুরি করা- সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার কপাল পুড়ছে, বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

Content Protection by DMCA.com

অস্ট্রেলিয়ান সংসদে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

গত ১৩ আগস্ট ২০১৮ তারিখ সোমবার অস্ট্রেলিয়ান সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের অধিবেশন চলাকালে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রসঙ্গে সংসদীয় অধিবেশনের নিয়মিত আলোচনা চলাকালে সিনেটর রিচার্ড ডি নাটালির একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপনের পেক্ষাপটে এ আলোচনা উঠে আসে। এ আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ সরকারী জেল-জুলুমের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়।

সিনেটর ডি নাটালি তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গত কয়েক মাসে একশরও বেশি মানুষ হত্যা করার বিভিন্ন খবর এবং প্রতিবেদন প্রসঙ্গে গ্রীনস অত্যন্ত শঙ্কিত। অস্ট্রেলিয়ান-বাংলাদেশী কমিউনিটির লোকজন তাদের ভীতির বিষয়টি সরাসরি আমাদের কাছে তুলে ধরেছে। তারা চায় যেন আমরা এ বিষয়টি আমাদের সংসদে উত্থাপন করি। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের আহবানটি আমরা এখানে পুনরায় তুলে ধরছি যেখানে তিনি বলেছেন বিচারবহির্ভূত হত্যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং এখনই বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে, আমি আশা করবো আমাদের সরকার কিছুটা সাহস দেখাবে, যথাযথ বিচার প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে, রাজনৈতিক বন্দীদের দ্রুত মুক্তির জন্য আহবান জানাবে এবং এই অঞ্চলে চলমান মানবিক সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকে সাহায্য করবে।”

এ প্রস্তাবে তার সাথে সমর্থনকারী হিসেবে এনএসডব্লিউ’র সিনেটর লী রিয়াননের নামও অন্তর্ভূক্ত ছিলো। এমতাবস্থায় লিবারেল নেতা এবং কুইনসল্যান্ডের সিনেটর জেমস ম্যাকগ্রাথ এ নিন্দা প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার বিরোধিতা করেন সিনেটর ম্যাকগ্রাথ সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, বিগত সময়ের অস্ট্রেলিয়ান সরকারসমুহ যে ধরণের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গী বজায় রেখে আসছে তার আলোকে এই ধরণের জটিল একটি বৈদেশিক নীতিসংক্রান্ত বিষয়ে ভোট প্রদান করা কিংবা মত প্রকাশ করা এখনই উচিত হবে না। তার আগে বিস্তারিত ও পুংখানুপুংখ আলোচনা এবং তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব এবং যথার্থতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ান সংসদের ওয়েবসাইটে আর্কাইভ নথিভুক্ত করা হয়। এতে দেখা যায়, এদিনের ৯২৭ নাম্বার সিরিয়ালের এ প্রস্তাবে বাংলাদেশে সরকারী বাহিনীর হাতে সাধারণ মানুষ হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা প্রসঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের বক্তব্য, সরকারী বাহিনীর হাতে হয়রানি এবং উগ্রপন্থীদের উত্থান বিষয়ক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বক্তব্য এ তিনটি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তিনটি দাবী জানানো হয়- যেন তিনি বাংলাদেশ সরকারকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে একটি সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে উৎসাহিত করেন, চলমান মানবাধিকার সংকট সমাধানে সহায়তা করেন এবং সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিতে আহবান জানান।

অস্ট্রেলিয়ান সংসদীয় প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক কার্যপ্রণালী অনুযায়ী এ প্রস্তাবের আলোচনা এদিনের জন্য এখানেই সমাপ্ত হলেও এটি একটি গুরুত্ববহ ঘটনা এবং এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল রয়েছে। পার্লামেন্ট অফ অস্ট্রেলিয়ার সরকারী ওয়েবসাইটে এ বিষয়টি নথিভুক্ত হয়ে আছে এবং পরবর্তী যে কোন আলোচনায় এটি একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। এ ঘটনায় আরো পরিস্কার হয়ে পড়ে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলমান ফ্যাসিবাদী শাসন ও দমন-নিপীড়নের বিষয়গুলো ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে এবং তা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্য চালানো সকল অপকর্মের কারণে বাংলাদেশ বহিঃবিশ্বে এখন একটি মানবাধিকারহীন ও অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার দেশ হিসেবে কুখ্যাতি অর্জন করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের গুম-খুন এবং অন্যায় গ্রেফতারের ঘটনাগুলো বর্তমানে পুরো বিশ্বে সুবিদিত একটি বিষয়।

সিনেটর ডি নাটালি তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের যে রিপোর্টের কথা উল্লেখ করেছেন তার খোঁজ করতে গিয়ে ওএইচসিএইচআর বা অফিস অফ দ্য হাই কমিশনার, ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায় সেখানে সরাসরি ভাষায় উল্লেখিত আছে, হিউম্যান রাইটস কমিটি বাংলাদেশে পুলিশ এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনার উচ্চহার এবং গুম করার খবর নিয়ে শংকিত। তারা মনে করে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও তাদের মতে, যথাযথ তদন্ত না হওয়াতে এবং অপরাধীদের জবাবদিহীতা না থাকাতে ভিকটিম পরিবারগুলো কোন তথ্য এবং সহায়তা পাচ্ছে না। উপরন্তু গুমের ঘটনাগুলোর কার্যকর সমাধানে কোন উপযুক্ত আইন নেই এবং গুমের ঘটনাগুলো সরকার অস্বীকার করে যাচ্ছে যা একটি আশংকার বিষয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের এ রিপোর্ট সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখা যায় আলজাযিরা সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এহেন নেতিবাচক আলোচনা কেবলমাত্র অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বরং আমেরিকা সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা দেশেই আনুষ্ঠানিকভাবে আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রিয় মাতৃভূমি সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সরকারী পর্যায়ে এধরণের নেতিবাচক আলোচনা যে কোন প্রবাসীকেই ব্যাথিত করছে। উপরন্তু অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশে যখন স্বাধীন মতপ্রকাশের সকল উপায় রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে এমন নিবর্তনমূলক পরিবেশের পরিবর্তন ঘটানোর জন্য এবং দেশে গণতান্ত্রিক অধিকারের পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তারা অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর ডি নাটালির এ সাহসী এবং মানবদরদী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন এবং সমর্থন জ্ঞাপন করছেন।

/সুপ্রভাত সিডনি

Content Protection by DMCA.com

মোদির সাথে একান্ত বৈঠক করতে না পেরে হতাশ হাসিনা!

বাংলাদেশের বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার নেপালের কাঠমুন্ডুতে গিয়েছেন বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে। সেখানে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক করার চেষ্টা করেছিলেন শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়ার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রীদের আশা ছিল – মোদি টাইম দিবেন। কিন্তু দেননি! এতে মারাত্মক হতাশ হয়ে পড়েছেন শেখ হাসিনা।

নেপালে মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাৎ

শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী দু’জনেই অবশ্য শেষ সময় অবধি আশায় ছিলেন- বৈঠক হবে। তারা মিডিয়াকেও জানিয়েছিলেন মিটিং হবে, তবে প্রোগ্রাম পাওয়া যায়নি বিধায় জোর দিয়ে বলতে পারেননি। ঢাকায় আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারকরাও মোদি-হাসিনার ওই সম্ভাব্য বৈঠকের আশায় অপেক্ষমান ছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংদের নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদির সাথে এমন একটি বৈঠক আওয়ামীলীগের প্রাণশক্তির জন্য সহায়ক হতো। কিন্তু মোদির সাথে কোনো একান্ত বৈঠক তো হয়ইনি, পরিবর্তে বৃহস্পতিবার নেপালের কাঠমান্ডুতে হোটেল সোয়ালটি ক্রাউন প্লাজায় চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাইডলাইনে আরও দু’টি দেশের শীর্ষনেতাদের উপস্থিতিতে প্রায় দেড় ডজন মানুষের সামনে নরেন্দ্র মোদির সাথে স্রেফ সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলার সুযোগ মিলেছে শেখ হাসিনার। যদিও মুখ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মিডিয়াতে বলা হয়েছে- দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, কিন্তু বাস্তবে সৌজন্য দেখা নিয়েই হাসিনাকে ঢাকায় ফিরতে হয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ হাসিনার এমন হতাশাজনক সাক্ষাৎ এর আগে কখনও হয়নি।

ঢাকায় সরকারের নীতি নির্ধারকেদের একটি সূত্র জানায়, বিমসটেকে শেখ হাসিনা যাওয়ার মূল কারনই ছিলো মোদির সাথে বৈঠকের সুযোগ নেয়া। আর এতে করে চলমান বাংলাদেশে ক্ষমতা পরিবর্তনের লক্ষে ড. কামাল হোসেনকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মকান্ড চলছে, তাতে যেনো ভারতের কোনো সাপোর্ট না থাকে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু মোদির সাথে একান্ত বৈঠক না হওয়াতে শেখ হাসিনা মারাত্মক মর্মাহত, এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলী ও দিল্লিতে রাষ্ট্রদূত মোয়াজ্জেম আলীর উপর চটেছেন। এদিকে খবর চাউর হওয়াতে বাংলাদেশে ক্ষমতার বদল নিয়ে মার্কিন পরিকল্পনা সংক্রান্ত খবরের পালে হাওয়া লেগেছে।

গেলাম কি আশায় …. আর হইলটা কি? আশায় গুড়ে বালি!

Content Protection by DMCA.com

মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা

Content Protection by DMCA.com

পাকিস্তানের নির্বাচন নিয়ে চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা: নেপথ্যে সেই পাক সেনাবাহিনী!

 

আর তিনদিন পরে পাকিস্তানের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দেশটিতে চলছে নানা হিসেব-নিকেষ। রাজপথ যেমন হয়ে উঠছে সহিংস, তেমনি রাজনীতির মাঠেও চলছে যোগ-বিয়োগের খেলা। সেনাবাহিনী যেমন হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ধর্মও।

পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনকে বলা হচ্ছে সেদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দূষিত নির্বাচন। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন বলেছে, নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার জন্য “আক্রমণাত্মক ও নির্লজ্জ” প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে যা পাকিস্তানের একটি “কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে” পরিণত হওয়ার জন্য আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে সামরিক ও বেসামরিক শাসনের মধ্যে দোদুল্যমান ছিল পাকিস্তান। কোনো একটি বেসামরিক সরকার আরেকটি বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ঘটনা এবার দ্বিতীয়বারের মত ঘটবে পাকিস্তানে।
তবে পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক সরকারের এই ধারাবাহিকতা উদযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন না খুব বেশী মানুষ। এবারের নির্বাচনের আগে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নাওয়াজ (পিএমএল-এন) ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে চলা অস্থিরতাই ছিল দেশটিতে প্রধান আলোচনার বিষয়।
পিএমএল-এন’এর অভিযোগ, আদালতের সহায়তা নিয়ে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। অনির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন ভঙ্গের দায়ে সারাদেশে দলটির প্রায় ১৭ হাজার সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে দেশটির গণমাধ্যমকেও ব্যাপক ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং তাদের স্বাধীনতায় বাধা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে জঙ্গী সংস্থার সদস্যদের অংশগ্রহণও পাকিস্তানিদের একটি বড় চিন্তার বিষয়। অনেকেই মনে করেন দেশের পুরোনো ধারামাফিক নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর সুবিধার্থে নির্বাচনী কৌশল সাজানোর চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী।

ব্যাপক সহিংসতা
নির্বাচনের বছর, সহিংসতারও নির্বাচনকে ঘিরে এ পর্যন্ত ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মাস জুলাইয়ে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
১০ জুলাই আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪ জনের মৃত্যু ঘটে। ১২ জুলাই এক সাবেক সংসদ সদস্যকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। ১৩ জুলাই দু’টি বোমা হামলায় ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়।

ভাগ্য নির্ধারিত হবে যেদিন
আগামী পাঁচ বছরের জন্য পাকিস্তানের মজলিশ-ই-সূরা বা সংসদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী ২৫ জুলাই। সেদিন জাতীয় সংসদ ও চারটি প্রদেশের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করবেন পাকিস্তানের জনগণ।

যেভাবে নির্বাচিত হবেন সদস্যরা
জাতীয় সংসদের ৩৪২টি আসনের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে দু’টি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ২৭২ জন জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন। বাকি ৭০টি আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের জন্য ও ১০টি অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া প্রাদেশিক সভার আরো একশ’ জন সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

নতুন সীমা নির্ধারণ
২০১৮ সালের মার্চে নতুন করে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে তিনটি, পাঞ্জাবে ১৪১টি, সিন্ধু প্রদেশে ৬১টি, খাইবার পাখতুনখোয়াতে ৩৯টি, বেলুচিস্তানে ১৬টি ও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় এলাকাগুলোতে ১২টি আসনে নির্বাচন হবে।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা
পাকিস্তান সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে কমপক্ষে ৩৪২টির মধ্যে কমপক্ষে ১৭২টি আসন জিততে হবে। প্রশ্ন হলো, কেউ কি পাবে তা? এবারের নির্বাচনে যে দু’টি দলের মধ্যে লড়াই হবার কথা সেগুলো হলো পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল)।
পাকিস্তানের বিখ্যাত সিকিউরিটি ফার্ম একেডির করা এক জরিপ বলছে, পিটিআই এবার ৯৯টি ও পিএমএল ৭২টি আসন জিতবে। সে হিসেবে ঝুলন্ত সংসদ হবে। জোট সরকার ছাড়া গতি নেই।

জোট করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠদেরই?
ইমরান খানের দল পিটিআই, শাহবাজ শরিফের পিএমএলের বাইরে তৃতীয় বড় দল হলো পাকিস্তান পিপলস পার্টি, যার প্রধান প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির বড় সন্তান বিলাওয়াল জারদারি। নির্বাচন পূর্ববর্তী বিভিন্ন জরিপ বলছে, এই তিন দলকেই জোট সরকার গঠন করতে হবে।

কে হবেন প্রধানমন্ত্রী?
পাকিস্তানের প্রধাননমন্ত্রী হবার ক্ষেত্রে বিতর্কিত রাজনীতিক, এক সময়ের জনপ্রিয় ক্রিকেটার ইমরান খান এগিয়ে আছেন। তিনি ও তার দল শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মদদপুষ্ট বলে কথিত আছে।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগেই বিচার বিভাগ, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভোটের ফল পিটিআইয়ের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। এমনকি উগ্র ডানপন্থিদেরও কাছে টানতে নানারকম চেষ্টা চালাচ্ছেন ইমরান।

সেনাবাহিনীর প্রভাব
পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি দেশটির জনপ্রিয় পত্রিকা ডনের করা এক জরিপে দেখা যায়, পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন আসছে নির্বাচনে সেনা প্রভাব থাকবেই। ৩৫ শতাংশ মনে করেন, সেনারাই ফলাফল নির্ধারণ করে দেবে।
গেল মেয়াদে নেওয়াজ শরিফের জনপ্রিয়তা কমতে থাকলে এবং তালেবানদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে তাদের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

ধর্মও বড় বিষয়
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ধর্মও অনেক বড় বিষয়। এইতো ক’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী হতে মরিয়া ইমরান খান উগ্র ডানপন্থিদের সমর্থন পেতে ব্লাসফেমি আইনের প্রতি তার জোর সমর্থন দিলেন। এমনকি জঙ্গি সংযোগের অভিযোগ অভিযুক্ত অনেক ‘ইসলামিক’ নেতাও লড়ছেন নির্বাচনে।

নাড়িয়ে দিয়েছেন শরিফ-মরিয়ম
গত ৬ জুলাই পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন)-এর নেতা নওয়াজ তার মেয়ে মরিয়মের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে পাকিস্তানের আদালত। দুর্নীতির দায়ে নওয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ পাউন্ড জরিমানা এবং মরিয়মকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ২০ লক্ষ পাউন্ড জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। এরপরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশে ফেরেন মরিয়ম ও নওয়াজ। গ্রেফতার হন। তাদের এই ফিরে আসায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে বলে মত অনেকেরই।

অপূর্ণতার অভিশাপ
জন্মলগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সবশেষ নওয়াজ শরিফের সামনে সে সুযোগ থাকলেও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়। প্রশ্ন হলো, আগামী মেয়াদে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি কি পারবেন?

Content Protection by DMCA.com
1 2