আওয়ামীলীগের নির্লিপ্ততা

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

আওয়ামীলীগ সংখ্যা লঘু নির্যাতন প্রতিরোধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করে যেসব ভালো ভালো কাজ করেছে, এই ক্রিটিক্যাল সময়ে এসে সে ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারছে না কেন?

মূলত বাংলাদেশে দেশের হিন্দু নির্যাতন ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ/অযুহাতকে সামনে এনে মুসলমানদের বাদ রেখে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বে-নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেয়ার আই পাশ করেছে গেরুয়া ব্লক। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে এক বছরের ব্যবধানে দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বেড়েছে। ২০১৫ সালের হিসাবে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল, আগের বছর এর হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিবিএস তথ্যের পাশাপাশি ভারতী বিদেশ মন্ত্রক থেকেও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন কমা ও হিন্দু জনসংখ্যা বাড়ার স্বীকৃতি এসেছে।
১৮ জুলাই, ২০১৮ রাজ্যসভায় (সংসদের উচ্চকক্ষ) প্রশ্নের উত্তরে সুষমা স্বরাজ বলেছেন বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ৬ বছরে দুই শতাংশ বেড়েছে। ‘বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমছে’— এ ধারণা খণ্ডন করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ২০১১ সালে ওখানে জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল হিন্দু। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির কিছু কিছু সংবাদ সত্য। তবে ওসবের প্রতিকারে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

বাংলাদেশ সরকার হিন্দু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে বিগত ১১ বছরে, তাই একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে নতুন একটি বৈষম্য মূলক আইন পাশ করা ঘটনা কূটনৈতিক চ্যানেলে শক্ত ভাবে প্রতিবাদ করার বিষয়। কিন্তু আমরা কোন প্রকাশ্য অবস্থান দেখছি না। না সরকারের, না দল হিসেবে আওয়ামীলীগের!
যেখানে তার ক্রেডিট নিবার কথা সরকারের, সেখানে সে মিন মিন করছে কেন? এটা কি শুধুই অবৈধ ক্ষমতায়ন সমর্থনের শর্ত, যার কারণে আওয়ামীলীগ এই ক্রান্তিকালেও চুপ রয়েছে?

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.