কমিশনার চৌধুরী আলম হত্যা

সংগৃহীত

২০১০ সালের ২৫শে জুন রাতে ইন্দিরা রোড এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা সাদা পোষাকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রমনা শাহবাগ এলাকার তৎকালীন কমিশনার চৌধুরী আলমকে, যিনি ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগরী কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি। মহানগর বিএনপি সভাপতি ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন চৌধুরী আলম। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তার খোঁজ চাওয়া হলে পুলিশ ও ডিবি অস্বীকার করে। তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার বিবিসিকে বলছিলেন, ওইদিন রাতেই তিনি টিভির স্ক্রলে খবর দেখেন যে তার বাবাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি আটক করে নিয়ে গেছে। এরপরে ডিবিতে খোঁজ নিলে বলা হয়, হয়তো র‌্যাব তুলে নিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু র‌্যাবের কাছে গিয়েও কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। তবে চৌধুরি আলমের গাড়ীর ড্রাইভার বলেছেন, সেতো নিজেই দেখেছে, চৌধূরী আলমের গাড়ীকে আরেকটা গাড়ী গতিরোধ করে তারপর সাদা পোশাকের ৭/৮জন মানুষ তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

খুনি উইং কমান্ডার আরমান
খুনি উইং কমান্ডার আরমান

অদ্যাবধি দরকারের কোনো সংস্থার এর দায় স্বীকার করেনি, বা চৌধুরি আলমের কোনো হদিস মিলেনি। এমনকি পাওয়া যায়নি কোনো লাশ। পরিবারের সদস্যরা আশায় দিন গুনছে এখনও। তারা কোনো মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারেনা।

তবে সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, চৌধুরী আলমকে র‌্যাব-১১র কর্মকর্তারা তখন হত্যা করেছিল। হত্যা করার পরে লাশ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। লাশ যেনো পানিতে ভেসে না উঠে সেজন্য আগেই পেট চিড়ে নাড়িভূঁড়ি বের করে পেটের মধ্যে কংক্রিটের ব্লক ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তারপর শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মিলিত স্রোতের সংযোগস্থলে লাশ ফেলে দেয় র‌্যাব-১১ এর খুনিরা। তার খুনিদেরও পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কোয়াড্রন লীডার (বর্তমানে উইং কমান্ডার) আরমান চৌধুরী, মেজর সারোয়ার, এবং ক্যাপ্টেন হাসিব।

এর মধ্যে উইং কমান্ডার আরমান উল্লাহ চৌধুরী (বিডি/৮৮৩৭) ২০০০ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্সে কমিশন জিডি পাইলট পদে কমিশন লাভ করেন। সর্বশেষে কিছুদিন আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে লেবার কাউন্সিলর পদে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তার যাওয়ার কথা নয়, ওটা সিভিল পোস্ট। কিন্তু আবুধাবী বলে কথা, টাকার খনি! র‌্যাব-১১তে থাকাকালে পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ভুমি দস্যুদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দিয়ে শত কোটি টাকা উপায় করেছেন আরমান। তবে পরিস্থিতি দেখে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আরমান সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব) মোহাম্মদ ইনামুল বারী মেয়ের জামাই। বন্ধুরা জানায়, “পোলাডা ভদ্র ছিল বাট সেয়ানা। পরিবেশ ওরে পুরাই নষ্ট কইরা দিল”। জুনিয়র অবস্থায় র‌্যাবে পোস্টিং পেয়ে টাকা এবং ক্ষমতার গরমে সার্ভিস কোয়ার্টার এ না থেকে বেতনের ডাবল খরচে বনানী ডিওএইচএস এ বাসা ভাড়া করে থাকত। সহকর্মীরা অপছন্দ করলেও কেউ কিছু বলতে সাহস করতো না, কারণ তখন তার শ্বশুর ছিল বিমান বাহিনী প্রধান আর সে ছিল জিডি পাইলট।

উল্লেখ্য, গত ৯ বছরে র‌্যাব অসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাদের ধরে নিয়ে গেছে। বেশিরভাগই ফেরত দেয়নি, লাশও মিলেনি। কাউকে কাউকে ছেড়ে দিলেও প্রায় সবাইকেই চৌধূরী আলমকে কেমন কে মাছের খাদ্য করা হয়েছে, সেই গল্পটি করে রাজনৈতিকভাবে নিস্কৃয় হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তারপরে ছেড়ে দিয়েছে। যার ফল হলো অনেককেই আন্দোলন সংগ্রামে আর আগের মত পাওয়া যায় না। এভাবেই অবৈধ ক্ষমতাকে লম্বা করে চলছে জুলমবাজ খুনি সরকার ও তার বাহিনীগুলো।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.