ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতেই জার্মানীতে সফর করেছিলেন শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করে এমন একটি ভারতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রকল্প থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতে গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানীতে সফর করেছিলেন। এরপরে সেই অর্থ তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিকট হস্তান্তর করতে আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গিয়েছিলেন। ই-ব্যাংকিং লেনদেনে কমিশন স্থানান্তর করতে গেলে রেকর্ড থাকার রিস্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রটোকল সুবিধার অধীনে লাগেজ ব্যবহার করে সাথে বহন করেন।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে লাভালিন কোম্পানীর কাছ থেকে ১৭ মিলিয়ন ডলার কমিশন হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠার পরে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু কানাডার নাগরিকত্ব ও সেখানকার ব্যবসা বানিজ্য হারান। এরপর থেকে তারা বাংলাদেশে ফের এসে শেষে আবুধাবিতে থিতু হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩ কোটি ২০ লাখ ই-পাসপোর্টের মধ্যে ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করতে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে কাজ দিয়ে গত বছর জুলাইতে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এই প্রজেক্ট থেকে প্রায় ৩৫ ভাগ অর্থ কমিশন বা স্পীড মানি বাবদ রাখা হয়। ঐ অর্থ গ্রহণ করে তার কন্যার কাছে নিরাপদে পৌছাতেই শেখ হাসিনা চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের নামে মিউনিখে সফরে যান।
চলতি বছরের জুন মাসে ই-পাসপোর্ট হাতে পাবে বাংলাদেশের নাগরিকরা। ই-পাসপোর্ট পাসপোর্ট হবে ১০ বছর মেয়াদের। ফি নির্ধারণ কমিটির প্রস্তাবে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার (২১ দিন), এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার (৭ দিন) এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা (১ দিন) প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাসপোর্টের দুই ধরনের ক্যাটাগরি হচ্ছে। একটা ৪৮ পৃষ্টার। আরেকটা ৭২ পৃষ্টার। যারা বেশি নিতে চান তাদের ফি-টাও একটু বেশি দিতে হবে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে একদলীয় ভোটে শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে উৎসাহ দিতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির সাথে জার্মানীও সোচ্চার ছিল। ঐসময় ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস গ্রুপের’ মুখপাত্র হিসাবে কাজ করছিল জার্মান রাষ্ট্রদূত। এরপরে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে ই-পাসপোর্টের কাজ দেয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার জার্মানীকে শান্ত করতে সক্ষম হয় বলে অনেকে মনে করেন। ভেডিডোসের সাথে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের অনুষ্ঠানে জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নেইলসকে বিশেষ অতিথি করে ঢাকায় আনা হয়। তবে এই সূত্র ধরে এবছর ফেব্রুয়ারির মিউনিখ সফরকালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করতে শেখ হাসিনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবশ্য এর আগেই ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহরণকারী ভোটডাকাতির নির্বাচনের পরে ইউরোপ আমেরিকা ও জাতিসংঘের সাথে জার্মানীও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। এর পর পরই শেখ হাসিনা জার্মানীতে গিয়ে চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ চেয়ে বিফল হন।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.