টেলিযোগাযোগ খাত লুটপাটে প্রধানমন্ত্রী পুত্রের তুঘলকি কান্ড: ৫ বছর বয়স জালিয়াতি করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান পদে অবৈধভাবে নিয়োগ লাভ করেন শাজাহান মাহমুদ!

জালিয়াতি প্রতারণার চরম এক নজির স্থাপন করা হয়েছে বিটিআরসির চেয়ারম্যান নিয়োগে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত তথা ইন্টারনেট বানিজ্যের নিয়ন্ত্রক ও ভিওআইপি দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন, যা সংক্ষেপে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ড. শাহজাহান মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি পেশায় প্রকৌশলী হলেও ছিলেন ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামীলীগ সভাপতি এবং মার্কিন নাগরিক। টেলিযোগাযোগ খাত লুটপাট করতে শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় ফিট করেন তার পরম ঘনিষ্ট এই শাজাহান মাহমুদকে। এর মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার স্যাটেলাইট পাঠাতে গিয়ে খরচ করেন ৩ হাজার কোটি টাকা, বাকী ২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট। এছাড়াও ভিওআইপি,
আইজিডব্লিউ ও আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ কমিশন বাবদ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, এটুআই প্রজেক্ট থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়ার কাজ করে দেন শাজাহান। আইসিটির খাতে জয়ের দুর্নীতির সকল কাজের কাজী প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলককে দিয়ে মন্ত্রণালয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন জয়। এখানেই পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, যিনি ২০১৪ সালে আমেরিকাতে এক ইনফর্মাল সমাবেশে হজ্জ ও ওমরা নিয়ে বেফাঁস কথা বলার দায়ে কেবল মন্ত্রী পদ হারাননি, মামলা খেয়ে জেলেও গেছেন, শেষে রাজনীতি ছাড়া হয়েছেন। মুলত, তার চাকরিচ্যুতির মূল কারণ ছিল জয়ের গোপন ডিলিংস অর্থাৎ প্রতিমাসে ২ লাখ ডলার বেতনের খবর তিনি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এর বাইরে মেক্সিকান টেলিকম টাইকুন কার্লোস স্লিম হেলুকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেয়ার বিনিময়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার কমিশন মেরে দিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী, জয়কে ভাগ না দিয়েই।

এরপরেই জয় বিটিআরসিতে নিজের লোক বসানোতে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে মায়ের নিয়োগ করা ড. ইকবাল মাহমুদকে জয়েন করতে না দিয়ে সেখানেই নিয়োগ দেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ড. শাজাহান মাহমুদকে। এই নিয়োগ পেতে শাজাহান মাহমুদ নিজের নাম, বয়স, পিতার নাম, ঠায় ঠিকানা সবকিছু নিয়েই জালিয়াতির আশ্রয় নেন। মেট্রিক সনদ অনুযায়ী শাজাহানের জন্ম তারিখ ছিল ০৩/০১/১৯৪৮, আর তাতে ২০১৫ সালে তার বয়স দাড়ায় ৬৭ বছর। যেহেতু, বিটিআরসি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর, কাজেই তিনি ঐপদে নিয়োগ লাভের অনুপযুক্ত। কিন্তু শাজাহান সাহেব তার জন্ম তারিখ বদলে ফেলেন ১২ মে ১৯৫৩! শুধু জন্মতারিখ নয়, তিনি তার নিজের নাম মো. শাজাহান থেকে করেছেন শাজাহান মাহমুদ, পিতার নাম– ইয়াসিন আলী থেকে করেন মৃত মন্সী মো. ইয়াসিন, ঠিকানা- মুলতলী রংপুর থেকে হয়ে যায় বাড়ি-১৫, রোড-৫, সেক্টর-৭ উত্তরা ঢাকা ১২৩১। এর কারন যাতে করে তাকে কেউ খুঁজে না বের করতে পারে! তিনি আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

শাজাহান মাহমুদের জন্ম তারিখ যে ০৩/০১/১৯৪৮, তার রেকর্ড আছে মেট্রিক সনদে। তিনি বুয়েট থেকে ১৯৬৯ সালে গ্রাজুয়েট হন। ৫৩ সালে জন্ম হলে ১৯৬৯ সালে, অর্থাৎ ১৬ বছর বয়সে বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েট হওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে তার জন্ম ১৯৪৮ সাল, মেট্রিক পাশ করেন ১৯৬৩ সালে রংপুর জেলা স্কুল থেকে, ইন্টারমিডিয়েট ১৯৬৫ সালে কারমাইকেল কলেজ থেকে। ২০০৭ সালে বুয়েটের রিইউনিয়নে ১৯৬৯ ব্যাচে মো. শাজাহান রেজিস্ট্রেশন করেন ৬৫২৮৪, তাতে তিনি লিখেন জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৪৮, ভর্তি ১৯৬৫ সাল।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, বিটিআরসি আইন অনুসারে শাজাহান মাহমুদের নিয়োগ অবৈধ। তিনি জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে যে নিয়োগ লাভ করেছেন, তা শুধু অবৈধই নয়, ফৌজদারী অপরাধ, এবং গত চার বছরের তার সকল কর্মকান্ড বাতিলযোগ্য, তার গৃহিত বেতন ভাতা সব পিডিআর অ্যাক্ট অনুসারে আদায়যোগ্য। তার এই মারাত্মক অপরাধের বিচার করা হলে ৭ থেকে ১৪ বছর বা অধিক কারাদন্ড হতে পারে।

যার নিয়োগ বাতিল করে এই শাজাহান মাহমুদকে নিয়োগ দেয়া হয় সেই ইকবাল মাহমুদ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। দুদক চেয়ারম্যান কি শাজাহান মাহমুদের অবৈধ নিয়োগ, দুর্নীতি, এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অনুসন্ধান ও তদন্ত করে বিচারের সম্মুখিণ করার ক্ষমতা রাখেন?


জাল জালিয়াতির ক্ষেত্র গুলো:

নাম: মো. শাজাহান থেকে পরিবর্তন করেন শাহজাহান মাহমুদ,
জন্ম তারিখ: ০৩/০১/১৯৪৮ থেকে বদলান ১২/৫/১৯৫৩
পিতার নাম: ইয়সিন আলী থেকে করেন মৃত মন্সী মো. ইয়াসিন
ঠিকানা: মুলতলী, রংপুর থেকে করেন হাউজ ১৫, রোড ৫, সেক্টর ৭ উত্তরা ঢাকা ১২৩১

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.