নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়


বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় উত্তাল রাজধানী ঢাকা। সকালে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। দেশে দ্বিতীয় দফা সড়ক আন্দালনের দ্বিতীয় দিনে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজ বসুন্ধরা এলাকার প্রগতি সরণি, মিরপুর, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা কিছু এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে ৮ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল করছে। কোন কোন এলাকায় গতবছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত প্রথম দফা সড়ক আন্দালনের মতো শিশু-কিশোররাও রাস্তায় নেমেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীরাও আজ সড়কে নেমেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।
ফলে প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে সকাল থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৯টার দিকে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে এ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যস্ততম সংযোগ সড়ক ফার্মগেট মোড়ে সকাল ৯টা থেকেই অবস্থান নেয় এলাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বাস আটকে দিচ্ছে।
   আন্দোলনে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ  আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।  যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাশেই অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ২৭ এর মোড়ে মিছিলসহ এসে সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া ইউনিভার্সিটির সামনেও অবস্থান নিয়েছে শতশত শিক্ষার্থী। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসে বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করছে, হাফ ভাড়া নেয়া হয়েছে কিনা। সেই সঙ্গে গাড়িতে লেখা ‘হাফ পাশ নাই’ স্টিকার ছিড়ে ফেলছে।  এ সময় তারা বাস চালকের লাইসেন্সও চেক করছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রায়সাবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়ক আন্দালনের কারণে মিরপুর থেকে বিভিন্ন  রুটের বাস কম সংখ্যায় চলাচল করছে।  
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় সুপ্রভাত (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।


ফের বাসের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা


সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেটে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বাসের লাইসেন্স ও চালকের ডাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা একপক্ষের 


প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের জন্য নিরাপদ সড়কের আন্দোলন স্থগিতে সম্মত হয়ে এলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ তা মানতে নারাজ। দাবি বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে আজ বুধবারের (২০ মার্চ) মতো সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন তারা। আন্দোলনে অনড় পক্ষরা বলছেন, বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ফের তারা সড়ক অবরোধ করবেন।
বুধবার বসুন্ধরা গেট এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে তারা বাসের ধাক্কায় সহপাঠী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিচার ও পরবর্তী সময়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
এর আগে, বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে বিইউপি উপাচার্যের উপস্থিতিতে উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ১৫ বিইউপি শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন মেয়র এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল আন্দোলন এক সপ্তাহের মধ্যে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে মেয়র আতিকুল ইসলাম ও প্রতিনিধি দলের সদস্য শিক্ষার্থী ফয়সাল এনায়েত জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামবেন। ২৮ মার্চ সকালে এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের আলোচনায় অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে নতুন করে রাজপথে নামবেন তারা।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল বসুন্ধরা গেট এলাকায় এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু অন্যপক্ষ সেটি শুনে প্রত্যাখান করে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে নগরভবনে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়া অবরোধ স্থগিত হলেও অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে তাৎক্ষণিকবাবে অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধী সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মূলত আন্দোলন চালিয়ে নিতে ইচ্ছুক। তারা বলছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের আশ্বাসে তারা আস্থা রাখতে পারছে না। সে কারণে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা আজকের মতো সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফের তারা অবরোধে বসবেন বলে জানান। এসময় শিক্ষার্থীদের সবাইকেই বসুন্ধরা গেট ছাড়তে দেখা গেছে।


 

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.