পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চলাকালে তিন বাহিনী প্রধানকে যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী!

“তিন বাহিনী প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখে পিলখানার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল”- জানিয়েছেন তৎকালীন সেনা প্রধান ১/১১র প্রধান কুশীলব জেনারেল মইন। (এ সংক্রান্তে কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে রয়েছে।)

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সকাল ৯:২৬ ঘটিকায় পিলখানার দরবার হলে সৈনিক বিদ্রোহ ঘটার পরপরই সেখানে উপস্খিত সেনা কর্মকর্তারা সেনা সদরে এবং র‌্যাব হেড কোয়ার্টার্সে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে অফিসারদের উদ্ধারের জন্য সাহায্য চেয়ে পাঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, এনএসআই প্রধান জেনারেল মুনীর, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহের খবর জানতে পারেন। ১০:১০ মিনিটে র‌্যাবের ৩৫০ জন জওয়ান ও অফিসার বিডিআর গেইটে সাহায্য নিয়ে হাজির হয়, যারা ৫ নম্বর গেইট দিয়ে ঢুকলেই খুব অল্প সময়ে বিদ্রোহ দমন করতে পারত। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
ব্রিগেডিয়ার হাকিমের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের সৈনিকরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সকাল ১০:৫০ ঘটিকার মধ্যে বিডিআর হেডকোয়ার্টোসের চারদিকে অবস্থান নেয়, তাদের সঙ্গে এপিসি ছিল, ট্যাংক যোগ দেয় পরে। তবে তাদের অপারেশন চালানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
বেলা ১টার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’য় ডেকে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরে তাদেরকে একটি ওয়েটিং রুমে বসতে বলা হয়। জেনারেল মইনের ভাষ্যমতে, ঐ কক্ষ থেকে তাদেরকে আর বের হতে দেয়া হয়নি। কার্যত তারা ছিলেন আটক। তাদের মোবাইল ফোনগুলো গেটে জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। পরে তাদের চা-নাশতা দেয়া হয়। তারা শুনতে পান পাশের কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলায় হাস্যরসে ব্যস্ত ছিলেন তাপস, নানক, আজম, সাহারা খাতুন সহ কেবিনেট মেম্বাররা!
 
এরিমধ্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক এবং হুইপ আজম, এমপি শেখ তাপস সহ একটি টিম পিলখানায় গিয়ে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি (উপ সহকারী পরিচালক) তৌহিদ সহ ১৪ জনের একটি গ্রুপকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় নিয়ে আসেন বিকেল ৩:২৮ মিনিটে। সেখানে তাদেরকে হোটেল শেরাটন থেকে নাশতা এনে আপ্যায়ন করা হয়। (উল্লেখ্য নানকের ক্লাশমোট এই তৌহিদের সঙ্গে আগের দিন ২০৪ মিনিট টেলিফোন আলাপ গোয়েন্দারা রেকর্ড করে!) যমুনায় ১৫০ মিনিট অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ডিএডি তৌহিদরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় নানক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন প্রেসকে জানান, আলোচনা সফল হয়েছে, বিদ্রোহী বিডিআরদের নিজের সন্তান হিসাবে উল্লেখ করেন। এভাবে সময় ক্ষেপণের মাঝখানে বিডিআরের ডিজি জেনারেল শাকিলসহ ৫৭ অফিসারকে হত্যা করে বিদ্রোহীরা, অফিসারদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ চালায়, এবং নারীদের ধর্ষন করে। এর মধ্যে বিডিআর ডিজির স্ত্রী এবং কর্নেল মজিবের স্ত্রীকে হত্যা করে। ফলপ্রসু আলোচনার (!) সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে শেখ ফজলে নূর তাপসের বরাতে টিভি স্ক্রলে দেখানো হয়, ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগ করা হয়েছে এবং বিডিআরের ৩ কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা করে দেয়ার নির্দেশ জারী করা হয়। পরে জানা যায়, এলাকা শূন্য করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানায় গিয়ে কিছু বন্দী পরিবার মুক্ত করে আনার কথা জানান। ঐসময় পিলখানা থেকে কিছু কালো কাঁচের এম্বুলেন্স বের হতে দেখা যায় (পরে জানা যায় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শুটারদের বের করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়)! রাত ১০টার দিকে তিন বাহিনী প্রধান সহ সেনাপ্রধান মইন যমুনা থেকে বের হয়ে এসে প্রেসকে জানান- Army is subservient to the Government!”
 
জেনারেল মইন জানিয়েছেন, বিদ্রোহ দমন করতে সেনা অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী কায়দা করে তিন বাহিনী প্রধানকে তার বাসভবনে ৮ ঘন্টা আটকে রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

/ফেসবুক থেকে

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.