বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি রেজ্যুলেশন উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য উইলিয়াম কিটিং। তিনি এ রেজ্যুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানান। ওই কমিটিতে পর্যালোচনা শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, ইসলামী উগ্রপন্থা, শরণার্থী সংকট অন্যতম। এ ছাড়া দেশটিতে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো আঘাত বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের জন্য অবমাননাকর।

একই সঙ্গে তা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি দেশটির দায়বদ্ধতাকেও ক্ষুণ্ন করে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে রেজ্যুলেশনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে উৎসাহিত করার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, সব ভোটারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়, সেটাই ন্যায্য নির্বাচন।

রেজ্যুলেশনে গত জাতীয় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কায় বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এবং মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আরো সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়া। এ ছাড়া, রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার প্রশংসা করা হয়।

/যাস্ট নিউজ

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.