একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরব হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল

Content Protection by DMCA.com

বিএনপির পাশে চিন, অভিযোগ হাসিনার দলের

আনন্দবাজার রিপোর্ট

ভোটের ঘণ্টা বেজে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এ বার মাথা গলাচ্ছে বেজিং। ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সে দেশের বিরোধী দল বিএনপি-কে বিভিন্ন ভাবে সহায়তার জন্য ঝাঁপি খুলে দিয়েছে চিন। বিপুল অঙ্কের অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের দলকে— বিভিন্ন সূত্রে এমন খবরও মিলেছে।

Hasina and Khaleda

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সতর্ক নজর রাখছে হাসিনা সরকার এবং আওয়ামি লিগ। সূত্রের মতে, এখনই বিএনপি-কে যে কোনও প্রকারে তখতে বসানোটা চিনের লক্ষ্য নয়। বরং আওয়ামি লিগের উপর চাপ তৈরি করতেই তারা বিএনপি-কে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখাটাও পরোক্ষ উদ্দেশ্য বেজিংয়ের।
সম্প্রতি বেজিং এবং ঢাকার সম্পর্কে বেশ কিছু মতান্তর তৈরি হয়েছে। চিনের ঋণের ফাঁদ এড়াতে পদ্মা সেতুর কাজে তাদের বিনিয়োগের প্রস্তাব ফিরিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরোয়া প্রকল্পেও চিনকে দূরে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনাল তৈরির প্রকল্পটি রূপায়ণে চিন মরিয়া ছিল। বাংলাদেশের এক কর্তার কথায়, ‘‘এ ব্যাপারে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কথা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও চিন প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রকল্পটি পেতে। তার জন্য সব রকম আর্থিক মূল্য তারা দিতে রাজি ছিল। কিন্তু বিশ্বস্ত সহযোগী দেশ জাপানের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করার প্রশ্ন ওঠে না বলে চিনকে খালি হাতে ফেরাতে হয়েছে।’’

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, চিন যে সাহায্য বিএনপি-কে করেছে তাতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-র হাত রয়েছে। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে— খালেদা জিয়ার পুত্র তারেকের সঙ্গে আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

আমেরিকায় নির্বাসনে যেতে পারেন শেখ হাসিনা!

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভেতরেই বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে সহসাই। প্রভাবশালী একটি দেশের মধ্যস্থতায় সেনাবাহিনী এই পরিবর্তন ঘটাতে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সংলাপ নাটকের ব্যর্থতার পরে এটা নিশ্চিত যে, হয় একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে, অথবা রক্তক্ষয়ী লড়াই। কিন্তু দুটোর একটাও হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এক তরফা নির্বাচনের পরে বিশ্বের কাছে শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি ছিল, আগামি নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এবারে যখন ইনক্লসিভ ইলেকশন হচ্ছে না,  তাই আসছে সেনাসমর্থিত সরকার।

সুত্র জানায়, ১/১১ মার্কা সরকারের প্রস্ততির খবরে পেয়ে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের অস্থিরতা বেড়ে যায়। যার যার হিসাব কষছে। সেনাবাহিনীও পুলিশ সহ অন্যান্যদের সাথে প্রথমিক আলোচনা শেষ করেছে। সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি অস্বাভাবিক রকমের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ বিভিন্ন সেনানিবাস ঘুরে সেনাদের সমর্থন জোরদার করছেন। আজ যাচ্ছেন চট্টগ্রাম।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ সমাপ্তির ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল আজকে প্রেস কনফারেন্সে। কিন্তু হঠাৎই থেমে যায় গণভবনের সাংবাদিক সম্মেলন। অন্যদিকে, ঐক্যফ্রন্টের পূর্বঘোষিত রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রোড মার্চও বাতিল করা হয়। বাকী থাকলো নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা। আজ এটি ঘোষণা করা হলে বিরোধী দল  রাজপথের কর্মসূচিতে যাবে, এরপরেই ঘটবে সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা ১/১১ পরবর্তী সময়ে যেরূপ নাজেহাল হয়েছিলেন, তারও চেয়ে বেশি বিপদের আশংকা করছেন। তাই তিনি সেইফ প্যাসেজ চান। দ্রুত পার হতে চান আমেরিকাতে ছেলের বাড়িতে। তবে তিনি তাকে নিরাপদ প্রস্থান দেয়া হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থার মধ্যেই যুক্তরোষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গ রাজ্যস্থিত পুত্রের বাসাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে মায়ের জন্য।

খবর সেনা সূত্রের।

Content Protection by DMCA.com

এখনো সমঝোতা সম্ভব

Content Protection by DMCA.com

অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করেন বারবার

ড. তুহিন মালিক

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে আজ সকালে পদত্যাগের পরও একজন মন্ত্রী হিসেবেই একটি অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। অথচ গতকাল গণমাধ্যমে পুরো দেশবাসী দেখেছে চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

আমাদের সংবিধানে ৫৮(১) নং অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।”

এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ামাত্রই মন্ত্রীদের পদ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে কোনো ‘যদি’ বা ‘তবে’ বা কোনো ফর্মালিটির উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছামাত্রই তাদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শুধু পোস্টবক্স হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে গতকাল থেকেই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সবার পদ শূন্য হয়ে গেছে। এখন তারা আর কোন ধরনের বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটারই অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করার পর পদত্যাগী কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব পেতে হলে তাকে আবার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নতুন করে আবার শপথ নিতে হবে ও শপথে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আমাদের সংবিধান খুব পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখিয়েছে। খেয়াল করার বিষয় হলো- সংবিধানের ৫৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে। অপরপক্ষে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে।

প্রশ্ন জাগতে পারে- এই দুই ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেন? জবাব হলো- সংবিধান মতে রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ও বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। তাই সংবিধান প্রণেতাগণ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা প্রয়োগের রক্ষাকবচের জন্যই মন্ত্রীদের পদ শূন্যের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক বলে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। কেননা মন্ত্রীদের পদশূন্যতা যদি রাষ্ট্রপতির মর্জির ওপর শর্তযুক্ত থাকে তাহলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আসলে অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করলেন।প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, অফিস করবেন এবং ফাইলেও যথারীতি স্বাক্ষর করবেন। এটা কেমন হুকুম! যেখানে পদত্যাগ করার পর মন্ত্রীদের প্রত্যেকের পদ সংবিধান মতে শূন্য ঘোষিত হলো সেখানে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে মন্ত্রীরা যদি অফিস করেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর দিতে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধানের চরম লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

কেননা পদত্যাগী মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবৈধ বিধায় তাদের কেউ আর কোনো বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার, অফিস করা, ফাইলে স্বাক্ষর করা ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটাই করার অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ভরণ-পোষণের কোনো বিধান অদ্যাবধি তৈরি করেনি। তাই পদত্যাগী মন্ত্রীদের দেওয়া সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবৈধ। তাদের নীতিনির্ধারণী, ফাইলে স্বাক্ষর ও নোটিংসহ সব কাজকর্ম অবৈধ।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাতকে দিনে রূপান্তরিত করছেন, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক সংবিধান লংঘন করেই চলেছেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

Content Protection by DMCA.com

ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বিধাবিভক্ত: প্রভাবশালী অংশ আ’লীগের সাথে নাই

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে টেনশেনের পারদ তত বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। আর এর প্রভাবশালী অংশটি আ’লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই মর্মে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রে।
 
গত দু’সপ্তাহের মধ্যে দুটি জরিপের রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা ব্যুরো। এর মধ্যে একটি রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন হলে আ’লীগ এবং তাদের জোট সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৩টি আসন পেতে পারে। অপর একটি রিপোর্ট বলছে, ৩৩টি আসন পেতে পারে। একটি রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার আমাদের হাতে রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের যেমন টেনশন ছিল চুড়ান্ত, এবং আ’লীগকে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আনতে যে ধরনের সরাসরি উদ্যোগ ছিল, এবারে আর তেমনটা নাই। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতের দীর্ঘকালের মিত্র আওয়ামীলীগ ভারতকে ডিঙিয়ে চীনের মুখাপেক্ষী হয়েছে।
 
আর সবকিছু দেখে শুনে দিল্লি বিকল্প পথ ধরে হাটছে। এমনি অবস্থার মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সাথে নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় একটি মস্তবড় সুবিধা তৈরি করে দেয়ার ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাটি।
 
তাছাড়া গতকালই ঐক্যফ্রন্টে সদলবলে যোগ দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের খাস লোক মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। এতে করে সকলের মনে ধারণা জন্মেছে ঐক্যজোটের প্রতি দিল্লির সমর্থন রয়েছে, এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে।
Content Protection by DMCA.com

সোহরাওয়ার্দী থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক: আসতে পারে দীর্ঘ অবরোধের ঘোষণা

Content Protection by DMCA.com

সংলাপ নাটকঃ মার্কিন-ইন্দো পরিকল্পনায় আসছে অন্তর্বতী সরকার!

বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাগ্য চুড়ান্ত করেছে প্রভাবশালী বিশ্বশক্তিগুলো। গত কয়েকমাসের নানা দৌড়ঝাপের পরে একটি বিষয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব। তাই একটি বিরতি দিতে হবে। নির্বাচন করতে একটি  তদারকি সরকারের প্রয়োজন, যারা দেশের প্রশাসন শক্ত হাতে ধরে নির্বাচনের উপযোগি একটি পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। এই লক্ষ্য পূরণেই গোপন আলোচনা, প্রকাশ সংলাপ, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছে। এরই মধ্যে প্রভাবশালী শক্তির প্রচ্ছন্ন সমর্থন নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। আর ঐক্যফ্রন্টকে বিতর্কমুক্ত করতেই প্রভাবশালী দু’টি দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দিয়ে (যদিও তিনি রাজী ছিলেন না) জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের গেজেট জারী হরা হয়েছে। আর এর ফলে দারুণভাবে লাভবান হয়ে যায় এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। অন্যদিকে নির্বাচন শিডিউল ঘোষণার ঠিক আগে আগেই সড়ক ধর্মঘটের নামে জনসাধারনকে ভোগান্তিতে ফেলে, মুখে মবিল কালি লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিরক্ত করার মধ্য দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা তাদের  মহড়া সম্পন্ন করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যেই দেশে রাজনৈতিক ডামাডোল তুঙ্গে উঠবে। বিশেষ করে নির্বাচনী শিডিউল ঘোষণা করার সাথে সাথেই ধর্মঘট ও লাগাতার কর্মসূচিতে যাবে বিরোধী দলগুলো। পরিবেশ নাই, তাই নির্বাচন পিছানোর দাবী ইতোমধ্যেই তোলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তদারকি সরকারটি ৬ মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করবে। তবে প্রয়োজনে এটি এক বছর বা ২ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রভাবশালী একটি রাষ্ট্রের একজন শীর্ষ কূটনীতিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক সপ্তাহের অধিক ঢাকায় অবস্থান করে গোপন মিশনে সবকিছু চুড়ান্ত করে যান। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে বৈঠক করে এর উপরে সম্মতি নেয়া হয়, যেখানে প্রতিবেশী দেশের কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন! অনেকটা বাধ্য হয়ে তাকে এতে সম্মতি দিতে হয়। আর এতে করে, প্রতিবেশি দেশটি এদেশের নির্বাচন নিয়ে ২০১৪ সালের মত প্রকাশ্য অবস্থান নিতে পারেনি। নিরাপত্তা উপদেষ্টা ঢাকায় অবস্থানকালেই সে দেশের দশ সদস্যের একটি উর্ধতন সেনা আধিকারিকও ঢাকায় আসেন। হোটেল রেডিসনে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হলেও গোয়েন্দা তৎপরতা এড়াতে তারা কূটনৈতিক এলাকায় অন্যত্র থাকেন। উত্তরপাড়াতে একদিনের মিশনে বাহিনীপ্রধান ও অন্যান্যদের সাথে আলোচনায় সবকিছু ঠিকঠাক করে তারা ফিরে যান।

খুব দ্রুততার সাথেই ঘটতে যাচ্ছে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ। ঘটনা ঘটার স্বার্থেই প্রভাবশালী দেশটি তাদের কূটনীতিককে সরিয়ে নিয়েছে তড়িঘড়ি করে। তারা চান না, সরকার পরিবর্তনের জন্য তাদেরকে দোষারোপ করা হোক, বরং রাষ্ট্রদূত না থেকে কাজ করাটা এক্ষেত্রে কম দূর্নামের। বর্তমান বিদায়ী আ’লীগ সরকারের লোকজন সবকিছু অবহিত থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য হলেও আসন্ন ব্যবস্থাকে মেনে নিতে হচ্ছে। ক্ষমতা বদলালে লাখ লাখ লাশ পড়বে, নিজেদের এমন প্রচারণাও এক্ষেত্রে পালে হাওয়া দিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

আ’লীগ-ঐক্যফ্রন্ট সংলাপ অনুষ্ঠিত: সঙ্কটের সুরাহা হয়নি: আন্দোলন চলবে জানিয়েছে ফ্রন্ট

নির্বাচন ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একই টেবিলে বসে বহুল আলোচিত সংলাপ করেছে দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক জোট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পৌনে চার ঘণ্টাব্যাপী এ সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের মূল দাবিগুলোর কোনো সুরাহা না হওয়ায় রাজনৈতিক সঙ্কট রয়ে গেল। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবির উত্তরে সংলাপে আওয়ামী লীগ স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘সংবিধানের বাইরে তাদের যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়েও সরকারের কিছু করার নেই বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে বলে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বস্ত করেছেন। সভা-সমাবেশ করতে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার, তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়া, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপে সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা বাদ দেয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেসি মতাসহ সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিগুলোর যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্যের সময় প্রধানমন্ত্রী নিজেই নোট নেন।
সংলাপের একপর্যায়ে সংসদ ভেঙে দেয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সেখানে নির্বাচন কিভাবে হয়? প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেন, আপনি তো সংবিধান বিশেষজ্ঞ। আমি যতদূর জানি, ভারতে যখন নির্বাচন হবে, তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। ব্রিটেনে যখন নির্বাচন হবে, তখন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য সংসদীয় গণতন্ত্রে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও একই পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়া উচিত কি না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আপনারা নির্বাচন চাচ্ছেন। দেশে নিরপেক্ষ কে আছেন বলুন।
খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে, জামিন বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে, নজিরবিহীনভাবে সাজা দ্বিগুণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনা এর উত্তরে বলেন, খালেদা জিয়াকে তো আদালত সাজা দিয়েছে। আমরা তো খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করিনি। হাইকোর্ট যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দেন, তাহলে আমরা কী করব?
খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি তো আইনগত লড়াই করেছে। একটা মামলা ১০ বছর ধরে চলেছে। আরেকটি চলেছে আট বছর। প্রথম মামলা তো আমরাও করিনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে নিরাপদ সড়ক অন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসব আন্দোলনের সময় গ্রেফতার সবাই ছাড়া পেয়েছে। মুক্তি পেয়েছে সবাই। শহিদুল আলমের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, তার (শহিদুল) কথাগুলো আপনারা কেউ পড়েছেন কি না? একটু পড়ে দেখবেন তার কথাগুলো।
ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপে নির্বাচনের জন্য কী কী করা যায়, তার সমাধান আপনি দিন।
সব দলকে সমান সুযোগ দেয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দলের কোনো কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে না। আমি নিজেই বলেছি আপনাদের যেন জনসভা করতে দেয়া হয়। আমার দলের সাধারণ সম্পাদককে বলেছি যেকোনো কর্মসূচিতে যেন বাধা না দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, জ্বালাও পোড়াও করেছিল। এখন কেন তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে নিরপেক্ষ সরকার দিতে আগ্রহী নয়Ñ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, দেশে এখন সে ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই।
জানা গেছে, সংলাপে একাদশ জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তবে এমন প্রস্তাবে মতাসীনরা কোনো সায় দেয়নি।
বিশেষ কোনো সমাধান পাইনি : ড. কামাল
সংলাপ শেষে বেইলী রোডের বাসায় ড. কামাল বলেন, সভা-সমাবেশের অনুমতি ব্যতিরেকে সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি। তিনি বলেন, আমরা গেছিলাম আজকে গণভবনে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ ছিল। আমরা তিন ঘণ্টা সেখানে ছিলাম। আমাদের নেতৃবৃন্দ সবার অভিযোগ ও বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সবার কথা শোনার পরে প্রধানমন্ত্রী বেশ লম্বা বক্তৃতা দিলেন। তবে ওখানে কোনো বিশেষ সমাধান আমরা পাইনি।
পরে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী সভা-সমাবেশের বিষয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকাসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর কোনো বাধা থাকবে না। রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে সভা করতে চাইবে সেখানে কোনো বাধা দেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলা সম্পর্কে উনি বলেছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মামলা ও গায়েবি মামলার তালিকা আপনারা দেন। আমি অবশ্যই বিবেচনা করব, যাতে হয়রানি না হয় তা বিবেচনা করব। তিনি বলেন, উত্থাপিত দাবি-দাওয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন।
ড. কামাল আরো বলেন, আমরা সংলাপের সুযোগ পেয়েছি। আমরা আমাদের কথা বলে এসেছি উনাকে। উনি জানতে পেরেছেন। উনি উনার কথাগুলো বলেছেন, উনার মনের কথা আমরা কিছুটা জানতে পেরেছি।
আমি খুব সন্তুষ্ট নই : মির্জা ফখরুল
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন এই বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে। বিএনপি কী এতে আশাবাদী প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, আমি তো বলেছি যে ভাই আমি খুব সন্তুষ্ট নই।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা ৭ দফা কর্মসূচি দিয়েছি। মানা-না মানার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কর্মসূচি আমরা দিয়েছি, এ নিয়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংলাপে সমাধানের আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে কি না প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তফসিল পেছানোর বিষয়ে বলেছি। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন তফসিল দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। সেটা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
সংলাপ থেকে আপনারা কী পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবসময় কী সব কিছু অর্জন হয় নাকি।
আ স ম রব বলেন, একদিনে সব পাওয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, গণফোরামের জগলুল হায়দার আফ্রিকসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন
সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই : কাদের
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাথে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা কথা খুব স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী সংলাপের চিঠিতে স্পষ্টভাবেই বলে দিয়েছেন, সংলাপে সংবিধানসম্মত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তাই আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না।’
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কিছু কিছু অভিযোগ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের পরিপ্রেেিত আমাদেরও তো একটা বক্তব্য আছে। সেটাও খুব ভদ্রভাবে শালীনতার সাথে বলা হয়েছে। এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
কাদের বলেন, ‘এখানে কিছু কিছু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, সভা-সমাবেশ চলবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তবে, রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা-সমাবেশ না করে একটা মাঠে হতে পারে। অনেক মাঠ আছে। ঢাকার ব্যাপারে তিনি বলেছেন, দরকার হলে আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি কর্নার করে দেবো। সেটি যারা ব্যবহার করবেন, তাদের কাছে ভাড়া দেয়া হবে। এটার একটি মেনটেইনেন্স থাকবে। বিষয়টি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের ছয় নম্বর দফা হলো বিদেশী পর্যবেক আসবেন এবং নির্বাচন মনিটরিং করবেন। এ ব্যাপারেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, এ ব্যাপারে আমাদের সাপোর্ট থাকবে। আর ইভিএমের ব্যপারে তিনি বলেছেন, ইভিএম একটি আধুনিক পদ্ধতি। তবে এবার হয়তো নির্বাচন কমিশন সীমিতভাবে ব্যাবহার করবে। এতে আমাদের সমর্থন থাকবে।’
বিরোধীদের ওপর বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কাদের বলেন, ‘তারা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে একটা প্রশ্ন তুলেছেন। এই ব্যাপারে ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদের যে মামলাগুলোকে রাজনৈতিক মামলা মনে হয়, সে তালিকা আমার কাছে পৌঁছে দিন। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নিরপে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সরকারের অনেক বিষয়, যেগুলো নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হবে। এসব নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই।’
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, একটি অবাধ-নিরপে ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকার কোনো ধরনের হস্তপে করবে না। শুধু যে সব বিষয়ে ইসি সহযোগিতা চাইবে, সেসব বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে।’
খালেদা জিয়ার কারামুক্তি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘এটা তো আইনি বিষয়। আমার তো মনে হয়, সংলাপের মধ্যে এটা আসতে পারে না। খালেদা জিয়া যে দু’টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, এই মামলাগুলো কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দেয়া।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেনÑ দেখুন আপনি বলুন, আপনিও তো ইলেকশন করেছেন, সেই ৭৩ সাল থেকে অনেকবার ইলেকশন করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না।’
সংলাপে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল জনতে চাইলে জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা খুশি কি অখুশি, এটা তারা বলতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রীকে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আপনি যে কথাগুলো বলেছেন, তার অনেক কিছুই আমরা জানতাম না। তিনি বলেছেন, তিনি আজকের সংলাপে সন্তুষ্ট।’
আবারো সংলাপ হবে কি না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন, তার দরজা সবসময় উন্মুক্ত। প্রয়োজনে ছোট পরিসরে আরো আলোচনা হতে পারে।’
অন্য নেতারা যা বললেন : সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ বলেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি আছে। দলটির আরেক নেতা ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা খুবই সুন্দর হয়েছে। তবে আলোচনার সফলতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বলতে পারব না।
আর সরকারের জোটে থাকা জাসদের (আম্বিয়া-বাদল) নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, খুবই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ইটস অ্যা পলিটিক্যাল স্টার্ট।
পৌনে ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংলাপ শেষ হয় রাত ১০টা ৪০ মিনিটে।
অংশ নিলেন যারা : সংলাপে মহাজোট ও ১৪ দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঐক্যফ্রন্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলগুলোর নেতাসহ ২৩ জন প্রতিনিধি। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো: আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুস সোবহান গোলাপ, হাছান মাহমুদ, শ ম রেজাউল করিম, আনিসুল হক, দিলীপ বড়ুয়া, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু ও মইন উদ্দীন খান বাদল।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস ও ড. আবদুল মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরাম; গণফোরামের মোস্তফা মোহসীন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ ও ম সফিক উল্লাহ, মোতাব্বের খান; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আ স ম আব্দুর রব, আব্দুল মালেক রতন ও তানিয়া রব; জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আ ব ম মোস্তফা আমিন ও গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সংলাপের একপর্যায়ে রাত বাড়ায় ৯টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের জন্য হালকা খাবার পরিবেশন করা হয়। ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, সৌজন্যের খাতিরে তারা হালকা খাবার গ্রহণ করেন। তবে তারা কোনো নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন নি। এরপর রাত ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে আবারো আলোচনা শুরু হয়ে তা পরবর্তী আধাঘণ্টা স্থায়ী হয়।
বিচারের ভার আপনাদের ওপর : প্রধানমন্ত্রী
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণভবন জনগণের ভবন। সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ৯ বছর মতায় থেকে দেশের যা উন্নয়ন করেছে তা সবাই দেখতে পেয়েছেন। এখন সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে। কারণ দেশটা আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশটাকে গড়তে হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। আজকের এই সংলাপ বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমি এটা বিচারের ভার আপনাদের ওপর ছেড়ে দেবো। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর ১০ মাস হতে চলল আমরা সরকারে। এই সময়ের মধ্যে দেশে কত উন্নয়ন করতে পেরেছি তা নিশ্চয়ই আপনারা বিবেচনা করে দেখবেন। এতে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভালো আছে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে। দিনবদলের যে সূচনা করেছিলাম সেই দিন বদল হচ্ছে। এটাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা এ স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে সেই স্বাধীনতার সুফল যেন প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে পারি সেটাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল গণভবনে প্রবেশ করে। গণভবনের প্রবেশ পথে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে ঐক্যফ্রন্টের গাড়িবহর গণভবনে ঢোকে। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও এপিএস-২ সাইফুজ্জামান শেখর।
সাত দফা দাবি ও ১১ দফা ল্েযর ভিত্তিতে সংলাপের জন্য গত ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ড. কামাল হোসেন স্বারিত চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরদিন আওয়ামী লীগ সংলাপে সম্মতির কথা জানায়। আজ শুক্রবার বিকল্প ধারার সভাপতি বি. চৌধুরীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শাসক দলের সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
গণভবনের বাইরে মোমবাতি প্রজ্বলন : এ দিকে ফলপ্রসূ সংলাপের দাবিতে গণভবনের ভেতরে যখন সংলাপ চলছিল তখন বাইরে ঐক্য প্রক্রিয়ার কর্মী-সমর্থকেরা নানা স্লোগান সংবলিত প্লাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে যান। কারও কারও হাতে মোমবাতি ও ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা ছিল ‘সংবিধান ওহি নয়, জনগণের জন্যই সংবিধান’, ‘জনগণ ভোট দিতে চায়, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ফলপ্রসূ সংলাপ চাই’, ‘সংবিধান জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাধা নয়’ ইত্যাদি।

/নয়া দিগন্ত
Content Protection by DMCA.com

‘সংবিধান, আইন পরিবর্তন মিনিটের ব্যাপার’- সংলাপ নিয়ে শেখ হাসিনার চিঠি পাওয়ার পর কামাল হোসেন

প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে সংলাপের আমন্ত্রণের চিঠি পাওয়ার পর, জাতীয় ঐক্য-ফ্রন্ট নেতা বলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে বলবেন, তারা খোলা মন নিয়ে কথা বলতে এসেছেন, কোনো দলীয় স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নয়।

“আমি বলবো জাতীয় স্বার্থে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা যেমন চাই, আপনিও চান…আমরা উভয়েই সেটাই চাই, তাহলে কেন উপায় বের করা যাবেনা” – বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ড. কামাল হোসেন।

তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে রাজনৈতিক সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে যে চিঠি হাসিনা ড. কামাল হোসেনকে পাঠিয়েছেন, তাতে নির্বাচন নিয়ে সরকারের মৌলিক অবস্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রীর তার চিঠিতে লিখেছেন, “সংবিধান সম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য তার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।”

জাতীয় ঐক্য-ফ্রন্টের সাত-দফা দাবি নিয়ে সরকারের নেতা-মন্ত্রীরাও গত বেশ কিছুদিন ধরে ক্রমাগত বললেন, এসব দাবির অনেকগুলোই মানার প্রশ্নই ওঠেনা, কারণ বর্তমান সংবিধানে এরকম কিছুর কোন সুযোগ নেই।

ঐক্য-ফ্রন্টের প্রধান যে দাবি – সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন – সেটিকে এ যুক্তিতেই দিনের পর দিন সরকারের পক্ষ থেকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সংলাপে কি কৌশল হবে ঐক্যফ্রন্টের?
এখন তার চিঠিতে “সংবিধান-সম্মত” শব্দটি জুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কি তাহলে তাদের সেই অবস্থানেই অনড় থাকার বার্তা দিয়ে দিলেন? এই প্রশ্নে ড. কামাল হোসেন বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বোঝা যাবে সরকার কতটা করার জন্য প্রস্তুত, কোন কোন ইস্যুতে তাদের দ্বিধা আছে।

তবে একই সাথে তিনি, “কিছুটা তো বুঝতে পারছি তারা সংবিধানের বিষয়গুলোকে তুলতে চাইবেন, কিন্তু এই সংবিধানকে তো তারাই সংশোধন করেছেন, সংকীর্ণ স্বার্থে ব্যাপারগুলো যোগ করেছেন।”

“আমরা তদের বলবো, এটা তো সংবিধান নয়, এটা তো সংশোধনী… অবশ্যই নির্বাচন সংবিধান সম্মত হবে, অসাংবিধানিকভাবে তো নির্বাচন করা যায়না, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে সংশোধনী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।”

“লক্ষ্য তো একটা যে সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন। সংবিধান এবং আইন পরিবর্তন তো কোনা ব্যাপারই না, এক মিনিটেই তা হতে পারে।”

ড. কামাল হোসেন বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার যে দাবি তারা দিয়েছেন, সেটা একবারেই নতুন কিছু নয়।

“২০০৭ সালে শেখ হাসিনা যখন বিরোধী দলে ছিলেন, সেই একই কথা বলে ২০০৮ এর নির্বাচন হয়েছে।” তবে সংলাপে তাদের সুনির্দিষ্ট কৌশল নিয়ে বেশি কথা বলতে রাজী হননি ড. হোসেন।

“কালকে যেহেতু আলোচনা, সুতরাং বেশি কিছু বলতে চাই না। আমরা আশা করবো সরকার আমাদের সাত দফা দাবি মেনে নিক।”

সরকার কেন আপোষ করবে?
কিন্তু সরকার যে নমনীয় হবে সেটা তারা আশা করছেন কীভাবে? সরকারের ওপর তো চাপ নেই?
বিবিসির এই প্রশ্নে ড. হোসেন বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য অবশ্যই সরকার চাপে রয়েছে। “গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটাই চাপ। তারা জানেন যে নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করেনা, সেই নির্বাচন থেকে কিছু পাওয়া যায়না। এই উপলব্ধি নিশ্চয়ই তাদের হয়েছে। তা না হলে তো আমাদের আলোচনায় ডাকার কোনো দরকার তো তাদের ছিলনা।”

সংলাপে তারা নিজেরা কতটা নমনীয় হবেন?
“আমি আগে থেকে কোনো অনুমান করতে চাইনা। লক্ষ্য একটাই সবই একটা নির্বাচন। আমরা উভয়েই সেটাই চাই।”

/বিবিসি বাংলা

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5 29