পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হটাতে পুলিশী হামলা: লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি, পুলিশের গাড়ি অগ্নিসংযোগ করে হেলমেটলীগ!

গত তিন দিন ধরে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সংসদ নির্বাচনের দলীয় ফরম বিতরন উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটে। গতকাল ছিল সবচেয়ে বেশি জনসমাগম। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন লীগনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দেন বিএনপি অফিসের সামনের মানুষের ভীড় কমাতে। এ নিয়ে বিডিপলিটিকো গতকাল রিপোর্ট পরিবেশন করে।

আজ বুধবার বিএনপি অফিসের সামনে লোক বাড়তে থাকলে প্রথমে বেলা ১১টার দিকে লাঠি চার্জ করে। অজুহাত হিসাবে বলা হয় নির্বাচন কমিশনের চিঠি। অথচ একই কাজে আওয়ামীলীগ সামনে (একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে) হাতি ঘোড়া ভেঁপু বাজিয়ে তান্ডব করে। অথচ নির্বাচন কমিশন তখন টু শব্দটিও করেনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পরিসআর পক্ষদুষ্ট আচরণ করছে।

Image.jpeg

পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে বেশ কিছু হেলমেট পরিহিত বহিরাগত লোকজন নিয়ে কয়েক’শ পুলিশ বিএনপির সমাবেশে ঢুকে পড়ে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপর। আক্রান্ত লোকজন দৌড়ে এবং রাম্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে পুলিশ সরে যায়। কিন্তু জনতার প্রতিরোধ চলাকালে পুলিশের সাথে যাওয়া হেলমেট পড়া লোকগুলি সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলি ভাঙতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের দু’টি ভ্যানে অগ্নি সংযোগ করে হেলমেট পড়া কিছু ছেলে। পরে দেখা যায় ঐ লোকগুলি ছাত্রলীগের ক্যাডার। এদের একজন গুলশান ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু, যিনি পুলিশের গাড়িতে আগুণ লাগায়। পল্টনে সংঘটিত পুলিশী হামলা ও গাড়িপোড়ানোর তান্ডব কয়েকটি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

Image_1.jpeg

পরবর্তীতে দেখা যায়, সরকারী টেলিভিশন বিটিভির ক্যামেরাম্যানও সেখানে মজুদ ছিল। অথচ এসব বিষয় বিটিভি এড়িয়ে চলে আসছিল। হঠাৎ করে বিটিভির উপস্থিতিকে কথিত নাশকতার শুটিং হিসাবে প্রতীয়মাণ হয়। ঘটনার পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যেসব যুবক গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছিল, তারা হেলমেট পড়ে পুলিশের সাথেই ঢুকেছিল। জানা যায়, পুলিশ সাধারণত আক্রমনস্থলের আশেপাশে তাদের গাড়ি পার্ক করে না। তবে এক্ষেত্রে তারা গাড়ি সেখানে রাখে, অতপর গাড়িগুলিতে যাখ আগুণ দেয়া হয়, তখন পুলিশ কোনো বাধা প্রদান করেনি। এথেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ খুব পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায়, তাদের সাথে আনা লোক দিয়ে গাড়িগুলি পোড়ায়। তাছাড়া সেখানে কর্মরত গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সরকারী দলের ক্যাডাররা মাথায় হেলমেট পড়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। হেলমেট বাহিনীর হামলার ধরনের সাথে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপর বর্বরভাবে হামলে পরা হেলমেট বাহিনীর মিল রয়েছে। সে হামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি  হয়নি কোন বিচার।

Image_3.jpeg

ঘটনার পর পর বিএনিপি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়, গাড়ি পোড়ানো বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতকর্মীরা জড়িত নয়। বরং ছাত্রলীগ ও হেলমেট লীগ দায়ী। বিকালে নির্বাচন কমিশনের সাথে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠককালে পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলা এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা গাড়িপোড়ানোর ঘটনা অবহিত করে বিচার দাবী করা হয়।Image_4.jpeg

Image_6.jpeg

Content Protection by DMCA.com

বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় না জড়াতে সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করতে অনুরোধ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদেরকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহবান।

সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ- বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় আপনারা জড়াবেন না
-“প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্ভয়ে কাজ করুন,কারো চাকুরী যাবে না’
-“ভোট যুদ্ধের দিন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ভাই বোনদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। -“প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে-এটাই এখন আমাদের আন্দোলন!’

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনকে নির্ভয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করার আহবান এবং অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধানের একজন সন্তান হিসেবে আপনাদের ‌কাছে আমার অনুরোধ, এই অবৈধ সরকারের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে আপনারা কাজ করবেন না। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করছে তাতে আপনারা শরিক হবেননা। ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণের যে নীল নকশা সরকার প্রণয়ন করছে, তাতে আপনারা জড়াবেননা। এই লুটেরা সরকারের অপরাধের ভাগ আপনারা নিবেন না। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের পক্ষে থাকুন। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হোন। তারা ইভিএম চালু করে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীকে জনগনের মুখোমুখি করতে চাচ্ছে । আমার অনুরোধ থাকবে, জনগনের কাছ থেকে চুরি করা ৪০০০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা এই ইভিএম পদ্ধতিতে জনগনের ভোট ডাকাতির যে প্ল্যান ও কর্মসূচী অবৈধ সরকার করতে চাচ্ছে, সেই প্ল্যান ও কর্মসূচীতে আপনারা নিজেদেরকে জড়াবেন না। আপনাদেরকে বিতর্কিত করতে আপনাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবে হাসিনা ও তার কেনা নির্বাচন কমিশনা।
আপনারা দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ হবেন না। কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না। মানুষ আপনাদের শ্রদ্ধা করে। আপনারা আপনাদের সম্মান নষ্ট হতে দিবেন না। আপনারা জানেন জনগন কি চায়, আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন, এটাই আপনাদের কাছে আমার আহবান।

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রীট নর্থ এর দি রয়্যাল রেজেন্সী অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপুর্ন আহবান জানান। দেশনায়ক তারেক রহমান আধা ঘন্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনার দুঃশাসনের নানা দিক, বিশেষ করে লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন , নিপীড়ন, মিথ্যাচার, মানুষের সাথে প্রতারণাসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাদের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদাণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবদুল মালিক।সভাটি পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক কয়ছর আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক ডাকাত ও ভোট ডাকাতি করা এই সরকার সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরাচার খ্যাত। এই অবৈধ সরকার ভোট নামক নতুন আন্দোলনের ভয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বলে বেড়াচ্ছে, গত ১০বছরে তাদের আমলে যারা প্রশাসন সহ অন্যান্য সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদেরকে চাকুরিচ্যুত করা হবে। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, আপনারা এই ভয় পাবেন না, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পুলিশ বাহিনী হোক, আর প্রশাসন বা সিভিল ডিার্টমেন্টের হোক, অন্যায়ভাবে কারো চাকুরি যাবে না । আপনাদের কোন ভয় নেই, কারণ আমরা বুঝি ও জানি- এই অবৈধ সরকার ও তার অবৈধ এমপি ও  মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে আপনাদেরকে অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করেছে। আপনারা জনগনের সাথে প্রতিনিয়ত উঠাবসা করেন, আপনারা এই দেশের নাগরিক, তাই আপনারাও জানেন জনগন কি চায়। সে মোতাবেক আপনারা কাজ করুণ। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, জনগন আপনাদেরকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে আপনারা আপনাদের সেই পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন। কারো কোনো ভয় নেই। আপনারা নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা জানি অবৈধ সরকারের হুকুম তামিল করতে গিয়ে অনেক অনৈতিক কাজ কাউকে কাউকে করতে হয়েছে। যার জন্য আপনারা প্রস্তুত ছিলেননা, এবং এর দায়ভারও আপনাদের নয়।

তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনকে আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে তুলে ধরে ছাত্র, যুবকসহ সকলের উদ্দেশ্য বলেন, আজকে নির্বাচন নামক যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা কিন্তু কোন সাধারন নির্বাচন নয়। এটা গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন, এটা স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাক-স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাংলাদেশের মিডিয়াকে ডিজিটাল কালাকানুন থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এটা সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন ফেলানি হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে, এটি সেই নির্বাচন যে নির্বাচন সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন শেখ হাসিনার দায়িত্বে অবহেলার কারনে আমার দেশপ্রেমী ৫৭ জন সেনাবাহিনীর অফিসার নিহত হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে জনগনের যে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, সে পাচার রোধের নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন নকল ও প্রশ্ন ফাঁস থেকে রক্ষা করে সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থার নির্বাচন। এটি ইলিয়াস আলী সহ আমাদের হাজার হাজার গুম খুন হওয়া নেতা কর্মীদের হত্যার জবাবের নির্বাচন। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে যে সকল গুণী ব্যক্তিবর্গের মান সন্মান নষ্ট করেছে, সেই সম্মান রক্ষার নির্বাচন। এটি কোটা আন্দোলনের দাবীতে রাজপথে নামা হাজারো শিক্ষার্থীর উপর এই ব্যাংক ডাকাত সরকার যে নির্যাতন করেছে, সেই নির্যাতনের জবাবের নির্বাচন। এটি নিরাপদ সড়ক চাই দাবীতে রাজপথে আমার ছোট কোমলমতি ভাই বোনদের উপর সরকার ও হেলমেট বাহনী যে অত্যাচার করেছে, সেই অত্যাচারের জবাব দেবার নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচনই নয়। এটি আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ। যার মাঠ হলো ভোটকেন্দ্রগুলো এবং যার সৈনিক হলো ১০কোটি ভোটার। জাতির মুক্তির জন্য এ ১০কোটি ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে এবং এ যুদ্ধে সফল হতে হবে।
১৯৭১ সালে আমাদের পূর্ব পুরুষরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে গিয়েছেন, কিন্তু এই দেশের বিরুদ্ধে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলেছে এবং বর্তমানেও চলছে। আর এই নির্বাচন সে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। নতুন প্রজন্মের জন্য যারা নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন হলো এই নির্বাচন–নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মুক্তিযুদ্ধ।

এই নির্বাচন নামক মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার হাতে কোনো বন্দুক বা গোলা বারুদ থাকবেনা।  বরং এই ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র হবে তাদের ব্যালট পেপার। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত আমার যত নেতা কর্মী আছেন, তাঁদেরকে আমি একটা দায়িত্ব দিতে চাই, আর তা হলো- আপনারা এই মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধাকে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে নিয়ে যাবেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য আজ সামনে সুযোগ এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দশ কোটি ভোটারদের সঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ১০ কোটি ভোটারের আন্দোলনে হেরে যাবার ভয়ে অবৈধ সরকার আন্দোলনকে বন্ধ করতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে আমেরিকা, লন্ডন, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ইভিএম ব্যবহার করা হয়না, সেসকল দেশের আদালত থেকে এই ইভিএম মেশিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারন তারা দেখেছে ইভিএমের মাধ্যমে কিভাবে ভোট চুরি করা হয়, অথচ বাংলাদেশের এই অবৈধ সরকারের ইতিহাস হল ভোট চুরি। এখন নতুন করে ভোট ডাকাতি শুরু করতে চাচ্ছে। ভারতের সংসদে একজন দেখিয়েছেন কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের যারা নিরাপদ সড়কের দাবী করেছিলো তাদের প্রতি তারুন্যের অহংকার তারেক রহমান অনুরোধ ও দাবী রেখে বলেন, আমার তরুন প্রজন্মের ভাই বোনেরা। তোমাদের কাছে আমার দাবী, তোমরা নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত লাগাও। আজ সারা বাংলাদেশ তোমাদের কাছে সাহায্য চায়। তোমরা যদি এই দায়িত্ব তুলে নিতে পার, তবে তোমরা কেবল নিরাপদ সড়ক নয়, গড়তে পারবে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। ভোট যুদ্ধের দিন তোমাদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। সেটা যদি পারা, তবে গড়তে সক্ষম হবে নিরাপদ বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নির্যাতিত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্বাচন করছে বিএনপি। তাদের ন্যায্য দাবীর প্রতিফলন ঘটাতে চাই। নতুন প্রজন্মের পাশে থাকতে অঙ্গীকার করছি। গণমানুষের নেতা তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ও জুলুম নিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজকে গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বিএনপির হাজার-হাজার, লক্ষ নেতা-কর্মীকে গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখনি সুযোগ পাচ্ছে, এ সরকার চেষ্টা করেছে, কিভাবে গুম-খুনের মাধ্যমে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মীদের গায়েব করে দিতে। কারণ এই একটি দল, যারা বাংলাদেশে ক্ষমতাকে ধরে রেখেছ অবৈধভাবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ পেছেন ফিরে তাকালেই দেখতে পাবেন যত বারই তারা দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে, প্রত্যেক বারের পরিস্থিতি একিরকম। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার জানে কিভাবে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। একইভাবে তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে জনগণের উপর অত্যাচার, নির্যাতনের স্টীম-রোলার চালাতে হবে। এখন দেশের মানুষের সামনে সুযোগ এসেছে এই নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারকে ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেয়ার।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের ইভিএম দিয়ে ফল পাল্টানো- বাচ্চাদের খেলনা’র মত সহজ কাজ!

।।সাবিনা আহমেদ।।

আসন্ন নির্বাচনে যেসব ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহৃত হবে তা বাংলাদেশে তৈরি। এই মেশিন তিন ফেইজ বা ধাপে তৈরি হয়েছে। প্রথম দুই ধাপ সম্পন্ন করেছে বুয়েট আর সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন করেছে Bangladesh Machine Tools Factory Ltd (BMFT)।

এই মেশিন কাজ করে বোথ হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার/ফার্মওয়্যার এর মাধ্যমে। আর এই ফার্মওয়্যার দ্বারাই তৈরি হয় আসল ফলাফল। প্রথম দুই ধাপে যা দেখানো হয়েছে বা করা হয়েছে খুব সহজে তৃতীয় ধাপে যেয়ে ফার্মওয়্যার এর কোড বদল করে মেশিনকে নিজ ইচ্ছানুযায়ী ম্যানুপুলেট করা সম্ভব।

ট্রাস্ট মি হোয়েন আই সে দিস, আমি নিজেও ইঞ্জিনিয়ার, প্রচুর ফার্মওয়্যার লিখেছি, যা দিয়ে হার্ডওয়্যার ম্যানুপুলেট করেছি, এমনকি মিসাইল পর্যন্ত। ইটস অল ইন দ্যা কোড। আপনি আমাকে বলুন আপনি কি চান, ফার্মওয়্যার কোড এমনভাবে লিখব যা মেশিন যখন রান করবেন আউটপুট বা রেজাল্ট আপনার মনের মতন হবে। আপনি ভিন্ন রেজাল্ট চান? নো প্রব্লেম… আপনি রাতের জায়গায় দিন চান? নো প্রব্লেম……… উপরে দেখাবো রাত, বের হবে দিন। ধানের শিষের বাটনে প্রেস করলে নৌকায় পক্ষে গননা চান? নো প্রবলেম। আপনি কেবল ৬০% ধানের শিষের ভোটকে নৌকায় পরিবর্তন করতে চান? নো প্রবলেম। পেপার স্লিপ আর ভোট গননার মাঝে ডিফারেন্স চান? নো প্রবলেম। আপনি খালি বলুন আপনি কি চান, কোড এমন ভাবে লিখব যে মেশিন আপনাকে তাই দিবে।

আমি কোড লিখে যেসব মেশিন কন্ট্রোল করেছি তার তুলনায় ইভিএম মেশিন একেবারে প্রিমিটিভ, বাচ্চাদের খেলনা। এটা খুবই সিম্পল মেশিন, এর কোড একদম প্রাইমারী লেভেলের, আর একে যেভাবে খুশি লিখে ম্যানুপুলেট করা সম্ভব। একবার কোড লেখার পর তাকে পরবর্তী ধাপে বদলে দিয়ে ব্যবহারের আগে ফাইনাল মেশিনে সেই কোড আপলোড করে দেয়া কোন ব্যাপারই না।

বিএমএফটি এই মেশিন আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতে বেশি দামে বানিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এখানে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে মেশিন এভেইলেবল থাকতে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার এই মেশিন দেশের ভিতর বেশী দামে বানিয়েছে? আর এর সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে বাইরের মেশিনের ফার্মওয়্যার বদল করে রেজাল্ট নিজ ইচ্ছানুযায়ী তৈরি করার জন্য ঠিক যে মেশিন কিনবে তার হার্ডওয়্যার আর ফার্মওয়্যার এর ডিটেইলস জানা লাগবে, ‘র’ কোড তার কম্পাইলার ইত্যাদি সেই মেশিন প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে বাংলাদেশকে দিতে হবে, বা বাংলাদেশের ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে মেশিনের ভিতরের মাদারবোর্ডের ইলেকট্রিকাল ডিজাইন এর পুরা ডিটেইলস থাকতে হবে। যা কখনও বাইরের মেশিন প্রস্তুত কারক দেশ বাংলাদেশ সরকারকে দিবে না। কারন এটা তাদের ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি।

তাই সেক্ষেত্রে মেশিন ব্যবহারে ভোটের রেজাল্ট নিজ ব্যাংকে তুলতে সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে নিজেরাই মেশিন তৈরি করা, নিজেরাই কোড লেখা। দুইটা পয়সা বেশী গেলেও এতে করে ইচ্ছানুযায়ী ভোট দেয়া আর রেজাল্ট গননা সম্ভব। আপনারা উপরে দেখবেন এক আর ভিতরে হবে আরেক।
নর্মালি, আমি হয়ত প্রচুর গর্ববোধ করতাম বাংলাদেশ নিজেদের তৈরি ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে যাচ্ছে, কিন্তু যেখানে মানুষকে নিজের ভোট নিজেকে দিতে হয়না, দিলেও ব্যালট বাক্স আগে থেকেই সিল মারা ব্যালোটে ভরে রাখা হয়, যেখানে নির্বাচনে কারচুপির সাগর পরিমান পূর্ব উদাহরন, সেখানে নিজেদের বানানো ইভিএম মেশিন এবার সাঙ্ঘাতিক কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন এও শোনা যাচ্ছে যেখানে ইভিএম মেহিন ব্যবহার করা হবে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে। ডাসন্ট ম্যাটার সেনা বাহিনী অথবা হোয়াটেভার…… সকল কারচুপি ঐ মেশিনের ভিতরের ১০ ০১০০১১০০০১১০… ডিজিটাল কোডে। মেশিনের বাইরে নিউক্লিয়ার মিসাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর্মির বাপের সাধ্য নাই কারচুপি ধরার।

* লেখক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে কর্মরত প্রকৌশলী

Content Protection by DMCA.com

কিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট: নির্বাচনের আগে সরকার নমনীয় , তবে কাটেনি সংকট

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

Content Protection by DMCA.com

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরব হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল

Content Protection by DMCA.com

বিএনপির পাশে চিন, অভিযোগ হাসিনার দলের

আনন্দবাজার রিপোর্ট

ভোটের ঘণ্টা বেজে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এ বার মাথা গলাচ্ছে বেজিং। ঢাকার রাজনৈতিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সে দেশের বিরোধী দল বিএনপি-কে বিভিন্ন ভাবে সহায়তার জন্য ঝাঁপি খুলে দিয়েছে চিন। বিপুল অঙ্কের অর্থ সাহায্য করা হচ্ছে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের দলকে— বিভিন্ন সূত্রে এমন খবরও মিলেছে।

Hasina and Khaleda

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সতর্ক নজর রাখছে হাসিনা সরকার এবং আওয়ামি লিগ। সূত্রের মতে, এখনই বিএনপি-কে যে কোনও প্রকারে তখতে বসানোটা চিনের লক্ষ্য নয়। বরং আওয়ামি লিগের উপর চাপ তৈরি করতেই তারা বিএনপি-কে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ভারতকে চাপে রাখাটাও পরোক্ষ উদ্দেশ্য বেজিংয়ের।
সম্প্রতি বেজিং এবং ঢাকার সম্পর্কে বেশ কিছু মতান্তর তৈরি হয়েছে। চিনের ঋণের ফাঁদ এড়াতে পদ্মা সেতুর কাজে তাদের বিনিয়োগের প্রস্তাব ফিরিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরোয়া প্রকল্পেও চিনকে দূরে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরের নতুন তৃতীয় টার্মিনাল তৈরির প্রকল্পটি রূপায়ণে চিন মরিয়া ছিল। বাংলাদেশের এক কর্তার কথায়, ‘‘এ ব্যাপারে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কথা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও চিন প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রকল্পটি পেতে। তার জন্য সব রকম আর্থিক মূল্য তারা দিতে রাজি ছিল। কিন্তু বিশ্বস্ত সহযোগী দেশ জাপানের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ করার প্রশ্ন ওঠে না বলে চিনকে খালি হাতে ফেরাতে হয়েছে।’’

কূটনৈতিক শিবিরের মতে, চিন যে সাহায্য বিএনপি-কে করেছে তাতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-র হাত রয়েছে। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে— খালেদা জিয়ার পুত্র তারেকের সঙ্গে আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

আমেরিকায় নির্বাসনে যেতে পারেন শেখ হাসিনা!

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার ভেতরেই বাংলাদেশের ক্ষমতার পালাবদল ঘটতে যাচ্ছে সহসাই। প্রভাবশালী একটি দেশের মধ্যস্থতায় সেনাবাহিনী এই পরিবর্তন ঘটাতে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সংলাপ নাটকের ব্যর্থতার পরে এটা নিশ্চিত যে, হয় একতরফা নির্বাচন হতে যাচ্ছে, অথবা রক্তক্ষয়ী লড়াই। কিন্তু দুটোর একটাও হতে দেয়া হবে না। ২০১৪ সালের বিনা ভোটের এক তরফা নির্বাচনের পরে বিশ্বের কাছে শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি ছিল, আগামি নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু এবারে যখন ইনক্লসিভ ইলেকশন হচ্ছে না,  তাই আসছে সেনাসমর্থিত সরকার।

সুত্র জানায়, ১/১১ মার্কা সরকারের প্রস্ততির খবরে পেয়ে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের অস্থিরতা বেড়ে যায়। যার যার হিসাব কষছে। সেনাবাহিনীও পুলিশ সহ অন্যান্যদের সাথে প্রথমিক আলোচনা শেষ করেছে। সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি অস্বাভাবিক রকমের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ বিভিন্ন সেনানিবাস ঘুরে সেনাদের সমর্থন জোরদার করছেন। আজ যাচ্ছেন চট্টগ্রাম।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ সমাপ্তির ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল আজকে প্রেস কনফারেন্সে। কিন্তু হঠাৎই থেমে যায় গণভবনের সাংবাদিক সম্মেলন। অন্যদিকে, ঐক্যফ্রন্টের পূর্বঘোষিত রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রোড মার্চও বাতিল করা হয়। বাকী থাকলো নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা। আজ এটি ঘোষণা করা হলে বিরোধী দল  রাজপথের কর্মসূচিতে যাবে, এরপরেই ঘটবে সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা ১/১১ পরবর্তী সময়ে যেরূপ নাজেহাল হয়েছিলেন, তারও চেয়ে বেশি বিপদের আশংকা করছেন। তাই তিনি সেইফ প্যাসেজ চান। দ্রুত পার হতে চান আমেরিকাতে ছেলের বাড়িতে। তবে তিনি তাকে নিরাপদ প্রস্থান দেয়া হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ অবস্থার মধ্যেই যুক্তরোষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গ রাজ্যস্থিত পুত্রের বাসাটি প্রস্তুত করা হচ্ছে মায়ের জন্য।

খবর সেনা সূত্রের।

Content Protection by DMCA.com

এখনো সমঝোতা সম্ভব

Content Protection by DMCA.com

অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করেন বারবার

ড. তুহিন মালিক

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ দুপুরে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে আজ সকালে পদত্যাগের পরও একজন মন্ত্রী হিসেবেই একটি অনুষ্ঠানে যোগও দিয়েছেন। অথচ গতকাল গণমাধ্যমে পুরো দেশবাসী দেখেছে চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

আমাদের সংবিধানে ৫৮(১) নং অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, “প্রধানমন্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন মন্ত্রীর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট পদত্যাগপত্র প্রদান করেন।”

এখানে সংবিধানের ব্যাখ্যা অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ামাত্রই মন্ত্রীদের পদ সংবিধান অনুযায়ী শূন্য হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা শর্ত প্রয়োগ করা হয়নি। অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণের প্রয়োজনের কথাও বলা হয়নি। এই অনুচ্ছেদে কোনো ‘যদি’ বা ‘তবে’ বা কোনো ফর্মালিটির উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রীরা পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেবেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছামাত্রই তাদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শুধু পোস্টবক্স হিসেবে কাজ করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাংবিধানিকভাবে গতকাল থেকেই চার টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের সবার পদ শূন্য হয়ে গেছে। এখন তারা আর কোন ধরনের বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটারই অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৫৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পদত্যাগ করার পর পদত্যাগী কোনো মন্ত্রীর মন্ত্রিত্ব পেতে হলে তাকে আবার সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের আওতায় নতুন করে আবার শপথ নিতে হবে ও শপথে স্বাক্ষর দিতে হবে।

আমাদের সংবিধান খুব পরিষ্কারভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও অন্যান্য মন্ত্রীর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখিয়েছে। খেয়াল করার বিষয় হলো- সংবিধানের ৫৭(১)(ক) অনুচ্ছেদ মতে প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য হয় রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে। অপরপক্ষে মন্ত্রীদের পদ শূন্য হয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র প্রদান করলে।

প্রশ্ন জাগতে পারে- এই দুই ক্ষেত্রে ভিন্নতা কেন? জবাব হলো- সংবিধান মতে রাষ্ট্রপতি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ও বর্ণিত প্রক্রিয়ায় তিনি যেরূপ স্থির করবেন সেরূপ মন্ত্রীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এটা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। তাই সংবিধান প্রণেতাগণ প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ এই ক্ষমতা প্রয়োগের রক্ষাকবচের জন্যই মন্ত্রীদের পদ শূন্যের ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীকেন্দ্রিক বলে রক্ষাকবচ দিয়েছেন। কেননা মন্ত্রীদের পদশূন্যতা যদি রাষ্ট্রপতির মর্জির ওপর শর্তযুক্ত থাকে তাহলে সংসদীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী একজন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আসলে অহরহ সংবিধানের দোহাই দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধান লংঘন করলেন।প্রধানমন্ত্রী নাকি বলেছেন, মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন, অফিস করবেন এবং ফাইলেও যথারীতি স্বাক্ষর করবেন। এটা কেমন হুকুম! যেখানে পদত্যাগ করার পর মন্ত্রীদের প্রত্যেকের পদ সংবিধান মতে শূন্য ঘোষিত হলো সেখানে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে মন্ত্রীরা যদি অফিস করেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর দিতে থাকেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবিধানের চরম লংঘনের দায়ে অভিযুক্ত হবেন।

কেননা পদত্যাগী মন্ত্রীরা সম্পূর্ণ অবৈধ বিধায় তাদের কেউ আর কোনো বেতন-ভাতা, বাংলাদেশের পতাকা ব্যবহার, অফিস করা, ফাইলে স্বাক্ষর করা ও অন্যান্য সুবিধাদির কোনোটাই করার অধিকার রাখেন না। সংবিধানের ৮৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ সংসদ দ্বারা প্রণীত আইনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে। এটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সংসদ কোনো আইন প্রণয়ন করে পদত্যাগী মন্ত্রীদের ভরণ-পোষণের কোনো বিধান অদ্যাবধি তৈরি করেনি। তাই পদত্যাগী মন্ত্রীদের দেওয়া সব বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা অবৈধ। তাদের নীতিনির্ধারণী, ফাইলে স্বাক্ষর ও নোটিংসহ সব কাজকর্ম অবৈধ।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রধানমন্ত্রী একদিকে সংবিধানের দোহাই দিয়ে রাতকে দিনে রূপান্তরিত করছেন, অন্যদিকে ঠাণ্ডা মাথায় একের পর এক সংবিধান লংঘন করেই চলেছেন।

লেখক : আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ

Content Protection by DMCA.com

ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বিধাবিভক্ত: প্রভাবশালী অংশ আ’লীগের সাথে নাই

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, প্রতিবেশী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে টেনশেনের পারদ তত বাড়ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার রাজনীতি নিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে। আর এর প্রভাবশালী অংশটি আ’লীগের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই মর্মে জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রে।
 
গত দু’সপ্তাহের মধ্যে দুটি জরিপের রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠিয়েছে সংস্থাটির ঢাকা ব্যুরো। এর মধ্যে একটি রিপোর্ট বলছে, নির্বাচন হলে আ’লীগ এবং তাদের জোট সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫৩টি আসন পেতে পারে। অপর একটি রিপোর্ট বলছে, ৩৩টি আসন পেতে পারে। একটি রিপোর্টের সংক্ষিপ্তসার আমাদের হাতে রয়েছে।
 
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের যেমন টেনশন ছিল চুড়ান্ত, এবং আ’লীগকে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আনতে যে ধরনের সরাসরি উদ্যোগ ছিল, এবারে আর তেমনটা নাই। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতের দীর্ঘকালের মিত্র আওয়ামীলীগ ভারতকে ডিঙিয়ে চীনের মুখাপেক্ষী হয়েছে।
 
আর সবকিছু দেখে শুনে দিল্লি বিকল্প পথ ধরে হাটছে। এমনি অবস্থার মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপিকে সাথে নিয়ে গঠিত হয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সম্প্রতি বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে ঐক্যফ্রন্ট প্রতিষ্ঠায় একটি মস্তবড় সুবিধা তৈরি করে দেয়ার ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাটি।
 
তাছাড়া গতকালই ঐক্যফ্রন্টে সদলবলে যোগ দিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের খাস লোক মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম। এতে করে সকলের মনে ধারণা জন্মেছে ঐক্যজোটের প্রতি দিল্লির সমর্থন রয়েছে, এবং বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল ঘটছে।
Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5 30