আগামী ক’দিনে কি ঘটতে যাচ্ছে বঙ্গভবনে?

আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা হঠাৎ দুলে উঠেছে। অনেকেই শশ ব্যস্ত। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নড়াচড়া করছে। সন্ধ্যায় বিশাল লটবহর অস্বাভাবিক বেশী নিরাপত্তা নিয়ে বঙ্গভবনে হঠাৎ দৌড়ে গেলো বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। দিনের বেলায় সেনাপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিও নাকি দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে! দ্বিতীয় দফায় হামিদ সাহেব রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন- তাই বিশিষ্টরা গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যাচ্ছেন কি? যদিও সরকারী তরফ থেকে খবর প্রকাশ করা হয়েছে হামিদকে দ্বিতীয় দফায় নমিনেশন দিয়ে সেটা কনফার্ম করতে হাসিনা গেছে! এটা ফালতু অযুহাত। আসলে তা নয়। মূলত ক্ষমতা পতনের মুখে। কি করে ধরে রাখবে, হামিদের সাথে সেই ফন্দি আটতে গেছে।

 
আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি। সেনা শহীদ দিবস এবং ভাষা শহীদ দিবসের মাস শুরু। ১ তারিখটা অন্য কারণেও খুব গুরুত্বপূর্ন ছিল। আজকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা দিতে পারেননি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি এ কাজটি করার কথা একাকী, সরকারের সাথে পরামর্শ ছাড়াই। সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হবে না।
 
এখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হলে সিনিয়র মোস্ট হিসাবে বিচারপতি ওয়াহাব মিঞাই হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতি। কিন্তু একদিন পার হওয়ার পরেও সেটা করেননি রাষ্ট্রপতি হামিদ। মোটকথা বিচারপতি ওয়াহ্হাবের একটা করে দিন নষ্ট করা শুরু করলেন হামিদ। আর যদি রাষ্ট্রপতি হামিদ চালাকি করে ওয়াহ্হাব মিয়াকে বঞ্ছিত করে, তবে অবৈধ সরকার ফেলে দেয়ার মত টুলস বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়ার হাতে আছে। তাহলে প্রশ্ন- কে কোনটা ব্যবহার করবে?
 
এর আগের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার জন্মতারিখ অনুযায়ী গতকাল ছিল তাঁর শেষ কর্ম দিবস, যদিও তিনি প্রাণভয়ে দেশের মাটিতে পা রাখতে পারেননি গত তিন মাস! তবে নতুন প্রধান বিচাপতি নিয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে দু’টো বিষয়ে বিতর্ক জিইয়ে রইল –
 
প্রথমত, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার এতদিন ধরে যেভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিল- বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুরে পদত্যাগ করেছেন, সেটার কি হবে? সেটা যে পদত্যাগপত্র ছিল না, তা এতদিনে সবাই জেনে বুঝে গেছে। তাহলে এই মিথ্যুক ও প্রতারক সরকারের কি বিচার হবে?
 
আর দ্বিতীয়ত, বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশ করতে গিয়ে সংবিধানে যে পরিবর্তন করেছেন, তাতে প্রধান বিচারপতি সহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের কোনো অবসরের সময়সীমা নাই, অর্থাৎ আমৃত্যু! ষোড়শ সংশোধনীর রায় রিভিউ করে অবসরের বয়স সংক্রান্ত বিধান ঠিক করা না হলে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা সম্ভব কি না?
 
সার্বিক অবস্খায় প্রশ্ন উঠেছে- ক্ষমতা চেয়ারে থাকবে কে, আর বিদায়ই বা নিচ্ছে কে? হাসিনা বিদায়? নাকি ওয়াহাব বিদায়? নাকি দু’জনেই থাকবে? আগামী কয়েকটা দিন বঙ্গভবনে সাংঘাতিক সাংঘাতিক ঘটনা ঘটার আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে।
 
এখন ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করা হলে- মহা বিপদ মাথায় নিতে হবে হাসিনার (কালা মানিকের ভাস্য)!
অন্যদিকে ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি না করলে- হাসিনার সংসদ, সরকার পতনের চাবিকাঠি ওয়াহ্হাব মিয়ার হাতে। তখন হাসিনার সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি হামিদের ১৮ তারিখের নির্বাচন কোথায় যাবে কে জানে? সবকিছু নির্ভর করছে- কে কোন্ কার্ড কখন খেলে – তার উপর!
 
উত্তরপাড়া থেকে বলা হচ্ছে – কিপ ইওর ফিঙ্গার ক্রসড!
Content Protection by DMCA.com

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ভুয়া- জাল-জালিয়াতের কিছু নমুনা

‘মাননীয় আদালত, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাৎ। কিন্তু কোনো টাকা তো খরচই হয়নি। সব টাকা ব্যাংকে আছে। সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। তাহলে আত্মসাৎ হলো কীভাবে? হোয়াট ইজ আত্মসাৎ? আর আত্মসাৎ যদি না হয়, তাহলে মামলা কিসের?’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি যে ভুয়া, জাল নথির ওপরে সাজানো তা ইতিমধ্যেই প্রমানিত হয়ে গেছে। মুলত: রাজনৈতিক হীন স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য জোড়াতালি দিয়ে এই মামলা শেষ করে এখন ফরমায়েশী রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত। আদালতের আগেই রায় ঘোষণা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী-নেতারা। বেগম জিয়াকে হয়রানি করতে এই মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পুর্ন অবাস্তব ও মিথ্যার ওপর দিয়ে সরকারের অবৈধ ক্ষমতাবলে রায় পর্যন্ত ঠেলে আনা হয়েছে। সবাই ইতিমধ্যে অবগত আছেন যে, এই মামলাটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অসার। যে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সূত্রপাত, ওই টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত আছে, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি টাকারও বেশি। টাকা অত্মসাৎ করলে এই টাকা কিভাবে থাকে? মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর কোনো সাক্ষীই বলেননি যে, টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা আত্মস্যাতের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক। জাল-জালিয়াতে সাজানো মামলাটি আইনগত ও বাস্তবে যে কতটা মিথ্যা তার যৎসামান্য তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. সরকার পক্ষ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি, টাকা কোথা থেকে এসেছে। তারা বলছেন, টাকা এসেছে কুয়েত অথবা সৌদি আরব থেকে। বলা হয়েছে, টাকা এসেছে ইউনাইটেড সৌদি কমার্সিয়াল ব্যাংকের ডিডি’র মাধ্যমে। সরকার পক্ষ আদালতে আসল ডিডি উপস্থাপন না করে কেবলমাত্র ঘষামাজা ফটোকপি জমা দিয়েছে!

২. সরকার পক্ষের ১ এবং ৩১ নং সাক্ষীর বক্তব্য অনুসারে টাকা সরাসরি সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় জমা হয়েছে। প্রশ্ন হলো- কোনো ব্যাংক একাউন্টে একটি ডিডি কি সরাসরি জমা দেয়া যায়?

৩. ঐ টাকা ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত অলস পড়ে ছিল (চার্য করা হয়েছে, টাকা কেন অলস পড়ে ছিল?)

৪. দুই কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে এবং ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে।

৫. কোন চেক, ফরোয়ার্ডিং লেটার, রিকোয়েস্ট লেটার, ভাউচার, এপ্রুভাল কিংবা নোটশিটে বেগম খালেদা জিয়ার কোন স্বাক্ষর নেই বা অনুমোদন নেই। এমন কোন প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।

৬. আলামত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যে ক্যাশবুক উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি কোনো ক্যাশবুক বলে মনে হয় না; মুদি দোকানেও এরচেয়ে উন্নতমানের ক্যাশবুক থাকে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একাউন্ট যেখানে প্রতি বছর অডিট করা হয়, সেখানে এমন ক্যাশবুক থাকা অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেই ক্যাশবুকে একই চেক নম্বর দিয়ে একই পরিমান টাকার কথা একবার ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে লেখা হয়েছে, আবার নভেম্বর মাসেও লেখা হয়েছে। কিন্তু সেই চেকটি আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

৭. দু্ইটি ট্রাস্টে সমান বণ্টনকৃত বরাদ্বের (২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ + ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০) মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে কেবলমাত্র ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ বগুড়ার বিরুদ্ধে। অথচ এই টাকার অর্ধেক দিয়ে একই ব্যক্তির নামে (শহীদ জিয়ার) নামে বাগেরহাটে প্রতিষ্ঠিত আরেকটি এতিমখানা ‘জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি। বাগেরহাটে দোষ না হলে বগুড়ায় কেনো অপরাধ হবে?

৮. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর জন্য বরাদ্বকৃত মোট ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ টাকার মধ্যে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার উপর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দ থেকে খরচ হওয়া ২২ লাখ ৬১ হাজার ৮৫৬ টাকা ২০ পয়সার উপর কোন দুর্নীতি/আত্মস্যাত বা সরকারী এতিম ফান্ডের টাকা বলে অভিযোগ আনা হয়নি। কেনো?

৯. আলোচ্য ২,১০,৭১,৬৪৩.৮০ টাকা ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার মূল্য বাবদ জনাব শরফুদ্দিন আহমেদকে প্রদান করা হয়েছিল। তাহলে দুর্নীতি কবে ঘটেছিল? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৬ সালে?

১০. দুর্নীতি যদি ১৯৯৩ সালে ঘটে থাকে, তাহলে পুরো টাকার উপর কেন দুর্নীতির অভিযোগ উঠলো না? আর দুর্নীতি যদি ২০০৬ সালের নভেম্বরে ঘটে থাকে, তাহলে তখন তো বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না। সেই সময় সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন ড. কামাল সিদ্দিকী এবং তিনিই সোনালী ব্যাংকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট একাউন্টের স্বাক্ষরদাতা (ঐ স্বাক্ষরটি আসলেই উনার কিনা, সেটাও যাচাই করা হয়নি- কেননা ২০০৬ সালের নভেম্বরে কামাল সিদ্দিকী মুখ্য সচিব ছিলেনও না)। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(৩) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারী দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ‘প্রধানমন্ত্রী’ সরকারী কর্মকর্তা হতে পারেন কিনা, সেটাও একটি প্রশ্ন।

১১. ২০০৬ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এফডিআর খোলা এবং এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার অগ্রীম মূল্য বাবদ জনাব শরফুদ্দিন আহমেদকে (নভেম্বর মাসে) ৫টি চেকের মাধ্যমে ২.৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে শরফুদ্দিন আহমেদকে ২ কোটি টাকার ফেসভ্যালুর ২টি এফডিআর প্রদান করা হয়, যা মেয়াদান্তে ২.৫ কোটি টাকা হবার কথা ছিল। জনাব শরফুদ্দিন আহমেদ মেয়াদ পুর্তির আগেই সেই এফডিআর ভাঙিয়ে ফেলার কারণে ক্ষতিপূরণ, আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর দেবার পর ২,১০,৭১,৬৪৩.৮০ টাকা হাতে পান। কিন্তু জমি না কেনার কারণে তিনি পুরো ২.৫ কোটি টাকাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে ফেরত প্রদান করেন। যে কারণে এই লেন-দেন এর ফলে ট্রাস্ট আর্থিকভাবে কোন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি।

১২. আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতির ঘটনা যদি ১৯৯৩ সালে না ঘটে ২০০৬ সালে ঘটে থাকে, তাহলে সেটি ট্রাস্ট আইন কিংবা দণ্ডবিধির সংশ্লিস্ট ধারায় মামলা হবার কথা; দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এই মামলা হবার কথা নয়।

১৩.এটা সর্বজনবিদিত যে ,১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন সরকার ব্যবস্থা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাহলে ‘প্রধানমন্ত্রীর অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর মত অস্তিত্বহীন একাউন্ট, যেটি সরকার প্রধানের নামে খোলার দাবী করছেন প্রসিকিউশন, সে কিভাবে ৯/৬/১৯৯১ তারিখে খোলা সম্ভব? যারা নথি জালিয়াতি করেছেন, তারা কি ইতিহাস জানেন না?

১৪. সরকার পক্ষের ১৯ নং সাক্ষী জানিয়েছেন ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হিসাব রক্ষক পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করেন। সেই ক্ষেত্রে কথিত ক্যাশবুকে ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে তার লেখা এন্ট্রি পাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। যদিও এই সাক্ষী বলেছেন, তাকে তার ইস্তফা প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ডেকে এনে এই এন্ট্রি দেয়ানো হয়েছে। চাকুরিতে ইস্তফা প্রদানের পর অগ্রীম তারিখে কিভাবে লেজার এন্ট্রি দেয়া সম্ভব? এটা কতটুকু আইনসম্মত? আসলেই এই এন্ট্রিগুলো কবে দেয়া হয়েছে? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৮ সালে যখন তাকে ডাকা হয়েছিল তখন? কারণ ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কর্মরত হিসাব রক্ষক ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ সংক্রান্ত কোন হিসাব দেখেন নাই বলে আদলতে জানিয়েছেন। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবরে যদি এন্ট্রি দেবার প্রয়োজনই হতো, তাহলে তো সেটি তখনকার কর্মরত হিসাব রক্ষক ২১ নং সাক্ষীকে দিয়েই করানোর কথা ছিল।

১৫. যে একমাত্র সাক্ষী একটি স্বাক্ষর দেখার দাবী করেছেন তিনি প্রমানই উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ইস্তফাদানকারী ১৯ নং সাক্ষীকে ইস্তফা প্রদানের পর ডেকে এনে আইন বহির্ভূতভাবে অগ্রীম তারিখে ক্যাশবুকে বিভিন্ন এন্ট্রি দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। মুলত: মিথ্যা মামলা সাজাতে গিয়ে পদে পদে মিথ্যায় ডুবে গেছে রাস্ট্রপক্ষ। দেশের মানুষের কাছে সব নীলনক্সা উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। এখন সরকার মুখ লুকাবে কোথায়?

Content Protection by DMCA.com

বেগম জিয়ার মামলার রায় জজের কাছে হস্তান্তর: নিহত হবে জজ আখতারুজ্জামান!

——————————————
অবশেষে ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার মামলার রায় ঘোষনা করতে যাচ্ছে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান। তবে রায় জজ সাহেব নিজে লিখেন নি। হাসিনার অবৈধ সরকার রায় ঠিক করে দিয়েছে- খালেদা জিয়াকে ৭ বছর জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে! তবে শেষ সময়ে জেল বা টাকার পরিমান কম বেশী হতে পারে।

আইন মন্ত্রনালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানকে আজ বিকালে আইন মন্ত্রনালয়ে ডেকে নেন আইন সচিব জহিরুল ইসলাম ওরফে পিস্তল দুলাল। সচিব দুলাল ঐ মামলার লিখিত রায়ের কপি আখতারুজ্জামানকে হস্তান্তর করেন। সেই সাথে তাকে হুশিয়ার করে দেন- উল্টা পাল্টা করলে পরিণাম ভালো হবে না। ইউ নো আই ক্যান ডু আপ দ্য লাস্ট! পাশের ঘরে বসে থাকা এক আততায়ীকে জজ আখতারের সামনে উপস্থিত করে বলা হয়- “একে চিনতে পারছ!” এ তোমার পিছে থাকবে।’ সচিবের রুম থেকে বের হয়ে আখতারুজ্জামান সচিবের ব্যক্তিগত সহকারীর রুমে ঢুকে তার কাছে জানতে চান, ঐ লোক কে, তার পরিচয় কি? সহকারী জানায়, সে একজন সিরিয়াল কিলার। বিভিন্ন যায়গায় কাজ কর্ম করে।

আরও জানা গেছে, বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসি বেগগম জিয়ার মামলার ঐ রায় লিখে চুড়ান্ত করে আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে হস্তান্তর করে রবিবার। এরপরে পরেই আজ জজ আখতারুজ্জামানের কাছে তা দেয়া হয়।

সুত্র আরও জানায়, সরকারের চাহিদামত রায় ঘোষণা করেও বাঁচতে পাবে না জজ আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পরপর হঠাৎ হামলা করে জজ আখতারুজ্জামানকে হত্যা করবে পিস্তল দুলালের আততায়ী। তবে এই হত্যার দোষ চাপানো হবে বিএনপির ওপর্। এরপরে ব্যাপক ধরপাকড় ও ক্রাকডাইনে নামবে পুলিশ র‌্যাব।

Content Protection by DMCA.com

“জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার এজাহার ” এবং ভুয়া মামলাটির পোস্ট মর্টেম!

এজাহার টি পোস্ট মর্টেমের আগে মনোযোগ দিয়ে এজাহারটিই আগে পড়া যাক।
বরাবর,
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
রমনা মডেল থানা ডিএমপি, ঢাকা।

বিষয়ঃএজাহার দায়ের।

আমি হারুনুর রশীদ, উপ-সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এই মর্মে এজাহার করছি যে, দুদক নথি নং-৬৬/২০০৮ (অনু: ও তদন্ত-৩) এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিডি নং-১৫৩৩৬৭৯৭০ তারিখ ০৯/০৬/১৯৯১ ইং মূলে কুয়েতের আমীর এর পক্ষ থেকে ১২৫৫০০০ ইউ এস ডলার, যা তৎকালীন রেটে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪,৪৪,৮১,২১৬ টাকা অনুদান/সাহায্য হিসেবে প্রাপ্ত হন। তিনি স্বীয় ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামীয় একটি পৃথক তহবিল গঠন করেন (যা পূর্বে ছিল না এবং পরবর্তীতেও এর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় নি)। এবং সোনালী ব্যাংক,রমনা শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামীয় একটি চলতি হিসাব খুলে (যার হিসাব নং ৫৪১৬) উক্ত অনুদান সাহায্য বাবদ প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ সেখানে জমা করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি তহবিলে বিদ্যমান উক্ত অর্থ অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাতের অভিপ্রায় প্রথমে নিজ পুত্রদ্বয় যথাক্রমে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান এবং স্বামী মরহুম জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমানকে দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন, যা ০৫/০৯/১৯৯৩ইং তারিখে গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন নং iv ৩০ মূলে রেজিস্ট্রি হয় এবং উক্ত ট্রাস্টের ঠিকানা ৬ , শহীদ মইনুল রোড,ঢাকা সেনানিবাস,ঢাকা উল্লেখ আছে।যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বসবাস করতেন। তারেক রহমান , পিতা- মরহুম জিয়াউর রহমানকে দি অথর অব দি ট্রাস্ট তথ্যাদি সেটেলর নিয়োগ করা হয়। উক্ত ট্রাস্টটির ডিড অব ট্রাস্টের ১৪ নং অনুচ্ছেদ মূলে (১) তারেক রহমান, (২)আরাফাত রহমান উভয়ের পিতা মরহুম জিয়াউর রহমান, এবং (৩) মমিনুর রহমান , পিতা-মৃত মমতাজুর রহমান সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠন করা হয়। বিগত ১৩-১১-১৯৯৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সোনালী ব্যাংক, রমনা কর্পোরেট শাখার চলতি হিসাব নং ৫৪১৬ (বর্তমানে ৭১০৫৪১৬৪) এর চেক নং ৮৪৩১১০৩ তারিখ ১৩-১১-১৯৯৩ ইং মূলে উক্ত অনুদানের অর্থ হতে ২৩৩৩৩৫০০ টাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে প্রদান করা হয়। উক্ত চেকটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক, গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখার এসটিডি হিসাব নং – ৭ এ গত ১৫- ১১-১৯৯৩ ইং তারিখে জমা হয়।উক্ত একাউন্ট হতে বিগত ০৪-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০১ এর মাধ্যমে ৪০০০০০ টাকা উত্তলন করা হয়। অতঃপর সেই টাকা হতে বগুড়া জেলার গাবতলী থানাধীন দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২,৭৭,০০০ টাকা দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে ২.৭৯ একর জমি ক্রয় করা হয়। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ১৯৯৩ সন থেকে ২০০৬ সনের মধ্যে কোন এতিমখানা স্থাপন না করে এবং এতিম ও দুঃস্থদের কল্যাণে ব্যয় না করে ট্রাস্টের নামীয় উক্ত একাউন্টে অব্যয়িত রাখা হয়। যার স্থিতি ১২ -০৪-২০০৬ ইং পর্যন্ত সময়ে সুদ আসলে ৩৩৭০৯৭৫৭/৩২ টাকা দাঁড়ায়। অতঃপর ব্যাংকে জমা থাকা টাকা উক্ত হতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সেটেলর ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আসামী তারেক রহমান এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অপর সদস্য মমিনুর অসৎ উদ্দেশ্যে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে ১৩-০৪-২০০৬ তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৭ মূলে ৫০০০০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, ১৫-০৫-২০০৬ তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৪ এবং চেক নং ৪৮৮২৪০৬ মূলে প্রতিটি এক ১০০০০০০০ (এক কোটি) করে ২০০০০০০০ (দুই কোটি) টাকা, ০৪-০৭-২০০৬ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৪ মূলে ৫০০০০০০ ( পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা এবং ০৫-০৭-২০০৬ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৩ মূলে ৩০০০০০০ ( ত্রিশ লক্ষ) টাকা সর্বমোট ৩৩০০০০০০ ( তিন কোটি ত্রিশ লক্ষ) টাকা প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় এফডিআর হিসাব খোলার নামে নগদায়ন / স্থানান্তর করে।

উক্ত টাকার মধ্যে ১৩-০৪-২০০৬ তারিখের ৫০,০০,০০০ টাকার চেকটি নগদায়ন করে প্রথমে কাজী হক-এর ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর যার নং ৪১০২৯৪৬২ হিসাব খোলা হয়।পরবর্তীতে গত ১৬-০৭-২০০৬ ইং তারিখে উক্ত এফডিআরটি নগদায়ন করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে সুদসহ ৫০,৬৮,৪৫০ টাকার একটি নতুন এফডিআর খোলা হয়। যার নং ৪১০৩৩৩৩৮।এছাড়াও অপর চেক সমুহের অর্থ দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ৮০,০০,০০০ ( আশি লক্ষ) টাকার একটি এফডিআর, যার নং ৪১০৩৩১১৭ তারিখ ০৯-০৭-২০০৬ ও ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার একটি এফডিআর, যার নং ৪১০৩২৬৬৯ তারিখ ২৭-০৬-২০০৬ খোলা হয় । অবশিষ্ট ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকা দিয়ে কাজী সলিমূল হক এর ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর খোলা হয়, যার নং ৪১০৩২২৭৬ তারিখ ১৫-০৬-২০০৬।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের ২৮-০৩-২০০৬ তারিখের কথিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় ৫০,০০,০০০ টাকার ও ৮০,০০,০০০ টাকার এফডিআর দুটি পরিচালনার জন্য জনৈক এম এস রহমানকে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার অপর একটি এফডিআর ও কাজী সলিমূল হক – এর ব্যক্তিগত নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার এফডিআরটি পরিচালনার জন্য কাজী সলিমুল হককে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

বর্ণিত ৪টি এফডিআর এর মধ্যে ৫০,০০,০০০ টাকা ও ৮০,০০,০০০ টাকার এফডিআর দুটি প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় চলমান আছে। তবে কাজী সলিমুল হকের মৌখিক নির্দেশে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি বোর্ডের কথিত ১৫-১০-২০০৬ তারিখের সভার সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতাংশের মাধ্যমে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামীয় ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার এফডিআর এবং কাজী সলিমুল হক এর ব্যক্তিগত নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) এফডিআর দুটি প্রাইম ব্যাংক , গুলশান শাখা হতে আন্তঃব্যাংক ক্রেডিট এডভাইস ( IBCA) এর মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক, নিউ ইস্কাটন শাখায় সুদসহ নগদায়ন / স্থানান্তর করে কাজী সলিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ এর যৌথ নামে ১৬- ১১ -২০০৬ তারিখে একটি এফডিআর যার নং ৪১০২২৬১৯ /৭৩১৯৩ টাকার পরিমাণ ১,০৩,১৯,৩৬৫ খোলা হয় এবং গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এর নামে ০৭-০২-২০০৭ তারিখে অপর একটি এফডিআর , যার নং ৪১০২৫৫৩৫/৭৩৪১৯ টাকার পরিমাণ ১,০৬,৩৮,৬৮৬ খোলা হয়। উক্ত ২ টি এফডিআর এর মধ্যে ১৬-১১-২০০৬ তারিখে কাজী সলিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদ (সায়িদ আহমেদ) এর যৌথ নামে খোলা এফডিআর, যার নং ৪১০২২৬১৯/৭৩১৯৩ তুলে সুদসহ নগদায়ন করে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এর নামে একটি নতুন এফডিআর , যার নং ৪১০২৫৫১১/ ৭৩৪৩৯ তারিখ ০৭-০২-২০০৭ টাকার পরিমাণ ১,০৪,৩২,৯৫৭/৮০ খোলা হয়।

অতঃপর আসামি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ উক্ত এফডিআর দুটি নগদায়ন করে একই ব্যাংকে বিগত ১৫-০২-২০০৭ ইং তারিখে তার নিজ নামে ৬ টি পে-অর্ডার , যথাক্রমে পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৪৮ টাকার পরিমাণ ৪০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৪৯ টাকার পরিমাণ ৪০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫০ টাকার পরিমাণ ৩০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫১ টাকার পরিমাণ ৩০,০০,০০০ পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫২ টাকার পরিমাণ ৫০,০০,০০০ এবং পে – অর্ডার নং ৬৫৯৩৫৩ টাকার পরিমাণ ২০,৭১,৬৪৩/৮০ ইস্যু করেন এবং একই ব্যাংকের একই শাখায় জনৈক শরফুদ্দিন আহমেদ এর নামীয় চলতি হিসাব নং ১১০১৩১৪ এ জমা করেন, যা উক্ত ব্যাংক হিসাবে গত ২৮-০৩-২০০৭ তারিখে জমা হয়।পরবর্তীতে আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য উৎস হতে তার উক্ত চলতি হিসাবে জমাকৃত টাকার সাথে উক্ত ২১০৭১৬৪৩/৮০ টাকা উত্তোলন করেন এবং পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করেন।

উপর্যুক্ত ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে উপোল্লিখিত সুপরিকল্পিত পন্থায় আত্মসাতের অভিপ্রায়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের এবং তার স্বামীর বোনের ছেলে মমিনুর রহমানকে দিয়ে তার প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে তার নিজস্ব পরিচালনাধীন প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২,৩৩,৩৩,৫০০ টাকা উক্ত ট্রাস্ট প্রদান করে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সেটেলর তারেক রহমান উক্ত ট্রাস্টি বোর্ডের অপর সদস্য মমিনুর রহমান এর সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্টের সাথে সম্পর্কহীন কাজী সলিমুল, সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এবং শরফুদ্দিন আহমেদ এর সহযোগিতায় নিজে অথবা অন্যকে অবৈধভাবে লাভবান করার মানসে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে আত্মসাতের অভিপ্রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় ২,০০,০০,০০০ ( দুই কোটি) টাকা, যা সুদসহ ২,১০,৭১,৬৪৩/৮০ টাকা আত্মসাত করে আত্মসাত করায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ দঃবিঃ ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নং আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করায় (১) বেগম খালেদা জিয়া , সাবেক প্রধানমন্ত্রী , স্বামী মরহুম জিয়াউর রহমান, ঠিকানা-৬,শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা। (২) তারেক রহমান, পিতা- মরহুম জিয়াউর রহমান,ঠিকানা-৬, শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস ,ঢাকা। (৩) মমিনুর রহমান , পিতা -মৃত মমতাজুর রহমান তরফদার , ঠিকানা- ২১৩,এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি (নিউ মার্কেট থানা), ঢাকা।বর্তমান ফ্ল্যাট নং ৫০২, প্লট নং -৮/এ রোড, নং -৪, গুলশান-১, ঢাকা। (৪) কাজী সলিমুল হক, ওরফে কাজী কামাল, সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য, পিতা- মৃত কাজী আকরামুল হক, ঠিকানা-৭১০ বড় মগবাজার,ঢাকা,বর্তমানে ফ্ল্যাট নং -২/ডি, বাড়ি নং -৫, গোল্ডেন ক্রেস্ট, রোড নং -৮, গুলশান-১।স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম-বামনখালী, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা, (৫) সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ, পিতা- শরফুদ্দিন আহমেদ, ঠিকানা- ৭১২, বড় মগবাজার,থানা- রমনা, ঢাকা। (৬) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, পিতা -মৃত শাহাব উদ্দিন, ঠিকানা -৭১২ , বড় মগবাজার,থানা – রমনা, ঢাকা। (৭) শরফুদ্দিন আহমেদ, পিতা – মৃত শাহাব উদ্দিন আহমেদ,ঠিকানা- ৭১২ বড় মগবাজার ,থানা- রমনা, ঢাকা গণের বিরুদ্ধে আপনার থানায় বর্ণিত ধারায় একটি মামলা রুজু করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ঘটনার সাথে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্তকালে তা দেখা হবে।তদন্ত প্রতিবেদনের স্বাক্ষী ও আলামতের বিবরণ দেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন উক্ত মামলার তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

(হারুনুর রশিদ)
উপ-সহকারি পরিচালক (অনুঃ ও তদন্ত-৩)
দুর্নীতি দমন, কমিশন,প্রধান কার্যালয়,ঢাকা।

ঘটনাস্থলঃ প্রাইম ব্যাংক,নিউ ইসকাটন শাখা , রমনা, ঢাকা।
ঘটনার তারিখঃ ১৩-১১-১৯৯৩ হতে ২৮-০৩-২০০৭ইং
———————————————————————————–

এজাহারটি ৩রা জুলাই ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়।

এইবার এজাহারটি ব্যবচ্ছেদ করার পূর্বেই ছোট্ট একটি দৃশ্যকল্প কল্পনা করা যাক।মনে করুন আপনাদের গ্রামে এক ব্যক্তি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।সদ্য নির্বাচিত সেই চেয়ারম্যান সাহেবের এক বন্ধু আছেন, যিনি কিনা আমেরিকা প্রবাসী।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাস ছয়েক পর প্রিয় আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত অনুদান পেলেন।টাকাটা যেহেতু চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত একাউন্টে এসেছে, তাই খরচও করবেন ব্যক্তিগত নিয়মে, সরকারি নিয়মে নয়! এই ব্যক্তিগত অনুদান পাওয়া টাকাটা যদি চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের এলাকায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন তবে আপনি চেয়ারম্যান ও তার প্রিয় বন্ধুর প্রতি খুবই খুশি হবেন।কিন্তু যদি এমন হয় যে, চেয়ারম্যান সাহেব প্রিয় বন্ধুর পাঠানো টাকাটা যেখানে দান সেখানকার দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তারা টাকাগুলো আত্মসাত করে থাকেন তবে চেয়ারম্যানের নামে কোন অভিযোগ অথবা মামলা দিবেন কি????

এইবার উপরের দৃশ্যকল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর পরিবর্তে কুয়েতের আমীর, চেয়ারম্যানের জায়গায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জায়গায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট বা অন্য যে কোন ট্রাস্ট…….. হোক সেটা বঙ্গবন্ধু মেমরিয়াল ট্রাস্ট কল্পনা করুন।বন্ধু হিসেবে পাওয়া কুয়েতের আমীর পক্ষ থেকে পাওয়া ১২ লক্ষ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ইচ্ছামাফিক ব্যক্তিগতভাবেই ট্রাস্টের কল্যানে ব্যয় করেছেন। টাকাগুলো যেসব ট্রাস্টগুলোতে ব্যয় করা হয়েছে, সেসবের একটিও তিনি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না।তাই ট্রাস্টগুলো পরিচালনার দায় দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাস্টের তহবিলের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর জবাবদিহিতার প্রশ্নই আসে না!

কোথাও দান করার পর সেখানে কোনরূপ দুর্নীতি হলে এর প্রধান দায়ভার যদি দাতাকেই বহন করতে হয় তবে এখন থেকে আপনি বুঝে শুনে মসজিদ –মাদ্রাসা, বন্যাদূর্গত এলাকায় অথবা রোহিংগাদের দান করবেন।তা না হলে যেখানে দান করেছেন সেখানে কোন দূর্নীতির অভিযোগ হলে আপনিই হবেন এক নম্বর আসামী।এইটা আপনি অবাস্তব আর উদ্ভট চিন্তা কল্পনা করলেও বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে ঠিক এমন অন্যায় কাজটাই হয়েছে!!!!

এবার আসা যাক, দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের প্রশ্নে।গত ১০টি বছর “এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার” দোয়োধ্বনি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।এই উচ্য গলাবাজিতে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, সত্যিই বোধ হয় দুর্নীতি হয়েছে।দুর্নীতির এই কালো বিড়ালটা খুঁজতে চাইলে শুধু গলাবাজিতে বিশ্বাস নয়, পোস্টের বাকি অংশগুলো ধৈর্য্য ধরে পড়ুন প্লিজ!টাকা লেনদেনের দিকে চোখ রাখলেই দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের চিত্রটা আপনার সামনে ফুটে উঠবে।

এজাহারেই উল্লেখ আছে, কুয়েতের আমীরের পক্ষ হতে ব্যক্তিগত অনুদানে পাওয়া টাকাটা দুইটি চ্যারিটি ফান্ডে ভাগ হয়েছিল।এজাহারে বাগেরহাটে চ্যারিটি ফান্ডে ব্যয় করা টাকাটা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তোলেনি।তবে যে টাকা সম্পর্কে এত অভিযোগ, সেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ১৩-১১-১৯৯৩ সালে ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান পেয়েছিল।এজাহারেই উল্লেখ আছে, এই টাকাটা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক,গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখার এসটিডি হিসাব নং-৭ এ গত ১৫-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে জমা হয়।উক্ত একাউন্ট থেকে বিগত ০৪-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০১ এর মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা উত্তোলিত হয়। সেই উত্তোলতিত টাকা দিয়ে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করা হয়েছিল।অবশিষ্ট টাকাগুলো ব্যাংকেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকুলে ব্যাংকেই অব্যায়িত অবস্থায় থাকে এবং তা ১২-৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত সুদে আসলে ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯ হাজার ৭ শত ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা হয়।পরবর্তীতে এই টাকা ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে মোট ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার ৫ টি FDR হয়।FDR গুলো জিয়া অরফানেজ এর নামে প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখায় রাখা হয়।
১ম FDR: ৫০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ১৩/০৪/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৭
২য় FDR: ১ কোটি টাকা। তারিখ: ১৫/০৫/২০০৬; চেক নংঃ৪৮৮২৪০৪
৩য় FDR: ১ কোটি টাকা। তারিখ: ১৫/০৫/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৬
৪র্থ FDR: ৫০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ০৪/০৭/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৮
৫ম FDR: ৩০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ০৫/০৭/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৩

এইবার পর্যায়ক্রমে এসব FDR এর টাকাগুলোর পরবর্তী গন্তব্য পর্যবেক্ষন করি। উপরে উল্লেখিত ৫ টি FDR এর প্রথমটি অর্থাৎ ১৩/০৪/২০০৬ তারিখের ৫০ লক্ষ টাকার FDR টি কাজী সলিমুল হককে দায়িত্ব দিয়ে তার নামে একটি ব্যক্তিগত FDR নগদায়ন করা হয়।পরবর্তীতে তার নামে করা এই ব্যক্তিগত FDR টি ১৬/০৭/২০০৬ তারিখে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে পুনয়ায় নগদায়ন করা হয়।এছাড়াও উপরে আলোচিত ৪র্থ ও ৫ম FDR ২ টি একত্র করে ৯/৭/২০০৬ সালে ৮০ লক্ষ টাকার ১ টি FDR জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামেই খোলা হয়। পরবর্তীতে ৫০ লক্ষ টাকা ও ৮০ লক্ষ টাকার দুই টি পৃথক FDR দুইটি এস. এম রহমানের নামে ব্যক্তিগত দুইটি FDR খোলা হয় এবং তাকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। উক্ত FDR দুইটি গুলশান শাখায় মামলা করা মুহুর্ত পর্যন্ত তখনও চলমান ছিল।এই ফাঁকে একটি কথা সবাইকে জানিয়ে রাখি, ট্রাস্টের দুইটি FDR পরিচালনাকারী জনাব এস এম সাহেবের নামে কোন মামলা হয় নি।এই থেকে পরিষ্কার ভাবেই প্রমাণ হয় ট্রাস্টের এই টাকাগুলো কারও ব্যক্তিগত অধীনে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়াটা আইনগত প্রশ্নের উর্ধ্বে।তাই যারা শুরুতে এজাহারটি পড়ে ট্রাস্টের টাকাগুলো ব্যক্তিগত FDR তৈরি করা নিয়ে আইনগত বৈধতার সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাদের এই প্রশ্নগুলো প্রশমিত হয়ে গেছে নিশ্চয়ই!

এবার ফিরে যাই ২য় ও ৩য় FDR এর টাকার সন্ধানে।যে গুলো প্রত্যেকটি ছিল ১ কোটি টাকা হিসেবে মোট দুই কোটি টাকার পৃথক দুইটি FDR । আপনারা সবাই এতক্ষনে এজাহার পড়েই এই টাকার গন্তব্য জেনেছেন! এই গুলো এক সময় সলিমুল হক, সৈয়দ আহমেদের নামে ব্যক্তিগত FDR ছিল। পরবর্তিতে এই টাকার একটি FDR গিয়াসউদ্দিনের নামে ৭/০২/২০০৭ তারিখে ১ কোটি ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৬৫ টাকা নগদায়ন হয়।একই তারিখে ১ কোটি ৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৯ শত ৫৭ টাকা আরেকটি FDR নগদায়ন হয়।অর্থাৎ গিয়াসউদ্দিন সাহেবের নামে সর্বমোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬ শত ৪৩ টাকা ব্যক্তিগত FDR হিসেবে ট্রাস্টের টাকা পরিচালনার জন্য জমা হয়।

পরবর্তী সপ্তাহখানেক পর গিয়াসউদ্দিন সাহেব ১৫ /০২/২০০৭ তারিখে আলাদা আলাদা ৬ টি পে অর্ডারের মাধ্যমে সবগুলো টাকাই উত্তোলন করেন।টাকাগুলো উত্তোলনের ঠিক ২০ দিন পর ৭ ই মার্চ ২০০৭ সালে ট্রাস্টের সেটেলর জনাব তারেক রহমানকে ১/১১ সরকার গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ২৮/০৩/২০০৭ সালে গিয়াসউদ্দিন সাহেব কর্তৃক উত্তোলিত সমস্ত টাকাই শরফুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির চলতি হিসাবে জমা হয়।

এই পর্যায়ে শরফুদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত চলতি হিসাবে টাকাগুলো জমা হওয়ার কারন অনুসন্ধান করা যাক। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের টাকাগুলো এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিগণ আশুলিয়ায় জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের নামে ৭৬ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন।সেই কারনে গিয়াসউদ্দিন সাহেব কর্তৃক উত্তোলিত টাকাগুলো জমির মালিক শরফুদ্দিনের ব্যক্তিগত চলতি হিসাব এ জমির দাম বায়না স্বরুপ পুরো টাকাটাই জমা করে দেন।কথা ছিল, জমির মালিক তার জমি উন্নয়ন করে দেওয়ার পর জমিটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে রেজিস্ট্রি করা হবে।

তারেক রহমান জেলে থাকায় সেই জমিটি বায়নার পর আর রেজিস্ট্রেশন সংগত কারনেই সম্ভব হয় নি।ট্রাস্টের কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতায় জমির মালিক বায়নার টাকাগুলো পুরোটাই সুদে আসলে ট্রাস্টে ফিরিয়ে দেন। জনাব তারেক রহমান জেল থেকে ছাড়া পান ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখ এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যান ১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখ। মুক্তি পাওয়ার আগেই ১/১১ সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন ৩ রা জুলাই ২০০৭ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ১নং আসামী এবং তারেক তারেক রহমান ২ নং আসামী করে মামলা দায়ের করে।

পরিশেষে……
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধুমাত্র বগুড়া জেলার গাবলতলী থানাধীন দাড়াইল মৌজায় সেই ১৯৯৩ সালে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ২ দশমিক ৭৯ টাকায় জমি ক্রয় ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে একটি পয়সাও ব্যয় হয়নি।উপরোন্ত সকল টাকা ট্রাস্টের অধীনে ব্যাংকেই আছে, যা সুদে আসলে আজ ৬ কোটি টাকার অধিক হয়েছে।যেখানে টাকা ব্যয়ই হয়নি, সেখানে টাকা আত্মসাতের প্রশ্ন আসে কিভাবে?

লিংকঃ টাকাই খরচ হয়নি মামলা কিসের? http://bit.ly/2EkJO6s

মাননীয় আদালত, এইটা বাচ্চাদের কানামাছি খেলা নয়, যেখানে ” কানা মাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছো “। আর ছুইলে চোর! কাজীর গরু কেতাবে যেমন আছে, গোয়ালেও আছে তেমনি! তো এত হয়রানি কিসের??

লেখক: Jamil Sikder Sazzad

Content Protection by DMCA.com

সুপ্রিম কোর্টে জেনারেল আকবরের ফের হানা : সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ!

২২ আগস্টের আপিল বিভাগের রায়প্রকাশ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং বঙ্গভবনে। জেনারেল আকবরের অযাচিত হস্তক্ষেপে থমকে দাড়িয়েছে প্রকৃয়া।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আজ ভাষণ দিয়ে রায় সম্পর্কে জাতিকে জানানোর কথা ছিল । এ উপলক্ষে ভাষণ রেকর্ডও সম্পন্ন হয়। তবে এর মাঝখানে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর শুরু হওয়ার কারনে ভাষণ সম্প্রচার পিছানো হয়। আজ দুপুরের পর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তার দলবল নিয়ে প্রথমে সুপ্রিম কার্টে হানা দেয়। ওখানে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়াকে না পেয়ে বঙ্গভবনে খুঁজে বের করে। সেখানে আকবর বিচারপতি ওয়াহাবকে রায় ঘোষণা না করতে চাপ প্রয়োগ করেন, এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্প্রচার বন্ধ করতে বলেন। বিচারপতি ওয়াহহাব ও আকবরের মধ্যে উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়।

ইতিমধ্যে সেনাপ্রধানকে আকবরের কথা জানানো হলে জেনারেল বেলাল ছুটে আসেন বঙ্গভবনে। সেনাপ্রধান মেঃজেঃ আকবরকে চার্জ করেন- কোন ক্ষমতাবলে তিনি বঙ্গভবনে এসে এসব কান্ড করছেন। সেনাপ্রধান ভৎর্সনা করে বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি আনুগত্য করি, কোনো ব্যক্তির না।’ রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে পরে সিদ্ধান্ত হয় বিদেশী মেহমান দেশ ছাড়ার পর ভাষণ সম্প্রচার ও রায় বাস্তবায়নের সকল প্রকৃিয়া সম্পন্ন হবে।

জেনারেল আকবরের ফের তৎপরতার খবর জানাজানি হয়ে পড়ায় সেনানিবাস ও বিচারাঙ্গনে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি থমথমে।

Content Protection by DMCA.com

জাবেদ পাটোয়ারীকে আইজি করায় পুলিশ বাহিনীতে বিদ্রোহের আশংকা

দীর্ঘদিন পরে পুলিশ বাহিনীতে গোপালীদের আধিপত্য খর্ব হতে যাচ্ছে। তিন দিন আগে জাবেদ পাটোয়োরীকে পরবর্তী পুলিশ মহাপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। তাঁবর বাড়ি চাঁদপুরে। তবে জাবেদকে আইজিপি করা নিয়ে আওয়ামী ঘরানার বিশেষ করে গোপালী পুলিশ কর্তারা দারুণ বিক্ষুব্ধ। বেনজির মনিরের মত সিনিয়র অফিসাররা উচ্চ বাচ্য করছে। গ্রুপে গ্রুপে মিটিং করছেন তারা। পুলিশ বাহিনীতে বিদ্রোহের আশংকা দেখা দিয়েছে।

বিসিএস ৮৪ ব্যাচের প্রথম কর্মকর্তা জাবেদ পাটোয়োরী এতকাল বিএনপি ঘরানার কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু হঠাৎ এই কর্মকর্তাকে আইজিপি করায় এতকাল ধরে আওয়ামী লীগকে সার্ভিস দেয়া দলবাজ কর্মকর্তারা ক্ষোভে আতঙ্কে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, আগের আইজির মত জাভেদ পাটোয়ারীর কাছ থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে না। অনেকেই পদ হারানো এবং শৃঙ্খলা মামলায় পড়ার আশঙ্কা করছেন। বেনজির, মনিরুল, হারুনরা প্রকাশ্যেই হুমকি দিচ্ছেন বিদ্রোহের।

আইজিপি পদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিলেন ৮৪ ব্যাচের মোখলেসুর রহমান, ৮৫ ব্যাচের বেনজির আহমেদ ও আসাদুজ্জামান। এর আগে শহীদুল হককে আইজিপি করার সময়ও নির্ভরযোগ্য মনে না করায় জাবেদ পাটোয়োরীকে সুপারসিড করা হয়। এবারে এমন কি কান্ড হলো যে জাবেদকে আইজিপি করতে হবে? অনেকেই মনে করছেন বাইরের কোনো শক্তি এই নিয়োগ দিয়েছে।

ডঃ জাবেদ পাটোয়োরী কখনই আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তা হিসাবে পরিচিত ছিল না। তবে আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের বাড়াবাড়ি দেখে জাবেদ কৌশলে আগাতে থাকেন। এসবির দায়িত্বে থাকার সময় তিনি মহাফেজখানায় খুঁজে পান পাকিস্তান আমলে জেলখানায় শেখ মুজিবের বিভিন্ন দলিল ও চিঠিপত্র। ক্লাসিফাইড এসব ডকুমেন্টকে বাইরে নিয়ে আসেন জাবেদ। সেগুলো কপি করে পুস্তক আকারে শেখ হাসিনার কাছে হাজির করেন। সেখান থেকে পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। এ কীর্তির ফলে শেখ হাসিনার কাছে পয়েন্ট বেড়ে যায় জাবেদের। অফিসিয়াল সিক্রেসি আইন ভেঙে জাবেদের এই তেলবাজির কথা পুলিশ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা জানা ছিল্ কিন্তু জাবেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করে তার ভাগ্যে আইজিপির শিকা ছিড়ে!

Content Protection by DMCA.com

গণশত্রুদের তালিকা-১

ক্যাটাগরি: পিলখানায় সেনা হত্যা:
১. শেখ হাসিনা
২. জেনারেল (অবঃ) মইনউদ্দিন আহমদ
৩. ফজলে নূর তাপস
৪. শেখ সেলিম
৫. সজীব ওয়াজেদ জয়
৬. জাহাঙ্গীর কবির নানক
৭. মির্জা আজম
৮. হাসানুল হক ইনু
৯. সাহারা খাতুন
১০. সোহেল তাজ
১১. হাজী সেলিম

ক্যাটাগরি: খুন গুম:
১২. তারিক সিদ্দিক
১৩. আকবর হোসাইন
১৪. বেনজির আহমেদ
১৫. মনিরুল ইসলাম
১৬. শহীদুল হক
১৭. মো. আছাদুজ্জামান মিয়া
১৮. মাহফুজুর রহমান নূরুজ্জামান
১৯. হারুন অর রশিদ
২০. বিপ্লব কুমার
২১. জলিল মন্ডল
২২. কৃষ্ণপদ দাস
২৩. জিয়াউল আহসান
২৪. এস এম মনিরুজ্জামান
২৫. মেহেদী হাসান

ক্যাটগরি: ব্যাংক লুটপাট, দুর্নীতি, রাষ্ট্রলুট:
৫. সজীব ওয়াজেদ জয়
২৬. ওবায়দুল কাদের
২৭. এডভোকেট কামরুল ইসলাম
২৮. শাজাহান খান
২৯. আসাদুজ্জামান খান কামাল
৩০. হাছান মাহমুদ
৩১. মাহবুবুল আলম হানিফ
৩২. শেখ হেলাল
৩৩. আ ক ম মোজাম্মেল হক
৩৪. মোহাম্মদ নাসিম
৩৫. জুনাইদ আহমেদ পলক
৩৬. তৌফিক এলাহী চৌধুরী
৩৭. আবদুর রহমান বদি
৩৮. সালমান রহমান
৩৯. আজিজ খান
৪০. ওবায়দুল করিম
৪১. আকবর সোবহান শাহআলম
৪২. সাইফুল আলম
৪৩. সিতাংশু সুর চৌধুরী
৪৪. মহিউদ্দিন খান আলমগীর
৪৫. সিদ্দিকী নাজমুল আলম
৪৬. কাজী বাহারুল ইসলাম
৪৭. শেখ আবদুল হাই বাচ্চু
৪৮. সুভাষ সিংহ রায়
৪৯. আবদুল মালেক
৫০. মোশাররফ হোসেন
৫১. মহিবুল হক
৫২. মাহবুবে আলম
৫৩. মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
৫৪. মোহাম্মদ এ আরাফাত

[৫৪ ধারা: ফৌজদারী কার্যবিধির এই ধারায় বলা হয়েছে, কেউ আমলযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে বা জড়িত থাকার যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে, আইনসঙ্গত অজুহাত ছাড়া কারও কাছে ঘর ভাঙার সরঞ্জাম থাকলে, সংবাদপত্র বা গেজেটের মাধ্যমে ঘোষিত অপরাধী হলে, প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে পালিয়ে গেলে, পুলিশের কাজে বাধা দিলে বা পুলিশের হেফাজতে থেকে পালিয়ে গেলে, দেশের বাইরে অপরাধ করে পালিয়ে এলে, চোরাই মাল থাকলে বা অন্য কোন থানা থেকে গ্রেফতারের অনুরোধ থাকলে যে কোন ব্যক্তিকে পুলিশ সন্দেহবশত গ্রেফতার করতে পারবে।]

Content Protection by DMCA.com

মুখ খুলতে যাচ্ছেন জেনারেল আকবর কতৃক নির্যাতিত নারীরা!

বিশেষ প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খোদ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনীতিবিদরা যখন এক এক করে ধরাশায়ী হচ্ছে নির্যাতিত নারীদের আক্রমনে, এর দেখাদেখি বাংলাদেশেও অনেক নির্যাতিত নারীরা মুখ খুলতে যাচ্ছে। কয়েকজন নির্যাতিত নারী একাট্টা হয়েছে সেনাবাহিনীর এক জেনারেলের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানাচ্ছে, নারী নির্যাতনের দায়ে এবার ধরাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন। অবশ্য জেনারেল এরশাদকে থাপড়ানো থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি সিনহার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কাগজে সই নেয়া অবধি বহু রংবাজির কারনে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আছে এই জেনারেল।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ১৩ লংয়ের ব্যাচমেটদের কাছে ‘আকবইর‌্যা’ হিসাবে পরিচিত এই আফিসারটি চীনে কোর্স করতে গিয়ে বাংলাদেশী এক বনেদি পরিবারের মেয়ের সাথে অঘোষিত সংসার করার পরে তাকে মেরে ফেলার ঘটনা সেনাবাহিনীর কলঙ্ক তিলক হয়ে আছে। এরপরে শেখ হাসিনার অধীনে চার বছর ডিজি ডিজিএফআই থাকাকালে শত শত রাজনৈতিক অপহরন, গুম, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে ছিলেন আকবর। মেজর জেনারেল আকবরকে গত মার্চে সাভারের নবম ডিভিশনের জিওসি করে বসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিওসি হয়েও আকবর খুনখারাবি, টাকা কামানোর ধান্দা, মদ ও নারী সঙ্গ ছাড়তে পারেনি আকবর। পদের অপব্যবহার করে নায়িকা সুমাইয়া শিমু, জয়া আহসান, পপি সহ শোবিজ জগতের বহু নারীর ইজ্জত লুটে নিয়েছে ১৮ ঘন্টা মাতাল থাকা আকবর। কয়েকমাস আগে কোলকাতায় গ্রান্ড হোটেলে জয়া আহসানের সাথে আকবরের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। নারী নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চার জন জেনারেলকে নিয়ে তদন্ত চলছে এমন খবরের পরে আকবরের দ্বারা নির্যাতিত নারীরা জোট বেঁধে আগাচ্ছেন।

অবশ্য কেউ কেউ মনে করে আকবরের কিছু হবেনা। কারন সে নাকি শেখ হাসিনার এক্স-বয়ফ্রেন্ড! এ নিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সেই আকবর আর এই আকবর এক ব্যক্তি নয়। যদিও দু’জনেই ডিজি ডিজিএফআই ছিলেন। ঐ সৌভাগ্যবান লেডি কিলার হলেন জেনারেল মোল্লাহ আকবর। যার সম্পর্কে মতিউর রহমান রেন্টু “আমার ফাঁসি চাই” পুস্তকের ২২৯-৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
…………. ‘মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহণযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি।”
অবশ্য, ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রেমিক মৃনাল কান্তি দাস এবং তারও আগে কর্নেল মোল্লা আকবরের সাথে হাসিনার গোপন অভিসারের বহু গোয়েন্দা রিপোর্ট জেনারেল এরশাদের স্টকে জমা আছে।

Content Protection by DMCA.com

২২ ডিসেম্বর আতঙ্কে ভুগছে আওয়ামী লীগ

আগামী ২২ ডিসেম্বর সরকারের পতন হচ্ছে- বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম জুড়ে খবরটি চাউর হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মন্ত্রী নেতা পাতিনেতারা এ নিয়ে অস্থির। কেনো ওবায়দুল কাদের এবং শেখ হাসিনার কাছ থেকে গোপন খবর আসতেছে- মার্চ/এপ্রিলে ইলেকশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে? সরকারের প্রোপাগান্ডা মেশিন বোরহান কবিরের ‘বাংলা ইনসাইডারও খবর লিখেছে- জানুয়ারীর এক তারিখের ভাষণে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা! সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের কাছেও খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে দেখা দিয়েছে ২২ ডিসেম্বর ২০১৭।

এই তারিখটি তারকা চিহ্নিত হয়ে আছে বর্তমান সংসদের ১৫৪ বিনাভোটের এমপিকে অবৈধ ঘোষণার রায় প্রকাশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (গ্যাগ অর্ডার) প্রত্যাহৃত হওয়ার সময় হিসাবে। রায়টি প্রকাশ হওয়ার পরে বর্তমান সংসদ এবং সরকার উভয়ই অবৈধ হয়ে যাবে। এরপরে গোটা দেশজুড়ে শুরু হবে বিশৃঙ্খলা। অবৈধ সরকার হঠাতে দেশজুড়ে লোকজন নেমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে অক্কা পেতে পারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

২২ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের ভেতরে ভেতরে সাজ সাজ রব। যদিও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ও তার কিছু চেলাচামুন্ডা নাকশতা ঘটিয়ে সেনা নামানোর পায়তারা করছেন, আবার পেছনে ভয়- যদি আর্মি কথা না শোনে!

অন্যদিকে ঢাকায় ডলারের দাম বেড়ে গেছে, এয়ারলাইন্স গুলোর কাউন্টারে ২২ তারিখের আগের টিকেট পাওয়া খুব কঠিন। সব বুকড অথবা সৌল্ড। লন্ডন আমেরিকা মালয়েশিয়া, কানাডায় হুন্ডির পরিমান বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক কেনেডি বিমান বন্দর, ওয়াশিংটন, হিথ্রো, টরোন্টোতে ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার ক্যাশ ডলার নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতাদের পরিবার সদস্যরা। প্রায় সকল আওয়ামী বিনাভোটের এমপি মন্ত্রি এবং অনেক জেলার নেতারা ইতোমধ্যে তাদের পরিবার সরিয়ে ফেলেছে। কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়া বা বিভিন্ন রেসিডেন্সি টাউনগুলি দারুন ব্যস্ত। আওয়ামীলীগ নেতা শেখ সেলিম তার পরিবার পাঠিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার হিউস্টনে, মাহবুবুল আলম হানিফ পরিবার সরিয়েছেন কানাডার বেগম পাড়ায়।

ইতোমধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছে র‌্যাবে থাকাকালীন হাজারো খুন গুমের জন্য দায়ী কর্নেল (পরে ব্রিগেডিয়ার) জিয়াউল আহসান। তাকে অনুসরণ করতে আরও শ’খানেক পুলিশ র‌্যাবের খুনি অফিসাররা প্রস্তুতি শেষ করে ফেলেছে। আগামী দু’ সপ্তাহে তারা সব পার হয়ে যাবে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্ছিত অবহেলিত হাজারো পুলিশ কর্মকর্তারা তৈরী হয়ে আছে, সুযোগ পাওয়া মাত্র সদ্ব্যবহারের। সবচেয়ে বড় খুনোখুনি হতে পারে পুলিশে।

Content Protection by DMCA.com

কেয়ারটেকার আসছে এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে

বিশেষ প্রতিবেদক
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসেই পটপরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। শপথ নিচ্ছে কেয়ারটেকার সরকার। অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও থামাতে ব্যর্থ হয়েছে হাসিনা।

গত ২২ আগস্ট ২০১৭ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সকল বিচারপতিদের সর্বসম্মত একটি রায়ে বর্তমান সংসদের বিনাভোটের ১৫৪ এমপিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এটি কার্যকর হলে বর্তমান সংসদের সাথে সরকারও অবৈধ হয়ে যাবে। জননিরাপত্তার কারনে রায়টি প্রকাশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (gag order) দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি ও কয়েকজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত রায় সম্পর্কে অবহিত আছেন। রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনার সরকার এ পর্যন্ত টালবাহানা করে তিন মাস প করে। এই রায় দেয়ার কারনে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য করেন বিনাভোটের দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, রায়টি অদ্যাবধি কার্যকর না করা হলেও রায় দেয়ার ১২০ দিন পরে গ্যাগ অর্ডার গ্যাগ অর্ডার আপনা আপনি উঠে যাবে। ফলে সংসদ ও সরকার অবৈধ হয়ে যাবে। সরকার অবৈধ হওয়ার পরে কেমন করে কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হবে তার রূপরেখা রায়ে বলে দেয়া আছে। সে অনুযায়ী চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে শপথ নিবে কেয়ারটেকার সরকার। এসব কারনে বিএনপি তাদের বহুল আলোচিত সহায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করেনি।

শপথ গ্রহণের পরে দেশের প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগ নতুন সরকারের প্রতি অানুগত্য পোষণ করে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

গ্যাগ অর্ডার (gag order) কনসেপ্টটি বাংলাদেশে নতুন হলেও পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গ্যাগ অর্ডার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধি বিধান জেনে বুঝেই রেফারেন্স সহ তা প্রয়োগ করেন। তবে শেখ হাসিনা ও তার আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ও আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলালের বাড়াবাড়ির ফলে গত তিনমাস যাবৎ সুপ্রিম কোর্টের উপর সরকারের চরম আক্রোশ ও জুলুম লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিচার বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা অনেক কৌশল অবলম্বন করে বিচার বিভাগের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তবে শেখ হাসিনাকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে কেয়ারটেকার সরকারে তার পছন্দের দু/একজন লোক দিতে। এখন তিনি সুযোগও হেলায় হারিয়েছেন।

তবে এই রায় প্রকাশের আগে শেখ হাসিনা চেষ্টা করছিলো, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তথাকথিত অরফানেজ দুর্নীতির মামলায় সাজা ঘোষণা করে সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন দিতে। কিন্তু সে কাজও এখন আর সম্ভব নয়। যদিও এ লক্ষ্য নিয়েই ডিসেম্বরের ৫,৬,৭ তারিখে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শেষ করার সময় নির্ধারন করে বিশেষ বিচারক ডঃ আখতারুজ্জামান। কিন্তু আনুষাঙ্গিক সকল বিষয় বেগম খালেদা জিয়া অবহিত আছেন, ফলে তার কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয় সরকারের কৌশল। অবশেষে যুক্তিতর্কের তারিখ পূনঃনির্ধারিত হয়েছে ১৯-২১ ডিসেম্বর। উল্লেখ করা যায় এই ১৯ ডিসেম্বরই হচ্ছে গ্যাগ অর্ডার শেষ হওয়ার ১২০তম দিন। তাছাড়া ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রবাসী সরকার বাংলাদেশে প্রতাবর্তন করেছিল। তাই ২২ তারিখেও নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। সূত্র জানায়, নতুন সরকার শপথ নেয়ার পরে বেগম জিয়ার মামলার গতিও বদলাবে।

এ ছাড়া হাসিনার দ্বিতীয় চেষ্টা ছিল, দেশে অশান্তি বাধিয়ে তার অনুগত জেনারেলদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আপাতত সরে দাড়ানো। কিন্তু সেনাপ্রধানের ভাই মেয়র আনিসুল হকের রহস্যজনক মৃত্যুর সাথে শেখ হাসিনার সরকারের যোগসূত্র থাকার ফলে সে চেষ্টাতেও সাড়া মিলছে না। তাছাড়া মাঠে নামার জন্য সরকারের শত উস্কানি সত্ত্বেও বিএনপি চেয়ারপারসন যথেষ্ট সতর্ক আছেন। কোনো অবস্থাতেই দেশে হানাহানির পরিবেশ তৈরী হতে দিবেন না।

নতুন সরকার গঠন হলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশে ফিরে আসবেন এবং নিজ দায়িত্বে ফিরে যাবেন।

Content Protection by DMCA.com
1 27 28 29 30