প্রথম আলোর বেলা শেষের গান: এক মেয়াদেই আঙুল ফুলে কলাগাছ আ.লীগের অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি

Content Protection by DMCA.com

জন ভীতিতে ভুগছে বিনা ভোটের অবৈধ সরকার: বেপরোয়া ধরপাকড় করে নিজেরাই আতঙ্ক বাড়াচ্ছে!

আজ সোমবার দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সিলেট যাওয়ার পথে অভ্যর্থনা জানানোর সময় প্রচুর নেতকর্মীকে আটক করা হয়।

এ ছাড়াও দেশের উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়ও বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। বিভিন্ন জেলার আটক ও গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এতে দেখা যায় সারা দেশে সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

গত ৩ ফেব্রয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা চলাকালে ও সভা শেষে আটক করা হয় ৩৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে । এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে নাশকতার আশঙ্কায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে কুমিল্লায় ২০, বগুড়ায় ২০, মেহেরপুরে ১০, মানিকগঞ্জে ২৬, ময়মনসিংহে ৭৬, সাভারে ১৬ ঝিনাইদহে ৬৯, চাঁদপুরে ১৭, নারায়নগঞ্জে ১০সহ সারা দেশে প্রায় আট শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমিত, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, গণশিক্ষাবিষয়ক সহসম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেনসহ নেতাকর্মীরা।

দেশজুড়ে গণগ্রেফতারের আংশিক তালিকা:

 
বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাসুকুর রহমান মাসুককে গত ০৩ ফেব্রুয়ারী গুলশান থেকে গ্রেফতার করে। এখন পর্যন্ত পুলিশ তার গ্রেফতারের কথা স্বীকার করছে না।
 গুলশান থেকে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনকে গত ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ গ্রেফতার করা হয়। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মোঃ আলী আজম জালালকে গতকাল গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ রাস্তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে দাঁড়ালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা এ্যাডঃ আনোয়ার হোসেন, সাইফুদ্দিন, সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ইসরাফিল, কাঁচপুরের দেলোয়ার হোসেন, সাগীর হোসেন, জেলা মহিলা দলের নেত্রী রহিমা শরীফ মায়াসহ কমপক্ষে ৪৪ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার।
নারায়ণগঞ্জে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালসহ বহু নেতা-কর্মীর বাড়ীতে পুলিশ অভিযান চালায়। সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বাড়ীতে বাড়ীতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন রুপনগর থানা বিএনপি নেতা মোক্তার হোসেন, খালেদ বিন রনি, পল্লবী থানা বিএনপির নেতা রনি, জসিম, মাহবুব, মাহবুব-২, ইমরান হোসেন সানি, নাসির উদ্দিন মিলন, নিজাম উদ্দিন জসিম, মোঃ মঈনউদ্দিন, সোলায়মান, মনিরুজ্জামান, সোলায়মান, শাহীন, আকাশকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

 
নরসিংদীঃ
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেট যাবার পথে তাঁকে অভর্থনা জানাতে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ সানাউল্লাহ মিয়া নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালে পুলিশ সানাউল্লাহ মিয়াকে গ্রেফতার করে। খালেদা জিয়ার গাড়িবহর নারায়ণগঞ্জ পেরিয়ে নরসিংদী হয়ে যাওয়ার সময় সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন বলেন, তাদের চেয়ারপারসনের গাড়িবহর নরসিংদী পার হওয়ার সময় বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে নরসিংদী শহর, মাধবদী ও শিবপুর থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়াসহ ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে বেলা সোয়া ২টার দিকে সানাউল্লাহ মিয়া টেলিফোনে বলেন, আটক করার পর কয়েক ঘণ্টা রেখে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। আরো গ্রেফতার করা হয়-জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মোল্লা, শহর বিএনপি সভাপতি গোলাম কবির কামাল প্রমূখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ও বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ অলিউর রহমান, সহ-সভাপতি আবদুল হাই, আবুল কালাম আজাদসহ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে এবং বাসায় বাসায় তল্লাসীর নামে তান্ডব চালাচ্ছে। সাবেক এমপি সরদার সাখাওয়ার হোসেন বকুলের বাড়ীতে পুলিশ তল্লাসী চালায়।
এছাড়া রায়পুরা উপজেলা মরল বাসস্ট্যান্ডে ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ হাজার লোক সমাগত হয়। সেখানে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করে এবং ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলসহ ৫০/৬০ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করে।
 
মুন্সিগঞ্জঃ
শ্রীনগর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, গজারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসহাক চেয়ারম্যান, টংগীবাড়ী যুবদল নেতা সোহেল মুন্সি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কবির হোসেন মিঠুসহ অন্তত: ১৪ জন গ্রেফতার।
ঢাকা জেলাঃ
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাককে ১নং আসামী করে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করেছে। ঢাকা জেলাধীন নবাবগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ রুবেলসহ ৪ জন গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গুলশান থানা ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ গ্রেফতার।


কিশোরগঞ্জঃ
গতকাল সোমবার সকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা অভ্যর্থনা জানাতে আসলে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো: মাজাহারুল ইসলাম, ভৈরব উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ভিপি মো: বাহার মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তারিকুজ্জামান পারনেল, জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী এডভোকেট কবিতা খানম, ভৈরব পৌরযুবদল নেতা মাসুদকে আটক করে পুলিশ।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ ৩৫ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার।

মানিকগঞ্জঃ

শিবালয় থানা সভাপতি লাল বেপারী, হরিরামপুর থানা যুবদল নেতা রুমি, সিংগাইর যুবদল নেতা মিঠু, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুল খালেক গ্রেফতার। 

ফরিদপুরঃ
বোয়ালমারী থানা পুলিশ গত রোববার রাতে ছাত্রদল নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ উত্তরঃ
ফুলপুরের সাবেক এমপি শাহ শহীদ সরোয়ারের বাসা ঘেরাও করে ছাত্রদল নেতা মহিবুল হক টুটুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপি নেতা কর্মীদের বাড়ি ঘরে পুলিশের বিশেষ অভিযান চালানো হয়।

 
পাবনাঃ
ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সহ ১১ জন গ্রেফতার।
 
বগুড়াঃ
জেলার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুল গফুর, সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সুমন, কাহালু উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মান্নান, ছাত্রদল নেতা জাকির ও মিলনসহ অন্তত: ১৩ জন গ্রেফতার।
দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশ গত রোববার রাতে উপজেলার চৌমুহনী বাজার এলাকার একটি চাতালে অভিযান চালিয়ে বিএনপি, ছাত্রদলের ৩ নেতাকে আটক করেছে।
আদমদীঘিতে থানা পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে শ্রমিক দলও সেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ বিএনপির তিন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারসহ ১২ জনের নাম উলেখ করে এবং ৪২ জনকে অজ্ঞাত করে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা পুলিশ জামায়াত বিএনপির ৩ নেতা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

নীলফামারীঃ
বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সাত নেতাসহ ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গাইবান্ধাঃ
পলাশবাড়ী থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবদুল মোতালেব সরকার বকুল সহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুড়িগ্রামঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুরে যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পুলিশ নাশকতার আশঙ্কায় অভিযান চালিয়ে পৌর শহর এলাকা থেকে আটক করেন।

শেরপুরঃ
পুলিশের বিশেষ অভিযানে শেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: হযরত আলীসহ যুবদল ও ছাত্রদলের ৫ নেতা আটক হয়েছে। গতকাল বিকেলে শেরপুর জেলা শহরের শিংপাড়া মহল্লার তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। কি কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানায়নি পুলিশ।


নড়াইলঃ
জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জুলফিকার আলী গ্রেফতার।
 
ঝিনাইদহঃ
জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মজিদ গ্রেফতার। জেলার ৬ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদলের কেসি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার সভাপতি আব্দুস সালামসহ বিএনপি ও জামায়াতের ৬৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে ২০ জন, মহেশপুর থেকে ১৭ জন, কোটচাঁদপুরে ৭ জন, কালীগঞ্জে ৫ জন, শৈলকুপায় ১৫ জন ও হরিণাকুন্ডু উপজেলা থেকে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল ঝিনাইদহ জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সাজেদুর রহমান পাপ্পুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এই নিয়ে ঝিনাইদহ পুলিশ সোমবার বিএনপি জামায়াতের ২৪ নেতাকর্মী সহ ৭১ জনকে গ্রেফতার করলো। 
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল মতিন লিটনসহ ১১ নেতাকর্মী।
চুয়াডাঙ্গাঃ
গত ০৩ ফেব্রুয়ারী লা মেরিডিয়ান হোটেলের সামনে থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাইফুর রশিদ ঝন্টুকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সিলেটঃ
গোলাপগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান আহমেদ খানসহ ৩ জন গ্রেফতার।

হবিগঞ্জঃ
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ মুশফিক আহমেদ এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ ৪ জনের অধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার।

মৌলভীবাজারঃ
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ ফয়সল আহমেদ, জেলা যুবদল সদস্য সাজু মিয়া মেম্বার গ্রেফতার।

কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ গত রোববার রাতে নাঙ্গলকোট হাসান মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদল সভাপতিকে ও ছাত্রদল নেতাকে নাঙ্গলকোট পৌর বাজার থেকে গ্রেফতার করেছে। নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ পেড়িয়া ইউনিয়ন অফিসে হামলা মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরঃ
বিভিন্ন উপজেলা থেকে রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন- রামগতি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব, সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন খালেদ, বাংঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার বিএনপি কর্মী রুবেল হোসেন, কমলনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নূরউদ্দিন, রামগঞ্জ পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি নাজমুল ইসলামসহ বিএনপি-যুবদল ও জামায়াতের ১১ নেতাকর্মী।

চাঁদপুরঃ
চাঁদপুর জেলার আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ১৭ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার মধ্যরাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত ১৭ জনের মধ্যে চাঁদপুর শহর জামায়াতের সাবেক আমির ও সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাদের বেপারী, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মিয়াজী, মহামায়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বেপারী ও হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান রানা রয়েছেন। সম্ভাব্য আটক এড়াতে অনেকে গা ঢাকা দিচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়াঃ

বিজয়নগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মিয়াব আলী, বিএনপি নেতা মোঃ ইয়াহিয়া, মোঃ নিজাম উদ্দিন, ছাত্রদল সহ-সভাপতি মোঃ খোকন, সদর উপজেলার শুহিল ইউপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, ছাত্রদল নেতা কনু গ্রেফতার।

নোয়াখালীঃ
বিশেষ অভিযান চালিয়ে নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির’সহ ১১জন জামায়াত বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধরপাকড় করছে পুলিশ। উপজেলা যুবদলের সভাপতিসহ ৯জন গ্রেফতার।

ফেনীঃ
ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউপি ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এম এ হাসান পারভেজ, ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন পাঠান নগর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আজাদ, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন,পৌর যুবদল নেতা মিন্টু গ্রেফতার।
সারা দেশের ন্যায় সোনাগাজীতে ও গ্রেফতার অভিযানে গত রোববার রাতে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন ২জনকে আটক করা হয়।

বরগুনাঃ
আমতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মনির হোসেন হাওলাদার গ্রেফতার।

কক্সবাজারঃ

কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার এর নেতৃত্বে পর্যটন শহর কক্সবাজারের বিভিন্নস্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসময়  সর্বমোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।

 
চট্টগ্রামঃ
ফটিকছড়ি উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেফতার করছে পুলিশ। এপর্যন্ত ১১জনকে গ্রেফতার এবং আরো অর্ধশত বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীর বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছে। বাগান বাজার থেকে বিএনপি নেতা ওহিদুর রহমান(অদু সওদাগর) ও আবু মেম্বার, দাঁতমারা থেকে ভূজপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন বাচ্চু, বিএনপি নেতা আবুল খায়ের, যুবদল নেতা হাবিব ও নুরুল ইসলামকে কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

সিলেট যাবার পথে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গাড়ীবহরকে বাধা দিতে কাঁচপুর ব্রীজ মোড়, চিটাগাং রোড, গাউছিয়া বাজার, সিনহা টেক্সটাইল, মাধবদী, তারাবো চৌরাস্তা, রুপগঞ্জ বাজার পর্যন্তু রাস্তার দুধারে সকাল ৮ টা থেকে সাদা পোষাকে পুলিশ, র‌্যাব, আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী মহড়া দিচ্ছে, পুলিশের সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয়-রাস্তার দু’পাশে সকল দোকানপাট বন্ধ, বিএনপির নেতাকর্মীদের কাউকে দাঁড়াতে রাস্তায় দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন যেন পুলিশ কারফিউ জারী করেছে।

 

বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে ব্যাপকহারে গ্রেফতার এবং নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় লাগাতার তল্লাশীর ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবিলম্বে সরকারকে এধরণের অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক আচরণ থেকে সরে আসার আহবান জানান। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করেন রিজভি।
Content Protection by DMCA.com

৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের টাকা লোপাটের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী সংস্থা!

বিশেষ রিপোর্ট :
৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮। ২০১৬ সালের এইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে লুট করা হয় ৮ শ ১০ কোটি টাকা (বৈদেশিক মুদ্রার হিসেবে আট কোটি ১০ লাখ ডলার)। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আটশ ১০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেলেও ধরাছোয়ার বাইরে ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। শেখ হাসিনার অনিচ্ছাসত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করলেও গত দুই বছরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের প্রধান সন্দেহভাজন আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়কে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। শুরু থেকেই এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন শেখ হাসিনা, তার ব্যাংক ডাকাত পুত্র জয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ডক্টর আতিয়ার রহমান। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী ৮ শ ১০ কোটি টাকা লুট হলেও এ ঘটনা ২৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রাখতে সক্ষম হন শেখ হাসিনা। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লুটের আলামত নষ্ট করতে কাউকে না জানিয়েই গোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় ভারতীয় নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু রাকেশ আস্তানার হাতে। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রূয়ারি ফিলিপাইনের দ্যা এনকোয়েরার পত্রিকা এবং একটি টেলিভিশনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাটি নিয়ে ওইদেশে রিপোর্ট প্রকাশ করলে বাংলাদেশেও ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়।

দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে একটি অতি গোপানীয় প্রতিবেদন তৈরী করে। একটি বিশেষ সূত্রে এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লুটে নেয়া হয়। এ ঘটনা সাইবার হ্যাকিং ছিলোনা। এটি ছিল সুইপ্ট কোড ব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় ডিজিটাল উপায়ে ব্যাংক ডাকাতি। অত্যন্ত গোপনীয় এই কোড নাম্বার ছিল হাতে গোনা কয়েকজনের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এই কোড নাম্বার জানতেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ফলে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিয়ার রিজার্ভ লুটের ঘটনা নিজে জানার পরপরই অর্থমন্ত্রী আবুল মালকে না জানিয়ে তিনি প্রথমেই জানান শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং শেখ হাসিনা এ বিষয়ে ড. আতিয়ারকে চুপ থাকতে বলেন । এমনকি এ বিষয় অর্থমন্ত্রীকে না জানানোর জন্যও বলেন। ঘটনাটির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় জড়িত এই য়্যুহাতে এ ব্যাপারে জয়ের নির্দেশনা মতো কাজ করার জন্য ডক্টর আতিয়ারকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা । এরপরই অতি গোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তার নামে ব্যাংকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পদে নিয়োগ পায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু রাকেশ আস্তানা।

এ ঘটনার তদন্তকারী কতৃপক্ষ সিআইডি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কম্পিউটার অন্যত্র স্থানান্তর বা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লিখিত আদেশের প্রয়োজন হয়। কিন্তু লিখিত কোনো আদেশ ছাড়াই সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত ৩০টি কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিকস সাইবার সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ আস্তানার জিম্মায় দেয়া হয়েছিল । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের দাবি লিখিত আদেশ ছাড়া তার জিম্মায় কম্পিউটার দিতে চাননি। তবে গভর্নর আতিউরের টেলিফোনিক নির্দেশে তারা ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানার কাছে কম্পিউটার হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। অথচ তখনো অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারাও কম্পিউটার জব্দ করার কারণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে জানতেন না।
সিআইডির তদন্ত-সংশ্লিষ্টরামনে করছেনআইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আগে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে অন্য কাউকে সম্পৃক্ত করা আইনসিদ্ধ হয়নি। তারা বলছেন, যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যতক্ষণ না তাদের সার্বিক আলামত সংগ্রহ শেষ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানটি থাকবে তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এ নিয়ম মানা হয়নি। পুরো ঘটনাটি চাপা রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নরের নির্দেশে ভারত থেকে আসা রাকেশ আস্তানার হাতে ছেড়ে দেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ সব কম্পিউটার। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকাজ চালাচ্ছে সিআইডি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের লোপাটের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ জন কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করেছিল তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তদন্তের প্রায় শেষ পর্যায়ে ব্যাংকের ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে । তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঠান্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পিত উপায়ে পরস্পরের যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ডাকাতি করা হয়েছে। তবে ঘটনার আসল রহস্য বের করতে হলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ডক্টর আতিউরকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এদিকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে বলে হয়, এ ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে দেশে বিদেশে কয়েকটি জায়গায় খরচ করা হয় প্রায় ১শ ৯১ কোটি টাকা। এর তথ্য প্রমাণ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, সূত্রমতে, ২০১৫ সালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি পাবে (pub) বসে রিজার্ভ লুটের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বৈঠকে জয়ের সঙ্গে রাকেশ আস্তানাসহ আরও কমপক্ষে তিনজন ছিলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা বারবার এ মামলার অগ্রগতির ব্যাপারে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারী আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে আদালত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ ধার্য করেন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার তারিখ ২০ বারের মতো পিছিয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, ‘চুরি যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮শ ১০ কোটি টাকা) মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার”। বাকি টাকা আনার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিপাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টে। এদিকে, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রিজাল ব্যাংকের আইনবিষয়ক প্রধান জর্জ দেলা কুয়েস্তা এক বিবৃতিতে বলেন, “নিজেদের অবহেলা আড়াল করে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের উপর দায় চাপাতে চায় বাংলাদেশ। রিজাল ব্যাংক এ টাকা দিতে বাধ্য নয় ” ।

Content Protection by DMCA.com

সিনহার পথে বিচারপতি ওয়াহ্হাব- পদত্যাগ করেননি- অঘোষিত হাউজ এরেস্ট!

অবৈধ  শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হয়েছে বিচারপ তি ওয়াহ্হাব মিয়া পদত্যাগ করেছেন। আসলে তা সত্যি নয়। মূলতঃ বিচারপতি সিনহার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছেন ওয়াহ্হাব।

বিচারপতি সিনহা পদত্যাগ করেছেন সরকার দাবী করলেও আসলে তা সত্যি ছিল না। তিনি কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বরং ঐ কৌশল অবলম্বন করে তাকে দেশে ফিরতে না দিয়ে অবশেষে স্বাভাবিক অবসরে পাঠানো হয় ৩১ জানুয়ারি। বিচারপতি ওয়াহবের কপালেও তাই জুটেছে। তিনিও পদত্যাগ করেননি। তার নামে একটা পদত্যাগপত্র দেখানো হয়েছে, সেটা আসলে তার সই নয়। বরং তাকে গৃহে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে। তাঁর নামে কথিত পদত্যাগপত্রও সিনহার নামে বানোয়াট পদত্যাগপত্রের মত গেজেট হবে না। তবে তাঁকে এজলাসে বসতে দেয়া হবে না, সুপ্রিম কোর্টের জাজ তালিকায় নামও থাকবে না। মেয়াদ শেষে নভেম্বরে তার স্বাভাবিক অবসর হতে পারে বিচারপতি ওয়াহ্হাবের।

গত  ‍শুক্রবার ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসাবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নাম প্রকাশ করে বঙ্গভবন। এর আগের রাতে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে কুমন্ত্রণা করে আসে। পরের দিন শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি অফিসে যান। সরকারের কাছে খবর আসতে থাকে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি অনাস্থা জানাতে পারেন সদ্য ঘোষিত প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেনকে। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২২ আগস্টের রায় প্রকাশ হতে পারে।  এরপরেই ঘটতে থাকে নানান নাটকীয় ঘটনা। বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২২ আগস্টের রায় থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ঐ সময়ের মধ্যে রায় সংশোধন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ঐ সময়ে আইন সচিব পিস্তল দুলালের কর্মকান্ড শুরু হয়ে যায়। সিনহার উপরে ব্যবহার করা পদ্ধতিতে বিচারপতি ওয়াহাব পদত্যাগ করেছেন ব্রেকিং খবর  প্রচার হতে থাকে। পরে মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়া হয় তিন লাইনের একটি বানোয়াট পদত্যাপত্র, যার মধ্যে দশটা বানান ভুল, এমনকি সুপ্রিমকোর্ট, আপিল বিভাগ, মহাত্মন, বিশ্বস্ত এরকম সাধারণ বানানগুলো সঠিক ছিলো না।  রাত পৌনে দশটায় বিচারপতি ওয়াহাব বাসায় ফিরে যান। এরপর রমনা থানার ওসির নেতৃত্বে এসআই আজাদ সহ প্রচুর পুলিশ গিয়ে বিচারপতির ওয়াহ্হাবের বাসায় ঢুকে তল্লাশি চালায়। ল্যাপটপ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন দলিল তুলে নিয়ে যায়। চাপ প্রয়োগ করে কিছু কাগজপত্রে সই করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। বিচারপতি মাহমুদ হোসেনের শপথ গ্রহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন ওয়াহহাব মিঞা এমন আশংকায় তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় শনিবার শপথ শেষ না হওয়া পর্যন্ত। তবে বন্দি দশা শিথিল করা হলেও তার বাসায় আজও কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।  তিনি বাড়ির ভেতরেও নজরদারীতে আছেন- কোথাও কথা বলতে পারছেন না। আইনজীবি ও সাংবাদিকরা গিয়ে বিচারপতি ওহাবকে অন্তরীণ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে পারেন।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের সর্বজ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা শেখ হাসিনার সরকার কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে রায় ও মত দেন। যার ফলে আওয়ামীলীগ সরকারকে অনেক বিপদে পড়তে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচন অনু্ষ্ঠানের সরকারী আগ্রহকে নাকচ করেছিলেন বিচারপতি ওয়াহাব। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্খাকে সংবিধান সম্মত হিসাবে ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের বিরোধপূর্ন রাজনীাততে এই ব্যবস্থাই গ্রহনযোগ্য বলে মত দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড দিতে সরকার যখন মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন বিচারপতি ওয়াহাব তাকে দিয়েছিলেন খালাস। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ের পরে বিচারপতি সিনহাকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার পরে ২২ আগস্ট আপিল বিভাগের বাকী পাঁচ বিচারপতির সঙ্গে  দেয়া রায়ে বর্তমান বিনাভোটের  সংসদ ও সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেন বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়া। সেই রায় প্রকাশ ও বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁকে সিনহার ভাগ্য বরণ করতে হয়।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার নামে সাজানো মিথ্যা দুর্নীতির মামলা সম্পর্কে বিদেশী কূটনীতিকদের হাতে যে সব তথ্য-প্রমান তুলে দিলো বিএনপি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রাণীমূলক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সাজানো দুর্নীতি মামলা সম্পর্কে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং বিদেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অবহিত করা হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে তাদেরকে ব্রীফিং দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মামলায় খালেদা জিয়ার জড়িত না থাকা, অর্থ আত্মসাতের কোনো তথ্য প্রমাণ না পাওয়া, তার বিরুদ্ধে আদালতে উপস্থাপিত ফাইল ঘষামাজা ও স্বাক্ষর না থাকার প্রামান্য তথ্য উপাত্ত সম্বলিত লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয় যে,নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত করতেই সরকার খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। এটি করা হলে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কূটনৈতিকদের সামনে ইংরেজীতে লিখিত ব্রীফিংটি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব ,যা পুরোটা নিচে দেয়া হলো।

মহোদয়বৃন্দ,
আপনাদের অভিবাদন জানাচ্ছি। একই সাথে এই নতুন বছরে আপনাদের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করছি । আজকে আমরা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে সম্মিলিত হয়েছি। আমরা উপনীত হয়েছি নির্বাচনের আগের সর্বশেষ বছরটির ঠিক সূচনার মুহূর্তটিতে। আজ আমি একটি সংকটের দিকে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে চাচ্ছি, যা বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের সম্ভাবণা ও ফলাফলকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করবে। আর তা হচ্ছে – বেগম জিয়ার তথাকথিত দুর্নীতির মামলাগুলো অতি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের অব্যাহত চাপ। এ ব্যাপারে এতোটুকু বলাই যথেষ্ট যে – এই মামলাগুলো
(১) মিথ্যা, বানোয়াট এবং
(২) রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
মামলাগুলোর মধ্যে দুইটি খুব আলোচিত। এর একটি হচ্ছে ২০০৮ সালের জিয়া অরফ্যানেজ ট্রাস্ট মামলা, যেটার রায় অতি আসন্ন – ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ। অন্যটি হল ২০১১ সালের জিয়া চ্যারিটেবল্ ট্রাস্ট মামলা।

পটভূমি:
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করে। আঠারো বছর পর। এই বিশাল সময় নেওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে তা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মামলাটি ঢাকা বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত -৫ এ পরিচালিত হচ্ছে। নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বেশ দূরে একটি জায়গায় হওয়াতে এখানে আদালত প্রাঙ্গনের সাধারণ সুযোগসুবিধাগুলা নেই। অথচ সংবিধানের ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী জনসমক্ষে বিচার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তারপরও এই মামলার কার্যক্রম গোপনেই চলছে। বাস্তবে এই আদালত জনসাধারণ আর আইনজীবীদের প্রবেশাধিকারবিহীন একটি অস্থায়ী হলরুম। এহেন পরিস্থিতি আর সামগ্রিক পরিবেশ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ বিচারের জন্য সহায়ক নয়। তাই এটা বদ্ধঘরে মুলত একটি ‘ক্যামেরা ট্রায়াল।’ ২০০৯ সালে বিডিআর (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) বিদ্রোহে যেসব বিদ্রোহী জড়িত ছিল তাদের বিচারের জন্য আদালত গঠন করে টিনের ছাদ আচ্ছাদিত এই কাঠামোটি তৈরি করা হয়েছিল। সেই বিচারে কয়েক হাজার অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং শত শত সাক্ষী ছিল। একটি সংবেদনশীল মামলা, যার সাথে জাতীয় ওতপ্রোত নিরাপত্তা জড়িত, যেখানে একটি বিশাল সংখ্যক অভিযুক্ত সৈন্য আর তার সাথে অসংখ্য সাক্ষীদের প্রশ্নটি থাকছে, তার জন্য এই আদালতটি উপযুক্ত ছিল। কিন্তু আলোচ্য মামলাটির মত সাধারণ বিচারকার্যের জন্য এই আদালত মোটেও উপযুক্ত নয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার বিষয়বস্তু হচ্ছে – ১৯৯১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান আরও চারজনসহ প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করা । এই ২ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা (৬২৭,৫০০ মার্কিন ডলার) কুয়েতের আমিরের পক্ষ থেকে একটি বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা স্থাপিত ট্রাস্টে আসে। টাকাটা এতিমদের জন্য দান করা হয়। প্রকৃত ঘটনা: বেগম খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি এবং এই অঞ্চলের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, তখন তিনি বিভিন্ন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার নিকটতম বন্ধুদের একজন ছিলেন কুয়েতের আমির। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েপ্রধানমন্ত্রী হন। কুয়েতের আমির রাষ্ট্রপতি জিয়ার স্মরণে মহৎ কিছু করার ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করতেন। সেই সময়ে মুস্তাফিজুর রহমানে (তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) কুয়েতে গেলে তার কাছেও তিনি তার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কুয়েতের আমির এতিমদের কল্যাণে বাংলাদেশে একটি তহবিল দান করবেন। মুস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে অনুদান প্রাপ্তির জন্য সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। পরবর্তীকালে কুয়েতের আমির ১.২৫৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা) দান করেন। ১৯৯১ সালের জুন মাসে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’-এর নামে এই টাকা আসে। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার আওতায় এই টাকা প্রেরণ করা হয়েছিল (খালেদা জিয়ার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল)। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কোনও কাগজপত্রের স্বাক্ষর করেননি, তিনি এই ট্রাস্টের সদস্যও ছিলেন না এবং এই লেনদেনের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্কও ছিল না।

সংসদীয় পদ্ধতি চালু হওয়ার পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাত্র দুটি সরকারি তহবিল আছে –
(১) প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল এবং
(২) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নামে অন্য কোন তহবিল নেই। কোনোকালে এতিমদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কোনো তহবিল ছিলও না। এখনো নেই। ১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাস্ট দুটি নিবন্ধন করা হয়। প্রথমটি ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’, যার অথর বা সেটেলার (ট্রাস্ট সৃষ্টিকারী) হন তারেক রহমান ও তার ভাই আরাফাত রহমান। ‘জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ’ নামে দ্বিতীয় ট্রাস্টটির সেটেলার হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মুস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ট্রাস্টটি ছিল জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ায় এবং দ্বিতীয়টি ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের নিজ জেলা বাগেরহাটে। কুয়েতের আমির কর্তৃক প্রেরিত অর্থ দুইভাগে বিভক্ত করে দুই ট্রাস্টে ২.৩৩ কোটি টাকা (২,৩৩,৩৩,৫০০ টাকা) ট্রান্সফার করা হয়। মামলার আলোচ্য তহবিল খরচ করা হয়নি, যা সুদসহ বর্তমানে ৬ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।

২০০৮ সালে মামলাটি শুরু করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন কমিশনের একজন সহকারী পরিচালককে অনুসন্ধানের জন্য নিযুক্ত করে। তিনি একই বছরের জুন মাসের ১১ তারিখে একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে বলেন যে, এই বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া কোনভাবে জড়িত ছিলেন না। চার দিনের মধ্যে কমিশন সরকারের নির্দেশে অনুসন্ধানের ভার কমিশনের অন্য কর্মকর্তা হারুন উর রশিদের উপর অর্পণ করে। তিনি অধঃস্তন সারির কর্মকর্তা (উপসহকারী পরিচালক) ছিলেন, যিনি আগে দুর্নীতি এবং অযোগ্যতার অভিযোগে তার চাকরি হারিয়েছিলেন। দায়িত্ব পাবার মাত্র দশ দিনের মধ্যে ২৫ জুন তার দাখিল করা তদন্তের রিপোর্টে তথাকথিত আত্মসাতে খালেদা জিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ খুঁজে পান! তারপরে আনুষ্ঠানিক তদন্তের জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়। এক বছরেরও বেশি সময় পর ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়া ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ২,৩৩,৩৩,৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হারুন উর রশিদকে আবার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে স্বার্থের সংঘাতের (conflict of interest) কারণে এই ধরনের তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ অন্যায়। স্পষ্টতই তার নিয়োগ ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভীষণভাবে ভুল।
উভয় ট্রাস্টই ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট অ্যাক্টের অধীনে ব্যক্তিগত পারিবারিক ট্রাস্ট । অন্য কথায়, এগুলো হচ্ছে বেসরকারী তহবিল, সরকারী তহবিল নয়। যদি ট্রাস্টের কোনো নিয়ম লঙ্ঘনও হতো, তাহলে একই আইনের ধারা ২৩-এর অধীনে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ধারা ২৩ কোনও অনিয়ম, কার্যকলাপ বা বিরোধ নিষ্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। আসল প্রশ্ন হলো, কেন এই ট্রাস্টটাকে পাবলিক এন্টিটি দাবি করে দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা দায়ের করেছে?

মামলার কার্যবিবরণী:
প্রসিকিউশন স্বীকার করেছে যে এই বিষয়ের মূল ফাইলটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অফিসে পাওয়া যায়নি। তাই এই মামলার চার্জশীটটি তাদেরই স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, কিছু বানোয়াট কাগজপত্রের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়। এমন কিছু জাল নোটপত্রও এতে পাওয়া যায়, যেগুলাতে কারও স্বাক্ষর নেই। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্যাডে লেখা কিছু ডক্যুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়, যদিও ১৯৯১ সালে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। দলিল-দস্তাবেজগুলির অনেকাংশ ছিল অস্পষ্ট, এবং অনেক কাটাকাটি আর ঘষামাজার কারণে দুর্বোধ্য। এমন কাগজপত্র আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য নয়, এমনকি সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারা অনুযায়ী আনুষঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ হিসেবেও না। এই কাগজগুলি স্পষ্টতই নকল এবং শুধু বেগম খালেদা জিয়াকে অভিযুক্ত করার জন্য এই কাগজপত্রগুলিতে জালিয়াতি করে আদালতের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের মত আমাদের দেশেও জালিয়াতি একটি মামলার পুরো কার্যধারাকেই কলুষিত করে (REPORTED IN SCOB (20150 (AD) PAGE 1,63 DLR (HCD) PAGE 370 AND 65 D.LR (HCD) PAGE 584)।

প্রসিকিউসনের ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে (তদন্ত কর্মকর্তা ব্যতীত) কেউই প্রমাণ দিতে পারেনি যে বেগম জিয়া ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের’ কোনো প্রক্রিয়ায় সাথে জড়িত।
(১) দান গ্রহণ
(২) কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
(৩) ট্রাস্ট গঠন
(৪) অর্থ বিতরণ কোনোকিছুতেই খালেদা জিয়ার কোনো স্বাক্ষর নেই। সুতরাং, খালেদা জিয়াকে জড়িত করে এই মামলা কেবল একটি প্রতারণাপূর্ণ মামলাই নয়, এটি একটি সাক্ষ্যবিহীন বিচারের নামে প্রহসণ মাত্র। যে আইনের (দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭-এর ৫ ধারায়) অধীনে বেগম জিয়া বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের প্রমাণ উপস্থাপন মামলা দায়ের করার পূর্বশর্ত, যা করতে প্রসিকিউসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে (REPORTED IN PLD 1964 DHAKA PAGE 330, 56 DLR PAGE 281, PLD 1961 SC PAGE 224, 55 DLR PAGE 596, 34 DLR PAGE 287 AND 24 DLR PAGE 151)। প্রসিকিউশন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ -এর ধারা ২২ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন রুলস্ ২০০৯ এর ৮ এবং ১১ ধারার প্রবিধানগুলো লঙ্ঘন করে মামলাটি দায়ের করে এবং চার্জশিট উপস্থাপনের আগে অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়নি (REPORTED IN 63 DLR PAGE 425)।

সংক্ষেপে, বেগম খালেদা জিয়া এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া পুরো আইনি প্রক্রিয়া আইনের চোখে বাতিল, অকার্যকর এবং অস্তিত্বহীন, নিম্নোক্ত ভিত্তিতে:
১। এটি আদালতের সাথে প্রতারণামূলক একটি মামলা।
২। এই মামলা দুর্নীতি দমন আইন ১৯৪৭ সালের ৫ ধারার আওতাভুক্ত না।
৩। এই মামলা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ধারা ২২ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন রুলস্ এর ধারা ৮ এবং ১১ লঙ্ঘন করে দায়ের করা।
৪। এটি একটি সাক্ষ্য-প্রমাণবিহীন মামলা। কেবলমাত্র তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া, যিনি ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, আর কোনো সাক্ষীই চার্জশিটে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের সাথে তাকে জড়াতে পারেনি।
৫। এই ট্রাস্টগুলো ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ সালের অধীনে নিবন্ধিত বেসরকারী পরিবারিক ট্রাস্ট। ট্রাস্টের নিজস্ব ব্যাপারে সরকারের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। যদি ট্রাস্ট পরিচালনায় কোনও বিরোধ উত্থাপিত হয়, তার প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা ট্রাস্ট আইন ১৮৮২ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী হবে, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ অনুযায়ী নয় ।

‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্যও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অভিযোগ আগেরটির চেয়েও অনেক বেশি অযৌক্তিক। এই চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ক্ষেত্রে, কোনও বিদেশী অনুদান জড়িত ছিল না, তহবিল স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত হয়েছিল, যেখানে বেগম খালেদা জিয়া কোন ভূমিকাই পালন করতে পারতেন না। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে এটা বিরোধীদলকে বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়াকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য একটি সাজানো মামলা কারণ তিনিই প্রধানমন্ত্রী পদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন থেকে বেগম জিয়া এবং তার দলকে দূরে রাখার জন্য একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং অনিষ্টমূলক মামলা ।

রাজনৈতিক দৃশ্যপট:
এটা স্পষ্ট যে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার (২০০৭-২০০৮) দুই প্রধানমন্ত্রীকে নাজেহাল করে তাদেরকে রাজনীতি থেকে উৎখাত করতে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের জন্য এই সাজানো মিথ্যা মামলাটি দায়ের করে । এটা কখনও একটি দুর্নীতি বা ফৌজদারি মামলা ছিল না, সবসময়ই একটি রাজনৈতিক মামলা ছিল। সে সময় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পনেরোটি মামলা দায়ের করা হলেও বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় মাত্র চারটি। পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার নামে দায়েরকৃত সমস্ত মামলা বিভিন্ন আদালতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাতিল করে নেন। সেখানে তিনি বলেন, এই মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো বাতিলতো করেনই নাই ,উপরন্তু হাসিনার বর্তমান শাসনামলেই বেগম জিয়া বিরুদ্ধে মামলা চার থেকে ছত্রিশে এসে দাঁড়িয়েছে। বেগম জিয়ার দলের ৭৮ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা প্রায় চার লক্ষ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটি একেবারেই স্পষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই নীতিটিকে নির্যাতনের মাধ্যম হিসেবে অব্যাহত রেখেছিলেন কারণ এটি তার নিজের স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশল –
(১) নির্বাচন থেকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উৎখাত করার এবং
(২) একদলীয় শাসন বাস্তবায়নের হাতিয়ার। আজকে একটি ভীতিকর পরিস্থিতিতে দেশটা ছেয়ে আছে। ক্ষমতা জোর-জবরদখলের অনিশ্চয়তা এবং অচলাবস্থার মধ্যে আটকে গেছে দেশ, যেখানে উন্নয়ন ও মানবাধিকার বিধ্বংসী পরিণতির সম্মুখীন হচ্ছে। জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্বপরায়ণ স্বৈর-শাসনের মধ্যে রাখা হয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া, সংসদে কোনও বিরোধীদল এবং কোনরকম জবাবদিহিতা ছাড়া মহাপরাক্রমশালী সরকারী দল রাজনৈতিক দমন, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং বাধাহীন দুর্নীতির ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে । এর ফলে মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘন ঘটেছে, সংখ্যা বেড়েছে জোরপূর্বক অন্তর্ধানের, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এবং জেল হেফাজতে মৃত্যুর। বিরোধী পক্ষকে কোনও বিরোধিতা বা রাজনৈতিক অবস্থানের সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না। মিথ্যা অভিযোগে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে জেলে পাঠানো হচ্ছে । এখানেই শেষ নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে, সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতার বিভাজনের জন্য যা অপরিহার্য ছিল।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী (অপব্যবহার এবং অযৌক্তিকতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারককে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা সংসদকে প্রদান) বাতিল করার ফলশ্রুতিতে প্রধান বিচারপতির অপমানজনক বিতাড়ন, সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রীম কোর্টের বিচারকদের আতঙ্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিতে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের ১৫ তম সংশোধনীর অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর একটি রাবার স্ট্যাম্প বানানো হয়েছে। পূর্ণ কর্তৃত্ববাদী নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের পথে একটা ভয়ঙ্কর উদ্যোগ হচ্ছে বিএনপির প্রধান ও অন্যান্য নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা। এই দৃষ্টিকোণ এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে দুর্নীতির মামলাগুলিকে বিবেচনা করা উচিত। ধৈর্য্য সহকারে এই বক্তব্য শোনার জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

 

Content Protection by DMCA.com

ভয় নেই, বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন-পুলিশ-সশস্ত্র বাহিনী আছে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপির কোনো ভয় নেই। বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন আছে, পুলিশ আছে, সশস্ত্র বাহিনী আছে। এ দেশের জনগণ আছে। দেশের বাইরে যারা আছেন তারা আছেন। কাজেই বিএনপির কোনো ভয় নেই, ভয়টা আওয়ামী লীগের।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় দলের চেয়ারপারসন উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো ব্যবহার করছে। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। কিন্তু প্রশাসন যদি একটু সুযোগ পায় তাহলে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। কেননা তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, পুলিশকে বাধ্য করা হচ্ছে অন্যায় ও দলীয় কাজ করতে।

বক্তব্যের শেষে এসে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাকে কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবেও না। আমি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে আছি । সাহস সঞ্চার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আসুন সবাই এই দেশটাকে রক্ষা করি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি।’

ঐক্যের আহ্বান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ জেগে উঠবে, ২০ দল জেগে উঠবে। সকল রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। আজ দেশের এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা কে কী পেলাম, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের পাওয়া ওটাই হবে, যদি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশটাকে রক্ষা করতে পারি-তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ দেশ জাগবে, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। সকলেই আমরা দেশ গড়ে তুলব। দেশ গড়ার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হবে। সেখানে আজ যারা জুলুম-অত্যাচার করছে, তাদের সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, তাদেরও সঙ্গে নিতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না।’

খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। বহু সংকট আসবে, ষড়যন্ত্র হবে এবং নানা রকমভাবে ভয়ভীতি দেখাবার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমরা ভয়ে ভিতু নই।’

ক্ষমা একবার হয়, বারবার না
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘যারা সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, যারা কাজ করেছে, যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেনি-দলে তাদের ভালো ভালো জায়গায় অবস্থান দেয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়-তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই তারা মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু যারা বেইমানি করবে, এক পা এদিকে, আরেক পা ওদিকে রাখবে-তাদের কোনো মূল্যায়নের জায়গা নেই।’

আগে ক্ষমা করার উদাহরণ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারপরও আমরা কিন্তু ক্ষমা করেছি। ক্ষমা একবার হয়, বারবার হয় না। তাই আমি বলতে চাই, বিপদ আসলে আসুন সকলে একসঙ্গে বিপদ মোকাবিলা করব। আর সুদিন আসলে একসঙ্গে সুন্দর করে দেশ গড়ব।’

দেশে ক্রান্তিকাল চলছে
খালদো জিয়া বলেন, দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। আমরা এখানে সভা করতে চাইনি। ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল। কিন্তু কেন সভা করতে দেয়া হলো না। বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। তারপরও বলবেন দেশে গণতন্ত্র আছে?

তিনি বলেন, ডিজিটাল আইনের নামে নতুন কালাকানুন করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরা সত্য কথা বলে। সেই কথাগুলো যখন মানুষ শোনে, তখন জনগণের অধিকার হরণ করতে নতুন আইন করা হচ্ছে।

সঠিক রায়ের সুযোগ নেই
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বলছেন নিম্ন আদালত সরকারের কবজায়। পত্রিকায় যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে, সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই। সঠিক রায় দিলে কী পরিণতি হয়, তা তো দেখেছেন। তারেক রহমানের রায় দেয়ার পর বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অপরাধ নেই। সেখানে কীসের বিচার হবে। কিন্তু তারা জোর করে বিচার করতে চায়।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সময় মিলনায়তনে উপস্থিত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দেন। নেতারা স্লোগানে বলেন, ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেব না।’ ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেব না।’

নৌকা ডুবেছে?
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে এত আগে প্রচারের কারণ কী?

তিনি বলেন, ‘নৌকা এমন ডোবা ডুবছে, যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে? হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে।’

এর আগে ১১টা ৩৮ মিনিটে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারণকৃত একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

এর আগে উদ্বোধনী পর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় প্রয়াত নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ-শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিশিষ্টজনদের স্মরণ করে দেয়া শোকপ্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

সিনহার মত ওয়াহ্হাব মিয়ার পদত্যাপত্রও বানোয়াট!

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নামে একটি পদত্যাগ পত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা হয়েছে দাবী করছে সরকার। তবে সূত্র বলছে এ পদত্যাগ পত্রটিও আইন সচিব পিস্তল দুলালের কারসাজি- বানোয়াট।
 
গত নভেম্বরে প্রধান বিচারপতি সিনহার নামেও একটি পদত্যাগপত্রের কথা দাবী করেছিল সরকার। পরে সিনহার সে কথিত পদতাগপত্র আলো দেখেনি। অর্থাৎ সেটি ছিল বানোয়াট পত্র। বিডিপলিটিকোর এ সংক্রান্তে রিপোর্ট সত্য প্রমানিত হয়।
 
সিনহার নামে বানানো পদত্যাগপত্রে ৬/৭টি ভুল ছিল। আর এবারে ওয়াহাবের পদত্যাগপত্রটিও ভুলে ভরা। বানানে ভুল থাকার পাশাপাশি শব্দেও ভুল দেখা গেছে। তিন লাইন লেখায় ১০টি ভুল।
 
সুপ্রিম কোর্টের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি লেখা হয়েছে ‘গনপ্রজাতন্ত্রী’। বঙ্গভবনকে এক শব্দ না লিখে আলাদা লেখা হয়েছে ‘বঙ্গ ভবন’। মহাত্মন লিখতে লেখা হয়েছে ‘মহাত্নন’। আর কারণবশতঃ লিখতে দুটি শব্দ লিখে বশতঃ লেখা হয়েছে ‘স’ ব্যবহার করে। কারণেও ব্যবহার করা হয়েছে ‘ন’। অনুগ্রহপূর্বক লিখতে দুটি শব্দ লেখা হয়েছে। গ্রহণ বানানে ‘ন’ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি সুপ্রীম ও আপীল লেখা হয়েছে। যে শব্দ দুটি হবে যথাক্রমে সুপ্রিম ও আপিল। বিশ্বস্তকে লিখা হয় ‘বিশস্ত’।
 
প্রশ্ন হলো, এই সব দরখাস্ত লিখে কারা? এরা কি সরকারী কর্মচারী? নাকি লেখাপড়া জানা ছাড়া অশিক্ষিত হাটুতে বুদ্ধিঅলা আকবররা?
Content Protection by DMCA.com

প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা: মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ অবৈধ? বিচারপতি ওয়াহ্হাব পদত্যাগ করেননি। !

এ যেনো ছোটগল্পের মত- শেষ হইয়াও হইল না শেষ! বিচারপতি এসকে সিনহার পরে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়াকে বাদ দিয়ে পরবর্তী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী কাল শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬তম সংশোধনীর রায় প্রকাশের পরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই নিয়োগ অবৈধ। আজ রাতেই হয়ত এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকলে কাজ করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে জানানো হয়েছে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, আসলে তিনি পদত্যাগ করেননি। কার্য  হাসিলের লক্ষে এটা অবৈধ সরকারের মিথ্যা প্রচারণা। মূলত, আদালত ঘোষিত হাসিনার অবৈধ সরকার টিকিয়ে রাখতে কলকৌশল মাত্র। খুব সহসাই বিস্তারিত জানা যাবে।

Content Protection by DMCA.com

রাজনীতি উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঃ অস্থিরতায় নানামুখী শঙ্কা

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো ঘূর্ণিপাকের আবর্তে বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতি!! নানা ধরনের অজানা আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে বর্তমান এই অস্থির রাজনীতিকে ঘিরে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে। রাজনীতির গতিপথ তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থাকবে একথাটি বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই। ইতোমধ্যেই টেলিভিশনের টক শোতে এবং বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন যথাযতভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা প্রকাশ করে চলেছেন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী। বাস্তবতা হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন আয়োজন করাটা এবার অনেক কারণেই সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর অন্যতম প্রধান কারণ, দেশের প্রধানবিরোধী দল বিএনপি গত নির্বাচন বর্জন করে যে রাজনৈতিক ভুল করেছিল সেটা পরবর্তীতে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসে যে কোন মূল্যে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রস্তাবিত সহায়ক সরকারের দাবি সরকার মেনে নাও নেয় তাহলেও বিএনপি প্রয়োজনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও নির্বাচনে যাবে এবং কোনভাবেই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেবে না।

মূলত বিএনপির এই যে কোন মূল্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটিই শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে যদি সরকার বড় ধরনের কোন ভুল করে বসে এবং রাজনীতিতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করা না হয় তাহলে অতীতের বিভিন্ন সময়ের মতো আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ঘটনাপ্রবাহে সেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বার্থে অতিদ্রুত একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন তাহলে রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় দেশে ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান হতে পারে, যেটা হলে সবচাইতে বেশী বিপদে পড়বেন রাজনীতিবিদরাই এবং অতিষ্ট দেশের সাধারণ জনগণও তখন সেই তৃতীয় শক্তিকেই স্বাগত জানাবে। স¤প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কাটি করেছেন বেশ উদ্বেগের সঙ্গে। উক্ত সেমিনারে বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও সুশাসন এই দুটিরই অভাব অত্যন্ত প্রকট। একটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সব দলের জন্য সমান অধিকার অর্থাৎ লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রধান দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটছে না। সরকারের আচরণে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে আমরা অশনিসঙ্কেত দেখতে পাচ্ছি। যদি সরকার যথাসময়ে যথাযথ ভূমিকা না নেয় এবং রাজনীতি যদি সহিংস হয়ে উঠে তাহলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটতে পারে এবং সেই তৃতীয় শক্তি মোটেও কাক্সিক্ষত রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি হবে না।

আর এই ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান হলে সবার আগে সবচাইতে ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে দেশের রাজনীতিবিদদেরকেই যারা এই তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিচ্ছেন”। ইনকিলাবের পক্ষ থেকে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের এই বক্তব্য ও আশঙ্কার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার ইনকিলাবকে বলেন, “আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে ইতিহাস থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কেউ কোন শিক্ষা নেন না। ওয়ান ইলেভেনের মতো একটি ভয়াবহ ঘটনার পরও আমাদের দেশের কোন রাজনীতিবিদই কোন শিক্ষা নেননি এবং সবাই অতীতের মতো একই ভূমিকায় অবতীর্ণ। আমাদের দেশে বর্তমানে যে রাজনীতি চলছে সেটা তো রাজনীতি নয় শুধুই ক্ষমতানীতি। একদলকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে আরেক দলকে ক্ষমতায় যেতেই হবে। এই যদি হয় দেশের রাজনীতি তাহলে জনগণ কোথায় যাবে? আমি আশা করবো আমাদের রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থ বাদ দিয়ে দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে সঠিক ও গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতিকে নিয়ে আসবেন। আর যদি সেটা তারা না করেন তাহলে ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির মুখে তাদের পড়তে হতে পারে যেটা হয়তো তাদের চিন্তাচেতনায়ও নেই।”

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

খ্যাতিমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তত্ত¡বাধয়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, “বদিউল আলম সাহেব কোন পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরে এই আশঙ্কার কথা বলেছেন সেটা তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। তবে এটা তো বেশ সহজেই অনুমান করা যায় রাজনীতিবিদরা যখন ব্যর্থ হবেন এবং যখন কোন সমস্যার সমাধান না করতে পারবেন তখন তো কাউকে না কাউকে কিছু একটা করতেই হবে। দেশ তো আর রাজনীতিবিদদের জন্য বসে থাকবে না। চল্লিশ বছর যাবৎই তো আমরা দেশটাকে নিয়ে এই ধরনের বিপদেই আছি শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে। যার ফলে ঘন ঘন মার্শাল ল’ এসেছে। আমরা কেউ মার্শাল ল’ চাই না। কিন্তু রাজনীতিবিদরা তো সেটা বুঝেন না।

তারা মনে করেন শুধু তারাই সবকিছু বুঝেন আর শুধু তারাই দেশটির মালিক। আর আমরা সাধারণ জনগণ সবাই মূর্খ আর অবুঝ। আমরা যদি কেউ তাদেরকে ভালো কোন পরামর্শও দিতে চাই তাহলেও আমাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলা হয় গাধা আর ক্ষমতালোভী। আসলে আমরা রাজনীতিবিদদেরকে এত বেশি প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেছি যে, তারা আর কাউকে এখন মানুষই মনে করেন না। বর্তমানে দেশে যে রাজনীতি চলছে সেটা তো কোন রাজনীতিই না। প্রধান দুই দলের নেত্রী কেউ কারো সাথে কথা বলেন না। কেউ কারো সাথে সংলাপ করবেন না, কেউ কারো চেহারা দেখবেন না। এটা তো কোন রাজনীতিই হতে পারে না। রাজনীতি হচ্ছে সমস্যা সমাধানের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অথচ আমাদের বড় বড় নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন আর আচরণ করেন পুরোটাই অগণতান্ত্রিক। এর চেয়ে হাস্যকর আর দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশের জনগণের জন্য আর কিছু হতে পারে না।

আমি যদি একজন আইজীবী হয়ে বলি যে, আমি কোন দিন আদালতেই যাব না তাহলে কি হবে? সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরকে এক শ্রেণির দলীয় চাটুকার ও স্বার্থন্বেষী মহল এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যে সেখান থেকে তারা চাইলেও আর বের হতে পারবেন না। এই কারণেই রাজনীতি বার বার ব্যর্থ হচ্ছে, গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়ছে এবং অরাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনিতি ইতোমধ্যেই যে সাংঘর্ষিক অবস্থার দিকে যাচ্ছে তাতে অনেকের মত আমি নিজেও গভীরভারে উদ্বিগ্ন এবং আমিও নানা ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছি। তবে অতীতের মত আগামীতেও যদি রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে কোন নতুন শক্তি ক্ষমতায় আসে তাহলে আমি সেই শক্তিকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে না দেখে সম্মিলিত শক্তি হিসেবেই দেখব।”

ব্রিগেডিয়ার (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নানা ধরনের গুঞ্জন ও তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কা সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাবকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অস্থির ও অসহিষ্ণু পরিবেশ বিরাজ করছে তাতে যে কোন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোন শক্তির উত্থানের একটি আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে সবসময়ই থাকে। অতীতেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিন্তু এই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে এবং দেখা গেছে এই ধরনের ঘটনায় যে শক্তি ক্ষমতায় আসে তাদেরকে সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে সমর্থনও জানায়। এর কারণ হচ্ছে দেশের রাজনীতি যখন সংঘাতপূর্ণ থাকে তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারণ জনগণ। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে নতুন কোন শক্তি ক্ষমতায় আসলে জনগণ তাদেরকে সমর্থন দেয় এই ভেবে যে সংঘাতময় ও অনিশ্চয়তার রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে অন্তত তারা নিস্তার পেয়েছে। বিগত সময়ে ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরুতেই দেশের জনগণ কিন্তু তাদেরকে দারুণভাবে সমর্থন করেছিল এবং স্বাগত জানিয়েছিল। শুরুর অবস্থা দেখে তো মনে হয়েছিল যেন ওয়ান ইলেভেন সরকারই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।

আসলে রাজনীতির ওপর যখন সাধারণ মানুষ খুব বেশি হতাশ হয়ে যায় এবং রাজনীতিবিদরাও জনগণ ও দেশের স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করে নিজেরা অতিমাত্রায় আত্মকলহ বিবাদ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ঐ ধরনের পরিস্থিতিতেই সাধারণত অস্বাভাবিক বা তৃতীয় শক্তির সরকারগুলো ক্ষমতায় চলে আসে। আর এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্থা ও শক্তি নেপত্থে ভূমিকা রাখে। অতীতে আমরা এই ধরনের অনেক ভূমিকা দেখেছি। তবে একথাটি মানতেই হবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতবারই এই ধরনের অস্বাভাবিক বা তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় এসেছে তার প্রতিটারই সুযোগ করে দিয়েছেন শুধু এদেশের রাজনীতিবিদরাই। সাধারণ জনগণ কখনোই তাদেরকে ডেকে আনেননি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে যে উত্তাপ ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে তাতে রাজনীতিবিদরা যদি ভুল করেন তাহলে অতীতের মতো আগামীতেও তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কা থাকতেই পারে এবং এই ধরনের কিছু হলে সেটা মোটেও অস্বাভাবিক হবে না।”
/ইনকিলাব

Content Protection by DMCA.com

অবশেষে জাস্টিস ওয়াহ্হাবেরও বিদায়!

যারা আশা করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট থেকে জাতির মুক্তি আসবে- তাদের আশাও শেষ। বিচারপতি ওয়াহ্হাবও সাহস করতে পারলেন না। তিনি পারলেন না জাতির মুক্তির জন্য কাঙ্খিত কাজটি করতে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দীর্ঘদিন যাবৎ আশা দিয়ে ঘুরানো, লোভ, টোপ, শঠতা, বেইমানী করে অবশেষে গভীর রাতে  সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। যদিওে সংবিধানের সর্এবশেষ অবস্থা অনুযায়ী বিচারপতির সিনহা এথনও তার পদে বহাল থাকার কথা। কিন্তু তার জন্ম তারিখের উপর ভিত্তি করে ৩১ জানুয়ারী তাকে অবসরে গেছেন ধরে নিয়েছে সরকার।  এর আগে গত বাতে ৮টার দিকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে ঘন্টাব্যাপি কথাবার্তা বলে সব ঠিকঠাক করে এসেছেন।

কট্টর আওয়ামী দলদাস মাহমুদ হোসেন ইতোমধ্যে পা-চাটার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে আছেন। এর আগে  বিগত দু’টি নির্বাচন কমিশন হাসিনার সুবিধার জন্য বাছাই করে দিয়েছিলেন এই মাহমুদ হোসেন। মাহমুদ হোসেন মারা না গেলে ২০২১ সালের শেষ দিন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির চেয়ারে থাকবেন।

গত সন্ধ্যা থেকে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞ্রাকে অনেকেই সতর্ক করে যাচ্ছিলেন। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ পার হওয়ার পরেও যখন তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি, তখন তিনি আর হতে পারছেন না। সকালে উনি পদে থাকবেন  কি না সন্দেহ। সেটাই হলো।

আগামীতে বাংলাদেশে অনেক খারাপ দিন আসতেছে। বহু কিছু বদলে যাবে মর্মান্তিকভাবে। মানবাধিকার হরণ, খুন গুম, অন্যায় অত্যাচার চরমে উঠবে। অবশ্য এখন কিছুদিন ধরপাকড় করে দেশে শান্তি শান্তি ভাব আসবে। জঙ্গিবাদ ঘুমিয়ে যাবে।

বিরোধী দলের রাজনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে আল্লাহ মালুম। একমাত্র পথ- যদি গণজাগরণ হয়।

Content Protection by DMCA.com
1 26 27 28 29 30