ভয় নেই, বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন-পুলিশ-সশস্ত্র বাহিনী আছে: খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপির কোনো ভয় নেই। বিএনপির সঙ্গে প্রশাসন আছে, পুলিশ আছে, সশস্ত্র বাহিনী আছে। এ দেশের জনগণ আছে। দেশের বাইরে যারা আছেন তারা আছেন। কাজেই বিএনপির কোনো ভয় নেই, ভয়টা আওয়ামী লীগের।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় দলের চেয়ারপারসন উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো ব্যবহার করছে। তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। কিন্তু প্রশাসন যদি একটু সুযোগ পায় তাহলে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। কেননা তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে।

তিনি বলেন, পুলিশকে বাধ্য করা হচ্ছে অন্যায় ও দলীয় কাজ করতে।

বক্তব্যের শেষে এসে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি যেখানেই থাকি না কেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাকে কোনো ভয়ভীতি দেখিয়ে দমাতে পারেনি, পারবেও না। আমি দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে আছি । সাহস সঞ্চার করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আসুন সবাই এই দেশটাকে রক্ষা করি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি।’

ঐক্যের আহ্বান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুম, খুনের বিরুদ্ধে দেশের জনগণ জেগে উঠবে, ২০ দল জেগে উঠবে। সকল রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাই। আজ দেশের এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা কে কী পেলাম, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের পাওয়া ওটাই হবে, যদি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশটাকে রক্ষা করতে পারি-তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।

তিনি বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ দেশ জাগবে, ‘জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। সকলেই আমরা দেশ গড়ে তুলব। দেশ গড়ার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হবে। সেখানে আজ যারা জুলুম-অত্যাচার করছে, তাদের সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, তাদেরও সঙ্গে নিতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না।’

খালেদা জিয়া নেতা-কর্মীদের বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। বহু সংকট আসবে, ষড়যন্ত্র হবে এবং নানা রকমভাবে ভয়ভীতি দেখাবার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমরা ভয়ে ভিতু নই।’

ক্ষমা একবার হয়, বারবার না
বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘যারা সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, যারা কাজ করেছে, যারা দলের সঙ্গে বেইমানি করেনি-দলে তাদের ভালো ভালো জায়গায় অবস্থান দেয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়-তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই তারা মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু যারা বেইমানি করবে, এক পা এদিকে, আরেক পা ওদিকে রাখবে-তাদের কোনো মূল্যায়নের জায়গা নেই।’

আগে ক্ষমা করার উদাহরণ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারপরও আমরা কিন্তু ক্ষমা করেছি। ক্ষমা একবার হয়, বারবার হয় না। তাই আমি বলতে চাই, বিপদ আসলে আসুন সকলে একসঙ্গে বিপদ মোকাবিলা করব। আর সুদিন আসলে একসঙ্গে সুন্দর করে দেশ গড়ব।’

দেশে ক্রান্তিকাল চলছে
খালদো জিয়া বলেন, দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। আমরা এখানে সভা করতে চাইনি। ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল। কিন্তু কেন সভা করতে দেয়া হলো না। বিএনপি সবচেয়ে বড় দল। তারপরও বলবেন দেশে গণতন্ত্র আছে?

তিনি বলেন, ডিজিটাল আইনের নামে নতুন কালাকানুন করা হচ্ছে। সাংবাদিকেরা সত্য কথা বলে। সেই কথাগুলো যখন মানুষ শোনে, তখন জনগণের অধিকার হরণ করতে নতুন আইন করা হচ্ছে।

সঠিক রায়ের সুযোগ নেই
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, সর্বোচ্চ আদালত বলছেন নিম্ন আদালত সরকারের কবজায়। পত্রিকায় যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে, সঠিক রায় দেয়ার সুযোগ নেই। সঠিক রায় দিলে কী পরিণতি হয়, তা তো দেখেছেন। তারেক রহমানের রায় দেয়ার পর বিচারককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অপরাধ নেই। সেখানে কীসের বিচার হবে। কিন্তু তারা জোর করে বিচার করতে চায়।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সময় মিলনায়তনে উপস্থিত নির্বাহী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দেন। নেতারা স্লোগানে বলেন, ‘আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দেব না।’ ‘আমার নেত্রী আমার মা, জেলে যেতে দেব না।’

নৌকা ডুবেছে?
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারের সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বলছে নির্বাচন হবে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে এত আগে প্রচারের কারণ কী?

তিনি বলেন, ‘নৌকা এমন ডোবা ডুবছে, যে তোলার জন্য এত আগে ভোট চাইতে হচ্ছে? হাত তুলে ওয়াদা করাতে হচ্ছে।’

এর আগে ১১টা ৩৮ মিনিটে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ধারণকৃত একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

এর আগে উদ্বোধনী পর্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ ছাড়া দলের পক্ষ থেকে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় প্রয়াত নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ-শিল্পী-সাহিত্যিকসহ বিশিষ্টজনদের স্মরণ করে দেয়া শোকপ্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

সিনহার মত ওয়াহ্হাব মিয়ার পদত্যাপত্রও বানোয়াট!

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নামে একটি পদত্যাগ পত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা হয়েছে দাবী করছে সরকার। তবে সূত্র বলছে এ পদত্যাগ পত্রটিও আইন সচিব পিস্তল দুলালের কারসাজি- বানোয়াট।
 
গত নভেম্বরে প্রধান বিচারপতি সিনহার নামেও একটি পদত্যাগপত্রের কথা দাবী করেছিল সরকার। পরে সিনহার সে কথিত পদতাগপত্র আলো দেখেনি। অর্থাৎ সেটি ছিল বানোয়াট পত্র। বিডিপলিটিকোর এ সংক্রান্তে রিপোর্ট সত্য প্রমানিত হয়।
 
সিনহার নামে বানানো পদত্যাগপত্রে ৬/৭টি ভুল ছিল। আর এবারে ওয়াহাবের পদত্যাগপত্রটিও ভুলে ভরা। বানানে ভুল থাকার পাশাপাশি শব্দেও ভুল দেখা গেছে। তিন লাইন লেখায় ১০টি ভুল।
 
সুপ্রিম কোর্টের প্যাডে পাঠানো চিঠিতে গণপ্রজাতন্ত্রী শব্দটি লেখা হয়েছে ‘গনপ্রজাতন্ত্রী’। বঙ্গভবনকে এক শব্দ না লিখে আলাদা লেখা হয়েছে ‘বঙ্গ ভবন’। মহাত্মন লিখতে লেখা হয়েছে ‘মহাত্নন’। আর কারণবশতঃ লিখতে দুটি শব্দ লিখে বশতঃ লেখা হয়েছে ‘স’ ব্যবহার করে। কারণেও ব্যবহার করা হয়েছে ‘ন’। অনুগ্রহপূর্বক লিখতে দুটি শব্দ লেখা হয়েছে। গ্রহণ বানানে ‘ন’ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি সুপ্রীম ও আপীল লেখা হয়েছে। যে শব্দ দুটি হবে যথাক্রমে সুপ্রিম ও আপিল। বিশ্বস্তকে লিখা হয় ‘বিশস্ত’।
 
প্রশ্ন হলো, এই সব দরখাস্ত লিখে কারা? এরা কি সরকারী কর্মচারী? নাকি লেখাপড়া জানা ছাড়া অশিক্ষিত হাটুতে বুদ্ধিঅলা আকবররা?
Content Protection by DMCA.com

প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা: মাহমুদ হোসেনের নিয়োগ অবৈধ? বিচারপতি ওয়াহ্হাব পদত্যাগ করেননি। !

এ যেনো ছোটগল্পের মত- শেষ হইয়াও হইল না শেষ! বিচারপতি এসকে সিনহার পরে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিয়াকে বাদ দিয়ে পরবর্তী বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী কাল শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা।

কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬তম সংশোধনীর রায় প্রকাশের পরে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই নিয়োগ অবৈধ। আজ রাতেই হয়ত এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকলে কাজ করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে টিভিতে ব্রেকিং নিউজ দিয়ে জানানো হয়েছে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন। সূত্র জানাচ্ছে, আসলে তিনি পদত্যাগ করেননি। কার্য  হাসিলের লক্ষে এটা অবৈধ সরকারের মিথ্যা প্রচারণা। মূলত, আদালত ঘোষিত হাসিনার অবৈধ সরকার টিকিয়ে রাখতে কলকৌশল মাত্র। খুব সহসাই বিস্তারিত জানা যাবে।

Content Protection by DMCA.com

রাজনীতি উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ঃ অস্থিরতায় নানামুখী শঙ্কা

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো ঘূর্ণিপাকের আবর্তে বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতি!! নানা ধরনের অজানা আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে বর্তমান এই অস্থির রাজনীতিকে ঘিরে। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে। রাজনীতির গতিপথ তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় থাকবে একথাটি বিশ্বাস করতে পারছেন না কেউই। ইতোমধ্যেই টেলিভিশনের টক শোতে এবং বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন যথাযতভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা প্রকাশ করে চলেছেন।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন দেশের সচেতন জনগোষ্ঠী। বাস্তবতা হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা নির্বাচন আয়োজন করাটা এবার অনেক কারণেই সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর অন্যতম প্রধান কারণ, দেশের প্রধানবিরোধী দল বিএনপি গত নির্বাচন বর্জন করে যে রাজনৈতিক ভুল করেছিল সেটা পরবর্তীতে গভীরভাবে উপলব্ধি করে তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসে যে কোন মূল্যে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রস্তাবিত সহায়ক সরকারের দাবি সরকার মেনে নাও নেয় তাহলেও বিএনপি প্রয়োজনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হলেও নির্বাচনে যাবে এবং কোনভাবেই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেবে না।

মূলত বিএনপির এই যে কোন মূল্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটিই শাসক দল আওয়ামী লীগের জন্য রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে যদি সরকার বড় ধরনের কোন ভুল করে বসে এবং রাজনীতিতে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করা না হয় তাহলে অতীতের বিভিন্ন সময়ের মতো আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ঘটনাপ্রবাহে সেটা নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

অনেকেই আশঙ্কা করছেন রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বার্থে অতিদ্রুত একটি রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন তাহলে রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতায় দেশে ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান হতে পারে, যেটা হলে সবচাইতে বেশী বিপদে পড়বেন রাজনীতিবিদরাই এবং অতিষ্ট দেশের সাধারণ জনগণও তখন সেই তৃতীয় শক্তিকেই স্বাগত জানাবে। স¤প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এই ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কাটি করেছেন বেশ উদ্বেগের সঙ্গে। উক্ত সেমিনারে বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা জনগণের চোখের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন। মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হলেও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও সুশাসন এই দুটিরই অভাব অত্যন্ত প্রকট। একটি জাতীয় নির্বাচনের আগে সব দলের জন্য সমান অধিকার অর্থাৎ লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরির প্রধান দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই পথে হাঁটছে না। সরকারের আচরণে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে আমরা অশনিসঙ্কেত দেখতে পাচ্ছি। যদি সরকার যথাসময়ে যথাযথ ভূমিকা না নেয় এবং রাজনীতি যদি সহিংস হয়ে উঠে তাহলে আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটতে পারে এবং সেই তৃতীয় শক্তি মোটেও কাক্সিক্ষত রাজনৈতিক তৃতীয় শক্তি হবে না।

আর এই ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থান হলে সবার আগে সবচাইতে ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে দেশের রাজনীতিবিদদেরকেই যারা এই তৃতীয় শক্তিকে ক্ষমতায় আসার সুযোগ করে দিচ্ছেন”। ইনকিলাবের পক্ষ থেকে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের এই বক্তব্য ও আশঙ্কার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার ইনকিলাবকে বলেন, “আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে ইতিহাস থেকে আমাদের রাজনীতিবিদরা কেউ কোন শিক্ষা নেন না। ওয়ান ইলেভেনের মতো একটি ভয়াবহ ঘটনার পরও আমাদের দেশের কোন রাজনীতিবিদই কোন শিক্ষা নেননি এবং সবাই অতীতের মতো একই ভূমিকায় অবতীর্ণ। আমাদের দেশে বর্তমানে যে রাজনীতি চলছে সেটা তো রাজনীতি নয় শুধুই ক্ষমতানীতি। একদলকে ক্ষমতায় থাকতেই হবে আরেক দলকে ক্ষমতায় যেতেই হবে। এই যদি হয় দেশের রাজনীতি তাহলে জনগণ কোথায় যাবে? আমি আশা করবো আমাদের রাজনীতিবিদরা নিজেদের স্বার্থ বাদ দিয়ে দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা করে সঠিক ও গণতান্ত্রিক পথে রাজনীতিকে নিয়ে আসবেন। আর যদি সেটা তারা না করেন তাহলে ভয়াবহ একটা পরিস্থিতির মুখে তাদের পড়তে হতে পারে যেটা হয়তো তাদের চিন্তাচেতনায়ও নেই।”

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

খ্যাতিমান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তত্ত¡বাধয়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের ভয়াবহ তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, “বদিউল আলম সাহেব কোন পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরে এই আশঙ্কার কথা বলেছেন সেটা তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন। তবে এটা তো বেশ সহজেই অনুমান করা যায় রাজনীতিবিদরা যখন ব্যর্থ হবেন এবং যখন কোন সমস্যার সমাধান না করতে পারবেন তখন তো কাউকে না কাউকে কিছু একটা করতেই হবে। দেশ তো আর রাজনীতিবিদদের জন্য বসে থাকবে না। চল্লিশ বছর যাবৎই তো আমরা দেশটাকে নিয়ে এই ধরনের বিপদেই আছি শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে। যার ফলে ঘন ঘন মার্শাল ল’ এসেছে। আমরা কেউ মার্শাল ল’ চাই না। কিন্তু রাজনীতিবিদরা তো সেটা বুঝেন না।

তারা মনে করেন শুধু তারাই সবকিছু বুঝেন আর শুধু তারাই দেশটির মালিক। আর আমরা সাধারণ জনগণ সবাই মূর্খ আর অবুঝ। আমরা যদি কেউ তাদেরকে ভালো কোন পরামর্শও দিতে চাই তাহলেও আমাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলা হয় গাধা আর ক্ষমতালোভী। আসলে আমরা রাজনীতিবিদদেরকে এত বেশি প্রশ্রয় দিয়ে ফেলেছি যে, তারা আর কাউকে এখন মানুষই মনে করেন না। বর্তমানে দেশে যে রাজনীতি চলছে সেটা তো কোন রাজনীতিই না। প্রধান দুই দলের নেত্রী কেউ কারো সাথে কথা বলেন না। কেউ কারো সাথে সংলাপ করবেন না, কেউ কারো চেহারা দেখবেন না। এটা তো কোন রাজনীতিই হতে পারে না। রাজনীতি হচ্ছে সমস্যা সমাধানের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। অথচ আমাদের বড় বড় নেতারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন আর আচরণ করেন পুরোটাই অগণতান্ত্রিক। এর চেয়ে হাস্যকর আর দুর্ভাগ্যের বিষয় আমাদের দেশের জনগণের জন্য আর কিছু হতে পারে না।

আমি যদি একজন আইজীবী হয়ে বলি যে, আমি কোন দিন আদালতেই যাব না তাহলে কি হবে? সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক নেতাদেরকে এক শ্রেণির দলীয় চাটুকার ও স্বার্থন্বেষী মহল এমনভাবে ঘিরে রেখেছে যে সেখান থেকে তারা চাইলেও আর বের হতে পারবেন না। এই কারণেই রাজনীতি বার বার ব্যর্থ হচ্ছে, গণতন্ত্র বিপদের মুখে পড়ছে এবং অরাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনিতি ইতোমধ্যেই যে সাংঘর্ষিক অবস্থার দিকে যাচ্ছে তাতে অনেকের মত আমি নিজেও গভীরভারে উদ্বিগ্ন এবং আমিও নানা ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছি। তবে অতীতের মত আগামীতেও যদি রাজনীতিবিদদের ব্যর্থতার কারণে কোন নতুন শক্তি ক্ষমতায় আসে তাহলে আমি সেই শক্তিকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে না দেখে সম্মিলিত শক্তি হিসেবেই দেখব।”

ব্রিগেডিয়ার (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নানা ধরনের গুঞ্জন ও তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কা সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেনের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি ইনকিলাবকে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অস্থির ও অসহিষ্ণু পরিবেশ বিরাজ করছে তাতে যে কোন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোন শক্তির উত্থানের একটি আশঙ্কা সাধারণ মানুষের মনে সবসময়ই থাকে। অতীতেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিন্তু এই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে এবং দেখা গেছে এই ধরনের ঘটনায় যে শক্তি ক্ষমতায় আসে তাদেরকে সাধারণ জনগণ ব্যাপকভাবে সমর্থনও জানায়। এর কারণ হচ্ছে দেশের রাজনীতি যখন সংঘাতপূর্ণ থাকে তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারণ জনগণ। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে নতুন কোন শক্তি ক্ষমতায় আসলে জনগণ তাদেরকে সমর্থন দেয় এই ভেবে যে সংঘাতময় ও অনিশ্চয়তার রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে অন্তত তারা নিস্তার পেয়েছে। বিগত সময়ে ওয়ান ইলেভেন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুরুতেই দেশের জনগণ কিন্তু তাদেরকে দারুণভাবে সমর্থন করেছিল এবং স্বাগত জানিয়েছিল। শুরুর অবস্থা দেখে তো মনে হয়েছিল যেন ওয়ান ইলেভেন সরকারই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।

আসলে রাজনীতির ওপর যখন সাধারণ মানুষ খুব বেশি হতাশ হয়ে যায় এবং রাজনীতিবিদরাও জনগণ ও দেশের স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করে নিজেরা অতিমাত্রায় আত্মকলহ বিবাদ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন ঐ ধরনের পরিস্থিতিতেই সাধারণত অস্বাভাবিক বা তৃতীয় শক্তির সরকারগুলো ক্ষমতায় চলে আসে। আর এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্থা ও শক্তি নেপত্থে ভূমিকা রাখে। অতীতে আমরা এই ধরনের অনেক ভূমিকা দেখেছি। তবে একথাটি মানতেই হবে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতবারই এই ধরনের অস্বাভাবিক বা তৃতীয় শক্তি ক্ষমতায় এসেছে তার প্রতিটারই সুযোগ করে দিয়েছেন শুধু এদেশের রাজনীতিবিদরাই। সাধারণ জনগণ কখনোই তাদেরকে ডেকে আনেননি। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে যে উত্তাপ ও অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে তাতে রাজনীতিবিদরা যদি ভুল করেন তাহলে অতীতের মতো আগামীতেও তৃতীয় শক্তির উত্থানের আশঙ্কা থাকতেই পারে এবং এই ধরনের কিছু হলে সেটা মোটেও অস্বাভাবিক হবে না।”
/ইনকিলাব

Content Protection by DMCA.com

অবশেষে জাস্টিস ওয়াহ্হাবেরও বিদায়!

যারা আশা করেছিলেন সুপ্রিম কোর্ট থেকে জাতির মুক্তি আসবে- তাদের আশাও শেষ। বিচারপতি ওয়াহ্হাবও সাহস করতে পারলেন না। তিনি পারলেন না জাতির মুক্তির জন্য কাঙ্খিত কাজটি করতে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দীর্ঘদিন যাবৎ আশা দিয়ে ঘুরানো, লোভ, টোপ, শঠতা, বেইমানী করে অবশেষে গভীর রাতে  সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। যদিওে সংবিধানের সর্এবশেষ অবস্থা অনুযায়ী বিচারপতির সিনহা এথনও তার পদে বহাল থাকার কথা। কিন্তু তার জন্ম তারিখের উপর ভিত্তি করে ৩১ জানুয়ারী তাকে অবসরে গেছেন ধরে নিয়েছে সরকার।  এর আগে গত বাতে ৮টার দিকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে ঘন্টাব্যাপি কথাবার্তা বলে সব ঠিকঠাক করে এসেছেন।

কট্টর আওয়ামী দলদাস মাহমুদ হোসেন ইতোমধ্যে পা-চাটার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে আছেন। এর আগে  বিগত দু’টি নির্বাচন কমিশন হাসিনার সুবিধার জন্য বাছাই করে দিয়েছিলেন এই মাহমুদ হোসেন। মাহমুদ হোসেন মারা না গেলে ২০২১ সালের শেষ দিন পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির চেয়ারে থাকবেন।

গত সন্ধ্যা থেকে বিচারপতি ওয়াহ্হাব মিঞ্রাকে অনেকেই সতর্ক করে যাচ্ছিলেন। ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ পার হওয়ার পরেও যখন তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়নি, তখন তিনি আর হতে পারছেন না। সকালে উনি পদে থাকবেন  কি না সন্দেহ। সেটাই হলো।

আগামীতে বাংলাদেশে অনেক খারাপ দিন আসতেছে। বহু কিছু বদলে যাবে মর্মান্তিকভাবে। মানবাধিকার হরণ, খুন গুম, অন্যায় অত্যাচার চরমে উঠবে। অবশ্য এখন কিছুদিন ধরপাকড় করে দেশে শান্তি শান্তি ভাব আসবে। জঙ্গিবাদ ঘুমিয়ে যাবে।

বিরোধী দলের রাজনীতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে আল্লাহ মালুম। একমাত্র পথ- যদি গণজাগরণ হয়।

Content Protection by DMCA.com

আগামী ক’দিনে কি ঘটতে যাচ্ছে বঙ্গভবনে?

আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা হঠাৎ দুলে উঠেছে। অনেকেই শশ ব্যস্ত। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র নড়াচড়া করছে। সন্ধ্যায় বিশাল লটবহর অস্বাভাবিক বেশী নিরাপত্তা নিয়ে বঙ্গভবনে হঠাৎ দৌড়ে গেলো বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। দিনের বেলায় সেনাপ্রধান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিও নাকি দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে! দ্বিতীয় দফায় হামিদ সাহেব রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন- তাই বিশিষ্টরা গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে যাচ্ছেন কি? যদিও সরকারী তরফ থেকে খবর প্রকাশ করা হয়েছে হামিদকে দ্বিতীয় দফায় নমিনেশন দিয়ে সেটা কনফার্ম করতে হাসিনা গেছে! এটা ফালতু অযুহাত। আসলে তা নয়। মূলত ক্ষমতা পতনের মুখে। কি করে ধরে রাখবে, হামিদের সাথে সেই ফন্দি আটতে গেছে।

 
আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি। সেনা শহীদ দিবস এবং ভাষা শহীদ দিবসের মাস শুরু। ১ তারিখটা অন্য কারণেও খুব গুরুত্বপূর্ন ছিল। আজকে দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটা দিতে পারেননি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি এ কাজটি করার কথা একাকী, সরকারের সাথে পরামর্শ ছাড়াই। সংবিধানে বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হবে না।
 
এখন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হলে সিনিয়র মোস্ট হিসাবে বিচারপতি ওয়াহাব মিঞাই হওয়ার কথা প্রধান বিচারপতি। কিন্তু একদিন পার হওয়ার পরেও সেটা করেননি রাষ্ট্রপতি হামিদ। মোটকথা বিচারপতি ওয়াহ্হাবের একটা করে দিন নষ্ট করা শুরু করলেন হামিদ। আর যদি রাষ্ট্রপতি হামিদ চালাকি করে ওয়াহ্হাব মিয়াকে বঞ্ছিত করে, তবে অবৈধ সরকার ফেলে দেয়ার মত টুলস বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়ার হাতে আছে। তাহলে প্রশ্ন- কে কোনটা ব্যবহার করবে?
 
এর আগের প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার জন্মতারিখ অনুযায়ী গতকাল ছিল তাঁর শেষ কর্ম দিবস, যদিও তিনি প্রাণভয়ে দেশের মাটিতে পা রাখতে পারেননি গত তিন মাস! তবে নতুন প্রধান বিচাপতি নিয়োগ করা যাবে কি না, তা নিয়ে দু’টো বিষয়ে বিতর্ক জিইয়ে রইল –
 
প্রথমত, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার এতদিন ধরে যেভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিল- বিচারপতি সিনহা সিঙ্গাপুরে পদত্যাগ করেছেন, সেটার কি হবে? সেটা যে পদত্যাগপত্র ছিল না, তা এতদিনে সবাই জেনে বুঝে গেছে। তাহলে এই মিথ্যুক ও প্রতারক সরকারের কি বিচার হবে?
 
আর দ্বিতীয়ত, বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রকাশ করতে গিয়ে সংবিধানে যে পরিবর্তন করেছেন, তাতে প্রধান বিচারপতি সহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের কোনো অবসরের সময়সীমা নাই, অর্থাৎ আমৃত্যু! ষোড়শ সংশোধনীর রায় রিভিউ করে অবসরের বয়স সংক্রান্ত বিধান ঠিক করা না হলে নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা সম্ভব কি না?
 
সার্বিক অবস্খায় প্রশ্ন উঠেছে- ক্ষমতা চেয়ারে থাকবে কে, আর বিদায়ই বা নিচ্ছে কে? হাসিনা বিদায়? নাকি ওয়াহাব বিদায়? নাকি দু’জনেই থাকবে? আগামী কয়েকটা দিন বঙ্গভবনে সাংঘাতিক সাংঘাতিক ঘটনা ঘটার আলামত লক্ষ করা যাচ্ছে।
 
এখন ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি করা হলে- মহা বিপদ মাথায় নিতে হবে হাসিনার (কালা মানিকের ভাস্য)!
অন্যদিকে ওয়াহ্হাব মিঞাকে প্রধান বিচারপতি না করলে- হাসিনার সংসদ, সরকার পতনের চাবিকাঠি ওয়াহ্হাব মিয়ার হাতে। তখন হাসিনার সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি হামিদের ১৮ তারিখের নির্বাচন কোথায় যাবে কে জানে? সবকিছু নির্ভর করছে- কে কোন্ কার্ড কখন খেলে – তার উপর!
 
উত্তরপাড়া থেকে বলা হচ্ছে – কিপ ইওর ফিঙ্গার ক্রসড!
Content Protection by DMCA.com

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ভুয়া- জাল-জালিয়াতের কিছু নমুনা

‘মাননীয় আদালত, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাৎ। কিন্তু কোনো টাকা তো খরচই হয়নি। সব টাকা ব্যাংকে আছে। সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। তাহলে আত্মসাৎ হলো কীভাবে? হোয়াট ইজ আত্মসাৎ? আর আত্মসাৎ যদি না হয়, তাহলে মামলা কিসের?’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি যে ভুয়া, জাল নথির ওপরে সাজানো তা ইতিমধ্যেই প্রমানিত হয়ে গেছে। মুলত: রাজনৈতিক হীন স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য জোড়াতালি দিয়ে এই মামলা শেষ করে এখন ফরমায়েশী রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকারের আজ্ঞাবহ আদালত। আদালতের আগেই রায় ঘোষণা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী-নেতারা। বেগম জিয়াকে হয়রানি করতে এই মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পুর্ন অবাস্তব ও মিথ্যার ওপর দিয়ে সরকারের অবৈধ ক্ষমতাবলে রায় পর্যন্ত ঠেলে আনা হয়েছে। সবাই ইতিমধ্যে অবগত আছেন যে, এই মামলাটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত, অসার। যে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সূত্রপাত, ওই টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত আছে, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি টাকারও বেশি। টাকা অত্মসাৎ করলে এই টাকা কিভাবে থাকে? মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর কোনো সাক্ষীই বলেননি যে, টাকা আত্মসাৎ হয়েছে। কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা আত্মস্যাতের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দুদক। জাল-জালিয়াতে সাজানো মামলাটি আইনগত ও বাস্তবে যে কতটা মিথ্যা তার যৎসামান্য তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. সরকার পক্ষ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি, টাকা কোথা থেকে এসেছে। তারা বলছেন, টাকা এসেছে কুয়েত অথবা সৌদি আরব থেকে। বলা হয়েছে, টাকা এসেছে ইউনাইটেড সৌদি কমার্সিয়াল ব্যাংকের ডিডি’র মাধ্যমে। সরকার পক্ষ আদালতে আসল ডিডি উপস্থাপন না করে কেবলমাত্র ঘষামাজা ফটোকপি জমা দিয়েছে!

২. সরকার পক্ষের ১ এবং ৩১ নং সাক্ষীর বক্তব্য অনুসারে টাকা সরাসরি সোনালী ব্যাংকের রমনা শাখায় জমা হয়েছে। প্রশ্ন হলো- কোনো ব্যাংক একাউন্টে একটি ডিডি কি সরাসরি জমা দেয়া যায়?

৩. ঐ টাকা ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত অলস পড়ে ছিল (চার্য করা হয়েছে, টাকা কেন অলস পড়ে ছিল?)

৪. দুই কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে এবং ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩শ’ ৩৩ টাকা ৪০ পয়সা দেয়া হয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে।

৫. কোন চেক, ফরোয়ার্ডিং লেটার, রিকোয়েস্ট লেটার, ভাউচার, এপ্রুভাল কিংবা নোটশিটে বেগম খালেদা জিয়ার কোন স্বাক্ষর নেই বা অনুমোদন নেই। এমন কোন প্রমান রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।

৬. আলামত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যে ক্যাশবুক উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি কোনো ক্যাশবুক বলে মনে হয় না; মুদি দোকানেও এরচেয়ে উন্নতমানের ক্যাশবুক থাকে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একাউন্ট যেখানে প্রতি বছর অডিট করা হয়, সেখানে এমন ক্যাশবুক থাকা অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেই ক্যাশবুকে একই চেক নম্বর দিয়ে একই পরিমান টাকার কথা একবার ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসে লেখা হয়েছে, আবার নভেম্বর মাসেও লেখা হয়েছে। কিন্তু সেই চেকটি আলামত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।

৭. দু্ইটি ট্রাস্টে সমান বণ্টনকৃত বরাদ্বের (২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ + ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০) মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে কেবলমাত্র ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ বগুড়ার বিরুদ্ধে। অথচ এই টাকার অর্ধেক দিয়ে একই ব্যক্তির নামে (শহীদ জিয়ার) নামে বাগেরহাটে প্রতিষ্ঠিত আরেকটি এতিমখানা ‘জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনা হয়নি। বাগেরহাটে দোষ না হলে বগুড়ায় কেনো অপরাধ হবে?

৮. জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর জন্য বরাদ্বকৃত মোট ২,৩৩,৩৩,৩৩৩.৪০ টাকার মধ্যে ২ কোটি ১০ লাখ টাকার উপর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দ থেকে খরচ হওয়া ২২ লাখ ৬১ হাজার ৮৫৬ টাকা ২০ পয়সার উপর কোন দুর্নীতি/আত্মস্যাত বা সরকারী এতিম ফান্ডের টাকা বলে অভিযোগ আনা হয়নি। কেনো?

৯. আলোচ্য ২,১০,৭১,৬৪৩.৮০ টাকা ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার মূল্য বাবদ জনাব শরফুদ্দিন আহমেদকে প্রদান করা হয়েছিল। তাহলে দুর্নীতি কবে ঘটেছিল? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৬ সালে?

১০. দুর্নীতি যদি ১৯৯৩ সালে ঘটে থাকে, তাহলে পুরো টাকার উপর কেন দুর্নীতির অভিযোগ উঠলো না? আর দুর্নীতি যদি ২০০৬ সালের নভেম্বরে ঘটে থাকে, তাহলে তখন তো বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না। সেই সময় সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন ড. কামাল সিদ্দিকী এবং তিনিই সোনালী ব্যাংকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট একাউন্টের স্বাক্ষরদাতা (ঐ স্বাক্ষরটি আসলেই উনার কিনা, সেটাও যাচাই করা হয়নি- কেননা ২০০৬ সালের নভেম্বরে কামাল সিদ্দিকী মুখ্য সচিব ছিলেনও না)। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(৩) অনুচ্ছেদ এবং ফৌজদারী দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ‘প্রধানমন্ত্রী’ সরকারী কর্মকর্তা হতে পারেন কিনা, সেটাও একটি প্রশ্ন।

১১. ২০০৬ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এফডিআর খোলা এবং এতিমখানা স্থাপনের জন্য এক খণ্ড জমি কেনার অগ্রীম মূল্য বাবদ জনাব শরফুদ্দিন আহমেদকে (নভেম্বর মাসে) ৫টি চেকের মাধ্যমে ২.৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে শরফুদ্দিন আহমেদকে ২ কোটি টাকার ফেসভ্যালুর ২টি এফডিআর প্রদান করা হয়, যা মেয়াদান্তে ২.৫ কোটি টাকা হবার কথা ছিল। জনাব শরফুদ্দিন আহমেদ মেয়াদ পুর্তির আগেই সেই এফডিআর ভাঙিয়ে ফেলার কারণে ক্ষতিপূরণ, আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর দেবার পর ২,১০,৭১,৬৪৩.৮০ টাকা হাতে পান। কিন্তু জমি না কেনার কারণে তিনি পুরো ২.৫ কোটি টাকাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে ফেরত প্রদান করেন। যে কারণে এই লেন-দেন এর ফলে ট্রাস্ট আর্থিকভাবে কোন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি।

১২. আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের মাধ্যমে দুর্নীতির ঘটনা যদি ১৯৯৩ সালে না ঘটে ২০০৬ সালে ঘটে থাকে, তাহলে সেটি ট্রাস্ট আইন কিংবা দণ্ডবিধির সংশ্লিস্ট ধারায় মামলা হবার কথা; দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাদের এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এই মামলা হবার কথা নয়।

১৩.এটা সর্বজনবিদিত যে ,১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন সরকার ব্যবস্থা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তাহলে ‘প্রধানমন্ত্রীর অরফানেজ ট্রাস্ট’ এর মত অস্তিত্বহীন একাউন্ট, যেটি সরকার প্রধানের নামে খোলার দাবী করছেন প্রসিকিউশন, সে কিভাবে ৯/৬/১৯৯১ তারিখে খোলা সম্ভব? যারা নথি জালিয়াতি করেছেন, তারা কি ইতিহাস জানেন না?

১৪. সরকার পক্ষের ১৯ নং সাক্ষী জানিয়েছেন ১৯৯৩ সালের জানুয়ারী মাসের ৩১ তারিখে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হিসাব রক্ষক পদ থেকে ইস্তফা প্রদান করেন। সেই ক্ষেত্রে কথিত ক্যাশবুকে ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবর মাসে তার লেখা এন্ট্রি পাওয়ার ঘটনা ব্যাখ্যার দাবি রাখে। যদিও এই সাক্ষী বলেছেন, তাকে তার ইস্তফা প্রদানের পর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে ডেকে এনে এই এন্ট্রি দেয়ানো হয়েছে। চাকুরিতে ইস্তফা প্রদানের পর অগ্রীম তারিখে কিভাবে লেজার এন্ট্রি দেয়া সম্ভব? এটা কতটুকু আইনসম্মত? আসলেই এই এন্ট্রিগুলো কবে দেয়া হয়েছে? ১৯৯৩ সালে? নাকি ২০০৮ সালে যখন তাকে ডাকা হয়েছিল তখন? কারণ ১৯৯৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে কর্মরত হিসাব রক্ষক ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ সংক্রান্ত কোন হিসাব দেখেন নাই বলে আদলতে জানিয়েছেন। ১৯৯৩ সালের এপ্রিল, জুলাই এবং অক্টোবরে যদি এন্ট্রি দেবার প্রয়োজনই হতো, তাহলে তো সেটি তখনকার কর্মরত হিসাব রক্ষক ২১ নং সাক্ষীকে দিয়েই করানোর কথা ছিল।

১৫. যে একমাত্র সাক্ষী একটি স্বাক্ষর দেখার দাবী করেছেন তিনি প্রমানই উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ইস্তফাদানকারী ১৯ নং সাক্ষীকে ইস্তফা প্রদানের পর ডেকে এনে আইন বহির্ভূতভাবে অগ্রীম তারিখে ক্যাশবুকে বিভিন্ন এন্ট্রি দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। মুলত: মিথ্যা মামলা সাজাতে গিয়ে পদে পদে মিথ্যায় ডুবে গেছে রাস্ট্রপক্ষ। দেশের মানুষের কাছে সব নীলনক্সা উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। এখন সরকার মুখ লুকাবে কোথায়?

Content Protection by DMCA.com

বেগম জিয়ার মামলার রায় জজের কাছে হস্তান্তর: নিহত হবে জজ আখতারুজ্জামান!

——————————————
অবশেষে ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়ার মামলার রায় ঘোষনা করতে যাচ্ছে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান। তবে রায় জজ সাহেব নিজে লিখেন নি। হাসিনার অবৈধ সরকার রায় ঠিক করে দিয়েছে- খালেদা জিয়াকে ৭ বছর জেল ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে! তবে শেষ সময়ে জেল বা টাকার পরিমান কম বেশী হতে পারে।

আইন মন্ত্রনালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানকে আজ বিকালে আইন মন্ত্রনালয়ে ডেকে নেন আইন সচিব জহিরুল ইসলাম ওরফে পিস্তল দুলাল। সচিব দুলাল ঐ মামলার লিখিত রায়ের কপি আখতারুজ্জামানকে হস্তান্তর করেন। সেই সাথে তাকে হুশিয়ার করে দেন- উল্টা পাল্টা করলে পরিণাম ভালো হবে না। ইউ নো আই ক্যান ডু আপ দ্য লাস্ট! পাশের ঘরে বসে থাকা এক আততায়ীকে জজ আখতারের সামনে উপস্থিত করে বলা হয়- “একে চিনতে পারছ!” এ তোমার পিছে থাকবে।’ সচিবের রুম থেকে বের হয়ে আখতারুজ্জামান সচিবের ব্যক্তিগত সহকারীর রুমে ঢুকে তার কাছে জানতে চান, ঐ লোক কে, তার পরিচয় কি? সহকারী জানায়, সে একজন সিরিয়াল কিলার। বিভিন্ন যায়গায় কাজ কর্ম করে।

আরও জানা গেছে, বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ব্যারিস্টার আজমালুল হক কিউসি বেগগম জিয়ার মামলার ঐ রায় লিখে চুড়ান্ত করে আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে হস্তান্তর করে রবিবার। এরপরে পরেই আজ জজ আখতারুজ্জামানের কাছে তা দেয়া হয়।

সুত্র আরও জানায়, সরকারের চাহিদামত রায় ঘোষণা করেও বাঁচতে পাবে না জজ আখতারুজ্জামান। রায় ঘোষণার পরপর হঠাৎ হামলা করে জজ আখতারুজ্জামানকে হত্যা করবে পিস্তল দুলালের আততায়ী। তবে এই হত্যার দোষ চাপানো হবে বিএনপির ওপর্। এরপরে ব্যাপক ধরপাকড় ও ক্রাকডাইনে নামবে পুলিশ র‌্যাব।

Content Protection by DMCA.com

“জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার এজাহার ” এবং ভুয়া মামলাটির পোস্ট মর্টেম!

এজাহার টি পোস্ট মর্টেমের আগে মনোযোগ দিয়ে এজাহারটিই আগে পড়া যাক।
বরাবর,
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
রমনা মডেল থানা ডিএমপি, ঢাকা।

বিষয়ঃএজাহার দায়ের।

আমি হারুনুর রশীদ, উপ-সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এই মর্মে এজাহার করছি যে, দুদক নথি নং-৬৬/২০০৮ (অনু: ও তদন্ত-৩) এর অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১-৯৬ সময়কালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডিডি নং-১৫৩৩৬৭৯৭০ তারিখ ০৯/০৬/১৯৯১ ইং মূলে কুয়েতের আমীর এর পক্ষ থেকে ১২৫৫০০০ ইউ এস ডলার, যা তৎকালীন রেটে বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪,৪৪,৮১,২১৬ টাকা অনুদান/সাহায্য হিসেবে প্রাপ্ত হন। তিনি স্বীয় ক্ষমতাবলে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামীয় একটি পৃথক তহবিল গঠন করেন (যা পূর্বে ছিল না এবং পরবর্তীতেও এর কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় নি)। এবং সোনালী ব্যাংক,রমনা শাখায় প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামীয় একটি চলতি হিসাব খুলে (যার হিসাব নং ৫৪১৬) উক্ত অনুদান সাহায্য বাবদ প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ সেখানে জমা করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি তহবিলে বিদ্যমান উক্ত অর্থ অসৎ উদ্দেশ্যে আত্মসাতের অভিপ্রায় প্রথমে নিজ পুত্রদ্বয় যথাক্রমে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান এবং স্বামী মরহুম জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমানকে দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেন, যা ০৫/০৯/১৯৯৩ইং তারিখে গুলশান সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রেশন নং iv ৩০ মূলে রেজিস্ট্রি হয় এবং উক্ত ট্রাস্টের ঠিকানা ৬ , শহীদ মইনুল রোড,ঢাকা সেনানিবাস,ঢাকা উল্লেখ আছে।যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বসবাস করতেন। তারেক রহমান , পিতা- মরহুম জিয়াউর রহমানকে দি অথর অব দি ট্রাস্ট তথ্যাদি সেটেলর নিয়োগ করা হয়। উক্ত ট্রাস্টটির ডিড অব ট্রাস্টের ১৪ নং অনুচ্ছেদ মূলে (১) তারেক রহমান, (২)আরাফাত রহমান উভয়ের পিতা মরহুম জিয়াউর রহমান, এবং (৩) মমিনুর রহমান , পিতা-মৃত মমতাজুর রহমান সমন্বয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব ট্রাস্টি গঠন করা হয়। বিগত ১৩-১১-১৯৯৩ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সোনালী ব্যাংক, রমনা কর্পোরেট শাখার চলতি হিসাব নং ৫৪১৬ (বর্তমানে ৭১০৫৪১৬৪) এর চেক নং ৮৪৩১১০৩ তারিখ ১৩-১১-১৯৯৩ ইং মূলে উক্ত অনুদানের অর্থ হতে ২৩৩৩৩৫০০ টাকা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বগুড়ায় একটি এতিমখানা স্থাপনের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে প্রদান করা হয়। উক্ত চেকটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক, গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখার এসটিডি হিসাব নং – ৭ এ গত ১৫- ১১-১৯৯৩ ইং তারিখে জমা হয়।উক্ত একাউন্ট হতে বিগত ০৪-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০১ এর মাধ্যমে ৪০০০০০ টাকা উত্তলন করা হয়। অতঃপর সেই টাকা হতে বগুড়া জেলার গাবতলী থানাধীন দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২,৭৭,০০০ টাকা দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে ২.৭৯ একর জমি ক্রয় করা হয়। অবশিষ্ট টাকা দিয়ে ১৯৯৩ সন থেকে ২০০৬ সনের মধ্যে কোন এতিমখানা স্থাপন না করে এবং এতিম ও দুঃস্থদের কল্যাণে ব্যয় না করে ট্রাস্টের নামীয় উক্ত একাউন্টে অব্যয়িত রাখা হয়। যার স্থিতি ১২ -০৪-২০০৬ ইং পর্যন্ত সময়ে সুদ আসলে ৩৩৭০৯৭৫৭/৩২ টাকা দাঁড়ায়। অতঃপর ব্যাংকে জমা থাকা টাকা উক্ত হতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সেটেলর ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আসামী তারেক রহমান এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অপর সদস্য মমিনুর অসৎ উদ্দেশ্যে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে ১৩-০৪-২০০৬ তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৭ মূলে ৫০০০০০০ (পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা, ১৫-০৫-২০০৬ তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৪ এবং চেক নং ৪৮৮২৪০৬ মূলে প্রতিটি এক ১০০০০০০০ (এক কোটি) করে ২০০০০০০০ (দুই কোটি) টাকা, ০৪-০৭-২০০৬ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৪ মূলে ৫০০০০০০ ( পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা এবং ০৫-০৭-২০০৬ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০৩ মূলে ৩০০০০০০ ( ত্রিশ লক্ষ) টাকা সর্বমোট ৩৩০০০০০০ ( তিন কোটি ত্রিশ লক্ষ) টাকা প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় এফডিআর হিসাব খোলার নামে নগদায়ন / স্থানান্তর করে।

উক্ত টাকার মধ্যে ১৩-০৪-২০০৬ তারিখের ৫০,০০,০০০ টাকার চেকটি নগদায়ন করে প্রথমে কাজী হক-এর ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর যার নং ৪১০২৯৪৬২ হিসাব খোলা হয়।পরবর্তীতে গত ১৬-০৭-২০০৬ ইং তারিখে উক্ত এফডিআরটি নগদায়ন করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামে সুদসহ ৫০,৬৮,৪৫০ টাকার একটি নতুন এফডিআর খোলা হয়। যার নং ৪১০৩৩৩৩৮।এছাড়াও অপর চেক সমুহের অর্থ দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ৮০,০০,০০০ ( আশি লক্ষ) টাকার একটি এফডিআর, যার নং ৪১০৩৩১১৭ তারিখ ০৯-০৭-২০০৬ ও ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার একটি এফডিআর, যার নং ৪১০৩২৬৬৯ তারিখ ২৭-০৬-২০০৬ খোলা হয় । অবশিষ্ট ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকা দিয়ে কাজী সলিমূল হক এর ব্যক্তিগত নামে একটি এফডিআর খোলা হয়, যার নং ৪১০৩২২৭৬ তারিখ ১৫-০৬-২০০৬।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের ২৮-০৩-২০০৬ তারিখের কথিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় ৫০,০০,০০০ টাকার ও ৮০,০০,০০০ টাকার এফডিআর দুটি পরিচালনার জন্য জনৈক এম এস রহমানকে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার অপর একটি এফডিআর ও কাজী সলিমূল হক – এর ব্যক্তিগত নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার এফডিআরটি পরিচালনার জন্য কাজী সলিমুল হককে ক্ষমতা প্রদান করা হয়।

বর্ণিত ৪টি এফডিআর এর মধ্যে ৫০,০০,০০০ টাকা ও ৮০,০০,০০০ টাকার এফডিআর দুটি প্রাইম ব্যাংক, গুলশান শাখায় চলমান আছে। তবে কাজী সলিমুল হকের মৌখিক নির্দেশে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর ট্রাস্টি বোর্ডের কথিত ১৫-১০-২০০৬ তারিখের সভার সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতাংশের মাধ্যমে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এর নামীয় ১,০০,০০,০০০ ( এক কোটি) টাকার এফডিআর এবং কাজী সলিমুল হক এর ব্যক্তিগত নামে খোলা ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) এফডিআর দুটি প্রাইম ব্যাংক , গুলশান শাখা হতে আন্তঃব্যাংক ক্রেডিট এডভাইস ( IBCA) এর মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংক, নিউ ইস্কাটন শাখায় সুদসহ নগদায়ন / স্থানান্তর করে কাজী সলিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ এর যৌথ নামে ১৬- ১১ -২০০৬ তারিখে একটি এফডিআর যার নং ৪১০২২৬১৯ /৭৩১৯৩ টাকার পরিমাণ ১,০৩,১৯,৩৬৫ খোলা হয় এবং গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এর নামে ০৭-০২-২০০৭ তারিখে অপর একটি এফডিআর , যার নং ৪১০২৫৫৩৫/৭৩৪১৯ টাকার পরিমাণ ১,০৬,৩৮,৬৮৬ খোলা হয়। উক্ত ২ টি এফডিআর এর মধ্যে ১৬-১১-২০০৬ তারিখে কাজী সলিমুল হক ও সৈয়দ আহমেদ (সায়িদ আহমেদ) এর যৌথ নামে খোলা এফডিআর, যার নং ৪১০২২৬১৯/৭৩১৯৩ তুলে সুদসহ নগদায়ন করে গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এর নামে একটি নতুন এফডিআর , যার নং ৪১০২৫৫১১/ ৭৩৪৩৯ তারিখ ০৭-০২-২০০৭ টাকার পরিমাণ ১,০৪,৩২,৯৫৭/৮০ খোলা হয়।

অতঃপর আসামি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ উক্ত এফডিআর দুটি নগদায়ন করে একই ব্যাংকে বিগত ১৫-০২-২০০৭ ইং তারিখে তার নিজ নামে ৬ টি পে-অর্ডার , যথাক্রমে পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৪৮ টাকার পরিমাণ ৪০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৪৯ টাকার পরিমাণ ৪০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫০ টাকার পরিমাণ ৩০,০০,০০০, পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫১ টাকার পরিমাণ ৩০,০০,০০০ পে-অর্ডার নং ৬৫৯৩৫২ টাকার পরিমাণ ৫০,০০,০০০ এবং পে – অর্ডার নং ৬৫৯৩৫৩ টাকার পরিমাণ ২০,৭১,৬৪৩/৮০ ইস্যু করেন এবং একই ব্যাংকের একই শাখায় জনৈক শরফুদ্দিন আহমেদ এর নামীয় চলতি হিসাব নং ১১০১৩১৪ এ জমা করেন, যা উক্ত ব্যাংক হিসাবে গত ২৮-০৩-২০০৭ তারিখে জমা হয়।পরবর্তীতে আসামি শরফুদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য উৎস হতে তার উক্ত চলতি হিসাবে জমাকৃত টাকার সাথে উক্ত ২১০৭১৬৪৩/৮০ টাকা উত্তোলন করেন এবং পরস্পর যোগসাজশে তা আত্মসাৎ করেন।

উপর্যুক্ত ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসৎ উদ্দেশ্যে উপোল্লিখিত সুপরিকল্পিত পন্থায় আত্মসাতের অভিপ্রায়ে নিজে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের এবং তার স্বামীর বোনের ছেলে মমিনুর রহমানকে দিয়ে তার প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানের নামে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করে ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে তার নিজস্ব পরিচালনাধীন প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২,৩৩,৩৩,৫০০ টাকা উক্ত ট্রাস্ট প্রদান করে এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সেটেলর তারেক রহমান উক্ত ট্রাস্টি বোর্ডের অপর সদস্য মমিনুর রহমান এর সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ট্রাস্টের সাথে সম্পর্কহীন কাজী সলিমুল, সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এবং শরফুদ্দিন আহমেদ এর সহযোগিতায় নিজে অথবা অন্যকে অবৈধভাবে লাভবান করার মানসে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে আত্মসাতের অভিপ্রায়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় ২,০০,০০,০০০ ( দুই কোটি) টাকা, যা সুদসহ ২,১০,৭১,৬৪৩/৮০ টাকা আত্মসাত করে আত্মসাত করায় সহযোগিতা করে বাংলাদেশ দঃবিঃ ৪০৯/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নং আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করায় (১) বেগম খালেদা জিয়া , সাবেক প্রধানমন্ত্রী , স্বামী মরহুম জিয়াউর রহমান, ঠিকানা-৬,শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা। (২) তারেক রহমান, পিতা- মরহুম জিয়াউর রহমান,ঠিকানা-৬, শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস ,ঢাকা। (৩) মমিনুর রহমান , পিতা -মৃত মমতাজুর রহমান তরফদার , ঠিকানা- ২১৩,এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি (নিউ মার্কেট থানা), ঢাকা।বর্তমান ফ্ল্যাট নং ৫০২, প্লট নং -৮/এ রোড, নং -৪, গুলশান-১, ঢাকা। (৪) কাজী সলিমুল হক, ওরফে কাজী কামাল, সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য, পিতা- মৃত কাজী আকরামুল হক, ঠিকানা-৭১০ বড় মগবাজার,ঢাকা,বর্তমানে ফ্ল্যাট নং -২/ডি, বাড়ি নং -৫, গোল্ডেন ক্রেস্ট, রোড নং -৮, গুলশান-১।স্থায়ী ঠিকানা-গ্রাম-বামনখালী, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা, (৫) সৈয়দ আহমেদ ওরফে সায়িদ আহমেদ, পিতা- শরফুদ্দিন আহমেদ, ঠিকানা- ৭১২, বড় মগবাজার,থানা- রমনা, ঢাকা। (৬) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, পিতা -মৃত শাহাব উদ্দিন, ঠিকানা -৭১২ , বড় মগবাজার,থানা – রমনা, ঢাকা। (৭) শরফুদ্দিন আহমেদ, পিতা – মৃত শাহাব উদ্দিন আহমেদ,ঠিকানা- ৭১২ বড় মগবাজার ,থানা- রমনা, ঢাকা গণের বিরুদ্ধে আপনার থানায় বর্ণিত ধারায় একটি মামলা রুজু করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ঘটনার সাথে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্তকালে তা দেখা হবে।তদন্ত প্রতিবেদনের স্বাক্ষী ও আলামতের বিবরণ দেয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন উক্ত মামলার তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

(হারুনুর রশিদ)
উপ-সহকারি পরিচালক (অনুঃ ও তদন্ত-৩)
দুর্নীতি দমন, কমিশন,প্রধান কার্যালয়,ঢাকা।

ঘটনাস্থলঃ প্রাইম ব্যাংক,নিউ ইসকাটন শাখা , রমনা, ঢাকা।
ঘটনার তারিখঃ ১৩-১১-১৯৯৩ হতে ২৮-০৩-২০০৭ইং
———————————————————————————–

এজাহারটি ৩রা জুলাই ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়।

এইবার এজাহারটি ব্যবচ্ছেদ করার পূর্বেই ছোট্ট একটি দৃশ্যকল্প কল্পনা করা যাক।মনে করুন আপনাদের গ্রামে এক ব্যক্তি বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।সদ্য নির্বাচিত সেই চেয়ারম্যান সাহেবের এক বন্ধু আছেন, যিনি কিনা আমেরিকা প্রবাসী।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাস ছয়েক পর প্রিয় আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত অনুদান পেলেন।টাকাটা যেহেতু চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত একাউন্টে এসেছে, তাই খরচও করবেন ব্যক্তিগত নিয়মে, সরকারি নিয়মে নয়! এই ব্যক্তিগত অনুদান পাওয়া টাকাটা যদি চেয়ারম্যান সাহেব আপনাদের এলাকায় দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করেন তবে আপনি চেয়ারম্যান ও তার প্রিয় বন্ধুর প্রতি খুবই খুশি হবেন।কিন্তু যদি এমন হয় যে, চেয়ারম্যান সাহেব প্রিয় বন্ধুর পাঠানো টাকাটা যেখানে দান সেখানকার দুর্নীতিগ্রস্থ কর্মকর্তারা টাকাগুলো আত্মসাত করে থাকেন তবে চেয়ারম্যানের নামে কোন অভিযোগ অথবা মামলা দিবেন কি????

এইবার উপরের দৃশ্যকল্পের চরিত্রগুলোর মধ্যে আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর পরিবর্তে কুয়েতের আমীর, চেয়ারম্যানের জায়গায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জায়গায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট বা অন্য যে কোন ট্রাস্ট…….. হোক সেটা বঙ্গবন্ধু মেমরিয়াল ট্রাস্ট কল্পনা করুন।বন্ধু হিসেবে পাওয়া কুয়েতের আমীর পক্ষ থেকে পাওয়া ১২ লক্ষ ৫৫ হাজার ইউএস ডলার বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ইচ্ছামাফিক ব্যক্তিগতভাবেই ট্রাস্টের কল্যানে ব্যয় করেছেন। টাকাগুলো যেসব ট্রাস্টগুলোতে ব্যয় করা হয়েছে, সেসবের একটিও তিনি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না।তাই ট্রাস্টগুলো পরিচালনার দায় দায়িত্ব স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ট্রাস্টের তহবিলের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর জবাবদিহিতার প্রশ্নই আসে না!

কোথাও দান করার পর সেখানে কোনরূপ দুর্নীতি হলে এর প্রধান দায়ভার যদি দাতাকেই বহন করতে হয় তবে এখন থেকে আপনি বুঝে শুনে মসজিদ –মাদ্রাসা, বন্যাদূর্গত এলাকায় অথবা রোহিংগাদের দান করবেন।তা না হলে যেখানে দান করেছেন সেখানে কোন দূর্নীতির অভিযোগ হলে আপনিই হবেন এক নম্বর আসামী।এইটা আপনি অবাস্তব আর উদ্ভট চিন্তা কল্পনা করলেও বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে ঠিক এমন অন্যায় কাজটাই হয়েছে!!!!

এবার আসা যাক, দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের প্রশ্নে।গত ১০টি বছর “এতিমের টাকা মেরে খাওয়ার” দোয়োধ্বনি শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেল।এই উচ্য গলাবাজিতে সবাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, সত্যিই বোধ হয় দুর্নীতি হয়েছে।দুর্নীতির এই কালো বিড়ালটা খুঁজতে চাইলে শুধু গলাবাজিতে বিশ্বাস নয়, পোস্টের বাকি অংশগুলো ধৈর্য্য ধরে পড়ুন প্লিজ!টাকা লেনদেনের দিকে চোখ রাখলেই দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের চিত্রটা আপনার সামনে ফুটে উঠবে।

এজাহারেই উল্লেখ আছে, কুয়েতের আমীরের পক্ষ হতে ব্যক্তিগত অনুদানে পাওয়া টাকাটা দুইটি চ্যারিটি ফান্ডে ভাগ হয়েছিল।এজাহারে বাগেরহাটে চ্যারিটি ফান্ডে ব্যয় করা টাকাটা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তোলেনি।তবে যে টাকা সম্পর্কে এত অভিযোগ, সেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ১৩-১১-১৯৯৩ সালে ২ কোটি ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান পেয়েছিল।এজাহারেই উল্লেখ আছে, এই টাকাটা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামীয় সোনালী ব্যাংক,গুলশান নিউ নর্থ সার্কেল শাখার এসটিডি হিসাব নং-৭ এ গত ১৫-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে জমা হয়।উক্ত একাউন্ট থেকে বিগত ০৪-১১-১৯৯৩ ইং তারিখে চেক নং ৪৮৮২৪০১ এর মাধ্যমে ৪ লক্ষ টাকা উত্তোলিত হয়। সেই উত্তোলতিত টাকা দিয়ে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করা হয়েছিল।অবশিষ্ট টাকাগুলো ব্যাংকেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকুলে ব্যাংকেই অব্যায়িত অবস্থায় থাকে এবং তা ১২-৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত সুদে আসলে ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯ হাজার ৭ শত ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা হয়।পরবর্তীতে এই টাকা ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্তে মোট ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার ৫ টি FDR হয়।FDR গুলো জিয়া অরফানেজ এর নামে প্রাইম ব্যাংক গুলশান শাখায় রাখা হয়।
১ম FDR: ৫০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ১৩/০৪/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৭
২য় FDR: ১ কোটি টাকা। তারিখ: ১৫/০৫/২০০৬; চেক নংঃ৪৮৮২৪০৪
৩য় FDR: ১ কোটি টাকা। তারিখ: ১৫/০৫/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৬
৪র্থ FDR: ৫০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ০৪/০৭/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৮
৫ম FDR: ৩০ লক্ষ টাকা। তারিখ: ০৫/০৭/২০০৬; চেক নংঃ ৪৮৮২৪০৩

এইবার পর্যায়ক্রমে এসব FDR এর টাকাগুলোর পরবর্তী গন্তব্য পর্যবেক্ষন করি। উপরে উল্লেখিত ৫ টি FDR এর প্রথমটি অর্থাৎ ১৩/০৪/২০০৬ তারিখের ৫০ লক্ষ টাকার FDR টি কাজী সলিমুল হককে দায়িত্ব দিয়ে তার নামে একটি ব্যক্তিগত FDR নগদায়ন করা হয়।পরবর্তীতে তার নামে করা এই ব্যক্তিগত FDR টি ১৬/০৭/২০০৬ তারিখে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে পুনয়ায় নগদায়ন করা হয়।এছাড়াও উপরে আলোচিত ৪র্থ ও ৫ম FDR ২ টি একত্র করে ৯/৭/২০০৬ সালে ৮০ লক্ষ টাকার ১ টি FDR জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামেই খোলা হয়। পরবর্তীতে ৫০ লক্ষ টাকা ও ৮০ লক্ষ টাকার দুই টি পৃথক FDR দুইটি এস. এম রহমানের নামে ব্যক্তিগত দুইটি FDR খোলা হয় এবং তাকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়। উক্ত FDR দুইটি গুলশান শাখায় মামলা করা মুহুর্ত পর্যন্ত তখনও চলমান ছিল।এই ফাঁকে একটি কথা সবাইকে জানিয়ে রাখি, ট্রাস্টের দুইটি FDR পরিচালনাকারী জনাব এস এম সাহেবের নামে কোন মামলা হয় নি।এই থেকে পরিষ্কার ভাবেই প্রমাণ হয় ট্রাস্টের এই টাকাগুলো কারও ব্যক্তিগত অধীনে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়াটা আইনগত প্রশ্নের উর্ধ্বে।তাই যারা শুরুতে এজাহারটি পড়ে ট্রাস্টের টাকাগুলো ব্যক্তিগত FDR তৈরি করা নিয়ে আইনগত বৈধতার সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, তাদের এই প্রশ্নগুলো প্রশমিত হয়ে গেছে নিশ্চয়ই!

এবার ফিরে যাই ২য় ও ৩য় FDR এর টাকার সন্ধানে।যে গুলো প্রত্যেকটি ছিল ১ কোটি টাকা হিসেবে মোট দুই কোটি টাকার পৃথক দুইটি FDR । আপনারা সবাই এতক্ষনে এজাহার পড়েই এই টাকার গন্তব্য জেনেছেন! এই গুলো এক সময় সলিমুল হক, সৈয়দ আহমেদের নামে ব্যক্তিগত FDR ছিল। পরবর্তিতে এই টাকার একটি FDR গিয়াসউদ্দিনের নামে ৭/০২/২০০৭ তারিখে ১ কোটি ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৬৫ টাকা নগদায়ন হয়।একই তারিখে ১ কোটি ৪ লক্ষ ৩২ হাজার ৯ শত ৫৭ টাকা আরেকটি FDR নগদায়ন হয়।অর্থাৎ গিয়াসউদ্দিন সাহেবের নামে সর্বমোট ২ কোটি ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৬ শত ৪৩ টাকা ব্যক্তিগত FDR হিসেবে ট্রাস্টের টাকা পরিচালনার জন্য জমা হয়।

পরবর্তী সপ্তাহখানেক পর গিয়াসউদ্দিন সাহেব ১৫ /০২/২০০৭ তারিখে আলাদা আলাদা ৬ টি পে অর্ডারের মাধ্যমে সবগুলো টাকাই উত্তোলন করেন।টাকাগুলো উত্তোলনের ঠিক ২০ দিন পর ৭ ই মার্চ ২০০৭ সালে ট্রাস্টের সেটেলর জনাব তারেক রহমানকে ১/১১ সরকার গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তার হওয়ার দুই সপ্তাহ পর ২৮/০৩/২০০৭ সালে গিয়াসউদ্দিন সাহেব কর্তৃক উত্তোলিত সমস্ত টাকাই শরফুদ্দিন নামে এক ব্যক্তির চলতি হিসাবে জমা হয়।

এই পর্যায়ে শরফুদ্দিন আহমেদের ব্যক্তিগত চলতি হিসাবে টাকাগুলো জমা হওয়ার কারন অনুসন্ধান করা যাক। জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের টাকাগুলো এতিমদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য ট্রাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিগণ আশুলিয়ায় জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্টের নামে ৭৬ শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন।সেই কারনে গিয়াসউদ্দিন সাহেব কর্তৃক উত্তোলিত টাকাগুলো জমির মালিক শরফুদ্দিনের ব্যক্তিগত চলতি হিসাব এ জমির দাম বায়না স্বরুপ পুরো টাকাটাই জমা করে দেন।কথা ছিল, জমির মালিক তার জমি উন্নয়ন করে দেওয়ার পর জমিটি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে রেজিস্ট্রি করা হবে।

তারেক রহমান জেলে থাকায় সেই জমিটি বায়নার পর আর রেজিস্ট্রেশন সংগত কারনেই সম্ভব হয় নি।ট্রাস্টের কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতায় জমির মালিক বায়নার টাকাগুলো পুরোটাই সুদে আসলে ট্রাস্টে ফিরিয়ে দেন। জনাব তারেক রহমান জেল থেকে ছাড়া পান ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখ এবং চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যান ১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখ। মুক্তি পাওয়ার আগেই ১/১১ সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন ৩ রা জুলাই ২০০৭ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ১নং আসামী এবং তারেক তারেক রহমান ২ নং আসামী করে মামলা দায়ের করে।

পরিশেষে……
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুধুমাত্র বগুড়া জেলার গাবলতলী থানাধীন দাড়াইল মৌজায় সেই ১৯৯৩ সালে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ২ দশমিক ৭৯ টাকায় জমি ক্রয় ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে একটি পয়সাও ব্যয় হয়নি।উপরোন্ত সকল টাকা ট্রাস্টের অধীনে ব্যাংকেই আছে, যা সুদে আসলে আজ ৬ কোটি টাকার অধিক হয়েছে।যেখানে টাকা ব্যয়ই হয়নি, সেখানে টাকা আত্মসাতের প্রশ্ন আসে কিভাবে?

লিংকঃ টাকাই খরচ হয়নি মামলা কিসের? http://bit.ly/2EkJO6s

মাননীয় আদালত, এইটা বাচ্চাদের কানামাছি খেলা নয়, যেখানে ” কানা মাছি ভোঁ ভোঁ, যাকে পাবি তাকে ছো “। আর ছুইলে চোর! কাজীর গরু কেতাবে যেমন আছে, গোয়ালেও আছে তেমনি! তো এত হয়রানি কিসের??

লেখক: Jamil Sikder Sazzad

Content Protection by DMCA.com

সুপ্রিম কোর্টে জেনারেল আকবরের ফের হানা : সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ!

২২ আগস্টের আপিল বিভাগের রায়প্রকাশ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে সুপ্রিম কোর্ট এবং বঙ্গভবনে। জেনারেল আকবরের অযাচিত হস্তক্ষেপে থমকে দাড়িয়েছে প্রকৃয়া।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ আজ ভাষণ দিয়ে রায় সম্পর্কে জাতিকে জানানোর কথা ছিল । এ উপলক্ষে ভাষণ রেকর্ডও সম্পন্ন হয়। তবে এর মাঝখানে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফর শুরু হওয়ার কারনে ভাষণ সম্প্রচার পিছানো হয়। আজ দুপুরের পর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন তার দলবল নিয়ে প্রথমে সুপ্রিম কার্টে হানা দেয়। ওখানে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়াকে না পেয়ে বঙ্গভবনে খুঁজে বের করে। সেখানে আকবর বিচারপতি ওয়াহাবকে রায় ঘোষণা না করতে চাপ প্রয়োগ করেন, এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্প্রচার বন্ধ করতে বলেন। বিচারপতি ওয়াহহাব ও আকবরের মধ্যে উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়।

ইতিমধ্যে সেনাপ্রধানকে আকবরের কথা জানানো হলে জেনারেল বেলাল ছুটে আসেন বঙ্গভবনে। সেনাপ্রধান মেঃজেঃ আকবরকে চার্জ করেন- কোন ক্ষমতাবলে তিনি বঙ্গভবনে এসে এসব কান্ড করছেন। সেনাপ্রধান ভৎর্সনা করে বলেন, ‘আমরা আইনের প্রতি আনুগত্য করি, কোনো ব্যক্তির না।’ রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে পরে সিদ্ধান্ত হয় বিদেশী মেহমান দেশ ছাড়ার পর ভাষণ সম্প্রচার ও রায় বাস্তবায়নের সকল প্রকৃিয়া সম্পন্ন হবে।

জেনারেল আকবরের ফের তৎপরতার খবর জানাজানি হয়ে পড়ায় সেনানিবাস ও বিচারাঙ্গনে অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি থমথমে।

Content Protection by DMCA.com
1 26 27 28 29