হাসিনার বিরুদ্ধে সেই আলোচিত দূর্নীতির মামলাগুলো জানুন !

১ টাকাও খরচ হলো না, অথচ দুর্নীতিবাজ বানানো হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে! জনগন কি এটা মেনে নিবে? এই রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। আরো আগে থেকেই তিনি বলে আসছেন এতিমের টাকা চুরির দায়ে শাস্তি দিবেন, তার মন্ত্রীরা সাজা ঘোষণা করেছেন বার বার। আর সেটা করার জন্যই দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পদচ্যুত করে তিনি অধঃস্তন আদালতের বিচারকের দখল নিজের হাতে নিয়েছেন। চাইলেই যে কাউকে ইচ্ছামত সাজা শাস্তি দেয়াতে পারেন যেকেনো আদালত দিয়ে, এমনই ক্ষমতা তার!। তাই দেশের জনগন মনে করে, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চারিচার্থ করেছেন। ঢাকায় রায় প্রকাশের সাথে সাথেই বরিশালে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশে উল্লম্ফন দেখেছে জনগন, পিতারই ভাষায়- “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” একসময় তাঁর পিতাও হত্যার পরে উপহাস করে বলেছিলেন- “কোথায় এখন সিরাজ সিকদার?” এরপরে কে কোথায় গেছে, তা দেশবাসীর জানা আছে।
 
বেগম জিয়া এবং বিএনপির দিকে তাকিয়ে আজ যারা ভ্রুকুটি করছেন, তাদের মনে রাখা দরকার- ১৯৬০ সালে দুর্নীতি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানও দু’বছর কারাদন্ড ভোগ করেছিলেন, এমনকি ডাকাতি মামলায়ও তিনি জেলে ছিলেন! দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলাও জেলে ছিলেন ২৭ বছর। সাম্প্রতিককালে মইন-ফখরের আমলে রাজনৈতিক কারনে এক বছর করে জেলে ছিলেন বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনা দু’জনেই। আসলে বাংলাদেশের সমস্যা জেল বা আদালত নয়, সমস্যা হলো নষ্ট রাজনীতি।
 
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অনাসৃষ্টির পরে বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিল রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে শান্তি আসবে। তবে গতকালের এই হুকুমি রায়ে পরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে- অবৈধ সরকার আদালতের ঘাড়ে বসে দেশ চালাচ্ছে, ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছে। দেশে আবার মারামারি কাটাকাটি হবে। শাস্তি স্বস্তি আর এলো না। একটা দেশ উপরে উঠতে গেলে রাজনৈতিক ঐক্য এবং সংহতির দরকার হয়। দক্ষিণ অফ্রিকায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরে শান্তি চুক্তি করে নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে নেয় কৃষ্ণাঙ্গ শেতাঙ্গরা।
 
৯০এর গণআন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের যে বিজয় সূচিত হয়েছিল, তা ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন ঝড়ে মুখ থুবরে পড়ে। নির্বাচন গণতন্ত্রের স্থান দখল করে নেয় হাসিনার ভোটবিহীন সরকার ব্যবস্থা। ২০০৮ সালে তৈরী করা ফলাফলের নির্বাচনে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা, এরপরে ২০১৪ সালে বিনাভোটের নির্বাচনে মাস্টাররোল করে এমপি নিয়োগ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করে গুম খুন দুর্নীতির ভূস্বর্গে পরিণত করেছে! যেহেতু ক্ষমতার জন্য ভোট দরকার নাই, তাই জনগনের কাছে জবাবদিহিতাও নাই, ফলে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে ৫/১০ গুণ খরচে উন্নয়নের বিলবোর্ড ডেমোনেস্ট্রেশন হচ্ছে। বাস্তবে রাস্তাঘাট নষ্ট, যোগাযোগ ব্যবস্খা দুমড়ে মুচড়ে দেশের অবস্থা জবুথবু, অথচ রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় অর্ধেকটা মহাদুর্নীতি করে পাচার করছে বিদেশে। কার্যকর কোনো বিরোধী দল না থাকায় অবৈধ ক্ষমতাসীনরা খুন লুটপাটের রাজনীতি চালু করেছে। মানুষ আশা করেছিল শীঘ্রই দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
 
কিন্তু ক্ষমতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল বানোয়াট দুর্নীতির মামলায় জেলে নেয়া হলো, যেখানে কোনো অর্থই খরচ হয়নি। মিথ্যা সাক্ষী ও ঘষামাজা কাগজ দিয়ে নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে মূলত গণতন্ত্রকে জেলে পাঠালেন শেখ হাসিনা।
 
বশংবদ জজের রায়ে সরকারী দল উল্লম্ফন করে অথচ, তখন জনগন দেখতে পায় অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেবিনেট, দলবল, ও স্বজনদের লক্ষ কোটি টাকার মহাদুর্নীতির কোনো বিচার হয় না, কোনো আদালতে অভিযোগ দায়ের করে না দুদক! এরূপ কয়েকটি খাত:
 
১) ২০১০-১১ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লুট করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো হয়েছে। এসব লুটপাটকারীদের বিচার তো হয়ই নি, বরং কাউকে কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করেছেন হাসিনা!

২) বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লোপট করে দিয়েছে শেখ হাসিনার আত্মীয় বাচ্চু শেখ! কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। বরং মোলায়েমভাবে অনুসন্ধান নাটক চলছে।

৩) সরকারী দলের স্তাবক আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে ৫৪০০ কোটি টাকা সরিয়েছে! অর্থমন্ত্রীর স্বীকারেক্তি।

৪) হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মোদাচ্ছের ৪০০০ কোটি টাকা লুট করার পরে অর্থমন্ত্রী বলেন- এটা এমন কোনো টাকাই না!

৫) ফার্মার্স ব্যাংক খেয়ে ফেলেছে মখা আলমগীর এবং মুনতাসির মামুনরা, যার মধ্যে পাবলিকের টাকা তো আছেই রাষ্ট্রীয় জলবায়ু খাতের ৫০৮ কোটি টাকাও নাই!

৬) ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, যার সাথে জড়িত শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা!

৭) বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১২০০ কোটি টাকা লোপাটের সাথে সরকারী দলের লোকেরা জড়িত!

৮) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরির সাথে জড়িত খোদ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকজন জড়িত, তাই দু’বছরে কোনো মামলা হয় না, কেউ জেলে যায় না।

৯) এমনভাবে লুটপাট করেছে যে দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখন দেউলিয়া করে ফেলেছে- সরকারী দলের অর্থনীতিবিদের ভাষ্য। এসকল দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীরা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র নিজেও বেনিফিশিয়ারী। যার কারনে কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়নি।
ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রীয় খাতে দেশী বিভিন্ন প্রকল্পের মুল্য পাঁচ-দশগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক প্রাক্কলন বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে টাকা সরানো হয়।
১০) দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার প্রাক্কালন বর্তমানে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ।
১১) ভারত ও চীনে যেখানে মহাসড়ক নির্মানে খরচ কিলোমিটার সাড়ে ১০ কোটি টাকা, ইউরোপে সর্বোচ্চে ২৯ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ছয়টি প্রকল্পের কিলোমিটার প্রতি খরচ কছে ৫৪ কোটি টাকা। এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট।
১২) ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় কিলোমিটারপ্রতি ঠেকেছে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। তার মানে ইউরোপেরও ৫ গুণ।
১৩) বিএনপির রেখে যাওয়া ৭৮৮ কোটি টাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারটি আ’লীগ নির্মাণে ব্যয় করেছে ২৪০০ কোটি টাকায়, কিলোমিটার প্রতি ব্যয় প্রায় ২১১ কোটি টাকা, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল!
১৪) প্রধান মন্ত্রীর ছোটবোনের ইচ্ছায় বৃটেনের ভুয়া কোম্পানী ডিপি রেলকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানের কাজ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকাই চুরি হবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৫) যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ হাজার কোটি টাকায় করা সম্ভব, তা করা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকায়।
১৬) পত্র পত্রিকা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের খবর বের হয়েছে যেখানে কেবল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী খাতের দুর্নীতির পরিমান ৭৬,০০০ কোটি টাকা।
১৭) ভিওআইপি খাত থেকে ৯৫০০ কোটি টাকার লুটপাটের খবর।
১৮) আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া থেকে কমিশন নিয়েছে ৫৩০০ কোটি টাকা।
১৯) আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ হাতিয়ে নিয়েছে ২৩৮০ কোটি টাকা।
২০) এটুআই প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতি ১১,৫৬০ কোটি টাকা।
২১) পদ্মা সেতুর খরচ তিন গুণ বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না।
২২) এভাবে বড় বড় প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে ৩/৫/১০ গুণ খরচ বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে।
 
জিএফআই’র প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রিপোর্ট বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালে পাচারের পরিমান ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে পাচার হয় ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব দুর্নীতি লুটপাটের কোনো মামলা নাই, বিচার হয় না। বোন এবং পুত্রের ২০-২৫ ভাগ কমিশন নেয়ার কাহিনী লন্ডন আমেরিকায় মুখে মুখে।
 
২৩) ২০০৮ সালের নির্বাচন অবধি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছিলো। এর মধ্যে ১৩ টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৮৮ টাকার দুর্নীতি/অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া একটি ছিল খুনের মামলা, আরেকটি সেনানিবাসে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা। এর মধ্যে কেবল ৪টি মামলায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তিনি ছিলেন প্যারোলে। তবে কোনো মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি!! প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে খুব দ্রুতই তিনি সবগুলো মামলা তুলে নিয়েছেন। ১৫টি মামলার ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেয়া হয় ৯টি মামলা। ২০১০ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু করে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র তিন মাসেই ৯টি দুর্নীতি মামলা বাতিল করে হাইকোটের দুটি বেঞ্চ। ঐ দুটি বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন মো. শামসুল হুদা, আবু বকর সিদ্দিকী, এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বোরহান উদ্দিন। হাসিনার বিরুদ্ধে যে সমস্ত দূর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তার মধ্যে একটি হলো নাইকো দুর্নীতি মামলা, যাতে হাসিনার নামে ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি/দুর্নীতির অভিযোগের মামলা তুলে নেয় হয়, অথচ একই অভিযোগে খালেদা জিয়ার নামে মামলা এখন বিচারাধীন!
 
২৪) বেপজায় পরামর্শক নিয়োগে ২ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৮৮ টাকার দুর্নীতি মামলাটি ২০০২ সালের ২ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। পরে ৩০ মে ২০১০ মামলাটি বাতিল করে শেখ হাসিনার সরকার।
 
২৫) শেখ হাসিনার নামে কোরিয়ান পুরাতন ফ্রিগেট ক্রয় করে ৪৪৭কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ১৮ মে ২০১০ বাতিল করে।
 
২৬) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবৈধভাবে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ আবুল হোসেন সহ অন্যান্যদের নামে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২২ এপ্রিল ২০১০ শেখ হাসিনার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বাতিল করে।
 
২৭) খুলনায় ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মোনের অনুমতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার মামলাটি ১৩ এপ্রিল ২০১০ বাতিল করে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। ৮টি চেক/পে অর্ডারের মাধ্যমে সামিট গ্রুপের মোহাম্মদ আজিজ খান শেখ হাসিনাকে ৩ কোটি টাকা প্রদান করে, যার দ্বারা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের জন্য দোতলা বাড়ি সহ ১৯.১১ কাঠা জমি কেনা হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠনের পরে বিশেষ জজ আদালতে মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশে নির্বাচনের আবহ উঠলে সেনা সমর্থিত সরকার আপোষরফা করে মামলার গতি শ্লথ হয়ে যায়। ওবায়দুল কাদের দাবী করেন, “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের তুলনা করা ঠিক না। কারণ বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নিজস্ব উদ্যোগে। এটা কারো দান বা অনুদান নয়!”
 
২৮) ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ৯ মার্চ ২০১০ বাতিল করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। ২০ আগষ্ট ২০০৮ শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের সময়ে নূর আলী স্বীকার করেছিলেন, এই মিগ কেনা বাবদ তিনি ১২ মিলিয়ন ডলার কমিশন লাভ করেন, যা শেখ হাসিনা সহ অন্যরা ভোগ করে। এই মামলাটি হাইকোর্ট দিয়ে কোয়াশ করা হয়, যদিও এর আগে আপিলেট ডিভিশন এই মামলার কোয়াশমেন্ট পিটিশন নাকচ করে নিম্ন আদালতে চলার বৈধতা দেয়। হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ কি আর পরে ঐ মামলাটি কোয়াশ করার এখতিয়ার রাখে?
 
২৯) ৪ মার্চ ২০১০ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহানউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরমধ্যে একটি বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে ৫২ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা।
 
৩০) নূর আলীর নিকট থেকে ৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি ১৩ জুন ২০০৭ দায়ের করা হয়। ৮ জুন ১৯৯৭ থেকে ২০ মে ১৯৯৯ তারিখের মধ্যে ১২টি চেকের মাধ্যমে নুর আলী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা দেন হাসিনাকে, যাতে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদের আইটি অফিসের জন্য পান্থপথের ইউটিসি বিল্ডিংয়ে ৫৩৮৮ বর্গফুটের একটি ফ্লোরের অর্ধেক উপঢৌকন দেন।
 
৩১) কাজী তাজুল ইসলামের নিকট থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি বাতিল করা হয় ৪ জানুয়ারী ২০০৯। ১০ এপ্রিল ২০০৭ দায়ের করা এই মামলায় বলা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার কোম্পানীর চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা নগদ ৩ কোটি টাকার ঘুস নেন নগদ। ৮ আগষ্ট ১৯৯৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে গিয়ে দু’টি সুটকেসে ভরে ৫০০ টাকা নোটের ৬০০ বান্ডেলে ৩ কোটি টাকা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন তাজুল। ২০০৯ সালে কেবল মামলাটি বাতিল করা হয়নি, বরং বছর দু’য়েক আগে তাজুল ইসলাম রহস্যজনক গাড়িচাপায় মারা যান।
 
৩২) টুঙ্গিপাড়ায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ দূর্নীতি ৪১.৮৪ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাটি ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রত্যাহার করার জন্য দুদককে সরকার চিঠি দেয়।
 
৩৩) আজম জে চৌধুরীর নিকট থেকে ৮টি চেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে এই মামলাটি শেখ হাসিনার দুর্নীতির সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমান। অথচ এটি ১৭ মে ২০০৯ প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ১৩ জুন ২০০৭ তারিখে ইস্ট কোস্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজম জে চৌধুরী মামলা দায়ের করেন। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ অভিযোগ গঠন হয় এবং শেখ রেহানাকে পলাতক ঘোষণা করে তার সকল সম্পত্তি এটাচ করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর “আমাদের সময়” পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করে, “৮টি চেকে ফেঁসে যাচ্ছেন হাসিনা, রেহানা ও সেলিম: সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ১৪ বছর।” ২০০৭-২০০৮ সালে এ মামলাটির বিচার চলে বিশেষ জজ আদালতে, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলাটি রায় ঘোষনার কাছাকাছি পৌছে যায়। ইতোমধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আগে সরকারের সাথে গোপন সমঝোতার ফলে রহস্যজনক কারনে হঠাৎ মামলাটির বিচারকার্য বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৮৪, ৩৮৫ ও ৩৪ ধারায় এ অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার কথা ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড। এক পর্যায়ে বাদী আজম জে চৌধুরীকে চাপ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে শেখ সেলিম ১৬৪ ধারায় কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ সেলিমের স্বীকৃতির কথাবার্তা ইউটিউবে পাওয়া যায়। এই মামলায় হাসিনা ও সেলিমের জেল হবে টুডে অর টুমরো।
http://www.youtube.com/watch?v=xlbN1b5POww
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু সরাসরি ঘুস নেয়ার মামলা প্রধানমন্ত্রীর নামে- তাও আবার চেকের মাধ্যমে নেওয়া, যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন আর থাকে কিভাবে? দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ২ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে? এর পরে যদি দলের বড় বড় নেতারা সাফাই গান আর চিৎকার করেন, আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে মামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়!
 
নিজেদের এতগুলি দুর্নীতির খাত থাকতে, এবং এতগুলি দুর্নীতির মামলা বেআইনীভাবে প্রত্যাহার করার পরে ‘সৎ’ সেজে শেখ হাসিনা যখন বিকট চিৎকার করে- “কোথায় এখন খালেদা জিয়া?” তার ছেলে বাণী দেয়, “জেলখানাই তাদের ঠিকানা”, তখন অনেকের প্রশ্ন- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার মত কি কোনো বিচারক নাই? শোনা যাচ্ছে, কালকের পরে অনেক আখতারুজ্জামান রেডি হয়ে আছে।
 
একটা গল্প দিয়ে শেষ করি। অষ্টম শতকে আফগানিস্তানের উত্তরে বলখ রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন সুফি ইব্রাহিম আদম। তার বাসার এক গৃহ পরিচারিকা বিছানা পরিস্কারের সময় মনে হলো, এত নরম বিছানায় বাদশাহ নিশ্চয় খুব আরামে থাকেন। একটু দেখি কেমন আরাম- বুঝতে পরিচারিকা এক মিনিটের জন্য বিছানায় শুয়ে পড়লেন। বিছানা গুছিয়ে চলে যান। রাতে ঘুমাতে এসে বাদশাহ দেখেন বিছানায় একটি নারী কেশ পড়ে আছে। রাজা ক্ষেপে গিয়ে সবাইকে ডাকলেন। অবশেষ জেরার মুখে ঐ নারী পরিচারিকা স্বীকার করেন বিছানায় শোয়ার কাহিনী। বাদশাহ তাকে জেলে পুরলেন, অনেক প্রহার করার পরে ঐ পরিচারিকা এক বার কাঁদে, তো আবার হাসে। তা দেখে বাদশা প্রহার বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানতে চান, তুমি হাসছ কেনো? পরিচারিকা কি বলে- বাদশা নামদার, ভাবছি, আমি এক মিনিট আপনার এ বিছানায় শোয়ার কারনে যে শাস্তি ভোগ করছি, আপনি সারা জীবন এই বিছানায় শুয়েছেন, তার জন্য কত শাস্তি পাবেন। বাদশার বোধোদয় হলো। পরিচারিকার শাস্তি বন্ধ করলেন। আরও অনেক ঘটনার পরে বাদশা ইব্রাহিম আদম রাজত্ব ছেড়ে আধ্যাধিক সাধক হয়ে যান।
 
….এক টাকাও দুর্নীতি না করে খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং এত মামলায় শেখ হাসিনার কপালে কি আছে?

/বিডি টুডে নেট

Content Protection by DMCA.com

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দপ্তর থেকে বিবৃতি প্রকাশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানর তারেক রহমান। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন দলটির এমন সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, চেয়ারপারসন কোনো কারণে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান। গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারায় উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর বিবৃতি:

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-

ন্যায়নীতি বিবর্জিত বিচার ব্যবস্থা: আমরা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বাংলাদেশ এখন দৃশ্যত: সকল প্রকার রাজনৈতিক ও বিচারিক সৌন্দর্যের রূপ হারিয়েছে। শাসকদল কোনো প্রকার রাখঢাক না করে তাদের খোলস খুলে ভয়ংকর একনায়কত্বের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ তারা প্রমান করেছে যে, ন্যায় বিচারের জন্য বাংলাদেশে আর সঠিক তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। বরং শাসকদলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাই যেন সকল প্রকার নৈতিক, রাজনৈতিক, আইনগত কিংবা অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার উপায়।

সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরপরাধ ও প্রতিবাদী মানুষের শক্তিশালী কন্ঠস্বর দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ক্ষমতাসীনদের কদাচার, দুর্নীতি, দখলসহ নানা অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যিনি তাঁর জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ক্ষমতায় থাকতে দেশের সার্বিক উন্নয়নকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের জন্য তাঁর অনবদ্য অবদান দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালো জিয়া, যিনি সবসময় দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন, তাঁকে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ মদদে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায়ের মাধ্যমে বিচারের নামে অবিচারের শিকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। দেশের জনগণ বর্তমান একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ফেরত যাবার জন্য ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছে। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই ধরণের রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে শাসকদল জনগণের সামনে নিজেদের ভীতিকর চেহারাটাই উন্মোচন করেছে। এই সরকার বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, স্বাধীনভাবে তথ্য ও মত প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরই বর্তমান সরকারের দলীয়করণের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার দেশের জনগণকেই জিম্মি করতে চাচ্ছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই পারে, বর্তমানের অন্ধকার ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে বাংলাশেকে আলোর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

গণতন্ত্র দীর্ঘজীবি হোক। আমরা অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

Content Protection by DMCA.com

আদালতে রায় ঘোষণার আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায় প্রকাশ!

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রাজনৈতিক রায় ঘোষণার আদালত কতৃক ঘোষণার অন্তত আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায়টি  প্রকাশ করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের স্থানীয় সময় ২:২৫ মিনিটে পিটিআই পরিবেশিত খবর প্রকাশ করে- “Bangladesh‘s former Prime Minister and opposition BNP chief Khaleda Zia was on Thursday sentenced to five years in jail in a corruption case. Zia, 72, was sentenced by the Special Court-5 in the capital, Dhaka, in connection with embezzlement of 21 million takas ($252,000) in foreign donations meant for the Zia Orphanage Trust.

তখন বাংলাদেশে সময় দুপুর ২:৫৫, তখনও ঢাকার বকশিবাজার বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান দন্ড ঘোষণা করেননি। দুপুর আড়াইটার পরে রায় পড়া শুরু করেন। প্রায় সোয়া তিনটার দিকে রায়ের মুল অংশ পড়েন জজ।

অর্থাৎ রায় ঢাকায় ঘোষণার আগেই দিল্লিতে প্রকাশিত হয়। এসব দেখে অনেকেই বলছেন- এ রায় আদালতের নয়, এ রায় দিল্লির, এ রায় প্রণবের।

Content Protection by DMCA.com

This is Khaleda Zia!!

হাজারো ছাত্রদল কর্মীদের সাথে নিয়ে আদালতের পথে বেগম খালেদা জিয়া! তবে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে।

সকালে বেদ্দপ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ঘোষণা দেন- খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী (সিএসএফ)দের অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে দেবে না আদালতে। ম্যাডামকে নেয়ার জন্য ডিএমপি ডিবি র‌্যাবের কতগুলি গাড়ি যায় ম্যাডামের বাসায়।

ম্যাডাম গাড়িতে উঠেন, কিন্তু সিএসএফ ছাড়া যাবেন না, স্রেফ জানিয়ে দেন। গাড়ি থেকে নেমে বাসার ভিতরে ঢুকে পড়েন। ফলে চাপে পড়ে যায় পুলিশ। ওদিকে কোর্টে জজ আখতারুজ্জামান উপস্থিত।
এরপরে ঘটনাখানেক দেন দরবার চলতে থাকে। অবশেষে সরকার হার মানে। ম্যাডামকে তার নিরাপত্তা সহ যেতে দিতে রাজী হয়।

পৌনে বারো টাার দিকে ম্যাডাম গাড়ি বহর নিয়ে রওয়ানা করেন। তবে পুলিশ চায় স্পেশাল কর্ড দিয়ে কোর্টে নিয়ে যাবে।

কিন্তু রাস্তায় নেমে ম্যাডাম সরকারী প্রটেশন বাদ দিয়ে ছাত্রদলের প্রটেকশনে কয়েক হাজার লোক শত শত মোটর সাইকেল নিয়ে খুব ধীরে ধীরে আগাচ্ছেন। এখন মহাখালি পার হচ্ছেন।

সরকারী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এভাবেই সম্ভবত একটা বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছেন- This is Khaleda Zia!!

Content Protection by DMCA.com

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর রাতভর নির্ঘুম পায়চারি- মাঝরাতে হঠাৎ বাইরে!

সমগ্র বাংলাদেশ ও রাজধানীর সাথে গত রাতে ক্ষমতাসীনদের বাড়িগুলো ছিল অস্থির। সন্ধার পরে থেকে পুলিশ র‌্যাব বিজিবির গাড়ি সাই সাই করে ছুটে চলছে শহর থেকে থানা উপজেলা থানার দিকে। লোকজন ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে- ঠিক যেনো একাত্তরের ২৫ শে মার্চ রাত। পার্থক্য কেবল তখন ছিল পাকবাহিনী, আর এবারে বাংলাদেশের নিজস্ব ফোর্স। দু’টি ক্ষেত্রেই টার্গেটে নিরস্ত্র জনতা। এ অবস্থায় দুঃচিন্তায় ঘুমাতে পারছেননা দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পায়চারি করে বেড়াচ্ছেন। হঠাৎ হঠাৎ দু’একটা ফোন বেজে উঠছে, কোনো ধরেন আবার কোনোটা ধরেননা। বাসার স্টাফরা কেউই বাসায় যেতে পারেনি, সবাই নিকটেই অবস্থান করছিল। বিভিন্ন পোস্টের নিরাপত্তা রক্ষীরা সবাই তটস্থ।

এরি মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেঃজেঃ (অবঃ) তারিক সিদ্দিক, সামরিক সচিব মেঃজেঃ জয়নাল আবেদিন,  এবং এসএসএফ ডিজি মেঃ জেনারেল শফিকুর মহাব্যস্ত! কয়েকটা ফোনে অনরবত কল আসছে। এসএসএফ সিপিজি সহ সিকিউরিটি এজেন্সির অফিসাররা, এডিসি সহ বিশ্বস্ত কিছু পারসোনাল অফিসাররা সবাই বিভিন্ন রুমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। কেউ বসে বা আধা শোয়া বিশ্রাম করছিলেন কেউ কেউ। অবশ্য সকলেই চিন্তিত, মুখ ভার। কেউ কেউ এক আধটা জোকস বলে পরিবেশ হালকা করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু জমে উঠেছে না। কেউ কেউ বাথরুমে গিয়ে ধুমপান করে টেনশনা কমানোর চেষ্টা করছিলেন।

হঠাৎ মাস্টার রুমের কলিং বেল বেজে উঠে। দৌড়ে ছুটে যায় এডিসি এবং তারিক সিদ্দিক। পাঁচ মিনিটে সব স্টান্ড বাই। সিপিজি কমান্ডার তার বাহিনী ও অন্যান্য এজেন্সির ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রেডি সিগনাল দেন। শাড়ি বদলে শাল পড়ে বেরিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। গাড়িতে উঠে বসলেন। ভবনের ভেতরের গেটের বাতি নিভিয়ে সা সা করে বেরিয়ে গেলো ১৭টি গাড়ি। লেক রোড ধরে গুলশানের পথে চলছে মটরকেড। ঘড়িতে রাত ৩টা ১৭ মিনিট। কোনো বিশেষ খবর পেয়ে গণভবনের বাইরে এ অবস্থান।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে উত্তেজনার ঢেউ সেনানিবাসেঃ সৈনিকদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠাঃ গোয়েন্দারা সতর্ক!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় নিয়ে সারাদেশে যখন টান টান উত্তেজনা, ঢাকা শহর সহ সারা দেশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে, তখন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা গভীর ভাবে লক্ষ করছেন রায় সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী।

আলপাচারিতায় সেনাদের  অনেকেই বলছেন, জোর জুলুম করে  বিএনপি নেত্রীর উপর রাজনৈতিক রায় দেয়া হলে দেশজুড়ে হানাহানি তৈরী হবে, অশান্তি বাড়বে।  দেশবাসীর সাথে তাতে ক্ষতিগ্রস্হ হবে সেনা সদস্যদের পরিবারও। পুলিশ বিজিবি দিয়ে আর কতটুকু কন্ট্রোল করা সম্ভব?  আজ দিনভর এমনকি সন্ধ্যার পরে অফিসার ও সেনা সদস্যরা কয়েকজন একত্র হলেই একে অপরের কাছে খোঁজ নেন- কি রায় হচ্ছে, কারও কাছে কোনো খবর আছে কি না। অনেকেই বলছেন, এই মামলায় রাজনৈতিক রায় দেয়ার সুযোগ নাই, কারন যেখানে এক টাকাও খরচ হয়নি সেখানে দুর্নীতির সাজা হবে কি করে?

গত কয়েদিন যাবৎ সেনানিবাসগুলোতে ছিল অতিরিক্ত গোয়েন্দা তৎপরতা। সেনাদের বিভিন্ন মেস, দোকান, বসার আড্ডা, কেন্টিন সব যায়গা থেকে খবর সংগ্রহ করে উপরে পাঠিয়ে দিয়েছে ফিল্ড অফিসারা। সূত্র জানায়,সৈনিকরা মনে করেন, সবেক প্রধানমন্ত্রীর মামলায় রাজনৈতিক রায় দিলে সরকারের অস্তিত্বে টান পড়বে। বিশেষ করে  এত বাধাবিঘ্নের পরেও শহীদ জিয়ার গত্নীর সিলেট সফরে মানুষের ঢল নামায় কেউ কেউ গণবিস্ফোরণের আশংকা করছেন। বিশেষ করে সৈনিকরা কোনো প্রকার রাজনৈতিক রায় ও হানাহানি পছন্দ করছেন না। সৈনিকদের কথাবার্তা মতামত ওপরের মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। ফিল্ড কমান্ডাররা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে, রায় উপলক্ষে অবসরপ্রাপ্ত মিলিটারীদের রাওয়া ক্লাব, রিটায়ার্ড অফিসারদের গ্রুপ এবং ফোরামগুলি সরগরম হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ খেলামেলা কথা বলছেন, আবার অনেকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। সরকারপন্থী কেউ কেউ পোস্ট দিয়ে তা মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। তবে সবেই একটা বিষয়ে একমত- দেশে হানাহানি চান না। রাজনৈতিক রায় দেশে তান্ডব ডেকে আনবে- রক্তে ভাসবে, এমন আশংকা করছেন কেউ কেউ। দেশ অস্থিতিশীল হলে  সেনানিবাসও তার বাইরে নয়। তাই উদ্বেগ উৎকন্ঠা চারিদিকে। ডিএমপি পুলিশ কমিশনারের উত্তেজনাকর বক্তব্যের পরে আজকে পুলিশের নতুন আইজিপির আশ্বাসমুলক বক্তব্যের প্রশংসা লাভ করেছেন।  আইজিপি জাবেদ পাটোয়রি আজ বলেছেন, ৮ তারিখ নিয়ে আশংকার  কিছু নাই, আ’লীগ বিএনপি কাউকেই নামতে দেয়া হবে না,  অযথা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করেছেন।

Content Protection by DMCA.com

রায় সামনে রেখে খালেদা জিয়া: আমি কোনো দুর্নীতি করিনি। ন্যায়বিচার হলে বেকসুর খালাস পাব।

দেশজাতির চরম সংকটের সময়ে আজ আপনাদের মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু কথা নিবেদন করতে চাই।
ভাষা শহীদের মাসে মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, আমি শুরুতেই তাঁদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।
আমরা সকলেই জানি, এ দেশের জনগণ গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই এই জাতিকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পথে এগিয়ে দিয়েছিল।
তাই স্বাধীনতার পর জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন-ব্যবস্থা কায়েম করা হলে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি।
সে কারণেই বাংলাদেশের জনগণের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। জনগণকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কেড়ে নেয়া সব অধিকার।
এরপর আবারো স্বৈরশাসন চেপে বসলে এদেশের মানুষ প্রতিবাদ-মুখর হয়ে উঠে। আমরা ছাত্র, তরুণ, পেশাজীবীসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রের জন্য আপোষহীন সংগ্রাম শুরু করি। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত ঢেলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনে।
জরুরী অবস্থা জারীর নামে দেশে অগণতান্ত্রিক শাসনকেও এদেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি। ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের কারণেই তাদের শাসন দীর্ঘায়িত করার খায়েশ পূরণ হয়নি।
সাংবাদিক বন্ধুগণ,
গণতন্ত্রের প্রতি এদেশের জনগণের প্রবল অনুরাগের কারণেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি হিসাবে গণতন্ত্রকেই বেছে নিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য এদেশের মানুষের। তারা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্র এনেছে। বারবার সেই গণতন্ত্র এবং এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণ তাদের কষ্টার্জিত গণতন্ত্র এবং অধিকারগুলো আজ আবার হারিয়ে ফেলেছে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে শোষণ, বঞ্চনা, লুটপাট ও অত্যাচারের এক দুঃসহ দুঃশাসন আজ জনগণের বুকের ওপর চেপে বসেছে। এই স্বৈরশাসন জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। তারা মানুষকে আজ ভাতে মারছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
মানুষের কাজের সংস্থান নেই। চাকরির খোঁজে লুকিয়ে বিদেশে যাবার পথে আমাদের তরুণেরা সাগরে ডুবে মরছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় পাঁচ-দশগুণ বাড়িয়ে এরা লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের নামে বিদ্যুৎ খাতকে বানিয়েছে হরিলুঠের কারখানা। শেয়ার বাজার এরা লুটে খেয়েছে। অর্থ লোপাট করে ব্যাংকগুলো করে ফেলেছে দেউলিয়া। হাজার হাজার কোটি টাকার তছরুপকে এরা ‘সামান্য ক্ষতি’ বলে উপহাস করছে। বিদেশে পাচার করছে হাজার হাজার কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে এরা পাচার করা অর্থের পাহাড় গড়েছে। যারা এই দুর্নীতি করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয় না, তদন্ত হলেও সেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়না। দোষীদের গ্রেফতার করা হয় না। বিচার হয় না। অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-বঞ্চনা-লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সকল পথ এরা বন্ধ করে দিয়েছে। হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও জেল-জুলুম চালিয়ে প্রতিবাদী সব কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রেও লক্ষ কর্মী আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। অপহরণ, গুম, খুনের এক ভয়াবহ বিভীষিকায় বাংলাদেশ আজ ছেয়ে গেছে। ঘরে ঘরে আজ হাহাকার। স্বজন হারানো কান্নার রোলে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
হেনস্তা ও অপমানের ভয়ে নাগরিক সমাজ স্বাধীন মত প্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই দুঃসহ অবস্থার মধ্যেও একদল উচ্ছিষ্টভোগী স্তাবকের গুণকীর্ত্তনে মানুষ অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয়করণ, ভীতিপ্রদর্শন ও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে।
২০১৪ সালে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই সে নির্বাচনে অংশ নিতো। তাহলে বিএনপিই জনগণের সমর্থনে এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকতো।
যাদের আজ ক্ষমতায় থাকার কথা সেই দলের সঙ্গে বিনাভোটের সরকার এমন আচরণ করছে যেন বিএনপি নির্মূল করাই তাদের প্রধান কাজ।
আমাদেরকে অফিসে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছে। সেই সময়ে বাইরের নানা ঘটনার জন্য আমাকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে জেলগুলো ভরে ফেলা হয়েছে। হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। যারা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ খুনের নির্দেশ দেয়, গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারে, যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের নামে ব্যাংকে আগুন, পেট্টোল পাম্পে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে, রেল লাইন তুলে দিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ করেছে দেশজুড়ে তা-ব চালিয়েছে, তারাই আজ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করিনা। সারা দেশে প্রকাশ্য সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তাদের কোনো বিচার হয়না।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
দেশের সব প্রথা-প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। কথা বলার অধিকার নেই,  গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। দশ টাকা দরে চাল খাওয়াবার ওয়াদাকে ভয়াবহ ভাঁওতাবাজি হিসাবে প্রমাণ করে মোটা চালের কেজি এখন পঞ্চাশ টাকা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম।
দেশে ন্যায়বিচার নেই। ইনসাফ নেই। জনগণের কোনো নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশুরা নির্যাতনের শিকার।
দেশে আজ সত্যিকারের সংসদ নেই। তথাকথিত সংসদে নেই প্রকৃত বিরোধী দল। শাসকদের কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই।
সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে বৈরী প্রচারণা ও ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। দলীয়করণ ও অন্যান্য হীন পন্থায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। শিল্পায়ন, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। মানুষের কাজ নেই। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে গভীর মন্দা। ডলারের দাম বাড়ছে টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ ডুবে যাচ্ছে এক গভীর অন্ধকারে।
এই দুঃসহ অবস্থা থেকে বাংলাদেশের মানুষ মুক্তি চায়। তারা তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের সেই আশা-আকাঙক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য আবারো সংগ্রাম শুরু করি। সেই সংগ্রামের পথে অনেক জীবন ইতোমধ্যে ঝরে গেছে। অনেক মানুষ গুম ও খুন হয়েছে। দুঃসহ বন্দীজীবন কাটাচ্ছে অগণিত নেতা-কর্মী। অসংখ্য মানুষ হামলা, মামলা, হুলিয়া, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আজকের দুঃশাসনের হাত অনেক নিরাপরাধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। এই রক্তপিপাসু শাসকদের কবল থেকে গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সহজসাধ্য কাজ নয়। কিন্তু আমরা হার মানিনি। জনগণ পরাজিত হবে না। দুঃশাসন একদিন থাকবে না। কিন্তু যে কলঙ্কের ইতিহাস তারা রচনা করছে সেই কলঙ্কের ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
সাংবাদিক ভাই-বোনেরা,
কেবল নিজেদের দলীয় স্বার্থে ও সুবিধার্থে সংবিধান বদল করে গায়ের জোরে যারা এখন ক্ষমতায় টিকে আছে তারা জনগণের ভোটে আসেনি। দেশের মানুষ তাদের নির্বাচিত করেনি। তাদের দেশ পরিচালনার প্রতি জনগণের সায় ও সম্মতি নেই। নৈতিক দিক থেকে এরা অবৈধ। তাই তারা যতই হুংকার দিক, তাদের কোনো নৈতিক সাহস ও মনোবল নেই।
এই শাসকদের কোনো গণভিত্তি নেই। পেশীশক্তি, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে জনগণের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করে ওরা টিকে আছে। জনগণের সমর্থন নেই বলেই তারা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে ভয় পায়। আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই। জনগণের অধিকার তাদেরকে ফেরত দিতে চাই। তাই আমরা আন্দোলন করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। যে নির্বাচনে মানুষ অবাধে ভোট দিতে পারবে এবং সেই ভোট সঠিকভাবে গণনা করে সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সকল দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তেমন সুষ্ঠু নির্বাচন তারা চায় না। তাদের কথা, ক্ষমতায় থেকে এবং সংসদ বহাল রেখেই তারা নির্বাচন করবে। যাতে মানুষ ভোট দিতে না পারে এবং কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দেয়া যায়। এই প্রহসন তারা একবার করেছে। আবারো করতে চায়। সেই উদ্দেশ্যেই তারা আমাদেরকে নির্যাতন ও হামলা-মামলা ও বন্দি করে তটস্থ রেখে সরকারি খরচে এক বছর আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ প্রহসন নয়, সত্যিকারের নির্বাচন চায়। তেমন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছি বলেই আজ আমাদের ওপর এতো জুলুম-নির্যাতন, এতো মিথ্যা মামলা।
আপনারা জানেন, আমার বিরুদ্ধে তেমনি এক মিথ্যা মামলায় আগামীকাল রায় হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে শাসক মহল আমাদের চেয়ে বেশি অস্থিও ভীত হয়ে জনগণের চলাচলের অধিকার প্রতিবাদের অধিকার সভা-মিছিলের সাংবিধানিক অধিকার, প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ করা হচ্ছে। ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভিত হয়ে এ হীন পথ খুঁজে নিয়েছে সরকার। সারাদেশে তারা বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। জনগণের প্রতিবাদের সম্ভাবনাকে তারা এতোটাই ভয় পায়!
আদালত রায় দেয়ার বহু আগে থেকেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, ক্ষমতাসীনরাই রায় ঠিক করে দিচ্ছে। প্রধান বিচারপতিকে চাপের মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করার পর কোনো আদালত শাসকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ কায়েম করতে সাহস পাবে কিনা তা নিয়ে সকলেরই সন্দেহ আছে। তারপরেও দেশবাসীর উদ্দেশে সগৌরবে জানাতে চাই যে, আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি আমি করিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কুয়েতের তৎকালীন আমীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিলো। তাঁর নামকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কুয়েতের আমীর যে অনুদান প্রদান করেন তা তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্ণেল মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যোগে নিয়ে আসা, সেই অর্থের বিলিবন্টন, তহবিল পরিচালনা অর্থাৎ জিয়া অরফানেজের সঙ্গে আমি কখনো কোনোভাবেই জড়িত ছিলাম না। তাছাড়া এই অর্থ সরকারি অর্থ নয় এবং ট্রাস্টটিও প্রাইভেট ট্রাস্ট। ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এ মিথ্যা মামলায় আমাকে জড়িত করা হয়েছে। আমার আইনজীবীরা আদালতে তা প্রমাণ করেছেন। সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, জিয়া অরফানেজের একটি টাকাও তছরুপ হয়নি। সমস্ত টাকা প্রতিষ্ঠানের নামেই ব্যাংকে জমা আছে। এখন সুদাসলে সেই টাকা বেড়ে প্রায় তিনগুণ হয়েছে। এ মিথ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হলে আমার কিছুই হবে না। ইনশাআল্লাহ্ আমি বেকসুর খালাস পাবো। দেশে ন্যুনতম আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে এই জালিয়াতিপূর্ণ মামলা যারা দায়ের করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়া উচিত। যারা এই মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও সাজা হওয়া উচিত। আর যদি শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য অন্য রকম কোনো রায় হয়, তাহলে তা কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়কারী কাউকেই ক্ষমা করে না, করবে না।
আমি যে-কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি। আমাকে জেল বা সাজার ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমি মাথা নত করবো না। জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি থেকে পিছু হটবো না। জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাকে রাজনীতির ময়দান ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখা এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতেই একদলীয় শাসন কায়েম ও খালি মাঠে গোল দেয়ার খায়েশ পূরণ হবে বলে আমি মনে করি না।
স্বৈরশাসক আইউব খান এক সময় মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে এদেশের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের ‘এব্ডো’ অর্থাৎ নির্বাচন ও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। ইতিহাস সাক্ষী, সেই ‘এব্ডো’ টেকে নাই। গণঅভ্যুত্থানে আইউবের পতন ঘটেছিল।
ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনের অবৈধ সরকার রাজনীতিবিদদের হেয় করা এবং দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে আমাকে বিদেশে চলে যেতে বলা হয়েছিলো, আমি তাদের কথায় রাজি না হয়ে আপনাদের ছেড়ে দেশ ছেড়ে যাইনি। যার জন্য আমার এবং আমার সন্তানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিলো। আমাকে এক বছর নয় দিন কারারুদ্ধ করে রেখেছিলো। আমার দুই সন্তানকেও কারারুদ্ধ করে নির্যাতন করেছিলো। সেই অবৈধ সরকার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল।
সেই অবৈধ সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনাসহ তাদের দলের নেতা-কর্মীদের হাজার হাজার মামলা তুলে নিয়েছে। আর আমিসহ আমাদের নেতা-কর্মীদের সেই সব মামলায় হেনস্তা করা হচ্ছে। যোগ হয়েছে হাজারো নতুন নতুন মিথ্যা মামলা।
জরুরি সরকারের সে-সব মামলায় আওয়ামী লীগের অনেকের সাজা হয়েছিল। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত সেই আসামীরাও বিনাভোটে এমপি-মন্ত্রী হয়ে এখন আমার বিরুদ্ধে হুংকার দিচ্ছে। তারা ক্ষমতায় থাকবেন আর আমাদের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ সরকারের দেয়া মামলা চলবেÑএই অন্যায় বাংলাদেশ মেনে নেবেনা।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
আমি কম বয়সেই স্বামী হারিয়েছি। দেশের জন্য জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন।
দলের নেতা-কর্মীদেও দাবিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনীতির বিপদসংকুল পথে পা বাড়িয়েছি।
আরাম-আয়েশ, সুখ-শান্তি ও নিন্তরঙ্গ জীবন বিসর্জন দিয়েছি।
আমার প্রিয় দেশবাসী আমাকে তার প্রতিদান দিয়েছে অপরিমেয় ভালোবাসায়। প্রতিবারের নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে পর্যন্ত তারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আজ পর্যন্ত আমি পরাজিত হইনি। জনগণের সমর্থনে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হবার গৌরব আমি অর্জন করেছি। তিন-তিনবার তারা আমাকে প্রধানমন্ত্রী করেছেন। এখনো আমি দেশের যে প্রান্তেই যাই উচ্ছ্বাসিত জনজোয়ারে আমি তাদের ভালোবাসায় অভিষিক্ত হই। আমি রাষ্ট্র পরিচালনায় কিংবা বিরোধী দলে যেখানেই থাকি এই জনগণ প্রতিটি সুখে-দুঃখে, শান্তিতে-সংগ্রামে আমার সাথী হন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখার পর থেকে আমি জনগণকে যতটা সময় দিয়েছি, পরিবার ও সন্তানদের ততোটা সময় দিতে পারিনি। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি একটি সন্তান হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূরদেশে এখনো চিকিৎসাধীন। আমার এই স্বজনহীন জীবনেও দেশবাসীই আমার স্বজন। আল্লাহ্ আমার একমাত্র ভরসা। আমি যেমন থাকি, যেখানেই থাকি যতক্ষণ বেঁচে থাকবো দেশবাসীকে ছেড়ে যাবো না।
প্রিয় দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আমাকে আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলেও বিশ্বাস করবেন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। আপনারা গণতন্ত্রের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, জনগণের সরকার কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশে সব সময়ই ছাত্র-যুবক তরুণেরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেÑ ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেÑ রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সৈনিক, ছাত্র-জনতার মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। এই ছাত্র-জনতা আন্দোলনেই স্বৈরাচার পরাজিত হয়েছে। আজ গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেই ছাত্র, জনতাকে আহ্বান জানাই এগিয়ে আসতে বিএনপি, ২০ দলসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক দল, কৃষক শ্রমিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে আমি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগেও অনেকে আছেন যারা গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারে বিশ্বাস করেন এবং ভবিষ্যত পরিণতির কথা ভাবেন। তাদের প্রতিও আমার একই আহ্বান রইলো।
আগামীতে অনেক ফাঁদ পাতা হবে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, সবাই সাবধান ও সতর্ক থাকবেন। বুঝে-শুনে কাজ করবেন। এই দেশ আমাদের সকলের। কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়।
আমরা সংঘাত, হানাহানি, নৈরাজ্য চাই না। আমরা শান্তি চাই। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। এখনো আমরা আশা করে বসে আছি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
সেই প্রত্যাশা রেখেই আহ্বান জানাই, হুমকি-ধামকি ও নির্যাতনের পথ ছেড়ে আসুন, আমরা আলোচনার মাধ্যমে শান্তির পথে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।
এ নির্বাচন কাউকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ এবং কাউকে ক্ষমতায় বসাবার নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন হবে জনগণের রায় নিয়ে তাদের সম্মতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নির্বাচন।
আসুন, এই দুঃখী মানুষের দেশটাকে একটি শান্তির দেশে পরিণত করতে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে অবদান রাখি।
আমাদের বয়স হয়েছে। আসুন, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সম্ভাবনাময় দেশ রেখে যাই।
এই বাংলাদেশটাকে আজ এক বৃহত্তর কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের শাসন কায়েমের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করতে পারলে আমরা সকলেই মুক্ত হবো ইনশাআল্লাহ্।
আল্লাহ্ আমাদেরকে কামিয়াব করুন।
সকলকে ধন্যবাদ।
আল্লাহ্ হাফেজ। বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ।

Content Protection by DMCA.com

থার্ড ফোর্সের কন্ট্রোলে জজ আখতারুজ্জামান!

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, সারা দেশ জুড়ে বেপরোয়া ধরপাকড়ে তত প্যানিক ছড়িয়ে পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি নয়, সরকারই আছে বড় পেরেশানিতে- বেকায়দায়। নানা গুজবে ভাসছে দেশ। এরি মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ছে, শেখ হাসিনা এখন আর রায় দিতে চান না। তবে তিনি না চাইলেও রায় আসছে! আর সে জন্য বিএনপিও তৈরী হয়েছে।

জানা গেছে, ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ চেষ্টা করছিল বিএনপিকে বাগে আনতে- মূলত শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্বে নির্বাচনে যেতে বিএনপিকে রাজী করানো। কিন্তু সূত্র বলছে, বিএনপি এতে রাজী নয়। জুলুম নির্যাতন যা ই আসুক না কেনো, হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন মানবে না বিএনপি। সমঝোতা চেষ্টায় থাকা গুরুত্বপূর্ন এক ব্যক্তি ব্যর্থ হয়ে দু’দিন আগে দেশ ছেড়েছেন। এরপরেই শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নেন, ৮ তারিখের রায় আরও এক মাস পিছানোর।

তবে হাসিনার এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে না। তৃতীয় পক্ষ মাঠে নেমে গেছে। তারা চাচ্ছে, রায়টা হোক- আর সেটা বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেই যাক। এর পরিবেশ তৈরীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামানকে, যিনি ঢাকা শহরের হোটেল, রেস্তোরা, রাস্তাঘাট, বাস, গাড়িঘোড়া বন্ধ করে রীতিমত কারফিউ লাগিয়ে দিয়েছেন! রায়ের পরে দেশজুড়ে অনাসৃষ্টি উৎপাদন করা হবে, সেটা বিএনপির সব নেতা ধরে ফেললেও হবে। এটা একটা উছিলা হিসাবে ব্যবহার করে বড় কয়েকটি ঘটনা ঘটবে, আগুণে পুড়ে যাবে অনেক থানা এবং সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীদের শত শত বাড়ি। দেশ জুড়ে মহাতান্ডবে মধ্যে নেমে আসবে সুপ্রিম কোর্টে সেই রায়, যেটা গ্যাগ হয়েছিল। তারপরে বাকীটা হবে প্লান মত।  বিষয়টি সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছে পশ্চিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সূত্র জানিয়েছে, সম্ভবত বেগম খালেদা জিয়াকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর সেজন্য তিনি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নিয়েছেন। হাসিনাকে হঠানোর প্রয়োজনে তিনি আরেকটু সেক্রিফাইস করতে রাজী হয়েছেন। এরপরের নির্বাচনে তিনিই ক্ষমতায় আসছেন, তা প্রায় নিশ্চিত। বেগম জিয়া মামলার দ্রুত রায় চান, এমন খবর পেয়ে শেখ হাসিনা যার পর নাই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

ইতোমধ্যে বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানকে অফিস থেকে অঘোষিত ছুটি দিয়ে কড়া পাহাড়ায় বাসভবনে রাখা হয়েছে। মূলত, তিনি এখন থার্ড ফোর্সের কন্ট্রোলে। এখানে থেকে তাকে গোপন কোনো সেফ হাউজে নিয়ে রাখা হতে পারে, যেখান থেকে ৮ তারিখে কোর্টে হাজির করা হবে বিশেষ ব্যবস্থায়। রায় থামাতে হলে সরকারের এখন একটাই উপায়- জজ আখতারুজ্জামানকে গুম করে দেয়া। কিন্তু কাজটা অসম্ভব। তবে এ দু’দিনে অনেক কিছুই ঘটতে পারে!

Content Protection by DMCA.com

অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণাকারী আবুল বারকাত নিজেই লুট করেন জনতা ব্যাংক!

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার সিলেট সফর: লাখ লাখ মানুষের জনজোয়ার

দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেট সফরে যাওয়ার সময় পুলিশি হয়রানি, গণ-গ্রেফতার ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীসহ লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি তারই বহিপ্রকাশ। এমনটাই দাবি- বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

তারা বলছেন, ঢাকা থেকে আজ সকালে সড়ক পথে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজার জিয়ারত করতে রওয়ানা হন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পূর্ব নির্ধারিত এ সফরের খবরে সকাল থেকেই ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। তারা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি এক নজর দেখতে ভিড় করেন। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তাদের বাধা দেয়, লাঠিচার্জ করে। সেই সাথে চলে গণ-গ্রেফতার।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সারা দিনে দুই শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া, নরসিংদীতে নৌকার স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে বাধা দেয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন।
জানা গেছে, এ সব উপেক্ষা করে মহাসড়কের দু’পাশে জনতার ঢল নামে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর সিলেট এলাকায় পৌঁছলে বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর সমর্থকদের উপছেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় মহাসড়কের দু’পাশে। এ সময় তাদের হাতে খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, তারেক রহমান ও নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ছবিসম্বলিত প্লেকার্ড শোভা পায়।

খালেদা জিয়া দুপুরের পর সিলেট সার্কিট হাউজে পৌঁছান। সেখানে দুপুরের খাবারবিরতি ও নামাজ শেষে বিকেলে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে যান। সেখানে মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে মাজার জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাত করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বের হয়ে বেগম জিয়া যান হযরত শাহপরাণ (র.) এর মাজারে। মাজার জিয়ারত শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন ফিরেন সিলেট সার্কিট হাউজে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সিলেটে পৌঁছার পর পুরো নগরীতে মানুষের ঢল নামে। সিলেট সার্কিট হাউজ থেকে শুরু করে শাহজালাল (র.) ও শাহপরাণ (র.) এর মাজারে দলীয় নেত্রীকে ঘিরে লাখো মানুষ উপস্থিত হন। সেই সাথে দলীয় নেতাকর্মীসহ উপস্থিত জনতা খালেদা জিয়া, তারেক রহামন ও শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। যা দেখে আশপাশের মানুষও অবাক হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় দলীয় নেতারা বলছেন, এটা খালেদা জিয়ার কোনো রাজনৈতিক সফর নয়। তিনি মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সিলেটে এসেছেন। আর নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাকে দেখতেই মূলত মানুষের ঢল নেমেছে সিলেটে। জনতার এই ঢল- বিএনপি ও খালেদা জিয়ার প্রতি সিলেটবাসীসহ দেশের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

আজ রাত ৯টা ৫০ মিনিটে সিলেট সার্কিট হাউস ছেড়ে ঢাকার পথে যাত্রা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

Content Protection by DMCA.com
1 25 26 27 28 29 30