অবৈধ ক্ষমতার মদমত্তে হাসিনার জিঘাংসার চরম রূপ দেখছে জনগন: পোড়ো বাড়িতে ভৌতিক পরিবেশে সলিটারি কনফাইনমেন্টে খালেদা জিয়া!

আজ ৭ দিন পার হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে জননন্দিত রাজনৈতিক নেত্রী এবং রাষ্ট্রক্ষমতার প্রধান হকদার বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একটি বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে তাঁকে আড়াই’শ বছরের পুরাতন পরিত্যক্ত কারাগারের একটি ভবনে বন্দী করে রেখেছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনা। ঘটনার দিন থেকে দেশের সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে- খালেদা জিয়া কবে কিভাবে কারাগার থেকে বের হবেন। সচেতন লোকজন তখন ধরে নিয়েছিল, উচ্চ আদালতে জামিনের দরখাস্ত করলেই স্বাভাবিক নিয়মেই বেরিয়ে আসতে পারবেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও কারাগার থেকে বের হওয়া তো দূরের কথা, এখন অবধি জামিনের দরখাস্তই করা যায়নি। কারন, মামলার রায়ের কপি দেয়া হচ্ছে না। তথাকথিত রায় পরীক্ষা নীরিক্ষা ও বেআইনী সংশোধনের নামে অনুলিপি দেয়া হচ্ছে না। মিডিয়াতে খবর- রায়ে ভুলভ্রান্তি মেরামতের কাজ চলছে! যেখানে ৬৩২ পাতা রায় ১০/১২ দিনেই লেখা হয়ে গেছে, এখন সেখানে কেবল কপি করতে ১০দিনেও পারছে না। অথচ আইনে বলা আছে, বিচারক পূর্নাঙ্গ রায় লিখে আদালতে ঘোষণা করতে হবে, এবং সই করতে হবে। রায় ঘোষণার পরে কোনোভাবেই পরে তা বদলানো যাবে না। জানা গেছে, রায়ের ভেতরে এত বেশি জাল জালিয়াতি মিথ্যাচার ও কুতর্ক রয়েছে যে, কপি দেয়া হলে তা প্রকাশ হয়ে পড়বে। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা এগুলো মেরামতের চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আসলে যা কিছু হচ্ছে, কোনো আদালত বা বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত খায়েশ পুরণ। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মতে, নির্বাচন হাসিল এবং ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল। শেখ হাসিনা ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী (প্রায় ৮০ভাগ জনসমর্থন যার), ৫টি জাতীয় নির্বাচনে কোথাও না হেরে সর্বোচ্চ ২৩টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন যিনি, সেই বেগম খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে খালেদা জিয়াকে বড় ভয় শেখ হাসিনার। কারন দেশে এখনি নির্বাচন হলে বেগম জিয়া বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী হবেন, এটা শেখ হাসিনাও জানেন। তাই শেখ হাসিনা দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন দিচ্ছে না। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বিনাভোটের একটি নির্বাচনের উপরে ভর করে ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে আছেন তিনি। তার ক্ষমতার মূল শক্তি কিছু পুলিশ, র‌্যাব, ও দলীয় গুন্ডা। এই নিজস্ব বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের লোকদেরকে অপরহন গুম খুন কারান্তরীণ করে চলছে হরদম, প্রতিবাদীদের টুটি চেপে ধরেছে। এতকাল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপরে মামলা হামলার নির্যাতন করা হলেও ১০ বছরের চেষ্টার পরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করেন শেখ হাসিনা।

সুস্থ রাজনীতির ধারক বাহক বেগম জিয়া সর্বদা দেশের প্রচলিত আইন কানুন মেনে চলেন। প্রতিহিংসা নয়, সমঝোতার রাজনীতি করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা অবরোধ হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে এমনকি নিজে আগুণ দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে, অন্যরা গান-পাউডার দিয়ে দোতলা বাস জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা করে সমাজে বিভীষিকা তৈরী করে নিজের চাহিদা ‍পুরণ করেছেন। বার বার বিপথগামী সেনাদের ব্যবহার করে ক্যু ঘটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির উপর ভর করে ক্ষমতায় আরোহন করেন। আবার অন্যের ডাকা হরতালে বোমাবাজি ও আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে বিপক্ষ দলকে দায়ী করতে শেখ হাসিনার জুড়ি মেলা ভার। এসব ক্ষেত্রে তার কাজ ম্যাকিয়াভেলি চানক্যকে হার মানায়। তিনি যা করেন, তা রীতিমত শিল্প। গত এক দশক শেখ হাসিনা এভাবেই ক্ষমতা দখলে রাখার পরে এবারে যখন তা হারানোর উপক্রম হয়েছেন, তখনই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে ছলে বলে কলে কৌশলে অনুগত আদালত ব্যবহার করে কারাবন্দী করেছেন। এর আগে দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পর পর জোর জবরদস্তিমূলক অপসারন করে বিচারকদের দন্ডমুন্ডের কতৃত্ব হাতে নিয়েছেন হাসিনা, তারপরে এক জুনিয়ার জজকে দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই বানোয়াট রায় ঘোষণা করেছেন। ঠিক যেনো সিনেমার গল্প। মসনদের প্রধান দাবীদারকে গারদে পুরে নিত্য অত্যাচার করে মনের ঝাল মেটানোর কাহিনী! অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা হলো, যে কোনো কৌশলে তাঁকে আটকে রাখতেই হবে। আজ বৃহস্পতিবার এক সপ্তাহ পার হওয়ার পরেও সেই তাগুদি রায়ের কপি দেয়া হয়নি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায়, যাতে করে অন্তত আরও তিন দিন জামিনের দরখাস্ত না করতে পারেন খালেদা জিয়া। হয়ত এর অন্তরালে রয়েছে আরও কোনো কুবুদ্ধি। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি- এই রায় ঘিরে সরকারের গভীর নীলনকশা রয়েছে। এখন দেখছি সার্টিফাইড কপি দিতে বিলম্ভ করা হচ্ছে। এসবের একটিই উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।’ এ বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন,‘খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করতেই রায়ের সার্টিফাইড কপি দিতে দেরি করা হচ্ছে। বিএনপি এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে গভীর একটি চক্রান্ত কাজ করছে।’

দু’দিন আগে বিনাভোটের পার্লামেন্টে শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ সেলিম প্রচন্ড দম্ভের সাথে ঘোষণা দেন, “খালেদা জিয়াকে ডিভিশন জেলে নয়, রাখা হবে ফাঁসির আসামীদের কনডেম সেলে!” যদিও ৭দিন সাধারন বন্দী হিসাবে রাখার পরে জেল কতৃপক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে এখন প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে রাখা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাঁকে বন্দী রাখা হয়েছে জনমানবহীন বিশাল এলাকায় এক নির্জন এলাকায় পরিত্যাক্ত এক বাড়িতে। হরর সিনেমার পোড়োবাড়িতে নির্জন পরিবেশে বিশাল এলাকায় দিনের বেলায় কাকের কা কা শব্দ, আর রাত হলেই নামে নির্মম নির্জনতা। এটা কারাগার নয়, সলিটারি কনফাইনমেন্ট। দু’শ বছরের বেশি বয়সী পরিত্যক্ত এ জেলখানায় আর কোনো বন্দী নেই। কেবল খালেদা জিয়া! তাছাড়া ২০০৬ সালের জুলাই মাস থেকে এটি আর কোনো জেলখানা নয়, বরং পরিত্যক্ত ভবন, যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। খালেদা জিয়াকে যেখানে বন্দী রাখা হয়েছে, সেটি আর এখন কোনো সরকারী জেলখানা নয়, বরং অঘোষিত বন্দিশালা। সরকারী প্রজ্ঞাপণ দিয়ে এটি সাবজেল ঘোষণা করা হয়নি এখনও। যার অর্থ দাড়ায়- এ কারাবাস অবৈধ! অবৈধ সরকারপ্রধানের ইচ্ছাতেই পরিত্যাক্ত বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে ৭৩ বছর বয়েসী নারী সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে, যিনি নানা অসুস্থতায় ভুগছেন। দু’টি হাটু বদলানো, তীব্র ব্যথায় হাটতে পারেন না, বিশেষ ধরনের সেবাযত্নের দরকার হয়, যার কোনো ব্যবস্থা নাই সেখানে। ঐ ভবনের আশে পাশেই রয়েছে শত শত বছরের ফাঁসির কাষ্ঠ, যেখানে মৃত্যু ঘটেছে শত শত মানুষের, যা ভৌতিক অবস্থাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ১৭ একর জমির উপর নির্মিত ছোট বড় লাল লাল পুরোনো বিল্ডিং, চারিদিকে উঁচু প্রাচীর দেয়া, যেখানে বাস করে নির্জনতা আর ভুত প্রেত! নির্জন নির্বাসনে গা ছম ছম করা পরিবেশ। বিশাল মহিলা ওয়ার্ডজুড়ে ভয়াবহ মশার উৎপাত, নিয়ন্ত্রনের কোনো উপায় নাই। এটা নাকি ডিভিশন জেল! ডিভিশন দেয়ার মত কোনো ব্যবস্থা ওখানে নাই। শেখ হাসিনা ইচ্ছা করেই তার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে কেবল জেলের কষ্ট দিয়ে নয়, মানসিক টর্চার করে নিজের মনের ঝাল মিটাচ্ছেন।

নাজিমুদ্দিন রোডের এই অঘোষিত অবৈধ জেলখানায় বন্দী রাখা হয়েছে বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে- কারাগারের নামে সেখানে চলছে ভয়াবহ মানসিক চর্চার। শ্রেনীপ্রাপ্ত জেলখানার কোনো সুযোগ সুবিধা নেই সেখানে। তারপরও ‘বিশেষ বন্দী’ নাম দিয়ে অবৈধ সরকার এই প্রহসন চালিয়ে হচ্ছে। জনমানবশুন্য এই বিশাল পোড়োবাড়িতে বন্দী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ধারে কাছে কাউকে যেতে দেয়া হয় না। খাবার দাবার দিতে সেখানে কেউ গেলেও তাদের কথা বলা নিষেধ। এ এক ভয়াবহ নির্যাতন, প্রায় কনডেম সেলে থাকার মতো। জেলখানায় সাধারন বন্দীরাও এর চেয়ে মানবিক পরিবেশে থাকে। ৭০ বছর বয়স্ক এই সিনিয়র সিটিজেন নারীর প্রতি যে সহিংসতা চলছে, তার অতীত নজীর খুঁজে পাওয়া দুস্কর। জেলখানার পরিবেশ সম্পর্কে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। সেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। একটি পরিত্যক্ত ভবনে তাকে রাখা হয়েছে। যেখানে কোনও মানুষ নেই, অন্য আসামিও নেই। যেভাবে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তদের নির্জন কারাবাসে রাখা হয়, সেভাবেই তাকে রাখা হয়েছে।

এর আগে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসেই ২০১০ সালের আগস্ট মাসে বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাভারের জমি ও দোকানপাট আ’লীগের দলীয় লোকজন দিয়ে দখল করে নেন। ঐকাজেও ব্যবহার করা হয় একটি কনিষ্ঠ জজ আদালতের গোপন ত্রুটিপূর্ন মতলবি রায়। বৃহস্পতিবার নাকি কে বা কাহারা রায় পেয়েছে, শুক্রবার ছুটির ফাঁদে ফেলে শত শত পুলিশ দিয়ে ভাঙচুর করে খালেদা জিয়ার জমি বুঝিয়ে দেয়া হয় এক আওয়ামীলীগ নেতাকে। এর দু’মাস পরে আবার আদালতের রায়ের কথা বলে খালেদা জিয়াকে টেনে হেঁচড়ে জোর করে বের করে দেয়া হয় দীর্ঘ ৩৮ বছরের স্মৃতিবিজড়িত ক্যান্টমেন্টের শহীদ মইনুল রোডের নিজস্ব বাড়ি থেকে, যদিও সে মামলার আপিল বিচারাধীন ছিল। তখন বেগম জিয়াকে তার আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে হয়নি। আইনজীবীরা ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে চাইলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। খুব দ্রুতই খালেদা জিয়ার বাড়ি মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়া হয় হাসিনার নির্দেশে। এভাবে আদালতের ঘাড়ে পা রেখে বলপ্রয়োগ করে বাড়ি ঘর জমি জিরাত থেকে উৎখাত করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বেগম জিয়াকে অবশেষে পরিত্যক্ত পোড়োবাড়িতে বন্দী করে রেখে শেখ হাসিনা তাঁর জিঘাংসা প্রতিহিংসার উৎকট রূপ প্রকাশ করছেন। তবে হাসিনার এই জুলম ও অবিচার কর্মকান্ড দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি, বরং উল্টো খালেদা জিয়ার প্রতি সহানুভূতি বাড়ছে। এমনকি আওয়ামীলীগের বহু লোকেরা মনে করছে, হাসিনা সমাজে প্রতিহিংসা ছড়াচ্ছেন।

তবে, আপাতত খালেদা জিয়ার রায়ের আপিলের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের কোটি কোটি মানুষ। দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ ও সহানুভুতি এমন ভাবে বাড়ছে যে, এটা এখন কোনো ব্যক্তির মামলা বা আপীল নয়, বরং কোটি কোটি জনতার প্রতিকার চাওয়া। অবৈধ সরকারের নিয়ম বহির্ভুত অন্যায় কার্যকলাপে জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে গেলে আর রক্ষা পাবে না আর কেহ।

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

অবাক কাণ্ড, রায় দেয়ার পর বলছে সংশোধন হচ্ছে: ড. কামাল

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে প্রতিদিন মিছিল হচ্ছে, মোবারকবাদ দেয়া হচ্ছে। এখানে একজনকে দু’কোটি টাকার জন্য জেল দেয়া হয়েছে।  তিনদিনের মধ্যে তাকে জামিন দেয়ার কথা।  অথচ বলা হচ্ছে, রায় সংশোধন করা হচ্ছে। অবাক লাগছে। রায় দেয়া হয়ে গেছে তবে কপি দেয়া যাচ্ছে না। কারণ কপি সংশোধন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুই কোটি টাকার মামলার রায়ের জন্য যদি সাড়ে ছয়শ’ পাতা লাগে, তাহলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার জন্য কয় লাখ পাতা লাগবে? আর কত বছর লাগবে তা লিখতে? কয় বছর লাগবে তা সংশোধন করতে? তখন কয় বছর লাগবে এর কপি দিতে? এই যে কপি দেব কপি দেব বলা হচ্ছে … কী প্রহসন হচ্ছে..। আইনকে নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনায় সভায় তিনি একথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশের মানুষ কার্যকর গণতন্ত্র দেখছে না। এরা যদি নিজেদের গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে থাকে তাহলে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন? কেন এ ব্যাপারে রাষ্ট্র নিশ্চুপ। এ ব্যাপারে কি কোনো মামলা শুরু হয়েছে?

তিনি বলেন, দেশে যেভাবে হত্যা গুম চলছে তা নিয়ে সবাইকে মুখ খুলতে হবে। জজ সাহেবদের এ ব্যাপারে অসহায়দের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

গণফোরাম সভাপতি বলেন, এই সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হলে কেন তারা দেশে গুম হত্যা অপহরণের বিরুদ্ধে কথা বলছেন না।

তিনি বলেন, তারা যদি গুম হত্যার বিরুদ্ধে কিছু করতে না পারে তাহলে বেরিয়ে যাক ক্ষমতা থেকে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের সভাপতি আজম রূপু। সঞ্চালন করেন ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু।

বক্তব্য দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুর মান্নান এবং গণফোরাম নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আওম শফিক উল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রমুখ।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার জন্য কাঁদতে কাঁদতে ইন্তেকাল করলেন মাওলানা!

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আয়োজিত গণঅনশনে কাঁদতে কাঁদতে মাওলানা কাজল। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।
গণঅনশনে মোনাজাত করার সময় হঠাৎ করেই পড়ে যান মাওলানা কাজল মিয়া। পরে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাতেই মারা যান তিনি।

মাওলানা কাজল মিয়া (৪০) বাহুবল উপজেলা সদরের উত্তর হামিদনগর আবাসিক এলাকার আবদুস ছমদের ছেলে। তিনি সাতকাপন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাহুবল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগেও অনশনে বসেন নেতাকর্মীরা।

অনশন শেষে মাগরিবের আজানের আগে দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে আবেগঘন মোনাজাত করেন যুবদল নেতা মাওলানা কাজল মিয়া। একপর্যায়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে তিনি পড়ে যান।
বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকদ্দস মিয়া বাবুল আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত কাজল মিয়াকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

কাজল মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রাতেই কাজল মিয়ার লাশ বাহুবলে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হামিদনগর মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

এদিকে কাজল মিয়ার মৃত্যুর খবর বাহুবলে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মাওলানা কাজল মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী।

/শীর্ষ নিউজ

 

Content Protection by DMCA.com

“জিয়া অরফানেজ মামলার ভেতরের কথা”

আমার কৈফিয়ত!
=========
রাজনীতি রাজনীতির যায়গায় থাকা ভালো, এটা সব যায়গায় টানাটানি করা অনুচিত। সত্য এবং মিথ্যা এক জিনিষ নয়। সত্যকে কখনই মিথ্যা বানানো যায় না। মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢাকা যায় না। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত একটি বানোয়াট মামলার রায়ে তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারান্তরীণ। বর্তমান ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা জোরছে আওয়াজ করে বেড়াচ্ছেন- “খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন, তাই তার জেল হয়েছে।” বিনা ভোটের (অবৈধ) সংসদের সদস্যরা সংসদ অধিবেশনে এমন কথাও বলছেন- “তাঁর রাজনীতি শেষ করে দেয়া হয়েছে, তিনি আর কখনও নির্বাচন করতে পারবেন না, ক্ষমতায় আসতে পারবেন না”! ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ২’শ বছরের পুরাতন এক নির্জন এলাকার পরিত্যাক্ত বাড়িতে সলিডারি কনফাইনমেন্টে রাখার পরেও কত প্রতিহিংসা জিঘাংসার উৎকট রূপ দেখল জাতি! এরা নাকি রাজনীতিবিদ! খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন, কি করেননি সে প্রশ্নের উত্তরে পরে আসছি। তবে বিনাভোটের সংসদে যে কথা বলা হয়েছে “খালেদা জিয়ার রাজনীতি শেষ করে দেয়া হয়েছে”- এটাই বোধ হয় বর্তমান ক্যাচালের আসল টার্গেট। সত্য উদঘাটন বা ন্যায় বিচার করা নয়, বরং রাজনীতি খাওয়াই এদের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এভাবে মিথ্যা চাপিয়ে দিয়েই কি কারও রাজনীতি খাওয়া যায়?
 
প্রথমেই নিজের পরিচয় দিয়ে নিই। যে সময়কার ঘটনা ১৯৯১ সালে ৯ জুন, আমি তখন প্রধানমন্ত্রীর অফিসে সহকারী সচিব পদে কর্মরত। ঐ অফিসের তখন মাত্র ৮ জন সরকারী কর্মকর্তা ছিলাম আমরা। ভারপ্রাপ্ত সচিব কামাল সিদ্দিকী, সাবিহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর পিএস-১, উপসচিব ম. সাফায়েত আলী (মরহুম), এম এ মোমেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, তাজুল ইসলাম তথ্য অফিসার, তিনজন সহকারী সচিব আবদুজ জাহের (৮২ ব্যাচ, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব), আমি নিজে শামসুল আলম, এবং আলী আহমেদ। আমাদের অফিস ছিল বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১ নম্বর বিল্ডিংয়ে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বসতেন চার তলার অফিস কক্ষে (সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের অফিস), আমরা বসতাম দোতলায়।
 
তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান (মরহুম) বিদেশ সফর ঘুরে কুয়েতের আমিরের নিকট থেকে একটি ফান্ড আনেন শহীদ জিয়ার নামে এতিমখানা বানানোর উদ্দেশ্যে। কুয়েতের আমিরের সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাব হতে প্রেরিত ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের ডিডিতে “প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল” লেখা ছিল বটে, কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ সরকারের ঐরূপ কোনো ফান্ড ছিল না। ওটা একটা বেসরকারী অনুদান হওয়ার পরেও প্রেরকের ভুলের কারণে ঐরূপ হয়। ভারপ্রাপ্ত সচিব কামাল সিদ্দিকীকে ঐ ডিডি দেয়া হলে তিনি তা ভাঙানোর নিমিত্ত সোনালী ব্যাংক রমনা শাখায় একটি চলতি হিসাব খুলেন। পরে ঐ টাকা (৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা) তুলে সেভিংস/এসটিডি/এফডিআর হিসাব খোলা হয়। ১৯৯৩ সালে সুদসহ সমুদয় তুলে পুরো টাকাটা ২ কোটি ৩৩ লাখ করে সমান দু’ভাগ করে এতিমখানা নির্মানের নিমিত্ত বাগেরহাট এবং বগুড়ায় দুটি ট্রাস্টকে প্রদান করা হয়। এই চেক দু’টিতে সই করেন একাউন্ট হোল্ডার কামাল সিদ্দিকী। এর আগে দু’টি ট্রাস্ট গঠন ও রেজিষ্ট্রি সম্পন্ন হয়। বাগেরহাটের জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সেটেলার হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, এবং বগুড়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সেটেলার হন তারেক রহমান। বাগেরহাটে মোস্তাফিজুর রহমান সাহেব জিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে এতিমখানা নির্মান করে যথারীতি পরিচালনা করেন। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা নূর আহমেদ ১১/৬/২০০৮ তারিখে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ট্রাস্টটি বেসরকারী ট্রাস্ট, এবং “বর্ণিত ট্রাস্টের নামে একটি এতিমখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা চলমান রয়েছে বিধায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে উক্ত ট্রাস্টের কোনো অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দুদকের মামলার অভিযোগকারী এবং তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদও তা মেনে নেন। ফলে বাগেরহাটের এই খন্ড নিয়ে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করা হয়নি বা মামলাও হয়নি (এটা মাথায় রাখবেন)।
 
এবারে বগুড়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নিয়ে আলোচনা। বগুড়ার জন্য বরাদ্দ করা ২.৩৩ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ট্রাস্টের নামে বগুড়াতে ২.৭৯ একর ধানি জমি ক্রয় করা হয়। বাদ বাকি সব টাকা ট্রাস্টের একাউন্টে আছে, তা স্বীকার করেছেন মামলার বাদী ও তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। ট্রাস্টির সদস্যদের কর্মব্যস্ততার কারনে এই টাকা ব্যবহার করে এতিমখানা নির্মান করা হয়নি সত্য, তবে তারেক রহমান এতিমখানার ঐ টাকাকে উচ্চ মুনাফাধারী বিভিন্ন ব্যাংকে রেখে তা তিন গুণ বর্ধিত করেন। ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাদের পরিচিত সলিমুল হক কামালকে দায়িত্ব দেন ঐ টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য। কামাল সাহেব তার নিজের নামে এবং তার পরিচিতি গিয়াসউদ্দিন ও সৈয়দ আহাম্মদ নামে এফডিআর করে পরে লাভ সহ ভাঙ্গিয়ে সম্পূর্ন টাকা ট্রাস্টের একাউন্টে জমা করা হয়।
 
২০০৬ সালে এতিমখানার জন্য ঢাকার কাছে আশুলিয়ায় জমি কেনার উদ্দেশ্যে জনৈক শরফুদ্দিনের সাথে বায়না করে ২টি এফডিআর মূলে অর্থ দেয়া হয়, যাতে মেয়াদান্তে ২.৫০ কোটি পাওয়ার কথা। কিন্তু ১/১১র পরে দেশে ধরপাকড় ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে এবং পরে তারেক রহমান গ্রেফতার হলে ঐ জমির রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয় নাই। ফলে শরফুদ্দিন উক্ত এফডিআর ভেঙে ২.১০ কোটি টাকা ট্রাস্টকে ফেরৎদান করে। মূলত এটাই হলো মামলার ২.১০ কোটি টাকার উৎস। বাস্তবে ট্রাস্টের কাছে এখনও ৬ কোটির বেশি টাকা আছে ব্যাংকে। এখানে দু্নীতির মামলা হলে ৬ কোটির জন্যই হওয়ার কথা। আর কুয়েতি অনুদান সংক্রান্তে মামলা হলে ১২.৫৫ লাখ ডলার বা ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকার উপরে হওয়ার কথা। এর একটিও হয়নি। অর্থাৎ মামলাটি বস্তুনিষ্ট হয়নি, বরং বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের উদ্দেশ্যে দায়ের করা!
 
মামলার শুরুতে অভিযোগ আনা হয় যে, অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে, যা শেখ হাসিনার ভাষায় ‘এতিমের টাকা চুরি করা’। পরে আদালতে সাক্ষ্য প্রমানাদিতে যখন প্রমান হয় যে, কোনো টাকা কেউ আত্মসাৎ করেনি, তারপরে সরকারী পক্ষ সেটি ঘুরিয়ে দেয় অন্য দিকে- সরকারী তহবিলের অর্থ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রাইভেট টাস্টকে দেয়ার অভিযোগ আনে, এবং সেই কারন দেখিয়ে বানোয়াট কাগজপত্র ও সাক্ষী দিয়ে ধারণার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়াকে সাজা দেয়া হয়। অবশ্য এর বহু আগে থেকে দেশের ম্যান্ডেটহীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন স্থানে বলতে থাকেন, “এতিমের টাকা চুরি করেছে” (যা পরে কখনই প্রমান হয়নি যে, টাকা চুরি হয়েছে)! বুঝতে কষ্ট হয় না যে, শেখ হাসিনার মুখ রক্ষা করার জন্যই এই রায় ঘোষণা। তাছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পড়েছে- এই রায় কিভাবে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেয়া হয়। রায়ের দু’সপ্তাহ আগে আইনমন্ত্রীর অফিসের বরাতে খবর ছাপা হয় খালেদা জিয়ার কয় বছর জেল দিতে চান মন্ত্রী আনিসুল এবং নৌমন্ত্রী শাজাহান খান ২/৩ দিন আগেই মিডিয়াকে বলে- খালেদা জিয়ার কয় বছর জেল হবে! এর আগে সুপ্রিম কোর্টের দু’জন প্রধান বিচারপতিকে অত্যন্ত নোংরা পদ্ধতিতে সরিয়ে বর্তমান সরকার অধঃস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রন হাসিল করে, যার মুল শক্তি হলো আইন সচিব জহিরুল ওরফে ‘পিস্তল দুলাল’! সেই অনুগত অধঃস্তন আজ্ঞাবহ এক বিচারক হলেন ডঃ আখতারুজ্জামান, যিনি শেখ হাসিনার হুকুম তামিল করে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন। দেশের সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিক, সকলেই একবাক্যে বলছেন- এই রায় শেখ হাসিনার নির্দেশিত।
 
প্রকৃতপক্ষে, ১৯৯১ সালে ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম ফান্ড’ নামে সরকারী কোনো তহবিল তখনও ছিল না, এখনও নাই। ১৯৯১ সালের জুন মাসে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ছিল না। তাই “প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল” থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং এমন কোনো তহবিল সৃজন করতে হলে অর্থ মন্ত্রনালয় ও সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের (এতিমখানা এই মন্ত্রণালয়াধীন) অনাপত্তি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দেয়ার আবশ্যকতা ছিল। ঐভাবে কোনো তহবিল সৃষ্টি করা হয়েছিল কি? আদতে তেমন কিছু ঘটেনি। ফলে “প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল” নামে কোনো সরকারী তহবিল ছিল না, ফলে ঐরূপ কোনো ফান্ডের টাকা আত্মসাত বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা সরানো স্রেফ কল্পনাপ্রসুত অভিযোগ ছাড়া আর কিছু নয়।
 
কেউ যদি অভিযোগ করে, আমার পকেট থেকে কেউ টাকা চুরি করেছে। পরে খুঁজে দেখা গেলো তার কোনো পকেটই নেই। তাহলে চুরির প্রশ্ন আসবে কি করে? এখানেও তেমন ঘটনা ঘটেছিল। প্রধানমন্ত্রীর এতিম ফান্ড ছিলই না, তাহলে টাকা তছরুপ হবে কি করে। ঐ ফান্ড কে সৃষ্টি করলো? এরকম কিছু গঠন হয়ে থাকলে সরকারী গেজেট কোথায়? অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি কোথায়? রাষ্ট্রপতির অনুমোদন কোথায়? সরকারী ফান্ড হলে প্রতিবছর তার অডিট হওয়ার কথা। এমন কিছু হয়েছিল কি? কোনো নীরিক্ষা হয়েছিল কি? হয়ে থাকলে সেই অডিট রিপোর্ট কই? আছে কি এমন কিছু? কিছুই নেই। তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ নিজেও তা স্বীকার করেছেন।
 
কুয়েত থেকে আসা এই ফান্ড কি বেগম জিয়া চেয়ে এনেছিলেন? না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তাফিজ সাহেবের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ফান্ড আসে। পরে হয়ত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৌখিক নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর সচিব কামাল সিদ্দিকী ঐ বেসরকারী ফান্ডের দেখভাল করতেন। রাষ্ট্রীয় টাকা না হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি সেটা হিসাব রাখতেন। আর কামাল সিদ্দিকীর কাজ সহজ করার জন্য তার পিএস জগলুল পাশা (১২/০৯/১৯৯২ থেকে) বা তা পূর্বসুরি ডঃ সিদ্দিকীকে সহায়তা করতেন।
 
এখানে উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে সর্বদলীয় সম্মতিক্রমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়। নতুন সরকার ব্যবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া সরকারের নির্বাহী প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর পুনঃশপথ নেন ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯১। প্রধানমন্ত্রীর অফিসের নতুন অর্গানোগ্রাম হয়, তাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সানুগ্রহ হয়ে আমাকে তাঁর প্রটোকল অফিসার হিসাবে নিয়োগ করেন। বাংলাদেশ সচিবালয় ছেড়ে আমরা পুরাতন সংসদ ভবনস্থ (সাবেক রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে) অফিস শুরু করি। সেখানে রাষ্ট্রপতির অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী সমেত বিশাল জনবল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নতুন অর্গানোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারের নির্বাহী প্রধান হিসাবে নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দু’টি তহবিল আসে- এর একটি ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যান তহবিল’, অন্যটি ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিল’। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে হিসাব দু’টি সচিব ডঃ কামাল সিদ্দিকী মেনটেইন করতেন। এবং তার পিএস হিসাবপত্র রাখতেন। উক্ত দু’টি তহবিলই সরকারী নিয়ম মোতাবেক গঠন করা হয়। প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে এ দু’টি তহবিলে বরাদ্দ আসে। এখনও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ দু’টি তহবিল আছে। অন্যদিকে তথাকথিত ‘প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল’ নামে কোনো সরকারী ফান্ডের অস্তিত্ব তখনও ছিল না, এখনও নাই। মাঝখানে ৯৬ সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন, তখনও এতিম তহবিলের কিছু দেখা যায়নি। এ বিষয়টা হঠাৎ উদয় হয় ২০০৮ সালে ১/১১র পরে!
 
মূলত, কামাল সিদ্দিকীর হাতেই এই বিতর্কের জন্ম। ১৯৯১ সালে যখন ফান্ডটি আসে ভুল নামে, এটা সংশোধনের পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব ছিল কামাল সিদ্দিকীর। তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব। প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রি পর্যায়ের পদাধিকারীর সাথে সচিব/একান্ত সচিব নামে কিছু সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে এই কারনে যে, তারা সরকারী আইন ও বিধি সম্পর্কে পারদর্শী। তারা পেশাদারী লোক। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রী/ মন্ত্রী পদে বসলেও তারা সরকারী আইন কানুন সম্পর্কে জানা থাকার কথা নয়। সরকারী কর্মকর্তারা মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে আইনী সেফগার্ড দিয়ে থাকেন। সচিবরা সাচিবিক সহায়তা দিয়ে তাদেরকে আইনানুযায়ী চলতে সাহায্য করবেন, এটাই তাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রিরা যদি কোনো বেআইনী কাজ বা ভুল কাজ করে, তবে তার দায় সচিবের ওপরও বর্তায়। আলোচ্য কুয়েতি ফান্ডের ক্ষেত্রে কামাল সিদ্দিকীর পরামর্শ হতে পারত- “ডিডি ফেরত পাঠিয়ে অরফানেজ ট্রাস্টের নামে সংশোধন করে আনুন”, ‘প্রধানমন্ত্রীর’ শব্দটি থাকলে এটা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু সেটা তিনি করেননি। হয় তিনি আইন জানতেন না, অথবা ‘অতিভক্তি’র কারনে তা করতে পানেননি। সঠিক পরমর্শ না দিয়ে তিনি নিজেই ব্যাংক একাউন্ট খুলে ডিডি ভাঙান। এটি একটি ভুল বা প্রমাদ ছিল বটে, তবে কোনো অবস্থাতেই ঐ ফান্ড সরকারী ছিল না। সেটা হলে অবশ্যই বছর বছর অডিট হতো এবং হিসাব থাকত মহাহিসাব নিরিক্ষকের দপ্তরে। কামাল সিদ্দিকীর এই ভুলের দায়ে বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি হতে পারে না। এটা অন্যায়।
 
কামাল সিদ্দিকী পরবর্তীতে তার কৃত ভুলের দায় থেকে বাঁচার জন্য নাকি দুদকে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছে। তাতে দাবী করেছেন, যা কিছু করেছেন সব প্রধানমন্ত্রী জানতেন! আর তার পিএস জগলুল পাশাও লিখেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন এবং ত্রান তহবিল মেনটেইন করতেন। পাশাপাশি কথিত “এতিম ফান্ডে” টাকার হিসাবও রাখতেন আলাদাভাবে। কিন্তু তিনি কোনো নথি দেখাতে পারেননি, বা কোনো নোটশীটে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন খুঁজে পাননি। আসলে সরকারী ফান্ডের পাশাপাশি বেসরকারী ঐ হিসাব তিনি দেখভাল করতেই পারেন। এটা পিএসরা হরহামেশা করে থাকে। কামাল সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, তার লেখা বইপত্রের বেচা বিক্রি, আয় ব্যয়, ট্যুর থেকে আয়, বিদেশী গ্রান্ট এগুলার হিসাবও পাশা সাহেব রাখতেন। তবে কি ঐ গুলাও সরকারী হিসাব ছিল? ডঃ সিদ্দিকী এবং তাঁর পিএসের স্টেটমেন্ট-এর খবর মিডিয়াতে পড়ে একজন শিক্ষক আমাকে প্রশ্ন করেছেন- “কোথায় সেই বেইমান সিদ্দিকি এবং তার পিএস পাশা? ম্যাডাম কি পান এদের মধ্যে যে, খুঁজে খুঁজে এদেরকেই তাঁর অফিসে বার বার বসান।” এর মধ্যে ’৮২ ব্যাচের এক অফিসার আমাকে বলেন, “পাশা যে সময় এই সাক্ষ্য দেয় তখন তার খুব দুর্দিন, সামনে রিটায়ামেন্ট অথচ প্রমোশন মিলছে না, হয়ত সেটা হাসিল করতেই পাশা এমন মতলবি সাক্ষ্য দিয়েছিল! কিন্ত শেষ অবধি সেটাও হয়নি।”
 
একটি উদাহরন দেই- প্রধানমন্ত্রীর অফিসে কর্মকালে নিজেদের বেতন ভাতার হিসাব রাখার জন্য আমি নিজেই একটি প্রোফর্মা বানিয়ে রেজিষ্ট্রার তৈরী করি এবং ১০০ বই মুদ্রণ করে অফিসারদেরকে দেই। এখন যদি কোনো অফিসারের কাছে ঐ হিসাবের বই পাওয়া যায়, তবে দুদক কি বলতে পারবে – এটা সরকারী ফান্ড- হিসাব দাও? এভাবে সব কিছুই রাষ্ট্রীয় হিসাব নয়, কিছু বেসরকারী বা ব্যক্তিগত বিষয়ও থাকে।
 
আলোচ্য অরফানেজ ঘটনায় কোনো দুর্নীতির ঘটনা তো ঘটেইনি, উপরন্তু সরকারী তহবিলকে বেসরকারী ট্রাস্টকে প্রদান করে কোনো ক্ষমতার অপব্যবহার করার ঘটনাও ঘটেনি। লক্ষ করুন, কুয়েতি ফান্ডের অর্ধেক ২.৩৩ কোটি টাকা যায় বাগেরহাটে। এই অংশ নিয়ে দুদক বা সরকারের কোনো আপত্তি অভিযোগ নাই। সরকারি ফান্ড বেসকারী ট্রাস্টে দেয়ার অপরাধ ঘটলে সেটা বাগেরহাটের ২.৩৩ কোটি টাকার জন্যও মামলা হতো। তা হয়নি। কেবল বেগম জিয়া এবং তাঁর পুত্রকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির অসৎ উদ্দেশ্যে বগুড়ার অংশের ২.১০ কোটি টাকা নিয়ে দুদকের এই মামলা। একটি ফান্ডের অর্ধেক সরকারী, আর অর্ধেক বেসরকারী, তা তো হতে পারে না। তাছাড়া, যদি তর্কের খাতিরে বলা হয় যে এটা প্রধানমন্ত্রীর স্বেচ্ছাধীন তহবিলের টাকা (যদিও আসলে তা নয়), তবুও প্রধানমন্ত্রী যেকোনো প্রতিষ্ঠানকে যত ইচ্ছা ফান্ড দিতে পারেন (মপবি-৩/৬/৯১/বিধি-১১২, তারিখ ৮/৬/৯২)। কাজেই, কুয়েতের আমির থেকে পাওয়া বেসরকারী ফান্ড দু’টি এতিমখানাকে ভাগ করে দিয়ে কোনো বিশ্বাসভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বা আইনের ব্যত্যয় বা সরকারী তহবিল তছরুপের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওখানে নাম সংক্রান্ত যা কিছু ব্যত্যয় হয়েছে, তা ছিল অর্থ প্রেরকের একটি ভুল মাত্র। কুয়েতের আমিরের ফান্ড যে শহীদ জিয়ার নামে এতিমখানা নির্মানের জন্য দেয়া হয়েছিল, তা পরবর্তীতে কুয়েতের দূতাবাস চিঠি দিয়ে (কপি ছেপে দিলাম) জানিয়েছে, তবুও এসব বিষয় আখতারুজ্জানের কোর্ট উপেক্ষা করে রায়টি দিয়েছে। আমার কাছে মামলার ৭’শ পাতা ডকুমেন্ট আছে। কাজেই তথ্যভিত্তিক ছাড়া কোনো কথা এখানে বলি নাই।
 
মুলত, দুর্নীতি হয়নি জেনেও শেখ হাসিনা চেয়েছেন খালেদা জিয়ার নামে একটা দুর্নীতির রায় দিতে, যাতে করে উনি ভোট চাওয়ার সময় খালেদা জিয়ার নামে বাজে বাজে কথা বলতে পারেন। দেশ বিদেশের কোনো জরিপেই আওয়ামীলীগের জন্য ৩০ থেকে ৪০ সিটের বেশি আসন পাওয়ার কোনো খবর নাই। তাই খালেদা জিয়ার ভোট কমাতে এই তাগুদি রায় হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিকে হেনস্তা করার অসৎ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন।
 
আসলে বিদেশী অনুদানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার নামে এতিমখানা বানাতে গিয়ে একজন সৎ প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন, কেবল ভোটে এগিয়ে থাকাই হচ্ছে তাঁর মূল অপরাধ!
(লেখক: শামসুল আলম,  প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে বেগম খালেদা জিয়ার সহাকারী একান্ত সচিব)
Content Protection by DMCA.com

ZIA ORPHANAGE CASE: Judge still correcting verdict: এখনও রায় সংশোধন করছেন জজ!

The judge continued revising and correcting till Monday the verdict pronounced on February 8 sentencing Bangladesh Nationalist Party to imprisonment for five years in Zia Orphanage Trust case.

Khaleda’s lawyer Aminul Islam told New Age that he was informed by the court officials that the verdict was still being corrected by the judge.
He said that Khaleda awaiting the certified copy of the verdict to appeal against it.

Aminul said that Kaleda’s lawyer Sanaullah Mia on Monday submitted stamps of Tk 5,000 and relevant papers to the trial court’s copying department for getting the certified copy.

On February 8, Dhaka special court 5’s judge Md Akhteruzzaman read out the operative part of a 632-page verdict.

Anti-Corruption Commission prosecutor Mosharraf Hossain Kazal said that it would take time to write and type the 632-page verdict before issuing the certified copy.

He said that the commission was not in a hurry to get the certified copy.
Former district judge and Supreme Court registrar Ikteder Ahmed told New Age that the full verdict must be read out in open court and it has to be signed in open court, according to Section 369 of the Code of Criminal Procedure.

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করার ৫ দিন অতিবাহিত হতে চলল, অথচ এখনও জজ সাহেবনাকি রায় সংশোধন করছেন! প্রশ্ন হলো, এই রায় কি অন্যের লেখা? উনি কি আগে রায় দেখেন নি?

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার প্রতি চরম নিষ্ঠুর অবিচারের কাঁদছে বাংলাদেশ “ম্যাডাম’ থেকে ‘মা’ হয়ে উঠেছেন প্রাণে প্রাণে

বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিচারের নামে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপরসন তিন বারের প্রথানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি করা হচ্ছে ভয়াবহ নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারের এক ভুতুরে পরিবেশের মধ্যে একটি স্যাঁতস্যাঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়াকে। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। এ কথাও বিবেচনা করা হয়নি তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তিনি একজন স্বামীহারা, এক সন্তানহারা মানুষ। তার স্বামী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের উন্নয়নে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন।

পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই তাকে একাকী রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়া একজন বন্দীও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার! তিনি যেনো জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন, সেজন্য এখন একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার নামে ৩৪টি মামলাই সচল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় বাংলাদেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে।

নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দী করা হয়নি, বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। বন্দী করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে। তাঁকে কারান্তরীণ করায় দলটির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে খালেদা জিয়ার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখখানি। অনেকের চোখে ঘুম নেই। নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। কখনোবা ডুকরে কেঁদে উঠছেন। কাঁদছে দেশবাসী। নামাজ পড়ে অনেককে হাত তুলে মোনাজাত এবং কান্নাকাটি করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পস্ট হয়ে গেছে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। হাসিনা নিজেই আওয়ামীলীগের আইনজীবিদের দিয়ে দশ দিনে ছয়শত বত্রিশ পাতার রায় লিখিয়ে বিচারক ড.আখতারুজ্জানকে দিয়ে পাঠ করিয়েছে।

আদালত ঘোষিত “রং হেডেড” শেখ হাসিনা রায়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় চরম জিঘাংসা, ক্রুড়তা, অমানবিক, হৃদয়হীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ন প্রকাশ করেছে। বরিশালে জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” ঠিক তার পিতা শেখ মুজিব দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে হাসিনার মতোই দম্ভ করে বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? মুজিবের মতোই হাসিনাও বিকৃত সুখ অনুভব করছেন, বন্য উল্লাসে মেতে উঠেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা এক’শ ভাগ বিশ্বাস করেছে। তারা বিশ্বাস করেছে খালেদ জিয়া কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় করেনি। নব্য ফেরাউন হাসিনার জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয়না, অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল। শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনেরটি মামলা গায়েব করে ফেলা হয়েছে এক ফুৎকারে।

জনগন সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকে ব্যবহার করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মজলুমের পক্ষে। হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়া এখন প্রতিটি মানুষের প্রাণোৎসারিত সবটুকু সহানুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা অকাতরে উপছে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগনের প্রাণাধিক প্রিয়। মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপনজন তার মা। মাতৃমুর্তি খুব খুব শক্তিশালী। আমরা দেশকে মায়ের সম্মান দেই।আমাদের মায়েরা কষ্ট সহ্য করেন, মুখে কিছু বলেন না; হয়তো নিরবে অশ্রুপাত করেন। বেগম জিয়াকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে, তাতে কেবল দলের নেতাকর্মী নন, প্রতিটি বিবেকবান মানুষ তাঁকে মাতৃমুর্তি হিসাবে হৃদয়ের গহীনে গ্রথিত করছে। তাঁরা মনে করছে মা নিশ্চয় নিরবে অশ্রুপাত করছেন। মায়ের সেই অদৃশ্য কল্পিত কান্না, তাঁদের বুকে ক্রমাগত শেলের মতো বিঁধছে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভাবনীয় ,অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গণমানুষের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমুর্তি রূপ খালেদা জিয়া। হাসিনার প্রকাশ্য জিঘাংসার মুখে পড়ার পর তিনি কর্মী সমর্থকদের কাছে “ম্যাডাম” থেকে “মা” তে উত্তীর্ন হয়েছেন। বেগম জিয়াকে আর তারা ম্যাডাম বলে ডাকেনা, “মা” বলে ডাকে। মা । দেশের মানুষ তাকে ঠাঁই দিয়েছে মায়ের আসনে। জেলবন্দী মা খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমুর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, পৃথিবীতে আপাতত তার ধারে কাছে আর কেউ নেই। “বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, – এই শ্লোগানের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দলীয় কর্মীসমর্থকদের কন্ঠে বুকঝিম ভালোবাসায় উচ্চারিত এই ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে অনুরণিত হচ্ছে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন সুবিধা না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি: আইজি প্রিজন্সকে তিরস্কার!

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেই কেবল পাঠাননি শেখ হাসিনা, জেলখানায় আইন মোতাবেক পাওনা ডিভিশন সুবিধাও দেয়া হয়নি। তিন দিন অযত্ন অবহেলায় রেখে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার উদ্দীন আহমেদ রোরবার সকালে সাংবাদিকদের বয়ান দিলেন, “কারা বিধি অনুযায়ী যারা সাংসদ তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না। ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধিতে এ রকমের বিধি রয়েছে।”

জানা গেছে আইজি প্রিজন্স সত্য বলেন নি। ২০০৬ সালের কারা বিধির ৬১৭ ৭(i)তে বলা আছে, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ থেকে ১৮ তালিকায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা জেলখানায় (হাজতি বা কয়েদী) ডিভিশন-১ পাইবেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ নম্বরে প্রেসিডেন্ট, ২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ নম্বরে আছে সংসদ সদস্য। ঐ ৬১৭ বিধির ৭ (২) ধারা অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকও ডিভিশন-১ পাইবেন। সে হিসাবে ৩টি ক্যাটাগরিকে বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্য। এটা দিতে জেল কতৃপক্ষ বাধ্য। এর জন্য কোনো কোর্টে আদেশ প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনেই এই আইনে প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে সংসদ এলাকায় সাবজেলে রাখা হয়।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান আইজি প্রিজন্স ইফতেখার তখন ছিলেন মেডিকেল কোরের একটা বাচ্চা ক্যাপ্টেন মাত্র, তাই তিনি হয়ত  ভুলে গেছেন, কিন্তু আইন ও বিধি তো মহা পরিদর্শকের টেবিলেই থাকে। ৫ বার সংসদ নির্বাচন করে ২৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে খালেদা জিয়া কোথাও না হেরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এ ছাড়াও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির প্রধান, ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সিনিয়র সিটিজেন- এগুলো তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও অবস্খানের পরিচায়ক, যা কারাবিধির ৬১৭তে উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি ক্রাইটেরিয়ার যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ পাওয়ার যোগ্য।

অথচ তিন বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইজি প্রিজন্স সাধারন কয়েদী হিসাবে রেখেছেন তিন দিন নি রাত্রিরও বেশি। খাইয়েছেন কাকড় সহ ভাত! ৭৩ বছর বয়স্ক অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (নির্বাচন দিলে যিনি যেকোনো সময় আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন) ডিভিশন-১এর সুযোগ সু্বিধা না দিয়ে প্রিজন্স অথরিটি অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, আইজি প্রিজন্স কি ৬১৭ ধারা পড়েন নাই? নাকি তাহার চক্ষে (এবিএম মুসার ভাষায়) বিলাই মুতিয়াছিল?
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ একটি আদালত একটি মিথ্যা মামলায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার কথিত বড় ভাই এরশাদের আগেকার দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল বানোয়টি মামলায় সাজাই দেন নাই, আইজি প্রিজন্স রাখেন নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক সেন্ট্রাল জেলের পরিত্যাক্ত ভবনে! ঐ ভবন এখন আর জেলখানা নয়, বরং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস। খালেদা জিয়াকে ঐ পরিত্যক্ত ভবনে বন্দী করার আগে সেটিকে জেলখানা ঘোষণা করে গেজেট জারী করা হয়নি। এটি একটি মারাত্মক ব্যত্যয়। ঐ জরাজীর্ণ ভবনে আর কোনো বন্দী নাই। ওটি এখন আর কোনো সরকারী জেল নয়, বরং প্রাইভেট বন্দীশালা। ২’শ বছরের প্রাচীন এ ভবনে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়েছে কি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে? হয় তাঁকে ভয় দেয়া, অথবা ভবন ধসে হত্যা করার উদ্দেশ্য নয় তো?

জেল কতৃপক্ষের এহেন অন্যায় অত্যাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আইজি প্রিজন্সকে তুলোধানা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে- “আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার? আপনাকে এখন কি করা উচিত? এই দায়িত্বহীনতার জন্য আপনাকে এখনি চাকরিচ্যূত বা রিজাইন করতে বলা কি কম হবে? লজ্জা থাকলে আপনি পদত্যাগ করবেন”।

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবিরা শুক্রবার শনিবার ২দিন আইজি প্রিজন্সের অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেছে ডিভিশনের দরখাস্ত নিয়া, যাতে তাঁকে ডিভিশন-১ নিশ্চিতভাবে দেয়া হয়, যদিও দরখাস্ত দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আইজি প্রিজন্স তার অফিসের সব গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাহিনী দিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন! সাধারন জনগনের প্রশ্ন – আইজি প্রিজন্স কোনো করেছিলেন ঐ কম্ম ? এটা কি আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখারের ঘাড়ে সোর্ড এবং বল্টু আছে, তাই? ওগুলো যেদিন খসে যাবে সেদিন তার কি উপায় হবে?

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে দ্রুত সাজা দিতে ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লিখে দিয়েছে কে?

বিশেষ প্রতিবেদক ।।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট  মামলায় ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে বিচারক ড.আখতারুজ্জামান। একজন মানুষ কিভাবে মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্টার রায় লিখলো তা নিয়ে সারাদেশে সচেতন মহলে চলছে রীতিমত তোলপাড়। ড. আখতারুজ্জামান কি জ্বিন ভুত নাকি মানুষ? মানুষের পক্ষে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশ্ন তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লেখা নিয়ে শেখ হাসিনা, জজ আখতারুজ্জামান এবং আইনমন্ত্রি আনিসুল হক পড়েছেন মহাবিপাকে। আইনমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন।

নামে না প্রকাশ করার শর্তে জজ কোর্টের একজন বিচারক জানান, সাধারনত একজন পেশাদার কম্পোজার স্পস্ট ড্রাফট লিখা থাকলে প্রতি পেইজ বাংলা টাইপ করতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০-১১ মিনিট, আর ইংরেজি হলে ৭-৮ মিনিট। প্রতি পৃষ্ঠা ড্রাফট করতে হাতে লিখলে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট (দুই হতে তিন পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট কম্পিউটার কম্পোজে এক পৃষ্ঠা হয়)। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের হাতে লিখা ড্রাফট করে থাকলে তার জন্য হাতে লিখা পৃষ্ঠা হলো ৬৩২x২.৫ ( গডে ২.৫ পৃষ্ঠা হাতে লিখা কম্পোজে ১ পৃষ্ঠা হবে) = ১৫৮০ পৃষ্ঠা। প্রতি পৃষ্ঠা হাতে লিখতে গড়ে ১০ মিনিট লাগবে, কারন রায়টা পরীক্ষার হলে মুখস্ত রচনা নয়। সেই হিসাবে ১৫৮০ পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট করতে সময় লাগবে ১৫৮০০ মিনিট বা ২৬৪ ঘন্টা বা ৩২ কার্য দিন ( প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে)। আর ১৫৮০ পৃষ্ঠা কম্পোজ করতে ( ৬৩২ হবে) সময় লাগবে বাংলা হলে ৬৩২০ মিনিট বা ১০৫ ঘন্টা বা ১৩ কার্যদিবস। আখতারুজ্জামান হাতে নিয়েছিল ১০ দিন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কোন লেবারও কাজ করে না। তারও ৫+৩০+৫ মিনিট ব্রেক থাকে ৮ ঘন্টা কাজে এবং ধর্ম কর্ম ও প্রাকৃতিক কাজেও চলে যায় ৩০/৩৫ মি। সেমতে এ রায় লিখার সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘন্টা ব্যয় করা সম্ভব। রায় লিখতে সময় লাগবে ইংরেজী ড্রাফট না করে সরাসরি কম্পোজ করলে ১৭/১৮ দিন আর বাংলায় সরাসরি কম্পোজ করলে ২৫/২৬ দিন। আর যদি কম্পোজ এর পুর্বে ড্রাফট করা হয়ে থাকে তবে আরও চল্লিশ দিন যোগ করতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সাবেক বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ওরফে কালা মানিক , আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত আইন সচিব আওয়ামীলীগ নেতা পিস্তল দুলাল ও তাদের লোকজন শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরন করে এই রায় লিখে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করেছেন হাসিনার অতি বিশ্বস্ত আইনজীবি আজমালুল হক কিউসি। রায়ের বিস্তারিত বিবরন আখতারুজ্জান নিজেও জানে না। সে শুধু ফরমায়েশী রায়ের সারাংশটুকু পড়েছে। পুরো রায় তার হাতে লেখা নয়।

রায়ের প্রিন্ট নেয়া হয়েছে গণভবন থেকে। রায় ঘোষণা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারন্তরীণ করার পরে এখন সার্টিফাইট কপি সরবরাহ নিয়ে টালবাহানা করছে সরকার। জানা গেছে, দ্রুত রায় ঘোষনা করার জন্য হাসিনার কড়া নির্দেশ পেয়েই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালা মানিক, পিস্তল দুলাল এবং আওয়ালীগের কয়েকজন জজকে কাজের দায়িত্ব দিয়ে তদারকী শুরু করে। আনিসুল হকের ব্রিফিং পেয়ে ফরমায়েশী লেখা শুরু করে তারা। এই কুখ্যাত রায়ে ছত্রে ছত্রে মিথ্যা দিয়ে ভরা।

রায় ঘোষণা দেওয়ার আগেই সংক্ষুব্ধদের হামলার আংশংকায় জজ আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা বিসিয়েছে সরকার। রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়ায়  আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একজন এসআইসহ চার সদস্য বুধবার থেকে সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। এ ছাড়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই বাড়িতে বিচারকের মা মোছা. মরিয়ম খাতুন, এক ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করেন।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে জনগনের মাঝে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান : যৌথসভায় তারেক রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্য প্রদান 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল স্তরের ঐক্য আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করে গণতন্ত্র,মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জনগনের মাঝে দ্রুত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জনগনের অংশগ্রহনমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম মহাসচিব বৃন্দের সভায় সভাপতি হিসাবে লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে তারেক রহমান এই আহবান জানান। এ সময় চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ার ম্যন্য রাখা হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমান এই প্রথম দলের গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তব্য রাখলেন। তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জাতি নিয়ে আমাদের গৌরব করার মতো অনেক বিষয় আছে। যেমন এই দেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঠিক একইভাবে স্বাধীনতার পর বিগত বছরগুলোতে যখনি জাতির ঘাড়ে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তখনি আপনারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক ছিলেন। আজ আমাদেরকে আবারো দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক স্বাধীনতার অধিকার, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কিন্তু এর জন্য প্রথমেই আমাদের দলের সকল পর্যায়ের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করা প্রয়োজন। যেহেতু বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের শক্তিতে, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস্য, তাই আমাদেরকে আরো কাছে যেতে হবে জনগণের, তাই আমাদের প্রয়োজন এমন সকল কর্মসূচি যাতে আরো বেশি জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে।

“খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে গণতন্ত্রকে বন্দি করা”এই কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন,আজ এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আজ আপনাদের এই উপস্থিতিতে সকল স্তরের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করবে। আপনারা যারা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যা দেশ জাতি এবং দলকে দেবে দিক নির্দেশনা। এ অবৈধ সরকার দেশ ও জাতির সবচাইতে প্রিয় নেতা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অজুহাতে বন্দি করে রেখেছে। আজ খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে গণতন্ত্রকে বন্দি করা, আজ খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে মানুষের বাক স্বাধীনতাকে বন্দি করা।

তারেক রহমান স্বৈরাচার নিপিড়িত দেশের সকলকে নতুন করে শপথ গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন,আসুন আমরা সকলেই নতুন করে শপথ নেই যে, আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হোক এই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা।

সকল স্তরের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করবে তাই আমাদের প্রয়োজন এমন সকল কর্মসূচি যাতে আরো বেশি জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। তিনি সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতেও যখন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নরূপে স্বৈরাচারদের আবির্ভাব হয়েছিল তখন আপনারাই অনেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আজও সেই দু:সময় এসেছে, দেশের মানুষ আপনাদের সেই অতীতের মতো ভুমিকা কামনা করে। আমাদের সকলকে দেশনেত্রীর একটি নির্দেশ এবং উপদেশ মনে রাখতে হবে তা হলো আমার যেন কারো পাতা ফাঁদে পা না দেই। আমরা যে কর্মসূচি নেবো তা দেশ ও দেশের মানুষের কথা, দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেবো। তারেক রহমান গনমানুষের প্রানপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে অবিলম্বে জনগনের মাঝে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,আসুন আমরা সকলেই নতুন করে শপথ নেই যে, আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হোক এই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে আটকাতে গিয়ে আ’লীগই আটকে গেছে: ঘুরে যাচ্ছে সুর

একথা সবাই বলছেন, বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ায় তাঁর পপুলারিটি আরও বেড়েছে। জনমত বিএনপির দিকেই গেছে। জনগনের মতামত দেখে হতাশ হয়ে পড়ছে সরকার।

সরকারের আশাভঙ্গ
সরকার ধেরেই নিয়েছিল, সাজা দিলে বিএনপি হরতাল অবরোধে যাবে, তখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসাবে আবার প্রতিষ্ঠা করা যাবে। কিন্তু রায়ের পরে বিএনপি প্রধান সেদিকে যেতে নিষেধ করায় হতাশ হয়েছে লীগ। বিএনপির কৌশল নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছে আওয়ামীলীগ।
খালেদা জিয়াকে যেভাবে জেলে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারন মানুষ খুব সহজভাবেই বলছে- মামলার রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনাই তাঁকে জেলে পুরেছে। মাত্র ২ কোটি টাকার মামলাকে কোনো ভাবেই দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না, এত অল্প টাকার দুর্নীতি খালেদা জিয়া করতে পারেন। তাছাড়া ২ কোটি টাকা ব্যাংকেই আছে, যা এখন ৬ কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। তাহলে এতিমের টাকা মারলো কিভাবে? তাছাড়া ব্যাপক ভাবে প্রচার পেয়েছে যে, ভুয়া নথি বানিয়ে এই মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা চুরির অপবাদ দিতে, কিন্তু মানুষ মনে করে সরকারই অন্যায় ভাবে এই রায় দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে জেলে নিলেই বিএনপি ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু, সেটা উল্টো হয়েছে- বিএনপি আরও শক্তিশালি হয়েছে। দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে খালেদা জিয়া যতগুলি মিটিং করেছেন, যেভাবে দল গুছিয়েছেন, তাতে অা’লীগ এখন মনে করছে,  বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে বরং উপকারই হয়ে গেছে।

সরকারে উল্টোসূর
পাবিলিক সেন্টিমেন্ট এভাবে আ;লীগের বিপরীতে যাওয়ার বিষয়টি অনেকে বুঝতে পেরে উচ্ছাস মিলিয়ে গিয়ে উল্টো সুর ধরেছেন। অতি উৎসাহী নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এখন বলছেন, রায়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নাই, এটা বিচারিক বিষয়। মোহাম্মদ নাসিম বলছেন, আমরা কাউকে বাদ দিয়ে ইলেকশন করতে চাই না। আইনমন্ত্রীর ভাষাও নরম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথমে উৎসাহ দেখালেও এখন বলছেন ভিন্ন কথা-  নিজ দলের  নেতাকর্মীদের বলবো, এ নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই। মারামারি, লাফালাফি, দাপাদাপির কোন প্রয়োজন নেই।

শিক্ষাবিদদের মন্তব্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী বলেন, জনগণ মনে করে এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ মামলা হয়েছিল। বর্তমান প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তখন ১৫টি মামলা হয়েছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সব ক’টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও শত শত মামলা হয়েছিল এবং তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আণ্ডাবাচ্চা দিয়ে এ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল মনে করেন, এ কারাদণ্ড বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মনোযোগে খালেদা
গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তিক্ষè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ শতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দী খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।

আওয়ামী লীগের অনেকেই বিরক্ত
রাস্তাঘাটে সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট সবই আ’লীগের বিরুদ্ধে গেছে। এমনকি অনেক আওয়ামী লীগার যারা ভদ্র তারা পর্যন্ত বলে এই মামলা ভুয়া এবং উনাকে এভাবে জেলে দেয়া উচিৎ হয় নাই। অনেকেই এখন আওয়ামীলীগ ত্যাগ করতেছে বিভিন্ন জায়গাতে। গতকাল মুগদা থানার যুবলীগ সভাপতি, সাধারণ সেক্রেটারি সহ অনেকেই ভিডিও করে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে দল ত্যাগ করেছে। সে নিজেই বলে আমি এক সন্ত্রাসী দেখি কে আমার কি ছিড়তে পারে!

কূটনীতিক চ্যানেল
জেলে ভয়হীন আত্মবিশ্বাসী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খবর শুনে সরকারী মহল ভেবে পাচ্ছে না – কি থেকে কি হয়ে গেলো। তাছাড়া, বাসা থেকে ব্যাগ গুছিয়ে কাজের মেয়ে সাথে করে খালেদা জিয়া কোর্টে আসায় সরকার এখন মনে করছে কোনো ডিপ্লোমেটিক হাই চ্যানেল রায়ের খবরটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে। হতে পারে তারাই বেগম জিয়ার ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকের ধারণা , খালেদা জিয়া জামিন নিয়ে সহসাই জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন ভিন্ন উচ্চতায় – অনেকটা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বের হবার পরে শেখ মুজিবের মত ইমেজ নিয়ে।

Content Protection by DMCA.com
1 24 25 26 27 28 30