ZIA ORPHANAGE CASE: Judge still correcting verdict: এখনও রায় সংশোধন করছেন জজ!

The judge continued revising and correcting till Monday the verdict pronounced on February 8 sentencing Bangladesh Nationalist Party to imprisonment for five years in Zia Orphanage Trust case.

Khaleda’s lawyer Aminul Islam told New Age that he was informed by the court officials that the verdict was still being corrected by the judge.
He said that Khaleda awaiting the certified copy of the verdict to appeal against it.

Aminul said that Kaleda’s lawyer Sanaullah Mia on Monday submitted stamps of Tk 5,000 and relevant papers to the trial court’s copying department for getting the certified copy.

On February 8, Dhaka special court 5’s judge Md Akhteruzzaman read out the operative part of a 632-page verdict.

Anti-Corruption Commission prosecutor Mosharraf Hossain Kazal said that it would take time to write and type the 632-page verdict before issuing the certified copy.

He said that the commission was not in a hurry to get the certified copy.
Former district judge and Supreme Court registrar Ikteder Ahmed told New Age that the full verdict must be read out in open court and it has to be signed in open court, according to Section 369 of the Code of Criminal Procedure.

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করার ৫ দিন অতিবাহিত হতে চলল, অথচ এখনও জজ সাহেবনাকি রায় সংশোধন করছেন! প্রশ্ন হলো, এই রায় কি অন্যের লেখা? উনি কি আগে রায় দেখেন নি?

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার প্রতি চরম নিষ্ঠুর অবিচারের কাঁদছে বাংলাদেশ “ম্যাডাম’ থেকে ‘মা’ হয়ে উঠেছেন প্রাণে প্রাণে

বিশেষ প্রতিনিধি।।
বিচারের নামে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার কোপানলে এক চরম নিষ্ঠুর অবিচারের শিকার হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপরসন তিন বারের প্রথানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রতি করা হচ্ছে ভয়াবহ নজিরবিহীন অমানবিক আচরণ। জনমানবহীন এক নির্জন কারাগারের এক ভুতুরে পরিবেশের মধ্যে একটি স্যাঁতস্যাঁতে ভবনেই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ রাজনীতিবিদ বেগম খালেদা জিয়াকে। একটিবারের জন্যও ভাবা হয়নি তিনি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন। এ কথাও বিবেচনা করা হয়নি তিনি ৭৩ বছর বয়স্ক একজন নারী, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়, তিনি একজন স্বামীহারা, এক সন্তানহারা মানুষ। তার স্বামী জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষক। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের উন্নয়নে অতুলনীয় ভূমিকা রেখেছেন।

পরিত্যক্ত হবার কিছুদিন আগেও এই কারাগারে অনেকের ফাঁসির দন্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর সেখানেই তাকে একাকী রাখা হয়েছে। তিনি ছাড়া একজন বন্দীও সেখানে নেই। একজন নারী হিসেবে সামান্য মর্যাদাও কী তার প্রাপ্য ছিল না? এ কী নির্দয় ব্যবহার! তিনি যেনো জামিনে বেরিয়ে আসতে না পারেন, সেজন্য এখন একটির পর একটি মিথ্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ইতোমধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। তার নামে ৩৪টি মামলাই সচল করার অপচেষ্টা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার প্রতি এই নির্মমতায় বাংলাদেশের মানুষ আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। বাংলাদেশের হৃদয়ই যেন ভেঙ্গে গেছে। মানুষের অন্তর কেঁদে উঠছে।

নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের অন্ধকার প্রকোস্টে আজ শুধু একজন ব্যক্তি খালেদা জিয়াকেই বন্দী করা হয়নি, বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। বন্দী করা হয়েছে মানুষের ভালোবাসাকে। তাঁকে কারান্তরীণ করায় দলটির নেতাকর্মীসহ দেশবাসী মর্মাহত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছেন। প্রতিটি মানুষের চোখে ভেসে উঠছে খালেদা জিয়ার নিষ্পাপ মায়াভরা মুখখানি। অনেকের চোখে ঘুম নেই। নীরবে চোখের পানি ফেলছেন। কখনোবা ডুকরে কেঁদে উঠছেন। কাঁদছে দেশবাসী। নামাজ পড়ে অনেককে হাত তুলে মোনাজাত এবং কান্নাকাটি করছে। বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে দিবালোকের মতো স্পস্ট হয়ে গেছে, খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, জাল-জালিয়াতি করে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। হাসিনা নিজেই আওয়ামীলীগের আইনজীবিদের দিয়ে দশ দিনে ছয়শত বত্রিশ পাতার রায় লিখিয়ে বিচারক ড.আখতারুজ্জানকে দিয়ে পাঠ করিয়েছে।

আদালত ঘোষিত “রং হেডেড” শেখ হাসিনা রায়ের পর তার প্রতিক্রিয়ায় চরম জিঘাংসা, ক্রুড়তা, অমানবিক, হৃদয়হীন এবং প্রতিহিংসাপরায়ন প্রকাশ করেছে। বরিশালে জনসভায় দম্ভের সঙ্গেই উচ্চারণ করেন “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” ঠিক তার পিতা শেখ মুজিব দেশপ্রেমিক সিরাজ সিকদারকে খুন করার পর চুয়াত্তর সালে সংসদে দাড়িয়ে হাসিনার মতোই দম্ভ করে বলেছিলেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার? মুজিবের মতোই হাসিনাও বিকৃত সুখ অনুভব করছেন, বন্য উল্লাসে মেতে উঠেছেন। রায় ঘোষণার আগের দিন গুলশান কার্যালয়ে প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলন করে জনগণের উদ্দেশ্য বলেছেন, ‘আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি। কোনো দুর্নীতি করেনি।’ বাংলাদেশের মানুষ তার এই কথা এক’শ ভাগ বিশ্বাস করেছে। তারা বিশ্বাস করেছে খালেদ জিয়া কোনো দুর্নীতি বা অন্যায় করেনি। নব্য ফেরাউন হাসিনার জুলুমের শিকার হয়েছেন তিনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার হয়না, অথচ মাত্র দুই কোটি টাকা নিয়ে এতো হুলুস্থুল। শেখ হাসিনার নামে ১৫ হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির পনেরটি মামলা গায়েব করে ফেলা হয়েছে এক ফুৎকারে।

জনগন সব জানে। খালেদা জিয়ার গগনচুম্বি জনপ্রিয়তায় নিদ্রাহীন হাসিনা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য করতে ক্যাঙ্গারু কোর্টকে ব্যবহার করেছে। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ মজলুমের পক্ষে। হাসিনার অবিশ্বাস্য নির্মম জুলুমের শিকার বেগম খালেদা জিয়া এখন প্রতিটি মানুষের প্রাণোৎসারিত সবটুকু সহানুভূতি, আবেগ, ভালোবাসা অকাতরে উপছে পড়ছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়া হয়ে জনগনের প্রাণাধিক প্রিয়। মানুষের জীবনে সবচেয়ে আপনজন তার মা। মাতৃমুর্তি খুব খুব শক্তিশালী। আমরা দেশকে মায়ের সম্মান দেই।আমাদের মায়েরা কষ্ট সহ্য করেন, মুখে কিছু বলেন না; হয়তো নিরবে অশ্রুপাত করেন। বেগম জিয়াকে যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে, তাতে কেবল দলের নেতাকর্মী নন, প্রতিটি বিবেকবান মানুষ তাঁকে মাতৃমুর্তি হিসাবে হৃদয়ের গহীনে গ্রথিত করছে। তাঁরা মনে করছে মা নিশ্চয় নিরবে অশ্রুপাত করছেন। মায়ের সেই অদৃশ্য কল্পিত কান্না, তাঁদের বুকে ক্রমাগত শেলের মতো বিঁধছে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অভাবনীয় ,অভুতপূর্ব জনপ্রিয়তার অনুসঙ্গে গণমানুষের কাছে প্রতিভাত হয়ে উঠেছেন একজন মাতৃমুর্তি রূপ খালেদা জিয়া। হাসিনার প্রকাশ্য জিঘাংসার মুখে পড়ার পর তিনি কর্মী সমর্থকদের কাছে “ম্যাডাম” থেকে “মা” তে উত্তীর্ন হয়েছেন। বেগম জিয়াকে আর তারা ম্যাডাম বলে ডাকেনা, “মা” বলে ডাকে। মা । দেশের মানুষ তাকে ঠাঁই দিয়েছে মায়ের আসনে। জেলবন্দী মা খালেদা জিয়ার শক্তি এখন অকল্পনীয়। অসামান্য অনন্য উজ্জ্বল মাতৃমুর্তিতে যেই উচ্চতায় বেগম জিয়া পৌঁছেছেন, পৃথিবীতে আপাতত তার ধারে কাছে আর কেউ নেই। “বন্দি আছে আমার মা, ঘরে ফিরে যাবো না’, – এই শ্লোগানের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে দেশের এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে। দলীয় কর্মীসমর্থকদের কন্ঠে বুকঝিম ভালোবাসায় উচ্চারিত এই ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে অনুরণিত হচ্ছে প্রতিটি প্রাণে প্রাণে।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে কারাগারে প্রাপ্য ডিভিশন সুবিধা না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি: আইজি প্রিজন্সকে তিরস্কার!

বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলেই কেবল পাঠাননি শেখ হাসিনা, জেলখানায় আইন মোতাবেক পাওনা ডিভিশন সুবিধাও দেয়া হয়নি। তিন দিন অযত্ন অবহেলায় রেখে আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখার উদ্দীন আহমেদ রোরবার সকালে সাংবাদিকদের বয়ান দিলেন, “কারা বিধি অনুযায়ী যারা সাংসদ তারাই ডিভিশন পান। সাবেক প্রেসিডেন্টও পান। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী পান না। ১৯৬৪ ও ২০০৬ সালের কারাবিধিতে এ রকমের বিধি রয়েছে।”

জানা গেছে আইজি প্রিজন্স সত্য বলেন নি। ২০০৬ সালের কারা বিধির ৬১৭ ৭(i)তে বলা আছে, রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ থেকে ১৮ তালিকায় কাজ করেছেন এমন ব্যক্তিরা জেলখানায় (হাজতি বা কয়েদী) ডিভিশন-১ পাইবেন। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ১ নম্বরে প্রেসিডেন্ট, ২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী, ১৩ নম্বরে আছে সংসদ সদস্য। ঐ ৬১৭ বিধির ৭ (২) ধারা অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকও ডিভিশন-১ পাইবেন। সে হিসাবে ৩টি ক্যাটাগরিকে বেগম খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ প্রাপ্য। এটা দিতে জেল কতৃপক্ষ বাধ্য। এর জন্য কোনো কোর্টে আদেশ প্রয়োজন হবে না। উল্লেখ্য ২০০৭ সালে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বেগম খালেদা জিয়া দু’জনেই এই আইনে প্রথম শ্রেণীর বন্দী হিসাবে সংসদ এলাকায় সাবজেলে রাখা হয়।

খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী, বর্তমান আইজি প্রিজন্স ইফতেখার তখন ছিলেন মেডিকেল কোরের একটা বাচ্চা ক্যাপ্টেন মাত্র, তাই তিনি হয়ত  ভুলে গেছেন, কিন্তু আইন ও বিধি তো মহা পরিদর্শকের টেবিলেই থাকে। ৫ বার সংসদ নির্বাচন করে ২৩টি নির্বাচনী এলাকা থেকে খালেদা জিয়া কোথাও না হেরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা বিশ্ব রেকর্ড। এ ছাড়াও তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী ছিলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল বিএনপির প্রধান, ৭৩ বছর বয়স্ক একজন সিনিয়র সিটিজেন- এগুলো তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও অবস্খানের পরিচায়ক, যা কারাবিধির ৬১৭তে উল্লেখ আছে। সব মিলিয়ে মোট ৬টি ক্রাইটেরিয়ার যেকোনো একটিতে খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ পাওয়ার যোগ্য।

অথচ তিন বারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আইজি প্রিজন্স সাধারন কয়েদী হিসাবে রেখেছেন তিন দিন নি রাত্রিরও বেশি। খাইয়েছেন কাকড় সহ ভাত! ৭৩ বছর বয়স্ক অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (নির্বাচন দিলে যিনি যেকোনো সময় আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন) ডিভিশন-১এর সুযোগ সু্বিধা না দিয়ে প্রিজন্স অথরিটি অমার্জনীয় অপরাধ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, আইজি প্রিজন্স কি ৬১৭ ধারা পড়েন নাই? নাকি তাহার চক্ষে (এবিএম মুসার ভাষায়) বিলাই মুতিয়াছিল?
 
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ অবৈধ সরকারের আজ্ঞাবহ একটি আদালত একটি মিথ্যা মামলায় তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দিয়ে জেলখানায় পাঠায়। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার কথিত বড় ভাই এরশাদের আগেকার দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে কেবল বানোয়টি মামলায় সাজাই দেন নাই, আইজি প্রিজন্স রাখেন নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক সেন্ট্রাল জেলের পরিত্যাক্ত ভবনে! ঐ ভবন এখন আর জেলখানা নয়, বরং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত পাবলিক প্লেস। খালেদা জিয়াকে ঐ পরিত্যক্ত ভবনে বন্দী করার আগে সেটিকে জেলখানা ঘোষণা করে গেজেট জারী করা হয়নি। এটি একটি মারাত্মক ব্যত্যয়। ঐ জরাজীর্ণ ভবনে আর কোনো বন্দী নাই। ওটি এখন আর কোনো সরকারী জেল নয়, বরং প্রাইভেট বন্দীশালা। ২’শ বছরের প্রাচীন এ ভবনে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখা হয়েছে কি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে? হয় তাঁকে ভয় দেয়া, অথবা ভবন ধসে হত্যা করার উদ্দেশ্য নয় তো?

জেল কতৃপক্ষের এহেন অন্যায় অত্যাচারের খবর প্রকাশ হওয়ার পরে সামাজিক মাধ্যম জুড়ে আইজি প্রিজন্সকে তুলোধানা করা হয়েছে। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে- “আপনি কি মানুষ? নাকি জানোয়ার? আপনাকে এখন কি করা উচিত? এই দায়িত্বহীনতার জন্য আপনাকে এখনি চাকরিচ্যূত বা রিজাইন করতে বলা কি কম হবে? লজ্জা থাকলে আপনি পদত্যাগ করবেন”।

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবিরা শুক্রবার শনিবার ২দিন আইজি প্রিজন্সের অফিসে দৌড়াদৌড়ি করেছে ডিভিশনের দরখাস্ত নিয়া, যাতে তাঁকে ডিভিশন-১ নিশ্চিতভাবে দেয়া হয়, যদিও দরখাস্ত দেয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আইজি প্রিজন্স তার অফিসের সব গেট বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাহিনী দিয়ে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন! সাধারন জনগনের প্রশ্ন – আইজি প্রিজন্স কোনো করেছিলেন ঐ কম্ম ? এটা কি আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার ইফতেখারের ঘাড়ে সোর্ড এবং বল্টু আছে, তাই? ওগুলো যেদিন খসে যাবে সেদিন তার কি উপায় হবে?

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে দ্রুত সাজা দিতে ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লিখে দিয়েছে কে?

বিশেষ প্রতিবেদক ।।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট  মামলায় ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে বিচারক ড.আখতারুজ্জামান। একজন মানুষ কিভাবে মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্টার রায় লিখলো তা নিয়ে সারাদেশে সচেতন মহলে চলছে রীতিমত তোলপাড়। ড. আখতারুজ্জামান কি জ্বিন ভুত নাকি মানুষ? মানুষের পক্ষে এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রশ্ন তুলেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। মাত্র ১০ দিনে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায় লেখা নিয়ে শেখ হাসিনা, জজ আখতারুজ্জামান এবং আইনমন্ত্রি আনিসুল হক পড়েছেন মহাবিপাকে। আইনমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে চলছেন।

নামে না প্রকাশ করার শর্তে জজ কোর্টের একজন বিচারক জানান, সাধারনত একজন পেশাদার কম্পোজার স্পস্ট ড্রাফট লিখা থাকলে প্রতি পেইজ বাংলা টাইপ করতে সময় লাগে কমপক্ষে ১০-১১ মিনিট, আর ইংরেজি হলে ৭-৮ মিনিট। প্রতি পৃষ্ঠা ড্রাফট করতে হাতে লিখলে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট (দুই হতে তিন পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট কম্পিউটার কম্পোজে এক পৃষ্ঠা হয়)। ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের হাতে লিখা ড্রাফট করে থাকলে তার জন্য হাতে লিখা পৃষ্ঠা হলো ৬৩২x২.৫ ( গডে ২.৫ পৃষ্ঠা হাতে লিখা কম্পোজে ১ পৃষ্ঠা হবে) = ১৫৮০ পৃষ্ঠা। প্রতি পৃষ্ঠা হাতে লিখতে গড়ে ১০ মিনিট লাগবে, কারন রায়টা পরীক্ষার হলে মুখস্ত রচনা নয়। সেই হিসাবে ১৫৮০ পৃষ্ঠা হাতে লিখা ড্রাফট করতে সময় লাগবে ১৫৮০০ মিনিট বা ২৬৪ ঘন্টা বা ৩২ কার্য দিন ( প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে)। আর ১৫৮০ পৃষ্ঠা কম্পোজ করতে ( ৬৩২ হবে) সময় লাগবে বাংলা হলে ৬৩২০ মিনিট বা ১০৫ ঘন্টা বা ১৩ কার্যদিবস। আখতারুজ্জামান হাতে নিয়েছিল ১০ দিন। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কোন লেবারও কাজ করে না। তারও ৫+৩০+৫ মিনিট ব্রেক থাকে ৮ ঘন্টা কাজে এবং ধর্ম কর্ম ও প্রাকৃতিক কাজেও চলে যায় ৩০/৩৫ মি। সেমতে এ রায় লিখার সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘন্টা ব্যয় করা সম্ভব। রায় লিখতে সময় লাগবে ইংরেজী ড্রাফট না করে সরাসরি কম্পোজ করলে ১৭/১৮ দিন আর বাংলায় সরাসরি কম্পোজ করলে ২৫/২৬ দিন। আর যদি কম্পোজ এর পুর্বে ড্রাফট করা হয়ে থাকে তবে আরও চল্লিশ দিন যোগ করতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সাবেক বিতর্কিত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ওরফে কালা মানিক , আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারপ্রাপ্ত আইন সচিব আওয়ামীলীগ নেতা পিস্তল দুলাল ও তাদের লোকজন শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরন করে এই রায় লিখে দিয়েছে। পুরো বিষয়টি তদারকি করেছেন হাসিনার অতি বিশ্বস্ত আইনজীবি আজমালুল হক কিউসি। রায়ের বিস্তারিত বিবরন আখতারুজ্জান নিজেও জানে না। সে শুধু ফরমায়েশী রায়ের সারাংশটুকু পড়েছে। পুরো রায় তার হাতে লেখা নয়।

রায়ের প্রিন্ট নেয়া হয়েছে গণভবন থেকে। রায় ঘোষণা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারন্তরীণ করার পরে এখন সার্টিফাইট কপি সরবরাহ নিয়ে টালবাহানা করছে সরকার। জানা গেছে, দ্রুত রায় ঘোষনা করার জন্য হাসিনার কড়া নির্দেশ পেয়েই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক কালা মানিক, পিস্তল দুলাল এবং আওয়ালীগের কয়েকজন জজকে কাজের দায়িত্ব দিয়ে তদারকী শুরু করে। আনিসুল হকের ব্রিফিং পেয়ে ফরমায়েশী লেখা শুরু করে তারা। এই কুখ্যাত রায়ে ছত্রে ছত্রে মিথ্যা দিয়ে ভরা।

রায় ঘোষণা দেওয়ার আগেই সংক্ষুব্ধদের হামলার আংশংকায় জজ আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে বিশেষ নিরাপত্তা বিসিয়েছে সরকার। রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়ায়  আখতারুজ্জামানের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একজন এসআইসহ চার সদস্য বুধবার থেকে সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন। এ ছাড়া একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এক প্লাটুন বিজিবি এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ওই বাড়িতে বিচারকের মা মোছা. মরিয়ম খাতুন, এক ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করেন।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে জনগনের মাঝে দ্রুত ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান : যৌথসভায় তারেক রহমান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে সভাপতির বক্তব্য প্রদান 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকল স্তরের ঐক্য আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করে গণতন্ত্র,মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা এবং প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জনগনের মাঝে দ্রুত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে জনগনের অংশগ্রহনমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, উপদেষ্টা, ভাইস চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম মহাসচিব বৃন্দের সভায় সভাপতি হিসাবে লন্ডন থেকে টেলিকনফারেন্সে তারেক রহমান এই আহবান জানান। এ সময় চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ার ম্যন্য রাখা হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর তারেক রহমান এই প্রথম দলের গুরুত্বপূর্ণ সভায় বক্তব্য রাখলেন। তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জাতি নিয়ে আমাদের গৌরব করার মতো অনেক বিষয় আছে। যেমন এই দেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঠিক একইভাবে স্বাধীনতার পর বিগত বছরগুলোতে যখনি জাতির ঘাড়ে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তখনি আপনারা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে শরিক ছিলেন। আজ আমাদেরকে আবারো দেশ ও জাতির প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক স্বাধীনতার অধিকার, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কিন্তু এর জন্য প্রথমেই আমাদের দলের সকল পর্যায়ের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করা প্রয়োজন। যেহেতু বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের শক্তিতে, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস্য, তাই আমাদেরকে আরো কাছে যেতে হবে জনগণের, তাই আমাদের প্রয়োজন এমন সকল কর্মসূচি যাতে আরো বেশি জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে।

“খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে গণতন্ত্রকে বন্দি করা”এই কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন,আজ এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, আজ আপনাদের এই উপস্থিতিতে সকল স্তরের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করবে। আপনারা যারা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যা দেশ জাতি এবং দলকে দেবে দিক নির্দেশনা। এ অবৈধ সরকার দেশ ও জাতির সবচাইতে প্রিয় নেতা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অজুহাতে বন্দি করে রেখেছে। আজ খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে গণতন্ত্রকে বন্দি করা, আজ খালেদা জিয়াকে বন্দি করা মানে মানুষের বাক স্বাধীনতাকে বন্দি করা।

তারেক রহমান স্বৈরাচার নিপিড়িত দেশের সকলকে নতুন করে শপথ গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন,আসুন আমরা সকলেই নতুন করে শপথ নেই যে, আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হোক এই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা।

সকল স্তরের ঐক্যকে আরো দৃঢ়, আরো মজবুত করবে তাই আমাদের প্রয়োজন এমন সকল কর্মসূচি যাতে আরো বেশি জনগণের অংশগ্রহণ থাকবে। তিনি সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, অতীতেও যখন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নরূপে স্বৈরাচারদের আবির্ভাব হয়েছিল তখন আপনারাই অনেকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণকে সাথে নিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ফিরিয়ে এনেছিলেন। আজও সেই দু:সময় এসেছে, দেশের মানুষ আপনাদের সেই অতীতের মতো ভুমিকা কামনা করে। আমাদের সকলকে দেশনেত্রীর একটি নির্দেশ এবং উপদেশ মনে রাখতে হবে তা হলো আমার যেন কারো পাতা ফাঁদে পা না দেই। আমরা যে কর্মসূচি নেবো তা দেশ ও দেশের মানুষের কথা, দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই নেবো। তারেক রহমান গনমানুষের প্রানপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে অবিলম্বে জনগনের মাঝে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,আসুন আমরা সকলেই নতুন করে শপথ নেই যে, আমাদের রাজনীতির অন্যতম মূল লক্ষ্য হোক এই দেশে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক মানুষের অধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা, আমাদের লক্ষ্য হোক আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে আবারো আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনা।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়াকে আটকাতে গিয়ে আ’লীগই আটকে গেছে: ঘুরে যাচ্ছে সুর

একথা সবাই বলছেন, বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে নেয়ায় তাঁর পপুলারিটি আরও বেড়েছে। জনমত বিএনপির দিকেই গেছে। জনগনের মতামত দেখে হতাশ হয়ে পড়ছে সরকার।

সরকারের আশাভঙ্গ
সরকার ধেরেই নিয়েছিল, সাজা দিলে বিএনপি হরতাল অবরোধে যাবে, তখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসাবে আবার প্রতিষ্ঠা করা যাবে। কিন্তু রায়ের পরে বিএনপি প্রধান সেদিকে যেতে নিষেধ করায় হতাশ হয়েছে লীগ। বিএনপির কৌশল নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছে আওয়ামীলীগ।
খালেদা জিয়াকে যেভাবে জেলে নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে সাধারন মানুষ খুব সহজভাবেই বলছে- মামলার রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনাই তাঁকে জেলে পুরেছে। মাত্র ২ কোটি টাকার মামলাকে কোনো ভাবেই দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না, এত অল্প টাকার দুর্নীতি খালেদা জিয়া করতে পারেন। তাছাড়া ২ কোটি টাকা ব্যাংকেই আছে, যা এখন ৬ কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। তাহলে এতিমের টাকা মারলো কিভাবে? তাছাড়া ব্যাপক ভাবে প্রচার পেয়েছে যে, ভুয়া নথি বানিয়ে এই মামলায় রায় দেয়া হয়েছে। সরকার চেয়েছিল খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা চুরির অপবাদ দিতে, কিন্তু মানুষ মনে করে সরকারই অন্যায় ভাবে এই রায় দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকার ভেবেছিল খালেদা জিয়াকে জেলে নিলেই বিএনপি ভেঙ্গে যাবে। কিন্তু, সেটা উল্টো হয়েছে- বিএনপি আরও শক্তিশালি হয়েছে। দ্বিধাদ্বন্দ ভুলে একতাবদ্ধ হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে খালেদা জিয়া যতগুলি মিটিং করেছেন, যেভাবে দল গুছিয়েছেন, তাতে অা’লীগ এখন মনে করছে,  বিএনপির ক্ষতি করতে গিয়ে বরং উপকারই হয়ে গেছে।

সরকারে উল্টোসূর
পাবিলিক সেন্টিমেন্ট এভাবে আ;লীগের বিপরীতে যাওয়ার বিষয়টি অনেকে বুঝতে পেরে উচ্ছাস মিলিয়ে গিয়ে উল্টো সুর ধরেছেন। অতি উৎসাহী নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এখন বলছেন, রায়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নাই, এটা বিচারিক বিষয়। মোহাম্মদ নাসিম বলছেন, আমরা কাউকে বাদ দিয়ে ইলেকশন করতে চাই না। আইনমন্ত্রীর ভাষাও নরম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রথমে উৎসাহ দেখালেও এখন বলছেন ভিন্ন কথা-  নিজ দলের  নেতাকর্মীদের বলবো, এ নিয়ে উচ্ছসিত হওয়ার কিছু নেই। মারামারি, লাফালাফি, দাপাদাপির কোন প্রয়োজন নেই।

শিক্ষাবিদদের মন্তব্য
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক দিলারা জামান চৌধুরী বলেন, জনগণ মনে করে এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এ মামলা হয়েছিল। বর্তমান প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তখন ১৫টি মামলা হয়েছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর সব ক’টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও শত শত মামলা হয়েছিল এবং তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আণ্ডাবাচ্চা দিয়ে এ পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, মানুষ মনে করে বেগম খালেদা জিয়ার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার জন্যই এ মামলা এ পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিকভাবে দুর্নীতির মামলায় কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তাদের জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। আইউব খানের আমলে রাজনৈতিক মামলায় ৩০৩ ধারায় যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল তারা পরে সমাজে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করেছে। বর্তমান সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিনের পিতাকেও আইউব খানের সময় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল মনে করেন, এ কারাদণ্ড বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মনোযোগে খালেদা
গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তিক্ষè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ শতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দী খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।

আওয়ামী লীগের অনেকেই বিরক্ত
রাস্তাঘাটে সাধারন মানুষের সেন্টিমেন্ট সবই আ’লীগের বিরুদ্ধে গেছে। এমনকি অনেক আওয়ামী লীগার যারা ভদ্র তারা পর্যন্ত বলে এই মামলা ভুয়া এবং উনাকে এভাবে জেলে দেয়া উচিৎ হয় নাই। অনেকেই এখন আওয়ামীলীগ ত্যাগ করতেছে বিভিন্ন জায়গাতে। গতকাল মুগদা থানার যুবলীগ সভাপতি, সাধারণ সেক্রেটারি সহ অনেকেই ভিডিও করে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে দল ত্যাগ করেছে। সে নিজেই বলে আমি এক সন্ত্রাসী দেখি কে আমার কি ছিড়তে পারে!

কূটনীতিক চ্যানেল
জেলে ভয়হীন আত্মবিশ্বাসী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার খবর শুনে সরকারী মহল ভেবে পাচ্ছে না – কি থেকে কি হয়ে গেলো। তাছাড়া, বাসা থেকে ব্যাগ গুছিয়ে কাজের মেয়ে সাথে করে খালেদা জিয়া কোর্টে আসায় সরকার এখন মনে করছে কোনো ডিপ্লোমেটিক হাই চ্যানেল রায়ের খবরটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে। হতে পারে তারাই বেগম জিয়ার ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকের ধারণা , খালেদা জিয়া জামিন নিয়ে সহসাই জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন ভিন্ন উচ্চতায় – অনেকটা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বের হবার পরে শেখ মুজিবের মত ইমেজ নিয়ে।

Content Protection by DMCA.com

হাসিনার বিরুদ্ধে সেই আলোচিত দূর্নীতির মামলাগুলো জানুন !

১ টাকাও খরচ হলো না, অথচ দুর্নীতিবাজ বানানো হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে! জনগন কি এটা মেনে নিবে? এই রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। আরো আগে থেকেই তিনি বলে আসছেন এতিমের টাকা চুরির দায়ে শাস্তি দিবেন, তার মন্ত্রীরা সাজা ঘোষণা করেছেন বার বার। আর সেটা করার জন্যই দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পদচ্যুত করে তিনি অধঃস্তন আদালতের বিচারকের দখল নিজের হাতে নিয়েছেন। চাইলেই যে কাউকে ইচ্ছামত সাজা শাস্তি দেয়াতে পারেন যেকেনো আদালত দিয়ে, এমনই ক্ষমতা তার!। তাই দেশের জনগন মনে করে, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চারিচার্থ করেছেন। ঢাকায় রায় প্রকাশের সাথে সাথেই বরিশালে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশে উল্লম্ফন দেখেছে জনগন, পিতারই ভাষায়- “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” একসময় তাঁর পিতাও হত্যার পরে উপহাস করে বলেছিলেন- “কোথায় এখন সিরাজ সিকদার?” এরপরে কে কোথায় গেছে, তা দেশবাসীর জানা আছে।
 
বেগম জিয়া এবং বিএনপির দিকে তাকিয়ে আজ যারা ভ্রুকুটি করছেন, তাদের মনে রাখা দরকার- ১৯৬০ সালে দুর্নীতি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানও দু’বছর কারাদন্ড ভোগ করেছিলেন, এমনকি ডাকাতি মামলায়ও তিনি জেলে ছিলেন! দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলাও জেলে ছিলেন ২৭ বছর। সাম্প্রতিককালে মইন-ফখরের আমলে রাজনৈতিক কারনে এক বছর করে জেলে ছিলেন বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনা দু’জনেই। আসলে বাংলাদেশের সমস্যা জেল বা আদালত নয়, সমস্যা হলো নষ্ট রাজনীতি।
 
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অনাসৃষ্টির পরে বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিল রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে শান্তি আসবে। তবে গতকালের এই হুকুমি রায়ে পরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে- অবৈধ সরকার আদালতের ঘাড়ে বসে দেশ চালাচ্ছে, ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছে। দেশে আবার মারামারি কাটাকাটি হবে। শাস্তি স্বস্তি আর এলো না। একটা দেশ উপরে উঠতে গেলে রাজনৈতিক ঐক্য এবং সংহতির দরকার হয়। দক্ষিণ অফ্রিকায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরে শান্তি চুক্তি করে নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে নেয় কৃষ্ণাঙ্গ শেতাঙ্গরা।
 
৯০এর গণআন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের যে বিজয় সূচিত হয়েছিল, তা ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন ঝড়ে মুখ থুবরে পড়ে। নির্বাচন গণতন্ত্রের স্থান দখল করে নেয় হাসিনার ভোটবিহীন সরকার ব্যবস্থা। ২০০৮ সালে তৈরী করা ফলাফলের নির্বাচনে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা, এরপরে ২০১৪ সালে বিনাভোটের নির্বাচনে মাস্টাররোল করে এমপি নিয়োগ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করে গুম খুন দুর্নীতির ভূস্বর্গে পরিণত করেছে! যেহেতু ক্ষমতার জন্য ভোট দরকার নাই, তাই জনগনের কাছে জবাবদিহিতাও নাই, ফলে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে ৫/১০ গুণ খরচে উন্নয়নের বিলবোর্ড ডেমোনেস্ট্রেশন হচ্ছে। বাস্তবে রাস্তাঘাট নষ্ট, যোগাযোগ ব্যবস্খা দুমড়ে মুচড়ে দেশের অবস্থা জবুথবু, অথচ রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় অর্ধেকটা মহাদুর্নীতি করে পাচার করছে বিদেশে। কার্যকর কোনো বিরোধী দল না থাকায় অবৈধ ক্ষমতাসীনরা খুন লুটপাটের রাজনীতি চালু করেছে। মানুষ আশা করেছিল শীঘ্রই দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
 
কিন্তু ক্ষমতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল বানোয়াট দুর্নীতির মামলায় জেলে নেয়া হলো, যেখানে কোনো অর্থই খরচ হয়নি। মিথ্যা সাক্ষী ও ঘষামাজা কাগজ দিয়ে নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে মূলত গণতন্ত্রকে জেলে পাঠালেন শেখ হাসিনা।
 
বশংবদ জজের রায়ে সরকারী দল উল্লম্ফন করে অথচ, তখন জনগন দেখতে পায় অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেবিনেট, দলবল, ও স্বজনদের লক্ষ কোটি টাকার মহাদুর্নীতির কোনো বিচার হয় না, কোনো আদালতে অভিযোগ দায়ের করে না দুদক! এরূপ কয়েকটি খাত:
 
১) ২০১০-১১ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লুট করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো হয়েছে। এসব লুটপাটকারীদের বিচার তো হয়ই নি, বরং কাউকে কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করেছেন হাসিনা!

২) বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লোপট করে দিয়েছে শেখ হাসিনার আত্মীয় বাচ্চু শেখ! কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। বরং মোলায়েমভাবে অনুসন্ধান নাটক চলছে।

৩) সরকারী দলের স্তাবক আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে ৫৪০০ কোটি টাকা সরিয়েছে! অর্থমন্ত্রীর স্বীকারেক্তি।

৪) হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মোদাচ্ছের ৪০০০ কোটি টাকা লুট করার পরে অর্থমন্ত্রী বলেন- এটা এমন কোনো টাকাই না!

৫) ফার্মার্স ব্যাংক খেয়ে ফেলেছে মখা আলমগীর এবং মুনতাসির মামুনরা, যার মধ্যে পাবলিকের টাকা তো আছেই রাষ্ট্রীয় জলবায়ু খাতের ৫০৮ কোটি টাকাও নাই!

৬) ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, যার সাথে জড়িত শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা!

৭) বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১২০০ কোটি টাকা লোপাটের সাথে সরকারী দলের লোকেরা জড়িত!

৮) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরির সাথে জড়িত খোদ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকজন জড়িত, তাই দু’বছরে কোনো মামলা হয় না, কেউ জেলে যায় না।

৯) এমনভাবে লুটপাট করেছে যে দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখন দেউলিয়া করে ফেলেছে- সরকারী দলের অর্থনীতিবিদের ভাষ্য। এসকল দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীরা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র নিজেও বেনিফিশিয়ারী। যার কারনে কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়নি।
ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রীয় খাতে দেশী বিভিন্ন প্রকল্পের মুল্য পাঁচ-দশগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক প্রাক্কলন বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে টাকা সরানো হয়।
১০) দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার প্রাক্কালন বর্তমানে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ।
১১) ভারত ও চীনে যেখানে মহাসড়ক নির্মানে খরচ কিলোমিটার সাড়ে ১০ কোটি টাকা, ইউরোপে সর্বোচ্চে ২৯ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ছয়টি প্রকল্পের কিলোমিটার প্রতি খরচ কছে ৫৪ কোটি টাকা। এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট।
১২) ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় কিলোমিটারপ্রতি ঠেকেছে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। তার মানে ইউরোপেরও ৫ গুণ।
১৩) বিএনপির রেখে যাওয়া ৭৮৮ কোটি টাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারটি আ’লীগ নির্মাণে ব্যয় করেছে ২৪০০ কোটি টাকায়, কিলোমিটার প্রতি ব্যয় প্রায় ২১১ কোটি টাকা, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল!
১৪) প্রধান মন্ত্রীর ছোটবোনের ইচ্ছায় বৃটেনের ভুয়া কোম্পানী ডিপি রেলকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানের কাজ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকাই চুরি হবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৫) যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ হাজার কোটি টাকায় করা সম্ভব, তা করা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকায়।
১৬) পত্র পত্রিকা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের খবর বের হয়েছে যেখানে কেবল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী খাতের দুর্নীতির পরিমান ৭৬,০০০ কোটি টাকা।
১৭) ভিওআইপি খাত থেকে ৯৫০০ কোটি টাকার লুটপাটের খবর।
১৮) আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া থেকে কমিশন নিয়েছে ৫৩০০ কোটি টাকা।
১৯) আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ হাতিয়ে নিয়েছে ২৩৮০ কোটি টাকা।
২০) এটুআই প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতি ১১,৫৬০ কোটি টাকা।
২১) পদ্মা সেতুর খরচ তিন গুণ বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না।
২২) এভাবে বড় বড় প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে ৩/৫/১০ গুণ খরচ বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে।
 
জিএফআই’র প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রিপোর্ট বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালে পাচারের পরিমান ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে পাচার হয় ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব দুর্নীতি লুটপাটের কোনো মামলা নাই, বিচার হয় না। বোন এবং পুত্রের ২০-২৫ ভাগ কমিশন নেয়ার কাহিনী লন্ডন আমেরিকায় মুখে মুখে।
 
২৩) ২০০৮ সালের নির্বাচন অবধি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছিলো। এর মধ্যে ১৩ টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৮৮ টাকার দুর্নীতি/অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া একটি ছিল খুনের মামলা, আরেকটি সেনানিবাসে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা। এর মধ্যে কেবল ৪টি মামলায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তিনি ছিলেন প্যারোলে। তবে কোনো মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি!! প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে খুব দ্রুতই তিনি সবগুলো মামলা তুলে নিয়েছেন। ১৫টি মামলার ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেয়া হয় ৯টি মামলা। ২০১০ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু করে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র তিন মাসেই ৯টি দুর্নীতি মামলা বাতিল করে হাইকোটের দুটি বেঞ্চ। ঐ দুটি বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন মো. শামসুল হুদা, আবু বকর সিদ্দিকী, এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বোরহান উদ্দিন। হাসিনার বিরুদ্ধে যে সমস্ত দূর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তার মধ্যে একটি হলো নাইকো দুর্নীতি মামলা, যাতে হাসিনার নামে ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি/দুর্নীতির অভিযোগের মামলা তুলে নেয় হয়, অথচ একই অভিযোগে খালেদা জিয়ার নামে মামলা এখন বিচারাধীন!
 
২৪) বেপজায় পরামর্শক নিয়োগে ২ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৮৮ টাকার দুর্নীতি মামলাটি ২০০২ সালের ২ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। পরে ৩০ মে ২০১০ মামলাটি বাতিল করে শেখ হাসিনার সরকার।
 
২৫) শেখ হাসিনার নামে কোরিয়ান পুরাতন ফ্রিগেট ক্রয় করে ৪৪৭কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ১৮ মে ২০১০ বাতিল করে।
 
২৬) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবৈধভাবে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ আবুল হোসেন সহ অন্যান্যদের নামে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২২ এপ্রিল ২০১০ শেখ হাসিনার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বাতিল করে।
 
২৭) খুলনায় ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মোনের অনুমতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার মামলাটি ১৩ এপ্রিল ২০১০ বাতিল করে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। ৮টি চেক/পে অর্ডারের মাধ্যমে সামিট গ্রুপের মোহাম্মদ আজিজ খান শেখ হাসিনাকে ৩ কোটি টাকা প্রদান করে, যার দ্বারা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের জন্য দোতলা বাড়ি সহ ১৯.১১ কাঠা জমি কেনা হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠনের পরে বিশেষ জজ আদালতে মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশে নির্বাচনের আবহ উঠলে সেনা সমর্থিত সরকার আপোষরফা করে মামলার গতি শ্লথ হয়ে যায়। ওবায়দুল কাদের দাবী করেন, “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের তুলনা করা ঠিক না। কারণ বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নিজস্ব উদ্যোগে। এটা কারো দান বা অনুদান নয়!”
 
২৮) ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ৯ মার্চ ২০১০ বাতিল করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। ২০ আগষ্ট ২০০৮ শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের সময়ে নূর আলী স্বীকার করেছিলেন, এই মিগ কেনা বাবদ তিনি ১২ মিলিয়ন ডলার কমিশন লাভ করেন, যা শেখ হাসিনা সহ অন্যরা ভোগ করে। এই মামলাটি হাইকোর্ট দিয়ে কোয়াশ করা হয়, যদিও এর আগে আপিলেট ডিভিশন এই মামলার কোয়াশমেন্ট পিটিশন নাকচ করে নিম্ন আদালতে চলার বৈধতা দেয়। হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ কি আর পরে ঐ মামলাটি কোয়াশ করার এখতিয়ার রাখে?
 
২৯) ৪ মার্চ ২০১০ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহানউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরমধ্যে একটি বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে ৫২ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা।
 
৩০) নূর আলীর নিকট থেকে ৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি ১৩ জুন ২০০৭ দায়ের করা হয়। ৮ জুন ১৯৯৭ থেকে ২০ মে ১৯৯৯ তারিখের মধ্যে ১২টি চেকের মাধ্যমে নুর আলী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা দেন হাসিনাকে, যাতে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদের আইটি অফিসের জন্য পান্থপথের ইউটিসি বিল্ডিংয়ে ৫৩৮৮ বর্গফুটের একটি ফ্লোরের অর্ধেক উপঢৌকন দেন।
 
৩১) কাজী তাজুল ইসলামের নিকট থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি বাতিল করা হয় ৪ জানুয়ারী ২০০৯। ১০ এপ্রিল ২০০৭ দায়ের করা এই মামলায় বলা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার কোম্পানীর চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা নগদ ৩ কোটি টাকার ঘুস নেন নগদ। ৮ আগষ্ট ১৯৯৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে গিয়ে দু’টি সুটকেসে ভরে ৫০০ টাকা নোটের ৬০০ বান্ডেলে ৩ কোটি টাকা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন তাজুল। ২০০৯ সালে কেবল মামলাটি বাতিল করা হয়নি, বরং বছর দু’য়েক আগে তাজুল ইসলাম রহস্যজনক গাড়িচাপায় মারা যান।
 
৩২) টুঙ্গিপাড়ায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ দূর্নীতি ৪১.৮৪ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাটি ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রত্যাহার করার জন্য দুদককে সরকার চিঠি দেয়।
 
৩৩) আজম জে চৌধুরীর নিকট থেকে ৮টি চেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে এই মামলাটি শেখ হাসিনার দুর্নীতির সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমান। অথচ এটি ১৭ মে ২০০৯ প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ১৩ জুন ২০০৭ তারিখে ইস্ট কোস্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজম জে চৌধুরী মামলা দায়ের করেন। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ অভিযোগ গঠন হয় এবং শেখ রেহানাকে পলাতক ঘোষণা করে তার সকল সম্পত্তি এটাচ করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর “আমাদের সময়” পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করে, “৮টি চেকে ফেঁসে যাচ্ছেন হাসিনা, রেহানা ও সেলিম: সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ১৪ বছর।” ২০০৭-২০০৮ সালে এ মামলাটির বিচার চলে বিশেষ জজ আদালতে, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলাটি রায় ঘোষনার কাছাকাছি পৌছে যায়। ইতোমধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আগে সরকারের সাথে গোপন সমঝোতার ফলে রহস্যজনক কারনে হঠাৎ মামলাটির বিচারকার্য বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৮৪, ৩৮৫ ও ৩৪ ধারায় এ অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার কথা ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড। এক পর্যায়ে বাদী আজম জে চৌধুরীকে চাপ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে শেখ সেলিম ১৬৪ ধারায় কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ সেলিমের স্বীকৃতির কথাবার্তা ইউটিউবে পাওয়া যায়। এই মামলায় হাসিনা ও সেলিমের জেল হবে টুডে অর টুমরো।
http://www.youtube.com/watch?v=xlbN1b5POww
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু সরাসরি ঘুস নেয়ার মামলা প্রধানমন্ত্রীর নামে- তাও আবার চেকের মাধ্যমে নেওয়া, যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন আর থাকে কিভাবে? দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ২ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে? এর পরে যদি দলের বড় বড় নেতারা সাফাই গান আর চিৎকার করেন, আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে মামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়!
 
নিজেদের এতগুলি দুর্নীতির খাত থাকতে, এবং এতগুলি দুর্নীতির মামলা বেআইনীভাবে প্রত্যাহার করার পরে ‘সৎ’ সেজে শেখ হাসিনা যখন বিকট চিৎকার করে- “কোথায় এখন খালেদা জিয়া?” তার ছেলে বাণী দেয়, “জেলখানাই তাদের ঠিকানা”, তখন অনেকের প্রশ্ন- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার মত কি কোনো বিচারক নাই? শোনা যাচ্ছে, কালকের পরে অনেক আখতারুজ্জামান রেডি হয়ে আছে।
 
একটা গল্প দিয়ে শেষ করি। অষ্টম শতকে আফগানিস্তানের উত্তরে বলখ রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন সুফি ইব্রাহিম আদম। তার বাসার এক গৃহ পরিচারিকা বিছানা পরিস্কারের সময় মনে হলো, এত নরম বিছানায় বাদশাহ নিশ্চয় খুব আরামে থাকেন। একটু দেখি কেমন আরাম- বুঝতে পরিচারিকা এক মিনিটের জন্য বিছানায় শুয়ে পড়লেন। বিছানা গুছিয়ে চলে যান। রাতে ঘুমাতে এসে বাদশাহ দেখেন বিছানায় একটি নারী কেশ পড়ে আছে। রাজা ক্ষেপে গিয়ে সবাইকে ডাকলেন। অবশেষ জেরার মুখে ঐ নারী পরিচারিকা স্বীকার করেন বিছানায় শোয়ার কাহিনী। বাদশাহ তাকে জেলে পুরলেন, অনেক প্রহার করার পরে ঐ পরিচারিকা এক বার কাঁদে, তো আবার হাসে। তা দেখে বাদশা প্রহার বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানতে চান, তুমি হাসছ কেনো? পরিচারিকা কি বলে- বাদশা নামদার, ভাবছি, আমি এক মিনিট আপনার এ বিছানায় শোয়ার কারনে যে শাস্তি ভোগ করছি, আপনি সারা জীবন এই বিছানায় শুয়েছেন, তার জন্য কত শাস্তি পাবেন। বাদশার বোধোদয় হলো। পরিচারিকার শাস্তি বন্ধ করলেন। আরও অনেক ঘটনার পরে বাদশা ইব্রাহিম আদম রাজত্ব ছেড়ে আধ্যাধিক সাধক হয়ে যান।
 
….এক টাকাও দুর্নীতি না করে খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং এত মামলায় শেখ হাসিনার কপালে কি আছে?

/বিডি টুডে নেট

Content Protection by DMCA.com

তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। দপ্তর থেকে বিবৃতি প্রকাশ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করলেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানর তারেক রহমান। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ায় বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন দলটির এমন সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, চেয়ারপারসন কোনো কারণে সাময়িকভাবে অনুপস্থিত থাকলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন। এটাই গঠনতন্ত্রের বিধান। গঠনতন্ত্রের ৭নং ধারায় উল্লেখ আছে, চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করবেন জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর বিবৃতি:

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-

ন্যায়নীতি বিবর্জিত বিচার ব্যবস্থা: আমরা অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বাংলাদেশ এখন দৃশ্যত: সকল প্রকার রাজনৈতিক ও বিচারিক সৌন্দর্যের রূপ হারিয়েছে। শাসকদল কোনো প্রকার রাখঢাক না করে তাদের খোলস খুলে ভয়ংকর একনায়কত্বের স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আজ তারা প্রমান করেছে যে, ন্যায় বিচারের জন্য বাংলাদেশে আর সঠিক তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। বরং শাসকদলের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকাই যেন সকল প্রকার নৈতিক, রাজনৈতিক, আইনগত কিংবা অর্থনৈতিক দুর্নীতি এবং স্বৈরাচার থেকে দায়মুক্তি পাওয়ার উপায়।

সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরপরাধ ও প্রতিবাদী মানুষের শক্তিশালী কন্ঠস্বর দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে-ক্ষমতাসীনদের কদাচার, দুর্নীতি, দখলসহ নানা অনাচারের বিরুদ্ধে কেউ যেন টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যিনি তাঁর জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ক্ষমতায় থাকতে দেশের সার্বিক উন্নয়নকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের জন্য তাঁর অনবদ্য অবদান দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এক উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালো জিয়া, যিনি সবসময় দেশ ও দেশের মানুষকে ভালবেসে ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে গেছেন, তাঁকে ক্ষমতাসীন দলের প্রত্যক্ষ মদদে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই রায়ের মাধ্যমে বিচারের নামে অবিচারের শিকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। দেশের জনগণ বর্তমান একদলীয় স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে মুক্তি পেতে একটা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় ফেরত যাবার জন্য ব্যাকুলভাবে অপেক্ষা করছে। সেই সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই ধরণের রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে শাসকদল জনগণের সামনে নিজেদের ভীতিকর চেহারাটাই উন্মোচন করেছে। এই সরকার বাক-স্বাধীনতা হরণ করেছে, স্বাধীনভাবে তথ্য ও মত প্রকাশে বাধা দিচ্ছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি সেক্টরই বর্তমান সরকারের দলীয়করণের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচারী সরকার দেশের জনগণকেই জিম্মি করতে চাচ্ছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই পারে, বর্তমানের অন্ধকার ও বিপজ্জনক অবস্থা থেকে বাংলাশেকে আলোর ধারায় ফিরিয়ে আনতে।

গণতন্ত্র দীর্ঘজীবি হোক। আমরা অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নি:শর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

Content Protection by DMCA.com

আদালতে রায় ঘোষণার আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায় প্রকাশ!

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রাজনৈতিক রায় ঘোষণার আদালত কতৃক ঘোষণার অন্তত আধা ঘন্টা আগে দিল্লি থেকে হুবহু রায়টি  প্রকাশ করা হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের স্থানীয় সময় ২:২৫ মিনিটে পিটিআই পরিবেশিত খবর প্রকাশ করে- “Bangladesh‘s former Prime Minister and opposition BNP chief Khaleda Zia was on Thursday sentenced to five years in jail in a corruption case. Zia, 72, was sentenced by the Special Court-5 in the capital, Dhaka, in connection with embezzlement of 21 million takas ($252,000) in foreign donations meant for the Zia Orphanage Trust.

তখন বাংলাদেশে সময় দুপুর ২:৫৫, তখনও ঢাকার বকশিবাজার বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান দন্ড ঘোষণা করেননি। দুপুর আড়াইটার পরে রায় পড়া শুরু করেন। প্রায় সোয়া তিনটার দিকে রায়ের মুল অংশ পড়েন জজ।

অর্থাৎ রায় ঢাকায় ঘোষণার আগেই দিল্লিতে প্রকাশিত হয়। এসব দেখে অনেকেই বলছেন- এ রায় আদালতের নয়, এ রায় দিল্লির, এ রায় প্রণবের।

Content Protection by DMCA.com

This is Khaleda Zia!!

হাজারো ছাত্রদল কর্মীদের সাথে নিয়ে আদালতের পথে বেগম খালেদা জিয়া! তবে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে।

সকালে বেদ্দপ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান ঘোষণা দেন- খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাকর্মী (সিএসএফ)দের অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে দেবে না আদালতে। ম্যাডামকে নেয়ার জন্য ডিএমপি ডিবি র‌্যাবের কতগুলি গাড়ি যায় ম্যাডামের বাসায়।

ম্যাডাম গাড়িতে উঠেন, কিন্তু সিএসএফ ছাড়া যাবেন না, স্রেফ জানিয়ে দেন। গাড়ি থেকে নেমে বাসার ভিতরে ঢুকে পড়েন। ফলে চাপে পড়ে যায় পুলিশ। ওদিকে কোর্টে জজ আখতারুজ্জামান উপস্থিত।
এরপরে ঘটনাখানেক দেন দরবার চলতে থাকে। অবশেষে সরকার হার মানে। ম্যাডামকে তার নিরাপত্তা সহ যেতে দিতে রাজী হয়।

পৌনে বারো টাার দিকে ম্যাডাম গাড়ি বহর নিয়ে রওয়ানা করেন। তবে পুলিশ চায় স্পেশাল কর্ড দিয়ে কোর্টে নিয়ে যাবে।

কিন্তু রাস্তায় নেমে ম্যাডাম সরকারী প্রটেশন বাদ দিয়ে ছাত্রদলের প্রটেকশনে কয়েক হাজার লোক শত শত মোটর সাইকেল নিয়ে খুব ধীরে ধীরে আগাচ্ছেন। এখন মহাখালি পার হচ্ছেন।

সরকারী ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে এভাবেই সম্ভবত একটা বিপ্লব ঘটাতে যাচ্ছেন- This is Khaleda Zia!!

Content Protection by DMCA.com
1 24 25 26 27 28 29