নৌকার পক্ষে নির্বাচনের ফল কব্জা করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের গুপ্ত মিটিং অনুষ্ঠিত!

গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন –
১) প্রধানমন্ত্রীর সচিব, সাজ্জাদুল হাসান
২) ফয়েজ আহমদ, জনপ্রশাসন সচিব
৩) হেলালউদ্দীন আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব
৪) কবির বিন আনোয়ার, সচিব পানিসম্পদ (শেখ হাসিনার অফিসের প্রাক্তন ডিজি)
৫) মহিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব
৬) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজম (মহানগরী রিটার্নিং অফিসার) – সদস্য সচিব
৭) প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া
৮) কাজী নিশাত রসুল, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক জজ কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে)
৯) মেসবাহউদ্দিন, যুগ্মসচিব, (১১ বিসিএস) অফিসার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ।

এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
১. র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ
২. ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া
৩. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম
৪. পুলিশ হেড কোয়োর্টারের ডিআইজি প্রশাসন হাবিবুর রহমান
৫. ডিএমপির ডিসি প্রলয় জোয়ার্দার (শেখ হাসিনার প্রাক্তন প্রটোকল অফিসার)

রাত সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘন্টা ধরে চলা এ মিটিংয়ে সারাদেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্লান রিভিউ করা হয়। ডিআইজি হাবিব জানায়, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার কনফার্ম আছে, এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকী আর কোনো সম্ভাবনা নেই। কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এ খেলা উৎরানো যাবে না।

বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুণ করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গেলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ভোটের ফ্লো ঠেকাতে না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

এরপর থেকে এ ধরণের সভা খুব বেশি করা যাবেনা, তবে কনসালটেশন করে কাজ করা হবে। খবর ডিআইজি হাবিব সূত্রের।

উল্লেখ্য, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকির নামে আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষে ৮ জন আওয়ামী দলীয় কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ৪৫ জন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ৬৪ জেলার উপদেষ্টা (মেনটর) নিয়োগ করে একটি নজিরবিহীন সরকারী আদেশ জারী করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ নিয়ে বিএনপির লিখিত আপত্তির প্রেক্ষিতে তা বাতিল করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গোপনে ঐসব কর্মকর্তারা জেলায় জেলায় মনিটরিংয়ের কাজ এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরে সারা দেশের ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার লক্ষে শেখ হাসিনা প্রথম তালিকার ৬ জন সচিবকে নিয়ে একটি গুপ্ত কমিটি গঠন করেছেন। সেই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে। মুলত এখানে সব ধরণের অফিসারদের গমনাগমণ ঘটে থাকে, তাই বিরোধী পক্ষের চোখ এড়ানো সহজ হবে মনে করে জনবহুল এই স্থানে গুরুত্বপূর্ন সভাটি বসে।

Content Protection by DMCA.com

গায়েবি মামলাকারী পুলিশের পক্ষে কতটা নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব, প্রশ্ন ইসি মাহবুব তালুকদারের  

 

তফসিল ঘোষণার আগে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, তফসিল ঘোষণার পরে তাদের পক্ষে রাতারাতি পাল্টে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন কতটা সম্ভব এই প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার।

বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষ সভায় ইসি কমিশনার মাহবুব চার পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে এসব প্রশ্ন তোলেন।

সিইসির সভাপতিত্বে সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইজিপি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক, ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচনকালে ইউনিফরমধারী পুলিশ ও সাদা পোষাকের পুলিশ অনেক ব্যক্তিকে বাসা থেকে কিংবা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। অনেককে অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একজন ছাড়া পুলিশ অন্যদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোনো স্বীকারোক্তি করেনি। নির্বাচনের পর দেখা যায় তাদের ১০ জনকে অন্তত কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাওয়া গেছে’। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গ্রেফতার না করলে তারা কারাগারে গেলেন কীভাবে? এ প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি’।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত গায়েবি মামলা প্রসঙ্গে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘বর্তমানে বহুল প্রচলিত গায়েবি মামলা এখন আর গায়েবি আওয়াজ না। মাননীয় হাইকোর্ট পর্যন্ত এ ধরনের মামলাতে পুলিশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয় বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকার পুলিশ কমিশনার মহোদয় মহোদয় পুলিশ বাহিনীকে গায়েবি মামলা না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরও অনেক ক্ষেত্রে এরূপ মামলা চালু রয়েছে’। আমার প্রশ্ন হলো সিডিউল ঘোষণার পূর্বে যে পুলিশ গায়েবি মামলা করেছে, সিডিউল ঘোষণার পরে তার পক্ষে রাতারাতি পালটে গিয়ে নির্বাচনে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন কতটা সম্ভব? এ প্রশ্ন মনে জাগে’। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বাহিনী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি। তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে’।

ইসি কমিশনার বলেন, ‘কিছু সংখ্যাক গায়েবি মামলার আসামিদের তালিকা বিরোধী দল থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। যদিও অধিকাংশই পুরনো মামলা। এসব মামলা অজ্ঞাতনামা আসামিদের অনেকের আদালত থেকে জামিন নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কোনো কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা থাকার কারণে তারা নির্বাচনী প্রচারকাজ চালাতে ভয় পাচ্ছেন। এহেন ভয়ভীতি অমূলক নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নির্বাচন পূর্ব সময়ে প্রার্থীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ সর্ম্পকে নির্বাচন কমিশন থেকে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে পালন করা প্রয়োজন’।

ইসি কমিশনার বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মিডিয়ায় যে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে তা হলো, নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহে পুলিশ দুই মাস পূর্ব থেকে মাঠে নেমেছে। তারা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে নানারুপ তথ্য সংগ্রহ করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এই তথ্যানুসন্ধানের বিষয়ে পুলিশকে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কমিশন নির্বাচন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়নি। সুতরাং এসব কর্মকাণ্ড কে কি উদ্দেশ্যে করছে তা রহস্যজনক। বলা বাহুল্য অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্যের এই কর্মকাণ্ডে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার দায় নির্বাচন কমিশনের ওপর এসে পড়ে’। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনভাবেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দিতে পারি না। আর একথা সত্য যে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বর্তাবে এবং আপনারা প্রশ্নবিদ্ধ হলে আমরা দায় এড়াতে পারবো না’।

মাহবুব তালুকদার বরিশাল সিটি নির্বাচন অনিয়ম প্রসঙ্গে বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিরোধী প্রার্থীদের পুলিশ অযাচিতভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আবার সরকারি দলের প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় পুলিশকে নিষ্ক্রীয় থাকতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয় উল্টো বিরোধী প্রার্থীর প্রচার প্রচারণায় পুলিশের অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে”। তিনি বলেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচনের ভোট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সব কমিশনার একমত হলেও নির্বাচন বন্ধ করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে কিনা এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে কি না তা ভেবে নির্বাচন বন্ধ করা থেকে আমরা বিরত থাকি’।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালে তৎকালিন জাতীয় নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। নির্বাচন বিষয়ে সেটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা। নির্বাচন কমিশনে যোগদানের পর সেই অভিজ্ঞতা দিনে দিনে ফুলে পল্লবে পরিণত হয়েছে’।

উল্লেখ্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ২ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ ৯ ডিসেম্বর এবং প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই

Content Protection by DMCA.com

পুলিশ ও প্রশাসনের যে ৯২ কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে র্যাবের ডিজিসহ পুলিশের শীর্ষ ৭০ এবং ইসি সচিবসহ জনপ্রশাসনের ২২ জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পুলিশ ও জনপ্রশাসনের ৯২ জন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে ইসিতে চিঠি পাঠান । এই ৯২ কর্মকর্তার একটি তালিকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হয়েছে। কেন তাদের প্রত্যাহার করা জরুরি তাও ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে আজকের চিঠিতে।

পুলিশের যে ২২  কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল বিএনপি:

১. পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) জামালপুরের মো. মোখলেসুর রহমান (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ২. র‍্যাবের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি গোপালগঞ্জের বেনজীর আহম্মেদ (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ৩. ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ফরিদপুরের আছাদুজ্জামান মিয়া (বিসিএস সপ্তম ব্যাচ), ৪. অতিরিক্ত আইজিপি (টেলিকম) পাবনার মো. ইকবাল বাহার (বিসিএস অষ্টম ব্যাচ), ৫. নৌপুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খুলনার শেখ মো. মারুফ হাসান (বিসিএস অষ্টম ব্যাচ), ৬. সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি চাঁদপুরের মো. কামরুল আহসান (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৭. চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি টাঙ্গাইলের খন্দকার গোলাম মারুফ (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৮. খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি গোপালগঞ্জের মো. দিদার আহম্মেদ (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ৯. রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি গোপালগঞ্জের এম খুরশীদ হোসেন (বিসিএস ১২তম ব্যাচ), ১০. খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার ও ডিআইজি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হুমায়ুন কবির (বিসিএস ১২তম ব্যাচ),

১১. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার জামালপুরের মো. মনিরুল ইসলাম (বিএসএস ১৫তম ব্যাচ), ১২. চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ও ডিআইজি জামালপুরের মাহবুবুর রহমান (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৩. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি মাগুরার মীর রেজাউল আলম (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৪. ঢাকা সিটি এসবির ডিআইজি গোপালগঞ্জের মো. আলী মিয়া (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৫. রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মৌলভীবাজারের দেবদাস ভট্টাচার্য (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৬. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি হবিগঞ্জের কৃষ্ণপদ রায় (বিসিএস ১৫তম ব্যাচ), ১৭. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) গোপালগঞ্জের হাবিবুর রহমান (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ১৮. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশন) কিশোরগঞ্জের আনোয়ার হোসেন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ১৯. রাজশাহী পুলিশ কমিশনার (আরএমপি) ও ডিআইজি গাজীপুরের হাফিজ আক্তার (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২০. পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (ট্রেনিং) ও বরিশালের ড. খ মহিদ উদ্দিন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ),

২১. ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিআইজি সুনামগঞ্জের আবদুল বাতেন (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২২. রংপুর মহানগরে র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি রাজবাড়ীর চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৩. ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত ডিআইজি নড়াইলের শেখ নাজমুল আলম (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৪. খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ময়মনসিংহের এ কে এম নাহিদুল ইসলাম (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৫. পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি যশোরের মো. মনিরুজ্জামান (বিসিএস ১৭তম ব্যাচ), ২৬. সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খুলনার জয়দেব কুমার ভদ্র (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ২৭. ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাদারীপুরের মো. আসাদুজ্জামান (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ),

২৮. ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) কুমিল্লার মাহবুব আলম (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ২৯. ঢাকা সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) নড়াইলের মোল্যা নজরুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩০. সিলেটে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি পাবনার আলতাফ হোসেন (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩১. ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার (ডিসি) কিশোরগঞ্জের বিপ্লব কুমার সরকার (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩২. ডিএমপির ডিসি কিশোরগঞ্জের হারুন অর রশিদ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৩৩. ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি খুলনার মো. মারুফ হোসেন সরদার (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৩৪. সিএমপির ডিসি খুলনার এস এম মেহেদী হাসান (বিসিএস ২২তম ব্যাচ),

৩৫. ডিএমপির ডিসি (ডিবি উত্তর) মাগুরার খন্দকার নুরুন নবী (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৩৬. সিএমপির ডিসি সিরাজগঞ্জের মো. ফারুকুল হক (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৩৭. ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি নেত্রকোনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৩৮. ডিএমপির ডিসি গোপালগঞ্জের এস এম মুরাদ আলী (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৩৯. ডিএমপির এডিসি গোপালগঞ্জের শিবলী নোমান।

৪০. ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলার এসপি নাটোরের লালপুরের শাহ মিজান শফি (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪১. নারায়ণগঞ্জের এসপি গোপালগঞ্জের মো. আনিসুর রহমান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪২. মুন্সীগঞ্জের এসপি মাদারীপুরের মো. জায়েদুল আলম (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৪৩. নরসিংদীর এসপি পটুয়াখালীর মিরাজ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪৪. টাঙ্গাইলের এসপি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার সঞ্জিত কুমার রায় (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৪৫. মাদারীপুরের এসপি বাগেরহাটের চিতলমারীর সুব্রত কুমার হাওলাদার (বিসিএস ২১তম ব্যাচ)। ৪৬. ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার এসপি বাগেরহাটের শাহ আবিদ হোসেন (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৪৭. শেরপুরের এসপি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার আশরাফুল আজিম (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ),

৪৮. সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার এসপি পটুয়াখালীর মো. মনিরুজ্জামান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ),৪৯. বরিশাল বিভাগের বরিশাল জেলার এসপি পাবনার সুজানগর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫০. ভোলার এসপি পটুয়াখালীর মোক্তার হোসেন (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫১. খুলনা বিভাগের খুলনার এসপি গোপালগঞ্জের এস এম শফিউল্লাহ (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৫২. সাতক্ষীরার এসপি ঝিনাইদহের মো. সাজ্জাদুর রহমান (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫৩. বাগেরহাটের এসপি লালমনিরহাটের পঙ্কজ চন্দ্র রায় (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৫৪. যশোরের এসপি পটুয়াখালীর মঈনুল হক (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৫. ঝিনাইদহের এসপি নড়াইলের হাসানুজ্জামান (বিসিএস ২২তম ব্যাচ), ৫৬. কুষ্টিয়ার এসপি বাগেরহাটের আরাফাত তানভীর (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৫৭. চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম জেলার এসপি গোপালগঞ্জের নূরে আলম মিনা (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৮. নোয়াখালীর এসপি ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ইলিয়াস শরিফ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৫৯. ফেনীর এসপি পাবনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার (বিসিএস ২২তম ব্যাচ),

৬০. কুমিল্লার এসপি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সৈয়দ নুরুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬১. রংপুর বিভাগের রংপুর জেলার এসপি জামালপুরের মিজানুর রহমান (বিসিএস ২১তম ব্যাচ), ৬২. দিনাজপুরের এসপি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সৈয়দ আবু সায়েম (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৩. ঠাকুরগাঁওয়ের এসপি কুষ্টিয়ার মনিরুজ্জামান (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৪. রাজশাহী বিভাগের রাজশাহী জেলার এসপি শেরপুরের মো. শহীদুল্লাহ (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৫. চাঁপাইনবাগঞ্জের এসপি গাজীপুরের মোজাহিদুল ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৬. নওগাঁর এসপি পাবনার ইকবাল হোসেন (বিসিএস ১৮তম ব্যাচ), ৬৭. নাটোরের এসপি নেত্রকোনার সাইফুল্লাহ (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৬৮. বগুড়ার এসপি নেত্রকোনার মদন উপজেলার আশরাফ আলী (বিসিএস ২৪তম ব্যাচ), ৬৯. সিরাজগঞ্জের এসপি লক্ষ্মীপুরের টুটুল চক্রবর্তী (বিসিএস ২০তম ব্যাচ), ৭০. পাবনার এসপি গোপালগঞ্জের রফিক ইসলাম (বিসিএস ২০তম ব্যাচ)।

সিভিল প্রশাসনের যে ২২  কর্মকর্তার প্রত্যাহার চাইল বিএনপি:
নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদসহ জনপ্রশাসের ২২ জন কর্মকর্তার প্রত্যাহার চেয়েছে বিএনপি। তাদের বিতর্কিত উল্লেখ করে তাড়াতাড়ি প্রত্যাহার করে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দেয়ার দাবি জানায় দলটি। কী কারণে তাদের প্রত্যাহার করা দরকার তাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবের পদত্যাগের কারণ হিসেবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত ও অতিমাত্রায় প্রচারমুখী। বিসিএস ৮২ বিশেষ ব্যাচের এবং ৮৪ পদের শতাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাকে সচিব পদে পদায়ন করা হয়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনেছি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহীউদ্দীনের একান্ত সচিব ছিলেন। মহীউদ্দীনের ছেলে ব্যারিস্টার নওফেল এখন আওয়ামী লীগের নেতা। যিনি এখন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে কমিশনে নিয়মিত যাতায়াত করেন। সচিবের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ।

অন্য কর্মকর্তারা হলেন-জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমেদ, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, ভোলার ডিসি মো মাসুদ আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রামের ডিসি মো. ইলিয়াস হোসাইন, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর ফেনীর ডিসি ওয়াহেদুজ্জামান, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, কিশোরগঞ্জের ডিসি সারোয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, টাঙ্গাইলের ডিসি মো শহিদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের ডিসি সুরজ কুমার নাথ, খুলনার ডিসি হেলাল হোসাইন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসাইন, নড়াইলের ডিসি আঞ্জুমান আরা, ময়মনসিংহের ডিসি ড. শুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, জয়পুর হাটের ডিসি মো. জাকির হোসাইন, নওগাঁর ডিসি মিজানুর রহমান, রাজশাহীর ডিসি আবদুল কাদের ও সিলেটের ডিসি কাজী ইমদাদুল হক।

তালিকা জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকারের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে উনাদের কাছে কিছু দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। প্রমাণাদিসহ নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার কিংবা নির্বাচনী কোনো কর্মকর্তা যে কাজগুলো করতে পারেন না, সেই কাজগুলো অনবরত করা হচ্ছে। তার কয়েকটি উদাহরণ আমরা উনাদের সামনে তুলে ধরেছি এবং এগুলোর প্রতিকার চেয়েছি। ভবিষ্যতে যাতে এসব না ঘটে। আর যারা এসব করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেয়া হয়।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই

Content Protection by DMCA.com

ইভিএম সংবিধান বিরোধী, ব্যবহার হলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা: ঐক্যফ্রন্ট 

 

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইভিএম সংক্রান্ত এক সেমিনারে ফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- কনস্ট্রিটিউশন বায়োলেশন (সংবিধান লঙ্ঘন) হবে ইভিএম ব্যবহার করলে। সংবিধানের বিরোধিতা হবে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে। এটা রাষ্ট্রীয় অপরাধ, সাংবিধানিক অপরাধ।

এটা যদি নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে ব্যবহার করতে যায় আমরা আমাদের নেতা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

আমি নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, এটা সংবিধান বিরোধী, রাষ্ট্র বিরোধী, মামলা হবে; জেলে যাবেন। আমরা ছাড়বো, দেশের ১৮ কোটি মানুষ ছাড়বে না।

রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে ‘ইভিএমকে না বলুন, আপনার ভোটকে সুরক্ষিত করুন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সেমিনারে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে কিভাবে ভোট কারচুপি করা যায় একটি ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রয়োগিক ব্যবহারে ভোট প্রদান করে তার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সেখানে দেখানো হয় কিভাবে এক প্রতীকের ভোট অন্য প্রতীকের ঘরে জমা হয়।

সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের ২(এ) ধারা উল্লেখ করে রব বলেন, সেখানে বলা আছে সংসদ গঠন হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে। মেশিনে প্রত্যক্ষ করা যায় না। সংবিধানের বলা আছে ডাইরেক্ট (প্রত্যক্ষ) ভোটে সরকার গঠন করতে হবে। প্রশ্নবিদ্ধ ইভিএম এই শর্ত পুরণ করে না। তাই সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া ইভিএম ব্যবহার করা যাবে না। প্রত্যক্ষ ভোটের একটি প্রধান শর্ত যে ভোট প্রদান থেকে শুরু করে সর্বশেষ ভোট গণনা পর্যন্ত সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনগনের কাছে উন্মুক্ত থাকতে হবে। ইভিএমের বর্তমান প্রস্তাব ও কাঠামো বাংলাদেশের মতো দেশে প্রচন্ডভাবে অগণতান্ত্রিক। জনগণের কাছে এই মেশিনের স্বচ্ছতা নেই, উন্মুক্তও নয়। তিনি বলেন, আমরা ইভিএম ব্যবহার করতে পারবে না, করতে দেবো না। ভোটার ও জনগণ করতে দেবে না। রব বলেন, বাংলাদেশে আমরা কোনো রাজনৈতিক দল, ভোটার ও জনগন ইভিএম ব্যবহার চাইনি।

আমরা যারা নির্বাচনের অংশীদার, যারা নির্বাচন করবো, করাবো, ভোট দেবো, জয়লাভ করবো, সরকার গঠন করবো, আমরা কেউ চাইলাম না। আপনি নির্বাচন কমিশন এতো এডামেন্ট কেনো? আসল ঘটনা হলো আপনি গতবারের ১০ হাজার টাকার মেশিন এবার ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন। হারামটা জায়েজ করার জন্য, টাকাটা খাওয়ার জন্য। জার্মানী, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে ইভিএম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন আসম আবদুর রব বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা ভোট জালিয়াতি করবে। ইভিএমে ভোট করতে দেয়া হবে না, আপনারা করতে পারবেন না। তারা বলছে, শহর অঞ্চলে সীমিত পর্যায়ে ইভিএম ব্যবহার করবে। আসলে শহরে অঞ্চলে সচেতন ভোটারদের ভোটগুলো জালিয়াতির জন্যই তাদের এই চেষ্টা।

/শীর্ষনিউজ

Content Protection by DMCA.com

‘বাংলাদেশে ভোট কঠিন পরীক্ষার মুখে হাসিনা’

ভারতের ‘ইনসেপ নাউ’ নিউজ পোর্টালের খবর

বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেখ হাসিনার জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম। গত রোববার ‘ইনসেপ নাউ’ নামে একটি নিউজ পোর্টালে ‘বাংলাদেশে ভোট, কঠিন পরীক্ষার মুখে হাসিনা’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং নব গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শিবিরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। যার ফলে কোনো কোনো আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে পৌঁছানোয় খোদ দলীয় প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে দেশে এতো নেতার জন্ম হলো কী করে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

যখন একজন ক্ষমতাসীন এমপির বিরুদ্ধে ২০-২৫ জন প্রার্থী দাঁড়িয়ে যান, তখন কারোরই বুঝতে অসুবিধা হয় না যে তিনি নেতা-কর্মীদের কাছে কতোটা অপছন্দের। অনেক মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়াই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রথম চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সংসদের সব সদস্যের ভাগ্যে যে এবার মনোনয়নের শিকে ছিঁড়বে না, সে কথা আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি বিগত ১২ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তাদের দলীয় কোন্দল ক্ষমতাসীনদের থেকে অপেক্ষাকৃত কম। যদিও জোট শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দুই প্রধান দলকেই বড় ধরনের ঝামেলা পোহাতে হবে। শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অফিসের সামনে মিছিল হয়েছে, রাস্তা বন্ধ করে নেতা-কর্মীরা শোডাউন করেছেন। আবার এই শোডাউনকে ঘিরে প্রাণহানি, যানবাহনে আগুন, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। প্রথমে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে তিন-চার দিন ধরে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শোডাউন চললেও নির্বাচন কমিশন তখন টুঁশব্দটিও করেনি। এরপরেই যখন বিএনপির অফিসের সামনের ব্যস্ততম সড়ক বন্ধ করে নেতা-কর্মীরা দুই দিন ধরে শোডাউন করলেন, তারা তখনো তারা নিশ্চুপ ছিলো। কিন্তু তৃতীয় দিনে নির্বাচন কমিশন পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে চিঠি দেয় যে এভাবে রাস্তায় মিছিল করে মনোনয়ন জমা নেওয়া নির্বাচনী আচরণ বিধির ৮ নম্বর ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, তারা যেনো ব্যবস্থা নেয়।
এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নড়েচড়ে বসে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের রাস্তা থেকে উঠিয়ে দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর করার দায়ে বিএনপির ৪৮৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে, ৬৬ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং ৩৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়। তারা প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী বেবী নাজনীনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দেয়। তিনি বিএনপির একজন সম্ভাব্য প্রার্থী।

নয়াপল্টনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কারণে হুকুমের আসামি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে। কিন্তু আদাবরে আওয়ামী লীগের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দুজন মানুষ মারা যাওয়ার পরও আওয়ামী লীগের কোনো নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনটি নির্বাচন কমিশন এবং প্রতিদ্ব›দ্বী দল ও প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তো বটেই। তার চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য। ৩০শে ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে এবং জাতীয় সংসদ বহাল রেখে সব দলের অংশগ্রহণে একটি সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতা ভোটারদের কাছে প্রথম, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রথম, এমনকি নির্বাচনকালীন দলীয় সরকারের কাছেও প্রথম। সংশ্লিষ্ট সবাই কথাটি মনে রাখলে সমস্যা অনেক কমে যাবে, আর না রাখলে কিংবা কোনো পক্ষ থেকে ব্যত্যয় ঘটানোর চেষ্টা হলে সমস্যা আরও বাড়বে এবং তা নিয়ন্ত্রণেরও বাইরে চলে যেতে পারে।

আওয়ামী লীগের জন্য এই নির্বাচন ভীষণ কঠিন পরীক্ষা এ কারণে যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে বর্তমান নির্বাচনকালীন দলীয় সরকারকেই ‘নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকার’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু মন্ত্রী ও এমপিদের নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি মেনে চললে হবে না, সেই আইন অনুযায়ী জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও চালিত করতে হবে। অন্যথায় সব ব্যর্থতার দায় নির্বাচনকালীন সরকারের ওপরই বর্তাবে।

নির্বাচনটি দলীয় সরকারের অধীনে হওয়ায় দেশের মানুষ, বিদেশের বন্ধু ও সুহৃদেরা এর ওপর তীক্ষ্ন নজর রাখছে। গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ক বিতর্কে অংশ নিয়ে সদস্যদেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনই শেষ সুযোগ, যেখানে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা ও আইনের শাসন অব্যাহত থাকবে, নাকি পরিস্থিতি অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে’।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারবে কিনা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ও বুথে প্রতিদ্বদ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টরা উপস্থিত থাকতে পারবেন কিনা।

নির্বাচন নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা, গুঞ্জন। সবার জিজ্ঞাসা, নির্বাচনটি ঠিকঠাক মতো হবে তো? অতীতে বাংলাদেশে যতোগুলো একতরফা নির্বাচন হয়েছে, তার জন্য নির্বাচন বর্জনকারীরা যতোটা না দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী নির্বাচন আয়োজনকারীরা। ২০০৭ সালে বিএনপি ‘সংবিধানসম্মত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে’ দলীয়ভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে নির্বাচনটিই শুধু ভন্ডুল করেনি, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকেও ধ্বংস করেছিলো।

এবার আওয়ামী লীগ একই সঙ্গে নির্বাচনে অন্যতম প্রতিদ্ব›দ্বী এবং নির্বাচন পরিচালনাকারীর ভূমিকায় আছে। নির্বাচন পরিচালনাকারী হিসেবে তাকে শুধু নিরপেক্ষভাবে কাজ করলেই হবে না, সেটি বাংলাদেশের জনগণে এবং বিশ্ববাসীর কাছেও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হলে, জনগণ আওয়ামী লীগকে টুপি খুলে অভিনন্দন জানাবে। কিন্তু নির্বাচনটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ না হলে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যেতে বাধ্য। যার ফলে অসাংবিধানিক শক্তির ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ যে সমস্ত দেশ বাংলাদেশকে শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা প্রদান করে সে সমস্ত দেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে বাংলাদেশে শুল্ক ও বাণিজ্য সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতিসংঘ বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যদি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় এবং এর ফলে যদি অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতায় আসে তাহলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশীদের ব্যাপারে নতুন করে তাদের ভাবতে হবে। সব দিক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের কাছে এই নির্বাচন যে কতো বড় চ্যালেঞ্জ তা শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচিত।
/ইনকিলাব

Content Protection by DMCA.com

পল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের হটাতে পুলিশী হামলা: লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস, গুলি, পুলিশের গাড়ি অগ্নিসংযোগ করে হেলমেটলীগ!

গত তিন দিন ধরে বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস থেকে সংসদ নির্বাচনের দলীয় ফরম বিতরন উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের জনসমাগম ঘটে। গতকাল ছিল সবচেয়ে বেশি জনসমাগম। কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন লীগনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশনা দেন বিএনপি অফিসের সামনের মানুষের ভীড় কমাতে। এ নিয়ে বিডিপলিটিকো গতকাল রিপোর্ট পরিবেশন করে।

আজ বুধবার বিএনপি অফিসের সামনে লোক বাড়তে থাকলে প্রথমে বেলা ১১টার দিকে লাঠি চার্জ করে। অজুহাত হিসাবে বলা হয় নির্বাচন কমিশনের চিঠি। অথচ একই কাজে আওয়ামীলীগ সামনে (একটি আবাসিক এলাকার মধ্যে) হাতি ঘোড়া ভেঁপু বাজিয়ে তান্ডব করে। অথচ নির্বাচন কমিশন তখন টু শব্দটিও করেনি। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন পরিসআর পক্ষদুষ্ট আচরণ করছে।

Image.jpeg

পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে বেশ কিছু হেলমেট পরিহিত বহিরাগত লোকজন নিয়ে কয়েক’শ পুলিশ বিএনপির সমাবেশে ঢুকে পড়ে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপর। আক্রান্ত লোকজন দৌড়ে এবং রাম্তায় শুয়ে পড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে পুলিশ সরে যায়। কিন্তু জনতার প্রতিরোধ চলাকালে পুলিশের সাথে যাওয়া হেলমেট পড়া লোকগুলি সেখানে পার্ক করা গাড়িগুলি ভাঙতে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশের দু’টি ভ্যানে অগ্নি সংযোগ করে হেলমেট পড়া কিছু ছেলে। পরে দেখা যায় ঐ লোকগুলি ছাত্রলীগের ক্যাডার। এদের একজন গুলশান ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক অপু, যিনি পুলিশের গাড়িতে আগুণ লাগায়। পল্টনে সংঘটিত পুলিশী হামলা ও গাড়িপোড়ানোর তান্ডব কয়েকটি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

Image_1.jpeg

পরবর্তীতে দেখা যায়, সরকারী টেলিভিশন বিটিভির ক্যামেরাম্যানও সেখানে মজুদ ছিল। অথচ এসব বিষয় বিটিভি এড়িয়ে চলে আসছিল। হঠাৎ করে বিটিভির উপস্থিতিকে কথিত নাশকতার শুটিং হিসাবে প্রতীয়মাণ হয়। ঘটনার পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যেসব যুবক গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের গাড়ি পুড়িয়েছিল, তারা হেলমেট পড়ে পুলিশের সাথেই ঢুকেছিল। জানা যায়, পুলিশ সাধারণত আক্রমনস্থলের আশেপাশে তাদের গাড়ি পার্ক করে না। তবে এক্ষেত্রে তারা গাড়ি সেখানে রাখে, অতপর গাড়িগুলিতে যাখ আগুণ দেয়া হয়, তখন পুলিশ কোনো বাধা প্রদান করেনি। এথেকে প্রতীয়মান হয় যে, পুলিশ খুব পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায়, তাদের সাথে আনা লোক দিয়ে গাড়িগুলি পোড়ায়। তাছাড়া সেখানে কর্মরত গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সরকারী দলের ক্যাডাররা মাথায় হেলমেট পড়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। হেলমেট বাহিনীর হামলার ধরনের সাথে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের উপর বর্বরভাবে হামলে পরা হেলমেট বাহিনীর মিল রয়েছে। সে হামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি  হয়নি কোন বিচার।

Image_3.jpeg

ঘটনার পর পর বিএনিপি অফিস থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়, গাড়ি পোড়ানো বা ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নেতকর্মীরা জড়িত নয়। বরং ছাত্রলীগ ও হেলমেট লীগ দায়ী। বিকালে নির্বাচন কমিশনের সাথে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠককালে পল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর পুলিশী হামলা এবং ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা গাড়িপোড়ানোর ঘটনা অবহিত করে বিচার দাবী করা হয়।Image_4.jpeg

Image_6.jpeg

Content Protection by DMCA.com

বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় না জড়াতে সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে কাজ করতে অনুরোধ। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকারীদেরকে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহবান।

সেনাবাহিনীকে তারেক রহমানের অনুরোধ- বিতর্কিত ইভিএম নীলনকশায় আপনারা জড়াবেন না
-“প্রশাসনের কর্মকর্তারা নির্ভয়ে কাজ করুন,কারো চাকুরী যাবে না’
-“ভোট যুদ্ধের দিন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ভাই বোনদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। -“প্রতিটি ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে-এটাই এখন আমাদের আন্দোলন!’

।।বিশেষ প্রতিনিধি।।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনকে নির্ভয়ে জনগণের পক্ষে কাজ করার আহবান এবং অনুরোধ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান বলেছেন, আপনারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধানের একজন সন্তান হিসেবে আপনাদের ‌কাছে আমার অনুরোধ, এই অবৈধ সরকারের স্বার্থসিদ্ধির জন্যে আপনারা কাজ করবেন না। নির্বাচনে ভোট ডাকাতির যে উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করছে তাতে আপনারা শরিক হবেননা। ইভিএম ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার হরণের যে নীল নকশা সরকার প্রণয়ন করছে, তাতে আপনারা জড়াবেননা। এই লুটেরা সরকারের অপরাধের ভাগ আপনারা নিবেন না। গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের পক্ষে থাকুন। জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হোন। তারা ইভিএম চালু করে দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীকে জনগনের মুখোমুখি করতে চাচ্ছে । আমার অনুরোধ থাকবে, জনগনের কাছ থেকে চুরি করা ৪০০০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা এই ইভিএম পদ্ধতিতে জনগনের ভোট ডাকাতির যে প্ল্যান ও কর্মসূচী অবৈধ সরকার করতে চাচ্ছে, সেই প্ল্যান ও কর্মসূচীতে আপনারা নিজেদেরকে জড়াবেন না। আপনাদেরকে বিতর্কিত করতে আপনাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার চেষ্টা করবে হাসিনা ও তার কেনা নির্বাচন কমিশনা।
আপনারা দেশের মানুষের প্রতিপক্ষ হবেন না। কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না। মানুষ আপনাদের শ্রদ্ধা করে। আপনারা আপনাদের সম্মান নষ্ট হতে দিবেন না। আপনারা জানেন জনগন কি চায়, আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন, এটাই আপনাদের কাছে আমার আহবান।

ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর- জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পূর্ব লন্ডনের হাইস্ট্রীট নর্থ এর দি রয়্যাল রেজেন্সী অডিটরিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই গুরুত্বপুর্ন আহবান জানান। দেশনায়ক তারেক রহমান আধা ঘন্টার বক্তব্যে শেখ হাসিনার দুঃশাসনের নানা দিক, বিশেষ করে লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন , নিপীড়ন, মিথ্যাচার, মানুষের সাথে প্রতারণাসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাদের করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা প্রদাণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আবদুল মালিক।সভাটি পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক কয়ছর আহমদ।

তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক ডাকাত ও ভোট ডাকাতি করা এই সরকার সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরাচার খ্যাত। এই অবৈধ সরকার ভোট নামক নতুন আন্দোলনের ভয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বলে বেড়াচ্ছে, গত ১০বছরে তাদের আমলে যারা প্রশাসন সহ অন্যান্য সরকারী চাকুরিতে নিয়োগ পেয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাঁদেরকে চাকুরিচ্যুত করা হবে। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই, আপনারা এই ভয় পাবেন না, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পুলিশ বাহিনী হোক, আর প্রশাসন বা সিভিল ডিার্টমেন্টের হোক, অন্যায়ভাবে কারো চাকুরি যাবে না । আপনাদের কোন ভয় নেই, কারণ আমরা বুঝি ও জানি- এই অবৈধ সরকার ও তার অবৈধ এমপি ও  মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে আপনাদেরকে অন্যায় কাজ করতে বাধ্য করেছে। আপনারা জনগনের সাথে প্রতিনিয়ত উঠাবসা করেন, আপনারা এই দেশের নাগরিক, তাই আপনারাও জানেন জনগন কি চায়। সে মোতাবেক আপনারা কাজ করুণ। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, জনগন আপনাদেরকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে আপনারা আপনাদের সেই পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন। কারো কোনো ভয় নেই। আপনারা নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করুন। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আপনাদের পাশে থাকবে। আমরা জানি অবৈধ সরকারের হুকুম তামিল করতে গিয়ে অনেক অনৈতিক কাজ কাউকে কাউকে করতে হয়েছে। যার জন্য আপনারা প্রস্তুত ছিলেননা, এবং এর দায়ভারও আপনাদের নয়।

তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনকে আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ হিসাবে তুলে ধরে ছাত্র, যুবকসহ সকলের উদ্দেশ্য বলেন, আজকে নির্বাচন নামক যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, এটা কিন্তু কোন সাধারন নির্বাচন নয়। এটা গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন, এটা স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাক-স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচন, এটা বাংলাদেশের মিডিয়াকে ডিজিটাল কালাকানুন থেকে মুক্ত করার নির্বাচন। এটা সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন ফেলানি হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে, এটি সেই নির্বাচন যে নির্বাচন সাগর রুনির হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন শেখ হাসিনার দায়িত্বে অবহেলার কারনে আমার দেশপ্রেমী ৫৭ জন সেনাবাহিনীর অফিসার নিহত হয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের জবাব দিবে। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে জনগনের যে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, সে পাচার রোধের নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, যে নির্বাচন নকল ও প্রশ্ন ফাঁস থেকে রক্ষা করে সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থার নির্বাচন। এটি ইলিয়াস আলী সহ আমাদের হাজার হাজার গুম খুন হওয়া নেতা কর্মীদের হত্যার জবাবের নির্বাচন। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার নির্বাচন। এটি সেই নির্বাচন, গত ১০ বছরে যে সকল গুণী ব্যক্তিবর্গের মান সন্মান নষ্ট করেছে, সেই সম্মান রক্ষার নির্বাচন। এটি কোটা আন্দোলনের দাবীতে রাজপথে নামা হাজারো শিক্ষার্থীর উপর এই ব্যাংক ডাকাত সরকার যে নির্যাতন করেছে, সেই নির্যাতনের জবাবের নির্বাচন। এটি নিরাপদ সড়ক চাই দাবীতে রাজপথে আমার ছোট কোমলমতি ভাই বোনদের উপর সরকার ও হেলমেট বাহনী যে অত্যাচার করেছে, সেই অত্যাচারের জবাব দেবার নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী, এই নির্বাচন শুধু নির্বাচনই নয়। এটি আরও একটি মুক্তিযুদ্ধ। যার মাঠ হলো ভোটকেন্দ্রগুলো এবং যার সৈনিক হলো ১০কোটি ভোটার। জাতির মুক্তির জন্য এ ১০কোটি ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে এবং এ যুদ্ধে সফল হতে হবে।
১৯৭১ সালে আমাদের পূর্ব পুরুষরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে গিয়েছেন, কিন্তু এই দেশের বিরুদ্ধে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলেছে এবং বর্তমানেও চলছে। আর এই নির্বাচন সে সকল ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে। নতুন প্রজন্মের জন্য যারা নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে চেয়েছিল, তাদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন হলো এই নির্বাচন–নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার মুক্তিযুদ্ধ।

এই নির্বাচন নামক মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার হাতে কোনো বন্দুক বা গোলা বারুদ থাকবেনা।  বরং এই ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র হবে তাদের ব্যালট পেপার। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত আমার যত নেতা কর্মী আছেন, তাঁদেরকে আমি একটা দায়িত্ব দিতে চাই, আর তা হলো- আপনারা এই মুক্তিযুদ্ধে ১০ কোটি মুক্তিযোদ্ধাকে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে নিয়ে যাবেন। যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি, তাদের জন্য আজ সামনে সুযোগ এসেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতা-কর্মীরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দশ কোটি ভোটারদের সঙ্গে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ১০ কোটি ভোটারের আন্দোলনে হেরে যাবার ভয়ে অবৈধ সরকার আন্দোলনকে বন্ধ করতে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেখানে আমেরিকা, লন্ডন, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই ইভিএম ব্যবহার করা হয়না, সেসকল দেশের আদালত থেকে এই ইভিএম মেশিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারন তারা দেখেছে ইভিএমের মাধ্যমে কিভাবে ভোট চুরি করা হয়, অথচ বাংলাদেশের এই অবৈধ সরকারের ইতিহাস হল ভোট চুরি। এখন নতুন করে ভোট ডাকাতি শুরু করতে চাচ্ছে। ভারতের সংসদে একজন দেখিয়েছেন কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা হয়।

তরুণ প্রজন্মের যারা নিরাপদ সড়কের দাবী করেছিলো তাদের প্রতি তারুন্যের অহংকার তারেক রহমান অনুরোধ ও দাবী রেখে বলেন, আমার তরুন প্রজন্মের ভাই বোনেরা। তোমাদের কাছে আমার দাবী, তোমরা নিরাপদ সড়কের পাশাপাশি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত লাগাও। আজ সারা বাংলাদেশ তোমাদের কাছে সাহায্য চায়। তোমরা যদি এই দায়িত্ব তুলে নিতে পার, তবে তোমরা কেবল নিরাপদ সড়ক নয়, গড়তে পারবে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। ভোট যুদ্ধের দিন তোমাদেরকে আবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। সেটা যদি পারা, তবে গড়তে সক্ষম হবে নিরাপদ বাংলাদেশ।

তারেক রহমান বলেন, কোটা সংস্কারের আন্দোলনে নির্যাতিত মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্বাচন করছে বিএনপি। তাদের ন্যায্য দাবীর প্রতিফলন ঘটাতে চাই। নতুন প্রজন্মের পাশে থাকতে অঙ্গীকার করছি। গণমানুষের নেতা তারেক রহমান শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা ও জুলুম নিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আজকে গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। বিএনপির হাজার-হাজার, লক্ষ নেতা-কর্মীকে গায়েবি মামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে বন্দি করে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যখনি সুযোগ পাচ্ছে, এ সরকার চেষ্টা করেছে, কিভাবে গুম-খুনের মাধ্যমে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মীদের গায়েব করে দিতে। কারণ এই একটি দল, যারা বাংলাদেশে ক্ষমতাকে ধরে রেখেছ অবৈধভাবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ পেছেন ফিরে তাকালেই দেখতে পাবেন যত বারই তারা দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেয়েছে, প্রত্যেক বারের পরিস্থিতি একিরকম। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার জানে কিভাবে সংবাদপত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। একইভাবে তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে গণতন্ত্রের টুঁটি চেপে ধরতে হবে। তারা চেষ্টা করেছে কিভাবে জনগণের উপর অত্যাচার, নির্যাতনের স্টীম-রোলার চালাতে হবে। এখন দেশের মানুষের সামনে সুযোগ এসেছে এই নিকৃষ্টতম স্বৈরাচারকে ব্যালটের মাধ্যমে উপযুক্ত জবাব দেয়ার।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের ইভিএম দিয়ে ফল পাল্টানো- বাচ্চাদের খেলনা’র মত সহজ কাজ!

।।সাবিনা আহমেদ।।

আসন্ন নির্বাচনে যেসব ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহৃত হবে তা বাংলাদেশে তৈরি। এই মেশিন তিন ফেইজ বা ধাপে তৈরি হয়েছে। প্রথম দুই ধাপ সম্পন্ন করেছে বুয়েট আর সর্বশেষ ধাপ সম্পন্ন করেছে Bangladesh Machine Tools Factory Ltd (BMFT)।

এই মেশিন কাজ করে বোথ হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার/ফার্মওয়্যার এর মাধ্যমে। আর এই ফার্মওয়্যার দ্বারাই তৈরি হয় আসল ফলাফল। প্রথম দুই ধাপে যা দেখানো হয়েছে বা করা হয়েছে খুব সহজে তৃতীয় ধাপে যেয়ে ফার্মওয়্যার এর কোড বদল করে মেশিনকে নিজ ইচ্ছানুযায়ী ম্যানুপুলেট করা সম্ভব।

ট্রাস্ট মি হোয়েন আই সে দিস, আমি নিজেও ইঞ্জিনিয়ার, প্রচুর ফার্মওয়্যার লিখেছি, যা দিয়ে হার্ডওয়্যার ম্যানুপুলেট করেছি, এমনকি মিসাইল পর্যন্ত। ইটস অল ইন দ্যা কোড। আপনি আমাকে বলুন আপনি কি চান, ফার্মওয়্যার কোড এমনভাবে লিখব যা মেশিন যখন রান করবেন আউটপুট বা রেজাল্ট আপনার মনের মতন হবে। আপনি ভিন্ন রেজাল্ট চান? নো প্রব্লেম… আপনি রাতের জায়গায় দিন চান? নো প্রব্লেম……… উপরে দেখাবো রাত, বের হবে দিন। ধানের শিষের বাটনে প্রেস করলে নৌকায় পক্ষে গননা চান? নো প্রবলেম। আপনি কেবল ৬০% ধানের শিষের ভোটকে নৌকায় পরিবর্তন করতে চান? নো প্রবলেম। পেপার স্লিপ আর ভোট গননার মাঝে ডিফারেন্স চান? নো প্রবলেম। আপনি খালি বলুন আপনি কি চান, কোড এমন ভাবে লিখব যে মেশিন আপনাকে তাই দিবে।

আমি কোড লিখে যেসব মেশিন কন্ট্রোল করেছি তার তুলনায় ইভিএম মেশিন একেবারে প্রিমিটিভ, বাচ্চাদের খেলনা। এটা খুবই সিম্পল মেশিন, এর কোড একদম প্রাইমারী লেভেলের, আর একে যেভাবে খুশি লিখে ম্যানুপুলেট করা সম্ভব। একবার কোড লেখার পর তাকে পরবর্তী ধাপে বদলে দিয়ে ব্যবহারের আগে ফাইনাল মেশিনে সেই কোড আপলোড করে দেয়া কোন ব্যাপারই না।

বিএমএফটি এই মেশিন আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতে বেশি দামে বানিয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। এখানে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে মেশিন এভেইলেবল থাকতে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার এই মেশিন দেশের ভিতর বেশী দামে বানিয়েছে? আর এর সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তর হচ্ছে বাইরের মেশিনের ফার্মওয়্যার বদল করে রেজাল্ট নিজ ইচ্ছানুযায়ী তৈরি করার জন্য ঠিক যে মেশিন কিনবে তার হার্ডওয়্যার আর ফার্মওয়্যার এর ডিটেইলস জানা লাগবে, ‘র’ কোড তার কম্পাইলার ইত্যাদি সেই মেশিন প্রস্তুতকারী কোম্পানিকে বাংলাদেশকে দিতে হবে, বা বাংলাদেশের ফার্মওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে মেশিনের ভিতরের মাদারবোর্ডের ইলেকট্রিকাল ডিজাইন এর পুরা ডিটেইলস থাকতে হবে। যা কখনও বাইরের মেশিন প্রস্তুত কারক দেশ বাংলাদেশ সরকারকে দিবে না। কারন এটা তাদের ইন্টালেকচুয়াল প্রপার্টি।

তাই সেক্ষেত্রে মেশিন ব্যবহারে ভোটের রেজাল্ট নিজ ব্যাংকে তুলতে সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে নিজেরাই মেশিন তৈরি করা, নিজেরাই কোড লেখা। দুইটা পয়সা বেশী গেলেও এতে করে ইচ্ছানুযায়ী ভোট দেয়া আর রেজাল্ট গননা সম্ভব। আপনারা উপরে দেখবেন এক আর ভিতরে হবে আরেক।
নর্মালি, আমি হয়ত প্রচুর গর্ববোধ করতাম বাংলাদেশ নিজেদের তৈরি ইভিএম মেশিন ব্যবহার করতে যাচ্ছে, কিন্তু যেখানে মানুষকে নিজের ভোট নিজেকে দিতে হয়না, দিলেও ব্যালট বাক্স আগে থেকেই সিল মারা ব্যালোটে ভরে রাখা হয়, যেখানে নির্বাচনে কারচুপির সাগর পরিমান পূর্ব উদাহরন, সেখানে নিজেদের বানানো ইভিএম মেশিন এবার সাঙ্ঘাতিক কারচুপির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন এও শোনা যাচ্ছে যেখানে ইভিএম মেহিন ব্যবহার করা হবে সেখানে সেনা মোতায়েন করা হবে। ডাসন্ট ম্যাটার সেনা বাহিনী অথবা হোয়াটেভার…… সকল কারচুপি ঐ মেশিনের ভিতরের ১০ ০১০০১১০০০১১০… ডিজিটাল কোডে। মেশিনের বাইরে নিউক্লিয়ার মিসাইল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আর্মির বাপের সাধ্য নাই কারচুপি ধরার।

* লেখক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরে কর্মরত প্রকৌশলী

Content Protection by DMCA.com

কিন্তু হঠাৎ করেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট: নির্বাচনের আগে সরকার নমনীয় , তবে কাটেনি সংকট

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন

Content Protection by DMCA.com

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সরব হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মহল

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 29