নমিনেশন পেপার নিয়ে বিএনপি অফিসে মহা হুলুস্থুল! সামনে জনসমুদ্র! অস্থির প্রধানমন্ত্রী ডাকলেন গোয়েন্দা সংস্থা! ওবায়দুল কাদেরের তোতলামি!

সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তোলা উপলক্ষে গত দু’দিন যাবৎ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলছে মহাব্যস্ততা। চারিদিকের এলাকা লোকে লোকারণ্য। গতকালের চেয়ে আজকের মানুষ কয়েকগুণ বেশি। যেকোনো সময়ের মহাসমাবেশের চেয়ে কম নয়। ভিআইপি রোড, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ সব মানুষে ঠাসা। কোথাও তিল ধারণের যায়গা নাই। হাতি ঘোড়া ভেঁপু নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

এত লোক সমাগমের খবর পৌছায় আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনার কানে। তিনি ভিডিও দেখে অস্থির হয়ে পড়েন। আজ বিকালেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের ডাকলেন। জানতে চান, কি খবর দিলেন আপনারা? এ অবস্থা চললে এরা তো ঠেলা দিয়া সারা দেশ দখলে নিয়া নিবে। কিভাবে কি হবে? এদের ঠেকান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাকেও ধমকান, “কি দল চালাও তুমি? তোমার ওখানে লোক নাই কেনো? মাশরাফিরে নাকি জুতা মারছে? এরকম চললে এলাকায় যেতে পারবা? তোমাদের সিস্টেম তো সব ফেল মারবে? ধমক খেয়ে ওবায়দুল কাদের তোতলাতে থাকে, আপা, আপা আমি দেখতেছি, হুদা সাহেবের সাথে কথা বলে দেখি থামানো যায় কি না! আইজিপিকে বলেন, একটু টাইট দিতে! “আরে রাখো তোমার আইজিপি? এই পুলিশ পুলিশ করেই তো দলটা শেষ করলা? মানুষ নাই কাদের, কি দিয়া রাজনীতি করবা? এই পুলিশ আর সরকারী কর্মচারী আমি খুব ভালো চিনি। যতকিছুই দেই না কেনো, কেউ থাকবে না। সব বেইমানের বাচ্চা। মানুষ দেখলে একটাও থাকবে না, বুঝলা”, বললেন নেত্রী!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশ হাই কমিশনের দেওয়া মামলা থেকে খালাস পেলেন এম এ মালিক

Content Protection by DMCA.com

শোডাউন, হুঁশিয়ারি!

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার ‘বদু কাকা’ ডিগবাজী দিয়ে এখন তার কিংসপার্টির প্রধান

।। বিশেষ রিপোর্ট।।
গোটা জাতি যখন একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অান্দোলন করছে তখন জনসমর্থন শূন্য এক নব্য গাদ্দারের আবির্ভাব ঘটেছে রাজনীতিতে।
স্বৈরাচার হাসিনার বদু কাকা ওরফে বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার পক্ষে ডিগবাজী দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কিছুদিন আগেও সোচ্চার থাকা বি চৌধুরীকে ব্যাংক ডাকাত হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বি-টিম হিসাবে মাঠে নামিয়েছে।তার নেতৃত্বে গঠন করা হচ্ছে কিংস পার্টি। হাসিনার পক্ষে একালের মীর জাফর বদরুদ্দেজা চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামাছে।রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভার পাল্টা হিসাবে বি চৌধুরী বৃহস্পতিবার জনসভা করবে সাতক্ষীরায়।শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডে কাল দুপুর ২ টায় তার জনসভার আয়োজন করেছে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজা।
বি চৌধুরী তার কুলাংগার পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদ সদস্য করানোর জন্য তার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের একাংশ নিয়ে পুরোপুরি ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে। প্রতারক সর্দারনী হাসিনা এই কিংস পার্টিতে শুক্রবার আরো কিছু নামগোত্রহীন ভুইফোড় পার্টিকে যোগদান করাবে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে। ৭ নভেম্বর তারা দেখা করেছে বি চৌধুরীর সাথে।
গণভবনে হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষেই তিনি স্পষ্ট করেন নিজের পল্টিবাজীর অবস্থান। জানিয়ে দেন, সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন। এরপর ৬ নভেম্বর হাসিনার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে বলে এসেছে তফসিল পেছানো যাবে না।বিকল্পধারার মহাসচিব চিহ্নিত রাজাকার মেজর অব.আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বি চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসির কাছে পৌছে দেন।
অথচ কিছু দিন আগেও বি চৌধুরী বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন দলকানা। সরকারের প্রতি অন্ধ। তাদের মেরুদন্ড একটি দলের কাছে রেখেছে।এই দলবাজ ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। হাসিনার বদু চাচার কাছে এখন সেই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতর হয়েছে.।
বি চৌধুরী এই স্বৈরাচারী হায়েনা সরকারকে হঠাতে যে পাচ দফা দাবীতে সোচ্চার ছিলেন তা এখন গুলে খেয়ে প্রকাশ্য দালালী করছে।তিনি বলেছিলেন,
দেশ চরম স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচার দশ বছরে দেশ জাতি সব ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতারক মিথ্যাবাদী।নির্বাচনের আগে সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিতেই হবে।না হলে আমরা নির্বাচনে যাবো না।তিনি বলেছিলেন,এসরকারের শরীর অসুস্থ। অনেকটা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা রোগীর মতো সরকার।এদের আর দেশ চালাতে দেয়া যাবে না।
৮৬ বছর বয়স্ক সেই বি চৌধুরী এখন হাসিনার খেলার পুতুল। জাতিয় বেঈমান।বদু কাকা বলার পর খুব গোসসা করেছিলো বিচৌধুরী। তখন বদু কাকা শব্দটি বিষাক্ত মনে হলেও এখন সেই নাম বড় মধুর হয়ে গেছে।
তার জীবনের সব নাম যশ সম্মান খ্যাতি পদ পদবী যে দলের বদন্যতায়,যাদের পাতে খেয়ে দেয়ে আজ গালভরা নাম ডা.একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ,সেই পাতে বিস্টা ত্যাগ করছেন শেষ বয়সে এসে।

হুসেইন মু. এরশাদ এবং বি. চৌধুরী। দুজনেই পড়ন্ত বয়সে।দুজনেই রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন। আরো সাদৃশ্য হলো দুজনই এখন পল্টিবাজী -ডিগবাজীতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।সারাদেশের মানুষ এরশাদ কাকা”র সাথে আরেকজন নতুন কাকাকে পেলো “বদু কাকা ”!
আগামীতে হাসিনার আচলের তলে ঢুকে ক্ষমতার হালুয়া রুটি ভাগের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ২নভেম্বর বি চৌধুরী হাসিনার সাথে সংলাপে গিয়ে তার জীবনের শেষ অভিপ্রায় হিসাবে বলেছেন, তিনি হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান আর তার লম্পট পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা দেখতে চান।
এরপর থেকে এরশাদ আর বদু কাকা পরস্পর জানি দুশমনে পরিনত হয়েছেন। বি চৌধুরী জাতীয়পার্টি ছেড়ে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় জনসভা করবে এটা জানতে পেরে এইচ এম এরশাদ আজ ৭ নভেম্বর ঘোষনা দিয়েছেন তিনি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন) আসনে প্রার্থী হবেন।
দেশের স্বৈরাচার হাসিনা কবলিত প্রতিটি মানুষ এই জাতীয় গাদ্দার নব্য পল্টিবাজ বদুকাকা এবং পুরানো রাজনৈতিক ক্লাউন এরশাদকে প্রতিহত করার সংকল্প নিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

৭ দিনের মধ্যেই সব ধূলোর মতো উড়ে যাবে: মান্না

 

৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো সব উড়ে যাবে: মান্নানাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো সব উড়ে যাবে বলে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে এ গণঅনশন আয়োজন করেছে বিএনপি।

মান্না বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। নতুন করে আরেকটি মামলায় ৭ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু টিকবে না। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সব ধূলোর মতো উড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। সংলাপের নামে কোনো ধাপ্পাবাজি চলবে না। খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আব্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ অন্যরা।

এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জে এস ডি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার জন্য গণঅনশনে মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

 

খালেদা জিয়ার জন্য গণঅনশনে বিএনপি
ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় সাজার রায়ের প্রতিবাদে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে এই কর্মসূচি শুরু করে দলটি। বেলা তিনটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাট্যমঞ্চের প্রবেশপথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দুই স্তরে চেয়ারে বসে এবং কর্মীরা সামনের অংশে কার্পেটে বসে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

বিএনপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমাবেশে নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আজ বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশি করতে দেখা যায়নি।

একই দাবিতে গতকাল বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি। যদিও কর্মসূচি শেষের আগেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে কর্মসূচিস্থল ত্যাগ করেন।

গত মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিলের রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। এদিনই বিএনপি তিন দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আজ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ দলে অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

Content Protection by DMCA.com

অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো, সবাই প্রস্তুত থাকুন —————তারেক রহমান

।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, পৌরসভাসহ সকল পর্যায়ে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো। অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। ফিরিয়ে আনতে পারবো আওয়ামী-বাকশালীদের ধ্বংস করে দেয়া গনতন্ত্রকে।ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে আন্দোলনের মাঠে দেখা হবে।বিজয় আমাদের হবেই।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল যুব এবং তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করবে কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের এবং সফলকাম করতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যেভাবে তোমরা কোটা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলে। সেই আন্দোলনের মতোই করতে হবে আগামী দিনের আন্দোলন। যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে,যাতে করে মানুষ পুড়িয়ে, লাশের ওপর রাজনীতি করা আওয়ামীলীগ আমাদের সামনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে। আমরা তাদের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, যে আন্দোলনের ডাক বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ দিয়েছে তাতে সকলের আদর্শিক স্লোগানটি হওয়া উচিত “যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য যুবদলের অালোচনা সভায় তিনি এই আহবান ও নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার স্থানীয় রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২ টায়) তিনি ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন, নিপীড়নসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন।

দেশনায়ক তারেক রহমান বলেন, আমি জানি শুধু আমার দলের নেতাকর্মীরা নয়, একই সাথে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ আছে, লক্ষ কোটি যুবক আছে, তরুণ আছে যারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া বাক-স্বাধীনতা উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আজকে আপনাদের এখানে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে যে আমাদের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই, কিন্তু এখানে একটি কথা আছে। আপনারা যদি ইউটিউব ঘাটেন দেখবেন, এই রং হেডেড শেখ হাসিনা সম্পর্কে তাদের দলের এক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন- কিভাবে শেখ হাসিনা বাসের উপর পেট্রোল বোমা মেরে লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। এটি তাদের নেতাই বলে দিয়েছে রং হেডেড নেত্রী সম্পর্কে, এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ ২০০৭ সালে দেখেছে কিভাবে তারা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তার উপর নেচে উল্লাস করেছে। তার কথার প্রমাণ হিসেবে শেখ সেলিমের কথা প্রমাণ হলো। ২০১৪ সালে যখন আমার নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধারে আন্দোলন করছিল সেই সময়ে এই আওয়ামী লীগের নেতা তাদের আরেক নেতার নির্দেশ মোতাবেক কি করেছিল। বরিশালের এক নেতা প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন তার এলাকার আরেক নেতা কিভাবে বাসের মধ্যে আগুন দিয়ে ১১ জন মানুষকে হত্যা করেছে। কাজেই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে মানুষের লাশের উপর রাজনীতি করা এটি ওদের রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি নয়। বিএনপি কখনো এই ধরনের রাজনীতি করে না। আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করি। বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একটি নয়, দশটি নয় শত শত প্রমাণ আছে যে তারা মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতি করে। কাজে এই বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে তারা আমাদের সামনের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই বর্তমানের অবৈধ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময় রং হেডেড শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমান সহ ১৪ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। আমরা দেখলাম ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে একটির পর একটি নিজের নামের মামলাগুলো তারা ঠিক সরিয়ে ফেলল। মামলার মুখোমুখি তারা আর হলোনা। কিন্তু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এইসব মামলাগুলোর বিষয়ে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না। কাজেই আমার প্রশ্ন আমার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে এবং তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে, কি জন্য সম্ভব নয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার এবং প্রশ্ন করার?

দেশনায়ক বলেন, আমরা জানি যে কোনো সাংবাদিক কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা যে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে যদি তার কোন কিছু জানার প্রয়োজন থাকে। শেখ হাসিনাকে কেন প্রশ্ন করা যাবে না? কেন তিনি তার মামলা গুলো সরিয়ে নিলেন? এর উত্তর হচ্ছে- গণতন্ত্র নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। দেশের প্রধান বিচারপতি যাকে এই অবৈধ সরকারই নিয়োগ দিয়েছিল তাকে কিভাবে এই অবৈধ সরকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিল। প্রধান বিচারপতিকে তারাই নিয়োগ দিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে কেন তাকে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল? কারণ এই ভদ্রলোক যখন দেখলেন দিস হেজ বিকাম টু মাচ! তাকে দিয়ে হাসিনা একটির পর একটি রায় বাস্তবায়ন করাচ্ছে এবং তার পক্ষে আর কোনো মিথ্যা আবদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং তিনি যখন আর সায় দিলেন না এবং তিনি রায় পড়তে অস্বীকার করলেন তখন তারা তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগলো। এর আগে আমরা দেখেছি মোতাহের সাহেব নামে আরেকজন বিচারপতিকে মিথ্যা রায় পড়ার জন্য যখন বাধ্য করা হয়েছিল কিভাবে তখন তাকে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বের করে দিয়েছিল দেশ থেকে। এইসব নির্বাসিত বিচারপতিদের কাছ থেকেই এই বক্তব্য গুলো এসেছে যে তাদের কিভাবে বের করে দেয়া হয়েছে। যখনি তারা সুযোগ পেয়েছে জাতির সামনে তারা বলেছে কিভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সবার কাছে এটি পরিষ্কার যে যারা সাধারণ মানুষের বিচার করবে তারাই যেখানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত সেখানে কিভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া সম্ভব?

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হাসিনার চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বর্ননা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে সকালবেলা কি দেখলাম? বিচারপতিকে রায় দিতে বাধ্য করা হয়েছে, ৩ দিন ঘরে আবদ্ধ করে রেখে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তাকে জীবনের হুমকি দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে আমাদের প্রিয় নেত্রীর নামে মিথ্যা রায় দেয়ার জন্য। আজকে এই হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। আজকে বাংলাদেশের কোন বিচারপতি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে পারেন না।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই অবৈধ সরকার আমার নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে- ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তারা আসামি করেছে। ১৫শ’র বেশি মানুষকে গুম করেছে। আর যখন নির্যাতন অত্যাচার এর সংখ্যা কোন ক্যালকুলেটরে পরিমাণ করা যাবে না। এই মানুষগুলোর অপরাধ এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। এই মানুষগুলো অবৈধ শেখ হাসিনার সরকারের মিথ্যা, লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার দলের নেতা কর্মী নয় সাধারণ মানুষ, যুবক, তরুণ যারা কোটার আন্দোলন করেছে তাদেরকে কিভাবে দমন করা হয়েছে। তারা চেয়েছিল কোটার বিন্যাস করতে। এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন। আমরা দেখলাম কি নির্মম ভাবে, বর্বর জঙ্গি ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কীভাবে এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কষ্ট দেয়া হয়েছে। আজও আমরা দেখি অনেকগুলো মানুষ জেলখানায়। একদিকে বলছে কোটা মেনে নিলাম, আরেক দিকে দেখা যাচ্ছে এই যুবকগুলোর লাশ নদীতে ভাসছে। এই যুবকগুলোসহ বহু সংখ্যক মানুষ জেলখানার ভিতরে ধুকে ধুকে মরে যাচ্ছে। এ এক আজব ব্যাপার!

তারেক রহমান বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা যার বেতন মাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আপনারা তো পৃথিবীর একটি উন্নত দেশে আছেন এবং এখানে বসবাস করছেন। আপনারা কি কেউ শুনেছেন ইউরোপে কিংবা আমেরিকায় কোথাও সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপদেষ্টার বেতন বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা? এই বিষয়টা কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জনগণের কাছ থেকে? সৌভাগ্যক্রমে তাদের একজন অবৈধ মন্ত্রীর কাছ থেকেই জাতি এই মেসেজটি পেল। লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? জনগনের টাকা আপনি তাকে বেতন দিবেন সেটা আবার লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? যখন এই ঘটনাটি অবৈধ মন্ত্রী ফাঁস করে দিল তখন অবৈধ মন্ত্রীকে সেখান থেকে তারা সরিয়ে দিল। তাকে কয়েক দিন জেল খাটালো।

তিনি বলেন, পত্রিকার পাতায় আমরা দেখলাম এই রং হেডেড শেখ হাসিনার প্রতিদিনের আপ্যায়নের বিল ২ লক্ষ টাকা। আপনারা সবাই বাংলাদেশের মানুষ ক্যামেরার ওপারে যারা বাংলাদেশ থেকে দেখছেন আমার জিজ্ঞাসা তাদের কাছে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা আপ্যায়ন বিল কি একটি আজব ব্যাপার নয়? এই টাকা তো জনগনের টাকা। অথচ ২ লক্ষ করে শুধু আপ্যায়ন বিল। বাকি অন্য খরচ তো বাদ দিলাম। কাজেই, একদিকে অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বেতন এবং আপ্যায়ন বিল প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা। এই হচ্ছে জাতির ওপর স্টিমরোলার চাপানো।

তারেক রহমন বলেন, তাদের নেতা-কর্মী বলেন, মন্ত্রী বলেন লুটপাটে ব্যস্ত। বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হলমার্ক, ডেসটিনির মত একটার পর একটা ব্যাংক খালি করে যাচ্ছে, ধসে পড়ে যাচ্ছে। গতকালকে দেখলাম আরো চারটি ব্যাংকের পারমিশন দিয়েছেন। যাবার তো সময় হলো, আরো যত পারি নিয়ে যাই- এই হলো তাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য।

দেশনায়ক বলেন, শুধু ব্যাংক খাত থেকে তারা গত কয়েক বছরে জনগণের ২ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই যে ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল আজ পর্যন্ত কি আমরা দেখতে পেয়েছি একটা লোক কিংবা একটি গ্রুপকে ধরেছে যারা এই কাজটি করেছে? ব্যাংকগুলো জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুপ করেছে এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার। লুটপাটের এক মহোৎসব দেশের মধ্যে। জনগণের সম্পদ লুটের এক মহোৎসব। কারো কোন বিচার নেই, কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ তামা হয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে দেখে আসলাম কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংএ রড দেয়া হয় এখন দেখলাম রডের বদলে ডিজিটাল স্টাইলে বাঁশ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম রেল লাইনের ২ স্লিপার জোড়া লাগানোর জন্য মাঝখানে কাঠ এর পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রেখেছে। এই যে সব যায়গায় বাঁশ দিচ্ছেন, এই বাঁশ কোনদিক দিয়ে ঘুরে কোন দিকে যাবে, তা সময়মতো টের পাবেন। বাংলাদেশের জনগণ এইটা কয়দিন পরে হারে হারে দেখিয়ে দিবে।

তারেক রহমান বলেন, যখন সাগর-রুনি হত্যা হলো তখন শেখ হাসিনা বললেন ঘরে ঘরে ঢুকে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। বুঝলাম ঠিক আছে ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশের পক্ষে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে দেখলাম এই ছোট ছোট বাচ্চারা ছোট ছোট বোনেরা এরা যে নিরাপদ বাংলাদেশ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলো তারপর আমরা দেখলাম তাদের ওপর হেলমেট লীগের আক্রমণ। আশা করি ইনশাআল্লাহ আর বেশিদিন নেই জাতিকে এসব তামাশা দেখতে হবে। এসব লুটপাট ও দুষ্কৃতিকারীদের দেখতে হবে। কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যারা আন্দোলন করেছিল তাদের ঘরে ঘরে ঢুকে রেইড দিয়ে তাদের ফেসবুক চেক করে তাদেরকে ধরে আনা হয়েছিল নির্যাতন করা হয়েছিল? এর জবাব দেয়ার সময় চলে এসেছে এবং এর জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, একদিকে লুটপাটের মহোৎসব অন্যদিকে সমগ্র জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে সেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য, যে বাক স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে সে বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য তখন এদের (আওয়ামীলীগ) সাথে যোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন নামের সংস্থাটি। কিভাবে এদেরকে আবার জনগণের সম্মতি ছাড়া জিতিয়ে আনা যায় এবং এর জন্য তারা অপকৌশল চালাচ্ছে এবং পরিকল্পনা করছে কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা যায়। পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে সামনে বলে দিতে চাই এই যে জনগণের ভোট চুরির যে পরিকল্পনা করছেন এবং ইভিএম কেনার নামে জনগণের যে চার হাজার কোটি টাকা লুটের পরিকল্পনা করছেন এর থেকে সাবধান। যদি করেন গুনে গুনে জনগণ এর জবাব নিবে। আজকে আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গণতন্ত্রের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের তালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে প্রস্তুত আছে, ঠিক একইভাবে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তরুণ প্রস্তুত আছে। আজকে যুবক ভাইদেরকে, তরুণ বন্ধুদেরকে আমি আহবান করব- তোমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছো, তোমরা বইয়ের পাতায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছো, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনেছো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। আজ তোমাদের সামনে সুযোগ এসেছে যে বাংলাদেশ তোমরা চেয়েছিলে, যে বাংলাদেশ আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীন করেছে, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের কারণে অনেক বার হোঁচট খেয়েছে সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।

তরুন সমাজকে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, কোনো ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমাদের দল সমর্থন করে না। আমার অনুরোধ থাকবে আমার তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে দেশ তোমাদের, ভবিষ্যৎ তোমাদের দায়িত্ব ও তোমাদেরকে নিতে হবে। এবং সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। যুব সম্প্রদায়কে সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে কিভাবে সে আন্দোলনকে সফল করতে হবে। ভবিষ্যৎ তোমাদের দেশ তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদেরকেই করে দেখাতে হবে যে তোমরা পারো এবং তোমরাই পারো।

ইনশাআল্লাহ, আপনারা প্রস্তুত হন আপনারা যারা দেশের বাইরে আছেন আপনারা আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। যারা দেশের ভিতর আছেন আপনাদেরকে আপনাদের অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি। এই আন্দোলন সেই আন্দোলন, যে আন্দোলনে নারী, পুরুষ, যুবক, তরুণ সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সে আন্দোলনের সম্ভব হবে সেই দেশটিকে গড়ে তোলা যে দেশের স্বপ্ন আমাদের তরুণ এবং যুবক ভাইরা বুকে ধারণ করে।
তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করার জন্য ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। কোন যুব সম্প্রদায়কে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত করা না যায়, যদি সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়া না যায় তাহলে কোন দেশের পক্ষে অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব না। সেজন্যই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন যাতে করে দেশের যুব সমাজকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় এবং সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করা যায়। যেন সমগ্রদেশের সমস্ত যুব সম্প্রদায় দেশ গঠনে অবদান রাখে। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে বলতে হয় যে, এই স্বৈরাচারী সরকার যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকার তাদের প্রধান বর্তমান শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সাথে অন্য সন্তানদের মুখোমুখি করে দিল কোটা আন্দোলনের মোকাবেলার কথা বলে। সরকারের প্লান ছিল যদি তারা যুবক সম্প্রদায়কে শেষ করে দিতে পারে তাহলে অবৈধ ক্ষমতার নীলনকশা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কিন্তু আমাদের যুব সম্প্রদায় ঠিকই আসল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা দাবি নিয়ে সামনে চলে এসেছে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করেছে। এরকম আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। আজকে এখানে যতজন বক্তব্য দিয়ে গেছেন প্রত্যেকের কথার মধ্যে একটি কমন জিনিস ছিল। আজকে আমরা সকাল বেলায় যদি পত্রিকা দেখি তাহলে দেখবো স্বৈরাচারী সরকার এবং তাদের সাথে যারা আছে তাদের লুটপাটের খবর। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দলের কর্মীর কথা হল জনগণের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকার, জনগণের নিরাপত্তা, জনগণের ভোটের অধিকার এবং জনগণের বাক স্বাধীনতার অধিকার। এই কয়েকটি শব্দ প্রতিদিন ঘুরে ফিরে প্রত্যেকটি মানুষ প্রতিদিন উচ্চারণ করছে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে, এই কয়টি জিনিস এই সরকারের সময় অনুপস্থিত।

বক্তব্যের শুরুতেই দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের যুবদলের সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। তিনি স্মরণ করেন সেই সব নেতাকর্মীদেরকে যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে’।

Content Protection by DMCA.com

ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশের রেশ এখন সর্বত্র

Content Protection by DMCA.com

বিনা ভোটে এমপি হতে চেয়ে শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারী নির্বাচনকে নতুন করে লজ্জায় ফেললেন যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন!

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন গাজীপুরের কাজী আবুল হোসেন মাস্টার। একাদশ জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৩ আসনের এমপি হতে চান তিনি। একই উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সিইসির কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। চিঠিতে নিজেকে গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দাবি করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। চিঠির সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন। এমপি হওয়ার আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার শখ এমপি হবেন। তিনি জানতে পেরেছেন গতবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেকেই এমপি হয়েছেন। তাই এবার ভোটের আগে তিনি প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আবুল হোসেন জানান, গতকাল পর্যন্ত তার আবেদনের বিষয়ে কারও পক্ষ থেকে সাড়া পাননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ১৭ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার জন্য কি প্রয়োজন তা জানতে চেয়েছেন আবুল হোসেন। এর আগে ১৫ই অক্টোবরের চিঠিতে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন আবুল হোসেন। ওই আবেদনে তিনি লিখেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন সিইসি বরাবর আবেদন করলে এমপি হওয়া যাবে। কাজী আবুল হোসেন মাস্টার নিজেকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের মৃত আলহাজ মো. ইসলাম উদ্দিন কাজীর ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছেন চিঠিতে। আবেদনের সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারও যুক্ত করেছেন আবুল হোসেন মাস্টার। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি লিখেছেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে যুব উন্নয়নে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে পরিবেশবান্ধব ও সেবামূলক কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে পরিচিত করেছেন তিনি। বর্তমান কর্মপরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, শিক্ষা, শান্তি, যোগাযোগ অবকাঠামো প্রণয়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কাজে নিজেকে উপস্থিত রাখেন তিনি। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে, দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা, স্বাধীন জীবন যাপন, কারিগরি শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য ও বাসস্থান নিশ্চিত করা, সমাজের প্রতি দৃষ্টি রাখা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল করা, বাণিজ্য ক্ষেত্রে ব্যাংকিং সহযোগিতা, শিল্পায়ন স্থাপন, বেকার সমস্যা দূর করাসহ আরো অনেক কিছু। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি গাজীপুর-৩ আসনের আওয়ামী লীগের এমপি হতে চান।

/মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com

আন্দোলন ও নির্বাচন ২ প্রস্তুতিতেই বিএনপি

আন্দোলন ও নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সরকারবিরোধী নবগঠিত বৃহত্তর প্লাটফর্ম জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে এ তৎপরতা। ফ্রন্টের নেতারা একদিকে আন্দোলন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে কাজ করছেন, অন্যদিকে নির্বাচনী আসন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপারে সার্বিক পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্যসংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে চূড়ান্ত করা হবে প্রার্থী মনোনয়ন। এসব কর্মতৎপতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হবে একাধিক টিম। বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো ও নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একের পর এক জরিপ করা হচ্ছে আসনভিত্তিক। সেই সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অর্ধেক নির্বাচনী প্রস্তুতি সেরে নিতে চায় বিএনপি।

এদিকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে যখন জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে তখন ২০ দলীয় জোট ছেড়ে গেছে দুটি শরিক দল। বিষয়টিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্টে সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে বিএনপি। তবে ২০ দলের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে দল দুটির একাংশ। তার পরও নির্বাচনী আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করতে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি নেতারা। বাস্তবতাসাপেক্ষে প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দিচ্ছে জোটের শীর্ষ দল বিএনপি। যদিও কৌশলগত কারণে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি এখনই প্রকাশ্যে আনতে চায় না বিএনপি।

বিএনপি সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানোর একটি উদ্যোগ নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তারই অংশ হিসেবে বহিষ্কারের কারণ, এলাকার জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতার সার্বিক তথ্যসহ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। সে তালিকার অনেক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের নির্দেশনাও দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ ছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনী আসনে নেতাদের দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটাতে কাজ করছেন একটি টিম। বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসনভিত্তিক একাধিক জরিপ করেছে বিএনপি। আলাদা আলাদা সে জরিপের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মার্কিং করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এ ছাড়া দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মহাসচিবসহ যাদের আসনে জটিলতা নেই তারা নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন। সম্প্রতি এলাকায় গিয়ে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কয়েক দফায় ক্ষমতাসীনদের রোষানলেও পড়েছেন। এদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে প্রার্থিতার সবুজ সংকেত না পেলেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নেতারা এলাকায় কাজ করছেন। তারা নানা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাচ্ছেন। ঘরোয়া বৈঠক, অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় ও ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান দিচ্ছেন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, বড় ও গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বিএনপি।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এ প্লাটফর্মের কর্মতৎপরতা। তারই অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে প্রথম কর্মসূচি হিসেবে আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিকাল ৩টায় গুলশানের হোটেল লেকশোরে এ মতবিনিময় করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মতবিনিময় সভায় কূটনীতিকদের সামনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় নির্বাচন কেন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে এবং দেশের বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এই দাবির পক্ষে, তা কূটনীতিকদের জানানো হবে। ঐক্যফ্রন্টের ঘোষিত ৭ দফা দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হবে। সেই সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের ১১ লক্ষ্য ব্যাখ্যা করা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, সরকারের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন তারই একটি রূপমাত্র। এর বাইরেও বামজোটসহ অনেক দল সরকারের বিপক্ষে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে স্বতন্ত্র অবস্থান থেকে আন্দোলনে সোচ্চার হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের বাইরে পেশাজীবী ও সুশীল সমাজও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। এই ঐক্যের প্রক্রিয়া দিনকে দিন জোরদার হবে। ঐক্যের মাধ্যমে সারা দেশে সরকারবিরোধী জনমত সংগঠিত হবে। সেই জনমতের চাপে সরকার দাবি পূরণে বাধ্য হবে। নেতারা বলছেন, আন্দোলন কেবল রাজপথেই হয় না। রাজপথের বাইরেও আন্দোলন রয়েছে। প্রচলিত ধারার আন্দোলন কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে শান্তিপূর্ণ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির মাধ্যমে পথ চলবে ঐক্যফ্রন্ট।

বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা জানান, এখন তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুইটি বিষয়- আন্দোলন ও নির্বাচন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ঘোষিত সাত দফা দাবি আদায়ের কৌশল ও কর্মসূচি প্রণয়ন এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। দফায় দফায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে কর্মকৌশল ও কর্মসূচি নিয়ে। তারা সবাই, জনসম্পৃক্ত কিন্তু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের পথে হাঁটতে একমত। মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং পেশাজীবীসহ বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা সে চাপ সৃষ্টি করতে চান। তবে পরিস্থিতি বাধ্য করলে রাজপথের কড়া কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিএনপি নেতারা জানান, আন্দোলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের। সেজন্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও করবেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট একটি টিম। সেখানে বিএনপির শক্ত ভোটব্যাংকগুলোতে দলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকেই বেছে নেয়া হবে। অন্যদিকে যেসব আসনে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান এবং ভোট ব্যাংক তুলনামূলক দুর্বল সেখানে ২০ দলীয় জোটসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের বিবেচনা করা হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চলমান আন্দোলন সম্পৃক্ত কোনো পক্ষকেই মনোনয়ন বঞ্চিত বা হতাশ করা হবে না।

বিএনপি নেতারা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন ও মূল্যায়নের ব্যাপারে বিএনপির ওপর চাপ তৈরি করে আসছিল কয়েকটি শরিক দল। এই নিয়ে শরিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি, অসন্তোষও ছিল। এসব দল তাদের মূল্যায়নে চাইছিলেন দৃৃশ্যমান আশ্বাস। তবে জোটের ঐক্য ধরে রাখা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আন্দোলনে মনোযোগ ধরে রাখতে তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছিল না বিএনপি। এমনকি নিজ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো সংকেত দেয়নি। এছাড়া ২০ দলীয় জোট বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্যান্য দলের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ার ব্যাপারে কিছুটা অস্বস্তি ছিল কয়েকটি শরিক দলের। জাতীয় ঐক্য গড়ার বিষয়টিকে জোটের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারে কিছু নেতার বক্তব্য সেটা তীব্র করে তুলেছিল। ফলে জোটের অনেক শরিক এই ঐক্য গঠনের সমালোচক ছিলেন। তাদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছিল- আগামী নির্বাচনে তাদের থেকে এই ঐক্যকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিএনপি। এ নিয়ে দুয়েকটি শরিক দলের সন্দেহ আর অবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতাসীন মহল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। যার ফলে বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপির একাংশ ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দেয়। বিএনপি শুরুতে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় শরিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন সিনিয়র নেতারা। বিএনপি স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য বলেন, ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের ওপর ক্ষমতাসীনদের তরফে চাপ ও টোপ রয়েছে। তবে তারা আশা প্রকাশ করেন অন্য কোনো শরিক দল চাপের মাধ্যমে নতি স্বীকার ও লোভের কাছে পরাজিত হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য থেকে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি নিজেই শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করছেন। বিএনপি নেতারা জানান, গত বৃহস্পতিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিন নেতা মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রমের বাসায় যান। এসময়ে তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির অবস্থান, অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। সার্বিক বিষয়ে তার পরামর্শও নেন। এছাড়া বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের জন্মদিনে তার বাসায় যান বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। একইভাবে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খানসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বিএনপি নেতারা জানান, শরিক দলগুলোর আস্থা রক্ষায় নেতারা তাদের বাসায় যাচ্ছেন, আলাদা করে আলোচনা করছেন।

এসব বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তাভাবনা থাকে নানা ধরনের। তবে যে দলগুলো গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে, তাদের মধ্যে হঠাৎই কেউ বেরিয়ে গেলে দেখতে খারাপ দেখায়। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, জোটে কোনো ভাঙন নেই। দুটি দলের কিছু নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দলের বড় অংশটি এখনো জোটেই আছেন। জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে। অন্য কোনো দলের জোট ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছি না। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোট ভাঙছে না। এখানে দু-একজন নেতা চলে গেছেন। তবে তাদের দল থাকছে। তারা ইতিমধ্যে দলত্যাগীদের বহিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য নষ্ট করতে নানামুখী চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র থাকতে পারে, কিছু মানুষের বৈষয়িক লাভও থাকতে পারে। সব জায়গায় এই রকম কিছু মানুষ ঘাপটি মেরে থাকে। কিছু মানুষ বৈষয়িক প্রশ্নে অনেক সময় আপস করে। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এমনটি হয়েছে। এই আপসকামিতা আসলে স্বার্থের কাছে আত্মা বিক্রির নামান্তর। বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ২০ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও শেখ শওকত হোসেন নীলুর নেতৃত্বাধীন এনপিপি। ক্ষমতাসীনদের কোনো ধরনের মূল্যায়ন পাননি নীলু। ইতিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী এখন রাজনীতিতে হতাশ এবং নিষ্ক্রিয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এনডিপি ও বাংলাদেশ ন্যাপের একাংশও রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবে না, হতাশ হবে।

/মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 6