মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যে কৌশলের খেলায় জিতল বিএনপি

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির কৌশলের জয় হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে বিএনপি নেতারা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনছেন। কিন্তু বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন আশঙ্কাই তাঁরা করেছিলেন। নির্বাচনে বিএনপি ৬৯৬ জন প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দে বিএনপির কোন্দল বাড়বে। আওয়ামী লীগ এই প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি জানতো, এরকম একটি পরিস্থিতি হবে।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত যেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়ার মতো অন্তত একজন প্রার্থী থাকে। ঢাকা-১ আসন এবং চট্টগ্রাম-৮ ছাড়া সব আসনেই বিএনপির কেউ না কেউ টিকে গেছে। ঢাকা-১ আসনে বিএনপি দু’জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এরা হলেন, খন্দকার আবু আশফাক এবং ফাহিমা হোসেন জুবলী। অবশ্য এই আসনের বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

তিনি বিএনপিতে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন শুধু মোর্শেদ খান। ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন যে বাতিল হবে, তা আপিল বিভাগের আদেশের পরেই নিশ্চিত হয়ে যায়। এখানে আমান তাঁর ছেলে ইফরান ইবনে আমানকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ান। ফলে এই আসনটিতে বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ সেলিম বাদ পড়েছেন। এই আসনে নবী উল্লাহ নবীই ছিলেন বিএনপির মূল প্রার্থী।

তিনি টিকে গেছে। ঢাকা-৬ থেকে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বাদ পড়লেও, সেখানে কাজী আবুল বাশার বিকল্প প্রার্থী ছিলেন এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ঢাকা-৯ তেও মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ এ মীর নাসির উদ্দিনের আসনেও বিএনপি তিনজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেন। এদের মধ্যে মীর নাসির এবং তাঁর ছেলে মীর হেলালের মনোনয়ন বাতিল হলেও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

বগুড়া-৭ আসনেও বিএনপি তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। বেগম জিয়ার মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মধ্যে সংশয় ছিল, দ্বিতীয় প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের ওপরও তারা ভরসা রাখতে পারেননি। দুজনই মনোনয়নই বাতিল হয়েছে। ওই আসনে তৃতীয় বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তিনি সরকার বাদল।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত দুই কারণে বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, বিএনপি জানতো দণ্ড, ঋণ খেলাপি ইত্যাদি কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। সেজন্য প্রায় সব আসনেই বিএনপি বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল।

দ্বিতীয়ত, এর ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা দূর হলো। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর এখন কেন্দ্র থেকে যাঁকে ধানের শীর্ষ প্রতীক দেওয়া হবে, একমাত্র তিনিই নির্বাচন করতে পারবেন। বাকীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ থাকবে না। ফলে, বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে খুবই কম। তাই বলাই যায়, কৌশলের খেলায় প্রথম দফায় বিএনপি জিতে গেল।

Content Protection by DMCA.com

ধানের শীষের ভোটারদের উদ্দেশ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের আহবান জানালেন তারেক রহমান

———ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন ———‘কারারুদ্ধ মায়ের মুক্তির জন্য সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্পাত কঠিন গড়ে তুলুন’
।। বিশেষ প্রতিবেদক।।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মজলুম জননেতা তারেক রহমান বলেছেন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত, ইনশা আল্লাহ। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ভোট ডাকাতির সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবার আমরা অবশ্যই বিজয়ী হবো ইনশা আল্লাহ। অবশ্যই ‘খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, মুক্তি পাবে গণতন্ত্র। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১ টায় লন্ডন থেকে এক জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তারেক রহমান এই আহবান জানান। তার ভাষনটি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে প্রচারিত হয়। দেশনায়ক তারেক রহমান সবরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ়-ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যারা বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কিংবা যারা মনোনয়ন পাননি, সবাই কি আমরা পারিনা- সেই কারাবন্দি মা’য়ের কথা মনে রেখে সবরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেদের ঐক্যকে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ় এবং ইস্পাতের মতো কঠিন রূপে গড়ে তুলতে?

সারাদেশে আমার দলের সর্বস্তরের হাজার হাজার হাজার নেতা, লক্ষ লক্ষ কর্মী,কোটি কোটি ধানের শীষের ভোটার, একমাত্র আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে আপনার নেত্রীকে মুক্ত করতে। আজ কি আমরা অন্তত একবারের জন্য, আর একটিবারের জন্য কি পারিনা, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের সকল প্রকার রাজনৈতিক চাওয়া পাওয়া ভুলে মা’য়ের মুক্তির জন্য- গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে? তৃণমূলের আমার প্রিয় ভাই ভাই বোনেরা, আমরা কি অন্তত একবারের জন্য আর একটিবারের জন্য কি পারিনা, শুধুমাত্র আগামী কয়টি দিনের জন্য নিজেদের চাওয়া পাওয়া ভুলে উর্ধে উঠে দেশের জন্য-গণতন্ত্রের জন্য মা’য়ের মুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে?

তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে জালিমের কারাগারে নিরপরাধ হাজার হাজার ভাইবোনকে মুক্ত করতে, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোট ডাকাতি রোধ করতে, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে প্রতিটি ব্যালট বাক্সকে নিরাপদ রাখতে। এই ‘ধানের শীষ’ এখন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্বে যদি আমরা জড়িয়ে পড়ি, আমরা যদি বিবাদ বিরোধে জড়িয়ে পড়ি , মা’য়ের মুক্তি-গণতন্ত্রের মুক্তির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারি তাহলে ক্ষমতাসীন অপশক্তি আবারো গায়েবি মামলা কিংবা আদালতের রায়ের অজুহাত দেখিয়ে অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যারা সকল অন্যায় অত্যাচার মোকাবেলা করে নিজেদের প্রস্তুত করে গড়ে তুলেছেন, আপনারাসহ সকল নেতাকর্মীকে আরো বেশি নির্মম নিষ্ঠুরতার নিষ্ঠুরতার মধ্যে ফেলে দেবে। সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল একজনকেই মনোনয়ন দিতে পারবে। এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের ‘এরর অফ জাজমেন্ট’ থাকতে পারে। তারপরও আমি আপনাদের ভাই হিসেবে, আপনাদের সন্তানতুল্য হিসেবে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আমার দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতা কর্মী সমর্থকের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ কারাবন্দি মায়ের মুক্তির কথা বিবেচনা করে দলের সিদ্ধান্তকে আপনারা সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করবেন। দলের ওপর, দেশনেত্রীর ওপর আস্থা রাখুন। আমি কথা দিচ্ছি, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে আপনাদের প্রত্যেকের ত্যাগ তিতিক্ষা যোগ্যতার সর্ব্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্ষমতাসীন অপশক্তি এবং তাদের দোসররা আমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি এবং ঐক্য নষ্টের নানারকম ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল অবলম্বন করছে এবং করবে। এ কারণেই আমাদেরকে সাহস ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। এই অপশক্তি সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের সম্পর্কে, আমাদের প্রার্থী সম্পর্কে এবং আমাদের বিভিন্ন নেতাকর্মী সম্পর্কে বিভিন্নপ্রকার মিথ্যা, কাল্পনিক ও বানোয়াটি খবর কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে জনগণ ও আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি সরকারী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভয় দিয়ে বলেন, ক্ষমতাসীন অপশক্তি এবং তাদের দোসররা মিথ্যে কথা ছড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আমি আগেও বলেছি,আবারো বলছি, আমাদের দল সরকার গঠন করলে অন্যায়ভাবে অথবা রাজনৈতিক কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকুরী যাবেনা। প্রশাসনে যাদেরকে বর্তমান অবৈধ সরকার অপকর্ম করতে বাধ্য করেছে কিংবা এখনো করছে তাদের সামনে একটি সুযোগ এসেছে। এ দেশ আপনাদেরই, এ দেশের জনগণ আপনাদেরই পরিবারেরই অংশ। তাই জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না। জন প্রশাসনের বিধিবদ্ধ আইনকে উপেক্ষা করবেন না। জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীনরা সারাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি- বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করলে দেশ থেকে এই ভয়ের সংস্কৃতি অবশ্যই দূর করা হবে। মানুষ নির্ভয়ে কথা বলবে, নিরাপদে স্বাধীন ও দেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে দেশের ভেতর বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবে। আগামী নির্বাচনটি গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের জন্য একটি সুযোগ এবং অধিকার ও বটে। যে কোনো মূল্যে আপনার এই অধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিন।

তারেক রহমান দলের জন্য নেতা-কর্মীদের ত্যাগ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি অকৃত্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গত এক দশকে সারাদেশে আপনারা বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রতিহিংসার প্রধান টার্গেট। এই ব্যাংক ডাকাত সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতা দখল করেই বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্র শুরু করে। গুম খুন অপহরণ হামলা মামলা ও হয়রানির পাশাপাশি চলেছে অপপ্রচার। কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, এতো অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন করেও শহিদ জিয়ার আদর্শের একজন নেতাকর্মীকেও বিপথগামী করা যায়নি। এর প্রধান কারণ, বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির উৎস দেশের জনগণ। বিএনপির রাজনৈতিক চেতনা মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি সাম্য মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার। বিএনপির সম্পর্ক বাংলাদেশে মাটি ও মানুষের সঙ্গে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের কাছে আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি, এই নির্বাচনটি আমাদের জন্য আন্দোলনের একটি কৌশল। এই নির্বাচনে দলের চার হাজারের বেশি যোগ্য নেতা ও প্রার্থী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যারা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, আপনাদের অনেকেই হয়তো একজন কর্মী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন, এরপর ধীরে ধীরে নিজের যোগ্যতা বলে নিজেকে বিএনপির একজন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন,চলতি মাসের ১৮ নভেম্বর টি ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ধানের শীষের মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছিলেন। আমিও সেখানে সকল প্রার্থীদের সাথে কথা বলেছি। মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত প্রায় সকল প্রার্থীই কেন্দ্রীয়ভাবে এবং নিজ নিজ এলাকায় গত একদশকে বিএনপির বিরুদ্ধে সীমাহীন অপপ্রচার এবং নির্যাতনের পরও ‘ধানের শীষে’র এই দলকে দেশে জনগণের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। তারেক রহমান বলেন, গত একদশক ধরে আপনারা যে অমানষিক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন, দেশের মানুষ যে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছে, তা তখনি বৃথা যাবেনা- যদি আমরা দলের প্রতিটি নেতাকর্মী সব কিছু ভুলে সকল শক্তিকে একত্রিত করে একটি প্রতীকের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে যে কোনো মূল্যে সকল কিছুর বিনিময়ে বাস্তবায়িত করি। আমরা যদি এখনো নিজেদের মধ্যে একে অপরের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে এই বর্তমান স্বৈরাচার আগামীদিন যখনি সুযোগ পাবে, তখন আমাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বহুগুন বাড়িয়ে দেবে। যে সহকর্মীর কাছে আজ আপনি আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন আগামীকাল হয়তো তাও পাবেননা। তাই, আগামীদিন যদি আপনি হাসিমুখে আপনার মতামতটি ব্যক্ত করতে চান, তাহলে আজ থেকেই ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। বাস্তবতা হলো, দেশের তিনশো’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জন্য দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী মনোনয়ন চাইলেও সঙ্গত কারণেই সবাইকে মনোয়ন দেয়া সম্ভব নয়। আমাদের দলের শত যোগ্য নেতা থাকার পরও চলমান বাস্তবতায় তিনশো আসনের প্রতিটিতে আমরা বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিতে পারবোনা। কারণ এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে বিএনপি, জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও অংশ গ্রহণ করবেন। তাই আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আপনারা অনেকেই এই দলে কর্মী হিসেবে এই দলের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। দলকে ভালোবেসে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। দেশনেত্রী এখন মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি। আমার দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী সমর্থক আজ দেশনেত্রীকে শুধু নেত্রীর আসনেই নয়, বরং তাকে মা’য়ের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। শুধু আমার দলের নেতা কর্মীই নয়, দেশের কোটি কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছেও দেশনেত্রী এখন মা’য়ের মর্যাদায়। সেই ‘মা’ জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বছরের পর বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে রাজপথের সংগ্রামে ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি বলেই এই বয়সে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তাকে জেল জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। সেই কারাবন্দি মা’য়ের কথা মনে রেখে সবরকম দ্বিধা- দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেদের ঐক্যকে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ় এবং ইস্পাতের মতো কঠিন রূপে গড়ে তুলতে হবে।একমাত্র আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে আপনার নেত্রীকে, কারাবন্দি মা’কে মুক্ত করতে।

Content Protection by DMCA.com

ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী: ড. কামাল

ড. কামাল নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অপশাসন দূর করতে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা সুসংহত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই জনগণের বিজয় নিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘লঞ্চিং গণফোরাম-লেড পাবলিক পলিসি ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সুশাসন, জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্যজোট ও বিএনপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও সংকট হয়নি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জোট ও বিএনপির মধ্যে সংকট হয়নি। জোট হলে তো আসন ভাগ করতেই হয়। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে।’ তবে এটা কঠিন কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘পিঠা ভাগ করতে গেলেও টানাটানি হতে পারে। কেউ পাবে, কেউ পাবে না। তবে যে পাবে না সে তার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে।’ ফাঁস হওয়া বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপে ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আশা করছি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার হবে না। ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব কিনা, এ ব্যাপারে মত জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিরাশ হতে চাই না। ভোটে বাধা দেওয়া হলে তা স্বাধীনতার বিরোধিতার সমান। কারণ, ভোট জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন শুধু তারাই বঞ্চিত হবে না, পুরো দেশের মানুষ বঞ্চিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে কী করবে, সে ব্যাপারে রেজা কিবরিয়া কথা বলেন। তিনি গণফোরামের পক্ষ থেকে কিছু অর্থনৈতিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

Content Protection by DMCA.com

নমিনেশন পেপার নিয়ে বিএনপি অফিসে মহা হুলুস্থুল! সামনে জনসমুদ্র! অস্থির প্রধানমন্ত্রী ডাকলেন গোয়েন্দা সংস্থা! ওবায়দুল কাদেরের তোতলামি!

সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র তোলা উপলক্ষে গত দু’দিন যাবৎ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলছে মহাব্যস্ততা। চারিদিকের এলাকা লোকে লোকারণ্য। গতকালের চেয়ে আজকের মানুষ কয়েকগুণ বেশি। যেকোনো সময়ের মহাসমাবেশের চেয়ে কম নয়। ভিআইপি রোড, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ সব মানুষে ঠাসা। কোথাও তিল ধারণের যায়গা নাই। হাতি ঘোড়া ভেঁপু নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

এত লোক সমাগমের খবর পৌছায় আওয়ামীলীগ প্রধান শেখ হাসিনার কানে। তিনি ভিডিও দেখে অস্থির হয়ে পড়েন। আজ বিকালেই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের ডাকলেন। জানতে চান, কি খবর দিলেন আপনারা? এ অবস্থা চললে এরা তো ঠেলা দিয়া সারা দেশ দখলে নিয়া নিবে। কিভাবে কি হবে? এদের ঠেকান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলীয় সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাকেও ধমকান, “কি দল চালাও তুমি? তোমার ওখানে লোক নাই কেনো? মাশরাফিরে নাকি জুতা মারছে? এরকম চললে এলাকায় যেতে পারবা? তোমাদের সিস্টেম তো সব ফেল মারবে? ধমক খেয়ে ওবায়দুল কাদের তোতলাতে থাকে, আপা, আপা আমি দেখতেছি, হুদা সাহেবের সাথে কথা বলে দেখি থামানো যায় কি না! আইজিপিকে বলেন, একটু টাইট দিতে! “আরে রাখো তোমার আইজিপি? এই পুলিশ পুলিশ করেই তো দলটা শেষ করলা? মানুষ নাই কাদের, কি দিয়া রাজনীতি করবা? এই পুলিশ আর সরকারী কর্মচারী আমি খুব ভালো চিনি। যতকিছুই দেই না কেনো, কেউ থাকবে না। সব বেইমানের বাচ্চা। মানুষ দেখলে একটাও থাকবে না, বুঝলা”, বললেন নেত্রী!

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশ হাই কমিশনের দেওয়া মামলা থেকে খালাস পেলেন এম এ মালিক

Content Protection by DMCA.com

শোডাউন, হুঁশিয়ারি!

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার ‘বদু কাকা’ ডিগবাজী দিয়ে এখন তার কিংসপার্টির প্রধান

।। বিশেষ রিপোর্ট।।
গোটা জাতি যখন একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অান্দোলন করছে তখন জনসমর্থন শূন্য এক নব্য গাদ্দারের আবির্ভাব ঘটেছে রাজনীতিতে।
স্বৈরাচার হাসিনার বদু কাকা ওরফে বদরুদ্দোজা চৌধুরী তার পক্ষে ডিগবাজী দিয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে কিছুদিন আগেও সোচ্চার থাকা বি চৌধুরীকে ব্যাংক ডাকাত হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বি-টিম হিসাবে মাঠে নামিয়েছে।তার নেতৃত্বে গঠন করা হচ্ছে কিংস পার্টি। হাসিনার পক্ষে একালের মীর জাফর বদরুদ্দেজা চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার মাঠে নামাছে।রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভার পাল্টা হিসাবে বি চৌধুরী বৃহস্পতিবার জনসভা করবে সাতক্ষীরায়।শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ডে কাল দুপুর ২ টায় তার জনসভার আয়োজন করেছে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজা।
বি চৌধুরী তার কুলাংগার পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদ সদস্য করানোর জন্য তার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের একাংশ নিয়ে পুরোপুরি ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে। প্রতারক সর্দারনী হাসিনা এই কিংস পার্টিতে শুক্রবার আরো কিছু নামগোত্রহীন ভুইফোড় পার্টিকে যোগদান করাবে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে। ৭ নভেম্বর তারা দেখা করেছে বি চৌধুরীর সাথে।
গণভবনে হাসিনার সঙ্গে সংলাপ শেষেই তিনি স্পষ্ট করেন নিজের পল্টিবাজীর অবস্থান। জানিয়ে দেন, সংসদ বহাল রেখে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবেন। এরপর ৬ নভেম্বর হাসিনার আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠক করে বলে এসেছে তফসিল পেছানো যাবে না।বিকল্পধারার মহাসচিব চিহ্নিত রাজাকার মেজর অব.আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বি চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইসির কাছে পৌছে দেন।
অথচ কিছু দিন আগেও বি চৌধুরী বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশন দলকানা। সরকারের প্রতি অন্ধ। তাদের মেরুদন্ড একটি দলের কাছে রেখেছে।এই দলবাজ ইসি পুনর্গঠন করতে হবে।এদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। হাসিনার বদু চাচার কাছে এখন সেই নির্বাচন কমিশন যোগ্যতর হয়েছে.।
বি চৌধুরী এই স্বৈরাচারী হায়েনা সরকারকে হঠাতে যে পাচ দফা দাবীতে সোচ্চার ছিলেন তা এখন গুলে খেয়ে প্রকাশ্য দালালী করছে।তিনি বলেছিলেন,
দেশ চরম স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের কবলে পড়েছে। এই স্বৈরাচার দশ বছরে দেশ জাতি সব ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতারক মিথ্যাবাদী।নির্বাচনের আগে সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিতেই হবে।না হলে আমরা নির্বাচনে যাবো না।তিনি বলেছিলেন,এসরকারের শরীর অসুস্থ। অনেকটা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) রাখা রোগীর মতো সরকার।এদের আর দেশ চালাতে দেয়া যাবে না।
৮৬ বছর বয়স্ক সেই বি চৌধুরী এখন হাসিনার খেলার পুতুল। জাতিয় বেঈমান।বদু কাকা বলার পর খুব গোসসা করেছিলো বিচৌধুরী। তখন বদু কাকা শব্দটি বিষাক্ত মনে হলেও এখন সেই নাম বড় মধুর হয়ে গেছে।
তার জীবনের সব নাম যশ সম্মান খ্যাতি পদ পদবী যে দলের বদন্যতায়,যাদের পাতে খেয়ে দেয়ে আজ গালভরা নাম ডা.একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ,সেই পাতে বিস্টা ত্যাগ করছেন শেষ বয়সে এসে।

হুসেইন মু. এরশাদ এবং বি. চৌধুরী। দুজনেই পড়ন্ত বয়সে।দুজনেই রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন। আরো সাদৃশ্য হলো দুজনই এখন পল্টিবাজী -ডিগবাজীতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন।সারাদেশের মানুষ এরশাদ কাকা”র সাথে আরেকজন নতুন কাকাকে পেলো “বদু কাকা ”!
আগামীতে হাসিনার আচলের তলে ঢুকে ক্ষমতার হালুয়া রুটি ভাগের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। ২নভেম্বর বি চৌধুরী হাসিনার সাথে সংলাপে গিয়ে তার জীবনের শেষ অভিপ্রায় হিসাবে বলেছেন, তিনি হাসিনাকে আবারো প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান আর তার লম্পট পুত্র মাহী বি চৌধুরীকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা দেখতে চান।
এরপর থেকে এরশাদ আর বদু কাকা পরস্পর জানি দুশমনে পরিনত হয়েছেন। বি চৌধুরী জাতীয়পার্টি ছেড়ে সদ্য বিকল্পধারায় যোগ দেয়া সাবেক এমপি গোলাম রেজার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরায় জনসভা করবে এটা জানতে পেরে এইচ এম এরশাদ আজ ৭ নভেম্বর ঘোষনা দিয়েছেন তিনি সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন) আসনে প্রার্থী হবেন।
দেশের স্বৈরাচার হাসিনা কবলিত প্রতিটি মানুষ এই জাতীয় গাদ্দার নব্য পল্টিবাজ বদুকাকা এবং পুরানো রাজনৈতিক ক্লাউন এরশাদকে প্রতিহত করার সংকল্প নিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

৭ দিনের মধ্যেই সব ধূলোর মতো উড়ে যাবে: মান্না

 

৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো সব উড়ে যাবে: মান্নানাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ধূলোর মতো সব উড়ে যাবে বলে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে এ গণঅনশন আয়োজন করেছে বিএনপি।

মান্না বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। নতুন করে আরেকটি মামলায় ৭ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। এসব কিছু টিকবে না। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সব ধূলোর মতো উড়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করা যাবে না। সংলাপের নামে কোনো ধাপ্পাবাজি চলবে না। খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালী, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আরা সাফা, সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আফরোজা আব্বাস, শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহ-জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারসহ অন্যরা।

এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জে এস ডি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার জন্য গণঅনশনে মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির নেতা-কর্মীরা

 

খালেদা জিয়ার জন্য গণঅনশনে বিএনপি
ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় সাজার রায়ের প্রতিবাদে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে এই কর্মসূচি শুরু করে দলটি। বেলা তিনটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাট্যমঞ্চের প্রবেশপথে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দুই স্তরে চেয়ারে বসে এবং কর্মীরা সামনের অংশে কার্পেটে বসে গণ–অনশন কর্মসূচি পালন করছেন।

বিএনপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্প্রতি মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমাবেশে নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে আজ বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশি করতে দেখা যায়নি।

একই দাবিতে গতকাল বুধবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপি। যদিও কর্মসূচি শেষের আগেই বিএনপির নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার–আতঙ্কে কর্মসূচিস্থল ত্যাগ করেন।

গত মঙ্গলবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আপিলের রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। এদিনই বিএনপি তিন দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে। আজ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদীন, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরীসহ দলে অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

Content Protection by DMCA.com

অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আমরা শিঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো, সবাই প্রস্তুত থাকুন —————তারেক রহমান

।। বিশেষ সংবাদদাতা ।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মজলুম জননেতা তারেক রহমান গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, জেলা, পৌরসভাসহ সকল পর্যায়ে যার যার অবস্থান থেকে কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহনের উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিবো। অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব। ফিরিয়ে আনতে পারবো আওয়ামী-বাকশালীদের ধ্বংস করে দেয়া গনতন্ত্রকে।ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে আন্দোলনের মাঠে দেখা হবে।বিজয় আমাদের হবেই।

তারেক রহমান বাংলাদেশের সকল যুব এবং তরুণ সমাজকে উদ্দেশ করে বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করবে কিন্তু এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে হবে তোমাদের এবং সফলকাম করতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশে যেভাবে তোমরা কোটা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলে। সেই আন্দোলনের মতোই করতে হবে আগামী দিনের আন্দোলন। যে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে পারবে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ। তবে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে,যাতে করে মানুষ পুড়িয়ে, লাশের ওপর রাজনীতি করা আওয়ামীলীগ আমাদের সামনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে। আমরা তাদের মতো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি বলেন, যে আন্দোলনের ডাক বিএনপিসহ দেশের সকল গণতান্ত্রিক মানুষ দিয়েছে তাতে সকলের আদর্শিক স্লোগানটি হওয়া উচিত “যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ।”

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্য যুবদলের অালোচনা সভায় তিনি এই আহবান ও নির্দেশনা দেন। মঙ্গলবার স্থানীয় রয়েল রিজেন্সী অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২ টায়) তিনি ৪১ মিনিটের বক্তৃতায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি, সরকারের দুঃশাসন, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি, গুম, খুন, নিপীড়নসহ সার্বিক চিত্র তুলে ধরে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি রহিম উদ্দিন। সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আফজাল হোসেন।

দেশনায়ক তারেক রহমান বলেন, আমি জানি শুধু আমার দলের নেতাকর্মীরা নয়, একই সাথে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ আছে, লক্ষ কোটি যুবক আছে, তরুণ আছে যারা বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া বাক-স্বাধীনতা উদ্ধার করতে চায়। যারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আজকে আপনাদের এখানে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য থেকে উঠে এসেছে যে আমাদের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই, কিন্তু এখানে একটি কথা আছে। আপনারা যদি ইউটিউব ঘাটেন দেখবেন, এই রং হেডেড শেখ হাসিনা সম্পর্কে তাদের দলের এক নেতা বক্তব্য দিয়েছেন- কিভাবে শেখ হাসিনা বাসের উপর পেট্রোল বোমা মেরে লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করে। এটি তাদের নেতাই বলে দিয়েছে রং হেডেড নেত্রী সম্পর্কে, এবং সারা বাংলাদেশের মানুষ ২০০৭ সালে দেখেছে কিভাবে তারা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তার উপর নেচে উল্লাস করেছে। তার কথার প্রমাণ হিসেবে শেখ সেলিমের কথা প্রমাণ হলো। ২০১৪ সালে যখন আমার নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধারে আন্দোলন করছিল সেই সময়ে এই আওয়ামী লীগের নেতা তাদের আরেক নেতার নির্দেশ মোতাবেক কি করেছিল। বরিশালের এক নেতা প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্স করে বলেছেন তার এলাকার আরেক নেতা কিভাবে বাসের মধ্যে আগুন দিয়ে ১১ জন মানুষকে হত্যা করেছে। কাজেই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে মানুষের লাশের উপর রাজনীতি করা এটি ওদের রাজনীতি। বিএনপির রাজনীতি নয়। বিএনপি কখনো এই ধরনের রাজনীতি করে না। আমরা আন্দোলনে বিশ্বাস করি। গণতান্ত্রিক অধিকারে বিশ্বাস করি। বাক-স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু আমরা এই ধরনের ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। একটি নয়, দশটি নয় শত শত প্রমাণ আছে যে তারা মানুষের লাশের উপর দাঁড়িয়ে তারা রাজনীতি করে। কাজে এই বিষয়ে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে তারা আমাদের সামনের এই আন্দোলনকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পারে।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে এই বর্তমানের অবৈধ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সে সময় রং হেডেড শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমান সহ ১৪ হাজার কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ ছিল। আমরা দেখলাম ক্ষমতা দখলের সাথে সাথে একটির পর একটি নিজের নামের মামলাগুলো তারা ঠিক সরিয়ে ফেলল। মামলার মুখোমুখি তারা আর হলোনা। কিন্তু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এইসব মামলাগুলোর বিষয়ে সরাসরি কথা বলা সম্ভব না। কাজেই আমার প্রশ্ন আমার জিজ্ঞাসা বাংলাদেশের যুব সম্প্রদায়ের কাছে এবং তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে, কি জন্য সম্ভব নয় তার বিরুদ্ধে কথা বলার এবং প্রশ্ন করার?

দেশনায়ক বলেন, আমরা জানি যে কোনো সাংবাদিক কোন প্রধানমন্ত্রী কিংবা যে কোন ব্যক্তিকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারে যদি তার কোন কিছু জানার প্রয়োজন থাকে। শেখ হাসিনাকে কেন প্রশ্ন করা যাবে না? কেন তিনি তার মামলা গুলো সরিয়ে নিলেন? এর উত্তর হচ্ছে- গণতন্ত্র নেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। দেশের প্রধান বিচারপতি যাকে এই অবৈধ সরকারই নিয়োগ দিয়েছিল তাকে কিভাবে এই অবৈধ সরকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দিল। প্রধান বিচারপতিকে তারাই নিয়োগ দিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ করে কেন তাকে তারা ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল? কারণ এই ভদ্রলোক যখন দেখলেন দিস হেজ বিকাম টু মাচ! তাকে দিয়ে হাসিনা একটির পর একটি রায় বাস্তবায়ন করাচ্ছে এবং তার পক্ষে আর কোনো মিথ্যা আবদার বাস্তবায়ন সম্ভব নয় এবং তিনি যখন আর সায় দিলেন না এবং তিনি রায় পড়তে অস্বীকার করলেন তখন তারা তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগলো। এর আগে আমরা দেখেছি মোতাহের সাহেব নামে আরেকজন বিচারপতিকে মিথ্যা রায় পড়ার জন্য যখন বাধ্য করা হয়েছিল কিভাবে তখন তাকে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বের করে দিয়েছিল দেশ থেকে। এইসব নির্বাসিত বিচারপতিদের কাছ থেকেই এই বক্তব্য গুলো এসেছে যে তাদের কিভাবে বের করে দেয়া হয়েছে। যখনি তারা সুযোগ পেয়েছে জাতির সামনে তারা বলেছে কিভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর সবার কাছে এটি পরিষ্কার যে যারা সাধারণ মানুষের বিচার করবে তারাই যেখানে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত সেখানে কিভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে বিচার পাওয়া সম্ভব?

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হাসিনার চরম প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বর্ননা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে নিয়ে সকালবেলা কি দেখলাম? বিচারপতিকে রায় দিতে বাধ্য করা হয়েছে, ৩ দিন ঘরে আবদ্ধ করে রেখে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যদের সাথেও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাঁকে দেখা করতে দেয়নি। তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তাকে জীবনের হুমকি দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে আমাদের প্রিয় নেত্রীর নামে মিথ্যা রায় দেয়ার জন্য। আজকে এই হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র। আজকে বাংলাদেশের কোন বিচারপতি নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলতে পারেন না।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই অবৈধ সরকার আমার নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মিথ্যে মামলা দায়ের করেছে- ২৫ লাখের বেশি মানুষকে তারা আসামি করেছে। ১৫শ’র বেশি মানুষকে গুম করেছে। আর যখন নির্যাতন অত্যাচার এর সংখ্যা কোন ক্যালকুলেটরে পরিমাণ করা যাবে না। এই মানুষগুলোর অপরাধ এরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করে। এই মানুষগুলো অবৈধ শেখ হাসিনার সরকারের মিথ্যা, লুটপাট, অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। শুধু আমার দলের নেতা কর্মী নয় সাধারণ মানুষ, যুবক, তরুণ যারা কোটার আন্দোলন করেছে তাদেরকে কিভাবে দমন করা হয়েছে। তারা চেয়েছিল কোটার বিন্যাস করতে। এটি ছিল একটি সামাজিক আন্দোলন। আমরা দেখলাম কি নির্মম ভাবে, বর্বর জঙ্গি ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে কীভাবে এই মানুষগুলোকে নির্যাতন করা হয়েছে এবং কষ্ট দেয়া হয়েছে। আজও আমরা দেখি অনেকগুলো মানুষ জেলখানায়। একদিকে বলছে কোটা মেনে নিলাম, আরেক দিকে দেখা যাচ্ছে এই যুবকগুলোর লাশ নদীতে ভাসছে। এই যুবকগুলোসহ বহু সংখ্যক মানুষ জেলখানার ভিতরে ধুকে ধুকে মরে যাচ্ছে। এ এক আজব ব্যাপার!

তারেক রহমান বলেন, সরকারের একজন উপদেষ্টা যার বেতন মাসে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। আপনারা তো পৃথিবীর একটি উন্নত দেশে আছেন এবং এখানে বসবাস করছেন। আপনারা কি কেউ শুনেছেন ইউরোপে কিংবা আমেরিকায় কোথাও সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপদেষ্টার বেতন বাংলাদেশী টাকায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা? এই বিষয়টা কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল জনগণের কাছ থেকে? সৌভাগ্যক্রমে তাদের একজন অবৈধ মন্ত্রীর কাছ থেকেই জাতি এই মেসেজটি পেল। লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? জনগনের টাকা আপনি তাকে বেতন দিবেন সেটা আবার লুকিয়ে কেন রাখতে হবে? যখন এই ঘটনাটি অবৈধ মন্ত্রী ফাঁস করে দিল তখন অবৈধ মন্ত্রীকে সেখান থেকে তারা সরিয়ে দিল। তাকে কয়েক দিন জেল খাটালো।

তিনি বলেন, পত্রিকার পাতায় আমরা দেখলাম এই রং হেডেড শেখ হাসিনার প্রতিদিনের আপ্যায়নের বিল ২ লক্ষ টাকা। আপনারা সবাই বাংলাদেশের মানুষ ক্যামেরার ওপারে যারা বাংলাদেশ থেকে দেখছেন আমার জিজ্ঞাসা তাদের কাছে বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা আপ্যায়ন বিল কি একটি আজব ব্যাপার নয়? এই টাকা তো জনগনের টাকা। অথচ ২ লক্ষ করে শুধু আপ্যায়ন বিল। বাকি অন্য খরচ তো বাদ দিলাম। কাজেই, একদিকে অত্যাচার-নির্যাতন, অন্যদিকে ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা বেতন এবং আপ্যায়ন বিল প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা। এই হচ্ছে জাতির ওপর স্টিমরোলার চাপানো।

তারেক রহমন বলেন, তাদের নেতা-কর্মী বলেন, মন্ত্রী বলেন লুটপাটে ব্যস্ত। বিভিন্ন কোম্পানি যেমন হলমার্ক, ডেসটিনির মত একটার পর একটা ব্যাংক খালি করে যাচ্ছে, ধসে পড়ে যাচ্ছে। গতকালকে দেখলাম আরো চারটি ব্যাংকের পারমিশন দিয়েছেন। যাবার তো সময় হলো, আরো যত পারি নিয়ে যাই- এই হলো তাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য।

দেশনায়ক বলেন, শুধু ব্যাংক খাত থেকে তারা গত কয়েক বছরে জনগণের ২ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই যে ৮০০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গেল আজ পর্যন্ত কি আমরা দেখতে পেয়েছি একটা লোক কিংবা একটি গ্রুপকে ধরেছে যারা এই কাজটি করেছে? ব্যাংকগুলো জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা তসরুপ করেছে এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার। লুটপাটের এক মহোৎসব দেশের মধ্যে। জনগণের সম্পদ লুটের এক মহোৎসব। কারো কোন বিচার নেই, কোথাও কোন জবাবদিহিতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা স্বর্ণ তামা হয়ে যাচ্ছে। এ এক আশ্চর্য ব্যাপার। ছোটবেলা থেকে দেখে আসলাম কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংএ রড দেয়া হয় এখন দেখলাম রডের বদলে ডিজিটাল স্টাইলে বাঁশ দেয়া হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দেখলাম রেল লাইনের ২ স্লিপার জোড়া লাগানোর জন্য মাঝখানে কাঠ এর পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে রেখেছে। এই যে সব যায়গায় বাঁশ দিচ্ছেন, এই বাঁশ কোনদিক দিয়ে ঘুরে কোন দিকে যাবে, তা সময়মতো টের পাবেন। বাংলাদেশের জনগণ এইটা কয়দিন পরে হারে হারে দেখিয়ে দিবে।

তারেক রহমান বলেন, যখন সাগর-রুনি হত্যা হলো তখন শেখ হাসিনা বললেন ঘরে ঘরে ঢুকে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। বুঝলাম ঠিক আছে ঘরে ঘরে ঢুকে পুলিশের পক্ষে পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে দেখলাম এই ছোট ছোট বাচ্চারা ছোট ছোট বোনেরা এরা যে নিরাপদ বাংলাদেশ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করলো তারপর আমরা দেখলাম তাদের ওপর হেলমেট লীগের আক্রমণ। আশা করি ইনশাআল্লাহ আর বেশিদিন নেই জাতিকে এসব তামাশা দেখতে হবে। এসব লুটপাট ও দুষ্কৃতিকারীদের দেখতে হবে। কিভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যারা আন্দোলন করেছিল তাদের ঘরে ঘরে ঢুকে রেইড দিয়ে তাদের ফেসবুক চেক করে তাদেরকে ধরে আনা হয়েছিল নির্যাতন করা হয়েছিল? এর জবাব দেয়ার সময় চলে এসেছে এবং এর জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, একদিকে লুটপাটের মহোৎসব অন্যদিকে সমগ্র জাতি যখন ঐক্যবদ্ধ, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো যখন ঐক্যবদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে সেই গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য, যে বাক স্বাধীনতা হারিয়ে গেছে সে বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য তখন এদের (আওয়ামীলীগ) সাথে যোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন নামের সংস্থাটি। কিভাবে এদেরকে আবার জনগণের সম্মতি ছাড়া জিতিয়ে আনা যায় এবং এর জন্য তারা অপকৌশল চালাচ্ছে এবং পরিকল্পনা করছে কিভাবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট চুরি করা যায়। পরিষ্কারভাবে আপনাদেরকে সামনে বলে দিতে চাই এই যে জনগণের ভোট চুরির যে পরিকল্পনা করছেন এবং ইভিএম কেনার নামে জনগণের যে চার হাজার কোটি টাকা লুটের পরিকল্পনা করছেন এর থেকে সাবধান। যদি করেন গুনে গুনে জনগণ এর জবাব নিবে। আজকে আমাদের যুবদল, ছাত্রদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী গণতন্ত্রের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের তালা ভেঙ্গে বের করে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

তারেক রহমান বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে প্রস্তুত আছে, ঠিক একইভাবে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি তরুণ প্রস্তুত আছে। আজকে যুবক ভাইদেরকে, তরুণ বন্ধুদেরকে আমি আহবান করব- তোমরা মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনেছো, তোমরা বইয়ের পাতায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছো, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনেছো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ দেখনি। আজ তোমাদের সামনে সুযোগ এসেছে যে বাংলাদেশ তোমরা চেয়েছিলে, যে বাংলাদেশ আমাদের পূর্বপুরুষেরা স্বাধীন করেছে, বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের কারণে অনেক বার হোঁচট খেয়েছে সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার।

তরুন সমাজকে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করে তারেক রহমান বলেন, কোনো ধ্বংসাত্মক আন্দোলন আমাদের দল সমর্থন করে না। আমার অনুরোধ থাকবে আমার তরুণ সম্প্রদায়ের কাছে দেশ তোমাদের, ভবিষ্যৎ তোমাদের দায়িত্ব ও তোমাদেরকে নিতে হবে। এবং সেই আন্দোলনকে সফল করার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারব, যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। যুব সম্প্রদায়কে সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে কিভাবে সে আন্দোলনকে সফল করতে হবে। ভবিষ্যৎ তোমাদের দেশ তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তোমাদেরকেই করে দেখাতে হবে যে তোমরা পারো এবং তোমরাই পারো।

ইনশাআল্লাহ, আপনারা প্রস্তুত হন আপনারা যারা দেশের বাইরে আছেন আপনারা আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। যারা দেশের ভিতর আছেন আপনাদেরকে আপনাদের অবস্থান থেকে প্রস্তুত হতে হবে। আমরা অতি শীঘ্রই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছি। এই আন্দোলন সেই আন্দোলন, যে আন্দোলনে নারী, পুরুষ, যুবক, তরুণ সকলেই অংশগ্রহণ করতে পারবে। সে আন্দোলনের সম্ভব হবে সেই দেশটিকে গড়ে তোলা যে দেশের স্বপ্ন আমাদের তরুণ এবং যুবক ভাইরা বুকে ধারণ করে।
তিনি বলেন, দেশের যুব সমাজকে সংগঠিত করার জন্য ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। একই বছর তিনি যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। কোন যুব সম্প্রদায়কে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত করা না যায়, যদি সঠিক দিক-নির্দেশনা দেয়া না যায় তাহলে কোন দেশের পক্ষে অর্থনীতি, সংস্কৃতি কিংবা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব না। সেজন্যই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুব মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন যাতে করে দেশের যুব সমাজকে সঠিক নেতৃত্ব দেয়া যায় এবং সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করা যায়। যেন সমগ্রদেশের সমস্ত যুব সম্প্রদায় দেশ গঠনে অবদান রাখে। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুঃখজনক ভাবে বলতে হয় যে, এই স্বৈরাচারী সরকার যারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকার তাদের প্রধান বর্তমান শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সাথে অন্য সন্তানদের মুখোমুখি করে দিল কোটা আন্দোলনের মোকাবেলার কথা বলে। সরকারের প্লান ছিল যদি তারা যুবক সম্প্রদায়কে শেষ করে দিতে পারে তাহলে অবৈধ ক্ষমতার নীলনকশা বাস্তবায়ন সহজ হবে।
কিন্তু আমাদের যুব সম্প্রদায় ঠিকই আসল বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তারা দাবি নিয়ে সামনে চলে এসেছে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করেছে। এরকম আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে। আজকে এখানে যতজন বক্তব্য দিয়ে গেছেন প্রত্যেকের কথার মধ্যে একটি কমন জিনিস ছিল। আজকে আমরা সকাল বেলায় যদি পত্রিকা দেখি তাহলে দেখবো স্বৈরাচারী সরকার এবং তাদের সাথে যারা আছে তাদের লুটপাটের খবর। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক দলের কর্মীর কথা হল জনগণের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকার, জনগণের নিরাপত্তা, জনগণের ভোটের অধিকার এবং জনগণের বাক স্বাধীনতার অধিকার। এই কয়েকটি শব্দ প্রতিদিন ঘুরে ফিরে প্রত্যেকটি মানুষ প্রতিদিন উচ্চারণ করছে। তার মানে কি দাঁড়াচ্ছে, এই কয়টি জিনিস এই সরকারের সময় অনুপস্থিত।

বক্তব্যের শুরুতেই দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশে এবং বিদেশের যুবদলের সবাইকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। তিনি স্মরণ করেন সেই সব নেতাকর্মীদেরকে যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন, কারা নির্যাতিত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন তাদেরকে’।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 7