শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ ঘোষণা করে সুপ্রীম কোর্ট

১৫ মার্চ ১৯৯৯

প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজলের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ গতকাল এক আদেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রংহেডেড’ ঘোষণা করে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করতে আরো সতর্ক থাকতে নিদেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আপিল বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। কর্মরত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ আনতে গিয়ে এডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজেকে কোর্টের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পুনরায় উল্লেখ করে গত ১ ফেব্রুয়ারী এই আবেদন করেন। আবেদনে তিনি গত ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৯ দৈনিক দিনকাল ও দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত কতিপয় বিবৃতি আমার নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ভারত থেকে ফিরে গত ২৯ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন ক্ষমতাসীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে গতকাল আদেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার মামলাটি দেখলাম।

আবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই অভিযোগ করা হয় যে, কথিত বিবৃতিগুলো সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল। কেননা তিনি ভাল ভাবেই জানেন যে, এ ধরনের বিবৃতি সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। তথাপি তিনি এ ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির উচ্চ ভাবমূর্তি এবং অভিযোগ করার অযোগ্য ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতাকে সচেতনভাবে খর্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবেদনকারী সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা জানিয়েছেন।

এটর্নি জেনারেলকে অবহিত করে ১৯৯৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত হয়। শুনানিকালে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে কথিত আক্রমণাত্মক অংশ আবেদনকারী উল্লেখ করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন “……… গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট দু’’দিনে হাইকোর্টে ১২শ’ মামলার জামিন হয়েছিল। এটা কখনো হতে পারে না। এরপর কোর্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেননি।

“…. বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে, দু’দিনে ১২শ’ মামলার জামিন হয়ে যায়। কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? এটা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। যদিও কোর্ট চেঞ্জ করা হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা তিনি নেননি। যদি তদন্ত করা হতো এবং ব্যবস্থা নেয়া হতো তবে জুডিসিয়ালি অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত। জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের কোন সন্দেহ দেখা দিত না। শুনানিকালে অন্যান্য বেশ কয়েকটি পত্রিকা যেমন দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, বাংলার বাণী, সংবাদ, মুক্তকণ্ঠ, দি নিউ নেশনে প্রকাশিত রিপোর্টও আমাদের কাছে উদ্ধৃত করা হয়। এতে দেখা যায় যে, ‘দিনকাল’ ও ‘সংগ্রাম’ ছাড়া আর কোনো সংবাদপত্রে কথিত মন্তব্য যথাক্রমে …. এটা কখনও হতে পারে না ….. কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? ….. খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ এভাবে লেখা হয়েছে যে,……এদের জামিন কিভাবে হলো সেটাই প্রশ্ন। অনুরূপভাবে সংগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি……বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে…..তবে প্রায়শই যেমনটা ঘটে তা হল প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ২ দিনে (২৫ ও ২৬ আগষ্ট ১৯৯৮) হাইকোর্ট (তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চকে অর্থ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে) ১২শ’ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি শুধু বেঞ্চটি পরিবর্তন করেন। তবে অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি পদক্ষেপ নিলে বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনগণের কোনো সংশয় থাকত না।

আমাদের এমনও অভিজ্ঞতা রয়েছে যে আমাদের দেশের সংবাদপত্রের খবরের ওপর সবসময় বিশ্বাস করাটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও কষ্টকর। এই মামলায় সেই কষ্টকর অবস্থাটা না কমে বরং বেড়েছে। এর কারণ হল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত (বিনা প্রস্তুতিতে) মন্তব্যের ভিত্তিতেই এ রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তুত করা বিবৃতির ক্যাসেট রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার উপস্থিত মন্তব্যের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। 

২ দিনে ১২শ’ মামলার জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। তা হল ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে আদালতের বার্ষিক দীর্ঘ ছুটির প্রাক্কালে ২ দিনে (২৬ ও ২৭ আগস্ট, ১৯৯৮) হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের একটি বেঞ্চ বিপুলসংখ্যক মামলায় জামিন মঞ্জুর নিয়ে কতিপয় সংবাদপত্রে কিছু কিছু রিপোর্ট/মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোন ব্যক্তির নিকট থেকে এ রকম সন্দেহজনক বিবৃতি দেখে আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। হাইকোর্টের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞাত কোন ব্যক্তির পক্ষে এরকম মন্তব্য করা একেবারেই অসম্ভব। বিচারকদের এরকম হারে জামিন দেয়ার ক্ষমতা থাকলে আদালতে এত কাজ জমা থাকতো না। আমাদের সন্তুষ্টির জন্য বিষয়টি পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি যে, বর্ণিত ২ দিনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্তৃক রুল ও জামিনের সংখ্যা মোট (৮৩+৭২) =১৫৫ এবং আগাম জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা (২১৯+১৪৮) =৩৬৭।

এ পরিস্থিতিতে আমরা সন্দেহজনক রিপোর্ট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিবৃতি চাওয়াটা উপযুক্ত বলে মনে করি ও সেমতে এটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করি। মুলতবীর দিনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি আমাদের কাছে আসে। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত সফর সম্পর্কে বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকগণ আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন যার উত্তর বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্নভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। প্রশ্ন-উত্তরের এক পর্যায়ে দুর্নীতি মোকদ্দমা বিচারে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে আমি বলি যে, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সেখানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ইতিপূর্বে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে দু’দিনে ১২০০ জামিন দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের সংবাদ/মন্তব্য আমার নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা জাতীয় সংসদের গণসংযোগ শাখা সঠিক নয় বলে প্রকাশ করেছে। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় এমনও মন্তব্য করা হয়েছে, “When the hate campaign was building, the Law Minister and the Attorney General met the helpless Chief Justice almost daily, Reportedly trying to influence the latter…..” (Weekly Holiday of 6011-1998. Page-1, Caption : “Supreme Court under clouds” by Akbar Imam).

মাস তিনেক আগে খবরের কাগজে আগাম জামিনের শুনানির ব্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ দেয়া হয়। সেখানে একজন সিনিয়র এডভোকেট বলেন যে, ঐ বেঞ্চে তার মক্কেলগণ সুবিচার পাবে না। এ সকলের প্রেক্ষিতে যখন সাংবাদিক সম্মেলনে মোকদ্দমা বিচার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তখন খবরের কাগজে প্রকাশিত উপরোক্ত সংখ্যার উল্লেখ করে, আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমি বলেছিলাম ঐ ঘটনা প্রধান বিচারপতিকে জানানো হলে তিনি বেঞ্চ পরিবর্তন করে দেন আর কোন ব্যবস্থা নেননি, ব্যবস্থা নিলে জুডিসিয়াল অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতো এবং জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের মনে কোন সন্দেহ দেখা দিত না। দেশে আইন-শৃঙ্খলা ও সেই প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ/মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি এ অভিমত প্রকাশ করেছিলাম। এ অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বিচারকদের সততা সম্পর্কে কোন সন্দেহ প্রকাশ করিনি, বা এ অভিমত প্রকাশ করার পেছনে আদালতের বা প্রধান বিচারপতির মর্যাদা ক্ষুণ করার বা বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করার কোন অভিপ্রায় আমার ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর ১২শ’ মামলার সংখ্যার সূত্র হিসাবে পত্রিকার রিপোর্টের উল্লেখ করেছেন, যদিও পত্রিকাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এরকম হতে পারে যে, পত্র-পত্রিকায় তিনি এ ধরনের সংখ্যা দেখে থাকতে পারেন। সর্বোপরি তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সংবাদপত্রে পূর্বেই উচ্চতর আদালতের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কোন সত্য ঘটনা কিংবা সংখ্যা দেয়ার পূর্বে তার আরো সতর্ক ও সাবধান হওয়া উচিত ছিল এবং সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করাটা ঠিক হয়নি। সঠিক সংখ্যা পেলেও আরো অনেক মামলায় ঐ জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল এমনটা মনে করে তিনি মন্তব্য করলেও আমাদের কিছুই বলার থাকতো না। কারণ প্রধান নির্বাহী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি নিজস্ব মন্তব্য দিতে পারেন। আদালতের কার্যক্রম ও অসুবিধা সম্পর্কিত বিষয় প্রধান বিচারপতির নজরে আনাটা নির্বাহীর জন্য কোন ভুল নয়। তবে প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে সংবাদপত্রকে প্রধান নির্বাহী কোন কিছু বললে বেশি বিব্রতকর কোন কিছুই হবে না। কেননা তার মত প্রধান বিচারপতি কোন জবাব প্রদানে সংবাদপত্রে মন্তব্য করতে পারে না। হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ গঠন কিংবা পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে কারোর কোন মন্তব্য নেই কিংবা কারোর আদেশে এটা করা হয়নি। ইহা পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত ও তার ব্যক্তিগত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক তথ্যাবলি জানতে কেবল তিনি সতর্ক থাকলে বর্তমান ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কেমন বিব্রতকর তা ধারণা করা যেতো। জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি সংবাদপত্রে আলোচিত হওয়ার বহু আগেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের গঠন (কার্যক্রম বণ্টন) প্রধান বিচারপতি পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি ১৯৯৮ সালের ২৬ আগস্টের আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে এমনটা ফুটে উঠেছে যে সরকারের কারণেই বেঞ্চের গঠন পরিবর্তন করা হয়েছে যা সঠিক নয় প্রধান বিচারপতি তাকে কেন্দ্র করে মন্তব্যে যথেষ্ট অস্বস্তি অনুভব করেছেন। এর কোন সরাসরি জবাব তিনি দিতে পারেন না কিংবা তার প্রশাসনের আওতায় পড়ে এমন কোন বিষয় ব্যাখ্যা কিংবা পালনেও তিনি বাধ্য নহেন। আদালত অবমাননার বিচারের জন্য আমাদের কাছে পেশ করা ঘটনাবলি নিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা লর্ড এ্যাটকীনের বাণী এখানে উদ্ধৃত করছি। আদালতে সর্বদাই আমরা এ বাণী মেনে চলি লর্ড এ্যাটকীন বলেছেনঃ
“… The path of critism in a public way; The worngheaded are permitted to carr therein; provided that members of the public abstain from imputting improper motives to those taking part in the administration of justice, and are genuinely exercising a right of criticism and not acting in malice or attempting to impair the administration of justice is not a cloistered virtue; she must be allowed to suffer the security and respectrul even though outspoken comments of ordinary men.”

সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে লক্ষ রাখতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রীকে তার পদে থেকে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করার ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে বলে আদালত আশা করে। এসব কারণে উপরোক্ত মন্তব্যের আলোকে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল।

Content Protection by DMCA.com

“ওবাইদুল কাদের টাকা, মাগী এবং ইয়াবা সবই খায়” : বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান

চট্টগ্রামের বাঁশখালি আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি লীগেরসাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে অশালীন সত্য বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

চনু ! যোগাযোগ মন্ত্রীর চ্যাট হইছে ! সবকিছু আমি নিচ থেকে প্রসেস করে নিয়ে গেছি ।একনেকে গিয়ে আমার বন্ধু খোরশেদের দিয়ে পাস করিয়েছি । প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাস করাইছি ।

প্রধানমন্ত্রী বলছে, তুমি নিচ থেকে পাস করে নিয়ে আসো আমি একনেকে আসলে পাস করে দিবো ।

লিটন (আব্দুল্লাহ কবির লিটন মানে আক্তারুজ্জামান বাবুর ভাগিনা) কি চনু ! ইতার মারে চুদি ! নমিনেশন না পাইলে পাবোনা ! এই কাদের ( ওবাইদুল কাদের) চুদানিরপোয়ারে আগে নেত্রীর সামনে পিডাবো আমি ! আলা খানকিরপোয়া !

লিটনের ছেলেকে গুলি মারছি এই জন্য বলছে, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করতেছো ! তোমারে সামনে নমিনেশন দিবোনা ! আমি বলছি (ওবাইদুল কাদেরকে) , আপনার থেকে নমিনেশন নিতে গেলে…

রুমের ভিতর ঢুকে নেত্রীকে কি কি যেনো বলেছে আমি দেখি নাই ! তারপর তোফায়েল ভাই যখন বের হয়ে আমাকে দেখলো তখন সে আমাকে ডাক দিলো ! আমাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমাদের বাঁশখালীতে কি হইছে? আমি বললাম, এই এই হইছে । তোফায়েল ভাই আমাকে বললো, তোমার বিরুদ্ধে সে (ওবাইদুল কাদের) এই এইসব বলছে ।

চুদানিরপোয়া (ওবাইদুল কাদের) পয়সা , মাগী , ইয়াবা সবই খায় । নেত্রীকে আমি ডাইরেক্ট বলছি সংসদে। বলছি, নেত্রী ওবাইদুল কাদেরের আমি কলার ধরবো । নেত্রী বলছে, কেনো ? কি হইছে ? আমি বলছি , ও ( ওবাইদুল কাদের) বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ছোট করছে । আমরা বঙ্গন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি । আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে । সেই জন্যে আপনার সাথে আছি । খেয়ে না খেয়ে । আপনি সেই মর্যাদাটা দিছেন । শেষ বয়সে আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন । নইলে আমাদের মতন লোক জীবনে নমিনেশন পাইতাম না ।

ইতে ( ওবাইদুল কাদের) বাবু মিয়ার জনসভায় বলতেছে , বাবু মিয়া না হলে শেখ রেহানা লন্ডনে বসবাস করতে পারতোনা । বাবু মিয়া না হলে নেত্রী রাজনীতি করতে পারতোনা । জাবেদ তুমি এগিয়ে যাও ।

নেত্রী বলছে, তো ! আমার বোন রেহানাতো বাবু মিয়া থেকে পয়সা নে নাই ! আমি বললাম, এইটা আমি আপনাকে জানিয়ে রাখলাম । আবার বললে আমি কিন্তু কলার ধরে ফেলবো ( ওবাইদুল কাদেরের) । নেত্রী বললো, হেই মাথা ঠান্ডা রাখো ।

এইসব কথা আমি সংসদে নেত্রীকে ডাইরেক্ট বলছি । আমি বলছি এইগুলো বলা মানে কী ! বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ছোট করা । বাবু মিয়া বঙ্গবন্ধুর নাম বেইচা একশো টাকা কামাই পাঁচ টাকা এইখানে ( পার্টির জন্য) খরচ করছে । দক্ষিন চট্টগ্রামে কোন অবদান থাকলে কায়সার মিয়ার আছে । আমি এইসব কথা ডাইরেক্ট বলছি !

বাঁশখালী-১৬ আসনের সংসদ সদস্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান


https://www.facebook.com/mdmoinuddin.tarid/videos/900765263596458/

Content Protection by DMCA.com

৭৫’র পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় স্বয়ং মোহাম্মদ নাসিম!

শপথ নিয়ে বিতর্ক ও উদ্যমের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে যার যার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত মন্ত্রীরা। একতরফা দমননীতির আশ্রয়ে নির্বাচনের ফল নিজেদের করে নিয়ে খানিকটা নির্ভারই থকার কথা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের। নিজেদের বাছাইকরা বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও গেয়ে দিয়েছেন সাফাই। কিন্তু তারপরও শঙ্কায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের মাস না পেরোতেই শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বিপর্যস্ত সরকার। এরই মধ্যে দলের সিনিয়র নেতা আশঙ্কা করছেন ৭৫’র পুনরাবৃত্তির!

আজ সোমবার দুপুরে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউশনে প্রতিথযশা রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে আয়োজিত স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “৭৫’র আগেও আমাদের অনেক বড় বিজয় এসেছিল। এর পরেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি”। তাহলে কি সরকার সেরকম কিছুর আশঙ্কা করছেন, নাকি নিজেদের নেতারাই অভ্যূত্থানের উস্কানি দিচ্ছেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “এবারও বড় বিজয়ে বেশি খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।”

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “এদেশে আর কোনোদিনও সাম্প্রদায়িক শক্তি ও মৌলবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে প্রতিবারই এদেশের সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার।”

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যে এক তরফা নির্বাচন দিয়ে জয়ী হয়েছে তাতে জনগণের প্রতিক্রিয়ারই ভয় পাচ্ছে। না হলে অন্তত প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন দলীয় নেতা ৭৫’র মতো ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করতেন না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া, ভোটগ্রহণের আগে বাক্স ভরে ফেলার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়; যেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০ আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন নিয়ে ভূমিধ্বস জয় পায়। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২৯৩টি আসন।

Content Protection by DMCA.com

মন্ত্রিত্ব টিকলেও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারাচ্ছেন কাদের!

Content Protection by DMCA.com

মন্ত্রি-বঞ্চিতদের মুখ বন্ধ করতেই দুদক লাগিয়ে দিয়েছে পিছে!

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার একক কর্তৃত্বে ক্ষুব্ধ সিনিয়র নেতারা

Content Protection by DMCA.com

কখনই নির্বাচনে হারেননি: ৫ টি নির্বাচনে ২৩ আসনে বিজয়ী হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া
১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় খালেদা জিয়া: ছবি ROBERT NICKELSBERG

২০১৮ সালের বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না – বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, ব্যতিক্রম ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচন।

খালেদা জিয়া নিজ দলের নেতৃত্বে যেমন দিয়েছেন, তেমনি নির্বাচনের মাঠেও তাঁর সাফল্য শতভাগ। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সেটি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিতর্ক চলছিল। কিন্তু তারপরেও বিএনপির তরফ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে খালেদা জিয়া কখনোই পরাজিত হননি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন। ঐ নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি। তবুও সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এসব আসন হচ্ছে – ফেনী ১. বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান ছিল বেশি।

মোট ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩ টি আসনে বিজয়ী হয়ে, কোথাও কখনও না হেরে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ঢাকার দু’টি আসনে এমনকি নিজের জেলা গোপলগঞ্জেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
————-
সূত্র: বিবিসি

 

Content Protection by DMCA.com

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে যে কৌশলের খেলায় জিতল বিএনপি

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বিএনপির কৌশলের জয় হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে বিএনপি নেতারা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন এবং রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ আনছেন। কিন্তু বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এমন আশঙ্কাই তাঁরা করেছিলেন। নির্বাচনে বিএনপি ৬৯৬ জন প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রতীক বরাদ্দে বিএনপির কোন্দল বাড়বে। আওয়ামী লীগ এই প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি জানতো, এরকম একটি পরিস্থিতি হবে।

বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত যেন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়ার মতো অন্তত একজন প্রার্থী থাকে। ঢাকা-১ আসন এবং চট্টগ্রাম-৮ ছাড়া সব আসনেই বিএনপির কেউ না কেউ টিকে গেছে। ঢাকা-১ আসনে বিএনপি দু’জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। এরা হলেন, খন্দকার আবু আশফাক এবং ফাহিমা হোসেন জুবলী। অবশ্য এই আসনের বর্তমান এমপি সালমা ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

তিনি বিএনপিতে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আর চট্টগ্রাম-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন শুধু মোর্শেদ খান। ঢাকা-২ আসনে আমানউল্লাহ আমানের মনোনয়ন যে বাতিল হবে, তা আপিল বিভাগের আদেশের পরেই নিশ্চিত হয়ে যায়। এখানে আমান তাঁর ছেলে ইফরান ইবনে আমানকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ান। ফলে এই আসনটিতে বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়নি। ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ সেলিম বাদ পড়েছেন। এই আসনে নবী উল্লাহ নবীই ছিলেন বিএনপির মূল প্রার্থী।

তিনি টিকে গেছে। ঢাকা-৬ থেকে সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বাদ পড়লেও, সেখানে কাজী আবুল বাশার বিকল্প প্রার্থী ছিলেন এবং তাঁর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ঢাকা-৯ তেও মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। চট্টগ্রাম-৫ এ মীর নাসির উদ্দিনের আসনেও বিএনপি তিনজনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেন। এদের মধ্যে মীর নাসির এবং তাঁর ছেলে মীর হেলালের মনোনয়ন বাতিল হলেও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

বগুড়া-৭ আসনেও বিএনপি তিনজন প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়। বেগম জিয়ার মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির মধ্যে সংশয় ছিল, দ্বিতীয় প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের ওপরও তারা ভরসা রাখতে পারেননি। দুজনই মনোনয়নই বাতিল হয়েছে। ওই আসনে তৃতীয় বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তিনি সরকার বাদল।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত দুই কারণে বিএনপির একাধিক প্রার্থীকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। প্রথমত, বিএনপি জানতো দণ্ড, ঋণ খেলাপি ইত্যাদি কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হতে পারে। সেজন্য প্রায় সব আসনেই বিএনপি বিকল্প প্রার্থী রেখেছিল।

দ্বিতীয়ত, এর ফলে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর শঙ্কা দূর হলো। মনোনয়ন বাছাইয়ের পর এখন কেন্দ্র থেকে যাঁকে ধানের শীর্ষ প্রতীক দেওয়া হবে, একমাত্র তিনিই নির্বাচন করতে পারবেন। বাকীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ থাকবে না। ফলে, বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে খুবই কম। তাই বলাই যায়, কৌশলের খেলায় প্রথম দফায় বিএনপি জিতে গেল।

Content Protection by DMCA.com

ধানের শীষের ভোটারদের উদ্দেশ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের আহবান জানালেন তারেক রহমান

———ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন ———‘কারারুদ্ধ মায়ের মুক্তির জন্য সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইস্পাত কঠিন গড়ে তুলুন’
।। বিশেষ প্রতিবেদক।।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মজলুম জননেতা তারেক রহমান বলেছেন, নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দলে দলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত, ইনশা আল্লাহ। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে, ভোট ডাকাতির সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এবার আমরা অবশ্যই বিজয়ী হবো ইনশা আল্লাহ। অবশ্যই ‘খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন, মুক্তি পাবে গণতন্ত্র। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১ টায় লন্ডন থেকে এক জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তারেক রহমান এই আহবান জানান। তার ভাষনটি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একযোগে প্রচারিত হয়। দেশনায়ক তারেক রহমান সবরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ়-ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে যারা বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কিংবা যারা মনোনয়ন পাননি, সবাই কি আমরা পারিনা- সেই কারাবন্দি মা’য়ের কথা মনে রেখে সবরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেদের ঐক্যকে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ় এবং ইস্পাতের মতো কঠিন রূপে গড়ে তুলতে?

সারাদেশে আমার দলের সর্বস্তরের হাজার হাজার হাজার নেতা, লক্ষ লক্ষ কর্মী,কোটি কোটি ধানের শীষের ভোটার, একমাত্র আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে আপনার নেত্রীকে মুক্ত করতে। আজ কি আমরা অন্তত একবারের জন্য, আর একটিবারের জন্য কি পারিনা, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের সকল প্রকার রাজনৈতিক চাওয়া পাওয়া ভুলে মা’য়ের মুক্তির জন্য- গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে? তৃণমূলের আমার প্রিয় ভাই ভাই বোনেরা, আমরা কি অন্তত একবারের জন্য আর একটিবারের জন্য কি পারিনা, শুধুমাত্র আগামী কয়টি দিনের জন্য নিজেদের চাওয়া পাওয়া ভুলে উর্ধে উঠে দেশের জন্য-গণতন্ত্রের জন্য মা’য়ের মুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে?

তারেক রহমান আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে জালিমের কারাগারে নিরপরাধ হাজার হাজার ভাইবোনকে মুক্ত করতে, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোট ডাকাতি রোধ করতে, আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে প্রতিটি ব্যালট বাক্সকে নিরাপদ রাখতে। এই ‘ধানের শীষ’ এখন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্বে যদি আমরা জড়িয়ে পড়ি, আমরা যদি বিবাদ বিরোধে জড়িয়ে পড়ি , মা’য়ের মুক্তি-গণতন্ত্রের মুক্তির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারি তাহলে ক্ষমতাসীন অপশক্তি আবারো গায়েবি মামলা কিংবা আদালতের রায়ের অজুহাত দেখিয়ে অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যারা সকল অন্যায় অত্যাচার মোকাবেলা করে নিজেদের প্রস্তুত করে গড়ে তুলেছেন, আপনারাসহ সকল নেতাকর্মীকে আরো বেশি নির্মম নিষ্ঠুরতার নিষ্ঠুরতার মধ্যে ফেলে দেবে। সম্ভাব্য সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করে দল একজনকেই মনোনয়ন দিতে পারবে। এই মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের ‘এরর অফ জাজমেন্ট’ থাকতে পারে। তারপরও আমি আপনাদের ভাই হিসেবে, আপনাদের সন্তানতুল্য হিসেবে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার আমার দলের সর্বস্তরের প্রতিটি নেতা কর্মী সমর্থকের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ কারাবন্দি মায়ের মুক্তির কথা বিবেচনা করে দলের সিদ্ধান্তকে আপনারা সর্বশক্তি দিয়ে বাস্তবায়ন করবেন। দলের ওপর, দেশনেত্রীর ওপর আস্থা রাখুন। আমি কথা দিচ্ছি, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে আপনাদের প্রত্যেকের ত্যাগ তিতিক্ষা যোগ্যতার সর্ব্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে।

দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্ষমতাসীন অপশক্তি এবং তাদের দোসররা আমাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি এবং ঐক্য নষ্টের নানারকম ষড়যন্ত্র ও অপকৌশল অবলম্বন করছে এবং করবে। এ কারণেই আমাদেরকে সাহস ও সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। এই অপশক্তি সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমাদের সম্পর্কে, আমাদের প্রার্থী সম্পর্কে এবং আমাদের বিভিন্ন নেতাকর্মী সম্পর্কে বিভিন্নপ্রকার মিথ্যা, কাল্পনিক ও বানোয়াটি খবর কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে জনগণ ও আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। তিনি সরকারী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভয় দিয়ে বলেন, ক্ষমতাসীন অপশক্তি এবং তাদের দোসররা মিথ্যে কথা ছড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আমি আগেও বলেছি,আবারো বলছি, আমাদের দল সরকার গঠন করলে অন্যায়ভাবে অথবা রাজনৈতিক কারণে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকুরী যাবেনা। প্রশাসনে যাদেরকে বর্তমান অবৈধ সরকার অপকর্ম করতে বাধ্য করেছে কিংবা এখনো করছে তাদের সামনে একটি সুযোগ এসেছে। এ দেশ আপনাদেরই, এ দেশের জনগণ আপনাদেরই পরিবারেরই অংশ। তাই জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। গণতন্ত্রের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না। জন প্রশাসনের বিধিবদ্ধ আইনকে উপেক্ষা করবেন না। জনগণের বুকে গুলি চালাবেন না।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীনরা সারাদেশে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি- বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকার গঠন করলে দেশ থেকে এই ভয়ের সংস্কৃতি অবশ্যই দূর করা হবে। মানুষ নির্ভয়ে কথা বলবে, নিরাপদে স্বাধীন ও দেশের সম্মানিত নাগরিক হিসেবে দেশের ভেতর বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবে। আগামী নির্বাচনটি গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষের জন্য একটি সুযোগ এবং অধিকার ও বটে। যে কোনো মূল্যে আপনার এই অধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিন।

তারেক রহমান দলের জন্য নেতা-কর্মীদের ত্যাগ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি অকৃত্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গত এক দশকে সারাদেশে আপনারা বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন বর্তমান অবৈধ সরকারের প্রতিহিংসার প্রধান টার্গেট। এই ব্যাংক ডাকাত সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতা দখল করেই বিএনপির বিরুদ্ধে সর্বগ্রাসী ষড়যন্ত্র শুরু করে। গুম খুন অপহরণ হামলা মামলা ও হয়রানির পাশাপাশি চলেছে অপপ্রচার। কিন্তু আজ আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলতে চাই, এতো অত্যাচার নিপীড়ন নির্যাতন করেও শহিদ জিয়ার আদর্শের একজন নেতাকর্মীকেও বিপথগামী করা যায়নি। এর প্রধান কারণ, বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির উৎস দেশের জনগণ। বিএনপির রাজনৈতিক চেতনা মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি সাম্য মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার। বিএনপির সম্পর্ক বাংলাদেশে মাটি ও মানুষের সঙ্গে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। জনগণের কাছে আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি, এই নির্বাচনটি আমাদের জন্য আন্দোলনের একটি কৌশল। এই নির্বাচনে দলের চার হাজারের বেশি যোগ্য নেতা ও প্রার্থী দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যারা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, আপনাদের অনেকেই হয়তো একজন কর্মী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন, এরপর ধীরে ধীরে নিজের যোগ্যতা বলে নিজেকে বিএনপির একজন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন,চলতি মাসের ১৮ নভেম্বর টি ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ধানের শীষের মনোনয়ন প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছিলেন। আমিও সেখানে সকল প্রার্থীদের সাথে কথা বলেছি। মনোনয়ন বোর্ডে উপস্থিত প্রায় সকল প্রার্থীই কেন্দ্রীয়ভাবে এবং নিজ নিজ এলাকায় গত একদশকে বিএনপির বিরুদ্ধে সীমাহীন অপপ্রচার এবং নির্যাতনের পরও ‘ধানের শীষে’র এই দলকে দেশে জনগণের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়, গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। তারেক রহমান বলেন, গত একদশক ধরে আপনারা যে অমানষিক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন, দেশের মানুষ যে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছে, তা তখনি বৃথা যাবেনা- যদি আমরা দলের প্রতিটি নেতাকর্মী সব কিছু ভুলে সকল শক্তিকে একত্রিত করে একটি প্রতীকের পেছনে এসে দাঁড়াই এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে যে কোনো মূল্যে সকল কিছুর বিনিময়ে বাস্তবায়িত করি। আমরা যদি এখনো নিজেদের মধ্যে একে অপরের সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তাহলে এই বর্তমান স্বৈরাচার আগামীদিন যখনি সুযোগ পাবে, তখন আমাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বহুগুন বাড়িয়ে দেবে। যে সহকর্মীর কাছে আজ আপনি আলোচনা করার সুযোগ পাচ্ছেন আগামীকাল হয়তো তাও পাবেননা। তাই, আগামীদিন যদি আপনি হাসিমুখে আপনার মতামতটি ব্যক্ত করতে চান, তাহলে আজ থেকেই ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। বাস্তবতা হলো, দেশের তিনশো’টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জন্য দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী মনোনয়ন চাইলেও সঙ্গত কারণেই সবাইকে মনোয়ন দেয়া সম্ভব নয়। আমাদের দলের শত যোগ্য নেতা থাকার পরও চলমান বাস্তবতায় তিনশো আসনের প্রতিটিতে আমরা বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিতে পারবোনা। কারণ এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে বিএনপি, জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারাও অংশ গ্রহণ করবেন। তাই আমাদেরকে ত্যাগ স্বীকার করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আপনারা অনেকেই এই দলে কর্মী হিসেবে এই দলের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। দলকে ভালোবেসে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। দেশনেত্রী এখন মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি। আমার দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী সমর্থক আজ দেশনেত্রীকে শুধু নেত্রীর আসনেই নয়, বরং তাকে মা’য়ের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। শুধু আমার দলের নেতা কর্মীই নয়, দেশের কোটি কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছেও দেশনেত্রী এখন মা’য়ের মর্যাদায়। সেই ‘মা’ জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বছরের পর বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে রাজপথের সংগ্রামে ছিলেন। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি বলেই এই বয়সে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েও তাকে জেল জুলুম সহ্য করতে হচ্ছে। সেই কারাবন্দি মা’য়ের কথা মনে রেখে সবরকম দ্বিধা- দ্বন্দ্ব ভুলে অন্তত আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিজেদের ঐক্যকে হিমালয়ের মতো সুদৃঢ় এবং ইস্পাতের মতো কঠিন রূপে গড়ে তুলতে হবে।একমাত্র আপনাদের ঐক্য এবং দৃঢ় প্রত্যয়ই পারে আপনার নেত্রীকে, কারাবন্দি মা’কে মুক্ত করতে।

Content Protection by DMCA.com

ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী: ড. কামাল

ড. কামাল নিজস্ব প্রতিবেদক
আরটিএনএন
ঢাকা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, অপশাসন দূর করতে জনগণের যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা সুসংহত করে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই জনগণের বিজয় নিশ্চিত।

তিনি আরো বলেন, যারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার বিরুদ্ধে কথা বলবে তারা স্বাধীনতা বিরোধী।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘লঞ্চিং গণফোরাম-লেড পাবলিক পলিসি ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে সুশাসন, জনগনের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমার দল ও জোট কাজ করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐক্যজোট ও বিএনপির মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও সংকট হয়নি।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘জোট ও বিএনপির মধ্যে সংকট হয়নি। জোট হলে তো আসন ভাগ করতেই হয়। আলোচনা কিছুটা শুরু হয়েছে।’ তবে এটা কঠিন কাজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘পিঠা ভাগ করতে গেলেও টানাটানি হতে পারে। কেউ পাবে, কেউ পাবে না। তবে যে পাবে না সে তার পাওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবে।’ ফাঁস হওয়া বিএনপির দুই নেতার ফোনালাপে ‘ব্ল্যাকমেইল’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ‘আশা করছি এ ধরনের ভাষা ব্যবহার হবে না। ভাষার ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।’

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব কিনা, এ ব্যাপারে মত জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা নিরাশ হতে চাই না। ভোটে বাধা দেওয়া হলে তা স্বাধীনতার বিরোধিতার সমান। কারণ, ভোট জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন শুধু তারাই বঞ্চিত হবে না, পুরো দেশের মানুষ বঞ্চিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে কী করবে, সে ব্যাপারে রেজা কিবরিয়া কথা বলেন। তিনি গণফোরামের পক্ষ থেকে কিছু অর্থনৈতিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 6