হাসিনাকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে, নেতকর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেন কাদের!

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন অনেক খেলা আছে, অনেক চক্রান্ত আছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অবশ্য বেশ কিছু দিন যাবৎ সামজিক মাধ্যমগুলিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শেখ হাসিনা ক্যান্সারে ভুগছেন, এমনকি অবস্থা খুব আশংকাজনক, যেকেনো সময় তার মত্যু হতে পারে, তিনি কেবল নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে অসুস্থতা গোপন করে নাটক করে যাচ্ছেন। তাকে সরিয়ে সেখানে ছোট বোন শেখ রেহানা বসতে চাইছেন। এ নিয়ে পরিবার এবং প্রভাবশালীদের মধ্যে প্রবল গৃহবিবাদ চলছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা চাইছেন, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে উত্তরাধিকার করতে। এ নিয়ে নানা গুজব এবং চক্রান্তের খবর হাওয়ায় ভাসছিল।

অবশেষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক সেই গুজবকে সত্য হিসাবে প্রকাশ করলেন!

Content Protection by DMCA.com

কমিশনার চৌধুরী আলম হত্যা

সংগৃহীত

২০১০ সালের ২৫শে জুন রাতে ইন্দিরা রোড এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকেরা সাদা পোষাকে তুলে নিয়ে যায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের রমনা শাহবাগ এলাকার তৎকালীন কমিশনার চৌধুরী আলমকে, যিনি ছিলেন বিএনপির ঢাকা মহানগরী কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি। মহানগর বিএনপি সভাপতি ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ডান হাত হিসাবে পরিচিত ছিলেন চৌধুরী আলম। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তার খোঁজ চাওয়া হলে পুলিশ ও ডিবি অস্বীকার করে। তার মেয়ে মাহফুজা আক্তার বিবিসিকে বলছিলেন, ওইদিন রাতেই তিনি টিভির স্ক্রলে খবর দেখেন যে তার বাবাকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি আটক করে নিয়ে গেছে। এরপরে ডিবিতে খোঁজ নিলে বলা হয়, হয়তো র‌্যাব তুলে নিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু র‌্যাবের কাছে গিয়েও কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। তবে চৌধুরি আলমের গাড়ীর ড্রাইভার বলেছেন, সেতো নিজেই দেখেছে, চৌধূরী আলমের গাড়ীকে আরেকটা গাড়ী গতিরোধ করে তারপর সাদা পোশাকের ৭/৮জন মানুষ তাকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

খুনি উইং কমান্ডার আরমান
খুনি উইং কমান্ডার আরমান

অদ্যাবধি দরকারের কোনো সংস্থার এর দায় স্বীকার করেনি, বা চৌধুরি আলমের কোনো হদিস মিলেনি। এমনকি পাওয়া যায়নি কোনো লাশ। পরিবারের সদস্যরা আশায় দিন গুনছে এখনও। তারা কোনো মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে পারেনা।

তবে সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, চৌধুরী আলমকে র‌্যাব-১১র কর্মকর্তারা তখন হত্যা করেছিল। হত্যা করার পরে লাশ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া হয়। লাশ যেনো পানিতে ভেসে না উঠে সেজন্য আগেই পেট চিড়ে নাড়িভূঁড়ি বের করে পেটের মধ্যে কংক্রিটের ব্লক ঢুকিয়ে দেয়া হয়। তারপর শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর মিলিত স্রোতের সংযোগস্থলে লাশ ফেলে দেয় র‌্যাব-১১ এর খুনিরা। তার খুনিদেরও পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কোয়াড্রন লীডার (বর্তমানে উইং কমান্ডার) আরমান চৌধুরী, মেজর সারোয়ার, এবং ক্যাপ্টেন হাসিব।

এর মধ্যে উইং কমান্ডার আরমান উল্লাহ চৌধুরী (বিডি/৮৮৩৭) ২০০০ সালে বাংলাদেশ এয়ারফোর্সে কমিশন জিডি পাইলট পদে কমিশন লাভ করেন। সর্বশেষে কিছুদিন আগেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ দূতাবাসে লেবার কাউন্সিলর পদে কর্মরত ছিলেন, যেখানে তার যাওয়ার কথা নয়, ওটা সিভিল পোস্ট। কিন্তু আবুধাবী বলে কথা, টাকার খনি! র‌্যাব-১১তে থাকাকালে পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ভুমি দস্যুদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দিয়ে শত কোটি টাকা উপায় করেছেন আরমান। তবে পরিস্থিতি দেখে সম্প্রতি স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আরমান সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান ও বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব) মোহাম্মদ ইনামুল বারী মেয়ের জামাই। বন্ধুরা জানায়, “পোলাডা ভদ্র ছিল বাট সেয়ানা। পরিবেশ ওরে পুরাই নষ্ট কইরা দিল”। জুনিয়র অবস্থায় র‌্যাবে পোস্টিং পেয়ে টাকা এবং ক্ষমতার গরমে সার্ভিস কোয়ার্টার এ না থেকে বেতনের ডাবল খরচে বনানী ডিওএইচএস এ বাসা ভাড়া করে থাকত। সহকর্মীরা অপছন্দ করলেও কেউ কিছু বলতে সাহস করতো না, কারণ তখন তার শ্বশুর ছিল বিমান বাহিনী প্রধান আর সে ছিল জিডি পাইলট।

উল্লেখ্য, গত ৯ বছরে র‌্যাব অসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাদের ধরে নিয়ে গেছে। বেশিরভাগই ফেরত দেয়নি, লাশও মিলেনি। কাউকে কাউকে ছেড়ে দিলেও প্রায় সবাইকেই চৌধূরী আলমকে কেমন কে মাছের খাদ্য করা হয়েছে, সেই গল্পটি করে রাজনৈতিকভাবে নিস্কৃয় হয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়ে তারপরে ছেড়ে দিয়েছে। যার ফল হলো অনেককেই আন্দোলন সংগ্রামে আর আগের মত পাওয়া যায় না। এভাবেই অবৈধ ক্ষমতাকে লম্বা করে চলছে জুলমবাজ খুনি সরকার ও তার বাহিনীগুলো।

Content Protection by DMCA.com

মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্র

ঢাকায় তো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছে, আসুন একটু মুঘল ইতিহাসের মহাপ্রাসাদ ষড়যন্ত্র পড়া যাক।
মনে পড়ে যায়, দিল্লির ষষ্ঠ বাদশাহ মহানুভব সম্রাট আলমগীরের (আওরঙ্গজেব) কথা, তিনি ক্ষমতার জন্য এবং টিকে থাকতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন, তাতে অনেক শিক্ষা আছে।
তাজমহল খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ছিল: দারা শিকো, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব, এবং মুরাদ বাকশ। তাদেরকে চারটি এলাকার সুবাদার বানিয়েছিলেন শাহ জাহান। সম্রাট সর্বদা তার জ্যেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকোকে অধিক প্রাধান্য দিতেন। অপর তিন ভ্রাতা এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে দারার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যে এমন কোন নিয়ম ছিল না যে, সম্রাটের মৃত্যু বা অসুস্থ হলে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন। সাধারণত সিংহাসনের দাবিদারদের মধ্যে যুদ্ধ এবং কৌশলে সিংহাসনচ্যূত করে ক্ষমতা দখল ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার পালা বদল ঘটত। মূলত সামরিক শক্তির বলেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হত।

শাহজাহানের চার পুত্রই শাসক হিসাবে যোগ্য ছিলেন। কিন্তু মূল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র বড়পুত্র দারাশিকো এবং তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেবের মধ্যে সীমিত ছিল। দারাশিকোর চেয়ে যুদ্ধকৌশল এবং বুদ্ধিমত্তায় আওরঙ্গজেবের এগিয়ে ছিলেন। তাছাড়া ক্ষমতার পেছনের অনেক রাজকর্মচারী এবং অন্যান্য প্রভাবশালীরা এই দুইজনের পেছনে বিভক্ত হয়ে ছিল। আদর্শগত দিক দিয়েও তাদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। দারাশিকো ছিলেন সম্রাট আকবরের মত ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী, অন্যদিকে অপরদিকে আওরঙ্গজেব ছিলেন কোরআনে হাফিজ ও কট্টর সুন্নি মুসলিম।

১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার কাছে ছিলেন এলাহাবাদ ও লাহোরের সুবাহদার জ্যেষ্ঠপুত্র দারা শিকোহ। শাহজাহান দারাশিকোকে পরবর্তি সম্রাট হিসাবে ঘোষণা করলে ভাইদের সাথে কলহ শুরু হয়। শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবাহদার, আওরঙ্গজেব ছিলেন দাক্ষিণাত্যের সুবাহদার এবং গুজরাটের সুবাহদার মুরাদ নিজ নিজ প্রদেশের স্বাধীন শাসক হিসাবে ঘোষণা করে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রা দখলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ফলে কেন্দ্রের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৬৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জুন মাস অবধি চার রাজপুত্রের মধ্যে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

শাহজাদা সুজা তার বাহিনী নিয়ে রাজধানী আগ্রার উদ্দেশে যাত্রা করেন, তবে বানারসের নিকট দারাশিকোর বাহিনীর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলায় ফেরত আসেন সুজা। অন্যদিকে দাক্ষিণাত্য থেকে আওরঙ্গজেব এবং গুজরাট থেকে শাহজাদা মুরাদও একই ভাবে সসৈন্যে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করেন। আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে জোট করেন এই চুক্তিতে যে, যুদ্ধে জিতলে তারা সমগ্র সাম্রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবে। আওরঙ্গজেব এবং মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী রাজধানী আগ্রার দিকে অগ্রসর হয়। মে মাসে সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে দারাশিকো পরাজিত হন। সপরিবারে পারস্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দী হন দারা।
আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে কৌশলে মুরাদকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী করেন। ফ্রান্সের বাস্তিলের সমতূল্য এই গোয়ালিয়র দুর্গটি মোঘল পরিবারের রাজদ্রোহীদের বন্দী করে রাখতে ব্যবহার করা হতো। এক গুজরাটি উজিরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে শাহজাদা মুরাদকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়, এবং ৪ ডিসেম্বর ১৬৬১ তা কার্যকর করা হয়।
আরও পরে আওরঙ্গজেব ক্ষমতাসীন হলে সুজাকে বাংলা বিহার উড়িষ্যার সুবাহদার পদ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সুজা তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে বাংলার স্বাধীন নবাব হিসাবে ঘোষণা করে ধীরে ধীরে তার এলাকা বৃদ্ধি করতে শুরু করেন, ফলে আওরঙ্গজেব সুজার বিরুদ্ধে মীর জুমলার নেতৃত্বে সেনা অভিযান প্রেরণ করেন। খাজহুয়ার যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর কাছে শাহ সুজা পরাজিত হয়ে বার্মার আরাকান অঞ্চলে পালিয়ে যান, এবং সেখানে স্থানীয় শাসকদের হাতে নিহত হন।

শাহজাদা আওরঙ্গজেব আগে থেকেই অসুস্থ সম্রাট শাহজাহানকে আগ্রার দূর্গে গৃহবন্দী করে রাখেন, কিন্তু তিনি কখনোই পিতার প্রতি দুর্ব্যবহার করেননি। কারাগারে কয়েকটি ছিদ্র দিয়ে তাকে তাজমহল দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শাহজাহানের সবচাইতে প্রিয় কন্যা জাহানারা আওরঙ্গজেবের দেয়া বেগম-এর মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন, এবং বৃদ্ধ পিতার সাথে স্বেচ্ছায় সহ-বন্দীত্ব বরণ করেন। ১৬৬৬ সালে আগ্রা ফোর্টে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাহান কন্যা জাহানারার তত্ত্বাবধানেই ছিলেন।

এর আগে মে মাসের সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হয়ে শাহজাদা দারাশিকো বন্দী ছিলেন। ধর্ম ত্যাগের অভিযোগে দারাশিকোকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। ১৬৫৯ সালের ৩০ আগস্ট দারার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। শাহজাহানের প্রিয়পাত্র ছিল জ্যেষ্ঠপুত্র দারাশিকো। দারার কর্তিত মস্তক সুন্দর করে পরতে পরতে মোড়ানো অবস্থায় পিতা শাহজাহানের নিকট পাঠানো হয়েছিল, যা দেখে বৃদ্ধ শাহজাহান মূর্ছিত হয়ে পড়েন কন্যা জাহানারার স্কন্ধে। তিন ভাইকে পদানত করার পরে শাহজাদা আওরঙ্গজেব ‘সম্রাট আলমগীর’ নাম ধারণ করে নিজেকে দিল্লীর সম্রাট ঘোষণা করেন। আরোহন করেন পিতার বানানো ময়ুর সিংহাসনে। ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪৯ বছর মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি প্রায় সম্পূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেন। আওরঙ্গজেব কোরআনে হাফিজ ছিলেন এবং সম্রাট হওয়ার সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটাতেন। অন্যান্য শাসকদের ন্যায় তিনি রাজকোষকে নিজের সম্পদ মনে না করে প্রজাদের সম্পদ মনে করতেন। তিনি নিজ হাতে টুপি সেলাই করে এবং স্বহস্তে কুরআন শরীফ লিখে সংসার নির্বাহ করতেন। রাজ্যের সম্পদ স্পর্শও করতেন না। অন্যান্য বাদশাহদের মত মদ ও নারীতে মত্ত হননি। মুঘল সম্রাটদের মধ্যে তিনি সবেচেয়ে ন্যায়পরায়ন বাদশাহ হিসাবে পরিচিত ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার করেন; বিশেষ করে গোলকুন্ডা বিজয়ের পর মুঘল সাম্রাজ্যের আয়তন ৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হয়। বাদশাহ আলমগীর ১৫৮ মিলিয়ন প্রজাকে শাসন করতেন। তার সময় মুঘল সাম্রাজ্যের বাৎসরিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, যা তার সমসাময়িক ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের বাৎসরিক করের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। আলমগীরের শাসনামলে চীনকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল ভারতবর্ষ, যার পরিমাণ ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা সপ্তদশ শতকের সমগ্র পৃথিবীর জিডিপি-এর এক চতুর্থাংশ। শরিয়াহ আইন ফতোয়ায়ে আলমগীরী এবং ইসলামি অর্থনীতির জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বাদশাহ আলগমগীর।
ক্ষমতার জন্য নিজ ভাইদের হত্যা করা এবং পিতাকে কারারুদ্ধ করার জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিস্তর সমালোচনা থাকলেও মুঘল বাদশাহী দখলের লড়াইতে ঐরূপ নির্দয়তা ছাড়া উপায় ছিলনা বলে অনেক নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতামত। অন্যথা করলে আওরঙ্গজেবকেই মৃত্যুবরণ করতে হতো।

দক্ষিণাত্যে মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ১৭০৭ সালে যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক তাঁবুতে ৮৯ বছর বয়সে বাদশাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কোরআন কপি করা আয় থেকে আওরঙ্গজেবের সর্বশেষ উপার্যন ছিল ৮০৫ টাকা, যা থেকে ৪ টাকা আট আনা নিজের দাফন কাফনের জন্য রেখে বাকী অর্থ প্রজাদের মধ্যে দান করার উইল করে গিয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে খুলদাবাদে খুব সাদামাটা ভাবে সম্রাটকে সমাহিত করা হয়।

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ ঘোষণা করে সুপ্রীম কোর্ট

১৫ মার্চ ১৯৯৯

প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজলের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ গতকাল এক আদেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রংহেডেড’ ঘোষণা করে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করতে আরো সতর্ক থাকতে নিদেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আপিল বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। কর্মরত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ আনতে গিয়ে এডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজেকে কোর্টের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পুনরায় উল্লেখ করে গত ১ ফেব্রুয়ারী এই আবেদন করেন। আবেদনে তিনি গত ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৯ দৈনিক দিনকাল ও দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত কতিপয় বিবৃতি আমার নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ভারত থেকে ফিরে গত ২৯ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন ক্ষমতাসীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে গতকাল আদেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার মামলাটি দেখলাম।

আবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই অভিযোগ করা হয় যে, কথিত বিবৃতিগুলো সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল। কেননা তিনি ভাল ভাবেই জানেন যে, এ ধরনের বিবৃতি সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। তথাপি তিনি এ ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির উচ্চ ভাবমূর্তি এবং অভিযোগ করার অযোগ্য ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতাকে সচেতনভাবে খর্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবেদনকারী সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা জানিয়েছেন।

এটর্নি জেনারেলকে অবহিত করে ১৯৯৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত হয়। শুনানিকালে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে কথিত আক্রমণাত্মক অংশ আবেদনকারী উল্লেখ করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন “……… গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট দু’’দিনে হাইকোর্টে ১২শ’ মামলার জামিন হয়েছিল। এটা কখনো হতে পারে না। এরপর কোর্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেননি।

“…. বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে, দু’দিনে ১২শ’ মামলার জামিন হয়ে যায়। কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? এটা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। যদিও কোর্ট চেঞ্জ করা হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা তিনি নেননি। যদি তদন্ত করা হতো এবং ব্যবস্থা নেয়া হতো তবে জুডিসিয়ালি অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত। জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের কোন সন্দেহ দেখা দিত না। শুনানিকালে অন্যান্য বেশ কয়েকটি পত্রিকা যেমন দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, বাংলার বাণী, সংবাদ, মুক্তকণ্ঠ, দি নিউ নেশনে প্রকাশিত রিপোর্টও আমাদের কাছে উদ্ধৃত করা হয়। এতে দেখা যায় যে, ‘দিনকাল’ ও ‘সংগ্রাম’ ছাড়া আর কোনো সংবাদপত্রে কথিত মন্তব্য যথাক্রমে …. এটা কখনও হতে পারে না ….. কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? ….. খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ এভাবে লেখা হয়েছে যে,……এদের জামিন কিভাবে হলো সেটাই প্রশ্ন। অনুরূপভাবে সংগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি……বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে…..তবে প্রায়শই যেমনটা ঘটে তা হল প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ২ দিনে (২৫ ও ২৬ আগষ্ট ১৯৯৮) হাইকোর্ট (তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চকে অর্থ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে) ১২শ’ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি শুধু বেঞ্চটি পরিবর্তন করেন। তবে অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি পদক্ষেপ নিলে বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনগণের কোনো সংশয় থাকত না।

আমাদের এমনও অভিজ্ঞতা রয়েছে যে আমাদের দেশের সংবাদপত্রের খবরের ওপর সবসময় বিশ্বাস করাটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও কষ্টকর। এই মামলায় সেই কষ্টকর অবস্থাটা না কমে বরং বেড়েছে। এর কারণ হল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত (বিনা প্রস্তুতিতে) মন্তব্যের ভিত্তিতেই এ রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তুত করা বিবৃতির ক্যাসেট রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার উপস্থিত মন্তব্যের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। 

২ দিনে ১২শ’ মামলার জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। তা হল ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে আদালতের বার্ষিক দীর্ঘ ছুটির প্রাক্কালে ২ দিনে (২৬ ও ২৭ আগস্ট, ১৯৯৮) হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের একটি বেঞ্চ বিপুলসংখ্যক মামলায় জামিন মঞ্জুর নিয়ে কতিপয় সংবাদপত্রে কিছু কিছু রিপোর্ট/মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোন ব্যক্তির নিকট থেকে এ রকম সন্দেহজনক বিবৃতি দেখে আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। হাইকোর্টের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞাত কোন ব্যক্তির পক্ষে এরকম মন্তব্য করা একেবারেই অসম্ভব। বিচারকদের এরকম হারে জামিন দেয়ার ক্ষমতা থাকলে আদালতে এত কাজ জমা থাকতো না। আমাদের সন্তুষ্টির জন্য বিষয়টি পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি যে, বর্ণিত ২ দিনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্তৃক রুল ও জামিনের সংখ্যা মোট (৮৩+৭২) =১৫৫ এবং আগাম জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা (২১৯+১৪৮) =৩৬৭।

এ পরিস্থিতিতে আমরা সন্দেহজনক রিপোর্ট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিবৃতি চাওয়াটা উপযুক্ত বলে মনে করি ও সেমতে এটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করি। মুলতবীর দিনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি আমাদের কাছে আসে। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত সফর সম্পর্কে বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকগণ আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন যার উত্তর বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্নভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। প্রশ্ন-উত্তরের এক পর্যায়ে দুর্নীতি মোকদ্দমা বিচারে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে আমি বলি যে, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সেখানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ইতিপূর্বে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে দু’দিনে ১২০০ জামিন দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের সংবাদ/মন্তব্য আমার নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা জাতীয় সংসদের গণসংযোগ শাখা সঠিক নয় বলে প্রকাশ করেছে। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় এমনও মন্তব্য করা হয়েছে, “When the hate campaign was building, the Law Minister and the Attorney General met the helpless Chief Justice almost daily, Reportedly trying to influence the latter…..” (Weekly Holiday of 6011-1998. Page-1, Caption : “Supreme Court under clouds” by Akbar Imam).

মাস তিনেক আগে খবরের কাগজে আগাম জামিনের শুনানির ব্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ দেয়া হয়। সেখানে একজন সিনিয়র এডভোকেট বলেন যে, ঐ বেঞ্চে তার মক্কেলগণ সুবিচার পাবে না। এ সকলের প্রেক্ষিতে যখন সাংবাদিক সম্মেলনে মোকদ্দমা বিচার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তখন খবরের কাগজে প্রকাশিত উপরোক্ত সংখ্যার উল্লেখ করে, আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমি বলেছিলাম ঐ ঘটনা প্রধান বিচারপতিকে জানানো হলে তিনি বেঞ্চ পরিবর্তন করে দেন আর কোন ব্যবস্থা নেননি, ব্যবস্থা নিলে জুডিসিয়াল অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতো এবং জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের মনে কোন সন্দেহ দেখা দিত না। দেশে আইন-শৃঙ্খলা ও সেই প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ/মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি এ অভিমত প্রকাশ করেছিলাম। এ অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বিচারকদের সততা সম্পর্কে কোন সন্দেহ প্রকাশ করিনি, বা এ অভিমত প্রকাশ করার পেছনে আদালতের বা প্রধান বিচারপতির মর্যাদা ক্ষুণ করার বা বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করার কোন অভিপ্রায় আমার ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর ১২শ’ মামলার সংখ্যার সূত্র হিসাবে পত্রিকার রিপোর্টের উল্লেখ করেছেন, যদিও পত্রিকাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এরকম হতে পারে যে, পত্র-পত্রিকায় তিনি এ ধরনের সংখ্যা দেখে থাকতে পারেন। সর্বোপরি তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সংবাদপত্রে পূর্বেই উচ্চতর আদালতের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কোন সত্য ঘটনা কিংবা সংখ্যা দেয়ার পূর্বে তার আরো সতর্ক ও সাবধান হওয়া উচিত ছিল এবং সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করাটা ঠিক হয়নি। সঠিক সংখ্যা পেলেও আরো অনেক মামলায় ঐ জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল এমনটা মনে করে তিনি মন্তব্য করলেও আমাদের কিছুই বলার থাকতো না। কারণ প্রধান নির্বাহী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি নিজস্ব মন্তব্য দিতে পারেন। আদালতের কার্যক্রম ও অসুবিধা সম্পর্কিত বিষয় প্রধান বিচারপতির নজরে আনাটা নির্বাহীর জন্য কোন ভুল নয়। তবে প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে সংবাদপত্রকে প্রধান নির্বাহী কোন কিছু বললে বেশি বিব্রতকর কোন কিছুই হবে না। কেননা তার মত প্রধান বিচারপতি কোন জবাব প্রদানে সংবাদপত্রে মন্তব্য করতে পারে না। হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ গঠন কিংবা পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে কারোর কোন মন্তব্য নেই কিংবা কারোর আদেশে এটা করা হয়নি। ইহা পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত ও তার ব্যক্তিগত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক তথ্যাবলি জানতে কেবল তিনি সতর্ক থাকলে বর্তমান ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কেমন বিব্রতকর তা ধারণা করা যেতো। জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি সংবাদপত্রে আলোচিত হওয়ার বহু আগেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের গঠন (কার্যক্রম বণ্টন) প্রধান বিচারপতি পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি ১৯৯৮ সালের ২৬ আগস্টের আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে এমনটা ফুটে উঠেছে যে সরকারের কারণেই বেঞ্চের গঠন পরিবর্তন করা হয়েছে যা সঠিক নয় প্রধান বিচারপতি তাকে কেন্দ্র করে মন্তব্যে যথেষ্ট অস্বস্তি অনুভব করেছেন। এর কোন সরাসরি জবাব তিনি দিতে পারেন না কিংবা তার প্রশাসনের আওতায় পড়ে এমন কোন বিষয় ব্যাখ্যা কিংবা পালনেও তিনি বাধ্য নহেন। আদালত অবমাননার বিচারের জন্য আমাদের কাছে পেশ করা ঘটনাবলি নিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা লর্ড এ্যাটকীনের বাণী এখানে উদ্ধৃত করছি। আদালতে সর্বদাই আমরা এ বাণী মেনে চলি লর্ড এ্যাটকীন বলেছেনঃ
“… The path of critism in a public way; The worngheaded are permitted to carr therein; provided that members of the public abstain from imputting improper motives to those taking part in the administration of justice, and are genuinely exercising a right of criticism and not acting in malice or attempting to impair the administration of justice is not a cloistered virtue; she must be allowed to suffer the security and respectrul even though outspoken comments of ordinary men.”

সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে লক্ষ রাখতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রীকে তার পদে থেকে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করার ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে বলে আদালত আশা করে। এসব কারণে উপরোক্ত মন্তব্যের আলোকে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল।

Content Protection by DMCA.com

“ওবাইদুল কাদের টাকা, মাগী এবং ইয়াবা সবই খায়” : বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান

চট্টগ্রামের বাঁশখালি আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি লীগেরসাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে অশালীন সত্য বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

চনু ! যোগাযোগ মন্ত্রীর চ্যাট হইছে ! সবকিছু আমি নিচ থেকে প্রসেস করে নিয়ে গেছি ।একনেকে গিয়ে আমার বন্ধু খোরশেদের দিয়ে পাস করিয়েছি । প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাস করাইছি ।

প্রধানমন্ত্রী বলছে, তুমি নিচ থেকে পাস করে নিয়ে আসো আমি একনেকে আসলে পাস করে দিবো ।

লিটন (আব্দুল্লাহ কবির লিটন মানে আক্তারুজ্জামান বাবুর ভাগিনা) কি চনু ! ইতার মারে চুদি ! নমিনেশন না পাইলে পাবোনা ! এই কাদের ( ওবাইদুল কাদের) চুদানিরপোয়ারে আগে নেত্রীর সামনে পিডাবো আমি ! আলা খানকিরপোয়া !

লিটনের ছেলেকে গুলি মারছি এই জন্য বলছে, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করতেছো ! তোমারে সামনে নমিনেশন দিবোনা ! আমি বলছি (ওবাইদুল কাদেরকে) , আপনার থেকে নমিনেশন নিতে গেলে…

রুমের ভিতর ঢুকে নেত্রীকে কি কি যেনো বলেছে আমি দেখি নাই ! তারপর তোফায়েল ভাই যখন বের হয়ে আমাকে দেখলো তখন সে আমাকে ডাক দিলো ! আমাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমাদের বাঁশখালীতে কি হইছে? আমি বললাম, এই এই হইছে । তোফায়েল ভাই আমাকে বললো, তোমার বিরুদ্ধে সে (ওবাইদুল কাদের) এই এইসব বলছে ।

চুদানিরপোয়া (ওবাইদুল কাদের) পয়সা , মাগী , ইয়াবা সবই খায় । নেত্রীকে আমি ডাইরেক্ট বলছি সংসদে। বলছি, নেত্রী ওবাইদুল কাদেরের আমি কলার ধরবো । নেত্রী বলছে, কেনো ? কি হইছে ? আমি বলছি , ও ( ওবাইদুল কাদের) বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ছোট করছে । আমরা বঙ্গন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি । আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে । সেই জন্যে আপনার সাথে আছি । খেয়ে না খেয়ে । আপনি সেই মর্যাদাটা দিছেন । শেষ বয়সে আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন । নইলে আমাদের মতন লোক জীবনে নমিনেশন পাইতাম না ।

ইতে ( ওবাইদুল কাদের) বাবু মিয়ার জনসভায় বলতেছে , বাবু মিয়া না হলে শেখ রেহানা লন্ডনে বসবাস করতে পারতোনা । বাবু মিয়া না হলে নেত্রী রাজনীতি করতে পারতোনা । জাবেদ তুমি এগিয়ে যাও ।

নেত্রী বলছে, তো ! আমার বোন রেহানাতো বাবু মিয়া থেকে পয়সা নে নাই ! আমি বললাম, এইটা আমি আপনাকে জানিয়ে রাখলাম । আবার বললে আমি কিন্তু কলার ধরে ফেলবো ( ওবাইদুল কাদেরের) । নেত্রী বললো, হেই মাথা ঠান্ডা রাখো ।

এইসব কথা আমি সংসদে নেত্রীকে ডাইরেক্ট বলছি । আমি বলছি এইগুলো বলা মানে কী ! বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ছোট করা । বাবু মিয়া বঙ্গবন্ধুর নাম বেইচা একশো টাকা কামাই পাঁচ টাকা এইখানে ( পার্টির জন্য) খরচ করছে । দক্ষিন চট্টগ্রামে কোন অবদান থাকলে কায়সার মিয়ার আছে । আমি এইসব কথা ডাইরেক্ট বলছি !

বাঁশখালী-১৬ আসনের সংসদ সদস্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান


https://www.facebook.com/mdmoinuddin.tarid/videos/900765263596458/

Content Protection by DMCA.com

৭৫’র পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় স্বয়ং মোহাম্মদ নাসিম!

শপথ নিয়ে বিতর্ক ও উদ্যমের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে যার যার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত মন্ত্রীরা। একতরফা দমননীতির আশ্রয়ে নির্বাচনের ফল নিজেদের করে নিয়ে খানিকটা নির্ভারই থকার কথা ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের। নিজেদের বাছাইকরা বিদেশি পর্যবেক্ষকেরাও গেয়ে দিয়েছেন সাফাই। কিন্তু তারপরও শঙ্কায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। টানা তৃতীয়বার ক্ষমতা গ্রহণের মাস না পেরোতেই শ্রমিক অসন্তোষের মুখে বিপর্যস্ত সরকার। এরই মধ্যে দলের সিনিয়র নেতা আশঙ্কা করছেন ৭৫’র পুনরাবৃত্তির!

আজ সোমবার দুপুরে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউশনে প্রতিথযশা রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে আয়োজিত স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “৭৫’র আগেও আমাদের অনেক বড় বিজয় এসেছিল। এর পরেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি”। তাহলে কি সরকার সেরকম কিছুর আশঙ্কা করছেন, নাকি নিজেদের নেতারাই অভ্যূত্থানের উস্কানি দিচ্ছেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “এবারও বড় বিজয়ে বেশি খুশি হওয়ার কোনো কারণ নেই। ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।”

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “এদেশে আর কোনোদিনও সাম্প্রদায়িক শক্তি ও মৌলবাদ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে প্রতিবারই এদেশের সরকার হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার।”

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার যে এক তরফা নির্বাচন দিয়ে জয়ী হয়েছে তাতে জনগণের প্রতিক্রিয়ারই ভয় পাচ্ছে। না হলে অন্তত প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন দলীয় নেতা ৭৫’র মতো ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করতেন না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ অনুষ্ঠিত হয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোট কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া, ভোটগ্রহণের আগে বাক্স ভরে ফেলার মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়; যেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩০ আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন নিয়ে ভূমিধ্বস জয় পায়। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ২৯৩টি আসন।

Content Protection by DMCA.com

মন্ত্রিত্ব টিকলেও সাধারণ সম্পাদকের পদ হারাচ্ছেন কাদের!

Content Protection by DMCA.com

মন্ত্রি-বঞ্চিতদের মুখ বন্ধ করতেই দুদক লাগিয়ে দিয়েছে পিছে!

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার একক কর্তৃত্বে ক্ষুব্ধ সিনিয়র নেতারা

Content Protection by DMCA.com

কখনই নির্বাচনে হারেননি: ৫ টি নির্বাচনে ২৩ আসনে বিজয়ী হয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া
১৯৯১ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় খালেদা জিয়া: ছবি ROBERT NICKELSBERG

২০১৮ সালের বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অংশ নিতে পারবেন না – বিষয়টি এখন অনেকটাই নিশ্চিত।খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ প্রথমবারের মতো তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হলেন। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরে আসার পর থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া কোন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, ব্যতিক্রম ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচন।

খালেদা জিয়া নিজ দলের নেতৃত্বে যেমন দিয়েছেন, তেমনি নির্বাচনের মাঠেও তাঁর সাফল্য শতভাগ। বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্যে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি ।

গত ২৮ বছরের মধ্যে এ প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য বিবেচিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না সেটি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরেই বিতর্ক চলছিল। কিন্তু তারপরেও বিএনপির তরফ থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনে খালেদা জিয়া কখনোই পরাজিত হননি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন। ঐ নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি। তবুও সে নির্বাচনে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোন অসুবিধা হয়নি।

সংসদ নির্বাচনছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা

২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এসব আসন হচ্ছে – ফেনী ১. বগুড়া ৬ ও বগুড়া ৭। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি। এর মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান ছিল বেশি।

মোট ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩ টি আসনে বিজয়ী হয়ে, কোথাও কখনও না হেরে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।

অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বি শেখ হাসিনা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ঢাকার দু’টি আসনে এমনকি নিজের জেলা গোপলগঞ্জেও বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
————-
সূত্র: বিবিসি

 

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 7