বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় চীন: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও মসৃণ দেখতে চায় চীন।

বুধবার ঢাকায় চীনা দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জু। এ সময় মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ভূমিকাকে ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করেছে তা প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন ও রাখাইন রাজ্যের টেকসই উন্নয়নে চীন সহযোগিতা দেবে বলেও জানান জাং জু।

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়া এশিয়ার ম্যান্ডেলা, অচিরেই বিশ্বনেতা হবেন: মাহাথির

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে এশিয়ার নেলসন ম্যান্ডেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বলেন, সাউথ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার যুগের পর যুগ নির্বাসন এবং কারাবন্দী করে রাখায় তিনি যেভাবে বিশ্বনেতা হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া কারাদণ্ডের কারণে তিনিও অচিরেই বিশ্বনেতা হিসেবে আবির্ভূত হবেন।

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মালয় মেইল’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির মোহাম্মদ এসব কথা বলেন।

মাহাথির বলেন, ‘আমি সাধারণত আমাদের প্রতিবেশি দেশ বা বাংলাদেশের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করি না। কিন্তু আমি দেখছি, বাংলাদেশে রাজনীতি বেশি, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে মনোযোগ কম। এখানকার সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী এখন কারাগারে আছেন। এমনকি তিনি জামিন পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ন্যায় নাকি অন্যায় তা বিবেকবান আদালতের ওপরই ছেড়ে দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘সাউথ আফ্রিকার নন্দিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাকে একসময় তৎকালীন সরকার নির্বাসনে পাঠিয়েছে, কারাগারের চার দেয়ালে বন্দী করে রেখেছে। কিন্তু এসবের কারণেই ম্যান্ডেলা বিশ্বনন্দিত নেতা হয়ে উঠেছেন, আর সেসব স্বৈরশাসকরা এখন আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির এখনকার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত হলেও তাকে যখন স্বৈরশাসকরা যুগের পর যুগ গৃহবন্দী করে রেখেছেন, তখন কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি গণতন্ত্রের নেত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঠিক এভাবেই খালেদা জিয়া এখন পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক নেত্রী হয়ে উঠছেন।’

‘আমি মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবেই। কিন্তু সেসব সরিয়ে রেখে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিৎ দেশের উন্নয়ন ও বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একযোগে কাজ করা। কিন্তু সেখানে এসব করার বদলে প্রতিপক্ষ দমনে মনোযোগ অনেক বেশি। আপনি যদি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন, তবে বাংলাদেশে প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। দেশের আপামর জনতার জীবনমানে অগ্রগতি হবে। কিন্তু তা তেমন একটা হচ্ছে না’, বলেন মালয়েশিয়ার সাবেক এই সফল প্রধানমন্ত্রী।

মাহাথির বলেন, ‘বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। যেমন, গার্মেন্ট শিল্প। ওষুধ শিল্প ও অন্যান্য খাতেও দেশটি ভালো করছে। বাংলাদেশের মানুষ খুব উদ্যোগীও। তাদের দরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভালো নীতিমালা। কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের চেয়ে রাজনীতি বেশি। আপনি যদি দেশের অর্থনীতির কথা ভাবেন, দৃষ্টি দেন ও অর্থনৈতিক নীতির কথা বলেন, তবে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির একটি।’

পশ্চিমাদের কূটচাল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পশ্চিমারা চায় ক্ষমতার পরিবর্তন। তারা চায় মুসলিম দেশগুলোর সরকার চালাবে তাদের বেছে নেয়া মানুষরা। ক্ষমতা পরিবর্তন করতে গিয়ে, দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে মুসলিম দেশগুলোর রাজনীতিবিদরা নিজেরাও মাঝে মাঝে অস্থিতিশীলতা নিয়ে এসেছে। এই সুযোগে পশ্চিমারা কিছু সময় নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে তারা সমর্থন দেয়, সরকারের ভূমিকাকে খর্ব করে, প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ চালায়। এছাড়া বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে অস্থিতিশীলতা, এর পেছনে পশ্চিমারা অনেক বেশি জড়িত। কিন্তু মুসলমান রাজনীতিবিদরা এসব না বুঝেই তাদের ফাঁদে পা দেয়। খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে বাংলাদেশ এখন সেই পুরনো ফাঁদে পা দিয়েছে।’

Content Protection by DMCA.com

নিশ্চিন্তে খালেদা। মহাবিপদে হাসিনা- চীনকে ধরতে ছুটছেন সিঙ্গাপুরে, ভারতের পায়ে পড়তে হামিদ দিল্লিতে।

কারাবাসের এক মাস শেষে ফুরফুরে খালেদা জিয়া- বিশেষ করে শান্তিপূর্ন কর্মসূচি ধরে রাখা, দল অটুট থাকা, এবং বিদেশীদের কাছে দলের পজিটিভ ইমেজ। এতে সরকার দেখছেন মার্কিনীদের চক্রান্ত। বিপরীতে, বিএনপি নেত্রীকে জেলে রেখেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার সকল প্রস্ততি নিয়েও শেষ সময়ে তা স্থগিত রাখতে হয়! কোনো দিক থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে মহাবিপদে হাসিনা। চীনের লাইন ঠিক করতে নিজেই যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। আর ভারতকে শান্ত রাখতে রাষ্ট্রপতি হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লি! সাউথ ব্লকের কপলে চোখ!

কারসাজির রায় দিয়ে কারাগারে পাঠালেও বেগম খালেদা জিয়ার ধৈয্যের কাছে হাসিনার পরাজয় ঘটেছে। আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় আগাম নির্বাচনের ঘোষণা আসার কথা ছিল। আ’লীগের নেতারা অনেকেই সেমতে তৈরী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী বৈরতণী পার করার মত কোনো পরিস্কার আশ্বাস কোনো দিক থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে আগাম সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা না দিয়েই ‘এতিমের টাকা এতিমের টাকা’ বুলি আউড়িয়ে জনসভা শেষ করতে হয়!

দীর্ঘদিন ধরে যে পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা ছিল, যারা ‘সরকারে আনছি আমরা, সরকার ধরেও রাখছি আমরা’ বলতো প্রকাশ্যে, এখন তারা ব্যস্ত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে। প্রতিদিনই সাসপেন্ড, বদলী হচ্ছে অনেকে। অতিউৎসাহীরা চেয়ার এবং চাকরি বাঁচাতে গলদঘর্ম। কেবল অস্ত্র উঁচিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কিছু ধরপাকড় করে বদনাম কামানো ছাড়া তেমন কোনো আশার বাণী দেখতে পাচ্ছে না সরকার। সময় শেষ, তাই কৌশলে চলো নীতিতে ব্যস্ত বাহিনীটি।

উত্তর পাড়া থেকে আগেই জানানো হয়েছে রাজনৈতিক ক্যাচলে তারা নেই। উত্তরের মুরব্বী, তারও উত্তরের অর্থনৈতিক শক্তি, দুর পশ্চিম কোথাও থেকে ‘ভোট ছাড়া ক্ষমতা’ নিশ্চিত হওয়ার কোনো আশ্বাস নাই। ফলে চাইলেও ‘শত্রুকে জেলে রেখে এখনি নির্বাচন করে ফেলব’ সে গুড়ে বালি। অনন্যোপায় হয়ে নিজেই ছুটছেন অপ্রয়োজনীয় সিঙ্গাপুর সফরে। মূলত, সেখানে নিজেই চীনের সাথে বোঝাপড়া করবেন, এমন আভাস পেয়ে তটস্থ হয়ে উঠেছে দিল্লি। আঁড়ি পেতে খোঁজ নেয়ার জন্য দিল্লির গোয়েন্দারা সিঙ্গাপুরের পথে। অন্যদিকে পা ধরে ভারতকে ঠিক রাখতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লিতে। কিন্তু সিঙ্গাপুরের খবরের পরে দিল্লির অবস্থান আরও শক্ত হয়ে যেতে পারে সাউথ ব্লকের আভাস। লিসার সফর থেকে হুঁশিয়ারি আর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জোর চাপ। ফলে বিপদ এখন মহাবিপদে রূপ নিয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

……অবশেষে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস লিসা কার্টিস ঢাকা আসছেন আজ!

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার বাংলাদেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা লিসা কার্টিস। সফরে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথ নেওয়ার পর থেকে লিসা কার্টিসের এই সফরই ঢাকায় সে দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রথম সফর।

সফরে লিসা কার্টিস রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

সফরে দুই দেশের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সফরসূচি অনুযায়ী, লিসা কার্টিস শনিবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন। সেখানে গিয়ে তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শুনবেন।

রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া লিসা কার্টিস মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপসহকারীর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপসহকারী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টারে দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো হিসেবে কাজ করতেন লিসা কার্টিস।

গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে লিসার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার লিসাকে তাদের প্রতি বৈরী জ্ঞান করে ঢাকা সফল বাতিল করে। ফলে বন্যার অযুহাতে লিসার সফর বাতিলের ঘোষণা আসে। ফলে দিল্লি ঘুরে গেলেও ঢাকা আসেননি লিসা। জানা গেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন ও ভবিষ্যত নিয়ে পরিস্কার নির্দেশনা জানাতে লিসা কার্টিজের ঢাকায় ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক পথে সুষ্ঠু নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তরে হাসিনা রাজী না হওয়ায় বিকল্প পথে সমাধান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায়।

লিসার সাথে আওয়ামীলীগের কিছু দুর্ঘটনা আছে। হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগ লাভের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ লিসাকে লাঞ্ছিত করে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বিষয়ে একটি সেমিনারে যোগ দিতে লিসা গিয়েছিলেন সেখানে। উল্লেখ্য, লিসা কার্টিজ গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও সাউথ এশিয়া বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করে আসছেন। যেকোনো বিশেষজ্ঞের চেয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে ভালো খোঁজ খবর রাখেন লিসা। গত বছর ২৯ মার্চ বুধবার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিষযক একটি সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ লিসা কার্টিজ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পন্ড করে দেয়। লিসাকে মারতে তেড়ে আসেন সিদ্দিকুর। লিসাকে বাঁচাতে সামনে এগিয়ে আসেন ফরহাদ মজহারের কন্যা সন্তলি হক। সন্তলি চিৎকার করে ওঠে- “কে মারবি আয়, লিসাকে মারার আগে আমাকে মারতে হবে- আয়!” ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ফিরে যায় সিদ্দিকুর বাহিনী। উল্লেখ্য লিসা সন্তলির ঘনিষ্ট বান্ধবী।

হোয়াইট হাউজে বর্তমান নিয়োগের আগে লিসা কার্টিজ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়ার ফেলো হিসাবে বাংলাদেশের সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞ বয়ান দেন। যার কয়েকটা উল্লেখযোগ্য- গত ১ এপ্রিল ২০১৭ লিসা এক অনুষ্ঠানে বলেন, “গণতন্ত্রের অভাবে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বাড়ছে।” বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে সংঘাতময় রাজনীতি নিয়ে ৩০ জানুয়ারি ২০১৫ লিসা বলেন….“সঙ্কট নিরসন না হলে পরিণতি ভয়ঙ্কর। মূলতঃ এই অবস্থার জন্য দায়ী গত বছরের ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন যা অনুষ্ঠিত হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া। এখন বিরোধী দল অবরোধ ডেকেছে সহিংস বিক্ষোভ করছে আর সরকার হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী আটক করছে। অবিলম্বে বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট নিরসন করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।”

Content Protection by DMCA.com

হঠাৎ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা আসছে: হাসিনাকে পরবর্তী টার্মের জন্য কনফার্ম করে দিয়ে বিএনপির সাথে ‘ব্লাফ গেম’ খেলছে ভারত!

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমশ জটিল থেকে জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করার পরে ক্রমশ অনিশ্চিতয়ার পথে হাটছে দেশের রাজনীতি। এরই মধ্যে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত তাদের ‘দেশ দুর্গ’ ধরে রাখার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপালের মত বাংলাদেশও দিল্লির কক্ষচ্যুত হতে যাচ্ছে- ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের এমন হুশিয়ারির পরে ভারত নড়ে চড়ে বসেছে। আর তাতে শেখ হাসিনার হয়েছে পোয়া বারো।

গত ৯ বছরের অধিককাল ধরে বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় আশির্বাদপুষ্ট আওয়ামীলীগ দেশে জনপ্রিয়তার সর্বনিম্নধাপে অবস্থান করলেও ভোটের কোনো তোয়াক্কা না করেই  প্রতিবেশীরা শেখ হাসিনাকে আরও এক বারের জন্য ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা দিয়েছে। আর এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকেও তারা ম্যানেজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এসব বিষয় চুড়ান্ত হলে মেয়াদপুর্তির আগেই যেকোনো সময় হঠাৎ সংসদ নির্বাচন দিয়ে নাম-কা-ওয়াস্তে ভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। এ লক্ষে ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি চেয়ারপারসনকে বানোয়াট মামলায় ইতোমধ্যে জেলে ভরে ফেলে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনী ক্যাম্পেনে নেমে গেছে। উদ্দেশ্য পূরণে, দরকার হলে, ৫ জানুয়ারির চেয়ে আরও নিম্নস্তরের নির্লজ্জ ঘটনা এবং অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রাজনৈতিক গুম এবং অত্যাচারের পথে যেতেও দ্বিধা করবে না।

এর বিপরীতে, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বও ভারতের উপরেই আস্থা রাখছে! বেগম জিয়ার কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়েই ভারত বড় রকমের ফায়দা তুলতে চায়। এর বিনিময়ে ভারত চায় বিএনপি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্বাচনে থাকুক। যদিও বিএনপি আশা করছে, ভারত তাদের ক্ষমতায় যেতে সমর্থন করবে। বিএনপি এখনও বুঝতে পারছে না, ভারতীয় স্বার্থের কাছে বিএনপি কখনই আওয়ামীলীগের বিকল্প নয়। বিএনপির বর্তমান চালকরা ভারতের গোপন অভিসন্ধি বুঝতে না পরে এখনও ভারতের হাতেই বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের স্বপ্নে বিভোর! এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের সাথে ঘনিষ্ট পদবিহীন কিছু কর্মচারীরাও আজকাল ভারতীয় লাইন ঠিক করার মূল কারিগর-এমন দাবী করছে!

দেশের দুই তৃতীয়াংশ জনগনের আস্থা অর্জনকারী দলটির নেতৃত্বের এই অবমৃশ্যকারিতা দেখে যার পর নাই ক্ষুব্ধ ব্যথিত দলটির শুভাকাঙ্খিরা। ভারতের আগ্রাসন এবং ব্লাফ গেম ঠেকাতে খুব দ্রুত চীনা লবির সাহায্য না নিলে বাংলাদেশ আবারও দীর্ঘমেয়াদী কুশাসনের নিগড়ে পড়বে- কোনো সন্দেহ নাই। পানিতে ভাসমান মালদ্বীপ দেখিয়ে দিয়েছে কি করে আগ্রাসন ঠেকাতে হয়। অসময়ে গান্ধিবাদী আন্দোলন করে বিএনপির ফায়দা আসার কোনো সম্ভবনা নাই, বরং গণঅভ্যুত্থানই দিতে পারে এ জাতির মুক্তি। এটা অসম্ভব নয়।

Content Protection by DMCA.com

হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের সাথে ঘুস লেনদেন করে চীনের স্বার্থপরিপন্থি কাজ করায় নিজ রাষ্ট্রদূতকে আটক করলো বেইজিং!

মা মিং কিয়াং। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত। চীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাকে ক্লিন হিসাবেই জানতো চীন সরকার। কিন্তু সম্প্রতি তার মেয়াদ শেষে বিদায়ের পর ঠিক উল্টো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় মেয়াদপুর্তির অল্পকিছু আগেই রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংকে বেইজিংয়ে ডেকে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায়ই ফিরছিলেন। কিন্তু এয়াপোর্টে আসার আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের দপ্তর পরিচালিত এন্টি-করাপশন মুভমেন্ট সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসন্ধানী দল তাকে আটকে দেয়। চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে দেশটির বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন ও অন্যায়ভাবে চায়নার নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। হঠাৎ করে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং বেইজিংয়ে আটকে দেয়ায় ঢাকা শুরু হয়েছে তোলপাড়। অন্যদিকে দু’টি অভিযোগে ততদন্ত হলছে বেইজিংয়ে- ঢাকায় চীনা অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং চীনের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করা। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

বেইজিং যাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের বিদায়ী সাক্ষাতের অ্যাপয়েনমেন্ট চাওয়া হয় এবং সে মতে সাক্ষাৎসূচিও নির্ধারিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি বেইজিংয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে যান। ফলে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে দফায় দফায় খোঁজা হলেও ‘রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ে জরুরি কাজে আটকা পড়েছেন’ মর্মে নোট পাঠায় চীনা দূতাবাস। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতসূচির আগে চীনা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সরকারকে জানান- রাষ্ট্রদূত এমন পরিস্থিতিতে আছেন যে তার সঙ্গে যোগাযোগই সম্ভব হচ্ছে না! প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঘনিয়ে এলেও প্রায় অভিন্ন বার্তা আসে দূতাবাস থেকে। সেই সঙ্গে বাড়তি তথ্য হিসাবে ‘তার শ্বশুর অসুস্থ’ বলে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চীনের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের এমন অদ্ভুত আচরণে বিস্ময় তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হলে বিষয়টি খোলাসা হয়।

যদিও রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের আমলে ঢাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর ঐতিহাসিক সফর হয়েছে। রাষ্ট্রদূত হিসাবে এতে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশে চীনের বেশ কিছু কোম্পানি মেগা প্রজেক্টের কাজও পেয়েছে। তবে জানা গেছে, ঢাকায় থাকাকালে রাষ্ট্রদূত কিয়াং কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে সুনির্দিষ্টভাবে প্রজেক্ট পাওয়া না পাওয়া বা এর অগ্রগতির খোঁজে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল এক প্রতিনিধি বলেন, প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই শোনা যেত রাষ্ট্রদূত নাখোশ! তিনি নানা প্রজেক্ট পুশ করতেন, যা চীনের আগের রাষ্ট্রদূতরা কখনই করেননি। যে কোনো দেশে চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দরদাতা নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন মানা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতা মতে, এখানে চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে চীনা দরদাতাদের মধ্যে উন্মুক্ত টেন্ডার হওয়ার কথা। অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এটি অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। এতে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে লাভবান হলেও প্রাথমিক প্রস্তাবনার দ্বিগুণ/তিনগুণ বেশি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এমনকি ঢাকার বিভিন্ন সরকারী পর্যায়ে রাষ্ট্রদূতের অকূটনৈতিকসূলভ যোগাযোগ এবং লেনদেনের খবর বেইজিংয়ে কর্তাদের নজরে গেছে। চীনা অর্থায়নে যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে  কমিশন ভাগভাগি ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। ঢাকায় একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির তরফেও রাষ্ট্রদূতকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি ছিল, যেখানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রধান অতিথি হওয়ার কথা হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত না ফেরায় সেই আয়োজনও বাতিল করা হয়। নিজদেশের স্বার্থের পরিপন্থি রাষ্ট্রদূতের নানা কর্মকান্ডের খবরাদি কেন্দ্রে জানান দূতাবাসের একজন সামরিক এটাশে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতকে আসিয়ানের একটি দেশে নিয়োগের প্রস্তাব ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটিও আটকে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ডিসেম্বরে বেইজিং যাওয়া রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের নতুন বছরে ঢাকায় ফিরে আনুষ্ঠানিক বিদায় এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে মতেই রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ চীনা দূতাবাসের চাহিদা মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিদ্যুৎ কোম্পানির সংবর্ধনা এবং অন্য প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু না ফেরায় সব কিছুই শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। এমনকি বাহক মারফত তার জরুরি জিনিসপত্রও পাঠাতে হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং গত ১৪ই ডিসেম্বর আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এবং ২১শে ডিসেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করেন। এরপর থেকে প্রায় দু’মাস ধরে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসাবে চেন উই দায়িত্বপালন করছেন। সর্বশেষ তথ্য মতে, ঢাকায় চীনের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসাবে আগেই নিয়োগ পাওয়া ঝাং জু এখন ঢাকায়। তিনি এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের আপেক্ষায় রয়েছেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের ঘটনাটি ইতোমেধ্যে ঢাকার কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষকরে সাম্প্রতিক সময়গুলো বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের অস্বাভাবিক দহরম মহরম চীনের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর সূত্র ধরেই দিল্লিও শেখ হাসিনার সরকারের উপরে দারুনভাবে নাখোশ হয়। ফলে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দিল্লি পাঠাতে হয়। সর্বশেষে বেইজিং গৃহীত ব্যবস্খাদির ফলে দেশটির দূতবাস আবার সঠিক পথে চলবে আশা প্রকাশ করেন দূতাবাস কতৃপক্ষ।

 

Content Protection by DMCA.com

‘ভারতের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে’ ১১ চীনা যুদ্ধজাহাজ!

মালদ্বীপে চলমান সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ভারত ও চীনের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রচ্ছন্ন শক্তির লড়াই। এরই অংশ হিসেবে চীন পূর্ব ভারত মহাসাগরে ১১টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। চীনের একটি ওয়েবসাইট এই মর্মে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মঙ্গলবার জানায়, চলতি মাসের গোড়ার দিকে যুদ্ধজাহাজের এই বিশাল বহরটি পাঠিয়েছে চীন। এই বহরটিতে বেশ কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার, ৩০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার একটি সুবিশাল উভচর যুদ্ধজাহাজ এবং তিনটি সাপোর্ট ট্যাঙ্কার রয়েছে।

এ বিষয়ে চীনের গণমুক্তি ফৌজ বা পিপলস লিবারেশন আর্মি শুক্রবার তাদের টুইটার-সদৃশ অফিসিয়াল ওয়েইবো অ্যাকাউন্টে (ঙভভরপরধষ ঞরিঃঃবৎ-ষরশব ডবরনড় ধপপড়ঁহঃ) বেশ কিছু ছবি এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, তাদের এই যুদ্ধজাহাজগুলো এখন পূর্ব ভারত মহাসাগরে উদ্ধার অভিযানের মহড়া শুরু করেছে।

ভারত প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন গাইয়ুমের বিরোধী শিবিরের পক্ষে আর চীন গাইয়ুমের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট গাইয়ুম এরই মধ্যে চীনে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তি করেছেন। চীন ৪ লাখ লোকের সার্কভুক্ত খুদে দ্বীপদেশটিতে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগে হাত দিয়েছে।

এ অবস্থায় নাখোশ নয়াদিল্লি মালদ্বীপে চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতিকে ভারতের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বর্ণনা করে আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু মালদ্বীপ সরকার ভারতের কথায় কান না দিয়ে চীনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছে। এ অবস্থায় মালদ্বীপ সঙ্কট তার নিজের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর বিস্তৃত হতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের অবস্থানের পক্ষে।

এরই মধ্যে মালদ্বীপে কোনো রকম সামরিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে চীন পরোক্ষভাবে ভারতকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে। চীনের গণমাধ্যমগুলো এই হুঁশিয়ারির উল্লেখ করে বলেছে, এরকম কিছু হলে চীন উচিত জবাব দেবে। ১১টি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে চীন সেকথারই প্রমাণ দিল। তবে যুদ্ধজাহাজের বহর পাঠাবার আগে চীন তার নাগরিকদের রাজনৈতিক সঙ্কটের অবসান না হওয়া পর্যন্ত মালদ্বীপ ভ্রমণ এড়িয়ে যেতে বলেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা চীনের একসঙ্গে এতোগুলো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। কিন্তু তারা এ প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি। চীনা যুদ্ধজাহাজের এই বহর কতদিন সেখানে থাকবে সেটাও স্পষ্ট নয়। সূত্র : ইনকিলাব, এএফপি।

Content Protection by DMCA.com

‘ঢাকার নির্বাচনে নাক গলালে নেপাল-মালদ্বীপের মতন আম-ছালা হারাতে পারে দিল্লি’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে একটি চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের সনামধন্য সাংবাদিক ভরত ভূষণ। বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন,‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো হস্তক্ষেপ করার মতো কাজ ভারত আবার করবে বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালের মতো, আওয়ামী লীগের নেওয়া কৌশলকে সমর্থন দেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে—কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না ভারতের। যদি কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে ভারতের উচিত এমন পদক্ষেপ নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন করবে।’

ঢাকার রাজনৈতিক বিষয়ে নয়াদিল্লির নাক গলানো উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন এই খ্যাতিমান সাংবাদিক। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকলে প্রকাশিত বিশ্লেষণধর্মী এক নিবন্ধে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত নিবন্ধে নয়াদিল্লির সাংবাদিক ভরত ভূষণ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। তিনি লিখেছেন, ‘সাধারণ নির্বাচনের বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে সাজা দিয়েছেন আদালত। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের এই আদেশ যদি না বদলায়, তবে হয়তো খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাংলাদেশের বিষয়ে ভারত প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নীতি নিয়েছে। আর এ বিষয়টিকে দেখা হয়, শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন হিসেবে।’

এর আগে হিন্দুস্থান টাইমসের অনলাইন সংস্করণে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছিলেন, ভারতকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন দিতে হবে, তবে তা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাশ কাটিয়ে নয়।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে ভরত ভূষণ তার নিবন্ধে লিখেছেন, ‘ওই নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। কিন্তু ভারত তাতে অঘোষিত সমর্থন দিয়েছিল। সেই নির্বাচনে সংসদের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। কম ভোট পড়লেও কেবল ভারতের সমর্থনের কারনে টিকে যায় সে নির্বাচন।’

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সাংসদেরা। ওই নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশন। যদিও বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, বিএনপির শাসনামলে তা হয়নি। এমন মন্তব্য করে ভরত ভূষণ আরও বলেন, ‘আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে আওয়ামী লীগ যে কৌশল নিয়েছে, ভারত তাতে সমর্থন দিতে পারে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উন্নতির ধারা বজায় রাখার আশাতেই এ অবস্থান নিতে পারে ভারত। কিন্তু এ কাজ করলে, নির্দিষ্ট দল বা নেতাকে সমর্থন দেওয়ার একই ভুল করবে ভারত। নেপাল ও মালদ্বীপে এই একই কাজ করে ফলাফল ভালো হয়নি।’

নিবন্ধে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন ভরত ভূষণ। তিনি লিখেছেন, ১৯৯১ সালের ঘটনার প্রায় ১৭ বছর পর মামলা হয়। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতেই নির্বাচনের আগে আগে বিচার ত্বরান্বিত করা হয়। ২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই মামলা করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আদালতে নিষ্পত্তি হয়। সব মামলা থেকেই মুক্ত হন তিনি। যদিও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো চলতে থাকে, যোগ হয় আরও নতুন মামলা।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ৩৪ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাঁর পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানা হয়েছে। বর্তমানে এখন তিনি নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন পর্যায়ে রয়েছে।

বিএনপি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বর্জন করবে না বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। এই ভারতীয় সাংবাদিক লিখেছেন, ‘এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সুবিধাজনক বলে মনে হচ্ছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ অভাবিত উন্নতি করেছে। দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে ৭ শতাংশের বেশি আছে। বেড়েছে আয় ও ব্যয়ের মাত্রা। বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধিতেও দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রেষ্ঠ অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।’

তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ফলাফল অনিশ্চিত হতে পারে বলে মনে করেন ভরত ভূষণ। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর সরকারের নির্ভরতা বেড়ে যাওয়া, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কড়াকড়ি, সুশীল সমাজ ও বাক্‌স্বাধীনতার প্রতি হুমকি, অনেক নাগরিকের গুম হওয়া—এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে বিরক্তির উদ্রেক করছে। সুতরাং সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফলে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।’

ভরত ভূষণ বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ভারত বেজায় খুশি। তিনি আরও বলেন, ভারত এই সরকারকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চাইতেই পারে। বিএনপি এর আগে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাওয়ায় এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ থাকাই এর কারণ। তার মতে, ‘বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে যে ভারত চায় খুঁড়িয়ে চলা বিএনপি যেন নির্বাচনে অংশ নেয়। এতে করে আরও বেশি বৈধতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন শেখ হাসিনা।’

নিবন্ধের শেষে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের করণীয় নিয়ে লিখেছেন ভরত ভূষণ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, এমন কোনো হস্তক্ষেপ করার মতো কাজ ভারত আবার করবে বলে মনে হয় না। ২০১৪ সালের মতো, আওয়ামী লীগের নেওয়া কৌশলকে সমর্থন দেওয়া ঠিক হবে না। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে—কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না ভারতের। যদি কোনো পরামর্শ চাওয়া হয়, তবে ভারতের উচিত এমন পদক্ষেপ নেওয়া, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের ইচ্ছার মূল্যায়ন করবে।’

Content Protection by DMCA.com

ZIA ORPHANAGE CASE: Judge still correcting verdict: এখনও রায় সংশোধন করছেন জজ!

The judge continued revising and correcting till Monday the verdict pronounced on February 8 sentencing Bangladesh Nationalist Party to imprisonment for five years in Zia Orphanage Trust case.

Khaleda’s lawyer Aminul Islam told New Age that he was informed by the court officials that the verdict was still being corrected by the judge.
He said that Khaleda awaiting the certified copy of the verdict to appeal against it.

Aminul said that Kaleda’s lawyer Sanaullah Mia on Monday submitted stamps of Tk 5,000 and relevant papers to the trial court’s copying department for getting the certified copy.

On February 8, Dhaka special court 5’s judge Md Akhteruzzaman read out the operative part of a 632-page verdict.

Anti-Corruption Commission prosecutor Mosharraf Hossain Kazal said that it would take time to write and type the 632-page verdict before issuing the certified copy.

He said that the commission was not in a hurry to get the certified copy.
Former district judge and Supreme Court registrar Ikteder Ahmed told New Age that the full verdict must be read out in open court and it has to be signed in open court, according to Section 369 of the Code of Criminal Procedure.

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করার ৫ দিন অতিবাহিত হতে চলল, অথচ এখনও জজ সাহেবনাকি রায় সংশোধন করছেন! প্রশ্ন হলো, এই রায় কি অন্যের লেখা? উনি কি আগে রায় দেখেন নি?

Content Protection by DMCA.com

টালমাটাল পর্যটন স্বর্গ মালদ্বীপ, নেপথ্যে কী?

Content Protection by DMCA.com
1 3 4 5 6