আ’লীগকে নির্বাচনের খর্চা ৫০০০ কোটি টাকা দিয়েছে চীন । ক্ষুব্ধ ভারত । মার্কিনীদের সাথে একাট্টা । আসছে জাতীয় সরকার।

বাংলাদেশে আবার জাতীয় সরকার  নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এবার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত।

জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনে ভারতের উপর নির্ভর করতে পারেনি হাসিনা। তাই চীনের দ্বারস্থ হয়ে তাদের কাছে নির্বাচনের খর্চা বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড এনেছে এবং এই টাকা দিয়েই পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ লোকদের মাথা কিনে নির্বাচন পার করেছে হাসিনা। তবে বিপদ অন্যখানে- এমন ভাবে সব সিট ও ভোট কেটে নেয়া হয়েছে, যা দেশে বিদেশে কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। আর তাই দেশে বিদেশে কথা উঠেছে আরেকটি নির্বাচন করতে হবে, যা হবে সুষ্ঠু।

নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকটি প্রতিনিধি দল ভারত ঘুরে এসেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির নিশ্চয়তা হাসিল করতে পারেনি। এমনকি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার মাস খানেক আগে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের কথা থাকলেও মোদির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় শেখ হাসিনা সফর বাতিল করেন। এর বিপরীতে সৌদি আরবে সফরের মধ্যে চীনের সাথে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা ও সমঝোতা সেরে ফেলেন হাসিনা। বিষয়টি ভারতের জানা থাকলেও তারা ততটা বিপদ মনে করে নি তখন।

তবে বিপদের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন রাতে, অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর। ভোট ডাকাতি ও কারচুপির প্রতিবাদে প্রায় সকল বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কটের মুখে ফলাফল ঘোষণা হতে থাকলে দিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদি ফোন করে শেখ হাসিনাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। এর তিন ঘন্টা পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট উভয়ে শেখ হাসিনার কাছে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। এরপরে সোমবার সকালেই নৌকা, ফুল, এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের পত্র নিয়ে গণভবনে পৌছে যান চীনের রাষ্ট্রদূত! ভারত এই প্রথম লক্ষ করে- এ যে রীতিমত বাড়বাড়ি। সন্দিগ্ন হয়ে ওঠেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্বষর্ধন শ্রিংলা।

পরবর্তী ৩/৪ দিনে সরকার গঠনের প্রকৃয়া চলতে থাকে। ভারতীয় হাইকমিশনার আ’লীগের বিভিন্ন কর্নারে যোগাযোগ করে হতাশা বাড়তে থাকে। ৬ জানুয়ারী নতুন কেবিনেট ঘোষণা করা হলে নয়াদিল্লি আকাশ থেকে জমিনে নয়, সোজা ভূতলে পড়ে! পুরোনো কেবিনেটের ৩৬ জন সদস্য আউট। ডজনখানেক সিনিয়র মন্ত্রী বাদ পড়ে, এতকাল যাদের মাধ্যমে দিল্লির স্বার্থ উদ্ধার হতো, এদের কেউ নাই। হাইকমিশনার শ্রিংলার কাছে অনেকেই ধর্ণা দেন। কিন্তু তিনি আ’লীগের হাইকমান্ডে যোগাযোগ করে প্রচন্ড ধাক্কা খান। তাকে বলা হয়েছে চুপ থাকতে। কে মন্ত্রী হবেন, কি হবেন না, তা আ’লীগের নিজস্ব বিষয়;  এবং শেখ হাসিনা নিজেই দেখছেন। এ নিয়ে কোনো দেশের পরামর্শের দরকার নাই। প্রমাদ গুনেন শ্রিংলা!

ধীরে ধীরে দিল্লি বুঝতে পারে, শেখ হাসিনা বিক্রি হয়ে গেছে। চীন তাকে কিনে নিয়েছে অতি উচ্চমূল্যে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। পরের দিন ৭ জানুয়ারী বঙ্গভবনে সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন হাইকমিশনার শ্রিংলা। অন্যদিকে বঙ্গভবনে সদলবলে উপস্থিত হন চীনা রাষ্ট্রদূত জ্যাং জু। শপথের পরেই তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে, এবং টেলিফোনে কথা বলিয়ে দেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাথে। খবরে বলা হয়, চতুর্থবারের মতো ও টানা তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বিদেশ সফরে যাবেন ভারতে নয়, যাবেন চীন।

সবকিছু পূর্নমূল্যায়ন করতে থাকে ভারত। হাইকমিশনার শ্রিংলা বিস্তারিত লিখে জানান তার হেডকোয়ার্টার্সে। কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সাথে।

এরি মধ্যে নির্বাচন বর্জন করা দলগুলো অভিযোগের পাহাড় তৈরি করে তা জানাতে থাকে সর্বত্র। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে আ’লীগের ভোট জালিয়তি ও কারচুপির খবর। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য সহ সকল পশ্চিমা রাষ্ট্র বাংলাদেশের কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে একের পর এক আপত্তি তুলতে থাকে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবী করে। বিব্রত হয় নতুন সরকার।

লক্ষনীয়, ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পরে পরম মিত্র প্রতিবেশী ভারত থেকে কোনো অভিনন্দন বার্তা আসেনি। বরং এসেছে চীন এবং তাদের মিত্রদের থেকে। বিষয়টা একেবারেই হেলাফেলার মত নয়। বাংলাদেশ নিয়ে চীনের অগ্রসরতা দেখে ভারত বসে থাকবে না। তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের নিরাপত্তায় যা প্রয়োজন, তাই করবে।

বাংলাদেশের স্বীকৃতিহীন কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের নানাবিধ তৎপরতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহলে হঠাৎ কথা উঠেছে- আচিরেই জাতীয় সরকার আসছে। আর তারা থাকবে ৩/৪ বছর। দেশের সবকিছু ঠিক করে নির্বাচন দিবে তারা।

Content Protection by DMCA.com

হাসিনার ছকে নির্বাচনে মার্কিনীদের না!

।।রেজা হাশমী।।

আজ আওয়ামী সরকারের সাথে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্কের যে ছেদ পড়ল, সেটা পূরণ হবার আর কোন সম্ভাবনা নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি স্পোকসম্যান রবার্ট পালাডিনো তাঁর প্রেস বক্তব্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দেওয়ায় যে ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। কেবল বৈরী দেশ বা সরকারদের সম্পর্কে তারা এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে থাকে।

হাসিনা সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব তৈরি আরম্ভ হয় ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরপরই। ঐ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল খুব শীঘ্র আরেকটা নির্বাচন করার। সেই প্রতিশ্রুতি তারা দ্রুতই ভঙ্গ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বারে বারে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে অটল থাকে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী মন্ত্রীরা উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকাশ্যেই অসৌজন্যমূলক উক্তি করেন। এক পর্যায়ে হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাত দেওয়া বন্ধ করে দেন, যাতে করে নতুন নির্বাচনের তাগাদা শুনতে না হয়। এমনকি, সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়েনডি শেরম্যানকে সাক্ষাতের সময় দিয়েও হাসিনা বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দেন। এই ক্রমশীতল সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায় যখন গত অগাস্ট মাসে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারশা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা হয়। হাসিনা সরকার ঘটনার তদন্ত ও ব্যাবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এ বিষয়ে কিছুই করা হয় নি। কোন মার্কিন প্রতিনিধির উপর এ ধরনের হামলা আগে আর কখনো বাংলাদেশে হয় নি। এটা ছিল “রেড লাইন” ক্রস করার মত একটি গুরুতর বিষয়। মার্কিন মহলে এতে ধারনা জন্মায় যে হাসিনা সরকার ক্রমশ একটি “বদমাশ সরকার” (রৌগ রেজিমে) পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই সব চাইতে বেশি আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। নভেম্বরের শেষে তারা জানায় যে, তারা বারোটি পর্যবেক্ষণ টিম পাঠাবে এবং বিশ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। হাসিনা সরকার ডিসেম্বরের তিরিশ তারিখ নির্বাচনের দিন নির্দিষ্ট করেছিল এই ভেবে যে ক্রিসমাস ও ইংরেজি নববর্ষের মাঝখানে এই তারিখ পড়ায় বিদেশী পর্যবেক্ষকরা আসবেন না। কিন্তু মার্কিন এই ঘোষণায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তার উপর মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দল বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত রেজুলেশন হাসিনা সরকারের জন্য একটি অশনি সংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকারের জন্য পালনীয়। এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে কোন প্রকার ছাড় দেবে না।

পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাসিনা সরকার জানান দিয়েছে যে মার্কিন সরকার বা কংগ্রেস যাই বলুক না কেন, তারা তাদের ছক অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। অন্যদিকে, আজকের প্রেস বক্তব্যে মার্কিন সরকার নির্বাচনের বিষয়ে হাসিনা সরকারকে চারটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে হাসিনা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবেঃ
(১) শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও মত প্রকাশের সুযোগ দান;
(২) নির্বাচন সম্পর্কিত সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথ উন্মুক্ত করতে হবে;
(৩) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নির্বিঘ্নে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করা;
(৪) প্রত্যেক ব্যক্তির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হবার ক্ষেত্রে কোন ধরনের হয়রানি, ভীতি ও সন্ত্রাসের শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করা।
এবং এসব বিষয় আ’লীগ সরকারকেই নিশ্চিত হরতে হবে।

এ যাবত হাসিনা সরকার এর একটি শর্তও পূরণ করে নি, বরং ঠিক উল্টোটা করছে। নির্বাচনের আগে এগুলো পূরণের কোন আগ্রহ, উদ্যোগ বা সম্ভাবনাই দৃশ্যমান নয়। ফলে নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে হাসিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক অনিবার্য সংঘর্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেলো।

*লেখক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশী অধ্যাপক

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চটেছে যুক্তরাষ্ট্র!

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষণে আসার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতায় সেই সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবক্ষেক সংস্থা। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে সময়মতো ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পর্যবেক্ষক দল তাদের সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।  এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর সাংঘাতিক চটেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্বাচনে সবদলের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ ও সরকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুতি সমুন্নিত রাখার আহ্বান জানায় মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস এর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সময়মতো ভিসা পাননি। বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য তাই তাদের যাওয়া সম্ভব না। স্থানীয় এনজিও যারা নির্বাচন নিয়ে কাজ করে, বিশেষ করে ইউএসআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থাও রয়েছে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, ফলে পর্যবেক্ষকরা মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।  আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ না থাকায় এখন বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো।

শেখ হাসিনার শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনতা কমানোর অভিযোগ রয়েছে। পালাদিনো বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক বিভাজন, সহিংসতা, অস্থিরতা চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন চাই। আমরা সবপক্ষকে ঐকমত্যে আসার আহ্বান জানাই।

ডিসেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, তারা নির্বাচনে নিজেদের পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষদের সহায়তা করবে। যাতে করে ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য ও সুইজার‌ল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫০০ স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অর্থায়নও করছে দেশটি।

বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। প্রার্থীরা যেনো সব তথ্য পায় এবং হয়রানি ও সহিংসতা ছাড়াই সবাই যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

Content Protection by DMCA.com

যারা আমাদের বন্ধুদের উপর হামলা করবে, আমাদের অর্থায়নে শান্তিরক্ষী দলে তাদের আমরা নিবে কেনো: যুক্তরাষ্ট্র

১৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের উপর আক্রমনে দারুণ ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ২৮% ব্যয় যোগান দেয়। কাজেই সেই অর্থায়নে চলা শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে মানবাধিকার হরণকারী কোনো বাহিনীর নিয়োগলাভের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এরপরেই জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে শক্ত চাপ দেয়া হয়।

ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে বিল পাশ করা হয়েছে, তার অনুলিপি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে যাবে, এমনকি নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে, শান্তিরক্ষী টিমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংকটে পড়তে পারে তা জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এমন খবর জানাজানি হলে ওয়াশিংটনে ‍নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্টদূত শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার চেষ্টায় ছুটোছুটি করছেন।

তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশের তিন বাহিনী প্রধান রাষ্ট্রদূত মিলারের সাথে অচিরেই বৈঠকে বসছেন। এনিয়ে সরকার কিছুটা গরিমসি করলেও ঘটনা যা ঘটার, তা ঘটবেই।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ অব্যাহত। ব্যর্থ হলে ২০০৭ সালের পূনরাবৃত্তি ঘটবে। প্রস্ততি চলছে।

Content Protection by DMCA.com

সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দলে বাংলাদেশ নয়: অবশেষে জাতিসংঘের সেই চরম হুঁশিয়ারি!

।।কূটনৈতিক প্রতিবেদক।।
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে, এবং এনিয়ে নিজ দেশে জনগনের মানবাধিকার হরণে বাহিনী সমুহ জড়িত হলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োগলাভের সুযোগ হারাবে বাংলাদেশ। গত শুক্রবার ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে টেলিফোনে ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সিপ্পোকে জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী জাতিসংঘ মহাসচিবের এই চরম বার্তা শেখ হাসিনার সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহকে জানিয়ে পত্র দেয়া হয়েছে। দু’দিন সরকারী ছুটির পরে সোমবার এই খবর সশস্ত্র বাহিনী এবং পুলিশ বিভাগের কতিপয় উর্ধতনদের মধ্যে সীমিত আকারে জানাজানি হলে চ্যাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে পুলিশের মধ্যমপর্যায়ে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে সারা দেশে বিরোধী দলের উপর গণহারে ধরপাকড়, প্রহার, এমনকি গুম করার মত ঘটনার সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমান রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম খুন ও মানবাধিকার লংঘন সহ গুরুতর অপরাধের সঙ্গে আগে থেকেই জড়িত। এ নিয়ে জাতিসংঘে ব্যাপক তথ্য প্রমানাদি জমা হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও ভোট গ্রহণকারী কতৃপক্ষ, প্রশাসন, এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সমুহ সরকারের কতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলের উপর ব্যাপকভাবে হামলা চালাচ্ছে, তাদেরকে মাঠে নামতেই দিচ্ছে না, আর এতে সহযোগিতা দিচ্ছে পুলিশ বাহিনী। সরকারের নির্দেশিত বাহিনীগুলো এবং প্রশাসন শাসক দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উপরন্তু আইনের অপপ্রয়োগ করে পুলিশ বাহিনী বিরোধীদের ওপর বলপ্রয়োগ করছে অবারিতভাবে। নির্বাচনে বিরোধী দল সরকারী দলের সমান সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেনা। উপরন্তু রাষ্ট্রীয় বল প্রয়োগ করে বিরোধী দলের সভাসমাবেশগুলি ভেঙে দেয়া হচ্ছে, পোস্টার লাগানো ও লিফলেট বিতরণে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে বিরোধী দল প্রচার প্রচারণার সমান সুযোগ থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে। এমনকি বিরোধী দলের দেড় ডজন প্রার্থীকে বিনা কারণে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ  করা হয়েছে। এনিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। বিরোধী দলের বহু জনপ্রিয় প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ ভোট ডাকাতি এবং ফলাফল জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে, এমন খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিকভাবে একপেশে নির্বাচনের সকল আয়োজন সম্পন্ন।

নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অনুপস্থিতি, বিরোধী দলের উপর নির্যাতন নিপিড়নের ফলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব বিষয় কূটনীতিকরা ব্যাপকভাবে অবহিত। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন চরম হুঁশিয়ারী বার্তা এলো।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বয়কটের মুখে ২২ জানুয়ারী অনুষ্ঠেয় একতরফা সাধারণ নির্বাচন হওয়ার চেষ্টাকালে রাজনৈতিক সংকট ও হানাহানি বাড়তে থাকে। এমন অবস্থায়, সেনাবাহিনী একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করলে তাদের শান্তিরক্ষী দলে নিয়োগ কড়াকড়ির মুখে পড়তে পারে- এমন কঠোর বার্তা প্রাপ্তির অযুহাত দেখিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজ উদ্দিন আহমেদকে চাপ দিয়ে দেশে জরুরী অবস্থা জারী করেছিলেন, যা ১/১১ বা ওয়ান ইলেভেন নামে পরিচিতি লাভ করে।

Content Protection by DMCA.com

নির্বিঘ্নে ভোট দান ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে: বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সর্বসম্মত বিল পাস

বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সর্বসম্মত বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস।

একিসঙ্গে নির্বাচনে ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে তাদের ভোটে অংশ নিতে পারে, স্বাধীন মত প্রকাশে যেনো কোনো রকমের বাধা প্রদান না করা হয় সে বিষয়েও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে পাস হওয়া বিলটিতে।

বাংলাদেশে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত বিলটি বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর ১১৫ তম কংগ্রেসের দ্বিতীয় অধিবেশনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে রেজ্যুলেশনটি (নং-১১৬৯) উপস্থাপন করেন ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান বিল কিটিং, যিনি একাধারে পররাষ্ট্র বিষয়ক কংগ্রেসনাল কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য।

রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পরপরই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাউজ কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সে। কমিটি অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স বুধবার রেজ্যুলেশনটি কংগ্রেসে উত্থাপন করে। বাংলাদেশ বিষয়ক এ রেজ্যুলেশনে বিল কিটিং ছাড়াও অংশ নেন কংগ্রেসম্যান টেড ইয়োহো, কংগ্রেসম্যান ইলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান ব্র্যাড শেরম্যান, কংগ্রেসম্যান স্টীভ শ্যাবট, কংগ্রেসম্যান জেরি কনলি ও কংগ্রেসম্যান ড্যারেন সটো।

কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন উত্থাপনের পর যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল ২.৪৫ মিনিটে তা বিল আকারে সর্বসম্মতভাবে পাস করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে শুধুমাত্র স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই দেখতে চায় উল্লেখ করে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আবারো তার দৃঢ় অবস্থান পুর্নব্যক্ত করছে।

বিলে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষকে জনগণের মত প্রকাশে বাধা না দেওয়া এবং মিডিয়াকে মুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেবার আহবান জানানো হয়।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের কথা উল্লেখ করে পাস হওয়া বিলটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কথা অনুযায়ী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত। আর নির্বাচন আয়োজনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন অটুট থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় উল্লেখ করে এতে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল এবং শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীলদের উচিত নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান দেয়া। সর্বাগ্রে সবাইকে এ বিষয়টি নিশ্চত করতে হবে যেন ভোটাররা বাধাহীনভাবে আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

এতে বলা হয়, নির্বাচন যেন পক্ষপাতহীন এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বিলটিতে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার এবং উদারতা প্রকাশের জন্য বাংলাদেশের জনগণ এবং সরকারের প্রশংসা করা হয়।

এর আগে গত ৬ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ নিয়ে উত্থাপিত রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কাঠামো রক্ষায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন জরুরি।

এতে বলা হয়, প্রকৃত একটি নির্বাচনের মাধ্যমেই সম্ভব মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো। নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ, যথাযথ, নিরাপদ এবং ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, যদি গণতন্ত্র আর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর আক্রমণ হয় তবে তা হবে বাংলাদেশের জনগণের আত্মত্যাগকে অবজ্ঞা করার শামিল। একিসঙ্গে দেশটি মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাকে না মানার শামিল।

২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে রেজ্যুলেশনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান বিরােধীদলগুলো পক্ষপাতের আর অনিয়েমর কারণেই ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
/জাস্ট নিউজ

 

Content Protection by DMCA.com

রাষ্ট্রদূত মার্শার উপর আওয়ামী হামলার জবাবে মার্কিন অ্যাকশন শুরু: নানকের ভিসা বাতিল, সেনাপ্রধানের স্ত্রীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখান!

হঠাৎ করেই ঢাকার উপরে মার্কিন অ্যাকশন শুরু। গত রবিবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। সূত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

একই দিনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। খুব দ্রুততার সাথে মিসেস দিলশাদের  ভারতের ভিসা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে কি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি করছে? এমন খবর জানাজানি হওয়ার পরে নড়ে চড়ে বসে সরকার ও তাদের লোকজন। সরকারের শেষ মুহূর্তে আমেরিকান ভিসার সংগ্রহের জন্য মাদানী এভিনিউতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিড় কমে যায়! চাউড় হয় – আমেরিকান অ্যাকশন শুরু!

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেসব কারণে মার্কিন ভিসা বাতিল হতে পারে তার একটি হলো আর্টিকেল ৯, যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকের উপর আক্রমণ, আঘাতের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র হলে কারও ভিসা বাতিল হতে পারে। এই আর্টিকেল ৯ অনুযায়ী নানকের ভিসা বাতিল হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র জানায়। নানকের শুধু ভিসাই বাতিল হয়নি, আমেরিকান চাপে তাকে চলমান সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকে আ’লীগ।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৫ আগস্ট রাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সুশাসনের জন্য সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মিষ্টার মজুমদারের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। ঐ দুবৃত্তরা সেখানে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলা চালায়, রাষ্ট্রদূতকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়। হামলায় রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং চালক আহত হয়। উল্লেখ্য, ঐ সময় দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ চলছিল, এবং দিনে বেলায় ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রলীগ যুবলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক, এমনকি জনসাধারনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী নিহত হয়েছে, এবং আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি অফিসে একাধিক ছাত্রী ধর্ষনের খবর সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা গুজব হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। ঐ রাতেই অদূরে মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জনমনে চাউর হয়, ধানমন্ডি মোহাম্মপুর এলাকার সরকারী দলের একই অস্ত্রধারীরা রাষ্ট্রদূতের উপর হামলা চালায়, যাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের হাতে!

মার্কিন দূতাবাস ঐ হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পত্রযোগে অবহিত করে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের পরিবর্তে আ’লীগ সরকার উল্টো রাষ্ট্রদূতকেই ঘটনার জন্য দায়ী করতে থাকে, এমনকি রাষ্ট্রদূত সেখানে সরকার পতনের চক্রান্ত করছিলেন বলে অভিযোগ তোলে। এরি মাঝে ওয়াশিংটন থেকে এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্খা ঢাকায় এসে হামলার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সাথে সরকারের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। হামলায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমান সংগ্রহ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। কিন্তু তারপরও ঢাকার প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্রিবতকর অবস্খায় পড়ে রাষ্ট্রদূত মার্শাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে দ্রুত ফেরত নিয়ে যায় হেডকোয়ার্টারে। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত করে পাঠায় প্রাক্তন মেরিন কর্মকর্তা আর্ল রবার্ট মিলারকে।

ঢাকায় যোগ দিয়েই রাষ্ট্রদূত মিলার সেগুণবাগিচার পররাষ্ট্র দফতরে মন্ত্রী সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জানতে চান- রাষ্ট্রদূত মার্শার ওপরে হামলার তদন্তের অগ্রগতি কতদূর। কিন্তু তিনমাস পরেও সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি, বরং উল্টো রাষ্ট্রদূত মার্শার দিকে দোষের আঙ্গুল তোলে। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যাকশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অবশেষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার দূতাবাস জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিসা বাতিল করে।

তবে এখানেই শেষ নয়, আমেরিকান স্বার্থে আঘাত করার দায়ে আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকায়। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের স্ব্রীর ভিসা আবেদন নাকচে সরকারের টনক নড়ে গেছে, কেননা এটি দশটা মন্ত্রী ফেলে দেয়ার মত ভয়াবহ সংকেত।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রেজ্যুলেশন

বাংলাদেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে একটি রেজ্যুলেশন উত্থাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে এটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান সদস্য উইলিয়াম কিটিং। তিনি এ রেজ্যুলেশনের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানান। ওই কমিটিতে পর্যালোচনা শেষে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ বিষয়ে ইতিবাচক বা নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেজ্যুলেশনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, ইসলামী উগ্রপন্থা, শরণার্থী সংকট অন্যতম। এ ছাড়া দেশটিতে বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো আঘাত বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের জন্য অবমাননাকর।

একই সঙ্গে তা মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি দেশটির দায়বদ্ধতাকেও ক্ষুণ্ন করে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

অবাধ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে গণতন্ত্রের ভিত্তি আখ্যা দিয়ে রেজ্যুলেশনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে উৎসাহিত করার জন্য কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, সব ভোটারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে নির্বাচনে মৌলিক স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা হয়, সেটাই ন্যায্য নির্বাচন।

রেজ্যুলেশনে গত জাতীয় নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কায় বিএনপির অংশ না নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে এবং মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত আরো সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয়া। এ ছাড়া, রেজ্যুলেশনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের মানবিকতা ও উদারতার প্রশংসা করা হয়।

/যাস্ট নিউজ

Content Protection by DMCA.com

বিএনপি আ’লীগের সাথে কূটনীতিকদের চ্যাঞ্চল্যকর বৈঠক: প্রশ্ন উঠেছে- বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা!

 

বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার সাথে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না সেটি নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা পশ্চিমা কূটনীতিকদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

ঢাকাস্থ কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে এ বৈঠকটি বুথবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে এগারোটা পর্যন্ত গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিতি একজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে পরিবেশ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা।

এ বৈঠকে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস-এর রাষ্ট্রদূত এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এ বৈঠকে বিএনপি’র দিক থেকে যোগ দিয়েছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান।

আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিপু মনি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ। এছাড়া বিকল্প ধারা বাংলাদেশে সদ্য যোগদানকারী শমসের মবিন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমীন মুর্শেদ।

বদিউল আলম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছেন। নির্বাচন কমিশন যাতে নিরপেক্ষতার সাথে রেফারির ভূমিকা পালন করে সেটি তুলে ধরেছেন তিনি।

নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশ একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে কিনা সেটি ভেবে দেখতে হবে। বিগত কয়েকটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের কয়েকটি ধাপ রয়েছে।

প্রথমত, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং নানা ধরণের মামলার মাধ্যমে ঘরছাড়া করা। দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে, ভোটের দিন বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ট বের করে দেয়া এবং সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে, ভোট কেন্দ্র আংশিক কিংবা পুরোপুরি দখল করা।

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের সময় এ ধরণের পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের দল কতটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে সে বিষয়টি তারা তুলে ধরেছেন।

মি: চৌধুরী বলেন, “এখন তো সরকার আর নির্বাচন কমিশন একাকার হয়ে গেছে। সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রোটেকশন করতেই ব্যস্ত। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরের কথা, আমরা প্র্যাকটিকালি নিচের দিকে যাচ্ছি।”

এ বৈঠকে বিএনপির দিকে থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সেগুলোর বিষয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে নির্বাচন কমিশন অতীতে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এখন মোটামুটি একটি শক্তিশালী অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলের অন্যতম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদ বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে।

“তারা (বিএনপি) কমপ্লেইন দিয়েছে যে আমাদের ক্যান্ডিডেটকে বাতিল করা হয়েছে। আমাদের কথা হলো এটা তো আমাদের দায়িত্ব না। এটা তো ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। এখানে তো আমাদের কিছু করার নেই,” বলেন মেহজাবিন খালেদ।

মেহজাবিন খালেদ এ আয়োজনকে বৈঠক বলতে রাজী নন। তিনি বলছেন, এটি ছিল কানাডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পলিসি ব্রেকফাস্ট’। তারা বিভিন্ন সময় এ ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যেখানে নানা বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।

এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিকদের দিক থেকে তেমন কোন মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যেসব কথা বলেছেন সেগুলো তারা শুধু শুনেছেন কূটনীতিকরা।

তবে মার্কিন সংস্থা ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইন্সটিটিউট-এর (এনডিআই) একজন প্রতিনিধি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীরা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারে সেদিকে সবার নজর দেয়া উচিত।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন সুষ্ঠু হবেতো দূরে কথা, এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি: হাউস অব কমন্সের প্রতিবেদন

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 5