ধানমন্ডিতে ওবায়দুল কাদেরের রংমহল!

তিনি ওবায়দুল কাদের। রমনীমোহন হার্টথ্রব মন্ত্রী। কবিও বটে। সন্ধার পরে সুরা সাকী নিয়ে বসেন নিজস্ব বালাখানায়।
স্থান ধানমন্ডির আনাম প্লাজার পাশের সুসজ্জিত সুপরিসর একটি এপার্টমেন্টে। একটি হাউজিং কোম্পানী থেকে উৎকোচ হিসাবে পাওয়া ফ্লাটটি, অবশ্য এক স্বজনের নামে রেজিষ্ট্রি করেছেন। ঐ ভবনে সন্ধ্যার পরেই সুরা সাকী নিয়ে মৌজ মাস্তিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সরকার দলীয় সাধারন সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের নেত্রীদের, সিনেমা জগতের উঠতি নায়িকারা সেখানে গিয়ে জীবন ও শরীর ধন্য করে আসে। পনের থেকে পঞ্চাশ- কোনো অসুবিধা নেই তার!

ছাত্র জীবন থেকে মন্ত্রিত্ব- ওবায়দুলের নারী নিযে ব্যস্ততা পুরোনো হলেও তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন সাধারন সম্পাদক পদে নিয়োগ লাভের পরে সরকারী গোয়েন্দারা তার পিছনে অতিরিক্ত খোঁজ খবর নিতে থাকে। ভালোর জন্য ঘুরতে গিয়ে শেষে সেতুমন্ত্রীর এই গোপন বালাখানার খবর গোয়েন্দানের নজরে আসে। ওখানকার মোটামুটি সবকিছু নখদর্পনে রয়েছে তাদের- গোপন ক্যামেরায় ধরা আছে মহিলালীগ এবং ছাত্রলীগ নেত্রীদের, কিছু কথপোকথনও রেকর্ড করা আছে। জা গেছে উপযুক্ত  সময়ে তা প্রকাশ করার জন্য নিরাপদে কিছু কপি সরিয়ে রাখা হয়েছে। দু’দিন আগে ওবায়দুলের মায়ের মৃত্যুর পর শোক কাটাতেও বিশেষ আসরের আয়োজন করা হয় জলসাঘরে।

Content Protection by DMCA.com

৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করে বিডিআর ধংস করা হলো সেনাবাহিনী পঙ্গু করা হলো – বিচার কবে?

অনেক সময় গেছে, অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। নয় বছর পার হয়েছে পিলখানার ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার বিচার হয়নি। পিলখানায় সেনা হত্যার ঘটনা সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যে কলিজায় আগুণ জ্বলছে। এত সংখ্যার অফিসার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বা এমনকি বিশ্বযুদ্ধেও এক ঘটনায় মারা যায়নি। দুর্ঘটনাসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৫৫ জন অফিসার মারা গেছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের নামে গত ৮ বছর প্রহসন হয়েছে, কিন্তু আসল হোতারা এখনো গোঁফে তা দিয়ে ঘুরছে। সেনাবাহিনী অপেক্ষায় আছে ঐ নির্মম ঘটনার বিচারের। উপযুক্ত সময়েই সবকিছু হবে। সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার কোন পরিকল্পনায় কারা হত্যা করেছে। ঘটনার বর্ননায় না গিয়ে আসল কথায় আসি- কে, কেনো, কোথায় জড়িত ছিলো ইতিহাসের নির্মম ঐ হত্যাযজ্ঞে।

১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘R&AW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।

পাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়। অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত রিস্ক থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে। একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “২৪ ঘন্টা” টিভিতে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম!

পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রীবাহিনী ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত। বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐসময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”

২. শেখ হাসিনা : ভারতের এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয় বেশ আগেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ঘটনার ১ সপ্তাহ আগে তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রীকে সুধাসদন থেকে সরিয়ে যমুনা অতিথি ভবনে নেয়া হয়, কেননা পিলখানার ডেঞ্জার এরিয়ার মধ্যে ছিল ওটা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মেরামত শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের সিগনালে খুব দ্রুততার সাথে হাসিনাকে সুধাসদন থেকে সরানো হয়। এটা এক অসম্ভব ঘটনা। পিলখানা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় বিরাট সংখ্যায় সেনা অফিসার হত্যা করা হবে, যেটা ১৯৭৫ সালে তার পিতৃ হত্যার একটা বদলা হিসাবে হাসিনার কাছে সুখকর ছিলো। এর মাধ্যমে বিডিআর নিশ্চিহ্ন হবে, টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যা করা হলে তাতে মূল সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙ্গে যাবে। গোয়েন্দা খবর পেয়ে ২৫ তারিখে পৌনে ন’টার মধ্যেই এনএসআই ডিজি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে- “পিলখানায় বিদ্রোহ হচ্ছে। ” প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকেন! আক্রমনের পরে অফিসারদের SOS পেয়ে সকাল ১০টার মধ্যে র‌্যাবের একটি দল, এবং ১০.২৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি দল পিলখানার গেটে পৌছায়। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়নি। আশ্চয্যজনকভাবে তিনি সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। আর এর মধ্যে ঘটতে থাকে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। খেয়াল করুন, সেনা অফিসাররা কোনো প্রতিরোধ করেনি, কাজেই কি কারনে বিডিআর সৈনিকরা অফিসারদের হত্যা করবে? এটা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সেনা অফিসার হত্যাকান্ড। সারাদিন হত্যাকান্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে বিকালে শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের সাথে বৈঠক করে তাদের সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি একবারও জানতে চাননি, ডিজি শাকিল কোথায়? কি বিস্ময়!! জেনারেল জাহাঙ্গীরের তদন্ত কমিটি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুপারিশ করেছিল, যার ফলে হাসিনা ক্ষেপে গিয়ে ঐ রিপোর্ট ধামাচাপা দেন।

৩. গোয়েন্দা সংস্থা: ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ঘটনার আগের দিন এটা জানার পর সে এনএসআইকে এই মর্মে অবহিত করে যে, পিলখানা য় বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগের নেতারা জড়িত। এনএসআই থেকে উক্ত সাংবাদিককে বলা হয় বিষয়টা চেপে যেতে। ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পিলখানায় যাওয়ার আগের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। তখন সেনা অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হয় অস্ত্রাগার পাহারায়। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দাগিরি বহাল থাকে। নূন্যতম কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রোগ্রাম বাতিল হয়। এত কিছু সত্তেও ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। মূলত: বিদ্রোহের আগাম বার্তা সেনাপ্রধান ম্ইন, ডিজিএফআই প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর (ইনি হাসিনার এক সময়ের প্রেমিক ছিলেন), এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল মুনির, সিজিএস মেজর জেনারেল সিনা জামালী, বিডিআর কমিউনিকেশন ইনচার্জ লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান, ৪৪ রাইফেল’এর সিও শামস, মুকিম ও সালাম-এর জানা ছিল। কেননা ২৫ তারিখের আগেই দাবী দাওয়ার লিফলেটের কপি ডিজি শাকিল, এনএসআই ও সরকারের কাছে পৌছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের বহু সেক্টর কমান্ডাররা জানত, ২৫ তারিখে একটা ঘটনা ঘটবে। পরিকল্পনামত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ২৪ তারিখে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ তারিখের নৈশভোজে যাচ্ছেন না। এমন ঘটনা অতীত কখনও কখনো ঘটেনি!

৪. জেনারেল মইন উ আহমেদ: তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১র প্রধান কুশীলব। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে ভারত সফর করে মইন চেয়েছিলেন পূর্ন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতীয় সমর্থন। ভারত রাজী হয়নি, বরং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার লক্ষে মইনকে কাজ করতে বলে, বিনিময়ে সেফ প্যাসেজ পাবে কুশীলবরা। উপায়ান্তর না দেখে মইন রাজী হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিত ফলাফলের নির্বাচনে ক্ষমতার পালবদল ঘটায়। মইনের বদলে আসেন হাসিনা! ওয়ান ইলেভেনের খলনায়করা যে সব রাজনীতিবিদদের অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদে প্রবল দাবী ওঠে। তখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে জেনারেল মইন নিজে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সংসদ অফিসে। এরপর শেখ হাসিনা ধমকে দেন মখা আলমগীর, আবদুল জলিলদের, যাতে করে সেনাবাহিনীর বিচারের দাবী আর না তুলে। হাসিনা এ সময় হুশিয়ার করেন, “কিভাবে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা কেবল আমিই জানি।” অন্যদিকে ঐ সময়ই ভারত তার প্লানমত এগিয়ে যায় বিডিআর অপারেশনে। মইনকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে। মইন তার দু’বছরের অপকর্মের স্বাক্ষী আর্মি অফিসারদের আগে থেকেই পোষ্টিং দিয়ে জড়ো করে বিডিআরে। এদের নিধন করা হলে মইনের অপকর্মের সাক্ষী আর পাওয়া যাবে না। ফলে মইনের বিরাট প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ। অন্যদিকে এত সেনা অফিসার নিহত হলে ১/১১ নিয়ে সেনাবাহিনী তথা মইনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা আর মুখ খুলবে না। এতকাল আর্মির রদ্দিমালগুলো যেতো বিডিআরে। কিন্তু এবারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র- পরিকল্পিতভাবে অনেক চৌকশ অফিসার একসাথে পাঠানো হয় বিডিআরে। পিলখানা হত্যাকান্ডের মাত্র ১ সপ্তাহ আগে গুলজারকে ষ্টাডরিলিজ করে বিডিআরে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। রাইফেলস সপ্তাহের আগেই কানাঘুসা শুরু হয়- ২৫ তারিখে বিদ্রোহ হবে। তাই অনেক অফিসার নানা অযুহাত দিয়ে ছুটিতে চলে যায়। সেনাপ্রধান মইনের পিলখানা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, যার প্রমান মেলে ঘটনার সাথে সাথেই আক্রান্ত ডিজি শাকিল ও অফিসাররা মইনকে ফোনে জানায়। মইন আশ্বাস দেন সেনা পঠাচ্ছি। অথচ তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি, সময় ক্ষেপন করে হত্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ম্ইন চলে যায় যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। তেজগাওয়ে এয়ারফোর্স রেডি, আর্মি রেডি সেনিাবাসে। কিন্তু হুকুম আসে না। বিকালে কিছু সেনা ও যানবাহন ধানমন্ডি পর্যন্ত পৌছে গেলেও অপারেশনের অনুমতি দেয়নি হাসিনা ও ম্ইন। ঘটনার ৪ দিন পরে ১ মার্চে হাসিনা সেনাকুঞ্জে গেলে মইন সেনা অফিসারদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পরেন। এমনকি নিহতদের জানাজার সময় মইনকে চেয়ার তুলে মারতে যায় কেউ কেউ। উল্টো, সেনাকুঞ্জে যে সব সেনা অফিসার বিচার চেয়ে জোর গলায় বক্তৃতা করেছিল, প্রতিবাদ করেছিল- ভিডিও দেখে দেখে এমন প্রায় দু’শ জনকে চাকরীচ্যুত করেছে মইন অনেক অফিসারকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।

৫. সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার এই পুত্রটি আগে থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেড় মাস আগে (১৯ নভেম্বর) হাসিনার উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তার Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে ৩০% মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকানো হয়েছে। এদের নির্মুল করে সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করতে হবে। পিলখানায় বিপুল সেনা অফিসার হত্যা করা হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করা সহজ হবে, এবং নতুন নিয়োগ করা যাবে- এমন বিবেচনায় জয় ভারতীয় প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। পিলখানা হত্যার পরে জয় দুবাই যান এবং সেখানে ঢাকা থেকে আগত হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করেন বলে খবর প্রকাশ।

৬. শেখ ফজলে নূর তাপস: হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এই তাপস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটনায় তার পিতা নিহত হয়। তাপস ঢাকা-১২র নির্বাচন করতে গিয়ে বিডিআর এলাকায় ৫ হাজার ভোট প্রাপ্তির লক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তোরাব আলী’র মাধ্যমে বিডিআর নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। তাপসকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, বিডিআর সকল সদস্য নৌকায় ভোট দিবে। তার বদলে তাপস আশ্বাস দিয়েছিল বিডিআরের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তাপসের বাসায় (স্কাই ষ্টার) বিডিআরের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এমনকি দাবীদাওয়া পুরন না হওয়ায় পিলখানা বিদ্রোহের আগের দিন তাপসকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের কথা জানানো হয়। তাপস তাতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাপসও এই ষড়যন্ত্রকে কার্যকর হিসাবে মনে করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফজলে নুর তাপসের ধানমন্ডিস্থ বাসায় ২৪ জন বিডিআর হত্যাকারী চুড়ান্ত শপথ নেয়। তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন পরিকল্পনাকারীদেরকে গোপন আস্তানা ও যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে। বিডিআর বিদ্রোহের পরের দিন বিকালে শেখ তাপসের ঘোষনা প্রচার করা হয়, যাতে করে পিলখানার ৩ মাইল এলাকার অধিবাসীরা দূরে সরে যান। আসলে এর মাধ্যমে খুনীদের নিরাপদে পার করার জন্য সেফ প্যাসেজ তৈরী করা হয়েছিল। তাপসের এহেন কর্মকান্ডের বদলা নিতে তরুন সেনা অফিসাররা পরবর্তীতে তাপসের ওপর হামলা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ৫ চৌকস কমান্ডো অফিসার চাকরীচ্যুত হয়ে কারাভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে তাপস কিছুদিন গা ঢাকা দেয় বিদেশে।

৭. মীর্জা (গোলাম) আজম: যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এই হুইপটি পিলখানা হত্যাকান্ড চলাকালে বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেয় কর্নেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং দেহ নষ্ট করে ফেলতে (এর অডিও রেকর্ড আছে), কেননা র‌্যাবের সাবেক পরিচালক কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বে জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে ধরা হয়েছিল ও পরে ফাঁসি দেয়া হয়। শায়খ রহমান ছিল মির্জা আজমের দুলাভাই। আজম এভাবেই দুলাভাই হত্যার বদলা নেয় গুলজারকে হত্যা করে, এমনকি তার লাশও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০০৪ সালে নানক-আজমের ব্যবস্থাপনায় শেরাটন হোটেলের সামনে গানপাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার ঘটনা তদন্ত করে এই গুলজারই নানক-আজমকে সম্পৃক্ত করে। এর প্রতিশোধেই গুলজারে শরীর এমন ভাবে নষ্ট করা হয়, যেনো কেউ চিনতে না পারে। ১৫ দিন পরে ডিএনএ টেষ্ট করে চিহ্নিত করা হয় গুলজারের লাশ।

৮. জাহাঙ্গীর কবির নানক: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। উনি বিডিআরের ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদের ক্লাশমেট। বিডিআর ট্রাজেডির আগে থেকেই তৌহিদ যোগাযোগ রাখত নানকের সঙ্গে। ঘটনার দিন ২০৪ মিনিট কথা বলে তৌহিদ-নানক। ২৫ তারিখ বিকালে পিলখানার বিদ্রোহীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মিটিং করিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠায় সে। ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষণা করে নানক। কর্নেল গুলজার হত্যায় মীর্জা আজমের সাথে নানক সরাসরি জড়িত। কেননা, র‌্যাবের পরিচালক গুলজারই তদন্ত করে উদঘাটন করে- শেরাটনের সামনে দোতলা বাস জ্বালিয়ে ১১ যাত্রী হত্যা করা হয় নানকের নির্দেশে। ২৫ তারিখে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেল মঞ্জুর এলাহী পালিয়ে ছিল ম্যানহোলে। তার স্বজনরা এসএমএস মারফত খবর পেয়ে নানকের সাহায্য চায়। ২৬ তারিখে উদ্ধার করার বদলে ঐ অফিসারটিকে খুঁজে বের করে হত্যা করায় নানক। এটা সেনানিবাসের সবাই জানে। সেনাবাহিনীর তদন্ত পর্ষদ এড়াতে তদন্তের সময় নানক হঠাৎ বুকের ব্যথার অযুহাতে চিকিৎসার কথা বলে অনেকদিন সরে থাকে সিঙ্গাপুরে। এ নিয়ে সেনা অফিসারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরকে চাকরীচ্যুত করে হাসিনা।

৯. সাহারা খাতুনঃ সুপরিকল্পিত বিডিআর ধংসযজ্ঞ সংগঠনের নিমিত্ত ভারতের পরামর্শে হাসিনার কেবিনেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় অথর্ব সাহার খাতুনকে। বিদ্রোহের দিন কোনো তৎপরতা ছিলো না সাহারার। বরং সেনা অভিযান ও পিলখানায় র‌্যাব ঢোকার অনুমতি চাইলে সাহারা খাতুন ‘না’ করে দেন। বিকালে বিদ্রোহীদের সাথে করে প্রেস ব্রিফিং করে এই মন্ত্রী। অথচ ডিজি শাকিলের কোনো খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। কারন সে সব জানত। বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার পরে রাতে তিনি যান পিলখানায় প্রধানমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে। তিনি বিডিআর অফিসারদের পরিবার পরিজন উদ্ধার না করে কেবল আইজিপি নুর মোহাম্মদের কন্যাকে উদ্ধার করেন। অথচ বাকী পরিবার ঐ রাতের আঁধারে নির্যাতিত হয়। সাহারা খাতুনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টীমের এম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের এম্বুলেন্স পিলখানায় ঢুকে। এরপরে পিলখানার বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের ঐ এম্বুলেন্সে করে পিলখানার বাইরে নিরাপদ যায়গায় সরানো হয়। তখনও অনেক অফিসার আহত হয়ে পিলখানা নানাস্থানে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু সাহারা এদের উদ্ধার করেনি। কর্নেল এমদাদ, কর্নেল রেজা্, ও কর্নেল এলাহীকে এরপরে হত্যা করা হয়।

১০. শেখ সেলিম: শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ঘটনায় সে ধরা পরেও রহস্যজনকভাবে বেঁচে যায়, কিন্তু তার ভাই শেখ মনি নিহত হয়। সেনাবাহিনীর ওপরে তারও রাগ ছিলো প্রচন্ড। তা ছাড়া ১/১১র পরে সেনারা ধরে নিয়ে যায়ে এই সেলিমকে, এবং ডিজিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করে শেখ হাসিনার অনেক গোপন কথা, চাঁদাবাজি, বাসে আগুণ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দী আদায় করে। এতে করে সেনাবাহিনীর ঐ সেটআপের উপর তার রাগ ছিল। বিডিআরের ঘটনার আগে বিদ্রোহী দলটি কয়েকদফা মিটিং করে শেখ সেলিমের সাথে। ১৩ ফেব্রুয়ারীতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় এ ধরনের একটি মিটিং হয় বলে সেনা তদন্তে প্রমান পাওয়া গেছে।

১১. সোহেল তাজ: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ সেলিমের বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সোহেল যোগ দেয়। বিদেশী হত্যাকারীদেরকে নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন ও আমেরিকায় পৌছানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সোহেল তাজকে। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রচার করা ঘটনার সময় তাজ আমেরিকায় ছিল। এটি সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। সে সময়ে তাজ ঢাকায়ই ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কয়েকজন হত্যাকারীসহ তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সে রাতেই তাজ ওসমানী বিমানবন্দর থেকে হত্যাকারীদের সাথে নিয়ে বিদেশের পথে যাত্রা করে। সেই হেলিকপ্টারের একজন পাইলট ছিল লেঃ কর্নেল শহীদ। যাকে পরে হত্যা করা হয়, টাঙ্গাইলে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সাথে। এছাড়া বিমানের বিজি ফ্লাইট ০৪৯ দু’ঘন্টা বিলম্ব করে চারজন খুনী বিডিআরকে দুবাইতে পার দেয়া হয়। এ খবরটি মানবজমিন ছাপে ৩ মার্চ ২০০৯।

১২. কর্নেল ফারুক খান: তিনি ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের লক্ষে গঠিত ৩টি কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে। জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, পিলখানার ঘটনায় ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত। এটা খাওয়ানোর জন্য সোবহান নামে এক লোককে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। পরে কুলাতে না পেরে সেখান থেকে সরে আসেন। সেনাবাহিনীর তদন্তে অনেক সত্য কথা উঠে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এই ফারুক খানের জন্য। ধামাচাপা দেয়া হয় মূল রিপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মূল রিপোর্ট বদল করে গোজামিলের রিপোর্ট তৈরী করান ফারুক খান।

১৩. হাজী সেলিম: লালবাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি খুনীদের রাজনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে হাজী সেলিম বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে, যা ভারতীয় খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন দুপুরে হাজী সেলিমের লোকেরা বিডিআর ৪ নং গেটে বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করে। ২৫ তারিখ রাতের আঁধারে পিলখানার বাতি নিভিয়ে দেয়াল টপকে সাধারন পোষাক পরে বিদ্রোহীরা লালবাগ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায় হাজী সেলিমের সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করে। হাজী সেলিমের সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগনকে সেখান থেকে সরিয়ে রাখে। একটি বেসকারী টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোর্টে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে, যাতে বলা হয় যে, বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীরা তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

১৪. তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন: আওয়ামীলীগের ৪৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে এ্বই তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এমপি তাপসের সাথে। মূল পরিকল্পনায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় লজিষ্টিক সম্বয় সাধনের জন্য। তার বাড়িতেও বিদ্রোহীদের মিটিং হয়েছে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রের ডিলার। তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটনের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিডিআরদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। এ সংক্রান্ত খরচাদি আগেই তাকে দেয়া হয়। উক্ত লিটনকে ২ মাস আগে তাপস ও নানক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোটযোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয় লেদার লিটন।

১৫. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: পিলখানার ঘটনার সময় এই সাবেক আমলা ও জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মখা মেতে উঠেন বিভৎস উল্লাসে। বার বার ফোন করে খোঁজ নেন বিদ্রোহীদের কাছে, এর অডিও রেকর্ড আছে। এমনকি নিহতদের লাশ গোপন করার জন্য এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুকুমদাতা ছিলেন তিনি। যার বদৌলতে তাকে পরে প্রমোশন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতে।

১৬. হাসানুল হক ইনু: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্ধকার গলির নেতা। তিনি ১৯৭৫ সালে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছেন কর্নেল তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশে সংঘটিত সকল সামরিক অভ্যুত্থানে তার যোগসাজস রয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি তার ঘনিষ্ট বিডিআরদের ফোন করে হত্যায় উৎসাহ যুগিয়েছেন, এবং তাদের পরামর্শ দিয়েছেন কি করে লাশ গোপন করতে হবে।

নয় বছর পার হয়ে গেছে ৫৭ সেনা অফিসার সহ ৭৭ নাগরিক হত্যার। বিডিআর বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সহায়তায় বিজিবি গঠন করা হয়েছে, যারা এখন বিএসএফের সাথে ভাগাভাগি করে ডি্উটি করে! কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বিচারের প্যারেড করানো হয়েছে। জেল হয়েছে সবার। অন্যদিকে রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গায়েব করতে ৫৩ জন বিডিআরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ৫৭ সেনা হত্যার বিচার এখনো বাকী। যেনো তেনো কোনো বিচার চায় না সেনাবাহিনী। তাই হত্যা মামলাও আগাচ্ছে না। যতদিন লাগে লাগুক, হয় কঠিন বিচার হবে, নয়ত বদলা হবে, এটাই তাদের চাওয়া।

https://www.youtube.com/watch?v=wCyByviFR0k

 

Content Protection by DMCA.com

হাসিনার বিরুদ্ধে সেই আলোচিত দূর্নীতির মামলাগুলো জানুন !

১ টাকাও খরচ হলো না, অথচ দুর্নীতিবাজ বানানো হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে! জনগন কি এটা মেনে নিবে? এই রায় আদালতের নয়, বরং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত। আরো আগে থেকেই তিনি বলে আসছেন এতিমের টাকা চুরির দায়ে শাস্তি দিবেন, তার মন্ত্রীরা সাজা ঘোষণা করেছেন বার বার। আর সেটা করার জন্যই দু’জন প্রধান বিচারপতিকে পদচ্যুত করে তিনি অধঃস্তন আদালতের বিচারকের দখল নিজের হাতে নিয়েছেন। চাইলেই যে কাউকে ইচ্ছামত সাজা শাস্তি দেয়াতে পারেন যেকেনো আদালত দিয়ে, এমনই ক্ষমতা তার!। তাই দেশের জনগন মনে করে, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চারিচার্থ করেছেন। ঢাকায় রায় প্রকাশের সাথে সাথেই বরিশালে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশে উল্লম্ফন দেখেছে জনগন, পিতারই ভাষায়- “কোথায় আজ খালেদা জিয়া?” একসময় তাঁর পিতাও হত্যার পরে উপহাস করে বলেছিলেন- “কোথায় এখন সিরাজ সিকদার?” এরপরে কে কোথায় গেছে, তা দেশবাসীর জানা আছে।
 
বেগম জিয়া এবং বিএনপির দিকে তাকিয়ে আজ যারা ভ্রুকুটি করছেন, তাদের মনে রাখা দরকার- ১৯৬০ সালে দুর্নীতি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানও দু’বছর কারাদন্ড ভোগ করেছিলেন, এমনকি ডাকাতি মামলায়ও তিনি জেলে ছিলেন! দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলাও জেলে ছিলেন ২৭ বছর। সাম্প্রতিককালে মইন-ফখরের আমলে রাজনৈতিক কারনে এক বছর করে জেলে ছিলেন বেগম জিয়া এবং শেখ হাসিনা দু’জনেই। আসলে বাংলাদেশের সমস্যা জেল বা আদালত নয়, সমস্যা হলো নষ্ট রাজনীতি।
 
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অনাসৃষ্টির পরে বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিল রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে শান্তি আসবে। তবে গতকালের এই হুকুমি রায়ে পরে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে- অবৈধ সরকার আদালতের ঘাড়ে বসে দেশ চালাচ্ছে, ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে কারাগারে পাঠিয়েছে। দেশে আবার মারামারি কাটাকাটি হবে। শাস্তি স্বস্তি আর এলো না। একটা দেশ উপরে উঠতে গেলে রাজনৈতিক ঐক্য এবং সংহতির দরকার হয়। দক্ষিণ অফ্রিকায় দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পরে শান্তি চুক্তি করে নিজেদের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে নেয় কৃষ্ণাঙ্গ শেতাঙ্গরা।
 
৯০এর গণআন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের যে বিজয় সূচিত হয়েছিল, তা ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন ঝড়ে মুখ থুবরে পড়ে। নির্বাচন গণতন্ত্রের স্থান দখল করে নেয় হাসিনার ভোটবিহীন সরকার ব্যবস্থা। ২০০৮ সালে তৈরী করা ফলাফলের নির্বাচনে সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা, এরপরে ২০১৪ সালে বিনাভোটের নির্বাচনে মাস্টাররোল করে এমপি নিয়োগ ও সরকার প্রতিষ্ঠা করে গুম খুন দুর্নীতির ভূস্বর্গে পরিণত করেছে! যেহেতু ক্ষমতার জন্য ভোট দরকার নাই, তাই জনগনের কাছে জবাবদিহিতাও নাই, ফলে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে ৫/১০ গুণ খরচে উন্নয়নের বিলবোর্ড ডেমোনেস্ট্রেশন হচ্ছে। বাস্তবে রাস্তাঘাট নষ্ট, যোগাযোগ ব্যবস্খা দুমড়ে মুচড়ে দেশের অবস্থা জবুথবু, অথচ রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় অর্ধেকটা মহাদুর্নীতি করে পাচার করছে বিদেশে। কার্যকর কোনো বিরোধী দল না থাকায় অবৈধ ক্ষমতাসীনরা খুন লুটপাটের রাজনীতি চালু করেছে। মানুষ আশা করেছিল শীঘ্রই দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
 
কিন্তু ক্ষমতার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি বেগম খালেদা জিয়াকে গতকাল বানোয়াট দুর্নীতির মামলায় জেলে নেয়া হলো, যেখানে কোনো অর্থই খরচ হয়নি। মিথ্যা সাক্ষী ও ঘষামাজা কাগজ দিয়ে নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে মূলত গণতন্ত্রকে জেলে পাঠালেন শেখ হাসিনা।
 
বশংবদ জজের রায়ে সরকারী দল উল্লম্ফন করে অথচ, তখন জনগন দেখতে পায় অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কেবিনেট, দলবল, ও স্বজনদের লক্ষ কোটি টাকার মহাদুর্নীতির কোনো বিচার হয় না, কোনো আদালতে অভিযোগ দায়ের করে না দুদক! এরূপ কয়েকটি খাত:
 
১) ২০১০-১১ সালে শেয়ার মার্কেট থেকে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা লুট করে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে পথে বসানো হয়েছে। এসব লুটপাটকারীদের বিচার তো হয়ই নি, বরং কাউকে কাউকে মন্ত্রী বানিয়ে পুরস্কৃত করেছেন হাসিনা!

২) বেসিক ব্যাংক থেকে ৩০০০ কোটি টাকা লোপট করে দিয়েছে শেখ হাসিনার আত্মীয় বাচ্চু শেখ! কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। বরং মোলায়েমভাবে অনুসন্ধান নাটক চলছে।

৩) সরকারী দলের স্তাবক আবুল বারাকাত জনতা ব্যাংক থেকে ৫৪০০ কোটি টাকা সরিয়েছে! অর্থমন্ত্রীর স্বীকারেক্তি।

৪) হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত শেখ হাসিনার উপদেষ্টা মোদাচ্ছের ৪০০০ কোটি টাকা লুট করার পরে অর্থমন্ত্রী বলেন- এটা এমন কোনো টাকাই না!

৫) ফার্মার্স ব্যাংক খেয়ে ফেলেছে মখা আলমগীর এবং মুনতাসির মামুনরা, যার মধ্যে পাবলিকের টাকা তো আছেই রাষ্ট্রীয় জলবায়ু খাতের ৫০৮ কোটি টাকাও নাই!

৬) ডেসটিনি খাতে লুট ৫০০০ কোটি টাকা, যার সাথে জড়িত শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা!

৭) বিসমিল্লাহ গ্রুপ জালিয়াতি করে ১২০০ কোটি টাকা লোপাটের সাথে সরকারী দলের লোকেরা জড়িত!

৮) বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭’শ কোটি টাকা রিজার্ভ ‍চুরির সাথে জড়িত খোদ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকজন জড়িত, তাই দু’বছরে কোনো মামলা হয় না, কেউ জেলে যায় না।

৯) এমনভাবে লুটপাট করেছে যে দেশের অর্ধেক ব্যাংক এখন দেউলিয়া করে ফেলেছে- সরকারী দলের অর্থনীতিবিদের ভাষ্য। এসকল দুর্নীতি ও লুটপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সরকারী দলের নেতা মন্ত্রীরা, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পুত্র নিজেও বেনিফিশিয়ারী। যার কারনে কোনো একটি ঘটনার বিচার হয়নি।
ব্যাংক ছাড়াও রাষ্ট্রীয় খাতে দেশী বিভিন্ন প্রকল্পের মুল্য পাঁচ-দশগুণ বাড়িয়ে লুটপাট করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক প্রাক্কলন বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রীয় খাত থেকে টাকা সরানো হয়।
১০) দোহাজারী-গুনদুম রেলপথ নির্মাণে ১,৮৫২ কোটি টাকার প্রাক্কালন বর্তমানে ১৮ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ১০ গুণ।
১১) ভারত ও চীনে যেখানে মহাসড়ক নির্মানে খরচ কিলোমিটার সাড়ে ১০ কোটি টাকা, ইউরোপে সর্বোচ্চে ২৯ কোটি টাকা, সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ছয়টি প্রকল্পের কিলোমিটার প্রতি খরচ কছে ৫৪ কোটি টাকা। এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট।
১২) ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়কের নির্মাণ ব্যয় কিলোমিটারপ্রতি ঠেকেছে ১২২ কোটি ৭৭ লাখ টাকায়। তার মানে ইউরোপেরও ৫ গুণ।
১৩) বিএনপির রেখে যাওয়া ৭৮৮ কোটি টাকার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারটি আ’লীগ নির্মাণে ব্যয় করেছে ২৪০০ কোটি টাকায়, কিলোমিটার প্রতি ব্যয় প্রায় ২১১ কোটি টাকা, যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল!
১৪) প্রধান মন্ত্রীর ছোটবোনের ইচ্ছায় বৃটেনের ভুয়া কোম্পানী ডিপি রেলকে ৬০ হাজার কোটি টাকার ঢাকা-পায়রা রেলপথ নির্মানের কাজ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকাই চুরি হবে বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৫) যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ৩০ হাজার কোটি টাকায় করা সম্ভব, তা করা হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকায়।
১৬) পত্র পত্রিকা জুড়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রের ৯৭ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের খবর বের হয়েছে যেখানে কেবল বিদ্যুৎ এবং জ্বালানী খাতের দুর্নীতির পরিমান ৭৬,০০০ কোটি টাকা।
১৭) ভিওআইপি খাত থেকে ৯৫০০ কোটি টাকার লুটপাটের খবর।
১৮) আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়া থেকে কমিশন নিয়েছে ৫৩০০ কোটি টাকা।
১৯) আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ হাতিয়ে নিয়েছে ২৩৮০ কোটি টাকা।
২০) এটুআই প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতি ১১,৫৬০ কোটি টাকা।
২১) পদ্মা সেতুর খরচ তিন গুণ বেড়ে ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে কেউ জানে না।
২২) এভাবে বড় বড় প্রকল্পের খরচ বাড়ানো হয়েছে ৩/৫/১০ গুণ খরচ বাড়িয়ে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে।
 
জিএফআই’র প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ বছরে বিদেশে পাচার হয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রিপোর্ট বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালে পাচারের পরিমান ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার, ২০১২ সালে ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০১১ সালে পাচার হয় ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এসব দুর্নীতি লুটপাটের কোনো মামলা নাই, বিচার হয় না। বোন এবং পুত্রের ২০-২৫ ভাগ কমিশন নেয়ার কাহিনী লন্ডন আমেরিকায় মুখে মুখে।
 
২৩) ২০০৮ সালের নির্বাচন অবধি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছিলো। এর মধ্যে ১৩ টি মামলায় মোট ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার ১৮৮ টাকার দুর্নীতি/অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া একটি ছিল খুনের মামলা, আরেকটি সেনানিবাসে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা। এর মধ্যে কেবল ৪টি মামলায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকার ঘুষ গ্রহণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তিনি ছিলেন প্যারোলে। তবে কোনো মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি!! প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে খুব দ্রুতই তিনি সবগুলো মামলা তুলে নিয়েছেন। ১৫টি মামলার ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেয়া হয় ৯টি মামলা। ২০১০ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু করে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র তিন মাসেই ৯টি দুর্নীতি মামলা বাতিল করে হাইকোটের দুটি বেঞ্চ। ঐ দুটি বেঞ্চের বিচারপতি ছিলেন মো. শামসুল হুদা, আবু বকর সিদ্দিকী, এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বোরহান উদ্দিন। হাসিনার বিরুদ্ধে যে সমস্ত দূর্নীতির মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয় তার মধ্যে একটি হলো নাইকো দুর্নীতি মামলা, যাতে হাসিনার নামে ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি/দুর্নীতির অভিযোগের মামলা তুলে নেয় হয়, অথচ একই অভিযোগে খালেদা জিয়ার নামে মামলা এখন বিচারাধীন!
 
২৪) বেপজায় পরামর্শক নিয়োগে ২ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৮৮ টাকার দুর্নীতি মামলাটি ২০০২ সালের ২ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। পরে ৩০ মে ২০১০ মামলাটি বাতিল করে শেখ হাসিনার সরকার।
 
২৫) শেখ হাসিনার নামে কোরিয়ান পুরাতন ফ্রিগেট ক্রয় করে ৪৪৭কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ১৮ মে ২০১০ বাতিল করে।
 
২৬) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অবৈধভাবে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ক্ষতি করার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ও সৈয়দ আবুল হোসেন সহ অন্যান্যদের নামে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২২ এপ্রিল ২০১০ শেখ হাসিনার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি বাতিল করে।
 
২৭) খুলনায় ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মোনের অনুমতি দিয়ে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার মামলাটি ১৩ এপ্রিল ২০১০ বাতিল করে। সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে কাজ দিয়ে তার কাছ থেকে তিন কোটি টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। ৮টি চেক/পে অর্ডারের মাধ্যমে সামিট গ্রুপের মোহাম্মদ আজিজ খান শেখ হাসিনাকে ৩ কোটি টাকা প্রদান করে, যার দ্বারা ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাষ্টের জন্য দোতলা বাড়ি সহ ১৯.১১ কাঠা জমি কেনা হয়। ২০০৮ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠনের পরে বিশেষ জজ আদালতে মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে দেশে নির্বাচনের আবহ উঠলে সেনা সমর্থিত সরকার আপোষরফা করে মামলার গতি শ্লথ হয়ে যায়। ওবায়দুল কাদের দাবী করেন, “জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের তুলনা করা ঠিক না। কারণ বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যাদের নিজস্ব উদ্যোগে। এটা কারো দান বা অনুদান নয়!”
 
২৮) ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয় করে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা দুর্নীতির মামলাটি ৯ মার্চ ২০১০ বাতিল করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহান উদ্দিন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ। ২০ আগষ্ট ২০০৮ শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। সেনানিয়ন্ত্রিত সরকারের সময়ে নূর আলী স্বীকার করেছিলেন, এই মিগ কেনা বাবদ তিনি ১২ মিলিয়ন ডলার কমিশন লাভ করেন, যা শেখ হাসিনা সহ অন্যরা ভোগ করে। এই মামলাটি হাইকোর্ট দিয়ে কোয়াশ করা হয়, যদিও এর আগে আপিলেট ডিভিশন এই মামলার কোয়াশমেন্ট পিটিশন নাকচ করে নিম্ন আদালতে চলার বৈধতা দেয়। হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চ কি আর পরে ঐ মামলাটি কোয়াশ করার এখতিয়ার রাখে?
 
২৯) ৪ মার্চ ২০১০ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি মামলা অবৈধ ঘোষণা করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং বিচারপতি বোরহানউদ্দিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এরমধ্যে একটি বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে ৫২ কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা।
 
৩০) নূর আলীর নিকট থেকে ৫ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি ১৩ জুন ২০০৭ দায়ের করা হয়। ৮ জুন ১৯৯৭ থেকে ২০ মে ১৯৯৯ তারিখের মধ্যে ১২টি চেকের মাধ্যমে নুর আলী ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা দেন হাসিনাকে, যাতে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদের আইটি অফিসের জন্য পান্থপথের ইউটিসি বিল্ডিংয়ে ৫৩৮৮ বর্গফুটের একটি ফ্লোরের অর্ধেক উপঢৌকন দেন।
 
৩১) কাজী তাজুল ইসলামের নিকট থেকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ মামলাটি বাতিল করা হয় ৪ জানুয়ারী ২০০৯। ১০ এপ্রিল ২০০৭ দায়ের করা এই মামলায় বলা হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের জন্য ওয়েস্টমন্ট পাওয়ার কোম্পানীর চুক্তি বাতিল করার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনা নগদ ৩ কোটি টাকার ঘুস নেন নগদ। ৮ আগষ্ট ১৯৯৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবনে গিয়ে দু’টি সুটকেসে ভরে ৫০০ টাকা নোটের ৬০০ বান্ডেলে ৩ কোটি টাকা শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেন তাজুল। ২০০৯ সালে কেবল মামলাটি বাতিল করা হয়নি, বরং বছর দু’য়েক আগে তাজুল ইসলাম রহস্যজনক গাড়িচাপায় মারা যান।
 
৩২) টুঙ্গিপাড়ায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ দূর্নীতি ৪১.৮৪ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলাটি ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে প্রত্যাহার করার জন্য দুদককে সরকার চিঠি দেয়।
 
৩৩) আজম জে চৌধুরীর নিকট থেকে ৮টি চেকে ৩ কোটি টাকা ঘুস নেয়ার অভিযোগে এই মামলাটি শেখ হাসিনার দুর্নীতির সবচেয়ে বড় দালিলিক প্রমান। অথচ এটি ১৭ মে ২০০৯ প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। শেখ হাসিনা, শেখ সেলিম, ও শেখ রেহানার বিরুদ্ধে ১৩ জুন ২০০৭ তারিখে ইস্ট কোস্ট ট্রেডিং লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আজম জে চৌধুরী মামলা দায়ের করেন। ২৫ অক্টোবর ২০০৭ অভিযোগ গঠন হয় এবং শেখ রেহানাকে পলাতক ঘোষণা করে তার সকল সম্পত্তি এটাচ করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর “আমাদের সময়” পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করে, “৮টি চেকে ফেঁসে যাচ্ছেন হাসিনা, রেহানা ও সেলিম: সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ১৪ বছর।” ২০০৭-২০০৮ সালে এ মামলাটির বিচার চলে বিশেষ জজ আদালতে, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলাটি রায় ঘোষনার কাছাকাছি পৌছে যায়। ইতোমধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আগে সরকারের সাথে গোপন সমঝোতার ফলে রহস্যজনক কারনে হঠাৎ মামলাটির বিচারকার্য বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৮৪, ৩৮৫ ও ৩৪ ধারায় এ অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা হওয়ার কথা ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড। এক পর্যায়ে বাদী আজম জে চৌধুরীকে চাপ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। এ বিষয়ে শেখ সেলিম ১৬৪ ধারায় কোর্টে জবানবন্দি দিয়েছেন। শেখ সেলিমের স্বীকৃতির কথাবার্তা ইউটিউবে পাওয়া যায়। এই মামলায় হাসিনা ও সেলিমের জেল হবে টুডে অর টুমরো।
http://www.youtube.com/watch?v=xlbN1b5POww
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু সরাসরি ঘুস নেয়ার মামলা প্রধানমন্ত্রীর নামে- তাও আবার চেকের মাধ্যমে নেওয়া, যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন আর থাকে কিভাবে? দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ২ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে? এর পরে যদি দলের বড় বড় নেতারা সাফাই গান আর চিৎকার করেন, আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি হয়েছে মামলা, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়!
 
নিজেদের এতগুলি দুর্নীতির খাত থাকতে, এবং এতগুলি দুর্নীতির মামলা বেআইনীভাবে প্রত্যাহার করার পরে ‘সৎ’ সেজে শেখ হাসিনা যখন বিকট চিৎকার করে- “কোথায় এখন খালেদা জিয়া?” তার ছেলে বাণী দেয়, “জেলখানাই তাদের ঠিকানা”, তখন অনেকের প্রশ্ন- শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় দেয়ার মত কি কোনো বিচারক নাই? শোনা যাচ্ছে, কালকের পরে অনেক আখতারুজ্জামান রেডি হয়ে আছে।
 
একটা গল্প দিয়ে শেষ করি। অষ্টম শতকে আফগানিস্তানের উত্তরে বলখ রাজ্যের বাদশাহ ছিলেন সুফি ইব্রাহিম আদম। তার বাসার এক গৃহ পরিচারিকা বিছানা পরিস্কারের সময় মনে হলো, এত নরম বিছানায় বাদশাহ নিশ্চয় খুব আরামে থাকেন। একটু দেখি কেমন আরাম- বুঝতে পরিচারিকা এক মিনিটের জন্য বিছানায় শুয়ে পড়লেন। বিছানা গুছিয়ে চলে যান। রাতে ঘুমাতে এসে বাদশাহ দেখেন বিছানায় একটি নারী কেশ পড়ে আছে। রাজা ক্ষেপে গিয়ে সবাইকে ডাকলেন। অবশেষ জেরার মুখে ঐ নারী পরিচারিকা স্বীকার করেন বিছানায় শোয়ার কাহিনী। বাদশাহ তাকে জেলে পুরলেন, অনেক প্রহার করার পরে ঐ পরিচারিকা এক বার কাঁদে, তো আবার হাসে। তা দেখে বাদশা প্রহার বন্ধ করতে বলেন। তিনি জানতে চান, তুমি হাসছ কেনো? পরিচারিকা কি বলে- বাদশা নামদার, ভাবছি, আমি এক মিনিট আপনার এ বিছানায় শোয়ার কারনে যে শাস্তি ভোগ করছি, আপনি সারা জীবন এই বিছানায় শুয়েছেন, তার জন্য কত শাস্তি পাবেন। বাদশার বোধোদয় হলো। পরিচারিকার শাস্তি বন্ধ করলেন। আরও অনেক ঘটনার পরে বাদশা ইব্রাহিম আদম রাজত্ব ছেড়ে আধ্যাধিক সাধক হয়ে যান।
 
….এক টাকাও দুর্নীতি না করে খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে লাখ লাখ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং এত মামলায় শেখ হাসিনার কপালে কি আছে?

/বিডি টুডে নেট

Content Protection by DMCA.com

অর্ধেক ব্যাংক দেউলিয়া ঘোষণাকারী আবুল বারকাত নিজেই লুট করেন জনতা ব্যাংক!

Content Protection by DMCA.com

প্রথম আলোর বেলা শেষের গান: এক মেয়াদেই আঙুল ফুলে কলাগাছ আ.লীগের অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি

Content Protection by DMCA.com

৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের টাকা লোপাটের ঘটনায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় তদন্তকারী সংস্থা!

বিশেষ রিপোর্ট :
৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮। ২০১৬ সালের এইদিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড থেকে লুট করা হয় ৮ শ ১০ কোটি টাকা (বৈদেশিক মুদ্রার হিসেবে আট কোটি ১০ লাখ ডলার)। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আটশ ১০ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেলেও ধরাছোয়ার বাইরে ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। শেখ হাসিনার অনিচ্ছাসত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় একটি মামলা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করলেও গত দুই বছরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ড লুটের প্রধান সন্দেহভাজন আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়কে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পায়নি তদন্তকারী কর্মকর্তারা। শুরু থেকেই এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন শেখ হাসিনা, তার ব্যাংক ডাকাত পুত্র জয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর ডক্টর আতিয়ার রহমান। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী ৮ শ ১০ কোটি টাকা লুট হলেও এ ঘটনা ২৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রাখতে সক্ষম হন শেখ হাসিনা। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা লুটের আলামত নষ্ট করতে কাউকে না জানিয়েই গোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার নিরাপত্তার দায়িত্ব তুলে দেয়া হয় ভারতীয় নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু রাকেশ আস্তানার হাতে। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রূয়ারি ফিলিপাইনের দ্যা এনকোয়েরার পত্রিকা এবং একটি টেলিভিশনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাটি নিয়ে ওইদেশে রিপোর্ট প্রকাশ করলে বাংলাদেশেও ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়।

দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে একটি অতি গোপানীয় প্রতিবেদন তৈরী করে। একটি বিশেষ সূত্রে এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের ৮১০ কোটি টাকা লুটে নেয়া হয়। এ ঘটনা সাইবার হ্যাকিং ছিলোনা। এটি ছিল সুইপ্ট কোড ব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় ডিজিটাল উপায়ে ব্যাংক ডাকাতি। অত্যন্ত গোপনীয় এই কোড নাম্বার ছিল হাতে গোনা কয়েকজনের কাছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে এই কোড নাম্বার জানতেন সজীব ওয়াজেদ জয়। ফলে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিয়ার রিজার্ভ লুটের ঘটনা নিজে জানার পরপরই অর্থমন্ত্রী আবুল মালকে না জানিয়ে তিনি প্রথমেই জানান শেখ হাসিনাকে। শেখ হাসিনা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। বরং শেখ হাসিনা এ বিষয়ে ড. আতিয়ারকে চুপ থাকতে বলেন । এমনকি এ বিষয় অর্থমন্ত্রীকে না জানানোর জন্যও বলেন। ঘটনাটির সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয় জড়িত এই য়্যুহাতে এ ব্যাপারে জয়ের নির্দেশনা মতো কাজ করার জন্য ডক্টর আতিয়ারকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা । এরপরই অতি গোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের নিরাপত্তার নামে ব্যাংকের সবচেয়ে স্পর্শকাতর পদে নিয়োগ পায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বন্ধু রাকেশ আস্তানা।

এ ঘটনার তদন্তকারী কতৃপক্ষ সিআইডি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কম্পিউটার অন্যত্র স্থানান্তর বা কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের লিখিত আদেশের প্রয়োজন হয়। কিন্তু লিখিত কোনো আদেশ ছাড়াই সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত ৩০টি কম্পিউটার ওয়ার্ল্ড ইনফরমেটিকস সাইবার সিকিউরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ আস্তানার জিম্মায় দেয়া হয়েছিল । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের দাবি লিখিত আদেশ ছাড়া তার জিম্মায় কম্পিউটার দিতে চাননি। তবে গভর্নর আতিউরের টেলিফোনিক নির্দেশে তারা ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানার কাছে কম্পিউটার হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। অথচ তখনো অর্থমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারাও কম্পিউটার জব্দ করার কারণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকারী ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে জানতেন না।
সিআইডির তদন্ত-সংশ্লিষ্টরামনে করছেনআইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আগে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে অন্য কাউকে সম্পৃক্ত করা আইনসিদ্ধ হয়নি। তারা বলছেন, যেকোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যতক্ষণ না তাদের সার্বিক আলামত সংগ্রহ শেষ হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থানটি থাকবে তাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এ নিয়ম মানা হয়নি। পুরো ঘটনাটি চাপা রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নরের নির্দেশে ভারত থেকে আসা রাকেশ আস্তানার হাতে ছেড়ে দেয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ সব কম্পিউটার। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকাজ চালাচ্ছে সিআইডি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের লোপাটের ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৫ জন কর্মকর্তার জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ করেছিল তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১২০ জন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। তদন্তের প্রায় শেষ পর্যায়ে ব্যাংকের ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সিআইডি নিশ্চিত হয়েছে । তদন্তকারীরা মনে করছেন, ঠান্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পিত উপায়ে পরস্পরের যোগসাজশে বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ডাকাতি করা হয়েছে। তবে ঘটনার আসল রহস্য বের করতে হলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ডক্টর আতিউরকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এদিকে একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে বলে হয়, এ ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে দেশে বিদেশে কয়েকটি জায়গায় খরচ করা হয় প্রায় ১শ ৯১ কোটি টাকা। এর তথ্য প্রমাণ গোয়েন্দা সংস্থার হাতে রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাটির মতে, সূত্রমতে, ২০১৫ সালে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি পাবে (pub) বসে রিজার্ভ লুটের পরিকল্পনা করা হয়। ওই বৈঠকে জয়ের সঙ্গে রাকেশ আস্তানাসহ আরও কমপক্ষে তিনজন ছিলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তারা বারবার এ মামলার অগ্রগতির ব্যাপারে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সর্বশেষ ১৬ জানুয়ারী আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ছিল। কিন্তু সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে আদালত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ ধার্য করেন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারী। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুট মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার তারিখ ২০ বারের মতো পিছিয়েছে।

গত ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, ‘চুরি যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৮শ ১০ কোটি টাকা) মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার”। বাকি টাকা আনার ব্যাপারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিপাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট করে পাঠিয়ে দেয়া হয় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের চারটি অ্যাকাউন্টে। এদিকে, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর রিজাল ব্যাংকের আইনবিষয়ক প্রধান জর্জ দেলা কুয়েস্তা এক বিবৃতিতে বলেন, “নিজেদের অবহেলা আড়াল করে ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের উপর দায় চাপাতে চায় বাংলাদেশ। রিজাল ব্যাংক এ টাকা দিতে বাধ্য নয় ” ।

Content Protection by DMCA.com

মুখ খুলতে যাচ্ছেন জেনারেল আকবর কতৃক নির্যাতিত নারীরা!

বিশেষ প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খোদ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনীতিবিদরা যখন এক এক করে ধরাশায়ী হচ্ছে নির্যাতিত নারীদের আক্রমনে, এর দেখাদেখি বাংলাদেশেও অনেক নির্যাতিত নারীরা মুখ খুলতে যাচ্ছে। কয়েকজন নির্যাতিত নারী একাট্টা হয়েছে সেনাবাহিনীর এক জেনারেলের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানাচ্ছে, নারী নির্যাতনের দায়ে এবার ধরাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন। অবশ্য জেনারেল এরশাদকে থাপড়ানো থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি সিনহার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কাগজে সই নেয়া অবধি বহু রংবাজির কারনে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আছে এই জেনারেল।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ১৩ লংয়ের ব্যাচমেটদের কাছে ‘আকবইর‌্যা’ হিসাবে পরিচিত এই আফিসারটি চীনে কোর্স করতে গিয়ে বাংলাদেশী এক বনেদি পরিবারের মেয়ের সাথে অঘোষিত সংসার করার পরে তাকে মেরে ফেলার ঘটনা সেনাবাহিনীর কলঙ্ক তিলক হয়ে আছে। এরপরে শেখ হাসিনার অধীনে চার বছর ডিজি ডিজিএফআই থাকাকালে শত শত রাজনৈতিক অপহরন, গুম, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে ছিলেন আকবর। মেজর জেনারেল আকবরকে গত মার্চে সাভারের নবম ডিভিশনের জিওসি করে বসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিওসি হয়েও আকবর খুনখারাবি, টাকা কামানোর ধান্দা, মদ ও নারী সঙ্গ ছাড়তে পারেনি আকবর। পদের অপব্যবহার করে নায়িকা সুমাইয়া শিমু, জয়া আহসান, পপি সহ শোবিজ জগতের বহু নারীর ইজ্জত লুটে নিয়েছে ১৮ ঘন্টা মাতাল থাকা আকবর। কয়েকমাস আগে কোলকাতায় গ্রান্ড হোটেলে জয়া আহসানের সাথে আকবরের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। নারী নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চার জন জেনারেলকে নিয়ে তদন্ত চলছে এমন খবরের পরে আকবরের দ্বারা নির্যাতিত নারীরা জোট বেঁধে আগাচ্ছেন।

অবশ্য কেউ কেউ মনে করে আকবরের কিছু হবেনা। কারন সে নাকি শেখ হাসিনার এক্স-বয়ফ্রেন্ড! এ নিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সেই আকবর আর এই আকবর এক ব্যক্তি নয়। যদিও দু’জনেই ডিজি ডিজিএফআই ছিলেন। ঐ সৌভাগ্যবান লেডি কিলার হলেন জেনারেল মোল্লাহ আকবর। যার সম্পর্কে মতিউর রহমান রেন্টু “আমার ফাঁসি চাই” পুস্তকের ২২৯-৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
…………. ‘মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহণযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি।”
অবশ্য, ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রেমিক মৃনাল কান্তি দাস এবং তারও আগে কর্নেল মোল্লা আকবরের সাথে হাসিনার গোপন অভিসারের বহু গোয়েন্দা রিপোর্ট জেনারেল এরশাদের স্টকে জমা আছে।

Content Protection by DMCA.com

ঢাকঢোল পিটিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফ আটক, এবং ইতিহাসে চর্চা

“সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খান”- সুত্রের আবিস্কারক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পার্সোানাল স্টাফ মোতালেব হোসেন ও উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার দেখানোর পরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেফতারের আগে তাদেরকে গুম কায়দায় অপহরন করে র‌্যাব। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দুর্নীতির দায়ে আটক দেখানো হয়। সরকারী সূত্রে খবর প্রকাশ করা হয় শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে দুর্নীতির ঘাঁটি গেড়েছিলেন এই দুই সরকারী কর্মচারী। খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বসে তারা দিব্যি ঘুষের হাট বসিয়ে গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ধরা হয়েছে।

সরকারী কর্মচারীদের দুর্নীতির জন্য মামলা মোকদমা আটক এগুলো রুটিন ব্যাপার। প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করে র‌্যাব ডিজিএফআই সেভাবে কেনো এদের তুলে নিলো র‌্যাব। এর পেছনে কি কেনো কারন আছে। সঠিক কেউ বলতে পারবে না। তবে অতীতের একটা ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে।

১৯৮২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। কাক-ভোর থেকে পুলিশ ঘেরাও করে আছে রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ মন্ত্রিপাড়ায় ৪০ নম্বর বাড়ি। এটি বিচারপতি সাত্তার সরকারের যুবমন্ত্রী আবুল কাশেমের সরকারী বাড়ি। মন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না, তারপরও ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। আশে পাশের মন্ত্রী ও বিচারপতিদের সরকারি বাসভবনের ছাদ, গ্যারেজ, আঙিনায় ও সশস্ত্র পুলিশ। তারা গুলি চালাতে প্রস্তুত। শুধু নির্দেশের অপেক্ষা। হ্যান্ডমাইকে পুলিশের অনবরত ঘোষণা- ‘পুরো বাড়ি পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। কোনোরকম চালাকি না করে সারেন্ডার করুন, নইলে পুলিশ ভিতরে ঢুকে পড়বে।’ কিন্তু কোনো সাড়া-শব্দ নেই। পুলিশ প্রস্তুতি নিল ভিতরে ঢোকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিনের নির্দেশে চলছে অপারেশন। পুরো ঘটনার নেতৃত্বে তৎকালীন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এ এফ এম মাহমুদ আল ফরিদ। সকাল ১০টা থেকে পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি বেড়ে যায়। ওয়াকিটকিও তাদের ভীষণ ব্যস্ত। শীতের সকালেও দরদর করে ঘামছেন কর্মকর্তারা। একজন মন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে কয়েকশ পুলিশের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে গোটা শহরে তখন অজানা আতঙ্ক। মিন্টো রোডে সাধারণের যান চলাচল বন্ধ। আশপাশ এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড়। দুপুরে একদল সশস্ত্র পুলিশ মন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ মন্ত্রীর বাড়ির মূল ফটকের পকেট দরজা খুলে গেল। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেন একজন! ধীর পায়ে। চাদর গায়ে, মুখ অর্ধেক ঢাকা। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। সুনসান নীরবতা। পুলিশের অস্ত্রের নল ঘুরে গেল লোকটির দিকে। পায়ে হেঁটে লোকটি পুলিশের একদম কাছাকাছি। পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে। লোকটি দুই হাত উঁচু করে দাঁড়ালেন। পুলিশ তাকে জাপটে ধরে। লোকটির দুই হাত পেছন দিকে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তাদের ভ্যানে তুলে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখে তখন হাসি। ভ্যানটি চলতে শুরু করল। পুলিশের গাড়ির বহর ভ্যানকে অনুসরণ করল। উৎসুক জনতার উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে পুলিশ বলে, ‘আমাদের অভিযান শেষ। দেশের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ অপরাধী এখন আমাদের কব্জায়।’ দুর্ধর্ষ সেই লোকটি ২২ খুনসহ অসংখ্য গুম ও ডাকাতি মামলার আসামি এমদাদুল হক ইমদু। ইমদু নামেই যিনি বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্ধর্ষ যে কজন অপরাধীর নাম বলা হয়ে থাকে, তাদের অন্যতম এই ইমদু। দেড় বছর পরে সামরিক আইন আদালতের বিচারে ফাঁসি হয়।

একসময় ইমদু জাসদ করতো, পরে ৮০ সালে যুবমন্ত্রী আবুল কাসেমের হাত ধরে ইমদু যু্বদলে যোগদান করে। অন্তত তিনটি সরকারের সময়ে ইমদু সন্ত্রাসের সাথে জড়িত ছিল। ৮১ সালের এপ্রিল মাসে নাখালপাড়া ও কালিগঞ্জে দু’টি হত্যাকন্ডের সাথে ইমদু জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নির্দেশে তখনই তাকে যুবদল থেকে বহিস্কার করেন যুবদল সভাপতি কাসেম।

তবে যুবমন্ত্রীর বাসা থেকে ইমদুকে আটকের ঘটনাটি ছিল নাটকীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক মতিনের সাথে যুবমন্ত্রী কাসেমের ছিল মনোমালিন্য। কাসেম ছিলেন জামালউদ্দিন-হাসানাত গ্রুপের, অন্যদিকে মতিন ছিলেন শাহ আজিজ গ্রুপের। মুলত সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই যুবমন্ত্রী কাসেমের বাড়ি ঘেরাও করে ইমদুকে আটকের ঘটনা ঘটানো হয়। ইমদুর সাথে তখন পুলিশের উর্ধতন মহলে ভালো যোগাযোগ ছিল, সে কোথায় কখন যেতো সব তথ্য পুলিশের কাছে থাকত। তাকে আটক করতে চাইলে যেকোনো যায়গা থেকেই পুলিশ তা করতে পারত। কিন্তু মন্ত্রীর বাসায় ঢুকিয়ে ঘেরাও করে আটক করার পিছনে জড়িত ছিল সেনা গোয়েন্দা সংস্থা। যারা পরে এ বিষয়টিকে রং চং মেখে ফলাও করে পত্র পত্রিকায় প্রচারের ব্যবস্থা করে।

মূলত এই আটকের কারন ছিল বিচারপতি সাত্তারের সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা। এর কয়েকদিন আগেই পত্র পত্রপত্রিকায় একটি বানোয়াট খবর সাপ্লাই করে সেনাগোয়েন্দারা যাতে বলা হয় ১৬ জন মন্ত্রীর দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাত্তার, পরে যার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

বিচারপতি সাত্তার সরকারের বিরুদ্ধে এসব ফুলানো ফাঁপানো সাজানো দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দুর্নামের উপর ভিত্তি করে মাস দু’য়েক পরেই (২৪ মার্চ) রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে বন্দুকের নলের মুখে অপসারন করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

উল্লেখ্য, ঐ একই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেছিলেন শুধু সরকারী কর্মকর্তারই নয়, মন্ত্রিরাও ঘুস খায়, এমনকি তিনি নিজেও! এর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের পদত্যাগের দাবী ওঠে বর্তমান অবৈধ সংসদে। তার কয়েকদিন পরেই মন্ত্রির ব্যক্তিগত স্টাফ আটকের ঘটনা ঘটলো!

Content Protection by DMCA.com

সব কিছু ভেঙে পড়ে : এমনকি প্রিয় সেনাবাহিনীও

বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চলেছে শুদ্ধি অভিযান। এর ফলে বাড়ি গেছে শত শত অফিসার, কারাগারেও আছে অনেকে, এমনকি নিহতও হয়েছে কেউ কেউ। এদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে কল্পিত অভিযোগ- বিএনপি, জামায়াত, পাকি সংযোগ, যুদ্ধাপরাধী, সর্বশেষে ইসলামী জঙ্গি। বছর দুয়েক আগে অপ্রমানিত জঙ্গি অভিযোগে পুলিশের হাতে হাতকড়া অবস্থায় নিহত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদ। আসলে সেটা ছিল আটকের পরে ঠান্ডা মাথায় খুন। রাজনৈতিকভাবে বিরোধী শিবিরের ট্যাগ দিয়ে বহু অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার গ্রেফতার করা হয়েছে, বাড়ি ঘর জমি হারিয়েছেন। জামায়াত পরিবারের সদস্য হওয়ার কারনে ব্রিগেডিয়ার আমান আযমীকে দেড় বছর আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সেনা গোয়েন্দা হেফাজতে গুম করে রাখা হয়েছে। সর্বশেষে তাদেরই হাতে গুম হয়েছেন সাবেক সেনা অফিসার কূটনীতিক ও দুটি দেশে রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মারুফ জামান। জানা গেছে এসব ধরপাকড় গুম, হত্যা ও আটকের পিছনে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এরা রাওয়া ক্লাব, গলফ ক্লাব, সেনা অফিসারদের যাওয়া আসা আছে এমন স্থানগুলোতে ওৎ পেতেনানা তথ্য পাচার করে অফিসারদের জীবন বিপদাপন্ন করে তুলেছে। এরকম একজন ইনফরমার হলো অবসরপ্রাপ্ত মেজর ইউসুফ।

সেনাবাহিনীর ২৮ লং কোর্সের অফিসার ইউসুফ রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে সেনা চাকরি ছাড়ে। ১৯৯৩ সালে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়া এই ইউসুফ প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং ডিজিএফআইর খুব ঘনিষ্ট লোক। এত কনিষ্ট একজন অবসরপাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও মেজর ইউসুফ যখন তখন যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক সিদ্দিকের কাছে। তার আরও দুই ওস্তাদ হচ্ছে নবম পদাতিক ডিভিশিনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন, এবং র‌্যাবে খুন করতে করতে কুখ্যাত হয়ে ওঠা ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান। মেজর ইউসুফ নিজেকে আওয়ামী লীগের গোড়া সমর্থক হিসাবে পরিচয় দেয়। তার লেখা লেখিতে প্রচন্ড উগ্রবাদী। নিজেকে প্রগতিশীল হিসাবে উপস্থাপন করার জন্য শাহাবাগীদের সাথে দহরম মহরম গড়ে তোলে সে। নিজে তার ফেসবুক পেইজে নাস্তিক্যবাদী পোস্ট দিতে থাকে। ইসলাম ধর্ম, রসুল (সাঃ), কোরআন, আল্লাহ নিয়ে সারাক্ষণ যাচ্ছে তাই বানোয়াট সমালোচনা এবং নোংরা কথাবার্তা লিখে প্রচার করতে থাকে ইউসুফ। যদিও বাপ মা তার একটি ইসলামী নাম রেখেছে মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন। কিন্তু সে প্রগতিশীল সাজতে গিয়ে নাস্তিক গ্রুপের সংগে মিশে পুরোপুরি উগ্রবাদী নাস্তিকে পরিণত হয়েছে।

মেজর ইউসুফের ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্ট নিয়ে রাওয়া ক্লাবের টেবিলে আলোচনা হয়। সিনিয়র সদস্যরা ইউসুফকে এসব করতে নিষেধ করে। কিন্তু এর ফল হয় বিপরীত। ইউসুফ ঐসব সিনিয়রকে ডিজিএফআই দিয়ে নানাভাবে হুমকি দেয়- শাসায়। তাকে বোঝাতে গেলে সিনিয়রদেরকে সে গালিগালাজ করে, বাপের বয়সী অফিসারদেরকেও অপমান অপদস্ত করতে দ্বিধা করে না। অনেক সিনিয়ররা মনে করেন, সে অল্প বয়সে অনেক ক্ষমতাধরদের সাথে চলাফেরা করতে গিয়ে হয়ত নিজেকে সামাল দিতে পারছে না, তাই বাড়াবাড়ি করে ফেরছে। অতএব তাকে আরও বোঝানো হোক। কিন্তু তাকে কেউ বোঝাতে গেলেই ঐ সব সিনিয়রদেরকে সে রাজাকার যুদ্ধপরাধী ও সরকারের শত্রু ট্যাগ দিয়ে নিজে পোস্ট দেয়, এবং ডিজিএফআইর কাছে গোপনে কমপ্লেন করতে থাকে। নিকট অতীতে দেখা গেছে, আগেরদিন সন্ধ্যায় রাওয়া ক্লাবে যেসব অফিসাররা ইউসুফকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে, পরের দিন ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনালের আকবর এবং এনএসআইর জিয়াউল আহসান তাদেরকে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যেত। নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। রাওয়া ক্লাবে গল্ফ ক্লাবে বিভিন্ন সামাজিক গেট টুগেদারে পারিবারিক বা একান্ত আলাপে দেশ নিয়ে যে সব কথাবার্তা বলে থাকে, তার অনেকটাই রংচং মেখে ইউসুফ পাচার করে দেয় ডিজি ডিজিএফআইর কাছে। তার তৎপরতার কারনে বহু সিনিয়র অফিসারকে জামাত যুদ্ধাপরাধী ট্যাগ দিয়ে ধমক ও ওয়ার্নিং খেতে হয়েছে। রাওয়া ক্লাবের সকলেই এখন বুঝে গেছে- এসব ইউসুফের কাজ। সিনিয়র অফিসারদের অনেকের প্রশ্ন- মিলিটারি একাডেমীতে ইউসুফকে OLQ (Officers Like Quality) সাবজেক্টটি পড়ানো হয়েছিল কি না। বিশ্বজুড়ে সামরিক অফিসারদের জন্য OLQ একটি অবশ্য পাঠ্য বিষয়, যাতে পড়ানো হয় একজন সেনা অফিসারের ম্যানারস এন্ড এটিকেট, একজন সেনা অফিসার কি কি কাজ করতে পারে, আর কি করতে পারে না।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডিফেন্স এটাশে ব্রিগেডিয়ার জে. এস. নন্দার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ট মেজর ইউসুফ। বিভিন্ন নৈশ পার্টিতে একসাথে খানা পিনাও করে থাকে। তাছাড়া সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও মুন্নী সাহাও ইউসুফের বেশ ঘনিষ্ট। তবে রাওয়া ক্লাবের আলোচনা থেকে যাদের ভারত বিরোধী মনে হয় তার, সে সব অফিসারদের সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার নন্দাকে সে রিপোর্ট করে। বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে অফিসারদের কোনো একাডেমিক আলোচনাকেও রংচং দিয়ে ভারত বিরোধী ট্যাগ দিয়ে সে জানিয়ে দেয়।

জানা গেছে, এইরূপ কোনো আলোচনার সূত্রে ইউসুফের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ডিজিএফআই গুম করে বিএনপির নির্বাহী কমিাটির সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদকে। সাদাতের পিতা বেশ প্রবীণ সেনা অফিসার- রিটায়ার্ড কর্নেল সাহাবুদ্দিন, যিনি পাকিস্তানের সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের কোর্সমেট। সে কারনে বাংলাদেশ আমলের অফিসাররা কর্নেল সাহাবুদ্দিনকে খুব সমীহ করে, পিতার মত চোখে দেখে। তবে পিতা কর্নেল সাহাবুদ্দিনের কারনেই সৈয়দ সাদাত আহমেদকে গুম করে ডিজিএফআই। ইউসুফ রিপোর্ট করে কর্নেল সাহাবুদ্দিন পাকিস্তানের কানেকশন – জামাত – যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি। অধিকাংশ সামরিক অফিসাররা জানেন, এসব কল্পিত অভিযোগ। মুলত কর্নেল সাহাবুদ্দিন একটু আউট স্পোকেন, মুরব্বী, আর এর জন্য খেসারত দিতে হয় তাকে। মেজর ইউসুফ তার নামে রিপোর্ট করায় এবং ছেলে সাদাতকে গুম করায়। অনেক উপরে কাকতি মিনতি করে ৪ মাস চেষ্টার পরে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে পারেন কর্নেল সাহাবুদ্দিন।

রাওয়া ক্লাবের সুত্র জানায়, কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানকেও গুম করা হয় মেজর ইউসুফের রিপোর্টের ভিত্তিতে।

২৬ লং কোর্সের মেজর হাফিজের মালিকানাধীন বনানীতে সি ব্লকের ১১ নম্বর রোডের ৯৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত আওয়ামী মিলিটারি অফিসারদের গুপ্ত সভার নিয়মিত সদস্য মেজর ইউসুফ। এখানেই নিয়মিতভাবে মিলিত হয় মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিক, মেজর জেনারেল আকবর, মেজর জেনারেল ওয়াকার, ব্রিগেডিয়ার শায়েখ, ব্রিগেডিয়ার জিয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার হাফিজ, মেজর ইউসুফ সহ আওয়ামীপন্থী সার্ভিং এবং রিটায়ার্ড অফিসাররা। এখান থেকে ঠিক হয় কোন কোন রাজনীতিক, সিভিল, মিলিটারীকে তুলে আনতে হবে, গুম করতে হবে। দেশের রাজনীতি কোনে দিকে যাবে ও আগামী নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েরে বিভিন্ন খুটিনাটি ও নানা ফন্দি তৈরী করা হয়। এখানকার মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- বর্তমান সরকারের প্রতি বৈরি ১৩৩ জন সামরিক অফিসারকে সাইজ করতে হবে। গত অক্টোবরের মিটিংয়ে রিটায়ার্ড মেজর খন্দকার আবদুল হাফিজ বিএনপি প্রধান বেগম জিয়াকে বেনজির ভুট্টোর মত বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

রিটায়ার্ড মেজর ইউসুফ কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের রেফারেন্স দেয়। শেখ হাসিনাও নাকি তার কথা শোনে, এমন কথা সে প্রায়শই বলে থাকে। ইউসুফ তার পোস্টে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধদের খেতাব কেড়ে নেয়ার দুঃসাহস দেখায়। অথচ পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার বিষয় নিয়ে কথা উঠলে সে নিশ্চুপ হয়ে যায়। বরং এই নিয়ে যারা দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করে, তাদেরকে ভিন্নমতাবলম্বী হিসাবে রিপোর্ট করে। এই হচ্ছে তার সেনাবাহিনীর প্রতি তার দরদের নমুনা। একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘a soldier is a soldier, even after death’. কিন্তু ইউসুফের কর্মকান্ড দেখে তা মনে হয় না, সে সেনা অফিসার ছিল বা তার কোনো ফেলো ফিলিংস আছে। ইউসুফের রোল মডেল হলো- ১৮ ঘন্টা মাতাল জেনারেল আকবর, সিরিয়াল কিলার ব্রিগেডিয়ার জিয়া, সাথী হলো মেজর হাফিজ। হাফিজ-ইউসুফ সন্ধ্যার পরে প্রায়ই মাতাল অবস্খায় থাকে, কখনও উন্মত্ত হয়ে অনেকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকে।

রিটায়ার্ড মেজর ইউসুফ উল্টাসিধা গোয়েন্দা রিপোর্ট করে কেবল অফিসারদের ক্ষতি করছে না, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও ভুলপথে চালিত করছে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যাদি পাচার করছে পরদেশের কাছে। শ্যামল দত্ত এবং মুন্নী সাহার কাছে সেনাবাহিনীর ক্লাসিফাইড ইনফরমেশন শেয়ার করে সেনাবাহিনীকে অরক্ষিত করে দিচ্ছে। এসকল কাজ পরিস্কার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। এত জুনিয়ার এক অফিসার প্রতিনিয়ত এভাবে বেআদবী করছে, সবাইকে টেররাইজ করে যাচ্ছে তাকে নিয়ে সেনা অফিসাররা সদস্যরা ভীষন অতিষ্ট। রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Content Protection by DMCA.com

“It’s a DGFI Work”

 

“কাজটা ডিজিএফআই করেছে”- মারুফ জামান গুম হওয়া প্রসঙ্গে বললেন একজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ঢাকা থেকে গুম হয়েছেন গত সোমবার সন্ধায়।মেয়েকে আনতে সাড়ে ৬টার দিকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে নিজে ড্রাইভ করে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। পথিমধ্যে তার গাড়ির গতিরোধ করে ডিজিএফআইর কয়েক সদস্য। অস্ত্রের মুখে তাকে গাড়ি থেকে টেটে হিচড়ে ওঠায় মাইক্রোবাসে। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় দু’টি অজ্ঞাত নম্বর (একটি ০০০১২৩৪৫৬, অপরটি পি) থেকে ল্যান্ড ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে মারুফ জামান নিজেই তার কাজের লোককে বলেন, কয়েকজন লোক যাবে বাসায়। তাদের ল্যাপটপ সহ আর যা যা নিতে চায় নিতে দিও। য়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর তিনজন সুঠামদেহী লোক মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঢুকে পড়ে বাসায়। এসে মারুফ জামানের ব্যবহার্য কম্পিউটারের সিপিইউ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে চলে যায়। এছাড়া বাসার আর কোনো কিছুই তারা নেয়নি।

এদিকে বেলজিয়াম থেকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাবার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে সামিহা জামান। কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এবং বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় উবারে করে বাসায় ফেরেন। বাসায় এসে এম মারুফ জামানকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর অপেক্ষার পর মারুফ জামানের কোন খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন তার মেয়ে সামিহা জামান। মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (৬ষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এদিকে মারুফ জামান অপহৃত হওয়ার পরেই সংস্থার লোকেরাই পুলিশকে জানিয়ে দেয় বসুন্ধরা তিনশ’ ফুট রাস্তার পাশ থেকে গাড়িটি নিয়ে যেতে। অক্ষত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনে মারুফ জামানের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী স্থান কাওলায়।

মারুফ জামান গুম হওয়ার পরে পরিবারের লোকেদের দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও গোয়েন্দারা নানান নাটক কেরে যাচ্ছে। বাাস্তব ঘটনা সবই তারা জানে। তারপরও ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতকে খুঁজে পেতে সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নম্বরবিহীন ফোন থেকে ল্যান্ডফোনে মারুফ জামানের ফোন করিয়ে সুঠামদেহী তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মুলত, মারুফ জামানকে আটক করা হয় সরকার বিরোধী বা সরকার পতনের কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে। জানা গেছে, এই কূটনীতিক কোনো দলের পক্ষে বিপক্ষে তেমন কিছু করেন না। বরং কিছু আগে তাঁর স্ত্রী এবং তারও আগে পিতা মারা যাওয়ার পরে তিনি একাকীত্বে ভুগছিলেন। কখন কখনও একটু বেশি কথাবার্তা বলে থাকেন, যা অনেকের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। বাস্তবে তিনি একজন নির্বিষ মানুষ। তবে একজন ক্যারিয়ার রাষ্ট্রদূতকে এভাবে অপহরন ও গুম করায় সচিবালয়ে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় কর্মকর্তারা সাংঘাতিক বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ। অন্যদিকে ঢাকার ও বিদেশে বাংলাদেশী কূটনীতিক মহলে হতাশা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বললেন, It’s a DGFI Work and it’s Rubbish!

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4