পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

।।দেবাশীষ সরকার  মওদুদ রহমান।।

সংকটের ফাঁদে ফেলে সমাধানের নামে আজকাল এমন সব প্রকল্প করা হচ্ছে যেগুলো হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের বিষফোঁড়া। যানজট নিরসনের নাম করে বিশ্বে খরচের রেকর্ড সৃষ্টি করা ভুল নকশার ফ্লাইওভারগুলো জানান দিচ্ছে যে আমাদের প্রশ্ন না করার প্রবণতা, সবকিছু মাথা পেতে মেনে নেবার মানসিকতা ভবিষ্যতের ক্ষতির বোঝা দিনে দিনে ভারী করে তুলছে। ঠিক এমনিভাবে করে ফেলা হচ্ছে রূপপুর ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সরকারী মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে স্থাপন করা হবে মোট ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে রেন্টাল, কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টোটকা যে কাজে আসেনি তা সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা থেকে ভালভাবেই বোঝা যায়।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট যতটা না পুরনো, উৎপাদন মাধ্যম হিসেবে পারমাণবিক প্রযুক্তিকেন্দ্রিক পরিকল্পনা তার চেয়েও বেশী পুরনো যা শুরু হয়েছে গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে।  এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাশ্রয়ী-পরিবেশবান্ধব নানা উপায় উদ্ভাবিত হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে একগুঁয়েমি শেষ হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার ঋণচুক্তি হয়েছে, ভারতের সাথে হয়েছে যন্ত্রপাতি আমদানীর সমঝোতা। বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের মধ্যেই নাকি সম্পন্ন হবে রূপপুর কেন্দ্রের কাজ।

দুর্ঘটনার ইতিহাস বনাম উন্নত প্রযুক্তি
থ্রী মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা, চেরনোবিল দুর্ঘটনা, ফুকুশিমা দুর্ঘটনার মত একের পর এক অভিশপ্ত ঘটনায় সাধারণ মানুষ যখন আতংকগ্রস্ত তখন আমাদেরকে বোঝানো হচ্ছে- রূপপুরে নাকি বসানো হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বোয়িং বিমান এর উপর বিদ্ধস্ত হলেও নাকি এ কেন্দ্রের কোন ক্ষতি হবে না! কিন্তু প্রযুক্তি নিয়ে এই আস্ফালন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবসা প্রসারে নানান ধরণের ছলা-কলায় ভুলানোর প্রবণতা নতুন কিছু নয়। ষাটের দশকে এই রূপপুরেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রিঅ্যাক্টরের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় (containment building) ছাড়াই ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল রাশিয়া। নিরাপত্তা ব্যুহের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তখনও দম্ভভরে জানিয়েছিল যে, তাদের রিঅ্যাক্টর ডিজাইনে নাকি কোন খুঁত নেই, তাই এর চারপাশে ব্যুহ তৈরীর প্রয়োজন নেই। অথচ এর কিছু কাল পরেই ১৯৮৬ সালে তাদের নিজেদের কেন্দ্রেই ঘটে চেরনোবিল দুর্ঘটনা যাতে নিরাপত্তা ব্যুহ না থাকার কারণে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে (Matin, 2012) ।   

যে চেরনোবিল দুর্ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে চেরনোবিল এইডস, চেরনোবিল পা, চেরনোবিল হৃদপিন্ড, চেরনোবিল থাইরয়েড, চেরনোবিল স্মৃতিবিভ্রাট নামের নানান রোগের জন্ম দিল সে দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)  এবং  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক প্রণীত ‘দ্য চেরনোবিল ফোরাম’ রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা দেখানো হয় মাত্র ৯ হাজার। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় একটি দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এত ছোট! এর কারণ কী?

এর কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমত, এই রিপোর্টে সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর জন্য পৃথিবীব্যাপী গবেষণালব্ধ এবং বহুল প্রচারিত ৩০ হাজার প্রকাশনার মধ্যে বাছাই করা মাত্র ৩৫০ টি গবেষণা প্রবন্ধ অবলম্বন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, WHO এবং IAEA, World Health Assembly এর ৩ নং আর্টিক্যাল অনুসারে একে অপরের স্বার্থ রক্ষা করে চলে। ৩ নং আর্টিক্যালের প্রথম প্যারায় বলা আছে, IAEA এবং WHO মনে করে যে পরস্পরের স্বার্থে তথ্য গোপনীয়তা প্রয়োজন (IAEA/WHO agreement (WHA 12.40))। যে সংস্থার কাজ হচ্ছে পরমাণু প্রকল্পের নিরাপত্তা দেখভাল করা সে সংস্থাই দুর্ঘটনা পরবর্তী বিভিন্ন গবেষণায় যাতে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসতে না পারে সে জন্য নানান ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে রেখেছে। এতে নিশ্চিত বোঝা যায় প্রকৃত ক্ষতির প্রকাশ পরমাণু বিদ্যুতের প্রসারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বিধায় IAEA’র স্বার্থে চেরনোবিল দুর্ঘটনার ক্ষতি কমিয়ে দেখানো হয়েছে এবং সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। অতএব রূপপুর প্রকল্পে জালিয়াত IAEA’র বিভিন্ন শর্ত এবং তদারকি যে নিতান্তই লোক দেখানো তাতে কোন সন্দেহ নেই।      

তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব কী?
এ প্রসঙ্গে ২০০০ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন সেক্রেটারী জেনারেল কফি আনান জানিয়ে ছিলেন, “চেরনোবিল এমন একটি শব্দ যা আমরা আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চাই। কিন্তু এ ঘটনার শিকার ৭০ লক্ষেরও বেশী মানুষ কখনোই এটি ভুলতে পারবে না। প্রকৃত সংখ্যা কখনোই জানা যাবে না। কিন্তু ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩০ লক্ষ শিশুর নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বাধাগ্রস্ত হবে। অনেকেই অকাল মৃত্যু বরণ করবে।”

দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র মিথ্যার চাদরে আড়াল করার প্রবণতা, নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংবাদ প্রচারে বাধা দেয়া সহ নানান ভাবে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) চেষ্টা করেছে বিশ্ববাসীকে যতটা কম জানতে দেয়া যায়। এ কারণেই দুর্ঘটনার প্রথম দিনেই চেরনোবিল স্বাস্থ্যতথ্য জনসম্মুখে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় যা বহাল থাকে ১৯৮৯ সালের ২৩ শে মে পর্যন্ত। এই তিন বছরে অগণিত মানুষ লিউকোমিয়ায় মারা যায় যা কাউকে জানতে দেয়া হয়নি। দুর্ঘটনার আট বছরেও দূষণ প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরকারীভাবে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি। অতএব রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস, জ্বালানী সরবরাহের অঙ্গীকার, রাসায়নিক বর্জ্য নিয়ে যাবার আশ্বাস – এ সবই যে ব্যবসায়িক কূট কৌশলের অংশ তা বুঝতে আর বাকি নেই। অন্তত অতীত ইতিহাসের ঘটনা পরম্পরা তাই বলে। 

একটা উদাহরণ দিলেই রাশিয়ার তথ্য গোপনের জালিয়াতি আরো পরিষ্কার হবেঃ
চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট মিনিষ্টার সিচেপিনের ১৯৮৬ সালের ২১ শে মে পাঠানো চিঠিতে এই বলে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তেজস্ক্রিয়তায় অসুস্থ হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হবে, হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় যদি প্রকট তেজস্ক্রিয়তার কোন লক্ষণ না থাকে তবে অসুস্থতার কারণ হিসেবে সাধারণ স্মৃতিবিভ্রাট (vegetovascular dystonia) লিপিবদ্ধ করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ হিসাবের বাইরেই থেকে যায়।   

১৯৮৬ থেকে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালের প্রজন্মকে বলা হয় চেরনোবিল প্রজন্ম যার উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে এই চেরনোবিল প্রজন্মের কতজন শুধুমাত্র তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সারে মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে  সেটির পরিসংখ্যান তুলে ধরা হল।   

ছকঃ চেরনোবিল দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা জনিত ক্যান্সারে চেরনোবিল প্রজন্মের সাম্ভাব্য মৃত্যু (Malko, 2007)

তেজস্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় কখনো কখনো বাতাস-পানি বা পরিযায়ী প্রানী বাহিত হয়ে সেকেন্ডারী পর্যায়ের সংক্রমণে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একারণেই বিকলাঙ্গতা, মানসিক অপরিপক্কতা, বয়োবৃদ্ধি সহ মারাত্মক সব উপসর্গ প্রজন্মান্তরে ছড়াতে থাকে। এই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সমগ্র জীবজগতে। প্রকৃতিতে এর পরিবর্তন কৃষির মাধ্যমে ফুটে ওঠে তীব্রভাবে। অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কারণে বেলারুশে ২৬৫,০০০ হেক্টর, ইউক্রেনে ১৩০,০০০ হেক্টর এবং রাশিয়ায় ১৭,০০০ হেক্টর কৃষিজমি ইতোমধ্যেই চাষাবাদের অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে (Aleksakhin et al., 2006) ।

অনেকেই ভাবতে পারেন যে, সদ্য ঘটে যাওয়া ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির আপাত স্বল্প ক্ষতি উল্লেখ না করে আশির দশকে ঘটা চেরনোবিল দুর্ঘটনার ভয়াবহ পরিণতির কথা তুলে ধরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভয় ধরানোই বোধহয় এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

অন্যান্য দুর্ঘটনার মত তাৎক্ষণিক মৃতদেহ গণনা করে পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকটতা পরিমাপ করা যায় না। জাতীয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক নানান দিকে এর প্রভাব ফুটে ওঠে ধীরে ধীরে। যেমন, ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির পর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তহুকো’র উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের ৭০-৮০ ভাগ বাজার চলে যায় চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দখলে। এমনকি তেজস্ক্রিয়তার কারণে দুর্ঘটনা অঞ্চলের ৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী কায়াসু কোম্পানীর উৎপাদিত দ্রব্যের বিক্রি কমে যায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ এর জুন মাসে ওই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জাপানের প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী মিশিও কাকু জানান, ফুকুশিমা দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নেই লাগবে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ বছর। তাই ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির প্রকৃত ক্ষতির ন্যূনতম ধারণা পেতেও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দশক।  জাপান সরকার ইতোমধ্যেই ফুকুশিমা পারমাণবিক চুল্লী সম্পূর্ণ তেজস্ক্রিয়তা প্রভাব মুক্ত করতে ১৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫ লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে। (রয়টার্স, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬)।  

তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তিই শেষ কথা?
সকলের শঙ্কা দূর করতে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে যে, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে অতি আধুনিক ‘থার্ড জেনারেশন প্লাস’ (জেন-থ্রি) ঘরানার প্রযুক্তি। প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের এই স্লোগানটি বাংলাদেশ সরকারও এমনভাবে আপন করে নিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে যে, ‘জেন-থ্রি প্লাস’ হচ্ছে সব মুশকিলের সমাধান! সিগারেটের বাজার প্রসারের দায়িত্ব কোন বিজ্ঞাপনী সংস্থা পেলে যে রংচঙা প্রচার হয় বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও সেই ধরণের প্রচার শুরু হয়েছে। তাই বুদ্ধিহীন প্রচারে রয়ে যাওয়া ফাঁকগুলো তাদের রঙ্গিন চশমায় ধরা পড়ছে না।  

পারমাণবিক বিদ্যুতের দুর্ঘটনার শঙ্কার কথা তুললেই যুক্তিতে জিততে কূপমণ্ডূকেরা বলে বসে যে, বাস, লঞ্চ, প্লেন এগুলিতেও তো দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু যখন পাল্টা প্রশ্ন করা হয় যে, পারমাণবিক আপদ ছাড়া অন্য আরেকটা আপদের নাম বলুন যেখানে বিপদের নিশ্চিত শঙ্কা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়ায়, তখন উনাদের মুখে রা সরে না। উনারা এটা বুঝেও চেপে যান যে, নিউক্লিয়ার বিপর্যয় ঘটলে সরাসরি এর সাথে সংযুক্ত মানুষেরই যে কেবল বিপদ হয় তা’না (যেমনটা হয় কয়লা খনির দুর্ঘটনার কিংবা প্লেন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে), বরং এর ফলে বিপদে পড়ে এরকম হাজার হাজার মানুষ যাদের নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং সুবিধাভোগের সাথে কোন সম্পর্কই নেই।

জ্বালানী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশে এটি আমদানী করার কথা বলা হলেও পারমাণবিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও ভারত কিংবা পাকিস্তানের নড়বড়ে অবস্থার কথা আমাদের নীতিনির্ধারকেরা ভুলে থাকতে চাইছেন। ১৯৬৯ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহারের যুগে প্রবেশ করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে < http://www.world-nuclear.org>। অথচ কেবল এক যুগ আগে শুরু করা সৌর বিদ্যুতের বর্তমান সক্ষমতা ভারতে এখন ১২ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০২২ সালের মধ্যে তা ১ লক্ষ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  

পারমাণবিক বিদ্যুতের পূজারিরা এটাও ভুলে থাকতে চাইছেন যে, শুধুমাত্র উৎপাদন খরচ হিসেবে এটি সাশ্রয়ী হলেও বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত ব্যয় আর ইনসুরেন্স খরচ মিলিয়ে এটি আর সাশ্রয়ী থাকে না। তাইতো এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি) এবং ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’র গবেষণাতেও পরমাণু বিদ্যুৎ সবচেয়ে খরুচে হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে (Rahman et al., 2011)। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে “পোস্ট ফুকুশিমা স্ট্যান্ডার্ড” অথাৎ ফুকুশিমা দুর্ঘটনা পরবর্তী মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু কে না জানে যে রূপপুরে সামান্য কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই বাজারে চলে আসবে “পোস্ট রূপপুর স্ট্যান্ডার্ড” প্রযুক্তি। দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি যখন ফুকুশিমা ট্রাজেডি ঠেকাতে পারে না তখনই আরো আধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি বাজারে আসে আর ঠিক সে সময়ই ল্যাবরেটরীতে প্রস্তুত হতে থাকে চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি। প্রযুক্তির আধুনিকায়নে এটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আধুনিকায়নের এ সূত্র পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ পারমাণবিক দুর্ঘটনায় যে বিকিরত কণা ছড়ায় তা ঢুকে পড়ে আমাদের শরীরে, খাবারের মাধ্যমে এসে পড়ে আমাদের খাদ্যশৃংখলে, মাটি-পানি-বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে থাকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে। জীনগত পরিবর্তন কিংবা ক্রমোজোমাল পরিবর্তনে এটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। এর ক্রমবর্ধমান প্রকটতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত কিন্তু পরিণতি নিয়ে এখনও সন্দিহান। তাই যে পারমাণবিক ব্যবস্থার ত্রুটির পরিণতিই এখনও ধরা পড়েনি সে ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কথা বলে রূপপুর প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা নিতান্তই হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

পরমাণু বিদ্যুৎ কি সস্তা?
বাণিজ্যিক উৎপাদনের শুরুর দিককার পর্যবেক্ষণ থেকে যে কোন প্রযুক্তির ভবিষ্যতের গতি প্রকৃতির একটা সাধারণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক পারমাণবিক চুল্লীর অধিকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ৭৫ টি চুল্লীর নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয় যার প্রতিটির খরচ প্রকল্পের শুরুতে ধার্য করা খরচের চেয়ে গড়ে শেষ পর্যন্ত ৩০০ শতাংশ বেড়ে যায়। সেই ধারা যে এখনও অব্যাহত আছে তা বোঝা যায় ফ্রান্সের ফ্লামেনভিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের দিকে তাকালে। ২০০৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া ১,৫৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজে প্রারম্ভিক ব্যায় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো। ২০১২ সালের মধ্যেই প্রকল্প কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা ধাপে খরচ বাড়িয়ে এখন বলা হচ্ছে এটি নির্মাণে খরচ হবে ১০.৫ বিলিয়ন ইউরো আর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালে। অপরদিকে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সকল প্রকার ভর্তুকি খরচ ব্যতীতই প্রতি  ইউনিটে দাম কমেছে যথাক্রমে ৮২% এবং ৬১% (LAZARD LCOE Analysis, 2015)। আর খরচের সেই অব্যাহত নিন্মগামী ধারাতেই ভারতে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ এখন সাড়ে তিন টাকারও কম মূল্যে উৎপাদিত হচ্ছে < http://www.mnre.gov.in/ >। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনী মাধ্যমে খরচ কমছে আর পারমাণবিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা কেবলই বাড়ছে। তাইতো ‘ফিক্সড কস্ট’ মডেলের পরিবর্তে রাশিয়ার সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি হয়েছে ‘কস্ট প্লাস’ মডেলে। এর ফলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান খরচের অংক দফায় দফায় বাড়িয়ে নিতে পারবে।  ঠিক একই প্রক্রিয়ায় কাজ শুরুর আগেই রূপপুর প্রকল্পের কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা হয়েছে । আবার রূপপুরে ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে নৌপথ তৈরীতে ড্রেজিংয়ের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ৯৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প (ইত্তেফাক, ১ আগস্ট, ২০১৭)। এই অনিঃশেষ খরচের পারমাণবিক বিদ্যুৎ বড় আকারে যুক্ত করায় আসছে দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সিংহভাগ বরাদ্দের ঢল কোন দিকে যাবে তা বেশ ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

এরই মাঝে বিভিন্ন খাতের বাজেট বরাদ্দ নানান কায়দায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এনে জড়ো করা হচ্ছে। উদারহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে পূর্ববর্তী বাজেটের তুলনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ৫ গুণেরও বেশী বরাদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই বাজেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তৈরী হয়নি। বরং প্রকৃত খরচ কম দেখাতে বিদ্যুৎ খাতে না দেখিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এই বরাদ্দ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (সর্বজনকথা, ৩য় বষ, ৪র্থ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩৮)।    

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলিত ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১১.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাশিয়া থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। এই ঋণ পরিশোধ করার সময়কাল ২৮ বছর এবং ঋণের সুদ দিতে হবে ১.৭৫% +LIBOR রেট (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফারড রেট)। সর্বোচ্চ সুদের হার ৪%। অর্থাৎ যদি ধরেও নেই যে প্রাক্কলিত খরচ আর বাড়বে না, এরপরও এই ২,৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে খরচ করতে হবে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা। ডিকমিশনিং খরচ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত খরচ বাদ দিয়েই প্রতি হাজার মেগাওয়াটে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ৬০ হাজার কোটি টাকা, সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কী করে সস্তা বলা যায়? উল্লেখ্য যে, প্রতি হাজার মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের নিশ্চিত বাজারের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। দীর্ঘ সময়ের জন্য নানা চুক্তিতে বাধা পড়ে যাওয়ায় এই বিদ্যুৎ অল্প সময়ের মধ্যেই গলার কাঁটা হিসেবে প্রমাণিত হলেও তা হতে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। তখন নানা উপায়ে রাষ্ট্রীয় খরচে চলা শুরু করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের মূল্য হিসাবের বাইরেই থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করা যায়। ষাটের দশক থেকে ব্যবহার শুরু করে যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৫টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন চুল্লী চালু আছে।  ৮টি পারমাণবিক চুল্লী পরিচালনা আর বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ‘ব্রিটিশ এনার্জী’ ১৯৯৫ সালে নিবন্ধন লাভ করে। পরের বছরই এটিকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। মাত্র ৭ বছরের মাথায় এই কোম্পানী চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগীতা চায়। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ সরকার কোম্পানীটিকে ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের (২০১৭ এর দামস্তর অনুসারে প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা) ‘বেইল আউট’ সুবিধা প্রদান করে এবং এর সমস্ত দেনা পরিশোধের দায়িত্ব নেয় (দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৪)। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্জ্য পরিশোধন ও নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদান আয়োজন চলে ‘সেলাফিল্ড নিউক্লিয়ার কমপ্লেক্সে’। এই কেন্দ্রটি চালাতে বছরে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৩৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চালু থাকা পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিজ নিজ আয়ু শেষে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে কমপক্ষে ৭৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা সাড়ে ৮ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে (http://www.i-sis.org.uk)। এই সকল খরচের ভার কোন কোম্পানী কিংবা ইন্সুরেন্স পলিসি বহন করে না। রাষ্ট্রের তহবিল হতে ব্যয় করা এই সকল খরচ যদি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের সাথে যুক্ত করে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হয় তবে এই বিদ্যুতের মূল্য নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। এক্ষেত্রে তাই চলতে থাকে নানান ধরণের অপ্রত্যক্ষ আয়োজন আর আইনের মারপ্যাঁচ। যেমন, ভারতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রণয়ন করা আইন (রাইট টু ইনফরমেশন) থাকলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট খাতে কী পরিমান ব্যয় করা হচ্ছে তা এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে।

এ সকল কারণেই নীতি-নির্ধারণী মহল যখন রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ান প্রযুক্তি আমদানীর গর্বে খুশীতে আত্মহারা তখন পারমাণবিক বিদ্যুতের কদর্য রূপ, অথনৈতিক ক্ষতির বোঝা আর তথ্য গোপনের সংস্কৃতিতে আমাদের সামনে শুধুই আসন্ন সংকটের কালো ছায়া। অথচ পরমাণু প্রযুক্তি শিক্ষা, উন্নয়ন, গবেষণায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতের কৃষি, চিকিৎসা এমনকি বিদ্যুৎ খাতেও বাংলাদেশ পেতে পারতো শক্ত ভিত্তি।

কুদানকুলাম কেলেঙ্কারি আর প্রযুক্তি ব্যবসার ধান্ধাবাজি
ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্বশেষ সংযোজন কুদানকুলামের ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর  দ্বিতীয় চুল্লী উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে।  এই সদ্য নির্মিত কুদানকুলাম পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণে যুক্ত ছিল রাশিয়ার কোম্পানী ‘অ্যাটোমোক্সপোর্ট’ যেটি এখন বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্বে আছে। নিন্মমাণের যন্ত্রপাতি, উচ্চ ক্ষমতার কথা বলে নিন্ম ক্ষমতার যন্ত্রাংশ গছিয়ে দেয়া, নির্মাণ কাজ ছয় বছর দেরীতে শেষ করার মত কাজগুলো কুদানকুলামের ক্ষেত্রে এই রাশিয়ান কোম্পানী করে গেছে বিনা বাঁধায়। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে থার্ড জেনারেশন (জেন-৩) প্রযুক্তি। এই কেন্দ্র নিমাণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে ছিল রাশিয়ান কোম্পানীর মারাত্নক সব ত্রুটি আর গাফিলতি।

>পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬০০ টন ওজন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পোলার ক্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা ‘সেফটি গ্রেড ইক্যুপমেন্ট’ এর আওতাভুক্ত। চুল্লী দালানের অভ্যন্তরে অতি মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা সম্পন্ন সকল কিছু স্থাপন, অপসারণ করতে এই পোলার ক্রেন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান  অ্যাটোমোক্সপোর্ট কুদানকুলামে যে পোলার ক্রেন সরবরাহ করে তা পরীক্ষা করে দেখা যায় যে গায়ে লেখা ক্ষমতার (নেমপ্লেট ক্যাপাসিটি) চেয়ে সেটির ওজন ধারণ ক্ষমতা ২০% কম। (Padmanabhan et al,  2013)। এই জোচ্চুরি ধরা পড়ার পরও ঐ নিন্ম ক্ষমতার পোলার ক্রেনটিই সেখানে বসানো হয়।

>রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা RPV এর অভ্যন্তরে তেজস্কিয় বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি পরিবর্তনযোগ্য নয় বিধায় এটির আয়ু দিয়েই পারমাণবিক চুল্লীর আয়ু নির্ধারিত হয়। এটির নীচের অংশ সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল অংশ তাই ঝালাইবিহীনভাবে নির্মাণ করা হয় এবং কুদানকুলামের নির্মাণ চুক্তির ক্ষেত্রেও ঝালাইবিহীন  RPV সরবরাহের কথা ছিল। চুক্তিতে এটির দুর্ঘটনা ঘটার মাত্রা থাকার ছিল ১ কোটিতে একটি (Core damage frequency)।  কিন্তু ভারতের পরমাণু শক্তি সংস্থা অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পায় যে RPV’র দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দুইটি ঝালাই রয়েছে যার ফলে কুদানকুলাম কেন্দ্রে এখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেড়ে গেছে। অবশ্য  পরমাণু শক্তি সংস্থার এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন ৩ বছর গোপন রাখা হয়। (Padmanabhan et al,  2013)।  

>২০০৭ সালে প্রতিটি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ট্রান্সফরমার রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা হয় যা পরবর্তীতে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে সনাক্ত করা হয়। এটির জটিল মেরামত কাজের দায়িত্ব ভারতের কোন কোম্পানী নিতে চায় নি। এর ফলে Larsen and Toubro ‘র সরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদনে গোপন করে রাখা হয়।

>Ziopodolk, Informtekh and Atommash  এই তিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দেয়া কোম্পানীর সিইও’ই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে জেলে গেছে। কুদানকুলামে যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দেয়ার কাজেও এদের যুক্ততা ছিল। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অ্যাটোমোক্সপোর্ট’এর প্রধান এবং কুদানকুলামে যন্ত্রাংশ সরবরাহের প্রধান ঠিকাদারী কোম্পানী OMZ এর সিইও’র দায়িত্ব পালনকারী কাহা বেন্ডুকিজ এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করে বলেন যে চীন, ভারত এবং ইরানের মত দেশগুলোতে যন্ত্রাংশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানের চেয়ে দাম এবং রাজনীতি প্রাধান্য পায়।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভারতে গত চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক গবেষণা হচ্ছে। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবিত প্রযুক্তি রয়েছে। কারিগরী এবং প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ে বিস্তর চর্চা আছে। এর ফলে যে নিজস্ব জনবল গড়ে উঠেছে তার মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকি, নির্মাণকাজের ত্রুটি এবং নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবহারের বিষয়গুলো সেখানে ধরে ফেলা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজস্ব জনবল তৈরী না করে, গবেষণা আর চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি না করে বিদেশী কোম্পানীর কাঁধে যে লাভের আশায় সওয়ার হয়েছে তাতে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবেই গুড়েবালি পড়বে।       

রূপপুরে ৭  মাত্রার কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ। এই ৫০ লক্ষ জন হয়তো শাসকগোষ্ঠীর কাছে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ ভাগ। তাই বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার ধোয়া তুলে ক্ষুদ্রতর এই ৩ ভাগের বলি দিতে নীতিনির্ধারকেরা হয়তো কুন্ঠা বোধ করবেন না। কিন্তু জীবনকে  যারা সংখ্যা দিয়ে বিচার করেন, প্রযুক্তিকে যারা অন্ধভাবে পূজা করেন তাদের অজ্ঞতার বলি হবে প্রাণ, ধ্বংস হবে সামাজিক আর অর্থনৈতিক অবকাঠামো- এটা মেনে নেয়া যায় না। 
————————————————————————-

দেবাশীষ সরকারঃ প্রকৌশলী, পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিষয়ক গবেষক, হেলমহোলটজ জেন্ট্রুম ড্রেসডেন রসেন্ড্রফ, জার্মানি। ইমেইলঃ [email protected]

মওদুদ রহমানঃ প্রকৌশলী, জ্বালানি বিষয়ক গবেষক। ইমেইলঃ [email protected]

তথ্যসূত্রঃ

AP (2000). Worst effects of Chernobyl to come. Associated Press 25 April 2000 (//www.209.85.135.104/search?q=cache:EN91goYTe_gJ: 
www.scorched3d.co.uk/phpBB3/viewtopic.php%3Ff%3D12%26t%3D5256%26st%3D0%26sk%3Dt%26sd%3Da+Kofi+Annan+million+children+demanding+treatment+Chernobyl+2016&hl=ru&ct&equals;clnk&cd&equals;18&gl&equals;ru).

Aleksakhin, R. M., Bagdevich, I. M., Fesenko, S. V., Sanzheva, N. I., Ageets, V. Yu. & Kashparov, V.A. (2006). Role of protective measures in rehabilitation of contaminated territories. International Conference. Chernobyl 20 Years After: Strategy for Recovering and Sustainable Development of Affected Territories. April 19–21, 2006, Minsk, Belarus (Materials, Minsk): pp. 103–108. 

Alexey V. Y., Vassily B. N., Alexey V. N. (2009), Chernobyl: Consequences of the Catastrophe for People and the Environment

Khudoley V. V., Blokov I. P., Sadovnichik T. & Bysaro, S. (2006). Attempt to estimate the consequences of Chernobyl catastrophe for population living in the radiation-contaminated territories of Russia. In: Blokov, I. P. (Ed.), Consequences of the Chernobyl Accident: Estimation and Prognosis of Additional Mortality and Cancer Diseases (Center for Independent Environmental Assessment, Greenpeace-Russia, Moscow): pp. 3–19. 

RADNET (2008). Information about source points of anthropogenic radioactivity: A Freedom of Nuclear Information Resource. The Davidson Museum, Center for Biological Monitoring (//www.davistownmuseum.org/cbm/Rad12.html)

Rahman D., Riasad A., Sakhawat N. & Zubaer C. (2011). A Study On Nuclear Energy: Sustainable

Solution For Ensuring Energy Security Or Emerging Future Threat, International Journal on Current Research & Review, pp. 6-14. 

Malko, M. V. (2007). Assessment of Chernobyl medical consequences accident. In: Blokov, I., Sadownichik,T., Labunska, I. & Volkov, I. (Eds.), The Health Effects on the Human Victims of the Chernobyl Catastrophe (Greenpeace International, Amsterdam): pp. 194– 235.

Matin A. (2012), Rooppur & The Power Crisis

WHO (1959). Resolution World Health Assembly. Rez WHA 12–40, Art. 3, §1(//www.resosol.org/InfoNuc/IN_DI.OMS_AIEA.htm).

Letter of the USSR’s First Deputy Minister of Public Health O. Shchepin, May 21, 1986, # 02–6/83–6 to Ukrainian Ministry of Public Health (cit. by V. Boreiko, 1996, pp. 123–124).

Padmanabhan et al., Counterfeit/obsolete Equipment and Nuclear Safety issues of VVER-1000 Reactors at Kudankulam, India, 2013

Content Protection by DMCA.com

বি চৌধুরি পুত্রের আমেরিকাতে ৬ আলিশান বাড়ি, ১০ একর জমি সহ অঢেল সম্পদের সন্ধান!

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে নানাভাবে আলোচিত সমালোচিত মাহি বি চৌধুরির অঢেল সহায় সম্পদের সন্ধান মিলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

চলতি জাতীয় নির্বাচনকে টার্গেট করে রাজনীতিতে মেরুকরণ এবং জোটবদ্ধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সৃষ্টিলগ্নে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরি এবং তার পুত্র মাহির রহস্যজনক তৎপরতা শুরু হয়। এ সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাদের নানা টানাপোড়েন চলতে থাকে। একপর্যায়ে বিএনপির সাথে ঐক্য হবে কিনা তারা জন্য শর্ত হিসাবে জামায়াতকে ২০ দলীয় জোট থেকে বের করে দেয়া এবং ১৫০টি আসন দাবী করেন বিকল্পধারার নেতা মাহি। এনিয়ে বিএনপি ও ডানপন্থীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন চৌধুরী পিতাপুত্র। এপর্যায়ে মাহিদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ঐক্য গঠন বিলম্বিত হতে থাকে। এ অবস্খায়, ১৩ অক্টোবর হঠাৎ তৎপরতায় বি.চৌধুরি এবং তার পুত্রকে বাদ দিয়েই বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন ড. কামাল হোসেন, আ.স.ম. আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, এবং পরে যুক্ত হন কাদের সিদ্দিকী। বি. চৌধুরী এবং তার পুত্র খুব দ্রুতই তাদের অবস্খান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার বিরোধী থেকে মিত্র বণে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন। ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক সূত্র জানায়, বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে সরকারের আঁতাত রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে তাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গোয়েন্দা সুত্রের বরাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে, মাহি বি চৌধুরী সরকারের টাকা ও সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মাহির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র জয়ের ঘনিষ্টতা, আর্থিক লেনদেন, খালাত বোন শমী কায়সারের প্রভাব, তার স্বামী আরাফাতের সাথে বিশাল ব্যবসায়িক সম্পর্ক সব উঠে আসে সামাজিক মাধ্যমগুলিতে। প্রকাশ হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের দয়ায় ভিওআইপি ব্যবসা দেয়া হয়েছে মাহিকে, যা থেকে প্রতি মাসে তার নগদ ৮ কোটি টাকা। আয়ের হিসাব বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা গিয়ে দাড়ায়। আরও টোপ দেয়া হয়, ২০ দলীয় জোট ভাঙতে পারলে, ঐক্য আটকে দিতে পারলে মাহিকে ২টি টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের দূরদর্শিতা, ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং বারিস্টার সুব্রত চৌধুরীর সময়োপযোগি তড়িৎ পদক্ষেপে ব্যর্থ হয় আওয়ামী এজেন্ডা এবং বি চৌধুরী গং।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহি বি চৌধুরী প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যান, তবে মূল কারন অন্য কিছু। জয়ের কাছ থেকে টাকার ভাগ লেনদেন সম্পন্ন হয় সেখানে। ঐসব অর্থে যুক্তরাষ্ট্রে মাহি অনেক গুলো বাড়ি, ব্যবসা, জমি কিনে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাউথলেক, গ্রান্ড পিয়েরে, আর্লিংটন, ইউলেস, কেলার শহরে মাহির এরূপ ৬টি বাড়ির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া টেক্সাসে ১০ একরের বেশি জমিও কিনেছেন, যাতে একটি টাউন বানানোর প্লান আছে তার। সব মিলিয়ে সেখানে কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলারের  সম্পদ গড়েছেন মাহি। বাড়িগুলোর ঠিকানা-

1802 Larkspur Ct, Southlake, TX 76092
2006 Duncan Perry Rd, Grand Prairie, TX 75050
2101 St Michaels Dr, Arlington, TX 76011
3617 Smoke Tree Trail, Euless, TX 76040
1014 Lone Ivory Trail Arlington, TX 76005
4317 Rustic Timbers Dr, Keller, TX 76244
টেক্সাস গভর্নমেন্টের সরকারী সাইটে মাহির সম্পদের নথি নম্বর
https://www.tad.org/property/0270097/
যে কেউ দিখে নিতে পারেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ভাগ্য খারাপ হলে হয়ত মাহিকে দেখা যাবে বাংলাদেশ লুটপাটের টাকায় কেনা প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে। তবে পুত্রের লোভের কারনে বি চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের মর্মান্তিক পতনের আলামত সুস্পষ্ট।

Content Protection by DMCA.com

পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চলাকালে তিন বাহিনী প্রধানকে যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী!

“তিন বাহিনী প্রধানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’র একটি কক্ষে আটকে রেখে পিলখানার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল”- জানিয়েছেন তৎকালীন সেনা প্রধান ১/১১র প্রধান কুশীলব জেনারেল মইন। (এ সংক্রান্তে কথপোকথনের একটি অডিও রেকর্ড আমাদের হাতে রয়েছে।)

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সকাল ৯:২৬ ঘটিকায় পিলখানার দরবার হলে সৈনিক বিদ্রোহ ঘটার পরপরই সেখানে উপস্খিত সেনা কর্মকর্তারা সেনা সদরে এবং র‌্যাব হেড কোয়ার্টার্সে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে অফিসারদের উদ্ধারের জন্য সাহায্য চেয়ে পাঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, এনএসআই প্রধান জেনারেল মুনীর, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্রোহের খবর জানতে পারেন। ১০:১০ মিনিটে র‌্যাবের ৩৫০ জন জওয়ান ও অফিসার বিডিআর গেইটে সাহায্য নিয়ে হাজির হয়, যারা ৫ নম্বর গেইট দিয়ে ঢুকলেই খুব অল্প সময়ে বিদ্রোহ দমন করতে পারত। কিন্তু তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
ব্রিগেডিয়ার হাকিমের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের সৈনিকরা ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সকাল ১০:৫০ ঘটিকার মধ্যে বিডিআর হেডকোয়ার্টোসের চারদিকে অবস্থান নেয়, তাদের সঙ্গে এপিসি ছিল, ট্যাংক যোগ দেয় পরে। তবে তাদের অপারেশন চালানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।
 
বেলা ১টার পরে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল শাহ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা’য় ডেকে নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরে তাদেরকে একটি ওয়েটিং রুমে বসতে বলা হয়। জেনারেল মইনের ভাষ্যমতে, ঐ কক্ষ থেকে তাদেরকে আর বের হতে দেয়া হয়নি। কার্যত তারা ছিলেন আটক। তাদের মোবাইল ফোনগুলো গেটে জমা দিয়ে ঢুকতে হয়। পরে তাদের চা-নাশতা দেয়া হয়। তারা শুনতে পান পাশের কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলায় হাস্যরসে ব্যস্ত ছিলেন তাপস, নানক, আজম, সাহারা খাতুন সহ কেবিনেট মেম্বাররা!
 
এরিমধ্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক এবং হুইপ আজম, এমপি শেখ তাপস সহ একটি টিম পিলখানায় গিয়ে বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি (উপ সহকারী পরিচালক) তৌহিদ সহ ১৪ জনের একটি গ্রুপকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় নিয়ে আসেন বিকেল ৩:২৮ মিনিটে। সেখানে তাদেরকে হোটেল শেরাটন থেকে নাশতা এনে আপ্যায়ন করা হয়। (উল্লেখ্য নানকের ক্লাশমোট এই তৌহিদের সঙ্গে আগের দিন ২০৪ মিনিট টেলিফোন আলাপ গোয়েন্দারা রেকর্ড করে!) যমুনায় ১৫০ মিনিট অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ডিএডি তৌহিদরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় নানক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন প্রেসকে জানান, আলোচনা সফল হয়েছে, বিদ্রোহী বিডিআরদের নিজের সন্তান হিসাবে উল্লেখ করেন। এভাবে সময় ক্ষেপণের মাঝখানে বিডিআরের ডিজি জেনারেল শাকিলসহ ৫৭ অফিসারকে হত্যা করে বিদ্রোহীরা, অফিসারদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ চালায়, এবং নারীদের ধর্ষন করে। এর মধ্যে বিডিআর ডিজির স্ত্রী এবং কর্নেল মজিবের স্ত্রীকে হত্যা করে। ফলপ্রসু আলোচনার (!) সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নে শেখ ফজলে নূর তাপসের বরাতে টিভি স্ক্রলে দেখানো হয়, ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের ভারপ্রাপ্ত ডিজি নিয়োগ করা হয়েছে এবং বিডিআরের ৩ কিলোমিটার এলাকা ফাঁকা করে দেয়ার নির্দেশ জারী করা হয়। পরে জানা যায়, এলাকা শূন্য করার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিলখানায় গিয়ে কিছু বন্দী পরিবার মুক্ত করে আনার কথা জানান। ঐসময় পিলখানা থেকে কিছু কালো কাঁচের এম্বুলেন্স বের হতে দেখা যায় (পরে জানা যায় প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা শুটারদের বের করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়)! রাত ১০টার দিকে তিন বাহিনী প্রধান সহ সেনাপ্রধান মইন যমুনা থেকে বের হয়ে এসে প্রেসকে জানান- Army is subservient to the Government!”
 
জেনারেল মইন জানিয়েছেন, বিদ্রোহ দমন করতে সেনা অভিযান চালাতে প্রধানমন্ত্রী অনুমতি দেননি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী কায়দা করে তিন বাহিনী প্রধানকে তার বাসভবনে ৮ ঘন্টা আটকে রেখে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়েছিল।

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

৫ কোটি টাকা ঘুস না পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসিকে ক্লোজ করলেন নারায়নগঞ্জের এসপি হারুন!

দেশে নির্বাচন চলাকালে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া কোনো বদলী করা যায় না। কিন্তু সেটাই ভঙ্গ করে ওসি বদলী করে ফেললেন নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হারুন অর রশিদ। গত বুধবার রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনিরকে প্রত্যাহার পুলিশ সুপার  কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। এটা রেগুলার বদলী নয়, এটাচ করা য়েছে মাত্র। তবে ঝামেলা এড়াতে নিউজ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে এ বদলী। কিন্তু এটা সত্যি নয়।

নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন আব্দুল হক। তিনি আড়াইহাজার থানায় কর্মরত ছিলেন। এক মাস আগে আড়াইহাজার থেকে আব্দুল হককে প্রত্যাহার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে রাখা হয়। এক্ষণে রূপগঞ্জ থানায় দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ওসি বদলী নিয়ে জানা গেছে চ্যাঞ্চল্যকর খবর! গত ২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের নতুন এসপি হিসাবে হারুন অর রশিদ যোগদান করেই তার আওতাধীন ৫ ওসি দেখা করলে এসপি তাদের বলেন, প্রত্যেকে ৫ কোটি করে নগদ টাকা জমা দিবে ৭ দিনের ভেতর। নইলে পোষ্টিং। চার ওসি নির্ধারিত সময়ে মধ্যে ৫ কোটি টাকা করে জমা দিলেও ব্যর্থ হন রূপগঞ্জ থানার ওসি মনিরুজ্জামান। এসপি তাকে ডেকে বকা ঝকা করেন। ওসি মনির বলেন, স্যার, আমাকে আর ৭টা দিন সময় দেন, আমি চেষ্টা করে দেখি। এখন ইলেকশনের সময়, তাই টাকা ওঠানো কঠিন। এসপি হারুন তখন বলেন, অন্যরা পারলে তুমি কেনো পারবে না। যাও, তোমাকে দিয়ে হবে না। দিন নষ্ট করে আমার লাভ কি? সাথে সাথে ওসি মনিরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে আব্দুল হককে আড়াইহাজারে পোস্টিং দেন হারুন। এটি জায়েজ করার জন্য ওসি মনিরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তৈরি করে ইলেকশন কমিশনকে অবহিত করে রাখেন হারুন। কয়েকটা সাংবাদিক ডেকে প্রচার করে দেন, ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে ওসির বদলী। তাসলে তা সত্য নয়। এ প্রসঙ্গে ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমি চেষ্টা করেছি রূপগঞ্জ থেকে মাদক, সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে।

উল্লেখ্য,  ২০১১ সালে এসপি হারুন অর রশিদ ডিএমপিতে এডিসি হিসাবে কর্মরত থাকাকালে বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে আলোচনায় আসেন। এরপরে আর তাকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে তিনি গাজিপুরের এসপি (যা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় পদ) পদ হাসিল করেন। টানা চার বছর সে দায়িত্বে থেকে তার দুর্নীতির পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে জানিয়েছেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত তার সহকর্মীরা। তার স্ত্রীর ১৫৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছে মর্মে খবর প্রকাশিত হয়। আমেরিকাতে রয়েছে তার কয়েকটি আলিশান বাড়ি। এ ছাড়া হারুন গাজিপুরে ১৬৩ বিঘা জমি কিনেছেন। কিছু দিন আগে তাকে গাজিপুর থেকে প্রত্যাহার করে নরসিংদিতে পদায়ন করা হলে তাকে নিতে রাজী হয়নি রেঞ্জ ডিআইজি। কয়েকমাস ডিএমপিতে পোস্ট ছাড়া এটাচ থাকার পরে নির্বাচনের ডামাডোলের  মধ্যে নারায়নগঞ্জের এসপি আনিসের বদলী হলে ভাগ্য খোলে মহা দুর্নীতিবাজ হারুনের।

তবে রূপগঞ্জের ওসি বদলীর বিষয়টি তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে কেঁচো খুড়তে সাপ- হারুনের ২৫ কোটি টাকা চাঁদা তোলাার কাহিনী।

Content Protection by DMCA.com

মানুষের জীবন নিয়ে কোন সরকার এভাবে ছিনিমিনি খেলেনি!

Content Protection by DMCA.com

এসপি হারুনের ১৫৩২ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা যুক্তরাষ্ট্রে আটক!

গাজীপুরের সাবেক এসপি হারুন অর রশিদের স্ত্রীর ১৫৩২ কোটির টাকার সমপরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এই বিপুল পরিমান অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছিলেন হারুন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিউ হাইড পার্ক এলাকায় নগদ ৫ মিলিয়ন ডলারে একটি বাড়ি কিনতে গেলে অর্থের উৎস নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসে সাপ নয় অজগর। একে একে ধরা পড়ে হারুনের স্ত্রী শারমিন সুলতানার ১৮০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদের পাহাড়, যা পরে আটকে দেয় এফবিআই। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। সম্প্রতি গোপন প্রতিবেদনে এবিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে জানিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই। সম্প্রতি হারুনকে ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশে ফেরত আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হারুন গাজিপুরে ১৬৩ বিঘা জমি কিনেছেন, এরমধ্যে শ্রীপুর উপজেলায় ৫৬ বিঘা, কালিগঞ্জে ২২ বিঘা, এবং গাজিপুর সদরে ৮৫ বিঘা রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম প্রজেক্টের অধীনে সরাসরি বিনিয়োগ করেছেন বাংলাদেশী মুদ্রায় ১৮৯০ কোটি টাকা। সেখানকার নাগরিকত্বও নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে এই হারুন অর রশিদ ডিএমপিতে কর্মরত থাকাকালে বিএনপির চীফ হুইপ জয়নাল আবেদীন ফারুককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে আলোচনায় আসেন। এরপরে ২০১৪ সালে তিনি গাজিপুরের এসপি (যা পুলিশ বিভাগের সবচেয়ে লোভনীয় পদ) পদ হাসিল করেন। টানা চার বছর সে দায়িত্বে তার দুর্নীতির পরিমান ৪ হাজার কোটি টাকার মত হতে পারে জানিয়েছেন পুলিশ বিভাগে কর্মরত তার সহকর্মীরা। হারুনের টকো আটকে দেয়ার খবর পুলিশ বিভাগে চাউর! যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে পারেন তিনি।

Content Protection by DMCA.com

বিচারপতি সিনহার নিউজার্সির বাসায় আওয়ামী লীগের হানা!

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নিউ জার্সির বাসায় হানা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ।

গত বছরে প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে আওয়ামীলীগ সরকারের গন্ডগোল, জোর জবরদস্তি পদত্যাগের বিষয়াদি নিয়ে লিখিত পুস্তক ‘ব্রোকেন ড্রিম’ অনলাইনে প্রকাশের পরের দিনই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ এ হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে কর্মীরা ১০/১২ টি গাড়ি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি সিনহার ভাড়া করা বাসায় হানা দেয়। অবশ্য সিনহা বাবু তখন বাসায় ছিলেন না। অবস্খা বেগতিক দেখে আশে পাশের লোকজন পুলিশে খবর দেয়। সিদ্দিকুর বাহিনী নিউ ইয়র্কে ফেরত এসে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করতে গিয়ে নিজেরা নিজেরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। চেয়ার ছুড়ে দোকান ও অফিসে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে তিন আ’লীগ কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়।

মুলত শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে স্ব স্ব গ্রুপের প্রভাব ধরে রাখতে এবং হাসিনা-পুত্রকে খুশি করতেই যুক্তরাষ্ট্রের আইন অমান্য করে আ’লীগের লোকেরা বিচারপতি সিনাহার ওপর প্রবাসেও হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়! স্থানীয় কমিউনিটেতে এ নিয়ে প্রবল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

অস্ত্রের মুখে ডিজিএফআই ছুটি, দেশত্যাগ, ও পদত্যাগ করিয়েছিল- নিজে স্বীকার করে বিডিপলিটিকোর সংবাদ সত্য প্রমান করলেন বিচারপতি সিনহা!

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরে সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া উদ্ভুত জটিলতায় শেখ হাসিনার নির্দেশে সেনা গোয়েন্দা সংস্থা ও কয়েকজন জেনারেল মিলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে অস্ত্রের মুখে জোর করে  ‍ছুটিতে পাঠানো হয়, পরে তাকে আর দেশে ঢুকতে না দিয়ে বিদেশ থেকেই বেআইনীভাবে পদত্যাগ করানো হয়। ঐ ঘটনা নিয়ে বিডি পলিটিকো ধারাবাহিকভাগে সে সব খবরাদি প্রকাশ করে। কিন্তু সরকারী নিয়ন্ত্রনের কারনে দেশীয় কোনো মাধ্যমই তা স্বীকার করেনি।

বিডিপলিটিকো তখন লিখেছিল, “গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সিনহাকে কুপোকাত করতে তাঁর ওপর অস্ত্রশস্ত্র সহ চড়াও হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসেইন, ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন, রংপুর এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মাসুদ রাজ্জাক, ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার শায়েখ সহ আরও কিছু কর্মকর্তা। এরা খোলা অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে প্রধান বিচারপতি সিহার কক্ষে। তারা অস্ত্রের মুখে প্রধান বিচারপতি সিনহাকে জিম্মি করে পদত্যাগ পত্রে সই করতে বলে। রাজী না হওয়ায় ক্ষেপে যায় জেনারেল আকবর। গালাগালি শুরু করে, এক পর্যায়ে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির গালে মুখে মাথায়, শেষে লাত্থি দিয়ে ফেলে দেন চেয়ার থেকে নিচে। তাদের এই তান্ডবের পুরো সময়টা উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলাল। পরে প্রধান বিচারপতির একমাসের ছুটির কাগজ বানিয়ে সই করে বেরিয়ে যায় আকবর বাহিনী। সেই কাগজ দিয়েই বিচারপতি সিনহাকে জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।”

ঘটনার প্রায় এক বছর পরে আজ প্রকাশ হওয়া বিচারপতি সিনহা তার লিখিত পুস্তক “A Broken Dream: Rule of Law, Human Rights and Democracy”- এর মুখবন্ধে তিনি সেই সব ঘটনাবলী প্রকাশ করেছেন শোভন ভাষায়। আর এভাবেই বিডি পলিটিকোর খবরাদি কনফার্ম করলেন বিচারপতি সিনহা। তিনি লিখেছেন- “Following the appellate decision, on September 13 the parliament passed a resolution calling for legal steps to nullify the Supreme Court verdict. Prime Minister and other members of her party and ministers blasted me for going against the parliament. Cabinet members including the Law Minister began smearing me alleging misconduct and corruption. While I remained confined at my official residence and lawyers and judges were prevented to visit me, media were told that I am unwell and have sought medical leave. Various ministers said I will go abroad on medical leave. On October 14, 2017, as I was compelled to leave the country, I tried to clear the air in a public statement that I am neither unwell nor am I leaving the country for good. I was hoping that my physical absence combined with Court’s regular vacation will allow the situation to calm down and good sense will prevail; that the government will understand that the essence of the Verdict – upholding the independence of judiciary – is beneficial to the nation and the state. Finally, in the face of intimidation and threats to my family and friends by the country’s military intelligence agency called the Directorate General of the Defense Forces Intelligence (DGDFI), I submitted resignation from abroad.

Content Protection by DMCA.com

তিনি লেনদেন সব বিদেশে বসেই করেন!!!

ইলিয়াস হোসাইন

তিনি লেনদেন সব বিদেশে বসেই করেন!!!
আমরা কেউই শতভাগ ফেরেস্তা না, মানুষ। তাই ভূল করি, পাপ করি! কিন্তু কেউ একজন বলতে পারবেন, একজন মানুষের সর্বোচ্চ রাজকীয় হালেও দুনিয়ার ৬০-৭০ বছরের জীবন পার করতে কত লাখ, কোটি বা মিলিয়ন কিংবা বিলিয়ন টাকা দরকার???
আমাদের দেশে পর্দার আড়ালে একজন মহিলা বসবাস করে, যিনি এই মুহুর্তে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি ! শুধু তাই নয় আমার ধারনা, তিনি এই মুহুর্তে এককভাবে পৃথিবীর দশজন ধনীর মধ্যে একজন হতে পারে!!
শেয়ার বাজার, ডেসটিনি, বেসিক ব্যাংক, সোনালী, জনতা ব্যাংক, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ্ গ্রুপ সব জায়গায় তিনার নিপুন হাতের ছোঁয়া লেগেছে !
দিনকে দিন তিনি আরও ড্যাচপারেট হয়ে উঠছেন !
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ওভারটেক করেও তিনি প্রাথী দিয়েছেন, টাকার বিনিময়ে!
ইদানিং তিনি আসামী জামিন করিয়েও টাকা নিচ্ছেন! তার বনানীর বাসার ভাড়াটিয়া পর্যন্ত ছাড় পায়নি! তিন কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছেন, একটি বাহিনীর মাধ্যমে!

আপু আপনার ভাড়াটিয়া কিন্তু বুঝছে খেলাটা কে করছে, সিসি ফুটেজও রাখা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে টাকা নিয়েছেন, তারাই আপনার নাম বলবে, সময় হলেই দেখতে পাবেন!!!

/ফেসবুক

তিনি লেনদেন সব বিদেশে বসেই করেন!!!আমরা কেউই শতভাগ ফেরেস্তা না, মানুষ। তাই ভূল করি, পাপ করি! কিন্তু কেউ একজন বলতে…

Posted by Elias Hossain on Friday, August 31, 2018

Content Protection by DMCA.com

বড়পুকুরিয়া কয়লা লোপাটে মন্ত্রী-এমপিরাও জড়িত। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করেই ১ লাখ টন কয়লা আমদানির সিদ্ধান্ত!

26 Aug, 2018

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4