পাপনের নির্দেশে রুবেলের লুজ বল: ১ ওভারে ২২ দিয়ে খেলা ছেড়ে দেয় বাংলাদেশ!

সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে জেতা খেলা ভারতের কাছে হেরে গেলো বাংলাদেশ!

আজ সারা বাংলাদেশের সতের কোটি মানুষের ৩৪ কোটি চোখ ছিল কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। সেখানে নিদহাস ্রিফির ফাইনালে বাংলাদেশের সাথে ভারতের খেলা হচ্ছিল। খেলার শেষ সময়ে ২ ওভার বল বাকী থাকতে শেষ দুই ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। তখন এক ধরণের বিজয় উল্লাসের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ সমর্থকরা কিন্তু হঠাৎ নামানো হয় রুবেলকে। পর পর ছটি লুজ বল খেলে এক ওভারে ২২ রান দিলে ম্যাচ চলে যায় ভারতের ঘরে। শেষ ওভারে ভারতের দরকার ১২ রান। শেষ ওভারে তা তুলে নেয় ভারত।

বিসিবির একটি সোর্স জানাচ্ছেন, নিদহাস ম্যাচের আজকের ফাইনালে হারাটা ছিল ইচ্ছাকৃত। এটা ছিল একটি পলিক্যাল ডিসিশন! শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তে ট্রফিটা হিন্দুস্তানকে পাইয়ে দেয়া হয়। শেষ সময়ে মাচ যখন বাংলাদেশের পক্ষে নিশ্চিত, তখন ঢাকার নির্দেশনা পেয়ে খেলা শুরু করেন বিসিবি সভাপতি পাপন। বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে  রুবেলকে মাঠে নামানো হয়। তাকে  লুজ বল করতে বলা হয়। রুবেল ১ ওভারে ২২ রান দিয়ে মাঠ ছাড়ে। খেলা চলে যায় ভারতের কাছে। এভাবেই জিতা খেলা ছেড়ে দিলো বাংলাদেশ!

Content Protection by DMCA.com

তমা কোম্পানী এবং মীর্জা আজম: রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটতরাজের উপাখ্যান!

৫১৩ কোটি টাকার চাল-গমের গুদাম নির্মাণের কাজ ৯৬০ কোটি টাকায় পাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন!
 
কে এই তমা কনস্ট্রাকশন?
 
মিডিয়া ঘাটলে যা পাওয়া যায়- যত দুর্ভোগ, তত উদাসীন ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! ফ্লাইওভার বানাতে গিয়ে জনগনকে দুর্ভোগ দিয়ে লোকজন হত্যা করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে তমা কনস্ট্রাকশন!
একটু ট্রেক রেকর্ড দেখা যাক-
 
১) মনে কি আছে, ২০০০ সালে ঢাকার মিরপুর রোডের সায়েন্স ল্যাবরেটরির মোড়ে নির্মানাধীন পদচারী-সেতুর (ফুটওভার ব্রিজ) গার্ডার পড়ে মারা যান মাগুরা টেক্সটাইলসের একজন কর্মকর্তা সহ কয়েক জন। সেই ফুটব্রিজ নির্মানের কাজ করছিলো ‘তমা কনস্ট্রাকশন’! বিনা অভিজ্ঞতায় পর্যাপ্ত নিরাপদ ব্যবস্খা না নিয়ে ‘তমা কনস্ট্রাকশন’ দিনের পর দিন এধরনের ঝুকিপূর্ন কাজ করে গেছে।
 
২) তমা এরপরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে মালিবাগ-মৌচাক ফ্লাইওভারের সাবকন্টাক্টের নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে। নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই তমা কনস্ট্রাকশন এখানে ৪/৫ বছর কাজ করে গেছে, যাতে মোট ৯ জন মানুষ নিহত হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও নেওয়া হয়নি পথচারী কিংবা কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। টেন্ডার প্রকৃয়ায় খুব বড় অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে সুকৌশলে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘তমা কন্সট্রাকশন’কে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়। যদিও তাদের আবেদনের যোগ্যতা নিয়ে তখনই প্রশ্ন ছিল। কারণ, তমা কন্সট্রাকশনের ইতিপূর্বে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা ছিল না। ফ্লাইওভার প্রকল্পটি অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের ধাপে ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে গেছে তমা কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছে করেই নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় বাড়ানোর সঙ্গে তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে নির্মাণ ব্যয়ও। মগবাজার ফ্লাইওভার প্রকল্পের বাজেট ছিল ৩৩৪ কোটি টাকা, যা শেষমেষ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অতিরিক্ত খরচ ৮৯৫ কোটি টাকা, যা পুরোটাই লুটপাট। লীগ সরকারের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী আজম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক ও মন্ত্রী ওবায়দুলের হরিলুটের কারনে মগবাজার ফ্লাইওভার বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যদিও উল্টা ডিজাইনে করায় এটি ঠিকমত ব্যবহার উপযোগি নয়, বরং ঝুকিপূর্ন।
 
৩) ৪০ কোটি টাকার ঢাবির হল ‘বিজয় একাত্তর’ ৫৯ কোটি টাকায় নির্মান করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের প্রায় চার বিঘা জমি দীর্ঘ ছয় বছর দখলে রেখে ব্যবসা করেছে তমা কন্সট্রাকশন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আদালত থেকেও মাঠটি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসেনি ক্ষমতার ব্যক্তিদের কাছে।
 
৪) রাজবাড়ী থেকে শুরু করে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেললাইন তৈরী করার কাজটি পায় তমা কনস্ট্রাকশন। ফরিদপুর রেলষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায় রেললাইনের মাঝে যে পাথর দেয়া হয়েছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক পাতলা করে ছিটিয়ে দেওয়ার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাথরগুলো সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
 
৫) ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ রেলপথের নির্মাণকাজ পেয়েছে চীন ও বাংলাদেশের চার প্রতিষ্ঠান। অথচ এর আগের বিএনপি জোট সরকারের সময় নেয়া এই প্রজেক্ট ২০১০ সালে ব্যয় ধরা হয় ১,৮৫২ কোটি টাকা ছিল। এই মহাডাকাতির নির্মাণকাজের দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
৬) এর আগে ‘তমা কনস্ট্রাকশনের নির্মাণাধীন খুলনার রেলস্টেশনের ছাদে ফাটল ধরেছিল। সেখানেও বেশ কয়েক বার নির্মাণ খরচ বাড়িয়েছিল কিন্তু কাজ যথাযথ ভাবে হয়নি। আটকে আছে খুলনার আধুনিক রেল স্টেশন, এ কারণে কাজ শেষ হতে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত হতে পারে।
 
৭) বাগেরহাট জেলার রামপালে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘খুলনা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইউডি)-এর অধীনে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কম্পানি লিমিটেড।
 
৮) তিন শ’ ছাপ্পান্ন কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরায় ফ্যাট নির্মাণের দায়িত্ব পেল তমা কনস্ট্রাকশন। কোম্পানিটি ৬৭২টি ফ্লাট নির্মাণ করবে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
 
৯) রেলের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ২২শ ১৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ভৈরব-টঙ্গী ৬৪ কিলোমিটার রুটে লুপ লাইনসহ ৮৬ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মানের কাজ চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের সাথে কাজ করছে দেশীয় তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১০) বাংলাদেশ রেলওয়ের কালুখালি-ভাটিয়াপাড়া রেলপথ পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানি-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়ায় নতুন রেলপথ নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে প্যাকেট ডব্লিউডি-৬ এ আওতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্রীজ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ করা হবে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এটি বাস্তবায়ন করবে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১১) রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের জন্য আট’টি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা হয়েছে এবং শত শত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে গোল্ডেনবার্গ এর সহযোগি হবেন, তারমধ্যে আছে তমা কনস্ট্র্রাকশন।
 
১২) ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষে ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। এজন্য নির্মাণকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিকেই দায়ী করছে রেল বিভাগ। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণকাজে এ ধীরগতির কারণে একদিকে যাত্রীরা কাঙ্খিত সেবা থকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের মালপত্র পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, রেল মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের মিটারগেজ রেলপথকে আধুনিকায়ন ও ডুয়েলগেজে রূপান্তরিত করছে তমা কনস্ট্রাকশন।
 
১৩) ২৬৬ কোটি টাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পে রায়মণি থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটারের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।
 
১৪) বাংলা দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম শিরোনাম হচ্ছে, ‘মন্ত্রী মামলা ঠিকাদারের স্বার্থের বলি যাত্রীরা! ট্যাক্সিক্যাব উঠলেই ১০০ টাকা ভাড়া।’ এ সিন্ডিকেটে তমা কনস্ট্রাকশন ও আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামের দুটি সংগঠনের সঙ্গে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা গোলাম আজম, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরী, ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর বন্ধু, তমা কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আতাউর রহমান মানিকের নাম এসেছে। একদিকে সরকারের এতসব লম্ফঝম্প, অন্যদিকে এক আমলা,- এক অতিরিক্ত সচিব ফরিদউদ্দিন চৌধুরীর এমন বিপুল বিশাল ক্ষমতা, মিলাতে পারছি না যে!! জনপ্রতিনিধি হয়েও মির্জা গোলাম আজমের এমন গণবিরোধী আচার-আচরণ কথাবার্তা!!
 
১৫) দুই লাখ এক হাজার টন চাল-গম রাখতে স্টিলের গুদাম নির্মাণে ৫১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লাগার কথা। আর এভাবেই অনুমোদন হওয়া সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবনার প্রকিউরমেন্ট প্ল্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্যাকেজ-৩ এ উল্লেখ করা আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও মধুপুরের তিনটি সাইলো নির্মাণে লাগছে ৯৬০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন সাইলো নির্মাণের এ কাজটি পেতে যাচ্ছে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (টিসিসিএল)!
 
শত শত সরকারী নির্মানকাজের সাথে জড়িত তমা গ্রুপের চেয়্যারম্যান হিসেবে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক নামক একটা লোককে সামনে রাখা হলেও বিনা বিনিয়োগে এর মূল মালিক জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমানের আদরের শালা মির্জা আজম, যিনি শেখ হাসিনার পাট বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী। তার সাথে আছে বাংলাদেশের প্রথম ‘গানপাউডারে বাস পোড়ানো’ আবিস্কারক জাহাঙ্গীর কবির নানক। দু’বছর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তমা কনস্ট্রাকশনের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসেে। বলা হচ্ছে ফ্লাইওভার বাবদ লুটে নেয়া রাষ্ট্রীয় টাকার অংশ তমা কনস্ট্রাকশন ছাত্রলীগকে দিচ্ছে। যার বদৌলতে শত অপকর্ম স্বত্বেও ছাত্রলীগের পাহারায় নানান যায়গায় ব্যবসা করে যাচ্ছে তমা কোম্পানী, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে। যদিও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দর্পকরে বলেন– আমরা ব্যবসা করতে আসিনি, কিন্তু ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠনের পর মির্জা আজম কাকরাইলে তমা কনস্ট্রাকশনের কার্যালয়ে নিয়মিত বসতেন। এর পরপরই রেলওয়ে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনেকগুলো বড় ঠিকাদারি কাজ পেতে থাকে তমা কনস্ট্রাকশন। তমা কোম্পানীর নানা অপকর্ম, সময়মত কাজ না করে তিন চার গুণ খরচ বাগানো, নিম্নমানের কাজ করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন করা, অনিরাপদ কর্মপরিবেশে বহু মানুষ হত্যাকারী ঠিকাদার হয়েও হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারী কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে।
 
মির্জা আজম এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। এত টাকা হাতে যে কর্মীরা হাত বাড়ালে ১০/২০ লাখ টাকা ছুড়ে দেয়া তার অভ্যাসে দাড়িয়েছে। কয়েক কোটি টাকা খরচ করে নিজের ভাই মির্জা কবীরকে বিনাভোটে পৌরসভা চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। মায়ের চল্লিশায় খাওয়ানো বাবদ খরচ করেছেন ৪ কোটি টাকা। পুরো জামালপুর জেলার সকল কন্ট্রাকটরী করেন মির্জা আজম। জামালপুর শহরে ৫০ কোটি টাকায় নিজের বাড়ি নির্মান করেছেন আজম। স্ত্রী এবং স্বজনদের হাজার বিঘার ওপরে জমি করেছেন মেলান্দহে। কিনেছেন নিউইয়র্ক, কানাডা, লন্ডনে একাধিক বাড়ি, শ্রীমঙ্গলে নানকের সাথে হাজার একরের টিএস্টেট। আজম এখন জামালপুরের অঘোষিত ‘রাজা’।
 

বিভিন্ন সেক্টরে ভিন্ন ভিন্ন নামে আছে তমা কোম্পানী এবং আজমরা, যারা লুটপাট করে রাষ্ট্রীয় অর্থ। আর ধংস হচ্ছে দেশ!

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচনের চেষ্টা হতে পারে: দেশি বিদেশী তৎপরতায় ঠেকে যাবে।

এ মুহুর্তে আলোচনায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর কারন হচ্ছে, বিনাভোটের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড় বড় শহরে গিয়ে জনসভা করে নৌকায় ভোট চাইছেন, আর উপস্থিত লোকদেরকে হাত তুলে নৌকায় ভোট দিতে ওয়াদা করাচ্ছেন।

নিজের দলে লোকদের তিনি ওয়াদা করাতেই পারেন, কেননা তাঁর আশঙ্কা- দলীয় লোকদের ভোটও পাওয়ার সম্ভাবনা নাই। তাই তাকে ওয়াদা করাতে হচ্ছে। এর কারন, ২০১৪ সালের নির্বাচনী প্রহসনের সময় ৫-১০ ভাগ ভেটে পড়েছিল, কোথাও আরও কম! এ থেকে পরিস্কার বলা যায়- আ’লীগের ভোটার ও কর্মীরা সেবার ভোট কেন্দ্রে যায়নি। গেলে আরও বেশি ভোট পড়তো।

যাই হোক, যতটুকু জানা গেছে, বেগম জিয়াকে জেলে পুড়ে হাসিনার উদ্দেশ্য পুরন হয়নি। ‘খালেদা এতিমের টাকা চুরি করেছে’ হাসিনার এই গীত পাবলিক খায়নি, উল্টো, জেলে যাওয়ার পরে খালেদা জিয়ার জনসমর্থন আরও বেড়েছে! এখন হাসিনার দশা হইছে- ছেড়ে দে মা, কেন্দে বাঁচি। চাইলেও আর খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখতে পারছে না। এ অবস্থায় দু’টি সিনারি হতে হতে পারে-

১) আগামী রবিবার খালেদা জিয়াকে জামিনে বের হতে দেয়া।
২) জামিন হলেও চেম্বার জজ দিয়ে আটকে দিয়ে দু’মাস ভিতরে রাখা। একটা সোর্স বলেছিল- ও কাদের তার চ্যালাদেরকে বলেছে দু’মাস রাখবে।

যদি ২য় ফরমুলার দিকে যায়, তবে ১১ তারিখের আগেই নির্বাচনের ঘোষণা আসতে পারে। বেগম জিয়াকে জেলে রেখেই সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিয়ে দেবে। বেগম জিয়াকে নির্বাচন করতে দিবে না… ফলে বিএনপি সেই ইলেকশন করবে না। তবে কিছু ছুটারা ছুটে গিয়ে পা-চেটে কিছু পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, আবার না ও পারে! ২০০ সিট বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আ’লীগ কব্জা করতে চাইবে ৫ জানুয়ারি স্টাইলে, বাকীগুলোতে নাম-কা-ওয়াস্তে ইলেকশন করার চেষ্টা করবে।

এমন কিছুর চেষ্টা হলে, বিএনপি এবং অন্যরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবে প্রহসনের নির্বাচন ঠেকাতে। প্রচন্ড মারামারি ও অনাসৃষ্টি হবে, সেটাই আ স ম আবদুর রব বলেছেন- ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করা হবে।

তবে ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্র সহ বিদেশীরা মানবে না। সবচেয়ে বড় পয়েন্ট হবে- আমেরিকা, ভারত ও চীনের খেলা। ভারতও চায় বিএনপি নির্বাচনে থাকুক। চীন তো চায়ই। যদি ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন না ঠেকে, এবং অনাসৃষ্টি বেশি হয়, তাহলে আর্মি ক্ষমতা নিবে। অথবা বাইরে থেকে আরেকটা কঠিন ধাক্কা আসবে, যেটা হাসিনা সামলাতে পারবে না। পতন হবে সরকারের। বিস্তারিত আর বলতে চাই না, তবে সম্প্রতি একটা রিহার্সেল হয়ে গেছে।

মোট কথা, ইলেকশন হবে কি না, সে প্রশ্ন পরে, আগে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হবে। তারপরে বাকীটা।

Content Protection by DMCA.com

বিজয়ের উন্মাদনায় আওয়ামী লীগ সরকারের ভয়াবহ পতন! লুটপাট-দুর্নীতি-ঔদ্ধত্য-দখলদারিত্ব আর যথেচ্ছাচারে মাখামাখি : আনু মাহমুদ

সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বিজয়ের সুর। এ বিজয় চিরস্থায়ী এবং অপ্রতিরোধ্য— এ রকম একটি ভাব থেকে তৈরি হয়েছে অতি আত্মবিশ্বাস। সেখান থেকে এসেছে বেপরোয়া ও থোড়াই কেয়ার মনোভঙ্গি। ভারত, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বৃহৎ ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো তাদের চাহিদা পূরণ হওয়ায় খুশি,

দেশের ভেতর ক্ষমতার নানা কেন্দ্র নিজ নিজ চাহিদার চেয়ে বেশি পেয়ে খুশি। সরকারের তাই এ রকম ধারণা হয়েছে যে, তার আর জবাবদিহিতার কোনো দরকার নেই। যা খুশি তাই করলে কোনো কিছু যায় আসে না। জলজ্যান্ত সত্য অস্বীকারেও তাই কোনো লজ্জাশরম নেই।

শত হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির ক্ষেত্র তৈরি, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা ও পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তাই প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধরা পড়ে। প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় সমর্থন বা অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো বড় দুর্নীতি ঘটতে বা তা বিচারের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। শেয়ারবাজারের ধসের পেছনে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ভূমিকা চিহ্নিত হয়েছিল খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এ দুজন ব্যক্তির ওপরই মানুষের আস্থা ছিল, কিন্তু দুটো তদন্ত কমিটির ক্ষেত্রেই ফলাফল হয়েছে অভিন্ন। পুরো রিপোর্ট প্রকাশিতও হয়নি। মূল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি; বরং তারা ক্ষমতার ছড়ি নিয়ে আরো নতুন নতুন অপরাধের কাহিনী তৈরি করছেন।

সবাই বলেছেন, আর কোনো ব্যাংকের দরকার নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সবার বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার দলীয় পরিচয়ের বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যাংক খোলার অনুমতি দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগ নেতা মহীউদ্দীন খান আলমগীরের নেতৃত্বাধীন ফারমার্স ব্যাংক নিয়ে প্রথম থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তার পরও এ ব্যাংকে সরকার বরাবর তহবিল জোগান দিয়ে গেছে। জলবায়ু তহবিলের টাকাও এখানেই জমা রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে ব্যাংকে ধস নামে। এখন সেই ব্যাংককে পুঁজি জোগান দিতে আবার রাষ্ট্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক ও আইসিবি মিলে দুর্নীতি আর অনিয়মের থলিতে ঢালছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা  (বণিক বার্তা, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮)। জনতা, সোনালী, বেসিক ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কাহিনী সরকার প্রকাশ করেনি, করেছে গণমাধ্যম।

দেশে গত প্রায় এক দশকে আইয়ুব ও এরশাদের পর তৃতীয় ‘উন্নয়ন’ দশকের চাপে আছি আমরা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভালো। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে বিস্তর। ঘুষ, নিয়োগ বাণিজ্য, আটক বাণিজ্য সবই বর্ধনশীল। নির্মাণ খাত সবচেয়ে গতিশীল। ইটভাটা অসংখ্য, বৈধ যত তার চেয়ে অবৈধ সংখ্যা বেশি। সিমেন্ট কারখানার সংখ্যাও বেড়েছে। শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীর বাতাসে পানিতে এর প্রবল ছোঁয়া পাওয়া যায়। দূষণরোধের কোনো ব্যবস্থা কাজ করে না। রড উৎপাদন বেড়েছে। নিয়ম মেনে বা না মেনে বালি তোলার পরিমাণ বেড়েছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। ফার্নিচারের ব্যবসাও বেড়েছে। এজন্য বনের গাছের ব্যবসা ভালো। দেশে নির্বিচারে বনজঙ্গল উজাড় করায় প্রশাসন বরাবর সক্রিয় সহযোগী। সরকারি তথ্যই বলছে, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি বন উজাড় হয়েছে উচ্চপ্রবৃদ্ধির এই এক দশকেই। …শুধু গাজীপুরেই এক দশকে ধ্বংস হয়েছে প্রায় ৭৯ শতাংশ বনাঞ্চল’ (বণিক বার্তা, নভেম্বর ৪, ২০১৭)।

নির্মাণকাজে সরকার যেসব বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তার আকার ও বরাদ্দ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এসব প্রকল্পে ব্যয় বরাদ্দের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই, এর যৌক্তিক বিন্যাসেরও কোনো ব্যবস্থা নেই, যৌক্তিকতা বিচারের কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানও আর কার্যকর নেই। তার ফলে এগুলোর ব্যয় অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দুই-তিন গুণ বেশি হলেও সরকার তা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নয়। বরং সরকারি অনুমোদন নিয়েই এগুলোর ব্যয় শনৈঃশনৈঃ বেড়ে যাচ্ছে। সরকার নিয়মনীতি অমান্য করে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানিকে উচ্চমূল্যে কাজ দিচ্ছে, আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য ২০১০ সাল থেকে সরকার চলছে ‘দায়মুক্তি আইন’ ঢাল দিয়ে, নানা সুবিধা ছাড়াও ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষতির দায় থেকে বাঁচানোর জন্য দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে বিদেশী কোম্পানিকেও (রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প দ্রষ্টব্য)।

নির্মাণ ছাড়া সরকারের প্রশাসনের আরেকটি আগ্রহ কেনাকাটায়। যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে, কাজ নেই; বাস কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই সেগুলো হাওয়া; ডেমু ট্রেন কেনা হচ্ছে, কিছুদিন পরই তার কেলেঙ্কারি প্রকাশিত হচ্ছে; সিসিটিভি কেনা হচ্ছে কিন্তু প্রয়োজনের সময় তা নষ্ট; ঋণ করে সাবমেরিনসহ সমরাস্ত্র কেনা হচ্ছে। কেনা হচ্ছে গাড়ি, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে গাড়ির মডেল পরিবর্তন করা, আরো বড় আরো দামি গাড়ি কেনার পথে প্রবল উৎসাহ। সর্বজনের অর্থ যেকোনোভাবে বরাদ্দে কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু এ অর্থ জোগাড়ে বাড়ছে মানুষের ওপরই চাপ। গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ভ্যাট বসছে সর্বত্র, খাজনা বাড়ছে।

শিক্ষা খাতও এখন কিছু লোকের খুব দ্রুত টাকার মালিক হওয়ার জায়গা। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষা খাতে শিক্ষার কী অবশিষ্ট থাকছে, সেটাই খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রশ্ন ফাঁস নিয়মিত, কোচিং আর টিউশনি নির্ভরতার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন বিষময়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরীক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তর করার কারণে গাইড বই, কোচিংয়ের বাণিজ্যের পথ খুলেছে। চলছে নিয়োগ বাণিজ্য। এতে যাদের লাভ তারা খুশি। তারা এ ব্যবস্থাই টিকিয়ে রাখতে চায়। শুধু শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অন্য সব মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিশ্চিন্ত। চিকিৎসা খাতের অবস্থাও তা-ই।

বলা বাহুল্য, উন্নয়নের ধরনে যদি দুর্নীতি, অস্বচ্ছতা, জবাবদিহিহীনতা, দখল, দূষণ থাকে, অর্থাৎ যদি উন্নয়ন প্রকল্প অতি উচ্চমাত্রায় সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি/বিপর্যয়ের কারণ হয়, তাহলে তা কুশাসন অবধারিত করে তোলে। নদীনালা, খালবিল যারা দখল করে, যারা ব্যাংক লুট করে, যারা সম্পদ পাচার করে, তাদের দরকার হয় প্রশাসনের সমর্থন। এ সমর্থন পেলে তার অপরাধের গতি আরো বাড়ে। এর মধ্যে দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস সবই প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা অর্জন করে। সেটাই ঘটছে অবিরাম।

প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিংবা প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা না থাকে, যদি কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের এগুলো তদারকি বা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে তৈরি হয় যথেচ্ছাচার। যারা ঠিকাদার, তারাই যদি কর্তাব্যক্তিদের সমর্থন/অংশগ্রহণে প্রকল্প নির্ধারণ করে, তাহলে ব্যয় বরাদ্দ অনিয়ন্ত্রিত না হওয়ার কারণ নেই। যদি কমিশনপ্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে প্রকল্প বাছাই, তাহলে কমিশন যত বাড়ে, প্রকল্প ব্যয়ও তত বাড়তে থাকে। আগে ঘুষ কমিশনের একটা সীমা ছিল, এখন তাও নেই বলে জানা যায়। বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যয় যে বিশ্বে রেকর্ড করছে, তা এ গতিতেই হয়েছে।

ব্যবসায়ী-লবিস্ট-রাজনীতিবিদ-প্রশাসনের দুষ্ট আঁতাত আরো অনেক অপরাধ-সহিংসতাকেও ডাকে। বলপূর্বক টেন্ডার দখল, জমি-ব্যবসা দখল করতে গিয়ে খুন, রাষ্ট্রীয় সংস্থায় সহযোগিতায় গুম, আটক বাণিজ্য, দরকষাকষি এগুলোও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলে যায়। প্রশাসন আর দল একাকার হয়ে গেলে দ্রুত অর্থ উপার্জনের বল্গাহীন প্রতিযোগিতা চলবেই। বাড়তেই থাকবে ধর্ষণ, নারী-শিশু-সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা, ক্রসফায়ার, হেফাজতে নির্যাতন এবং সরকারি দলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর হানাহানি।

গত কিছু দিনে দেশে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, হেফাজতে খুন, গুম, ধর্ষণ ইত্যাদির তাই কোনো বিরতি নেই। সাম্প্রদায়িক হামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ক্রসফায়ার, খুন, গুম, সাম্প্রদায়িক হামলা সম্পর্কে সরকারি ভাষ্য খুবই সরল, একঘেয়ে ও কৃত্রিম। ভাষ্যকারদের অবিরাম মিথ্যা ভাষণ ও নির্লিপ্ত অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, তাদের আদেশ অনুযায়ী অসার কথাগুলোই জনগণকে বিশ্বাস করতে হবে এবং কেউ যদি না করে তাতে তাদের কিছু এসে যায় না।

সরকার তাই পূর্ণ বিজয়ীর বেশে। বাংলাদেশে বিচার বিভাগসহ সব প্রতিষ্ঠান এখন সরকারের করায়ত্ত। নির্বাচনও তার হাতের মুঠোয়। তাই সর্বজনের অর্থ দিয়ে, দেশের উন্নয়নের কথা বলে যা খুশি তা করায় তার কোনো দ্বিধা নেই, দলীয় নেতার মাস্তান হওয়ার কারণে ফাঁসির আসামির দণ্ড মওকুফ করে দিতে কোনো সংকোচ নেই, বিচার ব্যবস্থা চুরমার করতে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, সুন্দরবনবিনাশে বা রূপপুর মহাবিপদ প্রকল্প নিয়ে তার বুকে কাঁপুনি নেই। শত হাজার মানুষ বিনা বিচারে খুন-গুম হয়ে গেলে তা নিয়েও তার মুখে হাসি-মশকরা শোনা যায়। অপ্রতিদ্বন্দ্বী সরকারের বিভিন্ন স্তরে এগুলোকে বিজয় হিসেবেই দেখা হয়!

আওয়ামী লীগের সমর্থক-শুভাকাঙ্ক্ষী বুদ্ধিজীবীরা যদি একটু কম সুবিধা-পদ-বিত্তের পেছনে দৌড়াতেন, যদি তাদের মেরুদণ্ড একটু দেখা যেত, যদি তেলবাজি থেকে সরে একটু দায়িত্ব নিয়ে চলতেন, তাহলে হয়তো বিজয়ের উন্মাদনায় আওয়ামী লীগ সরকারের এতটা পতন ঘটত না, লুটপাট-দুর্নীতি-ঔদ্ধত্য-দখলদারিত্ব আর যথেচ্ছাচারে এতটা মাখামাখি অবস্থা তৈরি হতো না।

 

Content Protection by DMCA.com

‘রাজনীতি বুঝুক না বুঝুক, সেক্সনীতি বুঝলেই পদবী পাওয়া যাবে’ : মহিলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

‘রাজনীতি বুঝুক না বুঝুক, সেক্সনীতি বুঝলেই বাপের বয়সী সাধারণ সম্পাদকের কোলে বসে ফুরতি (ফূর্তি) করাটাই রাজনীতিতে পদবী পাওয়ার কাজ দেবে!

শিক্ষিত না হলে দোষ নাই, একাধিক নেতা আর ব্যবসায়ীদের শারীরিক সুখ দিতে পারলেই পদবী পাওয়া যাবে!

মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুই চারটা রাজনৈতিক ভালো কথা বলতে না পারলেও হোটেলে গিয়ে বাচ্চাদের ভঙ্গিমায় প্রেমালাপ পারলেই রাজনীতি হবে!

স্বামীর রোজগারে ঠিকমতো বাসাভাড়া আসবে না, কিন্তু জীবন-যাপনের স্টাইল লাখ টাকার বাজেটে করতে পারাটাই রাজনৈতিক স্বার্থকতা তাদের জন্য!

বেশামাল শরীরে অশালীন পোষাকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সেইসব নোংরা ছবি তুলে ফেইজবুকে না নিয়ে এলে তাদের ফেইজবুক অচল হয়ে পড়ে! তাদের আপত্তিকর পোষাকে না দেখলে হয়ত, স্থানীয় বড়পদের বাপদের পেটের ভাত হজম হয় না!

শারীরিক বেসামাল গড়ন আর অশালীনতা যেন তাদের দেহব্যবসার বিশেষ পণ্যবস্তু। নিজের সন্তানকে কাজের লোকের কাছে রেখে রাজনীতির নামে সারাদিন বেশ্যাবৃত্তি করাটাই তাদের কাজ! পরিবারে নেই কোন জবাবদিহি, তাই যাচ্ছেতাই করা যায়। তাছাড়া বড় বান্ডেল দেখলে আয়বিহীন পরিবারের বাপ-মায়ের চোখে অসৎ মেয়ের গোলাপী চরিত্র সকল অপরাধই ম্লান করে দেয়!

জানতে ইচ্ছে করে যদিও তাদের বাপ-মা কি তবে বেশ্যা ছিলেন??? তবুও না জেনে বুঝার বাকি থাকেনা যে, বেশ্যা না থাকলেও নিজের মেয়ের বেশ্যাবৃত্তিকে রাজনীতির সার্টিফিকেট দিতেই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মূর্খ, অশিক্ষিত আর অবুঝ বাপ-মা!!
এটাই তাদের জীবন,,,,,,
তারা এভাবেই চলে,,,,,,
তারা এমনি,,,,,,
কারণ???
খুব সহজ, স্থানীয় এমপি আর রাজনৈতিক বড় পদের মালিকদের সাথে তাদের গোলাপঝরা শখ্যতা! After all, তাদের ইয়াবা আর মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক পদ বেচে দেহব্যবসা সফল করতে ও সচল রাখতে এইসব পদবী আর বয়সে আব্বারা ই ত একমাত্র সহায়ক!’

Content Protection by DMCA.com

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীসহ সারা দেশে লিফলেট 

লিফলেটের পূর্ণপাঠ নিচে দেয়া হলো –
 
শেখ হাসিনার ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহার/খারিজ
বনাম
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিত্তিহীন মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ড
 
প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার বশবর্তী হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এক সাজানো কাল্পনিক মামলায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং ৭২ বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে অর্থ আত্মসাতের ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিয়ে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো পরিত্যক্ত স্যাঁতসেঁতে জরাজীর্ণ ভবনে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটির বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। অথচ উক্ত ট্রাস্টের কোন অর্থই আত্মসাৎ হয়নি। জিয়া অরফানেজ ট্্রাস্টের নামে একখন্ড জমি ক্রয় ছাড়া বাকি এক টাকাও কোথাও খরচ করা হয়নি। বরং সেই ২ কোটি টাকা এখন সুদে আসলে ৬ কোটি হয়ে ট্রাস্টের নামেই ব্যাংকে পড়ে আছে। উক্ত ট্রাস্টের গঠন এবং পরিচালনার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই এবং ছিল না। তিনি কখনও উক্ত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য ছিলেন না। উক্ত ট্রাস্টের ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনায় তিনি স্বাক্ষরকারী ছিলেন না এবং উক্ত ট্রাস্টের কার্যাদি, লেন-দেন, হিসাব-নিকাশ ও একাউন্ট পরিচালনায় তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বা ছিল না। অর্থাৎ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বেগম জিয়া বা তাঁর পরিবারের কোন সদস্য উক্ত একাউন্ট থেকে এক টাকাও উত্তোলন করেননি। কুয়েত দূতাবাসের আনুষ্ঠানিক পত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দাতা কর্তৃক এই অর্থ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রদান করা হয়েছিল। এরপরেও আইনের মারপ্যাঁচে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এক টাকাও খরচ হলো না, অথচ জবানবন্দীতে দেওয়া ‘প্রশ্নবোধক’ চিহ্নকে ‘দাঁড়ি’ চিহ্ন বানিয়ে দুর্নীতির সহযোগী বানানো হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে! মিথ্যা ও বানোয়াট সাক্ষী ও ঘষামাজা জালিয়াতির কাগজ দিয়ে নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়ে মূলতঃ গণতন্ত্রকে জেলে পাঠালেন শেখ হাসিনা। রায়ের অনেক আগে থেকেই শেখ হাসিনা বলে আসছেন এতিমের টাকা চুরির দায়ে বেগম জিয়ার শাস্তি হবে। তার অবৈধ মন্ত্রীরা বেগম জিয়ার সাজা ঘোষণা করেছেন বারবার। আর সেটা করার জন্যই একজন প্রধান বিচারপতি ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে পদচ্যুত করে এবং তারেক রহমানকে ভিত্তিহীন দুর্নীতির মামলায় খালাস দেয়া নিম্ন আদালতের বিচারপতিকে দেশত্যাগে বাধ্য করে তিনি অধঃস্তন আদালতের দখল নিজের হাতে নিয়েছেন। উদ্দেশ্য হলো, স্বৈরাচারী শাসক কিংবা মধ্যযুগের রাজা বাদশাহ্দের মতো চাইলেই যে কাউকে ইচ্ছামত সাজা শাস্তি দেয়া। দেশের জনগণ মনে করে, বিচার ব্যবস্থাকে কব্জা করে এই রায়ের মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করেছেন। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর কয়েক ঘন্টা পরেই শেখ হাসিনা বরিশালের জনসভায় দম্ভ নিয়ে উপহাস করে বলেছেন ‘তিনি আজ কোথায়’? তার ছেলে বাণী দেয়, “জেলখানাই তাদের ঠিকানা”। একসময় শেখ হাসিনার পিতাও সিরাজ সিকদারকে হত্যার পরে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন – “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার ?” এরপরে কে কোথায় গেছে, তা দেশবাসীর জানা আছে।
 
বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের নামে দুর্নীতির মামলা নতুন কিছু নয়। এসব মামলায় কেউ কেউ কারাগারেও গিয়েছেন। ১৯৬০ সালে দুর্নীতি মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানেরও দু’বছর কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল (১৫ DLR ১৯৬৮)। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বাংলাদেশের বৃহত্তম দুটি দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে যেতে হয়েছে। দেশবাসী তাদের কাউকেই প্রত্যাখ্যান করেনি – বরং তাদের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। যারা তাদের জেলে নিয়েছিল তারাই আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
 
২০০৯ সনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যাওয়ার প্রাক্কালে ১/১১ এর সেনা সমর্থিত জরুরি সরকার বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা উভয়ের নামে মামলা দায়ের করেছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রত্যাহার কিংবা অনুগত বিচারকের মাধ্যমে বাতিল করিয়ে নেন।
 
২০১০ সালে ৩ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মাত্র ৩ মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৫টি মামলা খারিজ করেন গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি বিচারপতি শামসুল হুদা এবং ৪ টি মামলা খারিজ করে দেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা বিচারপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মানিক। এ সকল মামলার মধ্যে বেশ কয়েকটি মামলার বিচারকার্য প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। উল্লেখযোগ্য, ২০০৯ সালের ২২ মার্চ শেখ হাসিনা এই দুই বিচারপতিকে হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। নিজেদের এতগুলি দুর্নীতির মামলা ক্ষমতায় বসে অধীনস্ত প্রশাসন ও দলীয় বিবেচনায় নিযুক্ত কৃতজ্ঞ বিচারপতিদের দিয়ে কৌশলে প্রত্যাহার/ খারিজ করার পর তিনি এখন ‘সৎ’ সেজেছেন। যে দুর্নীতি দমন কমিশন কোমর বেঁধে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা লড়েছে এবং তাঁর জামিনের বিরোধিতা করছে – সেই দুর্নীতি দমন কমিশন শেখ হাসিনার ১৫ টি মামলা খারিজ কিংবা প্রত্যাহার করার বিরুদ্ধে কেন অবস্থান নেয়নি ? কেন কোন আপিল করেনি ??
 
শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা ছিল। তবে কোনো মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। ১৫টি মামলার মধ্যে ৬টি রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। আর হাইকোর্টের মাধ্যমে খারিজ করিয়ে নেয়া হয় নাইকো’সহ ৯টি মামলা।
 
নাইকো দুর্নীতির মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার মতই শেখ হাসিনা একই ধরনের আরেকটি মামলার আসামী ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি নিজের মামলা খারিজ করে নিলেও বেগম খালেদা জিয়ার মামলাটি চলমান রয়েছে। অথচ একই কারণে এই মামলাটিও খারিজ হওয়ার কথা।
 
শেখ হাসিনার আমলে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই দুই বিচারপতির একজন বিচারপতি শামসুল হুদার বেঞ্চে মাত্র তিন মাসে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫টি মামলা খারিজ করে দেয়া হয়। এই পাঁচটি মামলা হলো, ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ক্রয় দুর্নীতি মামলা (৪৪৭ কোটি টাকা), মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা (১৮ কোটি টাকা), নাইকো দুর্নীতি মামলা (১৩ হাজার ৬০০ কোটি ৫০ লাখ টাকা), ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা (৩ কোটি টাকা) এবং বেপজায় পরামর্শক নিয়োগের মামলা (২ কোটি ১০ লাখ টাকা)। ঠিক একই সময়ে হাইকোর্টের অপর বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকও মাত্র তিন মাসের মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চারটি মামলা খারিজ করে দিয়েছিলেন। এই চারটি মামলা হলো, নভোথিয়েটার দুর্নীতি সংক্রান্ত ৩ টি মামলা (৫২ কোটি টাকা) এবং মিগ যুদ্ধ বিমান ক্রয় দুর্নীতি মামলা (৭০০ কোটি টাকা)।
 
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৎ হবেন, সেটাই সকল বাংলাদেশীর কামনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নামে চেকের মাধ্যমে সরাসরি ঘুষ নেয়ার মামলা যদি রাষ্ট্রীয় প্রভাব বিস্তার করে প্রত্যাহার করা হয় – তাহলে দেশে আইনের শাসন আর থাকে কিভাবে? দলের জেলা সভাপতিকে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ করে তারই কোর্টে ৩ মাসের কম সময়ে ৫টি মামলা প্রত্যাহার করা কি নৈতিকতা সমর্থন করে? এর পরেও আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারা সাফাই গান আর চিৎকার করে বলেন আদালতের মাধ্যমে শেখ হাসিনার মামলা নিস্পত্তি হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নয়! বাংলাদেশের জনগণ কি এতই বোকা ? তারা কি কিছুই বোঝেনা ??
 
এক টাকাও দুর্নীতি না করে বেগম খালেদা জিয়াকে যদি জেলে যেতে হয়, তবে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার ও অন্যান্যদের কি শাস্তি হওয়া উচিৎ তা ভবিষ্যতে জনগণের আদালতেই নির্ধারিত হবে ইনশাআল্লাহ্।
——————————————————————————–
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি।
Content Protection by DMCA.com

ধানমন্ডিতে ওবায়দুল কাদেরের রংমহল!

তিনি ওবায়দুল কাদের। রমনীমোহন হার্টথ্রব মন্ত্রী। কবিও বটে। সন্ধার পরে সুরা সাকী নিয়ে বসেন নিজস্ব বালাখানায়।
স্থান ধানমন্ডির আনাম প্লাজার পাশের সুসজ্জিত সুপরিসর একটি এপার্টমেন্টে। একটি হাউজিং কোম্পানী থেকে উৎকোচ হিসাবে পাওয়া ফ্লাটটি, অবশ্য এক স্বজনের নামে রেজিষ্ট্রি করেছেন। ঐ ভবনে সন্ধ্যার পরেই সুরা সাকী নিয়ে মৌজ মাস্তিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন সরকার দলীয় সাধারন সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের নেত্রীদের, সিনেমা জগতের উঠতি নায়িকারা সেখানে গিয়ে জীবন ও শরীর ধন্য করে আসে। পনের থেকে পঞ্চাশ- কোনো অসুবিধা নেই তার!

ছাত্র জীবন থেকে মন্ত্রিত্ব- ওবায়দুলের নারী নিযে ব্যস্ততা পুরোনো হলেও তিনি আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন সাধারন সম্পাদক পদে নিয়োগ লাভের পরে সরকারী গোয়েন্দারা তার পিছনে অতিরিক্ত খোঁজ খবর নিতে থাকে। ভালোর জন্য ঘুরতে গিয়ে শেষে সেতুমন্ত্রীর এই গোপন বালাখানার খবর গোয়েন্দানের নজরে আসে। ওখানকার মোটামুটি সবকিছু নখদর্পনে রয়েছে তাদের- গোপন ক্যামেরায় ধরা আছে মহিলালীগ এবং ছাত্রলীগ নেত্রীদের, কিছু কথপোকথনও রেকর্ড করা আছে। জা গেছে উপযুক্ত  সময়ে তা প্রকাশ করার জন্য নিরাপদে কিছু কপি সরিয়ে রাখা হয়েছে। দু’দিন আগে ওবায়দুলের মায়ের মৃত্যুর পর শোক কাটাতেও বিশেষ আসরের আয়োজন করা হয় জলসাঘরে।

Content Protection by DMCA.com

হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের সাথে ঘুস লেনদেন করে চীনের স্বার্থপরিপন্থি কাজ করায় নিজ রাষ্ট্রদূতকে আটক করলো বেইজিং!

মা মিং কিয়াং। ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত। চীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাকে ক্লিন হিসাবেই জানতো চীন সরকার। কিন্তু সম্প্রতি তার মেয়াদ শেষে বিদায়ের পর ঠিক উল্টো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় মেয়াদপুর্তির অল্পকিছু আগেই রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংকে বেইজিংয়ে ডেকে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায়ই ফিরছিলেন। কিন্তু এয়াপোর্টে আসার আগেই দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের দপ্তর পরিচালিত এন্টি-করাপশন মুভমেন্ট সংশ্লিষ্ট তথ্যানুসন্ধানী দল তাকে আটকে দেয়। চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে দেশটির বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন ও অন্যায়ভাবে চায়নার নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। হঠাৎ করে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং বেইজিংয়ে আটকে দেয়ায় ঢাকা শুরু হয়েছে তোলপাড়। অন্যদিকে দু’টি অভিযোগে ততদন্ত হলছে বেইজিংয়ে- ঢাকায় চীনা অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং চীনের স্বার্থের পরিপন্থি কাজ করা। পুরো বিষয়টি নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

বেইজিং যাওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের বিদায়ী সাক্ষাতের অ্যাপয়েনমেন্ট চাওয়া হয় এবং সে মতে সাক্ষাৎসূচিও নির্ধারিত হয়। কিন্তু ততক্ষণে তিনি বেইজিংয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ে যান। ফলে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে দফায় দফায় খোঁজা হলেও ‘রাষ্ট্রদূত বেইজিংয়ে জরুরি কাজে আটকা পড়েছেন’ মর্মে নোট পাঠায় চীনা দূতাবাস। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতসূচির আগে চীনা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সরকারকে জানান- রাষ্ট্রদূত এমন পরিস্থিতিতে আছেন যে তার সঙ্গে যোগাযোগই সম্ভব হচ্ছে না! প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ঘনিয়ে এলেও প্রায় অভিন্ন বার্তা আসে দূতাবাস থেকে। সেই সঙ্গে বাড়তি তথ্য হিসাবে ‘তার শ্বশুর অসুস্থ’ বলে জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চীনের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের এমন অদ্ভুত আচরণে বিস্ময় তৈরি হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হলে বিষয়টি খোলাসা হয়।

যদিও রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের আমলে ঢাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর ঐতিহাসিক সফর হয়েছে। রাষ্ট্রদূত হিসাবে এতে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। তার হাত ধরে বাংলাদেশে চীনের বেশ কিছু কোম্পানি মেগা প্রজেক্টের কাজও পেয়েছে। তবে জানা গেছে, ঢাকায় থাকাকালে রাষ্ট্রদূত কিয়াং কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সম্পর্কের চেয়ে সুনির্দিষ্টভাবে প্রজেক্ট পাওয়া না পাওয়া বা এর অগ্রগতির খোঁজে ব্যতিব্যস্ত ছিলেন জানিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল এক প্রতিনিধি বলেন, প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনায় প্রায়ই শোনা যেত রাষ্ট্রদূত নাখোশ! তিনি নানা প্রজেক্ট পুশ করতেন, যা চীনের আগের রাষ্ট্রদূতরা কখনই করেননি। যে কোনো দেশে চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দরদাতা নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন মানা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সমঝোতা মতে, এখানে চীনা অর্থায়নের প্রকল্পগুলোতে চীনা দরদাতাদের মধ্যে উন্মুক্ত টেন্ডার হওয়ার কথা। অভিযোগ আছে, রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এটি অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি। এতে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে লাভবান হলেও প্রাথমিক প্রস্তাবনার দ্বিগুণ/তিনগুণ বেশি অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এমনকি ঢাকার বিভিন্ন সরকারী পর্যায়ে রাষ্ট্রদূতের অকূটনৈতিকসূলভ যোগাযোগ এবং লেনদেনের খবর বেইজিংয়ে কর্তাদের নজরে গেছে। চীনা অর্থায়নে যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে  কমিশন ভাগভাগি ওপেন সিক্রেট ব্যাপার। ঢাকায় একটি বিদ্যুৎ কোম্পানির তরফেও রাষ্ট্রদূতকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি ছিল, যেখানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রধান অতিথি হওয়ার কথা হয়েছিল। রাষ্ট্রদূত না ফেরায় সেই আয়োজনও বাতিল করা হয়। নিজদেশের স্বার্থের পরিপন্থি রাষ্ট্রদূতের নানা কর্মকান্ডের খবরাদি কেন্দ্রে জানান দূতাবাসের একজন সামরিক এটাশে।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতকে আসিয়ানের একটি দেশে নিয়োগের প্রস্তাব ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেটিও আটকে গেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ডিসেম্বরে বেইজিং যাওয়া রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াংয়ের নতুন বছরে ঢাকায় ফিরে আনুষ্ঠানিক বিদায় এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে মতেই রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ চীনা দূতাবাসের চাহিদা মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট, বিদ্যুৎ কোম্পানির সংবর্ধনা এবং অন্য প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু না ফেরায় সব কিছুই শেষ মুহূর্তে বাতিল করতে হয়। এমনকি বাহক মারফত তার জরুরি জিনিসপত্রও পাঠাতে হয়েছে। দূতাবাসের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং গত ১৪ই ডিসেম্বর আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এবং ২১শে ডিসেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী বৈঠক করেন। এরপর থেকে প্রায় দু’মাস ধরে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসাবে চেন উই দায়িত্বপালন করছেন। সর্বশেষ তথ্য মতে, ঢাকায় চীনের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসাবে আগেই নিয়োগ পাওয়া ঝাং জু এখন ঢাকায়। তিনি এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশের আপেক্ষায় রয়েছেন।

চীনা রাষ্ট্রদূতের ঘটনাটি ইতোমেধ্যে ঢাকার কূটনৈতিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষকরে সাম্প্রতিক সময়গুলো বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের সাথে চীনা রাষ্ট্রদূতের অস্বাভাবিক দহরম মহরম চীনের নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এর সূত্র ধরেই দিল্লিও শেখ হাসিনার সরকারের উপরে দারুনভাবে নাখোশ হয়। ফলে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দিল্লি পাঠাতে হয়। সর্বশেষে বেইজিং গৃহীত ব্যবস্খাদির ফলে দেশটির দূতবাস আবার সঠিক পথে চলবে আশা প্রকাশ করেন দূতাবাস কতৃপক্ষ।

 

Content Protection by DMCA.com

৫৭ সেনা অফিসার হত্যা করে বিডিআর ধংস করা হলো সেনাবাহিনী পঙ্গু করা হলো – বিচার কবে?

অনেক সময় গেছে, অনেক কথা হয়েছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। নয় বছর পার হয়েছে পিলখানার ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার বিচার হয়নি। পিলখানায় সেনা হত্যার ঘটনা সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যে কলিজায় আগুণ জ্বলছে। এত সংখ্যার অফিসার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও বা এমনকি বিশ্বযুদ্ধেও এক ঘটনায় মারা যায়নি। দুর্ঘটনাসহ স্বাধীনতা যুদ্ধে মোট ৫৫ জন অফিসার মারা গেছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের নামে গত ৮ বছর প্রহসন হয়েছে, কিন্তু আসল হোতারা এখনো গোঁফে তা দিয়ে ঘুরছে। সেনাবাহিনী অপেক্ষায় আছে ঐ নির্মম ঘটনার বিচারের। উপযুক্ত সময়েই সবকিছু হবে। সেনা হত্যা নিয়ে সেনাবাহিনীর গঠিত তদন্ত রিপোর্টে মোটামুটি উঠে এসেছিল সব কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সে তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করে দিয়েছে। তবে জনগণ সব জেনে গেছে ভেতরের কথা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সৈনিক ও অফিসার জানে – কেনো, কোন্ পরিকল্পনায়, পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার কোন পরিকল্পনায় কারা হত্যা করেছে। ঘটনার বর্ননায় না গিয়ে আসল কথায় আসি- কে, কেনো, কোথায় জড়িত ছিলো ইতিহাসের নির্মম ঐ হত্যাযজ্ঞে।

১. RAW: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘R&AW’এর পরিকল্পনায় ও ব্যবস্থাপনায় ”পিলখানা হত্যাকান্ড” ঘটে। এর মূল লক্ষ ছিল- পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার বদলা নেয়া এবং বিডিআর বাহিনী ধংস করে দেয়া। ২০০১ সালের এপ্রিল মাসে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বিডিআর-বিএসএফ যুদ্ধে ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়। এর আগে পাদুয়ায় নিহত হয় ১৫ বিএসএফ। বিডিআর ডিজি মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমানের নির্দেশে ঐ যুদ্ধে অংশ নেয় বিডিআর। ঐ ঘটনার পরে ভারতীয় ডিফেন্স মিনিষ্টার জসবন্ত সিং উত্তপ্ত লোকসভায় জানান, ”এ ঘটনার বদলা নেয়া হবে।” লক্ষ করুন, ১৯৭১ সালে যে সব শর্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সামরিক সাহায্য দেয়, তার অন্যতম শর্ত ছিল “Frontier Guards will be disbanded” (CIA Report SC 7941/71). অর্থাৎ বাংলাদেশের কোনো বর্ডার গার্ড থাকবে না। কিন্তু স্বাধীনতার পরে নানা কারনে পাকিস্তান রাইফেলস বালাদেশ রাইফেলসে (বিডিআর) রূপ নেয়। বিডিআর বাহিনীটি ছিলো আধাসামরিক বাহিনী, যার মূল কমান্ড ও ট্রেনিং ছিলো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মত। অন্যদিকে ভারতের বিএসএফ ছিলো সিভিল বাহিনী, যাদের ট্রেনিং, জনবল সবই ছিলো নিম্নমানের। এসব কারনে বর্ডারে কোনো যু্দ্ধ হলে তাতে বিডিআর সামরিক পেশাদারিত্ব দিয়ে বিজয়ী হত।

পাদুয়া-রৌমারীর বদলা নেয়ার জন্য বিডিআর বাহিনী ধংস করার পরিকল্পনা করে ভারত। এ লক্ষে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী সময়টিকে বেছে নেয়া হয়- যখন হাসিনার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহনের পর পর নাজুক সময়। অনেকেই মনে করেন, ভারতীয় পরিকল্পনায় নির্বাচন ছাড়া অপ্রত্যাশিত পদ্ধতিতে হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নানা শর্তের মধ্যে একটি গোপন শর্ত থাকতে পারে “বিডিআর ধংস করা।” চুড়ান্ত রিস্ক থাকা স্বত্ত্বেও হাসিনাকে তা মেনে নিতে হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী বিডিআর সৈনিকদের দাবীদাওয়ার আড়ালে মুল প্লানটি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৬০ কোটি রুপী বরাদ্দ করে ভারত। এর মধ্যে পিলখানায় ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা বিলি হয়, যাতে প্রতিটি অফিসারের মাথার বদলে ৪ লক্ষ টাকা ইনাম নির্ধারন করা হয়। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারী ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বাছাই করা ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়, যারা পশ্চিম বঙ্গ সরকারের পাঠানো (প্রেমের নিদর্শন) ১ লক্ষ মিষ্টির সাথে বাংলাদেশে ঢুকে। একজন বেসামরিক দর্জি’র কাছ থেকে বিডিআর এর পোশাক বানিয়ে বিডিআর সপ্তাহ উপলক্ষে পিলখানায় উপস্থিত থাকে শুটাররা। তাদের দায়িত্ব ছিলো লাল টেপওয়ালা (কর্নেল ও তদুর্ধ) অফিসারদের হত্যা করা। তারা একটি বেডফোর্ড ট্রাক ব্যাবহার করে ৪ নং গেইট দিয়ে প্রবেশ করে ২৫ তারিখ সকালে। ঘটনার দিন সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কোনো সংবাদ মাধ্যম জানার আগেই ভারতের “২৪ ঘন্টা” টিভিতে প্রচার করা হয় জেনারেল শাকিল সস্ত্রীক নিহত। অর্থাৎ মূল পরিকল্পনা অনুসারেই খবর প্রচার করে ভারতীয় গণমাধ্যম!

পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে বা আর্মির পদক্ষেপে শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হলে তাকে নিরাপদে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রীবাহিনী ও যুদ্ধবিমান আসামের জোরহাট বিমানবন্দরে তৈরী রেখেছিলো ভারত। বিদ্রোহের দিন ভারতের বিমান বাহিনী IL-76 হেভি লিফ্‌ট এবং AN-32 মিডিয়াম লিফ্‌ট এয়ারক্রাফট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে পূর্ণ সহায়তা দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো। ঐসময় প্রণব মুখার্জীর উক্তি মিডিয়ায় আসে এভাবে, “এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহায়তা দিতে ভারত প্রস্তুত। … আমি তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর সতর্কবাণী পাঠাতে চাই, যারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, তারা যদি এ কাজ অব্যাহত রাখে, ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।”

২. শেখ হাসিনা : ভারতের এই পরিকল্পনাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয় বেশ আগেই। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নিমিত্তে ঘটনার ১ সপ্তাহ আগে তড়িঘড়ি করে প্রধানমন্ত্রীকে সুধাসদন থেকে সরিয়ে যমুনা অতিথি ভবনে নেয়া হয়, কেননা পিলখানার ডেঞ্জার এরিয়ার মধ্যে ছিল ওটা। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার মেরামত শেষ না হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের সিগনালে খুব দ্রুততার সাথে হাসিনাকে সুধাসদন থেকে সরানো হয়। এটা এক অসম্ভব ঘটনা। পিলখানা হত্যাকান্ডের পরিকল্পনায় বিরাট সংখ্যায় সেনা অফিসার হত্যা করা হবে, যেটা ১৯৭৫ সালে তার পিতৃ হত্যার একটা বদলা হিসাবে হাসিনার কাছে সুখকর ছিলো। এর মাধ্যমে বিডিআর নিশ্চিহ্ন হবে, টার্গেট করে বিপুল সংখ্যক সেনা অফিসার হত্যা করা হলে তাতে মূল সেনাবাহিনীর কোমর ভেঙ্গে যাবে। গোয়েন্দা খবর পেয়ে ২৫ তারিখে পৌনে ন’টার মধ্যেই এনএসআই ডিজি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে- “পিলখানায় বিদ্রোহ হচ্ছে। ” প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকেন! আক্রমনের পরে অফিসারদের SOS পেয়ে সকাল ১০টার মধ্যে র‌্যাবের একটি দল, এবং ১০.২৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি দল পিলখানার গেটে পৌছায়। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনো অভিযান চালানোর অনুমতি দেয়নি। আশ্চয্যজনকভাবে তিনি সময় ক্ষেপন করতে থাকেন। আর এর মধ্যে ঘটতে থাকে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। খেয়াল করুন, সেনা অফিসাররা কোনো প্রতিরোধ করেনি, কাজেই কি কারনে বিডিআর সৈনিকরা অফিসারদের হত্যা করবে? এটা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সেনা অফিসার হত্যাকান্ড। সারাদিন হত্যাকান্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে বিকালে শেখ হাসিনা হত্যাকারীদের সাথে বৈঠক করে তাদের সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করেন। কিন্তু তিনি একবারও জানতে চাননি, ডিজি শাকিল কোথায়? কি বিস্ময়!! জেনারেল জাহাঙ্গীরের তদন্ত কমিটি শেখ হাসিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুপারিশ করেছিল, যার ফলে হাসিনা ক্ষেপে গিয়ে ঐ রিপোর্ট ধামাচাপা দেন।

৩. গোয়েন্দা সংস্থা: ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোর এক সাংবাদিক ঘটনার আগের দিন এটা জানার পর সে এনএসআইকে এই মর্মে অবহিত করে যে, পিলখানা য় বিদ্রোহের প্রস্তুতি চলছে যার সাথে বিডিআর ও আওয়ামীলীগের নেতারা জড়িত। এনএসআই থেকে উক্ত সাংবাদিককে বলা হয় বিষয়টা চেপে যেতে। ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর পিলখানায় যাওয়ার আগের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। তখন সেনা অফিসারদের দায়িত্ব দেয়া হয় অস্ত্রাগার পাহারায়। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দাগিরি বহাল থাকে। নূন্যতম কোনো বিচ্যুতি ঘটলে প্রোগ্রাম বাতিল হয়। এত কিছু সত্তেও ২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। মূলত: বিদ্রোহের আগাম বার্তা সেনাপ্রধান ম্ইন, ডিজিএফআই প্রধান মোল্লা ফজলে আকবর (ইনি হাসিনার এক সময়ের প্রেমিক ছিলেন), এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল মুনির, সিজিএস মেজর জেনারেল সিনা জামালী, বিডিআর কমিউনিকেশন ইনচার্জ লেঃ কর্নেল কামরুজ্জামান, ৪৪ রাইফেল’এর সিও শামস, মুকিম ও সালাম-এর জানা ছিল। কেননা ২৫ তারিখের আগেই দাবী দাওয়ার লিফলেটের কপি ডিজি শাকিল, এনএসআই ও সরকারের কাছে পৌছে। এমনকি মাঠ পর্যায়ের বহু সেক্টর কমান্ডাররা জানত, ২৫ তারিখে একটা ঘটনা ঘটবে। পরিকল্পনামত প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ২৪ তারিখে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ তারিখের নৈশভোজে যাচ্ছেন না। এমন ঘটনা অতীত কখনও কখনো ঘটেনি!

৪. জেনারেল মইন উ আহমেদ: তৎকালীন সেনাপ্রধান ও ১/১১র প্রধান কুশীলব। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে ভারত সফর করে মইন চেয়েছিলেন পূর্ন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ভারতীয় সমর্থন। ভারত রাজী হয়নি, বরং আ’লীগকে ক্ষমতায় আনার লক্ষে মইনকে কাজ করতে বলে, বিনিময়ে সেফ প্যাসেজ পাবে কুশীলবরা। উপায়ান্তর না দেখে মইন রাজী হয় এবং ২৯ ডিসেম্বর পূর্বপরিকল্পিত ফলাফলের নির্বাচনে ক্ষমতার পালবদল ঘটায়। মইনের বদলে আসেন হাসিনা! ওয়ান ইলেভেনের খলনায়করা যে সব রাজনীতিবিদদের অত্যাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য ফেব্রুয়ারীর দ্বিতীয় সপ্তাহে সংসদে প্রবল দাবী ওঠে। তখন সেনাবাহিনীর চাপের মুখে জেনারেল মইন নিজে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাথে সংসদ অফিসে। এরপর শেখ হাসিনা ধমকে দেন মখা আলমগীর, আবদুল জলিলদের, যাতে করে সেনাবাহিনীর বিচারের দাবী আর না তুলে। হাসিনা এ সময় হুশিয়ার করেন, “কিভাবে ক্ষমতায় এসেছি, সেটা কেবল আমিই জানি।” অন্যদিকে ঐ সময়ই ভারত তার প্লানমত এগিয়ে যায় বিডিআর অপারেশনে। মইনকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে। মইন তার দু’বছরের অপকর্মের স্বাক্ষী আর্মি অফিসারদের আগে থেকেই পোষ্টিং দিয়ে জড়ো করে বিডিআরে। এদের নিধন করা হলে মইনের অপকর্মের সাক্ষী আর পাওয়া যাবে না। ফলে মইনের বিরাট প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল এই হত্যাযজ্ঞ। অন্যদিকে এত সেনা অফিসার নিহত হলে ১/১১ নিয়ে সেনাবাহিনী তথা মইনের বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরা আর মুখ খুলবে না। এতকাল আর্মির রদ্দিমালগুলো যেতো বিডিআরে। কিন্তু এবারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র- পরিকল্পিতভাবে অনেক চৌকশ অফিসার একসাথে পাঠানো হয় বিডিআরে। পিলখানা হত্যাকান্ডের মাত্র ১ সপ্তাহ আগে গুলজারকে ষ্টাডরিলিজ করে বিডিআরে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। রাইফেলস সপ্তাহের আগেই কানাঘুসা শুরু হয়- ২৫ তারিখে বিদ্রোহ হবে। তাই অনেক অফিসার নানা অযুহাত দিয়ে ছুটিতে চলে যায়। সেনাপ্রধান মইনের পিলখানা হত্যাকান্ডে সরাসরি জড়িত ছিল, যার প্রমান মেলে ঘটনার সাথে সাথেই আক্রান্ত ডিজি শাকিল ও অফিসাররা মইনকে ফোনে জানায়। মইন আশ্বাস দেন সেনা পঠাচ্ছি। অথচ তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন নি, সময় ক্ষেপন করে হত্যার সুযোগ তৈরী করে দেয়। ম্ইন চলে যায় যমুনায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে। তেজগাওয়ে এয়ারফোর্স রেডি, আর্মি রেডি সেনিাবাসে। কিন্তু হুকুম আসে না। বিকালে কিছু সেনা ও যানবাহন ধানমন্ডি পর্যন্ত পৌছে গেলেও অপারেশনের অনুমতি দেয়নি হাসিনা ও ম্ইন। ঘটনার ৪ দিন পরে ১ মার্চে হাসিনা সেনাকুঞ্জে গেলে মইন সেনা অফিসারদের ব্যাপক অসন্তোষের মুখে পরেন। এমনকি নিহতদের জানাজার সময় মইনকে চেয়ার তুলে মারতে যায় কেউ কেউ। উল্টো, সেনাকুঞ্জে যে সব সেনা অফিসার বিচার চেয়ে জোর গলায় বক্তৃতা করেছিল, প্রতিবাদ করেছিল- ভিডিও দেখে দেখে এমন প্রায় দু’শ জনকে চাকরীচ্যুত করেছে মইন অনেক অফিসারকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র মামলায় কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে।

৫. সজীব ওয়াজেদ জয়: শেখ হাসিনার এই পুত্রটি আগে থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেড় মাস আগে (১৯ নভেম্বর) হাসিনার উপদেষ্টা ও পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তার Stemming the Rise of Islamic Extremism in Bangladesh শীর্ষক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, জোট সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে ৩০% মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢুকানো হয়েছে। এদের নির্মুল করে সেনাবাহিনী পূনর্গঠন করতে হবে। পিলখানায় বিপুল সেনা অফিসার হত্যা করা হলে সেনাবাহিনীতে ব্যাপক সংস্কার করা সহজ হবে, এবং নতুন নিয়োগ করা যাবে- এমন বিবেচনায় জয় ভারতীয় প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। পিলখানা হত্যার পরে জয় দুবাই যান এবং সেখানে ঢাকা থেকে আগত হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করেন বলে খবর প্রকাশ।

৬. শেখ ফজলে নূর তাপস: হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে এই তাপস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘটনায় তার পিতা নিহত হয়। তাপস ঢাকা-১২র নির্বাচন করতে গিয়ে বিডিআর এলাকায় ৫ হাজার ভোট প্রাপ্তির লক্ষে ৪৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি তোরাব আলী’র মাধ্যমে বিডিআর নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে। তাপসকে নিশ্চয়তা দেয়া হয় যে, বিডিআর সকল সদস্য নৌকায় ভোট দিবে। তার বদলে তাপস আশ্বাস দিয়েছিল বিডিআরের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার ব্যবস্থা করবে। তাপসের বাসায় (স্কাই ষ্টার) বিডিআরের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বৈঠক করে। এমনকি দাবীদাওয়া পুরন না হওয়ায় পিলখানা বিদ্রোহের আগের দিন তাপসকে সম্ভাব্য বিদ্রোহের কথা জানানো হয়। তাপস তাতে সম্মতি দেয় এবং তাদের সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তাপসও এই ষড়যন্ত্রকে কার্যকর হিসাবে মনে করে। ২৪ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ফজলে নুর তাপসের ধানমন্ডিস্থ বাসায় ২৪ জন বিডিআর হত্যাকারী চুড়ান্ত শপথ নেয়। তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন পরিকল্পনাকারীদেরকে গোপন আস্তানা ও যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে। বিডিআর বিদ্রোহের পরের দিন বিকালে শেখ তাপসের ঘোষনা প্রচার করা হয়, যাতে করে পিলখানার ৩ মাইল এলাকার অধিবাসীরা দূরে সরে যান। আসলে এর মাধ্যমে খুনীদের নিরাপদে পার করার জন্য সেফ প্যাসেজ তৈরী করা হয়েছিল। তাপসের এহেন কর্মকান্ডের বদলা নিতে তরুন সেনা অফিসাররা পরবর্তীতে তাপসের ওপর হামলা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ৫ চৌকস কমান্ডো অফিসার চাকরীচ্যুত হয়ে কারাভোগ করছে। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে সেনা তদন্ত এড়াতে তাপস কিছুদিন গা ঢাকা দেয় বিদেশে।

৭. মীর্জা (গোলাম) আজম: যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এই হুইপটি পিলখানা হত্যাকান্ড চলাকালে বিদ্রোহীদের সাথে সেল ফোনে কথা বলতে শুনা যাচ্ছিল। সে হত্যাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দেয় কর্নেল গুলজারের চোখ তুলে ফেলতে এবং দেহ নষ্ট করে ফেলতে (এর অডিও রেকর্ড আছে), কেননা র‌্যাবের সাবেক পরিচালক কর্নেল গুলজারের নেতৃত্বে জেএমবির প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে ধরা হয়েছিল ও পরে ফাঁসি দেয়া হয়। শায়খ রহমান ছিল মির্জা আজমের দুলাভাই। আজম এভাবেই দুলাভাই হত্যার বদলা নেয় গুলজারকে হত্যা করে, এমনকি তার লাশও জ্বালিয়ে দেয়া হয়। এছাড়াও ২০০৪ সালে নানক-আজমের ব্যবস্থাপনায় শেরাটন হোটেলের সামনে গানপাউডার দিয়ে দোতলা বাসে আগুন লাগিয়ে ১১ বাসযাত্রী পুড়িয়ে মারার ঘটনা তদন্ত করে এই গুলজারই নানক-আজমকে সম্পৃক্ত করে। এর প্রতিশোধেই গুলজারে শরীর এমন ভাবে নষ্ট করা হয়, যেনো কেউ চিনতে না পারে। ১৫ দিন পরে ডিএনএ টেষ্ট করে চিহ্নিত করা হয় গুলজারের লাশ।

৮. জাহাঙ্গীর কবির নানক: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী। উনি বিডিআরের ঘাতকদের নেতা ডিএডি তৌহিদের ক্লাশমেট। বিডিআর ট্রাজেডির আগে থেকেই তৌহিদ যোগাযোগ রাখত নানকের সঙ্গে। ঘটনার দিন ২০৪ মিনিট কথা বলে তৌহিদ-নানক। ২৫ তারিখ বিকালে পিলখানার বিদ্রোহীদের নিয়ে শেখ হাসিনার কাছে গিয়ে মিটিং করিয়ে নিরাপদে ফেরত পাঠায় সে। ডিএডি তৌহিদকে বিডিআরের অস্থায়ী ডিজি ঘোষণা করে নানক। কর্নেল গুলজার হত্যায় মীর্জা আজমের সাথে নানক সরাসরি জড়িত। কেননা, র‌্যাবের পরিচালক গুলজারই তদন্ত করে উদঘাটন করে- শেরাটনের সামনে দোতলা বাস জ্বালিয়ে ১১ যাত্রী হত্যা করা হয় নানকের নির্দেশে। ২৫ তারিখে বেঁচে যাওয়া লে: কর্নেল মঞ্জুর এলাহী পালিয়ে ছিল ম্যানহোলে। তার স্বজনরা এসএমএস মারফত খবর পেয়ে নানকের সাহায্য চায়। ২৬ তারিখে উদ্ধার করার বদলে ঐ অফিসারটিকে খুঁজে বের করে হত্যা করায় নানক। এটা সেনানিবাসের সবাই জানে। সেনাবাহিনীর তদন্ত পর্ষদ এড়াতে তদন্তের সময় নানক হঠাৎ বুকের ব্যথার অযুহাতে চিকিৎসার কথা বলে অনেকদিন সরে থাকে সিঙ্গাপুরে। এ নিয়ে সেনা অফিসারদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরকে চাকরীচ্যুত করে হাসিনা।

৯. সাহারা খাতুনঃ সুপরিকল্পিত বিডিআর ধংসযজ্ঞ সংগঠনের নিমিত্ত ভারতের পরামর্শে হাসিনার কেবিনেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়োগ করা হয় অথর্ব সাহার খাতুনকে। বিদ্রোহের দিন কোনো তৎপরতা ছিলো না সাহারার। বরং সেনা অভিযান ও পিলখানায় র‌্যাব ঢোকার অনুমতি চাইলে সাহারা খাতুন ‘না’ করে দেন। বিকালে বিদ্রোহীদের সাথে করে প্রেস ব্রিফিং করে এই মন্ত্রী। অথচ ডিজি শাকিলের কোনো খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করেননি। কারন সে সব জানত। বিদ্রোহীদের সাথে সমঝোতার পরে রাতে তিনি যান পিলখানায় প্রধানমন্ত্রীর বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে। তিনি বিডিআর অফিসারদের পরিবার পরিজন উদ্ধার না করে কেবল আইজিপি নুর মোহাম্মদের কন্যাকে উদ্ধার করেন। অথচ বাকী পরিবার ঐ রাতের আঁধারে নির্যাতিত হয়। সাহারা খাতুনের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টীমের এম্বুলেন্স ও রেড ক্রিসেন্টের এম্বুলেন্স পিলখানায় ঢুকে। এরপরে পিলখানার বাতি নিভিয়ে ঘাতকদের ঐ এম্বুলেন্সে করে পিলখানার বাইরে নিরাপদ যায়গায় সরানো হয়। তখনও অনেক অফিসার আহত হয়ে পিলখানা নানাস্থানে লুকিয়ে ছিলো। কিন্তু সাহারা এদের উদ্ধার করেনি। কর্নেল এমদাদ, কর্নেল রেজা্, ও কর্নেল এলাহীকে এরপরে হত্যা করা হয়।

১০. শেখ সেলিম: শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই। ১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ঘটনায় সে ধরা পরেও রহস্যজনকভাবে বেঁচে যায়, কিন্তু তার ভাই শেখ মনি নিহত হয়। সেনাবাহিনীর ওপরে তারও রাগ ছিলো প্রচন্ড। তা ছাড়া ১/১১র পরে সেনারা ধরে নিয়ে যায়ে এই সেলিমকে, এবং ডিজিএফআই সেলে ব্যাপক নির্যাতন করে শেখ হাসিনার অনেক গোপন কথা, চাঁদাবাজি, বাসে আগুণ দেয়া সংক্রান্ত জবানবন্দী আদায় করে। এতে করে সেনাবাহিনীর ঐ সেটআপের উপর তার রাগ ছিল। বিডিআরের ঘটনার আগে বিদ্রোহী দলটি কয়েকদফা মিটিং করে শেখ সেলিমের সাথে। ১৩ ফেব্রুয়ারীতে শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় এ ধরনের একটি মিটিং হয় বলে সেনা তদন্তে প্রমান পাওয়া গেছে।

১১. সোহেল তাজ: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। শেখ সেলিমের বাসায় অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে সোহেল যোগ দেয়। বিদেশী হত্যাকারীদেরকে নিরাপদে মধ্যপ্রাচ্য, লন্ডন ও আমেরিকায় পৌছানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল সোহেল তাজকে। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রচার করা ঘটনার সময় তাজ আমেরিকায় ছিল। এটি সম্পুর্ন মিথ্যা কথা। সে সময়ে তাজ ঢাকায়ই ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে কয়েকজন হত্যাকারীসহ তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সে রাতেই তাজ ওসমানী বিমানবন্দর থেকে হত্যাকারীদের সাথে নিয়ে বিদেশের পথে যাত্রা করে। সেই হেলিকপ্টারের একজন পাইলট ছিল লেঃ কর্নেল শহীদ। যাকে পরে হত্যা করা হয়, টাঙ্গাইলে রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেজর জেনারেল রফিকুল ইসলামের সাথে। এছাড়া বিমানের বিজি ফ্লাইট ০৪৯ দু’ঘন্টা বিলম্ব করে চারজন খুনী বিডিআরকে দুবাইতে পার দেয়া হয়। এ খবরটি মানবজমিন ছাপে ৩ মার্চ ২০০৯।

১২. কর্নেল ফারুক খান: তিনি ছিলেন পিলখানা বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তের লক্ষে গঠিত ৩টি কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে। জনগণকে ধোকা দেয়ার জন্য প্রথমেই তিনি ঘোষণা করেন, পিলখানার ঘটনায় ইসলামী জঙ্গীরা জড়িত। এটা খাওয়ানোর জন্য সোবহান নামে এক লোককে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়। পরে কুলাতে না পেরে সেখান থেকে সরে আসেন। সেনাবাহিনীর তদন্তে অনেক সত্য কথা উঠে আসলেও তা আলোর মুখ দেখেনি এই ফারুক খানের জন্য। ধামাচাপা দেয়া হয় মূল রিপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মূল রিপোর্ট বদল করে গোজামিলের রিপোর্ট তৈরী করান ফারুক খান।

১৩. হাজী সেলিম: লালবাগ এলাকার আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি। বিডিআর হত্যাকান্ডের সময় তিনি খুনীদের রাজনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে হাজী সেলিম বেশ কিছু গোলাবারুদ ক্রয় করে, যা ভারতীয় খুনীরা প্রথমে ব্যবহার করে। ঘটনার দিন দুপুরে হাজী সেলিমের লোকেরা বিডিআর ৪ নং গেটে বিদ্রোহীদের পক্ষে মিছিল করে। ২৫ তারিখ রাতের আঁধারে পিলখানার বাতি নিভিয়ে দেয়াল টপকে সাধারন পোষাক পরে বিদ্রোহীরা লালবাগ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায় হাজী সেলিমের সিমেন্ট ঘাটকে ব্যবহার করে। হাজী সেলিমের সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনগনকে সেখান থেকে সরিয়ে রাখে। একটি বেসকারী টিভি চ্যানেল ২৫ তারিখ রাত ১টার সংবাদে উক্ত ঘটনার খবর প্রচার করে। সেই রিপোর্টে ঘটনার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য তুলে ধরে, যাতে বলা হয় যে, বেশ কিছু স্পীডবোর্টকে তারা আসা যাওয়া করতে দেখেছে; কিন্তু তারা কাছাকাছি যেতে পারেনি যেহেতু আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীরা তাদেরকে সেদিকে যেতে বাধা দেয়।

১৪. তোরাব আলী ও তার ছেলে লেদার লিটন: আওয়ামীলীগের ৪৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি। ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে এ্বই তোরাব আলী বিডিআর বিদ্রোহীদের পরিচয় করিয়ে দেয় এমপি তাপসের সাথে। মূল পরিকল্পনায় তোরাব আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় স্থানীয় লজিষ্টিক সম্বয় সাধনের জন্য। তার বাড়িতেও বিদ্রোহীদের মিটিং হয়েছে। সে মূলত অবৈধ অস্ত্রের ডিলার। তার ছেলে সন্ত্রাসী লেদার লিটনের মাধ্যমে বিদ্রোহী বিডিআরদের পালিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। এ সংক্রান্ত খরচাদি আগেই তাকে দেয়া হয়। উক্ত লিটনকে ২ মাস আগে তাপস ও নানক জেল থেকে ছাড়িয়ে আনে। ২৫ ফেব্রুয়ারী রাত ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে স্পীড বোটযোগে হত্যাকারীদের বুড়িগঙ্গা নদী পার করিয়ে দেয় লেদার লিটন।

১৫. মহিউদ্দিন খান আলমগীর: পিলখানার ঘটনার সময় এই সাবেক আমলা ও জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মখা মেতে উঠেন বিভৎস উল্লাসে। বার বার ফোন করে খোঁজ নেন বিদ্রোহীদের কাছে, এর অডিও রেকর্ড আছে। এমনকি নিহতদের লাশ গোপন করার জন্য এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুকুমদাতা ছিলেন তিনি। যার বদৌলতে তাকে পরে প্রমোশন দেয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীতে।

১৬. হাসানুল হক ইনু: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্ধকার গলির নেতা। তিনি ১৯৭৫ সালে অনেক সেনা অফিসার হত্যা করেছেন কর্নেল তাহের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড থেকে। ১৯৭৫ সাল থেকে অদ্যাবধি দেশে সংঘটিত সকল সামরিক অভ্যুত্থানে তার যোগসাজস রয়েছে। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় তিনি তার ঘনিষ্ট বিডিআরদের ফোন করে হত্যায় উৎসাহ যুগিয়েছেন, এবং তাদের পরামর্শ দিয়েছেন কি করে লাশ গোপন করতে হবে।

নয় বছর পার হয়ে গেছে ৫৭ সেনা অফিসার সহ ৭৭ নাগরিক হত্যার। বিডিআর বাহিনী বিলুপ্ত করা হয়েছে। ভারতীয় সহায়তায় বিজিবি গঠন করা হয়েছে, যারা এখন বিএসএফের সাথে ভাগাভাগি করে ডি্উটি করে! কয়েক হাজার বিডিআর সদস্যকে কোমরে দড়ি লাগিয়ে বিচারের প্যারেড করানো হয়েছে। জেল হয়েছে সবার। অন্যদিকে রাঘব বোয়লদের বিরুদ্ধে সাক্ষী গায়েব করতে ৫৩ জন বিডিআরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ৫৭ সেনা হত্যার বিচার এখনো বাকী। যেনো তেনো কোনো বিচার চায় না সেনাবাহিনী। তাই হত্যা মামলাও আগাচ্ছে না। যতদিন লাগে লাগুক, হয় কঠিন বিচার হবে, নয়ত বদলা হবে, এটাই তাদের চাওয়া।

https://www.youtube.com/watch?v=wCyByviFR0k

 

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়ার জন্য কাঁদতে কাঁদতে ইন্তেকাল করলেন মাওলানা!

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আয়োজিত গণঅনশনে কাঁদতে কাঁদতে মাওলানা কাজল। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন।
গণঅনশনে মোনাজাত করার সময় হঠাৎ করেই পড়ে যান মাওলানা কাজল মিয়া। পরে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে রাতেই মারা যান তিনি।

মাওলানা কাজল মিয়া (৪০) বাহুবল উপজেলা সদরের উত্তর হামিদনগর আবাসিক এলাকার আবদুস ছমদের ছেলে। তিনি সাতকাপন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি।

বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাহুবল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগেও অনশনে বসেন নেতাকর্মীরা।

অনশন শেষে মাগরিবের আজানের আগে দোয়ার আয়োজন করা হয়। সেখানে আবেগঘন মোনাজাত করেন যুবদল নেতা মাওলানা কাজল মিয়া। একপর্যায়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে তিনি পড়ে যান।
বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আকদ্দস মিয়া বাবুল আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত কাজল মিয়াকে প্রথমে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

কাজল মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রাতেই কাজল মিয়ার লাশ বাহুবলে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় হামিদনগর মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে তাঁর লাশ দাফন করা হবে।

এদিকে কাজল মিয়ার মৃত্যুর খবর বাহুবলে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মাওলানা কাজল মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী।

/শীর্ষ নিউজ

 

Content Protection by DMCA.com
1 4 5 6 7