এভাবে একটা রাষ্ট্র চলতে পারে না : ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

Content Protection by DMCA.com

ছবিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মহাসমাবেশ 

আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। ছবিতে দেখুন সমাবেশে উপস্থিতির খণ্ডচিত্র। 

 

 

 

Image may contain: one or more people, crowd, stadium and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people and outdoor

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Image may contain: one or more people, crowd and outdoor
Content Protection by DMCA.com

ফের জনবিস্ফোরণের আশঙ্কা

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ২ শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনা ছিল নিছক একটি সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু সেই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা হয়েছে তা সত্যিই অভাবনীয়। কেউ কল্পনাও করেনি এমনটি হতে পারে। স্বাধীনতার পর এত বড় ছাত্রআন্দোলন আর হয়নি। একযোগে সারা দেশের সব শিক্ষার্থীদের আন্দোলন- দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম। এমনকি স্বাধীনতার আগেও এমন দৃষ্টান্ত বিরল। স্কুল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। একসঙ্গে রাস্তায় নামেন ছাত্র-ছাত্রীরা। এমন আন্দোলন দেশে-বিদেশে নতুন ইতিহাস ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু এই আন্দোলন সরকার বিরোধী ছিল না। ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছিল নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা যৌক্তিক দাবি নিয়ে। যা জাতীয় দাবিতে রূপ নেয়। স্কুলের কোমলমতি ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আন্দোলনে কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমর্থন জানান। দেশব্যাপী এই ছাত্র-গণআন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল। সরকার বিরোধী আন্দোলন না হলেও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে এই আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকে বলেছেন, এর পেছনে বিএনপি জড়িত। সরকারের ভেতরেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ হয়েছে। কীভাবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হলো? যা দ্রুতই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো।  এর পেছনে কারা জড়িত? কেউ বলছেন, এর সঙ্গে বিদেশি শক্তি বা কোনো গোয়েন্দা তৎপরতা জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। সরকারের মধ্যে এতটা ভয় ঢুকেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মন্ত্রীদের বলতে বাধ্য হয়েছেন, আন্দোলন দেখে যারা ভয় পায় তাদের আমার সঙ্গে থাকার দরকার নেই। কেবিনেট বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ১৪ দলের বৈঠকেও আলোচনা হয়। সরকার ও সরকারি দলগুলোর মধ্যে পুরো বিষয়টি নিয়ে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে এখনো। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কোনো না কোন ঘটনা থেকে যে কোনো সময় হঠাৎ আরও বড় ধরনের আন্দোলন হতে পারে। এলজিআরডি মন্ত্রী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’ জবাবে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘আমরা কোনো গোপন ষড়যন্ত্র করছি না। আমরা আওয়ামী লীগের পতন চাই। এটা ওপেনে চাই, গোপনে নয়।’ সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘আবারও ওয়ান ইলেভেনের গন্ধ পাচ্ছি।’ এর জবাবে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, ‘ওয়ান এলেভেনের গন্ধ পাচ্ছেন, ক্ষমতা হারানোর গন্ধ পাচ্ছেন না?’ আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘নিজেদের তৈরি সংকটের কারণেই এক-এগারোর গন্ধ পাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।’
তবে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, এই ছাত্র বিস্ফোরণের একটি যৌক্তিক কারণ আছে। তাহলো- কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। কোটা আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করা হয়েছে। এর ক্ষোভ ও রেশ ছিল নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে। এই আন্দোলনও সরকার সহিংস পন্থায় নির্মূলের চেষ্টা করেছে। এখন বিশ্লেষক, আওয়ামী লীগ ও আমলারা আশঙ্কা করছেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন যেভাবে জোর করে দমন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ সফল হয়নি। বরং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। শুধু উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, স্কুলগুলোতেও এর প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে! যার বড় প্রমাণ গত ৯ আগস্ট রাজধানীর ভিকারুননেছা স্কুলের ৩৫০ ছাত্রী পরীক্ষার খাতায় ‘ডব ধিহঃ লঁংঃরপব’ লিখেছে। শিক্ষাঙ্গণে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসছে না। ঈদের আগ পর্যন্ত অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রী। সবার মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেই সাথে ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানা ধরনের হয়রানির আতঙ্কও বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যা নিয়ে অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঝিগাতলায় গাড়ির লাইসেন্স ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ করার মধ্যেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বে একদল যুবক অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা সহকারে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর চড়াও হয়। এতে আহত হন অর্ধশতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। এখানে সাংবাদিকদের ওপরও ব্যাপক হামলা হয়। পরদিনও রামপুরা, বাড্ডা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা হয়। এসব হামলায় অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশের সঙ্গে সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা যৌথভাবে অংশ নেয়। এরপর চলে একের পর এক ধর-পাকড় ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন। তবে অবশেষে বিভিন্ন মহলের জোরালো দাবি এবং পরিস্থিতি আবারো অবনতির আশঙ্কায় গ্রেফতারকৃত অধিকাংশকেই ঈদের আগে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও স্বস্তি মিলছে না সরকারি দলে। যদিও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির পাশাপাশি কোটা সংস্কার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এমনকি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; তারপরও সরকারের প্রতি শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। বরং ক্ষোভ যেন ভেতরে দানা বেঁধে আছে। মনে করা হচ্ছে, ‘কোটা’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক’ দুই দফার আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল থাকলেও পরবর্তীতে আর এমন সুশৃঙ্খল হবে না। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অন্যরাও যুক্ত হবে। যে কোনো ঘটনা থেকে হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু হয়ে সেটি সহিংস ও ভয়াবহতম জনবিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। এ ব্যাপারে সরকার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। আর এ কারণেই সরকারের মন্ত্রী ও নেতা-নেত্রীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ওয়ান-ইলেবেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করছেন বার বার।
কোটা ইস্যু থেকে নিরাপদ সড়ক
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ১৭১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। বাকি ১৭০ জন যুগ্ম আহ্বায়ক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের তুলনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে সৃষ্ট আন্দোলনের প্রকৃতি ও পরিধি ব্যাপক বিস্তৃতি পায়। কারণ, কোটা ইস্যুতে সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এমনকি কোটা সংস্কার ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা ‘প্রতারণার শিকার’ হয়েছেন বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। কারণ, ‘কোটা থাকবে না’ এই ঘোষণার পর যখন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যান, তখনই সরকার ইউটার্ন নেয়। ‘কোটা বাতিল কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এতে আদালত অবমাননার কথা আসতে পারে।’ এমন কথা বলে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ঝুলে যায়। উল্টো আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়া হয়েছে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে। তাদেরকে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের লোক এমনকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। একের পর মামলা হয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে। হামলা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের ওপর। তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় তাদের। প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতন ও হামলার শিকার হন কোটা সংস্কার আন্দোলনে জড়িতদের অনেকে। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পা ও মেরুদ-ের হাড় ভেঙে দেয়ার ঘটনাও ঘটে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানিতে অনেকের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিশ^বিদ্যালয়, বাসা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কোটা আন্দোলনের নেতারা। বেশ ক’জন নেতাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটা আন্দোলনের এক নেত্রী অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেখানে তার ছবি দিয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারও চালানো হয়েছে। বিবিসিকে অজ্ঞাত স্থান থেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনের ওই নেত্রী বলেছেন, “এখন বাড়িতেও যেতে পারছি না। কারণ, বাসায় গেলে সেখান থেকে আমাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতেও ভয় পাচ্ছি। হল থেকেও পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। থানার লোকজনসহ সরকারি দলের স্থানীয় নেতারাও আমাদের পরিবারের ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তারা খারাপ আচরণ করছে। ডিবির লোক পরিচয় দিয়ে তারা লোকজনকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা তো আর ডিবির লোকদের চিনি না। সাদা পোশাকে এসে তারা নিজেদেরকে ডিবির লোক বলে পরিচয় দেয়। আসলেই তারা ডিবির লোক, নাকি অন্য কেউ- সেটাতো আর বুঝতে পারি না। ধরে নিয়ে কী করে; কে জানে! ধরলে তো আর ছাড়েও না। তাদের জামিনও হয় না। তাই গৃহবন্দীর মতো অবস্থা।” নিরাপত্তাহীনতার কারণে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করতে রাজি হয় না- এমন অভিযোগ করে কোটা আন্দোলনের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, “আমার বাবা সরকারি চাকরি করেন। বলা হচ্ছে সরকারের খেয়ে, সরকারের পরে আপনার মেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তো আপনার কি আর চাকরিতে থাকা উচিত! আপনার মেয়েকে যদি থামাতে না পারেন, তাহলে কেউ যদি ব্যবস্থা নেয়, বাবা হয়ে আপনি সেটা মেনে নিতে পারবেন কি না সেটা আপনার ব্যাপার। এসব বলে তারা বাবাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করারও হুমকি দিচ্ছে।”
কোটা সংস্কারের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। কিন্তু এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ৮ এপ্রিল রাতভর সহিংস বিক্ষোভের পর লাগাতার সারাদেশে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘কোটা পদ্ধতি বাতিল’ বলে ঘোষণা দেন। পরদিন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল বের করেন। কিন্তু তারপর থেকেই শুরু হয় আন্দোলনের নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনা। এ সব ঘটনা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ দেশবাসীর মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করে। স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সঙ্গে সেই ক্ষোভই যুক্ত হয়। যা এক ধরনের গণবিস্ফোরণে রূপ নেয় মুহূর্তেই। এমন আন্দোলন সঙ্গত কারণেই সরকারের কাছে ছিল অভাবনীয়। কারণ, তারা বারবার দেশের উন্নয়ন ও তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ নিয়ে ‘বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল’ বলে দাবি করে আসছিল। তাদের দাবি, দেশের উন্নয়নে মানুষ আওয়ামী লীগের পক্ষে। বিএনপি-জামায়াত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কিন্তু যখন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন দেখলো দেশবাসী, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এর পেছনে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি জড়িত। ’
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এত বড় আন্দোলন বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনে বা নেতৃত্বে হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে কারা? মূলত, এই আন্দোলনকারীরা রাজনীতি কী- তা ভালো করে বুঝেও না। বরং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে গণবিস্ফোরণ- কোটা সংস্কার আন্দোলন গায়ের জোরে দমন করার প্রতিফলন। এই আন্দোলনকেও একই পন্থায় দমন সরকারের জন্য নিজ পায়ে কুঠার মারার সমান। কারণ, এই মেধাবী তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়েই স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের প্রতিপক্ষ বানিয়ে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। কিন্তু বিষয়টি ক্ষমতাসীনরা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখায় এ প্রজন্ম এখন আওয়ামী বিরোধী মনোভাব পোষণ করছেন। তরুণদের ভেতরে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক ও বুদ্ধিজীবীরাও অনেকে এখন তাদের পক্ষে নেই।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অহিংস আন্দোলনগুলো সহিংস পন্থায় নির্মূলের চেষ্টা সরকারের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হয়নি। আপতদৃষ্টিতে এতে সরকারকে সফল মনে হলেও ফের বড় ধরনের জনবিস্ফোরণের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এসবের মধ্য দিয়েই। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও অহিংস থাকলেও পরবর্তী জনবিস্ফোরণের দৃশ্যপট সহিংস হওয়ার আশঙ্কা করছেন সবাই। সেই আতঙ্ক বিরাজ করছে সরকারের নানা মহলসহ আমলাদের মধ্যেও। জোর করে আন্দোলন বন্ধের রিয়্যাকশন কী হতে পারে তা একটি উদাহরণ দিয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ হচ্ছে চুলার ওপর ডেকচিতে ফুটন্ত পানির মতো, যাকে যত্নের সঙ্গে লালন করতে হয়। প্রয়োজনের সময় এর তাপ কমিয়ে দিতে হয়। আবার যদি এর ওপর ঢাকনি দিয়ে টাইট করে সিল করে দেয়া হয়, তাহলে এটা একটি বিস্ফোরকে পরিণত হয় যেতে পারে।’
সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কী?
গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ছাত্রআন্দোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলেচিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘সড়ক পরিবহন আইন’ অনুমোদন নিয়ে আলোচনার সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গটি ওঠে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “এটা এমন কোনো আন্দোলন ছিল না যে এতো বিচলিত হতে হবে। …ওই রকম কোনো পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হয়নি। এতেই যারা বিচলিত হয়েছিলো তারা দুর্বল চিত্তের মানুষ। এতো দুর্বল চিত্তের মানুষ হলে চলে না। দুর্বল চিত্তের এই মানুষদের আমার সঙ্গে থাকার দরকার নেই, তারা না থাকাই ভালো।” এর পর ১৬ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
অপরদিকে, গত ৯ আগস্ট ১৪ দলের বৈঠকেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ছাত্রআন্দোলন নিয়ে। বৈঠকে আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন জোটের অনেক শীর্ষনেতা। তারা আবারও বড় ধরনের জনবিস্ফোরণের আশঙ্কার কথাও জানান। সেই আন্দোলন হিংসাত্মক হবে বলেই ধারণা করছেন ১৪ দলের নেতারা। এ জন্য তারা সরকারকে সচেতন থাকার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার আহ্বানও জানিয়েছেন। তোপখানা রোডে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শরিকরা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে তাদের ক্ষোভের কথা জানান। আইনে সর্বনিম্ন শাস্তি উল্লেখ না থাকাসহ বেশ কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকার কথাও বলেন শরিকরা। তারা আইনটি চূড়ান্ত করার আগে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। বৈঠকে জেপি’র মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া ও কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান নির্বাচনের আগে আরও বড় ধরনের আন্দোলনের আশঙ্কার কথা বলেন। 
‘আগামীতে আরও অশুভ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি’
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলার সময় ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট তিন দিনে অন্তত ৪৩ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাদেরই একজন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র সাংবাদিক ফয়সাল হোসেন। যিনি আওয়ামী লীগের বিট কভার করেন। গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ের সামনে লাইভ ব্রডকাস্টের সময় তিনি এবং চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন কৃষ্ণ সরকার হামলার শিকার হন। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, “লাইভ চলাকালীন সময় আমার ক্যামেরায় লাথি মারে একদল যুবক। আমি এবং ক্যামেরাম্যান যখন ক্যামেরাটি রক্ষা করতে যাই, তখন তারা আমার ওপর আক্রমণ করে। আমাকে ২০/২৫ জন মিলে একপাশে নিয়ে যায় এবং ক্যামেরাম্যানকে ৫০/৬০ জন মিলে মারধর করে। এর কিছু অংশ লাইভে চলে আসে। এটা যখন তারা বুঝতে পারে তখন তারা ক্যামেরার ক্যাবল খুলে ফেলে এবং ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলে।” তিনি মেরুদ-ে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ক্যামেরাপারসনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
ফয়সাল হোসেনের মতো অন্তত ৪৩ জন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ‘আর্টিকেল ১৯’। আহতদের মধ্যে চারজন নারী সাংবাদিকও রয়েছেন। আর্টিকেল ১৯ বলছে, তারা ৪৩ জন সাংবাদিক আহত হওয়ার হিসেব পেয়েছেন এবং সরাসরি তাদের সাথে কথা বলেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক তাহমিনা রহমান বলছিলেন, এই পরিস্থিতি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেছেন, “সাংবাদিকদের ক্ষমতা সীমিত। আমরা প্রতিটা হত্যা, নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদ করেছি। সরকারের কাছে ধর্না দিয়েছি। অবস্থান ধর্মঘট করছি। অনশন পর্যন্ত করেছি বিচারের দাবিতে। কিন্তু এসব করেও দেখা যাচ্ছে বিচার খুব একটা হয় না।” সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে দোষীদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছিল। আল্টিমেটাম শেষ হলেও একজন হামলাকারীকেও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, “যুক্তির বাইরে জিনিসটা চলে যাচ্ছে। নৈরাজ্যের দিকে চলে আসছে। আগামীতে আমি আরো অশুভ ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি। যার একটা বিরাট উদাহরণ হল সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা। বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলা।” আর্টিকেল ১৯ বলছে, এবছর বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা ২০১৭ সালকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে, ছাত্রআন্দোলনে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে আলোকচিত্রশিল্পী ড. শহিদুল আলমকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় বইছে। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “দামি দামি লেখক-সাংবাদিকরা অপরাধ করলে তাদের অপরাধ কী কারণে অপরাধ নয়? লেখার স্বাধীনতা আছে। কিন্তু লেখার মাধ্যমে দামি লেখক-সাংবাদিকরা দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, সে উপলব্ধি কি তাদের থাকবে না? উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যায় হয়ে যাবে?”এছাড়া, ছাত্রআন্দোলন চলাকালে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদকের বাসায় নৈশভোজ শেষে ফেরার সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা হয়। এসময় তার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। একই সময় হামলা চালানো হয় সুজন সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বাসভবনেও। যার প্রেক্ষিতে সুজন সম্পাদক থানায় জিডি করেন। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে রাষ্ট্রদূতের গাড়িবহরে হামলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নিন্দার পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িত হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয় সরকারের কাছে। যা সরকারের জন্য বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করে। তবে এসব ঘটনা সরকারকে উৎখাতে বিদেশিদের ইন্ধনের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে।

‘দ্রুতই পরিবর্তন হবে’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার দ্রুতই পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ড. কামাল বলেছেন, “১৯৮৯ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ব্রিটিশ মন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন- তোমার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। তিনি বললেন- আরো ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। আমি তখন বললাম, আমি তো তাকে ১৫ সপ্তাহও ক্ষমতায় দেখি না। তখন সেপ্টেম্বর মাস ছিল। আল্লাহর রহমতে ১৫ সপ্তাহের মধ্যেই আমরা মুক্ত হলাম। ১৯৯১ সালে আমি লন্ডনে গেলে ব্রিটিশ ফরেন মিনিস্টার আমাকে দেখে লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন- তুমি কীভাবে ভবিষ্যদ্বাণী দিলে- ১৫ সপ্তাহও এরশাদ ক্ষমতায় থাকবে না। আর সেটাই হল! তখন মনে মনে হেসে বললাম, মনের জোরে বলেছিলাম।” ড. কামাল বলেন, “বাঙালিদের মধ্যে একটা ব্যাপার আছে। অন্যায় যখন সহ্যসীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন আমরা দাঁড়িয়ে যাই, আর মেনে নেয়া যায় না। পরিবর্তন আনতে হবে। এটা একবার না। বারবার আমরা প্রমাণ করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি বলেই পেরেছি। সেটা সেই আশির দশকেও পেরেছি। এর আগেও পেরেছি। এখনো পারার মতো সেই অবস্থা আছে।” গণফোরাম সভাপতি মনে করেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করলে ‘সরকার পরিবর্তন হবে এবং দ্রুতই হবে’। জাতীয় ঐক্য ইস্যুতে তিনি বলেছেন, “কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া হবে- এই নামটা বলার দরকার নেই। কীসের কামাল হোসেনের নেতৃত্ব? আপনি নিজেই একটা নেতৃত্ব। আপনারা সবাই একজন নেতা। নামটা বলার অর্থ কি? আমি মরে গেলে কি ঐক্য হবে না? তখন কি সবাই পরাধীন থাকবেন? আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে যতদিন জীবিত আছি আপনাদের সঙ্গে থাকব।”

পর্দার অন্তরালে কী হচ্ছে?
কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি, মামলা প্রত্যাহার, নির্যাতন বন্ধসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন ছাত্র নেতারা। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সারা দেশে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। ড. কামাল হোসেন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন। এই মহাসমাবেশে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দেবেন। প্রধান বিরোধীদল বিএনপিও জাতীয় ঐক্যের জন্য মুখিয়ে আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় ঐক্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গেছে। তলে তলে সবকিছু পাকাপোক্ত হয়ে আছে। শিগগিরই যে কোনো ইস্যুতে আন্দোলন শুরু হলে সেই আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবে। যা মোকাবেলা করা হয়তো সরকারের জন্য সম্ভব নাও হতে পারে।
তবে এসব ঘটনা সবই দৃশ্যমান। সরকারের জন্য এর চেয়ে খারাপ খবর অপেক্ষা করছে পর্দার অন্তরালে। সরকারের মন্ত্রীদের আশঙ্কায় সেটিই প্রতীয়মান হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এখন এমন একটা বিশ্বাস কাজ করছে, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে এবং তা শিগগিরই। ইতিপূর্বে মনে করা হয়েছিল, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করার পর পরিস্থিতি অবনতি ঘটবে। বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনা সেরকমেরই ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তার আগেই অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।

(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৭ আগস্ট ২০১৮ প্রকাশিত)

Content Protection by DMCA.com

মুঠোফোনে কথাবার্তায় সতর্ক বিএনপি নেতারা!

Content Protection by DMCA.com

হলের সামনে থেকে ঢাবি ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে ডিবি !

Content Protection by DMCA.com

তিন সিটি’র নির্বাচনে গাজীপুর খুলনার পুনরাবৃত্তির আলামত স্পষ্ট!

Content Protection by DMCA.com

কুষ্টিয়ায় কোর্ট প্রাঙ্গনে মাহমুদুর রহমানের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের ফ্যাসিবাদী হামলা, নীরব দালাল মিডিয়া!

 

Content Protection by DMCA.com

আন্দোলন ধ্বংসের প্রেসক্রিপশনে যুবদল- ক্ষমতাসীনদের ছকেই বক্রপথে হাঁটছেন বিএনপির কিছু লোভী নেতা

নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের ছক এঁকেছে বিএনপি। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রাস্তায় নামবে। আগেই দলটিতে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কমিটি গঠনের পর জেলায় জেলায় চলছে নেতাকর্মীদের পদত্যাগ, বিএনপি অফিসে তালা, যুবদল সভাপতির কুশপুত্তলিকা দাহ, অধিকাংশ জেলায় সভাপতিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ মিছিল। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ– প্রত্যেকটি কমিটিই হয়েছে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে। যারা স্থানীয় রাজনীতির সাথে জড়িত, অভিজ্ঞ, মেধাবী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগীদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী এবং ঢাকায় যাদের বসবাস, ঢাকার নেতাদের বাসায় যাদের পদচারণা এমন নেতাদেরই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সূত্রের দাবি– এসব কমিটি দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে হয়নি, মূলত এমন কিছু ব্যক্তি যারা দলে থেকেও অন্যের প্রেসক্রিপশনে দল চালায় এসব তাদের ষড়যন্ত্র। যাতে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কমিটি গঠনের পর নীলফামারিতে সবার পদত্যাগ, ভোলা অফিসে তালা ও কুশপুত্তলিকা দাহ এবং শীর্ষ নেতাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা, গাজীপুরে আগুন, ফেনীতে অসন্তোষ, বাগেরহাটের কেউ জানেই না কখন কমিটি গঠন হয়েছে! মাদারীপুরে ডিগবাজি, শরীয়তপুরেও একই স্টাইল। বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ভাষ্য– এ ধরনের কমিটি গঠন করে লাভ কী? যেখানেই কমিটি সেখানেই অসন্তোষ! সমন্বয়ের মাধ্যমে একটা কমিটিও নেই। আন্দোলনের আগ মুহূর্তে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলে অনৈক্য তৈরি ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এদিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ প্রায় দুবছর হলো। ভাঙা কোমর নিয়ে তারাও এখন জেলা কমিটি দেওয়ার প্রতিযোগিতায়।

এদিকে দেড় বছর পার হলেও এখনো ৫ জনের কমিটি দিয়েই যুবদল পরিচালিত হচ্ছে! বিএনপিপাড়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো মেরুদ-হীন বলে জানা যায়। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পার হলেও হয় না জেলা কমিটি। প্রায় ১৫ বছরেও কমিটি নেই এমন জেলাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে যারা ব্যর্থ হয়েছে তারা এখন হঠাৎ করে নদীর স্রোতের মতো কমিটি দিয়ে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নেতাদের এ নিয়ে ভাবিয়ে তুলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের তিন নেতার সাথে এ নিয়ে কথা হয় আমার সংবাদের। তারা বলেন, এ কমিটি মূলত সরকারি দলের প্রেসক্রিপশনে হচ্ছে, যারা ত্যাগী, মাঠে রয়েছেন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞ, তারা কেউ কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না। একটা কমিটি গঠন হওয়ার আগে স্থানীয় শীর্ষ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পরামর্শ নিতে হয়। কারো পরামর্শ ছাড়াই যুবদল সভাপতির একক ইচ্ছায় এসব কমিটি হচ্ছে। যাদের রাজপথে অভিজ্ঞতা নেই, এমন ব্যবসায়িক নেতাই নেতৃত্বে আসছে, বাদ পড়ছে মাঠের নির্যাতিত নেতারা। প্রতি কমিটিতে ৮ থেকে ৩০ লাখ টাকা নাড়াচাড়া হয় বলে তথ্য রয়েছে তাদের কাছে।

টাকার বিনিময়ে এসব কমিটি অনুমোদনে রয়েছে তারেক জিয়ার একজন উপদেষ্টাও। এছাড়াও দুজন স্থায়ী কমিটির সদস্য, দুজন ভাইস-চেয়ারম্যানও সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ইতোমধ্যে যারা দল ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে তাদের একটি তালিকা করছে একটি গোষ্ঠী। বেগম খালেদা জিয়া বেরিয়ে এলেই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এই তালিকা খালেদার হাতে তুলে দেয়া হবে। দলের শীর্ষ এক নেতার মন্তব্য– এখন কমিটি গঠন মানে প্রতিটি নেতার নামে ডজনে ডজনে মামলা। আন্দোলন শুরু হওয়ার আগেই মামলার ভয়ে ওইসব নেতার কাউকেই তখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। ক্ষমতাসীনদের ছকেই বক্রপথে হাঁটছেন বিএনপির কিছু লোভী নেতা।

কারা হাঁটছেন বক্রপথে? আমার সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে সেই গল্পও। গত ১২ জুন রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুকে আটক করে পুলিশ। যুবদলের একটি সূত্র আমার সংবাদকে নিশ্চিত করেছে, সেদিন সেই বাসায় বৈঠকের কথা বলেই টুকুকে ডেকে নেয়া হয়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোর্ত্তাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসানও। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকা দুজনের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, মূলত নির্বাচন ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের কমিটি নিয়ে আলোচনা হয় সেই বৈঠকে। নির্বাচনের আগে আন্দোলনে যুবদল নেতাদের ভূমিকা কী হবে সেই আলোকে রোডম্যাপ তৈরির পরামর্শ আসে। তবে হুট করে কমিটি ঘোষণার পক্ষে ছিলেন না টুকু ভাই। এ মুহূর্তে কমিটি ঘোষণা করলে দলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে– এমন মতই দিয়েছিলেন তিনি। দলে প্রকৃতপক্ষে যারা ত্যাগী, মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে বিগত সময়ে যাদের সরব উপস্থিতি ছিলো সব কিছু যাছাই বাছাইয়ের মাধ্যমেই কমিটির পক্ষে ছিলেন টুকু ভাই। ওই বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে কমিটির পক্ষেই জোর দাবী তুলেন নীরব। এক পর্যায়ে কমিটি দেয়া, না দেয়া নিয়ে তাদের মাঝে মন-মালিন্য দেখা দেয়।

কিছুক্ষণ পর সাদা পোষাকের লোকজন এসে সেই বৈঠকের পর টুকু ভাইকে নিয়ে যায়। বৈঠকে থাকা একজনের ধারণা, এটি দলের সভাপতি নীরবের কাজ হতে পারে। কমিটি নিয়ে বাণিজ্য চালাতে এবং আন্দোলনকে ধ্বংস করতে কারো প্রেসক্রিপসন নিয়ে এমন কাজ করেছেন নীরব! টুকু আটক হওয়ার পর দলের ভূমিকা কী হচ্ছে এ নিয়ে পরিবারের দুই সদস্যদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও খোঁজ নিয়েছেন। যুবদলের ভূমিকা কি হচ্ছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ। এ বিষয়ে তার স্ত্রীও কোন গণমাধ্যমের সাথে কথা বলছেন না। এদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক টুকু আটকের মাত্র ৭ ঘন্টার মাথায় ১৩ জুন দেশের ১৩ সাংগঠনিক জেলায় যুবদলের আংশিক (পূর্ণাঙ্গ) কমিটি অনুমোদন দেন সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। এর মাধ্যমে নীরবের স্বেচ্ছাচারিতা প্রকাশ পায়। দলে নীরবের উপর সন্দেহের তীর আরো বাড়ে। যেখানে হওয়ার কথা ছিলো টুকুর মুক্তির আন্দোলন ও কর্মসূচী, সেখানে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলে চলছে উৎসব। এর কিছুদিন পর ঢাকা মহানগর উত্তরের ১৭টি থানার আংশিক ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ‘অর্থের বিনিময়ে’ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। পদপ্রত্যাশীদের অভিযোগ বিএনপির ইতিহাসে মহানগর উত্তরে এটিই প্রথম ‘পকেট’কমিটি। দলের আরো একটি অনির্ভর সূত্রের মত, এ মুহূর্তে যেসব জেলায় ছাত্রদলের কমিটি গঠন হচ্ছে সেখানেও নীরব, দলের এক স্থায়ী কমিটি , একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও তারেকের এক উপদেষ্টার ইন্ধন রয়েছে। যার মূল টার্গেটেই হলো সেপ্টেম্বর- অক্টোবরে বিএনপিতে আন্দোলনের যে ছক রয়েছে তা ধ্বংস করা। কমিটি গঠনের পর উঠে আসে সারা দেশে ক্ষোভের চিত্র। ভোলায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর কেন্দ্র থেকে যুবদলের কমিটি ঘোষণার পর তা প্রত্যাখ্যান করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা বিএনপি অফিস ও জেলা যুবদল অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন নেতাকর্মীরা।একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। ভোলায় তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের বাড়ি এই ভোলায়।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিজ জেলা ফেনীতে যুবদলের সদ্য ঘোষিত কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতারা বাদ পড়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত এ সহযোগি সংগঠন। কমিটি ঘোষণার পর মামলার আসামী হয়ে পদত্যাগ করেন ফেনী জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ নিয়ে কেন্দ্রকে একটি চিঠিতে আনোয়ার উল্লেখ করেন, ‘সদ্য ঘোষিত জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে আমার নাম ঘোষনা করা হয়। অথচ আমি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর যাবত কোন রাজনীতির সাথে সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রীয়ভাবে জড়িত নেই, আমি একজন ব্যবসায়ী। একটি মহল আমার নাম ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে জেলা যুবদলের সদ্য কেন্দ্র ঘোষিত কমিটিতে আমার নাম দেয়। অথচ পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে কামরুল হাছান দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকে এখনো প্রায় ১৭ মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবনযাপন করছেন।

এছাড়াও রয়েছেন হায়দার আলী রাসেল ৩২টি মামলার আসামী, জাহিদ হোসেন বাবলু দুই ডজন মামলার আসামী । তালিকায় রয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীও। এছাড়া বাগেরহাটে সাবেক ছাত্রদলের দুই নেতা হারুন আল রশিদকে সভাপতি ও মোল্লা সুজাউদ্দিন সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করার পর পরই নতুন কমিটির জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সাজ্জাদ হোসাইন কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেন। চিঠিতে পদত্যাগী নেতারা সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল বিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগ ঘরানার বলে দাবি করেছেন। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করা না হলে যুবদলের সকল সাংগঠনিক ইউনিটের নেতারা একযোগে পদত্যাগ করাসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিয়েছেন ওই পদত্যাগীরা।
অভিযোগ আছে , গাজীপুরেও যুবদলের পকেট কমিটি গঠন হয়েছে। এ নিয়ে ত্যাগি নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় কার্যালয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুল হাসান রাজুর নেতৃত্বে আগুন দেন নেতাকর্মীরা। হাসান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনের অনুসারী। দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয়ায় পুড়ে গেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি।

এছাড়াও বিতর্কিত কমিটি গঠন হয়েছে মাদারীপুরে। ঘোষিত কমিটি ১ ঘণ্টার ব্যবধানে তা পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে সরোয়ার হোসেনকে সভাপতি ও মোফাজ্জল হোসেন খান মোফাকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তা পরিবর্তন করে মোফাজ্জল হোসেন খান মোফাকে সভাপতি ও মো. ফারুক বেপারিকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারেক রহমানের নাম বিক্রি করে ঘোষিত কমিটি ঘন্টার মধ্যে পরিবর্তন করে দেন তারেকের ঘনিষ্ঠ বেলায়েত হোসেন। তিনি সাবেক ছাত্রদল নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা তালুকদার আনিসুর রহমান খোকন দ্বারা প্রভাবিত হয়েই মূলত এ কাজটি করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নেতারা পল্টন নেতাদের সামনে এসে উচ্চস্বরে চেঁচামেচি করে করে এ ধরণের কমিটি গঠন বন্ধ করতে হুশিয়ারী দিয়ে যান।

সারাদেশে কমিটি নিয়ে বিএনপিতে বিভক্ত এবং এটি আগামী আন্দোলনে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আমার সংবাদকে বলেন, নিশ্চয়ই যারা কমিটি গুলো করছে তারা আমাদের চাইতে অভিজ্ঞ। আমি মনে করি কমিটি গুলো করা ঠিক হচ্ছে। এ কমিটির আলোকে আগামী নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের এক তরফায় মামলার ঝুঁকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন করবে। তারা কমিটিতে থাকলেও মামলা হবে , না থাকলেও মামলা হবে। সরকারের নির্যাতন থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাঁচার কোনো উপায় নেই। কমিটি গঠন এটি দলে স্বাভাবিক বিষয়। দেড় বছরেও যুবদল কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে হুট করে সারাদেশে কমিটি দিয়ে দিচ্ছে এটি কি আদর্শিক যুক্তির কাতারে পড়ে কিনা এমন প্রশ্নে আলাল বলেন, আসলে কেন্দ্র কমিটি অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ করা উচিৎ। আগে নিজেদের মেরুদন্ড শক্ত করা উচিৎ ছিলো। কমিটি ঘোষণার পর বেশ কিছু যায়গার প্রতিক্রিয়া শুনতে পেয়েছি, আসলে আমিতো সব কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে পারি না।
যুবদলে কমিটি গঠনের পরপরই ফের আলোচনায় চলে আসে সভাপতিকে নিয়ে। কে এই নীরব? এ নিয়ে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রের সাথে কথা বলে অনুসন্ধানে জানা জানায়, নীরবের বেড়ে উঠা রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায়। আবার সেই একই এলাকা থেকে এখন ক্ষমতাসীন দলে রয়েছেন একজন শীর্ষ মন্ত্রী। তার সাথে নীরবের বহু দিন থেকে সখ্যতা। এ কারণে বিরোধী দলের নেতা হয়েও ক্ষমতাসীন দলের মর্যাদায় রয়েছেন তিনি। যার কারণে কখনো তাকে আইনী জটিলতায় পড়তে হয় না। প্রশাসনের বাধা কিংবা আইনী জটিলতায় পড়তে হয় না। শুধু তাই না, ওই মন্ত্রির প্রভাব নীরব দলেও খাটান। নিজের মতের বিরুদ্ধে গেলে ওই মন্ত্রীর সাহায্য যে কোন মুহূর্তে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা রাখেন এই নীরব । এজন্য গত ১০ বছরেও নীরব রাজনীতিতে বড় পদ-পদবীতে থাকলেও কখন আটক হতে হয়নি তাকে। মামলার অজুহাতে রাজপথে বিগত সময়ে কোনো আন্দোলনেই দেখা মেলেনি নীরবকে। ঘরোয়া প্রোগ্রামেও কর্মীরা এই নেতার মুখ এখন দেখেন না। তাছাড়া সেই ১/১১-এর সময় থেকে দলে নীরবের ভূমিকা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ।তাহলে দলে সব সময় নীরবের পদ বড় থাকে কেন?

এ নিয়ে অনুসন্ধ্যানে আরো জানা যায়, নীরব তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে যখন এসএসসি পাস করেন, এরপর তার আর কোনো পড়াশোনা হয়নি। নীরবের ঘনিষ্ঠজনদের মত, তেজগাঁও কলেজ ও আবুজর গিফারী কলেজেও ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু পাশ করেছেন কিনা সেই তথ্য তাদে কাছে নেই। এর পর থেকে রাজনীতির প্রভাব আর টাকা কামাই এক সাথে করেছেন তিনি। তখন থেকেই দলে অর্থনৈটিক প্রভাবটা সব চেয়ে বেশী। টাকার বিনিময়ে সব কিছু ম্যানেজ তারপক্ষে সম্ভব! তাছাড়া ১৯৮৮ সালে তেজগাঁও থানার সেক্রেটারি নির্বাচিত হন নীরব।ওই সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা রুহুল আমীন জাহাঙ্গীর ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচন করে ফেল করেন। এই জাহাঙ্গীরকে গুরু মেনেই নীরবের পলিটিক্সে যাত্রা। অভিযোগ, সে সময় থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেস, সেন্ট্রাল প্রেস, গভঃ প্রিন্ট্রিং প্রেসের প্রায় ৫শকোটি টাকার কাজ এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন এই যুবনেতা। এ ছাড়া এই তিন প্রেসের কয়েক হাজার টন বাতিল কাগজ কোনো টেন্ডার ছাড়াই নিয়মিতভাবে নিতেন তিনি। ১৯৮৯ সালে নীরব শিষ্যত্ব নেন সে সময়কার ছাত্রদলের প্রখ্যাত ক্যাডার উজি সাবমেশিনগানখ্যাত কামরুজ্জামান রতনের। রতন তার সহায়তায় ১৯৯৪ সালে মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ সময় তার উত্থান উল্কার মতো ছুটতে থাকে। ভিপি সোলায়মান, পলিটেকনিকের মিজান, কালা জাহাঙ্গীর, আচ্ছি বাবু, নাখালপাড়ার জব্বর মুন্না প্রমুখকে নিয়ে গড়ে উঠে তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তারেক রহমনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের চাচাতো ভাই পরিচয়ে পিডাব্লিউডি, সিএএমএমইউ, ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্টে যাবতীয় কাজ বাগিয়ে নেন।

একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলসহ সারা ঢাকা শহরে চলতে থাকে তার চাঁদাবাজি। চাঁদাবাজির অভিযোগে ২০০২ সালে অপারেশন ক্লিনহার্টে মহাখালী ডিওএইচএস থেকে আটক হন নীরব। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের ফোনে এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চারদিনের মাথায় ছাড়া পান তিনি।দীর্ঘ সময়ে নেতৃত্বর নানা পালাবদল হলেও দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে গেলেও প্রায় এক দশক আর এই নেতাকে কারাগারে যেতে হয়নি। যুবদলের যায়গা পেয়ে নীরবকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। নেতৃত্ব বিরোধী দলে তবুও ক্ষমতাসীনদের কোনো বাধায় তাকে পড়তে হয় না। এ নিয়ে নীরবকে গত বুধবার থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ফোনে চেষ্টা করেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার ব্যাক্তিগত ফোন নাম্বারটিও সংযোগ নেই। সিনিয়র বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের মত, টুকু আটক হওয়ার পর থেকে নীরব কোনো গণমাধ্যমকে মন্তব্য দিচ্ছেন না এবং তার ফোনেও সংযোগ মিলছে না।

 

Content Protection by DMCA.com

ছাত্রদের আন্দোলনে নরওয়ে সরকারের সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের পরে এবার নরওয়ে সরকার বাংলাদেশের ছাত্রদের আন্দোলনে সমর্থন জানালো। এক বার্তায় নরওয়ে দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে-

“The right to freedom of expression and speech are rights enshrined and protected in both the Constitutions of Bangladesh and Norway. The Norwegian Embassy in Bangladesh is deeply concerned about continued attacks on those rights and an attempt to undermine the constitutional rights of Bangladeshi citizens. University students, like all Bangladeshis, have a right to protest and practice their democratic rights. As friends of Bangladesh, we stand together with protesting students in their demands for their right to assembly and their right to articulate their concerns to be protected by the rule of law.”

Content Protection by DMCA.com

কোটা আন্দোলনে ‘বাম ঘরানার শিবির’ তত্ত্ব!

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5 6