চট্টগ্রামে সেনা তৎপরতায় স্বস্তিতে ভোটার

Content Protection by DMCA.com

ভোটের আগে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান

জেগে উঠুন, সাহস করে দলে দলে কেন্দ্রে যান, ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ের বেশে ঘরে ফিরুন —
বিশেষ সংবাদদাতা।।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান সকল হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলে-দলে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ধানের শীষে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দিন। আপনাদের একেকটি ভোটই নিশ্চিত করতে পারে নিরাপদ ও শান্তির বাংলাদেশ।ভোট দিয়ে ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ভোটের ফল বুঝে নিয়ে বিজয়ের বেশে তবেই ঘরে ফিরবেন। ভোটার ও আওয়ামী দু:শাসন বিরোধী জনগনের প্রতি তাঁর দৃঢ় – দৃপ্ত কন্ঠের উদাত্ত আহবান,আসুন। জেগে উঠুন। কোটি-কোটি দেশপ্রেমিক সূর্য-সন্তান। তাহলেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস। ৩০ ডিসেম্বর উঠবে গণতন্ত্রের নতুন সূর্য। আপনারা যদি বীরদর্পে বেরিয়ে আসেন হাজারও ভোটারের ভিড়ে গুটিকয়েক লোক কোনোভাবেই আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। সুতরাং আত্নবিশ্বাস রাখুন, সাড়ে দশ কোটি ভোটারের এই শক্তিকে কেউ, কোনো কিছু, কোনো ভাবে রুখতে পারবে না। বাংলাদেশের জনগণ ভীতু নয়। দুর্বার, সাহসী, দুর্জয়। যার প্রমান আপনারা দিয়েছেন বারবার, বহুবার, প্রতিবার।এবারও এসেছে সেই চূড়ান্ত সময়। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০ টায় লন্ডন থেকে অনলাইনে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষনে তারেক রহমান এই আহবান জানান। তাঁর এই বক্তৃতা ফেসবুক, অনলাইন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এবং ইউটিউবে একযোগে সম্প্রচারিত হয়।

তারেক রহমান প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। স্বৈরশাসকের দেশবিরোধী পরিকল্পনায় আপনারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না। আপনাদের উপর দেশবাসীর এখনো আস্থা আছে… আশা আছে। জনগণ বিশ্বাস করে, আপনারা বিবেকবর্জিত কাজ করবেন না।নিজের দেশের আপামর জনতার উপর অত্যাচারের অন্যায় সরকারি নির্দেশ মানতে আপনারা বাধ্য নন। আপনারা এ দেশেরই সন্তান। কারো স্বজন; কারো বন্ধু; কারো প্রতিবেশী। তাহলে কেন নিজের ভাইয়ের দিকে অস্ত্র তাক করছেন? নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন যা চলছে এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়। স্রেফ সন্ত্রাস। একটি কথা আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সন্ত্রাস করে মানুষকে কিছুদিন হয়তো দাবিয়ে রাখা যায়। কিন্তু সন্ত্রাসীদের চূড়ান্ত বিজয় হয়না। বিজয় হয় জনগণের। তারেক রহমান বলেন, শত উস্কানি আর অপতৎপরতার মুখেও বিরোধীদল জেল জুলুম সহ্য করে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটের লড়াইয়ের অংশ নিয়েছে। কারো পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।এভাবেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি। কিন্তু জনগণ যদি বৈধ উপায়ে নিজ দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার হারিয়ে ফেলে সেটি কারো জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারেনা।এ কারণেই আমি বলেছি আমরা বলছি আসন্ন নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ। ৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য। আর এবারের মুক্তিযুদ্ধ মাতৃভূমিকে নিরাপদ করার জন্য।এই যুদ্ধের ময়দান সারা দেশের ৪০ হাজার ১৯৯টি ভোট কেন্দ্র। এ যুদ্ধে আমাদের অস্ত্র বুলেট নয়, ব্যালট। এ ব্যালট যুদ্ধে আমাদেরকে জিততেই হবে। এ যুদ্ধে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদেরকে পরাধীনতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে।তাই ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার প্রধান দু’টি পক্ষ কেবল ধানের শীষ আর নৌকা নয়। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ নয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আর মহাজোট নয় ।বরং ভোটের দু’টি পক্ষ — গণতন্ত্র বনাম স্বৈরতন্ত্র। স্বাধীনতা বনাম পরাধীনতা। সাড়ে দশ কোটি ভোটার বনাম একটি জনবিচ্ছিন্ন দল। তাই এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তির প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ‘ধানের শীষ’। বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ‘ধানের শীষ’। মজলুম জননেতা তারেক রহমান ৩০ ডিসেম্বর আরেকটি ইতিহাস রচনার দিন হিসাবে উল্লেখ করে বলেন,এ দিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অপশক্তির দাস না মুক্তির ইতিহাস। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক প্রহর বাকি। জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। এমনটিই হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু দেশে নির্বাচনের সেই পরিস্থিতি নেই। নির্বাচন আজ পরিণত হয়েছে নির্যাতনে, প্রহসনে। আপনারা দেখছেন, বিরোধী দলের প্রার্থীকে গুলি করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। গায়েবি কিংবা মিথ্যা মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে।কারণ একটাই, বিরোধী দল বিনা বাধায় প্রচারণার সুযোগ পেলে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে তারা পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করবে। ফলে আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের নামে প্রতারণার সুযোগ পাবে না।আমরা আগেই বলেছি, ক্ষমতালোভী শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তারপরও বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের শক্তির উপর বিশ্বাস রেখে- আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যাতে তারা একতরফা নির্বাচনের সুযোগ না পায়।

তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ দেখেছে। দেখছে এ নির্বাচনে বিরোধী দলের আন্দোলনের কাছে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। জনগণের সামনে বেরিয়ে এসেছে তাদের কুৎসিত, কদাকার। নির্লজ্জ ও স্বৈরতান্ত্রিক চেহারা। দলীয় সন্ত্রাসী এবং প্রশাসনের অবৈধ সুবিধাভোগী একটি অংশের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে ভোটারদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারেক রহমান ভোটারদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা ও গ্রেফতার নির্যাতন হুমকি ধামকি ভয়ভীতি প্রদানের দু:সহ অবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সহ বিরোধী দলগুলো চায় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসুক। আর আওয়ামী লীগ চায় সারা দেশে এমন একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে যাতে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসতে না পারেন।

আজ বাংলাদেশে দু’টি বিপরীতমুখী স্রোত তৈরী হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন অপশক্তি আর তাদের নির্লজ্জ অনুসারীরা।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নাই, হয় নির্বাচন পিছান, নইলে পদত্যাগ করুন- ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে ইসির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চরম সংঘাতময় মুহুর্তে সিইসি নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার। সাক্ষাতে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ অনুপস্থিত। তাই নির্বাচন এক মাস সরিয়ে পরিবেশ ঠিক করতে পরামর্শ দেন। সিইসি এতে রাজী না হয়ে আর্গুমেন্ট শুরু করলে তখন বলা হয় তবে আপনি সরে দাড়ান! খবর ইসি সূত্রের।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রচার-প্রচারণায় যে সব ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ড’ হয়েছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভোটের দিনে অধিক মাত্রার সহিংসতার আশঙ্কা করছে। এ জন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। সহিংসতার আশঙ্কায় ওয়াশিংটনের বার্তা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ঢাকায় নব নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণায় যে সহিংসতা হয়েছে তাতে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। সংখ্যালঘু এবং নারী প্রার্থীরাও আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। যা সত্যিই উদ্বেগের।

এ নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা-ও উল্লেখ করে মার্কিন দূত বলেন, ভোটের দিনে সহিংস পরিস্থিতি ঠেকাতে এখনই ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আমরা আহ্বান জানিয়েছি।

এ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে জরুরি সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সিইসি মিস্টার হুদার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

সেখানে অন্য কমিশনাররাও ছিলেন। মার্কিন দূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেখতে চায়। তারা চায় সবাই নির্বিঘেœ ভোট দিক। ভোটারদের নির্বিঘেœ-নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটে জনমতের সত্যিকারের প্রতিফলন দেখতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের বন্ধু-উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের যে আকাঙ্খা সেটি পূণর্ব্যক্ত করে মার্কিন দূত বলেন, আমরা আশা করি ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষেই ভোট দিবে। সে যে দল বা মতের হোক না কেন। শান্তিপূর্ণভাবে সবাই সবার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যে কোন গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। সভা-সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে সবার অধিকার থাকবে।
রবার্ট মিলার বলেন, এখন পর্যন্ত যে সহিংসতা হয়েছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন। ভোটের দিন অধিক মাত্রায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবার্ট মিলার বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আমরা বলেছি যুক্তরাষ্ট্র গত দুই সপ্তাহের নির্বাচনী সংহিসতা নিয়ে অবগত আছে। বড় বড় নেতারাসহ সংখ্যালঘুরা সহিংসতায় আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ বড় নেতারাই বিরোধী দলের। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য সহিংসতা প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা কী জানতে এসেছিলাম। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘের (ইউএন) মহাসচিব একটা বিবৃতি দিয়েছেন। সেই দাবি আমাদেরও। তিনি বলেছেন- নির্বাচনের আগে ও পরে সকল অংশীজনের কাছে তিনি সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বলেছেন। যেন সংখ্যালঘুসহ সকল বাংলাদেশি ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষকরা যেন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।

Content Protection by DMCA.com

‘আট কোটি টাকা’ নাটকে ফেঁসে গেলো হাসিনা!

।।রাজনৈতিক ভাষ্যকার।।
বাংলাদেশের অবৈধ সন্ত্রাসী সরকার ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকদের মেরে-কেটে রক্তগঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েও ক্ষান্ত হচ্ছে না। শীষের উর্মিমুখর জোয়ার দেখে দিকভ্রান্ত উন্মাদ এখন গণবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার।

নির্বাচন থেকে বিরোধীদের সরানোর জন্য প্রতিদিনই হামলা গুলিবর্ষণ ও গ্রেফতার করছে তারা, যা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকেও ছাড়িয়ে গেছে। নতুন নতুন সব কূটকৌশল বাস্তবায়ন করছে তারা। জনগনের ওপর পুলিশ ও র‌্যাবকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত নীলনক্সা অনুযায়ী এবার তারা টাকা আটকের নতুন নাটক করতে গিয়ে ফেঁসে গেছে জুলুমবাজ সরকার।

ভোটের চার দিন আগে মঙ্গলবার মতিঝিলের একটি অফিসে নগদ আট কোটি টাকা উদ্ধার ও ১০ কোটি টাকার চেক জব্দ করার নাটক মঞ্চস্থ করেছে র‌্যাব প্রধান গোপালী বেনজির। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের দলের নেতারা এই নাটকের চিত্রনাট্য গত কিছুদিন ধরে অল্প অল্প করে বলে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে লন্ডন থেকে পুলিশ হত্যা ও টাকা দিয়ে কিনে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এরপর বুধবার তার বাসভবন ‘সুধাসদন’ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পিরোজপুর জেলায় দলের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেছিলেন, “আমরা আজ খবর পেয়েছি যে নির্বাচনের তিন-চার দিন আগে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, এবং ব্যাপক টাকা ছিটিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনতে পরিকল্পনা করছে।”

আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছিলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন তারেক রহমান। এজন্য তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।”

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেশের সচেতন মানুষ অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাদের নেতাদের বক্তব্যে আঁচ করতে পেরেছি কিছু একটা করবে তারা।তবে জঙ্গী নাটক করতে করতে ক্লান্ত র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ মনে হয় সব গুলিয়ে ফেলেছেন। টাকা জব্দ করার এই কাহিনী বিশ্বাসযোগ্য হয়নি সাধারন মানুষের কাছে। কারন- নাট্যকার বলেছিলেন টাকা আসবে লন্ডন থেকে। কিন্তু বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে বললেন, টাকা হুন্ডির মাধ্যমে এসেছে দুবাই থেকে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বচ্ছ রাজনীতির অনুপম দৃষ্টান্ত দেশনায়ক তারেক রহমানকে এতে জড়িত করার জন্য তার সাবেক এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন অপুর কথিত অফিসে গিয়ে নাটকটি মঞ্চস্থ করা হলো। যিনি শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা- ভেদরগঞ্জ-গোসাইরহাট) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যাকে তিনদিন আগে আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা করে প্রাণনাশের চেষ্টা করেছে। কথিত টাকা উদ্ধার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে বলা হলো সে নাকি হাওয়া ভবনের লোক। তবে মতিঝিল সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড করপোরেশন কার্যালয়ে টাকা উদ্ধারে গিয়ে ফাঁস হয়ে গেল অবৈধ হানাদার সরকারের ভয়ংকর নীলনকশা। দেখা গেছে, র‌্যাবের কথিত অভিযানকারীরা সেখানে নুরুদ্দিন অপুর ভোটের যে রঙিন প্রচারপত্র ও পোস্টার নিয়ে যায় তা ছিল ভূয়া ও তাদের নিজেদের ছাপানো। নির্বাচনে যেখানে রঙিন পোস্টার নিষিদ্ধ। দেশের কোন প্রার্থীই রঙিন পোস্টার ছাপেননি। মিডিয়ার ক্যামেরাপার্সনদের ডেকে নিয়ে যে ভিডিও এবং আলোকচিত্র ধারন করানো হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে- টাকার পাশে অপুর রঙ্গিন নির্বাচনী পোষ্টার রাখা। অথচ এখন রঙ্গিন পোষ্টার করা হয় না। পোস্টারে মিয়া নুরুদ্দিন অপুর নামের বানানও ভুল। এতে প্রমানিত হলো- অপরাধী নিজেরাই তাদের অপরাধের প্রমান রেখে যায়। বেনজির আহমদের লোকজনের এই ভুল করার কারনে দেশের মানুষের হাস্যরসের সৃস্টি হয়েছে। সোসাল মিডিয়ায় এটা ভাইরাল হয়ে গেছে। দেশের মানুষ ফেসবুকে বলছেন- “শীতকালে এমন খবর না দিলেও পারেন, মানুষের ফাঁটা ঠোঁটে হাসতে সমস্যা হয়। এসব নাটক পাবলিক আর খায়না রে ভাই, ১০ বছর নাটক দেখতে দেখতে ক্লান্ত”। কেউ কেউ বলছেন, “চিত্রনাট্য খুবই দুর্বল। ভোটে এভাবে টাকার লেনদেন নাকি? এতদিন জংগী নাটক, এখন টাকার নাটক ঠিক যেন মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মত! এমনও তো হতে পারে টাকা গুলো র‌্যাব-পুলিশকে দেওয়ার জন্য ভাতা হিসাবে পাঠিয়েছিল কেউ।”

সংবাদ সম্মেলনে এসে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, “ভয়াবহ ষড়যন্ত্র বানচাল করা হয়েছে। দুবাই থেকে প্রায় দেড়’শ কোটি টাকা এসেছে। এর অধিকাংশই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। আমরা এতোদিন বিএনপির পক্ষ থেকে হুমকি ধামকি শুনে আসছি। এই হুমকির অন্যতম কারণ হলো এই টাকা। হুমকি ধমকি যে অসত্য না, তা এই লেনদেনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। হুমকি-ধামকির উৎস শত শত কোটি টাকা।”

এইসব মিথ্যা নাটক পাবলিক আর খায় না। জনগণ এতো বেকুব না যে, যারা মিটিং মিছিল করতে পারে না,  রাস্তায় নামতে পারে না, তারা আবার টাকা বিলি করবে! কি হাস্যকর ব্যাপার! ধানের শীষের প্রার্থীদের টাকা দিয়ে ভোট কেনার কোন প্রয়োজন আছে কি না তা দেশবাসী সম্পূর্ন ওয়াকিবহাল। তাদের ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিলে এমনিতেই তারা ২৫০-র উপরে আসন পাবে। জনগন বলছেন, আওয়ামীলীগেরতো মাত্র ৫% ভোট। বিএনপির ৯৫% ভোট থাকার পরেও তারা টাকা দিয়ে ভোট কিনতে যাবে কেনো? বাংলাদেশের মানুষ খুব ভাল করেই জানে এসবের পেছনে কে বা কারা আছে। যারা আছে, তারাই গত কয়েকদিন বক্তৃতায় ‘টাকা কাহিনী’ বলে বেড়াচ্ছেন। তাই এইসব নাটক পাবলিককে আর গিলানো যাবেনা।

কোন পাগলও বিশ্বাস করবে না যে, আট কোটি নগদ টাকা, আর দশ কোটি টাকার চেক একটি অরক্ষিত অফিসে কেউ রাখবে।

এটা বুঝতে আর কারো বাক নেই যে, একটি প্রতিবেশী দেশকে নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য এই টাকার সাথে আইএসআইকে সম্পৃক্ত করেছে আওয়ামী অনুগত দলদাস বেনজীর আহমদ।

এইসব নোংরা খেলা বন্ধ করার প্রয়োজন। যত নাটক করুক না কেনো আর কোন লাভ হবে না। প্রতারণা, মিথ্যাচার, প্রহসন, আর নাটক করতে করতে সব বিশ্বাস চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন। জনগনের চোখে এরা এখন গণশত্রু। ভোট পাওয়ার জন্য ধানের শীষের টাকা লাগেনা, ভোট কিনতে হয়না। চোখ খুললেেই দেখা যায় সারাদেশে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। তাই ভোটার ঠেকাতে হত্যা. গুম, আক্রমন, ও জেল জুলুম।

Content Protection by DMCA.com

জনগণ ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ ২২৭ টি এবং নৌকা ৬২ টি আসন পাবে!

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
প্রায় একযুগ ধরে নিষ্পেষিত জাতি এই ভোটের সময়েও শেখ হাসিনার সরকারের গুম ও হত্যার ভয়ে চুপ মেরে আছে। তারপরেও যদি তারা ভোট কেন্দ্র পর্যন্ত পৌছাতে পারে, তবে অভাবনীয় ফলাফল হবে। ধানের শীষের প্রার্থীরা ২২৭ টি আসন লাভ করবে আর নৌকার প্রার্থীরা পাবেন মাত্র ৬২টি আসন; এর মধ্যে জাতীয় পার্টির ১৯টি ও জোটের অন্যদের ৪ টি রয়েছে।

এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী, কমিউনিস্ট পার্টি এবং অন্যরা মিলে ১১ টি আসন লাভ করবে। ৬২ টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ লাভ করবে মাত্র ৩৯টি । কিছু গোপন সংগঠনের যৌথ একটি গোপন জরিপের যৌথ ফলাফলের ভিত্তিতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এই গোপন জরিপের আয়োজনকারীরা তাদের নাম গোপন রাখার শর্তে এ তথ্য সরবরাহ করেছে।

২২৭ টি আসনের মধ্যে বিএনপির সম্ভাবনা রয়েছে এককভাবে ১৯৬ টি আসন লাভের। ৩১ টি ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা লাভ করবে। ১১ টি আসনের মধ্যে ইসলামী দলগুলো পাবে ৪ টি, কমিউনিস্ট পার্টি ৩ টি এবং অন্যান্যরা ৫ টি লাভ করবে। বলে জরিপে বলা হয়।

এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী তালিকা আইএসআই বানিয়েছে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে আওয়ামী লীগের গবেষণা ও প্রচারণা কেন্দ্র থেকে উদ্দেশ্যমুলকভাবে। কারন এইবারেই প্রথম পাকিস্তানের বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিপক্ষের কোন শক্তিকে কোন প্রকার সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। বরং ভারতের একটি লবি শেখ হাসিনার সরকারের গণবিচ্ছিন্ন অব্যাহত কার্যক্রমে ভারতের স্বার্থহানীর সম্ভাবনাকে উৎরে যেতেই শেখ হাসিনার বিপক্ষে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ তৈরি করেছে। বিএনপিও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় এই গেম এ অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চেষ্টা করছে।

জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ এর জনপ্রিয়তাই বর্তমান বিএনপির একমাত্র পুঁজি যা তাদের এখনো টিকিয়ে রাখছে; শুধু তাই নয়, যে কোন সুযোগ পেলে ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে সক্ষম হলে বিএনপি আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরতেও সক্ষম সেই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে। এটা মাথায় রেখেই ভারত তার মাঠ সাজিয়েছে।

শেখ হাসিনা যে লম্বা সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেই সময়ে তিনি সঠিক কাজগুলো করে জাতির বিরুদ্ধে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার খায়েশ বাদ দিতে পারলে ইতিহাসে তিনি বিশাল এক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে পারতেন। এমনকি বর্তমান নির্বাচনে তার সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত কোন শক্তিই থাকতো না। কিন্তু ব্যাংক লুট, মাদকের বিস্তার, ভিন্ন মতাবলম্বীদের গুম, বিরোধীদের হত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, নারী ধর্ষণের বিচার না হওয়া; বাক স্বাধীনতা হরন করা, ইচ্ছে মত গ্রেপ্তার, নির্যাতন, মামলা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরনের মত ঘটনা শেখ হাসিনাকে পুরো জাতির কাছে মূর্তিমান এক খুনি ভিলেন নারীতে পরিনত করেছে। অথচ এগুলো তার করার কোন প্রয়োজনই ছিল না।

এখন শেখ হাসিনা তার ও তার লোকজনের ভাগ্য নির্ধারণ করেই রেখেছেন; যে কোন সময় যে কোন ভাবে তার পতন অনিবার্য আর সেই পতনে যে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ হবে সেটিও এক ইতিহাস হয়ে থাকবে সামনের প্রজন্মগুলোর জন্য। তারপরেও তিনি ক্ষমতা যে কোন উপায়ে ধরে রাখতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন নির্লজ্জভাবে; যদিও এ ছাড়া তার উপায় নেই।

Content Protection by DMCA.com

হাসিনার ছকে নির্বাচনে মার্কিনীদের না!

।।রেজা হাশমী।।

আজ আওয়ামী সরকারের সাথে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্কের যে ছেদ পড়ল, সেটা পূরণ হবার আর কোন সম্ভাবনা নেই। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি স্পোকসম্যান রবার্ট পালাডিনো তাঁর প্রেস বক্তব্যে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দেওয়ায় যে ভাষায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব। কেবল বৈরী দেশ বা সরকারদের সম্পর্কে তারা এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে থাকে।

হাসিনা সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব তৈরি আরম্ভ হয় ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরপরই। ঐ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল খুব শীঘ্র আরেকটা নির্বাচন করার। সেই প্রতিশ্রুতি তারা দ্রুতই ভঙ্গ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বারে বারে তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গে অটল থাকে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী মন্ত্রীরা উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রকাশ্যেই অসৌজন্যমূলক উক্তি করেন। এক পর্যায়ে হাসিনা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাত দেওয়া বন্ধ করে দেন, যাতে করে নতুন নির্বাচনের তাগাদা শুনতে না হয়। এমনকি, সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ওয়েনডি শেরম্যানকে সাক্ষাতের সময় দিয়েও হাসিনা বৈঠক শেষ মুহূর্তে বাতিল করে দেন। এই ক্রমশীতল সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে যায় যখন গত অগাস্ট মাসে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারশা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলা হয়। হাসিনা সরকার ঘটনার তদন্ত ও ব্যাবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এ বিষয়ে কিছুই করা হয় নি। কোন মার্কিন প্রতিনিধির উপর এ ধরনের হামলা আগে আর কখনো বাংলাদেশে হয় নি। এটা ছিল “রেড লাইন” ক্রস করার মত একটি গুরুতর বিষয়। মার্কিন মহলে এতে ধারনা জন্মায় যে হাসিনা সরকার ক্রমশ একটি “বদমাশ সরকার” (রৌগ রেজিমে) পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই সব চাইতে বেশি আগ্রহ দেখিয়ে আসছে। নভেম্বরের শেষে তারা জানায় যে, তারা বারোটি পর্যবেক্ষণ টিম পাঠাবে এবং বিশ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। হাসিনা সরকার ডিসেম্বরের তিরিশ তারিখ নির্বাচনের দিন নির্দিষ্ট করেছিল এই ভেবে যে ক্রিসমাস ও ইংরেজি নববর্ষের মাঝখানে এই তারিখ পড়ায় বিদেশী পর্যবেক্ষকরা আসবেন না। কিন্তু মার্কিন এই ঘোষণায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। তার উপর মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দল বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত রেজুলেশন হাসিনা সরকারের জন্য একটি অশনি সংকেত হিসেবে আবির্ভূত হয়। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত মার্কিন সরকারের জন্য পালনীয়। এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে কোন প্রকার ছাড় দেবে না।

পর্যবেক্ষকদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাসিনা সরকার জানান দিয়েছে যে মার্কিন সরকার বা কংগ্রেস যাই বলুক না কেন, তারা তাদের ছক অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে। অন্যদিকে, আজকের প্রেস বক্তব্যে মার্কিন সরকার নির্বাচনের বিষয়ে হাসিনা সরকারকে চারটি শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে হাসিনা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবেঃ
(১) শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ ও মত প্রকাশের সুযোগ দান;
(২) নির্বাচন সম্পর্কিত সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথ উন্মুক্ত করতে হবে;
(৩) নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নির্বিঘ্নে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করা;
(৪) প্রত্যেক ব্যক্তির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হবার ক্ষেত্রে কোন ধরনের হয়রানি, ভীতি ও সন্ত্রাসের শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করা।
এবং এসব বিষয় আ’লীগ সরকারকেই নিশ্চিত হরতে হবে।

এ যাবত হাসিনা সরকার এর একটি শর্তও পূরণ করে নি, বরং ঠিক উল্টোটা করছে। নির্বাচনের আগে এগুলো পূরণের কোন আগ্রহ, উদ্যোগ বা সম্ভাবনাই দৃশ্যমান নয়। ফলে নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে হাসিনা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এক অনিবার্য সংঘর্ষের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেলো।

*লেখক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশী অধ্যাপক

Content Protection by DMCA.com

জাতীয় নির্বাচনের এক সপ্তাহ বাকী থাকতেও হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ নিয়ে গুরুতর আইনী বিতর্ক

সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সর্বসম্মত রায় থাকার পরেও এবং আগের রায় বাতিল না করেও কোন প্রক্রিয়ায় হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত দিচ্ছে? ভোটের এক সপ্তাহের কম সময় বাকী থাকলেও উচ্চ আদালত এখনও প্রার্থী কাটাছেড়া করছেন! তাহলে নির্বচন হবে কি করে? এ নিয়ে আইনবিদরা কি বলবেন?

ঘটনা ও রায়
————–+
১৯৯৬ সালের ৫ই জুন আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চের দেয়া রায়ে বলা হয়েছিল, কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে রিটের মাধ্যমে দুটি ব্যতিক্রম বাদে আার কোনো বিরোধের ফয়সালা হবে না। যা হবার নির্বাচনের পরে হবে। আর তাও রিটে নয় নির্বাচনী বিরোধ হিসেবে সুরাহা হবে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে।

বিচারপতি মোস্তফা কামাল ছিলেন অথর জাজ। প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজাল, বিচারপতি লতিফুর রহমান, বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বিচারপতি বিমলেন্দু বিকাশ রায় চৌধুরী এবং বিচারপতি মোস্তফা কামালের সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে ওই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন।

আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে ৪১ ডিএলআরে বর্ণিত এ এফ এম শাহ আলম বনাম মুজিবুল হক এবং অন্যান্য মামলার বরাত দিয়ে বলেছিলেন, এই আদালত অর্থাৎ বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অত্যন্ত সুস্পষ্ট ভাষায় এই নীতি নিশ্চিত করেছেন যে হাইকোর্ট বিভাগের অধীনে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় কোনো একটি নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। শুধুমাত্র দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া। এর একটি হচ্ছে, দেখাতে হবে যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে তাদের যথাযথ এখতিয়ার ছিল না। একে বলে কোরাম নন জুডিস। দেখাতে হবে, রিটার্নিং অফিসারের বা ইসির নিয়োগ বৈধ ছিল না। দ্বিতীয়ত যেটা দেখাতে হবে, সেটা হলো মেলিস ইন ল অর্থাৎ যে আইনের আওতায় সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সে আইনটি বিদ্বেষপূর্ণভাবে প্রণীত হয়েছিল।

এই দুটি শর্তের বাইরে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিধানের অধীনে রিট দিয়ে কোনো বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। সেই নীতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত করেছে এবং আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ পর্যন্ত সময়ে সেই নীতি আইনিভাবে কখনোই বদলে যায়নি। বিচারপতি কামাল লিখেছিলেন, এই নীতি সংসদের মতো সমানভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

বিচারপতি মোস্তফা কামাল লিখেছিলেন, প্রতীয়মান হচ্ছে যে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার অধিকারের মধ্যে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দণ্ডিত এবং দণ্ডিত থাকা বিষয়ে তার আপিল বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এটাও ঠিক যে তার দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং দণ্ডিত থাকা চূড়ান্ত পর্যায় অতিক্রম করেনি। কারণ তার আপিল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

আপিল বিভাগ আরো লিখেছিলেন, দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে যদি সংবিধানের আওতায় অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ থাকে, সেটা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরে তুললে চলবে না। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দিতে হবে এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সামনে নিবার্চনী দরখাস্ত হাতে প্রতিকার চাওয়ার জন্য আসতে হবে। এই বিষয়ে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় পরখ করার কোনো সুযোগ নেই। হাইকোর্ট বিভাগের উচিত হবে না এই বিষয়ে কোনো মতামত প্রদান করা। সুতরাং যখন রিট দরখাস্ত করা হয়েছিল তখনই তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

বিচারপতি মোস্তফা কামাল আরো লিখেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে দরখাস্তকারী এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এরশাদ নমিনেশন পেপার দাখিল করেছিলেন কিন্তু রিটার্নিং অফিসার এরশাদের নমিনেশন গ্রহণ করেন। এর বিরুদ্ধে একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী মাঈদুল ইসলাম হাইকোর্টে এসেছেন। রিট দরখাস্তে বলা হয়েছে যে, এরশাদ বিভিন্ন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে নানাবিধ মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। একটি মামলায় তিন বছর একটিতে সাত বছর, অপরটিতে ১৩ বছর দণ্ড পেয়েছেন। কিন্তু নমিনেশন পেপার যাচাইয়ের সময়ে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়। তিনি আরো নিবেদন করেন যে, এরশাদ আপিল করেছেন সেটা ঠিক কিন্তু তা স্থগিত হয়নি। তাই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ধারা অনুযায়ী তার নমিনেশন পেপার বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।

উল্লেখ্য, ওই মামলায় খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ একেএম মাইদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন। তিনি নিবেদন করেছিলেন যে হাইকোর্ট ডিভিশন এটা বিবেচনায় নিতে ব্যর্থ হয়েছেন যে এরশাদের দণ্ডাদেশ স্থগিত করা হয়নি। তাই তার নমিনেশন পেপার গ্রহণ করা বৈধ হয়নি। আপিল বিভাগ একথায় সায় দেননি।

উল্লেখ্য যে, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সপক্ষে বলে চলছেন, দুই বছরের বেশি কারো দণ্ড হলেই হলো, তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।  অথচ সুপ্রিম কোর্টের নজির বলছে ভিন্ন কথা।

Content Protection by DMCA.com

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চটেছে যুক্তরাষ্ট্র!

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষণে আসার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতায় সেই সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবক্ষেক সংস্থা। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে সময়মতো ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় পর্যবেক্ষক দল তাদের সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।  এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর সাংঘাতিক চটেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নির্বাচনে সবদলের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ ও সরকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুতি সমুন্নিত রাখার আহ্বান জানায় মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস এর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সময়মতো ভিসা পাননি। বিশ্বাসযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ মিশনের জন্য তাই তাদের যাওয়া সম্ভব না। স্থানীয় এনজিও যারা নির্বাচন নিয়ে কাজ করে, বিশেষ করে ইউএসআইডির অর্থায়নে পরিচালিত কিছু সংস্থাও রয়েছে তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।

দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, ফলে পর্যবেক্ষকরা মিশন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।  আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ না থাকায় এখন বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেলো।

শেখ হাসিনার শাসনামলে সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনতা কমানোর অভিযোগ রয়েছে। পালাদিনো বলেন, ‘আমরা রাজনৈতিক বিভাজন, সহিংসতা, অস্থিরতা চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন চাই। আমরা সবপক্ষকে ঐকমত্যে আসার আহ্বান জানাই।

ডিসেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছিল, তারা নির্বাচনে নিজেদের পর্যবেক্ষক পাঠাবে এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষদের সহায়তা করবে। যাতে করে ৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য ও সুইজার‌ল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫০০ স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অর্থায়নও করছে দেশটি।

বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের সুযোগ থাকতে হবে। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনতা দিতে হবে। প্রার্থীরা যেনো সব তথ্য পায় এবং হয়রানি ও সহিংসতা ছাড়াই সবাই যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

Content Protection by DMCA.com

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর মনোনয়ন বাতিল আরপিও এবং সংবিধান লঙ্ঘন

Content Protection by DMCA.com

যারা আমাদের বন্ধুদের উপর হামলা করবে, আমাদের অর্থায়নে শান্তিরক্ষী দলে তাদের আমরা নিবে কেনো: যুক্তরাষ্ট্র

১৪ ডিসেম্বর রাজধানীতে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের উপর আক্রমনে দারুণ ক্ষেপেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা জাতিসংঘকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের ২৮% ব্যয় যোগান দেয়। কাজেই সেই অর্থায়নে চলা শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে মানবাধিকার হরণকারী কোনো বাহিনীর নিয়োগলাভের সুযোগ থাকা উচিত নয়। এরপরেই জাতিসংঘ থেকে বাংলাদেশ সরকারকে শক্ত চাপ দেয়া হয়।

ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার দু’দিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে বিল পাশ করা হয়েছে, তার অনুলিপি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে যাবে, এমনকি নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে, শান্তিরক্ষী টিমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংকটে পড়তে পারে তা জানানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। এমন খবর জানাজানি হলে ওয়াশিংটনে ‍নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্টদূত শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার চেষ্টায় ছুটোছুটি করছেন।

তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশের তিন বাহিনী প্রধান রাষ্ট্রদূত মিলারের সাথে অচিরেই বৈঠকে বসছেন। এনিয়ে সরকার কিছুটা গরিমসি করলেও ঘটনা যা ঘটার, তা ঘটবেই।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ অব্যাহত। ব্যর্থ হলে ২০০৭ সালের পূনরাবৃত্তি ঘটবে। প্রস্ততি চলছে।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5