‘নির্বাচনের বাইরে রাখতে খালেদা জিয়ার সাজা-মামলা’ : যুক্তরাষ্ট্র

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট

স্টেট ডিপার্টমেন্ট করসপন্ডেন্ট

৩০ ডিসেম্বরের ভোট কারচুপি আর একতরফা সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ ছিলােনা। নানান অনিয়ম, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা, বিরোধী দলের এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়-ভীতির মতো ঘটনা ঘটেছে তাতে। হামলা- মামলার শিকার হয়েছেন বিরোধীদলের প্রার্থী ও সমর্থকরা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত ২০১৮ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

মানবাধিকার রিপোর্টে নির্বাচন ছাড়াও উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারাবন্দি করে রাখা, গুম-খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, বেআইনী গ্রেফতার, বিরোধী দলের উপর নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন ইস্যু।

বার্ষিক রিপোর্টে সারসংক্ষেপের শুরুতেই বাংলাদেশর সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের কারচুপির বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, “বাংলাদেশে সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির হলেও ক্ষমতার সিংহভাগও প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ডিসেম্বরের প্রশ্নবিদ্ধ এবং একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ ছিলােনা। নানান অনিয়ম, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা, বিরোধী দলের এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়-ভীতির মতো ঘটনা ঘটেছে তাতে।”

এতে বলা হয়, “প্রচারণার শুরু থেকে নির্বাচন পর্যন্ত নানান রকম হয়রানি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বেআইনী গ্রেফতার এবং সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে।আর এ পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সভা-সমাবেশ এবং প্রচারণা চালাতে পারেননি বিরোধী দলের প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে পরিচয়পত্র ও ভিসা পাননি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।”

রিপোর্টে বলা হয়, “আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কার্যত পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার।”

এতে বলা হয়, “আইনশৃঙ্খলাবাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর তথ্য রয়েছে কিন্তু সরকার খুব কমই এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত বা ন্যায়বিচার করে থাকে। তাদের দ্বারা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও এমনটিই দেখা যায়।”

জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “২১০৭ সালে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে তিনটি যৌন হয়রানি এবং অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘ। অভিযোগের এ বিষয়টিতে তদন্ত চলমান আছে।”

মিথ্যা অভিযোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সরকার আটক করছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অপরাধে বাংলাদেশে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং বিচারের মতো ঘটনা ঘটছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধোঁয়া তোলে তাদরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক এবং বিচারের মুখোমুখি করা হয়।বছর জুড়ে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির হাজার-হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং সাজাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “২০০৮ সালের কেয়ারটেকার সরকারের আমলে করা এক মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে ৫ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। তাঁর এই সাজায় তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতাকে দূরে রাখতে এটাকে রাজনৈতিক নীল-নকশা বলে মনে করেন তারা।”

এতে বলা হয়, “তাঁকে (খালেদা জিয়াকে) জামিন দেয়ার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করছে আদালত। এসমস্ত মামলায় যেকেউই দ্রুত জামিন পেয়ে থাকেন কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা একমাসের মতো সময় পিছিয়ে দেয়া হয়। মার্চের ১২ তারিখ যখনি হাইকোর্ট এ মামলায় জামিন দিলো তার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট ২ মাসের জন্য স্থগিত করে দিলো। অভিযুক্ত হবার ঘটনায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রেখেছে।”

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে খালেদা জিয়ার রায় দেয়ার সময়টাতে আট দিনের ব্যবধানে বিএনপির ১,৭৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তোলে ধরে রিপোর্ট বলা হয়, “সংবিধানে জীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকার এবং তার এজেন্ট মানুষ বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে তার অসংখ্য নজির রয়েছে।”

এতে বলা হয়, “বছর জুড়েই সন্ত্রাস দমনের নামে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তাদের এই অভিযান, আটক সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এসব মৃত্যুকে দুই পক্ষের মধ্যে ক্রসফায়ারের ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছে। সরকারও র‍্যাব, পুলিশ কিংবা অন্য বাহিনীর সঙ্গে সংগঠিত এসব ঘটনাকে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার কিংবা পাল্টা হামলা বলে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে।”

রিপোর্টে বলা হয়,“মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে ৪০০ এর বেশি লোক বন্ধুক যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। অধিকারের তথ্যমতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবের বন্দুক যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৪১৫ জন।”

সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের সময়টাতে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ছিলো গত বছরের তুলানয়ও বেশী।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মাদক বিরোধী অভিযানে ২৩০ জন নিহত হয় আর মে-জুন মাসে আটক করা হয় ১৭,০০০ জনকে। সরকারের এই কথিত মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনায় সোচ্চার হয় মানবাধিকার সংগঠগুলো এবং সুশীল সমাজ। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন-অভিযানে বিচারবির্হভূত হত্যাকান্ড এবং গ্রেফতার হচ্ছে এবং নিরীহ মানুষ তার শিকার হচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কৌশল বলেও এর সমালোচনা করেন।”

অধিকারের তথ্যমতে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাস্টডিতে মারা গেছেন ৫৭ জন বন্দি।

গুমের ভয়াবহ চিত্র তোলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং গণমাধ্যমের তথ্যমতে গুম এবং অপহরণ এখনো অব্যাহত আছে। আর এর অধিকাংশই ঘটছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা। এসব বিষয়ে সরকারকে খুব কমই প্রতিরোধ কিংবা তদন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়।”

রিপোর্টে আরো বলা হয়, “বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারের মুখোমুখি হওয়া বিরোধীদলের ৩ নেতার সন্তানদের ২০১৬ সালে আটক করে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে ছিলোনা কোনো অানুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আটকও হয়েছে তাও বলা হয়নি। আটকের সাত মাস পর হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে মুক্তি দিলেও এখনো সন্ধান নেই মির আহমদ বিন কাশেম এবং আমান আজমীর। জোরপূর্বক গুম নিয়ে কাজ করা সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং কমিটি এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”

খ্যাতনামা আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে গ্রেফতার এবং নির্যাতনের কথা তোলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়, “নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উসকানি মূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে ৫ আগস্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ আগস্ট যখন তাকে আদালতে হাজির করা হয় তখন তিনি একা হাঁটতে অক্ষম ছিলেন এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আদালতে চীফ মেট্রোপলিট্রন ম‌্যাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষ্য দেবার সময় শহীদুল বলেন- গ্রেফতারের রাতে তার চোখ বাঁধা হয়, মাথার উপর রাখা হয় ভারী ওজনের জিনিস এবং মুখে আঘাত করা হয়।”

/জাস্ট নিউজ

Content Protection by DMCA.com

নুরুল হক নুরকে ভিপি বানানো সরকারের নীত নির্ধারণী মহলের সিদ্ধান্ত, বললেন ঢাবি শিক্ষক রুশাদ ফরিদী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী বলেন, নুরুল হক নুর এই নির্বাচনকে যদি মেনে নেয়। এটা যদি কৌশলের অংশ হয় তবে ঠিক আছে, কিন্তু নীতি নৈতিকতায় এটা ঠিক নেই। বুধবার ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের এডিটরস পিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই আমরা এই ব্যপারে সন্ধিহান ছিলাম। জাতীয় নির্বাচনের পর বড় একটা নির্বাচন, তা আবার ডাকসু দীর্ঘ ২৮ বছর পর। নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করি। দেখলাম এটা কোনো নির্বাচনই হলো না। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যে ঐতিহ্য তা নষ্ট করে দিলো। সরকারের উপর মহলের নির্দেশে নুরুল হক নুরকে ভিপি বানানো হলো। যদি সুষ্ঠু নির্বাচনও হলে এটাই হতো। সরকারের নীতি নির্ধারকরা দেখলো ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যদি আবার উত্তপ্ত হয়ে যায়, তবে সরকারের জন্য ফল ভালো নাও হতে পারে। সেই বিবেচনায় সরকার ভিপি পোস্টটা সাধারণ ছাত্রদের প্রতিনিধিকে দিয়ে আপাতত বিষয়টা শান্ত করলো।

তিনি বলেন, নুরুল হক নুর যদি সরকারের এই ফাঁদে পা দেয় তবে সাধারণ ছাত্রদের দাবিকে অসম্মান করা হবে। কারণ ছাত্রলীগ ছাড়া সবাই এই নির্বাচকে পুনরায় করার জন্য বলেছে। একটা আন্দোলন দানা বাঁধছে, সেখানে নুরুল হক নুর যদি মেনে নিয়ে আন্দোলন থেকে পিছু হটে তবে তা ঠিক হবে না। এটা সরকারের একটা ফাঁদ।

তবে এটাও ঠিক এটা যদি কৌশলের অংশ হিসেবে নুর যদি তার ভিপি পদ মেনে নিয়ে, ছাত্র অধিকারের কথা বলতে কাজ করে, তবে ভালো কিছু আশা করা যায়। কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্ন থেকেই যাবে। যেহেতু নির্বাচনটা সঠিক না।  তিনি বলেন, এই নির্বাচনের ফলে একটা বিষয় পরিস্কার হলো বর্তমান সরকারের পক্ষে কেনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। নুরুল হক নুরের বিজয়কে আমি প্রশাসনের একটা খেলার অংশ বলবো, কারণ আমরা যখন কুয়েত মৈত্রী হলে পযবেক্ষণ করতে গেলাম, সেখানে শিক্ষকরা বলেছে এই চুরির দায় আমরা নিতে পারবো না। সেখানের মেয়েরা আমাদের দেখে কেঁদে ফেললো। তারা প্রশাসনের এই নিলজ্জ হস্তক্ষেপের কথা বললো। আমাদের কাছে সিল মারা ব্যলট দেখালো।

এছাড়া আমরা সূর্যসেন হল, এফ রহমান হলো, দেখলাম লাইন জ্যাম করা বুথের মধ্যে বেশি সময় লাগানো, একটি ছেলেকে দেখলাম ২২ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগালো ।

/আমাদের সময়

Content Protection by DMCA.com

জয়ী হয়েও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান তানহার

লামইয়া তানজিন তানহা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন লামইয়া তানজিন তানহা। নির্বাচিত হওয়ার পরও ডাকসু নির্বাচনের সার্বিক ফল বাতিল চেয়েছেন তিনি।

ইংরেজি বিভাগের এই শিক্ষার্থী সুফিয়া কামাল হলে সদস্য পদে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের প্যানেল থেকে ৮৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সামগ্রিকভাবে ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন এই নেত্রী। 

জানতে চাইলেন তানহা বলেন, ‘আমার বাবা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। সেটাও তিন দশক আগে। ক্যাম্পাসে সুস্থ রাজনীতির চর্চা ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এবারের নির্বাচন অংশ নিয়েছিলাম।  কিন্তু পুরো নির্বাচনেই ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন কোনোভাবেই সুষ্ঠু হয়নি। আমি জয়ী হলেও ডাকসু নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যদি সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হতো এবং আমি যদি ১০টি ভোট না-ও পেতাম তবুও নিজেকে জয়ী মনে করতাম।’ এমন প্রহসনের নির্বাচন তিনি মানেন না বলেও দাবি করেন। অবিলম্বে ভোটের ফল বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবি জানান তানহা।
/বাংলা ট্রিবিউন

Content Protection by DMCA.com

অসুস্থ খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপিতে উদ্বেগ বাড়ছে

05 Mar, 2019

দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তার সুচিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপিতে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা হওয়ার পর একবছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন খালেদা জিয়া। ৭৪ বছর বয়সি তিনবারের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে কারান্তরীণ রাখা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টারে। পরিত্যক্ত ঘোষিত দুইশ বছরের পুরোনো এ কারাগারের পরিবেশ নিয়ে প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল বিএনপির।

কারাগারে নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি যেসব শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন কারাগারের বদ্ধপরিবেশ, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সে জটিলতাগুলোর তীব্রতা বেড়ে যায়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পছন্দসই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মুখর হয় বিএনপি নেতারা। কিন্তু বারবার সে দাবিকে অগ্রাহ্য করেছে সরকার। তবে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কারা কর্তৃপক্ষ এপ্রিলের ৮ তারিখে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এনেছিল।

২০১৮ সালের জুন মাসে একবার ‘মাইল্ড স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া।

পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কেবিন ব্লকে ভর্তি করে একমাস চিকিৎসাও দিয়েছিল। প্রথমবার তিনি হুইল চেয়ার ব্যবহার না করলেও দ্বিতীয়বার তাকে তা ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে তাকে কারাগারে ফেরত নেয়া হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একমাত্র বন্দি খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ভুগছেন নিঃসঙ্গতায়। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে খালেদা জিয়াকে বকশীবাজার প্যারেড গ্রাউন্ডের আদালতে আনা-নেয়ায় জটিলতা দেখা দেয়ায় কারাগারের অভ্যন্তরে বিশেষ আদালত স্থাপন করে সরকার। 

সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে কারাকর্তৃপক্ষ তাকে কারা অভ্যন্তরে স্থাপিত বিশেষ আদালতেও হাজির করেনি। রোববার বিশেষ আদালতে আনা হলে খালেদা জিয়া নিজেই বলেছেন- ‘আমার শরীর ভালো যাচ্ছে না। শরীর খুব খারাপ। চিকিৎসকরা দরকারি চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না।’ এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের পর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়েও সাজা হয়েছে তার। গ্যাটকো মামলার শুনানি চলছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের। অন্য কয়েকটি মামলায়ও তাকে দেখানো হয়েছে শ্যোন অ্যারেস্ট। তার ওপর গুঞ্জন রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্থানান্তর করা হতে পারে কেরানীগঞ্জ কারাগারে। তার আইনি লড়াই এগোচ্ছে জামিন, জামিন বাতিল এবং শ্যোন অ্যারেস্টের মধ্যদিয়ে।

আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সহসা তার মুক্তির সম্ভাবনা দেখছে না বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল নেতা ও খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এমন মন্তব্য করছেন বেশ কিছুদিন ধরে। 

এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ও তার চিকিৎসাহীনতায় উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আজ দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ৬ই মার্চ বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া হাঁটতে পারছেন না। তার পা ফুলে গেছে। হাত অবশ। পুরনো রোগগুলো বেড়ে গেছে। চোখেও প্রচণ্ড ব্যথা। নির্যাতন সহ্য করতে গিয়ে তার আগের অসুস্থতা এখন আরো গুরুতর রূপ ধারণ করেছে। সার্ভাইক্যাল স্পন্ডিলোসিসের জন্য কাঁধে প্রচণ্ড ব্যথা, হিপ-জয়েন্টেও ব্যথার মাত্রা প্রচণ্ড। ঝুঁকিপূর্ণ শরীর। খালেদা জিয়াকে নিয়ে তারা প্রতি মুহূর্তে শঙ্কায় থাকেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রিউম্যাটিকআর্থ্রাইটিসের কারণে খালেদা জিয়ার হাত-পা ফুলে যায়। ফ্রোজেন শোল্ডার, পিঠে ব্যথা, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। খালেদা জিয়ার দুই হাঁটুই প্রতিস্থাপনকৃত- যার একটি আমেরিকায় ও একটি সৌদি আরবের হাসপাতালে প্রতিস্থাপন করা হয়। দুই বছর আগে লন্ডনে তার চোখের অপারেশন হয়। হাঁটতে অক্ষম হয়ে পড়ায় কয়েকবার তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া পরিবারের স্বজনদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করতে পারেন নি। 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সত্যিই অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। একদিকে তাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি রাখা হয়েছে, অন্যদিকে তাকে রাখা হয়েছে একটি পুরোনো ও পরিত্যক্ত ভবনে। তার চিকিৎসা নিয়ে সরকার চরমভাবে অবহেলা করেছে। মোশাররফ বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং একজন ৭৪ বছর বয়স্ক নারী হিসেবে তিনি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়ার কথা। কিন্তু সরকার সেটা দিচ্ছে না। আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বারবার আবেদন-নিবেদন করলেও অগ্রাহ্য করেছে সরকার। এমনকি তার চিকিৎসার ব্যয়ভার দল বহন করবে জানানো হলেও সরকার রাজি হয়নি। এখন কারাগারে দিনদিন তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় কেবল আমরাই নই, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও দেশের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, চেয়ারপারসনের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

কারণ বেগম খালেদা জিয়া তার জীবনে এই প্রথমবারের মতো তার কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন। যা মিডিয়ায় এসেছে। তিনি স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত কষ্টসহিঞ্চু। তিনি যখন তার শারীরিক কষ্টের কথা স্বীকার করেছেন তখন তিনি যে শারীরিকভাবে প্রচণ্ড অসুস্থ তা আমরা ধারণা করতে পারি। আলাল বলেন, আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আবার বলতে চাই- সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। সরকার যেন মানবাধিকার ও একজন সিনিয়র সিটিজেনের অধিকারগুলোর প্রতি সম্মান দেখান। আর সুচিকিৎসার অভাবে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে সরকারকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না দেশের জনগণ। এর আগে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রিফিং করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, দেশবাসীর প্রাণপ্রিয় নেত্রী নিজের মুখে এই প্রথম এমন ভয়াবহ অসুস্থতার কথা বললেন। তার স্বাস্থ্যের চরম ক্রমঅবনতিতে দেশবাসীর মতো আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।

আমরা প্রতিদিন নানাভাবে আহ্বান এবং দাবি করে আসছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। তাকে জামিনে মুক্তি দিন। রিজভী বলেন, আমরা আগেই বলেছি- বিএসএমএমইউ উন্নত চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে চাননি। দলের পক্ষ থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলবো- ৩ বার সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুধু প্রতিহিংসাবশত: এমন নিষ্ঠুর বর্বরতম আচরণের অবসান ঘটান। তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, সুচিকিৎসার সুযোগ দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে চাননি, বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা নিতে চেয়েছেন। সে সুযোগটুকুও তাকে দেয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষ জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে প্রচণ্ড অসুস্থ খালেদা জিয়াকে সুস্থ বলে ফেরত পাঠিয়েছে অন্ধকার কারাগারে।
উৎসঃ   মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com

ঢাকায় ৫ থেকে ১০ ভাগের বেশি ভোট পড়েনি

05 Mar, 2019

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনে ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি প্রকৃত ভোটাররা ভোট দেননি বলে দাবি করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। সেখানে নির্বাচনী ফলাফলে ৩১ শতাংশের বেশি ভোট দেখানো হয়েছে। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়রপ্রার্থী আবদুর রহিম দাবি করেন, প্রতিটি ভোটারের ব্যালট পরীক্ষা করলে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যাবে। ব্যালটে দেখা যাবে কারো আঙুলের ছাপের সঙ্গে টিপ সইয়ের মিল নেই, আবার কারো স্বাক্ষরের মিল নেই। কেউ কেউ হলফ করে বলবেন- আমি তো ভোটই দেইনি। আমরা আইন আদালতে প্রমাণ করতে গেলে সব জালিয়াতি প্রমাণ হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, এবারও তেমনটাই হয়েছে।

আমার অনেক ভোটার কেন্দ্রে গেলে তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এ স্বতন্ত্র প্রার্থী বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। মানুষের আস্থা চলে গেছে। এরপরেও নির্বাচন প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমি প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনের যে চিত্র তা আপনারা দেখতে পেয়েছেন।
সুত্র: মানবজমিন

Content Protection by DMCA.com

সত্য লেখায় সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক

05 Mar, 2019

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক যুগান্তরের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও দু’জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। দেশের মানুষকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা বলেন, এ আইনের কিছু ধারা গণতন্ত্র ও সুশাসনের পরিপন্থী।

কালো ধারা রহিত না করলে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লেখার সুযোগ সংকুচিত হবে। তারা অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার মদদে ওইদিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া।

মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সোমবার পালিত কর্মসূচি নিয়ে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিদ্ধিরগঞ্জ : দৈনিক যুগান্তরের ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা করেছেন সাংবাদিকরা। হিরাঝিল রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমেদুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নয়ন, হোসেন চিশতী সিপলু, এ হাই মিলন, আরিফ হোসেন, ফরহাদ হোসেন, এমএ শাহীন, এমরান হোসেন, বিশাল আহমেদ, রাশেদুল কবির অনু, আরিফ হোসেন (জুনিয়র) প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সত্য লেখার কারণে সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক। দ্রুত গ্রেফতার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

তালতলী (বরগুনা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে তালতলী প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মু. আ. মোতালিব। বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আ. মান্নান, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম আকাশ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক হারুন-অর রশিদ, কাওসার হামিদ, শাহিন সাইরাজ প্রমুখ।

মেহেরপুর : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার যুগান্তরের সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মেহেরপুরের সাংবাদিকরা। সকাল ১০টায় মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রুহুল কুদ্দুস টিটো, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ইয়াদুল মোমিন, সহসভাপতি মাহবুব চান্দু, যুগান্তরের প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাবেক সেক্রেটারি শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক মন্টু, রওশন আলী মনা, সাংবাদিক মাহবুবুল হক পোলেন, আতিক স্বপন, রামিজ আহসান, নাসের চৌধুরী সম্রাট, দিলরুবা খাতুন, আসিফ ইকবাল, হামিদুর রহমান কাজল, সাঈদ হোসেন, মীর সউদ আলী চন্দন, কামারুজ্জামান খান, শহীদুল ইসলাম, সাজেদ রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার এবং হয়রানির প্রতিবাদে মাগুরার মহম্মদপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দৈনিক যুগান্তরের মহম্মদপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানার সভাপতিত্ব মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক কামরুল হাসান, এসআরএ হান্নান ও মাহামুদুন নবী। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুব্রত সরকার, মোরাদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, তরুণ কুমার গুহ পিকিং, বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, রাসেল মিয়া, আনিচুর রহমান ও আলীরেজা নান্নু।

গৌরনদী : একই ইস্যুতে বরিশালের গৌরনদীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, আসাদুজ্জামান রিপন, আলহাজ মো. জামাল উদ্দিন, বদরুজ্জামান খান সবুজ, ডা. মনীষ বিশ্বাস, জামিল মাহমুদ, কাজী আল আমীন, হাসান মাহমুদ, মোল্লা ফারুক হাসান, রাজিব খান, রনি মোল্লা প্রমুখ।

দাগনভূঞা (ফেনী) : যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ইয়াছিন সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হাছান কচির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক মো. আবু তাহের, এমএ তাহের, নুরুল আলম খান, রহিম উল্যাহ বাবুল, নাছির উদ্দিন আজাদ, বজলুর রহিম সুমন, ইয়াছিন রনি, কাজী ইফতেখারুল আলম, শহিদুল ইসলাম তোতা প্রমুখ।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : ডিজিটার নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গৌরীপুরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গৌরীপুর শাখার সদস্য সচিব মজিবুর রহমান ফকির, উপজেলা স্বজন সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক মোখলেছুর রহমান, সার্ডের ম্যানেজার আবদুল বাছেদ, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের সভাপতি মো. অলি উল্লাহ, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, তৌহিদুল আমিন তুহিন, মো. মিলন, সামছুজ্জামান আরিফ, গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা কাম্য নয়। কোনো নাগরিককে অহেতুক হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। সাংবাদিকদের মুক্ত স্বাধীনতা খর্ব হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থাকবে না। তাই অবিলম্বে সাংবাদিকদের মুক্তি দিন।
উৎসঃ   যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বোমা বর্ষণ: কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?

পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।

মঙ্গলবার ভোর রাতে পাকিস্তানের সীমা অতিক্রম করে ভারতীয় বিমান জইশ ই মোহাম্মদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে ভারত।

পাকিস্তান বলছে, বালাকোটের যেখানে হামলা চালানো হয়েছে সেখানে জইশ ই মোহাম্মদের কোন ঘাটি নেই। বরং ভারতীয় বিমান তাদের তাড়া খেয়ে খোলা মাঠেই বোমা ফেলে পালিয়ে গেছে।

ওই বালাকোট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি।

তারা জানিয়েছেন, যখন হামলা চালানো হয় তখন বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। অনেকের ঘুম ভেঙে যায় আক্রমণের আওয়াজে।

বালাকোটের জাবা টপের বাসিন্দা মুহম্মদ আদিল বিবিসিকে বলেছেন, “ভোর তিনটার দিকে হঠাৎই প্রচণ্ড আওয়াজ হতে থাকে। মনে হয় যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। আর ঘুম আসে নি। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি বোমা পড়েছে।”

মি. আদিল আরও জানিয়েছেন যে একসঙ্গে পাঁচটা বিস্ফোরণ হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য আর আওয়াজ পাওয়া যায় নি।

“সকাল হওয়ার পরে আমরা ওই জায়গাটায় গিয়েছিলাম, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে সেখানে। কয়েকটা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন ব্যক্তিকে জখম অবস্থায় দেখতে পেয়েছি,” জানাচ্ছিলেন মি. আদিল।

বালাকোটেরই আরেক বাসিন্দা ওয়াজিদ শাহও জানান, তিনিও একসঙ্গে বেশ কয়েকটা বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন।

“আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল যেন অনেকগুলো রাইফেল থেকে একসঙ্গে ফায়ার করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে আর শব্দ পাই নি,” বলেন তিনি।

২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
Image caption২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

বালাকোট এলাকাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মনশেরা জেলায়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে।

২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকবছর সময় লেগেছিল শহরটাকে আবারও গড়ে তুলতে। সৌদি আরব এই শহর পুনর্গঠনে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।

ভূমিকম্পে বালাকোটের ১২টি ইউনিয়ন কাউন্সিল এলাকা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ধ্বংস হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি।

পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।

কুনহর নদীর তীরে এই বালাকোট শহরটির সাংস্কৃতিক আর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে।

সিন্ধু সভ্যতার চারটি যে প্রাচীন অঞ্চল ছিল, বালাকোট তারই অন্যতম।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Content Protection by DMCA.com

দরবেশের দেশে !


বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়, জার্মানি থেকে

প্রায় দশ বছর ধরে বাংলাদেশীদের জীবন এক ঠক, বাটপার, সরকারী তহবিল তছরুপকারী, দেশের ব্যাংকের অর্থ মেরে দেওয়া বিষয়টি একজনের নিদের্শনায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসবে।

যার নাম বলতে চাচ্ছি তা সবার কাছে সহজেই অনুমেয়। তিনি হলেন সালমান ফজলুর রহমান, যাকে সবাই চিনে সালমান এফ রহমান(৬৭) বা দরবেশ নামে।  তাঁর জন্ম ২৩ মে ১৯৫১ সালে দোহার, ঢাকায়, ১৯৭১ এ করাচি (পাকিস্তান) পড়াশুনা করেছেন। বর্তমানে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছেন।বেইজিং ভিত্তিক হুরুন গবাল ২০১৭ সালের হিসেবে বিশ্বের বিলিয়নিয়ার রেঙ্কে ১৬৮৫ নাম্বারে আছেন তিনি।

এই দরবেশ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট দুইটি সরকারী ব্যাংকের গত ১০ বছরে পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ বার । এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ হয়েছে ১৮ বার আর অগ্রণী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে ১৭ বার । এ ভাবে চলতে থাকলে সরকারপন্থী লোকজন ব্যাংকিং সেক্টরকে টাকা শূণ্য করে দেবে । সুতরাং দেশের এক সাধারণ নাগরিকের জীবন কেমন হতে পারে সেটা নিয়েও অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে !

এ ক্ষয়ে যাওয়া জীবন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে বেঁচে থাকতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে ! কারণ, ন্যূনতম সম্বলে বেঁচে থাকতে গেলেও সীমিত আয়ের টাকার প্রয়োজন পরে। আমাদের আয়ের উৎসগুলো দিন দিন কমে আসছে, ব্যবসা কমে যাওয়া, শেয়ার বাজারে ধস,অযথা চাকুরী থেকে ছাঁটাই, চাকুরীর সুযোগ কমে যাওয়া আর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই দেশের মূল্যস্ফিতি ইন্ডেক্সে দেখা যায় না। সেখানেও চলেছে আমলা -মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমরা দিন দিন দ্ররিদ থেকে দরিদ্রতর হয়ে পড়েছি। এই দুবির্ষ্য অবস্থায় সেই ঠক আর বাটপার লোকটাকে এ সরকারের রাষ্ট্র যন্ত্র থেকে কি আমরা কোন ভাবেই সরাতে পারবো না! কারণ তার একটা রাজনৈতিক দল আছে -সেই দলটা আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। বর্তমান রাষ্ট্রের যে প্রধানমন্ত্রী ও তার দল নানাভাবে সেই দরবেশ মানে সালমান এফ রহমানের ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের ব্যবসা আওয়ামী লীগের হাতে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে দরবেশের ওপরই একশত ভাগ নির্ভরশীল হতে হবে।

এভাবে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টরের ও প্রশাসনে হাত করে প্রধানমন্ত্রী মহা ফুর্তিতে রয়েছে বা না হলে বর্তমান এ বিশাল ভোট জালিয়াতি জায়েজ করতে কিভাবে ব্যবস্থা নেবে তা নিয়েও চিন্তায় থাকতো। আবার এ দীর্ঘ দশ বছরে এমন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কাল থেকে আমরা মানে সাধারণ জনগণ একটা ঘোরের মধ্যে আছি, জানি না এ ঘোর কখন কাটবে, কবে আমাদের মুক্তি মিলবে। কোন ধরনের ঘোর মধ্যে থাকা অবস্থায় কিভাবে আস্তে আস্তে জনগনের ক্রয় ক্ষমতাটা একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে এ সরকার। যারা দুর্নীতি করে তাদের আঁড়াল করার বিষয়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাপড় ধোলাই প্রকল্প। এ কমিশন দলীয় স্বার্থ দেখে যাচ্ছে। এ ধোলাই প্রক্রিয়ায় প্রায় প্রতিটা আওয়ামী লীগ নেতা শুদ্ব হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে ।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধ ডজন বাড়ি আছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ণাঢ্য এলাকায় রয়েছে আলিশান প্যালেস সমতুল্য বিলাস বহুল বাড়ী। দেশের প্রত্যেকটি বড় উন্নয়ণ প্রকল্পে কমিশন পায় জয় ও আর তার খালা রেহানা। তাদের প্রত্যেক্ষ মদদে আমলা -মন্ত্রী বা ব্যাংকের পরিচালকরা নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে কুক্ষিগত করে রেখেছে এ প্রশাসনকে। প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে দরবেশের । অন্য কেউ এ প্রভাব খাটাতে পারে না।কারো কথা বলার হিম্মত নাই কারন বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ এখন দরবেশের দেশে বসবাস করছে । দেশের শেয়ার বাজারের প্রত্যেকটি কেলেঙ্কারি সাথে এই দরবেশের নাম উঠে এসেছে। এ সব বিরাট কেলেঙ্কারীর আজ অবধি কোন বিচার হয়নি। আর এ সরকার থাকতে কোনদিন সেই বিচারটা হবে না-এটা সবারই জানা আছে । ইলেকশনের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শেয়ার বাজারে আবারো বুঁদবুদ তৈরি করে রেখেছে। সেই বুঁদবুদ কখন ফেটে যায় তা কেউ বলতে পারবে না। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব থেকে নিঃস্বই হয়ে যাবে।

গত ৩০ শে ডিসেম্বর জালিয়াতি ভোটের পর সরকারের ক্যাবিনেট গঠন করতে দরবেশ সালমান এফ রহমানের অবদান আছে । খোদ অর্থ মন্ত্রী দরবেশের সাথে সক্ষতা রয়েছে ,তাই মন্ত্রীত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রী সারা দিন দরবেশের বাসায় বসে ছিল। অর্থ মন্ত্রী নিজেও অবশ্য দেশের শেয়ার বাজারের যত কেলেঙ্কারি আছে তারও কুশিলব । ইব্রাহিম খালেদের শেয়ার বাজারের রিপোর্টে তার নামটা উঠে এসেছে ।অর্থাৎ আমরা এক বাক্যে বলতে পারি : শেয়ার বাজারের চোর হচ্ছে এখন মন্ত্রী । পরিকল্পনা মন্ত্রী থেকে এখন অর্থ মন্ত্রী হয়েছে । দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চোর মন্ত্রীর অবস্থান আমাদের আর্থিক ও সামাজিক জীবনকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে । আর অন্যদিকে এ মন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের একটা ভঙ্গুর উন্নয়নকে চোখে দেখাতে বাংলাদেশের ডাটা ম্যানুপুলেশন করে গেছে । বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যদি একটু ড্যাটা গুলো বিশ্লেষন করেন তাহলে বুঝতে বাকি থাকবে না আসলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা দিয়ে কি হচ্ছে আর কি দেখানো হচ্ছে বিশ্ববাসীকে । বাংলাদেশ মধ্যম আয়ে যাবার ক্ষেত্রে সেই ম্যানুপুলেশন করা ড্যাটার অবদানটাও কি মিথ্যা ? পৃথিবীর কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।

দরবেশের যত ঋণ :

দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের সাথে সরকারের সম্পর্কের কারণে সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংক গুলো কেউ কোন কিছু করতে পারে না । দরবেশের এ গ্রূপের অর্থশক্তি দিয়ে রাজনৈতিক শক্তি মোকাবিলা করে যাচ্ছে । আর এখন আওয়ামী সরকারের এমপি হওয়ায় দরবেশের বেক্সিমকো একটি দানবে রূপ নিয়েছে ,কে ঠেকাবে এ দানবকে ? সরকারের সাথে একটা সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে -কেউ কোন কিছু বলার নাই – দরবেশের দেশে আছি বলে কথা !

দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের মোট ঋণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা । ৯টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ঋণ নিয়েছে। এ ঋণগুলোর পুনঃ তফসিলিকরণের সময়কাল গত বছর জুন মাসে । কিছু বেনামি ঋণের দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। আরও কিছু বেনামি ঋণ রয়েছে সেগুলো এখনও চূড়ান্ত ভাবে শনাক্ত হয়নি।

সোনালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের তিন কোম্পানির মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, বেক্সিমকো সিনথেটিকের ১৩১ কোটি টাকা এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১৩২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো সিনথেটিকের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত মার্চে সেগুলো নবায়ন করা হয়েছে। ২৫ কোটি টাকা ডাউন পেমেন্ট বাবদ জমা দেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিস্তির টাকা জমা দেয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে আরো ১১ কোটি টাকা কিস্তি বাবদ জমা দিয়েছে। এর আগে একাধিকবার খেলাপি হয়েছিল। এবার নিয়ে ১৮ দফা গ্রূপের ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফা নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়েছে বিশেষ মওকুফ বা ছাড়। এসব ঋণের উৎপত্তি ১৯৯৬ সালে। প্রথমে মাত্র ২৫ কোটি টাকার সিসি ও এলসি ঋণ ছিল। জিএমজি এয়ারলাইন্স খেলাপি প্রতিষ্ঠান। এটি বেক্সিমকো গ্রূপের হলেও ব্যাংকে এটিকে গ্রূপভূক্ত কোম্পানি হিসাবে দেখানো হয়নি।

দীর্ঘ এ সময়ে মূল ঋণ পরিশোধ না করে বিভিন্ন সময় কিছু ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বারবার ঋণ নবায়ন এবং ঋণসীমা বাড়ানো ও নতুন ঋণ দেয়ার কারণে এ অংক বেড়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো সিনথেটিক লোকসানি প্রতিষ্ঠান। শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত এ কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীদেরকে কোন লভ্যাংশ দেয়নি। জিএমজি এলারলাইন্সের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

জনতা ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ২৯৬৪ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধ না করে শুধু ঋণ সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে গত আগস্টে বেক্সিমকো গ্রূপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো এলপিজি কোম্পানির নামে ৪৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

গ্রূপের আবেদনের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ প্রথমে বেক্সিমকো গ্রূপের ওই কোম্পানির নামে ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। পরে বিষয়টি জেনে বেক্সিমকো গ্রূপের পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রূপের জন্য ৪৭৫ কোটি টাকারই ঋণ লাগবে। পরের পর্ষদ সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা কোন আলোচনা না করেই ঋণটি পাশ করে দেন। এ বিষয়ে কয়েকজন পরিচালক আপত্তি করলেও সেগুলো আমলে নেয়া হয়নি। বরং চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে পর্ষদ সভায় আর কোন আলোচনার প্রয়োজন নেই।

এদিকে সামলান এফ রহমানের ছেলের নামে রয়েছে এই এলএনজি কোম্পানিটি। এর বিপরীতে বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন ৬০ বিঘা জমি ও বেক্সিমকো গ্রূপের একটি কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকে জামানত হিসাবে বন্ধক রাখা হয়েছে। তারপরও এটাকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ হিসাবে দেখানো হয়নি। দেখানো হয়েছে একটি স্বাধীন কোম্পানি হিসাবে। এ কোম্পানির ঋণ বেক্সিমকো গ্রূপের হিসাবে দেখানো হলে একক ঋণ হিসাবে তাদের ঋণের অংক বেড়ে যাবে। এতে জনতা ব্যাংক আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হবে। সেটা এড়াতে তারা বেক্সিমকো এলএনজিকে বেক্সিমকোর গ্রূপভুক্ত কোম্পানি করেনি।

অগ্রণী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। তাদের মূল ঋণ ছিল ৮০১ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত এক টাকাও পরিশোধ করেনি। ইতিমধ্যে তাদের ঋণ ১৭ দফা নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফায় দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। বেক্সিমকো হোল্ডিংসের ৫৩০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৩০ কোটি টাকা মওকুফ করা হয়েছে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা গ্রূপের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছে।

রূপালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৭১ কোটি টাকা। মূল ঋণ ছিল ৬৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সময় মতো টাকা পরিশোধ না করায় ধীরে ধীরে তা বেড়েই চলেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

বেসরকারী এবি ব্যাংক : এবি ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণের পরিমাণ ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ৬৫০ কোটি টাকা, নিউ ঢাকা জুট লিমিটেডের ৯২ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার লিমিটেডের ৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিউ ঢাকা জুট লিমিটেড গিরিধারী লাল মোদীর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। ওই কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে তা বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইন্ডিপেন্ডেড টিভির একাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এটি ধরা পড়ার পর এই ঋণের দায় বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়্যার লিমিটেডের নামে নেয়া ঋণও বেক্সিমকো গ্রূপ ব্যবহার করে। পরে এই ঋণের দায়ও বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৩৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে মূল ঋণ ছিল ৪৭৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে তা গিয়ে ঠেকে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকায়। কোনো টাকা সময় মতো পরিশোধ না করায় বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩৯ কোটি টাকায়। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্সের ঋণ রয়েছে ৩৪৩ কোটি টাকা। কোম্পানির কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এক্সিম ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের নামে ৩৩৩ কোটি টাকা। বাকি ২৬৭ কোটি টাকা বেক্সিমকো গ্রূপের বেনামি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ ঘটনা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত চলছে। গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ২৩৩ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকে বেক্সিমকোর প্রায় হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।

ব্যাংক এশিয়া : বেক্সিমকো গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। কিস্তি পরিশোধের সময় শেষ হলেও বকেয়া ২৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেক্সিমকো গ্রূপের নামে ছোট আকারের ঋণ রয়েছে। ইষ্টার্ণ ব্যাংকেও বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মিসাইল হচ্ছে এ দরবেশ ! স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের অর্থয়ানে এ ধরনের আরো বেশ কিছু দরবেশ আছে ,যাদের কাছে দেশ ,জাতি বা দেশপ্রেম বলতে কোনো কিছু নাই। তারা দেশকে রক্ত চোষা ড্রাকুলার মতো তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের কাছে গোটা দেশ ও জাতি জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের নুন্যতম বাক স্বাধীনতা নাই। কে কথা বলবে ? কে সত্য কথা তুলে ধরবে ? দরবেশের দেশে কার এতো বড় হিম্মত ?

Content Protection by DMCA.com

সকল বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে ঐক্যফ্রন্ট: রব

17 Feb, 2019

সকল বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণশুনানি করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

রবিবার(১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং ও সমন্বয় কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রব বলেন, ‘আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা গণশুনানি করব বলে সরকার আগে থেকে সব হল বুকিং দিয়ে রেখেছে। আমাদের কোনো হল দেয়া হচ্ছে না। যত বাধাই আসুক, সকল বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পাব আমরা সেখানেই গণশুনানি করব।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দল গত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা গণশুনানীতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানাব। তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে।’

আ স ম রব বলেন, ‘গণশুনানি সফল করতে আগামীকাল সমন্বয় কমিটি বৈঠকে বসবে। এছাড়া ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করবে।’

বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ

Content Protection by DMCA.com

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র নতুন মেরুকরণ ও বাংলাদেশ

১১ জানুয়ারী, ২০১৯

মাসুম খলিলী:
দক্ষিণ এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর প্রভাব-প্রতিযোগিতা নতুন অবয়ব নিতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলে এক দশক আগে পরাশক্তিগুলোর যে মেরুকরণ দেখা গিয়েছিল, তা এখন বেশখানিকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। এ পরিবর্তনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালে সোভিয়েত-মার্কিন ক্ষমতা বিস্তারের প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎশক্তি ভারত ছিল সোভিয়েত বলয়ে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময়কালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা জওয়াহেরলাল নেহরুর সাথে ব্রিটিশ শাসকদের ভালো সম্পর্ক থাকলেও তার আদর্শগত ভাবনা-চিন্তায় সমাজতন্ত্রের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল। ব্রিটিশ-সোভিয়েত যৌথ প্রভাবে তিনি স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রিক মূলনীতি ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্রের সমন্বয় আনতে চেয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে মুক্তভাবে শিল্প বিকাশের সুযোগ দেন।
লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সময়ের পর নেহরু-তনয়া ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাবার অনুসৃত নীতিই এগিয়ে নিয়ে যান। বাবা-মেয়ের দুই আমলেই দৃশ্যমান নীতি হিসেবে ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিলেও কার্যক্ষেত্রে সোভিয়েত বলয়ে অবস্থান নেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান অবধি ভারতের সরকারনির্বিশেষে এ নীতি অনুসৃত হতে থাকে। স্নায়ুদ্বন্দ্বের অবসানে সোভিয়েতের পরিবর্তে রুশ অধ্যায় শুরু হলে দিল্লি একধরনের ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের পথে পা বাড়ায়। নরসিমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং মনমোহন সিংয়ের চার মেয়াদে ধীর গতিতে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতি ওয়াশিংটনমুখী হতে শুরু করে।
নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় কৌশলগত নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তনে আমেরিকামুখী নীতি-কৌশলের পরিবর্তন ধীরমাত্রার বদলে দ্রুতগতির মাত্রা নেয়। প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা চুক্তিসহ অনেকগুলো কৌশলগত সহায়তা চুক্তি হয় দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে। নরেন্দ্র মোদি এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতকে মহাশক্তি তথা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ও পরমাণু প্রযুক্তি রফতানিকারক দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখায়। বাস্তবে এর কোনোটাই অর্জিত হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রতিরক্ষাসামগ্রী আমদানি এবং ভারত মহাসাগরে মার্কিন মিত্র জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সাথে যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগে চীনের সাথে বৈরিতা বৃদ্ধি পায় দিল্লির।
এর ফলে এক দিকে ডোকলাম সঙ্কটের মতো সীমান্ত সঙ্ঘাত বৃদ্ধি পায়; অন্য দিকে পাকিস্তানের সাথে চীনের যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ জোরদার হয়। রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি হয় ইসলামাবাদের। এই মেরুকরণ দিল্লির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। ভারতের অনেক নীতিনির্ধারক ভারসাম্য নীতি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌশলগত চিন্তাবিদ পরাগ খান্না ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘ভারত কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো পরাশক্তি হবে না।’ কিন্তু তিনি এটাও বলেন যে, ‘এ দেশটি বিশ্বব্যবস্থার দিক বদলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এশিয়াতে তো বটেই। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন সবাই যদি ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চায় এ কারণে যে ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে বড় ধরনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না জড়িয়েও ভারত সবার সাথেই বন্ধুত্ব রাখতে পারবে।’
শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি আবার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নতুন করে এস ৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রয় ও নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন চুক্তি হয় দিল্লি-মস্কোর মধ্যে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে রুশ-চীন লাইনে দিল্লির অবস্থান আগে থেকেই এর একটি ভিত সৃষ্টি করে।
ভারতের সাউথ ব্লকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়েও এর মধ্যে পরিবর্তন আসে। পররাষ্ট্র সচিব পদে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এস জয়শঙ্করের স্থলাভিষিক্ত হন চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিজয় কেশব গোখলে। জয়শঙ্করের অগ্রাধিকার যেখানে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা, সেখানে গোখলের অগ্রাধিকার হয় চীনের সাথে বৈরিতার জায়গাগুলো এক পাশে সরিয়ে রেখে যেখানে সম্ভব সেখানে ভারত-চীন সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ১০ দিন আগে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক সুবির নন্দী লিখেছিলেন, ‘গোখলের কৌশল ৩০ ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে কিছুটা পরীক্ষার মুখে পড়বে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা দুই জায়গাতেই ভারতের বন্ধুরা নৈতিকভাবে একটা শক্ত অবস্থানে ছিল। তারা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন তাদের অবস্থান ছিল দৃশ্যত গণতন্ত্রের বিপক্ষে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং সফল গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে এসব ব্যক্তির সমর্থন দেয়া ভারতের জন্য সহজ ছিল। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেস্তে গেছে। কারণ ভারত যে উচ্চ নৈতিক অবস্থান কামনা করে, সেটা এখানে নেই। পশ্চিমা দেশগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে এটা বোঝাতে ভারতের বেগ পেতে হচ্ছে যে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সেটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো হবে।’
সুবির নন্দী বাংলাদেশে গোখলের নীতির যে পরীক্ষার কথা বলেছিলেন, সেটির সফল বাস্তবায়ন এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশে। এখানে পাশ্চাত্যের দেশগুলো যেখানে মুক্ত, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকর অভিযাত্রা চেয়েছে, সেখানে ভারত চীনের সাথে মিলে এমন এক নির্বাচন করতে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন করেছেÑ যার সাথে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের নির্বাচনকে তুলনা করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মনে হয়, এখানে দিল্লি-বেইজিং সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এ অঞ্চলে আমেরিকান প্রভাবকে গভীর হতে না দেয়া।
অথচ ২০০৭-০৮ সালে ভারতের প্রভাবকে বাংলাদেশে সর্বব্যাপী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এবার ওয়াশিংটন মনে করেছিল, এখানে একটি মুক্ত, উদার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দিল্লির সহযোগিতা পাওয়া যাবে; কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উল্টোটাই হয়েছে।
খোগলের যে নীতির কথা বলা হচ্ছে, ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভদ্রকুমার সেটি গ্রহণের পক্ষে অনেক দিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে আরেকটি ত্রিদেশীয় বৈঠক হয়েছে, যেখানে একত্র হয়েছিল রাশিয়া, চীন ও ভারত। কার্যত, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ত্রিদেশীয় এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউরেশিয়ান প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন; যেখানে ভারত ও চীনের সাথে আরআইসি (রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চায়না) ফর্মেটকে নেতৃত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। পুতিন যে নিয়মিত আরআইসি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য রাশিয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
ভদ্রকুমার বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে আরআইসির মধ্যে আরো গতিশীলতা নিয়ে আসা এখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অংশ। বেইজিং ও দিল্লির সাথে আলোচনার পর মস্কো প্রস্তাবটি নিয়ে সতর্কভাবে বিবেচনা করতে পারে। আরআইসি ফর্মেট শুরু যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ভারত ফর্মেটের বিপরীতে একটা ভারসাম্যই তৈরি করছে না; বরং ব্রিকস ও এসসিও’কেও শক্তিশালী করবে। এটা ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে দৃঢ় করবে।’
এর আগে রাশিয়া, চীন ও ভারতের একত্র হওয়ার ধারণাটি ১৯৯৭ সালে প্রথম তুলেছিলেন রাশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরলোকগত ইভজেনি প্রিমাকভ; কিন্তু ভারত ও চীন তখন সাড়া দেয়নি। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক নির্মাণের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব লাভ করে।
বাংলাদেশকেন্দ্রিক চীন-রাশিয়া-ভারত মেরুকরণটি এখানে থেমে থাকবে বলেও মনে হয় না। এর পরবর্তী প্রভাব দেখা যেতে পারে আফগানিস্তানে। এর মধ্যে সেখানে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তালেবান ইস্যুতে একটি বোঝাপড়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের সাথে একধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ওয়াশিংটনের।
বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ব্যাপারে চীন বরাবরই সাধারণ এশীয় অবস্থান নেয়ার কথা বলত। এ অঞ্চলে যাতে আমেরিকান প্রভাব বাড়তে না পারে, সে জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলত। এই অবস্থানের বিপরীতে আমেরিকার সাথে সম্পর্ক বাড়াবাড়ি রকমের পর্যায়ে উপনীত হওয়ার ফলে ডোকলাম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে বেইজিং এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যাতে ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
এখন গোখলে তত্ত্বের প্রভাবে দিল্লি সম্ভবত ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে বেশখানিকটা বের হয়ে আসতে চাইছে। এর ফলে চীন-ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম বেড়ে যাবে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক কিছুটা হলেও বাড়বে। চীনের অর্থ ও বিনিয়োগপ্রবাহ কমতে থাকবে।
বাংলাদেশে চীন-ভারতের যে প্রীতিভাব তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে। এরপর শ্রীলঙ্কায় এখন যে সিরিসেনা-রাজাপাকসে-বিক্রমাসিংহে যুদ্ধংদেহী অবস্থা চলছে, তার অবসানেও গোখলে তত্ত্ব কাজ করতে পারে। এটি নেপালেও ভারত-চীনের মধ্যে সহাবস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও। পশ্চিমা দেশগুলো এই মেরুকরণকে কিভাবে নেয়, সেটিই হলো দেখার বিষয়।
তবে এই বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশে ভারত ও চীনের স্বার্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূরক নয়। ফলে নির্বাচনে জয়ের জন্য শেখ হাসিনা প্রথম দু’টি অভিনন্দন বার্তা ভারত ও চীনের কাছ থেকে পেলেও আগামীতে তা অব্যাহত না-ও থাকতে পারে। এমন কথাও এখন শোনা যাচ্ছে যে, শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভা থেকে পুরনো যাদের ছেঁটে ফেলেছেন তাদের বেশির ভাগই দিল্লির ঘনিষ্ঠ। ফলে নতুন সরকারে ভারতের চেয়ে চীনা প্রভাব বেশখানিকটা বাড়তে পারে। দিল্লির বিশ্লেষক ভরত ভূষণের লেখায়ও সেটির প্রকাশ পাওয়া যায়।
ভরত ভূষণের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকে ভারত ও চীন উভয়ে স্বাগত জানালেও তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন প্রথমত চায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ও দ্বিতীয়ত ভারতের মোকাবেলায় কৌশলগত পা রাখার জায়গা। ক্ষমতাসীন দলের প্রখ্যাত পরিবারগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে হানা দিয়ে চীন তার কৌশলগত লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকার চীনকে বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ দিয়েছে। বাংলাদেশ হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অবিভাজ্য অংশ। ছয়টি বিআরআই করিডোরের (চারটি স্থল ও দু’টি সামুদ্রিক) মধ্যে বাংলাদেশ কুনমিং থেকে কলকাতা (মিয়ানমারের কিয়াকফু বন্দর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে) পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সাগরপথের অবিভাজ্য অংশ।
তিনি আরো লিখেছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও এটি চীনকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ দেবে। ৮৫ শতাংশ চীনা মালিকানায় থাকা কিয়াকফু বন্দরটি হবে একটি জ্বালানি হাব। এর ফলে চীন অরক্ষিত মালাক্কা প্রণালীর ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। এই প্রণালী দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে চীন। কিয়াকফু বন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা তেল জমা করা হবে। সৌদি আরব এখানে একটি শোধনাগার বানাবে, কাতার বানাবে একটি গ্যাস পরিশোধন প্লান্ট। এখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে চীনে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কক্সবাজারের কাছে থাকা সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরটির কাজ এখন বন্ধ আছে। চীন তার ভূ-কৌশলগত, ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-জ্বালানি স্বার্থ এবং সেই সাথে পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রকল্প ও ১৩৫০০ মেগাওয়াট মহেশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে তার বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ক্ষমতার ধারাবাহিকতা চায়। মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় আসার পর ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ইস্ট-ওয়েস্ট রেলওয়ে প্রকল্প বাতিল করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে ভীত চীন।’
ভারতীয় বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশে চীনের প্রবেশে ভারতের সম্মতি থাকলেও এখানে চীনা উপস্থিতি সময়ের পরিক্রমায় সম্প্রসারিত হবে এবং ভারত তাতে ভেটো দিতে পারবে না। চীনা সম্প্রসারণ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ভূমিকা কোণঠাসা করে ফেলবে।
সব কিছু পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশকেন্দ্রিক মহা খেলা এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ঘনীভূত হতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই মহা খেলা শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে কী গতিপথ নেয় তা বলা মুশকিল। এই খেলায় শক্তিধরদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পৃক্ততাও রয়েছে। অল্প কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সম্পৃক্ত হতে পাশ্চাত্যের কোম্পানিগুলোকে বেশি দেখা যেত। কয়েক দিন আগে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম এ এলাকার ব্লক ইজারা পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। চীনও তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ঢাকাকে। কৌশলগত খেলার পরিণাম অনেক সময় বেশ ভয়ঙ্করও হয়ে দাঁড়ায়। তেমন একটি অবস্থা এ অঞ্চলে না আসুক, সেটিই সবার প্রত্যাশা।
[email protected]

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5