সত্য লেখায় সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক

05 Mar, 2019

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দৈনিক যুগান্তরের ছয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ও দু’জনকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। দেশের মানুষকে তথ্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তারা বলেন, এ আইনের কিছু ধারা গণতন্ত্র ও সুশাসনের পরিপন্থী।

কালো ধারা রহিত না করলে অন্যায়, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লেখার সুযোগ সংকুচিত হবে। তারা অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার সাংবাদিকদের মুক্তি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।

১৯ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরে ‘নবাবগঞ্জের ওসি মোস্তফা কামালের আলিশান বাড়ি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার মদদে ওইদিন সন্ধ্যায় দোহার থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যুগান্তর ও যমুনা টিভির নিজস্ব প্রতিনিধি আজহারুল হক, কেরানীগঞ্জ থানা প্রতিনিধি আবু জাফর, আশুলিয়া থানা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান মিঠু, ধামরাই থানা প্রতিনিধি শামীম খান এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এসএম হুমায়ুন কবীরকে আসামি করে মামলা করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কথিত নেতা, অসংখ্য অপরাধমূলক মামলার আসামি ও কুখ্যাত ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. পলাশ মিয়া।

মামলার পর রাতেই সাংবাদিক আবু জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা সভা, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন। সোমবার পালিত কর্মসূচি নিয়ে যুগান্তরের ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

সিদ্ধিরগঞ্জ : দৈনিক যুগান্তরের ৬ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা করেছেন সাংবাদিকরা। হিরাঝিল রজ্জব আলী সুপার মার্কেটে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আহমেদুল কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় সাংবাদিক মোস্তফা কামাল নয়ন, হোসেন চিশতী সিপলু, এ হাই মিলন, আরিফ হোসেন, ফরহাদ হোসেন, এমএ শাহীন, এমরান হোসেন, বিশাল আহমেদ, রাশেদুল কবির অনু, আরিফ হোসেন (জুনিয়র) প্রমুখ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সত্য লেখার কারণে সাংবাদিকদের জেলে যেতে হচ্ছে- এটা দুঃখজনক। দ্রুত গ্রেফতার সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও সারা দেশে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে সারা দেশের সাংবাদিকরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

তালতলী (বরগুনা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে তালতলী প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি মু. আ. মোতালিব। বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আ. মান্নান, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম আকাশ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাংবাদিক হারুন-অর রশিদ, কাওসার হামিদ, শাহিন সাইরাজ প্রমুখ।

মেহেরপুর : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার যুগান্তরের সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মেহেরপুরের সাংবাদিকরা। সকাল ১০টায় মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমির সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে মেহেরপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রুহুল কুদ্দুস টিটো, সেক্রেটারি মিজানুর রহমান, মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি ইয়াদুল মোমিন, সহসভাপতি মাহবুব চান্দু, যুগান্তরের প্রতিনিধি তোজাম্মেল আযম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সাবেক সেক্রেটারি শামীম জাহাঙ্গীর সেন্টু, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক মন্টু, রওশন আলী মনা, সাংবাদিক মাহবুবুল হক পোলেন, আতিক স্বপন, রামিজ আহসান, নাসের চৌধুরী সম্রাট, দিলরুবা খাতুন, আসিফ ইকবাল, হামিদুর রহমান কাজল, সাঈদ হোসেন, মীর সউদ আলী চন্দন, কামারুজ্জামান খান, শহীদুল ইসলাম, সাজেদ রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার এবং হয়রানির প্রতিবাদে মাগুরার মহম্মদপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা ১১টায় মহম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

দৈনিক যুগান্তরের মহম্মদপুর প্রতিনিধি মাসুদ রানার সভাপতিত্ব মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাংবাদিক কামরুল হাসান, এসআরএ হান্নান ও মাহামুদুন নবী। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক সুব্রত সরকার, মোরাদ হোসেন, মনোয়ার হোসেন, তরুণ কুমার গুহ পিকিং, বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, রাসেল মিয়া, আনিচুর রহমান ও আলীরেজা নান্নু।

গৌরনদী : একই ইস্যুতে বরিশালের গৌরনদীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গৌরনদী উপজেলা প্রেস ক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির, আসাদুজ্জামান রিপন, আলহাজ মো. জামাল উদ্দিন, বদরুজ্জামান খান সবুজ, ডা. মনীষ বিশ্বাস, জামিল মাহমুদ, কাজী আল আমীন, হাসান মাহমুদ, মোল্লা ফারুক হাসান, রাজিব খান, রনি মোল্লা প্রমুখ।

দাগনভূঞা (ফেনী) : যুগান্তরের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্য মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিতে দাগনভূঞা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ইয়াছিন সুমনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমাম হাছান কচির সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সাংবাদিক মো. আবু তাহের, এমএ তাহের, নুরুল আলম খান, রহিম উল্যাহ বাবুল, নাছির উদ্দিন আজাদ, বজলুর রহিম সুমন, ইয়াছিন রনি, কাজী ইফতেখারুল আলম, শহিদুল ইসলাম তোতা প্রমুখ।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : ডিজিটার নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিক গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে গৌরীপুরে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পৌর স্বজন সমাবেশের সভাপতি শ্যামল ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. রইছ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গৌরীপুর শাখার সদস্য সচিব মজিবুর রহমান ফকির, উপজেলা স্বজন সমাবেশের সভাপতি মো. এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক কবি সেলিম আল রাজ প্রমুখ বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বজন সমাবেশের সহসভাপতি মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক মোখলেছুর রহমান, সার্ডের ম্যানেজার আবদুল বাছেদ, সতিশা যুব ও কিশোর সংঘের সভাপতি মো. অলি উল্লাহ, সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান বোরহান, তৌহিদুল আমিন তুহিন, মো. মিলন, সামছুজ্জামান আরিফ, গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা কাম্য নয়। কোনো নাগরিককে অহেতুক হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। সাংবাদিকদের মুক্ত স্বাধীনতা খর্ব হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা থাকবে না। তাই অবিলম্বে সাংবাদিকদের মুক্তি দিন।
উৎসঃ   যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বোমা বর্ষণ: কী বলছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা?

পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।
পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।

মঙ্গলবার ভোর রাতে পাকিস্তানের সীমা অতিক্রম করে ভারতীয় বিমান জইশ ই মোহাম্মদের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করছে ভারত।

পাকিস্তান বলছে, বালাকোটের যেখানে হামলা চালানো হয়েছে সেখানে জইশ ই মোহাম্মদের কোন ঘাটি নেই। বরং ভারতীয় বিমান তাদের তাড়া খেয়ে খোলা মাঠেই বোমা ফেলে পালিয়ে গেছে।

ওই বালাকোট এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি।

তারা জানিয়েছেন, যখন হামলা চালানো হয় তখন বেশিরভাগ মানুষই ঘুমিয়ে ছিলেন। অনেকের ঘুম ভেঙে যায় আক্রমণের আওয়াজে।

বালাকোটের জাবা টপের বাসিন্দা মুহম্মদ আদিল বিবিসিকে বলেছেন, “ভোর তিনটার দিকে হঠাৎই প্রচণ্ড আওয়াজ হতে থাকে। মনে হয় যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। আর ঘুম আসে নি। কিছুক্ষণ পরে জানতে পারি বোমা পড়েছে।”

মি. আদিল আরও জানিয়েছেন যে একসঙ্গে পাঁচটা বিস্ফোরণ হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য আর আওয়াজ পাওয়া যায় নি।

“সকাল হওয়ার পরে আমরা ওই জায়গাটায় গিয়েছিলাম, যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে সেখানে। কয়েকটা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একজন ব্যক্তিকে জখম অবস্থায় দেখতে পেয়েছি,” জানাচ্ছিলেন মি. আদিল।

বালাকোটেরই আরেক বাসিন্দা ওয়াজিদ শাহও জানান, তিনিও একসঙ্গে বেশ কয়েকটা বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন।

“আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছিল যেন অনেকগুলো রাইফেল থেকে একসঙ্গে ফায়ার করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরে আর শব্দ পাই নি,” বলেন তিনি।

২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
Image caption২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

বালাকোট এলাকাটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মনশেরা জেলায়। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে।

২০০৫ সালে কাশ্মীরে যে ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতে বালাকোট সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েকবছর সময় লেগেছিল শহরটাকে আবারও গড়ে তুলতে। সৌদি আরব এই শহর পুনর্গঠনে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।

ভূমিকম্পে বালাকোটের ১২টি ইউনিয়ন কাউন্সিল এলাকা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ধ্বংস হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি।

পাহাড়ি এলাকা বালাকোট তার নিসর্গ দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত।

কুনহর নদীর তীরে এই বালাকোট শহরটির সাংস্কৃতিক আর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে।

সিন্ধু সভ্যতার চারটি যে প্রাচীন অঞ্চল ছিল, বালাকোট তারই অন্যতম।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Content Protection by DMCA.com

দরবেশের দেশে !


বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়, জার্মানি থেকে

প্রায় দশ বছর ধরে বাংলাদেশীদের জীবন এক ঠক, বাটপার, সরকারী তহবিল তছরুপকারী, দেশের ব্যাংকের অর্থ মেরে দেওয়া বিষয়টি একজনের নিদের্শনায় নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসবে।

যার নাম বলতে চাচ্ছি তা সবার কাছে সহজেই অনুমেয়। তিনি হলেন সালমান ফজলুর রহমান, যাকে সবাই চিনে সালমান এফ রহমান(৬৭) বা দরবেশ নামে।  তাঁর জন্ম ২৩ মে ১৯৫১ সালে দোহার, ঢাকায়, ১৯৭১ এ করাচি (পাকিস্তান) পড়াশুনা করেছেন। বর্তমানে বেসরকারি খাতের উন্নয়নের বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছেন।বেইজিং ভিত্তিক হুরুন গবাল ২০১৭ সালের হিসেবে বিশ্বের বিলিয়নিয়ার রেঙ্কে ১৬৮৫ নাম্বারে আছেন তিনি।

এই দরবেশ তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট দুইটি সরকারী ব্যাংকের গত ১০ বছরে পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে প্রায় ৩৫ বার । এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ হয়েছে ১৮ বার আর অগ্রণী ব্যাংকের পুনঃ তফসিলিকরণ করা হয়েছে ১৭ বার । এ ভাবে চলতে থাকলে সরকারপন্থী লোকজন ব্যাংকিং সেক্টরকে টাকা শূণ্য করে দেবে । সুতরাং দেশের এক সাধারণ নাগরিকের জীবন কেমন হতে পারে সেটা নিয়েও অনেকেরই প্রশ্ন থাকতে পারে !

এ ক্ষয়ে যাওয়া জীবন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনে বেঁচে থাকতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে ! কারণ, ন্যূনতম সম্বলে বেঁচে থাকতে গেলেও সীমিত আয়ের টাকার প্রয়োজন পরে। আমাদের আয়ের উৎসগুলো দিন দিন কমে আসছে, ব্যবসা কমে যাওয়া, শেয়ার বাজারে ধস,অযথা চাকুরী থেকে ছাঁটাই, চাকুরীর সুযোগ কমে যাওয়া আর নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া কোনভাবেই দেশের মূল্যস্ফিতি ইন্ডেক্সে দেখা যায় না। সেখানেও চলেছে আমলা -মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমরা দিন দিন দ্ররিদ থেকে দরিদ্রতর হয়ে পড়েছি। এই দুবির্ষ্য অবস্থায় সেই ঠক আর বাটপার লোকটাকে এ সরকারের রাষ্ট্র যন্ত্র থেকে কি আমরা কোন ভাবেই সরাতে পারবো না! কারণ তার একটা রাজনৈতিক দল আছে -সেই দলটা আগামী পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবে। বর্তমান রাষ্ট্রের যে প্রধানমন্ত্রী ও তার দল নানাভাবে সেই দরবেশ মানে সালমান এফ রহমানের ওপর নির্ভরশীল। এ দেশের ব্যবসা আওয়ামী লীগের হাতে রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে দরবেশের ওপরই একশত ভাগ নির্ভরশীল হতে হবে।

এভাবে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সেক্টরের ও প্রশাসনে হাত করে প্রধানমন্ত্রী মহা ফুর্তিতে রয়েছে বা না হলে বর্তমান এ বিশাল ভোট জালিয়াতি জায়েজ করতে কিভাবে ব্যবস্থা নেবে তা নিয়েও চিন্তায় থাকতো। আবার এ দীর্ঘ দশ বছরে এমন কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কাল থেকে আমরা মানে সাধারণ জনগণ একটা ঘোরের মধ্যে আছি, জানি না এ ঘোর কখন কাটবে, কবে আমাদের মুক্তি মিলবে। কোন ধরনের ঘোর মধ্যে থাকা অবস্থায় কিভাবে আস্তে আস্তে জনগনের ক্রয় ক্ষমতাটা একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে এ সরকার। যারা দুর্নীতি করে তাদের আঁড়াল করার বিষয়ে ব্যবস্থাপক হিসেবে দাঁড়িয়েছে দেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের কাপড় ধোলাই প্রকল্প। এ কমিশন দলীয় স্বার্থ দেখে যাচ্ছে। এ ধোলাই প্রক্রিয়ায় প্রায় প্রতিটা আওয়ামী লীগ নেতা শুদ্ব হয়ে বের হয়ে যাচ্ছে ।

প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধ ডজন বাড়ি আছে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ণাঢ্য এলাকায় রয়েছে আলিশান প্যালেস সমতুল্য বিলাস বহুল বাড়ী। দেশের প্রত্যেকটি বড় উন্নয়ণ প্রকল্পে কমিশন পায় জয় ও আর তার খালা রেহানা। তাদের প্রত্যেক্ষ মদদে আমলা -মন্ত্রী বা ব্যাংকের পরিচালকরা নানাভাবে প্রভাব খাটিয়ে কুক্ষিগত করে রেখেছে এ প্রশাসনকে। প্রশাসনকে কুক্ষিগত করে রাখার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে দরবেশের । অন্য কেউ এ প্রভাব খাটাতে পারে না।কারো কথা বলার হিম্মত নাই কারন বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ এখন দরবেশের দেশে বসবাস করছে । দেশের শেয়ার বাজারের প্রত্যেকটি কেলেঙ্কারি সাথে এই দরবেশের নাম উঠে এসেছে। এ সব বিরাট কেলেঙ্কারীর আজ অবধি কোন বিচার হয়নি। আর এ সরকার থাকতে কোনদিন সেই বিচারটা হবে না-এটা সবারই জানা আছে । ইলেকশনের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শেয়ার বাজারে আবারো বুঁদবুদ তৈরি করে রেখেছে। সেই বুঁদবুদ কখন ফেটে যায় তা কেউ বলতে পারবে না। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব থেকে নিঃস্বই হয়ে যাবে।

গত ৩০ শে ডিসেম্বর জালিয়াতি ভোটের পর সরকারের ক্যাবিনেট গঠন করতে দরবেশ সালমান এফ রহমানের অবদান আছে । খোদ অর্থ মন্ত্রী দরবেশের সাথে সক্ষতা রয়েছে ,তাই মন্ত্রীত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রী সারা দিন দরবেশের বাসায় বসে ছিল। অর্থ মন্ত্রী নিজেও অবশ্য দেশের শেয়ার বাজারের যত কেলেঙ্কারি আছে তারও কুশিলব । ইব্রাহিম খালেদের শেয়ার বাজারের রিপোর্টে তার নামটা উঠে এসেছে ।অর্থাৎ আমরা এক বাক্যে বলতে পারি : শেয়ার বাজারের চোর হচ্ছে এখন মন্ত্রী । পরিকল্পনা মন্ত্রী থেকে এখন অর্থ মন্ত্রী হয়েছে । দেশের সর্বোচ্চ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চোর মন্ত্রীর অবস্থান আমাদের আর্থিক ও সামাজিক জীবনকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে । আর অন্যদিকে এ মন্ত্রী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের একটা ভঙ্গুর উন্নয়নকে চোখে দেখাতে বাংলাদেশের ডাটা ম্যানুপুলেশন করে গেছে । বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা যদি একটু ড্যাটা গুলো বিশ্লেষন করেন তাহলে বুঝতে বাকি থাকবে না আসলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডাটা দিয়ে কি হচ্ছে আর কি দেখানো হচ্ছে বিশ্ববাসীকে । বাংলাদেশ মধ্যম আয়ে যাবার ক্ষেত্রে সেই ম্যানুপুলেশন করা ড্যাটার অবদানটাও কি মিথ্যা ? পৃথিবীর কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।

দরবেশের যত ঋণ :

দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের সাথে সরকারের সম্পর্কের কারণে সরকারী ও বেসরকারী ব্যাংক গুলো কেউ কোন কিছু করতে পারে না । দরবেশের এ গ্রূপের অর্থশক্তি দিয়ে রাজনৈতিক শক্তি মোকাবিলা করে যাচ্ছে । আর এখন আওয়ামী সরকারের এমপি হওয়ায় দরবেশের বেক্সিমকো একটি দানবে রূপ নিয়েছে ,কে ঠেকাবে এ দানবকে ? সরকারের সাথে একটা সমান্তরাল সরকার চালাচ্ছে -কেউ কোন কিছু বলার নাই – দরবেশের দেশে আছি বলে কথা !

দরবেশের বেক্সিমকো গ্রূপের মোট ঋণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা । ৯টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এসব ঋণ নিয়েছে। এ ঋণগুলোর পুনঃ তফসিলিকরণের সময়কাল গত বছর জুন মাসে । কিছু বেনামি ঋণের দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। আরও কিছু বেনামি ঋণ রয়েছে সেগুলো এখনও চূড়ান্ত ভাবে শনাক্ত হয়নি।

সোনালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের তিন কোম্পানির মোট ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, বেক্সিমকো সিনথেটিকের ১৩১ কোটি টাকা এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সের ১৩২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো সিনথেটিকের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত মার্চে সেগুলো নবায়ন করা হয়েছে। ২৫ কোটি টাকা ডাউন পেমেন্ট বাবদ জমা দেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে কিস্তির টাকা জমা দেয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে আরো ১১ কোটি টাকা কিস্তি বাবদ জমা দিয়েছে। এর আগে একাধিকবার খেলাপি হয়েছিল। এবার নিয়ে ১৮ দফা গ্রূপের ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফা নবায়নের ক্ষেত্রে নিয়েছে বিশেষ মওকুফ বা ছাড়। এসব ঋণের উৎপত্তি ১৯৯৬ সালে। প্রথমে মাত্র ২৫ কোটি টাকার সিসি ও এলসি ঋণ ছিল। জিএমজি এয়ারলাইন্স খেলাপি প্রতিষ্ঠান। এটি বেক্সিমকো গ্রূপের হলেও ব্যাংকে এটিকে গ্রূপভূক্ত কোম্পানি হিসাবে দেখানো হয়নি।

দীর্ঘ এ সময়ে মূল ঋণ পরিশোধ না করে বিভিন্ন সময় কিছু ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বারবার ঋণ নবায়ন এবং ঋণসীমা বাড়ানো ও নতুন ঋণ দেয়ার কারণে এ অংক বেড়েছে। এর মধ্যে বেক্সিমকো সিনথেটিক লোকসানি প্রতিষ্ঠান। শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত এ কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারীদেরকে কোন লভ্যাংশ দেয়নি। জিএমজি এলারলাইন্সের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

জনতা ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ২৯৬৪ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধ না করে শুধু ঋণ সীমা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে গত আগস্টে বেক্সিমকো গ্রূপের প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো এলপিজি কোম্পানির নামে ৪৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৭ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

গ্রূপের আবেদনের ভিত্তিতে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ প্রথমে বেক্সিমকো গ্রূপের ওই কোম্পানির নামে ৪৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে। পরে বিষয়টি জেনে বেক্সিমকো গ্রূপের পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, গ্রূপের জন্য ৪৭৫ কোটি টাকারই ঋণ লাগবে। পরের পর্ষদ সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহা কোন আলোচনা না করেই ঋণটি পাশ করে দেন। এ বিষয়ে কয়েকজন পরিচালক আপত্তি করলেও সেগুলো আমলে নেয়া হয়নি। বরং চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে পর্ষদ সভায় আর কোন আলোচনার প্রয়োজন নেই।

এদিকে সামলান এফ রহমানের ছেলের নামে রয়েছে এই এলএনজি কোম্পানিটি। এর বিপরীতে বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন ৬০ বিঘা জমি ও বেক্সিমকো গ্রূপের একটি কোম্পানির ৯০ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকে জামানত হিসাবে বন্ধক রাখা হয়েছে। তারপরও এটাকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ হিসাবে দেখানো হয়নি। দেখানো হয়েছে একটি স্বাধীন কোম্পানি হিসাবে। এ কোম্পানির ঋণ বেক্সিমকো গ্রূপের হিসাবে দেখানো হলে একক ঋণ হিসাবে তাদের ঋণের অংক বেড়ে যাবে। এতে জনতা ব্যাংক আইনগত জটিলতার মুখোমুখি হবে। সেটা এড়াতে তারা বেক্সিমকো এলএনজিকে বেক্সিমকোর গ্রূপভুক্ত কোম্পানি করেনি।

অগ্রণী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ১ হাজার ৭২ কোটি টাকা। তাদের মূল ঋণ ছিল ৮০১ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত এক টাকাও পরিশোধ করেনি। ইতিমধ্যে তাদের ঋণ ১৭ দফা নবায়ন করা হয়েছে। প্রতি দফায় দেয়া হয়েছে বিশেষ ছাড়। বেক্সিমকো হোল্ডিংসের ৫৩০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৩০ কোটি টাকা মওকুফ করা হয়েছে। বাকি ৩০০ কোটি টাকা গ্রূপের বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়েছে।

রূপালী ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৭১ কোটি টাকা। মূল ঋণ ছিল ৬৩১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সময় মতো টাকা পরিশোধ না করায় ধীরে ধীরে তা বেড়েই চলেছে। গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে।

বেসরকারী এবি ব্যাংক : এবি ব্যাংকে বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণের পরিমাণ ৮২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের ৬৫০ কোটি টাকা, নিউ ঢাকা জুট লিমিটেডের ৯২ কোটি টাকা, ইন্টারন্যাশনাল নিটওয়্যার লিমিটেডের ৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিউ ঢাকা জুট লিমিটেড গিরিধারী লাল মোদীর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি। ওই কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে তা বেক্সিমকো গ্রূপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইন্ডিপেন্ডেড টিভির একাউন্টে স্থানান্তর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এটি ধরা পড়ার পর এই ঋণের দায় বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়্যার লিমিটেডের নামে নেয়া ঋণও বেক্সিমকো গ্রূপ ব্যবহার করে। পরে এই ঋণের দায়ও বেক্সিমকো গ্রূপ স্বীকার করে নিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ ৮৩৯ কোটি টাকা। ২০১৫ সালে মূল ঋণ ছিল ৪৭৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে তা গিয়ে ঠেকে প্রায় ৭৩৯ কোটি টাকায়। কোনো টাকা সময় মতো পরিশোধ না করায় বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮৩৯ কোটি টাকায়। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্সের ঋণ রয়েছে ৩৪৩ কোটি টাকা। কোম্পানির কার্যক্রম ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

এক্সিম ব্যাংক : বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের নামে ৩৩৩ কোটি টাকা। বাকি ২৬৭ কোটি টাকা বেক্সিমকো গ্রূপের বেনামি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এ ঘটনা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত চলছে। গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ২৩৩ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকে বেক্সিমকোর প্রায় হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।

ব্যাংক এশিয়া : বেক্সিমকো গ্রূপের মূল ঋণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। কিস্তি পরিশোধের সময় শেষ হলেও বকেয়া ২৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেক্সিমকো গ্রূপের নামে ছোট আকারের ঋণ রয়েছে। ইষ্টার্ণ ব্যাংকেও বেক্সিমকো গ্রূপের ঋণ রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মিসাইল হচ্ছে এ দরবেশ ! স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের অর্থয়ানে এ ধরনের আরো বেশ কিছু দরবেশ আছে ,যাদের কাছে দেশ ,জাতি বা দেশপ্রেম বলতে কোনো কিছু নাই। তারা দেশকে রক্ত চোষা ড্রাকুলার মতো তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের কাছে গোটা দেশ ও জাতি জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের নুন্যতম বাক স্বাধীনতা নাই। কে কথা বলবে ? কে সত্য কথা তুলে ধরবে ? দরবেশের দেশে কার এতো বড় হিম্মত ?

Content Protection by DMCA.com

সকল বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে ঐক্যফ্রন্ট: রব

17 Feb, 2019

সকল বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণশুনানি করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

রবিবার(১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং ও সমন্বয় কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রব বলেন, ‘আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা গণশুনানি করব বলে সরকার আগে থেকে সব হল বুকিং দিয়ে রেখেছে। আমাদের কোনো হল দেয়া হচ্ছে না। যত বাধাই আসুক, সকল বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পাব আমরা সেখানেই গণশুনানি করব।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দল গত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা গণশুনানীতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানাব। তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে।’

আ স ম রব বলেন, ‘গণশুনানি সফল করতে আগামীকাল সমন্বয় কমিটি বৈঠকে বসবে। এছাড়া ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করবে।’

বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ

Content Protection by DMCA.com

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র নতুন মেরুকরণ ও বাংলাদেশ

১১ জানুয়ারী, ২০১৯

মাসুম খলিলী:
দক্ষিণ এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর প্রভাব-প্রতিযোগিতা নতুন অবয়ব নিতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলে এক দশক আগে পরাশক্তিগুলোর যে মেরুকরণ দেখা গিয়েছিল, তা এখন বেশখানিকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। এ পরিবর্তনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালে সোভিয়েত-মার্কিন ক্ষমতা বিস্তারের প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎশক্তি ভারত ছিল সোভিয়েত বলয়ে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময়কালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা জওয়াহেরলাল নেহরুর সাথে ব্রিটিশ শাসকদের ভালো সম্পর্ক থাকলেও তার আদর্শগত ভাবনা-চিন্তায় সমাজতন্ত্রের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল। ব্রিটিশ-সোভিয়েত যৌথ প্রভাবে তিনি স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রিক মূলনীতি ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্রের সমন্বয় আনতে চেয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে মুক্তভাবে শিল্প বিকাশের সুযোগ দেন।
লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সময়ের পর নেহরু-তনয়া ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাবার অনুসৃত নীতিই এগিয়ে নিয়ে যান। বাবা-মেয়ের দুই আমলেই দৃশ্যমান নীতি হিসেবে ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিলেও কার্যক্ষেত্রে সোভিয়েত বলয়ে অবস্থান নেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান অবধি ভারতের সরকারনির্বিশেষে এ নীতি অনুসৃত হতে থাকে। স্নায়ুদ্বন্দ্বের অবসানে সোভিয়েতের পরিবর্তে রুশ অধ্যায় শুরু হলে দিল্লি একধরনের ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের পথে পা বাড়ায়। নরসিমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং মনমোহন সিংয়ের চার মেয়াদে ধীর গতিতে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতি ওয়াশিংটনমুখী হতে শুরু করে।
নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় কৌশলগত নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তনে আমেরিকামুখী নীতি-কৌশলের পরিবর্তন ধীরমাত্রার বদলে দ্রুতগতির মাত্রা নেয়। প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা চুক্তিসহ অনেকগুলো কৌশলগত সহায়তা চুক্তি হয় দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে। নরেন্দ্র মোদি এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতকে মহাশক্তি তথা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ও পরমাণু প্রযুক্তি রফতানিকারক দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখায়। বাস্তবে এর কোনোটাই অর্জিত হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রতিরক্ষাসামগ্রী আমদানি এবং ভারত মহাসাগরে মার্কিন মিত্র জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সাথে যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগে চীনের সাথে বৈরিতা বৃদ্ধি পায় দিল্লির।
এর ফলে এক দিকে ডোকলাম সঙ্কটের মতো সীমান্ত সঙ্ঘাত বৃদ্ধি পায়; অন্য দিকে পাকিস্তানের সাথে চীনের যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ জোরদার হয়। রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি হয় ইসলামাবাদের। এই মেরুকরণ দিল্লির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। ভারতের অনেক নীতিনির্ধারক ভারসাম্য নীতি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌশলগত চিন্তাবিদ পরাগ খান্না ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘ভারত কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো পরাশক্তি হবে না।’ কিন্তু তিনি এটাও বলেন যে, ‘এ দেশটি বিশ্বব্যবস্থার দিক বদলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এশিয়াতে তো বটেই। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন সবাই যদি ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চায় এ কারণে যে ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে বড় ধরনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না জড়িয়েও ভারত সবার সাথেই বন্ধুত্ব রাখতে পারবে।’
শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি আবার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নতুন করে এস ৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রয় ও নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন চুক্তি হয় দিল্লি-মস্কোর মধ্যে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে রুশ-চীন লাইনে দিল্লির অবস্থান আগে থেকেই এর একটি ভিত সৃষ্টি করে।
ভারতের সাউথ ব্লকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়েও এর মধ্যে পরিবর্তন আসে। পররাষ্ট্র সচিব পদে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এস জয়শঙ্করের স্থলাভিষিক্ত হন চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিজয় কেশব গোখলে। জয়শঙ্করের অগ্রাধিকার যেখানে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা, সেখানে গোখলের অগ্রাধিকার হয় চীনের সাথে বৈরিতার জায়গাগুলো এক পাশে সরিয়ে রেখে যেখানে সম্ভব সেখানে ভারত-চীন সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ১০ দিন আগে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক সুবির নন্দী লিখেছিলেন, ‘গোখলের কৌশল ৩০ ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে কিছুটা পরীক্ষার মুখে পড়বে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা দুই জায়গাতেই ভারতের বন্ধুরা নৈতিকভাবে একটা শক্ত অবস্থানে ছিল। তারা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন তাদের অবস্থান ছিল দৃশ্যত গণতন্ত্রের বিপক্ষে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং সফল গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে এসব ব্যক্তির সমর্থন দেয়া ভারতের জন্য সহজ ছিল। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেস্তে গেছে। কারণ ভারত যে উচ্চ নৈতিক অবস্থান কামনা করে, সেটা এখানে নেই। পশ্চিমা দেশগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে এটা বোঝাতে ভারতের বেগ পেতে হচ্ছে যে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সেটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো হবে।’
সুবির নন্দী বাংলাদেশে গোখলের নীতির যে পরীক্ষার কথা বলেছিলেন, সেটির সফল বাস্তবায়ন এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশে। এখানে পাশ্চাত্যের দেশগুলো যেখানে মুক্ত, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকর অভিযাত্রা চেয়েছে, সেখানে ভারত চীনের সাথে মিলে এমন এক নির্বাচন করতে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন করেছেÑ যার সাথে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের নির্বাচনকে তুলনা করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মনে হয়, এখানে দিল্লি-বেইজিং সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এ অঞ্চলে আমেরিকান প্রভাবকে গভীর হতে না দেয়া।
অথচ ২০০৭-০৮ সালে ভারতের প্রভাবকে বাংলাদেশে সর্বব্যাপী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এবার ওয়াশিংটন মনে করেছিল, এখানে একটি মুক্ত, উদার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দিল্লির সহযোগিতা পাওয়া যাবে; কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উল্টোটাই হয়েছে।
খোগলের যে নীতির কথা বলা হচ্ছে, ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভদ্রকুমার সেটি গ্রহণের পক্ষে অনেক দিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে আরেকটি ত্রিদেশীয় বৈঠক হয়েছে, যেখানে একত্র হয়েছিল রাশিয়া, চীন ও ভারত। কার্যত, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ত্রিদেশীয় এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউরেশিয়ান প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন; যেখানে ভারত ও চীনের সাথে আরআইসি (রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চায়না) ফর্মেটকে নেতৃত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। পুতিন যে নিয়মিত আরআইসি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য রাশিয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
ভদ্রকুমার বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে আরআইসির মধ্যে আরো গতিশীলতা নিয়ে আসা এখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অংশ। বেইজিং ও দিল্লির সাথে আলোচনার পর মস্কো প্রস্তাবটি নিয়ে সতর্কভাবে বিবেচনা করতে পারে। আরআইসি ফর্মেট শুরু যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ভারত ফর্মেটের বিপরীতে একটা ভারসাম্যই তৈরি করছে না; বরং ব্রিকস ও এসসিও’কেও শক্তিশালী করবে। এটা ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে দৃঢ় করবে।’
এর আগে রাশিয়া, চীন ও ভারতের একত্র হওয়ার ধারণাটি ১৯৯৭ সালে প্রথম তুলেছিলেন রাশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরলোকগত ইভজেনি প্রিমাকভ; কিন্তু ভারত ও চীন তখন সাড়া দেয়নি। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক নির্মাণের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব লাভ করে।
বাংলাদেশকেন্দ্রিক চীন-রাশিয়া-ভারত মেরুকরণটি এখানে থেমে থাকবে বলেও মনে হয় না। এর পরবর্তী প্রভাব দেখা যেতে পারে আফগানিস্তানে। এর মধ্যে সেখানে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তালেবান ইস্যুতে একটি বোঝাপড়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের সাথে একধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ওয়াশিংটনের।
বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ব্যাপারে চীন বরাবরই সাধারণ এশীয় অবস্থান নেয়ার কথা বলত। এ অঞ্চলে যাতে আমেরিকান প্রভাব বাড়তে না পারে, সে জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলত। এই অবস্থানের বিপরীতে আমেরিকার সাথে সম্পর্ক বাড়াবাড়ি রকমের পর্যায়ে উপনীত হওয়ার ফলে ডোকলাম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে বেইজিং এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যাতে ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
এখন গোখলে তত্ত্বের প্রভাবে দিল্লি সম্ভবত ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে বেশখানিকটা বের হয়ে আসতে চাইছে। এর ফলে চীন-ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম বেড়ে যাবে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক কিছুটা হলেও বাড়বে। চীনের অর্থ ও বিনিয়োগপ্রবাহ কমতে থাকবে।
বাংলাদেশে চীন-ভারতের যে প্রীতিভাব তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে। এরপর শ্রীলঙ্কায় এখন যে সিরিসেনা-রাজাপাকসে-বিক্রমাসিংহে যুদ্ধংদেহী অবস্থা চলছে, তার অবসানেও গোখলে তত্ত্ব কাজ করতে পারে। এটি নেপালেও ভারত-চীনের মধ্যে সহাবস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও। পশ্চিমা দেশগুলো এই মেরুকরণকে কিভাবে নেয়, সেটিই হলো দেখার বিষয়।
তবে এই বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশে ভারত ও চীনের স্বার্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূরক নয়। ফলে নির্বাচনে জয়ের জন্য শেখ হাসিনা প্রথম দু’টি অভিনন্দন বার্তা ভারত ও চীনের কাছ থেকে পেলেও আগামীতে তা অব্যাহত না-ও থাকতে পারে। এমন কথাও এখন শোনা যাচ্ছে যে, শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভা থেকে পুরনো যাদের ছেঁটে ফেলেছেন তাদের বেশির ভাগই দিল্লির ঘনিষ্ঠ। ফলে নতুন সরকারে ভারতের চেয়ে চীনা প্রভাব বেশখানিকটা বাড়তে পারে। দিল্লির বিশ্লেষক ভরত ভূষণের লেখায়ও সেটির প্রকাশ পাওয়া যায়।
ভরত ভূষণের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকে ভারত ও চীন উভয়ে স্বাগত জানালেও তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন প্রথমত চায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ও দ্বিতীয়ত ভারতের মোকাবেলায় কৌশলগত পা রাখার জায়গা। ক্ষমতাসীন দলের প্রখ্যাত পরিবারগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে হানা দিয়ে চীন তার কৌশলগত লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকার চীনকে বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ দিয়েছে। বাংলাদেশ হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অবিভাজ্য অংশ। ছয়টি বিআরআই করিডোরের (চারটি স্থল ও দু’টি সামুদ্রিক) মধ্যে বাংলাদেশ কুনমিং থেকে কলকাতা (মিয়ানমারের কিয়াকফু বন্দর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে) পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সাগরপথের অবিভাজ্য অংশ।
তিনি আরো লিখেছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও এটি চীনকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ দেবে। ৮৫ শতাংশ চীনা মালিকানায় থাকা কিয়াকফু বন্দরটি হবে একটি জ্বালানি হাব। এর ফলে চীন অরক্ষিত মালাক্কা প্রণালীর ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। এই প্রণালী দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে চীন। কিয়াকফু বন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা তেল জমা করা হবে। সৌদি আরব এখানে একটি শোধনাগার বানাবে, কাতার বানাবে একটি গ্যাস পরিশোধন প্লান্ট। এখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে চীনে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কক্সবাজারের কাছে থাকা সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরটির কাজ এখন বন্ধ আছে। চীন তার ভূ-কৌশলগত, ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-জ্বালানি স্বার্থ এবং সেই সাথে পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রকল্প ও ১৩৫০০ মেগাওয়াট মহেশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে তার বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ক্ষমতার ধারাবাহিকতা চায়। মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় আসার পর ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ইস্ট-ওয়েস্ট রেলওয়ে প্রকল্প বাতিল করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে ভীত চীন।’
ভারতীয় বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশে চীনের প্রবেশে ভারতের সম্মতি থাকলেও এখানে চীনা উপস্থিতি সময়ের পরিক্রমায় সম্প্রসারিত হবে এবং ভারত তাতে ভেটো দিতে পারবে না। চীনা সম্প্রসারণ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ভূমিকা কোণঠাসা করে ফেলবে।
সব কিছু পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশকেন্দ্রিক মহা খেলা এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ঘনীভূত হতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই মহা খেলা শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে কী গতিপথ নেয় তা বলা মুশকিল। এই খেলায় শক্তিধরদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পৃক্ততাও রয়েছে। অল্প কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সম্পৃক্ত হতে পাশ্চাত্যের কোম্পানিগুলোকে বেশি দেখা যেত। কয়েক দিন আগে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম এ এলাকার ব্লক ইজারা পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। চীনও তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ঢাকাকে। কৌশলগত খেলার পরিণাম অনেক সময় বেশ ভয়ঙ্করও হয়ে দাঁড়ায়। তেমন একটি অবস্থা এ অঞ্চলে না আসুক, সেটিই সবার প্রত্যাশা।
[email protected]

Content Protection by DMCA.com

সংলাপের বাতাস : রাজনীতিতে হঠাৎ ইউটার্ন

শামসুল আলম
 
২৯ অক্টোবর ২০১৮। বাংলাদেশের রাজনীতি জীবনে নানা ঘটনাবহুল দিন। এটা একদিকে বর্তমান সরকারের শেষ কার্য দিবস, কাল থেকে শুরু হবে নির্বাচনকালীন সরকার! একই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি দুর্নীতি মামলার বিতর্কিত রায়ে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়, অবশ্য আগের দিন রায়ের বিরবণ পত্রিকায় আগাম প্রকাশ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে; বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আত্মপক্ষ সমর্থন করার সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি। দু’দিন ধরে নৌমন্ত্রী শাজাহানের আজ্ঞাবহ পরিবহণ শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে জনগনের সাথে সন্ত্রাস করে রাস্তা দখলে রাখার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো যে, বিএনপি যেনো রাজপথে না আসতে পারে। বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ইভিএমের বিধান রেখে আরপিও পাশ করে সরকারের কেবিনেট! এরি মাঝখানে বিকালে ঘোষণা আসে, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার।
 
১. নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের দাবী করে চিঠি গ্রহণ করে বেশ কিছু সময় শীতল থাকার পরে হঠাৎ সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় নড়ে চড়ে বসেছ সবাই। এটাকে ‘রাজনীতির ইউ টার্ন’ হিসাবেও দেখছে অনেকে। শুধু সংলাপ নয়, ঐক্যফ্রন্টকে একেবারে নৈশভোজের দাওয়াত! বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়ার রেওয়াজটা উঠে গেছে অনেক দিন! সেখানে সরকারের এই অবস্থান বদলে সচিবালয় সহ সদ্ধিগ্ন মহলগুলো ভাবনায় পড়ে যায়! হঠাৎ কেনো এই সংলাপের ঘোষণা। তবে কি সরকারের সুমতি হয়েছে? তবে এটা কিন্তু শেখ হাসিনার নীতি ও চরিত্রের সাথে যায় না।
 
২. তাহলে কি প্রবল বিদেশী চাপে এই সংলাপ? এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বোদ্ধারা সকলেই অবহিত আছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্বেগের কথা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের ওপর ভর করে পূর্ন মেয়াদের একটি সরকার মেরে কেটে ক্ষমতায় থাকার পর ভুলের খাতায় অনেক কিছু জমা হয়েছে। এ অবস্খায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে উন্নয়ন পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ বেশিরভাগ বিদেশী বন্ধুরাই চায় বাংলাদেশে একটি জনগনের শাসন কায়েম হোক; আর যেনো পাঁচই জানুয়ারীর মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। একটি অংশগ্রহনমূলক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রবল। বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র ভারতও ২০১৪ সালের অবস্খান থেকে সরে এসে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দরকার ইত্যাদি কথা বলছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতকে পাশে ঠেলে শেখ হাসিনার সরকার ও দল উদভ্রান্তের মত দৌড়াচ্ছে চীনের দিকে। নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য এটি অসহণীয়। সার্বিক অবস্খা উত্তরপাড়া থেকেও সংলাপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এহেন অবস্থায়, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বক্ষণে নৈশভোজ-সংলাপে আদৌ কি ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে সবার কৌতুহল!
 
৩. তাহলে কি সংলাপ দেশে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে? বিরোধী দলের ৭ দফা দাবী মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাটছে? সরলভাবে তেমনটা আশা করা হবে নেহায়েত বোকামী! শেখ হাসিনা কখনই বিরোধীদের সম্পূর্ন দাবী মেনে এমন কোনো নির্বাচনের উদ্যোগ নিবে না, যাতে তিনি হেরে যাবেন। কেননা, মুখে যাই বলুন না কেনো, তিনি ভালো করেই জানেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামানত বাজেয়াপ্তই তার দলে আশু নিয়তি। আর সেটা ঘোরাতেই যত প্রকারের নির্বাচন প্রকৌশল (election engineering), নিজ দলীয় লোক বেছে বেছে ভোট অফিসার নিয়োগ করা, বিরোধী দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইভিএম চেষ্টা, ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি প্রধানকে বিতর্কিত রায়ে একের পর এক সাজা প্রদান, বিরোধীদের গায়েবী মামলার দৌড়ের উপর রেখে নিজেরা নির্বাচনী কাজে নেমে পড়ার মত নির্লজ্জকর কাজে ব্যস্ত রয়েছে আ’লীগ।
 
৪. প্রশ্ন উঠতে পারে এই সংলাপের মানে কি? ঐক্যফ্রন্ট সংসদের বিরোধী দল নয়, বিগত সরকারও নয়, এমনকি এই ব্যানারে কখনও নির্বাচনে অংশও নেয়নি। তাহলে তাদের চিঠির বরাতে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ সংলাপে উদ্যোগী হলে কেনো? এখানেই রয়ে গেছে বিরাট উত্তর। বিএনপির নেতৃত্বে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ানরা আছে, এটা প্রায় সর্বজনবিদিত। তাই তাদের অনুরোধ, উপরোধ, চাপ সবই কাজ করেছে এই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিতে। তাছাড়া, গতকালই বামদলীয় জোট ঘোষণা করেছে, যেনো তেনো প্রকারের নির্বাচনে তারা অংশ নিবেনা। প্রতিবেশীর পিছুটানের ফলে ৫ জানুয়িারির মত বিনাভোটের নির্বাচন এবারে সম্ভব নয়। এ অবস্খায় চাহিত আলোচনা ছাড়া বা একটি নূন্যতম সমঝোতা ব্যতীত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হবে, তা গণঅভ্যুত্থাণের রূপ নিতে পারে, এটা বোধ করি ফ্রন্টের প্রস্তুতি থেকে সকলেই অনুধাবন করেছেন। আগামীকাল থেকে শেখ হাসিনার সরকার যখন নির্বাচনকালীন সরকার, তাই বিরোধী দলের কথা শুনতে তারা বাধ্য। আ’লীগ যদি সরকারে না থাকে, তবে বৈঠকে বসার কোনো প্রয়োজন হতো না, কিন্তু সরকারে থাকলে বৈঠক করতে হবে, শুনতে হবে কথা। নইলে নির্বাচন হবে কি করে, সংঘাত অনিবার্য!
 
৫. আরেকটি প্রশ্ন- সংলাপই যদি করবে, তাহলে এত তাড়াহুড়া করে আকতারুজ্জামানের ‘জাজমেন্ট মেশিন’ থেকে এতদ্রুত আউটপুট বের করে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ৭ বছর কারাদন্ড দেয়া হলো কেনো- যেখানে পুরো বিচার প্রকৃয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ? সংবিধান লংঘন করে কেনো এই রায়? এটার অনেক উত্তর থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার মনখুশি রায় এটা। এটা দিয়ে তিনি খুশি। তিনি এখন খালেদা জিয়ার সাথে কোনো বৈঠকে বসতে রাজী নন, যদিও সেটাই ছিল তার নিস্ক্রমনের জন্য সহজ রাম্তা। অনেকেই মনে করেন, বেগম জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব যতটা না রাজনৈতিক, তারও চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত! শেখ হাসিনার ক্ষোভ হলো, খালেদা জিয়া কেনো এত সুন্দর, কেনো এত লোক তাকে পছন্দ করে, কেনো তার এত বেশি ভোট! তাই তিনি খালেদা জিয়ার মত শক্তিশালি প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে বসার চাইতে তাকে কারারুদ্ধ রাখতেই বেশি তৃপ্ত বোধ করছেন। এই রায়ের দ্বারা হাসিনা তার রাগ, জেদ, ক্রোধ ও সংকল্পের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। ভবিষ্যতে যদি তিনি ক্ষমতায় ফেরত আসতে নাও পারেন, অন্তত খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দেয়ার পথ তৈরী করে নিলেন। তিনি ভালো করেই জানেন, সরকার পরিবর্তন হলে আজকের এই আপীল বিভাগই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এসব রায় ও সিদ্ধান্ত রিভিউ করে সব বাতিল করবেন দ্রুততম সময়ে। তাই এখন যা কিছু পারা যায়, নিজের হাতেই করে নিয়ে তৃপ্ত হতে চান তিনি!
 
৬. এটা কি এমন হতে পারে যে, হাসিনা দীর্ঘকালের অবৈধ সরকারের দুর্নাম ঘুচাতে নিজকে ‘হঠাৎ গণতন্ত্রী’ প্রদর্শনের জন্য সংণলাপের এই দৃশ্য মঞ্চায়ন করলেন? কিংবা নিজেকে মহান দেখাতে? বিগত নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনা নিজেই গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডিনারে, সংলাপে, এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে। কিন্তু এ টেলিফোন কলের আগেই তিনি ছ’শ কোটি টাকা ব্যয় করে নিশ্চিত করেছিলেন, বেগম জিয়া যেনো সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেন (এর দলিল হয়ত দেয়া সম্ভব নয়, কিন্তু জীবন্ত মানুষ সাক্ষী আছে)! তার মানে, ওটা ছিল লোক দেখানো সংলাপের ডাক। এবারেও তেমনটা না ঘটলেও যাতে সংলাপের পূর্ণ সুবিধা বিরোধীরা না পায়, সে চেষ্টা তার অবশ্যই থাকবে!
 
৭. তাহলে সংলাপের ফলাফলটা কি?
ক) সংলাপ দৃশ্যমাণ শোভন হবে। শেখ হাসিনা হয়ত ফ্রন্টের আংশিক কিছু দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার কথা বলে ক্যামোফ্লেজ তৈরী করবেন, যাতে করে ফ্রন্টের মধ্যে বিভেদ লাগে বা ভাঙনের মুখে পড়ে। হয়ত বলবেন, ‘সংবিধান মোতাবেক আমি সরকারে থাকব, পদত্যাগ করার কোনো নিয়ম নাই, সংসদ চালু নাই তাই ভাঙার কোনো দরকার নাই, সংবিধান মোতাবেক আমার অন্তবর্তী কেবিনেটে আপনারা ৫জন মন্ত্রী দিতে পারেন, সে জন্যই কেবিনেট ভাঙ্গিনি (১০% কোটায় আসুন) “ এতে করে ফ্রন্টের মধ্যে কলহ লাগতে পারে।
 
খ) বলবে, বাকী সব দাবী এভাবে মানব- নির্বাচন কমিশন পূর্নগঠন করতে গেলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। তাতে রাজী থাকলে চেষ্টা করা যাবে, নাম দেন। তখন অন্য রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে বৈঠক করার সুযোগ তৈরি হবে, আর এতে নির্বাচন ঝুলে যাবে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আছে, তাদের ছাড়া বাকী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে, তবে আইনি প্রকৃয়া মেনে। এতে করে সময় লাগবে। যেভাবে রায়গুলো আছে, দেখা গেলো এমন সময়ে বেগম জিয়া ছাড়া পেলেন যে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেও পারলেন না, বা প্রচারণাতেও সামিল হতে পারনে না। এভাকে প্রথম দফা মানার গেম চলতে পারে।
 
খ) ইভিএম সিস্টেমে নির্বাচন করার মত কোনো প্রস্তুতি ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের না থাকার পরও কেবিনেটে আজ তা পাশ করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে ইনাম হিসাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিল পাশ করার সুযোগ দিলো সরকার। ইভিএম আইন পাশ করতে চাইলে বিদায়ী (বিনাভোটের) সংসদেই পাশ করতে পারত। এত দেরী করে সংসদশূন্য অবস্থায় কেনো? কিন্তু সেটা যখন করেনি, এখন করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে করতে হবে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাহলে এই ইভিএম বিতর্ক জিইয়ে রাখলো কি বিরোধীদের টেনশন বাড়ানোর জন্য? এখন সংলাপের সময় হয়ত বলবে- ইভিএমের দাবীও মেনে নিলাম। যান আরেক দফা হলো তো!
 
গ) অন্যান্য দাবীর মধ্যে সেনাবাহিনী নামানো প্রসঙ্গে বলবে রাজী, তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে, সাথে সিভিল ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবে! বলবে সভাসমাবেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। বলবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলনে যারা আছে, সবাইকে মুক্তি দেয়া হলো। দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকেও রাজী। কারও কোনো রাজনৈতিক মামলা থাকলে নির্বাচনকালে স্থগিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় সকলের নামে ফৌজদারী অপরাধের মামলা। পুলিশ যেভাবে মামলা সাজায় তাতে রাজনৈতিক মামলা প্রমান করা বেশ জটিল।
 
বলবে, তাহলে ৭ দফা দাবীর প্রায় সবই মানা হলো, এবার ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুন। এ নিয়ে বাগড়া দিতে যাবে কে? কেউ অবশ্য বলছেন, হাসিনা জানে, তাকে বিদায় নিতে হবে, এটা নিশ্চিত। এখন তিনি চান সেইফ এগ্জিট। এ নিয়ে বিএনপির ওপরে তার আস্থা নেই, আস্খা আছে ড. কামালে। ব্যারিস্টার মইনুলে সমস্যা আছে, তাই জেলে রাখা হলো। জাফরউল্লাহ আশ্বাস দিয়েছেন প্যাসেজ দিবেন, তাই তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারো কারো মতে, হাসিনা সময় ক্ষেপণ করছেন। তবে কি সংলাপের নামে নিরাপদ প্রস্থানের পথ পরিস্কার করা হলো?
 
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি ফ্রন্ট-রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি ফাঁদে পড়লো? তাছাড়া ফ্রন্ট নিয়ে আগানোর কুফলে কি ২০ দলীয় জোট অস্তিত্বের সংকটে পড়বে? এ অবস্থায় কি নির্বাচন হবে, নাকি ফ্রন্ট বয়কট করবে? নাকি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব এবং উপরে লিখিত সম্ভাবনাগুলো সবই ঘটনাত্তোর পরিস্কার হবে। সংলাপ শেষে আগামী শুক্রবার নাগাদ বোঝা যাবে এর ফলাফল, তত দিনেও ১০ দিনের আল্টিমেটামের কয়েকদিন বাকী থাকবে। তখন বলা যাবে ফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে কি না। এর আগে যা কিছু বলা, সবাই আন্দাজ এবং বিশ্লেষণ মাত্র! তবে আপাতদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা বিদেশী চাপে পড়ে, উত্তর পাড়ার মতামতে, এবং জনগণের কাছে নিজের ‘চেষ্টার ত্রুটি করিনি’ বোঝাতেই এই সংলাপের হঠাৎ আয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি এই সংলাপের পথ ধরে নির্বাচনে যায়ও ফ্রন্ট তবে দেখা যাবে- শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হয়ে আছেন, তার সজ্জিত প্রশাসন ও পুলিশ সবাই কর্মরত, রিটারর্নিং অফিসার ও পোলিং-প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ করা ব্যক্তিরা কাজ করছে, ইলেকশন কমিশনার ২/১টা বা পুরোটাই বদলে দেয়া হলো কিন্তু তার সচিবালয় আনটাছ রাখা হলো (বিশেষ করে সচিব হেলালউদ্দীন)! এমতাবস্থায়, এইরূপ পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী প্রশাসন দিয়ে আর যাই হোক, সুষ্ঠু ভোট গ্রহন ও ফলাফল প্রকাশ অসম্ভব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রশাসন নিরপেক্ষকরণ বলতে যা বোঝায়, তা করতে হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে। আর সেটা তো তিনি সংলাপের ভেতর দিয়ে রাজী হবেন না। তা অবশ্য কেউ হয়ও না। তার জন্য দরকার হবে – রাজপথের আন্দোলন ও গণবিল্পব। বর্তমানে বিরোধী দল, তথা ঐক্যফ্রন্টের সেই প্রস্তুতি থাকলেও ডিনার-সংলাপে হয়ত সেটা কিছুটা পিছিয়ে যাবে, বিশেষ করে ২ তারিখের ঢাকায় জমায়েত। তবে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও রাস্তায় নেতাকর্মী নামিয়ে যেকোনো সময় নির্বাচন বয়কট করে অলআউট আন্দোলনে যেতে পারবে। এদেশের ইতিহাস যা বলে, তাতে নাগরিকের ভোটের অধিকার রাজপথেই অর্জিত হবে। বেগম জিয়ার সাথে মামলাবাজি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার হাতের কার্ড সব খেলে ফেলছেন। আর এতে করেই জনতার বিজয়ের আশা জাগছে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

মাসুদা ভাট্টি: নামে মুসলিম আসলে হিন্দু, পুরুষ থেকে রূপান্তরিত এক বিকৃত রুচির নারী!!

আহমেদ সাইমুম
হালের গোয়েবলস সাংবাদিক(!!) মাসুদা ভাট্টির যাপিত জীবন ও তার কর্মাচার নিয়ে কথা বলা বা আলোচনা সমালোচনা করার মত নূন্যতম ইচ্ছে আর রুচিবোধ কোনটাই নেই আমার। এসবে আমার খুবই ঘেন্না লাগে। এটা আমার জন্যে ভীষণ রকম বেমানানও বটে। আর এ শ্রেণীভূক্ত কারো জীবনাচার নিয়ে কথা বলাটাতো সাংঘাতিক রকম অপছন্দ আমার। তবে উনি যখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণকারী দু:শাসনের দস্যু দানবদের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরেই ওনার মেধা মনন শ্রম ঘাম ঝরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বাধিকারকে দু’পায়ে মাড়িয়ে তাড়িয়ে একপেশে গোয়েলবসীয় গোয়ার্তুমি চালিয়েই যাচ্ছেন ঠিক এমনি এক সময়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে অযাচিত প্রশ্নে বিব্রত করে দেশজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়ে বিরাটাকৃতির সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেছেন ঠিক তখনই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জ্ঞাতার্থে যৎ সামান্য তথ্যাদি উপস্থাপন নাদান নাগরিকের জন্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে।
#ভাট্টি সম্পর্কে সাধারণের যেটুকু জানাশোনা আছে তার কয়েক রত্তি সত্য হলো:
#ভাট্টি নানা স্থানে ঘুরা ফেরা করেছে। পাকিস্তানেও ছিলো। নিজের শারীরিক ও মানসিক চরিত্র নানা সময়ে পরিবর্তন করেছে। শারীরিক চরিত্র বলতে সে তার লিংগ পরিবর্তন করেছে। (বায়োলজিক্যালি) লিঙ্গান্তরের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হওয়া সম্প্রদায়ের একজন!
#ভাট্টি সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে বিশেষ সম্প্রদায়ের চিহ্ন টিপ পরেন!
#ভাট্টি বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক!
#ভাট্টি লন্ডনে গিয়ে এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করে তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেয়!
#ভাট্টি লন্ডনে থাকাকালে পূর্বের স্বামীকে ত্যাগ করে বহুগামীতায় মেতে ওঠেন! সে পলিগ্যামিষ্ট ও হেট্রো সেক্সুয়াল। সে নারী ও পুরুষ উভয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত বিষয়।
#ভাট্টির নামটিও মেইড বাই পাকিস্তান!
#ভাট্টি বাংলাদেশ বিরোধী জঘন্য মিডিয়ার লেখক!
#ভাট্টি ভারত ও ইসরাইলের পেইড এজেন্ট সাংবাদিক সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন!
#ভাট্টি যখন সাম্প্রদায়িক আওয়ামী রাজনীতিরর জংগী কর্মী হিসাবে একের পর এক বুদ্ধিবৃত্তিক কু প্রবণতা তৈরি করে বাংলাদেশকে রক্তের হলি খেলার দিকে নিয়ে যায় তখন অবশ্যই সবাইকে ভাবতে হবে। সে রাশিয়ান ব্লকের ছেলে এবং আওয়ামীলীগ এর প্রোপাগান্ডা টিমের সদস্য। রাশিয়ায় কমিউনিজম এর পতনের সময় ভাট্টি ইয়লতসিনের পক্ষে কথা বার্তা বলতো। আওয়ামীলীগ, রাশিয়া ও ভারতের প্রডাক্ট এমন একজন মহান ব্যক্তিকে কিভাবে চরিত্রহীন বলে। এই ভাট্টিরা গনতন্ত্র এর বিপক্ষে সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বাহিনী স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।
#ভাট্টি বেশ দিন লন্ডনে বসে শোষক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো কুশীলবদের অন্যতম বাইজী!
#ভাট্টি “লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেশ বিরোধী কথিত বুদ্ধিজীবী আগাচৌ’র রাখায়েল ছিলেন!
যার কারনে আগাচৌ’র পরিবারে যথেষ্ট অশান্তিও নেমে এসেছিল!’
#তসলিমা নাসরিন ভাট্টি চরিত্রগত দিক নিয়ে তার এক বইয়ে আলোচনা করেছেন বিস্তারিত।#ব্যারিস্টার মঈনুল ভাট্টিকে ভদ্র ভাষায় চরিত্রহীন বলেছেন টিভি টকশো’তে আর তসলিমা নাসরিন ভাট্টির অসতী চরিত্রের পোস্টমর্টেম তুলে ধরেছেন- প্রমাণ দিয়েছেন তার লেখা বইয়ে।
#বুড়ো শালিক আগাচৌ ভাট্টির ফুলেল চরিত্র নিয়ে কথা নাবলে থুতনী ডুবিয়ে মধু নিয়েছেন!
সর্বোপরি ম ভাট্টি গং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে তিরষ্কার নাকরে ধন্যবাদ দিতে পারেন বা দেয়া উচিৎ এজন্যে যে,তিনি তার নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধের কারণে ভাট্টির নগ্ন রূপের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন করে দেননি!!
#একটা মানুষ পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয় কি পরিমাণ বিকারগ্রস্ত হলে তা ভাবতেই যে কারো আসবে বমি-আর ঘৃণায় অরুচিতে বিকল হয়ে যাবে মগজ!!

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

কেন গোয়েন্দা প্রধান সামরিক অফিসার ও আইজিপিদের শাস্তি হলো?

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
মর্মান্তিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকালে এনএসআই এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে এবং অন্য এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার ডিজিএফআই-তে থাকলেও তাদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তৎকালীন এনএসআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনাম চৌধুরী বা ডিজিএফআই প্রধান কেন গ্রেপ্তারই হন নাই, শাস্তিতো দূরের কথা। আর কেনই বা বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশের সাবেক ৩জন প্রধানকে অন্যান্য মেয়াদে শাস্তি দেয়া হলো? বিষয়টি নিয়ে গোপন এক অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের পাইলসের সমস্যা জটিল আকার ধারন করায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং যথারীতি তার অপারেশনও হয়। এ সময় এনএসআই-তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ডিরেক্টর এক্সটারনাল ব্রি জেনারেল এনাম চৌধুরী। তার সময়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। যথারীতি তিনি আগের দিনও গোয়েন্দা রিপোর্ট পান; কিন্তু সেই রিপোর্ট কোথায় সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা তো করাই হয়নি; তাকে বরং প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয় পরবর্তীতে। এমনকি ফিল্ড রিপোর্টের দায়িত্ব যে সকল অফিসারদের ছিল তাদেরও জিজ্ঞেস করা হয় নাই।

ঠিক একই অবস্থা মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারের বেলায়। তিনি ডিজিএফআইতে থাকাকালে ছিলেন একটি ব্রাঞ্চের ডিরেক্টর হিসেবে, তিনি তার প্রধানকে রিপোর্ট করেছিলেন কি না, বা রিপোর্ট করা তার দায়িত্ব ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারনে এই দুই সামরিক অফিসারকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মামলার মত করেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্রি জেনারেল রহিম সরকার প্রধানের বিনা অনুমতিতে গোপনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী বাবর ও তার এনএসআই-র অন্যান্য কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতায় তার মিশন একদম শেষ পর্যায়ে ভণ্ডুল করে দেয়া হয়।  এমনকি তার চাকুরীটি পর্যন্ত এক্সটেনশন  করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল নাসিম সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেনারেল নাসিমকে আটক করে রেখেছিলেন। অনেকেই এই ঘটনার পাল্টা হিসেব হিসেবে এই শাস্তিকে মনে করে থাকেন।

তবে কোন কোন মহলের মতে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সতর্ক বার্তা দিতে যেমন এই দণ্ডাদেশ, তেমনি যারা এখন আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তাদের জানান দেয়া যে, যেকোন মুল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে নইলে আজকে যেমন ভুয়া অজুহাতে শাস্তি হয়েছে, আগামীতে বর্তমানের পুলিশ বা সেনা অফিসারদের শাস্তি দিতে আগামীর সরকারদের (যদি আওয়ামী না থাকে) কোন মিথ্যা অজুহাত খাঁড়াও করতে হবে না। তাই সবাই যেন সতর্কভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখে।

Content Protection by DMCA.com

গোলামতন্ত্র মানবেন? নাকি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মুক্তির পথ বেছে নেবেন?

।।এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের কাছে আওয়ামী লীগের ভাষায় বললে ‘নালিশ’ করতে যান শেখ হাসিনা। দুই ঘন্টার নালিশে তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকার, যারা মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলো তাঁদের বিরুদ্ধে হেন কথা নাই, যা বলেন নাই।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা তিনি বলেন তা বর্ণিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেঃ “SHEIKH HASINA SPENT A CONSIDERABLE AMOUNT OF TIME EXPLAINING WHY THE PARTY’S CALL FOR SOCIALISM WAS REALLY NOT/NOT A CALL FOR SOCIALISM. SHE SAID THAT SHE PERSONALLY HAD NO SYMPATHY FOR SOCIALISM, THAT SHE KNOWS THAT IT IS A FAILED SYSTEM, EVERYWHERE.”

আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতির খোঁজ খবর রাখি, তারা ভালো করেই জানি আওয়ামী লীগের ঘোষিত চার মূলনীতির কথাঃ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর বাঙালী জাতীয়তাবাদ।

গণতন্ত্রের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সর্বজনবিদিত, ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ভোট ডাকাতির নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র দুটি দুই পথে। যার প্রমাণ তারা দিয়েছে ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানিয়ে, ১৯৮৬ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে, ১৯৯৬ সালে নাসিমকে দিয়ে সামরিক ক্যু করানোর চেষ্টা করে, ১৭৩ দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে পরে ২০১১ সালে নিজেরাই তা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে, এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থীকে বিনাভোটে নির্বাচিত করে।

সমাজতন্ত্র যে হাসিনা মানে না সে কথা তো নিজ মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন, গণতন্ত্র মানেন না তা কাজে প্রমান করে দেখিয়েছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটা এক্সক্লুসিভ জাতীয়তাবাদ, তাই তাদের নিজেদের আদালতই এই জাতীয়তাবাদকে খারিজ করে দিয়েছে; ফলস্বরূপ টিকে আছে জিয়াউর রহমানের দেয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়, তাই-ই জানে না শেখ হাসিনা, জানলে তার এতটুকু ধারণা থাকার কথা যে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করে মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর জন্য ছয় কোটি সরকারি অনুদান দেয়া পরষ্পরবিরোধী এবং কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় উলুধ্বনী দেবার বা দূর্গা দেবী গজে চড়ে আসার তথ্য দেয়া হাস্যকর।

তাহলে আওয়ামী লীগের নীতি কি?

আওয়ামী লীগের একমাত্র নীতি হচ্ছে গোলামতন্ত্র। এই গোলামতন্ত্রে শেখ পরিবার হচ্ছে সর্বশক্তিমান এক রাজ পরিবার, আর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী এই পরিবারের গোলাম।

আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি-নেতা কিংবা তৃণমূলের একজন কর্মী হতে হলেও আপনাকে এই গোলামি স্বীকার করে নিতে হবে। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে এই পরিবার এবং তাঁদের কৃতদাসেরা যা বলবে তাই-ই শুধু সত্য, বাকি সব মিথ্যা।

যেমন ধরুন তারা আপনাকে বলবে এসকে সিনহা একজন দুর্নীতিবাজ, কারণ সে মীর কাসেম আলীর ভাই এবং সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে মীর কাসেম আলী ও সালাউদ্দিন কাদেরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না যে, যদি এসকে সিনহা টাকা খেয়েই থাকে তবে সে কেন মীর কাসেম আলী আর সালাউদ্দিন কাদেরের বিপক্ষে রায় দিল?

একমাত্র নিকৃষ্ট গোলাম ছাড়া কেউ এই দলের সাথে যুক্ত হতে পারবে না। এইটাই এই দলের একমাত্র নীতি। আর কোন নীতি নাই। আপনি যদি এই গোলামি মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না। এইজন্য আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষনেতাদের ৬০-৭০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে লীগ করতে পারে না। এই জন্য ডঃ কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর আহমেদরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজপথে টিকিয়ে রাখা মোস্তফা মহসিন মন্টুকে গণফোরামে যোগ দিতে হয়; হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গকে মৃত্যুর আগে বিএনপি’তে যোগ দিতে হয়, লিয়াকত-হান্নানকে হারিয়ে যেতে হয় আর মতিউর রহমান রেন্টুকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বই লিখে দেশান্তরী হতে হয়।

আজকে বাংলাদেশের যে সংকট, এর অন্যতম প্রধান কারণ এই গোলামতন্ত্র। আওয়ামী লীগ মনে করে তাঁদের সাম্রাজ্যে সবাইকে তাঁদের গোলাম হতে হবে। তাই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর তাদেরই মনোনীত প্রেসিডেন্ট শাহবুদ্দীন আহমেদকে এরা গালাগালি করবে, কেন সে ২০০১ সালে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করলো না।

একই কারণে নিজেদেরই মন্ত্রী একে খন্দকার যখন যুক্তি-তর্কের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই, তখন সে যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই হোন না কেন, তাঁকে রাজাকার বলতে দুই সেকেন্ডও সময় লাগে না শেখ হাসিনার।

আজকে এসকে সিনহার হাসিনার প্রিয়পাত্র থেকে চিরশত্রুতে পরিণত হওয়ার পেছনেও দায়ী এই গোলামতন্ত্র। বিচারপত্রি সিনহা যখন সাগর-রুনীর হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, তনু হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের টাকার হদিস জানতে চেয়েছেন, বিচারকদের উপর আইনমন্ত্রীর খবরদারি বন্ধ করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআই দিয়ে রায় লেখানো বন্ধ করতে চেয়েছেন- তখন শেখ হাসিনা আর মেনে নিতে পারেন নাই।

কারণ শেখ হাসিনা ভালো করে জানেন যে কেঁচো খুড়তে দিলে যে সাপ বের হবে, আর সেই সাপ দেখলে এই দেশের মানুষ আগামী একশো বছরে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।

গতকাল নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সূচনা হয়েছে, সেই ঐক্য প্রক্রিয়া হচ্ছে এই গোলামতন্ত্র ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশকে এই গোলামতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে না পারলে, আজ হোক কাল হোক আপনিও এদের গোলামে পরিণত হবেন নয়তো দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন।

সিদ্ধান্ত আপনার।

Content Protection by DMCA.com

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিলিং মিশন দায় কার?

লিখেছেন: আবদুল্লাহ্ আল মেহেদী

গত কয়েকদিন আগের ঘটনা পূর্বাচল থেকে গুলিবিদ্ধ তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ! পরিচয় মিলেছে হতভাগ্য তিন যুবকের। তবে কারা, কী কারণে তাদের হত্যা করলো, জানা যায়নি। পুলিশ কোনো ক্লু পাচ্ছে না। কেমন অদ্ভুদ কথা তাই না? পরের কথায় আসি, ক্লু নিয়ে সামনে এলেন নিহতদের পরিবার। ডিবির জ্যাকেট পরা ছয়-সাত জন তাদের তুলে নিয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের ডিবি বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ফেরিঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে এসব তথ্য জেনেছেন। পূর্বাচলে তাদেরই লাশ পাওয়া গেছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এমন ঘটনা কিন্তু নতুন নয় বেশ পুরনো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কেন মানুষকে তুলে নিবে, কেনই বা হত্যা করবে? পুরনো কিছু প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন কাজ করবে এটা তো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা হতে পারে না। তাহলে ডিবি পরিচয়ে কারা মানুষকে তুলে নিচ্ছে, হত্যা করছে? সাধারণ মানুষের মনে এখন ‘আতঙ্ক’ কাজ করছে।

আমরা তো পুরনো ঘটনাগুলো মনে রাখতে পারি না। এমনকি বিগত এক মাসের কথাও ভুলে যাই বেমালুম! ‘ডিবি’ লিখে যদি একটু গুগলে সার্চ দেন আর কয়েকটি স্টেপ মনোযোগ নিয়ে পড়েন তবে অসংখ্য সংবাদের সন্ধান পাবেন। যেমন- ‘ডিবি পরিচয়ে এক নারীকে তুলে নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি’, চট্টগ্রামে ৮ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা’, ‘ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার’, এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারঃডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা। ব্যাপক খবর পাওয়া যাবে। এইগুলি কিন্তু পত্রপত্রিকাতে আসা খবর। এখন কথা হচ্ছে, সংবাদগুলো সত্য নাকি মিথ্যে? ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যে বিশেষ কোনো মহল, এসব অপকর্ম করছে কি না? উত্তরে কী আসবে? সন্ধান করা ডিবিরই দায়িত্ব। অসত্য হলে তা দেশের মানুষকে জানানো দরকার। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় সংবাদগুলো মিথ্যে নয়। ডিবি এই পর্যন্ত মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা করেনি। কোনো মহল এসব করে থাকলে, তাদের সন্ধান- ধরাও ডিবিরই দায়িত্ব। একেবারে করছে না, তা বলা যাবে না। বেশ কিছু ‘ভুয়া ডিবি’ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ‘ভুয়া ডিবি’ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবও। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা পুলিশের ভাবমূর্তি জনমনে গতিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তুলে নেওয়া বা অপহরণের একটি অভিযোগ আসার পরে, কখনো বলা হয়েছে ‘আমরা করিনি’। কখনো কোনো কিছু না বলে চুপ থাকা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে টেনে হেঁচড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছিল ডিবির বিরুদ্ধে। নানা শঙ্কা চললো। তারপর ডিবির পক্ষ থেকে বলা হলো, তুলে আনা হয়নি- তথ্য জানার জন্যে তাদের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল।

কক্সবাজারে গতবছর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে টাকাসহ আটক হয় ৭ ডিবি পুলিশ সদস্য। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল সভাপতিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো। দুই দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতারা আত্মগোপনে ছিলেন না। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিবি তথ্য জানার জন্যে তাদের ডাকা যেতে পারতো। যদি ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর ডিবির বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো কেনো? এসব প্রশ্নের উত্তর যখন থাকে না, তখন সামনে যে সংবাদ আসে সবই বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে যায়।

মনে আছে সেই সেভেন মার্ডারের কথা? ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর জামাতার কুকর্মের কথা? কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যার কনট্রাক। নারায়ণগঞ্জে ৭ অপহরণ হত্যা র‍্যাব কর্তৃক সংঘটিত, এই সত্য জানার পর মানুষের কাছে কোনো কিছুই যেন আর অবিশ্বাস্য মনে হয় না। ব্যবস্থা মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘প্রত্যাহার’ এবং কিছুদিন পর আবার পদায়ন! ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে ডিবি- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহৃত হওয়ার পর যারা ফিরে এসেছেন, কারা তাদের অপহরণ করেছিল, তা অনুসন্ধান করতে দেখা যায়নি।

দিন কয়েক আগে হজ ফিরৎ বাবাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন এক শিবির নেতা। ১২ জন শিক্ষার্থীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল ৫ সেপ্টেম্বর। ডিবি তাদের আদালতে হাজির করেছে ৫ দিন পর ১০ সেপ্টেম্বর। ৫ সেপ্টেম্বর যে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা ডিবি স্বীকার না করে বলেছে ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া মানুষের লাশ পাওয়া যায় সংবাদে, মানুষের মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয় রাষ্ট্রীয় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সম্পর্কে? মানুষের মনোভাব কেমন হয়, তা জানাটা কি অতি জরুরি।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 5