পাসপোর্ট না থাকায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের পাইলট কাতার বিমান বন্দরে আটক!

সঙ্গে পাসপোর্ট না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক পাইলটকে আটকে দিয়েছে কাতার ইমিগ্রেশন।গতকাল বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে অবস্থান করছেন। অপর একটি বেসরকারি বিমানের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট পাঠিয়ে তাকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গতকাল বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়।

বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে কাতার ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে। পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং এই পাসপোর্ট কাতারে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানোর চেষ্টা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু কাতার এয়ারলাইন্স জানায়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া একজনের পাসপোর্ট্‌ বহনের নিয়ম নেই।

পরে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। রিজেন্ট এয়ারলাইন্সও ওই পাসপোর্ট বহনে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে পাসপোর্ট ছাড়া একজন পাইলট কীভাবে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ গেলেন এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ছাড়া দেশত্যাগ ও অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বলেন, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট বহন করবে না রিজেন্ট এয়ার।

এ বিষয়ে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের কোনো ক্রুর পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বড় ধরণের অপরাধ। দেশে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনারের একজন ইনস্ট্রাকটরের দায়িত্বও পালন করছেন। আগামী ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

Content Protection by DMCA.com

‘মাথায় গোলমাল’ বিষয়ে ওয়াসার এমডিকে সেই মিজানুরের চ্যালেঞ্জ

24 Apr, 2019

ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান।

তাকসিম এ খানকে শরবত খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র ও সাজানো নাটক হিসেবে উল্লেখ করেন ওয়াসার এমডি।

এছাড়া এমডি বলেন, মিজানুরের মাথায় একটু গোলমাল আছে।

এমডির এমন মন্তব্যের পর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মিজানুর রহমান।

বুধবার বিকালে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াসার এমডি সাহেবের সঙ্গে তো আমার কোনো ব্যাক্তিগত সমস্যা নাই। রোশারেশি নাই। এটা তো আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার না। তিনি বলেছেন, ঢাকায় ওয়াসার শতভাগ পানি সুপেয়। শুধুমাত্র আমি এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছি।

মাথায় গোলমালের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মাথায় গোলমাল আছে কিনা বা আমি পাগল কিনা তিনি সেটা প্রমাণ করুক। আমার সঙ্গে তো তার ব্যাক্তিগত রেশারেশি নাই। আমি পাগল কি পাগল না এটা তো বড় বিষয় না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম সে প্রমাণ করে দেখাক আমি পাগল কিনা।

শরবত খাওয়ানো নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও সাজানো নাটকের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে মিজানুর বলেন, আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম যদি এমডির সৎ সাহস থাকে তাহলে প্রমাণ করুক।

এর আগে এদিন সকালে ওয়াসার এমডি তাসকিন এ খান বলেন, ‘টিআইবির রিপোর্ট আমি প্রত্যাখ্যান করছি। এ নিয়ে কোনও কথা বলতে আমি রাজি নই।’

সেইসঙ্গে ওয়াসার পানি নিয়ে নগরবাসীর প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘সাজানো নাটক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাসকিন এ খান বলেন, ‘আমরা আমাদের স্টাডি থেকে পেয়েছি যে, লিকেজ থেকে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। এখন জানা দরকার, মিজানুরকে দিয়ে এই ষড়যন্ত্র করালো কে? বিষয়টি পুরোপুরি সাজানো নাটক।’

মিজানুরের দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে ওয়াসা এমডি বলেন, ‘এটা তার বাসার পানি না। তাকে কে বা কারা সহযোগিতা করছে, এটা জানা দরকার। কারণ, সরকাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অনেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘মিজানুরের ভাই বলেছে, তার ভাইয়ের মাথায় নাকি একটু গোলমাল আছে। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না।’

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার তার বাসায় গিয়ে ওয়াসার লোকেরা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুপুর দুইটার দিকে কে বা কারা আমার স্ত্রীর বাসায় প্রবেশ করে কোনো অনুমতি ছাড়াই। পরে আমি তাদের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বললে তারা আমার ওপর চড়াও হয়। এরপর আমি ফোন কেটে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় যায়।

মিজানুর রহমান বলেন, আমি বাসায় যাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞেস করি তারা অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছে কিনা। তারা অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছে বললেও আমার স্ত্রী বলে তারা অনুমতি নেননি।

হুমকির বিষয়ে প্রশ্ন করলে মিজানুর বলেন, তারা আমাকে মামলা-হামলার হুমকি দিয়েছে। আমার সঙ্গে খারাপ আচারণ করেছে। তারা দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছে।

হুমকিদাতারা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর বলেন, তারা সবাই ওয়াসার লোকজন। আমি তদের সবাইকে চিনি। তারাই এসে আমাকে হুমকি দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওয়াসা ভবনে ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানি দিয়ে শরবত খাওয়াতে যান মিজানুর রহমান।

এমডিকে ওয়াসার পানির শরবত খাওয়াতে না পেরে হতাশ মিজানুর বলেন, এ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পানি খেয়ে যারা অসুস্থ হয়েছে বা মারা গেছে, তদন্ত করে ওয়াসাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ পর্যন্ত ওয়াসা দূষিত পানি দিয়ে যে বিল নিয়েছে, তা গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে। এই ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত ওয়াসাকে আর এক পয়সাও বিল দেব না।

Content Protection by DMCA.com

দল গোছানোর মিশনে বিএনপি

25 Apr, 2019

বিএনপি এখন দল গোছানোর মিশনে। শক্তি সঞ্চয় করেই দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে মাঠে নামতে চায় দলটি। এর আগে দলের জেলা পর্যায়ের কমিটি ও সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দলের ৬২টি সাংগঠনিক জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাকি দশ মহানগর ও কয়েকটি জেলার সঙ্গেও শিগরিই স্কাইপিতে কথা বলবেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের সাংগঠনিক দিক নির্দেশনার পাশাপাশি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে। সামগ্রিক বিষয় তদারকি করতে সপ্তাহে একদিন (প্রতি শনিবার) স্থায়ী কমিটির বৈঠক বসবে। সেখানেও লন্ডন থেকে স্কাইপিতে যুক্ত হবেন তারেক রহমান। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, যেসব জেলার নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলেছেন, ওইসব জেলায়ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মতবিনিময় করছেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কি অবস্থা তা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওইসব কমিটি গঠনের দিক নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি দল গোছানোর ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতারা বলছেন, ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় সব কমিটিই কাউন্সিলের মাধ্যমে হতে হবে। পকেট কমিটি বা চাপিয়ে দেওয়া কমিটি যেন না হয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখন আমাদের এক নম্বর কাজ হচ্ছে দল গোছানো। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও হচ্ছে। এরপর আমরা বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথমুখী হব। একইসঙ্গে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরই মধ্যে ৬২টি জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলেছেন তারেক রহমান। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে হবে। মূলত সাংগঠনিক বিষয়েই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।’ জানা যায়, এরই মধ্যে কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এবং এ্যাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। এ ছাড়া মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ কমিটি করতে এরই মধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে একটি ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতেও সার্চ কমিটির নেতারা বৈঠক করেছেন। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ জানুয়ারিতে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সাবেক এক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আপাতত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র নেতাদের নেতৃত্বেই এ কমিটি হতে পারে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর আদলে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ নিয়েই মূলত সার্চ কমিটি কাজ করছে। এ দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল এরই মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানও নিয়মিত কথা বলছেন। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজও চলছে। সূত্রমতে, আগামী তিন চার মাস বিএনপি দল গোছানোতেই ব্যস্ত থাকবে। রমজানে ইফতার পার্টির মাধ্যমেও সাংগঠনিক কর্মকা চালু রাখবে। তবে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির পক্ষ থেকে ইফতার পার্টি কম করা হবে। রমজানের পর কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ জেলায় আবারও যাবেন। সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দলের হাইকমান্ডকে রিপোর্ট করবেন তারা। দল গুছিয়ে কোরবানির ঈদের পর বিএনপি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপি একই বার্তা দিয়েছে। সবাইকে দল গোছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির এক নেতা জানান, জেলা বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের কমিটি হলেও আপাতত কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে না। দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়া কারামুক্ত হলেই তার নেতৃত্বে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী বিভাগে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভাগটির সব জেলায় আমি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তৃণমূলের বক্তব্য হচ্ছে, সব পর্যায়ের কমিটি হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের কোনো কমিটি দেওয়া যাবে না। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সব কমিটিই সম্মেলনের মাধ্যমে হতে হবে। এ বিষয়টি আমি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, জেলা-উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কি অবস্থা তা আমরা জানার চেষ্টা করেছি। তৃণমূলে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা বা উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি পুরাতন কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে নিজের আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধ হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় তিনি খুবই বিরক্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি এখনো কেন জেলখানায়? আইনজীবীরা কী করছেন? কেন আমাকে মুক্ত করতে পারছেন না? আমার মামলার আপিল হচ্ছে না কেন? এরপরই বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে আইনজীবীরা কে কোন মামলায় লড়বেন তা সুনির্দিষ্ট করে দেন। এ নিয়ে সর্বশেষ সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বেগম জিয়ার মামলার আইনি লড়াই নিয়েও নেতাদের সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেগম জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীকে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন। অন্যদিকে নিম্ন আদালতে নাইকো মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট রেজ্জাক খান। গ্যাটকো মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। তাদের সহযোগিতা করবেন দলের সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীরা। এ ছাড়া বৈঠকে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেন সদস্যরা। এতে স্কাইপিতে যুক্ত হন তারেক রহমান।

Content Protection by DMCA.com

হাতের ঠেলায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, ভিডিও ভাইরাল

22 Apr, 2019

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভূলকোট- নন্দনপুর সড়কে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কমদামি ইরানি বিটুমিন এবং সড়কে ১২ এমএম সিলকোড পাথরের স্তর দিয়ে কার্পেটিং করার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না সিলকোডের কার্পেটিং।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করে আশুগঞ্জের বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন। কাজের শুরুতেই হাতের ঠেলায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে তারা এ দুর্নীতি করে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংষ্কার করা হয়নি। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক জনগণ আশা যাওয়া করে। উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়নের মূল সড়ক ভূলকোট-নন্দনপুর সড়ক। এই রাস্তা হচ্ছে ওই ইউনিয়নের সদরে যাওয়ার রাস্তা।

দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গা সড়কের মেরামতের কাজ শুরু দেখে আনন্দে আত্মহারা ওই ইউনিয়নের লোকজন। কাজের শেষ দিকে ওই আনন্দ আর থাকেনি।

বর্তমান সরকার ২ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজের জন্য আশুগঞ্জের বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন নামের এক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেন। সড়কের সংষ্কার কাজের মূল্য ধরা হয় ৩৭ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন বাহুবল উপজেলা ভবন কমপ্লেক্সের ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার কাজেও তারা ব্যবহার করছে নিম্নমানের ইট।

পিকেএসপির রড দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের রড। সিমেন্ট-বালুর মিশ্রিত আস্তরে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সামনেই হচ্ছে এ দুর্নীতি।

এ দিকে ভূলকোট-নন্দনপুর সড়কের দেখভালের দায়িত্ব পান বাহুবল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন। এলাবাসীর অভিযোগ কাজ শুরুর প্রথম দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর সামনেই ইটের খোয়ার সঙ্গে নিম্নমানের ইটের খোয়া মিশিয়ে সড়কের ওপর ফেলে। তাও আবার ভালো করে ডলন না দিয়েই কার্পেটিং শুরু করে।

বৃষ্টির মাঝে এ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করলে স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দেন। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

শনিবার বিকালে গ্রামবাসী সড়কে এসে হাতের ঠেলা দিয়ে তুলে ফেলেন কার্পেটিংয়ের অনেক অংশ। নিম্নমানের কাজ করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অনেকেই কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ দিয়েছেন। ভাইরাল হয়ে যায় পুরো ভিডিওটি।

স্থানীয় যুবক শামছুদ্দিন রুবেল বলেন, এ সড়কটি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও ভিটুমিন কম দিয়ে কার্পেটিং করার কারণে হাতের আঙুল দিয়ে খামছি দিয়ে তুলে ফেলা যাচ্ছে। সরকারি সিডিউল মোতাবেক কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে না।

বাহুবল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাংবাদিক জাবেদ আলী বলেন, ওই রাস্তায় সরকারি কাজের ষোল আনার মধ্যে বারো আনা ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। কাজ হচ্ছে ৪ আনার। আমাদের সর্ষের ভিতরে ভূত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিনের সাথে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে (শনিবার) দেখেছি। জেলার সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি তুলেছি। ডিসি স্যার তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কাজ বন্ধ রেখেছে এলাকাবাসী, এলাকায় জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা নিজ কানে শুনেছেন শেখ হাসিনাঃ ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাক্ষাৎকারে একাত্তরের বন্দিজীবন

সৈয়দ আবদাল আহমদ

একাত্তরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ২৭ মার্চ ’৭১ শেখ হাসিনা নিজ কানে শুনেছেন। আণবিক শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী ড. মোজাম্মেল হোসেনের মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ঝিলপাড়ের বাড়িতে থেকে শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়া একসঙ্গে ওই ঘোষণা শুনেছিলেন। রেডিওতে প্রচারিত ঘোষণাটি শুনে সেদিন উজ্জীবিত হয়েছিলেন তারা।

১৯৯১ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা আণবিক শক্তি কমিশন অফিসে আমাকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. ওয়াজেদ মিয়া একথা জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা একাত্তরের বন্দিশিবিরে কীভাবে কাটিয়েছিলেন সে কাহিনী জানার জন্য ওই সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। ড. ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনার বন্দিশিবিরের জীবন ছাড়াও সেদিন তার লেখা ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ শীর্ষক প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ও আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। ফলে সাক্ষাত্কার সম্পন্ন করতে আমার বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এজন্য বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাকে ড. ওয়াজেদ মিয়ার অফিসে কাটাতে হয়। অবশ্য মধ্যাহ্নের খাবার এবং কিছুক্ষণ পর পর চা-নাশতায় আপ্যায়ন করতে ভোলেননি ড. ওয়াজেদ মিয়া। পরে ওই পাণ্ডুলিপিটিই বই আকারে বের হয়। 

একাত্তরে শেখ হাসিনার বন্দিজীবন নিয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ওই সাক্ষাত্কারটি ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দৈনিক বাংলার বিজয় দিবস সংখ্যায় ‘যেন এক দুঃস্বপ্ন’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ড. ওয়াজেদ মিয়ার এই সাক্ষাত্কার নেয়ার একটি নেপথ্য কাহিনী রয়েছে। দৈনিক বাংলার বিজয় দিবস সংখ্যার জন্য সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার একাত্তরের বন্দিজীবন নিয়ে দুটি নিবন্ধ লেখার সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন সম্পর্কে আমাকে এবং শেখ হাসিনার বন্দিজীবন সম্পর্কে লেখার দায়িত্ব দেয়া হয় দৈনিক বাংলার তত্কালীন সিনিয়র রিপোর্টার শওকত আনোয়ারকে। বার্তা সম্পাদক ফওজুল করিম (তারা ভাই) আমাদের লেখার জন্য ৭ দিন সময় দিয়েছিলেন। আমি যথারীতি ৭ দিনের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার একাত্তরের বন্দিজীবন লেখাটি তৈরি করে জমা দেই। কিন্তু শওকত ভাই দশদিন পর অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে ওই দায়িত্বটিও আমার ওপর বর্তায়। 

চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর তেজস্ক্রিয় গুঁড়ো দুধ নিয়ে বাংলাদেশে বেশ হইচই পড়েছিল। চট্টগ্রামে তেজস্ক্রিয় গুঁড়ো দুধ ধরা পড়েছিল। আণবিক শক্তি কমিশনে এই দুধ পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই দুধের ওপর রিপোর্ট করতে গিয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তাই অফিস অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই ড. ওয়াজেদ মিয়ার চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তত্ক্ষণাত্ তাকে ফোন করে শেখ হাসিনার সাক্ষাত্কার নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করি। তিনি বিষয়টি অবহিত হয়ে বললেন, ‘ওইসব ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেই। আমিই আপনাকে সবকিছু জানাতে পারব’। ফলে পরদিনই তার কাছে ছুটে যাই এবং শেখ হাসিনার একাত্তরের বন্দিশিবিরের কাহিনী জেনে নিবন্ধ আকারে তা দৈনিক বাংলায় ছাপার জন্য জমা দেই। প্রকাশিত সেই নিবন্ধ এখানে তুলে ধরা হলোঃ 

২৫ মার্চের বিভীষিকাময় রাতে শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন সাত মসজিদ রোডের এক বাসায়। এই রাতেই পাক হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ সময় তার মা বেগম মুজিব শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে দেয়াল টপকে পাশের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। শেখ কামাল আগেই ৩২ নম্বর থেকে অন্যত্র পালিয়ে যান।৭ মার্চের পরই শেখ মুজিব বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন। খাবার টেবিলে বসে একদিন তিনি বাড়ির সবাইকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানসিকভাবে তৈরি থাকতেও বলেছিলেন। তখন থেকেই তিনি নিয়ম করেছিলেন দুপুর ও রাতে দু’বেলা সবাই একসঙ্গে খাবেন। 

১৮ মার্চের পর পরিস্থিতি যখন আরও জটিল হয়ে ওঠে, তখন তিনি শেখ হাসিনা ও ডক্টর ওয়াজেদকে পৃথক বাসা ভাড়া নিয়ে ৩২ নম্বর থেকে সরে যেতে বলেন। শেখ হাসিনা তখন অন্তঃসত্ত্বা। 

ডক্টর ওয়াজেদ এ সময় হাতিরপুলে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। ঠেলাগাড়ি দিয়ে ওই বাসায় মালামালও নিয়ে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই বাসায় ওঠেননি শেখ হাসিনা। তারা ৩২ নম্বরেই রয়ে গেলেন। ২১ মার্চের পর শেখ মুজিব ডক্টর ওয়াজেদকে আবারও বাসা ভাড়া নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তোমরা ৩২ নম্বর থেকে সরে যাও। ডক্টর ওয়াজেদ এবার সাতমসজিদ রোডে একটি বাসা ভাড়া নেন। 

২৫ মার্চ রাত ১২টায় পাকিস্তানি সৈন্যদের হামলার কিছুক্ষণ আগে শেখ হাসিনা চলে আসেন সাত মসজিদ রোডের ওই বাসায়। সঙ্গে নিয়ে আসেন ছোট বোন শেখ রেহানা এবং শেখ শহীদের ছোট বোন শেখ জেলীকে। ডক্টর ওয়াজেদ এর আধা ঘণ্টা আগে কাজের ছেলে পাগলাকে নিয়ে ওই বাসায় আসেন। 

২৫ মার্চ সারাদিন জমজমাট থাকার পর সন্ধ্যা থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছিল ৩২ নম্বরের বাড়ি। ততক্ষণে সবাই বুঝে গেছে ভয়ংকর কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু কি হতে যাচ্ছে? কারও কাছেই তা স্পষ্ট ছিল না। রাত সাড়ে দশটায় পরিচিত একজন জরুরি খবর নিয়ে ছুটে আসেন শেখ সাহেবের কাছে। কিন্তু ফটক ছিল তখন বন্ধ। খবর পেয়ে ডক্টর ওয়াজেদ বেরিয়ে আসেন ফটক পর্যন্ত। তারপর তাকে নিয়ে যান শেখ সাহেবের কাছে। ওই ব্যক্তিই জানান পাকিস্তানিদের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা।

এ খবর পেয়েই শেখ সাহেব ডক্টর ওয়াজেদকে শেখ হাসিনাদের নিয়ে তখনি ভাড়া বাসায় চলে যেতে বললেন। ২৭ মার্চে কারফিউর বিরতি পর্যন্ত এ বাসাতেই থাকেন শেখ হাসিনা। কারফিউয়ের বিরতির সুযোগে ২৭ মার্চ সকালে ডক্টর ওয়াজেদ বেরিয়ে পড়েন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের উদ্দেশ্য খোঁজখবর নিতে। বেরিয়ে পড়ার কিছুক্ষণ আগে দেয়াল টপকিয়ে তার বাসায় এসে একটি ছেলে জানায়, শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও অন্যদের কি অবস্থা তা জানতে ডক্টর ওয়াজেদ ৩২ নম্বরের কাছে যান। পথে এক বাসায় খবর পেলেন বেগম মুজিব তার সাতমসজিদের বাসার দিকে রওনা হয়েছেন। ডক্টর ওয়াজেদ সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসেন সাতমসজিদের বাসায়। 

এখানে থাকা নিরাপদ নয় মনে করে তিনি যোগাযোগ করেন মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় তার বন্ধু ড. মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে। আণবিক শক্তি কমিশনে তারা একসঙ্গে চাকরি করতেন। কিন্তু বন্ধুর বাসায় একটি মাত্র কক্ষ খালি ছিল। তাই তারা দুটি ভাগে ভাগ হলেন। শেখ মুজিবের ফুফাতো ভাই মোমিনুল হক খোকা বেগম মুজিব, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে চলে যান ওয়ারীতে তার শ্বশুর বাড়িতে। ডক্টর ওয়াজেদ শেখ হাসিনা ও জেলীকে নিয়ে যান মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ঝিলের কাছে বন্ধুর বাসায়। সেদিন ছিল ২৭ মার্চ। বাসায় তারা অবস্থান করছেন। সন্ধ্যায় বন্ধু মোজাম্মেল হোসেন তাকে ডেকে বললেন, রেডিওতে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনা জিয়ার সেই ঘোষণা নিজ কানে শুনলেন এবং অভিভূত হলেন। 

ওই বাসায় শেখ হাসিনা ও ডক্টর ওয়াজেদ মিয়ার পাঁচদিন কেটে যায়। ১ এপ্রিল মোমিনুল হক খোকা ওয়ারী থেকে এসে ডক্টর ওয়াজেদের নামে মালিবাগের একটি বাড়ির উপরতলা ভাড়া নেন। সেখানে বেগম মুজিব, শেখ রেহানা, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ও খোকা এসে ওঠেন এবং ডক্টর ওয়াজেদকে খবর দেয়া হয়। ডক্টর ওয়াজেদ শেখ হাসিনা ও জেলীকে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে ওঠেন। শেখ কামালও ওই বাসায় এসে বেগম মুজিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। এভাবে সপ্তাহ খানেক থাকার পর বেগম মুজিব হঠাত্ জানতে পারেন যে, বাড়িওয়ালা তাদের পরিচয় জানতে পেরেছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন তাদের সতর্ক করে দিয়ে গেছে। এ কথা জানার পর ডক্টর ওয়াজেদ মগবাজারে প্রধান সড়কের ওপর বেগম বদরুন্নেসার স্বামী আহমদ সাহেবের বাসা ভাড়া নেন। কিছুদিন সবাই ওই বাসায় থাকার পর দেখা গেল পাকবাহিনীর লোকজন সিভিল ড্রেসে সেখানে ঘোরাফেরা করছে। তাই নিরাপদ নয় ভেবে ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনা মগবাজারের ভেতরে একটি বাসা ভাড়া নেন। 

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা হয়। তারা কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে শেখ হাসিনাদের ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। একদিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনাসহ সবাই ঢাকার বাইরে পালিয়ে যাবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় ওইদিন সকালে দেখা গেল পাকবাহিনীর লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে। জনৈক মেজর হোসেন ও জালাল নামে দুজন অফিসার এসে বলল, শেখ মুজিবের পরিবারকে আমরা গ্রেফতার করতে এসেছি। ডক্টর ওয়াজেদ তাদের কাগজ দেখাতে বললে ওই অফিসার ধমক দিয়ে বলল, দেশে এখন সামরিক আইন। আমরা সেনাবাহিনীর লোক। 

আমাদের কাগজ লাগবে না। এখনি যেতে হবে বলে ওই অফিসার ফোন করে আরেকটি আর্মি ইউনিটকে নিয়ে এলো। এরপর কর্ডন করে বেগম মুজিব, শেখ হাসিনাসহ সবাইকে নিয়ে গেল ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের বাসায়। 

বাড়িটি ছিল একতলা। ধানমন্ডি স্কুলের কাছাকাছি। বাড়িতে কোনো আসবাবপত্র ছিল না। পরিবেশ ছিল দমবন্ধ। আবর্জনায় ভরা। প্রধান দরজাটি ছিল ভাঙা। জানালার কাচও ছিল ভাঙাচোরা। ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনাসহ মুজিব পরিবারের সবাইকে ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে থাকতে হলো। দুদিন তেমন কিছুই খাওয়া হয়নি। ২০ জন সৈন্য বাসাটি পাহারা দেয়। মেজর হোসেন বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলে যায়, ঘরের ভেতর থেকে কেউ বের হতে পারবে না। 

হানাদার বাহিনীর মেজর হোসেন একদিন ওই বাসায় এসে জানায়, মুজিব পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার জন্য সরকার টাকা দেবে। কিন্তু বেগম মুজিব ও শেখ হাসিনা বললেন, সরকারের টাকা দরকার নেই। ড. ওয়াজেদকে বেতন দিলেই চলবে। পরে এ ব্যবস্থাই হলো। ডক্টর ওয়াজেদ অফিস করতেন। তার বেতন দিয়ে খরচ চলত। বাসায় একটি কাজের ছেলে ছিল। সে বাজার করত। এমনিভাবে মে-জুন কেটে যায়। 

বাসায় ডিউটিরত পাক সেনারা রাতে জানালার পাশে বেয়নেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। গুলির আওয়াজ পেলেই দেখা যেত ডিউটিরত হাবিলদার স্টেনগান নিয়ে ঘরের ভেতর এসে ঢুকত। ভয়ে কারও ঘুম আসত না। শেখ হাসিনা বেগম মুজিবের কাছে ঘুমাতেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। 

স্মৃতিচারণ করে ডক্টর ওয়াজেদ বলেন, এমনিভাবে জুলাই মাস এসে যায়। শেখ হাসিনার সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে আসে। কিন্তু পাক সেনারা কিছুতেই ডাক্তারের কাছে যেতে দেবে না। অনেক অনুরোধের পর শেষে ডাক্তার ওদুদকে দেখানোর অনুমতি পাওয়া গেল। কিন্তু কড়া আর্মি গার্ড দিয়ে ডাক্তার ওদুদের বাসায় যেতে হতো। ২০ জুলাই শেখ হাসিনাকে ঢাকা মেডিকেলের একটি কেবিনে ভর্তি করা হলো। ২৭ জুলাই রাত ৮টায় তাকে লেবার ওয়ার্ডে নেয়া হল। নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই আমাদের সন্তান জন্ম নেয়। হাসপাতালে রাতে আমি থাকতাম। খবর পেয়ে অনেক আত্মীয়স্বজন দেখতে আসতেন। শেখ হাসিনাকে দেখাশোনার জন্য বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন লিলি ফুফু আম্মা হাসপাতালে থাকলেন। কিন্তু এরই মধ্যে একদিন পাক সেনারা এসে সব আত্মীয়স্বজনকে ধমকিয়ে বের করে দেয়। তারা লিলি ফুফু আম্মাকেও বের করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা কেঁদে ফেলায় তাকে থাকার অনুমতি দেয়। 

হাসপাতাল থেকে শেখ হাসিনা ও ছেলেকে নিয়ে ডক্টর ওয়াজেদ ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাসায় গেলে ছেলে দেখে বেগম মুজিব খুশি হলেন। তিনি বললেন—‘আমার তো ভাই নেই, ওর নাম তাই রাখলাম ‘সজিব।’ আর মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মেছে, তাই ডাক নাম রাখলাম ‘জয়।’ মুজিবের সঙ্গে মানাবে ভালো। 

শেখ হাসিনার সন্তানের নাম ‘জয়’ রাখা হলো কেন এ নিয়েও পাক সেনারা কটাক্ষ করেছে। নভেম্বরের দিকে ডক্টর ওয়াজেদ দেখেন ওরা বাংকার খুঁড়ছে। শেখ হাসিনা তাকে বললেন, সম্ভবত ওরা আমাদের মেরে ওখানে পুঁতে রেখে যেতে পারে। এ অবস্থায় কি করা যায়? ডক্টর ওয়াজেদ পিজি হাসপাতালে চলে গেলেন ডাক্তার নূরুল ইসলামের পরামর্শে অসুখের কথা বলে। কারণ ডক্টর ওয়াজেদ বাইরে থাকলে হয়তো খান সেনারা মুজিব পরিবারকে হত্যা করতে সাহস করবে না এই মনে করে। 

৩ ডিসেম্বর থেকে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পিজি হাসপাতালকে মিলিটারি হাসপাতাল করা হয়। এ অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর ডক্টর ওয়াজেদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের কাছে এক বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং ১৮ নম্বরের বাসা সম্পর্কে খেয়াল রাখেন। ওইদিনই পাকবাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের চরমপত্র দেয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। ১৭ ডিসেম্বর সম্মিলিত বাহিনী এসে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মুক্তি পান বেগম মুজিব। মুক্তি পান শেখ হাসিনা ও পরিবারের অন্যরা। 

  • লেখক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
Content Protection by DMCA.com

বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

রাষ্ট্রীয় টিভি-রেডিওতে জুমার নামাজ সরাসরি সম্প্রচার * মুসলমানদের সঙ্গে পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে, আমরা সবাই এক : জাসিন্দা

বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

এক সপ্তাহ আগে বর্ণবাদী এক খুনির চোখে হিংসা-জিঘাংসা দেখেছে নিউজিল্যান্ড। মসজিদে প্রার্থনারত মানুষের সারি সারি লাশ আর প্রিয়জনের রক্তাক্ত শরীর দেখে চমকে গিয়েছিল দেশটির নিরীহ জনপদ। শান্তির নীড়ে ঘৃণার হুঙ্কার! শান্ত পাখি ‘কিউই’র চারণভূমিতে এই বর্বর ধর্মবিদ্বেষী রক্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না।

ঠিক সাত দিন পরের শুক্রবারে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাল নিউজিল্যান্ড। দেখাল শান্তির পথ। শোনাল ঐক্যের বাণী। এবার নিউজিল্যান্ডসহ পুরো বিশ্ব দেখল সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা আর ঐক্যের জয়গান। বুলেটে জর্জরিত আল নূর মসজিদের বাইরে হ্যাগলি পার্কে ধর্ম-বর্ণ, গোত্র, জাত-পাত ভুলে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। অন্য ধর্মের নারীরা মুসলিমদের প্রতি সমবেদনা জানাতে হাজির হন হিজাব পরেই। ছিলেন স্বয়ং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্নও।

খোলা মাঠে মধুর কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সমধুর ধ্বনি। এরপরই নিহত অর্ধশত মানুষের স্মরণে দুই মিনিটের জন্য নীরব থাকে পুরো নিউজিল্যান্ড। জাতবিদ্বেষ ভুলে শান্তির বার্তা ছড়ানো এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল (টিভিএনজেড) ও রেডিওতে। এ দিনকে জাতীয় দিবসের মতো পালন করেছে নিউজিল্যান্ডবাসী। জুমার নামাজ শেষে ২৬ মরদেহের গণজানাজার পর ক্রাইস্টচার্চে দাফন করা হয়। তাদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছে। বাকি তিনজনের লাশ দেশে আনা হচ্ছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, এএফপি ও রয়টার্সের।

গত ১৫ মার্চ বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজের সময় মুসলিমদের ওপর আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। এর কিছু পর কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালায় সে। দুটি হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। হত্যার অভিযোগ এনে ব্রেনটনকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

জুমার নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে আজ পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে। আমরা সবাই আজ এক।’ এর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারস্পরিক উদারতা, সমবেদনা এবং সহানুভূতিতে বিশ্বাসীরা একটি শরীরের মতো। যখন শরীরের কোনো একটি অংশ ব্যথা পায় তখন পুরো শরীরই সেই ব্যথা অনুভব করতে পারে।’ মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এ বক্তব্যে শান্তির পথ দেখালেন তিনি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, জুমার নামাজের সময় হ্যাগলি পার্কের এই সমাবেশে জড়ো হয়েছিল প্রায় দশ হাজার মানুষ। মুসলমান রীতিতে কালো কাপড়ে মাথা ঢেকে উপস্থিত ছিলেন জাসিন্দা।

এরপরই প্রচারিত হয় জুমার আজান। আজানের পরপরই দুই মিনিটের নীরবতায় স্তব্ধ হয় পুরো নিউজিল্যান্ড। খুতবার শুরুতে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইমাম জামাল ফৌদা বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি এ মসজিদে দাঁড়িয়েছিলাম। উগ্র এক সন্ত্রাসীর চোখে-মুখে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখেছি। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। আমাদের শহীদদের কারণে আমরা নিউজিল্যান্ডে নতুন জীবন পেয়েছি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দাকে মুসলমানদের পাশে থাকায় ধন্যবাদ জানান ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তার নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানাই। এটা বিশ্ব নেতাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ধন্যবাদ আমাদের প্রতি সংহতি জানাতে তার হিজাব পরার জন্য।’ এ সময় ক্যামেরা গিয়ে পড়ে জাসিন্দার দিকে। তিনি বুকে হাত দিয়ে ধন্যবাদ গ্রহণ করেন। তার চোখ ছিল ছলছল।

গত সপ্তাহের হামলার পর থেকে প্রতিদিনই সব ধর্মের নানা বয়সী মানুষ ফুল হাতে ওই মসজিদের বাইরে আসছিল সংহতি জানাতে। মাওরি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রণনৃত্য হাকা পরিবেশন করে শ্রদ্ধা আর সংহতি জানাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। ইমাম ফৌদা তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ তোমাদের হাকার জন্য, ধন্যবাদ ফুলের জন্য, তোমাদের চোখের পানি ও ভালোবাসার জন্য।’ শ্রদ্ধা জানানোর এই আনুষ্ঠানিকতায় অকল্যান্ডের চারটি মসজিদ শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সব ধর্মের মানুষের জন্য খোলা রাখা হয়। সন্ধ্যায় অকল্যান্ডের সবচেয়ে পুরনো পার্ক অকল্যান্ড ডোমেইনে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

হিজাব পরে মুসলমানদের প্রতি সংহতি নারীদের : আতঙ্কগ্রস্ত মুসলমানদের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডজুড়ে হাজারও নারী হিজাব পরে বের হন। রয়টার্স জানায়, তারপর থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারেন এমন আতঙ্কে দেশটির মুসলমান নারীরা হিজাব পরে ঘর থেকে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া অ্যাশম্যান ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’ নামে একটি আন্দোলনের ডাক দেন। নিউজিল্যান্ডের জনগণকে মুসলমানদের প্রতি সমর্থন জানাতে শুক্রবার মাথা ঢেকে বাইরে বের হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অ্যাশম্যান বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। আমরা চাই আপনার নিজের রাস্তায় আপনি বাড়ির মতো নিরাপদবোধ করুন। আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন করি ও সম্মান করি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা ছবি পোস্ট করেন। ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা বেলি সিবলি বলেন, ‘কেন আমি আজ মাথা ঢেকেছি? প্রথম কারণ হচ্ছে, যদি আজ কেউ বন্দুক তুলে কাউকে নিশানা করে তবে আমি তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাব। আমি চাই সে যেন পার্থক্য করতে না পারে। কারণ আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

ক্রাইস্টচার্চে দুই বাংলাদেশির দাফন : শুক্রবার জুমার নামাজের পর একসঙ্গে ২৬ মরদেহের জানাজা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশি পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের দাফন ক্রাইস্টচার্চেই সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন- সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী গোলাপগঞ্জের হুসনে আরা আহমেদ (৪২) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ (৬৬)। নিউজিল্যান্ডের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ দেশে আনা হবে। তারা হলেন- চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মোজাম্মেল হক (৩০) ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ওমর ফারুক (৩৫) এবং নরসিংদীর জাকারিয়া ভুঁইয়া (৩৬)।

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক এরদোগানের : ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। শুক্রবার ইস্তানবুলে ইসলামী সহযোগী সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। এরদোগান বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার (হলোকাস্ট) পর ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই হয়েছে, ঠিক সেভাবেই মুসলিম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর জরুরি এ বৈঠক ডাকেন এরদোগান। বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পেটারস বলেন, বিশেষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছি। মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রশংসা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট কাভুসগলু। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমরা এখানে সেটিই দেখাতে চাই।

/যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com

ব্যবসায়িক কারনে তিন ব্যক্তিকে ডিজিএফআইকে দিয়ে গুম করেছেন শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক : আল জাজিরার ভয়াবহ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) তারিক সিদ্দিক ব্যবসায়িক কারনে ডিজিএফআইকে দিয়ে তিন ব্যক্তিকে গুম করিয়েছেন, রিপোর্ট আল-জাজিরার। 

Exclusive: Bangladesh top security adviser accused of abductions
Colonel Shahid Uddin Khan with Major General Tarique Siddique, London June 2017 [Al Jazeera]


প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ম লং কোর্সের অফিসার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহিদউদ্দিন খান ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিকের স্ত্রী শাহীন সিদ্দিকের সাথে ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। তারিক সিদ্দিক নিজে ব্যবসার সাথে জড়িত না থেকে তার স্ত্রীর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যাতে করে ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে বিপদে পড়তে না হয়। প্রচ্ছায়া নামে একটি লাভজনক কোম্পানীতে শাহীন সিদ্দিক চেয়ারম্যান, এবং কর্নেল শহিদ সিইও ছিলেন। ২০১৭ সালের দিকে তারিক সিদ্দিক আশংকা করেন, পরের বছর নির্বাচনে দেশে পটপরিবর্তন হতে পারে, তাই আগেভাগে ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপরে হিসাব কিতাব নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। কর্নেল শহিদ অভিযোগ করেছেন, নয় মাস আগে তিন ব্যক্তি ও এক কর্মচারীকে ডিজিএফআই তুলে নিয়ে যায়, গোপন স্খানে আটকে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ৪৮ ঘন্টা পরে তাদের ছেড়ে দিলেও পরে আবার জহিরুল হক খন্দকার, খোরশেদ আলম পাটোয়ারী, এবং সৈয়দ আকিদুল আলী তিনজনকে আবার র‌্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে যান জেনারেল তারিক।

জানা গেছে, জেনারেল তারিক ও কর্নেল শহীদের ব্যবসায়িক ফার্ম রামপুরা, হাতিরঝিল, সাতারকুল, সাভার, টঙি এলাকায় প্রচুর জমি নামমাত্র মূল্যে কব্জা করে শত শত প্লট বিক্রি করে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। এছাড়া আর্মির মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির নামে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারিজ এনে উচ্চমুল্যে বাইরে বিক্রি করা হত, যা আর্মির ঘাড়ে বন্দুক রেখে অবৈধ ব্যবসা ছাড়া আর কিছু নয়। এসব ব্যবসার সিংহভাগ অর্থ তারিক সিদ্দিক হাতিয়ে নেন, এই অযুহাতে যে, তার ক্ষমতার প্রভাবেই সব কাজ হয়েছে! সবচেয়ে বড় ক্যাচাল সৃষ্টি হয় রামপুরা এলাকায় ৫ বিঘার একটি জমি নিয়ে। ঐ খাস জমিটি বাস্তুহারা সমিতির নামে লিজ নিয়ে কম মূল্যে ৭০ কোটি টাকায় এক পার্টির কাছে বিক্রি করে দেন তারিক সিদ্দিক। কর্নেল শহিদের অনুমান এই এক প্লট থেকে জেনারেল তারিক অন্তত তিন’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এত কমমূল্যে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তারিক সিদ্দিক জানান, এটা নিয়ে পরে ক্যাচাল হতে পারে, তাই ছেড়ে দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই ডিলটি বিরোধে রূপ নেয়, এবং কর্নেল শহিদকে থেমে যেতে হুমকি দেন জেনারেল তারিক। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্নেল শহীদ তার ব্যাচমেট জেনারেলদের সাহায্য নিয়ে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। কর্নেল শহীদ লন্ডন থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে জেনারেল তারিককে তার হিসাব কিতাব বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে শেষে বৃটিশ আইনজীবি দিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের পাওনা চেয়ে তারেক সিদ্দিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপরেই কর্নেল শহীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মীকে র‌্যাব ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এবছর ১৬ই জানুয়ারি কর্নেল শহীদের বাসা বাড়ি অফিস তছনছ করে ২৭ বাক্স মূল্যবান জিনিষপত্র এবং কাগজপত্র তুলে নেয় র‌্যাব। কর্নেল শহিদ সহ তার তিন কর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী এবং জঙ্গি মামলা দেয়া হয়, যা মিথ্যা বলে দাবী করেন কর্নেল শহীদ।

 

Company formation papers [Al Jazeera]


তারিক সিদ্দিকের এসব অপকর্মের অনেক খবর তার ব্যবসায়িক পার্টনার শহিদ জানেন। স্বাভাবিকভাবেই তারিকের এসব অপরাধের বিষয়দি গোপন রাখতে কর্নেল শহিদকে টার্গেট করেছেন। শহিদ লন্ডনে নির্বাসনে যেতে পারলেও ঢাকাতে ডিওএইচএসে তার বাড়িও অফিস তছনছ করে দলিলপত্র ও গুরুত্বপূর্ন জিনিস হাতিয়ে নিয়েছে তারিক সিদ্দিকের লোকেরা।

শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুম খুনের অভিযোগ রয়েছে, যা তারা অস্বীকার করে থাকে। ২০১৬ সালের হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে ৯০ ব্যক্তিকে গুম করার রিপোর্ট রয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের প্রথম ১০ মাসে ৪১৫ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা করা হয়েছে, যা মূলত ঠান্ডা মাথার খুন। রাষ্ট্রীয় সংস্থা ডিজিএফআই এসব গুম খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কর্নেল শহিদের অভিযোগ সংক্রান্ত আলজাজিরার প্রতিবেদন এসব অভিযোগকে প্রমান করছে।


https://www.aljazeera.com/news/2019/03/exclusive-bangladesh-top-security-adviser-accused-abductions-190319114412895.html?fbclid=IwAR18_0JcisphWzhEw9jdN2VFfiDUOxLTM9Z39yUGhEynYVFZy3k8pvi1y3s

Content Protection by DMCA.com

আড়াই মাসে নৌকার ভোট কমেছে ৮০ ভাগ!

20 Mar, 2019

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জয়ী হলেও দলীয় কোন্দলে ভোট কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এমনকি সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মান্নানের কেন্দ্রেও নৌকার পরাজয় হয়েছে। নৌকার ভোট গেল কোথায়? এমন প্রশ্ন সারিয়াকান্দি উপজেলার সচেতন মানুষসহ রাজনীতিবিদদের মুখে মুখে।

৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ ভোট পেলেও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২১ হাজার ২১১ ভোট। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে নৌকার ভোট কমে গেছে। শুধু তাই নয় স্বয়ং এমপি আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান যে কেন্দ্রের ভোটার সেই কেন্দ্রে নৌকার ভোট কমেছে কয়েকগুণ। ওই কেন্দ্রে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী নৌকার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। আর এ কারণেই নানা প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।

উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবীদ মুনজিল আলী সরকার শেষ পর্যন্ত ভোটে জয়ী হলেও মানুষের প্রশ্ন নৌকার এত ভোট গেল কোথায়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রার্থী হওয়ায় বেশি ভোটে বিজয়ী হবেন বলে অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে।

উপজেলার হিন্দুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন করেন এমপি আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। ওই কেন্দ্রে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আব্দুল মান্নান পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন মাত্র ১৬ ভোট। সেখানকার মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৩২টি।

এবার উপজেলা নির্বাচনে সেই একই কেন্দ্রে ২ মাস ১৭ দিন পর নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার পেয়েছেন ২০৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত টিপু সুলতান হেলিকপ্টার প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৭ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সালাম ৭৯ ও শাজাহান আলী পেয়েছেন ৫৭ ভোট। মোট ১ হাজার ২৬০ জন ভোট দিয়েছেন।

এদিকে নৌকার বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও এমপিপত্নী সাহাদারা মান্নান প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে আগেই অভিযোগ করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন নৌকার প্রার্থী বিজয়ী চেয়ারম্যান মুনজিল আলী সরকার। ১৫ মার্চ বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, সাারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি পত্নী সাহাদারা মান্নান স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মীকে এমপির ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে নৌকা মার্কার বিপক্ষে কাজ করতে বাধ্য করছে। কেউ তাদের কথা মানতে না চাইলে তাদেরকে প্রশাসনিক ভীতি ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছে। এতে দলের কর্মীরা ভিত ও বিব্রত বোধ করছে এবং নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার সাহস-মনোবল হারিয়ে ফেলছে ।

সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান বলেছিলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃতি রাজনীতিবীদ আব্দুল মান্নান এমপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান বলেন, এবার ভোটারদের মাঝে উৎসাহ কম ছিল। এ জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল না। আর কেন্দ্রে ভোটার টানার জন্য প্রার্থীকে কাজ করতে হয়। হয়তো সেই কাজটিও ঠিকমতো হয়নি।
উৎসঃ   জাগোনিউজ

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়া কিছুই খেতে পারছেন না : ৩ মাস ধরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না

20 Mar, 2019

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো সময় আছে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। কারণ তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক, তিনি একমাত্র বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবেন এবং আপনাদেরও রক্ষা করতে পারবেন তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচে কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন আয়োজিত গণঅনশনে তিনি এসব বলেন।

এর আগে দুপুর ১২টায় গণঅনশন শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অনশন চলে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ অনশনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্টে গেয়েছিলাম। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি মিথ্যা মামলার কাজ চলছে ছোট অন্ধকার প্রকোষ্ঠে! আমি সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বোঝাতে পারব না। কারণ আমি এমন খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি।

‘তিনি এত অসুস্থ যে, উনি মাথা সোজা করে বসতে পারছেন না! তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা ও ব্যথা। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না। আর কিছু খেলেও সেটা থাকছে না।’

খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এটা (অনশন) কোনো ছোট অনুষ্ঠান নয়। এটা একটা বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়ে আমাদের সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ এটা ছোটখাট সংগ্রাম ও লড়াই নয়। এটা হচ্ছে, আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। অনেকেই বলেন, এই সংকট বিএনপির। কিন্তু না। এটা সমস্ত জাতির সংকট।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন, আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে, এই যে স্বৈরাচার সরকার আমাদের বুকের ওপরে চেপে বসেছে- তাদের সরিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করি। 

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারা দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তারই প্রমাণ এটা। আমরা দেখছি যে, দেশে এখন কোনো আইনের শাসন নেই। সমগ্র দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। এই দখলদার সরকার, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে- মানুষকে শান্তি, নিরাপত্তা দিতে এবং জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনশনে বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।

এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সরকারি মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট মতে, সাড়ে তিন মাস ধরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না, চেকআপ জরুরি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। অসুস্থতায় তিনি অনেকবার আদালতে যেতে পারেননি। সম্প্রতি সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড কারাগারে বেগম জিয়াকে দেখতে যায়। বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেগম জিয়া কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছেন না। একা চলাফেরাও করতে পারছেন না। তাঁর বাঁ বাহু ও বাঁ পায়ে ব্যথা আছে। হাতের কব্জিও দুর্বল। তাঁর বাঁ কাঁধে শক্তি কম। সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর লিভার, কিডনি বা রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে, রক্ত, কিডনি, লিভারসহ কয়েকটি পরীক্ষা জরুরিভাবে করতে হবে। এ ছাড়া ইসিজি, লিপিড প্রোফাইল, সিবিসি পরীক্ষাও পরামর্শ দেন তারা। এ প্রসঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জলিল চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেগম জিয়ার ওঠে বসে দাঁড়াতে পারেন না। তার হাড়ে সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তার কিছু ব্যথাও রয়েছে। আমরা কিছু টেস্টের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সেগুলো এখনও হয়নি।

বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত। এগুলো হলো- রিউমেট্রিক আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ম্যারিটা, হাইপারটেনশন, অস্ট্রিও আর্থ্রাইটিস, টানেল সিসড্রোম, ফ্রোজেন স্নোডার, লাম্বার স্টোনাইসিস, থাইটিকা, ক্রনিক হাইপো নিথ্রেমিয়া ও ক্রোনিক কিডনি। কয়েকটি রোগ আগে থেকেই ছিল। আবার কিছু নতুন করে হয়েছে। এখনো এগুলোর উন্নতি হয়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা দরকার। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে দল তাঁর চিকিৎসাব্যয় নির্বাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে গত মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসুস্থ। মঙ্গলবার আদালতে আসার আগে বমি করেছেন। তিনি মাথা সোজা রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়াকে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সম্প্রতি বেগম জিয়াকে দেখে এসেছি। তাঁর শরীর এতটাই খারাপ যে, আগে কখনই এমনটা দেখিনি। কিন্তু সরকার তাঁর কোনো চিকিৎসা করছে না। তিনি তো সাধারণ কোনো নাগরিক নন। তাঁর পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা করালে সরকারের কি সমস্যা? তাদের নিয়ন্ত্রণেই কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিংবা তিনি বাইরে যেতে চাইলেও সরকারের সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে একমাত্র বন্দী হিসেবে রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এত দিনেও রাজপথের ‘শক্ত’ কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা চান জোরালো কর্মসূচি। সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ধারাবাহিক আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ছোটখাটো কর্মসূচিতেই রয়েছে দলটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেও কঠোর কর্মসূচি দিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর আইনজীবী দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। তবে বেগম জিয়ার মুক্তি শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। বিষয়টি যেহেতু রাজনৈতিক, তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও করতে হবে। রাজপথ গরম করলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। আমরা রাজপথ গরম করতে পারছি না বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে না।’

কটূক্তির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এ পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। এরপর মামলার বাদী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে : কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ‘পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ অভিযোগ করে বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরান ঢাকায় বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে আসা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখে আসার পর গতকাল দুপুরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) আমি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বোঝাতে পারব না, আমি এই বেগম খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি। তিনি এতটা অসুস্থ যে, মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা-ব্যথা। তিনি কোনো কিছু খেতে পারছিলেন না। কিছু খেলে সেটা থাকছে না। তাকে (খালেদা জিয়া) সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই প্রতীকী অনশনের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে ৫ ঘণ্টার এই অনশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর পরিচালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারা দেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একই মামলায় সব আসামি জামিন পেলেও দেশনেত্রীর জামিন হয় না। তাই আজকে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এই গণঅনশন ছোট কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিএনপিসহ সব অঙ্গসংগঠনের এই অনশনকে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য। এই অনিবার্য কাজটি আমাদের যে কেনো সংকট মোকাবিলা করে করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় আমরা যেসব খবর পাচ্ছি, তিনি শুধু অসুস্থই নন, উনার জীবন সংকটাপন্ন। তারপরও আদালত তাকে ছাড়ছে না। অর্ধমৃত দেহ নিয়ে আদালতে তাকে হাজিরা দিতে হয় এবং আদালত তার প্রতি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারছে না।’

Content Protection by DMCA.com

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়


বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় উত্তাল রাজধানী ঢাকা। সকালে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। দেশে দ্বিতীয় দফা সড়ক আন্দালনের দ্বিতীয় দিনে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজ বসুন্ধরা এলাকার প্রগতি সরণি, মিরপুর, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা কিছু এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে ৮ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল করছে। কোন কোন এলাকায় গতবছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত প্রথম দফা সড়ক আন্দালনের মতো শিশু-কিশোররাও রাস্তায় নেমেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীরাও আজ সড়কে নেমেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।
ফলে প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে সকাল থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৯টার দিকে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে এ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যস্ততম সংযোগ সড়ক ফার্মগেট মোড়ে সকাল ৯টা থেকেই অবস্থান নেয় এলাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বাস আটকে দিচ্ছে।
   আন্দোলনে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ  আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।  যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাশেই অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ২৭ এর মোড়ে মিছিলসহ এসে সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া ইউনিভার্সিটির সামনেও অবস্থান নিয়েছে শতশত শিক্ষার্থী। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসে বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করছে, হাফ ভাড়া নেয়া হয়েছে কিনা। সেই সঙ্গে গাড়িতে লেখা ‘হাফ পাশ নাই’ স্টিকার ছিড়ে ফেলছে।  এ সময় তারা বাস চালকের লাইসেন্সও চেক করছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রায়সাবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়ক আন্দালনের কারণে মিরপুর থেকে বিভিন্ন  রুটের বাস কম সংখ্যায় চলাচল করছে।  
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় সুপ্রভাত (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।


ফের বাসের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা


সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেটে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বাসের লাইসেন্স ও চালকের ডাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা একপক্ষের 


প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের জন্য নিরাপদ সড়কের আন্দোলন স্থগিতে সম্মত হয়ে এলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ তা মানতে নারাজ। দাবি বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে আজ বুধবারের (২০ মার্চ) মতো সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন তারা। আন্দোলনে অনড় পক্ষরা বলছেন, বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ফের তারা সড়ক অবরোধ করবেন।
বুধবার বসুন্ধরা গেট এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে তারা বাসের ধাক্কায় সহপাঠী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিচার ও পরবর্তী সময়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
এর আগে, বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে বিইউপি উপাচার্যের উপস্থিতিতে উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ১৫ বিইউপি শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন মেয়র এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল আন্দোলন এক সপ্তাহের মধ্যে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে মেয়র আতিকুল ইসলাম ও প্রতিনিধি দলের সদস্য শিক্ষার্থী ফয়সাল এনায়েত জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামবেন। ২৮ মার্চ সকালে এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের আলোচনায় অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে নতুন করে রাজপথে নামবেন তারা।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল বসুন্ধরা গেট এলাকায় এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু অন্যপক্ষ সেটি শুনে প্রত্যাখান করে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে নগরভবনে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়া অবরোধ স্থগিত হলেও অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে তাৎক্ষণিকবাবে অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধী সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মূলত আন্দোলন চালিয়ে নিতে ইচ্ছুক। তারা বলছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের আশ্বাসে তারা আস্থা রাখতে পারছে না। সে কারণে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা আজকের মতো সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফের তারা অবরোধে বসবেন বলে জানান। এসময় শিক্ষার্থীদের সবাইকেই বসুন্ধরা গেট ছাড়তে দেখা গেছে।


 

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 5