সকল বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে ঐক্যফ্রন্ট: রব

17 Feb, 2019

সকল বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণশুনানি করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

রবিবার(১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং ও সমন্বয় কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রব বলেন, ‘আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা গণশুনানি করব বলে সরকার আগে থেকে সব হল বুকিং দিয়ে রেখেছে। আমাদের কোনো হল দেয়া হচ্ছে না। যত বাধাই আসুক, সকল বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পাব আমরা সেখানেই গণশুনানি করব।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দল গত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা গণশুনানীতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানাব। তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে।’

আ স ম রব বলেন, ‘গণশুনানি সফল করতে আগামীকাল সমন্বয় কমিটি বৈঠকে বসবে। এছাড়া ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করবে।’

বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ

Content Protection by DMCA.com

চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্র নতুন মেরুকরণ ও বাংলাদেশ

১১ জানুয়ারী, ২০১৯

মাসুম খলিলী:
দক্ষিণ এশিয়ায় পরাশক্তিগুলোর প্রভাব-প্রতিযোগিতা নতুন অবয়ব নিতে শুরু করেছে। এ অঞ্চলে এক দশক আগে পরাশক্তিগুলোর যে মেরুকরণ দেখা গিয়েছিল, তা এখন বেশখানিকটা পাল্টে যেতে শুরু করেছে। এ পরিবর্তনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্নায়ুযুদ্ধকালে সোভিয়েত-মার্কিন ক্ষমতা বিস্তারের প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎশক্তি ভারত ছিল সোভিয়েত বলয়ে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সময়কালে কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা জওয়াহেরলাল নেহরুর সাথে ব্রিটিশ শাসকদের ভালো সম্পর্ক থাকলেও তার আদর্শগত ভাবনা-চিন্তায় সমাজতন্ত্রের প্রভাব দৃশ্যমান ছিল। ব্রিটিশ-সোভিয়েত যৌথ প্রভাবে তিনি স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রিক মূলনীতি ও তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্রের সমন্বয় আনতে চেয়েছেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় উদ্যোগগুলোর ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে মুক্তভাবে শিল্প বিকাশের সুযোগ দেন।
লালবাহাদুর শাস্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সময়ের পর নেহরু-তনয়া ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাবার অনুসৃত নীতিই এগিয়ে নিয়ে যান। বাবা-মেয়ের দুই আমলেই দৃশ্যমান নীতি হিসেবে ভারত জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিলেও কার্যক্ষেত্রে সোভিয়েত বলয়ে অবস্থান নেয়। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান অবধি ভারতের সরকারনির্বিশেষে এ নীতি অনুসৃত হতে থাকে। স্নায়ুদ্বন্দ্বের অবসানে সোভিয়েতের পরিবর্তে রুশ অধ্যায় শুরু হলে দিল্লি একধরনের ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্কোন্নয়নের পথে পা বাড়ায়। নরসিমা রাও, অটল বিহারি বাজপেয়ি এবং মনমোহন সিংয়ের চার মেয়াদে ধীর গতিতে ভারতের কৌশলগত অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতি ওয়াশিংটনমুখী হতে শুরু করে।
নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় কৌশলগত নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তনে আমেরিকামুখী নীতি-কৌশলের পরিবর্তন ধীরমাত্রার বদলে দ্রুতগতির মাত্রা নেয়। প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা চুক্তিসহ অনেকগুলো কৌশলগত সহায়তা চুক্তি হয় দিল্লি-ওয়াশিংটনের মধ্যে। নরেন্দ্র মোদি এ সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতকে মহাশক্তি তথা জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য ও পরমাণু প্রযুক্তি রফতানিকারক দেশের পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখায়। বাস্তবে এর কোনোটাই অর্জিত হয়নি। কিন্তু এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রতিরক্ষাসামগ্রী আমদানি এবং ভারত মহাসাগরে মার্কিন মিত্র জাপান-অস্ট্রেলিয়ার সাথে যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগে চীনের সাথে বৈরিতা বৃদ্ধি পায় দিল্লির।
এর ফলে এক দিকে ডোকলাম সঙ্কটের মতো সীমান্ত সঙ্ঘাত বৃদ্ধি পায়; অন্য দিকে পাকিস্তানের সাথে চীনের যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ জোরদার হয়। রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি হয় ইসলামাবাদের। এই মেরুকরণ দিল্লির নীতিনির্ধারকদের ভাবিয়ে তোলে। ভারতের অনেক নীতিনির্ধারক ভারসাম্য নীতি গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৌশলগত চিন্তাবিদ পরাগ খান্না ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ‘ভারত কখনোই যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো পরাশক্তি হবে না।’ কিন্তু তিনি এটাও বলেন যে, ‘এ দেশটি বিশ্বব্যবস্থার দিক বদলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এশিয়াতে তো বটেই। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন সবাই যদি ভারতের সাথে বন্ধুত্ব চায় এ কারণে যে ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ভূমিকা রাখতে পারে, তাহলে বড় ধরনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না জড়িয়েও ভারত সবার সাথেই বন্ধুত্ব রাখতে পারবে।’
শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি আবার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নতুন করে এস ৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ক্রয় ও নিরাপত্তা খাতে বিভিন্ন চুক্তি হয় দিল্লি-মস্কোর মধ্যে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে রুশ-চীন লাইনে দিল্লির অবস্থান আগে থেকেই এর একটি ভিত সৃষ্টি করে।
ভারতের সাউথ ব্লকে নীতিনির্ধারণ পর্যায়েও এর মধ্যে পরিবর্তন আসে। পররাষ্ট্র সচিব পদে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এস জয়শঙ্করের স্থলাভিষিক্ত হন চীনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী বিজয় কেশব গোখলে। জয়শঙ্করের অগ্রাধিকার যেখানে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা, সেখানে গোখলের অগ্রাধিকার হয় চীনের সাথে বৈরিতার জায়গাগুলো এক পাশে সরিয়ে রেখে যেখানে সম্ভব সেখানে ভারত-চীন সহযোগিতার সম্পর্ক সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ১০ দিন আগে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক সুবির নন্দী লিখেছিলেন, ‘গোখলের কৌশল ৩০ ডিসেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময় বাংলাদেশে কিছুটা পরীক্ষার মুখে পড়বে। মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা দুই জায়গাতেই ভারতের বন্ধুরা নৈতিকভাবে একটা শক্ত অবস্থানে ছিল। তারা যাদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন তাদের অবস্থান ছিল দৃশ্যত গণতন্ত্রের বিপক্ষে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং সফল গণতন্ত্রের দেশ হিসেবে এসব ব্যক্তির সমর্থন দেয়া ভারতের জন্য সহজ ছিল। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভেস্তে গেছে। কারণ ভারত যে উচ্চ নৈতিক অবস্থান কামনা করে, সেটা এখানে নেই। পশ্চিমা দেশগুলো হাসিনার বিরুদ্ধে দেশকে একদলীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোকে এটা বোঝাতে ভারতের বেগ পেতে হচ্ছে যে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সেটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো হবে।’
সুবির নন্দী বাংলাদেশে গোখলের নীতির যে পরীক্ষার কথা বলেছিলেন, সেটির সফল বাস্তবায়ন এর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশে। এখানে পাশ্চাত্যের দেশগুলো যেখানে মুক্ত, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকর অভিযাত্রা চেয়েছে, সেখানে ভারত চীনের সাথে মিলে এমন এক নির্বাচন করতে শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন সরকারকে সমর্থন করেছেÑ যার সাথে উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের নির্বাচনকে তুলনা করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। মনে হয়, এখানে দিল্লি-বেইজিং সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এ অঞ্চলে আমেরিকান প্রভাবকে গভীর হতে না দেয়া।
অথচ ২০০৭-০৮ সালে ভারতের প্রভাবকে বাংলাদেশে সর্বব্যাপী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। এবার ওয়াশিংটন মনে করেছিল, এখানে একটি মুক্ত, উদার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দিল্লির সহযোগিতা পাওয়া যাবে; কিন্তু কার্যক্ষেত্রে এর উল্টোটাই হয়েছে।
খোগলের যে নীতির কথা বলা হচ্ছে, ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ভদ্রকুমার সেটি গ্রহণের পক্ষে অনেক দিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘জি২০ সম্মেলনের ফাঁকে আরেকটি ত্রিদেশীয় বৈঠক হয়েছে, যেখানে একত্র হয়েছিল রাশিয়া, চীন ও ভারত। কার্যত, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ত্রিদেশীয় এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউরেশিয়ান প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন; যেখানে ভারত ও চীনের সাথে আরআইসি (রাশিয়া-ইন্ডিয়া-চায়না) ফর্মেটকে নেতৃত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। পুতিন যে নিয়মিত আরআইসি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে চীন-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নকে উৎসাহিত করার জন্য রাশিয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।’
ভদ্রকুমার বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে আরআইসির মধ্যে আরো গতিশীলতা নিয়ে আসা এখন রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অংশ। বেইজিং ও দিল্লির সাথে আলোচনার পর মস্কো প্রস্তাবটি নিয়ে সতর্কভাবে বিবেচনা করতে পারে। আরআইসি ফর্মেট শুরু যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-ভারত ফর্মেটের বিপরীতে একটা ভারসাম্যই তৈরি করছে না; বরং ব্রিকস ও এসসিও’কেও শক্তিশালী করবে। এটা ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে দৃঢ় করবে।’
এর আগে রাশিয়া, চীন ও ভারতের একত্র হওয়ার ধারণাটি ১৯৯৭ সালে প্রথম তুলেছিলেন রাশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরলোকগত ইভজেনি প্রিমাকভ; কিন্তু ভারত ও চীন তখন সাড়া দেয়নি। তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক নির্মাণের বিষয়টি অধিক গুরুত্ব লাভ করে।
বাংলাদেশকেন্দ্রিক চীন-রাশিয়া-ভারত মেরুকরণটি এখানে থেমে থাকবে বলেও মনে হয় না। এর পরবর্তী প্রভাব দেখা যেতে পারে আফগানিস্তানে। এর মধ্যে সেখানে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তালেবান ইস্যুতে একটি বোঝাপড়ার ব্যাপারে পাকিস্তানের সাথে একধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে ওয়াশিংটনের।
বেইজিংয়ের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের ব্যাপারে চীন বরাবরই সাধারণ এশীয় অবস্থান নেয়ার কথা বলত। এ অঞ্চলে যাতে আমেরিকান প্রভাব বাড়তে না পারে, সে জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার কথা বলত। এই অবস্থানের বিপরীতে আমেরিকার সাথে সম্পর্ক বাড়াবাড়ি রকমের পর্যায়ে উপনীত হওয়ার ফলে ডোকলাম সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে বেইজিং এমন পর্যায়ে নিয়ে যায়, যাতে ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
এখন গোখলে তত্ত্বের প্রভাবে দিল্লি সম্ভবত ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে বেশখানিকটা বের হয়ে আসতে চাইছে। এর ফলে চীন-ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যক্রম বেড়ে যাবে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক কিছুটা হলেও বাড়বে। চীনের অর্থ ও বিনিয়োগপ্রবাহ কমতে থাকবে।
বাংলাদেশে চীন-ভারতের যে প্রীতিভাব তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে। এরপর শ্রীলঙ্কায় এখন যে সিরিসেনা-রাজাপাকসে-বিক্রমাসিংহে যুদ্ধংদেহী অবস্থা চলছে, তার অবসানেও গোখলে তত্ত্ব কাজ করতে পারে। এটি নেপালেও ভারত-চীনের মধ্যে সহাবস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে রোহিঙ্গা ইস্যুতেও। পশ্চিমা দেশগুলো এই মেরুকরণকে কিভাবে নেয়, সেটিই হলো দেখার বিষয়।
তবে এই বাস্তবতাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাংলাদেশে ভারত ও চীনের স্বার্থ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সম্পূরক নয়। ফলে নির্বাচনে জয়ের জন্য শেখ হাসিনা প্রথম দু’টি অভিনন্দন বার্তা ভারত ও চীনের কাছ থেকে পেলেও আগামীতে তা অব্যাহত না-ও থাকতে পারে। এমন কথাও এখন শোনা যাচ্ছে যে, শেখ হাসিনা তার মন্ত্রিসভা থেকে পুরনো যাদের ছেঁটে ফেলেছেন তাদের বেশির ভাগই দিল্লির ঘনিষ্ঠ। ফলে নতুন সরকারে ভারতের চেয়ে চীনা প্রভাব বেশখানিকটা বাড়তে পারে। দিল্লির বিশ্লেষক ভরত ভূষণের লেখায়ও সেটির প্রকাশ পাওয়া যায়।
ভরত ভূষণের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাকে ভারত ও চীন উভয়ে স্বাগত জানালেও তাদের স্বার্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীন প্রথমত চায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ও দ্বিতীয়ত ভারতের মোকাবেলায় কৌশলগত পা রাখার জায়গা। ক্ষমতাসীন দলের প্রখ্যাত পরিবারগুলোর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে হানা দিয়ে চীন তার কৌশলগত লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। আওয়ামী লীগ সরকার চীনকে বেশ কয়েকটি প্রবেশপথ দিয়েছে। বাংলাদেশ হলো বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অবিভাজ্য অংশ। ছয়টি বিআরআই করিডোরের (চারটি স্থল ও দু’টি সামুদ্রিক) মধ্যে বাংলাদেশ কুনমিং থেকে কলকাতা (মিয়ানমারের কিয়াকফু বন্দর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে) পর্যন্ত বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সাগরপথের অবিভাজ্য অংশ।
তিনি আরো লিখেছেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও এটি চীনকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে প্রবেশের সুযোগ দেবে। ৮৫ শতাংশ চীনা মালিকানায় থাকা কিয়াকফু বন্দরটি হবে একটি জ্বালানি হাব। এর ফলে চীন অরক্ষিত মালাক্কা প্রণালীর ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে। এই প্রণালী দিয়েই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে থাকে চীন। কিয়াকফু বন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা তেল জমা করা হবে। সৌদি আরব এখানে একটি শোধনাগার বানাবে, কাতার বানাবে একটি গ্যাস পরিশোধন প্লান্ট। এখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে চীনে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। কক্সবাজারের কাছে থাকা সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরটির কাজ এখন বন্ধ আছে। চীন তার ভূ-কৌশলগত, ভূ-অর্থনৈতিক ও ভূ-জ্বালানি স্বার্থ এবং সেই সাথে পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রকল্প ও ১৩৫০০ মেগাওয়াট মহেশখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় বড় প্রকল্পে তার বিনিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকায় ক্ষমতার ধারাবাহিকতা চায়। মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় আসার পর ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ইস্ট-ওয়েস্ট রেলওয়ে প্রকল্প বাতিল করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে ভীত চীন।’
ভারতীয় বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশে চীনের প্রবেশে ভারতের সম্মতি থাকলেও এখানে চীনা উপস্থিতি সময়ের পরিক্রমায় সম্প্রসারিত হবে এবং ভারত তাতে ভেটো দিতে পারবে না। চীনা সম্প্রসারণ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের ভূমিকা কোণঠাসা করে ফেলবে।
সব কিছু পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশকেন্দ্রিক মহা খেলা এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে ঘনীভূত হতে শুরু করেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই মহা খেলা শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে কী গতিপথ নেয় তা বলা মুশকিল। এই খেলায় শক্তিধরদের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা যেমন রয়েছে, তেমনিভাবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য সম্পৃক্ততাও রয়েছে। অল্প কয়েক বছর আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সম্পৃক্ত হতে পাশ্চাত্যের কোম্পানিগুলোকে বেশি দেখা যেত। কয়েক দিন আগে রাশিয়ার গ্যাজপ্রম এ এলাকার ব্লক ইজারা পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছে। চীনও তার আগ্রহের কথা জানিয়েছে ঢাকাকে। কৌশলগত খেলার পরিণাম অনেক সময় বেশ ভয়ঙ্করও হয়ে দাঁড়ায়। তেমন একটি অবস্থা এ অঞ্চলে না আসুক, সেটিই সবার প্রত্যাশা।
[email protected]

Content Protection by DMCA.com

সংলাপের বাতাস : রাজনীতিতে হঠাৎ ইউটার্ন

শামসুল আলম
 
২৯ অক্টোবর ২০১৮। বাংলাদেশের রাজনীতি জীবনে নানা ঘটনাবহুল দিন। এটা একদিকে বর্তমান সরকারের শেষ কার্য দিবস, কাল থেকে শুরু হবে নির্বাচনকালীন সরকার! একই দিনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে একটি দুর্নীতি মামলার বিতর্কিত রায়ে ৭ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়, অবশ্য আগের দিন রায়ের বিরবণ পত্রিকায় আগাম প্রকাশ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়, খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে; বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আত্মপক্ষ সমর্থন করার সাংবিধানিক বিধানের পরিপন্থি। দু’দিন ধরে নৌমন্ত্রী শাজাহানের আজ্ঞাবহ পরিবহণ শ্রমিকরা ধর্মঘটের নামে জনগনের সাথে সন্ত্রাস করে রাস্তা দখলে রাখার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া গেলো যে, বিএনপি যেনো রাজপথে না আসতে পারে। বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও ইভিএমের বিধান রেখে আরপিও পাশ করে সরকারের কেবিনেট! এরি মাঝখানে বিকালে ঘোষণা আসে, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজী হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আ’লীগ সরকার।
 
১. নির্বাচন তফসিল ঘোষণার আগে ঐক্যফ্রন্টের সাথে সংলাপের দাবী করে চিঠি গ্রহণ করে বেশ কিছু সময় শীতল থাকার পরে হঠাৎ সরকারের ইতিবাচক সাড়া দেয়ায় নড়ে চড়ে বসেছ সবাই। এটাকে ‘রাজনীতির ইউ টার্ন’ হিসাবেও দেখছে অনেকে। শুধু সংলাপ নয়, ঐক্যফ্রন্টকে একেবারে নৈশভোজের দাওয়াত! বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলের সাথে এক টেবিলে বসে খাওয়ার রেওয়াজটা উঠে গেছে অনেক দিন! সেখানে সরকারের এই অবস্থান বদলে সচিবালয় সহ সদ্ধিগ্ন মহলগুলো ভাবনায় পড়ে যায়! হঠাৎ কেনো এই সংলাপের ঘোষণা। তবে কি সরকারের সুমতি হয়েছে? তবে এটা কিন্তু শেখ হাসিনার নীতি ও চরিত্রের সাথে যায় না।
 
২. তাহলে কি প্রবল বিদেশী চাপে এই সংলাপ? এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। বোদ্ধারা সকলেই অবহিত আছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নানা উদ্বেগের কথা। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারীর ভোটারবিহীন নির্বাচনের ওপর ভর করে পূর্ন মেয়াদের একটি সরকার মেরে কেটে ক্ষমতায় থাকার পর ভুলের খাতায় অনেক কিছু জমা হয়েছে। এ অবস্খায়, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে উন্নয়ন পার্টনার যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সহ বেশিরভাগ বিদেশী বন্ধুরাই চায় বাংলাদেশে একটি জনগনের শাসন কায়েম হোক; আর যেনো পাঁচই জানুয়ারীর মত নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হয়। একটি অংশগ্রহনমূলক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রবল। বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র ভারতও ২০১৪ সালের অবস্খান থেকে সরে এসে নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়, গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দরকার ইত্যাদি কথা বলছে। ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারতকে পাশে ঠেলে শেখ হাসিনার সরকার ও দল উদভ্রান্তের মত দৌড়াচ্ছে চীনের দিকে। নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য এটি অসহণীয়। সার্বিক অবস্খা উত্তরপাড়া থেকেও সংলাপের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এহেন অবস্থায়, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বক্ষণে নৈশভোজ-সংলাপে আদৌ কি ফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে সবার কৌতুহল!
 
৩. তাহলে কি সংলাপ দেশে শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে? বিরোধী দলের ৭ দফা দাবী মেনে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আ’লীগ সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে হাটছে? সরলভাবে তেমনটা আশা করা হবে নেহায়েত বোকামী! শেখ হাসিনা কখনই বিরোধীদের সম্পূর্ন দাবী মেনে এমন কোনো নির্বাচনের উদ্যোগ নিবে না, যাতে তিনি হেরে যাবেন। কেননা, মুখে যাই বলুন না কেনো, তিনি ভালো করেই জানেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জামানত বাজেয়াপ্তই তার দলে আশু নিয়তি। আর সেটা ঘোরাতেই যত প্রকারের নির্বাচন প্রকৌশল (election engineering), নিজ দলীয় লোক বেছে বেছে ভোট অফিসার নিয়োগ করা, বিরোধী দলের প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইভিএম চেষ্টা, ক্ষমতার প্রধান দাবীদার বিএনপি প্রধানকে বিতর্কিত রায়ে একের পর এক সাজা প্রদান, বিরোধীদের গায়েবী মামলার দৌড়ের উপর রেখে নিজেরা নির্বাচনী কাজে নেমে পড়ার মত নির্লজ্জকর কাজে ব্যস্ত রয়েছে আ’লীগ।
 
৪. প্রশ্ন উঠতে পারে এই সংলাপের মানে কি? ঐক্যফ্রন্ট সংসদের বিরোধী দল নয়, বিগত সরকারও নয়, এমনকি এই ব্যানারে কখনও নির্বাচনে অংশও নেয়নি। তাহলে তাদের চিঠির বরাতে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ সংলাপে উদ্যোগী হলে কেনো? এখানেই রয়ে গেছে বিরাট উত্তর। বিএনপির নেতৃত্বে এই ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মূলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ানরা আছে, এটা প্রায় সর্বজনবিদিত। তাই তাদের অনুরোধ, উপরোধ, চাপ সবই কাজ করেছে এই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিতে। তাছাড়া, গতকালই বামদলীয় জোট ঘোষণা করেছে, যেনো তেনো প্রকারের নির্বাচনে তারা অংশ নিবেনা। প্রতিবেশীর পিছুটানের ফলে ৫ জানুয়িারির মত বিনাভোটের নির্বাচন এবারে সম্ভব নয়। এ অবস্খায় চাহিত আলোচনা ছাড়া বা একটি নূন্যতম সমঝোতা ব্যতীত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হলে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হবে, তা গণঅভ্যুত্থাণের রূপ নিতে পারে, এটা বোধ করি ফ্রন্টের প্রস্তুতি থেকে সকলেই অনুধাবন করেছেন। আগামীকাল থেকে শেখ হাসিনার সরকার যখন নির্বাচনকালীন সরকার, তাই বিরোধী দলের কথা শুনতে তারা বাধ্য। আ’লীগ যদি সরকারে না থাকে, তবে বৈঠকে বসার কোনো প্রয়োজন হতো না, কিন্তু সরকারে থাকলে বৈঠক করতে হবে, শুনতে হবে কথা। নইলে নির্বাচন হবে কি করে, সংঘাত অনিবার্য!
 
৫. আরেকটি প্রশ্ন- সংলাপই যদি করবে, তাহলে এত তাড়াহুড়া করে আকতারুজ্জামানের ‘জাজমেন্ট মেশিন’ থেকে এতদ্রুত আউটপুট বের করে বিএনপি চেয়ারপার্সনকে ৭ বছর কারাদন্ড দেয়া হলো কেনো- যেখানে পুরো বিচার প্রকৃয়াটি প্রশ্নবিদ্ধ? সংবিধান লংঘন করে কেনো এই রায়? এটার অনেক উত্তর থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার মনখুশি রায় এটা। এটা দিয়ে তিনি খুশি। তিনি এখন খালেদা জিয়ার সাথে কোনো বৈঠকে বসতে রাজী নন, যদিও সেটাই ছিল তার নিস্ক্রমনের জন্য সহজ রাম্তা। অনেকেই মনে করেন, বেগম জিয়ার সাথে শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব যতটা না রাজনৈতিক, তারও চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত! শেখ হাসিনার ক্ষোভ হলো, খালেদা জিয়া কেনো এত সুন্দর, কেনো এত লোক তাকে পছন্দ করে, কেনো তার এত বেশি ভোট! তাই তিনি খালেদা জিয়ার মত শক্তিশালি প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে বসার চাইতে তাকে কারারুদ্ধ রাখতেই বেশি তৃপ্ত বোধ করছেন। এই রায়ের দ্বারা হাসিনা তার রাগ, জেদ, ক্রোধ ও সংকল্পের চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন। ভবিষ্যতে যদি তিনি ক্ষমতায় ফেরত আসতে নাও পারেন, অন্তত খালেদা জিয়াকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দেয়ার পথ তৈরী করে নিলেন। তিনি ভালো করেই জানেন, সরকার পরিবর্তন হলে আজকের এই আপীল বিভাগই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এসব রায় ও সিদ্ধান্ত রিভিউ করে সব বাতিল করবেন দ্রুততম সময়ে। তাই এখন যা কিছু পারা যায়, নিজের হাতেই করে নিয়ে তৃপ্ত হতে চান তিনি!
 
৬. এটা কি এমন হতে পারে যে, হাসিনা দীর্ঘকালের অবৈধ সরকারের দুর্নাম ঘুচাতে নিজকে ‘হঠাৎ গণতন্ত্রী’ প্রদর্শনের জন্য সংণলাপের এই দৃশ্য মঞ্চায়ন করলেন? কিংবা নিজেকে মহান দেখাতে? বিগত নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে শেখ হাসিনা নিজেই গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডিনারে, সংলাপে, এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিতে। কিন্তু এ টেলিফোন কলের আগেই তিনি ছ’শ কোটি টাকা ব্যয় করে নিশ্চিত করেছিলেন, বেগম জিয়া যেনো সংলাপ প্রত্যাখ্যান করেন (এর দলিল হয়ত দেয়া সম্ভব নয়, কিন্তু জীবন্ত মানুষ সাক্ষী আছে)! তার মানে, ওটা ছিল লোক দেখানো সংলাপের ডাক। এবারেও তেমনটা না ঘটলেও যাতে সংলাপের পূর্ণ সুবিধা বিরোধীরা না পায়, সে চেষ্টা তার অবশ্যই থাকবে!
 
৭. তাহলে সংলাপের ফলাফলটা কি?
ক) সংলাপ দৃশ্যমাণ শোভন হবে। শেখ হাসিনা হয়ত ফ্রন্টের আংশিক কিছু দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার কথা বলে ক্যামোফ্লেজ তৈরী করবেন, যাতে করে ফ্রন্টের মধ্যে বিভেদ লাগে বা ভাঙনের মুখে পড়ে। হয়ত বলবেন, ‘সংবিধান মোতাবেক আমি সরকারে থাকব, পদত্যাগ করার কোনো নিয়ম নাই, সংসদ চালু নাই তাই ভাঙার কোনো দরকার নাই, সংবিধান মোতাবেক আমার অন্তবর্তী কেবিনেটে আপনারা ৫জন মন্ত্রী দিতে পারেন, সে জন্যই কেবিনেট ভাঙ্গিনি (১০% কোটায় আসুন) “ এতে করে ফ্রন্টের মধ্যে কলহ লাগতে পারে।
 
খ) বলবে, বাকী সব দাবী এভাবে মানব- নির্বাচন কমিশন পূর্নগঠন করতে গেলে নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। তাতে রাজী থাকলে চেষ্টা করা যাবে, নাম দেন। তখন অন্য রাজনৈতিক দল বা জোটের সাথে বৈঠক করার সুযোগ তৈরি হবে, আর এতে নির্বাচন ঝুলে যাবে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অভিযোগ আছে, তাদের ছাড়া বাকী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়া হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হবে, তবে আইনি প্রকৃয়া মেনে। এতে করে সময় লাগবে। যেভাবে রায়গুলো আছে, দেখা গেলো এমন সময়ে বেগম জিয়া ছাড়া পেলেন যে, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতেও পারলেন না, বা প্রচারণাতেও সামিল হতে পারনে না। এভাকে প্রথম দফা মানার গেম চলতে পারে।
 
খ) ইভিএম সিস্টেমে নির্বাচন করার মত কোনো প্রস্তুতি ও ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের না থাকার পরও কেবিনেটে আজ তা পাশ করে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে ইনাম হিসাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বিল পাশ করার সুযোগ দিলো সরকার। ইভিএম আইন পাশ করতে চাইলে বিদায়ী (বিনাভোটের) সংসদেই পাশ করতে পারত। এত দেরী করে সংসদশূন্য অবস্থায় কেনো? কিন্তু সেটা যখন করেনি, এখন করতে হলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ দিয়ে করতে হবে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাহলে এই ইভিএম বিতর্ক জিইয়ে রাখলো কি বিরোধীদের টেনশন বাড়ানোর জন্য? এখন সংলাপের সময় হয়ত বলবে- ইভিএমের দাবীও মেনে নিলাম। যান আরেক দফা হলো তো!
 
গ) অন্যান্য দাবীর মধ্যে সেনাবাহিনী নামানো প্রসঙ্গে বলবে রাজী, তবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে, সাথে সিভিল ম্যাজিষ্ট্রেট থাকবে! বলবে সভাসমাবেশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। বলবে, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলনে যারা আছে, সবাইকে মুক্তি দেয়া হলো। দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকেও রাজী। কারও কোনো রাজনৈতিক মামলা থাকলে নির্বাচনকালে স্থগিত থাকবে। কিন্তু বাস্তবে প্রায় সকলের নামে ফৌজদারী অপরাধের মামলা। পুলিশ যেভাবে মামলা সাজায় তাতে রাজনৈতিক মামলা প্রমান করা বেশ জটিল।
 
বলবে, তাহলে ৭ দফা দাবীর প্রায় সবই মানা হলো, এবার ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুন। এ নিয়ে বাগড়া দিতে যাবে কে? কেউ অবশ্য বলছেন, হাসিনা জানে, তাকে বিদায় নিতে হবে, এটা নিশ্চিত। এখন তিনি চান সেইফ এগ্জিট। এ নিয়ে বিএনপির ওপরে তার আস্থা নেই, আস্খা আছে ড. কামালে। ব্যারিস্টার মইনুলে সমস্যা আছে, তাই জেলে রাখা হলো। জাফরউল্লাহ আশ্বাস দিয়েছেন প্যাসেজ দিবেন, তাই তাকে বাইরে রাখা হয়েছে। কারো কারো মতে, হাসিনা সময় ক্ষেপণ করছেন। তবে কি সংলাপের নামে নিরাপদ প্রস্থানের পথ পরিস্কার করা হলো?
 
অনেকের মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে কি ফ্রন্ট-রাজনীতি করতে গিয়ে বিএনপি ফাঁদে পড়লো? তাছাড়া ফ্রন্ট নিয়ে আগানোর কুফলে কি ২০ দলীয় জোট অস্তিত্বের সংকটে পড়বে? এ অবস্থায় কি নির্বাচন হবে, নাকি ফ্রন্ট বয়কট করবে? নাকি নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব এবং উপরে লিখিত সম্ভাবনাগুলো সবই ঘটনাত্তোর পরিস্কার হবে। সংলাপ শেষে আগামী শুক্রবার নাগাদ বোঝা যাবে এর ফলাফল, তত দিনেও ১০ দিনের আল্টিমেটামের কয়েকদিন বাকী থাকবে। তখন বলা যাবে ফ্রন্ট নির্বাচনে যাচ্ছে কি না। এর আগে যা কিছু বলা, সবাই আন্দাজ এবং বিশ্লেষণ মাত্র! তবে আপাতদৃষ্টে যা মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনা বিদেশী চাপে পড়ে, উত্তর পাড়ার মতামতে, এবং জনগণের কাছে নিজের ‘চেষ্টার ত্রুটি করিনি’ বোঝাতেই এই সংলাপের হঠাৎ আয়োজন। শেষ পর্যন্ত যদি এই সংলাপের পথ ধরে নির্বাচনে যায়ও ফ্রন্ট তবে দেখা যাবে- শেখ হাসিনা সরকার প্রধান হয়ে আছেন, তার সজ্জিত প্রশাসন ও পুলিশ সবাই কর্মরত, রিটারর্নিং অফিসার ও পোলিং-প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ করা ব্যক্তিরা কাজ করছে, ইলেকশন কমিশনার ২/১টা বা পুরোটাই বদলে দেয়া হলো কিন্তু তার সচিবালয় আনটাছ রাখা হলো (বিশেষ করে সচিব হেলালউদ্দীন)! এমতাবস্থায়, এইরূপ পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনী প্রশাসন দিয়ে আর যাই হোক, সুষ্ঠু ভোট গ্রহন ও ফলাফল প্রকাশ অসম্ভব। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও প্রশাসন নিরপেক্ষকরণ বলতে যা বোঝায়, তা করতে হলে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরাতেই হবে। আর সেটা তো তিনি সংলাপের ভেতর দিয়ে রাজী হবেন না। তা অবশ্য কেউ হয়ও না। তার জন্য দরকার হবে – রাজপথের আন্দোলন ও গণবিল্পব। বর্তমানে বিরোধী দল, তথা ঐক্যফ্রন্টের সেই প্রস্তুতি থাকলেও ডিনার-সংলাপে হয়ত সেটা কিছুটা পিছিয়ে যাবে, বিশেষ করে ২ তারিখের ঢাকায় জমায়েত। তবে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও রাস্তায় নেতাকর্মী নামিয়ে যেকোনো সময় নির্বাচন বয়কট করে অলআউট আন্দোলনে যেতে পারবে। এদেশের ইতিহাস যা বলে, তাতে নাগরিকের ভোটের অধিকার রাজপথেই অর্জিত হবে। বেগম জিয়ার সাথে মামলাবাজি করতে গিয়ে শেখ হাসিনা তার হাতের কার্ড সব খেলে ফেলছেন। আর এতে করেই জনতার বিজয়ের আশা জাগছে।

/ফেসবুক

Content Protection by DMCA.com

মাসুদা ভাট্টি: নামে মুসলিম আসলে হিন্দু, পুরুষ থেকে রূপান্তরিত এক বিকৃত রুচির নারী!!

আহমেদ সাইমুম
হালের গোয়েবলস সাংবাদিক(!!) মাসুদা ভাট্টির যাপিত জীবন ও তার কর্মাচার নিয়ে কথা বলা বা আলোচনা সমালোচনা করার মত নূন্যতম ইচ্ছে আর রুচিবোধ কোনটাই নেই আমার। এসবে আমার খুবই ঘেন্না লাগে। এটা আমার জন্যে ভীষণ রকম বেমানানও বটে। আর এ শ্রেণীভূক্ত কারো জীবনাচার নিয়ে কথা বলাটাতো সাংঘাতিক রকম অপছন্দ আমার। তবে উনি যখন গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণকারী দু:শাসনের দস্যু দানবদের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরেই ওনার মেধা মনন শ্রম ঘাম ঝরিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বাধিকারকে দু’পায়ে মাড়িয়ে তাড়িয়ে একপেশে গোয়েলবসীয় গোয়ার্তুমি চালিয়েই যাচ্ছেন ঠিক এমনি এক সময়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে অযাচিত প্রশ্নে বিব্রত করে দেশজুড়ে হৈচৈ ফেলে দিয়ে বিরাটাকৃতির সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেছেন ঠিক তখনই নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর জ্ঞাতার্থে যৎ সামান্য তথ্যাদি উপস্থাপন নাদান নাগরিকের জন্য কর্তব্য হয়ে পড়েছে।
#ভাট্টি সম্পর্কে সাধারণের যেটুকু জানাশোনা আছে তার কয়েক রত্তি সত্য হলো:
#ভাট্টি নানা স্থানে ঘুরা ফেরা করেছে। পাকিস্তানেও ছিলো। নিজের শারীরিক ও মানসিক চরিত্র নানা সময়ে পরিবর্তন করেছে। শারীরিক চরিত্র বলতে সে তার লিংগ পরিবর্তন করেছে। (বায়োলজিক্যালি) লিঙ্গান্তরের মাধ্যমে পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তর হওয়া সম্প্রদায়ের একজন!
#ভাট্টি সিঁথিতে সিঁদুর আর কপালে বিশেষ সম্প্রদায়ের চিহ্ন টিপ পরেন!
#ভাট্টি বৈবাহিক সূত্রে পাকিস্তানের নাগরিক!
#ভাট্টি লন্ডনে গিয়ে এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করে তার সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেয়!
#ভাট্টি লন্ডনে থাকাকালে পূর্বের স্বামীকে ত্যাগ করে বহুগামীতায় মেতে ওঠেন! সে পলিগ্যামিষ্ট ও হেট্রো সেক্সুয়াল। সে নারী ও পুরুষ উভয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পছন্দ করে। তবে এগুলো তার ব্যক্তিগত বিষয়।
#ভাট্টির নামটিও মেইড বাই পাকিস্তান!
#ভাট্টি বাংলাদেশ বিরোধী জঘন্য মিডিয়ার লেখক!
#ভাট্টি ভারত ও ইসরাইলের পেইড এজেন্ট সাংবাদিক সম্প্রদায়ের অন্যতম একজন!
#ভাট্টি যখন সাম্প্রদায়িক আওয়ামী রাজনীতিরর জংগী কর্মী হিসাবে একের পর এক বুদ্ধিবৃত্তিক কু প্রবণতা তৈরি করে বাংলাদেশকে রক্তের হলি খেলার দিকে নিয়ে যায় তখন অবশ্যই সবাইকে ভাবতে হবে। সে রাশিয়ান ব্লকের ছেলে এবং আওয়ামীলীগ এর প্রোপাগান্ডা টিমের সদস্য। রাশিয়ায় কমিউনিজম এর পতনের সময় ভাট্টি ইয়লতসিনের পক্ষে কথা বার্তা বলতো। আওয়ামীলীগ, রাশিয়া ও ভারতের প্রডাক্ট এমন একজন মহান ব্যক্তিকে কিভাবে চরিত্রহীন বলে। এই ভাট্টিরা গনতন্ত্র এর বিপক্ষে সম্মিলিত প্রোপাগান্ডা বাহিনী স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। এদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ প্রয়োজন।
#ভাট্টি বেশ দিন লন্ডনে বসে শোষক প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ও শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটানো কুশীলবদের অন্যতম বাইজী!
#ভাট্টি “লন্ডনে থাকা অবস্থায় দেশ বিরোধী কথিত বুদ্ধিজীবী আগাচৌ’র রাখায়েল ছিলেন!
যার কারনে আগাচৌ’র পরিবারে যথেষ্ট অশান্তিও নেমে এসেছিল!’
#তসলিমা নাসরিন ভাট্টি চরিত্রগত দিক নিয়ে তার এক বইয়ে আলোচনা করেছেন বিস্তারিত।#ব্যারিস্টার মঈনুল ভাট্টিকে ভদ্র ভাষায় চরিত্রহীন বলেছেন টিভি টকশো’তে আর তসলিমা নাসরিন ভাট্টির অসতী চরিত্রের পোস্টমর্টেম তুলে ধরেছেন- প্রমাণ দিয়েছেন তার লেখা বইয়ে।
#বুড়ো শালিক আগাচৌ ভাট্টির ফুলেল চরিত্র নিয়ে কথা নাবলে থুতনী ডুবিয়ে মধু নিয়েছেন!
সর্বোপরি ম ভাট্টি গং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে তিরষ্কার নাকরে ধন্যবাদ দিতে পারেন বা দেয়া উচিৎ এজন্যে যে,তিনি তার নিজের ব্যক্তিত্ব ও রুচিবোধের কারণে ভাট্টির নগ্ন রূপের মুখোশ জাতির সামনে উম্মোচন করে দেননি!!
#একটা মানুষ পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয় কি পরিমাণ বিকারগ্রস্ত হলে তা ভাবতেই যে কারো আসবে বমি-আর ঘৃণায় অরুচিতে বিকল হয়ে যাবে মগজ!!

/ফেসবুক থেকে

Content Protection by DMCA.com

কেন গোয়েন্দা প্রধান সামরিক অফিসার ও আইজিপিদের শাস্তি হলো?

শেখনিউজ রিপোর্টঃ
মর্মান্তিক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকালে এনএসআই এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে এবং অন্য এনএসআই প্রধান মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার ডিজিএফআই-তে থাকলেও তাদের কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং তৎকালীন এনএসআই-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনাম চৌধুরী বা ডিজিএফআই প্রধান কেন গ্রেপ্তারই হন নাই, শাস্তিতো দূরের কথা। আর কেনই বা বিভিন্ন মেয়াদে পুলিশের সাবেক ৩জন প্রধানকে অন্যান্য মেয়াদে শাস্তি দেয়া হলো? বিষয়টি নিয়ে গোপন এক অনুসন্ধানমুলক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। 

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কয়েকদিন আগে থেকেই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিমের পাইলসের সমস্যা জটিল আকার ধারন করায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং যথারীতি তার অপারেশনও হয়। এ সময় এনএসআই-তে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ডিরেক্টর এক্সটারনাল ব্রি জেনারেল এনাম চৌধুরী। তার সময়েই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। যথারীতি তিনি আগের দিনও গোয়েন্দা রিপোর্ট পান; কিন্তু সেই রিপোর্ট কোথায় সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা তো করাই হয়নি; তাকে বরং প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে লন্ডন হাইকমিশনে পাঠানো হয় পরবর্তীতে। এমনকি ফিল্ড রিপোর্টের দায়িত্ব যে সকল অফিসারদের ছিল তাদেরও জিজ্ঞেস করা হয় নাই।

ঠিক একই অবস্থা মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দারের বেলায়। তিনি ডিজিএফআইতে থাকাকালে ছিলেন একটি ব্রাঞ্চের ডিরেক্টর হিসেবে, তিনি তার প্রধানকে রিপোর্ট করেছিলেন কি না, বা রিপোর্ট করা তার দায়িত্ব ছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হয়নি। বরং ভারতের চক্ষুশূল হওয়ার কারনে এই দুই সামরিক অফিসারকে ১০ ট্রাক অস্ত্রের মামলার মত করেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যদিও এই ব্রি জেনারেল রহিম সরকার প্রধানের বিনা অনুমতিতে গোপনে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার তদন্ত শুরু করেছিলেন, কিন্তু মন্ত্রী বাবর ও তার এনএসআই-র অন্যান্য কিছু সহকর্মীর অসহযোগিতায় তার মিশন একদম শেষ পর্যায়ে ভণ্ডুল করে দেয়া হয়।  এমনকি তার চাকুরীটি পর্যন্ত এক্সটেনশন  করা হয় নাই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল নাসিম সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা চালানোর সময়ে ঢাকাস্থ ৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রহিম উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং জেনারেল নাসিমকে আটক করে রেখেছিলেন। অনেকেই এই ঘটনার পাল্টা হিসেব হিসেবে এই শাস্তিকে মনে করে থাকেন।

তবে কোন কোন মহলের মতে সেনাবাহিনীর অফিসারদের সতর্ক বার্তা দিতে যেমন এই দণ্ডাদেশ, তেমনি যারা এখন আওয়ামী সরকারের হয়ে কাজ করছে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে তাদের জানান দেয়া যে, যেকোন মুল্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে নইলে আজকে যেমন ভুয়া অজুহাতে শাস্তি হয়েছে, আগামীতে বর্তমানের পুলিশ বা সেনা অফিসারদের শাস্তি দিতে আগামীর সরকারদের (যদি আওয়ামী না থাকে) কোন মিথ্যা অজুহাত খাঁড়াও করতে হবে না। তাই সবাই যেন সতর্কভাবে সরকারকে টিকিয়ে রাখে।

Content Protection by DMCA.com

গোলামতন্ত্র মানবেন? নাকি জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে মুক্তির পথ বেছে নেবেন?

।।এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলামের কাছে আওয়ামী লীগের ভাষায় বললে ‘নালিশ’ করতে যান শেখ হাসিনা। দুই ঘন্টার নালিশে তিনি তৎকালীন বিএনপি সরকার, যারা মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছিলো তাঁদের বিরুদ্ধে হেন কথা নাই, যা বলেন নাই।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটা তিনি বলেন তা বর্ণিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের নথিতেঃ “SHEIKH HASINA SPENT A CONSIDERABLE AMOUNT OF TIME EXPLAINING WHY THE PARTY’S CALL FOR SOCIALISM WAS REALLY NOT/NOT A CALL FOR SOCIALISM. SHE SAID THAT SHE PERSONALLY HAD NO SYMPATHY FOR SOCIALISM, THAT SHE KNOWS THAT IT IS A FAILED SYSTEM, EVERYWHERE.”

আমরা যারা বাংলাদেশের রাজনীতির খোঁজ খবর রাখি, তারা ভালো করেই জানি আওয়ামী লীগের ঘোষিত চার মূলনীতির কথাঃ গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা আর বাঙালী জাতীয়তাবাদ।

গণতন্ত্রের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান সর্বজনবিদিত, ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে ভোট ডাকাতির নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র দুটি দুই পথে। যার প্রমাণ তারা দিয়েছে ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানিয়ে, ১৯৮৬ সালে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে, ১৯৯৬ সালে নাসিমকে দিয়ে সামরিক ক্যু করানোর চেষ্টা করে, ১৭৩ দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করে পরে ২০১১ সালে নিজেরাই তা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে, এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে অর্ধেকেরও বেশি প্রার্থীকে বিনাভোটে নির্বাচিত করে।

সমাজতন্ত্র যে হাসিনা মানে না সে কথা তো নিজ মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন, গণতন্ত্র মানেন না তা কাজে প্রমান করে দেখিয়েছেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটা এক্সক্লুসিভ জাতীয়তাবাদ, তাই তাদের নিজেদের আদালতই এই জাতীয়তাবাদকে খারিজ করে দিয়েছে; ফলস্বরূপ টিকে আছে জিয়াউর রহমানের দেয়া বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ।

আর ধর্মনিরপেক্ষতা কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়, তাই-ই জানে না শেখ হাসিনা, জানলে তার এতটুকু ধারণা থাকার কথা যে নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা করে মসজিদ-মাদ্রাসা বানানোর জন্য ছয় কোটি সরকারি অনুদান দেয়া পরষ্পরবিরোধী এবং কাবা ঘর তাওয়াফ করার সময় উলুধ্বনী দেবার বা দূর্গা দেবী গজে চড়ে আসার তথ্য দেয়া হাস্যকর।

তাহলে আওয়ামী লীগের নীতি কি?

আওয়ামী লীগের একমাত্র নীতি হচ্ছে গোলামতন্ত্র। এই গোলামতন্ত্রে শেখ পরিবার হচ্ছে সর্বশক্তিমান এক রাজ পরিবার, আর আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী এই পরিবারের গোলাম।

আওয়ামী লীগের নেতা, পাতি-নেতা কিংবা তৃণমূলের একজন কর্মী হতে হলেও আপনাকে এই গোলামি স্বীকার করে নিতে হবে। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে এই পরিবার এবং তাঁদের কৃতদাসেরা যা বলবে তাই-ই শুধু সত্য, বাকি সব মিথ্যা।

যেমন ধরুন তারা আপনাকে বলবে এসকে সিনহা একজন দুর্নীতিবাজ, কারণ সে মীর কাসেম আলীর ভাই এবং সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে টাকা খেয়েছে মীর কাসেম আলী ও সালাউদ্দিন কাদেরকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন না যে, যদি এসকে সিনহা টাকা খেয়েই থাকে তবে সে কেন মীর কাসেম আলী আর সালাউদ্দিন কাদেরের বিপক্ষে রায় দিল?

একমাত্র নিকৃষ্ট গোলাম ছাড়া কেউ এই দলের সাথে যুক্ত হতে পারবে না। এইটাই এই দলের একমাত্র নীতি। আর কোন নীতি নাই। আপনি যদি এই গোলামি মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না। এইজন্য আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষনেতাদের ৬০-৭০ শতাংশ পরবর্তী জীবনে লীগ করতে পারে না। এই জন্য ডঃ কামাল হোসেন, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুর আহমেদরা আওয়ামী লীগ করতে পারেন না। আর ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজপথে টিকিয়ে রাখা মোস্তফা মহসিন মন্টুকে গণফোরামে যোগ দিতে হয়; হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গকে মৃত্যুর আগে বিএনপি’তে যোগ দিতে হয়, লিয়াকত-হান্নানকে হারিয়ে যেতে হয় আর মতিউর রহমান রেন্টুকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বই লিখে দেশান্তরী হতে হয়।

আজকে বাংলাদেশের যে সংকট, এর অন্যতম প্রধান কারণ এই গোলামতন্ত্র। আওয়ামী লীগ মনে করে তাঁদের সাম্রাজ্যে সবাইকে তাঁদের গোলাম হতে হবে। তাই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর তাদেরই মনোনীত প্রেসিডেন্ট শাহবুদ্দীন আহমেদকে এরা গালাগালি করবে, কেন সে ২০০১ সালে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করলো না।

একই কারণে নিজেদেরই মন্ত্রী একে খন্দকার যখন যুক্তি-তর্কের মধ্য দিয়ে প্রমাণ করে দেন যে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন নাই, তখন সে যত বড় মুক্তিযোদ্ধাই হোন না কেন, তাঁকে রাজাকার বলতে দুই সেকেন্ডও সময় লাগে না শেখ হাসিনার।

আজকে এসকে সিনহার হাসিনার প্রিয়পাত্র থেকে চিরশত্রুতে পরিণত হওয়ার পেছনেও দায়ী এই গোলামতন্ত্র। বিচারপত্রি সিনহা যখন সাগর-রুনীর হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, তনু হত্যার বিচার করতে চেয়েছেন, বেসিক ব্যাংকের টাকার হদিস জানতে চেয়েছেন, বিচারকদের উপর আইনমন্ত্রীর খবরদারি বন্ধ করতে চেয়েছেন, ডিজিএফআই দিয়ে রায় লেখানো বন্ধ করতে চেয়েছেন- তখন শেখ হাসিনা আর মেনে নিতে পারেন নাই।

কারণ শেখ হাসিনা ভালো করে জানেন যে কেঁচো খুড়তে দিলে যে সাপ বের হবে, আর সেই সাপ দেখলে এই দেশের মানুষ আগামী একশো বছরে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না।

গতকাল নতুন ঐক্য প্রক্রিয়ার যে সূচনা হয়েছে, সেই ঐক্য প্রক্রিয়া হচ্ছে এই গোলামতন্ত্র ভাঙার প্রথম পদক্ষেপ। বাংলাদেশকে এই গোলামতন্ত্র থেকে মুক্ত করতে না পারলে, আজ হোক কাল হোক আপনিও এদের গোলামে পরিণত হবেন নয়তো দেশ ছাড়তে বাধ্য হবেন।

সিদ্ধান্ত আপনার।

Content Protection by DMCA.com

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিলিং মিশন দায় কার?

লিখেছেন: আবদুল্লাহ্ আল মেহেদী

গত কয়েকদিন আগের ঘটনা পূর্বাচল থেকে গুলিবিদ্ধ তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ! পরিচয় মিলেছে হতভাগ্য তিন যুবকের। তবে কারা, কী কারণে তাদের হত্যা করলো, জানা যায়নি। পুলিশ কোনো ক্লু পাচ্ছে না। কেমন অদ্ভুদ কথা তাই না? পরের কথায় আসি, ক্লু নিয়ে সামনে এলেন নিহতদের পরিবার। ডিবির জ্যাকেট পরা ছয়-সাত জন তাদের তুলে নিয়েছিল। ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জের ডিবি বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা ফেরিঘাটের প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে এসব তথ্য জেনেছেন। পূর্বাচলে তাদেরই লাশ পাওয়া গেছে ১৪ সেপ্টেম্বর। এমন ঘটনা কিন্তু নতুন নয় বেশ পুরনো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি কেন মানুষকে তুলে নিবে, কেনই বা হত্যা করবে? পুরনো কিছু প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এমন কাজ করবে এটা তো বিশ্বাসযোগ্য কোনো কথা হতে পারে না। তাহলে ডিবি পরিচয়ে কারা মানুষকে তুলে নিচ্ছে, হত্যা করছে? সাধারণ মানুষের মনে এখন ‘আতঙ্ক’ কাজ করছে।

আমরা তো পুরনো ঘটনাগুলো মনে রাখতে পারি না। এমনকি বিগত এক মাসের কথাও ভুলে যাই বেমালুম! ‘ডিবি’ লিখে যদি একটু গুগলে সার্চ দেন আর কয়েকটি স্টেপ মনোযোগ নিয়ে পড়েন তবে অসংখ্য সংবাদের সন্ধান পাবেন। যেমন- ‘ডিবি পরিচয়ে এক নারীকে তুলে নিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি’, চট্টগ্রামে ৮ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মামলা’, ‘ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার’, এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহারঃডিবি পরিচয়ে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা। ব্যাপক খবর পাওয়া যাবে। এইগুলি কিন্তু পত্রপত্রিকাতে আসা খবর। এখন কথা হচ্ছে, সংবাদগুলো সত্য নাকি মিথ্যে? ডিবির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্যে বিশেষ কোনো মহল, এসব অপকর্ম করছে কি না? উত্তরে কী আসবে? সন্ধান করা ডিবিরই দায়িত্ব। অসত্য হলে তা দেশের মানুষকে জানানো দরকার। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হয় সংবাদগুলো মিথ্যে নয়। ডিবি এই পর্যন্ত মিডিয়ায় এ নিয়ে আলোচনা করেনি। কোনো মহল এসব করে থাকলে, তাদের সন্ধান- ধরাও ডিবিরই দায়িত্ব। একেবারে করছে না, তা বলা যাবে না। বেশ কিছু ‘ভুয়া ডিবি’ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। ‘ভুয়া ডিবি’ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবও। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা পুলিশের ভাবমূর্তি জনমনে গতিতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তুলে নেওয়া বা অপহরণের একটি অভিযোগ আসার পরে, কখনো বলা হয়েছে ‘আমরা করিনি’। কখনো কোনো কিছু না বলে চুপ থাকা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে টেনে হেঁচড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছিল ডিবির বিরুদ্ধে। নানা শঙ্কা চললো। তারপর ডিবির পক্ষ থেকে বলা হলো, তুলে আনা হয়নি- তথ্য জানার জন্যে তাদের ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছিল।

কক্সবাজারে গতবছর এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে টাকাসহ আটক হয় ৭ ডিবি পুলিশ সদস্য। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এমন আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই এসআইয়ের বিরুদ্ধে। ১৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল সভাপতিকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো। দুই দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী নেতারা আত্মগোপনে ছিলেন না। কয়েক ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ডিবি তথ্য জানার জন্যে তাদের ডাকা যেতে পারতো। যদি ১৭ সেপ্টেম্বর রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তবে ১৫ সেপ্টেম্বর ডিবির বিরুদ্ধে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এলো কেনো? এসব প্রশ্নের উত্তর যখন থাকে না, তখন সামনে যে সংবাদ আসে সবই বিশ্বাসযোগ্যতা পেয়ে যায়।

মনে আছে সেই সেভেন মার্ডারের কথা? ক্ষমতাসীন দলের এক মন্ত্রীর জামাতার কুকর্মের কথা? কোটি টাকার বিনিময়ে হত্যার কনট্রাক। নারায়ণগঞ্জে ৭ অপহরণ হত্যা র‍্যাব কর্তৃক সংঘটিত, এই সত্য জানার পর মানুষের কাছে কোনো কিছুই যেন আর অবিশ্বাস্য মনে হয় না। ব্যবস্থা মানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘প্রত্যাহার’ এবং কিছুদিন পর আবার পদায়ন! ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে ডিবি- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহৃত হওয়ার পর যারা ফিরে এসেছেন, কারা তাদের অপহরণ করেছিল, তা অনুসন্ধান করতে দেখা যায়নি।

দিন কয়েক আগে হজ ফিরৎ বাবাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন এক শিবির নেতা। ১২ জন শিক্ষার্থীকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল ৫ সেপ্টেম্বর। ডিবি তাদের আদালতে হাজির করেছে ৫ দিন পর ১০ সেপ্টেম্বর। ৫ সেপ্টেম্বর যে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা ডিবি স্বীকার না করে বলেছে ৯ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া মানুষের লাশ পাওয়া যায় সংবাদে, মানুষের মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয় রাষ্ট্রীয় এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সম্পর্কে? মানুষের মনোভাব কেমন হয়, তা জানাটা কি অতি জরুরি।

Content Protection by DMCA.com

জাতীয় ঐক্য ও জোট থাকা না থাকা

আবদুল্লাহ আল মেহেদী

ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে সারা দেশে চলছে নানান গুঞ্জণ, বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলো মজে উঠে নির্বাচন এলে। বিএনপি ও আ’ লীগের উভয়ের জনসমর্থন রয়েছে প্রায় সমানে সমান। তবে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার আর লাগামহীন অত্যাচারে বিপর্যয়ে ক্ষমতাসীন আ’ লীগ।

নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আ’ লীগের উঁচু পর্যায়ের নেতাদের সুর ভিন্ন রকম। মিডিয়ার সামনে ওদের কথার ধরণ বেশ ভিন্নই মনে হয়। জামায়াত নিয়ে একটা সংশয় দেখা দিচ্ছে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে! জোট নিয়ে প্রশ্ন! থাকবে কী থাকবে না। আবার নতুন জাতীয় ঐক্য হলে জামায়াত কী পদক্ষেপ নিবে তাও স্পষ্ট নয়। জামায়াত এখন পর্যন্ত নিরবেই আছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্পধারা সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে বিএনপির যুক্ত হওয়ার পথে প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াত। বি. চৌধুরী, ড. কামাল ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সাফ কথা- এই ঐক্যে জামায়াত থাকতে পারবে না। তবে বিএনপি এ ব্যাপারে ‘হাঁ’ ‘না’ কোনটিই বলতে পারছে না।

তিউনেশিয়া, তুরষ্ক বা মিসরের মতো জামায়াত আসবে এমনও নয়। আসতেও পারে তবে সময়ের কথা এখন বলা যাবে না। মানবতাবিরোধী বা যুদ্ধাপরাধী যে নামেই হোক না কেনো ওদের শরীরের গন্ধ এখন নেই। অভিযুক্তদের বিচার হয়ে গেছে। নতুন প্রযন্মও বেশ আকৃষ্ট এ দলটির ওপর। পরিছন্ন রাজনীতিতে দশে দশ এরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় ১৬ মাস। সংবিধানের আলোকে যদি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে যদি নির্বাচন হয়। আর যদি কোনো কারণে ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়, তাহলে ভেঙে দেওয়ার পরবর্তী ৯০ দিন, অর্থাৎ ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যেও ভোট হতে পারে।

ভোট যখনই হোক, সেটি দেশের দুটি বড় দলের অন্যতম বিএনপিকে ছাড়াই, অর্থাৎ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির আদলে হবে নাকি বিএনপির অংশগ্রহণে, সেটিই এখন আগ্রহের বিষয়।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট শরিক জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার কথা বলার পাশাপাশি আরও দুটি ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ঐক্যের অন্য উদ্যোক্তারা। বি. চৌধুরীর বিকল্পধারা, আ.স.ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট আগামী নির্বাচনে বিএনপির কাছে ১৫০টি আসনে ছাড় চায়। তারা বলছেন, রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে এবং আগামীতে সরকার গঠন করতে পারলে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টির লক্ষ্যেই তারা আসনের এই সমতা চান।

বি. চৌধুরীর বাসায় বৈঠককে প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেতারা বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গণতন্ত্রের শত ফুল ফুটছে, এটা ভালো। তবে এই জোট কতদূর যায়, তা দেখতে হলে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অনৈতিক এবং অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে কেউ উদ্যোগ গ্রহণ করলে বিএনপি তাতে সমর্থন জানাবে।

বর্তমান সরকার বিদায় নিলে নতুন সরকার এসেও যেন স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, বিএনপির কাছে সেই প্রতিশ্রুতি চান অন্যরা। উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন মালয়েশিয়ায় ড. মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কথা।
নির্বাচনে জামায়াত কিন্তু বড় ইস্যু! এটা অস্বীকার করার মতো নয়। জামায়াতের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক আছে ওদের তরুন সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরে। জোট থাকুক আর নাই থাকুক এই ভোটগুলো কখনোই নৌকার প্রতীকে পড়বে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত।

বিএনপির চেয়ারপারসন বিচারিক রায়ে প্রায় ছয়মাস কারাবন্দি। আরেক নেতা তারেক রহমানও দেশের বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন! সংবিধানের মান বাঁচাতেও সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। কেয়ারটেকার সরকার বিলুপ্ত! কোন দিকে যাবে দেশ?

একএগারোর গন্ধকে অনেকে পরিবেশ পাল্টানো বা দৃষ্টি ফিরানোর পয়গাম মনে করছে। বোকা বানানোর এক নয়া কৌশল! সহায়ক সরকারের পদ্ধতিও নিরেপেক্ষ নয়। একেবারেই পুরো সরকারের মতোই।

আ’ লীগ চিন্তিত নয় নির্বাচন নিয়ে এমন কিন্তু নয়। বাহিরের চাপও কিন্তু আছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত যদিও সরকারের পক্ষে কাজ করবে কিন্তু সফল হবে এমনটাও বলা যায় না। অা’লীগে দীর্ঘ প্রার্থীতার তালিকা রয়েছে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষমতা বেশ বেকায়দায় নিয়ে গেছে দলটিকে। মনোনয়ন নিয়েও বেশ চিন্তিত ওরা! কাকে দিয়ে কাকে দিবে।

ব্যপক দুর্নীতি আর দুঃশাসন আর কায়েমী স্বার্থে দলটির প্রতি অনাস্থা মানুষের দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ছাত্রলীগের অপকর্ম দলটির পতনে যথেষ্ট। মানুষকে মন ভুলানোর কথা অার কানে ঢুকানো যাবে না। মানুষ সচেতন। কথায় আছে না মিঠে কথায় চিড়া নাকি ভিজে না।
আ’ লীগে তরুণদের তেমন টানতে পারছে না যেমনটা পারছে জামায়াত। তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির তরুণদের বেশ আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়েছে। ওদের কাজ থেমে যায়নি দমন না পীড়নেও। নির্বাচনে এবার জামায়াতের ভোট ব্যংক বেড়েছে গতবারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে নতুন কৌশল বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে কেন্দ্র থেকে গোপনে গ্রিন সিগন্যাল পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো। এমন ভাবেই খবরগুলো এসেছে প্রিন্ট মিডিয়াতে।

দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, প্রত্যেক নির্বাচনি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন-প্রত্যাশী। তারা সবাই নিজ নিজে এলাকায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কে মনোনয়ন পাবেন, তা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেও যারা মনোনয়ণ পাবেন না, তারা মাঠে থাকবেন না। চূড়ান্ত প্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করবেন। এর ফলে মারামারিতেও গড়াতে পারে। তাই গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দৈনিক ভোরের পাতা ২৯ অাগস্ট এমন খবর ছাপে। তারমানে হলো মনোনয়ণ নিয়েও বেশ উৎকণ্ঠায় আছে তারা। সূত্রগুলো বলছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, যাচাই-বাছাইয়ের আগমুহূর্তে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে জানানো হবে। এর ফলে বিশৃঙ্খলার মাত্রা অনেকাংশে কমবে বলে মনে করে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা।

এবার আওয়ামী লীগের চূড়ান্ত মনোনয়ন যিনি পাবেন, তার নাম শেষ সময়ে প্রকাশ্যে আসবে। কারণ চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম আগে থেকে জানা গেলে নির্বাচনি আসনগুলোয় বিশৃঙ্খলা বেড়ে যেতে পারে। তাই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। কৌশলী হলেও কী কাজে আসবে তা প্রশ্নবিদ্ধ?

দেশের প্রতিটি সংসদ আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। এমনকী বিদ্রোহী প্রার্থীও সংখ্যা একাধিক! এবার আসি জামায়াত প্রসঙ্গ নিয়ে। জামায়াত রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া এমন কথা মানতে নারাজ খোদ আওয়ামী লীগ ও রাজনৈতিক বিশ্লষকরা। হাইকোর্টের আদেশে নিবন্ধন ও প্রতীক হারিয়ে দলটি এখন নিরবেই আছে আগের মতো মাঠে ময়দানে আর দেখা যায় না। আন্দোলনে গিয়ে আর শক্তি খোয়াতে চায় না। এমনি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হারিয়ে অভিবাবক শূণ্য হয়ে পড়েছে।

ভোট ব্যাংক নিয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, দাঁড়ি পাল্লার ভোট কখনো নৌকায় যাবে না। আর আ’ লীগের সাথেও জোট বাঁধবে না জামায়াত। কোনো কারণে ঐক্যজোট ভাঙ্গন ধরলে জামায়াতের প্রায় আড়াই কোটি ভোট কোথায় যাবে?

Content Protection by DMCA.com

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

Content Protection by DMCA.com

আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার : মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহারাদার!

দিনভর আন্দোলনরত একটি ছাত্রীকে পিছন থেকে তার ওড়না দিয়ে চোখ-মুখ বেধে উঠিয়ে নিয়ে যায় একটি মুখোশ পরা হায়েনা। গন্ধটা চেনা চেনা লাগলেও মুখে কাপড় পেঁচানো থাকায় কোন কথা বলতে পারছিলোনা রুহী। অবশেষে সে নিজেকে আবিস্কার করলো একটি পুলিশ ভ্যানে। আরো কয়েকজন ছাত্রী হাত-পাঁ বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে গাড়ির মেঝেতে।

গাড়িটা চলতে শুরু করলো।

মাথায় হেলমেট পড়া কয়েকটা পুলিশ আর মুখে কাপড় পরা কয়েকটা ছেলে তাদের দেহ নিয়ে খেলা করছে। রুহীর বাবাও একজন পুলিশ, এই মূহুর্তে বাবাকে খুব মনে পড়ছে তার। বাবা কাছে থাকলে হয়তো এই জানোয়ারগুলা এমন করার সাহস পেতনা। রুহীর ভাই এলাকার ছাত্রলীগের সভাপতি। এই সময় তার ভাইকে ভীষণ প্রয়োজন রুহীর। এর আগে অনেকবার ধর্ষকদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাকে। রুহীর চোখ বেয়ে অশ্রুর বন্যা বইতে লাগলো। এটাই কি তাহলে ছাত্রী জীবনের শেষ পরিণতি।

হঠাৎ একটা চেনা কণ্ঠে রুহী চমকে উঠলো।

ঐ মাগীরা..! আন্দোলন করস, আন্দোলন আজ তোদের…..মধ্যে হান্দাই দিমু। আজ আমরাই তোগোর লগে আন্দোলন করুম…..। কণ্ঠটা চির-চেনা রুহীর। নাহ, পশুটা অন্য কেউ নয়, তার সেই বড় ভাই- যে কি না শতবার তার ইজ্জত বাঁচিয়েছে। বুকফাটা আর্তনাদে ফেটে টুকরো হওয়ার অবস্থা রুহীর। শুধু মুখে কাপড় গুজা থাকায় চিৎকার করতে পারছিলোনা সে।

গাড়ির চাকা থেমে গেলো-

রুহীকে কাঁধে উঠিয়ে নিলো হেলমেট পরা এক পুলিশ জানোয়ার। জানোয়ার গুলোর সে কি… হাসি আর উল্লাস। কিন্তু পুলিশটার হাতের স্পর্শ পরিচিত মনে হলো রুহীর।তৎক্ষণাৎ একটি ভাঙ্গা দালানের মেঝেতে নিজেকে দেখতে পেলো সে। তার দিকে তেড়ে আসছে চেনা কণ্ঠের মুখোশ পড়া সেই ছেলেটা। কিন্তু নাহ, শুধু কণ্ঠটাই চেনা নয়। ছেলেটাও তার চেনা। সে তার বড় ভাই রিমন! ঘৃণায় আর দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে করছে রুহীর।

ততক্ষণে মুখের কাপড় খুলে ফেলেছে সে।

ছেলেটা কাছে আসতেই গগণফাটা চিৎকার দিয়েরুহী বলতে লাগলো ভাইয়া..! আমি রুহী। বলেই ডুকরে ডুকরে কান্না শুরু করলো।সাথে সাথেই থমকে দাড়ালো পৃথিবী। রুহীর দিকে তাকাতেই মাথা থেকে হেলমেট খুলে ফেললো পুলিশ অফিসার।মুখ থেকে কাপড় সরালো ছেলেটা।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় বাবা ছেলের দিকে চেয়ে আছে ছেলে বাবার দিকে। বাবা তুমি..?  রিমন তুই..? এমন বিব্রতকর অবস্থায় তাদের মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়লো।  মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লো মেঝেতে। ছিঃ তারা কিনা নিজের মেয়ে আর বোনকে ধর্ষণ করতেই এখানে উন্মাদের মতো ছুটে এসেছে। তারা কি করবে ভেবে না পেয়ে দুজনে রুহীর পায়ে পরে গেলো।

মা, আমরা অনেক বড় ভুল করেছি,  এতো বড় পাপ মনে হয় পৃথিবীর বুকে আমরাই প্রথম করলাম। তুই আমাদের ক্ষমা করে দে।  রুহী চিৎকার করে পিছনে সরে গেলো। খবরদার..! খবরদার..! তোমরা আমাকে স্পর্শ করবেনা। তোমরা আমার কেউনা। কোন জানোয়ার আমার বাবা হতে পারেনা। আমার বাবা একজন পুলিশ অফিসার, মানুষের ইজ্জত এবং সম্পদের পাহাড়াদার।

তোমার মতো জানোয়ার পুলিশ আমার বাবা না

আজ আমার জায়গায় যদি অন্যকেউ হতো নিশ্চয় তোমরা তাকে ছেড়ে দিতেনা। কিন্তু সেই মেয়েটাও তো কোন না কোন বাবা-মায়ের সন্তান।ভাইয়া..! জানো তোমাকে নিয়ে আমি কত্ত গর্ব করতাম। কিন্তু আমার বান্ধবীরা বলতো ছাত্রলীগ মানেই পশু, ছাত্রলীগ মানেই জানোয়ার। আমি ওদের কথার প্রতিবাদ করতাম। আজ নিজ চোখে দেখলাম তোমরা জানোয়ারের চেয়ে অধম। এসো, তোমাদের লালসা মেটাও। অপরাধী প্রতিটি পুলিশ ও ছাত্রলীগ অপরাধ করছে নিজ পরিবারের সাথে। ধর্ষন করছে নিজের সন্তান, বোনকে। প্রমানকর তোমরা আর কত নিচে নামতে পারো ওদের জন্য।

 

(সংগৃহীত : এক পুলিশ অফিসারের সন্তানের লেখা )

Content Protection by DMCA.com
1 2 3