মুখ খুলতে যাচ্ছেন জেনারেল আকবর কতৃক নির্যাতিত নারীরা!

বিশেষ প্রতিবেদক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খোদ রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প থেকে শুরু করে বড় বড় রাজনীতিবিদরা যখন এক এক করে ধরাশায়ী হচ্ছে নির্যাতিত নারীদের আক্রমনে, এর দেখাদেখি বাংলাদেশেও অনেক নির্যাতিত নারীরা মুখ খুলতে যাচ্ছে। কয়েকজন নির্যাতিত নারী একাট্টা হয়েছে সেনাবাহিনীর এক জেনারেলের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানাচ্ছে, নারী নির্যাতনের দায়ে এবার ধরাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন। অবশ্য জেনারেল এরশাদকে থাপড়ানো থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি সিনহার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কাগজে সই নেয়া অবধি বহু রংবাজির কারনে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আছে এই জেনারেল।

জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ১৩ লংয়ের ব্যাচমেটদের কাছে ‘আকবইর‌্যা’ হিসাবে পরিচিত এই আফিসারটি চীনে কোর্স করতে গিয়ে বাংলাদেশী এক বনেদি পরিবারের মেয়ের সাথে অঘোষিত সংসার করার পরে তাকে মেরে ফেলার ঘটনা সেনাবাহিনীর কলঙ্ক তিলক হয়ে আছে। এরপরে শেখ হাসিনার অধীনে চার বছর ডিজি ডিজিএফআই থাকাকালে শত শত রাজনৈতিক অপহরন, গুম, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে ছিলেন আকবর। মেজর জেনারেল আকবরকে গত মার্চে সাভারের নবম ডিভিশনের জিওসি করে বসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিওসি হয়েও আকবর খুনখারাবি, টাকা কামানোর ধান্দা, মদ ও নারী সঙ্গ ছাড়তে পারেনি আকবর। পদের অপব্যবহার করে নায়িকা সুমাইয়া শিমু, জয়া আহসান, পপি সহ শোবিজ জগতের বহু নারীর ইজ্জত লুটে নিয়েছে ১৮ ঘন্টা মাতাল থাকা আকবর। কয়েকমাস আগে কোলকাতায় গ্রান্ড হোটেলে জয়া আহসানের সাথে আকবরের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে। নারী নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চার জন জেনারেলকে নিয়ে তদন্ত চলছে এমন খবরের পরে আকবরের দ্বারা নির্যাতিত নারীরা জোট বেঁধে আগাচ্ছেন।

অবশ্য কেউ কেউ মনে করে আকবরের কিছু হবেনা। কারন সে নাকি শেখ হাসিনার এক্স-বয়ফ্রেন্ড! এ নিয়ে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সেই আকবর আর এই আকবর এক ব্যক্তি নয়। যদিও দু’জনেই ডিজি ডিজিএফআই ছিলেন। ঐ সৌভাগ্যবান লেডি কিলার হলেন জেনারেল মোল্লাহ আকবর। যার সম্পর্কে মতিউর রহমান রেন্টু “আমার ফাঁসি চাই” পুস্তকের ২২৯-৩০ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
…………. ‘মহাখালি স্বামী কোয়ার্টারে থাকতে এবং পরবর্তীতে ধানমন্ডি বত্রিশের পিত্রালয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে থাকতে, ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভি,পি মৃনাল কান্তি দাস নামের তরুণ যুবক আসার আগ পর্যন্ত শেখ হাসিনা নিয়মিত, রুটিন মাফিকভাবে প্রতিদিন ঠিক সন্ধ্যার একঘন্টা আগে গোসল করে পাউডার, পারফিউম মেখে লম্বা চুলে একটা বেনী করে, চকচকে নতুন শাড়ী ব্লাউজ পরে খুবই পরিপাটি হয়ে কাউকে সঙ্গে না নিয়ে শুধুমাত্র ড্রাইভার জালালকে সঙ্গে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে বেরিয়ে যেতেন (এটাই কর্নেল আকবরের বাসা) এবং ঘন্টা দু’য়েক পরে ফিরে আসতেন। শুধু অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছাড়া শেখ হাসিনা কখনই একা শুধু জীপগাড়ী আর চালক নিয়ে বাইরে যেতেন না। ঐ সময় এবং ঐ অজ্ঞাত স্থান ছাড়া যেখনেই তিনি যেতেন তার সাথের সকলকে অবশ্যই নিয়ে যেতেন। ১৯৮৭ সালে মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি তরুন যুবক মৃনাল কান্তি দাসের (বর্তমানে এমপি ও আ’লীগের উপ প্রচার সম্পাদক) সাথে শেখ হাসিনার পরিচয় হয়। এবং পরিচয়ের পর থেকেই মৃনাল কান্তি দাস ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে দিবা-রাত্রি সার্বক্ষণিকভাবে থাকতে শুরু করলো। শেখ হাসিনা তখন ঐ বাড়িতেই থাকেন। শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে নিয়মিত রুটিন মাফিক সন্ধার আগে অজ্ঞাত স্থানে যাওয়া ছেড়ে দিলেন। অধিক রাত পর্যন্ত, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত ধানমন্ডি বত্রিশের লাইব্রেরীতে হাসিনা এবং মৃনাল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে কথাবার্তা বলত এবং হাসাহাসি করত। কিছু দিনের মধ্যেই কৃশকায় মৃনাল ফুলে ফেপে উঠতে থাকে। শেখ হাসিনার কাছে মৃনালের এত গভীর সম্পর্ক ছিলো, যে অন্যদের কাছে তা ঈর্ষার কারণ হয়। নেত্রীর কাছে মৃনালের গ্রহণযোগ্যতা বেশী হওয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতা মৃনালকে সম্মান করে চলতো। মৃনালই ছিলো হাসিনার রাজত্বের একমাত্র অধিপতি।”
অবশ্য, ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চার বছরের প্রেমিক মৃনাল কান্তি দাস এবং তারও আগে কর্নেল মোল্লা আকবরের সাথে হাসিনার গোপন অভিসারের বহু গোয়েন্দা রিপোর্ট জেনারেল এরশাদের স্টকে জমা আছে।

Content Protection by DMCA.com

ঢাকঢোল পিটিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্টাফ আটক, এবং ইতিহাসে চর্চা

“সহনীয় মাত্রায় ঘুষ খান”- সুত্রের আবিস্কারক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পার্সোানাল স্টাফ মোতালেব হোসেন ও উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার দেখানোর পরে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গ্রেফতারের আগে তাদেরকে গুম কায়দায় অপহরন করে র‌্যাব। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে দুর্নীতির দায়ে আটক দেখানো হয়। সরকারী সূত্রে খবর প্রকাশ করা হয় শিক্ষা প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে দুর্নীতির ঘাঁটি গেড়েছিলেন এই দুই সরকারী কর্মচারী। খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে বসে তারা দিব্যি ঘুষের হাট বসিয়ে গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, সুস্পষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ধরা হয়েছে।

সরকারী কর্মচারীদের দুর্নীতির জন্য মামলা মোকদমা আটক এগুলো রুটিন ব্যাপার। প্রশ্ন উঠছে, যেভাবে রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করে র‌্যাব ডিজিএফআই সেভাবে কেনো এদের তুলে নিলো র‌্যাব। এর পেছনে কি কেনো কারন আছে। সঠিক কেউ বলতে পারবে না। তবে অতীতের একটা ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে।

১৯৮২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। কাক-ভোর থেকে পুলিশ ঘেরাও করে আছে রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ মন্ত্রিপাড়ায় ৪০ নম্বর বাড়ি। এটি বিচারপতি সাত্তার সরকারের যুবমন্ত্রী আবুল কাশেমের সরকারী বাড়ি। মন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না, তারপরও ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। আশে পাশের মন্ত্রী ও বিচারপতিদের সরকারি বাসভবনের ছাদ, গ্যারেজ, আঙিনায় ও সশস্ত্র পুলিশ। তারা গুলি চালাতে প্রস্তুত। শুধু নির্দেশের অপেক্ষা। হ্যান্ডমাইকে পুলিশের অনবরত ঘোষণা- ‘পুরো বাড়ি পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। কোনোরকম চালাকি না করে সারেন্ডার করুন, নইলে পুলিশ ভিতরে ঢুকে পড়বে।’ কিন্তু কোনো সাড়া-শব্দ নেই। পুলিশ প্রস্তুতি নিল ভিতরে ঢোকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিনের নির্দেশে চলছে অপারেশন। পুরো ঘটনার নেতৃত্বে তৎকালীন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এ এফ এম মাহমুদ আল ফরিদ। সকাল ১০টা থেকে পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তাদের ছোটাছুটি বেড়ে যায়। ওয়াকিটকিও তাদের ভীষণ ব্যস্ত। শীতের সকালেও দরদর করে ঘামছেন কর্মকর্তারা। একজন মন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে কয়েকশ পুলিশের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থানে গোটা শহরে তখন অজানা আতঙ্ক। মিন্টো রোডে সাধারণের যান চলাচল বন্ধ। আশপাশ এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড়। দুপুরে একদল সশস্ত্র পুলিশ মন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ মন্ত্রীর বাড়ির মূল ফটকের পকেট দরজা খুলে গেল। ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছেন একজন! ধীর পায়ে। চাদর গায়ে, মুখ অর্ধেক ঢাকা। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি। সুনসান নীরবতা। পুলিশের অস্ত্রের নল ঘুরে গেল লোকটির দিকে। পায়ে হেঁটে লোকটি পুলিশের একদম কাছাকাছি। পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে। লোকটি দুই হাত উঁচু করে দাঁড়ালেন। পুলিশ তাকে জাপটে ধরে। লোকটির দুই হাত পেছন দিকে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তাদের ভ্যানে তুলে। পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখে তখন হাসি। ভ্যানটি চলতে শুরু করল। পুলিশের গাড়ির বহর ভ্যানকে অনুসরণ করল। উৎসুক জনতার উদ্দেশে হ্যান্ডমাইকে পুলিশ বলে, ‘আমাদের অভিযান শেষ। দেশের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ অপরাধী এখন আমাদের কব্জায়।’ দুর্ধর্ষ সেই লোকটি ২২ খুনসহ অসংখ্য গুম ও ডাকাতি মামলার আসামি এমদাদুল হক ইমদু। ইমদু নামেই যিনি বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের ইতিহাসে দুর্ধর্ষ যে কজন অপরাধীর নাম বলা হয়ে থাকে, তাদের অন্যতম এই ইমদু। দেড় বছর পরে সামরিক আইন আদালতের বিচারে ফাঁসি হয়।

একসময় ইমদু জাসদ করতো, পরে ৮০ সালে যুবমন্ত্রী আবুল কাসেমের হাত ধরে ইমদু যু্বদলে যোগদান করে। অন্তত তিনটি সরকারের সময়ে ইমদু সন্ত্রাসের সাথে জড়িত ছিল। ৮১ সালের এপ্রিল মাসে নাখালপাড়া ও কালিগঞ্জে দু’টি হত্যাকন্ডের সাথে ইমদু জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নির্দেশে তখনই তাকে যুবদল থেকে বহিস্কার করেন যুবদল সভাপতি কাসেম।

তবে যুবমন্ত্রীর বাসা থেকে ইমদুকে আটকের ঘটনাটি ছিল নাটকীয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক মতিনের সাথে যুবমন্ত্রী কাসেমের ছিল মনোমালিন্য। কাসেম ছিলেন জামালউদ্দিন-হাসানাত গ্রুপের, অন্যদিকে মতিন ছিলেন শাহ আজিজ গ্রুপের। মুলত সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতেই যুবমন্ত্রী কাসেমের বাড়ি ঘেরাও করে ইমদুকে আটকের ঘটনা ঘটানো হয়। ইমদুর সাথে তখন পুলিশের উর্ধতন মহলে ভালো যোগাযোগ ছিল, সে কোথায় কখন যেতো সব তথ্য পুলিশের কাছে থাকত। তাকে আটক করতে চাইলে যেকোনো যায়গা থেকেই পুলিশ তা করতে পারত। কিন্তু মন্ত্রীর বাসায় ঢুকিয়ে ঘেরাও করে আটক করার পিছনে জড়িত ছিল সেনা গোয়েন্দা সংস্থা। যারা পরে এ বিষয়টিকে রং চং মেখে ফলাও করে পত্র পত্রিকায় প্রচারের ব্যবস্থা করে।

মূলত এই আটকের কারন ছিল বিচারপতি সাত্তারের সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করা। এর কয়েকদিন আগেই পত্র পত্রপত্রিকায় একটি বানোয়াট খবর সাপ্লাই করে সেনাগোয়েন্দারা যাতে বলা হয় ১৬ জন মন্ত্রীর দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাত্তার, পরে যার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

বিচারপতি সাত্তার সরকারের বিরুদ্ধে এসব ফুলানো ফাঁপানো সাজানো দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দুর্নামের উপর ভিত্তি করে মাস দু’য়েক পরেই (২৪ মার্চ) রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাত্তারকে বন্দুকের নলের মুখে অপসারন করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

উল্লেখ্য, ঐ একই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেছিলেন শুধু সরকারী কর্মকর্তারই নয়, মন্ত্রিরাও ঘুস খায়, এমনকি তিনি নিজেও! এর প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদের পদত্যাগের দাবী ওঠে বর্তমান অবৈধ সংসদে। তার কয়েকদিন পরেই মন্ত্রির ব্যক্তিগত স্টাফ আটকের ঘটনা ঘটলো!

Content Protection by DMCA.com

সব কিছু ভেঙে পড়ে : এমনকি প্রিয় সেনাবাহিনীও

বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চলেছে শুদ্ধি অভিযান। এর ফলে বাড়ি গেছে শত শত অফিসার, কারাগারেও আছে অনেকে, এমনকি নিহতও হয়েছে কেউ কেউ। এদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে কল্পিত অভিযোগ- বিএনপি, জামায়াত, পাকি সংযোগ, যুদ্ধাপরাধী, সর্বশেষে ইসলামী জঙ্গি। বছর দুয়েক আগে অপ্রমানিত জঙ্গি অভিযোগে পুলিশের হাতে হাতকড়া অবস্থায় নিহত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জাহিদ। আসলে সেটা ছিল আটকের পরে ঠান্ডা মাথায় খুন। রাজনৈতিকভাবে বিরোধী শিবিরের ট্যাগ দিয়ে বহু অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার গ্রেফতার করা হয়েছে, বাড়ি ঘর জমি হারিয়েছেন। জামায়াত পরিবারের সদস্য হওয়ার কারনে ব্রিগেডিয়ার আমান আযমীকে দেড় বছর আগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সেনা গোয়েন্দা হেফাজতে গুম করে রাখা হয়েছে। সর্বশেষে তাদেরই হাতে গুম হয়েছেন সাবেক সেনা অফিসার কূটনীতিক ও দুটি দেশে রাষ্ট্রদূত অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মারুফ জামান। জানা গেছে এসব ধরপাকড় গুম, হত্যা ও আটকের পিছনে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এরা রাওয়া ক্লাব, গলফ ক্লাব, সেনা অফিসারদের যাওয়া আসা আছে এমন স্থানগুলোতে ওৎ পেতেনানা তথ্য পাচার করে অফিসারদের জীবন বিপদাপন্ন করে তুলেছে। এরকম একজন ইনফরমার হলো অবসরপ্রাপ্ত মেজর ইউসুফ।

সেনাবাহিনীর ২৮ লং কোর্সের অফিসার ইউসুফ রাজনীতি করার অভিপ্রায়ে সেনা চাকরি ছাড়ে। ১৯৯৩ সালে সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়া এই ইউসুফ প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং ডিজিএফআইর খুব ঘনিষ্ট লোক। এত কনিষ্ট একজন অবসরপাপ্ত কর্মকর্তা হয়েও মেজর ইউসুফ যখন তখন যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) তারিক সিদ্দিকের কাছে। তার আরও দুই ওস্তাদ হচ্ছে নবম পদাতিক ডিভিশিনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন, এবং র‌্যাবে খুন করতে করতে কুখ্যাত হয়ে ওঠা ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান। মেজর ইউসুফ নিজেকে আওয়ামী লীগের গোড়া সমর্থক হিসাবে পরিচয় দেয়। তার লেখা লেখিতে প্রচন্ড উগ্রবাদী। নিজেকে প্রগতিশীল হিসাবে উপস্থাপন করার জন্য শাহাবাগীদের সাথে দহরম মহরম গড়ে তোলে সে। নিজে তার ফেসবুক পেইজে নাস্তিক্যবাদী পোস্ট দিতে থাকে। ইসলাম ধর্ম, রসুল (সাঃ), কোরআন, আল্লাহ নিয়ে সারাক্ষণ যাচ্ছে তাই বানোয়াট সমালোচনা এবং নোংরা কথাবার্তা লিখে প্রচার করতে থাকে ইউসুফ। যদিও বাপ মা তার একটি ইসলামী নাম রেখেছে মোহাম্মদ ইউসুফ হোসেন। কিন্তু সে প্রগতিশীল সাজতে গিয়ে নাস্তিক গ্রুপের সংগে মিশে পুরোপুরি উগ্রবাদী নাস্তিকে পরিণত হয়েছে।

মেজর ইউসুফের ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্ট নিয়ে রাওয়া ক্লাবের টেবিলে আলোচনা হয়। সিনিয়র সদস্যরা ইউসুফকে এসব করতে নিষেধ করে। কিন্তু এর ফল হয় বিপরীত। ইউসুফ ঐসব সিনিয়রকে ডিজিএফআই দিয়ে নানাভাবে হুমকি দেয়- শাসায়। তাকে বোঝাতে গেলে সিনিয়রদেরকে সে গালিগালাজ করে, বাপের বয়সী অফিসারদেরকেও অপমান অপদস্ত করতে দ্বিধা করে না। অনেক সিনিয়ররা মনে করেন, সে অল্প বয়সে অনেক ক্ষমতাধরদের সাথে চলাফেরা করতে গিয়ে হয়ত নিজেকে সামাল দিতে পারছে না, তাই বাড়াবাড়ি করে ফেরছে। অতএব তাকে আরও বোঝানো হোক। কিন্তু তাকে কেউ বোঝাতে গেলেই ঐ সব সিনিয়রদেরকে সে রাজাকার যুদ্ধপরাধী ও সরকারের শত্রু ট্যাগ দিয়ে নিজে পোস্ট দেয়, এবং ডিজিএফআইর কাছে গোপনে কমপ্লেন করতে থাকে। নিকট অতীতে দেখা গেছে, আগেরদিন সন্ধ্যায় রাওয়া ক্লাবে যেসব অফিসাররা ইউসুফকে বোঝাতে চেষ্টা করেছে, পরের দিন ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনালের আকবর এবং এনএসআইর জিয়াউল আহসান তাদেরকে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যেত। নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা হুমকি দিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। রাওয়া ক্লাবে গল্ফ ক্লাবে বিভিন্ন সামাজিক গেট টুগেদারে পারিবারিক বা একান্ত আলাপে দেশ নিয়ে যে সব কথাবার্তা বলে থাকে, তার অনেকটাই রংচং মেখে ইউসুফ পাচার করে দেয় ডিজি ডিজিএফআইর কাছে। তার তৎপরতার কারনে বহু সিনিয়র অফিসারকে জামাত যুদ্ধাপরাধী ট্যাগ দিয়ে ধমক ও ওয়ার্নিং খেতে হয়েছে। রাওয়া ক্লাবের সকলেই এখন বুঝে গেছে- এসব ইউসুফের কাজ। সিনিয়র অফিসারদের অনেকের প্রশ্ন- মিলিটারি একাডেমীতে ইউসুফকে OLQ (Officers Like Quality) সাবজেক্টটি পড়ানো হয়েছিল কি না। বিশ্বজুড়ে সামরিক অফিসারদের জন্য OLQ একটি অবশ্য পাঠ্য বিষয়, যাতে পড়ানো হয় একজন সেনা অফিসারের ম্যানারস এন্ড এটিকেট, একজন সেনা অফিসার কি কি কাজ করতে পারে, আর কি করতে পারে না।

ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ডিফেন্স এটাশে ব্রিগেডিয়ার জে. এস. নন্দার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ট মেজর ইউসুফ। বিভিন্ন নৈশ পার্টিতে একসাথে খানা পিনাও করে থাকে। তাছাড়া সাংবাদিক শ্যামল দত্ত ও মুন্নী সাহাও ইউসুফের বেশ ঘনিষ্ট। তবে রাওয়া ক্লাবের আলোচনা থেকে যাদের ভারত বিরোধী মনে হয় তার, সে সব অফিসারদের সম্পর্কে ব্রিগেডিয়ার নন্দাকে সে রিপোর্ট করে। বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে অফিসারদের কোনো একাডেমিক আলোচনাকেও রংচং দিয়ে ভারত বিরোধী ট্যাগ দিয়ে সে জানিয়ে দেয়।

জানা গেছে, এইরূপ কোনো আলোচনার সূত্রে ইউসুফের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ডিজিএফআই গুম করে বিএনপির নির্বাহী কমিাটির সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদকে। সাদাতের পিতা বেশ প্রবীণ সেনা অফিসার- রিটায়ার্ড কর্নেল সাহাবুদ্দিন, যিনি পাকিস্তানের সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফের কোর্সমেট। সে কারনে বাংলাদেশ আমলের অফিসাররা কর্নেল সাহাবুদ্দিনকে খুব সমীহ করে, পিতার মত চোখে দেখে। তবে পিতা কর্নেল সাহাবুদ্দিনের কারনেই সৈয়দ সাদাত আহমেদকে গুম করে ডিজিএফআই। ইউসুফ রিপোর্ট করে কর্নেল সাহাবুদ্দিন পাকিস্তানের কানেকশন – জামাত – যুদ্ধাপরাধী ইত্যাদি। অধিকাংশ সামরিক অফিসাররা জানেন, এসব কল্পিত অভিযোগ। মুলত কর্নেল সাহাবুদ্দিন একটু আউট স্পোকেন, মুরব্বী, আর এর জন্য খেসারত দিতে হয় তাকে। মেজর ইউসুফ তার নামে রিপোর্ট করায় এবং ছেলে সাদাতকে গুম করায়। অনেক উপরে কাকতি মিনতি করে ৪ মাস চেষ্টার পরে ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে পারেন কর্নেল সাহাবুদ্দিন।

রাওয়া ক্লাবের সুত্র জানায়, কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানকেও গুম করা হয় মেজর ইউসুফের রিপোর্টের ভিত্তিতে।

২৬ লং কোর্সের মেজর হাফিজের মালিকানাধীন বনানীতে সি ব্লকের ১১ নম্বর রোডের ৯৮ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত আওয়ামী মিলিটারি অফিসারদের গুপ্ত সভার নিয়মিত সদস্য মেজর ইউসুফ। এখানেই নিয়মিতভাবে মিলিত হয় মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিক, মেজর জেনারেল আকবর, মেজর জেনারেল ওয়াকার, ব্রিগেডিয়ার শায়েখ, ব্রিগেডিয়ার জিয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার হাফিজ, মেজর ইউসুফ সহ আওয়ামীপন্থী সার্ভিং এবং রিটায়ার্ড অফিসাররা। এখান থেকে ঠিক হয় কোন কোন রাজনীতিক, সিভিল, মিলিটারীকে তুলে আনতে হবে, গুম করতে হবে। দেশের রাজনীতি কোনে দিকে যাবে ও আগামী নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়েরে বিভিন্ন খুটিনাটি ও নানা ফন্দি তৈরী করা হয়। এখানকার মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়- বর্তমান সরকারের প্রতি বৈরি ১৩৩ জন সামরিক অফিসারকে সাইজ করতে হবে। গত অক্টোবরের মিটিংয়ে রিটায়ার্ড মেজর খন্দকার আবদুল হাফিজ বিএনপি প্রধান বেগম জিয়াকে বেনজির ভুট্টোর মত বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

রিটায়ার্ড মেজর ইউসুফ কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের রেফারেন্স দেয়। শেখ হাসিনাও নাকি তার কথা শোনে, এমন কথা সে প্রায়শই বলে থাকে। ইউসুফ তার পোস্টে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধদের খেতাব কেড়ে নেয়ার দুঃসাহস দেখায়। অথচ পিলখানায় ৫৭ সেনা অফিসার হত্যার বিষয় নিয়ে কথা উঠলে সে নিশ্চুপ হয়ে যায়। বরং এই নিয়ে যারা দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করে, তাদেরকে ভিন্নমতাবলম্বী হিসাবে রিপোর্ট করে। এই হচ্ছে তার সেনাবাহিনীর প্রতি তার দরদের নমুনা। একটা কথা প্রচলিত আছে, ‘a soldier is a soldier, even after death’. কিন্তু ইউসুফের কর্মকান্ড দেখে তা মনে হয় না, সে সেনা অফিসার ছিল বা তার কোনো ফেলো ফিলিংস আছে। ইউসুফের রোল মডেল হলো- ১৮ ঘন্টা মাতাল জেনারেল আকবর, সিরিয়াল কিলার ব্রিগেডিয়ার জিয়া, সাথী হলো মেজর হাফিজ। হাফিজ-ইউসুফ সন্ধ্যার পরে প্রায়ই মাতাল অবস্খায় থাকে, কখনও উন্মত্ত হয়ে অনেকের সাথে খারাপ ব্যবহার করে থাকে।

রিটায়ার্ড মেজর ইউসুফ উল্টাসিধা গোয়েন্দা রিপোর্ট করে কেবল অফিসারদের ক্ষতি করছে না, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও ভুলপথে চালিত করছে। তাছাড়া রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্যাদি পাচার করছে পরদেশের কাছে। শ্যামল দত্ত এবং মুন্নী সাহার কাছে সেনাবাহিনীর ক্লাসিফাইড ইনফরমেশন শেয়ার করে সেনাবাহিনীকে অরক্ষিত করে দিচ্ছে। এসকল কাজ পরিস্কার রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ। এত জুনিয়ার এক অফিসার প্রতিনিয়ত এভাবে বেআদবী করছে, সবাইকে টেররাইজ করে যাচ্ছে তাকে নিয়ে সেনা অফিসাররা সদস্যরা ভীষন অতিষ্ট। রীতিমত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Content Protection by DMCA.com

ইউকে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তারেক রহমানকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার

আশিক ইসলাম : : সম্প্রতি লন্ডন বিএনপির কমিটি নিয়ে আওয়ামী অনলাইন পোর্টাল এবং ফেইসবুকে দু’একজনের লেখা পড়ে দুঃখের সাথে লন্ডন বিএনপির নেতা কর্মীর উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক জেলা ৭২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের বাইরে কিছু দেশের কমিটি একটি জেলার মর্যাদা পেয়ে থাকে। বাংলাদেশের বাইরে যে সকল দেশে বিএনপির কমিটিকে জেলার মর্যাদাপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় এরমধ্যে প্রথমেই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এরপর সৌদি আরব, মালয়শিয়া এবং ইউকে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই, গত কয়েকবছর ধরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করায় ইউকের বিএনপির কার্যক্রমের প্রতি দেশে বিদেশে অনেকেরই আগ্রহ রয়েছে। তারেক রহমান লন্ডন থাকায় গত কয়েক বছর ইউকে বিএনপি আয়োজিত বেশকিছু কর্মসূচিতে তিনি গিয়েছেন। অনেকের সাথে কথা বলেছেন, সাক্ষাত দিয়েছেন, অনেকের সুখ দুঃখের খোঁজ খবর নিয়েছেন বা নেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের প্রতি তারেক রহমানের এই ভালোবাসাকে কেউ যদি বুঝতে ব্যর্থ হন কিংবা অবমূল্যায়ন করেন, সেটি তাদেরই সীমাবদ্ধতা। তারেক রহমানের নয়।

একটা জেলা কমিটির মর্যাদাপ্রাপ্ত বিদেশ কমিটি নিয়ে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে যারা কথা বলছেন, তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, যারা এতদিন ধরে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান দলের ভবিষ্যত কান্ডারি তারেক রহমানকে কাছে পেয়েছেন, আপনারা অনেক সৌভাগ্যবান। আপনারা সৌভাগ্যবান, তারেক রহমানের কাছে যেতে পেরেছেন। আপনারা সৌভাগ্যবান, এতদিনে তারেক রহমান আপনাদের ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, জানেন, ডাকেন এবং পাশে বসান। তারেক রহমান লন্ডনে থাকার কারনেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে সফর করেন এবং সেই সুবাদে আপনারা চেয়ারপারসনের সাক্ষাতও পেয়েছেন, গুরুত্ব পেয়েছেন। সারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সকল জেলা এবং দেশের বাইরের সকল বিদেশ কমিটির লাখো কোটি নেতা কর্মী তীর্থের কাকের মত বছরের পর বছর প্রতীক্ষা করে থাকেন, কবে তারা তাদের প্রণপ্রিয় নেত্রী এবং প্রাণপ্রিয় নেতাকে কাছে পাবেন, কথা বলবেন, সালাম দিবেন। সেদিন দিয়ে আপনারা অনেক ভাগ্যবান।

কিন্তু দুঃখজনক, ইউকে বিএপির কিছু কিছু নেতা বর্ণচোরার বেশে দল ও তারেক রহমানের ইমেজের ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন। তারা আওয়ামী পত্রিকার সাথে আঁতাত করে নিজেদের তুচ্ছ ফায়দা লুটার চেষ্টায় মত্ত। যারা তারেক রহমানের কাছে যত বেশী যেতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেকে অনেক বড় পন্ডিত কিংবা ওভার স্মার্ট ভাবতে শুরু করেছেন। ইউকে’তে যাওয়া আসার কারনে এদের কয়েকজনকে আমি চিনি রাজনীতির নামে যাদের কর্মকান্ড প্রায়শই দল ও দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের হীন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়। তারা তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে কখনো কখনো নামসর্বস্ব পত্রপত্রিকা কিংবা অনলাইনে বাজে কথা লেখাতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এমনকি কোনো অহেতুক বা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়েও তারা তারেক রহমানের নাম জড়াতে লজ্জাবোধ করেন না।

দল ও দেশের জন্য এই শ্রেণীটি ভয়ংকর। তারা নেতার ভালোবাসাকে দুর্বলতা ভাবে। তারা নোংরামি করে বারবার নিজেদেরকে অযোগ্যতা প্রমান করে। তারা আওয়ামী মিডিয়ার সাথে আঁতাত করে নিজেদেরকে শক্তিশালী ভাবতে চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ভুলে যায়, নেতৃত্বের প্রতি অবিচল না থাকার অর্থই হল বিশ্বাসঘাতকতা। তারা ভুলে যায়, দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশ নায়ক তারেক রহমানের কাছে দলের মধ্যে কোন দল বা উপদল নাই। দলের প্রতিটি নেতা কর্মী তাঁর এবং তাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ন। প্রতিটি কর্মীর জন্যই তাদের প্রাণ কাঁদে। বিশাল এই দলে কর্মই যোগ্যতা ও সফলতার মাপকাঠি। ধৈর্য্যই পরীক্ষা।

সম্প্রতি ইউকে বিএনপির একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্র সম্পর্কে যারা অবগত তারা জানেন, জেলা পর্যায়ের এই ধরণের কমিটি গঠনে সরাসরি দেশনেত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপ করেন না। বরং কমিটি গঠন হয় যথানিয়মে। এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বিজয়ী কিংবা বিজিত সবাই দলের শীর্ষনেতাদের কাছে গ্রহণীয়। কারণ সবাই দলের নেতা কর্মী, আর কে কখন কিভাবে কি দায়িত্ব পালন করবে সেটাও দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেরই অংশ। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে, ইউকে বিএনপির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’একটি অনলাইন এবং একজন ভন্ড পীরের কতিপয় মুরিদ অপ্রাসঙ্গিকভাবেই তারেক রহমানকে জড়িয়ে মনের মাধুরি মিশিয়ে নানা গালগল্প তৈরী করে প্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের সঙ্গে হাতে মিলিয়ে তারেক রহমানের ইমেজ বিনষ্ট করতে ইচ্ছে মতো যা খুশি তাই লিখে যাচ্ছে। স্পর্ধার সীমা ছাড়িয়ে, নীতি নৈতিকতা অমান্য করে জবাব চাইছে। আর এদেরকে আড়াল থেকে সহযোগিতা করছে বিএনপি নামধারী কিছু আওয়ামী প্রেতাত্মা।

এইসব চুনোপুঁটিদের জেনে রাখা দরকার, তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বছরের পর বছর ধরে তারেক রহমানের ইমেজ নষ্ট করতে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এইসব অপপ্রচারে জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মী সমর্থকরা বিভ্রান্ত নয়।

সবশেষে, ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই- নিয়মিতভাবেই প্রতি দুই বছর পর পর যথানিয়মে ইউকে বিএনপির কমিটি গঠিত হচ্ছে। কিন্তু ২০১০ সালে ইউকে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের আর কোনো কমিটি হচ্ছেনা। সাংবাদিকতার নামে যারা ইউকে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার অব্যাহত রেখেছেন, তাদের মনে কি এই প্রশ্ন নেই যে, নিয়মিতভাবে ইউকে বিএনপির কমিটি গঠিত হলেও কেন হচ্ছেনা ইউকে আওয়ামী লীগের কমিটি?

Content Protection by DMCA.com

২২ ডিসেম্বর আতঙ্কে ভুগছে আওয়ামী লীগ

আগামী ২২ ডিসেম্বর সরকারের পতন হচ্ছে- বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম জুড়ে খবরটি চাউর হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের মন্ত্রী নেতা পাতিনেতারা এ নিয়ে অস্থির। কেনো ওবায়দুল কাদের এবং শেখ হাসিনার কাছ থেকে গোপন খবর আসতেছে- মার্চ/এপ্রিলে ইলেকশনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে? সরকারের প্রোপাগান্ডা মেশিন বোরহান কবিরের ‘বাংলা ইনসাইডারও খবর লিখেছে- জানুয়ারীর এক তারিখের ভাষণে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন শেখ হাসিনা! সব মিলিয়ে ক্ষমতাসীনদের কাছেও খুব গুরুত্বপূর্ন হয়ে দেখা দিয়েছে ২২ ডিসেম্বর ২০১৭।

এই তারিখটি তারকা চিহ্নিত হয়ে আছে বর্তমান সংসদের ১৫৪ বিনাভোটের এমপিকে অবৈধ ঘোষণার রায় প্রকাশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (গ্যাগ অর্ডার) প্রত্যাহৃত হওয়ার সময় হিসাবে। রায়টি প্রকাশ হওয়ার পরে বর্তমান সংসদ এবং সরকার উভয়ই অবৈধ হয়ে যাবে। এরপরে গোটা দেশজুড়ে শুরু হবে বিশৃঙ্খলা। অবৈধ সরকার হঠাতে দেশজুড়ে লোকজন নেমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে অক্কা পেতে পারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

২২ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের ভেতরে ভেতরে সাজ সাজ রব। যদিও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ও তার কিছু চেলাচামুন্ডা নাকশতা ঘটিয়ে সেনা নামানোর পায়তারা করছেন, আবার পেছনে ভয়- যদি আর্মি কথা না শোনে!

অন্যদিকে ঢাকায় ডলারের দাম বেড়ে গেছে, এয়ারলাইন্স গুলোর কাউন্টারে ২২ তারিখের আগের টিকেট পাওয়া খুব কঠিন। সব বুকড অথবা সৌল্ড। লন্ডন আমেরিকা মালয়েশিয়া, কানাডায় হুন্ডির পরিমান বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক কেনেডি বিমান বন্দর, ওয়াশিংটন, হিথ্রো, টরোন্টোতে ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার ক্যাশ ডলার নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতাদের পরিবার সদস্যরা। প্রায় সকল আওয়ামী বিনাভোটের এমপি মন্ত্রি এবং অনেক জেলার নেতারা ইতোমধ্যে তাদের পরিবার সরিয়ে ফেলেছে। কানাডার বেগমপাড়া, মালয়েশিয়া বা বিভিন্ন রেসিডেন্সি টাউনগুলি দারুন ব্যস্ত। আওয়ামীলীগ নেতা শেখ সেলিম তার পরিবার পাঠিয়ে দিয়েছেন আমেরিকার হিউস্টনে, মাহবুবুল আলম হানিফ পরিবার সরিয়েছেন কানাডার বেগম পাড়ায়।

ইতোমধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছে র‌্যাবে থাকাকালীন হাজারো খুন গুমের জন্য দায়ী কর্নেল (পরে ব্রিগেডিয়ার) জিয়াউল আহসান। তাকে অনুসরণ করতে আরও শ’খানেক পুলিশ র‌্যাবের খুনি অফিসাররা প্রস্তুতি শেষ করে ফেলেছে। আগামী দু’ সপ্তাহে তারা সব পার হয়ে যাবে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্ছিত অবহেলিত হাজারো পুলিশ কর্মকর্তারা তৈরী হয়ে আছে, সুযোগ পাওয়া মাত্র সদ্ব্যবহারের। সবচেয়ে বড় খুনোখুনি হতে পারে পুলিশে।

Content Protection by DMCA.com

“It’s a DGFI Work”

 

“কাজটা ডিজিএফআই করেছে”- মারুফ জামান গুম হওয়া প্রসঙ্গে বললেন একজন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান ঢাকা থেকে গুম হয়েছেন গত সোমবার সন্ধায়।মেয়েকে আনতে সাড়ে ৬টার দিকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে নিজে ড্রাইভ করে বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। পথিমধ্যে তার গাড়ির গতিরোধ করে ডিজিএফআইর কয়েক সদস্য। অস্ত্রের মুখে তাকে গাড়ি থেকে টেটে হিচড়ে ওঠায় মাইক্রোবাসে। এরপর সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় দু’টি অজ্ঞাত নম্বর (একটি ০০০১২৩৪৫৬, অপরটি পি) থেকে ল্যান্ড ফোনে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে মারুফ জামান নিজেই তার কাজের লোককে বলেন, কয়েকজন লোক যাবে বাসায়। তাদের ল্যাপটপ সহ আর যা যা নিতে চায় নিতে দিও। য়ে যাবে। এর আধাঘণ্টা পর তিনজন সুঠামদেহী লোক মুখে মাস্ক লাগিয়ে ঢুকে পড়ে বাসায়। এসে মারুফ জামানের ব্যবহার্য কম্পিউটারের সিপিইউ, ল্যাপটপ, ক্যামেরা ও একটি স্মার্ট ফোন নিয়ে চলে যায়। এছাড়া বাসার আর কোনো কিছুই তারা নেয়নি।

এদিকে বেলজিয়াম থেকে হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাবার অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে সামিহা জামান। কিন্তু তিনি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে এবং বাবার মোবাইলে ফোন দিয়ে বন্ধ পাওয়ায় উবারে করে বাসায় ফেরেন। বাসায় এসে এম মারুফ জামানকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। রাতভর অপেক্ষার পর মারুফ জামানের কোন খোঁজ না পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন তার মেয়ে সামিহা জামান। মারুফ জামান কাতার ও ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের বাংলদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে তিনি অবসরে যান। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (৬ষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। এদিকে মারুফ জামান অপহৃত হওয়ার পরেই সংস্থার লোকেরাই পুলিশকে জানিয়ে দেয় বসুন্ধরা তিনশ’ ফুট রাস্তার পাশ থেকে গাড়িটি নিয়ে যেতে। অক্ষত অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার দিনে মারুফ জামানের মোবাইল ট্র্যাকিং করে দেখা গেছে তার সর্বশেষ অবস্থান বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী স্থান কাওলায়।

মারুফ জামান গুম হওয়ার পরে পরিবারের লোকেদের দায়ের করা জিডির সূত্র ধরে পুলিশ ও গোয়েন্দারা নানান নাটক কেরে যাচ্ছে। বাাস্তব ঘটনা সবই তারা জানে। তারপরও ধানমন্ডি থানার ওসি আবদুল লতিফ জানান, সাবেক এই রাষ্ট্রদূতকে খুঁজে পেতে সারা দেশে বেতার বার্তা পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে নম্বরবিহীন ফোন থেকে ল্যান্ডফোনে মারুফ জামানের ফোন করিয়ে সুঠামদেহী তিন ব্যক্তির বাসায় প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং গাড়ি উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মুলত, মারুফ জামানকে আটক করা হয় সরকার বিরোধী বা সরকার পতনের কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে। জানা গেছে, এই কূটনীতিক কোনো দলের পক্ষে বিপক্ষে তেমন কিছু করেন না। বরং কিছু আগে তাঁর স্ত্রী এবং তারও আগে পিতা মারা যাওয়ার পরে তিনি একাকীত্বে ভুগছিলেন। কখন কখনও একটু বেশি কথাবার্তা বলে থাকেন, যা অনেকের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিতে পারে। বাস্তবে তিনি একজন নির্বিষ মানুষ। তবে একজন ক্যারিয়ার রাষ্ট্রদূতকে এভাবে অপহরন ও গুম করায় সচিবালয়ে ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালায় কর্মকর্তারা সাংঘাতিক বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ। অন্যদিকে ঢাকার ও বিদেশে বাংলাদেশী কূটনীতিক মহলে হতাশা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন পশ্চিমা কূটনীতিক বললেন, It’s a DGFI Work and it’s Rubbish!

Content Protection by DMCA.com

কেয়ারটেকার আসছে এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে

বিশেষ প্রতিবেদক
সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চলতি মাসেই পটপরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। শপথ নিচ্ছে কেয়ারটেকার সরকার। অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও থামাতে ব্যর্থ হয়েছে হাসিনা।

গত ২২ আগস্ট ২০১৭ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সকল বিচারপতিদের সর্বসম্মত একটি রায়ে বর্তমান সংসদের বিনাভোটের ১৫৪ এমপিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এটি কার্যকর হলে বর্তমান সংসদের সাথে সরকারও অবৈধ হয়ে যাবে। জননিরাপত্তার কারনে রায়টি প্রকাশের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (gag order) দিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি ও কয়েকজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত রায় সম্পর্কে অবহিত আছেন। রায় বাস্তবায়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও শেখ হাসিনার সরকার এ পর্যন্ত টালবাহানা করে তিন মাস প করে। এই রায় দেয়ার কারনে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য করেন বিনাভোটের দখলদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, রায়টি অদ্যাবধি কার্যকর না করা হলেও রায় দেয়ার ১২০ দিন পরে গ্যাগ অর্ডার গ্যাগ অর্ডার আপনা আপনি উঠে যাবে। ফলে সংসদ ও সরকার অবৈধ হয়ে যাবে। সরকার অবৈধ হওয়ার পরে কেমন করে কেয়ারটেকার সরকার গঠিত হবে তার রূপরেখা রায়ে বলে দেয়া আছে। সে অনুযায়ী চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে শপথ নিবে কেয়ারটেকার সরকার। এসব কারনে বিএনপি তাদের বহুল আলোচিত সহায়ক সরকারের রূপরেখা উপস্থাপন করেনি।

শপথ গ্রহণের পরে দেশের প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও বিচার বিভাগ নতুন সরকারের প্রতি অানুগত্য পোষণ করে সার্বিক সহযোগিতা করবে।

গ্যাগ অর্ডার (gag order) কনসেপ্টটি বাংলাদেশে নতুন হলেও পশ্চিমা বিশ্বে ব্যাপকভাবে এটি ব্যবহৃত হয়। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা গ্যাগ অর্ডার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধি বিধান জেনে বুঝেই রেফারেন্স সহ তা প্রয়োগ করেন। তবে শেখ হাসিনা ও তার আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ও আইন সচিব জহিরুল হক ওরফে পিস্তল দুলালের বাড়াবাড়ির ফলে গত তিনমাস যাবৎ সুপ্রিম কোর্টের উপর সরকারের চরম আক্রোশ ও জুলুম লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিচার বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা অনেক কৌশল অবলম্বন করে বিচার বিভাগের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

তবে শেখ হাসিনাকে সুযোগ দেয়া হয়েছিল, রায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে কেয়ারটেকার সরকারে তার পছন্দের দু/একজন লোক দিতে। এখন তিনি সুযোগও হেলায় হারিয়েছেন।

তবে এই রায় প্রকাশের আগে শেখ হাসিনা চেষ্টা করছিলো, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তথাকথিত অরফানেজ দুর্নীতির মামলায় সাজা ঘোষণা করে সংসদ ভেঙে দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচন দিতে। কিন্তু সে কাজও এখন আর সম্ভব নয়। যদিও এ লক্ষ্য নিয়েই ডিসেম্বরের ৫,৬,৭ তারিখে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শেষ করার সময় নির্ধারন করে বিশেষ বিচারক ডঃ আখতারুজ্জামান। কিন্তু আনুষাঙ্গিক সকল বিষয় বেগম খালেদা জিয়া অবহিত আছেন, ফলে তার কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হয় সরকারের কৌশল। অবশেষে যুক্তিতর্কের তারিখ পূনঃনির্ধারিত হয়েছে ১৯-২১ ডিসেম্বর। উল্লেখ করা যায় এই ১৯ ডিসেম্বরই হচ্ছে গ্যাগ অর্ডার শেষ হওয়ার ১২০তম দিন। তাছাড়া ২২ ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রবাসী সরকার বাংলাদেশে প্রতাবর্তন করেছিল। তাই ২২ তারিখেও নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। সূত্র জানায়, নতুন সরকার শপথ নেয়ার পরে বেগম জিয়ার মামলার গতিও বদলাবে।

এ ছাড়া হাসিনার দ্বিতীয় চেষ্টা ছিল, দেশে অশান্তি বাধিয়ে তার অনুগত জেনারেলদের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আপাতত সরে দাড়ানো। কিন্তু সেনাপ্রধানের ভাই মেয়র আনিসুল হকের রহস্যজনক মৃত্যুর সাথে শেখ হাসিনার সরকারের যোগসূত্র থাকার ফলে সে চেষ্টাতেও সাড়া মিলছে না। তাছাড়া মাঠে নামার জন্য সরকারের শত উস্কানি সত্ত্বেও বিএনপি চেয়ারপারসন যথেষ্ট সতর্ক আছেন। কোনো অবস্থাতেই দেশে হানাহানির পরিবেশ তৈরী হতে দিবেন না।

নতুন সরকার গঠন হলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দেশে ফিরে আসবেন এবং নিজ দায়িত্বে ফিরে যাবেন।

Content Protection by DMCA.com

সরকারে নেই আর সরকার!

বিশেষ প্রতিবেদক
দিন যতই যাচ্ছে, ৫ জানুয়ারির বিনাভোটের সরকারে অস্থিরতা তত বাড়ছে। বিশেষ করে বিচারপতি সিনহা ইস্যুতে সরকারের ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ড, এবং অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রহস্যজনক নিরবতা ও ঘর থেকে বের না হওয়া, এমনকি মাসখানেক ধরে একই চাদর জড়িয়ে সীমিত চলাফেরায় নানা দুর্ভাবনা ও জটিলতার মধ্যে পড়েছে সরকার ও সরকারী দল। বিচারবিভাগ কেন্দ্রিক বিপদ থেকে সরকারকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন। তিন মাস ধরে চলমান তার নানা অবৈধ ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় এমনকি প্রধান বিচারপতিক মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সই আদায় করে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ঘটনা জানাজানি হলে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও কমান্ড চরমভাবে ভূলুন্ঠিত হয়। মাঠ কমান্ডারদের চাপে বাধ্য হয়ে মেজর জেনারেল আকবরের রাশ টেনে ধরেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল বেলাল।

সেনাবাহিনীর ১৩ লং কোর্সের অফিসার আকবর হোসাইন তার আরেক বাচমেট মেজর জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সাথে নিয়ে (হাসিনার ফুফা জেনারেল মোস্তাফিজের মেয়ে জামাই হলো ওয়াকার) কক্সবাজরের রামু সেনানিবাসে যান অক্টোবরের মাঝামাঝি। সেখানে ১০ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মাকসুদ তাদের ব্যাচমেট। বেড়ানোর কথা বলে তিন ব্যাচমেট একত্র হয়ে রামুতে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে নানা কথাবার্তা হয়। রামু থেকে ঘুরে এসে জেনারেল আকবর বৈঠক করেন এনটিএমসি প্রধান ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসানের সাথে। এনটিএমসিতে বসে ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল দেশের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পেতে থাকে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকে। এর আগে জিয়া র‌্যাবে ছিলেন ৭ বছর, যেখানে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী গুম ও খুনে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। জনদুর্নামের মুখে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে প্রথমে ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়, এবং সর্বশেষে বসানো হয় বর্তমান পদে। জিয়ার অফিস ক্যাপসিটিতে রাজনৈতিক সংক্রান্ড কর্মকান্ড পারমিট না করলেও এখানে বসেই সে কুচক্রি আকবরদের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে, এবং রাজনৈতিক উস্কানিমূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে।

ব্রিগেডিয়ার জিয়ার সাথে পরামর্শ করার পরে বনানীতে সি ব্লকে ১১ নম্বর রোডের ৯৮ নম্বর বাড়ির নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হয় মেজর জেনারেল আকবর, মেজর জেনারেল ওয়াকার, ব্রিগেডিয়ার শায়েখ, ব্রিগেডিয়ার জিয়া, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার হাফিজ সহ সার্ভিং এবং রিটায়র্ড অফিসাররা। এখানে দেশের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা হয়। আগামী ইলেকশনের ফলাফল অা’লীগের কব্জায় নিতে বিভিন্ন খুটিনাটি ও নানা ফন্দি তৈরী করা হয়। আলোচনায় বলা হয়, যেকোনো ভাবে তারা আগামী ১৪ মাস এ সরকারকে টেনে নিয়ে যাবে। তারা মনে করে- we are the government. এক পর্যায়ে বর্তমান সরকারের প্রতি বৈরি (অর্থাৎ বিএনপি-মনা) ১৩৩ জন সামরিক অফিসারকে ঠান্ডা করতে ভয়ভতি, ডিসিপ্লিন, চাকরিচ্যুতি, আটক, গুম সহ নানা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তখন এক রিটায়ার্ড কর্নেল (১০ লংয়ের) বলেন, তোমরা এত বাড়াবাড়ি করছ কেনো? খেয়াল করো পাকিস্তানের দিকে, কি হইছে সেখানে। স্মরণ করো, জেনারেল লতিফ বা আশরাফ বহুত যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিল। এরশাদের অপকর্মের দায় জেনারেল লফিতকে নিতে হইছে- সিভিলিয়ান রগরানি খাইছে প্রচুর। তখন জুনিয়ার এক রিটায়ার্ড মেজর খন্দকার আবদুল হাফিজ (২৬ লং) লাফ দিয়ে উঠে বলে- স্যার, বাংলাদেশ পাকিস্তান না, এখানকার মানুষজন অনেক অনেক সহজ সরল। তাদেরকে একটু বুঝ দিলেই হয়ে যায়। বেগম জিয়াকে ঠান্ডা করতে হবে যেকোনো ভাবেই। বেশি তেড়িবেড়ি করলে বেনজিরের মত বোম মেরে তাকে উড়িয়ে দেয়া হবে! আমি এসএসএফে কাজ করেছি, দুই নেত্রীর সাথে ডিউটি করেছি, তাদের ভিতরকার অবস্থা আমি জানি। এটা কোনো ব্যাপারই না। উল্লেখ্য, এই অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ বর্তমানে টাঙ্গাইল আ’লীগ নেতা, হাকাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, এবং হাজার কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ, সোলার পাওয়ার, কনস্ট্রাকশন, গ্যাস, কয়লা, সিকিউরিটি আইটেম, এমনকি মিলিটারীতে ট্যাংকও নাকি সাপ্লাই দিচ্ছে সে।

এনটিসি ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বলে ওঠেন, প্রথমে তারা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ফেস করুক। তারা ফেল করলেই না আর্মির প্রশ্ন। লাগলে থার্ড/ ফোর্থ পার্টিকে ক্ষমতায় বসাবো ২/১ বছরের জন্য, তারপরে আবার আমরা বসবো। কিন্তু বিএনপিকে কিছুতেই ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না।

জেনারেল আকবর বলেন, প্রয়োজনে সহায়ক সরকার বানিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনা হবে। ইলেকশন শুরু হওয়ার পরে নমিনেশন প্রত্যাহারের সময় ১৫৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে ছুতানাতা দিয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এটা সিইসিকে চাপ দিয়ে করানো হবে। সে রাজী না হলে দরকারমত সিনহার মত সিইসির মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এটা করানো হবে। ইতিমধ্যে সিইসির অপকর্মের বহু রেকর্ড রেডি করা হয়েছে। জেনারেল আকবর আরও বলে, আমি জানি কি করে এগুলারে দিয়ে কাজ করাতে হয়। ৫ জানুয়ারির আগে এরশাদও ঐ রকম ত্যাড়াবেকা করেছিল। কিন্তু এক থাপ্পড় খেয়ে যখন উল্টো পরে যায়, এরপরে সব সোজা। সিনহা বাবুও যথেষ্ট পেইন দিয়েছিল। কিন্তু লোডেড গান মাথায় ধরার বাপ বাপ করে সব সই করে দেয়। লাগলে আবারও তাই করবো। অবশ্য জেনারেল আকবরের অপকর্মের বহু রেকর্ড দাদাদের কাছেও আছে। গত ডিসেম্বরে কোলকাতায় আকবরকে জয়া আহসানের সাথে গলাগলি করে গ্রান্ড হোটেল থেকে বের হতে দেখা যায়।

আকবর বাহিনীর এসব তৎরতার খবর হাসিনার নলেজে আছে। তবে, তিনি আকবরদের এমনতরো বাড়াবাড়ি নিয়ে অনুমোদন বা হা না কিছুই বলতে পারছেন না। দু’এক যায়গায় বলেছে, আকবররা ফেল মারলে পরিণতি মারাত্মক হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে না থাকলে বা দেশে অস্থিরতা থাকলে জিওসিরা স্টেশন ত্যাগ করতে পারেন না। আর জরুরী কারনে করলেও সাথে সাথে লোকেশন এবং কন্টাক্ট পয়েন্ট জানাতে হয় সেনাপ্রধানকে। কিন্তু আকবরগং রামুতে গিয়ে সেটা অনুসরন করেনি। এসব বিষয় এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট অবহিত হয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল বেলাল নির্দেশ দিয়ে মেঃ জেনারেল আকবরকে ঢাকায় ক্লোজ করেন। ঢাকা থেকে সাভারে গিয়ে অফিস করে চলে আসে আকবর। তার সাথে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। তবে আকবর এমন ন্যাক্কারজনকভাবে কমান্ড হারিয়েছে যে, আগামী কাল যদি কোনো ক্যাপ্টেনকে বলা হয়, যাও আকবরের একটা ঠ্যাং কেটে নিয়ে আসো, তোমার কিস্সু হবে না। তবে সে তাই করবে।

বর্তমানে দেশে একদিকে যখন চলছে রাজনীতিহীনতা, খুনখারাবি, অরাজকতা, তখন সরকারের ভেতরে আসল সরকার কে, তা নিয়ে জনগন বিভ্রান্ত। কখনও ঢাকা পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান দাবী করেন- ‘সরকার আমরা আনছি, এবং টিকায়া রাখছি, আমরাই সরকার’। এদের সাথে একই মত পোষন করেন র‌্যাবের ডিজি বেনজির, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের মনিরুলের মত বেশ কিছু পুলিশ অফিসার। আবার সচিবালয়ের কিছু সচিব ও কর্মকর্তারা দাবী করেন- এ সরকার তাদের দয়ার দান। এখন জেনারেল আকবর ওয়াকাররাও দাবী করে সরকারের মালিকানা। এতে জনগন বড় কনফিউজড- সরকারের ভিতরে আসল সরকার কে?

Content Protection by DMCA.com
1 51 52 53