বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

রাষ্ট্রীয় টিভি-রেডিওতে জুমার নামাজ সরাসরি সম্প্রচার * মুসলমানদের সঙ্গে পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে, আমরা সবাই এক : জাসিন্দা

বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

এক সপ্তাহ আগে বর্ণবাদী এক খুনির চোখে হিংসা-জিঘাংসা দেখেছে নিউজিল্যান্ড। মসজিদে প্রার্থনারত মানুষের সারি সারি লাশ আর প্রিয়জনের রক্তাক্ত শরীর দেখে চমকে গিয়েছিল দেশটির নিরীহ জনপদ। শান্তির নীড়ে ঘৃণার হুঙ্কার! শান্ত পাখি ‘কিউই’র চারণভূমিতে এই বর্বর ধর্মবিদ্বেষী রক্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না।

ঠিক সাত দিন পরের শুক্রবারে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাল নিউজিল্যান্ড। দেখাল শান্তির পথ। শোনাল ঐক্যের বাণী। এবার নিউজিল্যান্ডসহ পুরো বিশ্ব দেখল সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা আর ঐক্যের জয়গান। বুলেটে জর্জরিত আল নূর মসজিদের বাইরে হ্যাগলি পার্কে ধর্ম-বর্ণ, গোত্র, জাত-পাত ভুলে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। অন্য ধর্মের নারীরা মুসলিমদের প্রতি সমবেদনা জানাতে হাজির হন হিজাব পরেই। ছিলেন স্বয়ং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্নও।

খোলা মাঠে মধুর কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সমধুর ধ্বনি। এরপরই নিহত অর্ধশত মানুষের স্মরণে দুই মিনিটের জন্য নীরব থাকে পুরো নিউজিল্যান্ড। জাতবিদ্বেষ ভুলে শান্তির বার্তা ছড়ানো এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল (টিভিএনজেড) ও রেডিওতে। এ দিনকে জাতীয় দিবসের মতো পালন করেছে নিউজিল্যান্ডবাসী। জুমার নামাজ শেষে ২৬ মরদেহের গণজানাজার পর ক্রাইস্টচার্চে দাফন করা হয়। তাদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছে। বাকি তিনজনের লাশ দেশে আনা হচ্ছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, এএফপি ও রয়টার্সের।

গত ১৫ মার্চ বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজের সময় মুসলিমদের ওপর আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। এর কিছু পর কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালায় সে। দুটি হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। হত্যার অভিযোগ এনে ব্রেনটনকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

জুমার নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে আজ পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে। আমরা সবাই আজ এক।’ এর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারস্পরিক উদারতা, সমবেদনা এবং সহানুভূতিতে বিশ্বাসীরা একটি শরীরের মতো। যখন শরীরের কোনো একটি অংশ ব্যথা পায় তখন পুরো শরীরই সেই ব্যথা অনুভব করতে পারে।’ মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এ বক্তব্যে শান্তির পথ দেখালেন তিনি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, জুমার নামাজের সময় হ্যাগলি পার্কের এই সমাবেশে জড়ো হয়েছিল প্রায় দশ হাজার মানুষ। মুসলমান রীতিতে কালো কাপড়ে মাথা ঢেকে উপস্থিত ছিলেন জাসিন্দা।

এরপরই প্রচারিত হয় জুমার আজান। আজানের পরপরই দুই মিনিটের নীরবতায় স্তব্ধ হয় পুরো নিউজিল্যান্ড। খুতবার শুরুতে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইমাম জামাল ফৌদা বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি এ মসজিদে দাঁড়িয়েছিলাম। উগ্র এক সন্ত্রাসীর চোখে-মুখে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখেছি। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। আমাদের শহীদদের কারণে আমরা নিউজিল্যান্ডে নতুন জীবন পেয়েছি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দাকে মুসলমানদের পাশে থাকায় ধন্যবাদ জানান ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তার নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানাই। এটা বিশ্ব নেতাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ধন্যবাদ আমাদের প্রতি সংহতি জানাতে তার হিজাব পরার জন্য।’ এ সময় ক্যামেরা গিয়ে পড়ে জাসিন্দার দিকে। তিনি বুকে হাত দিয়ে ধন্যবাদ গ্রহণ করেন। তার চোখ ছিল ছলছল।

গত সপ্তাহের হামলার পর থেকে প্রতিদিনই সব ধর্মের নানা বয়সী মানুষ ফুল হাতে ওই মসজিদের বাইরে আসছিল সংহতি জানাতে। মাওরি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রণনৃত্য হাকা পরিবেশন করে শ্রদ্ধা আর সংহতি জানাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। ইমাম ফৌদা তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ তোমাদের হাকার জন্য, ধন্যবাদ ফুলের জন্য, তোমাদের চোখের পানি ও ভালোবাসার জন্য।’ শ্রদ্ধা জানানোর এই আনুষ্ঠানিকতায় অকল্যান্ডের চারটি মসজিদ শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সব ধর্মের মানুষের জন্য খোলা রাখা হয়। সন্ধ্যায় অকল্যান্ডের সবচেয়ে পুরনো পার্ক অকল্যান্ড ডোমেইনে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

হিজাব পরে মুসলমানদের প্রতি সংহতি নারীদের : আতঙ্কগ্রস্ত মুসলমানদের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডজুড়ে হাজারও নারী হিজাব পরে বের হন। রয়টার্স জানায়, তারপর থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারেন এমন আতঙ্কে দেশটির মুসলমান নারীরা হিজাব পরে ঘর থেকে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া অ্যাশম্যান ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’ নামে একটি আন্দোলনের ডাক দেন। নিউজিল্যান্ডের জনগণকে মুসলমানদের প্রতি সমর্থন জানাতে শুক্রবার মাথা ঢেকে বাইরে বের হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অ্যাশম্যান বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। আমরা চাই আপনার নিজের রাস্তায় আপনি বাড়ির মতো নিরাপদবোধ করুন। আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন করি ও সম্মান করি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা ছবি পোস্ট করেন। ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা বেলি সিবলি বলেন, ‘কেন আমি আজ মাথা ঢেকেছি? প্রথম কারণ হচ্ছে, যদি আজ কেউ বন্দুক তুলে কাউকে নিশানা করে তবে আমি তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাব। আমি চাই সে যেন পার্থক্য করতে না পারে। কারণ আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

ক্রাইস্টচার্চে দুই বাংলাদেশির দাফন : শুক্রবার জুমার নামাজের পর একসঙ্গে ২৬ মরদেহের জানাজা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশি পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের দাফন ক্রাইস্টচার্চেই সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন- সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী গোলাপগঞ্জের হুসনে আরা আহমেদ (৪২) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ (৬৬)। নিউজিল্যান্ডের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ দেশে আনা হবে। তারা হলেন- চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মোজাম্মেল হক (৩০) ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ওমর ফারুক (৩৫) এবং নরসিংদীর জাকারিয়া ভুঁইয়া (৩৬)।

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক এরদোগানের : ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। শুক্রবার ইস্তানবুলে ইসলামী সহযোগী সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। এরদোগান বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার (হলোকাস্ট) পর ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই হয়েছে, ঠিক সেভাবেই মুসলিম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর জরুরি এ বৈঠক ডাকেন এরদোগান। বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পেটারস বলেন, বিশেষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছি। মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রশংসা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট কাভুসগলু। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমরা এখানে সেটিই দেখাতে চাই।

/যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com

ব্যবসায়িক কারনে তিন ব্যক্তিকে ডিজিএফআইকে দিয়ে গুম করেছেন শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিক : আল জাজিরার ভয়াবহ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব) তারিক সিদ্দিক ব্যবসায়িক কারনে ডিজিএফআইকে দিয়ে তিন ব্যক্তিকে গুম করিয়েছেন, রিপোর্ট আল-জাজিরার। 

Exclusive: Bangladesh top security adviser accused of abductions
Colonel Shahid Uddin Khan with Major General Tarique Siddique, London June 2017 [Al Jazeera]


প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৮ম লং কোর্সের অফিসার অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহিদউদ্দিন খান ২০০৯ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক সিদ্দিকের স্ত্রী শাহীন সিদ্দিকের সাথে ব্যবসায়িক পার্টনার ছিলেন। তারিক সিদ্দিক নিজে ব্যবসার সাথে জড়িত না থেকে তার স্ত্রীর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যাতে করে ভবিষ্যতে সরকার পরিবর্তন হলে বিপদে পড়তে না হয়। প্রচ্ছায়া নামে একটি লাভজনক কোম্পানীতে শাহীন সিদ্দিক চেয়ারম্যান, এবং কর্নেল শহিদ সিইও ছিলেন। ২০১৭ সালের দিকে তারিক সিদ্দিক আশংকা করেন, পরের বছর নির্বাচনে দেশে পটপরিবর্তন হতে পারে, তাই আগেভাগে ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এরপরে হিসাব কিতাব নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়। কর্নেল শহিদ অভিযোগ করেছেন, নয় মাস আগে তিন ব্যক্তি ও এক কর্মচারীকে ডিজিএফআই তুলে নিয়ে যায়, গোপন স্খানে আটকে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ৪৮ ঘন্টা পরে তাদের ছেড়ে দিলেও পরে আবার জহিরুল হক খন্দকার, খোরশেদ আলম পাটোয়ারী, এবং সৈয়দ আকিদুল আলী তিনজনকে আবার র‌্যাব দিয়ে ধরে নিয়ে যান জেনারেল তারিক।

জানা গেছে, জেনারেল তারিক ও কর্নেল শহীদের ব্যবসায়িক ফার্ম রামপুরা, হাতিরঝিল, সাতারকুল, সাভার, টঙি এলাকায় প্রচুর জমি নামমাত্র মূল্যে কব্জা করে শত শত প্লট বিক্রি করে কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করে। এছাড়া আর্মির মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির নামে বিদেশ থেকে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারিজ এনে উচ্চমুল্যে বাইরে বিক্রি করা হত, যা আর্মির ঘাড়ে বন্দুক রেখে অবৈধ ব্যবসা ছাড়া আর কিছু নয়। এসব ব্যবসার সিংহভাগ অর্থ তারিক সিদ্দিক হাতিয়ে নেন, এই অযুহাতে যে, তার ক্ষমতার প্রভাবেই সব কাজ হয়েছে! সবচেয়ে বড় ক্যাচাল সৃষ্টি হয় রামপুরা এলাকায় ৫ বিঘার একটি জমি নিয়ে। ঐ খাস জমিটি বাস্তুহারা সমিতির নামে লিজ নিয়ে কম মূল্যে ৭০ কোটি টাকায় এক পার্টির কাছে বিক্রি করে দেন তারিক সিদ্দিক। কর্নেল শহিদের অনুমান এই এক প্লট থেকে জেনারেল তারিক অন্তত তিন’শ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এত কমমূল্যে বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তারিক সিদ্দিক জানান, এটা নিয়ে পরে ক্যাচাল হতে পারে, তাই ছেড়ে দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই ডিলটি বিরোধে রূপ নেয়, এবং কর্নেল শহিদকে থেমে যেতে হুমকি দেন জেনারেল তারিক। অবস্থা বেগতিক দেখে কর্নেল শহীদ তার ব্যাচমেট জেনারেলদের সাহায্য নিয়ে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমান। কর্নেল শহীদ লন্ডন থেকে বিভিন্ন চ্যানেলে জেনারেল তারিককে তার হিসাব কিতাব বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে শেষে বৃটিশ আইনজীবি দিয়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের পাওনা চেয়ে তারেক সিদ্দিককে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এরপরেই কর্নেল শহীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩ কর্মীকে র‌্যাব ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এবছর ১৬ই জানুয়ারি কর্নেল শহীদের বাসা বাড়ি অফিস তছনছ করে ২৭ বাক্স মূল্যবান জিনিষপত্র এবং কাগজপত্র তুলে নেয় র‌্যাব। কর্নেল শহিদ সহ তার তিন কর্মীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বিরোধী এবং জঙ্গি মামলা দেয়া হয়, যা মিথ্যা বলে দাবী করেন কর্নেল শহীদ।

 

Company formation papers [Al Jazeera]


তারিক সিদ্দিকের এসব অপকর্মের অনেক খবর তার ব্যবসায়িক পার্টনার শহিদ জানেন। স্বাভাবিকভাবেই তারিকের এসব অপরাধের বিষয়দি গোপন রাখতে কর্নেল শহিদকে টার্গেট করেছেন। শহিদ লন্ডনে নির্বাসনে যেতে পারলেও ঢাকাতে ডিওএইচএসে তার বাড়িও অফিস তছনছ করে দলিলপত্র ও গুরুত্বপূর্ন জিনিস হাতিয়ে নিয়েছে তারিক সিদ্দিকের লোকেরা।

শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গুম খুনের অভিযোগ রয়েছে, যা তারা অস্বীকার করে থাকে। ২০১৬ সালের হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে ৯০ ব্যক্তিকে গুম করার রিপোর্ট রয়েছে, যার মধ্যে ২১ জনের লাশ পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের প্রথম ১০ মাসে ৪১৫ জনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা করা হয়েছে, যা মূলত ঠান্ডা মাথার খুন। রাষ্ট্রীয় সংস্থা ডিজিএফআই এসব গুম খুনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কর্নেল শহিদের অভিযোগ সংক্রান্ত আলজাজিরার প্রতিবেদন এসব অভিযোগকে প্রমান করছে।


https://www.aljazeera.com/news/2019/03/exclusive-bangladesh-top-security-adviser-accused-abductions-190319114412895.html?fbclid=IwAR18_0JcisphWzhEw9jdN2VFfiDUOxLTM9Z39yUGhEynYVFZy3k8pvi1y3s

Content Protection by DMCA.com

আড়াই মাসে নৌকার ভোট কমেছে ৮০ ভাগ!

20 Mar, 2019

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী জয়ী হলেও দলীয় কোন্দলে ভোট কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। এমনকি সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুল মান্নানের কেন্দ্রেও নৌকার পরাজয় হয়েছে। নৌকার ভোট গেল কোথায়? এমন প্রশ্ন সারিয়াকান্দি উপজেলার সচেতন মানুষসহ রাজনীতিবিদদের মুখে মুখে।

৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫০ ভোট পেলেও উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ২১ হাজার ২১১ ভোট। মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে নৌকার ভোট কমে গেছে। শুধু তাই নয় স্বয়ং এমপি আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান যে কেন্দ্রের ভোটার সেই কেন্দ্রে নৌকার ভোট কমেছে কয়েকগুণ। ওই কেন্দ্রে বিএনপির বহিষ্কৃত প্রার্থী নৌকার চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন। আর এ কারণেই নানা প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।

উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবীদ মুনজিল আলী সরকার শেষ পর্যন্ত ভোটে জয়ী হলেও মানুষের প্রশ্ন নৌকার এত ভোট গেল কোথায়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রার্থী হওয়ায় বেশি ভোটে বিজয়ী হবেন বলে অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ভোটের ফলাফল তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে।

উপজেলার হিন্দুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন করেন এমপি আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান। ওই কেন্দ্রে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আব্দুল মান্নান পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৬৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন মাত্র ১৬ ভোট। সেখানকার মোট ভোটার ৩ হাজার ৯৩২টি।

এবার উপজেলা নির্বাচনে সেই একই কেন্দ্রে ২ মাস ১৭ দিন পর নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ মুনজিল আলী সরকার পেয়েছেন ২০৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত টিপু সুলতান হেলিকপ্টার প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮৭ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুস সালাম ৭৯ ও শাজাহান আলী পেয়েছেন ৫৭ ভোট। মোট ১ হাজার ২৬০ জন ভোট দিয়েছেন।

এদিকে নৌকার বিরুদ্ধে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও এমপিপত্নী সাহাদারা মান্নান প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে আগেই অভিযোগ করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন নৌকার প্রার্থী বিজয়ী চেয়ারম্যান মুনজিল আলী সরকার। ১৫ মার্চ বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, সাারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি পত্নী সাহাদারা মান্নান স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে নৌকা মার্কার কর্মীদেরকে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। দলীয় সকল স্তরের নেতাকর্মীকে এমপির ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে নৌকা মার্কার বিপক্ষে কাজ করতে বাধ্য করছে। কেউ তাদের কথা মানতে না চাইলে তাদেরকে প্রশাসনিক ভীতি ও দল থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছে। এতে দলের কর্মীরা ভিত ও বিব্রত বোধ করছে এবং নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করার সাহস-মনোবল হারিয়ে ফেলছে ।

সংবাদ সম্মেলনের পরদিন বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান বলেছিলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। এতে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সেই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃতি রাজনীতিবীদ আব্দুল মান্নান এমপিকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান বলেন, এবার ভোটারদের মাঝে উৎসাহ কম ছিল। এ জন্য ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি ছিল না। আর কেন্দ্রে ভোটার টানার জন্য প্রার্থীকে কাজ করতে হয়। হয়তো সেই কাজটিও ঠিকমতো হয়নি।
উৎসঃ   জাগোনিউজ

Content Protection by DMCA.com

খালেদা জিয়া কিছুই খেতে পারছেন না : ৩ মাস ধরে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না

20 Mar, 2019

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনো সময় আছে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। কারণ তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক, তিনি একমাত্র বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারবেন এবং আপনাদেরও রক্ষা করতে পারবেন তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচে কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠন আয়োজিত গণঅনশনে তিনি এসব বলেন।

এর আগে দুপুর ১২টায় গণঅনশন শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই অনশন চলে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ অনশনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি গতকাল (মঙ্গলবার) কোর্টে গেয়েছিলাম। সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি মিথ্যা মামলার কাজ চলছে ছোট অন্ধকার প্রকোষ্ঠে! আমি সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বোঝাতে পারব না। কারণ আমি এমন খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি।

‘তিনি এত অসুস্থ যে, উনি মাথা সোজা করে বসতে পারছেন না! তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা ও ব্যথা। তিনি কিছুই খেতে পারছেন না। আর কিছু খেলেও সেটা থাকছে না।’

খালেদা জিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আজকে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এটা (অনশন) কোনো ছোট অনুষ্ঠান নয়। এটা একটা বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়ে আমাদের সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ এটা ছোটখাট সংগ্রাম ও লড়াই নয়। এটা হচ্ছে, আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। অনেকেই বলেন, এই সংকট বিএনপির। কিন্তু না। এটা সমস্ত জাতির সংকট।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসুন, আমরা দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হই। ঐক্যবদ্ধ হয়ে, এই যে স্বৈরাচার সরকার আমাদের বুকের ওপরে চেপে বসেছে- তাদের সরিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করি। 

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারা দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তারই প্রমাণ এটা। আমরা দেখছি যে, দেশে এখন কোনো আইনের শাসন নেই। সমগ্র দেশে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। এই দখলদার সরকার, তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে- মানুষকে শান্তি, নিরাপত্তা দিতে এবং জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনশনে বক্তব্য দেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান।

এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সরকারি মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট মতে, সাড়ে তিন মাস ধরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে না, চেকআপ জরুরি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে নানা রোগে আক্রান্ত বলে জানা গেছে। অসুস্থতায় তিনি অনেকবার আদালতে যেতে পারেননি। সম্প্রতি সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ড কারাগারে বেগম জিয়াকে দেখতে যায়। বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেগম জিয়া কারও সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছেন না। একা চলাফেরাও করতে পারছেন না। তাঁর বাঁ বাহু ও বাঁ পায়ে ব্যথা আছে। হাতের কব্জিও দুর্বল। তাঁর বাঁ কাঁধে শক্তি কম। সাড়ে তিন মাস ধরে তাঁর লিভার, কিডনি বা রক্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে, রক্ত, কিডনি, লিভারসহ কয়েকটি পরীক্ষা জরুরিভাবে করতে হবে। এ ছাড়া ইসিজি, লিপিড প্রোফাইল, সিবিসি পরীক্ষাও পরামর্শ দেন তারা। এ প্রসঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জলিল চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেগম জিয়ার ওঠে বসে দাঁড়াতে পারেন না। তার হাড়ে সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় তার কিছু ব্যথাও রয়েছে। আমরা কিছু টেস্টের পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু সেগুলো এখনও হয়নি।

বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত। এগুলো হলো- রিউমেট্রিক আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ম্যারিটা, হাইপারটেনশন, অস্ট্রিও আর্থ্রাইটিস, টানেল সিসড্রোম, ফ্রোজেন স্নোডার, লাম্বার স্টোনাইসিস, থাইটিকা, ক্রনিক হাইপো নিথ্রেমিয়া ও ক্রোনিক কিডনি। কয়েকটি রোগ আগে থেকেই ছিল। আবার কিছু নতুন করে হয়েছে। এখনো এগুলোর উন্নতি হয়নি। বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর নিয়মিত চিকিৎসা দরকার। বিএনপি নেতারা বেগম জিয়াকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে দল তাঁর চিকিৎসাব্যয় নির্বাহ করবে বলে জানানো হয়েছে। পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে গত মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসুস্থ। মঙ্গলবার আদালতে আসার আগে বমি করেছেন। তিনি মাথা সোজা রাখতে পারছেন না। বেগম জিয়াকে ক্রমেই মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি সম্প্রতি বেগম জিয়াকে দেখে এসেছি। তাঁর শরীর এতটাই খারাপ যে, আগে কখনই এমনটা দেখিনি। কিন্তু সরকার তাঁর কোনো চিকিৎসা করছে না। তিনি তো সাধারণ কোনো নাগরিক নন। তাঁর পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসা করালে সরকারের কি সমস্যা? তাদের নিয়ন্ত্রণেই কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিংবা তিনি বাইরে যেতে চাইলেও সরকারের সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে একমাত্র বন্দী হিসেবে রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এত দিনেও রাজপথের ‘শক্ত’ কোনো কর্মসূচিতে যায়নি বিএনপি। তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা চান জোরালো কর্মসূচি। সর্বশেষ দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও ধারাবাহিক আন্দোলন-কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু ছোটখাটো কর্মসূচিতেই রয়েছে দলটি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যেও কঠোর কর্মসূচি দিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর আইনজীবী দলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করে যাচ্ছি। তবে বেগম জিয়ার মুক্তি শুধু আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। বিষয়টি যেহেতু রাজনৈতিক, তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও করতে হবে। রাজপথ গরম করলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। আমরা রাজপথ গরম করতে পারছি না বলে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাওয়ার পথ সুগম হচ্ছে না।’

কটূক্তির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান এ পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাকিব চৌধুরী সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ জুন দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার ওসি (তদন্ত) জাফর আলী বিশ্বাস। এরপর মামলার বাদী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে : কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ‘পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে’ অভিযোগ করে বিচারব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরান ঢাকায় বিশেষ আদালতে হাজিরা দিতে আসা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা দেখে আসার পর গতকাল দুপুরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) আমি আদালতে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি বলে বোঝাতে পারব না, আমি এই বেগম খালেদা জিয়াকে কখনো দেখিনি। তিনি এতটা অসুস্থ যে, মাথা সোজা করে বসতে পারছিলেন না। তার সমস্ত শরীরে যন্ত্রণা-ব্যথা। তিনি কোনো কিছু খেতে পারছিলেন না। কিছু খেলে সেটা থাকছে না। তাকে (খালেদা জিয়া) সুপরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই প্রতীকী অনশনের আয়োজন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে ৫ ঘণ্টার এই অনশন সমাপ্তি ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কেরানীগঞ্জ (দক্ষিণ) বিএনপি সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুর পরিচালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু আশরাফ খন্দকার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সারা দেশে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একই মামলায় সব আসামি জামিন পেলেও দেশনেত্রীর জামিন হয় না। তাই আজকে আর বসে থাকার সুযোগ নেই। এই গণঅনশন ছোট কোনো অনুষ্ঠান নয়, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, বড় আন্দোলন। এটাকে সামনে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিএনপিসহ সব অঙ্গসংগঠনের এই অনশনকে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জাতির জন্য অনিবার্য। এই অনিবার্য কাজটি আমাদের যে কেনো সংকট মোকাবিলা করে করতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা পাওয়া তার মৌলিক অধিকার। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় আমরা যেসব খবর পাচ্ছি, তিনি শুধু অসুস্থই নন, উনার জীবন সংকটাপন্ন। তারপরও আদালত তাকে ছাড়ছে না। অর্ধমৃত দেহ নিয়ে আদালতে তাকে হাজিরা দিতে হয় এবং আদালত তার প্রতি ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত দেখাতে পারছে না।’

Content Protection by DMCA.com

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়


বাসচাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় উত্তাল রাজধানী ঢাকা। সকালে কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। রাজধানীর প্রায় প্রত্যেকটি এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। দেশে দ্বিতীয় দফা সড়ক আন্দালনের দ্বিতীয় দিনে সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আজ বসুন্ধরা এলাকার প্রগতি সরণি, মিরপুর, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা কিছু এলাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। নিরাপদ সড়কের লক্ষ্যে ৮ দফা দাবিতে তারা বিক্ষোভ মিছিল করছে। কোন কোন এলাকায় গতবছরের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত প্রথম দফা সড়ক আন্দালনের মতো শিশু-কিশোররাও রাস্তায় নেমেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজের শিক্ষার্থীরাও আজ সড়কে নেমেছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা।
ফলে প্রগতি সরণিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে সকাল থেকেই বসুন্ধরা আবাসিক গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৯টার দিকে তারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে এ রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যস্ততম সংযোগ সড়ক ফার্মগেট মোড়ে সকাল ৯টা থেকেই অবস্থান নেয় এলাকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বাস আটকে দিচ্ছে।
   আন্দোলনে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ  আবারও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।  যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাশেই অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি ২৭ এর মোড়ে মিছিলসহ এসে সড়ক অবরোধ করে। এছাড়া ইউনিভার্সিটির সামনেও অবস্থান নিয়েছে শতশত শিক্ষার্থী। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাসে বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করছে, হাফ ভাড়া নেয়া হয়েছে কিনা। সেই সঙ্গে গাড়িতে লেখা ‘হাফ পাশ নাই’ স্টিকার ছিড়ে ফেলছে।  এ সময় তারা বাস চালকের লাইসেন্সও চেক করছে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রায়সাবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সড়ক আন্দালনের কারণে মিরপুর থেকে বিভিন্ন  রুটের বাস কম সংখ্যায় চলাচল করছে।  
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন প্রগতি সরণি এলাকায় সুপ্রভাত (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহত হন। পরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৮ দফা দাবি ঘোষণা করেন এবং বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেন।


ফের বাসের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা


সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চাপায় বিইউপি শিক্ষার্থী আবরার আহম্মেদ চৌধুরী নিহতের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেটে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা বাসের লাইসেন্স ও চালকের ডাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়।

দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা একপক্ষের 


প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল এক সপ্তাহের জন্য নিরাপদ সড়কের আন্দোলন স্থগিতে সম্মত হয়ে এলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ তা মানতে নারাজ। দাবি বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথেই থাকতে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তবে আজ বুধবারের (২০ মার্চ) মতো সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন তারা। আন্দোলনে অনড় পক্ষরা বলছেন, বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ফের তারা সড়ক অবরোধ করবেন।
বুধবার বসুন্ধরা গেট এলাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন বিপরীতমুখী অবস্থান দেখা যায়। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে তারা বাসের ধাক্কায় সহপাঠী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এর বিচার ও পরবর্তী সময়ে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
এর আগে, বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল প্রায় ৫টা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটির নগর ভবনে বিইউপি উপাচার্যের উপস্থিতিতে উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ১৫ বিইউপি শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন মেয়র এবং এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল আন্দোলন এক সপ্তাহের মধ্যে স্থগিতের ঘোষণা দেন।
বৈঠক শেষে মেয়র আতিকুল ইসলাম ও প্রতিনিধি দলের সদস্য শিক্ষার্থী ফয়সাল এনায়েত জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নামবেন। ২৮ মার্চ সকালে এসব পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকের আলোচনায় অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে নতুন করে রাজপথে নামবেন তারা।
বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দল বসুন্ধরা গেট এলাকায় এসে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু অন্যপক্ষ সেটি শুনে প্রত্যাখান করে এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। ফলে নগরভবনে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়া অবরোধ স্থগিত হলেও অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে তাৎক্ষণিকবাবে অবরোধ তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধী সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা মূলত আন্দোলন চালিয়ে নিতে ইচ্ছুক। তারা বলছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের আশ্বাসে তারা আস্থা রাখতে পারছে না। সে কারণে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তবে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা আজকের মতো সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফের তারা অবরোধে বসবেন বলে জানান। এসময় শিক্ষার্থীদের সবাইকেই বসুন্ধরা গেট ছাড়তে দেখা গেছে।


 

Content Protection by DMCA.com

আইন করে হরণ করে এখন ইনু-মেনন বাকস্বাধীনতা চান

19 Mar, 2019

নৌকায় চড়ে সংসদে গেলেও মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার যাতনায় ভুগছেন দুই বাম নেতা হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রিত্ব করার সময় বাকস্বাধীনতার প্রয়োজন না পড়লেও এখন দুই নেতা বাকস্বাধীনতা চান। তারা এখন নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ এবং প্রশাসনে দলবাজি বন্ধ করে সুশাসনের দাবি করছেন। 

দুই নেতার অভিমত, তারা নৌকায় চড়ে পথের দিশা পেয়েছেন; তবে তাদের ভাষায় বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বামরা (সিপিবি-বাসদ-বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ৮ দলের সমন্বয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট) পথ হারিয়ে ফেলেছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুই নেতা এভাবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে ভোট সম্পর্কে ইনু বলেছেন, ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত ভোটে আসবে না এমন প্রচারণা ছিল। ভোট হবে না নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক সরকার হবে। একটি ভূতের সরকার হবে। মন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করে ব্যর্থ হয়ে এখন রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমার মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ নেই। মর্যাদার যে জায়গা সেটা মন্ত্রী নয়; আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার চাই। ৩০ ডিসেম্বর আগের রাতে ভোটের বাক্স ভর্তি করা নির্বাচনে বিজয়ী এমপি মেনন উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে শুধু ভোট কারচুপিই নয়, আমাদের কর্মীদের দাঁড়াতেই দেয়নি। তিনি স্থানীয় এই নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের পেশি শক্তির বর্ণনা তুলে ধরেন। 

রাশেদ খান মেনন কার্যত মুম্বাইয়ের হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের কৌশল গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে হিন্দি সিনেমার নায়িকারা মিডিয়ার খবরে থাকার চেষ্টায় নিজেরাই নিজেদের স্ক্যান্ডাল ছড়াতেন। মিডিয়ায় নাম থাকলে সিনেমার কাটতি বাড়ে; নায়িকাও বেশি বেশি সিনেমার অফার পান। সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় রাশেদ খান মেনন হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের সেই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি মিডিয়ায় থাকার জন্য হঠাৎ করে কাদিয়ানীদের পক্ষ্যে বক্তব্য দিয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। প্রতিদিন আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা মেননের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল করছেন; তার বিচারের দাবি করছেন। এতে বেশ মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি প্রতিদিন মিডিয়ায় থাকছেন।

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় সরকারকে একহাত নিয়েছেন মেনন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন বৈষম্য দূর করা। চীনের চেয়েও দেশে বর্তমানে অতি ধনী বেড়েছে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ধনীর সম্পদ ১২১ গুণ বেড়েছে; অন্যদিকে সবচেয়ে গরিবের ৫ ভাগ সম্পদ ক্রমান্বয়ে কমে এক ভাগে নেমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও বছরে ৮ লাখ বেকার বৃদ্ধি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতির জন্য বিরাট হুমকি। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা চ্যালেঞ্জ। ওপর থেকে দুর্নীতি দমন করার পরামর্শ দিয়ে সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তির প্রসঙ্গে বলেছেন, ইয়ামেন সীমান্তে মাইন সরানো বহির্বিশ্বে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবে। যদিও ১০ বছরে মেনন নিজের সম্পত্তি ৪ গুণ এবং স্ত্রীর সম্পত্তি ২২ গুণ বৃদ্ধি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি। 

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুও সরকারকে তুলোধুনো করেছেন ওই সাক্ষাৎকারে। নির্বাচন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় সরকার ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি, দলবাজি, ক্ষমতাবাজির বিরুদ্ধে সমাজের অভ্যন্তরে যে প্রতিবাদ আছে তা বুদবুদের মতো প্রকাশ পাচ্ছে, তার প্রমাণ ডাকসু নির্বাচনে নূরুল হক নূরের বিজয়। তবে আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন একজন ইনু বা মেনন বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূমিকা রাখবে বা বিরোধী দল জন্ম দেবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। সামনে এজেন্ডা তিনটি- বৈষম্য কমাও, দুর্নীতি ধ্বংস করো এবং দলবাজি বন্ধ করে সুশাসন দাও। বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বাম দলগুলোও এখন পথ হারানোর পথে। 

সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক প্রসঙ্গে ইনু বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনোই হেফাজত বা তেঁতুল হুজুরের সঙ্গে সমঝোতা করেনি। করলে জাসদ সভাপতি হিসেবে ১৪ দলীয় জোটে থাকব কি থাকব না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম। 

’৯০-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অভিযোগে মামলা করা ইনু বলেন, আমি এরশাদের প্রশংসা করব। কারণ, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে সই করে এরশাদ সংবিধানের আনুগত্য মেনেছেন। এ জন্য তার প্রশংসা করছি। তবে আমি এরশাদের বিচার চাই। কে বৈধ আর কে অবৈধ প্রেসিডেন্ট, সে সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত আছে। 

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভুল সংশোধনের দাবি জানিয়ে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের মুখোমুখি করা যাবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পত্রিকা চালানো নয়। সম্প্রচার কমিশন ও প্রেস কাউন্সিলের শক্তি বৃদ্ধি পাক; তারাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বোঝাপাড়া করবে। রাষ্ট্র বা তার অঙ্গ সকাল-বিকেল ফোন করে কোনটা ছাপাবে কোনটা ছাপাবে না, এ রকম দায়িত্ব রাষ্ট্রের নয়। নির্ভয়ে সমালোচনার গ্যারান্টি রাষ্ট্রকে দিতে হবে। সংবাদকর্মীরা রাষ্ট্র বা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, গণতন্ত্রের বন্ধু। রাজনৈতিক কর্মীর ভুল সহ্য করতে পারলে সংবাদকর্মীদের ভুল সহ্য করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরো ছয় মাস-এক বছর চলার পর ত্রুটিবিচ্যুতি ভেসে উঠবে; আইনে গলদ থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুর এই ‘ছবক’ দেশবাসী কিভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
উৎসঃ   ইনকিলাব

Content Protection by DMCA.com

বাকশালে ফিরে যেতে চান হাসিনা!

18 Mar, 2019

পিতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) কার্যকর থাকলে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্কই থাকতো না দাবি করে মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাকশাল ছিলো সর্বোত্তম পন্থা।

প্তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু যে পদ্ধতিটা (বাকশাল) করে গিয়েছিলেন সেটা যদি কার্যকর করতে পারতেন তাহলে এসব (নির্বাচনী অস্বচ্ছতা) প্রশ্ন আর উঠতো না।’

সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধির ৭ ভাগে উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, আজ নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা উঠে; আর আমাদের বিরোধী দল বাকশাল বাকশাল করে গালি দেয়, তারা যদি একবার চিন্তা করতেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন একটা বিপ্লবের পর যেকোন দেশে একটা বিবর্তন দেখা দেয়। সেই বিবর্তনের ফলে কিছু মানুষ হঠাৎ ধনী শ্রেণীতে পরিণত হয় আবার ভালো উচ্চবিত্ত মানুষ তাদের ধন-সম্পদ ধরে রাখতে পারে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ধারা সুনিশ্চিত করা এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা একান্তভাবে দরকার। সব বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

‘পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারা ছিল না, আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিল, সে গণতন্ত্রের ফর্মুলা দিল বেসিক ডেমোক্রেসি! মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। আর বঙ্গবন্ধু চাইলেন মানুষ যেন তার ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে। যে অধিকার তিনি দিয়েছিলেন ৭২ এর সংবিধানে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু এমন একটি পদ্ধতি এনেছিলেন যেখানে কেউ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। সরকারের পক্ষ থেকে যে যে প্রার্থী হবে সকলের নাম একটি পোস্টারে দিয়ে প্রচার করা হবে। যে ব্যক্তি যত বেশি জনগণের কাছে যেতে পারবে, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে সেই শুধু নির্বাচিত হবে।’

বাকশালের স্বচ্ছতা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে দুটি নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনের একটি হয়েছিল কিশোরগঞ্জে, সেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু জনগণ ভোট দিয়েছিল একজন স্কুল মাস্টারকে। আর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পটুয়াখালীতে।’

এ পদ্ধতি চালু নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছিলেন জানিয়ে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (বঙ্গবন্ধু) জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি এ পদ্ধতি করলেন কেন? তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমাদের দেশে একটি বিপ্লব হয়েছে। এখানে গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে; একটা বিপ্লবের পর কিছু মানুষের হাতে অর্থ চলে আসে। আমি চেয়েছি নির্বাচন যেন অর্থ এবং লাঠি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়। জনগণের কাছে যেন ভোটের অধিকারটা থাকে, প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকারটা থাকে। তা নিশ্চিত করবার জন্যই আমি এই পদ্ধতিটা শুরু করেছি।’

বাকশাল বাংলাদেশের জন্য উপযোগি ছিলো দাবি করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘এটা বাংলাদেশের জন্য যে কতটা উপযোগী ছিল একসময় বাংলাদেশের মানুষ তা ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বঙ্গবন্ধু যে পদ্ধতিটা করে গিয়েছিলেন সেটা যদি কার্যকর করতে পারতেন তাহলে এসব প্রশ্ন (নির্বাচনে অস্বচ্ছ্বতা) আর আসতো না। সব থেকে জনদরদি যে ব্যক্তিটি জনসেবা যে করে সেই নির্বাচিত হয়ে আসতে পারতো।’

Content Protection by DMCA.com

অবিলম্বে ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে: ভিপি নুর


অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবি জানিয়েছেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর।
বুধবার দুপুরে ঢাবি ক্যাম্পাসে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এই আহ্বান জানান। 
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলের কোটা সংস্কার আন্দোলন, বাম জোট ও স্বতন্ত্র জোটের নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে।
শীর্ষকাগজ/জে

Content Protection by DMCA.com

ডাকসু নির্বাচন বাতিলে ৫ প্যানেলের ৩ দিনের আল্টিমেটাম

আগামী তিনদিনের মধ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন বাতিল চেয়েছে আল্টিমেটাম দিয়েছে ছাত্রলীগ ছাড়া অপর ৫ প্যানেল। তারা বলছেন, শনিবারের মধ্যেই সদ্য অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন বাতিল করার পাশাপাশি পুন:তফসিল ঘোষণা করতে হবে। আজ দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যে প্যানেলগুলোর পক্ষ  থেকে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ফারুক হোসেন।

তিনি বলেন, আগামী শনিবারের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে এবং তিন দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের পুন:তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে বাদ দিয়ে সৎ ও নিরপেক্ষ শিক্ষকদের নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে হবে। দাবি না মানলে আগামী রোববার থেকে ক্যাম্পাসে কঠোর কর্মসূচি দেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

পরে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন পাঁচ প্যানেলের প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকরা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজীর, অরণি সেমন্তি খানসহ শতাধিক শিক্ষার্থী। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাবি ভিসি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখান থেকে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়।
শীর্ষকাগজ/জে

Content Protection by DMCA.com

‘নির্বাচনের বাইরে রাখতে খালেদা জিয়ার সাজা-মামলা’ : যুক্তরাষ্ট্র

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য নয়: যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্ট

স্টেট ডিপার্টমেন্ট করসপন্ডেন্ট

৩০ ডিসেম্বরের ভোট কারচুপি আর একতরফা সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ ছিলােনা। নানান অনিয়ম, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা, বিরোধী দলের এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়-ভীতির মতো ঘটনা ঘটেছে তাতে। হামলা- মামলার শিকার হয়েছেন বিরোধীদলের প্রার্থী ও সমর্থকরা।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত ২০১৮ সালের রিপোর্টে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

মানবাধিকার রিপোর্টে নির্বাচন ছাড়াও উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারাবন্দি করে রাখা, গুম-খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ড, বেআইনী গ্রেফতার, বিরোধী দলের উপর নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা প্রদানসহ বিভিন্ন ইস্যু।

বার্ষিক রিপোর্টে সারসংক্ষেপের শুরুতেই বাংলাদেশর সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের কারচুপির বিষয়টি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলা হয়, “বাংলাদেশে সরকার ব্যবস্থা সংসদীয় পদ্ধতির হলেও ক্ষমতার সিংহভাগও প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ডিসেম্বরের প্রশ্নবিদ্ধ এবং একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। নির্বাচনটি অবাধ এবং নিরপেক্ষ ছিলােনা। নানান অনিয়ম, আগে থেকেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখা, বিরোধী দলের এজেন্ট এবং ভোটারদের ভয়-ভীতির মতো ঘটনা ঘটেছে তাতে।”

এতে বলা হয়, “প্রচারণার শুরু থেকে নির্বাচন পর্যন্ত নানান রকম হয়রানি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বেআইনী গ্রেফতার এবং সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে।আর এ পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সভা-সমাবেশ এবং প্রচারণা চালাতে পারেননি বিরোধী দলের প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে পরিচয়পত্র ও ভিসা পাননি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।”

রিপোর্টে বলা হয়, “আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কার্যত পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার।”

এতে বলা হয়, “আইনশৃঙ্খলাবাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর তথ্য রয়েছে কিন্তু সরকার খুব কমই এসব ঘটনার বিষয়ে তদন্ত বা ন্যায়বিচার করে থাকে। তাদের দ্বারা হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও এমনটিই দেখা যায়।”

জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “২১০৭ সালে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে তিনটি যৌন হয়রানি এবং অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘ। অভিযোগের এ বিষয়টিতে তদন্ত চলমান আছে।”

মিথ্যা অভিযোগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সরকার আটক করছে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অপরাধে বাংলাদেশে বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার এবং বিচারের মতো ঘটনা ঘটছে। জাতীয় নিরাপত্তার ধোঁয়া তোলে তাদরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক এবং বিচারের মুখোমুখি করা হয়।বছর জুড়ে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির হাজার-হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং সাজাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, “২০০৮ সালের কেয়ারটেকার সরকারের আমলে করা এক মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে ৫ বছরের সাজা দিয়েছে আদালত। তাঁর এই সাজায় তথ্য-প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতাকে দূরে রাখতে এটাকে রাজনৈতিক নীল-নকশা বলে মনে করেন তারা।”

এতে বলা হয়, “তাঁকে (খালেদা জিয়াকে) জামিন দেয়ার ক্ষেত্রেও গড়িমসি করছে আদালত। এসমস্ত মামলায় যেকেউই দ্রুত জামিন পেয়ে থাকেন কিন্তু খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা একমাসের মতো সময় পিছিয়ে দেয়া হয়। মার্চের ১২ তারিখ যখনি হাইকোর্ট এ মামলায় জামিন দিলো তার পরপরই সুপ্রিম কোর্ট ২ মাসের জন্য স্থগিত করে দিলো। অভিযুক্ত হবার ঘটনায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রেখেছে।”

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে খালেদা জিয়ার রায় দেয়ার সময়টাতে আট দিনের ব্যবধানে বিএনপির ১,৭৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির চিত্র তোলে ধরে রিপোর্ট বলা হয়, “সংবিধানে জীবনের নিরাপত্তা এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করা আছে। কিন্তু সরকার এবং তার এজেন্ট মানুষ বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে তার অসংখ্য নজির রয়েছে।”

এতে বলা হয়, “বছর জুড়েই সন্ত্রাস দমনের নামে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। তাদের এই অভিযান, আটক সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এসব মৃত্যুকে দুই পক্ষের মধ্যে ক্রসফায়ারের ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছে। সরকারও র‍্যাব, পুলিশ কিংবা অন্য বাহিনীর সঙ্গে সংগঠিত এসব ঘটনাকে বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার কিংবা পাল্টা হামলা বলে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেছে।”

রিপোর্টে বলা হয়,“মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে ৪০০ এর বেশি লোক বন্ধুক যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে। অধিকারের তথ্যমতে জানুয়ারি থেকে অক্টোবের বন্দুক যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে ৪১৫ জন।”

সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের সময়টাতে বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ছিলো গত বছরের তুলানয়ও বেশী।স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মাদক বিরোধী অভিযানে ২৩০ জন নিহত হয় আর মে-জুন মাসে আটক করা হয় ১৭,০০০ জনকে। সরকারের এই কথিত মাদক বিরোধী অভিযানের সমালোচনায় সোচ্চার হয় মানবাধিকার সংগঠগুলো এবং সুশীল সমাজ। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন-অভিযানে বিচারবির্হভূত হত্যাকান্ড এবং গ্রেফতার হচ্ছে এবং নিরীহ মানুষ তার শিকার হচ্ছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কৌশল বলেও এর সমালোচনা করেন।”

অধিকারের তথ্যমতে গত বছরের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাস্টডিতে মারা গেছেন ৫৭ জন বন্দি।

গুমের ভয়াবহ চিত্র তোলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়, “মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং গণমাধ্যমের তথ্যমতে গুম এবং অপহরণ এখনো অব্যাহত আছে। আর এর অধিকাংশই ঘটছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা। এসব বিষয়ে সরকারকে খুব কমই প্রতিরোধ কিংবা তদন্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়।”

রিপোর্টে আরো বলা হয়, “বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারের মুখোমুখি হওয়া বিরোধীদলের ৩ নেতার সন্তানদের ২০১৬ সালে আটক করে সরকার। তাদের বিরুদ্ধে ছিলোনা কোনো অানুষ্ঠানিক অভিযোগ এবং আটকও হয়েছে তাও বলা হয়নি। আটকের সাত মাস পর হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে মুক্তি দিলেও এখনো সন্ধান নেই মির আহমদ বিন কাশেম এবং আমান আজমীর। জোরপূর্বক গুম নিয়ে কাজ করা সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং কমিটি এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধ করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”

খ্যাতনামা আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে গ্রেফতার এবং নির্যাতনের কথা তোলে ধরে রিপোর্টে বলা হয়, “নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উসকানি মূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে ৫ আগস্ট আলোকচিত্রী শহীদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়। ৬ আগস্ট যখন তাকে আদালতে হাজির করা হয় তখন তিনি একা হাঁটতে অক্ষম ছিলেন এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আদালতে চীফ মেট্রোপলিট্রন ম‌্যাজিস্ট্রেটের কাছে সাক্ষ্য দেবার সময় শহীদুল বলেন- গ্রেফতারের রাতে তার চোখ বাঁধা হয়, মাথার উপর রাখা হয় ভারী ওজনের জিনিস এবং মুখে আঘাত করা হয়।”

/জাস্ট নিউজ

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4 53