ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতেই জার্মানীতে সফর করেছিলেন শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করে এমন একটি ভারতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রকল্প থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতে গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানীতে সফর করেছিলেন। এরপরে সেই অর্থ তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিকট হস্তান্তর করতে আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গিয়েছিলেন। ই-ব্যাংকিং লেনদেনে কমিশন স্থানান্তর করতে গেলে রেকর্ড থাকার রিস্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রটোকল সুবিধার অধীনে লাগেজ ব্যবহার করে সাথে বহন করেন।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে লাভালিন কোম্পানীর কাছ থেকে ১৭ মিলিয়ন ডলার কমিশন হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠার পরে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু কানাডার নাগরিকত্ব ও সেখানকার ব্যবসা বানিজ্য হারান। এরপর থেকে তারা বাংলাদেশে ফের এসে শেষে আবুধাবিতে থিতু হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩ কোটি ২০ লাখ ই-পাসপোর্টের মধ্যে ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করতে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে কাজ দিয়ে গত বছর জুলাইতে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এই প্রজেক্ট থেকে প্রায় ৩৫ ভাগ অর্থ কমিশন বা স্পীড মানি বাবদ রাখা হয়। ঐ অর্থ গ্রহণ করে তার কন্যার কাছে নিরাপদে পৌছাতেই শেখ হাসিনা চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের নামে মিউনিখে সফরে যান।
চলতি বছরের জুন মাসে ই-পাসপোর্ট হাতে পাবে বাংলাদেশের নাগরিকরা। ই-পাসপোর্ট পাসপোর্ট হবে ১০ বছর মেয়াদের। ফি নির্ধারণ কমিটির প্রস্তাবে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার (২১ দিন), এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার (৭ দিন) এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা (১ দিন) প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাসপোর্টের দুই ধরনের ক্যাটাগরি হচ্ছে। একটা ৪৮ পৃষ্টার। আরেকটা ৭২ পৃষ্টার। যারা বেশি নিতে চান তাদের ফি-টাও একটু বেশি দিতে হবে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে একদলীয় ভোটে শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে উৎসাহ দিতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির সাথে জার্মানীও সোচ্চার ছিল। ঐসময় ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস গ্রুপের’ মুখপাত্র হিসাবে কাজ করছিল জার্মান রাষ্ট্রদূত। এরপরে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে ই-পাসপোর্টের কাজ দেয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার জার্মানীকে শান্ত করতে সক্ষম হয় বলে অনেকে মনে করেন। ভেডিডোসের সাথে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের অনুষ্ঠানে জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নেইলসকে বিশেষ অতিথি করে ঢাকায় আনা হয়। তবে এই সূত্র ধরে এবছর ফেব্রুয়ারির মিউনিখ সফরকালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করতে শেখ হাসিনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবশ্য এর আগেই ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহরণকারী ভোটডাকাতির নির্বাচনের পরে ইউরোপ আমেরিকা ও জাতিসংঘের সাথে জার্মানীও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। এর পর পরই শেখ হাসিনা জার্মানীতে গিয়ে চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ চেয়ে বিফল হন।

Content Protection by DMCA.com

পাসপোর্ট না থাকায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের পাইলট কাতার বিমান বন্দরে আটক!

সঙ্গে পাসপোর্ট না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক পাইলটকে আটকে দিয়েছে কাতার ইমিগ্রেশন।গতকাল বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে অবস্থান করছেন। অপর একটি বেসরকারি বিমানের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট পাঠিয়ে তাকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গতকাল বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়।

বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে কাতার ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে। পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং এই পাসপোর্ট কাতারে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানোর চেষ্টা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু কাতার এয়ারলাইন্স জানায়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া একজনের পাসপোর্ট্‌ বহনের নিয়ম নেই।

পরে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। রিজেন্ট এয়ারলাইন্সও ওই পাসপোর্ট বহনে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে পাসপোর্ট ছাড়া একজন পাইলট কীভাবে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ গেলেন এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ছাড়া দেশত্যাগ ও অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বলেন, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট বহন করবে না রিজেন্ট এয়ার।

এ বিষয়ে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের কোনো ক্রুর পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বড় ধরণের অপরাধ। দেশে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনারের একজন ইনস্ট্রাকটরের দায়িত্বও পালন করছেন। আগামী ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড’ ঘোষণা করে সুপ্রীম কোর্ট

১৫ মার্চ ১৯৯৯

প্রধান বিচারপতি এটিএম আফজলের সভাপতিত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ জন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ গতকাল এক আদেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রংহেডেড’ ঘোষণা করে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করতে আরো সতর্ক থাকতে নিদেশ দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও সুপ্রিমকোর্ট বার সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া আপিল বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন। কর্মরত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযোগ আনতে গিয়ে এডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভূঁইয়া নিজেকে কোর্টের একজন কর্মকর্তা হিসেবে পুনরায় উল্লেখ করে গত ১ ফেব্রুয়ারী এই আবেদন করেন। আবেদনে তিনি গত ৩০ জানুয়ারি ১৯৯৯ দৈনিক দিনকাল ও দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত কতিপয় বিবৃতি আমার নজরে আনেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ ভারত থেকে ফিরে গত ২৯ জানুয়ারি গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব বক্তব্য রাখেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন ক্ষমতাসীন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ শুনানি শেষে গতকাল আদেশে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আনীত আদালত অবমাননার মামলাটি দেখলাম।

আবেদনে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে এই অভিযোগ করা হয় যে, কথিত বিবৃতিগুলো সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল। কেননা তিনি ভাল ভাবেই জানেন যে, এ ধরনের বিবৃতি সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। তথাপি তিনি এ ধরনের মিথ্যা বিবৃতি দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিজ্ঞ বিচারপতিগণ ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির উচ্চ ভাবমূর্তি এবং অভিযোগ করার অযোগ্য ন্যায়পরায়ণতা ও বিচক্ষণতাকে সচেতনভাবে খর্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আবেদনকারী সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা জানিয়েছেন।

এটর্নি জেনারেলকে অবহিত করে ১৯৯৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য আবেদনটি তালিকাভুক্ত হয়। শুনানিকালে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিতে কথিত আক্রমণাত্মক অংশ আবেদনকারী উল্লেখ করে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন “……… গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট দু’’দিনে হাইকোর্টে ১২শ’ মামলার জামিন হয়েছিল। এটা কখনো হতে পারে না। এরপর কোর্ট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেননি।

“…. বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে, দু’দিনে ১২শ’ মামলার জামিন হয়ে যায়। কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? এটা প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে আনা হয়েছে। যদিও কোর্ট চেঞ্জ করা হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা তিনি নেননি। যদি তদন্ত করা হতো এবং ব্যবস্থা নেয়া হতো তবে জুডিসিয়ালি অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেত। জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের কোন সন্দেহ দেখা দিত না। শুনানিকালে অন্যান্য বেশ কয়েকটি পত্রিকা যেমন দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রথম আলো, বাংলার বাণী, সংবাদ, মুক্তকণ্ঠ, দি নিউ নেশনে প্রকাশিত রিপোর্টও আমাদের কাছে উদ্ধৃত করা হয়। এতে দেখা যায় যে, ‘দিনকাল’ ও ‘সংগ্রাম’ ছাড়া আর কোনো সংবাদপত্রে কথিত মন্তব্য যথাক্রমে …. এটা কখনও হতে পারে না ….. কিভাবে হলো, কেন হলো? এটা কোনদিন হয়? ….. খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ এভাবে লেখা হয়েছে যে,……এদের জামিন কিভাবে হলো সেটাই প্রশ্ন। অনুরূপভাবে সংগ্রাম ছাড়া অন্য কোনো পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি……বাংলাদেশের হাইকোর্টের এমন অবস্থা করে রেখে গেছে পূর্বের সরকার যে…..তবে প্রায়শই যেমনটা ঘটে তা হল প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, ২ দিনে (২৫ ও ২৬ আগষ্ট ১৯৯৮) হাইকোর্ট (তিনি হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চকে অর্থ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে) ১২শ’ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছে। এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি শুধু বেঞ্চটি পরিবর্তন করেন। তবে অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তিনি পদক্ষেপ নিলে বিচার বিভাগ সম্পর্কে জনগণের কোনো সংশয় থাকত না।

আমাদের এমনও অভিজ্ঞতা রয়েছে যে আমাদের দেশের সংবাদপত্রের খবরের ওপর সবসময় বিশ্বাস করাটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও কষ্টকর। এই মামলায় সেই কষ্টকর অবস্থাটা না কমে বরং বেড়েছে। এর কারণ হল প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত (বিনা প্রস্তুতিতে) মন্তব্যের ভিত্তিতেই এ রিপোর্ট পরিবেশন করা হয়েছে। এটর্নি জেনারেল আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তুত করা বিবৃতির ক্যাসেট রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার উপস্থিত মন্তব্যের কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। 

২ দিনে ১২শ’ মামলার জামিন মঞ্জুর করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। তা হল ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসে আদালতের বার্ষিক দীর্ঘ ছুটির প্রাক্কালে ২ দিনে (২৬ ও ২৭ আগস্ট, ১৯৯৮) হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চের একটি বেঞ্চ বিপুলসংখ্যক মামলায় জামিন মঞ্জুর নিয়ে কতিপয় সংবাদপত্রে কিছু কিছু রিপোর্ট/মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোন ব্যক্তির নিকট থেকে এ রকম সন্দেহজনক বিবৃতি দেখে আমরা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছি। হাইকোর্টের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞাত কোন ব্যক্তির পক্ষে এরকম মন্তব্য করা একেবারেই অসম্ভব। বিচারকদের এরকম হারে জামিন দেয়ার ক্ষমতা থাকলে আদালতে এত কাজ জমা থাকতো না। আমাদের সন্তুষ্টির জন্য বিষয়টি পরীক্ষা করে আমরা দেখেছি যে, বর্ণিত ২ দিনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কর্তৃক রুল ও জামিনের সংখ্যা মোট (৮৩+৭২) =১৫৫ এবং আগাম জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা (২১৯+১৪৮) =৩৬৭।

এ পরিস্থিতিতে আমরা সন্দেহজনক রিপোর্ট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিবৃতি চাওয়াটা উপযুক্ত বলে মনে করি ও সেমতে এটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করি। মুলতবীর দিনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি আমাদের কাছে আসে। বিবৃতিতে বলা হয়, ২৯ জানুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনে ভারত সফর সম্পর্কে বক্তব্য রাখার পর সাংবাদিকগণ আমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন যার উত্তর বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্নভাবে পরিবেশন করা হয়েছে। প্রশ্ন-উত্তরের এক পর্যায়ে দুর্নীতি মোকদ্দমা বিচারে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে আমি বলি যে, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে, সেখানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ইতিপূর্বে খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল যে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে দু’দিনে ১২০০ জামিন দেয়া হয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের সংবাদ/মন্তব্য আমার নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশিত হয় যে, জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিতে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যা জাতীয় সংসদের গণসংযোগ শাখা সঠিক নয় বলে প্রকাশ করেছে। একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় এমনও মন্তব্য করা হয়েছে, “When the hate campaign was building, the Law Minister and the Attorney General met the helpless Chief Justice almost daily, Reportedly trying to influence the latter…..” (Weekly Holiday of 6011-1998. Page-1, Caption : “Supreme Court under clouds” by Akbar Imam).

মাস তিনেক আগে খবরের কাগজে আগাম জামিনের শুনানির ব্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চে এই অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ দেয়া হয়। সেখানে একজন সিনিয়র এডভোকেট বলেন যে, ঐ বেঞ্চে তার মক্কেলগণ সুবিচার পাবে না। এ সকলের প্রেক্ষিতে যখন সাংবাদিক সম্মেলনে মোকদ্দমা বিচার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় তখন খবরের কাগজে প্রকাশিত উপরোক্ত সংখ্যার উল্লেখ করে, আমার যতটুকু মনে পড়ে, আমি বলেছিলাম ঐ ঘটনা প্রধান বিচারপতিকে জানানো হলে তিনি বেঞ্চ পরিবর্তন করে দেন আর কোন ব্যবস্থা নেননি, ব্যবস্থা নিলে জুডিসিয়াল অনেক দায়-দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতো এবং জুডিসিয়ালি সম্পর্কে মানুষের মনে কোন সন্দেহ দেখা দিত না। দেশে আইন-শৃঙ্খলা ও সেই প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ/মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি এ অভিমত প্রকাশ করেছিলাম। এ অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বিচারকদের সততা সম্পর্কে কোন সন্দেহ প্রকাশ করিনি, বা এ অভিমত প্রকাশ করার পেছনে আদালতের বা প্রধান বিচারপতির মর্যাদা ক্ষুণ করার বা বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করার কোন অভিপ্রায় আমার ছিল না।

প্রধানমন্ত্রীর ১২শ’ মামলার সংখ্যার সূত্র হিসাবে পত্রিকার রিপোর্টের উল্লেখ করেছেন, যদিও পত্রিকাগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে এরকম হতে পারে যে, পত্র-পত্রিকায় তিনি এ ধরনের সংখ্যা দেখে থাকতে পারেন। সর্বোপরি তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সংবাদপত্রে পূর্বেই উচ্চতর আদালতের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেছেন। কোন সত্য ঘটনা কিংবা সংখ্যা দেয়ার পূর্বে তার আরো সতর্ক ও সাবধান হওয়া উচিত ছিল এবং সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করাটা ঠিক হয়নি। সঠিক সংখ্যা পেলেও আরো অনেক মামলায় ঐ জামিন মঞ্জুর করা হয়েছিল এমনটা মনে করে তিনি মন্তব্য করলেও আমাদের কিছুই বলার থাকতো না। কারণ প্রধান নির্বাহী হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কিত বিষয়ে তিনি নিজস্ব মন্তব্য দিতে পারেন। আদালতের কার্যক্রম ও অসুবিধা সম্পর্কিত বিষয় প্রধান বিচারপতির নজরে আনাটা নির্বাহীর জন্য কোন ভুল নয়। তবে প্রধান বিচারপতিকে জড়িয়ে সংবাদপত্রকে প্রধান নির্বাহী কোন কিছু বললে বেশি বিব্রতকর কোন কিছুই হবে না। কেননা তার মত প্রধান বিচারপতি কোন জবাব প্রদানে সংবাদপত্রে মন্তব্য করতে পারে না। হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চ গঠন কিংবা পুনর্গঠন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে কারোর কোন মন্তব্য নেই কিংবা কারোর আদেশে এটা করা হয়নি। ইহা পুরোপুরি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারভুক্ত ও তার ব্যক্তিগত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। সঠিক তথ্যাবলি জানতে কেবল তিনি সতর্ক থাকলে বর্তমান ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য কেমন বিব্রতকর তা ধারণা করা যেতো। জামিন মঞ্জুরের বিষয়টি সংবাদপত্রে আলোচিত হওয়ার বহু আগেই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের গঠন (কার্যক্রম বণ্টন) প্রধান বিচারপতি পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি ১৯৯৮ সালের ২৬ আগস্টের আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যে এমনটা ফুটে উঠেছে যে সরকারের কারণেই বেঞ্চের গঠন পরিবর্তন করা হয়েছে যা সঠিক নয় প্রধান বিচারপতি তাকে কেন্দ্র করে মন্তব্যে যথেষ্ট অস্বস্তি অনুভব করেছেন। এর কোন সরাসরি জবাব তিনি দিতে পারেন না কিংবা তার প্রশাসনের আওতায় পড়ে এমন কোন বিষয় ব্যাখ্যা কিংবা পালনেও তিনি বাধ্য নহেন। আদালত অবমাননার বিচারের জন্য আমাদের কাছে পেশ করা ঘটনাবলি নিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে গিয়ে আমরা লর্ড এ্যাটকীনের বাণী এখানে উদ্ধৃত করছি। আদালতে সর্বদাই আমরা এ বাণী মেনে চলি লর্ড এ্যাটকীন বলেছেনঃ
“… The path of critism in a public way; The worngheaded are permitted to carr therein; provided that members of the public abstain from imputting improper motives to those taking part in the administration of justice, and are genuinely exercising a right of criticism and not acting in malice or attempting to impair the administration of justice is not a cloistered virtue; she must be allowed to suffer the security and respectrul even though outspoken comments of ordinary men.”

সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে লক্ষ রাখতে হবে যে, প্রধানমন্ত্রীকে তার পদে থেকে সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে উপস্থিত মন্তব্য করার ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে বলে আদালত আশা করে। এসব কারণে উপরোক্ত মন্তব্যের আলোকে আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হল।

Content Protection by DMCA.com

টেলিযোগাযোগ খাত লুটপাটে প্রধানমন্ত্রী পুত্রের তুঘলকি কান্ড: ৫ বছর বয়স জালিয়াতি করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান পদে অবৈধভাবে নিয়োগ লাভ করেন শাজাহান মাহমুদ!

জালিয়াতি প্রতারণার চরম এক নজির স্থাপন করা হয়েছে বিটিআরসির চেয়ারম্যান নিয়োগে। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত তথা ইন্টারনেট বানিজ্যের নিয়ন্ত্রক ও ভিওআইপি দুর্নীতির প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন, যা সংক্ষেপে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ড. শাহজাহান মাহমুদ নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি পেশায় প্রকৌশলী হলেও ছিলেন ওয়াশিংটন মেট্রো আওয়ামীলীগ সভাপতি এবং মার্কিন নাগরিক। টেলিযোগাযোগ খাত লুটপাট করতে শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয় ফিট করেন তার পরম ঘনিষ্ট এই শাজাহান মাহমুদকে। এর মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার স্যাটেলাইট পাঠাতে গিয়ে খরচ করেন ৩ হাজার কোটি টাকা, বাকী ২ হাজার কোটি টাকা লুটপাট। এছাড়াও ভিওআইপি,
আইজিডব্লিউ ও আইসিএক্স লাইসেন্স দেয়া বাবদ কমিশন বাবদ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, এটুআই প্রজেক্ট থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়ার কাজ করে দেন শাজাহান। আইসিটির খাতে জয়ের দুর্নীতির সকল কাজের কাজী প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমদ পলককে দিয়ে মন্ত্রণালয়টি নিয়ন্ত্রণ করেন জয়। এখানেই পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, যিনি ২০১৪ সালে আমেরিকাতে এক ইনফর্মাল সমাবেশে হজ্জ ও ওমরা নিয়ে বেফাঁস কথা বলার দায়ে কেবল মন্ত্রী পদ হারাননি, মামলা খেয়ে জেলেও গেছেন, শেষে রাজনীতি ছাড়া হয়েছেন। মুলত, তার চাকরিচ্যুতির মূল কারণ ছিল জয়ের গোপন ডিলিংস অর্থাৎ প্রতিমাসে ২ লাখ ডলার বেতনের খবর তিনি ফাঁস করে দিয়েছিলেন। এর বাইরে মেক্সিকান টেলিকম টাইকুন কার্লোস স্লিম হেলুকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে দেয়ার বিনিময়ে ২৫ মিলিয়ন ডলার কমিশন মেরে দিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী, জয়কে ভাগ না দিয়েই।

এরপরেই জয় বিটিআরসিতে নিজের লোক বসানোতে উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে মায়ের নিয়োগ করা ড. ইকবাল মাহমুদকে জয়েন করতে না দিয়ে সেখানেই নিয়োগ দেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ড. শাজাহান মাহমুদকে। এই নিয়োগ পেতে শাজাহান মাহমুদ নিজের নাম, বয়স, পিতার নাম, ঠায় ঠিকানা সবকিছু নিয়েই জালিয়াতির আশ্রয় নেন। মেট্রিক সনদ অনুযায়ী শাজাহানের জন্ম তারিখ ছিল ০৩/০১/১৯৪৮, আর তাতে ২০১৫ সালে তার বয়স দাড়ায় ৬৭ বছর। যেহেতু, বিটিআরসি আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর, কাজেই তিনি ঐপদে নিয়োগ লাভের অনুপযুক্ত। কিন্তু শাজাহান সাহেব তার জন্ম তারিখ বদলে ফেলেন ১২ মে ১৯৫৩! শুধু জন্মতারিখ নয়, তিনি তার নিজের নাম মো. শাজাহান থেকে করেছেন শাজাহান মাহমুদ, পিতার নাম– ইয়াসিন আলী থেকে করেন মৃত মন্সী মো. ইয়াসিন, ঠিকানা- মুলতলী রংপুর থেকে হয়ে যায় বাড়ি-১৫, রোড-৫, সেক্টর-৭ উত্তরা ঢাকা ১২৩১। এর কারন যাতে করে তাকে কেউ খুঁজে না বের করতে পারে! তিনি আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

শাজাহান মাহমুদের জন্ম তারিখ যে ০৩/০১/১৯৪৮, তার রেকর্ড আছে মেট্রিক সনদে। তিনি বুয়েট থেকে ১৯৬৯ সালে গ্রাজুয়েট হন। ৫৩ সালে জন্ম হলে ১৯৬৯ সালে, অর্থাৎ ১৬ বছর বয়সে বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েট হওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে তার জন্ম ১৯৪৮ সাল, মেট্রিক পাশ করেন ১৯৬৩ সালে রংপুর জেলা স্কুল থেকে, ইন্টারমিডিয়েট ১৯৬৫ সালে কারমাইকেল কলেজ থেকে। ২০০৭ সালে বুয়েটের রিইউনিয়নে ১৯৬৯ ব্যাচে মো. শাজাহান রেজিস্ট্রেশন করেন ৬৫২৮৪, তাতে তিনি লিখেন জন্মতারিখ ০৩/০১/১৯৪৮, ভর্তি ১৯৬৫ সাল।

কাজেই দেখা যাচ্ছে, বিটিআরসি আইন অনুসারে শাজাহান মাহমুদের নিয়োগ অবৈধ। তিনি জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে যে নিয়োগ লাভ করেছেন, তা শুধু অবৈধই নয়, ফৌজদারী অপরাধ, এবং গত চার বছরের তার সকল কর্মকান্ড বাতিলযোগ্য, তার গৃহিত বেতন ভাতা সব পিডিআর অ্যাক্ট অনুসারে আদায়যোগ্য। তার এই মারাত্মক অপরাধের বিচার করা হলে ৭ থেকে ১৪ বছর বা অধিক কারাদন্ড হতে পারে।

যার নিয়োগ বাতিল করে এই শাজাহান মাহমুদকে নিয়োগ দেয়া হয় সেই ইকবাল মাহমুদ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। দুদক চেয়ারম্যান কি শাজাহান মাহমুদের অবৈধ নিয়োগ, দুর্নীতি, এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অনুসন্ধান ও তদন্ত করে বিচারের সম্মুখিণ করার ক্ষমতা রাখেন?


জাল জালিয়াতির ক্ষেত্র গুলো:

নাম: মো. শাজাহান থেকে পরিবর্তন করেন শাহজাহান মাহমুদ,
জন্ম তারিখ: ০৩/০১/১৯৪৮ থেকে বদলান ১২/৫/১৯৫৩
পিতার নাম: ইয়সিন আলী থেকে করেন মৃত মন্সী মো. ইয়াসিন
ঠিকানা: মুলতলী, রংপুর থেকে করেন হাউজ ১৫, রোড ৫, সেক্টর ৭ উত্তরা ঢাকা ১২৩১

Content Protection by DMCA.com

‘মাথায় গোলমাল’ বিষয়ে ওয়াসার এমডিকে সেই মিজানুরের চ্যালেঞ্জ

24 Apr, 2019

ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন জুরাইন নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান।

তাকসিম এ খানকে শরবত খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের ঘটনাকে ষড়যন্ত্র ও সাজানো নাটক হিসেবে উল্লেখ করেন ওয়াসার এমডি।

এছাড়া এমডি বলেন, মিজানুরের মাথায় একটু গোলমাল আছে।

এমডির এমন মন্তব্যের পর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মিজানুর রহমান।

বুধবার বিকালে যুগান্তরকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াসার এমডি সাহেবের সঙ্গে তো আমার কোনো ব্যাক্তিগত সমস্যা নাই। রোশারেশি নাই। এটা তো আমার ব্যাক্তিগত ব্যাপার না। তিনি বলেছেন, ঢাকায় ওয়াসার শতভাগ পানি সুপেয়। শুধুমাত্র আমি এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছি।

মাথায় গোলমালের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মাথায় গোলমাল আছে কিনা বা আমি পাগল কিনা তিনি সেটা প্রমাণ করুক। আমার সঙ্গে তো তার ব্যাক্তিগত রেশারেশি নাই। আমি পাগল কি পাগল না এটা তো বড় বিষয় না। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করলাম সে প্রমাণ করে দেখাক আমি পাগল কিনা।

শরবত খাওয়ানো নিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও সাজানো নাটকের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করে মিজানুর বলেন, আমি তাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম যদি এমডির সৎ সাহস থাকে তাহলে প্রমাণ করুক।

এর আগে এদিন সকালে ওয়াসার এমডি তাসকিন এ খান বলেন, ‘টিআইবির রিপোর্ট আমি প্রত্যাখ্যান করছি। এ নিয়ে কোনও কথা বলতে আমি রাজি নই।’

সেইসঙ্গে ওয়াসার পানি নিয়ে নগরবাসীর প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘সাজানো নাটক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তাসকিন এ খান বলেন, ‘আমরা আমাদের স্টাডি থেকে পেয়েছি যে, লিকেজ থেকে বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়। এখন জানা দরকার, মিজানুরকে দিয়ে এই ষড়যন্ত্র করালো কে? বিষয়টি পুরোপুরি সাজানো নাটক।’

মিজানুরের দিকে পাল্টা অভিযোগ তুলে ওয়াসা এমডি বলেন, ‘এটা তার বাসার পানি না। তাকে কে বা কারা সহযোগিতা করছে, এটা জানা দরকার। কারণ, সরকাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অনেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘মিজানুরের ভাই বলেছে, তার ভাইয়ের মাথায় নাকি একটু গোলমাল আছে। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না।’

সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার তার বাসায় গিয়ে ওয়াসার লোকেরা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, দুপুর দুইটার দিকে কে বা কারা আমার স্ত্রীর বাসায় প্রবেশ করে কোনো অনুমতি ছাড়াই। পরে আমি তাদের সঙ্গে ফোনে কথাবার্তা বললে তারা আমার ওপর চড়াও হয়। এরপর আমি ফোন কেটে দিয়ে তাড়াতাড়ি বাসায় যায়।

মিজানুর রহমান বলেন, আমি বাসায় যাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞেস করি তারা অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছে কিনা। তারা অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করেছে বললেও আমার স্ত্রী বলে তারা অনুমতি নেননি।

হুমকির বিষয়ে প্রশ্ন করলে মিজানুর বলেন, তারা আমাকে মামলা-হামলার হুমকি দিয়েছে। আমার সঙ্গে খারাপ আচারণ করেছে। তারা দেখে নেয়ারও হুমকি দিয়েছে।

হুমকিদাতারা কারা? এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর বলেন, তারা সবাই ওয়াসার লোকজন। আমি তদের সবাইকে চিনি। তারাই এসে আমাকে হুমকি দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওয়াসা ভবনে ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অথরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানকে ‘শতভাগ বিশুদ্ধ’ পানি দিয়ে শরবত খাওয়াতে যান মিজানুর রহমান।

এমডিকে ওয়াসার পানির শরবত খাওয়াতে না পেরে হতাশ মিজানুর বলেন, এ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার পানি খেয়ে যারা অসুস্থ হয়েছে বা মারা গেছে, তদন্ত করে ওয়াসাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ পর্যন্ত ওয়াসা দূষিত পানি দিয়ে যে বিল নিয়েছে, তা গ্রাহকদের ফেরত দিতে হবে। এই ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত ওয়াসাকে আর এক পয়সাও বিল দেব না।

Content Protection by DMCA.com

‘মোবাইল চোর’ বলে ৫০ সাংবাদিককে আটকে দেহ তল্লাশি করলেন শমী কায়সার!

24 Apr, 2019

নিজের দুটি স্মার্টফোন চুরি যাওয়ায় প্রায় অর্ধশত সংবাদকর্মীকে আধঘণ্টারও বেশি আটকে রেখেছেন অভিনেত্রী শমী কায়সার। এ সময় তিনি সাংবাদিকরা মোবাইল চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন এবং তার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশিও করান। এ সময় কেউ কেউ বের হতে চাইলে ‘চোর’ বলে ওঠেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মী। শমী নিজে গেটে দাড়িয়ে যান, এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সংবাদকর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে। পরে অবশ্য সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় অজ্ঞাতনামা কোনো এক চোর ফোন দুটি সরায়। ঘন্টাখানেক হৈচৈয়ের পরে আয়োজকরা ক্রমাগতভাবে ক্ষমা চাইতে থাকে। এসব গন্ডগোলের মধ্যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসনা মাহমুদ উপস্থিত হননি।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় অর্ধশত ফটো ও ভিডিও ক্যামেরা এবং শতাধিক মানুষের সামনে চুরি হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসডেন্ট শমী কায়সারের দুটি স্মার্টফোন।

শমী কায়সার জানান, ফোন দু’টিতে তার অনেক গুরুত্বপূর্ন ডকুমেন্ট ভিডিও রয়েছে, যা ফাঁস হয়ে যাবার ভয়ে তিনি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন!

Content Protection by DMCA.com

দল গোছানোর মিশনে বিএনপি

25 Apr, 2019

বিএনপি এখন দল গোছানোর মিশনে। শক্তি সঞ্চয় করেই দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে মাঠে নামতে চায় দলটি। এর আগে দলের জেলা পর্যায়ের কমিটি ও সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দলের ৬২টি সাংগঠনিক জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাকি দশ মহানগর ও কয়েকটি জেলার সঙ্গেও শিগরিই স্কাইপিতে কথা বলবেন তিনি। তৃণমূল নেতাদের সাংগঠনিক দিক নির্দেশনার পাশাপাশি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতেও আহ্বান জানানো হয়েছে। সামগ্রিক বিষয় তদারকি করতে সপ্তাহে একদিন (প্রতি শনিবার) স্থায়ী কমিটির বৈঠক বসবে। সেখানেও লন্ডন থেকে স্কাইপিতে যুক্ত হবেন তারেক রহমান। দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, যেসব জেলার নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমান কথা বলেছেন, ওইসব জেলায়ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মতবিনিময় করছেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন বা থানা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কি অবস্থা তা নিয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওইসব কমিটি গঠনের দিক নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি দল গোছানোর ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাদের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে তৃণমূল নেতারা বলছেন, ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় সব কমিটিই কাউন্সিলের মাধ্যমে হতে হবে। পকেট কমিটি বা চাপিয়ে দেওয়া কমিটি যেন না হয়, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখন আমাদের এক নম্বর কাজ হচ্ছে দল গোছানো। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরই মধ্যে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও হচ্ছে। এরপর আমরা বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথমুখী হব। একইসঙ্গে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এরই মধ্যে ৬২টি জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলেছেন তারেক রহমান। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে হবে। মূলত সাংগঠনিক বিষয়েই তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।’ জানা যায়, এরই মধ্যে কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল, বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এবং এ্যাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। এ ছাড়া মহিলা দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিগগিরই ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ কমিটি করতে এরই মধ্যে সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে একটি ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতেও সার্চ কমিটির নেতারা বৈঠক করেছেন। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ জানুয়ারিতে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সাবেক এক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আপাতত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র নেতাদের নেতৃত্বেই এ কমিটি হতে পারে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-ডাকসুর আদলে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ নিয়েই মূলত সার্চ কমিটি কাজ করছে। এ দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুবদল এরই মধ্যে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে। সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানও নিয়মিত কথা বলছেন। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজও চলছে। সূত্রমতে, আগামী তিন চার মাস বিএনপি দল গোছানোতেই ব্যস্ত থাকবে। রমজানে ইফতার পার্টির মাধ্যমেও সাংগঠনিক কর্মকা চালু রাখবে। তবে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে এবার বিএনপির পক্ষ থেকে ইফতার পার্টি কম করা হবে। রমজানের পর কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিজ নিজ জেলায় আবারও যাবেন। সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে দলের হাইকমান্ডকে রিপোর্ট করবেন তারা। দল গুছিয়ে কোরবানির ঈদের পর বিএনপি মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপি একই বার্তা দিয়েছে। সবাইকে দল গোছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে বিএনপির এক নেতা জানান, জেলা বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের কমিটি হলেও আপাতত কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হবে না। দলের চেয়ারপারসন বেগম জিয়া কারামুক্ত হলেই তার নেতৃত্বে বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী বিভাগে বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিভাগটির সব জেলায় আমি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। তৃণমূলের বক্তব্য হচ্ছে, সব পর্যায়ের কমিটি হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে। কেন্দ্র থেকে চাপিয়ে দেওয়া বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনের কোনো কমিটি দেওয়া যাবে না। ওয়ার্ড-ইউনিয়ন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সব কমিটিই সম্মেলনের মাধ্যমে হতে হবে। এ বিষয়টি আমি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, জেলা-উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর কি অবস্থা তা আমরা জানার চেষ্টা করেছি। তৃণমূলে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, থানা বা উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠনে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, সম্প্রতি পুরাতন কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে নিজের আইনজীবীদের ওপর ক্ষুব্ধ হন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আইনজীবীদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় তিনি খুবই বিরক্ত হন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আমি এখনো কেন জেলখানায়? আইনজীবীরা কী করছেন? কেন আমাকে মুক্ত করতে পারছেন না? আমার মামলার আপিল হচ্ছে না কেন? এরপরই বিএনপির স্থায়ী কমিটি বৈঠক করে আইনজীবীরা কে কোন মামলায় লড়বেন তা সুনির্দিষ্ট করে দেন। এ নিয়ে সর্বশেষ সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বেগম জিয়ার মামলার আইনি লড়াই নিয়েও নেতাদের সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেগম জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলীকে। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন। অন্যদিকে নিম্ন আদালতে নাইকো মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট রেজ্জাক খান। গ্যাটকো মামলায় লড়বেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। তাদের সহযোগিতা করবেন দলের সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীরা। এ ছাড়া বৈঠকে বেগম জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ও সাংগঠনিক বিষয়ে কথা বলেন সদস্যরা। এতে স্কাইপিতে যুক্ত হন তারেক রহমান।

Content Protection by DMCA.com

হাতের ঠেলায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং, ভিডিও ভাইরাল

22 Apr, 2019

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ভূলকোট- নন্দনপুর সড়কে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কমদামি ইরানি বিটুমিন এবং সড়কে ১২ এমএম সিলকোড পাথরের স্তর দিয়ে কার্পেটিং করার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না সিলকোডের কার্পেটিং।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ শুরু করে আশুগঞ্জের বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন। কাজের শুরুতেই হাতের ঠেলায় উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে তারা এ দুর্নীতি করে যাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংষ্কার করা হয়নি। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অর্ধ লক্ষাধিক জনগণ আশা যাওয়া করে। উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়নের মূল সড়ক ভূলকোট-নন্দনপুর সড়ক। এই রাস্তা হচ্ছে ওই ইউনিয়নের সদরে যাওয়ার রাস্তা।

দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গা সড়কের মেরামতের কাজ শুরু দেখে আনন্দে আত্মহারা ওই ইউনিয়নের লোকজন। কাজের শেষ দিকে ওই আনন্দ আর থাকেনি।

বর্তমান সরকার ২ কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজের জন্য আশুগঞ্জের বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন নামের এক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেন। সড়কের সংষ্কার কাজের মূল্য ধরা হয় ৩৭ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল কনস্ট্রাকশন বাহুবল উপজেলা ভবন কমপ্লেক্সের ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার কাজেও তারা ব্যবহার করছে নিম্নমানের ইট।

পিকেএসপির রড দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের রড। সিমেন্ট-বালুর মিশ্রিত আস্তরে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সামনেই হচ্ছে এ দুর্নীতি।

এ দিকে ভূলকোট-নন্দনপুর সড়কের দেখভালের দায়িত্ব পান বাহুবল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিন। এলাবাসীর অভিযোগ কাজ শুরুর প্রথম দিকে উপজেলা প্রকৌশলীর সামনেই ইটের খোয়ার সঙ্গে নিম্নমানের ইটের খোয়া মিশিয়ে সড়কের ওপর ফেলে। তাও আবার ভালো করে ডলন না দিয়েই কার্পেটিং শুরু করে।

বৃষ্টির মাঝে এ সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করলে স্থানীয় গ্রামবাসী বাধা দেন। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

শনিবার বিকালে গ্রামবাসী সড়কে এসে হাতের ঠেলা দিয়ে তুলে ফেলেন কার্পেটিংয়ের অনেক অংশ। নিম্নমানের কাজ করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অনেকেই কার্পেটিং হাত দিয়ে তুলে সামাজিক মাধ্যমে লাইভ দিয়েছেন। ভাইরাল হয়ে যায় পুরো ভিডিওটি।

স্থানীয় যুবক শামছুদ্দিন রুবেল বলেন, এ সড়কটি নিম্নমানের ইটের খোয়া ও ভিটুমিন কম দিয়ে কার্পেটিং করার কারণে হাতের আঙুল দিয়ে খামছি দিয়ে তুলে ফেলা যাচ্ছে। সরকারি সিডিউল মোতাবেক কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে না।

বাহুবল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ওই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী সাংবাদিক জাবেদ আলী বলেন, ওই রাস্তায় সরকারি কাজের ষোল আনার মধ্যে বারো আনা ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। কাজ হচ্ছে ৪ আনার। আমাদের সর্ষের ভিতরে ভূত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাহুবল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মহিউদ্দিনের সাথে অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জসীম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে (শনিবার) দেখেছি। জেলার সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি তুলেছি। ডিসি স্যার তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। কাজ বন্ধ রেখেছে এলাকাবাসী, এলাকায় জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।

Content Protection by DMCA.com

জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা নিজ কানে শুনেছেন শেখ হাসিনাঃ ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাক্ষাৎকারে একাত্তরের বন্দিজীবন

সৈয়দ আবদাল আহমদ

একাত্তরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ২৭ মার্চ ’৭১ শেখ হাসিনা নিজ কানে শুনেছেন। আণবিক শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানী ড. মোজাম্মেল হোসেনের মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ঝিলপাড়ের বাড়িতে থেকে শেখ হাসিনা ও ড. ওয়াজেদ মিয়া একসঙ্গে ওই ঘোষণা শুনেছিলেন। রেডিওতে প্রচারিত ঘোষণাটি শুনে সেদিন উজ্জীবিত হয়েছিলেন তারা।

১৯৯১ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা আণবিক শক্তি কমিশন অফিসে আমাকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. ওয়াজেদ মিয়া একথা জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা একাত্তরের বন্দিশিবিরে কীভাবে কাটিয়েছিলেন সে কাহিনী জানার জন্য ওই সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। ড. ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনার বন্দিশিবিরের জীবন ছাড়াও সেদিন তার লেখা ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু স্মৃতি কিছু কথা’ শীর্ষক প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ও আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। ফলে সাক্ষাত্কার সম্পন্ন করতে আমার বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এজন্য বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আমাকে ড. ওয়াজেদ মিয়ার অফিসে কাটাতে হয়। অবশ্য মধ্যাহ্নের খাবার এবং কিছুক্ষণ পর পর চা-নাশতায় আপ্যায়ন করতে ভোলেননি ড. ওয়াজেদ মিয়া। পরে ওই পাণ্ডুলিপিটিই বই আকারে বের হয়। 

একাত্তরে শেখ হাসিনার বন্দিজীবন নিয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ওই সাক্ষাত্কারটি ১৯৯১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দৈনিক বাংলার বিজয় দিবস সংখ্যায় ‘যেন এক দুঃস্বপ্ন’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ড. ওয়াজেদ মিয়ার এই সাক্ষাত্কার নেয়ার একটি নেপথ্য কাহিনী রয়েছে। দৈনিক বাংলার বিজয় দিবস সংখ্যার জন্য সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার একাত্তরের বন্দিজীবন নিয়ে দুটি নিবন্ধ লেখার সিদ্ধান্ত হয়। খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন সম্পর্কে আমাকে এবং শেখ হাসিনার বন্দিজীবন সম্পর্কে লেখার দায়িত্ব দেয়া হয় দৈনিক বাংলার তত্কালীন সিনিয়র রিপোর্টার শওকত আনোয়ারকে। বার্তা সম্পাদক ফওজুল করিম (তারা ভাই) আমাদের লেখার জন্য ৭ দিন সময় দিয়েছিলেন। আমি যথারীতি ৭ দিনের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার একাত্তরের বন্দিজীবন লেখাটি তৈরি করে জমা দেই। কিন্তু শওকত ভাই দশদিন পর অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে ওই দায়িত্বটিও আমার ওপর বর্তায়। 

চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর তেজস্ক্রিয় গুঁড়ো দুধ নিয়ে বাংলাদেশে বেশ হইচই পড়েছিল। চট্টগ্রামে তেজস্ক্রিয় গুঁড়ো দুধ ধরা পড়েছিল। আণবিক শক্তি কমিশনে এই দুধ পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই দুধের ওপর রিপোর্ট করতে গিয়ে ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। তাই অফিস অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই ড. ওয়াজেদ মিয়ার চেহারা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তত্ক্ষণাত্ তাকে ফোন করে শেখ হাসিনার সাক্ষাত্কার নেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার অনুরোধ করি। তিনি বিষয়টি অবহিত হয়ে বললেন, ‘ওইসব ঘটনার সাক্ষী আমি নিজেই। আমিই আপনাকে সবকিছু জানাতে পারব’। ফলে পরদিনই তার কাছে ছুটে যাই এবং শেখ হাসিনার একাত্তরের বন্দিশিবিরের কাহিনী জেনে নিবন্ধ আকারে তা দৈনিক বাংলায় ছাপার জন্য জমা দেই। প্রকাশিত সেই নিবন্ধ এখানে তুলে ধরা হলোঃ 

২৫ মার্চের বিভীষিকাময় রাতে শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন সাত মসজিদ রোডের এক বাসায়। এই রাতেই পাক হানাদার বাহিনী গ্রেফতার করে নিয়ে যায় তার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ সময় তার মা বেগম মুজিব শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে দেয়াল টপকে পাশের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। শেখ কামাল আগেই ৩২ নম্বর থেকে অন্যত্র পালিয়ে যান।৭ মার্চের পরই শেখ মুজিব বিপদের আশঙ্কা করেছিলেন। খাবার টেবিলে বসে একদিন তিনি বাড়ির সবাইকে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে মানসিকভাবে তৈরি থাকতেও বলেছিলেন। তখন থেকেই তিনি নিয়ম করেছিলেন দুপুর ও রাতে দু’বেলা সবাই একসঙ্গে খাবেন। 

১৮ মার্চের পর পরিস্থিতি যখন আরও জটিল হয়ে ওঠে, তখন তিনি শেখ হাসিনা ও ডক্টর ওয়াজেদকে পৃথক বাসা ভাড়া নিয়ে ৩২ নম্বর থেকে সরে যেতে বলেন। শেখ হাসিনা তখন অন্তঃসত্ত্বা। 

ডক্টর ওয়াজেদ এ সময় হাতিরপুলে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। ঠেলাগাড়ি দিয়ে ওই বাসায় মালামালও নিয়ে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই বাসায় ওঠেননি শেখ হাসিনা। তারা ৩২ নম্বরেই রয়ে গেলেন। ২১ মার্চের পর শেখ মুজিব ডক্টর ওয়াজেদকে আবারও বাসা ভাড়া নেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, তোমরা ৩২ নম্বর থেকে সরে যাও। ডক্টর ওয়াজেদ এবার সাতমসজিদ রোডে একটি বাসা ভাড়া নেন। 

২৫ মার্চ রাত ১২টায় পাকিস্তানি সৈন্যদের হামলার কিছুক্ষণ আগে শেখ হাসিনা চলে আসেন সাত মসজিদ রোডের ওই বাসায়। সঙ্গে নিয়ে আসেন ছোট বোন শেখ রেহানা এবং শেখ শহীদের ছোট বোন শেখ জেলীকে। ডক্টর ওয়াজেদ এর আধা ঘণ্টা আগে কাজের ছেলে পাগলাকে নিয়ে ওই বাসায় আসেন। 

২৫ মার্চ সারাদিন জমজমাট থাকার পর সন্ধ্যা থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছিল ৩২ নম্বরের বাড়ি। ততক্ষণে সবাই বুঝে গেছে ভয়ংকর কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। কিন্তু কি হতে যাচ্ছে? কারও কাছেই তা স্পষ্ট ছিল না। রাত সাড়ে দশটায় পরিচিত একজন জরুরি খবর নিয়ে ছুটে আসেন শেখ সাহেবের কাছে। কিন্তু ফটক ছিল তখন বন্ধ। খবর পেয়ে ডক্টর ওয়াজেদ বেরিয়ে আসেন ফটক পর্যন্ত। তারপর তাকে নিয়ে যান শেখ সাহেবের কাছে। ওই ব্যক্তিই জানান পাকিস্তানিদের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা।

এ খবর পেয়েই শেখ সাহেব ডক্টর ওয়াজেদকে শেখ হাসিনাদের নিয়ে তখনি ভাড়া বাসায় চলে যেতে বললেন। ২৭ মার্চে কারফিউর বিরতি পর্যন্ত এ বাসাতেই থাকেন শেখ হাসিনা। কারফিউয়ের বিরতির সুযোগে ২৭ মার্চ সকালে ডক্টর ওয়াজেদ বেরিয়ে পড়েন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের উদ্দেশ্য খোঁজখবর নিতে। বেরিয়ে পড়ার কিছুক্ষণ আগে দেয়াল টপকিয়ে তার বাসায় এসে একটি ছেলে জানায়, শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও অন্যদের কি অবস্থা তা জানতে ডক্টর ওয়াজেদ ৩২ নম্বরের কাছে যান। পথে এক বাসায় খবর পেলেন বেগম মুজিব তার সাতমসজিদের বাসার দিকে রওনা হয়েছেন। ডক্টর ওয়াজেদ সঙ্গে সঙ্গে ফিরে আসেন সাতমসজিদের বাসায়। 

এখানে থাকা নিরাপদ নয় মনে করে তিনি যোগাযোগ করেন মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় তার বন্ধু ড. মোজাম্মেল হোসেনের সঙ্গে। আণবিক শক্তি কমিশনে তারা একসঙ্গে চাকরি করতেন। কিন্তু বন্ধুর বাসায় একটি মাত্র কক্ষ খালি ছিল। তাই তারা দুটি ভাগে ভাগ হলেন। শেখ মুজিবের ফুফাতো ভাই মোমিনুল হক খোকা বেগম মুজিব, শেখ রেহানা, শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে নিয়ে চলে যান ওয়ারীতে তার শ্বশুর বাড়িতে। ডক্টর ওয়াজেদ শেখ হাসিনা ও জেলীকে নিয়ে যান মালিবাগ চৌধুরীপাড়া ঝিলের কাছে বন্ধুর বাসায়। সেদিন ছিল ২৭ মার্চ। বাসায় তারা অবস্থান করছেন। সন্ধ্যায় বন্ধু মোজাম্মেল হোসেন তাকে ডেকে বললেন, রেডিওতে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শোনা যাচ্ছে। ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনা জিয়ার সেই ঘোষণা নিজ কানে শুনলেন এবং অভিভূত হলেন। 

ওই বাসায় শেখ হাসিনা ও ডক্টর ওয়াজেদ মিয়ার পাঁচদিন কেটে যায়। ১ এপ্রিল মোমিনুল হক খোকা ওয়ারী থেকে এসে ডক্টর ওয়াজেদের নামে মালিবাগের একটি বাড়ির উপরতলা ভাড়া নেন। সেখানে বেগম মুজিব, শেখ রেহানা, শেখ জামাল, শেখ রাসেল ও খোকা এসে ওঠেন এবং ডক্টর ওয়াজেদকে খবর দেয়া হয়। ডক্টর ওয়াজেদ শেখ হাসিনা ও জেলীকে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে ওঠেন। শেখ কামালও ওই বাসায় এসে বেগম মুজিবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে চলে যান। এভাবে সপ্তাহ খানেক থাকার পর বেগম মুজিব হঠাত্ জানতে পারেন যে, বাড়িওয়ালা তাদের পরিচয় জানতে পেরেছে এবং গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন তাদের সতর্ক করে দিয়ে গেছে। এ কথা জানার পর ডক্টর ওয়াজেদ মগবাজারে প্রধান সড়কের ওপর বেগম বদরুন্নেসার স্বামী আহমদ সাহেবের বাসা ভাড়া নেন। কিছুদিন সবাই ওই বাসায় থাকার পর দেখা গেল পাকবাহিনীর লোকজন সিভিল ড্রেসে সেখানে ঘোরাফেরা করছে। তাই নিরাপদ নয় ভেবে ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনা মগবাজারের ভেতরে একটি বাসা ভাড়া নেন। 

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা হয়। তারা কোনো এক সুবিধাজনক সময়ে শেখ হাসিনাদের ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। একদিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনাসহ সবাই ঢাকার বাইরে পালিয়ে যাবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এমন সময় ওইদিন সকালে দেখা গেল পাকবাহিনীর লোকজন বাড়িটি ঘিরে ফেলেছে। জনৈক মেজর হোসেন ও জালাল নামে দুজন অফিসার এসে বলল, শেখ মুজিবের পরিবারকে আমরা গ্রেফতার করতে এসেছি। ডক্টর ওয়াজেদ তাদের কাগজ দেখাতে বললে ওই অফিসার ধমক দিয়ে বলল, দেশে এখন সামরিক আইন। আমরা সেনাবাহিনীর লোক। 

আমাদের কাগজ লাগবে না। এখনি যেতে হবে বলে ওই অফিসার ফোন করে আরেকটি আর্মি ইউনিটকে নিয়ে এলো। এরপর কর্ডন করে বেগম মুজিব, শেখ হাসিনাসহ সবাইকে নিয়ে গেল ধানমন্ডির ১৮ নম্বর রোডের বাসায়। 

বাড়িটি ছিল একতলা। ধানমন্ডি স্কুলের কাছাকাছি। বাড়িতে কোনো আসবাবপত্র ছিল না। পরিবেশ ছিল দমবন্ধ। আবর্জনায় ভরা। প্রধান দরজাটি ছিল ভাঙা। জানালার কাচও ছিল ভাঙাচোরা। ডক্টর ওয়াজেদ ও শেখ হাসিনাসহ মুজিব পরিবারের সবাইকে ফ্লোরে চাদর বিছিয়ে থাকতে হলো। দুদিন তেমন কিছুই খাওয়া হয়নি। ২০ জন সৈন্য বাসাটি পাহারা দেয়। মেজর হোসেন বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলে যায়, ঘরের ভেতর থেকে কেউ বের হতে পারবে না। 

হানাদার বাহিনীর মেজর হোসেন একদিন ওই বাসায় এসে জানায়, মুজিব পরিবারের খাওয়া-দাওয়ার জন্য সরকার টাকা দেবে। কিন্তু বেগম মুজিব ও শেখ হাসিনা বললেন, সরকারের টাকা দরকার নেই। ড. ওয়াজেদকে বেতন দিলেই চলবে। পরে এ ব্যবস্থাই হলো। ডক্টর ওয়াজেদ অফিস করতেন। তার বেতন দিয়ে খরচ চলত। বাসায় একটি কাজের ছেলে ছিল। সে বাজার করত। এমনিভাবে মে-জুন কেটে যায়। 

বাসায় ডিউটিরত পাক সেনারা রাতে জানালার পাশে বেয়নেট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। গুলির আওয়াজ পেলেই দেখা যেত ডিউটিরত হাবিলদার স্টেনগান নিয়ে ঘরের ভেতর এসে ঢুকত। ভয়ে কারও ঘুম আসত না। শেখ হাসিনা বেগম মুজিবের কাছে ঘুমাতেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। 

স্মৃতিচারণ করে ডক্টর ওয়াজেদ বলেন, এমনিভাবে জুলাই মাস এসে যায়। শেখ হাসিনার সন্তান জন্মের সময় ঘনিয়ে আসে। কিন্তু পাক সেনারা কিছুতেই ডাক্তারের কাছে যেতে দেবে না। অনেক অনুরোধের পর শেষে ডাক্তার ওদুদকে দেখানোর অনুমতি পাওয়া গেল। কিন্তু কড়া আর্মি গার্ড দিয়ে ডাক্তার ওদুদের বাসায় যেতে হতো। ২০ জুলাই শেখ হাসিনাকে ঢাকা মেডিকেলের একটি কেবিনে ভর্তি করা হলো। ২৭ জুলাই রাত ৮টায় তাকে লেবার ওয়ার্ডে নেয়া হল। নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই আমাদের সন্তান জন্ম নেয়। হাসপাতালে রাতে আমি থাকতাম। খবর পেয়ে অনেক আত্মীয়স্বজন দেখতে আসতেন। শেখ হাসিনাকে দেখাশোনার জন্য বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন লিলি ফুফু আম্মা হাসপাতালে থাকলেন। কিন্তু এরই মধ্যে একদিন পাক সেনারা এসে সব আত্মীয়স্বজনকে ধমকিয়ে বের করে দেয়। তারা লিলি ফুফু আম্মাকেও বের করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা কেঁদে ফেলায় তাকে থাকার অনুমতি দেয়। 

হাসপাতাল থেকে শেখ হাসিনা ও ছেলেকে নিয়ে ডক্টর ওয়াজেদ ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাসায় গেলে ছেলে দেখে বেগম মুজিব খুশি হলেন। তিনি বললেন—‘আমার তো ভাই নেই, ওর নাম তাই রাখলাম ‘সজিব।’ আর মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মেছে, তাই ডাক নাম রাখলাম ‘জয়।’ মুজিবের সঙ্গে মানাবে ভালো। 

শেখ হাসিনার সন্তানের নাম ‘জয়’ রাখা হলো কেন এ নিয়েও পাক সেনারা কটাক্ষ করেছে। নভেম্বরের দিকে ডক্টর ওয়াজেদ দেখেন ওরা বাংকার খুঁড়ছে। শেখ হাসিনা তাকে বললেন, সম্ভবত ওরা আমাদের মেরে ওখানে পুঁতে রেখে যেতে পারে। এ অবস্থায় কি করা যায়? ডক্টর ওয়াজেদ পিজি হাসপাতালে চলে গেলেন ডাক্তার নূরুল ইসলামের পরামর্শে অসুখের কথা বলে। কারণ ডক্টর ওয়াজেদ বাইরে থাকলে হয়তো খান সেনারা মুজিব পরিবারকে হত্যা করতে সাহস করবে না এই মনে করে। 

৩ ডিসেম্বর থেকে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। পিজি হাসপাতালকে মিলিটারি হাসপাতাল করা হয়। এ অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর ডক্টর ওয়াজেদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের কাছে এক বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং ১৮ নম্বরের বাসা সম্পর্কে খেয়াল রাখেন। ওইদিনই পাকবাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের চরমপত্র দেয়া হয়। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। ১৭ ডিসেম্বর সম্মিলিত বাহিনী এসে পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মুক্তি পান বেগম মুজিব। মুক্তি পান শেখ হাসিনা ও পরিবারের অন্যরা। 

  • লেখক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
Content Protection by DMCA.com

বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

রাষ্ট্রীয় টিভি-রেডিওতে জুমার নামাজ সরাসরি সম্প্রচার * মুসলমানদের সঙ্গে পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে, আমরা সবাই এক : জাসিন্দা

বিশ্বকে শান্তির পথ দেখাল নিউজিল্যান্ড

এক সপ্তাহ আগে বর্ণবাদী এক খুনির চোখে হিংসা-জিঘাংসা দেখেছে নিউজিল্যান্ড। মসজিদে প্রার্থনারত মানুষের সারি সারি লাশ আর প্রিয়জনের রক্তাক্ত শরীর দেখে চমকে গিয়েছিল দেশটির নিরীহ জনপদ। শান্তির নীড়ে ঘৃণার হুঙ্কার! শান্ত পাখি ‘কিউই’র চারণভূমিতে এই বর্বর ধর্মবিদ্বেষী রক্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না।

ঠিক সাত দিন পরের শুক্রবারে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাল নিউজিল্যান্ড। দেখাল শান্তির পথ। শোনাল ঐক্যের বাণী। এবার নিউজিল্যান্ডসহ পুরো বিশ্ব দেখল সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা আর ঐক্যের জয়গান। বুলেটে জর্জরিত আল নূর মসজিদের বাইরে হ্যাগলি পার্কে ধর্ম-বর্ণ, গোত্র, জাত-পাত ভুলে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। অন্য ধর্মের নারীরা মুসলিমদের প্রতি সমবেদনা জানাতে হাজির হন হিজাব পরেই। ছিলেন স্বয়ং নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্নও।

খোলা মাঠে মধুর কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সমধুর ধ্বনি। এরপরই নিহত অর্ধশত মানুষের স্মরণে দুই মিনিটের জন্য নীরব থাকে পুরো নিউজিল্যান্ড। জাতবিদ্বেষ ভুলে শান্তির বার্তা ছড়ানো এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল (টিভিএনজেড) ও রেডিওতে। এ দিনকে জাতীয় দিবসের মতো পালন করেছে নিউজিল্যান্ডবাসী। জুমার নামাজ শেষে ২৬ মরদেহের গণজানাজার পর ক্রাইস্টচার্চে দাফন করা হয়। তাদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছে। বাকি তিনজনের লাশ দেশে আনা হচ্ছে। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, এএফপি ও রয়টার্সের।

গত ১৫ মার্চ বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে জুমার নামাজের সময় মুসলিমদের ওপর আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টেরেন্ট (২৮)। এর কিছু পর কাছাকাছি লিনউড মসজিদে হামলা চালায় সে। দুটি হামলায় ৫০ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। হত্যার অভিযোগ এনে ব্রেনটনকে কারাবন্দি রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বৃহস্পতিবার দেশটিতে সব ধরনের আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

জুমার নামাজ শুরুর আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা বলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে আজ পুরো নিউজিল্যান্ড কাঁদছে। আমরা সবাই আজ এক।’ এর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পারস্পরিক উদারতা, সমবেদনা এবং সহানুভূতিতে বিশ্বাসীরা একটি শরীরের মতো। যখন শরীরের কোনো একটি অংশ ব্যথা পায় তখন পুরো শরীরই সেই ব্যথা অনুভব করতে পারে।’ মাত্র ৩০ সেকেন্ডের এ বক্তব্যে শান্তির পথ দেখালেন তিনি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের খবরে বলা হয়, জুমার নামাজের সময় হ্যাগলি পার্কের এই সমাবেশে জড়ো হয়েছিল প্রায় দশ হাজার মানুষ। মুসলমান রীতিতে কালো কাপড়ে মাথা ঢেকে উপস্থিত ছিলেন জাসিন্দা।

এরপরই প্রচারিত হয় জুমার আজান। আজানের পরপরই দুই মিনিটের নীরবতায় স্তব্ধ হয় পুরো নিউজিল্যান্ড। খুতবার শুরুতে সন্ত্রাসী হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ইমাম জামাল ফৌদা বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি এ মসজিদে দাঁড়িয়েছিলাম। উগ্র এক সন্ত্রাসীর চোখে-মুখে ঘৃণা ও ক্ষোভ দেখেছি। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের মন ভেঙে গেছে। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন চারপাশে তাকিয়েছি, তখন নিউজিল্যান্ড ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার মানুষের চোখে ভালোবাসা ও সহানুভূতি দেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী আমাদের দেশকে তার অশুভ মতাদর্শ দিয়ে বিভক্ত করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তার বদলে আমরা তাকে দেখিয়ে দিতে পেরেছি যে, নিউজিল্যান্ড ভেঙে টুকরো হয়ে যায়নি। বরং বিশ্ব আমাদের ভালোবাসা আর ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে দেখছে। আমাদের মন ভেঙে গেছে, কিন্তু আমরা ভেঙে পড়িনি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, কেউ আমাদের বিভক্ত করতে পারবে না। আমাদের শহীদদের কারণে আমরা নিউজিল্যান্ডে নতুন জীবন পেয়েছি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দাকে মুসলমানদের পাশে থাকায় ধন্যবাদ জানান ইমাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তার নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানাই। এটা বিশ্ব নেতাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ধন্যবাদ আমাদের প্রতি সংহতি জানাতে তার হিজাব পরার জন্য।’ এ সময় ক্যামেরা গিয়ে পড়ে জাসিন্দার দিকে। তিনি বুকে হাত দিয়ে ধন্যবাদ গ্রহণ করেন। তার চোখ ছিল ছলছল।

গত সপ্তাহের হামলার পর থেকে প্রতিদিনই সব ধর্মের নানা বয়সী মানুষ ফুল হাতে ওই মসজিদের বাইরে আসছিল সংহতি জানাতে। মাওরি আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রণনৃত্য হাকা পরিবেশন করে শ্রদ্ধা আর সংহতি জানাচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। ইমাম ফৌদা তাদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ধন্যবাদ তোমাদের হাকার জন্য, ধন্যবাদ ফুলের জন্য, তোমাদের চোখের পানি ও ভালোবাসার জন্য।’ শ্রদ্ধা জানানোর এই আনুষ্ঠানিকতায় অকল্যান্ডের চারটি মসজিদ শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে ৮টা পর্যন্ত সব ধর্মের মানুষের জন্য খোলা রাখা হয়। সন্ধ্যায় অকল্যান্ডের সবচেয়ে পুরনো পার্ক অকল্যান্ড ডোমেইনে প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

হিজাব পরে মুসলমানদের প্রতি সংহতি নারীদের : আতঙ্কগ্রস্ত মুসলমানদের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানাতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডজুড়ে হাজারও নারী হিজাব পরে বের হন। রয়টার্স জানায়, তারপর থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে পারেন এমন আতঙ্কে দেশটির মুসলমান নারীরা হিজাব পরে ঘর থেকে বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে অকল্যান্ডের চিকিৎসক থায়া অ্যাশম্যান ‘হেডস্কার্ফ ফর হারমনি’ নামে একটি আন্দোলনের ডাক দেন। নিউজিল্যান্ডের জনগণকে মুসলমানদের প্রতি সমর্থন জানাতে শুক্রবার মাথা ঢেকে বাইরে বের হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অ্যাশম্যান বলেন, ‘আমি বলতে চেয়েছি, আমরা আপনার সঙ্গেই আছি। আমরা চাই আপনার নিজের রাস্তায় আপনি বাড়ির মতো নিরাপদবোধ করুন। আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন করি ও সম্মান করি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা ছবি পোস্ট করেন। ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা বেলি সিবলি বলেন, ‘কেন আমি আজ মাথা ঢেকেছি? প্রথম কারণ হচ্ছে, যদি আজ কেউ বন্দুক তুলে কাউকে নিশানা করে তবে আমি তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাব। আমি চাই সে যেন পার্থক্য করতে না পারে। কারণ আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’

ক্রাইস্টচার্চে দুই বাংলাদেশির দাফন : শুক্রবার জুমার নামাজের পর একসঙ্গে ২৬ মরদেহের জানাজা সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশি পাঁচজনের মধ্যে দু’জনের দাফন ক্রাইস্টচার্চেই সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন- সিলেটের ফরিদ আহমেদের স্ত্রী গোলাপগঞ্জের হুসনে আরা আহমেদ (৪২) ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ (৬৬)। নিউজিল্যান্ডের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত বাকি তিনজনের মরদেহ দেশে আনা হবে। তারা হলেন- চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মোজাম্মেল হক (৩০) ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ওমর ফারুক (৩৫) এবং নরসিংদীর জাকারিয়া ভুঁইয়া (৩৬)।

ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক এরদোগানের : ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। শুক্রবার ইস্তানবুলে ইসলামী সহযোগী সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। এরদোগান বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার (হলোকাস্ট) পর ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়াই হয়েছে, ঠিক সেভাবেই মুসলিম বিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর জরুরি এ বৈঠক ডাকেন এরদোগান। বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পেটারস বলেন, বিশেষভাবে মুসলিম সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছি। মুসলমানদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য নিউজিল্যান্ডের প্রশংসা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুট কাভুসগলু। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ইসলামবিদ্বেষী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমরা এখানে সেটিই দেখাতে চাই।

/যুগান্তর

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 53