জালিয়াত ও প্রতারক প্রতিষ্ঠানের সাথে হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের কিসের ব্যবসা?

আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিচিত এক নাম পিপল এন্ড টেক, যার কর্ণধার হলেন আবুবকর হানিপ! আইটি প্রশিক্ষণ এবং জব প্লেসমেন্টের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপণ থাকলেও মূলত শত শত প্রশিক্ষণার্থীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে এই পিপল এন্ড টেক!

বাংলাদেশের শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাংলাদেশী কারিগরি প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেকের কর্ণধার আবুবকর হানিপের বিশেষ সম্পর্ক। কেউ কেউ বলেন তিনি প্রতিষ্ঠানটির এডভাইজার, কেউ বলেন প্রমোটার, কেউবা আবার বলেন এডভারটাইজার হিসাবে কাজ করছেন। গত নয় মাসেই মোমেন সাহেব দু’বার হানিপের প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বানিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যেখানে সময় পাওয়ার কথা নয়, তার মাঝখানে মোমেন সাহেব পিপল এন টেকে অনুষ্ঠানও করে ফেলেছেন।

পিপল এন টেক দাবী করে তারা ১৪ বছরে ৫ হাজার বাংলাদেশী যুবক যুবতীকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। আইসিটি খাতে বিশেষ করে ‘সফটঅয়ার টেস্টিং’ কাজ প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশী অভিবাসীরা খুব সহজেই উচ্চ বেতনে কাজ করতে পারবেন, এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ও প্রচারণা চালিয়ে কাস্টমার ধরা হয়। গড়ে জনপ্রতি ৪০০০ থেকে ৫০০০ ডলারের বিনিময়ে ৪/৫ মাসের একটা ট্রেনিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়।

জব প্লেসমেন্টের নাম ভুয়া প্রচারণা

হানিপ সাহেব এবং তার প্রতিষ্ঠান দাবী করে, ট্রেনিং শেষেই তারা জব প্লেসমেন্ট করে। তবে রয়েছে তাদের অদ্ভুদ জালিয়াতি টেকনিক। আমেরিকার জব মার্কেটে তারা কর্মী নিয়োগে সুপারিশ করে ভুয়া অভিজ্ঞতার রিজুমি(Resume) দিয়ে। বেশ কয়েক বছরের জব করেছে প্রার্থী, এমন তথ্যাবলী সরবরাহ করে পিপল এন টেক। তবে প্রতিষ্ঠানটি দোষের মধ্যে যেতে চায় না। সেজন্য প্রার্থীকে নিজেরই রিজুমি আপলোড করতে হয়, যাতে পরে ধরা পড়লে পিপল টেক অস্বীকার করে, দোষ হয় প্রার্থীর। এই ফেইক বা ভুয়া রিজুমির বিষয়টি প্রশিক্ষনার্থীদের জানানো হয় প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে এসে যখন তারা চার/পাঁচ হাজার ডলারের টিউশন ফি পরিশোধ করে ফেলে এবং চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে চাকুরীপ্রার্থী ছাত্রছাত্রীরা নিরুপায় হয়ে আবু হানিপের নির্দেশমত ফেইক রিজুমি নিয়ে চাকুরির ইন্টারভিউ ও চাকুরী লাভের জন্য বিভিন্ন জব সাইটে আবেদন করতে বাধ্য হয়। ইন্টারভিউতে যারা কৃতকার্য হয় তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য পিপল এন টেকের কন্টাক্ট নাম্বার রিজুমিতে উল্লেখ করা থাকে। চাকুরীদাতা কোম্পানিগুলো চাকুরীতে নিয়োগ দেয়ার পুর্বে প্রার্থীর ৪/৫/৬ বছরের অভিজ্ঞতার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পিপল এন টেকে যোগাযোগ করলে পিপল এন টেক থেকে সেই ভুয়া বা ফেইক অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে সত্য বলে সত্যায়ন করে থাকে। ওরা এ পর্যন্ত যত লোকের জবের ব্যবস্খা করছে, তার মধ্যে ৯৫% ঝরে পড়েছে বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার সাথে রিজুমিতে উল্লেখ করা অভিজ্ঞতার আকাশ পাতাল পার্থক্যের বিষয়টি ধরা পড়ার কারনে। মিষ্টি কথায় ভুলে মানুষ এমন এক ফাঁদের মধ্যে পা দেয়, পরে যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা। পিপল এন টেক থেকে ট্রেনিং নেয়া প্রচুর বেকার তো আছেই, ১০০০ খেকে ১২০০ লোক আছে, যারা কাজ না পেয়ে ট্যাক্সি চালিয়ে, গ্রোসারী সপে কাজ করে জীবন নির্বাহ করছে। পিপল এন টেকের ওয়েব সাইটে বহু ভুক্তভোগিরা তাদের বিরূপ মন্তব্য ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করলেও আবু হানিপ  সেসব তাৎক্ষণিকভাবে মুছে দেয়ার জন্য লোক নিয়োগ করে রেখেছেন। ফলে ভুক্তভোগিদের কথা ধামাচাপা পড়ে থাকে।

একে আবদুল মোমেন সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে টানা ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এসময়ে আবুবকর হানিফের সাথে তার পরিচয় ঘটে। ঐসময় দামী দামী উপঢৌকন, নগদ খাম, ও সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে মোমেন সাহেবকে বিভিন্ন  অনুষ্ঠান আমন্ত্রণ করেন হানিপ সাহেব, এবং সেগুলো মিডিয়াতে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পিপল এন টেকের খবর বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে। হানিপের ব্যবসা বাড়ে, এমনকি বাংলাদেশে পর্যন্ত এর শাখা খোলা হয়েছে। তবে মোমেন সাহেব যে হানিপের সাথে বড় ধরণের কোনো আর্থিক সংশ্লেষে জড়িয়ে আছেন, তা তাদের কর্মকান্ড দেখলেই বুঝা যায়। এমনকি ভুক্তভোগী ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিবাদমুখর হওয়ার চেষ্টা করলে আবু হানিপ পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কৌশলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সহ আওয়ামিলীগের বিভিন্ন হোমরা চোমরার সাথে তার দহরম মহরমের বিষয়টির দিকে ইংগিত করে তাদের এক প্রকার পরোক্ষ হুমকি দিয়ে থাকেন।  হানিপ-মোমেন চক্রের এহেন লোকঠকানো, প্রতারণা, ও মানুষেকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়ার জালিয়াতি ব্যবসা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে বিচারের আওতায় আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগিদের দাবী।

Content Protection by DMCA.com

নতুন পথে বাংলাদেশ?

  • মাসুম খলিলী

বাংলাদেশ কি নতুন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে চলমান দুর্নীতি বা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে শাসক দলের বড় বড় নেতাদেরও ছাড় না দেয়ার ঘোষণা থেকে। সম্ভবত রূপান্তরের বিষয়টি আরো অনেক গভীর। এটি ঠিক যে, বাংলাদেশের শাসক দল এক ধরনের গৃহদাহ বা উত্তরাধিকার সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। ক্ষমতার উত্তরাধিকার একক পরিবারের মধ্যে আবর্তিত হলে এরকম হতে সাধারণভাবে দেখা যায়। বিশ্বের যেসব দেশে এখনো উত্তরাধিকারের মাধ্যমে ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে, সেসব দেশের কোনো কোনোটিতে এ ব্যাপারে ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে।

সুনির্দিষ্ট থাকে ভার্টিক্যালি বা উল্লম্বভাবে উত্তরাধিকার নির্ণিত হবে, নাকি হরাইজন্টাল বা আনুভূমিকভাবে এটি হবে। বিশ্বের আলোচিত রাজতন্ত্রের মধ্যে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনোটাতেই এখন আর নিয়মবাঁধা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে না। সৌদি আরবে সালমান ক্রাউন প্রিন্স বা বাদশাহ হওয়ার সময় রাজনীতি বা প্রশাসনে সক্রিয়, ভাইদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম ছিলেন না। অথবা তার পরে নিজের যুবক ছেলে যে মুহাম্মদকে উত্তরাধিকারী করেছেন, তারও একাধিক বড় ভাই ও চাচা রয়েছেন। আমিরাতেও এখনকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন জায়েদের যোগ্য জ্যেষ্ঠ ভাই রয়েছেন। কিন্তু তারা কর্তৃত্বের লড়াইয়ে পরাভূত। এখন দুই ‘মুহাম্মদ’ সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সিংহাসনের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী।

বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় রাজতন্ত্রের কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু বড় দলগুলোতে রয়েছে এক প্রকার রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আওয়ামী লীগে সংক্ষিপ্ত সময় বাদ দেয়া হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একপর্যায়ে দলের হাল ধরেছেন। এর পরে মুজিব পরিবারের কেউ একজন দলের নেতৃত্বে আসবেন, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের উত্তরাধিকার হরাইজন্টাল হবে নাকি ভার্টিকাল হবে, সেটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রাজনীতিতে সক্রিয়, পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা সম্ভবত চাইছেন দলীয় নেতৃত্বের উত্তরাধিকার হরাইজন্টালি বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী প্রথম প্রজন্মের মধ্যেই হোক। তাহলে সন্তানরা পরে দলের নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় বর্তমান দলীয় প্রধানের মধ্যে থাকতে পারে। এ জন্য তিনি উত্তরাধিকারের লাইনটি সম্ভবত নিজের সন্তানদের মধ্যে রাখতে চান। এটি মানতে চাইছেন না পরিবারের গুরুত্বপূর্র্ণ অনেক সদস্য। শাসক দলের প্রধানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি এই আনুগত্যহীনতার সাথে যুক্ত থাকতে পারে সাম্প্রতিককালে শাসক দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যকার শুদ্ধি অভিযান।

রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক ব্যস্ততার কারণে হোক অথবা সমঝোতার অংশ হিসেবে হোক, এক সময় দলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যাকে দেখতে দিয়েছিলেন বড় বোন। দলের নেতৃত্বে মধ্যে যাদের হাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা বৈধ-অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ার থাকে, তাদেরই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় দলে। আওয়ামী লীগের মধ্যে সেটিই গত ১০ বছরে দেখা গেছে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ ছিল না বলে কোনো টানাপড়েন এতদিন দেখা যায়নি। তৃতীয় মেয়াদে এসে উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি বেশ প্রবলভাবে সামনে চলে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই ছোট বোন হয়তো রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হতে চান।

মুজিবতনয়া হিসেবে স্বাভাবিকভাবে তার রাজনীতিতে আসার মানে হলো, নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়া। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনা পরম্পরায় মনে হচ্ছে তিনি সম্ভবত ক্ষমতার সাইড লাইনে পড়ে যাচ্ছেন এবং তার অনুসারীরা শুদ্ধি অভিযানে ছিটকে পড়তে যাচ্ছেন। আর দলের মধ্যে ভার্টিক্যাল উত্তরাধিকারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের ক্ষমতার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোতে দেশের বাইরের অনেক বিষয় যুক্ত থাকে। যেকোনো দল ক্ষমতায় থাকাকালে তার নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বদলের সময় প্রভাবশালী কূটনৈতিক অংশীদারগুলোর ‘চাওয়া-পাওয়া’র বিষয় থাকে। এ কারণে সরকার প্রধানের এবারে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং এর আগে-পরে আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নানা মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ প্রধানের কন্যা ও তার স্বামী কানাডা থেকে এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে এসেছিলেন। সেখানে সরকারপ্রধানের জামাতার ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ রয়েছে।

আর আমিরাতের শাসক পরিবারকে মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বের শাসক পরিবারে বিশেষভাবে প্রভাবশালী মনে করা হয়। আকার বা জনসংখ্যার বিচারে দেশটি তেমন প্রভাবশালী হওয়ার কথা নয়। এক সময় সৌদি আরবের প্রভাব বলয়ে থেকেই দেশটি তার পররাষ্ট্র্র্র কৌশলের চর্চা করত। কিন্তু গত এক দশক ধরে আমিরাত ইসরাইলের সাথে কৌশলগত গোপন সম্পর্ক তৈরি করার পর অনেক ক্ষেত্রে সৌদি নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোতে আবুধাবিকে বিশেষ কারণে ক্ষমতাধর মনে করা হয়। মুসলিম বিশ্বজুড়ে ইসলামিস্ট দমন কাজে দেশটি যে কাজ করছে, সেটাকে তার ক্ষমতার মূল ভিত্তি মনে করা হয়ে থাকে। হয়তো বা এ কারণে আমিরাতের সাথে সম্পর্ক থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলি লবির ছায়া লাভ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।

এই কারণে এবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরের সময় তার কন্যা সাথে ছিলেন। আমিরাত শাসক মুহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় সেখানে মায়ের পাশে বসা ছিলেন সায়মা, এরপরের আসনে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বিন জায়েদের পাশে ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এর পর নিউ ইয়র্কে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তনয়া মিসরের শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের সাথে বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়। নিউ ইয়র্কে সাধারণ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওআইসি-বাংলাদেশ যৌথসভার বাইরে শেখ হাসিনা অনানুষ্ঠানিক বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির সাথে সাইড লাইনে বৈঠক ছাড়াও ইন্দো-বাংলা-মার্কিন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। মনে করা হয় যে, এই বৈঠকটি বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রার জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দেশটির বিশেষ লবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বৈঠকটির পর ভারতে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তৃতীয় দফা ক্ষমতাকালের পররাষ্ট্রনীতি বা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার নীতি। এই নীতির অংশ হিসেবে দেশের উন্নয়নের বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে চীনা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। চীন সরকার তাদের ঐতিহ্যগত কৌশল থেকে সরে এসে একতরফাভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয় আওয়ামী লীগ এবং দলটির পরিচালিত সরকারকে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের হিসেবে খ্যাত নির্বাচনে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে বেইজিং। সেই নির্বাচনে জয়ের পর স্বর্ণ নির্মিত নৌকা নিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রথম শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। বিএনপি প্রধানকে কারাবন্দী করে রাখা এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ঐতিহ্যগতভাবে চীনমুখী পররাষ্ট্রকৌশলের কারণে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরাগভাজন হলেও সর্বোতভাবে বিএনপিকে পরিত্যাগ করেছে বেইজিং। এর ফলে নতুন সরকারে চীনের পছন্দের লোকজন মন্ত্রিসভায় বেশি স্থান পেয়েছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্প চীনারা গ্রহণ করেছে এদেশে। বেইজিং বাংলাদেশকে সাবমেরিন সরবরাহ করে সাবমেরিন ঘাঁটি করার প্রস্তাবও দিয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের ব্যাপারেও দেশটি অগ্রসর হতে থাকে।

কিন্তু এর পাল্টা কোনো চাপ মোকাবেলার জন্য কতটা প্রস্তুত ছিল দেশটি সেটি বোঝা যায় না। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই প্রতিবেশী এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো থেকে চীনকে ‘সম্পর্কের বসত ঘরের বাইরে’ রাখার জন্য চাপ যত বাড়তে থাকে তত বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ সরকারের অন্দরমহলে। শাসক পরিবারের ক্ষমতার উত্তরাধিকারে মেরুকরণ ঘটে যায়। চাপ অনুভূত হয় অনেক বড় মাত্রায়। এতে চীনের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বেইজিং ২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব ‘পর্যালোচনা’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য ‘ব্লাঙ্ক চেক’ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ঢাকাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, চীন বিনিয়োগ না করলেও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফ এবং এডিবি থেকে সেটি পূরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরে ফেনী নদীর পানি দেয়া, ভারতের ত্রিপুরায় তরল গ্যাস সরবরাহের চুক্তি, ভারতের দেয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে সে দেশ থেকে অস্ত্র কেনা এবং সমুদ্র উপকূলের ২০ স্থানে ভারতের রেডার স্থাপনের চুক্তি দৃশ্যত ঢাকার চীনা প্রভাববলয় থেকে সরে আসার পরিষ্কার সঙ্কেত। নতুন এই ব্যবস্থার পরে চীনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নামে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরো কড়া দৃষ্টি রাখবে ভারত। এ ব্যবস্থা শুধু সমুদ্রপথে যেকোনো জাহাজ বা বস্তু শনাক্ত করতে ভারতকে সাহায্য করবে না, একই সাথে বাংলাদেশের নৌসীমানায় তাদের আধিপত্য স্থাপনেও সহায়তা করবে।
এর বাইরে ঢাকায় সরকার যেকোনো নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে দিল্লির সামরিক সহায়তার গোপন এক চুক্তির বিষয়ও অনানুষ্ঠানিক গণমাধ্যম সূত্রে বলা হচ্ছে। এটি সত্য বা অসত্য যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ যে ভারসাম্য রক্ষার আগের নীতি থেকে সরে এসে আবার প্রতিবেশী দেশের সাথে বিশেষ সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থনের অনির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নানা সময় বিপদের কারণ হয়েছে। দেশটির সরকারে যারা থাকেন তাদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ করার নীতির কারণে, বিপদে পড়ার সময়ের অবন্ধু হিসেবে তারা কিছুটা স্বীকৃতি লাভ করেছে। চীন তার বন্ধুদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা দেয় না, শুধু ব্যবসা করে- এই ধারণার কারণে বর্তমান সরকারও সম্ভবত চীনা সম্পর্কের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

প্রশ্ন হলো- এর জন্য কতটা মূল্য দিতে হবে বর্তমান সরকার অথবা বাংলাদেশকে? এখন হয়তো অনেক প্রকল্পে চীন অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেবে এবং নতুন প্রকল্প নেবে না। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফর বাতিলও করা হতে পারে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ থেকে এখন বিসিআইএম প্রকল্প বাদ পড়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এদেশে চীনা সমরাস্ত্রের স্থান করে নেবে বিকল্প সূত্রের সমরাস্ত্র। বাংলাদেশের ক্ষমতার গভীর বলয়ে চীনের কতটা অবস্থান রয়েছে- তা স্পষ্ট নয়। সে রকম কিছু না থাকলে দেশটিকে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে চীনের কাছে হাত পাতা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ যেভাবে ‘আগ্রাসী’ মিত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, তাতে ভিন্ন কোনো চিন্তার সুযোগ ভুটানের মতো হারিয়ে যাবে কি না। ভুটানও অবশ্য তার সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, ভুটান দিল্লির সাথে আলোচনা ছাড়াই সীমান্তে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণরেখাকে স্থির সীমান্ত হিসাবে গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে। এ হিসেবে, আলোচিত দোকলামের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃত হয়ে যাবে যেটি কোনোভাবেই কামনা করেনি ভারত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফর শেষে যে সাতটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক এবার সই হয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। উল্টো ফেনী নদীর পানি তুলে নেবে ভারত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্তভাবে বাংলাদেশের পাশে দরকার ভারতকে। এনআরসি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করলেও তার মন্ত্রীরা প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছেন। এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। ভারত ও বাংলাদেশ যে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে তার কোথাও ‘এনআরসি’ শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নেই।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরের একটি যৌথ বিবৃতিতে কেন তার উল্লেখ থাকতে যাবে?’ অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নেই- এই আশ্বাসটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখ থেকে আসুক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা অন্যান্য বিজেপি নেতা যেভাবে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন যে, এনআরসি বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশেই পাঠানো হবে, সেই পটভূমিতে এটা ছিল বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

এ কারণেই হয়তো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয়, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ তারা বাংলাদেশের জনগণের কোনো সুবিধার কথা চিন্তা করছে না। এতে তাৎক্ষণিকভাবে মনে হতে পারে, তারা জিতে গেছে। জনগণের কাছেও হয়তো এসব বলে দু-চারটি ভোটও বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদেরও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও জনগণের কাছে এসব নিয়ে বলতে হবে। ফলে দেশের জনগণ বা সরকার যদি মনে করে, তারা আসলে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাহলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্কে ফাটল ধরবে। এক সময় হয়তো আমাদের সরকার অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে অধিক মনোযোগী হবেন। সেটা তো ভালো হবে না।’

অন্যদিকে, ভারতের উপকূলে রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিভাগের ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের তরফ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন, দিল্লির সরকার ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে যে অত্যাধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার আসল উদ্দেশ্য চীনের নৌবাহিনীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা। তিনি বলেছেন, চীন সম্পর্কে ভারতের যে উৎকণ্ঠা রয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে চীনের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা কিছুটা নিষ্ক্রিয় করতেই ভারত সরকার অবশ্যই চাইবে এটা প্রমাণ করতে যে, ‘বাংলাদেশের ওপর তাদেরও কিছুটা হলেও প্রভাব রয়েছে।’

বাংলাদেশ ১৯৭৬ সাল থেকে চীনের সাথে ক্রমে ক্রমে বেশ ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্ক গত ১০ বছরে গভীর ও নিবিড় আকার ধারণ করে। বিশেষত, ২০০৯ সাল থেকে চীনের সাথে বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে তার সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষভাবে বিমান ও নৌবাহিনীর, আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু ভারতের সাথে এবারের চুক্তির পর সম্ভবত সেই অবস্থা পাল্টে যাবে। ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র মিলে যে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রায়েঙ্গেল ডায়নামিকস’ সৃষ্টি করেছে, বিশ্বব্যাপী তার গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ, তাই সে দেশের ওপর এবারের দিল্লি সমঝোতার একটা প্রভাব পড়তে বাধ্য।

এখন দেখার বিষয় হলো- বাংলাদেশের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সে প্রভাব কতখানি পড়ে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকেও সেটি প্রভাবিত করে কি না।

[email protected]

Content Protection by DMCA.com

হাসিনাকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে, নেতকর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেন কাদের!

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন অনেক খেলা আছে, অনেক চক্রান্ত আছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অবশ্য বেশ কিছু দিন যাবৎ সামজিক মাধ্যমগুলিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শেখ হাসিনা ক্যান্সারে ভুগছেন, এমনকি অবস্থা খুব আশংকাজনক, যেকেনো সময় তার মত্যু হতে পারে, তিনি কেবল নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে অসুস্থতা গোপন করে নাটক করে যাচ্ছেন। তাকে সরিয়ে সেখানে ছোট বোন শেখ রেহানা বসতে চাইছেন। এ নিয়ে পরিবার এবং প্রভাবশালীদের মধ্যে প্রবল গৃহবিবাদ চলছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা চাইছেন, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে উত্তরাধিকার করতে। এ নিয়ে নানা গুজব এবং চক্রান্তের খবর হাওয়ায় ভাসছিল।

অবশেষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক সেই গুজবকে সত্য হিসাবে প্রকাশ করলেন!

Content Protection by DMCA.com

ক্যান্সারের চিকিৎসা, পারিবারিক কলহ নিষ্পত্তি এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা


আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্কে পৌছেছেন। এসময় তিনি তার শারীরিক চিকিৎসা করাতে পারেন এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিবাদ নিষ্পত্তির চেষ্টা হতে পারে।

গত জুলাই মাস থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেশ জুড়ে চাউর হয়েছে, শেখ হাসিনা মরণঘাতি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। আর এরই চিকিৎসা নিতে তিনি ঘন ঘন যুক্তরাজ্য সফর করে থাকেন। খবরের প্রথম সূত্র হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টিমের এক সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, পরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবরা এটি নিশ্চিত করেন। ১৯ জুলাই ইউরোপীয় অঞ্চলের বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতদের একটি সভার অস্বাভাবিক অযুহাত দেখিয়ে শেখ হাসিনা লন্ডনে যান। এরপরে টানা ১৩ দিন তিনি কোথায় ছিলেন সে সম্পর্কে জাতিকে সরকারীভাবে কিছু জানানো হয়নি। তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি বেঁচে আছেন কি না। এর ফলশ্রুতিতে দিশাহারা হয়ে তার মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য বিদেশে পড়ি জমান অথবা দেশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকেন বলে জানায় সচিবরা। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আর ২/১ জন মন্ত্রী ব্যতিত সচিবালয়ের অফিসে মন্ত্রীদের কামরাগুলি খা খা করতে থাকে। দলীয় বিনাভোটের এমপিরা এবং লুটপাটে ওস্তাদ নেতারা অনেকেই ব্যাংকক, কোলকাতা, দুবাই, সিঙ্গাপুরে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

অবশেষে লন্ডনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, ২২ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত লন্ডনে পাকিস্তানীদের নির্মিত বুপা ক্রমওয়েল হসপিটালের ক্যান্সার সেন্টারে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সরকারী মাধ্যম থেকে বিষয়টি জনগনকে জানানো হয়নি, বা খবরটির স্বীকার অস্বীকার কিছুই করা হয়নি। এসময়কালে আরো একটি খবর জানা যায় যে, তাঁর আসন্ন মৃত্যুর পরে ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে লন্ডন, ফিনল্যান্ড, এবং ঢাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাতে তিনি চান তার কন্যাকে উত্তরাধিকার করতে, অন্যদিকে ছোট বোন চান নিজে ক্ষমতায় বসতে। কেননা প্রধানমন্ত্রী অতীতে কথা দিয়েছিলেন- চতুর্থবার ক্ষমতায় বসার এক বছরের মধ্যে ছোটবোনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। ছোটবোন এখন সেই ঘোষণা পূরণ চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেকথা থেকে বার বার সরে যাচ্ছেন। তাই পারিবারিক কলহ জটিল আকার ধারণ করেছে।

বুপা হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা যায়, এটি কোলোন ক্যান্সার এবং চতুর্থ ধাপের।

এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাম না জানা হাসপাতালে কোলোন সার্জারি করেন, যদিও তারা প্রকাশ করে পিত্তথলির অপারেশন বলে। এ প্রসঙ্গে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, ‘গত সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মা’র গল-ব্লাডারের সার্জারি হয়। আমাদের পাশের হাসপাতালে আমার এক ডাক্তার বন্ধুই সার্জারিটি করেন। সার্জারিটি অত্যন্ত সফল ছিল। পরদিন সকালেই মা বাসায় ফিরে আসেন। তিনি এখন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।’ কিন্তু তিনি এর আগে প্রথমবার বিরোধী দলে থাকতে কানাডায় পিত্তথলি অপসারণ করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। যাই হোক, প্রায় তিন সপ্তাহ পরে তিনি মোটা কাপড়ে শরীর ঢেকে দেশে ফিরেন, তবে দীর্ঘ প্রায় দু’মাস বাসভবনের ভিতরেই কাটান, হয়ত খুব অল্প সময়ের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে যেতেন সপ্তাহে বা পক্ষে একবার। আরও পেছনে গেলে পাওয়া যাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী এমপি যিনি গণভবন-ঘনিষ্ট এবং পরে একজন প্রখ্যাত সনোলজিস্ট কনফার্ম করেন যে, তার শরীরে মরণঘাতি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে ২০১২ সালের জানুয়ারী মাস থেকে, অবশ্য সেই থেকে চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রোগটি আবার বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রায় তিন মাস অঘোষিত ছুটিতে থেকে চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় থাকেন। এর কিছুদিন পরেই তিনি লন্ডনে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিজের শারীরিক অবস্থা যাচাই করেন এবং চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। আমেরিকা ইউরোপ যেখানেই তিনি যান না কেনো, লন্ডনে তার কিছুদিন থাকতেই হবে। এবছর মে মাসে ১০ দিন এবং আগস্ট মাসে প্রায় একমাস লন্ডনে চিকিৎসা নেন। ক্যান্সারের বিষয়টি এবারে নিশ্চিত করেছেন তার চিকিৎসা টিম এবং গোয়েন্দা সূত্র। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক দু’দিন আগে প্রথম জানান দিলেন, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় নিউইয়র্কে গেছেন, তবে কি অসুস্থতা তা পরিষ্কার করেননি!

জানাগেছে, চলমান জাতিসংঘ সফরকালে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশেনের ফাঁকে ফাঁকে অন্তত দু’টি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিবেন, এরমধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সারের চিকিৎসা। এর পাশাপাশি ক্ষমতার উত্তরাধিকার প্রশ্নে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বোন, কন্যা ও অন্যান্যদের সাথে সমঝোতার আরও চেষ্টা চালাবেন। এমনকি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে তার প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারেন।

Content Protection by DMCA.com

মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্র

ঢাকায় তো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছে, আসুন একটু মুঘল ইতিহাসের মহাপ্রাসাদ ষড়যন্ত্র পড়া যাক।
মনে পড়ে যায়, দিল্লির ষষ্ঠ বাদশাহ মহানুভব সম্রাট আলমগীরের (আওরঙ্গজেব) কথা, তিনি ক্ষমতার জন্য এবং টিকে থাকতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন, তাতে অনেক শিক্ষা আছে।
তাজমহল খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ছিল: দারা শিকো, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব, এবং মুরাদ বাকশ। তাদেরকে চারটি এলাকার সুবাদার বানিয়েছিলেন শাহ জাহান। সম্রাট সর্বদা তার জ্যেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকোকে অধিক প্রাধান্য দিতেন। অপর তিন ভ্রাতা এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে দারার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যে এমন কোন নিয়ম ছিল না যে, সম্রাটের মৃত্যু বা অসুস্থ হলে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন। সাধারণত সিংহাসনের দাবিদারদের মধ্যে যুদ্ধ এবং কৌশলে সিংহাসনচ্যূত করে ক্ষমতা দখল ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার পালা বদল ঘটত। মূলত সামরিক শক্তির বলেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হত।

শাহজাহানের চার পুত্রই শাসক হিসাবে যোগ্য ছিলেন। কিন্তু মূল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র বড়পুত্র দারাশিকো এবং তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেবের মধ্যে সীমিত ছিল। দারাশিকোর চেয়ে যুদ্ধকৌশল এবং বুদ্ধিমত্তায় আওরঙ্গজেবের এগিয়ে ছিলেন। তাছাড়া ক্ষমতার পেছনের অনেক রাজকর্মচারী এবং অন্যান্য প্রভাবশালীরা এই দুইজনের পেছনে বিভক্ত হয়ে ছিল। আদর্শগত দিক দিয়েও তাদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। দারাশিকো ছিলেন সম্রাট আকবরের মত ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী, অন্যদিকে অপরদিকে আওরঙ্গজেব ছিলেন কোরআনে হাফিজ ও কট্টর সুন্নি মুসলিম।

১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার কাছে ছিলেন এলাহাবাদ ও লাহোরের সুবাহদার জ্যেষ্ঠপুত্র দারা শিকোহ। শাহজাহান দারাশিকোকে পরবর্তি সম্রাট হিসাবে ঘোষণা করলে ভাইদের সাথে কলহ শুরু হয়। শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবাহদার, আওরঙ্গজেব ছিলেন দাক্ষিণাত্যের সুবাহদার এবং গুজরাটের সুবাহদার মুরাদ নিজ নিজ প্রদেশের স্বাধীন শাসক হিসাবে ঘোষণা করে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রা দখলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ফলে কেন্দ্রের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৬৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জুন মাস অবধি চার রাজপুত্রের মধ্যে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

শাহজাদা সুজা তার বাহিনী নিয়ে রাজধানী আগ্রার উদ্দেশে যাত্রা করেন, তবে বানারসের নিকট দারাশিকোর বাহিনীর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলায় ফেরত আসেন সুজা। অন্যদিকে দাক্ষিণাত্য থেকে আওরঙ্গজেব এবং গুজরাট থেকে শাহজাদা মুরাদও একই ভাবে সসৈন্যে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করেন। আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে জোট করেন এই চুক্তিতে যে, যুদ্ধে জিতলে তারা সমগ্র সাম্রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবে। আওরঙ্গজেব এবং মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী রাজধানী আগ্রার দিকে অগ্রসর হয়। মে মাসে সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে দারাশিকো পরাজিত হন। সপরিবারে পারস্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দী হন দারা।
আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে কৌশলে মুরাদকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী করেন। ফ্রান্সের বাস্তিলের সমতূল্য এই গোয়ালিয়র দুর্গটি মোঘল পরিবারের রাজদ্রোহীদের বন্দী করে রাখতে ব্যবহার করা হতো। এক গুজরাটি উজিরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে শাহজাদা মুরাদকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়, এবং ৪ ডিসেম্বর ১৬৬১ তা কার্যকর করা হয়।
আরও পরে আওরঙ্গজেব ক্ষমতাসীন হলে সুজাকে বাংলা বিহার উড়িষ্যার সুবাহদার পদ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সুজা তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে বাংলার স্বাধীন নবাব হিসাবে ঘোষণা করে ধীরে ধীরে তার এলাকা বৃদ্ধি করতে শুরু করেন, ফলে আওরঙ্গজেব সুজার বিরুদ্ধে মীর জুমলার নেতৃত্বে সেনা অভিযান প্রেরণ করেন। খাজহুয়ার যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর কাছে শাহ সুজা পরাজিত হয়ে বার্মার আরাকান অঞ্চলে পালিয়ে যান, এবং সেখানে স্থানীয় শাসকদের হাতে নিহত হন।

শাহজাদা আওরঙ্গজেব আগে থেকেই অসুস্থ সম্রাট শাহজাহানকে আগ্রার দূর্গে গৃহবন্দী করে রাখেন, কিন্তু তিনি কখনোই পিতার প্রতি দুর্ব্যবহার করেননি। কারাগারে কয়েকটি ছিদ্র দিয়ে তাকে তাজমহল দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শাহজাহানের সবচাইতে প্রিয় কন্যা জাহানারা আওরঙ্গজেবের দেয়া বেগম-এর মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন, এবং বৃদ্ধ পিতার সাথে স্বেচ্ছায় সহ-বন্দীত্ব বরণ করেন। ১৬৬৬ সালে আগ্রা ফোর্টে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাহান কন্যা জাহানারার তত্ত্বাবধানেই ছিলেন।

এর আগে মে মাসের সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হয়ে শাহজাদা দারাশিকো বন্দী ছিলেন। ধর্ম ত্যাগের অভিযোগে দারাশিকোকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। ১৬৫৯ সালের ৩০ আগস্ট দারার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। শাহজাহানের প্রিয়পাত্র ছিল জ্যেষ্ঠপুত্র দারাশিকো। দারার কর্তিত মস্তক সুন্দর করে পরতে পরতে মোড়ানো অবস্থায় পিতা শাহজাহানের নিকট পাঠানো হয়েছিল, যা দেখে বৃদ্ধ শাহজাহান মূর্ছিত হয়ে পড়েন কন্যা জাহানারার স্কন্ধে। তিন ভাইকে পদানত করার পরে শাহজাদা আওরঙ্গজেব ‘সম্রাট আলমগীর’ নাম ধারণ করে নিজেকে দিল্লীর সম্রাট ঘোষণা করেন। আরোহন করেন পিতার বানানো ময়ুর সিংহাসনে। ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪৯ বছর মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি প্রায় সম্পূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেন। আওরঙ্গজেব কোরআনে হাফিজ ছিলেন এবং সম্রাট হওয়ার সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটাতেন। অন্যান্য শাসকদের ন্যায় তিনি রাজকোষকে নিজের সম্পদ মনে না করে প্রজাদের সম্পদ মনে করতেন। তিনি নিজ হাতে টুপি সেলাই করে এবং স্বহস্তে কুরআন শরীফ লিখে সংসার নির্বাহ করতেন। রাজ্যের সম্পদ স্পর্শও করতেন না। অন্যান্য বাদশাহদের মত মদ ও নারীতে মত্ত হননি। মুঘল সম্রাটদের মধ্যে তিনি সবেচেয়ে ন্যায়পরায়ন বাদশাহ হিসাবে পরিচিত ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার করেন; বিশেষ করে গোলকুন্ডা বিজয়ের পর মুঘল সাম্রাজ্যের আয়তন ৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হয়। বাদশাহ আলমগীর ১৫৮ মিলিয়ন প্রজাকে শাসন করতেন। তার সময় মুঘল সাম্রাজ্যের বাৎসরিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, যা তার সমসাময়িক ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের বাৎসরিক করের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। আলমগীরের শাসনামলে চীনকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল ভারতবর্ষ, যার পরিমাণ ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা সপ্তদশ শতকের সমগ্র পৃথিবীর জিডিপি-এর এক চতুর্থাংশ। শরিয়াহ আইন ফতোয়ায়ে আলমগীরী এবং ইসলামি অর্থনীতির জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বাদশাহ আলগমগীর।
ক্ষমতার জন্য নিজ ভাইদের হত্যা করা এবং পিতাকে কারারুদ্ধ করার জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিস্তর সমালোচনা থাকলেও মুঘল বাদশাহী দখলের লড়াইতে ঐরূপ নির্দয়তা ছাড়া উপায় ছিলনা বলে অনেক নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতামত। অন্যথা করলে আওরঙ্গজেবকেই মৃত্যুবরণ করতে হতো।

দক্ষিণাত্যে মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ১৭০৭ সালে যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক তাঁবুতে ৮৯ বছর বয়সে বাদশাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কোরআন কপি করা আয় থেকে আওরঙ্গজেবের সর্বশেষ উপার্যন ছিল ৮০৫ টাকা, যা থেকে ৪ টাকা আট আনা নিজের দাফন কাফনের জন্য রেখে বাকী অর্থ প্রজাদের মধ্যে দান করার উইল করে গিয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে খুলদাবাদে খুব সাদামাটা ভাবে সম্রাটকে সমাহিত করা হয়।

Content Protection by DMCA.com

ভারত ভাঙনের সভাপতি হিসেবে ‘নন্দিত’ হবেন মোদী, বললেন সলিমুল্লাহ খান

কাশ্মীর অস্থিরতা নিয়ে শুক্রবার ডয়চে ভেলেকে সমাজ বিশ্লেষক সলিমুল্লাহ খান বলেন, কাশ্মীরিদের সম্মতি ছাড়া বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার ওই জনপদে কখনো শান্তি ফেরাবে না। এ বিষয়টি শুধু উপমহাদেশে নয়, ভারতেও দীর্ঘ অশান্তি তৈরি করবে এবং ভারতীয় ইউনিয়নের ভাঙনের পথকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নরেন্দ্র মোদী সেদিক থেকে ভারত ভাঙনের সভাপতি হিসেবে নন্দিত হবেন ভবিষ্যতে। ডয়চে ভেলে

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকে জাতিসংঘে এই প্রশ্নটা উঠেছিলো যে, একসময় কাশ্মীরে গণভোট হবে। গণভোট না হোক, অন্তত ৩৭০ ধারা অনুসারে কাশ্মীরের যে প্রাদেশিক সভা, তার যে আইনসভা বা পার্লামেন্ট তার অনুমোদন নিতে হবে, চুক্তি বাতিল করতে হয়। চুক্তি কখনো একতরফা বাতিল করা যায় না। কিন্তু ভারত এটা করছে, গায়ের জোরে ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে। কাশ্মীরের জনসংখ্যা খুব কম, এক কোটিরও কম। ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি অনেকে এটিকে গণতন্ত্র বলে, কিন্তু এটি গণতন্ত্র নয়। অর্থাৎ কাজটা শক্তি দিয়ে করা নাকি সম্মতি নিয়ে করা এই প্রশ্নে কাজটি গণতান্ত্রিক নয়।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপির রাজনীতি-যা-ই বলি না কেন, এটা পুরানো রাজনীতি। ভারতভাগের আগে থেকেই এই রাজনীতি ছিলো। এটার সঙ্গে যারা আছে, তারা আসলে অখণ্ড ভারত চায়। এর মানে হলো, এখনও তারা মনে করেন পাকিস্তান, বাংলাদেশকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেবেন। এটা তাদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি। সেই কথা তারা পরিষ্কার করে বলেছে নানা সময়ে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, যিনি হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন, কংগ্রেসের মধ্যে যেসকল রাজনীতিবিদেরা ছিলেন, যেমন সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল তাদের বিভিন্ন বক্তব্যের সময় সেটা বোঝা গেছে। ওই সময় লড়াই হয়েছে, সেই লড়াইয়ের ফলে দেশভাগ হয়েছে। সেই ভাগটা তারা মেনে নিয়েছিলেন এরকম একটা আশায় যে, ভবিষ্যতে সবাই আবার তাদের সঙ্গে যোগ হবে। সবিনয়ে বলি, গোটা রাজনীতিটাই একটা ভুল দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। গোটা তত্ত¡টাই গোড়াতে ভুল। ভারত একটা জাতি নয়। ভারতীয় জাতি বলে কোনো জাতি নেই। কখনো ছিলো না। ভারত হচ্ছে বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে একটা মহাদেশ।

তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় বলে কোনো জাতি নেই। নানা সময় ফরাসীরা, জার্মানরা যুদ্ধ করেছে। ইংরেজরা জার্মানদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। পরে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন করেছে। তারপরেও কেউ বলে না ইউরোপ একটা জাতি। বলতে পারেন, ইউরোপ একটা মহাদেশ, একটা মহাজাতি। ভারতও তাই। ভারতের সঙ্গে ইউরোপ তুলনীয়।

তিনি জানান, উপমহাদেশকে আমরা দক্ষিণ এশিয়া বলি, এখানে শ্রীলঙ্কা কেন আলাদা দেশ? নেপাল কেন আলাদা দেশ? এখনও পর্যন্ত ভুটান কেন আলাদা দেশ? পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ কেন আলাদা দেশ হয়েছে। সেই একই যুক্তিতে কাশ্মীর তো আলাদা দেশ ছিলোই। কাশ্মীর ১৯৪৭ সালে ভারতের সঙ্গে যোগ দিয়েছে একটা ফাড়ায় পড়ে। সেই ফাড়াটা আর ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। সেটাকে বেধে রাখার জন্য ভারতের সঙ্গে তারা একটা চুক্তিতে প্রবেশ করেছিলো। ভারত ইউনিয়নের সঙ্গে কাশ্মীরের চুক্তিটি ছিলো, যেটাকে আমরা ৩৭০ ধারা, ৩৫ (ক) ধারা বলি। এখন যারা এটা দাবি করতে চাচ্ছেন, তারা সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করছেন। মানে তারা একটা ঝুঁকি নিচ্ছেন। ঝুঁকিটা কি? তারা কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে একীভূত করে ফেলবেন। অর্থাৎ সেই চুক্তিকে তারা লংঘন করবেন। তারা খেয়াল করছেন না, এই চুক্তি লংঘন করলে তারা কাশ্মীরের নেহায়েত দখলদার শক্তিতে পরিণত হলেন। এটা মেহবুবা মুফতি বলেছেন, এটা কংগ্রেস নেতা চিদাম্বরম বলেছেন। আমার আবিস্কারের কিছু নাই। অর্থাৎ কাশ্মীরকে অখণ্ড ভারতের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার উল্টা পিঠ হলো, কাশ্মীরকে দখল করে রাখা। কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছে আছে কি নেই, সেই প্রশ্নটা ভারত তুলছে না।

কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তান কখনো ভারতকে ভালো করে তোলে না। ভারত বার বার পাকিস্তানের দোহাই দিয়ে নিজের আচরণের বৈধতা নিষ্পন্ন করার চেষ্টা করছে পাকিস্তানও দাবি করেছে কাশ্মীর, ভারতও দাবি করেছে কাশ্মীর। আর কাশ্মীরে কাশ্মীরিয়রা বলে একটা ব্যাপার আছে, তারা কাশ্মীর দাবি করেছে। যেমন ধরুন, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়, বাংলাদেশকে ভারত উস্কানি দিচ্ছে একথা পাকিস্তান প্রচার করেছে। কিন্তু সত্যটা অন্তত পৃথিবীতে এখন পরিস্কার হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ না চাইলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। সুতরাং কাশ্মীরের জনগণ কি চায়, সেটা আমাদের মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত। ভারতের প্রতিদ্ব›দ্বী কিংবা শত্রু হিসেবে পাকিস্তান কাশ্মীর ইস্যুকে ব্যবহার করবে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার।

পারমাণবিক শক্তির বলয় ও কাশ্মীর নিয়ে তিনি বলেন, কাশ্মীরের পাশে তিনটি বৃহৎ শক্তি চীন ১৯৬৪ সালে নিউক্লিয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। অন্যরা তো তাকে বাধা দিতে পারেনি। ভারত অর্জন করেছে, পাকিস্তান অর্জন করেছে। তার মানে তিনটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ কাশ্মীরের চারপাশে। এটা কি আমাদের জন্য খুব শান্তির খবর হলো? পারমাণবিক শক্তি জিনিসটাই সারা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক। আমার বক্তব্য হলো, এখানে চীনের ঐতিহাসিক দাবি আছে। যেটাকে আমরা বাংলায় বলি অক্ষয় চীন। কাশ্মীরের তিন ভাগের একভাগ তো চীনই দখল করে রেখেছে ১৯৬২ সাল থেকে। ভারতের একজন নেতা অমিত শাহ তো বলেছেনই, তারা চীনের কাছ থেকে ফেরৎ নেবে। গোটা কাশ্মীর তারা নেবে, চীন যেটা দখল করে রেখেছে সেটাও ফেরৎ নেবে। এখানেই চীন তার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের কথা বলছে।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমি তিন দেশের দাবি নিয়ে বলছি। দাবি নিয়ে বিরোধ আছে। সেই বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনে পদ্ধতিও আছে মীমাংসা করার। যুদ্ধ একমাত্র পদ্ধতি নয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর প্রত্যেক জাতি অঙ্গীকার করেছে, সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যুদ্ধকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবো না। এখন ভারত পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, সেটা আমাদের কারো জন্য সুখকর নয়। আমরা যুদ্ধ চাই না। কিন্তু একই সাথে জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো একটি জাতিকে দখল করে রাখা ঠিক নয়, আসলে রাখা যায় না। জাতিসংঘ যে দলিলগুলো বহন করেছে, একটা হচ্ছে ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা। সেই দলিলের ১৮ বছর পরে আরো দুটি প্রেটোকল গৃহীত হয়েছে। এই দুটোকে আমরা কোর অংশ হিসেবে মনে করি। সেখানে রাজনৈতিক দলিলের ২০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সমস্যা সমাধানের জন্য যুদ্ধের প্রচার করা যাবে না। সকলেই তাতে অঙ্গীকার করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনেকদিন তাতে স্বাক্ষর করেনি। তারা মনে করেছে যে, সমস্যা সমাধানে যুদ্ধ তাদের কাছে একটা বিকল্প হিসেবে শেষ তুরুপের তাসের মতো হাতে থাকবে। আমার কথা হচ্ছে, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর যুদ্ধ কোনোটা বন্ধ ছিলো? মহাযুদ্ধ হয়নি। স্থানীয় যুদ্ধ তো হয়েছে। ভিয়েতনামে কি হয়েছিলো? ঘোষণা ছাড়াই যুদ্ধ করেছে। আলজেরিয়াতে ফরাসিরা আট বছর যে যুদ্ধ চালিয়েছে, কিন্তু সেটাকে তারা আইনগতভাবে যুদ্ধ বলে স্বীকার করেনি। বলেছে সেটা পুলিশ অপারেশন। যখন দুটো রাষ্ট্র সংঘর্ষে জড়ায়, তখন সেটাকে যুদ্ধ বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। এভাবেই ইরাক, ইরানের প্রসঙ্গে যদি আসি, ইরানের ওপর একটা যুদ্ধের খড়গ ঝুলে আছে। ইরাকের ব্যাপারটাও আমরা সকলে জানি। প্রক্সি ওয়ার যেটা বলে, এটাই হচ্ছে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধোত্তর উদাহরণ। বর্তমানে আমার মনে হয় যে, কাশ্মীরে যে শক্তিগুলো জড়িত আছে চীন, ভারত ও পাকিস্তান-তারা সবাই পারমাণবিক শক্তিধর। পশ্চিমারা এখানে লড়বে, তবে সরাসরি নয় । তারা লড়বে এখানে প্রক্সির মাধ্যমে । এখানে একটা কথা আছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গ যুদ্ধ করার মতো শক্তি আর কোনো আঞ্চলিক শক্তির নেই। পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করে থাকে, তবে যৌক্তিকভাবে পাকিস্তান পরাজিত হয়েছে, অথবা ড্র হয়েছে। যতোই আস্ফালন করুক না কেন, যুদ্ধ দিয়ে এটা মীমাংসা হবে না। আমার প্রার্থনা, যেন যুদ্ধ না হয়। কারণ যুদ্ধ কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। কিন্তু আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদি তাদের দায়িত্ব পালন করে, এখন ভারতের কংগ্রেসসহ অন্যরা যে দাবিটি করছে কাশ্মীরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে, আমার মনে হয় আর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে না। এর একটা হেস্ত নেস্ত হবে। কাশ্মীর হয় ভারতের অঙ্গীভ‚ত হয়ে যাবে, সিকিমের মতো।

কাশ্মীর ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হয়তো এ বিষয়ে চুপচাপ থাকার নীতি নিয়েছে। নৈতিকভাবে এটি খুব একটা মহান নীতি নয়, আদর্শ নীতি নয়। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান যে মিত্রতা ভারতের সাঙ্গে, সেটা এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে চুপ থাকতে বাধ্য করছে।

Content Protection by DMCA.com

বাঙালির টেরানটুলাঃ গণপিটুনির আতঙ্কে হঠাৎ শুরু হতে পারে গণ আত্মহত্যা

  • মাসুম সাঈদ খান

পনের শতকের ঘটনা। জার্মানির এক নান গীর্জার অন্যান্য নানদের হঠাৎ কামড়াতে শুরু করলেন। ব্যস আর যায় কোথায়? কামড়ের বিনিময়ে কামড় দিতে গিয়ে সেই গীর্জা এবং তার আশেপাশে কামড় ছড়িয়ে পড়লো। একসময় সমগ্র জার্মানি জুড়ে প্রতিটি গীর্জায় শুরু হয়ে গেল কামড়ানোর প্রতিযোগিতা। দেখতে দেখতে তা ছড়িয়ে গেল হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস সহ আশেপাশের দেশগুলিতে। তবে ইউরোপ বলে কথা। তারা কামড়ালেও তা শিল্প হয়ে যায়! তাই কামড়া কামড়ির এ ঘটনার বেশ চমৎকার একটা নাম দেয়া হয়েছিল, st.Vitus dance. তবে কামড়কে যারা শিল্প মনে না করে উন্মত্ততা বলে তর্ক করতে চাইবেন তাদের সমালোচনা থেকে জার্মানিকে বাঁচানোর দায়িত্ব স্বয়ং আমার। হ্যা, এ উন্মাদনার শুরুটা কিন্তু জার্মানিতে নয়, ইতালিতে হয়েছিল।

এক ধরনের বিষাক্ত মাকড়শার কামড়ানোর ভয় থেকে এ উন্মাদনার শুরু হয়েছিল। মজার ব্যাপার হচ্ছে, #terantula নামের সে মাকড়শাকে কেউ দেখেনি, কিন্তু তার ভয়ে সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে লাগলো। শুধু তাই নয়, মাকড়শার ভয়ে খাওয়া ঘুম ছেড়ে দেয়ায় ইতালির অধিকাংশ মানুষ উন্মাদের মত আচরণ শুরু করলো এবং পরষ্পরকে কামড়াতে শুরু করলো। আবার কামড়ানো শেষে তারা উন্মাদ নৃত্য করতো। এ ঘটনার জন্য অনেক নিন্দুক ঐতিহাসিক তৎকালিন ইতালির শাসকগোষ্ঠীর ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাকে দায়ী করে থাকেন। তবে নিন্দুকদের কথায় কান না দিয়ে আমি এমন গণ উন্মাদনার মনস্তাত্বিক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো। গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে এ ধরনের গণ উন্মাদনাকে মনোবিজ্ঞানে #terantism বলা হয়ে থাকে।

ঢাকার শাহবাগে গণ জাগরণের নামে দীর্ঘদিন যে উন্মাদ নৃত্য হয়েছিল, সে ঘটনা অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে? ইতালির সে টেরানটুলা মাকড়শার মত ভয়ঙ্কর ভেবে এবং ঘটনার আদ্যোপান্ত না জেনে তখন অনেকেই ‘ফাঁসি চাই’ শ্লোগানে সারা দেশ কাঁপিয়ে তুলেছিল। উন্মাদ নৃত্য ও হিংস্র শ্লোগানের সে উন্মত্ততা তখন মিডিয়া সহ অনেককেই ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সে উন্মাদনার মধ্যে ছিলো দলবদ্ধ নৃত্য, অবিরত চিৎকার ও উত্তেজনার লাফালাফি। মানুষের বুকের উপর দাড়িয়ে লগি বৈঠার নৃশংস নৃত্য, সোনার ছেলেদের নৈমিত্তিক কোপাকুপি ও হাতুড়ি পেটানোতেও আমরা এমন মনোবিকার দেখতে পেয়েছি! হ্যা, এ ধরনের লক্ষণগুলো সামনে রেখে মনোবিজ্ঞান এমন উন্মত্ততার নাম দিয়েছে #Mass_histeria। বাংলায় এর নামকরণ হতে পারে গণ হিস্টিরিয়া!

প্রাচীনকালে গ্রীক দেবতাদের পূজার সময় এক ধরনের খুল্লাম খাল্লাম নৃত্যের প্রচলন ছিলো। পরবর্তী যুগের গণ উন্মত্ততা ও নৃত্যশিল্প সে মনোবিকারের পরিবর্তিত ও বিকশিত রুপ বলা চলে। মনোবিজ্ঞানী হলিংসহেড ও রেডলিক এমন গণ উন্মাদনা নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। তারা এ উন্মাদনার সামাজিক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একে কৃষ্টিজনিত মনোবিকার ( #cultur_bound_psychosis) নামে আখ্যায়িত করেছেন। আর এ ধরনের মনোবিকার সৃষ্টিতে তারা একটি জাতির গুজব সৃষ্টির অভ্যাস, হুজুগে মাতা মনোভাব, সন্দেহ প্রবণতা, অলীক বিশ্বাস ও বিচারের অক্ষমতাকে দায়ী করেছেন। হুজুগে বাঙালির সাথে এমন বিশ্লেষণ কি দারুনভাবেই না মিলে যায়! মনোবিকারের এমন বিশ্লেষণ থেকে বাঙালি জীবনে চলমান গুজব ও হিংস্রতার কারণ খুব সহজেই আমরা উপলব্ধি করতে পারি। ইতালির মানুষ টেরানটুলার ভয়ে হিংস্র আচরণ করতো, কিন্তু বাঙালির হিংস্রতা দেখে মনে হয় তারা প্রত্যেকেই আজ একেকজন টেরানটুলায় পরিনত হয়েছে। এদেশে প্রতিষ্ঠিত ভয়ের সংস্কৃতির যে আবহ তৈরি হয়েছে সেটি গণ উন্মাদনা ও গণপিটুনি থেকে আগামীতে গণ আত্মহত্যায় রুপ নিতে পারে।

পাপুয়া নিউ গিনি ও মালয় উপদ্বীপের একাধিক উপজাতির মধ্যে একটা অদ্ভুত মনোবিকার দেখতে পাওয়া যায়। এ মনোবিকারের শুরুতে লোকজন উন্মাদের মত আচরণ করতে থাকে, এরপর ধারালো অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে একে অপরকে আঘাত করতে থাকে। প্রচুর রক্তপাত ও নৃশংসতা শেষে তাদের একপক্ষ বিজয়ী হয় এবং দিনের পর দিন সে বিজয় নিয়ে তাদের বীরত্ব ও গৌরব প্রকাশ করতে থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিজয়ী পক্ষ নিজেদের নৃশংসতার কথা পরবর্তীতে একেবারেই ভুলে যায় এবং আগের ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে প্রতিপক্ষের উপর পুণরায় হামলা চালায়। জংলিদের এ ধরনের মনোবিকারকে মনোবিজ্ঞানীরা Amnesia বলে থাকেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা এ ধরনের মনোবিকারকে বিরলপ্রজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এমন মনোবিকার কি সত্যিই বিরল? বাঙালির গৌরবের ইতিহাসের সাথে এ বিকারগ্রস্ততার মিল কি একেবারেই নেই?

Content Protection by DMCA.com

Bangladesh: Sheikh Hasina’s Fear of Fall is The Issue

  • R. Chowdhury




“Fear cuts deeper than swords.” ― George R.R. Martin, A Game of Thrones

Dan Brown of The Da Vinci Code fame said, “Men go far greater lengths to avoid what they fear than to obtain what they desire.” That describes Sheikh Hasina Wazed, the Prime Minister of Bangladesh today. She acutely suffers from the “fear of fall” and cannot concentrate on anything good for the country and its people. Her only obsession is to stick to power. She is riding a raucous tiger of her own breed. If she falls, she will be doomed. Even the animal she is on may not spare her. That sense of insecurity pushes her to be reckless and make her go any length to continue her perilous journey, feigning a façade of “development” to shield her crimes. 

As with all dictatorial systems, she built a core of loyal foot soldiers to carry out her commands of mischief, trickery, and foul play. The soldiers have little choice other than obeying their commander less they are threatened with their own extinction.

Hasina’s Installation
Sheikh Hasina was installed as Prime Minister in January 2009 in a largely conspiratorial arrangement. The plot involved the Indo-US-Israel trio that mistakenly feared—or deliberately made to believe–that there was a possibility of Islamic fundamentalist surge if India-backed secularist Hasina did not win the next election. Army chief General Moeen U Ahmed, an over the top appointee of the incumbent government of Bangladesh Nationalist Party (BNP) under Begum Khaleda Zia, was a willing candidate to betray his benefactor. The legitimate Caretaker Government (CTG) was ousted in a silent military action on January 11, 2007, just days before the election to be held on January 22. A henpecked CTG was installed, but General Moeen called the shots. The interim CTG quickly extended its life from three months to two years so that it could complete its assigned mission.

The conspiracy then moved to its next act: discrediting the government it ousted. It was not a difficult task in a country like Bangladesh, where administrative perfection was a rarity. BNP’s lapses and mistakes were magnified for broader public consumption. In addition, to make its own takeover Halal (justified), the military-backed interim government filed thousands of cases against political leaders, mostly belonging to the party it just ejected. As a balancing act, some leaders of Bangladesh Awami League (AL) and other major parties were also picked up in the dragnet. Jails became overcrowded with these fresh elite inmates. The two former prime Ministers—Khaleda and Hasina—were not spared.

The next move was a concerted effort to promote the AL. Sheikh Mujibur Rahman, the long-fallen patriarch of the party, reappeared in national discourse to the exclusion of other top national leaders. Sheikh Hasina was released and sent abroad for “treatment.” She was to wait for the dust to settle before she could return. Indeed, as per the script, she made a heroic homecoming within a few months and quickly announced that when in authority, she would grant amnesty to the military and the CTG for all their unconstitutional acts, including the illegal ones. Begum Zia could not be kept confined either, an overt display of “fairness.” The fairness had its chain reaction. All the others who had earlier been paraded to the jails on various “serious crimes” came out as puritans and restarted their politicking as usual. With blessings from the generals, a few fresh characters tried their luck but soon discovered that politics was not their cup of tea. Reportedly, the BNP Chair persona was also asked to leave the country, but she refused drawing further outrage from the military, which swooped on Begum Zia and her family members with renewed vengeance. With damage and humiliation of BNP complete, a subtle promotion of AL continued through sponsored media and agencies.

The ground was now ready for the third and the most important task of the caretaker administration. It held the elections on December 29, 2008. Sponsored observers certified the election to be fair. But the reality was different. There were reports of ballot box stuffing by the military in favor of Awami candidates at many polling booths, while more than 100% voter turnouts recorded at others! The generals’ powerplay worked. Sheikh Hasina and her AL-led Mohajote commanded absolute control in the parliament by winning 265 out of 300 seats. Her rival Begum Zia and her BNP was allowed only 30 winners.

The Hasina Ride!
Securing absolute parliamentary control, Sheikh Hasina quickly appointed Awami oriented judges in key positions to make the judiciary compliant. With its help, she arranged to withdraw thousands of cases against her party men instituted by past governments. The cases included 15 serious charges against Hasina herself, one being of murder. None of the cases against the opposition BNP was touched. In fact, many of their charges have been strengthened with fresh cases filed almost daily. Her nemesis Begum Khaleda Zia and her family members were the worst victims. Khaleda has 35 to her credit so far.

Hasina’s next move was to make the administration that included the military and the law enforcing agencies loyal through favor or fear. Anyone not toeing the line, either sacked or sent on insignificant assignments. In Bangladesh, where corruption scale tilts pretty high, few can resist the temptation of favor or resist fear. An occasional ethical minded disciplinarian or non-cooperative hardliner invariably landed in jail or not seen again. Observers compare the scenario to Hitlerian tyranny.

The Prime Minister thus attained the position to do or undo anything of her choosing, irrespective of logic, legality or public opinion. She became omni powerful, even more than her father Sheikh Mujibur Rahman possessed in his time. She assumed the heightened position to rule by decree: I am the law; I am the judge; I am the prosecutor; I am the dispenser, but I am above the law. The tiger gallops!

Most analysts attribute her unchallenged position to India, which functions in the country through its external intelligence outfit Research and Analyst Wing (RAW). RAW is known to have an extensive network all over Bangladesh, including administration, military, and law enforcing establishments, with a view to helping the Hasina administration continue as per India’s desire.

India Reaps
In return for Hasina’s installation, India enjoys the unlimited freedom to extract the benefits it needs from its eastern neighbor. Sheikh Hasina was made to sign more than 40 agreements and protocols, almost all of whom to benefit her sponsor. India’s most significant benefit, according to experts, is the access to its northeastern states through Bangladesh at the expense of the country’s security. Previously, India’s access to this remote region, combinedly known as Seven Sisters, was the costly airway or a long, difficult and slow hilly passage through a narrow strip, called Chicken Neck, north of Bangladesh. More than half a million Indians work in various sectors in the country, to the expulsion of qualified local hands, siphoning off about $10 billion annually, which account for the 5thlargest external remittance for India. Bangladeshi stores are flooded with Indian goods, and most markets in Kolkata thrive on Bangladesh money. Bangladeshi customers are a significant source of income at various Indian medical establishments. India has a free hand to incite the local insurgents in destabilizing the country’s southeastern hilly regions, in addition to providing fuel to the demands of the already privileged Hindu minority. The list goes on. Bangladesh has no say to any of these.


Bangladesh is not allowed its due share of water from most of the 52 joint rivers during the lean seasons as India unilaterally withdraws water at upper riparian. Nor can the country protest the routine border killings of its nationals by Indian border forces. Bangladesh cannot raise a voice when India supports racist Myanmar against the brutality and displacement of Rohingya Muslims. One million of these refugees crowd the southeastern part of Bangladesh for the past few years. Myanmar has been refusing to take them back despite international pressures.

Noting Sheikh Hasina’s true color, the US and its allies slowly backed out of the scene, leaving India the sole authority to deal with Bangladesh. The US has its own anti-China strategic interests to keep the South Asian bully on its side.

Hasina’s Tiger Tramples
Lord Acton, the 19th-century British historian, said, “All power tends to corrupt, and absolute power corrupts absolutely.” If he lived today, he would have pointed at Sheikh Hasina of Bangladesh and reminded us: “I said so.” To list Hasina’s transgressions over the past decade will be a Himalayan task. Just a peek at a few. Upon becoming the Prime Minister, her axe immediately fell on the Bangladesh Rifles at its Peelkhana Headquarters, said to be at India’s behest, to teach a lesson to the border guards, who had earlier tried to resist Indian border incursions. Fifty-seven bright army officers were brutally murdered on February 25 and 26, 2009. Their wives and older daughters living in the compound were dishonored before being killed. Bangladesh has not experienced such savagery since March 25/26, 1971, when Pakistan military commenced one of the worst massacres in history. The Hasina administration continued its legacy of killing and brutality; the notable ones being done on the Islamist party on February 13, 2013, and Hefazat on May 5/6, 2013. Mutilated bodies and blood of the innocent victims littered the streets for days. Peoples still shudder to recall the barbarity committed during AL’s Lathi Missil (stick procession) and Logi-Boitha Missil (logs oars and batons) against the BNP administration.

Hasina’s fear factor made her a despicable autocrat, as she could not afford to fall off her ride. No opposition to herself, to her family, to her rule, to her party, and even to her sponsor India, is tolerated. These were made punishable offenses. Few opposition political programs are allowed. Even during a few small-scale activities, the law enforcing agencies ruthlessly crushed them, assaulting the crowd, firing at them, beating them and teargassing them while rounding up hundreds of thousands with or without cases. Hundreds of them were either killed or never seen or heard again. Ruling Awami thugs conducted destructive activities, including the torching of buses, houses, and factories but were quick enough to put the blame on the opposition. Never in the history, one heard that the Leader of the Opposition was confined in her office for months by cordoning off with trucks filled with bricks and sand, plus water cannon and thousands of police and Rapid Action Battalion (RAB). Food and utility services were stopped for days. While all these were going, Sheikh Hasina enjoyed the sadistic pleasure in the comforts of her palace, said to be protected by Indian commandos.

According to the Odhikar (odhikar.news), a Bengali daily, twenty-five hundred thousand (2500,000) BNP leaders faced 90,340 false cases during the past decade of Hasina rule. One thousand five hundred twelve (1512) of its activists were killed, and another 75,925 were dumped in already crammed jails. 10,500 BNP men were arrested just before the last elections at the end of December 2018.

Khaleda Zia, a three-time Prime Minister, is now rotting in a solitary cell for supposed misuse of power against a non-descript, non-existent charity case with a 17-year jail term. Here is a glaring example of Hasina’s decree: I am the law; I am the dispenser. Her leaked tele-conversation with Bangladesh High Commission officials during a recent private trip to London confirmed the notion.

Hasina’s Magnum Opus
Sheikh Hasina’s evil Magnum Opus came with the dismissal of the Carte Taker Government. Earlier in 1996, the CTG was enacted to conduct the national elections between the governments. All the elections conducted under the CTG were generally accepted to be fair. Notably, it was Sheikh Hasina who staged Hartal (stoppage) for 173 days demanding the CTG, causing a considerable loss in men and material in the process. Why had she to undo it now? Even a layman knew the answer.


Unlimited anti-national, anti-people and unlawful activities, rampant corruption in the party and administration, as well as its sellout policy to India, made the Hasina government extremely unpopular. It would face total annihilation in a fair election. The bigger question was, once she was toppled out of office, how would she face the public wrath for her past misdeeds and account for her illegal acts? It is this fear of facing the public wrath and accountability that made Sheikh Hasina extremely reckless and went against all rules and norms to stay in power.

Sheikh Hasina, therefore, foresaw she could not afford a fair election. It must be managed to ensure her victory for all times to come. The parliament and judiciary being under her command, the removal of the CTG was not difficult, irrespective of vehement rejection by opposition parties and from the public at large. The legal seal to this otherwise illegal act was stamped in 2011. People have seen the results in the two managed elections since: in January 2014 and December 2018. Sheikh Hasina’s Awami Jote won almost 100%. The whole world, saving India, rejected them. She thought she tamed the tiger and continued riding. Next, she moved to take care of those who she thought had harmed her.

In the name of punishing the “war criminals,” who opposed the Bangladesh independence in 1971, she hanged a dozen top opposition leaders, mostly belonging to the Jamat-i-Islam (JI) party, under the International Crime Tribunal (ICT). JI was then a BNP ally. Coming after nearly four decades, most evidence had to be manufactured. The trials under the ICT was highly controversial, both at home and abroad. Earlier, aligning with the JI, the AL narrowly won the 1996 elections and formed the government. During the next elections in 1991, the JI joined the BNP group and badly defeated the AL, which Sheikh Hasina could not forget. Most observers conclude that the ICT was to penalize the JI for its political turnover to her disadvantage, as well as to weaken the BNP, AL’s rival. She achieved her goal, albeit by deceit, for now.

It is the fear of fall that haunts Sheikh Hasina, and it made her a ruthless dictator, aiming to ride for perpetuity or life. But everything comes to an end, sooner or later. The balloon of public wrath is bound to burst in time. And, the Frankenstein has its day!


– See more at: http://southasiajournal.net/bangladesh-sheikh-hasinas-fear-of-fall-is-the-issue/?fbclid=IwAR3VFxN0TBUKsgm1LGMphB5XfnA6LzHRfE4BkTxxcmlPrmD1OjlEcxKb1Hs

Content Protection by DMCA.com

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতেই জার্মানীতে সফর করেছিলেন শেখ হাসিনা!

বাংলাদেশের সাথে ব্যবসা করে এমন একটি ভারতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রকল্প থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার কমিশন হাতিয়ে নিতে গত ফেব্রুয়ারিতে জার্মানীতে সফর করেছিলেন। এরপরে সেই অর্থ তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিকট হস্তান্তর করতে আরব আমিরাতের আবুধাবিতে গিয়েছিলেন। ই-ব্যাংকিং লেনদেনে কমিশন স্থানান্তর করতে গেলে রেকর্ড থাকার রিস্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রটোকল সুবিধার অধীনে লাগেজ ব্যবহার করে সাথে বহন করেন।
উল্লেখ্য ২০১৪ সালে পদ্মাসেতু দুর্নীতিতে লাভালিন কোম্পানীর কাছ থেকে ১৭ মিলিয়ন ডলার কমিশন হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠার পরে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু কানাডার নাগরিকত্ব ও সেখানকার ব্যবসা বানিজ্য হারান। এরপর থেকে তারা বাংলাদেশে ফের এসে শেষে আবুধাবিতে থিতু হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৩ কোটি ২০ লাখ ই-পাসপোর্টের মধ্যে ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করতে জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে কাজ দিয়ে গত বছর জুলাইতে একটি চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এই প্রজেক্ট থেকে প্রায় ৩৫ ভাগ অর্থ কমিশন বা স্পীড মানি বাবদ রাখা হয়। ঐ অর্থ গ্রহণ করে তার কন্যার কাছে নিরাপদে পৌছাতেই শেখ হাসিনা চলতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারিতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের নামে মিউনিখে সফরে যান।
চলতি বছরের জুন মাসে ই-পাসপোর্ট হাতে পাবে বাংলাদেশের নাগরিকরা। ই-পাসপোর্ট পাসপোর্ট হবে ১০ বছর মেয়াদের। ফি নির্ধারণ কমিটির প্রস্তাবে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার (২১ দিন), এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার (৭ দিন) এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা (১ দিন) প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়াও পাসপোর্টের দুই ধরনের ক্যাটাগরি হচ্ছে। একটা ৪৮ পৃষ্টার। আরেকটা ৭২ পৃষ্টার। যারা বেশি নিতে চান তাদের ফি-টাও একটু বেশি দিতে হবে।
২০১৪ সালে বাংলাদেশে একদলীয় ভোটে শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে উৎসাহ দিতে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলির সাথে জার্মানীও সোচ্চার ছিল। ঐসময় ঢাকায় কর্মরত রাষ্ট্রদূতদের সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস গ্রুপের’ মুখপাত্র হিসাবে কাজ করছিল জার্মান রাষ্ট্রদূত। এরপরে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোসকে ই-পাসপোর্টের কাজ দেয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার জার্মানীকে শান্ত করতে সক্ষম হয় বলে অনেকে মনে করেন। ভেডিডোসের সাথে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের অনুষ্ঠানে জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নেইলসকে বিশেষ অতিথি করে ঢাকায় আনা হয়। তবে এই সূত্র ধরে এবছর ফেব্রুয়ারির মিউনিখ সফরকালে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি বিশেষ সম্পর্ক তৈরি করতে শেখ হাসিনার চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। অবশ্য এর আগেই ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহরণকারী ভোটডাকাতির নির্বাচনের পরে ইউরোপ আমেরিকা ও জাতিসংঘের সাথে জার্মানীও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। এর পর পরই শেখ হাসিনা জার্মানীতে গিয়ে চ্যান্সেলরের সাক্ষাৎ চেয়ে বিফল হন।

Content Protection by DMCA.com

পাসপোর্ট না থাকায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের পাইলট কাতার বিমান বন্দরে আটক!

সঙ্গে পাসপোর্ট না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক পাইলটকে আটকে দিয়েছে কাতার ইমিগ্রেশন।গতকাল বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে অবস্থান করছেন। অপর একটি বেসরকারি বিমানের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট পাঠিয়ে তাকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গতকাল বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়।

বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে কাতার ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে। পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং এই পাসপোর্ট কাতারে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানোর চেষ্টা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু কাতার এয়ারলাইন্স জানায়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া একজনের পাসপোর্ট্‌ বহনের নিয়ম নেই।

পরে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। রিজেন্ট এয়ারলাইন্সও ওই পাসপোর্ট বহনে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে পাসপোর্ট ছাড়া একজন পাইলট কীভাবে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ গেলেন এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ছাড়া দেশত্যাগ ও অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বলেন, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট বহন করবে না রিজেন্ট এয়ার।

এ বিষয়ে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের কোনো ক্রুর পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বড় ধরণের অপরাধ। দেশে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনারের একজন ইনস্ট্রাকটরের দায়িত্বও পালন করছেন। আগামী ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার বর্তমানে কাতার অবস্থান করছে।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 54