অবশেষে বিডিপলিটিকো সফল: নাইন ডিভিশন থেকে মে.জে. আকবর আউট!

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ রদ বদল হয়েছে আজ। এর ফলে সাভারের নবম ডিভিশন জিওসি থেকে পতন হয়েছে মেজর জেনারেল আকবরের। অন্যদিকে ডিজিএফআইর ডিজি থেকে সরে গেছে মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন। দু’জনকে নিয়েই বিডিপলিটিকো অনেকগুলি প্রতিবেদন ছেপেছিল। অবশেষে সফলতার মুখ দেখলো বিডি পলিটিকো।

এ সংক্রান্তে বিডিপলিটিকো লিখেছিল, বাংলাদেশে কয়েকজন নির্যাতিত নারী একাট্টা হয়েছে সেনাবাহিনীর এক জেনারেলের বিরুদ্ধে। সূত্র জানাচ্ছে, নারী নির্যাতনের দায়ে এবার ধরা পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ আর্মির নবম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আকবর হোসাইন। অবশ্য জেনারেল এরশাদকে থাপড়ানো থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি সিনহার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কাগজে সই নেয়া অবধি বহু রংবাজির কারনে আলোচিত সমালোচিত হয়ে আছে এই জেনারেল।
জানা গেছে, সেনাবাহিনীর ১৩ লংয়ের ব্যাচমেটদের কাছে ‘আকবইর‌্যা’ হিসাবে পরিচিত এই আফিসারটি চীনে কোর্স করতে গিয়ে বাংলাদেশী এক বনেদি পরিবারের মেয়ের সাথে অঘোষিত সংসার করার পরে তাকে মেরে ফেলার ঘটনা সেনাবাহিনীর কলঙ্ক তিলক হয়ে আছে। এরপরে শেখ হাসিনার অধীনে চার বছর ডিজি ডিজিএফআই থাকাকালে শত শত রাজনৈতিক অপহরন, গুম, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িতে ছিলেন আকবর। মেজর জেনারেল আকবরকে গত মার্চে সাভারের নবম ডিভিশনের জিওসি করে বসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জিওসি হয়েও আকবর খুনখারাবি, টাকা কামানোর ধান্দা, মদ ও নারী সঙ্গ ছাড়তে পারেনি আকবর। পদের অপব্যবহার করে নায়িকা সুমাইয়া শিমু, জয়া আহসান, পপি সহ শোবিজ জগতের বহু নারীর ইজ্জত লুটে নিয়েছে ১৮ ঘন্টা মাতাল থাকা আকবর। কয়েকমাস আগে কোলকাতায় গ্রান্ড হোটেলে জয়া আহসানের সাথে আকবরের আপত্তিকর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।





Content Protection by DMCA.com

শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই পুতুলের স্বামী মিতুর আমিরাতের গ্রেফতার প্রসঙ্গ

মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
————————————
বাংলাদেশের অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতু সংযুক্ত আর আমিরাতের শারাজায় মানিলন্ডারিং ও মাদকদ্রব্য রাখার অপরাধে গ্রেফতার হন। পরে ডিপ্লোমেটিক চেষ্টায় বন্ড দিয়ে জামিনে বের করে আনা হয়।

উল্লেখ্য, খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতু তার স্ত্রী সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (শেখ হাসিনার কন্যা) সহ কানাডা থাকাকালীন ২০১২ সালে অর্থ পাচারের অভিযোগে সে দেশের পাসপোর্ট বাতিল হয়। তারা কানাডা থেকে পালিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস শুরু করেন। বাংলাদেশ থেকে লুট করা টাকায় আবুধাবীর জাহিদ সিটিতে একটি আলিশান প্যালেস কিনে বাস করতে থাকেন। অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কিছুদিন পর পর এখানেই দেখতে যান তার মেয়ের সংসার।

অন্যদিকে শারজাহ শহরের বুহাইরা এলাকায় আল নাসির-৫ টাওয়ারে ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্ট কিনে অফিস-কাম-বাসা তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে শ্বাশুড়ি ও পুতুলের কমিশন আদায় করে, এমনকি নগদ ডলারের সুটকেসও আনা নেয়া করে। ঐ সব অর্থ ব্যাংকে রাখা, বিনিয়োগ করা, এবং বিভিন্ন জনের সাথে অর্থ আদান প্রদান ও হুন্ডির মূল হোতা সহ বিভিন্ন অবৈধ কাজ করে থাকেন মিতু।
এরই ধারাবাহিকতায় কিছুদিন আগে হঠাৎ কাতার থেকে সাড়ে ৪ কোটি দিরহাম (যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা) অর্থ এডিসিবি ব্যাংকে জমা হয় মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে। কাতার থেকে এত মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের হিসাব দেখে আরব আমিরাত নড়েচড়ে বসে- মানি লন্ডারিং ইউনিটকে কাজে নামানো হয়। কারণ সাম্প্রতিক কাতারের সাথে আরব আমিরাতের সকল সম্পর্ক ছিন্ন, সকল প্রকার চুক্তি বাতিল করে আরব আমিরাত।


শারজার পুলিশ মিতুর সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে, এবং প্রথমে মিতুর পাসপোর্ট জব্দ করে। গত শনিবার মিতুর শারজাহের ফ্লাটে তল্লাশি চালায় (আল নাসির প্লাজা রুম নং ৩০১৩)। তল্লাশির সময় মিতু উপস্থিত ছিলেন না। কেবল তার কেয়ারটেকার মোঃ শফি ছিলেন। শফির বাড়ি ফরিদপুর জেলা সদরপুর থানায়। তল্লাশির সময় বাসা থেকে যা উদ্ধার হয়:

১. পাঁচটি ল্যাপটপ,

২. একটি ম্যাক পিসি,

৩. তিনটি আইপ্যাড,

৪. ৯টি মোবাইল ফোন ও ১৭টি সিমকার্ড,

৫. বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২৭ পিস মদের বোতল ও

৬. ৪৮ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করে।

তাৎক্ষণিকভাবে ঐ ফ্লাট থেকে কেয়ারটেকার মোঃ শফিকে আটক করে, এবং মিতুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

আজ সোমবার ভোর ৫টার দিকে আবুধাবির মোহাম্মদ বিন জাহিদ সিটি নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ মিতুকে আটক করে এবং পরে শারজাহে বুহাইরা পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসে। আটকের খবরে আয়ামীলীগ সরকারের আবুধাবীর রাষ্ট্রদূত ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের লোকজনে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। অবশেষে আজ রাতে ৪ জনের ব্যক্তিগত বন্ড (একটি ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ও তিনটি সাধারণ পাসপোর্ট) জমা দিয়ে “মিতু পালিয়ে যাবে না” এমন জিম্মাদারী রেখে প্রাথমিক ভাবে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। তার আইনজীবি হিসাবে মামলা পরিচালনায় ছিলেন এডভোকেট Abdelaziz Al Zaabi, ফোন নম্বর: +971554852340.

তবে কেয়ারটেকার মোঃ শফি মুক্ত হতে পারেনি, কারণ তার ভিসা Al Sarh Al Areq Construction L.L.C কোম্পানির, যার মালিক হলো মিশরীয়। ঘটনায় শফির যোগসূত্রতা কতটুকু এবং নির্দোষ কি না, তা নিয়ে সন্দেহমুক্ত না হওয়ায় আল শারাহ কোম্পানী তার দায়িত্ব নেয়নি। ফলে শফিকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

তবে পাসপোর্ট জিম্মাদারিতে মিতু জামিনে বের হলেও বিচার কার্যক্রম চলতে থাকবে আইন অনুযায়ী। শারজাহ পুলিশ সুত্রে তার একটি সুইস ব্যাংকের একাউন্ট সম্বন্ধে জানা গেছে, যাতে বর্তমানে ৬৮০ মিলিয়ন ইউরো জমা রয়েছে:একাউন্ট নম্বর: 012840BSB034705,একাউন্ট কোডিং নম্বর: MT104, MT910,

MT103/202.U.S Public Law 106-229, (Electronic commerce agreement (ECE/TRADE/257), (European Community Directive No: 95/46/EEC.

Content Protection by DMCA.com

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আবুধাবীতে নেশাদ্রব্য সহ গ্রেফতার হয়েছেন হাসিনার মেয়ের জামাই মিতু !

মানি লন্ডারিং ও মাদকদ্রব্য রাখার দায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুলের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুকে গ্রেফকার করেছে আরব আমিরাত পুলিশ।

জানা গেছে, আবুধাবীর মোহাম্মদ বিন জাহিদ সিটির নিজ বাসভবন থেকে আটক করার পরে আজ সকালে তাকে শারজাহতে নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতকে বুহাইরা পুলিশ স্টেশনে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মিতুর বুহাইরা ক্রোনিকের আল নাসির প্লাজা-৫ এর নম্বর ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্টে গত শানিবার তল্লাশি চালায় শারজাহ পুলিশ। তল্লাশিকালে এই ফ্ল্যাট থেকে মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে। এর পরপরই খন্দকার মাসরুর হোসাইন মিতুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে শারজাহ আদালত। শারজাহে মাদক ও নেশাদ্রব্য ব্যবহার ও বিক্রয় করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করার শাস্তি কঠিন শাস্তি।

এর আগে কাতার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে আরব আমিরাতে নিজের একাউন্টে নিতে গিয়ে শারজাহ পুলিশের তদন্তের জালে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু। তার পাসপোর্ট আটক করে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সহ নানাবিধ অপরাধের তদন্ত চলছিল। শনিবার শারজাহর কেন্দ্রস্থলে আল নাসির প্লাজায় মিতুর বাসায় তল্লাশি চালায় পুলিশ।

ফরিদপুরের কুখ্যাত নুরু রাজাকারের নাতি ও আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু বেশ কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রী পুতুল সহ আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। মুলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতিলব্ধ এবং শেখ হাসিনা ও পুতুলের কমিশন বাবদ প্রাপ্ত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার করে এনে ব্যাংকে রাখা, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করা মিতুর কাজ। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশ থেকে কালো টাকা আদান-প্রদান।

গত মাসে চীনা একটি মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি একটি ফান্ড মাসরুরের একাউন্টে আসে কাতার থেকে। আবুধাবী কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ADCB) শারজাহ শাখায় অবস্থিত মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে এই টাকা আসে। কাতার নিয়ে চলমান সংকটের ফলে আরব আমিরাতের সাথে দেশটির ব্যবসা বানিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আর সেই কাতার থেকেই মোটা অংকের টাকা অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসের পারসোনাল একাউন্টে। সন্দেহজনক এই লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে শারজাহর AML ইউনিট। সেখান থেকে বিষয়টি শারজাহ পুলিশের কাছে আসে। মিতুর বাংলাদেশী পাসপোর্ট আটক করে তার পালানো আটকে দেয় পুলিশ। শেষে তল্লাশি শেষে ঘটে এই গ্রেফতার।

আরব আমিরাতের ৭টি আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই শারজাহ আমিরাতে চলে নিজস্ব আইন কানুন। এখানে পবিত্র কোরআনের আইন কার্যকর। তাছাড়া ২০১৮ সালে নতুন এন্টি মানি লন্ডারিং আইন (AML) কার্যকর করার পর থেকে দেশটিতে মানি লন্ডারিং ড্রাইভ জোরদার হয়। সেই বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই।

ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত সোর্স ছাড়াও সেনা গোয়েন্দা সোর্স এবং ঢাকাস্থ আরব আমিরাত সূত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাইর গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে।

Content Protection by DMCA.com

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে হাসিনার মেয়ের জামাই মিতুর পাসপোর্ট আটক: বাসা তল্লাশি


মধ্যপ্রাচ্য প্রতিনিধি
—————————
কাতার থেকে ১০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার করে আরব আমিরাতে নিজের একাউন্টে নিতে গিয়ে শারজাহ পুলিশের তদন্তের জালে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ের জামাই খন্দকার মাশরুর হোসাইন মিতু। ইতোমধ্যে তার পাসপোর্ট আটক করে নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সহ নানাবিধ অপরাধের তদন্ত চলছে। শারজাহর কেন্দ্রস্থলে আল নাসের প্লাজার ৩০১৩ নম্বর এপার্টমেন্টের মিতুর বাসা আজ তল্লাশি করছে পুলিশ। সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে অনেক কিছু বের হচ্ছে।

ফরিদপুরের কুখ্যাত নুরু রাজাকারের নাতি ও আ’লীগের সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্র খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু বেশ কয়েক বছর যাবৎ স্ত্রী পুতুল সহ আরব আমিরাতে বসবাস করছেন। মুলত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে দুর্নীতিলব্ধ এবং শেখ হাসিনা ও পুতুলের কমিশন বাবদ প্রাপ্ত মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার করে এনে ব্যাংকে রাখা, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করা মিতুর কাজ। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে হুন্ডি ব্যবসা, বিভিন্ন দেশ থেকে কালো টাকা আদান-প্রদান।

গত মাসে চীনা একটি মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকার বেশি একটি ফান্ড মাসরুরের একাউন্টে আসে কাতার থেকে। আবুধাবী কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ADCB) শারজাহ শাখায় অবস্থিত মিতুর ব্যক্তিগত একাউন্টে এই টাকা আসে। কাতার নিয়ে চলমান সংকটের ফলে আরব আমিরাতের সাথে দেশটির ব্যবসা বানিজ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। আর সেই কাতার থেকেই মোটা অংকের টাকা অনলাইন ট্রানজেকশনের মাধ্যমে আসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই খন্দকার মাসরুর হোসের পারসোনাল একাউন্টে। সন্দেহজনক এই লেনদেন নিয়ে তদন্ত শুরু করে শারজাহর AML ইউনিট। সেখান থেকে বিষয়টি শারজাহ পুলিশের কাছে আসে। মিতুর বাংলাদেশী পাসপোর্ট আটক করে তার পালানো আটকে দেয় পুলিশ।

আরব আমিরাতের ৭টি আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই শারজাহ আমিরাতে চলে নিজস্ব আইন কানুন। এখানে পবিত্র কোরআনের আইন কার্যকর। তাছাড়া ২০১৮ সালে নতুন এন্টি মানি লন্ডারিং আইন (AML) কার্যকর করার পর থেকে দেশটিতে মানি লন্ডারিং ড্রাইভ জোরদার হয়। সেই বিপদেই পড়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই। সূত্র জানায় যেভাবে আটকেছে পুতুলের জামাই, এখান থেকে বের হতে পারবে না। উল্টো তদন্তে আরো অনেক জটিল সমস্যায় আটকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

মেয়ের জামাইকে ছাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ আরব আমিরাতে যাচ্ছেন ১১ জানুয়ারী। কিন্তু শারজাহ কড়া আইন কানুনের উপরে তদবীর চালাতে গেলে ফেঁসে যেতে পারে মিতু। একেতো শারজাহর কাসেমী শাসক খুব কড়া এবং কোরআনী আইন, দ্বিতীয়ত শারজাহ শাসকের সাথে দুবাইর শাসকের সম্পর্ক ভালো না। ফলে শেখ হাসিনা দুবাই শাসকের মাধ্যমে তদবীর চালাতে গেলে জামাইর কপালে বিপদ বাড়তে পারে। বাড়াবাড়ি করতে গেলে চরম দন্ড পেতে পারে- দেশটির সিস্টেম অনুযায়ী হয়ত শুট আউট বা ইনজেকশন দিয়ে ডিজেবল করে ছেড়ে দিতে পারে।

Content Protection by DMCA.com

রাজাকারের তালিকায় হতভম্ব আওয়ামী লীগ

স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রায় একদশক ধরে সেই ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪০ টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। শুরু থেকেই স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন গোলাম আরিফ টিপু। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পর গত ১৫ ডিসেম্বর সরকার স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই তালিকায় গোলাম আরিফ টিপুর নাম এসেছে। অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলিই নন, তিনি ছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে, এমন একটি সময়ে রাজাকারের তালিকায় তার নাম এসেছে যার কয়েক মাস আগে সরকারের সবচেয়ে সম্মানসূচক একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন গোলাম আরিফ টিপু। শুধু তাই নয় আশ্চর্য্যজনকভাবে এই তালিকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফুফাতো ভাই আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম রয়েছে। যিনি ৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সঙ্গে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা। অবাক করা বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতাবিরোধীদের এই তালিকায় বঙ্গবন্ধুর স্বজনের নাম যেমন রয়েছে তেমনি তার মন্ত্রিসভার সদস্য, বন্ধু, ঘনিষ্ঠ সহচরের নামও রয়েছে। রাজাকারের এই তালিকায় মুক্তিযুদ্ধের অনেক সংগঠকের নাম যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে শহীদের বাবা এমনকি  স্ত্রীর নামও। এমনকি সারা জীবন যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তাদের নামও এই তালিকায় এসেছে। এসেছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার নামও। 
রাজাকারের এই তালিকা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। সারাদেশে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তারা। অবেশেষে বিক্ষোভ আর প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত এই তালিকা স্থগিত করেছে সরকার। তবে এই তালিকা দেখে রীতিমতো হতভম্ব হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। তালিকায় নাম দেখে বিস্মিত, মর্মাহত ও অপমানিত মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তারা বলছেন, মন্ত্রণালয় সীমাহীন অযত্নে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে সবচেয়ে স্পর্শকাতরমূলক এ তালিকাটি প্রচার-প্রকাশ করেছে। 
যদিও  তালিকা প্রকাশের দিন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এই তালিকায় যাতে নিরাপরাধ কেউ না আসে সে ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যথেষ্ট সচেতন রয়েছে। তারা কোনো তালিকা করেননি। একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে থাকা সেই পুরনো নথিটি মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে মাত্র।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দীর্ঘ নয় মাস তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সহায়তায় বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ সময় তারা ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে সেই সব স্বাধীনতাবিরোধীর মধ্যে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নাম প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হল। তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমরা কোনো তালিকা তৈরি করছি না। যারা একাত্তরে রাজাকার, আলবদর, আলশামস বা স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করছি। এরপরও যেসব দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই নাম প্রকাশ করা হবে। কোনো তালিকা শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে প্রকাশ করা হবে না। অন্যায়ভাবে কেউ তালিকাভুক্ত হবে না।’
এ সময় মন্ত্রী বলেন, আইনে একটা কথা আছে, ১০টা অপরাধী যদি বেঁচেও যায় তবুও যেন একজন নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না হয়। তাই আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে এ কলঙ্কজনক তালিকায় নিয়ে আসতে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সচেতন। আমি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই অন্যায়ভাবে কেউ এ তালিকায় আসবে না। 
এমনকি এই তালিকা প্রকাশের আগে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, এটি নতুন কোনো তালিকা নয়। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজাকারদের তালিকা আগে থেকেই রয়েছে। রাজাকার হিসেবে যারা যারা ভাতা নিয়েছে, রাজাকার হিসেবে যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও অনেক নাম রয়েছে, যারা রাজাকার হিসেবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছে- সেসব নাম জোগাড় করেই এই তালিকা আগে থেকেই ছিল। বিবিসিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছেন, রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের তালিকা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ছিল, সেগুলো সংগ্রহ করে এখন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নতুন কোন তালিকা হচ্ছে না। বরং রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে যারা ভাতা নিয়েছেন বা যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, তাদের নাম পরিচয় এবং ভূমিকাসহ রেকর্ড বা তালিকা সেই ৭১ সালেই জেলাসহ স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকাটি করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর যারা সহযোগী ছিল, রাজাকার হিসেবে যাদের নামে অস্ত্র ইস্যু করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। এছাড়া যারা ভাতা পেতো এবং রাজাকার হিসেবে তাদের পরিচয়পত্রও দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সেই ব্যক্তিদের তালিকা সরকারের কাছে সংরক্ষিত যা আছে, তা আমরা প্রকাশ করবো। নতুনভাবে রাজাকারের কোন তালিকা আমরা প্রকাশ করছি না। ৭১ সালে যে তালিকা ছিল, সেটাই আমরা সংগ্রহ করেছি। তবে কিছু এলাকার তালিকা পাওয়া যায়নি। সেগুলো তারা ধ্বংস করেছিল। যেটুক পাওয়া গেছে, সেটাই আমরা অচিরেই প্রকাশ করতে যাচ্ছি।”
তবে বিতর্ক ওঠার পর রাজাকারের নামের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসার কারণ জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী দেশের শীর্ষ স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “প্রথমত এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। এর কারণ হলো এই তালিকাটি ১৯৭১ সালের করা। আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংগ্রহ করেছি। একাত্তর সালে যা করা হয়েছে এর কোনো দাড়ি-কমাও আমি পরিবর্তন করি নাই।” 
তালিকা রাজাকারদের নয়, দালাল আইনে মামলার
এদিকে বিতর্ক ওঠার পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেছেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা পেয়েছেন, তাই ছেপেছেন, নিজেরা কোনো তালিকা করেননি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ওটা রাজাকারের তালিকা নয়, দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিলো, সেই তালিকা। ১৮ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ হাজার ৭৮৯ জনের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তা রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা নয়। দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এটি তাদের নামের তালিকা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয় এটি তাদের নামের তালিকা। তার মতে, অনেকে শত্রুতাবশতও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। সেই নামগুলোও এ তালিকায় আছে। তারা দালাল আইনের আসামি। এর মধ্যে ৯৯৬ জনকে বিভিন্ন অভিযোগ থেকে খালাসও দেওয়া হয়েছে। আমরা খালাসপ্রাপ্তদের নামের তালিকাটিও নোট হিসেবে যুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পাঠিয়েছিলাম। এখন দেখছি অনেক জায়গায় এ নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, ভুলত্রুটি ধরা পড়ছে। 
দুই মন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, দায় কার? 
প্রকাশিত রাজাকারের তালিকা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তারা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে রাজাকারের কোনো তালিকা দেননি। তাদের কাছে রাজাকারের কোনো তালিকা নেই। ১৯৭২ সালে দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই তালিকাই মন্ত্রণালয় থেকে চাওয়ার পর ‘পেনড্রাইভে’ করে পাঠানো হয়েছে। গোপন এ তালিকা প্রকাশ করার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি। এমনকি প্রকাশিত এ তালিকার পাতায় পাতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার কোনো সইও নেই। সংবাদ সম্মেলনে ডাকা হয়নি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো কর্মকর্তাকে। এমন একটি তালিকা প্রকাশ করার পুরো দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তালিকা প্রকাশের দায় নিলেও তালিকাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পেয়েছে বলে দাবি করছে। তারা বলছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রাজাকারের তালিকা চাওয়ার পর তাদের এই তালিকা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকায় কার নাম যুক্ত করেছে বা বাদ দিয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।
গত ১৫ ডিসেম্বর ‘একাত্তরের রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধী তালিকা প্রকাশ-প্রথম পর্ব’ শিরোনামে ১০ হাজার ৭৮৯ জনের নামের এই তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ২৮ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতন-ভাতা নেওয়া রাজাকারদের তালিকা জেলা প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়। পরে ২১ মে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দিয়ে তালিকা চাওয়া হয়। প্রথম চিঠিতে শুধু তালিকা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হলেও গত ২৮ আগস্ট আবারও তালিকা পাঠানোর জন্য তাগিদ দিয়ে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়কালের রাজাকারদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে। মূলত জেলা প্রশাসনেই থাকে এগুলো। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মাত্র ১১টি জেলা থেকে প্রতিবেদন আসে। এর মধ্যে চাঁদপুরে ৯ জন, মেহেরপুরে ১৬৯ জন, শরীয়তপুরে ৪৪ জন, বাগেরহাটে ১ জন ও নড়াইল থেকে ৫০ জন রাজাকারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। অন্য ছয়টি জেলা থেকে শূন্য প্রতিবেদন আসে। বাকি জেলা প্রশাসকেরা জানান, তাদের জেলার রেকর্ডরুমে রাজাকারদের নামের তালিকা তারা পাননি।
এদিকে মে মাসেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আধা সরকারি পত্র দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তালিকা চায়। মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) আবু বকর ছিদ্দীককে এ বিষয়টি খোঁজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আবু বকর ছিদ্দীক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা খোঁজ করে দালাল আইনের ৯০২টি নথির খোঁজ পাই, যেখানে ১০ হাজার ৭৮৫ জনের নাম উল্লেখ ছিল। সেখানে রয়েছে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নামও। কোনো কোনো মামলায় ৪২১ জনের নামও রয়েছে। আমরা বিভাগ অনুযায়ী ভাগ করে পুরো তালিকাটি যোগ করে নিয়েছি নিজেদের সংগ্রহে রাখার জন্য। এরই মধ্যে মন্ত্রী মৌখিকভাবে টেলিফোনে তালিকাটি পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা বলেছি আমাদের কাছে রাজাকারের তালিকা নেই। আছে দালাল আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই তালিকা। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের মধ্যে ৯৯৬ জন সাধারণ ক্ষমাও পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এ দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। আমরা তাদের যে তালিকা দিয়েছি, তা তারা প্রকাশ করবে বলেনি। সংবাদ সম্মেলন করবে, সেটাও জানায়নি। আর আমরা বলিনি, এটা রাজাকারের তালিকা। আমরা প্রথম থেকে দালাল আইনে করা মামলার তালিকার কথাই তাদের বলেছি। তাদের উচিত ছিল যাচাই-বাছাই করে এ ধরনের একটি স্পর্শকাতর তালিকা প্রকাশ করা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় রাজাকারের লিস্ট করবে। আমাদের কাছে তারা চিঠি পাঠিয়েছিল, আমাদের কাছে যে সমস্ত তথ্য আছে সেগুলো যেন পাঠানো হয়। রাজাকারের লিস্ট তৈরি করা দুরূহ ব্যাপার। আমরা প্রাথমিকভাবে দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছিল, সেই দালাল আইনের লিস্টটা পাঠিয়েছি। সেই লিস্টে আমরা মন্তব্য করে দিয়েছি, অনেকের নামের মামলা উইথড্র করা হয়েছিল। সেটা তালিকায় যথাযথভাবে আসেনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রাজাকারের তালিকা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত হবে।’
এ ধরনের বিতর্কিত তালিকা কেন প্রকাশ করলেন, জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পেনড্রাইভে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, সেটাই আমরা প্রকাশ করেছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের কী দায় থাকতে পারে। আমরা তো রাজাকারের তালিকাই চেয়েছিলাম।’
ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও টিপুর আবেদন
রাজাকারের তালিকায় রাজশাহী বিভাগের ৮৯ নম্বরে (ক্রমিক নম্বর ৬০৬) রয়েছে গোলাম আরিফ টিপুসহ পাঁচজনের নাম। এই পাঁচজন এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। আবার তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অ্যাডভোকেট মহসিন আলীর নামও রয়েছে সেই তালিকায়।
তবে ব্যাপক প্রতিবাদ আর সমালোচনার মুখে রাজাকারের এই তালিকা স্থগিতের ঘোষণা আসার আগে ওই তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার চেয়ে মুক্তযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিলেন গোলাম আরিফ টিপু।  
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে টিপু বলেন, “আমি একজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমি  ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫৪ , ‘৬২, ‘৬৬, ‘৬৯, ‘৭০ এবং ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্বটি পালনের জন্য যাচাই-বাছাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই আমাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ করেছে। অথচ আমার নাম রাজাকারের তালিকায়! আমি সত্যিই হতবাক, মর্মাহত, বিস্মিত ও অপমানিত।” তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সীমাহীন অযতœ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে অত্যন্ত অবহেলার সঙ্গে যে তালিকা প্রচার ও প্রকাশ করেছে, তা প্রমাণিত।
বরিশালে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদের স্ত্রী 
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নম্বর সেক্টরে মেজর আবদুল জলিলের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে ছিলেন অ্যাডভোকেট তপন কুমার চক্রবর্তী। তার বাবা সুধীর কুমার চক্রবর্তীকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।
কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধা ও তার মাকে ‘একাত্তরের রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস ও স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে রাজাকারের তালিকায়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বাধীনতাবিরোধীদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে তপন চক্রবর্তী ও তার মা উষা রানী চক্রবর্তীর নাম রয়েছে। সরকারি গেজেটভুক্ত, নিয়মিত সম্মানী পাওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্ত্রীর নাম স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায় দেখে ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়েছেন বরিশালবাসী। বরিশালের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ‘শুধু মুক্তিযোদ্ধাকে নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান’ করা হয়েছে।
 পেশায় আইনজীবী তপন কুমার চক্রবর্তীর মেয়ে মনীষা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বাসদের হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ বলেই রাজনৈতিক কারণে এই তালিকায় তার বাবা ও দাদীর নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মনীষা।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় যাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছে, তাকেই আবার রাজাকার আখ্যা দিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছে- এটি লজ্জাজনক ও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” 
রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর ফুফাতো ভাই!
বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা, বঙ্গবন্ধুর ফুফাত ভাই আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের নাম রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়। অথচ ১৯৭১ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। 
রাজাকারের তালিকার বরিশাল অংশে ৫৮ নম্বর সিরিয়ালে নাম রয়েছে আবদুল হাই সেরনিয়াবাতের। আবদুল হাই সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি সাবেক কৃষিমন্ত্রী প্রয়াত আবদুর রব সেরনিয়াবাতের একমাত্র বড় ভাই। আবদুর রব সেরনিয়াবাত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি ভূমিপ্রশাসন, ভূমি সংস্কার এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাত ১৯৭৩ সালে বরিশাল থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, অস্ত্র দেয়া, খাদ্য সরবরাহসহ বহু কাজে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেন আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের দায়িত্ব ছিল তার ওপর। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা এই মানুষটির নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশিত হওয়ায় বিস্মিত তার সন্তান ও স্বজনরা। তারা এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও হতবাক। 
আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের ছেলে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আমান সেরনিয়াবাত ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, তার নির্দেশে আমরা ৪ ভাই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। যুদ্ধের সময় বাবা বাড়ি থাকতে পারেননি। মাঝে মধ্যে গোপনে এসে দেখা করে যেতেন।
৪৮ বছর পর আজ সেই ইতিহাস উল্টে গেছে। বাবার নাম রাজাকারের তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনার আমরা নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী শহীদ সেরনিয়াবাতের ভাতিজা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন। বরিশালের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মিহির লাল দত্ত ও তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিতেন্দ্র লাল দত্তের নামও এসেছে তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় বাবা ও দাদার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিহির লাল দত্তের ছেলে শুভব্রত দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন ভাষাসৈনিক এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদা ও এক কাকা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমার বাবা ও শহীদ দাদার নাম কীভাবে রাজাকারের তালিকায় এসেছে, সেটা আমার বোধগম্য নয়।’
 রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবীর কাদেরের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধার নাম
মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই এবং ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর প্রতিবাদকারী হিসেবে আবদুল খালেক খসরুর সাহসের কথা বগুড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে মুখে। বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা তিনি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রথম ধাপে রাজাকারের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে তার নাম আছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ছিলেন খালেক। ১৯৭১ সালে শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য চাকরি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে জীবনবাজি রেখে অংশ নেন নানা গেরিলা অপারেশনে। স্বাধীনতার পর শেখ ফজজুল হক মণির নেতৃত্বে গঠিত যুবলীগের বগুড়া শাখার নেতৃত্ব দেন তিনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশ নেন তিনি। ওই বছরের ১২ অক্টোবর তিনি মারা যান। মুক্তিযুদ্ধে সাহসী অবদানের কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তার নাম আছে।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রাজাকারদের নামের তালিকায় সাবেক সাংসদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কছিম উদ্দীন আহম্মেদ, সাবেক এমএনএ মজিবর রহমান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মৃত ফরেজ উদ্দীন আহম্মেদ, আওয়ামী লীগ নেতা তাহের উদ্দীন সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা মৃত মহসিন আলী মল্লিক, লাইব্রেরিয়ান মৃত হবিবর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা নজিবর রহমান, সান্তাহার কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি আবদুস শুকুরের নামও এসেছে রাজাকারের তালিকায়।
বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীর নামও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকায়!
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী শাহজাদা আবদুল মালেক খানের নাম এসেছে। তিনি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে গঠিত মন্ত্রিসভার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেইসাথে ছিলেন বৃহত্তর পটুয়াখালী জেলার বাকশালের গর্ভনর। প্রকাশিত এ তালিকায় ২১ নম্বর পৃষ্ঠায় ১৯৭২ সালের ১৯ জুলাই দায়েরকৃত মামলায় তার নাম আছে ৭৫ নম্বরে। মামলা নম্বর ৪৪। মালেক খানের বাড়ি বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাউনিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আলী আবদুল্লাহ খান। রাজাকারের তালিকায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবদুর রশিদ মিয়া। মালেক খান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাথরঘাটা বরগুনা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন মালেক খান।
তালিকায় আছেন বঙ্গবন্ধুর বন্ধুও
রাজশাহীতে রাজাকারদের তালিকায় এসেছে স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠকদের নাম। বাদ যায়নি পাকহানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ দুই সন্তানের বাবা ও খোদ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচরও। আছে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপির নামও। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল রাজশাহীর স্বনামখ্যাত আইনজীবী আবদুস সালামের। বঙ্গবন্ধু ও আবদুস সালাম দু’জনই থাকতেন কলকাতার বেকার হোস্টেলে। তখনই ছাত্র মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন আবদুস সালাম। এরপর গড়ে উঠে গভীর বন্ধুত্ব। বঙ্গবন্ধু রাজশাহীতে গেলে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সালামের বাড়িতেই উঠতেন।
আবদুস সালামের নাতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান বাবু জানান, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যতবার রাজশাহীতে এসেছেন, প্রটোকল পরিহার করে উঠতেন বন্ধু আবদুস সালামের সিপাহীপাড়ার বাড়িটিতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজশাহীতে আবদুস সালামের বাড়িতেই প্রথম অপারেশন চালায় পাকহানাদার বাহিনী। অ্যাডভোকেট সালাম তার আগেই সীমান্ত পথে ভারতে চলে যান। তাকে না পেয়ে তার দুই ছেলে কলেজছাত্র ওয়াসিমুজ্জামান ও সেলিমুজ্জামান এবং ভাগ্নিপতি নজমুল হকসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যা করা হয়। অ্যাডভোকেট সালাম মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন। সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। তিনি মারা গেছেন ২০০৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। অথচ কারা কীভাবে রাজাকারের তালিকায় তার নাম জুড়ে দিল তদন্ত করা প্রয়োজন। একই তালিকায় নাম রয়েছে অ্যাডভোকেট মিয়া মোহাম্মদ মহসিনেরও। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের পানিপিয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের ইনচার্জ ছিলেন তিনি। ছিলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। কিন্তু সরকারি তালিকায় তিনি এখন রাজাকার!
প্রধানমন্ত্রীর হক চাচাও রাজাকারের তালিকায় 
মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন বরগুনা পাথরঘাটা থানার আহ্বায়ক মজিবুল হকের নামও রয়েছে রাজাকারের তালিকায়। আজীবন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনীতিবীদ হিসেবে পরিচিত এই মানুষটি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর, ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও শ্রদ্ধার পাত্র। ১৯৭১ সালে তৎকালীন বরগুনা মহকুমা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি, ছিলেন পাথরঘাটা থানা কমিটির আহ্বায়ক। ১৯৭০ সালে পাথরঘাটা থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন সভাপতি নির্বাচিত হন মুজিবুল হক। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন এই দায়িত্বে। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাথরঘাটা-বামনা সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি।
এমপি ফজলে করিমের বাবার নাম রাজাকারের তালিকায়
রাজাকারের তালিকায় নাম এসেছে চট্টগ্রামের রাউজানের বর্তমান সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পিতা একেএম ফজলুল কবির চৌধুরীর। প্রকাশিত তালিকায় ২০৩, ৫৯৫ ও ৬০৭ নম্বর ক্রমিকে তিন দফায় তার নাম রয়েছে।  ফজলে করিম চৌধুরী রাউজান আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে টানা ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 
সিরাজগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকও রাজাকারের তালিকায়
আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক সাংসদ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের পরিচালক মরহুম মির্জা আবদুল লতিফের নাম ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় রয়েছে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মির্জা আবদুল লতিফ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বংকিরহাট এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামলেও তিনি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় ২০০৭ সালে ৫ নভেম্বর মারা যান। 
তালিকায় আওয়ামী লীগ বেশি: বিএনপি
বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতাকর্মীরাই সংখ্যায় বেশি। অন্যকে ফাঁসাতে গিয়ে এবার আওয়ামী লীগ নিজেরাই ফেঁসে গেছে।” তিনি বলেন, “এতে জনগণ অবাক হয়নি। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন কি না এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।” রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের থলের বেড়াল বের হতে শুরু হওয়ায় তা প্রত্যাহারের প্রশ্ন উঠেছে।”
প্রধানমন্ত্রী বললেন ‘পুরো বিষয়টি রহস্যজনক’
চারদিন ধরে তীব্র সমালোচনা ও বিক্ষোভের পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ধমক’ খেয়ে ভুলে ভরা রাজাকাদের তালিকা আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যাচাইবাছাই শেষে আগামী ২৬ মার্চ কিংবা আরো পরে রাজকারদের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে। 
তালিকা স্থগিত ও ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলার পর  ১৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কীভাবে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চলে এলো তা রহস্যজনক। তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গোলমাল করে ফেলেছে। এই তালিকাটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এটি খুব খারাপ কাজ হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, এটি খুব কষ্টের বিষয়। যার পরিবারের সদস্যরা শহীদ হয়েছেন, যুদ্ধ করেছেন- তাদের যদি ‘রাজাকার’ শব্দটি শুনতে হয়, তাহলে খারাপ লাগারই কথা। আমি বলব যারা দুঃখ পেয়েছেন তারা শান্ত হোন। যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা কোনোদিনও রাজাকারের তালিকায় থাকতে পারেন না। এটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম, তালিকাগুলো নিয়ে ভালোভাবে যাচাইবাছাই করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি এটি প্রকাশ করার কথা নয়। তাও বিজয় দিবসের আগে। এত সুন্দর বিজয় দিবস উদযাপন করলাম, কিন্তু শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এতে কষ্ট পেয়েছেন। তালিকাটি সময় নিয়ে প্রকাশ করা দরকার ছিল। আসলে আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম সবদিক সময়মতো খেয়াল রাখতে পারিনি।
তবে বিশ্লেষকরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বলছেন, মন্ত্রিত্ব তো কোনো শিক্ষানবিস পদ নয়। ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি কী দাঁড়ালো? এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ করা হয়েছে অত্যন্ত অযত্ন-অবহেলায়। দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামান্যতম কোনো সমন্বয় নেই। মাঠ পর্যায়ে কোনো অনুসন্ধান নেই। নেই কোনো গবেষণা। কোনো তথ্য সংগ্রহই করা হয়নি। যাচাই-বাছাই তো দূরের বিষয়। বলা হচ্ছে, স্থগিত করা রাজাকারের তালিকা ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে প্রকাশ করা হতে পারে। এই তালিকা থেকে পরিচিত কিছু নাম বাদ দিলেই সুষ্ঠু রাজাকারের তালিকা হয়ে যাবে? বিষয়টি এতো সহজ!
বহু রাজাকার ঢুকে গেছে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়। রাজাকারের তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের। এর কারণ কী? অভাব কীসের? সক্ষমতা না আন্তরিকতার? কোনো সন্দেহ নেই মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারের সঠিক-শুদ্ধ তালিকা করা সহজ বিষয় নয়। কিন্তু, তা এতোটা কঠিন নয় যে এমন তালগোল পাকিয়ে ফেলতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা বা রাজাকারের তালিকা করার আগে রাজনৈতিক বিবেচনা সম্পূর্ণ পরিহার করে ‘নির্মোহ’ শব্দটি আত্মস্থ করতে হবে।
( সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে প্রকাশিত)
 

Content Protection by DMCA.com

জালিয়াত ও প্রতারক প্রতিষ্ঠানের সাথে হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের কিসের ব্যবসা?

আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিচিত এক নাম পিপল এন্ড টেক, যার কর্ণধার হলেন আবুবকর হানিপ! আইটি প্রশিক্ষণ এবং জব প্লেসমেন্টের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপণ থাকলেও মূলত শত শত প্রশিক্ষণার্থীকে পথে বসিয়ে দিয়েছে এই পিপল এন্ড টেক!

বাংলাদেশের শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাংলাদেশী কারিগরি প্রতিষ্ঠান পিপল এন টেকের কর্ণধার আবুবকর হানিপের বিশেষ সম্পর্ক। কেউ কেউ বলেন তিনি প্রতিষ্ঠানটির এডভাইজার, কেউ বলেন প্রমোটার, কেউবা আবার বলেন এডভারটাইজার হিসাবে কাজ করছেন। গত নয় মাসেই মোমেন সাহেব দু’বার হানিপের প্রতিষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বানিজ্যিক কার্যক্রমে অংশ নেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যেখানে সময় পাওয়ার কথা নয়, তার মাঝখানে মোমেন সাহেব পিপল এন টেকে অনুষ্ঠানও করে ফেলেছেন।

পিপল এন টেক দাবী করে তারা ১৪ বছরে ৫ হাজার বাংলাদেশী যুবক যুবতীকে যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। আইসিটি খাতে বিশেষ করে ‘সফটঅয়ার টেস্টিং’ কাজ প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশী অভিবাসীরা খুব সহজেই উচ্চ বেতনে কাজ করতে পারবেন, এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে ও প্রচারণা চালিয়ে কাস্টমার ধরা হয়। গড়ে জনপ্রতি ৪০০০ থেকে ৫০০০ ডলারের বিনিময়ে ৪/৫ মাসের একটা ট্রেনিংয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়।

জব প্লেসমেন্টের নাম ভুয়া প্রচারণা

হানিপ সাহেব এবং তার প্রতিষ্ঠান দাবী করে, ট্রেনিং শেষেই তারা জব প্লেসমেন্ট করে। তবে রয়েছে তাদের অদ্ভুদ জালিয়াতি টেকনিক। আমেরিকার জব মার্কেটে তারা কর্মী নিয়োগে সুপারিশ করে ভুয়া অভিজ্ঞতার রিজুমি(Resume) দিয়ে। বেশ কয়েক বছরের জব করেছে প্রার্থী, এমন তথ্যাবলী সরবরাহ করে পিপল এন টেক। তবে প্রতিষ্ঠানটি দোষের মধ্যে যেতে চায় না। সেজন্য প্রার্থীকে নিজেরই রিজুমি আপলোড করতে হয়, যাতে পরে ধরা পড়লে পিপল টেক অস্বীকার করে, দোষ হয় প্রার্থীর। এই ফেইক বা ভুয়া রিজুমির বিষয়টি প্রশিক্ষনার্থীদের জানানো হয় প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে এসে যখন তারা চার/পাঁচ হাজার ডলারের টিউশন ফি পরিশোধ করে ফেলে এবং চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় ব্যয় করে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতে চাকুরীপ্রার্থী ছাত্রছাত্রীরা নিরুপায় হয়ে আবু হানিপের নির্দেশমত ফেইক রিজুমি নিয়ে চাকুরির ইন্টারভিউ ও চাকুরী লাভের জন্য বিভিন্ন জব সাইটে আবেদন করতে বাধ্য হয়। ইন্টারভিউতে যারা কৃতকার্য হয় তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য পিপল এন টেকের কন্টাক্ট নাম্বার রিজুমিতে উল্লেখ করা থাকে। চাকুরীদাতা কোম্পানিগুলো চাকুরীতে নিয়োগ দেয়ার পুর্বে প্রার্থীর ৪/৫/৬ বছরের অভিজ্ঞতার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পিপল এন টেকে যোগাযোগ করলে পিপল এন টেক থেকে সেই ভুয়া বা ফেইক অভিজ্ঞতার বিষয়টিকে সত্য বলে সত্যায়ন করে থাকে। ওরা এ পর্যন্ত যত লোকের জবের ব্যবস্খা করছে, তার মধ্যে ৯৫% ঝরে পড়েছে বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতার সাথে রিজুমিতে উল্লেখ করা অভিজ্ঞতার আকাশ পাতাল পার্থক্যের বিষয়টি ধরা পড়ার কারনে। মিষ্টি কথায় ভুলে মানুষ এমন এক ফাঁদের মধ্যে পা দেয়, পরে যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনা। পিপল এন টেক থেকে ট্রেনিং নেয়া প্রচুর বেকার তো আছেই, ১০০০ খেকে ১২০০ লোক আছে, যারা কাজ না পেয়ে ট্যাক্সি চালিয়ে, গ্রোসারী সপে কাজ করে জীবন নির্বাহ করছে। পিপল এন টেকের ওয়েব সাইটে বহু ভুক্তভোগিরা তাদের বিরূপ মন্তব্য ও ক্ষোভের কথা প্রকাশ করলেও আবু হানিপ  সেসব তাৎক্ষণিকভাবে মুছে দেয়ার জন্য লোক নিয়োগ করে রেখেছেন। ফলে ভুক্তভোগিদের কথা ধামাচাপা পড়ে থাকে।

একে আবদুল মোমেন সাহেব পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে নিউইয়র্কের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে টানা ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এসময়ে আবুবকর হানিফের সাথে তার পরিচয় ঘটে। ঐসময় দামী দামী উপঢৌকন, নগদ খাম, ও সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে মোমেন সাহেবকে বিভিন্ন  অনুষ্ঠান আমন্ত্রণ করেন হানিপ সাহেব, এবং সেগুলো মিডিয়াতে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পিপল এন টেকের খবর বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে। হানিপের ব্যবসা বাড়ে, এমনকি বাংলাদেশে পর্যন্ত এর শাখা খোলা হয়েছে। তবে মোমেন সাহেব যে হানিপের সাথে বড় ধরণের কোনো আর্থিক সংশ্লেষে জড়িয়ে আছেন, তা তাদের কর্মকান্ড দেখলেই বুঝা যায়। এমনকি ভুক্তভোগী ছাত্র ছাত্রীরা প্রতিবাদমুখর হওয়ার চেষ্টা করলে আবু হানিপ পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কৌশলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন সহ আওয়ামিলীগের বিভিন্ন হোমরা চোমরার সাথে তার দহরম মহরমের বিষয়টির দিকে ইংগিত করে তাদের এক প্রকার পরোক্ষ হুমকি দিয়ে থাকেন।  হানিপ-মোমেন চক্রের এহেন লোকঠকানো, প্রতারণা, ও মানুষেকে রাস্তায় বসিয়ে দেয়ার জালিয়াতি ব্যবসা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে বিচারের আওতায় আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগিদের দাবী।

Content Protection by DMCA.com

নতুন পথে বাংলাদেশ?

  • মাসুম খলিলী

বাংলাদেশ কি নতুন এক পথে এগিয়ে যাচ্ছে? এই প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে চলমান দুর্নীতি বা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে শাসক দলের বড় বড় নেতাদেরও ছাড় না দেয়ার ঘোষণা থেকে। সম্ভবত রূপান্তরের বিষয়টি আরো অনেক গভীর। এটি ঠিক যে, বাংলাদেশের শাসক দল এক ধরনের গৃহদাহ বা উত্তরাধিকার সঙ্কটের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। ক্ষমতার উত্তরাধিকার একক পরিবারের মধ্যে আবর্তিত হলে এরকম হতে সাধারণভাবে দেখা যায়। বিশ্বের যেসব দেশে এখনো উত্তরাধিকারের মাধ্যমে ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে, সেসব দেশের কোনো কোনোটিতে এ ব্যাপারে ধরাবাঁধা নিয়ম থাকে।

সুনির্দিষ্ট থাকে ভার্টিক্যালি বা উল্লম্বভাবে উত্তরাধিকার নির্ণিত হবে, নাকি হরাইজন্টাল বা আনুভূমিকভাবে এটি হবে। বিশ্বের আলোচিত রাজতন্ত্রের মধ্যে সৌদি আরব কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনোটাতেই এখন আর নিয়মবাঁধা প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার আবর্তন ঘটছে না। সৌদি আরবে সালমান ক্রাউন প্রিন্স বা বাদশাহ হওয়ার সময় রাজনীতি বা প্রশাসনে সক্রিয়, ভাইদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতম ছিলেন না। অথবা তার পরে নিজের যুবক ছেলে যে মুহাম্মদকে উত্তরাধিকারী করেছেন, তারও একাধিক বড় ভাই ও চাচা রয়েছেন। আমিরাতেও এখনকার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন জায়েদের যোগ্য জ্যেষ্ঠ ভাই রয়েছেন। কিন্তু তারা কর্তৃত্বের লড়াইয়ে পরাভূত। এখন দুই ‘মুহাম্মদ’ সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সিংহাসনের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী।

বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় রাজতন্ত্রের কোনো স্বীকৃতি নেই। কিন্তু বড় দলগুলোতে রয়েছে এক প্রকার রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। আওয়ামী লীগে সংক্ষিপ্ত সময় বাদ দেয়া হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একপর্যায়ে দলের হাল ধরেছেন। এর পরে মুজিব পরিবারের কেউ একজন দলের নেতৃত্বে আসবেন, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু দলের উত্তরাধিকার হরাইজন্টাল হবে নাকি ভার্টিকাল হবে, সেটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। রাজনীতিতে সক্রিয়, পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা সম্ভবত চাইছেন দলীয় নেতৃত্বের উত্তরাধিকার হরাইজন্টালি বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী প্রথম প্রজন্মের মধ্যেই হোক। তাহলে সন্তানরা পরে দলের নেতৃত্বের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় বর্তমান দলীয় প্রধানের মধ্যে থাকতে পারে। এ জন্য তিনি উত্তরাধিকারের লাইনটি সম্ভবত নিজের সন্তানদের মধ্যে রাখতে চান। এটি মানতে চাইছেন না পরিবারের গুরুত্বপূর্র্ণ অনেক সদস্য। শাসক দলের প্রধানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি এই আনুগত্যহীনতার সাথে যুক্ত থাকতে পারে সাম্প্রতিককালে শাসক দল ও এর অঙ্গ সংগঠনের মধ্যকার শুদ্ধি অভিযান।

রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক ব্যস্ততার কারণে হোক অথবা সমঝোতার অংশ হিসেবে হোক, এক সময় দলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো অন্তরালে থেকে বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যাকে দেখতে দিয়েছিলেন বড় বোন। দলের নেতৃত্বে মধ্যে যাদের হাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা বৈধ-অবৈধ উপার্জনের হাতিয়ার থাকে, তাদেরই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় দলে। আওয়ামী লীগের মধ্যে সেটিই গত ১০ বছরে দেখা গেছে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ দুই ব্যক্তিত্বের মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ ছিল না বলে কোনো টানাপড়েন এতদিন দেখা যায়নি। তৃতীয় মেয়াদে এসে উত্তরাধিকারের প্রশ্নটি বেশ প্রবলভাবে সামনে চলে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই ছোট বোন হয়তো রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হতে চান।

মুজিবতনয়া হিসেবে স্বাভাবিকভাবে তার রাজনীতিতে আসার মানে হলো, নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হওয়া। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনা পরম্পরায় মনে হচ্ছে তিনি সম্ভবত ক্ষমতার সাইড লাইনে পড়ে যাচ্ছেন এবং তার অনুসারীরা শুদ্ধি অভিযানে ছিটকে পড়তে যাচ্ছেন। আর দলের মধ্যে ভার্টিক্যাল উত্তরাধিকারের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের ক্ষমতার রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট দলগুলোতে দেশের বাইরের অনেক বিষয় যুক্ত থাকে। যেকোনো দল ক্ষমতায় থাকাকালে তার নেতৃত্বের উত্তরাধিকার বদলের সময় প্রভাবশালী কূটনৈতিক অংশীদারগুলোর ‘চাওয়া-পাওয়া’র বিষয় থাকে। এ কারণে সরকার প্রধানের এবারে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং এর আগে-পরে আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সফর নানা মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ প্রধানের কন্যা ও তার স্বামী কানাডা থেকে এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে এসেছিলেন। সেখানে সরকারপ্রধানের জামাতার ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ রয়েছে।

আর আমিরাতের শাসক পরিবারকে মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম বিশ্বের শাসক পরিবারে বিশেষভাবে প্রভাবশালী মনে করা হয়। আকার বা জনসংখ্যার বিচারে দেশটি তেমন প্রভাবশালী হওয়ার কথা নয়। এক সময় সৌদি আরবের প্রভাব বলয়ে থেকেই দেশটি তার পররাষ্ট্র্র্র কৌশলের চর্চা করত। কিন্তু গত এক দশক ধরে আমিরাত ইসরাইলের সাথে কৌশলগত গোপন সম্পর্ক তৈরি করার পর অনেক ক্ষেত্রে সৌদি নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে। আর মধ্যপ্রাচ্যে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোতে আবুধাবিকে বিশেষ কারণে ক্ষমতাধর মনে করা হয়। মুসলিম বিশ্বজুড়ে ইসলামিস্ট দমন কাজে দেশটি যে কাজ করছে, সেটাকে তার ক্ষমতার মূল ভিত্তি মনে করা হয়ে থাকে। হয়তো বা এ কারণে আমিরাতের সাথে সম্পর্ক থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরাইলি লবির ছায়া লাভ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়।

এই কারণে এবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের আগে প্রধানমন্ত্রীর আমিরাত সফরের সময় তার কন্যা সাথে ছিলেন। আমিরাত শাসক মুহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয় সেখানে মায়ের পাশে বসা ছিলেন সায়মা, এরপরের আসনে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন। অন্যদিকে, মুহাম্মদ বিন জায়েদের পাশে ছিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী। এর পর নিউ ইয়র্কে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তনয়া মিসরের শীর্ষস্থানীয় জেনারেলদের সাথে বৈঠক করেছেন বলে জানা যায়। নিউ ইয়র্কে সাধারণ অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওআইসি-বাংলাদেশ যৌথসভার বাইরে শেখ হাসিনা অনানুষ্ঠানিক বেশ কটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদির সাথে সাইড লাইনে বৈঠক ছাড়াও ইন্দো-বাংলা-মার্কিন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ছিল। মনে করা হয় যে, এই বৈঠকটি বাংলাদেশের এক নতুন অভিযাত্রার জন্য অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ। এর পেছনে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দেশটির বিশেষ লবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বৈঠকটির পর ভারতে প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের তৃতীয় দফা ক্ষমতাকালের পররাষ্ট্রনীতি বা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার নীতি। এই নীতির অংশ হিসেবে দেশের উন্নয়নের বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে চীনা বিনিয়োগের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। চীন সরকার তাদের ঐতিহ্যগত কৌশল থেকে সরে এসে একতরফাভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা দেয় আওয়ামী লীগ এবং দলটির পরিচালিত সরকারকে। ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যরাতের হিসেবে খ্যাত নির্বাচনে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে বেইজিং। সেই নির্বাচনে জয়ের পর স্বর্ণ নির্মিত নৌকা নিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রথম শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। বিএনপি প্রধানকে কারাবন্দী করে রাখা এবং দলটির নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখেনি। ঐতিহ্যগতভাবে চীনমুখী পররাষ্ট্রকৌশলের কারণে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরাগভাজন হলেও সর্বোতভাবে বিএনপিকে পরিত্যাগ করেছে বেইজিং। এর ফলে নতুন সরকারে চীনের পছন্দের লোকজন মন্ত্রিসভায় বেশি স্থান পেয়েছেন। বেশ কিছু বড় প্রকল্প চীনারা গ্রহণ করেছে এদেশে। বেইজিং বাংলাদেশকে সাবমেরিন সরবরাহ করে সাবমেরিন ঘাঁটি করার প্রস্তাবও দিয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানের ব্যাপারেও দেশটি অগ্রসর হতে থাকে।

কিন্তু এর পাল্টা কোনো চাপ মোকাবেলার জন্য কতটা প্রস্তুত ছিল দেশটি সেটি বোঝা যায় না। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই প্রতিবেশী এবং পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো থেকে চীনকে ‘সম্পর্কের বসত ঘরের বাইরে’ রাখার জন্য চাপ যত বাড়তে থাকে তত বিব্রতকর অবস্থা সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ সরকারের অন্দরমহলে। শাসক পরিবারের ক্ষমতার উত্তরাধিকারে মেরুকরণ ঘটে যায়। চাপ অনুভূত হয় অনেক বড় মাত্রায়। এতে চীনের সাথে বর্তমান সরকারের সম্পর্কের উষ্ণতা কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বেইজিং ২৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব ‘পর্যালোচনা’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য ‘ব্লাঙ্ক চেক’ দেয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ঢাকাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, চীন বিনিয়োগ না করলেও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আইএমএফ এবং এডিবি থেকে সেটি পূরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের দিল্লি সফরে ফেনী নদীর পানি দেয়া, ভারতের ত্রিপুরায় তরল গ্যাস সরবরাহের চুক্তি, ভারতের দেয়া ৫০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়ে সে দেশ থেকে অস্ত্র কেনা এবং সমুদ্র উপকূলের ২০ স্থানে ভারতের রেডার স্থাপনের চুক্তি দৃশ্যত ঢাকার চীনা প্রভাববলয় থেকে সরে আসার পরিষ্কার সঙ্কেত। নতুন এই ব্যবস্থার পরে চীনের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর নামে বঙ্গোপসাগর এলাকায় আরো কড়া দৃষ্টি রাখবে ভারত। এ ব্যবস্থা শুধু সমুদ্রপথে যেকোনো জাহাজ বা বস্তু শনাক্ত করতে ভারতকে সাহায্য করবে না, একই সাথে বাংলাদেশের নৌসীমানায় তাদের আধিপত্য স্থাপনেও সহায়তা করবে।
এর বাইরে ঢাকায় সরকার যেকোনো নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়লে দিল্লির সামরিক সহায়তার গোপন এক চুক্তির বিষয়ও অনানুষ্ঠানিক গণমাধ্যম সূত্রে বলা হচ্ছে। এটি সত্য বা অসত্য যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ যে ভারসাম্য রক্ষার আগের নীতি থেকে সরে এসে আবার প্রতিবেশী দেশের সাথে বিশেষ সম্পর্ক বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থনের অনির্ভরতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নানা সময় বিপদের কারণ হয়েছে। দেশটির সরকারে যারা থাকেন তাদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ করার নীতির কারণে, বিপদে পড়ার সময়ের অবন্ধু হিসেবে তারা কিছুটা স্বীকৃতি লাভ করেছে। চীন তার বন্ধুদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা দেয় না, শুধু ব্যবসা করে- এই ধারণার কারণে বর্তমান সরকারও সম্ভবত চীনা সম্পর্কের কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

প্রশ্ন হলো- এর জন্য কতটা মূল্য দিতে হবে বর্তমান সরকার অথবা বাংলাদেশকে? এখন হয়তো অনেক প্রকল্পে চীন অর্থ ছাড় বন্ধ করে দেবে এবং নতুন প্রকল্প নেবে না। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ঢাকা সফর বাতিলও করা হতে পারে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ থেকে এখন বিসিআইএম প্রকল্প বাদ পড়ে যেতে পারে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। এদেশে চীনা সমরাস্ত্রের স্থান করে নেবে বিকল্প সূত্রের সমরাস্ত্র। বাংলাদেশের ক্ষমতার গভীর বলয়ে চীনের কতটা অবস্থান রয়েছে- তা স্পষ্ট নয়। সে রকম কিছু না থাকলে দেশটিকে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে চীনের কাছে হাত পাতা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশ যেভাবে ‘আগ্রাসী’ মিত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে, তাতে ভিন্ন কোনো চিন্তার সুযোগ ভুটানের মতো হারিয়ে যাবে কি না। ভুটানও অবশ্য তার সীমান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে নিজস্বভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, ভুটান দিল্লির সাথে আলোচনা ছাড়াই সীমান্তে বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণরেখাকে স্থির সীমান্ত হিসাবে গ্রহণ করতে রাজি হয়েছে। এ হিসেবে, আলোচিত দোকলামের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ স্বীকৃত হয়ে যাবে যেটি কোনোভাবেই কামনা করেনি ভারত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চার দিনের ভারত সফর শেষে যে সাতটি চুক্তি ও তিনটি সমঝোতা স্মারক এবার সই হয়েছে তাতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি দেখছেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যেও বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এবার তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। উল্টো ফেনী নদীর পানি তুলে নেবে ভারত। রোহিঙ্গা ইস্যুতে শক্তভাবে বাংলাদেশের পাশে দরকার ভারতকে। এনআরসি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বস্ত করলেও তার মন্ত্রীরা প্রতিনিয়তই হুমকি দিচ্ছেন। এগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। ভারত ও বাংলাদেশ যে যৌথ বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে তার কোথাও ‘এনআরসি’ শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নেই।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ‘জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরের একটি যৌথ বিবৃতিতে কেন তার উল্লেখ থাকতে যাবে?’ অথচ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কিছু নেই- এই আশ্বাসটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী মোদির মুখ থেকে আসুক। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা অন্যান্য বিজেপি নেতা যেভাবে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছেন যে, এনআরসি বাতিল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাংলাদেশেই পাঠানো হবে, সেই পটভূমিতে এটা ছিল বাংলাদেশের জন্য জরুরি।

এ কারণেই হয়তো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয়, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে আগ্রহী। কারণ তারা বাংলাদেশের জনগণের কোনো সুবিধার কথা চিন্তা করছে না। এতে তাৎক্ষণিকভাবে মনে হতে পারে, তারা জিতে গেছে। জনগণের কাছেও হয়তো এসব বলে দু-চারটি ভোটও বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তাদেরও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকেও জনগণের কাছে এসব নিয়ে বলতে হবে। ফলে দেশের জনগণ বা সরকার যদি মনে করে, তারা আসলে প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাহলে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্কে ফাটল ধরবে। এক সময় হয়তো আমাদের সরকার অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে অধিক মনোযোগী হবেন। সেটা তো ভালো হবে না।’

অন্যদিকে, ভারতের উপকূলে রেডার ব্যবস্থা স্থাপন করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন বিভাগের ড. সৈয়দ মাহমুদ আলী মনে করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের তরফ থেকে যা-ই বলা হোক না কেন, দিল্লির সরকার ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রে যে অত্যাধুনিক নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তুলছে তার আসল উদ্দেশ্য চীনের নৌবাহিনীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা। তিনি বলেছেন, চীন সম্পর্কে ভারতের যে উৎকণ্ঠা রয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে চীনের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তা কিছুটা নিষ্ক্রিয় করতেই ভারত সরকার অবশ্যই চাইবে এটা প্রমাণ করতে যে, ‘বাংলাদেশের ওপর তাদেরও কিছুটা হলেও প্রভাব রয়েছে।’

বাংলাদেশ ১৯৭৬ সাল থেকে চীনের সাথে ক্রমে ক্রমে বেশ ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এই সম্পর্ক গত ১০ বছরে গভীর ও নিবিড় আকার ধারণ করে। বিশেষত, ২০০৯ সাল থেকে চীনের সাথে বাংলাদেশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বাংলাদেশ ২০০৯ সাল থেকে তার সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষভাবে বিমান ও নৌবাহিনীর, আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে ব্যাপক সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়েছে। কিন্তু ভারতের সাথে এবারের চুক্তির পর সম্ভবত সেই অবস্থা পাল্টে যাবে। ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র মিলে যে একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রায়েঙ্গেল ডায়নামিকস’ সৃষ্টি করেছে, বিশ্বব্যাপী তার গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশ যেহেতু ভারত ও চীন উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ, তাই সে দেশের ওপর এবারের দিল্লি সমঝোতার একটা প্রভাব পড়তে বাধ্য।

এখন দেখার বিষয় হলো- বাংলাদেশের রাজনীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সে প্রভাব কতখানি পড়ে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকেও সেটি প্রভাবিত করে কি না।

[email protected]

Content Protection by DMCA.com

হাসিনাকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে, নেতকর্মীদের সতর্ক থাকতে বললেন কাদের!

আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন অনেক খেলা আছে, অনেক চক্রান্ত আছে।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতি মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

অবশ্য বেশ কিছু দিন যাবৎ সামজিক মাধ্যমগুলিতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, শেখ হাসিনা ক্যান্সারে ভুগছেন, এমনকি অবস্থা খুব আশংকাজনক, যেকেনো সময় তার মত্যু হতে পারে, তিনি কেবল নেতাকর্মীদের ধরে রাখতে অসুস্থতা গোপন করে নাটক করে যাচ্ছেন। তাকে সরিয়ে সেখানে ছোট বোন শেখ রেহানা বসতে চাইছেন। এ নিয়ে পরিবার এবং প্রভাবশালীদের মধ্যে প্রবল গৃহবিবাদ চলছে। অন্যদিকে, শেখ হাসিনা চাইছেন, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে উত্তরাধিকার করতে। এ নিয়ে নানা গুজব এবং চক্রান্তের খবর হাওয়ায় ভাসছিল।

অবশেষে দলীয় সাধারণ সম্পাদক সেই গুজবকে সত্য হিসাবে প্রকাশ করলেন!

Content Protection by DMCA.com

ক্যান্সারের চিকিৎসা, পারিবারিক কলহ নিষ্পত্তি এবং জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা


আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মিডনাইট প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্কে পৌছেছেন। এসময় তিনি তার শারীরিক চিকিৎসা করাতে পারেন এবং ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে সৃষ্ট পারিবারিক বিবাদ নিষ্পত্তির চেষ্টা হতে পারে।

গত জুলাই মাস থেকে সামাজিক মাধ্যমে দেশ জুড়ে চাউর হয়েছে, শেখ হাসিনা মরণঘাতি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। আর এরই চিকিৎসা নিতে তিনি ঘন ঘন যুক্তরাজ্য সফর করে থাকেন। খবরের প্রথম সূত্র হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর মেডিকেল টিমের এক সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, পরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবরা এটি নিশ্চিত করেন। ১৯ জুলাই ইউরোপীয় অঞ্চলের বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতদের একটি সভার অস্বাভাবিক অযুহাত দেখিয়ে শেখ হাসিনা লন্ডনে যান। এরপরে টানা ১৩ দিন তিনি কোথায় ছিলেন সে সম্পর্কে জাতিকে সরকারীভাবে কিছু জানানো হয়নি। তখনই গুজব ছড়িয়ে পড়ে তিনি বেঁচে আছেন কি না। এর ফলশ্রুতিতে দিশাহারা হয়ে তার মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য বিদেশে পড়ি জমান অথবা দেশের মধ্যেই লুকিয়ে থাকেন বলে জানায় সচিবরা। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আর ২/১ জন মন্ত্রী ব্যতিত সচিবালয়ের অফিসে মন্ত্রীদের কামরাগুলি খা খা করতে থাকে। দলীয় বিনাভোটের এমপিরা এবং লুটপাটে ওস্তাদ নেতারা অনেকেই ব্যাংকক, কোলকাতা, দুবাই, সিঙ্গাপুরে গিয়ে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।

অবশেষে লন্ডনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, ২২ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত লন্ডনে পাকিস্তানীদের নির্মিত বুপা ক্রমওয়েল হসপিটালের ক্যান্সার সেন্টারে তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো সরকারী মাধ্যম থেকে বিষয়টি জনগনকে জানানো হয়নি, বা খবরটির স্বীকার অস্বীকার কিছুই করা হয়নি। এসময়কালে আরো একটি খবর জানা যায় যে, তাঁর আসন্ন মৃত্যুর পরে ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে লন্ডন, ফিনল্যান্ড, এবং ঢাকায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাতে তিনি চান তার কন্যাকে উত্তরাধিকার করতে, অন্যদিকে ছোট বোন চান নিজে ক্ষমতায় বসতে। কেননা প্রধানমন্ত্রী অতীতে কথা দিয়েছিলেন- চতুর্থবার ক্ষমতায় বসার এক বছরের মধ্যে ছোটবোনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। ছোটবোন এখন সেই ঘোষণা পূরণ চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেকথা থেকে বার বার সরে যাচ্ছেন। তাই পারিবারিক কলহ জটিল আকার ধারণ করেছে।

বুপা হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা যায়, এটি কোলোন ক্যান্সার এবং চতুর্থ ধাপের।

এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে এসে ২৫ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাম না জানা হাসপাতালে কোলোন সার্জারি করেন, যদিও তারা প্রকাশ করে পিত্তথলির অপারেশন বলে। এ প্রসঙ্গে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসে পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেন, ‘গত সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মা’র গল-ব্লাডারের সার্জারি হয়। আমাদের পাশের হাসপাতালে আমার এক ডাক্তার বন্ধুই সার্জারিটি করেন। সার্জারিটি অত্যন্ত সফল ছিল। পরদিন সকালেই মা বাসায় ফিরে আসেন। তিনি এখন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।’ কিন্তু তিনি এর আগে প্রথমবার বিরোধী দলে থাকতে কানাডায় পিত্তথলি অপসারণ করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। যাই হোক, প্রায় তিন সপ্তাহ পরে তিনি মোটা কাপড়ে শরীর ঢেকে দেশে ফিরেন, তবে দীর্ঘ প্রায় দু’মাস বাসভবনের ভিতরেই কাটান, হয়ত খুব অল্প সময়ের জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে যেতেন সপ্তাহে বা পক্ষে একবার। আরও পেছনে গেলে পাওয়া যাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী এমপি যিনি গণভবন-ঘনিষ্ট এবং পরে একজন প্রখ্যাত সনোলজিস্ট কনফার্ম করেন যে, তার শরীরে মরণঘাতি ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে ২০১২ সালের জানুয়ারী মাস থেকে, অবশ্য সেই থেকে চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রোগটি আবার বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রায় তিন মাস অঘোষিত ছুটিতে থেকে চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় থাকেন। এর কিছুদিন পরেই তিনি লন্ডনে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিজের শারীরিক অবস্থা যাচাই করেন এবং চিকিৎসা নিতে শুরু করেন। আমেরিকা ইউরোপ যেখানেই তিনি যান না কেনো, লন্ডনে তার কিছুদিন থাকতেই হবে। এবছর মে মাসে ১০ দিন এবং আগস্ট মাসে প্রায় একমাস লন্ডনে চিকিৎসা নেন। ক্যান্সারের বিষয়টি এবারে নিশ্চিত করেছেন তার চিকিৎসা টিম এবং গোয়েন্দা সূত্র। আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক দু’দিন আগে প্রথম জানান দিলেন, প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় নিউইয়র্কে গেছেন, তবে কি অসুস্থতা তা পরিষ্কার করেননি!

জানাগেছে, চলমান জাতিসংঘ সফরকালে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশেনের ফাঁকে ফাঁকে অন্তত দু’টি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিবেন, এরমধ্যে একটি হচ্ছে ক্যান্সারের চিকিৎসা। এর পাশাপাশি ক্ষমতার উত্তরাধিকার প্রশ্নে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বোন, কন্যা ও অন্যান্যদের সাথে সমঝোতার আরও চেষ্টা চালাবেন। এমনকি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে তার প্রভাব কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারেন।

Content Protection by DMCA.com

মুঘল বাদশাহ আওরঙ্গজেব এবং প্রাসাদ ষড়যন্ত্র

ঢাকায় তো প্রাসাদ ষড়যন্ত্র চলছে, আসুন একটু মুঘল ইতিহাসের মহাপ্রাসাদ ষড়যন্ত্র পড়া যাক।
মনে পড়ে যায়, দিল্লির ষষ্ঠ বাদশাহ মহানুভব সম্রাট আলমগীরের (আওরঙ্গজেব) কথা, তিনি ক্ষমতার জন্য এবং টিকে থাকতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন, তাতে অনেক শিক্ষা আছে।
তাজমহল খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের চার পুত্র ছিল: দারা শিকো, শাহ সুজা, আওরঙ্গজেব, এবং মুরাদ বাকশ। তাদেরকে চারটি এলাকার সুবাদার বানিয়েছিলেন শাহ জাহান। সম্রাট সর্বদা তার জ্যেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকোকে অধিক প্রাধান্য দিতেন। অপর তিন ভ্রাতা এতে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে দারার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। মুঘল সাম্রাজ্যে এমন কোন নিয়ম ছিল না যে, সম্রাটের মৃত্যু বা অসুস্থ হলে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন। সাধারণত সিংহাসনের দাবিদারদের মধ্যে যুদ্ধ এবং কৌশলে সিংহাসনচ্যূত করে ক্ষমতা দখল ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে মুঘল সাম্রাজ্যের ক্ষমতার পালা বদল ঘটত। মূলত সামরিক শক্তির বলেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হত।

শাহজাহানের চার পুত্রই শাসক হিসাবে যোগ্য ছিলেন। কিন্তু মূল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুধুমাত্র বড়পুত্র দারাশিকো এবং তৃতীয়পুত্র আওরঙ্গজেবের মধ্যে সীমিত ছিল। দারাশিকোর চেয়ে যুদ্ধকৌশল এবং বুদ্ধিমত্তায় আওরঙ্গজেবের এগিয়ে ছিলেন। তাছাড়া ক্ষমতার পেছনের অনেক রাজকর্মচারী এবং অন্যান্য প্রভাবশালীরা এই দুইজনের পেছনে বিভক্ত হয়ে ছিল। আদর্শগত দিক দিয়েও তাদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য ছিল। দারাশিকো ছিলেন সম্রাট আকবরের মত ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী, অন্যদিকে অপরদিকে আওরঙ্গজেব ছিলেন কোরআনে হাফিজ ও কট্টর সুন্নি মুসলিম।

১৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বরে সম্রাট শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তার কাছে ছিলেন এলাহাবাদ ও লাহোরের সুবাহদার জ্যেষ্ঠপুত্র দারা শিকোহ। শাহজাহান দারাশিকোকে পরবর্তি সম্রাট হিসাবে ঘোষণা করলে ভাইদের সাথে কলহ শুরু হয়। শাহ সুজা ছিলেন বাংলার সুবাহদার, আওরঙ্গজেব ছিলেন দাক্ষিণাত্যের সুবাহদার এবং গুজরাটের সুবাহদার মুরাদ নিজ নিজ প্রদেশের স্বাধীন শাসক হিসাবে ঘোষণা করে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী আগ্রা দখলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ফলে কেন্দ্রের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ১৬৫৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জুন মাস অবধি চার রাজপুত্রের মধ্যে অনেকগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

শাহজাদা সুজা তার বাহিনী নিয়ে রাজধানী আগ্রার উদ্দেশে যাত্রা করেন, তবে বানারসের নিকট দারাশিকোর বাহিনীর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বাংলায় ফেরত আসেন সুজা। অন্যদিকে দাক্ষিণাত্য থেকে আওরঙ্গজেব এবং গুজরাট থেকে শাহজাদা মুরাদও একই ভাবে সসৈন্যে আগ্রা অভিমুখে যাত্রা করেন। আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে জোট করেন এই চুক্তিতে যে, যুদ্ধে জিতলে তারা সমগ্র সাম্রাজ্য নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবে। আওরঙ্গজেব এবং মুরাদের সম্মিলিত বাহিনী রাজধানী আগ্রার দিকে অগ্রসর হয়। মে মাসে সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে দারাশিকো পরাজিত হন। সপরিবারে পারস্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় বন্দী হন দারা।
আওরঙ্গজেব মুরাদের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে কৌশলে মুরাদকে গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী করেন। ফ্রান্সের বাস্তিলের সমতূল্য এই গোয়ালিয়র দুর্গটি মোঘল পরিবারের রাজদ্রোহীদের বন্দী করে রাখতে ব্যবহার করা হতো। এক গুজরাটি উজিরকে বিষ প্রয়োগে হত্যার দায়ে শাহজাদা মুরাদকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়, এবং ৪ ডিসেম্বর ১৬৬১ তা কার্যকর করা হয়।
আরও পরে আওরঙ্গজেব ক্ষমতাসীন হলে সুজাকে বাংলা বিহার উড়িষ্যার সুবাহদার পদ দেয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, কিন্তু সুজা তা প্রত্যাখ্যান করে নিজেকে বাংলার স্বাধীন নবাব হিসাবে ঘোষণা করে ধীরে ধীরে তার এলাকা বৃদ্ধি করতে শুরু করেন, ফলে আওরঙ্গজেব সুজার বিরুদ্ধে মীর জুমলার নেতৃত্বে সেনা অভিযান প্রেরণ করেন। খাজহুয়ার যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের বাহিনীর কাছে শাহ সুজা পরাজিত হয়ে বার্মার আরাকান অঞ্চলে পালিয়ে যান, এবং সেখানে স্থানীয় শাসকদের হাতে নিহত হন।

শাহজাদা আওরঙ্গজেব আগে থেকেই অসুস্থ সম্রাট শাহজাহানকে আগ্রার দূর্গে গৃহবন্দী করে রাখেন, কিন্তু তিনি কখনোই পিতার প্রতি দুর্ব্যবহার করেননি। কারাগারে কয়েকটি ছিদ্র দিয়ে তাকে তাজমহল দেখার সুযোগ দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, শাহজাহানের সবচাইতে প্রিয় কন্যা জাহানারা আওরঙ্গজেবের দেয়া বেগম-এর মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করেন, এবং বৃদ্ধ পিতার সাথে স্বেচ্ছায় সহ-বন্দীত্ব বরণ করেন। ১৬৬৬ সালে আগ্রা ফোর্টে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাহান কন্যা জাহানারার তত্ত্বাবধানেই ছিলেন।

এর আগে মে মাসের সামুগর যুদ্ধে আওরঙ্গজেবের কাছে পরাজিত হয়ে শাহজাদা দারাশিকো বন্দী ছিলেন। ধর্ম ত্যাগের অভিযোগে দারাশিকোকে প্রাণদণ্ড দেয়া হয়। ১৬৫৯ সালের ৩০ আগস্ট দারার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। শাহজাহানের প্রিয়পাত্র ছিল জ্যেষ্ঠপুত্র দারাশিকো। দারার কর্তিত মস্তক সুন্দর করে পরতে পরতে মোড়ানো অবস্থায় পিতা শাহজাহানের নিকট পাঠানো হয়েছিল, যা দেখে বৃদ্ধ শাহজাহান মূর্ছিত হয়ে পড়েন কন্যা জাহানারার স্কন্ধে। তিন ভাইকে পদানত করার পরে শাহজাদা আওরঙ্গজেব ‘সম্রাট আলমগীর’ নাম ধারণ করে নিজেকে দিল্লীর সম্রাট ঘোষণা করেন। আরোহন করেন পিতার বানানো ময়ুর সিংহাসনে। ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৪৯ বছর মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি প্রায় সম্পূর্ণ ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেন। আওরঙ্গজেব কোরআনে হাফিজ ছিলেন এবং সম্রাট হওয়ার সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটাতেন। অন্যান্য শাসকদের ন্যায় তিনি রাজকোষকে নিজের সম্পদ মনে না করে প্রজাদের সম্পদ মনে করতেন। তিনি নিজ হাতে টুপি সেলাই করে এবং স্বহস্তে কুরআন শরীফ লিখে সংসার নির্বাহ করতেন। রাজ্যের সম্পদ স্পর্শও করতেন না। অন্যান্য বাদশাহদের মত মদ ও নারীতে মত্ত হননি। মুঘল সম্রাটদের মধ্যে তিনি সবেচেয়ে ন্যায়পরায়ন বাদশাহ হিসাবে পরিচিত ছিলেন আওরঙ্গজেব। তিনি বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার করেন; বিশেষ করে গোলকুন্ডা বিজয়ের পর মুঘল সাম্রাজ্যের আয়তন ৪ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হয়। বাদশাহ আলমগীর ১৫৮ মিলিয়ন প্রজাকে শাসন করতেন। তার সময় মুঘল সাম্রাজ্যের বাৎসরিক করের পরিমাণ ছিল ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, যা তার সমসাময়িক ফ্রান্সের চতুর্দশ লুইয়ের বাৎসরিক করের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। আলমগীরের শাসনামলে চীনকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে গড়ে উঠেছিল ভারতবর্ষ, যার পরিমাণ ছিল ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা সপ্তদশ শতকের সমগ্র পৃথিবীর জিডিপি-এর এক চতুর্থাংশ। শরিয়াহ আইন ফতোয়ায়ে আলমগীরী এবং ইসলামি অর্থনীতির জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন বাদশাহ আলগমগীর।
ক্ষমতার জন্য নিজ ভাইদের হত্যা করা এবং পিতাকে কারারুদ্ধ করার জন্য সম্রাট আওরঙ্গজেবের বিস্তর সমালোচনা থাকলেও মুঘল বাদশাহী দখলের লড়াইতে ঐরূপ নির্দয়তা ছাড়া উপায় ছিলনা বলে অনেক নিরপেক্ষ বিশ্লেষকদের মতামত। অন্যথা করলে আওরঙ্গজেবকেই মৃত্যুবরণ করতে হতো।

দক্ষিণাত্যে মারাঠাদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ১৭০৭ সালে যুদ্ধক্ষেত্রের সামরিক তাঁবুতে ৮৯ বছর বয়সে বাদশাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে কোরআন কপি করা আয় থেকে আওরঙ্গজেবের সর্বশেষ উপার্যন ছিল ৮০৫ টাকা, যা থেকে ৪ টাকা আট আনা নিজের দাফন কাফনের জন্য রেখে বাকী অর্থ প্রজাদের মধ্যে দান করার উইল করে গিয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা অনুসারে খুলদাবাদে খুব সাদামাটা ভাবে সম্রাটকে সমাহিত করা হয়।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 54