“ওবাইদুল কাদের টাকা, মাগী এবং ইয়াবা সবই খায়” : বাঁশখালীর এমপি মোস্তাফিজুর রহমান

চট্টগ্রামের বাঁশখালি আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের একটি বক্তব্য, যেখানে তিনি লীগেরসাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে অশালীন সত্য বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

চনু ! যোগাযোগ মন্ত্রীর চ্যাট হইছে ! সবকিছু আমি নিচ থেকে প্রসেস করে নিয়ে গেছি ।একনেকে গিয়ে আমার বন্ধু খোরশেদের দিয়ে পাস করিয়েছি । প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাস করাইছি ।

প্রধানমন্ত্রী বলছে, তুমি নিচ থেকে পাস করে নিয়ে আসো আমি একনেকে আসলে পাস করে দিবো ।

লিটন (আব্দুল্লাহ কবির লিটন মানে আক্তারুজ্জামান বাবুর ভাগিনা) কি চনু ! ইতার মারে চুদি ! নমিনেশন না পাইলে পাবোনা ! এই কাদের ( ওবাইদুল কাদের) চুদানিরপোয়ারে আগে নেত্রীর সামনে পিডাবো আমি ! আলা খানকিরপোয়া !

লিটনের ছেলেকে গুলি মারছি এই জন্য বলছে, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করতেছো ! তোমারে সামনে নমিনেশন দিবোনা ! আমি বলছি (ওবাইদুল কাদেরকে) , আপনার থেকে নমিনেশন নিতে গেলে…

রুমের ভিতর ঢুকে নেত্রীকে কি কি যেনো বলেছে আমি দেখি নাই ! তারপর তোফায়েল ভাই যখন বের হয়ে আমাকে দেখলো তখন সে আমাকে ডাক দিলো ! আমাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমাদের বাঁশখালীতে কি হইছে? আমি বললাম, এই এই হইছে । তোফায়েল ভাই আমাকে বললো, তোমার বিরুদ্ধে সে (ওবাইদুল কাদের) এই এইসব বলছে ।

চুদানিরপোয়া (ওবাইদুল কাদের) পয়সা , মাগী , ইয়াবা সবই খায় । নেত্রীকে আমি ডাইরেক্ট বলছি সংসদে। বলছি, নেত্রী ওবাইদুল কাদেরের আমি কলার ধরবো । নেত্রী বলছে, কেনো ? কি হইছে ? আমি বলছি , ও ( ওবাইদুল কাদের) বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ছোট করছে । আমরা বঙ্গন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি । আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে । সেই জন্যে আপনার সাথে আছি । খেয়ে না খেয়ে । আপনি সেই মর্যাদাটা দিছেন । শেষ বয়সে আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন । নইলে আমাদের মতন লোক জীবনে নমিনেশন পাইতাম না ।

ইতে ( ওবাইদুল কাদের) বাবু মিয়ার জনসভায় বলতেছে , বাবু মিয়া না হলে শেখ রেহানা লন্ডনে বসবাস করতে পারতোনা । বাবু মিয়া না হলে নেত্রী রাজনীতি করতে পারতোনা । জাবেদ তুমি এগিয়ে যাও ।

নেত্রী বলছে, তো ! আমার বোন রেহানাতো বাবু মিয়া থেকে পয়সা নে নাই ! আমি বললাম, এইটা আমি আপনাকে জানিয়ে রাখলাম । আবার বললে আমি কিন্তু কলার ধরে ফেলবো ( ওবাইদুল কাদেরের) । নেত্রী বললো, হেই মাথা ঠান্ডা রাখো ।

এইসব কথা আমি সংসদে নেত্রীকে ডাইরেক্ট বলছি । আমি বলছি এইগুলো বলা মানে কী ! বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ছোট করা । বাবু মিয়া বঙ্গবন্ধুর নাম বেইচা একশো টাকা কামাই পাঁচ টাকা এইখানে ( পার্টির জন্য) খরচ করছে । দক্ষিন চট্টগ্রামে কোন অবদান থাকলে কায়সার মিয়ার আছে । আমি এইসব কথা ডাইরেক্ট বলছি !

বাঁশখালী-১৬ আসনের সংসদ সদস্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান


https://www.facebook.com/mdmoinuddin.tarid/videos/900765263596458/

Content Protection by DMCA.com

সকল বাধা উপেক্ষা করে গণশুনানি করবে ঐক্যফ্রন্ট: রব

17 Feb, 2019

সকল বাধা উপেক্ষা করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণশুনানি করবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। 

রবিবার(১৭ ফেব্রয়ারি) বিকেলে মতিঝিলে গণফোরামের কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং ও সমন্বয় কমিটির যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

রব বলেন, ‘আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি আমরা গণশুনানি করব বলে সরকার আগে থেকে সব হল বুকিং দিয়ে রেখেছে। আমাদের কোনো হল দেয়া হচ্ছে না। যত বাধাই আসুক, সকল বাধা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের আকাশের নিচে যেখানে জায়গা পাব আমরা সেখানেই গণশুনানি করব।’ 

তিনি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দল গত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে তারা গণশুনানীতে অংশ নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানাব। তাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেয়া হবে।’

আ স ম রব বলেন, ‘গণশুনানি সফল করতে আগামীকাল সমন্বয় কমিটি বৈঠকে বসবে। এছাড়া ১৯শে ফেব্রুয়ারি স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করবে।’

বৈঠকে অংশ নেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ

Content Protection by DMCA.com

ভোটের সমালোচনার পর বাংলাদেশ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন যুক্তরাষ্ট্রের

এসএএম রিপোর্ট, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯শেয়ার করুন FacebookTwitter

বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের সাধারন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জোরালো অভিন্ন স্বার্থ দেখতে পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথাই ভাবছে।

পাশ্চাত্যের সাথে মোটামুটিভাবে ইতিবাচক সহযোগিতা রক্ষাকারী উদার মুসলিম জনসাধারণ-সংবলিত বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে বাংলাদেশের। অবশ্য এই সম্পর্ক এতটা ঘনিষ্ঠ নয় যা ওয়াশিংটনকে ব্যাপক সুবিধা দেবে।

শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে অবিশ্বাস্যভাবে ২৮৮টিতে জয়ী হয়েছে। আর বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়া (তিনি কয়েক দশক ধরে তার তিক্ত শত্রু হিসেবে রয়েছেন) যেসব অভিযোগে কারাবন্দি রয়েছেন, বিরোধীরা বলছেন সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে সংবাদপত্র নতুন বিধিনিষেধে নিয়ন্ত্রিত।

নির্বাচনের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের রাশ টেনে ধরার অভিযোগ করে অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল।

নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করে একটি চিঠি দিলেও তিনি মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করার প্রতি প্রতিশ্রুতি নতুন করে ব্যক্ত করার অনুরোধ করেন বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ইসলামপন্থীদের প্রতি তীব্র বৈরী শেখ হাসিনা জামায়াতে ইসলামীর ওপর প্রবল দমন অভিযান পরিচালনা করেছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার অভিযোগে দলটির ৫ নেতার ফাঁসি পর্যন্ত কার্যকর করেছেন।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিয়ে সঙ্কটটিকে আরো বড় আঞ্চলিক মাত্রায় নিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রেখে তিনি ওয়াশিংটনের প্রশংসা অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতাকে জাতি নির্মূল বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

উইড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র এসোসিয়েট মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, বাংলাদেশ কার্যত একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়েছে। তবে এই দেশটির কার্যকারিতা অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মানানসই।

তিনি বলেন, মূল কথা হলো, শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র দরকারি অংশীদার মনে করে। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খুবই কঠোর, তিনি বেশ লক্ষণীয় মাত্রায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র নেতা খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে, ছবি: এএফপি

তিনি বলেন, আমি মনে করি এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাকে একজন সমর্থক বিবেচনা করে এবং বাংলাদেশের খুবই গোলযোগপূর্ণ অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী মনে করে। তবে বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সেইসাথে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করেনি।

সমালোচনার সীমিত সুযোগ

উন্মুক্ত, যুক্তরাষ্ট্র-বান্ধব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশটির সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মতো উচ্চ পর্যায়ের অবকাঠামো চুক্তিও করেনি চীনের সাথে।

বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হচ্ছে আঞ্চলিক শক্তি ও উদীয়মান মার্কিন মিত্র ভারত। দেশটি শেখ হাসিনার কট্টর সমর্থক। ফলে বিকল্প থেকে থাকলেও ওয়াশিংটনের সামনে অন্য কিছু করার সুযোগ খুব কম। তবে বিরোধী দল আশা করছে, মার্কিন সমালোচনা ফল দেবে।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা তৎপরতা শুরু: জালিয়াতির নির্বাচন নিয়ে ব্যবস্খা নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পম্পেকে মার্কিন পররাষ্ট্র কমিটির কড়া চিঠি


“বাংলাদেশে গণতন্ত্র রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে”- মার্কিন পররাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির কড়া চিঠি। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কারচুপির নির্বাচন মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থি, এবং ঐ নির্বাচনে জালিয়াতি, অবৈধভাবে ভোট ডাকাতি, এবং ভোটারদের হয়রানির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন। 
এ বছর এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে কারনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার তৎপরতা বাংলাদেশ দিয়েই শুরু করতে হবে।
চিঠিতে বলা হয়, ৩০ ডিসেম্বরের জালিয়াতির নির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাস, গণগ্রেফতার, এবং বাকস্বাধীনতাকে দাবিয়ে রাখা হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ৯৬% বিজয়ের দাবী করে , যা ২০১৪ সালের বয়কটের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশী আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের বিজয়ের চেয়েও অধিক দেখানো হয়েছে!

Full text:
Dear Mr. Secretary:
We are gravely concerned by the negative trajectory of democracy in Bangladesh and request an outline of how the Department intends to respond to this trend, particularly in light of serious allegations that the outcome of the December 2018 elections lacked credibility. As you know, supporting democracy, rule of law, and human rights in the Indo-Pacific region is critical to advancing U.S. interests, and reports of widespread irregularities in Bangladesh’s recent elections seriously threaten those important interests.
Bangladesh has a strong and proud democratic tradition, so we were particularly dismayed that the campaign leading up to the election was marred by violence, mass arrests, and a crackdown on free speech. The Awami League claimed 96 percent of the seats contested — more than the party and its allies won in 2014, when a key opposition party boycotted the general election and the Awami League ran unopposed in more than half of the seats contested.
Although the government-appointed election commission has claimed the election was legitimate, we believe the allegations of widespread rigging and voter suppression must be taken seriously. According to press accounts, when polls across the country officially opened, reporters found that some ballot boxes looked suspiciously full. There are reports that Awami League activists barred some people from voting, claiming that the polling stations were closed for lunch or had run out of ballots. Some voters were even told their votes had already been cast. To make matters worse, the Government of Bangladesh failed to grant credentials and issue visas to most international election monitors, including those funded by the United States.
There will be a series of elections taking place this year in Asia, including in Afghanistan, Indonesia, the Philippines, and Thailand. It is crucial that the United States demonstrate its continued commitment to and respect for democratic institutions, beginning with Bangladesh.
Thank you for your attention to this matter. We look forward to your timely response.

Representative Michael T. McCaul (R-TX), the House Foreign Affairs Committee Lead Republican;
Representative Eliot L. Engel (D-NY), Chairman of the Committee; Rep. Brad Sherman (D-CA), the Chairman of the Asia and Pacific Subcommittee;
Rep. Ted Yoho (R-FL), the Ranking Member of the Asia and Pacific Subcommittee;
Rep. Andy Levin (D-MI); and Rep. Ann Wagner (R-MO)
CONTACT: HFAC GOP Press (McCaul): Caroline CampbellHFAC Press (Engel): (202) 226-9103Sherman: (202) 423-7302Yoho: Brian KaveneyLevin: (202) 603-0933Wagner: Arthur Bryant

Content Protection by DMCA.com

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

।।দেবাশীষ সরকার  মওদুদ রহমান।।

সংকটের ফাঁদে ফেলে সমাধানের নামে আজকাল এমন সব প্রকল্প করা হচ্ছে যেগুলো হতে যাচ্ছে ভবিষ্যতের বিষফোঁড়া। যানজট নিরসনের নাম করে বিশ্বে খরচের রেকর্ড সৃষ্টি করা ভুল নকশার ফ্লাইওভারগুলো জানান দিচ্ছে যে আমাদের প্রশ্ন না করার প্রবণতা, সবকিছু মাথা পেতে মেনে নেবার মানসিকতা ভবিষ্যতের ক্ষতির বোঝা দিনে দিনে ভারী করে তুলছে। ঠিক এমনিভাবে করে ফেলা হচ্ছে রূপপুর ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সরকারী মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৪১ সালের মধ্যে স্থাপন করা হবে মোট ৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে রেন্টাল, কুইক-রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টোটকা যে কাজে আসেনি তা সাম্প্রতিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা থেকে ভালভাবেই বোঝা যায়।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট যতটা না পুরনো, উৎপাদন মাধ্যম হিসেবে পারমাণবিক প্রযুক্তিকেন্দ্রিক পরিকল্পনা তার চেয়েও বেশী পুরনো যা শুরু হয়েছে গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে।  এই দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তিত হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সাশ্রয়ী-পরিবেশবান্ধব নানা উপায় উদ্ভাবিত হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে একগুঁয়েমি শেষ হয়নি। এ নিয়ে বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার ঋণচুক্তি হয়েছে, ভারতের সাথে হয়েছে যন্ত্রপাতি আমদানীর সমঝোতা। বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালের মধ্যেই নাকি সম্পন্ন হবে রূপপুর কেন্দ্রের কাজ।

দুর্ঘটনার ইতিহাস বনাম উন্নত প্রযুক্তি
থ্রী মাইল আইল্যান্ড দুর্ঘটনা, চেরনোবিল দুর্ঘটনা, ফুকুশিমা দুর্ঘটনার মত একের পর এক অভিশপ্ত ঘটনায় সাধারণ মানুষ যখন আতংকগ্রস্ত তখন আমাদেরকে বোঝানো হচ্ছে- রূপপুরে নাকি বসানো হবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বোয়িং বিমান এর উপর বিদ্ধস্ত হলেও নাকি এ কেন্দ্রের কোন ক্ষতি হবে না! কিন্তু প্রযুক্তি নিয়ে এই আস্ফালন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবসা প্রসারে নানান ধরণের ছলা-কলায় ভুলানোর প্রবণতা নতুন কিছু নয়। ষাটের দশকে এই রূপপুরেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রিঅ্যাক্টরের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় (containment building) ছাড়াই ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরীর পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল রাশিয়া। নিরাপত্তা ব্যুহের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তখনও দম্ভভরে জানিয়েছিল যে, তাদের রিঅ্যাক্টর ডিজাইনে নাকি কোন খুঁত নেই, তাই এর চারপাশে ব্যুহ তৈরীর প্রয়োজন নেই। অথচ এর কিছু কাল পরেই ১৯৮৬ সালে তাদের নিজেদের কেন্দ্রেই ঘটে চেরনোবিল দুর্ঘটনা যাতে নিরাপত্তা ব্যুহ না থাকার কারণে তেজস্ক্রিয় দূষণ ছড়িয়ে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবে (Matin, 2012) ।   

যে চেরনোবিল দুর্ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে চেরনোবিল এইডস, চেরনোবিল পা, চেরনোবিল হৃদপিন্ড, চেরনোবিল থাইরয়েড, চেরনোবিল স্মৃতিবিভ্রাট নামের নানান রোগের জন্ম দিল সে দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)  এবং  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক প্রণীত ‘দ্য চেরনোবিল ফোরাম’ রিপোর্টে মৃতের সংখ্যা দেখানো হয় মাত্র ৯ হাজার। পৃথিবীর ইতিহাসে এত বড় একটি দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এত ছোট! এর কারণ কী?

এর কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমত, এই রিপোর্টে সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর জন্য পৃথিবীব্যাপী গবেষণালব্ধ এবং বহুল প্রচারিত ৩০ হাজার প্রকাশনার মধ্যে বাছাই করা মাত্র ৩৫০ টি গবেষণা প্রবন্ধ অবলম্বন করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, WHO এবং IAEA, World Health Assembly এর ৩ নং আর্টিক্যাল অনুসারে একে অপরের স্বার্থ রক্ষা করে চলে। ৩ নং আর্টিক্যালের প্রথম প্যারায় বলা আছে, IAEA এবং WHO মনে করে যে পরস্পরের স্বার্থে তথ্য গোপনীয়তা প্রয়োজন (IAEA/WHO agreement (WHA 12.40))। যে সংস্থার কাজ হচ্ছে পরমাণু প্রকল্পের নিরাপত্তা দেখভাল করা সে সংস্থাই দুর্ঘটনা পরবর্তী বিভিন্ন গবেষণায় যাতে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসতে না পারে সে জন্য নানান ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করে রেখেছে। এতে নিশ্চিত বোঝা যায় প্রকৃত ক্ষতির প্রকাশ পরমাণু বিদ্যুতের প্রসারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বিধায় IAEA’র স্বার্থে চেরনোবিল দুর্ঘটনার ক্ষতি কমিয়ে দেখানো হয়েছে এবং সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত আছে। অতএব রূপপুর প্রকল্পে জালিয়াত IAEA’র বিভিন্ন শর্ত এবং তদারকি যে নিতান্তই লোক দেখানো তাতে কোন সন্দেহ নেই।      

তাই স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব কী?
এ প্রসঙ্গে ২০০০ সালে জাতিসংঘের তৎকালীন সেক্রেটারী জেনারেল কফি আনান জানিয়ে ছিলেন, “চেরনোবিল এমন একটি শব্দ যা আমরা আমাদের স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে চাই। কিন্তু এ ঘটনার শিকার ৭০ লক্ষেরও বেশী মানুষ কখনোই এটি ভুলতে পারবে না। প্রকৃত সংখ্যা কখনোই জানা যাবে না। কিন্তু ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩০ লক্ষ শিশুর নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বাধাগ্রস্ত হবে। অনেকেই অকাল মৃত্যু বরণ করবে।”

দুর্ঘটনার প্রকৃত চিত্র মিথ্যার চাদরে আড়াল করার প্রবণতা, নিষেধাজ্ঞা জারি করে সংবাদ প্রচারে বাধা দেয়া সহ নানান ভাবে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) চেষ্টা করেছে বিশ্ববাসীকে যতটা কম জানতে দেয়া যায়। এ কারণেই দুর্ঘটনার প্রথম দিনেই চেরনোবিল স্বাস্থ্যতথ্য জনসম্মুখে প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় যা বহাল থাকে ১৯৮৯ সালের ২৩ শে মে পর্যন্ত। এই তিন বছরে অগণিত মানুষ লিউকোমিয়ায় মারা যায় যা কাউকে জানতে দেয়া হয়নি। দুর্ঘটনার আট বছরেও দূষণ প্রতিক্রিয়া নিয়ে সরকারীভাবে কোন বিবৃতি দেয়া হয়নি। অতএব রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের আশ্বাস, জ্বালানী সরবরাহের অঙ্গীকার, রাসায়নিক বর্জ্য নিয়ে যাবার আশ্বাস – এ সবই যে ব্যবসায়িক কূট কৌশলের অংশ তা বুঝতে আর বাকি নেই। অন্তত অতীত ইতিহাসের ঘটনা পরম্পরা তাই বলে। 

একটা উদাহরণ দিলেই রাশিয়ার তথ্য গোপনের জালিয়াতি আরো পরিষ্কার হবেঃ
চেরনোবিল দুর্ঘটনার পর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট মিনিষ্টার সিচেপিনের ১৯৮৬ সালের ২১ শে মে পাঠানো চিঠিতে এই বলে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তেজস্ক্রিয়তায় অসুস্থ হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হবে, হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় যদি প্রকট তেজস্ক্রিয়তার কোন লক্ষণ না থাকে তবে অসুস্থতার কারণ হিসেবে সাধারণ স্মৃতিবিভ্রাট (vegetovascular dystonia) লিপিবদ্ধ করতে হবে। এই নির্দেশের ফলে তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ হিসাবের বাইরেই থেকে যায়।   

১৯৮৬ থেকে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত সময়কালের প্রজন্মকে বলা হয় চেরনোবিল প্রজন্ম যার উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে এই চেরনোবিল প্রজন্মের কতজন শুধুমাত্র তেজস্ক্রিয়তাজনিত ক্যান্সারে মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে  সেটির পরিসংখ্যান তুলে ধরা হল।   

ছকঃ চেরনোবিল দুর্ঘটনায় তেজস্ক্রিয়তা জনিত ক্যান্সারে চেরনোবিল প্রজন্মের সাম্ভাব্য মৃত্যু (Malko, 2007)

তেজস্ক্রিয়তার প্রতিক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ের তুলনায় কখনো কখনো বাতাস-পানি বা পরিযায়ী প্রানী বাহিত হয়ে সেকেন্ডারী পর্যায়ের সংক্রমণে আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একারণেই বিকলাঙ্গতা, মানসিক অপরিপক্কতা, বয়োবৃদ্ধি সহ মারাত্মক সব উপসর্গ প্রজন্মান্তরে ছড়াতে থাকে। এই প্রতিক্রিয়া দেখা যায় সমগ্র জীবজগতে। প্রকৃতিতে এর পরিবর্তন কৃষির মাধ্যমে ফুটে ওঠে তীব্রভাবে। অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার কারণে বেলারুশে ২৬৫,০০০ হেক্টর, ইউক্রেনে ১৩০,০০০ হেক্টর এবং রাশিয়ায় ১৭,০০০ হেক্টর কৃষিজমি ইতোমধ্যেই চাষাবাদের অনুপযুক্ত বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে (Aleksakhin et al., 2006) ।

অনেকেই ভাবতে পারেন যে, সদ্য ঘটে যাওয়া ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির আপাত স্বল্প ক্ষতি উল্লেখ না করে আশির দশকে ঘটা চেরনোবিল দুর্ঘটনার ভয়াবহ পরিণতির কথা তুলে ধরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভয় ধরানোই বোধহয় এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

অন্যান্য দুর্ঘটনার মত তাৎক্ষণিক মৃতদেহ গণনা করে পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকটতা পরিমাপ করা যায় না। জাতীয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক নানান দিকে এর প্রভাব ফুটে ওঠে ধীরে ধীরে। যেমন, ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির পর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় তহুকো’র উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্যের ৭০-৮০ ভাগ বাজার চলে যায় চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দখলে। এমনকি তেজস্ক্রিয়তার কারণে দুর্ঘটনা অঞ্চলের ৩০০ কিলোমিটার দূরবর্তী কায়াসু কোম্পানীর উৎপাদিত দ্রব্যের বিক্রি কমে যায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার দুই বছর পর ২০১৩ এর জুন মাসে ওই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে জাপানের প্রখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী মিশিও কাকু জানান, ফুকুশিমা দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নেই লাগবে অন্তত ৫০ থেকে ১০০ বছর। তাই ফুকুশিমা ট্র্যাজেডির প্রকৃত ক্ষতির ন্যূনতম ধারণা পেতেও আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েক দশক।  জাপান সরকার ইতোমধ্যেই ফুকুশিমা পারমাণবিক চুল্লী সম্পূর্ণ তেজস্ক্রিয়তা প্রভাব মুক্ত করতে ১৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫ লক্ষ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে। (রয়টার্স, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬)।  

তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তিই শেষ কথা?
সকলের শঙ্কা দূর করতে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে যে, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে ব্যবহার করা হবে অতি আধুনিক ‘থার্ড জেনারেশন প্লাস’ (জেন-থ্রি) ঘরানার প্রযুক্তি। প্রযুক্তি পণ্য ব্যবসায়ীদের এই স্লোগানটি বাংলাদেশ সরকারও এমনভাবে আপন করে নিয়েছে তাতে মনে হচ্ছে যে, ‘জেন-থ্রি প্লাস’ হচ্ছে সব মুশকিলের সমাধান! সিগারেটের বাজার প্রসারের দায়িত্ব কোন বিজ্ঞাপনী সংস্থা পেলে যে রংচঙা প্রচার হয় বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও সেই ধরণের প্রচার শুরু হয়েছে। তাই বুদ্ধিহীন প্রচারে রয়ে যাওয়া ফাঁকগুলো তাদের রঙ্গিন চশমায় ধরা পড়ছে না।  

পারমাণবিক বিদ্যুতের দুর্ঘটনার শঙ্কার কথা তুললেই যুক্তিতে জিততে কূপমণ্ডূকেরা বলে বসে যে, বাস, লঞ্চ, প্লেন এগুলিতেও তো দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু যখন পাল্টা প্রশ্ন করা হয় যে, পারমাণবিক আপদ ছাড়া অন্য আরেকটা আপদের নাম বলুন যেখানে বিপদের নিশ্চিত শঙ্কা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়ায়, তখন উনাদের মুখে রা সরে না। উনারা এটা বুঝেও চেপে যান যে, নিউক্লিয়ার বিপর্যয় ঘটলে সরাসরি এর সাথে সংযুক্ত মানুষেরই যে কেবল বিপদ হয় তা’না (যেমনটা হয় কয়লা খনির দুর্ঘটনার কিংবা প্লেন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে), বরং এর ফলে বিপদে পড়ে এরকম হাজার হাজার মানুষ যাদের নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং সুবিধাভোগের সাথে কোন সম্পর্কই নেই।

জ্বালানী স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশে এটি আমদানী করার কথা বলা হলেও পারমাণবিক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও ভারত কিংবা পাকিস্তানের নড়বড়ে অবস্থার কথা আমাদের নীতিনির্ধারকেরা ভুলে থাকতে চাইছেন। ১৯৬৯ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ ব্যবহারের যুগে প্রবেশ করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতে প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়েছে < http://www.world-nuclear.org>। অথচ কেবল এক যুগ আগে শুরু করা সৌর বিদ্যুতের বর্তমান সক্ষমতা ভারতে এখন ১২ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০২২ সালের মধ্যে তা ১ লক্ষ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।  

পারমাণবিক বিদ্যুতের পূজারিরা এটাও ভুলে থাকতে চাইছেন যে, শুধুমাত্র উৎপাদন খরচ হিসেবে এটি সাশ্রয়ী হলেও বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত ব্যয় আর ইনসুরেন্স খরচ মিলিয়ে এটি আর সাশ্রয়ী থাকে না। তাইতো এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি) এবং ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো’র গবেষণাতেও পরমাণু বিদ্যুৎ সবচেয়ে খরুচে হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে (Rahman et al., 2011)। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে “পোস্ট ফুকুশিমা স্ট্যান্ডার্ড” অথাৎ ফুকুশিমা দুর্ঘটনা পরবর্তী মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু কে না জানে যে রূপপুরে সামান্য কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই বাজারে চলে আসবে “পোস্ট রূপপুর স্ট্যান্ডার্ড” প্রযুক্তি। দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি যখন ফুকুশিমা ট্রাজেডি ঠেকাতে পারে না তখনই আরো আধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি বাজারে আসে আর ঠিক সে সময়ই ল্যাবরেটরীতে প্রস্তুত হতে থাকে চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি। প্রযুক্তির আধুনিকায়নে এটি খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আধুনিকায়নের এ সূত্র পারমাণবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে খাটে না। কারণ পারমাণবিক দুর্ঘটনায় যে বিকিরত কণা ছড়ায় তা ঢুকে পড়ে আমাদের শরীরে, খাবারের মাধ্যমে এসে পড়ে আমাদের খাদ্যশৃংখলে, মাটি-পানি-বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে থাকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে। জীনগত পরিবর্তন কিংবা ক্রমোজোমাল পরিবর্তনে এটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। এর ক্রমবর্ধমান প্রকটতা সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞান নিশ্চিত কিন্তু পরিণতি নিয়ে এখনও সন্দিহান। তাই যে পারমাণবিক ব্যবস্থার ত্রুটির পরিণতিই এখনও ধরা পড়েনি সে ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কথা বলে রূপপুর প্রকল্পের যথার্থতা প্রমাণের চেষ্টা নিতান্তই হীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

পরমাণু বিদ্যুৎ কি সস্তা?
বাণিজ্যিক উৎপাদনের শুরুর দিককার পর্যবেক্ষণ থেকে যে কোন প্রযুক্তির ভবিষ্যতের গতি প্রকৃতির একটা সাধারণ নির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক পারমাণবিক চুল্লীর অধিকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত ৭৫ টি চুল্লীর নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয় যার প্রতিটির খরচ প্রকল্পের শুরুতে ধার্য করা খরচের চেয়ে গড়ে শেষ পর্যন্ত ৩০০ শতাংশ বেড়ে যায়। সেই ধারা যে এখনও অব্যাহত আছে তা বোঝা যায় ফ্রান্সের ফ্লামেনভিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের দিকে তাকালে। ২০০৭ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া ১,৫৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজে প্রারম্ভিক ব্যায় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো। ২০১২ সালের মধ্যেই প্রকল্প কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা ধাপে খরচ বাড়িয়ে এখন বলা হচ্ছে এটি নির্মাণে খরচ হবে ১০.৫ বিলিয়ন ইউরো আর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালে। অপরদিকে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সকল প্রকার ভর্তুকি খরচ ব্যতীতই প্রতি  ইউনিটে দাম কমেছে যথাক্রমে ৮২% এবং ৬১% (LAZARD LCOE Analysis, 2015)। আর খরচের সেই অব্যাহত নিন্মগামী ধারাতেই ভারতে সৌর এবং বায়ু বিদ্যুৎ এখন সাড়ে তিন টাকারও কম মূল্যে উৎপাদিত হচ্ছে < http://www.mnre.gov.in/ >। প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনী মাধ্যমে খরচ কমছে আর পারমাণবিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তা কেবলই বাড়ছে। তাইতো ‘ফিক্সড কস্ট’ মডেলের পরিবর্তে রাশিয়ার সাথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি হয়েছে ‘কস্ট প্লাস’ মডেলে। এর ফলে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান খরচের অংক দফায় দফায় বাড়িয়ে নিতে পারবে।  ঠিক একই প্রক্রিয়ায় কাজ শুরুর আগেই রূপপুর প্রকল্পের কাজে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ১৮ হাজার কোটি টাকা হয়েছে । আবার রূপপুরে ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহনে নৌপথ তৈরীতে ড্রেজিংয়ের জন্য অনুমোদন পেয়েছে ৯৫৬ কোটি টাকার প্রকল্প (ইত্তেফাক, ১ আগস্ট, ২০১৭)। এই অনিঃশেষ খরচের পারমাণবিক বিদ্যুৎ বড় আকারে যুক্ত করায় আসছে দিনগুলোতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সিংহভাগ বরাদ্দের ঢল কোন দিকে যাবে তা বেশ ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

এরই মাঝে বিভিন্ন খাতের বাজেট বরাদ্দ নানান কায়দায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এনে জড়ো করা হচ্ছে। উদারহরণস্বরূপ উল্লেখ করা যায় যে, ২০১৭-১৮ সালের বাজেটে পূর্ববর্তী বাজেটের তুলনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ৫ গুণেরও বেশী বরাদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এই বাজেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তৈরী হয়নি। বরং প্রকৃত খরচ কম দেখাতে বিদ্যুৎ খাতে না দেখিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য এই বরাদ্দ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (সর্বজনকথা, ৩য় বষ, ৪র্থ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩৮)।    

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রাক্কলিত ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ১১.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাশিয়া থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। এই ঋণ পরিশোধ করার সময়কাল ২৮ বছর এবং ঋণের সুদ দিতে হবে ১.৭৫% +LIBOR রেট (লন্ডন ইন্টারব্যাংক অফারড রেট)। সর্বোচ্চ সুদের হার ৪%। অর্থাৎ যদি ধরেও নেই যে প্রাক্কলিত খরচ আর বাড়বে না, এরপরও এই ২,৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে খরচ করতে হবে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা। ডিকমিশনিং খরচ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত খরচ বাদ দিয়েই প্রতি হাজার মেগাওয়াটে যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ৬০ হাজার কোটি টাকা, সেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কী করে সস্তা বলা যায়? উল্লেখ্য যে, প্রতি হাজার মেগাওয়াট এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে খরচ হয় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের নিশ্চিত বাজারের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকেই বহন করতে হয়। দীর্ঘ সময়ের জন্য নানা চুক্তিতে বাধা পড়ে যাওয়ায় এই বিদ্যুৎ অল্প সময়ের মধ্যেই গলার কাঁটা হিসেবে প্রমাণিত হলেও তা হতে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না। তখন নানা উপায়ে রাষ্ট্রীয় খরচে চলা শুরু করে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের মূল্য হিসাবের বাইরেই থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাজ্যের কথা উল্লেখ করা যায়। ষাটের দশক থেকে ব্যবহার শুরু করে যুক্তরাজ্যে এখন প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার ১৫টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন চুল্লী চালু আছে।  ৮টি পারমাণবিক চুল্লী পরিচালনা আর বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ‘ব্রিটিশ এনার্জী’ ১৯৯৫ সালে নিবন্ধন লাভ করে। পরের বছরই এটিকে বেসরকারী খাতে ছেড়ে দেয়া হয়। মাত্র ৭ বছরের মাথায় এই কোম্পানী চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগীতা চায়। ২০০৪ সালে ব্রিটিশ সরকার কোম্পানীটিকে ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের (২০১৭ এর দামস্তর অনুসারে প্রায় ৯ বিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা) ‘বেইল আউট’ সুবিধা প্রদান করে এবং এর সমস্ত দেনা পরিশোধের দায়িত্ব নেয় (দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৪)। অপরদিকে যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বর্জ্য পরিশোধন ও নিরাপত্তা সুরক্ষা প্রদান আয়োজন চলে ‘সেলাফিল্ড নিউক্লিয়ার কমপ্লেক্সে’। এই কেন্দ্রটি চালাতে বছরে ৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৩৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে চালু থাকা পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নিজ নিজ আয়ু শেষে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত করতে কমপক্ষে ৭৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা সাড়ে ৮ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে (http://www.i-sis.org.uk)। এই সকল খরচের ভার কোন কোম্পানী কিংবা ইন্সুরেন্স পলিসি বহন করে না। রাষ্ট্রের তহবিল হতে ব্যয় করা এই সকল খরচ যদি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচের সাথে যুক্ত করে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করা হয় তবে এই বিদ্যুতের মূল্য নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। এক্ষেত্রে তাই চলতে থাকে নানান ধরণের অপ্রত্যক্ষ আয়োজন আর আইনের মারপ্যাঁচ। যেমন, ভারতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রণয়ন করা আইন (রাইট টু ইনফরমেশন) থাকলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট খাতে কী পরিমান ব্যয় করা হচ্ছে তা এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে।

এ সকল কারণেই নীতি-নির্ধারণী মহল যখন রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ান প্রযুক্তি আমদানীর গর্বে খুশীতে আত্মহারা তখন পারমাণবিক বিদ্যুতের কদর্য রূপ, অথনৈতিক ক্ষতির বোঝা আর তথ্য গোপনের সংস্কৃতিতে আমাদের সামনে শুধুই আসন্ন সংকটের কালো ছায়া। অথচ পরমাণু প্রযুক্তি শিক্ষা, উন্নয়ন, গবেষণায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতের কৃষি, চিকিৎসা এমনকি বিদ্যুৎ খাতেও বাংলাদেশ পেতে পারতো শক্ত ভিত্তি।

কুদানকুলাম কেলেঙ্কারি আর প্রযুক্তি ব্যবসার ধান্ধাবাজি
ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সর্বশেষ সংযোজন কুদানকুলামের ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০২ সালে এবং দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর  দ্বিতীয় চুল্লী উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে।  এই সদ্য নির্মিত কুদানকুলাম পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণে যুক্ত ছিল রাশিয়ার কোম্পানী ‘অ্যাটোমোক্সপোর্ট’ যেটি এখন বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্বে আছে। নিন্মমাণের যন্ত্রপাতি, উচ্চ ক্ষমতার কথা বলে নিন্ম ক্ষমতার যন্ত্রাংশ গছিয়ে দেয়া, নির্মাণ কাজ ছয় বছর দেরীতে শেষ করার মত কাজগুলো কুদানকুলামের ক্ষেত্রে এই রাশিয়ান কোম্পানী করে গেছে বিনা বাঁধায়। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে থার্ড জেনারেশন (জেন-৩) প্রযুক্তি। এই কেন্দ্র নিমাণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে ছিল রাশিয়ান কোম্পানীর মারাত্নক সব ত্রুটি আর গাফিলতি।

>পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৬০০ টন ওজন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পোলার ক্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা ‘সেফটি গ্রেড ইক্যুপমেন্ট’ এর আওতাভুক্ত। চুল্লী দালানের অভ্যন্তরে অতি মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা সম্পন্ন সকল কিছু স্থাপন, অপসারণ করতে এই পোলার ক্রেন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান  অ্যাটোমোক্সপোর্ট কুদানকুলামে যে পোলার ক্রেন সরবরাহ করে তা পরীক্ষা করে দেখা যায় যে গায়ে লেখা ক্ষমতার (নেমপ্লেট ক্যাপাসিটি) চেয়ে সেটির ওজন ধারণ ক্ষমতা ২০% কম। (Padmanabhan et al,  2013)। এই জোচ্চুরি ধরা পড়ার পরও ঐ নিন্ম ক্ষমতার পোলার ক্রেনটিই সেখানে বসানো হয়।

>রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল বা RPV এর অভ্যন্তরে তেজস্কিয় বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এটি পরিবর্তনযোগ্য নয় বিধায় এটির আয়ু দিয়েই পারমাণবিক চুল্লীর আয়ু নির্ধারিত হয়। এটির নীচের অংশ সহ গুরুত্বপূর্ণ সকল অংশ তাই ঝালাইবিহীনভাবে নির্মাণ করা হয় এবং কুদানকুলামের নির্মাণ চুক্তির ক্ষেত্রেও ঝালাইবিহীন  RPV সরবরাহের কথা ছিল। চুক্তিতে এটির দুর্ঘটনা ঘটার মাত্রা থাকার ছিল ১ কোটিতে একটি (Core damage frequency)।  কিন্তু ভারতের পরমাণু শক্তি সংস্থা অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পায় যে RPV’র দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে দুইটি ঝালাই রয়েছে যার ফলে কুদানকুলাম কেন্দ্রে এখন দুর্ঘটনার ঝুঁকি ১০০ গুণ বেড়ে গেছে। অবশ্য  পরমাণু শক্তি সংস্থার এই অনুসন্ধান প্রতিবেদন ৩ বছর গোপন রাখা হয়। (Padmanabhan et al,  2013)।  

>২০০৭ সালে প্রতিটি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ট্রান্সফরমার রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা হয় যা পরবর্তীতে ত্রুটিযুক্ত হিসেবে সনাক্ত করা হয়। এটির জটিল মেরামত কাজের দায়িত্ব ভারতের কোন কোম্পানী নিতে চায় নি। এর ফলে Larsen and Toubro ‘র সরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদনে গোপন করে রাখা হয়।

>Ziopodolk, Informtekh and Atommash  এই তিন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দেয়া কোম্পানীর সিইও’ই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে জেলে গেছে। কুদানকুলামে যন্ত্রাংশ সাপ্লাই দেয়ার কাজেও এদের যুক্ততা ছিল। ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত অ্যাটোমোক্সপোর্ট’এর প্রধান এবং কুদানকুলামে যন্ত্রাংশ সরবরাহের প্রধান ঠিকাদারী কোম্পানী OMZ এর সিইও’র দায়িত্ব পালনকারী কাহা বেন্ডুকিজ এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করে বলেন যে চীন, ভারত এবং ইরানের মত দেশগুলোতে যন্ত্রাংশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানের চেয়ে দাম এবং রাজনীতি প্রাধান্য পায়।

মনে রাখা প্রয়োজন যে, ভারতে গত চল্লিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক গবেষণা হচ্ছে। পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের নিজস্ব উদ্ভাবিত প্রযুক্তি রয়েছে। কারিগরী এবং প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ে বিস্তর চর্চা আছে। এর ফলে যে নিজস্ব জনবল গড়ে উঠেছে তার মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের তদারকি, নির্মাণকাজের ত্রুটি এবং নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবহারের বিষয়গুলো সেখানে ধরে ফেলা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিজস্ব জনবল তৈরী না করে, গবেষণা আর চর্চার পরিবেশ সৃষ্টি না করে বিদেশী কোম্পানীর কাঁধে যে লাভের আশায় সওয়ার হয়েছে তাতে শেষ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবেই গুড়েবালি পড়বে।       

রূপপুরে ৭  মাত্রার কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কমপক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ। এই ৫০ লক্ষ জন হয়তো শাসকগোষ্ঠীর কাছে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ ভাগ। তাই বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার ধোয়া তুলে ক্ষুদ্রতর এই ৩ ভাগের বলি দিতে নীতিনির্ধারকেরা হয়তো কুন্ঠা বোধ করবেন না। কিন্তু জীবনকে  যারা সংখ্যা দিয়ে বিচার করেন, প্রযুক্তিকে যারা অন্ধভাবে পূজা করেন তাদের অজ্ঞতার বলি হবে প্রাণ, ধ্বংস হবে সামাজিক আর অর্থনৈতিক অবকাঠামো- এটা মেনে নেয়া যায় না। 
————————————————————————-

দেবাশীষ সরকারঃ প্রকৌশলী, পারমাণবিক বিদ্যুৎ বিষয়ক গবেষক, হেলমহোলটজ জেন্ট্রুম ড্রেসডেন রসেন্ড্রফ, জার্মানি। ইমেইলঃ [email protected]

মওদুদ রহমানঃ প্রকৌশলী, জ্বালানি বিষয়ক গবেষক। ইমেইলঃ [email protected]

তথ্যসূত্রঃ

AP (2000). Worst effects of Chernobyl to come. Associated Press 25 April 2000 (//www.209.85.135.104/search?q=cache:EN91goYTe_gJ: 
www.scorched3d.co.uk/phpBB3/viewtopic.php%3Ff%3D12%26t%3D5256%26st%3D0%26sk%3Dt%26sd%3Da+Kofi+Annan+million+children+demanding+treatment+Chernobyl+2016&hl=ru&ct&equals;clnk&cd&equals;18&gl&equals;ru).

Aleksakhin, R. M., Bagdevich, I. M., Fesenko, S. V., Sanzheva, N. I., Ageets, V. Yu. & Kashparov, V.A. (2006). Role of protective measures in rehabilitation of contaminated territories. International Conference. Chernobyl 20 Years After: Strategy for Recovering and Sustainable Development of Affected Territories. April 19–21, 2006, Minsk, Belarus (Materials, Minsk): pp. 103–108. 

Alexey V. Y., Vassily B. N., Alexey V. N. (2009), Chernobyl: Consequences of the Catastrophe for People and the Environment

Khudoley V. V., Blokov I. P., Sadovnichik T. & Bysaro, S. (2006). Attempt to estimate the consequences of Chernobyl catastrophe for population living in the radiation-contaminated territories of Russia. In: Blokov, I. P. (Ed.), Consequences of the Chernobyl Accident: Estimation and Prognosis of Additional Mortality and Cancer Diseases (Center for Independent Environmental Assessment, Greenpeace-Russia, Moscow): pp. 3–19. 

RADNET (2008). Information about source points of anthropogenic radioactivity: A Freedom of Nuclear Information Resource. The Davidson Museum, Center for Biological Monitoring (//www.davistownmuseum.org/cbm/Rad12.html)

Rahman D., Riasad A., Sakhawat N. & Zubaer C. (2011). A Study On Nuclear Energy: Sustainable

Solution For Ensuring Energy Security Or Emerging Future Threat, International Journal on Current Research & Review, pp. 6-14. 

Malko, M. V. (2007). Assessment of Chernobyl medical consequences accident. In: Blokov, I., Sadownichik,T., Labunska, I. & Volkov, I. (Eds.), The Health Effects on the Human Victims of the Chernobyl Catastrophe (Greenpeace International, Amsterdam): pp. 194– 235.

Matin A. (2012), Rooppur & The Power Crisis

WHO (1959). Resolution World Health Assembly. Rez WHA 12–40, Art. 3, §1(//www.resosol.org/InfoNuc/IN_DI.OMS_AIEA.htm).

Letter of the USSR’s First Deputy Minister of Public Health O. Shchepin, May 21, 1986, # 02–6/83–6 to Ukrainian Ministry of Public Health (cit. by V. Boreiko, 1996, pp. 123–124).

Padmanabhan et al., Counterfeit/obsolete Equipment and Nuclear Safety issues of VVER-1000 Reactors at Kudankulam, India, 2013

Content Protection by DMCA.com

প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের ডাকে ঐক্যফ্রন্টের ‘না’

Content Protection by DMCA.com

ভোট ডাকাতির দুর্নাম ঢাকতে অবশেষে হাসিনাকে অভিনন্দন জানানো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভুয়া চিঠি বানালো আ’লীগ!

হাসিনাকে দেয়া ট্রাম্পের চিঠির সত্যতা মিলেনি!

বিশেষ সংবাদদাতা

যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মর্মে সরকারি তরফে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বয়ং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের নিকট চিঠির কপি বিলাচ্ছেন। বাংলাদেশের সরকার নিয়ন্ত্রিত বেশিরভাগ মিডিয়া হৈ হুল্লোড় তরে প্রেসিডেন্ট ট্রম্পের চিঠি প্রদানের খবর প্রকাশ করেছে। শুক্রবার কয়েকটি মাধ্যম থেকে হোয়াইট হাউস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কয়েকদফা যোগাযোগ করেও ট্রাম্পের উক্তর চিঠির সত্যতা মিলেনি।

‘শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন’- একটি সংবাদ বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে সে বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিতে জানতে চাওয়া হলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র নয়েল ক্লে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউএসআইডি’র পরিচালক মার্ক গ্রিনের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকের অবস্থানের কথা তোলে ধরে বিবৃতির কপি পূনরায় প্রেরণ করেন এবং এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেন।

চিঠির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পূনরায় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের দেয়া যে কোনো চিঠির বিষয়ে হোয়াইট হাউসে খোঁজ নিতে হবে।’

ট্রাম্পের চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা চিঠির বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে যে চিঠিটি নিয়ে সংবাদ তৈরি করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এটি চলতি মাসের ১৮ তারিখে ইস্যু করা। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একরকমের ধুম্রজাল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া চিঠিটিতে প্রচুর ভুল বানান, গ্রামার সমস্যা, এমনকি বার্মা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে দেশটি মিয়ানমার নামে পরিচিত। এতসব ভুলভ্রান্তি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও হোয়াইট হাউজের সত্যায়নের অভাবে পরিস্কার হয়ে গেছে- কথিত চিঠিটি বানোয়াট।

উল্লেখ্য, মার্ক গ্রিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুলের সঙ্গে করা বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগে পুর্নব্যক্ত করেছিলেন। নির্বাচনে কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট দেশটির হাতে রয়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠকে মার্ক গ্রিনের উদ্বেগ

‘নির্বাচনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্যাতন ও অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে’

বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কারচুপি, ভয়প্রদর্শন এবং সহিংসতার যেসব কর্মকান্ড ঘটেছে তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। আর নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ পুর্নব্যক্ত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা আবারো স্পষ্ট করে জানান দিলেন ইউএসএআইডি’র পরিচালক মার্ক গ্রিন।

বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও উঠে আসে রোহিঙ্গা, জুলহাস মান্নান হত্যাকান্ডসহ দ্বি-পাক্ষিক অংশীদারিত্বের অন্যান্য বিষয়গুলো। বৈঠকের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র টম ব্যাবিংটন বিবৃতির প্রকাশ করেন।

সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যেসব কারচুপির ঘটনাগুলো ঘটেছে, হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা হয়েছে সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্য তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সে উদ্বেগের বিষয়টি জানান দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক সময়কার প্রভাবশালী সদস্য মার্ক গ্রিন।

ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানের বিচার নিশ্চিতের তাগাদা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে মার্ক গ্রিন তিন বছর আগে ঢাকায় নির্মমভাবে নিহত ইউএসএইডের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের তাগিদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, নাগরিক বান্ধব সরকার, সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিতের বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব আরোপ করেন মার্ক গ্রিন।

Content Protection by DMCA.com

অবশেষে বোধেদয়- এটি কোনো ভোট হয়নি, আগের রাতে আ’লীগ ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছে, নতুন নির্বাচন দরকার: রয়টার্সকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল না, বরং নির্বাচনের আগে ব্যলটবাক্স পূর্ণ করা হয়েছিল, তাই নতুন করে নির্বাচন প্রয়োজন, এভাবেই পর্যবেক্ষণে যুক্ত হয়ে অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের একটি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান ও তাদের একজন বিদেশি স্বেচ্ছাসেবী। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও তারা সন্দেহ পোষণ করেন। গত ৩০ ডিসম্বের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের কর্মীরা ব্যালট বাক্স ভরে রেখেছেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও ভোটারদের কাছ থেকে নির্বাচনের এমন বিবরণ শোনার পর তার কাছে এখন মনে হচ্ছে, নতুন করে নির্বাচন হওয়ার দরকার।

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি ৭৫ বছর বয়সী আব্দুস সালাম বলেন, এখন আমি সবকিছু জানতে পেরেছি এবং বলতে দ্বিধা নেই, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। ফাউন্ডেশনের হয়ে কাজ করা এক কানাডীয় পর্যবেক্ষক বলেন, তার কাছে এখন মনে হচ্ছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ না নিলেই বোধ হয় ভালো হতো।

নির্বাচন চলাকালীন অনিয়মনের জন্য ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। পশ্চিমা দেশগুলোর বড় বড় ব্রান্ডের তৈরি পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক হচ্ছে বাংলাদেশ। গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে চীনের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দেশটি।

গত সপ্তাহে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ৫০ আসনে জরিপ চালিয়ে ৪৭টিতেই অনিয়ম দেখতে পেয়েছে তারা। এতে বিশেষ করে জাল ভোট, জোর করে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরা, ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলীয় এজেন্ট ও ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি জানায়, তাদের জরিপ করা সব এলাকাগুলোতে নির্বাচনী প্রচারে কেবল ক্ষমতাসীন দলটিই সক্রিয় ছিল। কখনো কখনো স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সরকারি সম্পদের সহায়তা নেয়া হয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবের কথা বলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত নাকোচ করে দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সংস্থাটিকে বিরোধী দল বিএনপির ‘পতুল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আওয়ামী লীগ ও দলটির জোট সদস্যরা ৯৫ শতাংশ আসন নিশ্চিত করার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। তখন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন ভোট জালিয়াতি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের তদন্তের দাবি জানিয়েছে আসছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সময়সীমার মধ্যে ভিসা ইস্যু না করায় ভোট পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন তহবিলের বেশকিছু পর্যবেক্ষক। ভিসা বিলম্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ সরকার বলেছে, তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে।

কানাডা, ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা থেকে পর্যবেক্ষক এনেছিল সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন। নির্বাচনের দিন ও তার পরে সুন্দর পরিভাষা ব্যবহার করে নির্বাচনের স্বচ্ছতার কথা বলেছে সংস্থাটি।

নির্বাচনের বিজয় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর নতুন বছরের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের বাসভবনে একটি সাদা রঙের গদিতে বসে সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সামনে বক্তৃতা দেন।

তখন তিনি বলেন, নারী ও তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষ খুবই আগ্রহের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন। আপনারা আমাদের দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসার মাধ্যমে গণতন্ত্র কীভাবে কাজ করে তা প্রদর্শনের একটা ভালো সুযোগ দিয়েছেন।

মাইক্রোফোন যখন কক্ষের ভেতর ঘুরছিল, অন্যদের সঙ্গে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে বিজয়ের জন্য শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সৌদিভিত্তিক সংস্থা ইসলামিক কো-অপারেশনের পর্যবেক্ষকরাও তখন উপস্থিত ছিলেন। ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি কানাডীয় নারী টানইয়া ফস্টার সবার আগে কথা বলেন। তিনি নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু বলে উল্লেখ করেন। ফস্টার বলেন, আমি মনে করছি, বাংলাদেশে কানাডার মতোই নির্বাচন হয়েছে।

যদিও ফাউন্ডেশনের নামের প্রথমাংশ ও লোগো দেখতে দক্ষিণ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশেনের (সার্ক) মতো, তবে এ দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আবেদ আলী রয়টার্সকে বলেন, সার্কের কাছে অনুমোদন পেতে তারা আবেদন করেছেন। দ্রুতই তারা অনুমোদন পাবেন বলে আশা করছেন।

সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির দুজন সংসদ সদস্যও রয়েছেন। প্যানেলে বিএনপি আমলের এক মন্ত্রীরও নাম দেখা যায়। তবে এতে বর্তমান বিরোধীদলীয় কোনো সদস্য নেই। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিতে বাংলাদেশের আইনে বারণ আছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, আবেদ আলীর গ্রুপের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তার জানা ছিল না। ফাউন্ডেশনের বোর্ড সদস্য হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সদস্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে আবেদ আলী বলেন, তারা কেবল আমাদের মানবিক কার্যক্রমে সহায়তা করছেন। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভবনের নিচতলায় ধুলোয় ঢাকা দুটি কক্ষে ফাউন্ডেশনের মূল কার্যালয়। সংস্থাটির সভাপতি আব্দুল সালাম বলেন, তাদের পর্যবেক্ষকরা মাত্র কয়েকটি নির্বাচন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন। কাজেই এতে নির্বাচন যে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। তিনি বলেন, কয়েকজন প্রিসাইডিং অফিসার তাকে বলেছেন- ব্যালট বাক্স ভরতে তাদের বাধ্য করা হয়েছে। আব্দুস সালাম বলেন, আমি সত্য বলতে চাই। কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ পেতে আমি এসব বলছি না।

কানাডার সাচকাচাওয়ান প্রাদেশিক সরকারের নীতি বিশ্লেষক টানইয়া ফস্টার বলেন, কানাডায় বসবাস করা বাংলাদেশিদের কাছ থেকে তিনি শুনতে পেয়েছেন যে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন বিদেশি পর্যবেক্ষক খুঁজছে। এটাকে একটা মজার অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করে আমি পর্যবেক্ষক হওয়ার যোগ্যতা জানতে চেয়েছি।

তিনি বলেন, আমি মানবাধিকার ফাউন্ডেশন ও নির্বাচন কমিশনে আবেদন করলাম। তারা আমাকে পরীক্ষা করল এবং একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছে। তার মেয়ে ক্লয় ফস্টারও পর্যবেক্ষক প্যানেলে ছিল। এর আগে কোনো জাতীয় নির্বাচনে তারা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করেননি। তবে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা ও সার্কের সঙ্গে যে এটির কোনো সম্পর্ক নেই, সে সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না।

তিনি বলেন, এটাকে মহান কিছু মনে হয়নি আমার। খুব সাধাসিধা মনে হয়েছে। আমাদের প্রতিবেদন যে খুবই মূল্য বহন করছে- সে সম্পর্কে আমার ধারণা নেই। আমরা ৯টি ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছি। সবগুলোই ঢাকায় ছিল।

খুবই বৈরী এলাকায় না যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের নিরীক্ষা কিংবা প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টদের অতীত পরীক্ষা করিনি। আবেদ আলী বলেন, ওই নারীর কানাডায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কোনো সংস্থার পক্ষেই সব নির্বাচন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব না।

https://www.reuters.com/article/us-bangladesh-election-observers-exclusi-idUSKCN1PG0MA

Content Protection by DMCA.com

গৃহবিবাদ থেকে রাষ্ট্রবিবাদে জড়িয়ে পড়েছে শেখ ডাইনেস্টি। বাদপড়া বৃদ্ধরা রেহানাকে নিয়ে ক্ষমতা দখলে আগাচ্ছে । ভারত তৈল সংযোগ দিচ্ছে তাতে । ডাঃ ইকবাল এবং তারিক সিদ্দিকের সাথে যৌন কেলেঙ্কারীর ভিডিও নিয়ে মোকাবেলার জন্য রেডি হাসিনা!

বিশেষ প্রতিবেদন।।

কথা ছিল, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে রেহানাকে সাইড দিবে হাসিনা। অনেক তো হলো। কিন্তু রেহানা এবং ভারতের সব লোক বাদ দেয়ার পরে রেহানা বুঝে গেছে হাসিনা তাকে ব্লাফ দিয়েছে। যে কেবিনেট সাজিয়েছে, তা শুধু জয়ের ভবিষ্যতে ল্যান্ডিয়ের জন্য। এতে ভারত আউট হয়েছে, সাথে রেহানা ও তার ছেলে ববিরও কপাল পুড়েছে। যতই মাথা নষ্ট হোক না কেনো, বাবা জয়ের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে চার বারের ক্ষমতায় থাকা বড় বোন হাসিনা। প্রয়োজনে বোধে রাজাকারদের পুত্রবধু পুতুল বসবে!

রেহানার সাইডে থাকায় দীর্ঘ তিন বারের মত কেবিনেট থেকে বাদ পড়লো কাজিন শেখ সেলিম। এরপরে আর কোনো ভরসা নাই। তাই সেলিম, আমু, তোফায়েলরা সবাই রেহানাকে নিয়ে সামনে দিকে আগানোর পরিকল্পনা চুড়ান্ত করেছে। ভারতের সাথে কথাবার্তা হয়েছে। তাদের সামনে এর চেয়ে আর কোনো ভালো বিকল্প নাই।

বাইরে যতই দৃশ্যমান গলাগলির নাটক হোক না কেনো, শীঘ্রই হাসিনাকে দলীয়ভাবে চ্যালেঞ্জ করতে যাচ্ছে রেহানা। ভোট কারচুপির দুর্নামের পরে সারা বিশ্বে যখন অবস্থা নাজুক, চীন কানেকশনে ভারত বৈরী- এখনই উপযুক্ত সময় হিট করার। নইলে পরে আর হবে না। এভাবে গৃহবিবাদ থেকে রাষ্ট্র বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে শেখ ডাইনেস্টি। হাসিনাও কম যান না। তিনিও খোঁজখবর রাখছেন চারদিকে। মাল মশলা নিয়ে তৈরি হয়ে আছেন। গত ২২ বছর ধরে রেহানার স্বামী শফিক সিদ্দিক প্যারালাইজ্ড হয়ে বসবাস করেন বনানী ১৫ নম্বর রোডে। এই সময়ে রেহানার পুকিপুকি খেলার পার্টনার হলো ডা. ইকবাল, আবুল হোসেন, এবং আপন দেওর তারিক সিদ্দিক। তাদের রঙ্গলীলার বেশ কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ও সচিত্র রেকর্ড নিয়ে বড়’পা তৈরি হয়ে আছেন। সাথে আছে লন্ডনের শত বাড়ি, বিলিয়ন পাউন্ডের ব্যাংক ব্যালেন্স, চাঁদাবাজির হাজার হাজার ডকুমেন্ট। ঝামেলা বাধালেই ফাঁস করে দিয়ে পাবলিক নুইসেন্সের সম্মুখীন করা হবে রেহানাকে।

খবরের সূত্র শফিক সিদ্দিকী।

Content Protection by DMCA.com

আ’লীগকে নির্বাচনের খর্চা ৫০০০ কোটি টাকা দিয়েছে চীন । ক্ষুব্ধ ভারত । মার্কিনীদের সাথে একাট্টা । আসছে জাতীয় সরকার।

বাংলাদেশে আবার জাতীয় সরকার  নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এবার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারত।

জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বরে নির্বাচনে ভারতের উপর নির্ভর করতে পারেনি হাসিনা। তাই চীনের দ্বারস্থ হয়ে তাদের কাছে নির্বাচনের খর্চা বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড এনেছে এবং এই টাকা দিয়েই পুলিশ ও গুরুত্বপূর্ণ লোকদের মাথা কিনে নির্বাচন পার করেছে হাসিনা। তবে বিপদ অন্যখানে- এমন ভাবে সব সিট ও ভোট কেটে নেয়া হয়েছে, যা দেশে বিদেশে কারও কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না। আর তাই দেশে বিদেশে কথা উঠেছে আরেকটি নির্বাচন করতে হবে, যা হবে সুষ্ঠু।

নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকটি প্রতিনিধি দল ভারত ঘুরে এসেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির নিশ্চয়তা হাসিল করতে পারেনি। এমনকি নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার মাস খানেক আগে শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের কথা থাকলেও মোদির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় শেখ হাসিনা সফর বাতিল করেন। এর বিপরীতে সৌদি আরবে সফরের মধ্যে চীনের সাথে গুরুত্বপূর্ন আলোচনা ও সমঝোতা সেরে ফেলেন হাসিনা। বিষয়টি ভারতের জানা থাকলেও তারা ততটা বিপদ মনে করে নি তখন।

তবে বিপদের বহিঃপ্রকাশ ঘটে বাংলাদেশের নির্বাচনের দিন রাতে, অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর। ভোট ডাকাতি ও কারচুপির প্রতিবাদে প্রায় সকল বিরোধী দলের নির্বাচন বয়কটের মুখে ফলাফল ঘোষণা হতে থাকলে দিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদি ফোন করে শেখ হাসিনাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। এর তিন ঘন্টা পরে চীনের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট উভয়ে শেখ হাসিনার কাছে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। এরপরে সোমবার সকালেই নৌকা, ফুল, এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের পত্র নিয়ে গণভবনে পৌছে যান চীনের রাষ্ট্রদূত! ভারত এই প্রথম লক্ষ করে- এ যে রীতিমত বাড়বাড়ি। সন্দিগ্ন হয়ে ওঠেন ভারতীয় হাইকমিশনার হর্বষর্ধন শ্রিংলা।

পরবর্তী ৩/৪ দিনে সরকার গঠনের প্রকৃয়া চলতে থাকে। ভারতীয় হাইকমিশনার আ’লীগের বিভিন্ন কর্নারে যোগাযোগ করে হতাশা বাড়তে থাকে। ৬ জানুয়ারী নতুন কেবিনেট ঘোষণা করা হলে নয়াদিল্লি আকাশ থেকে জমিনে নয়, সোজা ভূতলে পড়ে! পুরোনো কেবিনেটের ৩৬ জন সদস্য আউট। ডজনখানেক সিনিয়র মন্ত্রী বাদ পড়ে, এতকাল যাদের মাধ্যমে দিল্লির স্বার্থ উদ্ধার হতো, এদের কেউ নাই। হাইকমিশনার শ্রিংলার কাছে অনেকেই ধর্ণা দেন। কিন্তু তিনি আ’লীগের হাইকমান্ডে যোগাযোগ করে প্রচন্ড ধাক্কা খান। তাকে বলা হয়েছে চুপ থাকতে। কে মন্ত্রী হবেন, কি হবেন না, তা আ’লীগের নিজস্ব বিষয়;  এবং শেখ হাসিনা নিজেই দেখছেন। এ নিয়ে কোনো দেশের পরামর্শের দরকার নাই। প্রমাদ গুনেন শ্রিংলা!

ধীরে ধীরে দিল্লি বুঝতে পারে, শেখ হাসিনা বিক্রি হয়ে গেছে। চীন তাকে কিনে নিয়েছে অতি উচ্চমূল্যে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। পরের দিন ৭ জানুয়ারী বঙ্গভবনে সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেন হাইকমিশনার শ্রিংলা। অন্যদিকে বঙ্গভবনে সদলবলে উপস্থিত হন চীনা রাষ্ট্রদূত জ্যাং জু। শপথের পরেই তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে, এবং টেলিফোনে কথা বলিয়ে দেন চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাথে। খবরে বলা হয়, চতুর্থবারের মতো ও টানা তৃতীয়বার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, নির্বাচনের পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বিদেশ সফরে যাবেন ভারতে নয়, যাবেন চীন।

সবকিছু পূর্নমূল্যায়ন করতে থাকে ভারত। হাইকমিশনার শ্রিংলা বিস্তারিত লিখে জানান তার হেডকোয়ার্টার্সে। কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সহ অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সাথে।

এরি মধ্যে নির্বাচন বর্জন করা দলগুলো অভিযোগের পাহাড় তৈরি করে তা জানাতে থাকে সর্বত্র। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে আ’লীগের ভোট জালিয়তি ও কারচুপির খবর। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য সহ সকল পশ্চিমা রাষ্ট্র বাংলাদেশের কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে একের পর এক আপত্তি তুলতে থাকে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবী করে। বিব্রত হয় নতুন সরকার।

লক্ষনীয়, ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনার চতুর্থবারের মত প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পরে পরম মিত্র প্রতিবেশী ভারত থেকে কোনো অভিনন্দন বার্তা আসেনি। বরং এসেছে চীন এবং তাদের মিত্রদের থেকে। বিষয়টা একেবারেই হেলাফেলার মত নয়। বাংলাদেশ নিয়ে চীনের অগ্রসরতা দেখে ভারত বসে থাকবে না। তারা অবশ্যই তাদের নিজেদের নিরাপত্তায় যা প্রয়োজন, তাই করবে।

বাংলাদেশের স্বীকৃতিহীন কারচুপিময় নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের নানাবিধ তৎপরতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মহলে হঠাৎ কথা উঠেছে- আচিরেই জাতীয় সরকার আসছে। আর তারা থাকবে ৩/৪ বছর। দেশের সবকিছু ঠিক করে নির্বাচন দিবে তারা।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 50