তারেক রহমানের মাস্টার্সে ভর্তি প্রসঙ্গে

সামসুল আলম

ডাক্তার জাফরুল্লাহ সাহেব তো বিএনপির নেতা কর্মী হিসাবে কোনো পদে কোথাও নাইা। হ্যা বিএনপির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে দলের টপ নেতৃত্ব নিয়ে অবমাননাকর উক্তি করা নেহায়েত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। ‘নাক গলানো’, ‘ওহি বন্ধ করতে হবে’- এর মানে কি? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কি দল চালাবেন না? উনার কথায় আছে তারেক রহমানকে সহ্য করতে না পারার ক্ষোভ! উল্টো বরং ডাক্তার সাহেবই নাক গলাচ্ছেন বেশি। তারেক রহমান কি ক্যু করে ক্ষমতা নিয়েছেন, নাকি কারাগারে যাওয়ার কারণে পার্টির চেয়ারপারসন তার ক্ষমতা বলে নিয়োগ দিয়েছেন? এ নিয়ে উনাদের কিছু লোকের এত উষ্মা কেনো? সমালোচনা করতে চাইলে দলে জয়েন করে ফেলুন, তারপরে বলতে পারেন। 

ডাক্তার সাহেব কি খেয়াল করেননি, হাসিনা মাসের পর পর বিদেশ থেকে স্যাটেলোইটে দেশ ও দল চালিয়েছেন, তখন কোথায় ছিলেন তিনি? তখন তো তিনি বলেননি, এটা অসাংবিধানিক হচ্ছে, পদ ছাড়ুন! শুধু তারেক রহমান কথা বললেই তারা ফোঁস করে উঠেন কেনো? হাসিনার বিরুদ্ধে একবার কি যেনো বলে গোয়েন্দা ঘেরাওতে পড়ে সোজা হয়ে গিয়েছিলেন, মনে আছে! জমি দখলে রাখতে ও মামলা থেকে বাঁচাতে ’আব্বা আব্বা’ নাম জপতে হয়েছিল! আমাদের স্মৃতিতে সবই আছে। তিনি নিজেকে খুব বড় জাতীয় মুরব্বী মনে করলে সবাইকে নিয়া হাসিনার কাছে যান না কেনো, তাকে বুঝিয়ে ম্যাডামকে মুক্ত করে আনছেন না কেনো? হাসিনাকে তার অপকান্ডের জন্য, বেআইনী কর্মকান্ডের জন্য, খালেদা জিয়ার বিচারে হস্তক্ষেপ করে কারাগারে আটকে রাখার বিরুদ্ধে জোড়ালো চিৎকার করছেন না কেনো?

এখন উনি তারেক রহমানকে অফ করে নিজেরা বেগম খালেদা জিয়াকে জেলমুক্ত করার দায়িত্ব নিতে চান! ভালো কথা। তো মুক্ত করতে চেষ্টা করুন না। দেখান কি করতে পারেন। উনারা তো অনেক দৌড়ঝাপ করে ফ্রন্ট বানিয়েছিলেন, তারপর কি ঘন্টাটা করেছেন, জাতি দেখেছে! 

তাই দেশের সর্ববৃহৎ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনকে নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন অবমাননাকর উক্তি করা থেকে বিরত থাকবেন বলে আশা করি। মাথায় রাখবেন, এত বড় দলে কিছু পাগলও কিন্তু আছে, তারা অত বাছ বিচার করে না– অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।

বুদ্ধিজীবি হিসাবে পরামর্শ দিতে চাইলে কিছু শিষ্টাচার এবং সীমারেখা মেনে চলা দরকার।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

সারা বিশ্ব তো বটেই, শুধু এশিয়া প্যাসিফিকেও বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার অবস্থান নিচের দিকে। বাংলাদেশের ওভারওল স্কোর ৫৩,২ এবং ১১৩ টি জরিপ কৃত দেশের মধ্যে অবস্থান ৮৩ তম। 

সূচকের চারটি প্রধান স্তম্ভ- 
১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা  
২। প্রাপ্যতা 
৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা। 
৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

এগুলোকে খুব ভালো, ভালো , মাঝারি, দুর্বল ও রিস্কি এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় ৬০,৪ পেয়ে বাংলাদেশ ভালো করেছে। খাদ্য প্রাপ্যতায় ৫৮,৮ এর স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ মাঝারি অবস্থায় আছে। 

তবে সূচকের অন্য স্তম্ভ্য খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অতি নিন্মমান, স্কোর মাত্র ৩০.৬। পাশাপাশি আছে “জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা” নামক আরেকটি স্তম্ভ, বাংলাদেশ এখানে মাঝামাঝি ৫০,২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বে ৮৩ তম স্থানে আছে। 

বিপরীতে আমরা যদি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ দেশ ঘানার সাথে তুলনা করি, তাহলে দেখতে পাই যে, ঘানার স্কোর গুলো নিন্নরূপ।ঘানার ওভারওল স্কোর ৬২,৮। ১১৩ দেশের মধ্যে ৫৯ তম। 
১। খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতা > ৬৬,৩ 
২। প্রাপ্যতা >> ৬১,৭ 
৩। খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা। >> ৫৭,১
৪। জাতীয় সম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা>> ৫৩

নিজেকে বৈশ্বিক উন্নয়নের রোল মডেল দাবী করা বাংলাদেশের স্কোর সবক্ষেত্রেই ঘানার চেয়ে পিছিয়ে!  

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ঝুঁকির দিকঃ  
খাদ্যের গুণগত মান এবং সুরক্ষা বিভাগের খাবার গ্রহণের বৈচিত্র, মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট এবং প্রটিন কোয়ালিটি এই তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ ঝুঁকি পুর্ণ অবস্থায় আছে। 

প্রোটিন কোয়ালিটিতে বিশ্বের গড় স্কোর যেখানে ৪৭, সেখানে বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ৪.৭। 

২০১৯ এর সূচকে খাদ্য সাশ্রয়যোগ্যতায় বাংলাদেশ ভালো করেছে। কিন্তু ২০১৯ শেষ দিকে এসে বেশ কিছু খাদ্য পণ্যের মুল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, কিছু কিছু খাদ্য পণ্য প্রাপ্যতায় কিছুটা জঞ্জাল তৈরি হয়েছে বিধায়, এটা নিশ্চিত বলা যায় যে ২০২০ এর সূচকে এই বিভাগ দুটিতে বাংলাদেশ খারাপ পার্ফর্ম করবে।

Content Protection by DMCA.com

আওয়ামীলীগের নির্লিপ্ততা

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

আওয়ামীলীগ সংখ্যা লঘু নির্যাতন প্রতিরোধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করে যেসব ভালো ভালো কাজ করেছে, এই ক্রিটিক্যাল সময়ে এসে সে ক্রেডিট ক্লেইম করতে পারছে না কেন?

মূলত বাংলাদেশে দেশের হিন্দু নির্যাতন ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ/অযুহাতকে সামনে এনে মুসলমানদের বাদ রেখে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বে-নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেয়ার আই পাশ করেছে গেরুয়া ব্লক। কিন্তু বাস্তবতা কি বলে? বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে এক বছরের ব্যবধানে দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বেড়েছে। ২০১৫ সালের হিসাবে, দেশের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৭ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিল, আগের বছর এর হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিবিএস তথ্যের পাশাপাশি ভারতী বিদেশ মন্ত্রক থেকেও বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন কমা ও হিন্দু জনসংখ্যা বাড়ার স্বীকৃতি এসেছে।
১৮ জুলাই, ২০১৮ রাজ্যসভায় (সংসদের উচ্চকক্ষ) প্রশ্নের উত্তরে সুষমা স্বরাজ বলেছেন বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ৬ বছরে দুই শতাংশ বেড়েছে। ‘বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমছে’— এ ধারণা খণ্ডন করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ২০১১ সালে ওখানে জনসংখ্যার ৮ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল হিন্দু। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও হয়রানির কিছু কিছু সংবাদ সত্য। তবে ওসবের প্রতিকারে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

বাংলাদেশ সরকার হিন্দু নির্যাতন প্রতিরোধে প্রমাণিত ও গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে বিগত ১১ বছরে, তাই একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে নতুন একটি বৈষম্য মূলক আইন পাশ করা ঘটনা কূটনৈতিক চ্যানেলে শক্ত ভাবে প্রতিবাদ করার বিষয়। কিন্তু আমরা কোন প্রকাশ্য অবস্থান দেখছি না। না সরকারের, না দল হিসেবে আওয়ামীলীগের!
যেখানে তার ক্রেডিট নিবার কথা সরকারের, সেখানে সে মিন মিন করছে কেন? এটা কি শুধুই অবৈধ ক্ষমতায়ন সমর্থনের শর্ত, যার কারণে আওয়ামীলীগ এই ক্রান্তিকালেও চুপ রয়েছে?

Content Protection by DMCA.com

যেমন হওয়া দরকার আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভয়কে জয় করে স্কুল শিক্ষাকে মানসম্পন্ন ও মানবিক করুন। 

সমাজ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের একমুখী ও ক্রমাগত পেনিট্রেশনের মধ্যে দিয়ে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিষয়াদির মধ্যে আছে আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মান, শ্রেণী শিক্ষার মান, শিক্ষকের মান ইত্যাদি পড়ে গেছে। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা তৈরি ও রক্ষার সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলো অধঃপাতে যাওয়ায়, “মান” বিষয়টা সব যায়গা থেকে হারিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন স্থানীয় সরকার এবং তৃণমূলের দিকে অগ্রসর হবার সাথে মেম্বার, চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কমিশনার, মেয়র কিংবা এমপি’রা স্থানীয় স্কুল গুলোর অবিভাবক কমিটির সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছে। ফলে স্কুল ভর্তি এবং শিক্ষক নিয়োগ বেপারোয়া রাজনৈতিক জালিয়াতির অতলে গেল এবং সেই সাথে গেল শিক্ষার মান এবং অবিভাবক সচেতনতা। বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে একদল কালো টাকার মালিক, ব্যবসায়ী কাম রাজনৈতিক দুর্বিত্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় এসে চাঁদার বিনিময়ে স্কুল ভর্তির বাণিজ্য দাঁড়া করেছে। ফলে সব দিক থেকে শ্রেণী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নৈরাজ্যকর হয়ে উঠেছে। এই নৈরাজ্যের ব্যবস্থায় শিক্ষক নামধারী কিছু নির্বোধ তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ অভিভাবকগণ স্কুল প্রশাসনের ভয়ে ভীত। আগের দিনে ভালো স্কুল গুলোর শিক্ষকদের বিএড, এম এড ডিগ্রি থাকা লাগতো। এই বিএড এবং এম এড কোর্সে শিক্ষকগণ শ্রেণী পাঠদানের পদ্ধতি, ছাত্র ছাত্রীর সাথে যোগাযোগের (মুড অফ কমিউনিকেশন) বিষয়ে ধারণা পেতেন। অর্থাৎ শিক্ষাকে অর্থবহ করার একটা চেষ্টা ছিল তাতে। কয়েকজনের সাথে আলাপ করে বোঝা গেল, এইসব ট্রেনিং এ কিভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন ঘটানো যায় তার নির্দেশনা আসে এখন। 

১। স্কুল প্রশাসনের শিক্ষাদান ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ট্রান্সপারেন্ট হচ্ছে কিনা, বৈষম্যহীন এবং মান্সসম্পন্ন হচ্ছে কিনা তার জন্য একটা স্থায়ী “স্টান্ডার্ড অডিটিং” সিস্টেম থাকা দরকার, যেখানে একটি স্কুল বছরে অন্তত একবার নিরীক্ষায় পড়বে এবং এর মধ্য দিয়ে বহুবিধ “মানের” ইনডেক্সে স্কুল ও শিক্ষকের র‍্যাংকিং হবে। এই অডিটিং ব্যবস্থার ফলাফল অনলাইন করা হবে যাতে যে কেউ যে কোন সময় স্কুল শিক্ষার মান, ব্যবস্থাপনা মান এবং শিক্ষক মূল্যায়নের স্কুল ভিত্তিক গড় স্কোর অনলাইনে দেখতে পাবে। শুধু ব্যক্তি শিক্ষকের শিক্ষাদান ও ডেভেলপমেন্ট স্কোর পাব্লিকলি এভেইলেবল হবে না যা স্কুল পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনের মানগত ভিজিবিলিটি আসবে আর ব্যক্তি অভিভাবকও শিক্ষার মানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কিংবা চাপ দিতে পারে। বাংলদেশে শিক্ষা প্রশাসনে ভিন্ন ভিন্ন খাত ব্যবস্থাপনায় উচ্চ হারে টাকা খরচ হলেও “নিয়মিত বাৎসরিক বা ষান্মাসিক” স্কুল শিক্ষা মান ও শিক্ষাদান পদ্ধতি যাচাইয়ের মানদণ্ড বা স্টান্ডার্ড চেকলিস্ট তৈরি হয়নি। পরিচালনা কমিটির নামে অভিভাবক কমিটি এবং রাজনৈতিক নেতারা এইসব কাজ করছে এবং যে যেভাবে পারছে নিজ নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। যে অভিভাবক কমিটি স্কুলের সাধারণ কাজে সাহায্যকারী (খাবার, ক্লিনিং, ইভেন্ট আয়োজন) হিসেবে থাকার কথা শুধু, তারাই দেখা যাচ্ছে তারা স্কুল পরিচালনাকারী এবং নিয়োগদাতা হিসেবে কাজ করছে। তারাই সব খরচ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে, করছে ভর্তি বাণিজ্য। লাভজনক হয়ে যাবার কারণে রাজনৈতিক নির্বাচনের মতই অভিভাবক নির্বাচনও একটা বড় ব্যবসা হয়ে গেছে।

২। সর্বস্তরের শিক্ষায় শিক্ষক মূল্যায়ন (ট্রেনিং একাডেমী, বহিরাগত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী, তবে স্কোরিং ওয়েট নিয়ে আলোচনা হতে পারে) চালু করা। শিক্ষকদের কোম্ফোর্ট জোন থেকে বের করে এনে কন্টিনিউস ডেভেলপমেন্ট এবং সিকুয়েনশিয়াল স্টেইজে বিন্যস্ত ট্রেনিং ফেইজে নিয়ে আসা দরকার। এই ট্রেনিং গুলোতে শিক্ষকদের জ্ঞানগত উন্নতি যেমন প্রাধান্য পাবে, তেমন শিক্ষা দানের মানবিক ও আনন্দময় পদ্ধতিও প্রাধান্য পাবে। 

৩। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকের কোচিং নিষিদ্ধ করা এবং শিক্ষকের বেতন নগরে পরিবার নিয়ে চলার মত পরিমাণে (কষ্ট অফ লাইফ) বাড়ানো না গেলে স্কুল শিক্ষাকে প্রতিস্থাপন করে ফেলা কোচিং কখনই বন্ধ হবে না। 

৪। কোচিং বন্ধের পরোক্ষ পদক্ষেপ হিসেবে মূল সাবজেক্টে বাড়ির কাজ দিবার প্রথা উঠিয়ে দেয়া নিয়ে ভাবতে হবে, শিক্ষক কে বাধ্য করতে হবে বাড়ির কাজ শিক্ষার্থী স্কুলেই সারবেন। এটা করা হয় কিনা তার জন্য র‍্যান্ডম অডিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বাড়ির কাজে যাবে শুধু নৈর্বত্তিক ও ঐচ্ছিক বিষয়াদি, যেমন দেশের বিভিন সমস্যা, দূষণ, পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন গত বিষয়াদি, শৃঙ্খলা গত জ্ঞানের হোম ওয়ার্ক, যার সাথে পরিক্ষায় মার্ক পাবার কোন সম্পর্ক নেই। এর বাইরে যা করতে হবে, তা হচ্ছে দৈবচয়নে বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে প্রশ্ন তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের নিশ্চয়তা। এতে করে বেশি নম্বর পাবার জন্য নির্দিস্ট শিক্ষকের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ার বাধ্যবাধকতা কমে যাবে। 

৫। ছাত্র ছাত্রীর প্রমোশন একক লিখন পরিক্ষা নির্ভর না করে সেখানে কথন, বলন, লিখন, শ্রবণ ঝোঁক উপস্থাপনা এবং বুদ্ধিমত্তা নির্ণয় কেন্দ্রিক স্কুল পরিক্ষা মডেল চালু করুন। একক লিখন কেন্দ্রিক পরিক্ষায় বহু মুখস্ত করার ঝোঁক থাকে বলে নকলের প্রবণতা প্রবল।

৬। স্কুল কিভাবে অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ করবে তার “মুড অফ কমিউনিকেশন” ঠিক করা চাই। অর্থাৎ একটা শিক্ষা সহায়ক এবং ইন্টারেক্টিভ স্কুল কমিউনিকেশন ব্যবস্থা দাঁড়া করানো দরকার যেখানে স্কুল বছরে অন্তত দুইবার শিক্ষার্থীর বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট নিয়ে অভিভাবকের সাথে একটা মানবিক, মর্যাদাপুর্ণ এবং শিক্ষা সয়াহক পরিবেশে কমিউনিকেইট করবেন। আবার এই যোগাযোগের কতটা অনলাইন হবে এবং কতটা অফলাইন হবে সেটাও ঠিক করতে হবে।

৭। মাধ্যমিক পর্যন্ত পাবলিক স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক করে এলাকা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেভেলপে মনঃ দেয়া দরকার। এতে ভর্তি বাণিজ্যে ভাটা আসবে এবং অভিভাবক কমিটির দাপট কমে আসবে। অন্যদিকে স্কুলিং এলাকা ভিত্তিক হলে নগরে যানজট কমবে, অর্থাৎ আন্তঃ এলাকা যান পরিবহণ কমিউটেশন কমে আসবে।

৮। স্কুল শিক্ষাকে লিখতে পারা, অংক পারা আর মুখস্ত বলতে “পারা”র হিসেব থেকে বের করে আনতে হবে। একটা বাচ্চার মানসিক, সামাজিক, ইমোশনাল, বিহেভিয়ারাল, এথিক্যাল, ফিজিক্যাল, বুদ্ধিগত ও শিক্ষা গ্রোথ মিলিয়ে বহুবিধ ডেভেলপমেন্ট যাচাই হোক মূল থিম। এতে কোন বাচ্ছার কোন ধরণের ডেভেলপমেন্ট এইড দরকার তা বেরিয়ে আসবে এবং সেভাবে স্কুলিং ব্যবস্থা সাজানো যাবে। স্কুলে ডাক্তার, মোনোবিদ রাখা, পরিবেশ সচেতন পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাখা সময়ের দাবি। 

৯। শুধু মাত্র অতি নিন্ম মানের টয়েলেটের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে চায় না। দীর্ঘ সময় টয়লেট চেপে থাকার কারণে তাঁদের রোগবালাই তৈরি হচ্ছে। স্কুলে স্যানিটারি ফ্যাসিলিটি না থাকায়, সীমিত কিছু স্কুলে থাকলেও তার মেইন্টেনেন্স না হওয়ায় শহর গ্রামের স্কুলে মেয়েদের খুব অসুবিধা হয়। অধিকাংশ স্কুলের টয়লেটে নাক চেপে যাওয়াও দায়। 

১০। মাথাপিছু শিক্ষার্থী সংখ্যার বিপরীতে শিক্ষক সংখ্যার মানদন্ড তৈরি করা আজ বড়ই দরকার। ভিকারুন্নিসা স্কুলে দেখা গেছে একটা মাত্র শ্রেনীকক্ষে ৮৪ জন শিক্ষার্থী, এই সমস্যা বহু স্কুলে। একজন শিক্ষকের পক্ষে এক ঘন্টায় ২০ বা ২৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে সময় দেয়া অসম্ভব। শ্রেণীতে অধিক সংখ্যক ছাত্র ছাত্রী থাকায় তারা ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে, আর যাচ্ছে, কিন্তু শিক্ষক জানেন না তারা কি শিখছে! এভাবে চলে না। স্কুলে সংখ্যা বাড়াতে হবে, মাথাপিছু শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষক সংখ্যা বাড়াতে হবে। শিক্ষকের ট্রেনিংকে কিন্টিনিউস ডেভেলপমেন্টে আনতে হবে। 

১১। বাংলাদেশের স্কুল গুলোতে ছোট ছোট সময়ের যেমন ৫০ মিনিটা বা ১ ঘন্টার ক্লাসে একই দিনে প্রায় সব বিষয় পড়ানোর চল আছে। এতে করে শিক্ষকরা গাল গল্প করে, পড়া ধরার নাম করে সময় ক্ষেপণ করে চলে যান। বিপরীতে দীর্ঘ পিরিয়ডে ক্লাস নিয়ে কিভাবে পড়ালেখা স্কুলেই সীমাবদ্ধ রাখা যায় রার স্থায়ী পদ্ধতি ডেভেলপ করতে হবে। অষ্টম পর্যন্ত (প্রাথমিক ও নিন্ম মাধ্যমিকে) বাড়ির কাজের নিময় একেবারেই তুলে দিয়ে স্কুলকেই প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার কেন্দ্র বানাতে হবে। একটা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকার পরেও আমাদের সন্তানদের বাড়িতে এসে পড়তে হবে এটা মানা যায় না। তাই মাথাপিছু শিক্ষকের নিয়োগের মানদণ্ড ঠিক করে দিতে হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে।  
আমাদের দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিন্ত তা কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ অল্প সংখ্যাক শিক্ষক দিয়ে অনেক বেশি সংখ্যক ছাত্র ছাত্রীর পাঠদান চালিয়ে নেয়া। অল্প সংখ্যক ডাক্তার নার্স দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে নেয়া। অল্প সংখ্যক পরিচ্ছতা কর্মী দিয়ে বর্জ্যব্যবস্থাপনা চালিয়ে নেয়া। অর্থাৎ সব সেবা খাতেই মানের বালাই না করে যেনতেন করে সেবা চালিয়ে নেয়া। ফলে মান জিনিসটা সব জায়গা থেকে উঠে গেছে। 

বার্ষিক সমাপনী পরিক্ষা শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে আরো একটি শিক্ষা বর্ষ শেষ হতে চলেছে। যেহেতু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একটা ভয় ও চাপের যৌথ প্রযোজনা, তাই বছরের এই শেষ কয়েকটা দিন যেন আমাদের শিক্ষার্থীদের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার উপলক্ষ, অন্তত কয়েকটা দিনের জন্য হলেও। এই মুক্ত সময়ে কোমলমতি ছেলে মেয়েদের উচ্ছ্বাস গুলো যেন আকাশ ছুঁতে চায়। ইচ্ছারা সব মুক্ত বিহঙ্গ হয়ে বাতাসে উড়তে চায়।কিন্তু তাতেও বাঁধ সেধেছে পরিবেশ, পরিস্থিতি, রাজনীতি ও অটেকসই উন্নয়ন। খেলার মাঠ নেই। নগরীতে নিশ্চিন্তে বাইরে বেরুনোর নূন্যতম নিরাপত্তা নেই। যানজটে সম অপচয়ের অন্তঃ নেই। পৃথিবীর প্রথম তিনিটি অতি দূষিত শহরের তালিকায় থাকা রাজধানীর বাতাসে ধূলি ও ভারী ধাতুর উপস্থিতিতে, অতিমাত্রার স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার সুযোগ নেই। অতি কাজ ও যানজটের চাপে নেই বাবা মায়ের সময়। নেই বেড়াতে যাবার ফুসরত!গ্রামের সাথে সংযোগ হারিয়ে শহুরে ক্লেদ ও ক্লান্তির জীবনের সাথে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্সের কোন যোগ নেই। বিচ্ছিন্ন পারিবারিক মডেলের বিস্তারের সাথে সাথে বর্ধিত পরিবারের সাথে নিবিড় সম্পর্ক নেই।ফলে বিরক্তি অনিচ্ছা, ভয় ও চাপের স্কুল, স্কুল পরিক্ষা আর ক্লাস থেকে আপাত রক্ষা পেলো মুক্তি ও স্বাধীনতার কোন উপলক্ষ নেই। তাই ঘরে বসেই অলস সময়ের বিরক্তি আর টিভির যন্ত্রণা উদযাপন। এরি মধ্য দিয়ে ছুটি নামের এই বিরক্তিকর দিনগুলো শেষ হবে। দ্রুতই ফিরতে হবে সেই স্কুল ও শিক্ষা নামের জেলখানায়।

শিক্ষা ও স্কুল নামের নামের এই জেলখানা গুলোকে মানসম্পন্ন, আকর্ষনীয়, মানবিক করার টেকসই ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করুক আমাদের শিক্ষা প্রশাসন। স্কুল ও শিক্ষা আনন্দময় করার রাজনৈতিক উদ্যোগ নিক আমাদের সরকার। স্কুল যেন আমাদের বাচ্চাদের কাছে ভয়ের বিষয় হয়ে না থাকে।

Content Protection by DMCA.com

পতনের ধ্বনি

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী। 

অদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ পুরুষ শ্রমিক বাজারের ক্রমাগত সংকোচনের মূখে,শুধুমাত্র প্রবাসী নারী শ্রমীকদের উপর ভর করে রেমিটেন্স প্রবাহ এখনও ঠিক আছে বটে, তবে নির্যাতনের মুখে এই বাজারও ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই রেমিটেন্স প্রবাহে মন্দা শুরু হতে পারে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সাথে শ্রমবাজার খোলার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো মালয়েশিয়ার “ব্যাক ফর গুড” কর্মসূচীর আওতায় প্রায় ৩২ হাজার প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন। এর বাইরে মধ্যপ্রাচ্য থেকেও ফেরত আসছেন প্রচুর শ্রমিক। 

অব্যহত বাজেট ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি প্রকল্পের নামে অতি উচ্চ খরচ ও বেপারোয়া লুটে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির গতি লাগামহীন। বিপরীতে আয় নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছে রাজস্ব খাত। ভ্যাট, আয়কর ও বিভিন্ন শুল্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আসলে টেনে হিঁচড়ে যা বাড়ানো যেত, তা বাড়ানো হয়ে গেছে। সরকার বিএনপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চেয়ে রাজস্ব কর, মূসক ও শুল্ক আয় অন্তত তিনগুণ বৃদ্ধি করে বিশাল ক্রেডিট নিয়েছে। এটা করতে গিয়ে ব্যবসা ও বাজারের স্থিতিস্থাপকতা ভেঙে দিয়েছে। যেহেতু দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৭০ ভাগের উপরে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে আসে, তাই বেশি সংখ্যক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে রাজস্বের আওতায় নিয়ে আসায় কর্মসংস্থান চাপে পড়ে গেছে। বেকারত্ব অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। 

বেশ কিছু খাতে ভ্যাটের অতি চাপে বহু ছোট কোম্পানি বসে গেছে। সাইফুর রহমান ও শাহ কিবরিয়া সাহেবদের রক্ষণশীল ভ্যাট কর ও শুল্ক নীতির কারণে বহু খাত প্রতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আসেনি। বর্তমান সরকার এটার সুবিধা বড্ড বেশি নিয়ে ফেলেছে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে আয় বাড়ানোর বিপরীতে অতি দ্রুত আয় বাড়াতে গিয়ে সরকার বিপদে পড়েছে। বছর বছর অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা করে বাজেট ব্যয় বাড়াতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে আয় ব্যয়ের ঘাটতি বা বাজেট ঘাটতি আর নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। 

বিশাল আকারের বাজেট দিয়ে এখন আয় নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি প্রায় ২০ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এই চার মাসের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের সামান্য বেশি, অথচ এবার গত অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। বিগত বছরে মোট রাজস্ব ঘাটতি ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি। একটি প্রান্তিকেই যেখানে ২০ হাজার কোটি ঘাটতি, সেখানে চার প্রান্তিক (কোয়ার্টার) মিলে ঘাটতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এদিকে রপ্তানি আয়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। শুধু মাত্র অর্থবছরের প্রথম মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ছিল। পরের চার মাসে টানা ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) তথ্যে দেখা যায় অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৯৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ শতাংশ কম আর গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে ৩ শতাংশ কম। বিগত অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি আয় ছিল ১৭০৭ কোটি ডলার, কিন্তু বর্তমান অর্থ বছরের একই সময়ে তা মাত্র ১৫৭৭ কোটি ডলার, ৭.৫৯ % কম। এটা সরকারের টার্গেট থেকে ১২,৫৯% কম। অন্যদিকে শুধু নভেম্বরেই ১০.২০% রপ্তানি কম হয়েছে, বিগত বছর থেকে, যা সরকারের টার্গেট থেকে ১৭,৯% কম। এদিকে গত ছয় মাসে ৪৬ টি গার্মেন্টস বন্ধ হয়েছে, চাকরী হারিয়েছেন ২৫ হাজার শ্রমিক। 

পেনশন ফান্ড ঋণ, সঞ্চয়পত্র ঋণ, বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি খোলা হয়েছে ব্রিটেনে বাংলা বন্ড নামে প্রবাসী বন্ড, এর আগে খোলা হয়েছে এনারবি বন্ড। ঋণের উৎস তৈরি করতে অর্থ মন্ত্রণালয় যেন পাগল হয়ে গেছে। সরকারি ঋণ খাত যেন ফারাক্কার খুলে দেয়া বাঁধ। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ব্যাংক থেকে ৪৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার, যা পুরো অর্থবছরে ব্যাংক ঋণে বাজেট প্রাক্কলনের প্রায় সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত অর্থবছর-২০২০ এর তৃতীয় কোয়ার্টারের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মাত্র তিন মাসে নিট মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ ৩৩ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২,৭% বেশি। এই হারে ঋণ বৃদ্ধি কোন মতেই টেকসই দেশজ উৎপাদন, রাজস্ব আয় এবং টেকসই অর্থনীতির বৈশিষ্ট হতে পারে না। 

একই অবস্থা বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের, বর্তমানে খেলাপি ঋণের মোট স্তিতি প্রায় ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, এই টাকা দিয়ে প্রতিটিতে ২০ হাজার কোটি করে খরচ করে অন্তত ১২টা পদ্মা সেতু করা যায়। তবে আইএমএফ বলছে সবমিলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ হবে প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা।

Content Protection by DMCA.com

বাংলাদেশ কি তার জনসংখ্যা ও জন্মহার চুরি করে?

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

‘৫ম আদমশুমারি ও গৃহগণনা ২০১১’ এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী (জুন ২০১১ এ প্রকাশিত) বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটি ২৩ লাখ ১৯ হাজার এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ১,৩৪ শতাংশ ধরা হয়েছিল। কিন্তু উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা গুলো এই সংখ্যাকে প্রশ্ন বোধক বলে প্রত্যাখ্যান করে। উপরন্তু আদমশুমারির তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকা প্রতিষ্ঠান “বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিআইডিএস”ও এই ফলাফল সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে। জুন ২০১২ সালে বাংলাদেশের জনগণনা সংশোধন করে বলা হয়েছে দেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ২৫ লাখ ১৮ হাজার। এই সংখ্যা আদমশুমারির প্রাথমিক ফলাফল থেকে প্রায় এক কোটি মানুষ বেশি। এখানে দেখানো হয়েছে বিগত দশকে জনসংখ্যা ১,৫৮% করে বেড়েছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির নতুন বার্ষিক হার ১,৩৭ শতাংশ।

অর্থাৎ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১,৩৪ থেকে ১,৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এই ডেটা প্রশ্নবোধক। পরে আবারো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নতুন একটা জন্ম হার দিয়ে (১,৩৭% এর বিপরীতে ১,২৭%) কিউমেলেটিভ হিসেবে করে ২০১৮ সালে নতুন জনসংখ্যা নিয়ে হাজির হয়েছে। বিবিএস দেশে ১,২৭ শতাংশ জন্মহারের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালের জনসংখ্যাকে বর্ধিত করে ২০১৮ জানুয়ারিতে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে দেখিয়েছে। এই হিসাবে বর্তমানে এই সংখ্যা ১৬ কোটি ৬৫ লাখের মত।

ঠিক কিভাবে ১.৫৮% হারের জন্ম হার গুণশুমারির ১ম গণনায় ১.৩৪, সংশোধিত গণনায় ১.৩৭ হয়ে গেল? উপরন্তু জুন ২০১২ এর মাত্র এক বছর পরে এসে জুন ২০১৩ তে ঠিক কিভাবে আবার দেশের জন্ম হার আরো কমে বর্তমানে ১.২৭% হয়ে গেল?

আমরা এখানে বেশ কিছু বিষয়ের ফয়সালা চাই- 
১। বাংলাদেশের আদমশুমারি গৃহ গণনা কেন্দ্রিক। বাংলাদেশে নদীভাঙ্গনে নাগরিক বাস্তুচ্যুত হন। অর্থনৈতিক প্রান্তিকতা, ঋণ ও অভাব অনটনে পড়ে বাস্তুচ্যুত হন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত ল্যান্ড ডিস্প্লেইস্মেন্ট ও এখানে ব্যাপক। তাই ভাসমান জনসংখ্যা এখানে বেশ বর্ধিত এবং ব্যাপক শহুরে বস্তির অস্তিত্ব বিদ্যমান। যেহেতু বস্তিবাসী ও ভাসমান নাগরিক প্রতিষ্ঠানিক ঠিকানা নেই ও তাই বিশাল বাস্তুহীন নাগরিকের ঠিক কি পরিমাণ গণশুমারিতে এসেছে সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। 

ধারণা করা হচ্ছে, এই চুরিকে ধামাচাপা দিবার জন্য, গণশুমারি ডেটাকে বিশ্বাস যোগ্য শুনানর জন্য এখানে কিছু হাইপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তা হচ্চে, সামনের গণশুমারিতে নাসার জিয়াইএস ডেটা নেয়া হবে, সেজন্য তাদেকে হাজার কোটি টাকা পে-করা হবে। কিন্তু জিয়াইএস ডেটা বাড়ি ঘর নির্ণয়ে বস্তিবাসী ও ভাসমান নাগরিক শনাক্তকরণে কোন ভূমিকা রাখবেনা বলেই জিআইএস বিষেজ্ঞগণ মত দিয়েছেন। তদুপরি নাসার জিআইএস একুরেসি’র চেয়েও বেশি একুরেসির জিয়াইএস ডেটা বিদ্যমান। 

প্রশ্ন হচ্ছে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের প্রক্রিয়া অটোমেটিক না করে, এর প্রসেস ঠিক না করে, ভোটার কার্ড, স্মার্ট এনাইডির পিছনে এত বছর ধরে এত এত ব্যয় করার করে ঠিক কেন এখন জিয়াইএস ডেটা লাগবে জনশুমারি করতে? তাইলে ন্যাশনাল ডেটা বেইজে যে জনসংখ্যার তথ্য ভান্ডার আছে সেটার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই কি?  

২। ১,২৭% জন্ম হারে বছরে ২১ লক্ষ শিশু জন্ম নিবার কথা। অন্যদিকে ১,৫৮ শতাংশ হারে ২৬ লক্ষ। কিন্তু বেসরকারি ডেটায় বছর প্রতি ৩০ লাখ শিশু জন্মের প্রাক্কলন করা হয়।

কিন্তু আমরা যদি ২০১৮ সালের পিএসসি ও ইবিটি পরীক্ষায় ( প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়) ৩০,৯৫, ১২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে এরও বাইরে রয়েছে ঝরে পড়া, শিক্ষা বঞ্চিত এবং বেশ কিছু প্রতিবন্ধি ভাগ্যতাড়িত শিশু। উল্লেখ্য ওয়ার্ল্ড প্রি-ম্যাচুরিটি ডে’তে উপস্থাপিত ডেটা বলছে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪ লাখ ২৯ হাজার শিশু সময়ের আগে বা অকালে জন্ম নেয় যা প্রতি ৭টি শিশুর মধ্যে একটি, এই হিসেবেও মোট জন্ম সংখ্যা ৩০ লাখের কিছু বেশি হবার কথা।

যেহেতু ৩০ লক্ষ শিশু পঞ্চমের পরীক্ষাতেই অংশ নিচ্ছে তাই এটা হলফ করে বলা যায় শিক্ষা বঞ্চিত, ঝরে পড়া এবং প্রতিবন্ধি শিশু ৩০ লক্ষ থেকে বেশি।

অর্থাৎ সরকার এখানে জন্মহার কমিয়ে দেখাচ্ছে।

যদি জন্মহার পূর্বের দশকের মত ১,৫৮ শতাংশও হয়, তাহলে ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজারের বিপরীতে শিশু জন্ম ২৬ লক্ষ হবার কথা। তাহলে ডেটা মিলছে না কেন। এই জন্য যে জনসংখ্যা বেইজই সমস্যা আছে। তাহলে প্রকৃত জনসংখ্যা কত? যদি ধরি জন্ম হার ১,৫৮% এবং জনসংখ্যা সাড়ে ১৮ কোটি তাহলে বাৎসরিক শিশু জন্ম ৩০ লক্ষ হতে পারে। এই হিসেবে সরকার প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যা কমিয়ে দেখায়। আমরা মিলিয়ে দেখতে পারি দেশের মোট ছিন্নমূল, ভাসমান এবং বস্তিবাসী জনসংখ্যা ২ কোটি হয় কিনা? তাহলেই এটা প্রমাণিত হয়ে যাবে (সমীক্ষা-১) যে, বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকের সংখ্যাও চুরি করে।

আর যদি সরকার দাবি করে, জন্মহার ১,৫৮ থেকে কম, তা হলে বর্তমান জনসংখ্যার বেইজ ১৯ কোটির মত হবে। 
৩। স্বাধীনতার ঠিক পরে ১৯৭২ সালে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। এর পরের ৪২ বছরে দেশে এখন খাদ্যশস্য উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে তিন গুণ বেশি; ভুট্টাসহ এর পরিমাণ প্রায় চার কোটি মেট্রিক টন। ৪৫ বছরে ধান উৎপাদন তিনগুণের বেশি। কিন্তু বাংলদেশ প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ নয়, বরং প্রায় বছরেই প্রধান প্রধান খাদ্য শষ্য কেনা লাগে। খাদ্য শস্য তিনগুণের বেশিতেও যেখানে কুলায় না, সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠিক কিভাবে মাত্র ২.২ গুণ হয়। এত খাদ্য কে খায়? আজকের মানুষ কি ১৯৭২ থেকে মাথাপিছু হারে দ্বিগুণ ভাত খায়? বাস্তবতা তো বলে মানুষ এখন কম ভাত খায়। তাহলে কি অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ ভাত খায় না? (যা সরকার দেখায় তার চেয়েও বেশি) 


৪। জনসংখ্যা বৃদ্ধি গণনার সবচাইতে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে জন্ম গ্রহনের মাত্র কয়েকদিনের নবজাতক শিশু নিবন্ধন করে তাকে এলাকা ভিত্তিক নাগরিক আইডি দিয়ে দেয়া। একই সাথে মিরত্যু নিবন্ধন করা। 
বাংলাদেশ এই দুটি কাজে কখনও মনোযোগ দেয়নি। ন্যাশনাল আইডির বদলে ভোটার আইডি নামক প্রাপ্ত বয়স্ক আইডি নিয়ে এক্তরফা কাজ করছে যদিও দেশে ভোট বলে কিছু নেই।

দেখা যাচ্ছে মোট জন্ম নেয়া শিশুর এক চতুর্থাংশও নিবন্ধনে আসছে না, তথাপি সরকার নির্বিকার।

এখানে দেশটির জন্ম নিবন্ধনে অনীহার বিষয়টি স্পস্ট, কেননা সঠিক জন্ম নিবন্ধন জনসংখা চুরির মুখোশ খুলে দিবে। এবং এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, প্রকৃত জাতীয় আয়, অতি দারিদ্র এবং দারিদ্রের সংখ্যার আসল ডেটা উন্মোচিত হয়ে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলবে।

৫। যদিও জনসংখ্যা কম করে দেখানোয় গড় মাথাপিছু ঋন বেশি দেখাচ্ছে। কিন্তু সরকার যেহেতু জানে যে আসলে মাথপিছু ঋন বাস্তবে এত বেশি নয়, তাই সরকারও তার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা কখনও গড় মাথাপিছু আয়ের উল্লম্ফনকে সামনে আনেন না। 

২০১০ সালে দেশে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে (জুন ২০১৯) দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণ প্রায় ৬৮ হাজার। গত ১ বছরে যা বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার ২৩৩ টাকা। আগামী ১ বছরে তা আরও ৫ হাজার ৫৪৭ টাকা বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেভাবে ব্যাংক ঋণ বাড়ছে, মাথাপিছু ঋণ এই প্রাক্কলনের চেয়েও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

কথা হচ্ছে, আট-নয় বছরেই একটা দেশের মাথাপিছু ঋন সাতগুণ বাড়তে পারে কিনা? এখানে আরো গুরতর বিষয় হচ্ছে, এই সাত গুণ মাথাপিছু ঋন বৃদ্ধির সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের সামঞ্জস্য আছে কিনা? 

রাজস্ব আয়, রেমিটেন্স আয়, রপ্তানি আয়ের সংখ্যা গুলো ও বাজেট ব্যয় একই রেখে, কোন দেশের অফিশিয়াল জনসংখ্যা এক কোটিরও বেশি কম দেখানো গেলে তার ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্স খুব ভালো দেখাবে, বাংলাদেশেরও তাই দেখাবে, কোন সন্দেহ নাই। ভাগ অংকে ভাজ্যকে (রাজস্ব অর্থনীতি কিংবা বাজেটের ব্যয়) একই রেখে যদি ভাজক (জনসংখ্যা) ছোট করে দেয়া হয়, তাহলে ভাগফল (আয়ের সূচক) বড় হয়ে যাবে। এটাই বাংলাদেশের “সূচকে” উন্নতি, মাথাপিছু আয়য়ে উন্নতির অন্যতম বড় একটা এলিমেন্ট। এই অপবুদ্ধিব্রিত্তিক স্ট্যাটিস্টিক্সের অপকৌশল থামাতে সঠিক জনসংখ্যা এবং জন্ম হার নির্ণয় খুব জরুরি।

Content Protection by DMCA.com

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা ও বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্রান্তিকাল!

এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন বাংলাদেশি অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। আজ অফিসিয়াল বিবৃতিতে সাকিবকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ৩টি অভিযোগে সাকিবকে আর্টিকেল ২.৪.৪ অনুযায়ী শাস্তি দিয়েছে আইসিসি।

২০১৮ আইপিএলে এবং সেই বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে মোট ৩ বার ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। আইপিএলে ২৬শে এপ্রিল হায়দরাবাদ-পাঞ্জাবের মধ্যকার ম্যাচ পাতানোর কথা উল্লেখ করেছে আইসিসি। কিন্তু আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট আকসুর কাছে বিষয়টি জানাননি সাকিব। এই কারণে আর্টিকেল ২.৪.৪ অনুযায়ী শাস্তি পেলেন সাকিব।

সাকিব তার অপরাধ স্বকীর করে নেয়ায় ১ বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। সে হিসেবে ২০২০ সালে ২৯শে অক্টোবর থেকে আবার ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন তিনি। তবে শর্ত আছে। আকসুর বিভিন্ন দুর্নীতি বিরোধী ক্যাম্পেইনে তাকে অংশ নিতে হবে। আকসু যদি সাকিবের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয় তবেই সে ক্রিকেটে ফিরতে পারবে।

আইসিসিকে সাকিব বলেন, “আমি খুবই ব্যথিত।যেই খেলাটাকে এতো ভালোবাসি সেখানে নিষিদ্ধ হলাম।”

“তবে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব আইসিসিতে না জানানোয়, আমি আমার নিষেধাজ্ঞা মেনে নিচ্ছি। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট খেলোয়াড়দের দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমি আমার অংশটা ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি।”

পাপনের দুর্নীতি ও ক্রিকেট বোর্ডের সবার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে সাকিবের আজ এই অবস্থা বলে অনেকে মনে করছেন। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন এবং সাকিবের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে বলেন। আর মাশরাফি এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন। মাশরাফিও সাকিবের ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতে সুপারিশ করেন দলে “শৃঙ্খলা” ফিরিয়ে আনার জন্য। উল্লেখ্য যে বাজিকরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি মাশরাফি আর জুয়াড়ি পাপন ছাড়াও “গতিদানব” খালেদ মাহমুদ সুজনও জানতেন। বোর্ডের ইঙ্গিতেই সাকিব আকসুকে ওই ব্যাপারে কিছুই জানান নি।

ভারতে সম্ভাব্য পাতানো খেলা খেলতে অনীহা জানানো আর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়াটা সাকিবের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। উল্লেখ্য যে একই কারণে আর ভারতে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় তামিম ইকবালও নিজেকে সরিয়ে ফেলেন। মুশফিক আর মাহমুদ উল্লাহ তাই বাধ্য হয়ে সফরে যাচ্ছেন প্রশাসনিক আক্রমণ থেকে নিজেদের পরিবারদের রক্ষা করার জন্য। মাশরাফির সঙ্গে সাকিবের পারিবারিক পর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি এটাকে আরও তরান্বিত করে। অবশেষে সরকারী চাপ থেকে নিজের পরিবারকে রক্ষা করার জন্য সাকিব শেষ পর্যন্ত “সাজানো” প্রেস ব্রিফিং এ পাপনের সঙ্গে আসতে বাধ্য হয়। এই দুঃসময়ে তাই সাকিবের পাশে প্রয়োজন সব বাংলাদেশীদের যারা ক্রিকেট বোর্ডকে দুর্নীতি ও জুয়া মুক্ত দেখতে চান।

Content Protection by DMCA.com

বিজিবির ঘটনা আর ভোলায় সংঘর্ষ একই সূত্রে গাঁথা!

ফেসবুকে আল্লাহ ও রাসূল (স.) সম্পর্কে অবমাননাকর পোস্ট দেয়ার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ভোলায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত অন্তত ১৫০ জন! এখনও ধরপাকড় ও দমন পীড়ন চলছে!

ইসকনের মাসিক ভাতা প্রাপ্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশে আর দীর্ঘদিনের বন্ধু শ্যামল দত্তের সহযোগিতায় খুব তাড়াতাড়ি “হ্যাকড আই ডি” তত্ত্বের জন্ম দেয়। তৌহিদী জনতাকে প্রশাসনিক সহযোগিতার বদলে বা তাদের সাথে বসে বিষয়টার শান্তিপূর্ণ মিমাংসা না করে পুলিশ বাহিনীর এই ধরনের হত্যাযজ্ঞ দেশবাসী মেনে নেয় নি।

সাধারণ জনতার উপর গুলির নির্দেশদাতা

উল্লেখ্য যে কয়েকদিন আগে বিজিবির গুলিতে একজন অপেশাদার বিএসএফের মৃত্যুবরণ বাংলাদেশের ইসকন মেনে নিতে পারে নি। আজকের এই ঘটনা ইসকনের স্লিপার সেলের কাজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। মূলত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দিকে দেশকে উস্কে দেওয়া ইসকনের লক্ষ্য।

তাই দল মত নির্বিশেষে ইসকন ও তার সুবিধাভোগী অঙ্গ সংগঠন আর সহযোগীদের নির্মূল করা এখন জাতীয় দায়িত্ব। বর্তমানে আনসার আর পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ১৪ হাজারেরও বেশি ইসকনের স্লিপার সেল হিসেবে কাজ করছে যারা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

Content Protection by DMCA.com

গুরতর আহত অবস্থায় র‍্যাব সদস্যদের ফেরত ও বেনজিরকে হাসিনার ধমক

চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মাঝে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্ত থেকে ৩ র‌্যাব সদস্য ও ২ নারী সোর্সকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ১০ ঘন্টা পর গুরতর আহত অবস্থায় ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯নং পিলারের ১০ নম্বর গেট এলাকা থেকে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

পরে বিকাল ৫টায় ৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উর্দ্বতন কর্মকর্তা ও বিএসএফের মধ্যে এক ঘণ্টা পতাকা বৈঠকের পর আটক ৩ র‌্যাব সদস্য ও ২ নারী সোর্সকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৩ র‌্যাব সদস্য হলেন কনস্টেবল রিদান বড়ুয়া, আবদুল মজিদ ও সৈনিক মো: ওয়াহিদ। র‌্যাবের সঙ্গে থাকা ২ নারী সোর্স হলেন, কুমিল্লার শুভপুরের জাকির হোসেনেরে স্ত্রী লিজা আক্তার ফুফি, সুজানগরের মাইনুদ্দিনের স্ত্রী মনি বেগম।

৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সংকুচাইল ক্যাম্পের সুবেদার নুরুল ইসলাম র‌্যাব ১১’র তিন সদস্য ও সোর্সদের গ্রহণ করেন। র‌্যাব সদস্যদের কাছে থাকা একটি পি’স্তল, ১টি ম্যাগজিন, আট রা’উন্ড গু’লি, দুটি হাতকড়া ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।

র‌্যাব ১১’র এসপি মুহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় মা’দক মামলার আসামিকে আটক করে নিয়ে আসার সময় ভারতীয় বিএসএফ র‌্যাব সদস্যদের আটক করে নিয়ে যায়।

বিজিবির সংকুচাইল ক্যাম্পের সুবেদার নুরুল ইসলাম জানান, আশাবাড়ি ভারতীয় অংশে বাড়ি দুলা মিয়ার ছেলে আবুল খায়েরকে আটক করতে যায় র‌্যাব ১১’র একটি টিম।

ওই বাড়িটি নো-ম্যানস ল্যন্ডের ১ শ গজের বাইরে ভারতীয় অংশে। আবুল খায়েরকে আটক করে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় ভারতীয় লোকজন বিএসএফকে খবর দেয়।

বিএসএফ সদস্যরা র‌্যাব সদস্য ও সোর্সদের তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বিএসএফ ক্যাম্পে তাদের বেধড়ক মা’রধর করা হয়। র‍্যাবের ৩ সদস্যার মধ্যে দুই জন পুলিশের সদস্য এবং একজন সেনাবাহিনীর সদস্য।

অন্য একটি সূত্র জানায়, আশা বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে জলিল ও হাবিলের বাড়িতে যায় র‌্যাবের দুই নারী সোর্স। তাদের বাড়িতে গিয়ে দুই সোর্স মা’দক সেবন (ফে’নসিডিল) শেষে মা’দক ক্রয় করতে চাইলে তারা বিক্রি করতে রাজি হয়।

পরে পাঁচ লাখ টাকার জা’ল টাকা নিয়ে ভারতের ২০৫৯ পিলালের ১০ গজ ভিতরে ঢুকে ব্যবসায়ী জলিল ও হাবিলকে আটকের চেষ্টা করে র‌্যাব। এসময় তাদের আটক করে বিএসএফ।

সকালে র‌্যাব সদস্যদের আটকের পর বেলা ১১টার সময় বিএসএফকে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠি দিয়ে পতাকা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানায় বিজিবি।

প্রায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকাল ৪টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ি সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পতাকা বৈঠকের পর তিন র‌্যাব সদস্য ও দুই সোর্সকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ। এসময় র‌্যাব সদস্যদের গুরতর আহত দেখাচ্ছিল বলে জানায় স্থানীয় সাংবাদিকরা।

পতাকা বৈঠকে র‌্যাব ১১, ৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কুমিল্লা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাজাহান চৌধুরী।

র‍্যাবের বর্তমান ডি জি বেনজির আহমেদ এই ব্যাপারে কূটনীতিক চ্যানেলে তৎপরতা চালানোর জন্য সুপারিশ করলে শেখ হাসিনা বিরক্তি প্রকাশ করেন আর ধমক দেন। এই ঘটনা নিয়ে বেশী ঘাটা ঘাটি করারও নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে বর্তমানে র‍্যাবের ভিতরে কোন্দলের সময়ে ভারতের প্রতি হাসিনার স্বভাবসুলভ আত্মসমর্পণ অনেক র‍্যাব সদস্যকেই পীড়া দিয়েছে। কিন্তু নিজেরাও অবৈধ টাকা ভাগাভাগির অংশীদার বলে তেমন কেউ উচ্চবাচ্য করছেন না। পর নারীতে আসক্ত এবং মানসিক বিকারগ্রস্ত বেনজিরও তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে নিজের নাম আসার কারনে।

Content Protection by DMCA.com
1 2 3 4