বি চৌধুরি পুত্রের আমেরিকাতে ৬ আলিশান বাড়ি, ১০ একর জমি সহ অঢেল সম্পদের সন্ধান!

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে নানাভাবে আলোচিত সমালোচিত মাহি বি চৌধুরির অঢেল সহায় সম্পদের সন্ধান মিলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

চলতি জাতীয় নির্বাচনকে টার্গেট করে রাজনীতিতে মেরুকরণ এবং জোটবদ্ধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সৃষ্টিলগ্নে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরি এবং তার পুত্র মাহির রহস্যজনক তৎপরতা শুরু হয়। এ সময় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাদের নানা টানাপোড়েন চলতে থাকে। একপর্যায়ে বিএনপির সাথে ঐক্য হবে কিনা তারা জন্য শর্ত হিসাবে জামায়াতকে ২০ দলীয় জোট থেকে বের করে দেয়া এবং ১৫০টি আসন দাবী করেন বিকল্পধারার নেতা মাহি। এনিয়ে বিএনপি ও ডানপন্থীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েন চৌধুরী পিতাপুত্র। এপর্যায়ে মাহিদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ঐক্য গঠন বিলম্বিত হতে থাকে। এ অবস্খায়, ১৩ অক্টোবর হঠাৎ তৎপরতায় বি.চৌধুরি এবং তার পুত্রকে বাদ দিয়েই বিএনপিকে সাথে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন ড. কামাল হোসেন, আ.স.ম. আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, এবং পরে যুক্ত হন কাদের সিদ্দিকী। বি. চৌধুরী এবং তার পুত্র খুব দ্রুতই তাদের অবস্খান পরিবর্তন করে শেখ হাসিনার বিরোধী থেকে মিত্র বণে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন। ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক সূত্র জানায়, বি. চৌধুরী ও মাহী বি. চৌধুরীর সঙ্গে সরকারের আঁতাত রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাদের বিশ্বাস করা যায় না। এ কারণে তাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গোয়েন্দা সুত্রের বরাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে, মাহি বি চৌধুরী সরকারের টাকা ও সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে ঐক্যফ্রন্ট গঠনে বাধার সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মাহির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র জয়ের ঘনিষ্টতা, আর্থিক লেনদেন, খালাত বোন শমী কায়সারের প্রভাব, তার স্বামী আরাফাতের সাথে বিশাল ব্যবসায়িক সম্পর্ক সব উঠে আসে সামাজিক মাধ্যমগুলিতে। প্রকাশ হয়, সজীব ওয়াজেদ জয়ের দয়ায় ভিওআইপি ব্যবসা দেয়া হয়েছে মাহিকে, যা থেকে প্রতি মাসে তার নগদ ৮ কোটি টাকা। আয়ের হিসাব বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা গিয়ে দাড়ায়। আরও টোপ দেয়া হয়, ২০ দলীয় জোট ভাঙতে পারলে, ঐক্য আটকে দিতে পারলে মাহিকে ২টি টেলিভিশন কেন্দ্রের মালিকানা দেয়া হবে। কিন্তু বিএনপি নেতাদের দূরদর্শিতা, ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এবং বারিস্টার সুব্রত চৌধুরীর সময়োপযোগি তড়িৎ পদক্ষেপে ব্যর্থ হয় আওয়ামী এজেন্ডা এবং বি চৌধুরী গং।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহি বি চৌধুরী প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যান, তবে মূল কারন অন্য কিছু। জয়ের কাছ থেকে টাকার ভাগ লেনদেন সম্পন্ন হয় সেখানে। ঐসব অর্থে যুক্তরাষ্ট্রে মাহি অনেক গুলো বাড়ি, ব্যবসা, জমি কিনে নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সাউথলেক, গ্রান্ড পিয়েরে, আর্লিংটন, ইউলেস, কেলার শহরে মাহির এরূপ ৬টি বাড়ির কাগজপত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া টেক্সাসে ১০ একরের বেশি জমিও কিনেছেন, যাতে একটি টাউন বানানোর প্লান আছে তার। সব মিলিয়ে সেখানে কমপক্ষে ১০০ মিলিয়ন ডলারের  সম্পদ গড়েছেন মাহি। বাড়িগুলোর ঠিকানা-

1802 Larkspur Ct, Southlake, TX 76092
2006 Duncan Perry Rd, Grand Prairie, TX 75050
2101 St Michaels Dr, Arlington, TX 76011
3617 Smoke Tree Trail, Euless, TX 76040
1014 Lone Ivory Trail Arlington, TX 76005
4317 Rustic Timbers Dr, Keller, TX 76244
টেক্সাস গভর্নমেন্টের সরকারী সাইটে মাহির সম্পদের নথি নম্বর
https://www.tad.org/property/0270097/
যে কেউ দিখে নিতে পারেন।

বাংলাদেশের রাজনীতির ভাগ্য খারাপ হলে হয়ত মাহিকে দেখা যাবে বাংলাদেশ লুটপাটের টাকায় কেনা প্রাসাদে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে। তবে পুত্রের লোভের কারনে বি চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের মর্মান্তিক পতনের আলামত সুস্পষ্ট।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.