রাষ্ট্রদূত মার্শার উপর আওয়ামী হামলার জবাবে মার্কিন অ্যাকশন শুরু: নানকের ভিসা বাতিল, সেনাপ্রধানের স্ত্রীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখান!

হঠাৎ করেই ঢাকার উপরে মার্কিন অ্যাকশন শুরু। গত রবিবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। সূত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাস।

একই দিনে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। খুব দ্রুততার সাথে মিসেস দিলশাদের  ভারতের ভিসা সংগ্রহ করা হয়, যা অনেকের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে কি সবাই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটাছুটি করছে? এমন খবর জানাজানি হওয়ার পরে নড়ে চড়ে বসে সরকার ও তাদের লোকজন। সরকারের শেষ মুহূর্তে আমেরিকান ভিসার সংগ্রহের জন্য মাদানী এভিনিউতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভিড় কমে যায়! চাউড় হয় – আমেরিকান অ্যাকশন শুরু!

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার সরকারের সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য মার্কিন ভিসা দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, যেসব কারণে মার্কিন ভিসা বাতিল হতে পারে তার একটি হলো আর্টিকেল ৯, যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকের উপর আক্রমণ, আঘাতের চেষ্টা বা ষড়যন্ত্র হলে কারও ভিসা বাতিল হতে পারে। এই আর্টিকেল ৯ অনুযায়ী নানকের ভিসা বাতিল হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্র জানায়। নানকের শুধু ভিসাই বাতিল হয়নি, আমেরিকান চাপে তাকে চলমান সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া থেকে বিরত থাকে আ’লীগ।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ১৫ আগস্ট রাতে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট সুশাসনের জন্য সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ঐ অনুষ্ঠানের শেষের দিকে কতিপয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মিষ্টার মজুমদারের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। ঐ দুবৃত্তরা সেখানে উপস্থিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলা চালায়, রাষ্ট্রদূতকে ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে তুলে দেয়। হামলায় রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং চালক আহত হয়। উল্লেখ্য, ঐ সময় দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ‘নিরাপদ সড়ক আন্দোলন’ চলছিল, এবং দিনে বেলায় ধানমন্ডি এলাকায় ছাত্রলীগ যুবলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক, এমনকি জনসাধারনের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। বেশ কিছু ছাত্রছাত্রী নিহত হয়েছে, এবং আওয়ামীলীগের ধানমন্ডি অফিসে একাধিক ছাত্রী ধর্ষনের খবর সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা গুজব হিসাবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সরকার। ঐ রাতেই অদূরে মোহাম্মদপুরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জনমনে চাউর হয়, ধানমন্ডি মোহাম্মপুর এলাকার সরকারী দলের একই অস্ত্রধারীরা রাষ্ট্রদূতের উপর হামলা চালায়, যাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক প্রতিমস্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের হাতে!

মার্কিন দূতাবাস ঐ হামলা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ সরকারকে কূটনৈতিক পত্রযোগে অবহিত করে। দায়ী ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দেয়। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের পরিবর্তে আ’লীগ সরকার উল্টো রাষ্ট্রদূতকেই ঘটনার জন্য দায়ী করতে থাকে, এমনকি রাষ্ট্রদূত সেখানে সরকার পতনের চক্রান্ত করছিলেন বলে অভিযোগ তোলে। এরি মাঝে ওয়াশিংটন থেকে এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্খা ঢাকায় এসে হামলার বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সাথে সরকারের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। হামলায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় এমপি জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমান সংগ্রহ করে। তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তারা বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। কিন্তু তারপরও ঢাকার প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ব্রিবতকর অবস্খায় পড়ে রাষ্ট্রদূত মার্শাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করে দ্রুত ফেরত নিয়ে যায় হেডকোয়ার্টারে। ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত করে পাঠায় প্রাক্তন মেরিন কর্মকর্তা আর্ল রবার্ট মিলারকে।

ঢাকায় যোগ দিয়েই রাষ্ট্রদূত মিলার সেগুণবাগিচার পররাষ্ট্র দফতরে মন্ত্রী সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে জানতে চান- রাষ্ট্রদূত মার্শার ওপরে হামলার তদন্তের অগ্রগতি কতদূর। কিন্তু তিনমাস পরেও সরকারের অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি, বরং উল্টো রাষ্ট্রদূত মার্শার দিকে দোষের আঙ্গুল তোলে। ফলে বাধ্য হয়ে অ্যাকশনে নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অবশেষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকার দূতাবাস জাহাঙ্গীর কবির নানকের ভিসা বাতিল করে।

তবে এখানেই শেষ নয়, আমেরিকান স্বার্থে আঘাত করার দায়ে আরও অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আসছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকায়। এরই মধ্যে সেনাপ্রধানের স্ব্রীর ভিসা আবেদন নাকচে সরকারের টনক নড়ে গেছে, কেননা এটি দশটা মন্ত্রী ফেলে দেয়ার মত ভয়াবহ সংকেত।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.