নির্বাচনের পরিবেশ ও পর্যবেক্ষক নিয়ে ইইউর নামে বানোয়াট স্টেটমেন্ট আনতে সরকারের লোক ভাড়া!

“বাংলাদেশে  সংসদ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট গণতান্ত্রিক ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে, আর এ কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন”- ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নামে এমন একটি খবর সকল মিডিয়াতে গতকাল সারা দিন চালিয়েছে সরকার! এ নিয়ে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভয়াবহ তথ্য। যে টিমকে ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছে, তারা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বৈদেশিক কমিটি বা টিম নয়, বরং শেখ হাসিনার সরকারের ভাড়া করে আনা একটি টিম। এভাবে ইউরোপিয়ান টিমের সার্টিফিকেট নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভয়াবহ জালিয়াতির আশ্যয নিয়েছে! আসলে দেশের মানুষকে ধোকা দিতে আ’লীগ সরকার উচ্চ মূল্যে ভাড়া আনা একটি টিমকে দিয়ে বলাচ্ছে। এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার ও জালিয়াতি ছাড়া আর কিছু নয়।

বাংলাদেশের মিডিয়াতে যা প্রচার করা হয়েছে, আসলে তা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঠিক অবস্থান নয়। যে ৯ সদস্যের সফরকারী টিম বাংলাদেশ ভিজিট করে গিয়ে হাসিনার পক্ষে প্রেস ব্রিফিং করে গেলো, সেটি সত্যিই ইউ’র এক্সটার্নাল এফেয়ার্সকে রিপ্রেজেন্ট করেনা। এদেরকে ভাড়া করে আনা হয়েছে শেখ হাসিনার তথাকথিত উন্নয়ন দেখাতে, এবং তার পক্ষে স্টেটমেন্ট দিতে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আসলে এটি www.sadf.eu নামের একটি লবিস্ট গ্রুপের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছে, যার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছে ব্রাসেলসে বাংলদেশ দূতাবাস। রুপার্ট ম্যাথিউ ইউ’র এই ধরণের পার্লামেন্টারি কমিটির কোন সদস্য নয়। উনি এমপি বটে, তবে তাকে হাসিনা সরকার তাকে মূল্য দিয়ে ভাড়া করে এনে বাংলাদেশের জনগনকে বোকা বানাচ্ছে!

নির্বাচন নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ টিম ঢাকায় আসবে ২৭ নভেম্বর। তারা ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পরিবেশ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করবেন। এসময় তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রধান বিচারপতি, পুলিশ মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইইউ দলটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা থেকে বিরত থাকলেও এই দুই বিশেষজ্ঞই বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ব্রাসেলসে ইইউ’র সদর দফতরে তাদের রিপোর্ট জমা দেবেন।’ বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারাও বলছেন, ‘তাদের এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের দেওয়া রিপোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখবে।’অথচ, এই বিশেষজ্ঞ টিমের সফরের আগেই ভাড়া করে আনা কয়েক ব্যক্তিকে নিয়ে বলানো হচ্ছে, বাংলাদেশে নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ আছে, তাই ইইউ তাদের পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না! এটি একটি জঘন্য মিথ্যাচার।

উল্লেখ্য, ঐ টিমটি যে ভাড়া করা টিম, এবং সেটা ইইউর সত্যিকারের টিম নয়, তার প্রমান হলো, ঐ দলটির বাংলাদেশে ঘোরাঘুরি, এমনকি প্রেস কনফারেন্সের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিঙ্কের উপস্থিত ছিলেন না, এবং তাদেরকে ইইউর পতাকা বহন করতে দেখা যায়নি।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.