সচিব-পুলিশ গুপ্ত-সভায় সবুজ, হলুদ, লাল নির্বাচন পরিকল্পনা!

সচিবালয় প্রতিবেদক

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সবুজ, হলুদ, ও লাল তিনটি রঙে ভাগ করে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে প্রশাসনিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২০ নভেম্বর ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত সচিব ও পুলিশ অফিসারদের গোপন মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গ্রীন এরিয়া: আওয়ামী লীগ কনফার্ম জিতবে এমন এলাকা, গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে এর সংখ্যা ৩৩ আসন।
ইয়োলো এরিয়া:  আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এমন সীটের সংখ্যা ৬৫,
রেড এরিয়া: যেসব আসনে আওয়ামী লীগের কোনো কন্ট্রোলে নাই। এমন আসনের সংখ্যা ২০২।

এ বিষয়ে করণীয় ঠিক করা হয়েছে:
ক) গ্রীন এলাকা মূলত আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে তেমন কোনো কিছু করার দরকার নাই। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে দেশী দিদেশী অবজারভার ও মিডিয়া দিয়ে প্রজেকশন করতে হবে যে, সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে।
খ) হলুদ বা গ্রে এরিয়া, এখানে কিছুটা হলেও আ’লীগের সম্ভাবনা আছে। তাই বিএনপি বা ঐক্যজোটের কর্মীদেরকে শক্তিপ্রয়োগ করে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে। গন্ডগোল বাধিয়ে ভোটের টার্নআউট কম রাখার প্রয়াস প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
গ) রেড এলাকাগুলোতে আ’লীগ ভোটে আসতে পারবে না। তাই এসব এলাকায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে কেন্দ্র দখল ও মিডিয়া ক্যুর কৌশল প্রয়োগ করতে হবে। এসব এলকায় নৌকার কর্মীরা এবং পুলিশ র‌্যাব একসাথে কাজ করবে। না পারলে সন্ত্রাস করে ভোট বানচাল করতে হবে, যাতে পরে নির্বাচন করে নৌকাকে জিতিয়ে আনা যায়। এর জন্য নো কম্প্রোমাইজ। দরকার হলে ডামি পুলিশ ব্যবহার করতে হবে।

গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এরিয়ার কালার নির্বাচন, এবং নিয়মিতভাবে আপডেট করার জন্য মাঠ প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা, এবং দলীয় রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে। ফলাফল পক্ষে নিতে বিভিন্ন কৌশল শক্তির সমন্বয় করতে অফিসারদের মধ্যে এলাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পুলিশ র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রয়োজনীয় সাপোর্ট সরবরাহ করবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পিছনের কনফারেন্স রুমে সরকারের গুরুত্বপূর্ন সচিব ও পুলিশ অফিসারদের এক গোপন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালউদ্দীন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রাক্তন ডিজি ও বর্তমান পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার (প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রাক্তন ডিজি) আলী আজম যিনি ঢাকা মহানগরী রিটার্নিং অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ কাজী নিশাত রসুল (যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার জজ কাজী গোলাম রসুলের মেয়ে), এবং অফিসার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ১১ বিসিএসের যুগ্মসচিব মেসবাহউদ্দিন। এছাড়াও পুলিশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজমের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, পুলিশ হেড কোয়ার্টারের ডিআইজি প্রশাসন হাবিবুর রহমান, ডিএমপির ডিসি প্রলয় জোয়ার্দার (শেখ হাসিনার প্রাক্তন প্রটোকল অফিসার)। আড়াই ঘন্টা ধরে চলা উক্ত সভায় সারা দেশের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সেট-আপ ও প্লান রিভিউ করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা শেষে মূল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপি-ফ্রন্টকে চরম অসহযোগিতা করা হবে, যতই চাপ দেয়া হোক প্রশাসনে হাত দেয়া যাবেনা, ধরপাকড় বাড়ানো হবে, প্রার্থী গুম খুণ করে এমন অবস্থা তৈরী করা হবে যাতে তারা নির্বাচন থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আর শেষ পর্যন্ত ভোটে থেকে গেলে ভোটের দিন পর্যন্ত ধরপাকড়ের তান্ডব চালানো হবে নির্দয়ভাবে, যেনো ভোট কেন্দ্রে কেউ হাজির হতে সাহস না করে। আর যদি ভোটের ফ্লো ঠেকাতে না যায়, তবে মিডিয়া ক্যু করে নৌকাকে জিতানো হবে, বিটিভির মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করে সব মিডিয়াতে তা রিলে করার ব্যবস্থা করা হবে। একবার ফল ঘোষণা করতে পারলে তারপরে নির্মমভাবে সব ঠান্ডা করা হবে।

সচিব ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ষড়যন্ত্রমূলক উক্ত মিটিংয়ের খবর প্রথম প্রকাশ করে বিডিপলিটিকো। এরপরে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স করা হয় শনিবার। দেশের সবগুলো মিডিয়াতে খবরটি ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ যদিও মিটিংয়ে থাকার কথা অস্বীকার করলেও বেসামরিক বিমান সচিব মহিবুল হক স্বীকার করেন, তারা ব্যাচমেটরা মিটিং করেছিলেন, তবে তিনি দাবী করেন ওটা রাজনৈতিক বিষয়ে ছিল না। এ প্রসঙ্গে বিডি পলিটিকো শতভাগ নিশ্চিত যে, ঐ বৈঠকটি নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র মিটিং ছিল, সেখানে বিসিএস ৭ম ব্যাচ থেকে ২৪ তম ব্যাচের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুপ্ত মিটিং সংক্রান্ত উক্ত প্রতিবেদনটির কারনে আগামীতে গুরুত্বপূর্ন ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

Facebook Comments
Content Protection by DMCA.com

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.